<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>নাসরিন জে রানি &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 23 Oct 2023 04:03:16 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>নাসরিন জে রানি &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>একটি হেমন্তের সকাল ও আমি ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/10/23/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/10/23/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 23 Oct 2023 04:03:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2929</guid>

					<description><![CDATA[সম্পূর্ণ একা হতে পেরেছি। ভালো আছি। নিজের নতুন-পুরনো লেখার কাজগুলো নিয়ে খুবই ভালো আছি। শান্তিতে আছি আমি। যেমন পড়তে পারছি, বুঝতেও পারছি। অনেক গ্রহণ করতে পারছি। ভাবতে পারছি যেমন, লিখতেও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সম্পূর্ণ একা হতে পেরেছি। ভালো আছি। নিজের নতুন-পুরনো লেখার কাজগুলো নিয়ে খুবই ভালো আছি। শান্তিতে আছি আমি। যেমন পড়তে পারছি, বুঝতেও পারছি। অনেক গ্রহণ করতে পারছি।</p>
<p style="text-align: justify">ভাবতে পারছি যেমন, লিখতেও মজা লাগছে তেমনই।</p>
<p style="text-align: justify">এই যুগে একা হতে পারা একটা অসম্ভব যুদ্ধসম, সেই যুদ্ধটাই করে আমি এখন একটা সুন্দর শান্ত জায়গায় এসে পৌঁছাতে পেরেছি। এখন আর কিছু নিয়ে স্ট্রেস হয় না। উপরে বা বা মাঝের বা অপরিচিত অথবা অল্প পরিচিত এমন কি পরিচিত লোকের কোনো কথাবার্তা, ভাবনা, প্রকাশ আমাকে আর প্রভাবিত করে না- এই স্টেজে পৌঁছাতে আমার যুগ লেগে গেছে। কিন্তু আমি সংকল্পে অটল ছিলাম। পথের শেষ রেখার দিকে তাকিয়ে হেঁটেই যাচ্ছিলাম, এখন শেষ বিন্দুতে এসে সুন্দর একটা বাড়ি পেয়েছি। তার বারান্দায় উঠে এসেছি, ভালো লাগছে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>এক সকালে উঠে মনে হলো-আমি মরে গেছি, আর মৃত লোকদের কাছে জীবিত থাকাকালীন যেসকল ইস্যুগুলো নিয়ে মাথা ভারি করে, সেসব তুচ্ছ।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এই মৃত্যু ভালো, একটা দিকেই যায় মৃতেরা, নিজেদের শরীরে ফেরে, মাথায়, মনেও, নিজেদের কাছেই ফিরে আসে মৃতেরা, শান্তিও পায়। আমি তো পাচ্ছিই।</p>
<p style="text-align: justify">নতুন জীবনও পেলাম একটা।<br />
ভালো লাগছে এই জীবন।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/10/23/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কত দূরের পথ ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/23/%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/23/%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 23 Sep 2022 17:14:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2172</guid>

					<description><![CDATA[কত দূরের পথ কত দূরের পথ তুমি গটগট হেঁটে গেলে আমি দেখছি দূরত্ব খালি পথটুকু তুমি একটি ধারনা হয়ে মনের কোথাও ফুটে আছো আমি একটি পোকা কুটকুট করে কামড়ে দিচ্ছি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>কত দূরের পথ</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">কত দূরের পথ<br />
তুমি<br />
গটগট হেঁটে গেলে</p>
<p style="text-align: justify">আমি দেখছি<br />
দূরত্ব<br />
খালি পথটুকু</p>
<p style="text-align: justify">তুমি একটি ধারনা হয়ে<br />
মনের কোথাও ফুটে আছো</p>
<p style="text-align: justify">আমি একটি পোকা<br />
কুটকুট করে কামড়ে দিচ্ছি নিজের চোখ দুটো<br />
হাতে ধরে রেখেছি তোমার হাসি<br />
ঠোটে গানগুলো</p>
<p style="text-align: justify">বলেছিলে- সামান্য সময় চাই তোমার<br />
ফিরে তুমি আসবেই<br />
এসো<br />
যখন সময় হয়<br />
আমি ফুরিয়ে গেলেও<br />
সময় বেঁচে থাকুক তোমার জন্য<br />
এসো কিন্তু</p>
<p style="text-align: justify">সময়<br />
সময়ের-প্রহর গুনছে<br />
বসে বসে</p>
<p style="text-align: justify">তুমি তোমার জন্য এসো<br />
তোমার জন্যই এসো</p>
<p style="text-align: justify">একবার এসো<br />
আমার জন্য।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/23/%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যেভাবে ছোটবেলায় বই চুরি করা শিখে চুরি করে বইয়ের ভেতরেই থেকে গেলাম ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/23/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/23/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 23 Apr 2022 03:13:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1867</guid>

					<description><![CDATA[একটি বই একজন অনাঘ্রাত প্রেমিকের মতন।যতক্ষণ বইটি পড়ি- প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়, তার ভাবের সাথে আমার ভাবের রঙ-মিলান্তি, ও পরবর্তীতে সম্মুখাভিমুখ ঐকান্তিক-আবেগ-জড়োয়া রোমান্টিক পর্বে প্রবেশ করে এক প্রকারের লিভটুগেদার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">একটি বই একজন অনাঘ্রাত প্রেমিকের মতন।যতক্ষণ বইটি পড়ি- প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়, তার ভাবের সাথে আমার ভাবের রঙ-মিলান্তি, ও পরবর্তীতে সম্মুখাভিমুখ ঐকান্তিক-আবেগ-জড়োয়া রোমান্টিক পর্বে প্রবেশ করে এক প্রকারের লিভটুগেদার শুরু করে দেই। এর ভেতরে কোনো কোনো বই এসব না হতে চাইলে ভালো বন্ধুও হয় তারা- বহু বছর আমার পাশে পাশে থাকে।সমস্যা হলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, সমাধান দেয়। না পারলে শান্তির খোঁজ দেয়। বিশেষ করে দর্শনশাস্ত্র বা মেটাফিজিক্স বিষয়ক হ্যান্ডসাম বইগুলো।তবে কোনো কোনো বই সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হয়।এরা কথায় চরিত্রে ব্যক্তিত্বপূর্ণ বিদ্যাঙ্গ যেমন, তেমন সুদর্শন ও সুদেহী, দুঃসাহসী, যৌন প্রলোভনসংকুল মাদকতায় পূর্ণ হয়ে আমার সম্মুখে উপস্থিত হয়। বিশেষ করে একশন থ্রিলার বইগুলো, হার্ড-বয়েল্ড ক্রাইম নভেলগুলো।বহু প্রাইভেট ডিটেকটিভের প্রেমে পড়লাম এই ছোট্ট জীবনে।বিশেষ করে ফিলিপ মার্লো, স্যাম স্প্যাড, পেরি ম্যাসন, হাল আমলের এলেক্স ক্রস, জেমস বেনেট থেকে শুরু করে এমন কি এক ভিলেন বা ক্রিমিনাল ফ্রেডি জনসনের প্রেমেও পড়লাম।</p>
<p style="text-align: justify">ছোটবেলা থেকে প্রচুর গোয়েন্দারা আমার মন কেড়ে নিয়েছে।তাদের সঙ্গে বেড়াতে নিয়ে গেছে বিচিত্র স্থানে, একশনেও নেমেছি। সাথী হয়ে লড়েছি।অবশেষে নির্জনে অবসর কাটিয়েছি পৃথিবীর বিবিধ প্রান্তে তাদেরই সঙ্গে।তবে সবচেয়ে বেশি প্রেমে পড়েছিলাম আমি তিন গোয়েন্দা সিরিজের রবিন মিলফোর্ডের, সেই কৈশোরের প্রেম এখনো অটুট আছে। আজকাল নিজেও গোয়েন্দা সিরিজ লেখার কথা ভাবছি- একজন সাধারণগোছের বাংলাদেশি মাঝবয়েসী নারী গোয়েন্দা, তাকে নিয়ে সিরিজ গল্প লেখার কাজে হাতও দিয়েছি।</p>
<p style="text-align: justify">সে যাই হোক, আজ বিশ্ব বই দিবসে বই পড়ার কথাই বলা দরকার বেশি করে। ইদানিং যা পড়ছি তার মাঝে প্রাইভেট ডিটেকটিভ পেরি ম্যাশনকে ভালো লাগছে। মাঝে মাঝে এলেক্স ক্রসের সাথেও ডুব মারি।তবে এসব যখন বেশি বেশি ঘটে গিয়ে থ্রিলার সমুদ্রের এই অতলে তলিয়ে যাই- তখন আমেরিকান নারী গোয়েন্দা লিন্ডসে বক্সার এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।বিপদের অগ্নিমুখ থেকে ফিরে এসে আফ্রিকা মহাদেশের বতসোয়ানার নারী গোয়েন্দা মামা প্রিসার রামাৎসয়ে সাথে বসে একটু সুখ দুঃখের আলাপ করি। কেন যেন আমার সব সময় মনে হয়- মানুষের জীবনে দুঃখের চেয়ে দুঃখ নিয়ে বরং দুঃখী দুঃখী আলাপই বেশি সুখের অনুভূতি দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">কৈশোরে যত বই পড়েছি তার সিংহভাগ ছিলো চুরি করে আনা গল্পের বই এবং সেই বইগুলো পড়ার পরে নিয়ম করে ফেরতও দেওয়া হত।এই নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া কুকর্মটির জন্য জন্য স্কুলে একটা নিজস্ব দল বানিয়ে নিয়েছিলাম-মর্গ্যান স্কুলের গোয়েন্দা বাহিনী।আমাদের দলটা ছিলো চারজনের।একজন ছিলো মুটোগুট্টু কিন্তু ভীষণ মেধাবী ও পড়ুযা যে খেতেও ভালোবাসত। আরেকজন আবার প্রেমিকা স্বভাবের ও দারুণ রূপসী কিন্ত পাঠে মন নেই। তৃতীয়জন ছিলো চতুর এবং সবশেষ লোকটি ছিলাম আমি এসব কিছুর তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনায়।আমার চরিত্রটির নাম দিয়েছিলো ওরা কিশোর পাশা, ভোটাভুটি করেই।পুরো স্কুলজুড়ে বিভিন্ন ক্লাসের মেয়েদের বিচিত্র সমস্যাগুলোর সমাধান করতাম আমরা। তবে ক্রাইমও করতাম টুকটাক।স্কুল শুরুর আগে ও পরে টাউনহলের বুক লাইব্রেরিগুলোতে ঢুঁ মেরে ছোকরা বিক্রেতাদের সঙ্গে ‘লাভ-টিল্লো-এক্সপ্রেস’ গেম চালাতাম।</p>
<p style="text-align: justify">৯০ এর সেই যুগে দুনিয়া ছিলো সরল; সামান্য একটু হাসি, আর দোকানির হাত থেকে বই ধরতে যেয়ে আমাদের আঙ্গুলের ওদের আঙ্গুলের ঠোকাঠুকিতেও এক সপ্তাহ বুদ হয়ে থাকা যেত দুইপক্ষেই।আমাদের চারজনের টিমে দুজন ফ্রন্ট-প্লেয়ার আর দুজন ছিলো প্রক্সিদাতা।ফ্রন্ট প্লেয়াররা ব্যস্ত রাখতো দোকানি ছোকরাদের চোখে চোখ ধরিয়ে রেখে। ঠোটে গুনগুন গান আর তুচ্ছ কথায় মেতে মিস্টি খিলখিলে অর্থহীন হাসাহাসি দিয়ে। আর বাকি দুজন বই বাছাই করে চুরি করতাম। আর আগের সপ্তাহে চুরি করে নেওয়া বইগুলো, পায়জামার গোজ, বা পিঠের পেছন থেকে অথবা পেটের সামনে থেকে এবং ক্রস করা সাদা ওড়নার ভাজ থেকে বের করে তাকে সাজিয়ে রেখে দিতাম। ছোকরা দুটো দোকানের মালিক নয় বরং কর্মচারী।ওরা কি বুঝত কে জানে।তবে এই হাসাহাসিতে ওরা যেন মোম গলা হয়ে কোথাও ভেসে যেত, প্রেমের চেয়ে প্রেমের ভাব বেশি মারাত্মক আফিমের মতন। নেশা ধরিয়ে রাখে- অসম প্রেমে।</p>
<p style="text-align: justify">বই পড়ার জন্য কি-না-করেছি।স্কুলে যখন পড়তাম ব্যবসায়ী বাবা প্রতিদিন দুপুরে বাড়িতে ফিরে খেয়ে দেয়ে ভাত-ঘুম আর বিশ্রাম নিতেন যখন, তার মাথা টিপে দিতাম কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, এমন কি মাঝে মাঝে পিঠে চড়ে- বাবার পিঠের এমাথা ওমাথা মাড়িয়ে দিতাম। এরকম একেক সেবার পারিশ্রমিক ছিলো একেক রকমের।সেই অর্থ দিয়ে গল্পের বই কিনতাম, রাশান লিটারেচার, রাদুগা প্রকাশনীর বা সেবার বই।তবে আমার মা ভীষণ জাদরেল মানুষ ছিলেন।পড়তে দিতেন না এসব।পড়ালেখায় ভালো ছিলাম। কূটবুদ্ধিও কম ছিল না। মাকে ফাঁকি দিয়ে পাঠ্যবইয়ের ভেতরে গল্পের বই লুকিয়ে মায়ের সামনের খটোমটো শক্ত চেহারা বানিয়ে রেখে স্কুলের পড়া মুখস্ত করতাম। একই প্যারা পড়তাম বারবার। মা বুঝতেন না শুরুতে কিন্তু যখন একদিন ফাঁকিবাজি ধরা পড়ে গেলো- সেদিন থেকে এক সপ্তাহ চলত আর্মি ড্রিলিংয়ের মতন মায়ের সব কথার পালন। আমার মনে হয়- আমার মা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নারী গোয়েন্দা, আর আমি তার অপরাধী। কিছুতেই মায়ের চোখকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়।মায়ের সেই শাসনের ভয় এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি।</p>
<p style="text-align: justify">এখন আর বই চুরির সুযোগ নেই।আমার সেই চার গোয়েন্দা মেয়েবন্ধু দলের একজন স্কুলের পরেই এক দূরারোগ্যব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে অন্য দুনিয়ায় চলে গেছেন।আরেকজন প্রবাসী হয়েছেন দেড়যুগ আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে। আর সবচেয়ে প্রিয়জন কোথায় আছেন জানি না। শুনেছি সে বড় ডাক্তার হয়েছেন।আর আমি এখনো বই কিনি, প্রচুর প্রচুর।এই মাসেও কিনেছি নব্বইটির মতন বই।তবে এই মাসে থ্রিলার সিরিজের বই কিনেছি- বৃটিশ ক্রাইম ফিকশন কুইন মার্টিনা কোলের লেখা মোট তেরটি বই। এবং সমান তালে আমেরিকান বেস্টসেলার থ্রিলার রাইটার জেমস প্যাটারসনের লেখা পনেরটি বই। এই দুই দেশি থ্রিলারগুলোর সবগুলোই অরিজিনাল বই এবং ফার্স্ট এডিশন, কালেক্টর এডিশনই বলা চলে (এবং যেহেতু বর্তমান সময়ে একজন বেকার লোক, লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি) এইবার সমস্ত পয়সা চুরি করেছি স্বামীর মানিব্যাগ থেকে।এই লেখা যখন লিখছি রেডএক্স ডেলিভারিশপ থেকে আরও পাঁচটি বই ডেলিভারি আসছে। তাদের মেসেজ এসেছে–‘ডিয়ার কাস্টমার উই রিসিভড এ পারসেল ফ্রম বুকেন্ডস লিমিটেড অ্যান্ড উইল ডেলিভারি সুন।ট্র্যাক আস হিয়ার উইথ দিজ লিংক বিলো- রেডএক্স।’</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em>আমার গল্পের সমাপ্তিতে- আজ বিশ্ব বই দিবসে, দেশি-বিদেশি কিছু লেখকের বই নিয়ে কথকতা ও আলাপন তুলে দিলাম। বই আমাদের সবকিছুর মূলে থাকুক। বই থাকুক প্রাণ হয়ে, আমরা হই বইগুলোর হৃদয় ও আলােকবর্তিকা।</em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>বই কী– এই ভাবনার প্রকাশ নিয়ে সমসাময়িক বাংলাদেশি কতিপয় লেখক-কবি-পাঠকের জল্পনা</strong></span><br />
১।বই একটা বস্তু।অনুবাদের কাজে লাগলে পড়ি।<br />
– অনুবাদক মাহমুদ আলম সৈকত<br />
২। বই মানে প্রশান্তি।আনন্দ।জ্ঞান।<br />
– কবি এলাহি আসিফ।<br />
৩। সুস্থ থাকতে বই পড়ি।<br />
– গল্পকার সাইফ বরকতুল্লাহ।<br />
৪।বই হলো ভালোবাসা।শান্তি।আনন্দ।জ্ঞান।<br />
– কবি নাফিসা ইসলাম।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>বিদেশি লেখকরা বই নিয়ে কী বলেছেন</strong></span><br />
1. A half-read book is a half-finished love affair.<br />
&#8211; david Mitchell.<br />
2. If you tell me the heart of a man, tell me not what he reads, but what he rereads.<br />
-Francois Mauriac<br />
3.Wear the old coat and buy the new book.<br />
-Austin Phelps.<br />
4.Reading one book is like eating one potato chip.<br />
-Diane Duane.<br />
5.Writing comes from reading, and reading is the finesr teacher of how to write.<br />
-Annie Proulx.<br />
6. Reading brings us unknown friends.<br />
-Honore de Belzac<br />
7.Show me a family of readers, and i will show you the people who move the world.<br />
&#8211; Napoleon Bonapart.<br />
8. Read. Read. Read. Just dont read one type of book. Read diffrent books by various author so that you develop diffrent style.<br />
&#8211; R. L. Stine.</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/23/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লিডিয়া ডেভিসের ফ্ল্যাশ ফিকশন ও নাফিসা ইসলামের কবিতা: ঐকতান ও উপমিতির কথকতা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/10/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ab/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/10/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ab/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 10 Apr 2022 14:56:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1839</guid>

					<description><![CDATA[কবিতা অমত্র্য, দৈব এবং অলৌকিক।কবিতা লোকোত্তর পরিতৃপ্তি দান করে।আজ যে কবির তিনটি কবিতা নিয়ে সামান্য পর্যালোচনা করবো, তার নাম নাফিসা ইসলাম।নিজেকে পরিচয় দেন শুধু একজন পাঠক হিসেবে।তবে তিনি একজন বই-ভিক্ষু, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কবিতা অমত্র্য, দৈব এবং অলৌকিক।কবিতা লোকোত্তর পরিতৃপ্তি দান করে।আজ যে কবির তিনটি কবিতা নিয়ে সামান্য পর্যালোচনা করবো, তার নাম নাফিসা ইসলাম।নিজেকে পরিচয় দেন শুধু একজন পাঠক হিসেবে।তবে তিনি একজন বই-ভিক্ষু, যেমন পড়েন, তেমনই পাঠ-ধ্যান, খুব সামান্যদিনই জানি তাকে এবং তার বিষয়ে।তবে এই অল্পদিনে এতটুকু বুঝেছি-তিনি একটি অন্তর্বাহী উপনদী, বইছেন নিজের ভেতরে নিবিড়ভাবে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নাফিসা ইসলামের ভাব-নির্ঝর-১:</strong></span><br />
কোন উচ্চ অভিলাষ নেই;<br />
কণ্ঠা, অনামিকায় স্বর্ণখণ্ড চুমু<br />
আমার জন্য নয়<br />
মর্মর ইমারতের জৌলুশ<br />
সে তোমাদেরকেই মানায় ভালো;<br />
আমার জন্য, শুধু এক টুকরো সবুজ চাই<br />
দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত<br />
ভেজা রোদ্দুরের আকাশ<br />
আর লাল মাটিপথ ধরে হেঁটে যাওয়া<br />
মায়ের নিশ্চিন্ত কাঁধে মাথা রেখে<br />
নিদ্রাচ্ছন্ন শিশুর স্বর্গীয় যে হাসিটি<br />
পেয়েছি উপহার-ওইটুকু,<br />
শুধু ওইটুকু নিয়েই কাটিয়ে দিতে পারি<br />
তিন তিনটি নশ্বর জীবন।</p>
<p style="text-align: justify">একটা জীবনই কি যথেষ্ট!<br />
নরম রোদে ভেজা শঙ্খচিলের ডানার কাছে<br />
কত দেনা আছে ফেলে যাওয়া পালকের!<br />
অপ্রতুল সময়ের কাছে<br />
খণ্ড খণ্ড অস্তিত্ব বিকিয়ে বসে আছি।<br />
ভেবোনা যে, মৃতঃঅর্থে শেষ হয়ে যাবো;<br />
মগ্ন তরুর ঝলমলে পাতার শিষে জেগে উঠবো আবার<br />
ফিরে আসবো সমাধিক্ষেত্রের কোলাহল থেকে<br />
শিশির জ্বলা সবুজ ঘাসের কোমল শরীর<br />
একটুও না মাড়িয়ে<br />
ফিরে আসবো বাউল হাওয়ায় টানটান ফুলে ওঠা পালে<br />
শঙ্খচিলের সাথে ছুটে যাবো পাল্লা দিয়ে<br />
অনিকেত মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটায়<br />
নেমে এসে ছুঁয়ে দিবো শিশুর স্বপ্নাবিষ্ট চোখ<br />
অমল শিশুর গাঢ় স্বপ্নের ভেতর ঘুমিয়ে থাকবো-<br />
অনন্তঃ&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">সাধারণভাবে কবিতা হলো কবির উপলব্ধিজাত এক বিশেষ শিল্পভাবনা; কবির মনোজগতে যা আসে তা ভাবনাতেই ছিলো ভাব আকারে, বস্তুতে প্রতিফলিত হয়নি আগে।কিন্তু কবি তাকেই রচনা প্রতিভার গুণে কাব্য হিসেবে নতুন রূপ দেন- ‘ভেবোনা যে, মৃতঃঅর্থে শেষ হয়ে যাবো’;<br />
কিংবা, ‘অনিকেত মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটায় নেমে এসে ছুঁয়ে দিবো শিশুর স্বপ্নাবিষ্ট চোখ<br />
অমল শিশুর গাঢ় স্বপ্নের ভেতর ঘুমিয়ে থাকবো<br />
অনন্তঃ’- কবি নাফিসা ইসলাম সৌন্দর্য ভাবনার দারুণ স্ফূরণ ঘটিয়েছেন, বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ভাব ও বোধের।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নাফিসার দ্বিতীয় ভাব নির্ঝর পদ্যটি:</strong></span><br />
উপমাহীন দূরত্ব থেকে দেখি<br />
নিয়ত ভেঙে পড়ছো; আবারও<br />
সহজেই বেড়ে উঠছো কোষে-কলায়।<br />
ছুঁতে চেয়ে পা বাড়াই যতটা<br />
সময়ের সিঁড়িতে উঠে যাচ্ছ<br />
তারচেয়েও বেশি-<br />
এমনঃ নখেও পড়েনা ছায়া কোনো।</p>
<p style="text-align: justify">সময় পেছনে হেঁটেছে কখনো!<br />
অ্যালবামে জমিয়ে রাখা ছবিদেরও<br />
সজ্জা খসে পড়ছে নিয়মিত-<br />
অবিশ্রান্ত জলদ বাতাসে; দিনান্তে;<br />
অপেক্ষমাণ কথাদের নিরবতা<br />
নিঃশ্বাস গর্জনে, আরও গাঢ় হয়ে<br />
জমে ওঠে নিষুপ্তির পরিপাটি চাদরে।<br />
আজকাল দেয়ালের আয়নাটিকেই<br />
মনে হয় সবচেয়ে কাছের;<br />
সামনে দাঁড়ালেই আশ্বস্ত-হেসে বলে<br />
দেখেছো:তোমাকে&#8230;এই ঘরে,<br />
কেউ চেনে&#8230;এখনো।</p>
<p style="text-align: justify">এই কবিতায় তার কাব্যের ভেতর দিয়ে বাস্তববোধের উন্মোচন ঘটেছে; পাশাপাশি আমরা তো জানি কবিতা হলো-কবি মনে স্থিতিভাব ও ভালোবাসার জাগরণ।নাফিসা ইসলামের লেখা উপরের দুটো কবিতা পাঠের পরে যেমন নির্মন আনন্দ পেলাম, আমার মন প্রাণও সমৃদ্ধ হলো। এইটি সত্য যে, বিশেষ মুহূর্তেই কবিতা লেখা হয়।মনের অস্থিরতাবোধেও কবিতা লেখা যায় না।</p>
<p style="text-align: justify">‘শব্দার্থৌ সাহিতৌ কাব্যম’,- বলেছেন আলংকারিক আচার্য ভামহ।এর অর্থ শব্দ ও অর্থের সমন্বয়ে কাব্য গড়ে ওঠে।নাফিসা ইসলামের কবিতাগুলো সরল সুন্দর আনন্দের কথা বলে। সবুজ ডেকে আনে মনের বনে।বাক্যের শব্দ আর অর্থকে আটপৌরে না রেখে সাজসজ্জায় সাজিয়ে দিলেই বাক্য কাব্য হয়ে ওঠে।এই সাজসজ্জার নাম অলংকার।কি চমৎকার এক ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন-<br />
‘অপ্রতুল সময়ের কাছে<br />
খণ্ড খণ্ড অস্তিত্ব বিকিয়ে বসে আছি’।</p>
<p style="text-align: justify">এখানে নাফিসা বলছেন যেন- সময়হীনতায় পৌঁছে ঊনতায় বিলিয়ে দিলাম আমার বিদ্যমানতাটুকু,<br />
টুকরো, টুকরো, ছিন্ন কর্তিত ভগ্নাংশে।</p>
<p style="text-align: justify">নাফিসা ইসলামের কবিতাগুলোর মতন একই ধরনের মোহ বা ভাব বিরাজিত একটি বিদেশি অণুগল্প পাঠ করেছিলাম কিছুদিন আগে – ‘ইন আ হাউজ বেসিজড’ নামে, লিখেছিলেন লিডিয়া ডেভিস।</p>
<p style="text-align: justify">মার্কিন লেখিকা লিডিয়া ডেভিসের ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘চতুর্দিকে ঘিরে রাখা ঘর’, আর নাফিসা ইসলামের পঙক্তি ‘অমরতা খোঁজে সহজ স্পর্শ’ ঐকতান ও উপমিতির কথকতা:<br />
আমেরিকান গল্পকার লিডিয়া ডেভিস তার Flash Fiction বা অণুগল্পগুলোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।একবার এক ফোরামে লেখক হওয়ার পেছনের গল্প নিয়ে বলতে গিয়ে মজা করে বলেছিলেন- ‘লেখা ব্যাপারটা আমার প্রথম প্রেম নয় কিন্তু লেখক হয়েই আমি যেন পুরো প্রেমে ডুবে গেলাম।লিখতে ভালোই লাগে।’</p>
<p style="text-align: justify">তিনি বলেন, ‘আমার অণুগল্পগুলো এক একটি গগণচুম্বী দালানের মতন, যার চতুর্দিকে শূন্যতা দিয়ে ঘিরে আছে।’</p>
<p style="text-align: justify">আসুন আজ তার এমন একটি অণুগল্পের ভাবান্তর পড়ি এবং তার সাথে নাফিসা ইসলামের তৃতীয় পদ্যটির খেয়াল সাদৃশ্যতা নিয়ে ভাবনায় ডুব দেই।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>অণুগল্প : অবরুদ্ধ বাড়ি</strong></span><br />
এক বিশেষ ধরনের পরিস্থিতিতে চতুর্দিক দিয়ে ঘিরে রাখা ছোট্ট একটি বাড়িতে এক দম্পতি থাকেন।তাদের রান্নাঘরে ডিনার-টেবিলে খাবারের সামনে বসলেই আশপাশ থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দ পেতেন রোজ।</p>
<p style="text-align: justify">প্রায়দিন এইসব শব্দে ভয়ে কুঁকড়ে উঠে স্ত্রীটি বলতেন- ‘তুফান এলো বুঝি, তাই এইরকম বাতাস বইছে’। তার কথা উড়িয়ে দিয়ে স্বামীটি বলতেন- ‘নাহ! তুফান নয়, মনে হয় ডাকাত দল এলো, লুটপাট শুরু করেছে’।এমন উদ্ভট কথা শুনে স্ত্রীলোকটি তার স্বামীকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন- ‘তোমার সব বাজে ভয়।আমার মনে হয় বৃষ্টি পড়ছে।তার আগে তুফান এলো’।স্বামী লোকটা এবার বিরক্ত হয়ে বলল- ‘তুমি যত্তোসব ফালতু বকো।যদি ডাকাত না পড়ে, আমার মন বলছে, সৈন্যরা এসেছে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, বোমা পড়ছে’।</p>
<p style="text-align: justify">এই অণুগল্পটিতে- দেখতে পাই বা প্রশ্ন জাগে মনে:<br />
এটি কী নারী ও পুরুষ, কীভাবে একটি ব্যাপারকে আলাদাভাবে দেখে বা উপলব্ধি করে তার মেটাফোর বা রূপক?<br />
এর উত্তর হলো- হ্যাঁ, অনেকটা তাই। This is the metaphor of how men and women viewed and perceived thing differently.</p>
<p style="text-align: justify">লিডিয়া ডেভিসের এসব সাইমেট্রিক্যাল লেখাগুলোর সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো- সেখানে দুটি বিপরীত লিঙ্গের বস্তু বা মানুষের মনস্তাত্বিক জটিল বিশ্লেষণকে ছন্দবদ্ধভাবে পরিবেশন করা হয়ে থাকে।এখানে নারী ও পুরুষ বা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ভয়ে কুঁকড়ে আছে, তারা বসে আছে একটি অবরুদ্ধ বাড়ির ভেতরে, রান্নাঘরে।পুরুষ লোকটি মানবসৃষ্ট বিপদের ভয়ে ভীতু হয়ে পড়েছে।আর স্ত্রীলোকটি প্রকৃতি সৃষ্ট দুর্যোগের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আছে।দুজনই যেন থমকে আছে নাফিসা ইসলাম রচিত সেই লাইনটির মতন-<br />
‘প্রেম-গন্ধী ফুল থেমে আছে সময়ের নির্দিষ্ট বাঁকে’।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নাফিসা ইসলামের তৃতীয় পদ্য:</strong></span><br />
যাবতীয় স্মৃতির অসুখ<br />
ভুলে গেছে পরিক্রমা<br />
আমাদের অখণ্ড আবাসে<br />
প্রেম-গন্ধী ফুল থেমে আছে<br />
সময়ের নির্দিষ্ট বাঁকে<br />
জল অথবা জলহীনতায়<br />
পরিবর্তনহীন; প্রগাঢ় স্থিরতায়-<br />
কথকতার সুনিপুণ ভাঁজ খুলে<br />
ছড়িয়ে রাখি, রৌদ্রের উঠানে<br />
অমরতা খোঁজে সহজ স্পর্শ<br />
এসো, আমাদের নির্বাচিত স্বপ্নসমূহ<br />
গাঁথতে গাঁথতে জুড়িয়ে নিই প্রাত্যহিকতায়&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">লিডিয়া ডেভিসের ওই গল্পে একটা বাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে স্ত্রীলোকটি বুঝতে পারে- তার বাড়িটি তার বিশাল হৃদয়ের ভেতরেই কোথাও আছে। সেই বাড়ির উপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়, বৃষ্টিরা ঝরে পড়ে এবং এরপর বাগানে ফুল ফুটবে, পাখিরা আসবে, গাইবে, সুর দিয়ে ভরিয়ে দেবে চারপাশ, এত কিছুর ভাবনাতে ডুবে নারীটি যেন বাড়িতেই ডুবে যায়। অথচ সেই বাড়িটিতেই সে বাস্তবে বসে আছে। যার চারপাশ অবরুদ্ধ কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে।নাফিসা ইসলাম তাই তো ভেবেছেন- ‘পরিবর্তনহীন; প্রগাঢ় স্থিরতায় কথকতার সুনিপুণ ভাঁজ খুলে ছড়িয়ে রাখি, রৌদ্রের উঠানে অমরতা খোঁজে সহজ স্পর্শ, এসো, আমাদের নির্বাচিত স্বপ্নসমূহ গাঁথতে গাঁথতে জুড়িয়ে নিই প্রাত্যহিকতায়’।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু পুরুষ লোকটির ভাবনা যেন অন্যরকম। তার কাছে নিজ বাড়িতে থেকেও বাড়ি যেন নিরাপদ স্থান নয়।বিস্ফোরণের শব্দে মনে হয় কোনো ডাকাত এলো, সন্ত্রাসীরা বুঝি হামলা করবে, বা সৈন্যবাহিনীর দল এসেছে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, বোমা পড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">এই গল্পের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো- পুরুষরা ধ্বংসের দিকে (যুদ্ধ, শিকার) আর নারীরা সৃষ্টির দিকে (প্রকৃতি) প্রস্তুত হয় বা এগিয়ে যায়। লোকটা যেন বাড়িতে থেকেও নেই, যেন সে এখানে থাকেই না।কিন্তু স্ত্রী লোকটির বিশাল হৃদয়ে বাড়ি আছে। সেখানে বাতাস বয়, বৃষ্টি পড়ে আর পাশের পুরুষ লোকটিও ছায়া-সঙ্গী হিসেবে সে বাড়িতে থাকছেই তো।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/10/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ab/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রায়দিন তামান্না তুলির কবিতা কীভাবে ও কেন পাঠ করি ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 18:02:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1789</guid>

					<description><![CDATA[[ সম্পাদকীয় নোট: বিশ্ব কবিতা দিবস ২১ মার্চ। বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা ও প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।এবারের কবিতা দিবসে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong><em>[ সম্পাদকীয় নোট: বিশ্ব কবিতা দিবস ২১ মার্চ। বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা ও প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।এবারের কবিতা দিবসে যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য বিশেষ আয়োজন গল্পকার নাসরিন জে রানির চোখে কবি তামান্না সুলতানা তুলির কবিতা ]</em></strong></p>
<p style="text-align: justify">সব মানুষের হৃদয়ে একটি কবি সত্ত্বা বাস করে। মানুষ তার মনের ভেতরের যেকোন ভাব, চিন্তা-ভাবনা, আবেগ ও অনুভূতিগুলো যখন কাব্যিক ঢঙে প্রকাশ করে, তখন থেকেই সেটা কবিতা হয়ে ফুটে ওঠে। স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ বলেছেন- ‘গদ্য মানে শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো, আর পদ্য মানে সর্বোৎকৃষ্ট শব্দকে সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো।’</p>
<p style="text-align: justify">কবিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সারা বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহ দিতে ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে ইউনেস্কো ২১ মার্চকে ‘বিশ্ব কবিতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ব কবিতা দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো- কবিদের সম্মান জানানো, কবিতা আবৃত্তির ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা, কবিতা পড়া এবং কবিতা পড়ানো, কবিতা লেখা ও শিক্ষার প্রচার, নাট্য, নৃত্য, সংগীত ও চিত্রকলার মতো অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে কবিতার সমন্বয়তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কবিতাকে বিভিন্ন মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা।</p>
<p style="text-align: justify">২০২২ সালের আজ ২১ মার্চ, বিশ্ব কবিতা দিবস। এই দিনে আমি সম্মান জানাতে চাই সমসাময়িক বাংলাদেশের তরুণ কবিদের মাঝে অন্যতম প্রত্যুৎপন্নমতি কবি তামান্না সুলতানা তুলিকে।তুলির কবিতার ভেতরে তার রকমফের বহুবিধ ভাবনার, রচনাশৈলীর ভেতর-পথ ধরে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ফুটে উঠেছে।</p>
<p style="text-align: justify">আজকের আলোচ্যতে নেওয়া তামান্না তুলির লেখা পাঁচটি কবিতা-<br />
১.<br />
সাঁতারের নিশ্চয়তা পেলে ধার দেব<br />
আশবটি<br />
মাছেদের সংসারে লাগাবো কোন্দল</p>
<p style="text-align: justify">২.<br />
মানুষের অবিশ্রাম প্ররোচনার পাশে ফুটে<br />
আছে আমার<br />
স্বেচ্ছামৃত্যুর পুষ্প</p>
<p style="text-align: justify">৩.<br />
নরম মাংসের ভেতরে<br />
খেলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কবুতর</p>
<p style="text-align: justify">৪.<br />
এমন শূন্যতায় ভাসতে ভাসতে ফাপা<br />
হাড়ের ভেতর<br />
ঘন হয়ে আসে ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা</p>
<p style="text-align: justify">৫.<br />
স্থবির গ্রহের দিকে চলে যাচ্ছি<br />
এখানে নড়েচড়ে উঠলেই ধ্বসে যাচ্ছে<br />
শব্দের সংযম</p>
<p style="text-align: justify">কবিতা হলো রক্তকে কালিতে রুপান্তর করা পীড়া, ক্লেশ।একজন কবি সীমাহীন ও অবাধে বিচরণরত থেকে সবার দৃষ্টিসীমার বাইরে অবতীর্ণ হয়ে কবিতা রচনা করতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify"><strong><span style="color: #ff0000">তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-১</span></strong><br />
সাঁতারের নিশ্চয়তা পেলে ধার দেব<br />
আশবটি<br />
মাছেদের সংসারে লাগাবো কোন্দল</p>
<p style="text-align: justify">আঁশবটি- যে বঁটিতে মাছ কোটা হয়।যে ইস্পাতে তরবারি হয়। কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আঁশবটি কর তারে।’</p>
<p style="text-align: justify">কোন্দল- ঝগড়া, কলহ।<br />
সাঁতার- জলোপরি ভাসন, সন্তরণ, পানিতে ভাসমান অবস্থায় বিচরণ/ সাঁতার দেওয়া।<br />
নিশ্চয়তা-সংশয়শূণ্যতা, নিঃসন্দেহ।<br />
ধার-দেনা, কর্জ, সম্বন্ধ-সম্পর্ক ধারধরা।<br />
সংসার-জগৎ, পৃথিবী।</p>
<p style="text-align: justify">সমস্ত স্তরের ভালোবাসা, দুঃখ-বেদনা, উন্মত্ততা-উন্মাদনার মাঝে নিজেকে খুঁজে পান তিনি, যিনি কবি এবং তার কবিতাগুলো হয়ে ওঠে পারফর্মেন্স ইন ওয়ার্ড।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-২</strong></span><br />
মানুষের অবিশ্রাম প্ররোচনার পাশে ফুটে<br />
আছে আমার<br />
স্বেচ্ছামৃত্যুর পুষ্প</p>
<p style="text-align: justify">একজন কবি সব ধরনের বিষবাষ্পকে নিঃশেষ করতে পারেন, সেই সাথে পারেন এগুলো থেকে নির্যাস সংগ্রহ করে কবিতা আকারে সংরক্ষণ করতে।</p>
<p style="text-align: justify">অবিশ্রাম-অক্লান্ত/অবিরাম।<br />
প্ররোচনা-মন্দার্থে নিয়োজন/উত্তেজনা/উৎসাহ দান।<br />
ফুটে আছে- পূর্ণ বিকশিত, সম্পূর্ণ প্রকাশিত/ব্যক্ত।<br />
স্বেচ্ছামৃত্যু-আত্মহত্যার সমার্থক স্বেচ্ছামৃত্যু।<br />
কোন ব্যক্তি যখন নিষিদ্ধ বিষ নিজের ওপর মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করে আত্মহননের পথ বেছে নেন, তখন তা আত্মহত্যা বলে আমরা জানি। একজন কবির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুতে শুধু রুপান্তর ঘটে তার এক জীবন থেকে আরেকজীবনে, হয়ত মানব শরীর থেকে কবি বৃক্ষের প্রসূনরূপ পুষ্পের আকৃতিতে আবার ফিরে আসেন আমাদের মাঝে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-৩</strong></span><br />
নরম মাংসের ভেতরে<br />
খেলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কবুতর</p>
<p style="text-align: justify">কবি সেই মানুষ যিনি সাধারণ অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি অথবা প্রচলিত শব্দকে নতুনরূপে উত্তীর্ণ করতে সক্ষম।</p>
<p style="text-align: justify">বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সায়ত্ত্বশাসন চায় না।বিচ্ছিন্নতাবাদ এক ধরনের ক্ষুদ্র ও উপেক্ষিত কিছুর সমর্থিত আওয়াজ।তুলির ‘নরম মাংসের ভেতরে খেলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কবুতর’- একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী নিরন্তর কর্ম যা অন্য এক অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়, অশান্তি হয়।একজন কবি অতিমানবীয় শক্তিমত্তার সাহায্যে সব মানুষের মাঝে উৎকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন, যখন একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট, ঘটনার রূপকধর্মী ও নান্দনিকতার সহযোগে তার কবিতাগুলো রচিত হয়।এই কবিতায় উল্লেখিত বিচ্ছিন্নতার জন্য এক বা একাধিক প্রেরণা থাকতে পারে, যা প্রভাববিস্তারকারী অংশের সাথে একত্রীকরণের প্রচেষ্টা তাদের পরিচয় ও বৃহত্তর আত্ম-সংকল্প অনুসরণ করার ক্ষমতার সাথে বিরোধপূর্ণ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-৪</strong></span><br />
স্থবির গ্রহের দিকে চলে যাচ্ছি<br />
এখানে নড়েচড়ে উঠলেই ধ্বসে যাচ্ছে<br />
শব্দের সংযম</p>
<p style="text-align: justify">একজন কবি দর্শনীয় মাধ্যম হিসেবে নিজেকে অন্যের চোখে ফুটিয়ে তোলেন, যেখানে তার রচিত কবিতাগুলো মুগ্ধ করে পাঠকদের।কবিতা বিহবল, মূঢ় করে তার সূক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, একটি মাত্র গুঞ্জরনিতে নয়, একক ঝংকারে নয়।তুলির এই কবিতাটি পাঠের পর আমার উপলব্ধি হয়েছে- এ যেন আমার নিজস্ব বোধ, চিন্তা, যা ক্রমশ ভেসে উঠেছে তার সংহিতায়, ‘এ যেন নড়ে উঠলেই ধ্বসে যাচ্ছে শব্দের সংযম।’</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-৫</strong></span><br />
এমন শূন্যতায় ভাসতে ভাসতে ফাপা<br />
হাড়ের ভেতর<br />
ঘন হয়ে আসে ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা</p>
<p style="text-align: justify">এই আলোচনের অবশিষ্টাংশে পৌঁছে বলব- আসলে কবিতা হলো মানুষের পরিতৃপ্তির বিষয়।মানুষের মনের ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের ইশতেহার বা প্রচারপত্র হলো কবিতা।একজন কবি অকথ্য দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে সাথে নিয়ে অকুণ্ঠ বিশ্বাসবোধ রচনা করে যখন, যেমন, যেখানে খুশী অভিগমন করতে পারেন- এমন শূন্যতায় ঘন হয়ে আসে ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা আমার ফাপা হাড়ের অন্তঃপুরে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পোস্টমডার্ন গল্প সিরিজ-৪ ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/10/%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a7%aa/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/10/%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a7%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 10 Mar 2022 17:06:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1765</guid>

					<description><![CDATA[পোস্টমডার্ন গল্প সিরিজ-৪: প্রায়োরিটি লিস্ট &#8211; কোথায় ছিলা? &#8211; কেন? &#8211; ফোন ধরতে চাও না আজকাল, আমি আর প্রাইয়োরিটি লিস্টে একজিস্ট করি না, টুপ করে ফেলে দিয়েছো আমাকে, আমি বুঝতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পোস্টমডার্ন গল্প সিরিজ-৪: প্রায়োরিটি লিস্ট</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">&#8211; কোথায় ছিলা?<br />
&#8211; কেন?<br />
&#8211; ফোন ধরতে চাও না আজকাল, আমি আর প্রাইয়োরিটি লিস্টে একজিস্ট করি না, টুপ করে ফেলে দিয়েছো আমাকে, আমি বুঝতে পারি খুব।<br />
-ফালতু আলাপ বাদ দাও।<br />
কি বলবা দেড় সেকেন্ডে বল।<br />
-পারব না।<br />
-তাহলে থাকো।<br />
-আচ্ছা।<br />
-তোর আচ্ছার গুস্টি কিলাই আমি।<br />
-কিলা শালার বেটা।<br />
-যা ভাগ শালি।<br />
-গুড।<br />
-গুডের বাচ্চা গুড।<br />
-উফ!<br />
-উফ নাম্বার টু!<br />
-মি টু।<br />
-মি ঠু।<br />
-মি ডাবল ঠু।<br />
-আজকের মতন বাই।</p>
<p style="text-align: justify">-কেন?<br />
-টাইম আপ তোমার।<br />
-বালের টাইম আপ, ফোন কাটবা না তুমি।<br />
-সরি সোনা, কথা বলতে পারছি না।চুলায় রান্না।যেতে হবে।<br />
-তুমি জানো, এই সময়েই আমরা কথা বলি।তাও তুমি ব্যস্ততা দেখাও। ফালতু একটা মাইয়া মানুষ তুমি।<br />
-তোমার বউ ফালতু! কি বল্লা?<br />
-সরি বউ, তোমারে বলি নাই তো! স্লিপ অফ টাং হইছে।<br />
-নো সরি একসেপ্টেড।<br />
-সরি,সরি,সরি।উম্মম্মম্মম্মমুউউমু।</p>
<p style="text-align: justify">-শালার বেটা তোর সরিগুলারে গ্রেটার দিয়া কুচি কুচি করে কাটবো এখন।আজ ঘরে পেঁয়াজ নাই, অফিস থেকে ফেরার পথে কিনতে ভুলে গেছি।তার বদলে এত সরির সাপ্লাই এখন।আয়, গ্রেটারে তোর জিভ রাখ শালা৷তোর জিভসহ কুচা কুচা কইরা ফালাবো এখন।<br />
আয়।<br />
-আহা! আমার মিস্টি মিস্টি কিউট সফট সফট বউটা।এত ক্ষ্যাপো করো কেন?<br />
-কে মিস্টি রে! কে তোর বউ? ফালতু মাইয়া মানুষ!<br />
তোর বউ!<br />
-তোমারে বলি নাই।<br />
-তো কারে বলছো! এই সত্য বলো, তুমি কি কারো<br />
প্রেমে পড়েছো?<br />
-আরি! নাহ্! উল্টাপাল্টা ভাবা শুরু কইরা দিয়ো না।তুমি খুব প্যারা দাও কিন্তু!</p>
<p style="text-align: justify">-পুরুষলোক প্রেমে পড়লে ঘরের বউ যখন দূরে থাকে, তারে ফালতু বলতে সুখ লাগে৷তোর মতন ফস ফস কইরা মজা নিয়া বইলা ফেলে।<br />
-এই সিলি একটা কথা নিয়া এত্তো প্যাচাইতেছো কেন? যাও রান্নাটা শেষ করো।খাবা না? অফিস থেকে কখন ফিরছো তুমি? আমার জান? ও বিউটিফুল ফুল!<br />
-করবো না রান্না।<br />
-কেন?<br />
-খাবো না আজ রাতে।আমি ফালতু মেয়ে।ফালতু বউ।খাওয়া তো হয়েই গেলো, আমার সবকিছু ফালতু।<br />
শুনে পেট ভরে গেছে।<br />
-আল্লাহ! কি আফাল দিলা! ফেরত উঠাইয়া নাও মাওলা! শোনো আমার টুই-মুই বাবুদের মা।আমি খুব খুব সরি।মুখ ফসকে বলে ফেলেছি। এইসব মনে নিয়ো না তুমি।তুমি তো জানো তুমি আমার কী? তুমি আমার মন-প্রাণ-চোখ-রক্ত-চুল-হাত পায়ের নখ-ওয়ালেটের টাকা, ঘরের বাইরের সবখানের শান্তি তুমি।যাও তোমার জন্য বিশাল এক ট্রাক সরি-ফুল পাঠাইয়া দিলাম, সমগ্র আমি আর পাঁচ-টনি ট্রাক সরি, সরি, সরি, সরি আর শুধু সরি।<br />
-হবে না।<br />
-ওকে, আই এম রিয়েলি সরি।<br />
-এত সহজে মাফ করা যাবে না।<br />
-কেন বউ!<br />
-আচ্ছা তুমি এখন কোথায়?<br />
-স্টাডি রুমে।<br />
-কিচেনে যাও।<br />
-কেন?<br />
-যাও।আমি বলেছি তাই যাবে।<br />
-আচ্ছা যাচ্ছি, ফোন কেটো না তুমি।<br />
-গেছো?<br />
-হ্যা।<br />
-এইবার একটা প্লেট হাতে নাও।<br />
-আচ্ছা।<br />
-নিয়েছো?<br />
-হ্যাঁ, নিলাম।কি করবো এটা দিয়ে?<br />
-এইবার স্টাডিরুমে যাও আবার।<br />
-আচ্ছা।<br />
-এসেছো?<br />
-হ্যাঁ।এখন কি করবো?<br />
-প্লেটটাকে ফ্লোরে ছুঁড়ে মারো।<br />
-ওহ! আচ্ছা।<br />
-মেরেছো।<br />
-হ্যাঁ, তুমি বলার সাথে সাথেই মেরেছি৷শব্দ পাওনি।<br />
-হ্যাঁ।এইবার প্লেটটাকে সরি বলো।<br />
-ঠিক আছে।ও প্লেট, তোকে সরি বলছি, আমার বউয়ের অর্ডার।<br />
-এখন তুমি বলো-ত, যে প্লেটটাকে মাত্র ফ্লোরে আছাড় মেরে ভাঙলে, ওইটাকে সরি বলার পরে কি আগের মত আস্ত আছে? ও ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় নাই?<br />
-নাহ! আগের মতনই আছে।আস্তই আছে।<br />
-মিথ্যা বলবা না তুমি।ফাজিল বেটা।<br />
-না মিথ্যা বলি নাই তো বউ।সত্যিই প্লেটটার কিছু হয় নাই।<br />
-কিভাবে সম্ভব! আমি তো আওয়াজ শুনলাম।ওটা ভেঙে গেছে তাই না?<br />
-আরি! নাহ।আমি একটা প্লাস্টিকের প্লেট নিয়েছিলাম।তোমার বাচ্চাগুলা মা বাসায় নাই এই সুযোগে সব কাঁচের প্লেট আগেই ভেঙে ফেলেছে।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি কি এই খেলাটা ওদের সাথেও খেলছিলা নাকি?<br />
-ফোন রাখছি।<br />
-এই ফোন রাখবা না, খবরদার।<br />
-তোর খবরদারের গুস্টি কিলাই।<br />
-কিলাও, কিন্তু ফোন রাখবা না।</p>
<p style="text-align: justify">পড়ুন</p>
<p style="text-align: justify"><a href="https://www.jogsutra.com/2022/02/01/1534/">পোস্টমডার্ন সিরিজ: ১ </a><br />
<a href="https://www.jogsutra.com/2022/02/07/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf/">পোস্টমডার্ন সিরিজ: ২ </a></p>
<p style="text-align: justify"><a href="https://www.jogsutra.com/2022/02/26/%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/">পোস্টমডার্ন সিরিজ: ৩ </a></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/10/%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a7%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হ্যালো এই ঘুমুচ্ছো তুমি ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/26/%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/26/%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 26 Feb 2022 05:57:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1720</guid>

					<description><![CDATA[পোস্টমডার্ন সিরিজ: ৩ ‌‘অন্তহীন পিপাসার্ত আকাশ আমার শাড়ি নিঙড়ে টেনে নিচ্ছে নীল পরমায়ু। আকাশে ভ্রমণ আমার ঠিক হয়নি; ঠিক হয়নি কাঠ কয়লার গুদাম ঘেঁটে হিরার অনুসন্ধান।’ ঘুম ভেঙে গেলো মাঝরাতে। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পোস্টমডার্ন সিরিজ: ৩</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">‌‘অন্তহীন পিপাসার্ত আকাশ আমার শাড়ি নিঙড়ে টেনে নিচ্ছে<br />
নীল পরমায়ু। আকাশে ভ্রমণ আমার ঠিক হয়নি; ঠিক হয়নি<br />
কাঠ কয়লার গুদাম ঘেঁটে হিরার অনুসন্ধান।’<br />
ঘুম ভেঙে গেলো মাঝরাতে।<br />
ও কি করছে একটা ফোন দিয়ে দেখি।<br />
কিন্তু ও-তো ঘুমুচ্ছে এখন। ফোন কি ধরবে?<br />
আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছে।<br />
কান্না পাচ্ছে খুব।<br />
দেখতে ইচ্ছে করছে মানুষটাকে।<br />
এত ভালোবাসি তবু মন ভরে না আমার।<br />
আরও ভালোবাসতে সাধ জাগে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিন প্রেম যেন বাড়ছেই আমার।দিনের বেলা ফোনে ভালো করে কথা বলতে পারি না কাজের ব্যস্ততার জন্য, কিন্তু আমি তো অফিসেও নেই। ওর কাছেও নেই। ও সেদিন এক কবির কবিতা পড়ে শোনাচ্ছিলো। স্বপ্নে লাইনগুলো ভেসে এলো- ‘অন্তহীন পিপাসার্ত আকাশ আমার শাড়ি নিঙড়ে টেনে নিচ্ছে’। কবিরা মানুষের মনের কথা জানে। বুঝতে পারে খিদে পেলে। নিজেকে হারিয়ে যেতে দেবো না ভেবে এমন কাউকে ভালোবাসলাম, সে সব দিলো, কিন্তু আর কিছু না নিয়েও আমাকেই গ্রহণ করে নিল। প্রচণ্ড রাগ হয় আমার তার উপরে।</p>
<p style="text-align: justify">কপট রাগে প্রতিটি দিন আমি এক হই আবার হারিয়ে যাই অতৃপ্তিতে। প্রচণ্ড তৃষায় মরি, ফিরে আসি।<br />
একটা ফোন দেই ওকে। কথা না হোক। ফোনটা বাজুক। তেতেও ওকে পাবো আমি। এত কাছে পেতে ইচ্ছে করছে। ইস! এত ভালোবাসি কেন? প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। খুব। পারি না আমি এভাবে একা থাকতে, দূরে। ওর পাশে প্রতি রাতে ঘুমুতে চাই।এই ছাইমাথার চাকরিটা ছেড়ে চলে যাবো আমার আত্মাটার কাছে।আর ভালো লাগছে না।</p>
<p style="text-align: justify">সেদিন সন্ধ্যায় গরুর মাংস ভুনা রেঁধে বসে থাকলাম, তবু সে এলো না। আমার খাওয়া হলো না। তারপর দুইদিন রাগে কথা বলিনি। ওর কি আমাকে দেখতে ইচ্ছে হয় না।একবারও বউকে এসে দেখে যেতে পারে না লোকটা? এতটা অলস কেন? দূর থেকেই কি সব প্রেম হয়? কাছে এলে বুঝি সব প্রেম ফুরিয়ে যাবে? কিসের এত ভয় তার? এক্ষুনি জিজ্ঞেস করবো আমি। ফোন না ধরলে সারারাত ভর কল করেই যাবো আমি, যতক্ষণ জবাব না পাই।</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; হ্যালো! ঘুমাওনি? কাল অফিস নেই?<br />
&#8211; আমাদের সুখের দিন শেষ হয়ে গেছে। আমি ঘণ্টা ধরে ফোন হাতে বসে থাকি। তুমি একবার আসবে, বেজে উঠবে ফোনটা। বাজে না। তুমি আসো না। আমি বসে থাকি। এখনো এই মাঝরাতে বসে আছি।<br />
&#8211; অভিযোগ আর অভিযোগ শুধু। আর কিছুই জানো না তুমি।<br />
&#8211; অভিযোগ নয় এসব। যাই হোক আজকাল আর কথা নাই। কেমন হয়ে গেছি আমি। তুমিও একটু অন্যরকম।<br />
&#8211; সরি বউ।<br />
&#8211; জানো, সারাদিনে পারি না, রাতে একটু ভালো করে কথা শোনার জন্য আমার খুব খিদে পায়।<br />
&#8211; দূরে থাকা হয়।তাই অনেককিছুই হয় না।অফিসের পর তুমি বাড়ি ফিরলে একটু পাশে বসে তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে। তোমাকে নিয়ে বাইরে কোথাও খেতে যেতে ইচ্ছে করে।বউ জানো, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চিতইপিঠা খেতে খেতে শরিষা ভর্তার ঝাঁঝে তোমার চোখ লাল হয়ে পানি বের হয়- আর তখন তুমি হাত পা নেড়ে লাফাতে শুরু করো, তখন কি-যে মিস্টি লাগে তোমাকে দেখতে।এইগুলো আমি প্রতিদিন দেখতে চাই। প্রতিদিন।</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; হয়েছে। আর ঢং করতে হবে না। সেরাতে এলে না তুমি। এত আদর করে ডাকলাম। মজা করে গরুর মাংস রেঁধে বসে থাকলাম, দুজন একসাথে এক প্লেটে খাবো,তুমি এলে না। আমারও খাওয়া হলো না।<br />
&#8211; চলে আসবো সোনা। তুমি আমার লক্ষ্মী বউ। তোমাকে না দেখলে ভালো লাগে না। যদি কথা দাও আমি এলে শাড়ি পরবে, তাহলে এক্ষুণি রওনা দেবো আমি। সত্যি বলছি।<br />
&#8211; ইস! আমার সত্যবাদি রে! এক মিথ্যুক রাজা তুমি। কখনো সত্যি কথা বলো না। তোমাকে বিয়ে করে ফেসে গেছি আমি। কত ছেলে আমার মন পেতে পিছু পিছু ঘুরেছে, এখনো লেগে আছে, শেষেমেশে বিয়ে করলাম আমি এই মিথ্যুক লোকটাকে। যে আমাকে ভালোবাসে না। দেখতে আসে না একবারও। শুধু আমাকেই ছুটে যেতে হবে, বারবার।</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; জানো বউ, এইবার তুমি যাওয়ার দিন থেকে মন খারাপের রাত শুরু। রাতের পর রাত জেগে তারা গুনি। খালি লাগে ভেতরটা। আকাশে তো তারা আছে। আমার ভেতরে কিছু নেই। তুমি নেই এখানে। কোথায় আছো বুঝতে পারি না।<br />
&#8211; তোমার প্রিয় কবির কবিতা পড়ছিলাম সেদিন।<br />
&#8211; কোন কবি? কার কথা বলছো?<br />
&#8211; ওই সে সেদিন পড়তে দিলে, তামান্না তুলির কবিতা।<br />
&#8211; হ্যাঁ।দারুণ ভালো লেখে সে। তুলির কোন কবিতাটা পড়েছো তুমি?<br />
&#8211; ‘অন্তহীন পিপাসার্ত আকাশ আমার শাড়ি নিঙড়ে টেনে নিচ্ছে’<br />
&#8211; হুম।দারুণ ছোঁয়াচে কবিতা। মনে আছে তোমার?<br />
&#8211; হুম।শুনবে?<br />
&#8211; শোনাও।</p>
<p style="text-align: justify">অন্তহীন পিপাসার্ত আকাশ আমার শাড়ি নিঙড়ে টেনে নিচ্ছে<br />
নীল পরমায়ু। আকাশে ভ্রমণ আমার ঠিক হয়নি; ঠিক হয়নি<br />
কাঠ কয়লার গুদাম ঘেঁটে হিরার অনুসন্ধান।<br />
সময়টা আমার ভীষণ দুঃসময়ের আবর্তে! পাখি ও নর্তকীর আত্মহত্যার মতো বিষণ্ণ।ছেনাল জল ঘেঁটে একাকী একটা<br />
হ্রদ, হরিণের ভয়ার্ত মুখচ্ছবি আর বেনাল বাতাসে শুধু মাংস<br />
পোড়া ঘ্রাণ।</p>
<p style="text-align: justify">আকাশ থেকে ফিরে করাতকলে প্রবেশ করলাম<br />
ঝরঝরে সবুজ থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে রক্ত<br />
মানুষের ভেতর প্রবেশ করলাম<br />
মানুষের ভেতর টুকরো টুকরো অনেক মানুষ<br />
করাতকলে কেটেকুটে ফিরে যাচ্ছে উন্মুল বাতাস !<br />
&#8211; আচ্ছা বউ! তোমার ভেতরে কি চাঁদ জাগে? ফাগুন আসে? ফুল ফোটে?<br />
&#8211; হ্যা। তুমি চাঁদ জেগে থাকো প্রিয়।ফুল হয়ে ফোটো তুমিই। এত প্রেম আসে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় আমাকে কোথাও।আমি ঠায় বসে থেকেও ভেসে যাই।এত প্রচণ্ড তার তাণ্ডব। তুমি এইসবের কিছুই জানো না। জানার সময় হয় না তোমার।অভিমানে ডুবে থাকো তুমি।ডুবি আমিও।<br />
&#8211; ওরে! ওরে! আমার সুন্দরী অভিমানিনী, তোমার কথা শুনতে শুনতে ইচ্ছে করে ভুলে যাই নিজেকে।তবে পরে তুমি যখন আর থাকো না, কথা বলো না, শুধু রাগ দেখাও। চেষ্টা করি ফিরতে, দেখি, আমি বলে আর কিছু নেই। সব তুমি আর তুমি মিলে একটা রংধনু জাদু আমার ভেতরটা আচ্ছন্ন করে রেখেছে।জানি, তোমার এমন হয় না।</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; মনে পড়ে শুরুর শুরুর রাতগুলোতে আমরা তসলিমা নাসরিনের লেখা –‘এমন ভেঙেচুরে ভালো কেউ বাসেনি আগে ’ কবিতাটা শুনতাম দুইজনে ফোনের দুইপাশে, দূরে থেকেও। তুমি ছিলে সেই পুরুষ, যার প্রেম আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে কোথাও। এরপর বিয়ে করলাম। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলো। আমরা একটি সমুদ্রের দুই তীরে দুই দ্বীপ হয়েছি। নিজেদের মাঝে আনাগোনা কমেছে।<br />
&#8211; হ্যাঁ।এখন একে অন্যকে মিছিমিছি আর আদর দিয়ে ডাকি না। রাগ দেখাই সারাদিন।সীমান্তে অনুষ্ঠান করি, দেখা হয় আমাদের। ফিরে যাই।<br />
&#8211; কখনো তুমি আসো।দামামা বাজে আমার রক্তে।এত রাতে ফোন দেই। আজকের মতন রক্তের ভেতরে প্রলয় এলে; এরপর মিথ্যুকরাজ তুমি, মায়াকথায় ভুলিয়ে প্রবল প্রেমে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যাও নিজের কাছে।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>পড়ুন</strong><br />
<span style="color: #ff0000"><a style="color: #ff0000" href="https://www.jogsutra.com/2022/02/01/1534/">পোস্টমডার্ন সিরিজ: ১ </a></span><br />
<span style="color: #ff0000"><a style="color: #ff0000" href="https://www.jogsutra.com/2022/02/07/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf/">পোস্টমডার্ন সিরিজ: ২ </a></span></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/26/%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আসো প্লিজ ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/07/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/07/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 07 Feb 2022 15:48:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1581</guid>

					<description><![CDATA[-ফোন দিলে না যে! আজকাল লাভ য়্যু বলো না, একবারও। &#8211; LOVE YOU. &#8211; শেষ কবে চুমু খেয়েছো মনে আছে? &#8211; চারদিন আগে। দুপুরে। লাঞ্চটাইমে। -আমি তখন কি করছিলাম? &#8211; &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">-ফোন দিলে না যে!<br />
আজকাল লাভ য়্যু বলো না, একবারও।<br />
&#8211; LOVE YOU.<br />
&#8211; শেষ কবে চুমু খেয়েছো মনে আছে?<br />
&#8211; চারদিন আগে। দুপুরে। লাঞ্চটাইমে।<br />
-আমি তখন কি করছিলাম?<br />
&#8211; ইন্টারকমে সিকিউরিটি-গার্ডের সাথে চেঁচাচ্ছিলে কিছু বলে বলে।<br />
&#8211; সেই সময়ে তুমি চুমু খেয়েছো? বলছো!! কই আমি জানি না তো!<br />
&#8211; তুমি তো কতকিছুই জানো না আমার।কোনো খোঁজ রাখো আজকাল? আগে অনেক কেয়ার নিতে, বিয়ের পরপরই অবশ্য।সব পুরুষরাই তাই থাকে; এরপর প্রেম মরে যায় শীতের সূর্যের মতন।</p>
<p style="text-align: justify">-প্রেম মরেনি আমার।<br />
-তোমার প্রেম পচনশীল মাংসল কিছু, আজকাল।<br />
-তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে।<br />
-দেখো।<br />
-না এভাবে না।কবে ফিরবে?<br />
&#8211; জানি না।এ মাসে আসা হবে না।<br />
-কেন?<br />
&#8211; খুব কাজের চাপ।ফিল্ড-ভিজিটে যেতে হবে।ছুটি ক্যানসেল।<br />
-তোমার কলিগ কেউ সাথে যাবে?<br />
-কোথায়?<br />
-ভিজিটে।<br />
-গেলে কী? আর না গেলে কী হবে?<br />
-কিছু না।<br />
-তাহলে জিজ্ঞেস করছো কেন?<br />
-এমনি।</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; আজ কখন ফিরেছো? রান্না করেছো? রাতে কী খাবে?<br />
-আজ বিকেলেই চলে এসেছি।কাজ শেষ হয়ে গেলেএকটু বাজার করলাম। গরুর মাংস কিনলাম।মাংস খেতে হবে।প্রচুর শক্তি দরকার।পুষ্টি ছাড়া প্রেম আসে না।<br />
-হুম।চুমু আসে না।ফোন আসে না।লাভ য়্যু আসে না রাতে।<br />
-হা হা হা।তোমার ভুজুং-ভাজ ভালোবাসা পালায়।ভালো লাগাগুলো হারিয়ে যায়।ঘ্যান-ঘ্যান বাড়ে।আজেবাজে ঝগড়া হয়।অভিযোগের পাহাড় ওঠে।<br />
&#8211; হুম।মনের ভেতরে অভিমানের বন্যা হয়।খরা হয় হৃদয়ে।পিপাসা লাগে খুব।পেতে ইচ্ছে করে সারাক্ষণ।নরম ঠোট।ছোট্ট থুতনি। গাল,নেলপলিশ মাখা আংগুল মুখে পুরে রাখতে ইচ্ছে করে। খেলতে ইচ্ছে করে মাথার খোলা চুল নিয়ে।তোমার প্রচুর চুল ছিলো আগে।সব ঝরছে এখন।<br />
-উমম! পাগল করা চুমু খেতে ইচ্ছে করে।শুধু চুমু আর চুমু খেতে ইচ্ছে করে।দিনরাত চুমু খেতে ইচ্ছে করে।সন্ধ্যাগুলো তোমার গায়ে লেগে থেকে ঘুম ঘোরে থাকতে ভালো লাগে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>তোমার ভূড়ির উপর নেলপলিশ দেওয়া আংগুল ফেলে রাখতে ইচ্ছে করে।তুমি হাত নিয়ে খেলছো দেখতে খুব সুখ লাগে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">-সিগারেটের তৃষা বাড়ছে।প্যাকেট পোড়াই,পুড়ি।তোমাকে কাছে পাই না। আগুন, ছুঁতে পাই না, আংগুলে ছ্যাকা লাগে।কলিজা পুড়ছে আমার।<br />
-তোমার মাথাটা গ্যাছে।যাই রান্না চড়াই।গরুর মাংসের জন্য মসলা করতে হবে।আমার বাটনার সরঞ্জাম নেই, নতুন ফ্ল্যাটে উঠেছি। আগের হোস্টেলটা ভালো ছিলো, বুয়া সব করে দিত। এখন নিজেরই সব করতে হয়।আজ প্রচণ্ড শীত লাগছে।কিছু করতে ভালো লাগে না আমার।ইস! যদি কেউ সব করে দিত, আর আমি এইসব বিকালগুলো ঘুমোতে পারতাম!</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; আমার ইচ্ছে হচ্ছে তোমার বাড়ি এসে সবকিছু গুছিয়ে দিয়ে যাই। কেনাকাটা করে দিই।কেমন এক পুরুষ আমি, মন চাইলেও পা দুটো চলে না আমার।কেন যে আমাকে বিয়ে করলে তুমি! ঠকে গেলে, একেবারেই ধরা খেয়েছো।<br />
-উফ! আবার ঘ্যান-ঘ্যান শুরু হলো।আমার কাজ আছে।ময়লা কাপড় ভিজিয়ে রেখে বেরিয়েছিলাম সক্কাল সক্কাল।এত শীত এখানে, কুয়াশায় আমার মাথা ভার ভার লাগে।সোয়েটার আর চাদর মুড়ি দিয়েও রক্ষা নেই।মেয়েদের অনেক জ্বালা।সবকাজ একা হাতে করতে হয়।আমার এত কাজ করতে ভালো লাগে না।ইচ্ছে হয় সকালটা ঘুমিয়ে কাটাই।এত ঘুম পায়।দাঁড়িয়ে ঘুমাই,বসেও।সুখ নেই।তাই বলে অতটা দুঃখও নেই।তবে প্রচুর কষ্ট আছে।কষ্টগুলো জমাট বাঁধছে।</p>
<p style="text-align: justify">-আমার শুধু প্রেম করতে ইচ্ছে করে।ভোরে এ পাশ ফিরি, আঁতিপাঁতি করে খুঁজি তোমাকে।হাতের মধ্যে পাইনা আজকাল।এত প্রেম নিয়ে মরছি প্রতিদিন।নেওয়ার ফুরসতই নেই তোমার।রাক্ষস হতে ইচ্ছে করে, তোমাকে হালুম করে গিলে ফেলবো এবার বাড়ি ফিরে এলে।<br />
-ইস! শখ কত! আর ফাও আলাপের টাইম নাই আমার।এখন বাই।ফোন রাখছি।<br />
-আরি! শালীর বেটি হেডফোন কানে রেখেও তো ফোনে কথা বলা যায়। ফোন কাটবি-না।খবরদার।<br />
-কাটলে কি করবি তুই? শালার পুত।একশবার কাটবো।<br />
-খুন করে ফেলবো।<br />
-খুন হওয়ার টাইম নাই সোনা।বাই এখন।<br />
-নাহ!<br />
-উফ! কাজের সময় বিরক্ত করো কেন এতো!! যাও নিজের কাজ করো। আমি রান্না করবো।এরপর ফ্রেশ হয়ে, মজা করে খাবো।নতুন একটা মুভি নামিয়েছি।ওইটা দেখে ঘুমুতে যাবো।মাকে একটা ফোন করতে হবে।অনেকদিন কথা হয় না।<br />
-নাহ! ফোন কাটবা-না।খবরদার।লাইভে আসো।একটু আদর করি।<br />
&#8211; উফ! এখন সম্ভব না। যাও তো।বিরক্ত করো না।<br />
-আসবা।নাইলে খবর আছে কিন্তু।<br />
&#8211; থাক খবর।ফোন কাটছি।</p>
<p style="text-align: justify">-এই কাটলি কেন তুই? আমাকে ভালো লাগে না আর?<br />
-এরপর?<br />
-তোর প্রেম মরে গেছে।আজকাল ভালো করে কথাও বলিস না।<br />
&#8211; হুম।<br />
&#8211; হুমের গুষ্টি কিলাই।<br />
&#8211; আচ্ছা, কিলাও।<br />
&#8211; প্লিজ কাছে আসো।একটা চুমু খাবো।</p>
<p style="text-align: justify">-শোনো আমি মাংসটা রান্না করি।রান্না হতে সময় লাগবে।তোমার মিস্টি বউটা সকাল থেকে না খেয়ে আছে।এভাবে কী প্রেম করে মজা পাওয়া যাবে?<br />
-দুপুরে খাও নাই আজ?<br />
&#8211; নাহ।আজকে খাবার নষ্ট হয়ে গেছে।মিটিং ছিলো, তাই লাঞ্চ করতে দেরি হয়েছে।সকালবেলা তাড়াহুড়া করে বেরুনোর সময় ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে ওভেনে গরম করে নিয়ে গিয়েছিলাম।এতবেলা পর্যন্ত খাবার ভালো থাকে নাকি!<br />
-আচ্ছা যাও রান্না করো।ফোন কাটবা-না।লাউডস্পিকারে দাও।<br />
-আরি! রান্নাঘরে অন্য মানুষ থাকবে।সেখানে এভাবে কথা বলা যাবে না।তোমার বউ তো একা থাকে না, অন্য মেয়েরাও তো আছে।এখন রাখি সোনা।<br />
&#8211; নাহ!<br />
-প্লিইইইজ!!</p>
<p style="text-align: justify">&#8211; তোমার গলা খুব মিস্টি জানো! খালি শুনতে ইচ্ছে করে।<br />
&#8211; তাই? আচ্ছা।<br />
&#8211; হুম।তুমি যখন কথা বলো, আমার কানের ভেতরে আরাম লাগে। তোমার ঠোঁট নরম, চুষতে মজা লাগে আমার।<br />
&#8211; হইছে।এখন থাকো।আমার খিদা লাগছে তো।কিছু না খাইলে মইরা যাবো।<br />
-আমারও ক্ষুধা পায় সারাক্ষণ।</p>
<p style="text-align: justify">-গরুর মাংস রান্নাটা ভালো হচ্ছে।যা সুন্দর ঘ্রাণ বেরুচ্ছে, আহ,দারুণ। এসো, চলে এসো তুমি।<br />
মাত্র তো আট ঘণ্টা লাগে বাসে।আমি বসে থাকবো তোমার জন্য।তুমি এলে একসাথে ভাত খাবো।গরম ভাত।ধোঁয়া ওঠা নাজির চালের ভাত আর ঝাল ঝাল গরুর মাংস, মেখে তোমার মুখে তুলে খাইয়ে দেব। আসো।<br />
-তুমি খাও।আমার খিদে নেই।<br />
-আসো।একসাথে ভাত খাই, এক থালায়।আসো প্লিজ।মুখে তুলে খাইয়ে দেবো। আসো প্লিজ।</p>
<p>আরও পড়ুন:<span style="color: #ff0000"> <a style="color: #ff0000" href="https://www.jogsutra.com/2022/02/01/1534/">আমি জানি তুমি আসবেই </a></span></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/07/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমি জানি তুমি আসবেই ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/01/1534/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/01/1534/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Feb 2022 16:16:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1534</guid>

					<description><![CDATA[&#8211; তো এই ফাইনাল কথা হলো। &#8211; কী? &#8211; তুমি আসবে না এই মাসে? &#8211; ওহ। &#8211; এলেই কী? না এলেই কী? -কেন? &#8211; তুমি তো বিজি? &#8211; কি নিয়ে? &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">&#8211; তো এই ফাইনাল কথা হলো।<br />
&#8211; কী?<br />
&#8211; তুমি আসবে না এই মাসে?<br />
&#8211; ওহ।<br />
&#8211; এলেই কী? না এলেই কী?<br />
-কেন?<br />
&#8211; তুমি তো বিজি?<br />
&#8211; কি নিয়ে?<br />
&#8211; কত কিছু নিয়েই তো দেখছি।<br />
&#8211; আজ গলদা চিংড়ি কিনেছিলাম।তোমাকে মিস করেছি।<br />
&#8211; কেন মজা হয়নি?<br />
&#8211; কী?<br />
&#8211; রান্না!<br />
&#8211; ওহ।হ্যাঁ, মাস্ট মজা হয়েছে।তিন তিন তিন তিন-তিরিক্কি নয়টি চিংড়ি রান্না করেছি।মাথার আঁশ ফেলে, বুকের লম্বা সাঁড়াশি লোম রেখে, পিঠের আঁশ খুলে, পায়ের নখ ঝুলিয়ে হাঁটুর উপরের শক্ত আবরণ ফেলে তিন তিরিক্কি নয়টা সুন্দর নধর উত্তম চিংড়িকে ভালো করে সাইজ করেছি।<br />
-তাই বুঝি? চিংড়ির ময়লা কিন্ত থাকে মাথায়? ওর মগজে।<br />
-মানুষের মতন কিছুটা।ঘাড় ত্যাড়া চিংড়িগুলো।জানো, ওদের সচ্ছ্ব গুটি-গুটি চোখ ফেলে কুটুস করে মাথা বরাবর কাঁচি চালিয়ে দিলাম, এক ক্যাচক্যাচিতে মাথা ফাঁক করে ঘ্যাচাং করে কেটে দিলাম মুহূর্তে, ওই ত্যাড়া ত্যাড়া ঘাড় থেকে রগ টেনে ছিড়ে বের করলাম, বেরিয়ে গেলো মাথা থেকে সোনালী প্রেম আর কমলা জেলি, দারুণ লাগছিলো এই কাজটুকু- এক পাকা কসাই যেন আমি।<br />
&#8211; হুম।বাঙালি মাছ কাটতে পারে ভালো।<br />
মনও কেটে ফেলে।প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে।<br />
-তুমি এইসব ভাবো।আজ সারাদিন একবার ফোন দিলে না।আর ভুলে গ্যালে, দায় সব আমার, তাই তো!<br />
-এই তো রুটিন।তোমার আমার।তুমি চিংড়ির কল্লা ফালা করবে। আমার হৃদয় ছিন্ন করবে। আর প্রচুর কমপ্লেইন সারাদিন, রাতভর ঘ্যান ঘ্যান।<br />
-চিংড়িগুলো কিভাবে রাধলাম, শুনবে না?<br />
&#8211; বলো।তেমন ইচ্ছে নেই শোনার।তবু তুমি তো বলবেই।<br />
-থাক।<br />
&#8211; নাহ বলো।আবার রাগ দেখানো হচ্ছে।<br />
&#8211; আজ বাজার করেছিলাম।কিন্তু ভালো ধনেপাতা পাইনি।শেষে এক মাইল হেঁটে এক ভ্যানের উপর দারুণ কিছু দেশি পাতার সন্ধান মিলল। নিয়েই ভো-হন্টন। ঘরে ফিরে ধোয়া মাছ, সাথে দেশি পেঁয়াজ জুলিয়ান কাট আর লম্বা কাঁচা মরিচের পেট ফেড়ে দিয়ে, একটা প্যানে ঝাঁঝালো শর্ষে তেল ঢেলে দিলাম পুরো এক কাপ।<br />
-এক কাপ! কি বলছো।নয়টি চিংড়িকে তেল সমুদ্রে ডুবিয়ে কবর দিতে। চিংড়িগুলোর শান্তি নেই, সমুদ্র থেকে তোমার উনুনে প্রবেশ করেও, ডুবেই মরতে হবে দ্বিতীয়বার, রক্ষা নেই আমার মতন।<br />
-যেমন তুমি মরছ।আমার থেকে দূরে থেকে।<br />
-তুমি দূরে রেখেছো কেনো আমাকে? আমার কি দোষ? তুমিই চাওনা আমি কাছে কাছে থাকি।কাছে এলে রাজ্যির ঝগড়া বাধাও সারাক্ষণ।<br />
&#8211; আচ্ছা।ঝগড়া থাক।শোনো তো এইবার চিংড়িগুলো কিভাবে ভুনলাম। শোনোই না!<br />
-শুনছিই তো।তোমার কথা কি তুমি না বলে ছাড়বে! বলতে থাকো।<br />
-তেল ছ্যাত ছ্যাত করে ধোয়ায় কিচেন ভরে গেলো।<br />
পেঁয়াজ, মরিচ আর চিংড়ি একসাথে ছেড়ে দিলাম।<br />
এরপর সামান্য কালো গোল মরিচের গুড়া আর জিরা ভাঙ্গা।<br />
-মসলা না কষা করে, আগেই চিংড়ি ছেড়ে দিলে?<br />
মাছ তো শক্ত হয়ে গ্যাছে, এই মাছ বিস্বাদ হয়ে যাবে, রাবারের মতন। তোমার স্বভাবের,তোমার রান্নাও তেমন।বাজে।খুব বাজে।<br />
&#8211; নাহ। নাহ।এই রেসিপিটা দারুণ।শোনোই না!<br />
-রুচি নেই আমার।<br />
-আরি শোনো তো টুইমুই পাখি, ওই বাচ্চাদের মা।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর আধ-চামচ হলুদ গুড়ো, মরিচ আর ধনিয়া গুড়ো সাথে কুচি করে কেটে রাখা তাজা লাল রসালো টমেটো ছেড়ে দিলাম। ঠিক পাঁচ মিনিট পরে এত সুন্দর একটা সুবাস এলো, তুমি যখন প্রতিমাসে ঘরে ফেরো, যেই হাসিটা দাও দরজায় দাঁড়িয়ে, সেই রকমের একটা সুবাস আর সুন্দর চেহারা ফুটে উঠলো আমার প্যানের মধ্যে।ধনেপাতা ছড়িয়ে ঢাকনা দিয়ে ওখানেই আরো পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে রইলাম।মন তোমার কাছে, শরীর এইখানে।এত অদ্ভুত এই জীবন। প্লিজ, ফিরে এসো এবার, দ্রুত।<br />
-এই মাসে আসা হবে না আমার।<br />
-কেন?<br />
&#8211; উত্তর দিতে ইচ্ছে করছে না। রাখলাম এখন।<br />
&#8211; তোমাকে ছাড়া খেতে ভালো লাগেনি।কিছুটা রান্না তুলে রেখেছি।আমি জানি তুমি আসবেই।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/01/1534/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অনূদিত গল্প ॥ ইন্সতিতুতো ন্যাসিওনালে</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/07/05/952/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/07/05/952/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 13:24:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=952</guid>

					<description><![CDATA[গল্প: ইন্সতিতুতো ন্যাসিওনালে গল্পকার: আলেহান্দ্রো সামব্রা ভাবান্তর: নাসরিন জে রানি আগেই সরি বলছি, কারণ আজকের গল্পের মূল চরিত্রের পুরো নাম বা তার ডাক নাম কিছুই আমার মনে নেই। আমরা তখন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff00ff">গল্প:</span> ইন্সতিতুতো ন্যাসিওনালে<br />
<span style="color: #ff0000">গল্পকার</span>: আলেহান্দ্রো সামব্রা<br />
<span style="color: #800000">ভাবান্তর</span>: নাসরিন জে রানি</p>
<p style="text-align: justify">আগেই সরি বলছি, কারণ আজকের গল্পের মূল চরিত্রের পুরো নাম বা তার ডাক নাম কিছুই আমার মনে নেই। আমরা তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। স্যাররা আমাদের নাম না ধরে বরং রোল নম্বর ধরেই কথা বলতেন, পড়া নিতেন। এই কারণেই আমার দুই তিনজন ঘনিষ্ঠ সহপাঠী ছাড়া অন্যদের নাম আমি জানতাম না। আজকের গল্পের মূল চরিত্রের মানুষটা আমার বন্ধুদের কেউ ছিলো না।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু আমার খুব ভালোভাবেই মনে পড়ছে, তার রোল নম্বর ছিলো ৩৪। তার কথা আমার যেমন প্রায়ই মনে পড়ে, কেন যেন আমার মন বলে- সেও আমার কথা ভুলে যায়নি। আমাদের ক্লাস সেভেনে মোট ৪৫ জন ছাত্র ছিলো, এবং আমার রোল নম্বর ছিলো সর্বশেষ।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>স্যাররা আমাদের রোল কল করেই প্রতিদিনের হাজিরা খাতাটা বন্ধ করে রাখতেন। ক্লাসের সর্বশেষ ছাত্র হওয়ার একটা অন্যরকম মজা তো আছেই। শুরুর দিকের কেউ না হলেও ১৫ বা ২৭ এর মধ্যবর্তী কোনো রোল নম্বরের সাথে যদি তুলনা করি, আমার কাছে আমার নম্বরটাই ভালো লাগে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">রোল নম্বর ৩৪ যার, সে ছেলেটার কথা প্রথমেই আমার যা মনে পড়ছে, তা হলো- টিফিন পিরিয়ডে খুব যত্ম করে টিফিনবক্স খুলে সে গাজর খেতো। বক্সের ভেতরের দৃশ্য দেখতে দারুণ মনোরম, ভালো লাগত আমার। গাজরগুলোর আবরণ ছিলে সুন্দর টুকরো করে কেটে, বক্সে সাজিয়ে নিয়ে আসত সে, কাজটি হয়তো ছেলেটার মাই করে দিত। খাবারের জন্য টিফিনবক্সটা হাতে নিয়ে খুব সাবধানে চাপ দিয়ে সে বক্সের উপরের কভারটা খুলতো; এই কাজটিতে ছেলেটা এতটা নিপুণ ও দক্ষতা লাভ করেছিলো যে, সে জানত কতটুকু চাপ দিলে উপরের ঢাকনাটা সুন্দর করে খুলে আসবে। তার ভাব দেখে মনে হতো, সে যেন দারুণ কোনো কলা অনুশীলন করছে। কিন্তু দক্ষতার সাথে টিফিনবাটি খুলে গাজর খেলেও সে বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করে ক্লাস সেভেনে থেকে যাওয়া পুরনো ছাত্রদের একজন।</p>
<p style="text-align: justify">ফেল করে একই ক্লাসে আবার পড়ার ব্যাপারটা আমাদের জন্য প্রচণ্ড খারাপ একটা ঘটনার মতন। তখন আমরা কিশোর ছিলাম, আমাদের সেইসব দিনের শিক্ষা ও জীবনকালের ছোট্ট দিনগুলোতে কখনোই ওই ধরনের ব্যর্থতার মতো কিছুর স্বাদ নেওয়া তো দূরের কথা, ওই রকমের কিছুর মুখোমুখিও হইনি।</p>
<p style="text-align: justify">শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত স্কুলটাতে ভর্তি হয়েছিলাম আমরা। তাই আমাদের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা এবং প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো চান্সই ছিলো না। কিন্তু আমাদের শ্রেণিতে ছিলো ওই ছেলেটি, যার রোল ৩৪। আমাদের সাথে তার নিত্য চলাফেরা ও অধ্যয়নের কারণে আমাদের মনে একটা ভীতির সৃষ্টি হলো- যে কেউই ব্যর্থ হতে পারে। এমন কি সেই পরাজয় সহ্য করে, সামনের দিকে পথচলা হয়তো তেমন কঠিন কোনো সমস্যা নয়। আমাদের এই ভীতির মূলে ছিলো- ওই ছেলেটির হাবভাব, সে তার ব্যর্থতাকে কলঙ্ক হিসেবে না নিয়ে, বরং তা নিয়ে গর্ব করার মতন একটা ঘটনা যেনো, সেভাবেই নির্বিকার থেকে এবং একই ক্লাসের বইগুলো আরেকবার পড়ার সুযোগ পেয়েছে, তাই সে যেনো খুব আনন্দিত, এই রকমের কিছুই প্রকাশ করত। প্রায়দিনই কোনো-না-কোনো ক্লাসের স্যাররা তাকে তাচ্ছিল্যের সুরে বলত ‘তোমার মুখটা বেশ চেনা চেনা লাগছে।’ রোল নম্বর ৩৪ বিনয়ের সাথে জবাব দিত, ‘জি স্যার। এই ক্লাসে গত বছর ফেল করে থেকে যাওয়া একমাত্র ছাত্রটি আমি। কিন্তু এবার আমি অবশ্যই পাস করব এবং আগের তুলনায় ভালো রেজাল্টও করব’।</p>
<p style="text-align: justify">স্কুলে ভর্তির প্রথমার্ধের মাসগুলোতে আমরা বলতে গেলে প্রচন্ড নরক যন্ত্রনার ভেতর দিয়ে সময় অতিক্রান্ত করছিলাম, স্যাররা যতক্ষন ক্লাস নিত, তাদের পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবহার দিয়ে আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিত- এই রকমের স্বণামধন্য মাধ্যমিক স্কুলটিতে পড়ালেখা করাটা কতটা কঠিন কাজ, এরচেয়ে বরং আমরা যদি নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে শুনে পাড়ার সাধারণ স্কুলে ফিরে যাই, তাহলে পড়ালেখাটা এত কঠিন মনে হবে না। এই রকমের পরামর্শ স্যারদের কেউ না কেউ প্রতিদিনই দিতে লাগল।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>কথাগুলো তারা খুব তাচ্ছিল্যের আর অবজ্ঞা ভরে হাসতে হাসতে উপহাসের ছলে বলত। কিন্তু তাদের কথাগুলোর মর্ম বা প্রকৃত অর্থ আমরা ভালো বুঝতে পারতাম না। এবং এসব শুনে শুনে আমাদের মনে ভীষণ ভয় ঢুকে গেল আর ত্রাসের সৃষ্টি হলো।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এতটুকু তো বোঝাই যাচ্ছে, তখনকার স্যারগুলো সত্যিকার অর্থেই ছিল এক একটা ইবলিশ শয়তান। তাদের নামগুলো আমরা ভালোভাবেই জেনেছিলাম। যেমন- অংক স্যার বেরোনার্দ এগুইরো ছিলো একটা আস্ত পিশাচ, খানকির পোলা। কারিগরি শিক্ষা ক্লাসের স্যার এদুয়ার্দো বেনেগাস ছিলো একটা চুতমারানির পুত।</p>
<p style="text-align: justify">সেইসব বহু পুরনোদিনের স্মৃতি এবং ওই স্কুল থেকে বেড়িয়ে আমরা দূরের বিভিন্ন শহরে চলে এসেছি। স্যারদের আর আমাদের মাঝে ভৌগলিক দূরত্ব বিস্তর এখন, কিন্তু ওই স্যারদের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছে একবিন্দুও কমেনি আমার। তারা ছিলো নিষ্ঠুর এবং কসাই চরিত্রের, হতাশাগ্রস্ত, শয়তানের চেলা ও বলদের হাড্ডি, স্বৈরশাসক পিনোচিতের দোসর, বান্দি মাগীর পুত ও প্রচণ্ড ডরপুক।</p>
<p style="text-align: justify">তবে আজকে আমি এইসব কুত্তা ও বেশ্যার পোলা স্যারদের নিয়ে গল্প বলতে আসিনি। আমি প্রমিজ করছি, আপনার কাছে, ওদের নিয়ে আর কোনো কথাই বলব না, বরং টিফিন বাটি খুলে মজা করে গাজর খাওয়া এবং আগের বছর ফেল করে একই ক্লাসে থেকে যাওয়া আমাদের একমাত্র ক্লাসমেট রোল নম্বর ৩৪ কে নিয়ে আলাপ ও স্মৃতিটুকু বলে যাব।</p>
<p style="text-align: justify">রোল নম্বর ৩৪ এর হাবভাব ঠিক ফেল্টুস ছাত্রদের মতন ছিলো না। সাধারণত ধারণা করা হয়, এই ধরনের ফেল করা ছাত্ররা ক্লাসের অন্যান্যদের সাথে মিলতে চায় না, বন্ধুত্ব হয় না এবং তাদের পড়ালেখায় কোনো আগ্রহ নাই। কিন্তু এই ছেলেটা ভিন্ন স্বভাবের ছিল, সে আমাদের সাথে গল্প করতে ভালোবাসত এবং যেকোনো ব্যাপারেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসত। কিন্তু এরপরেও মাঝে মাঝে তাকে দুঃখী মনে হতো, যখনই ক্লাসের আগে বা পরে তার পূর্বের ক্লাসের কারো সাথে দেখা হতো, হয়তো তারা তার সাথে মিশতে চাইত না, এড়িয়ে যেত তাকে। তাই মনে হতো আমাদের সেই সময়গুলোতে- ফেল্টুস ছাত্রদের মাঝে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা থাকে, তাদের এই দুর্ভোগের পেছনে দায়ী যারা তার সাথে এক ধরনের বিরতিশূন্য যুদ্ধে লিপ্ত থাকে তারা, যেন ঘৃণা আর ঘৃণা নিয়ে দিনগুলো কাটে। কিন্তু এসব ব্যপারগুলোর খুব সামান্যই আমরা ওই ফেল্টুস ছেলেটির মাঝে দেখতাম, সে যেন ভুলেই যেত- সে একজন ফেল করা ছাত্র, সে যে নতুনদের সাথে একই ক্লাসে দ্বিতীয়বার পড়ছে। সবচেয়ে বেশী আশ্চর্য লাগত, এই ভেবে- সে কোনদিন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করত না এবং কাউকে হিংসা করত না। সে আমাদের তেমন ভালো বন্ধু না হলেও, আমাদের জন্য মাঝে মাঝে স্যারদের সাথে কথা বলত, যখন স্যাররা আমাদের নিয়ে অতিরিক্ত ঠাট্টা করত। রোল ৩৪ এর সেসব আলাপ ও কথাবার্তাগুলো ছিলো বেশ মজাদার ও প্রাণবন্ত, যেন স্যারদের সে ভয়ই পেত না এবং খুব বন্ধু কেউ ভাবত। এইদিকে যেসব স্যাররা তাকে ফেল করিয়ে দিয়েছিলো, তাদের সাথেও সে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কথা বলত ও মান্য করে চলতো।</p>
<p style="text-align: justify">রোল নম্বর ৩৪ যতবারই তার বিচিত্র মেধার পরিচয় দিত, সেই সবকিছু দেখে দেখে আমরা ভয় পেতে পেতে হীনমন্য হয়ে যেতে থাকলাম। সে কখনোই তার জ্ঞান জাহির করত না, বরং বিচিত্র উপায়ে তার চিন্তা-ভাবনাকে প্রকাশ করত এবং বিবিধ বিষয় নিয়ে শলা-পরামর্শ দিতো। সে এমন সব সমস্যা ও বিষয় নিয়ে আলাপ করতো, যা পাঠ্যবইয়ের কোনো চ্যাপ্টারে নেই। এই কারণে আমাদের কাছে সে একজন শ্রদ্ধার পাত্র ও জ্ঞানী এবং বিস্ময়কর কেউ ছিলো। তার এই ক্ষমতাটুকুতে আমাদের চমৎকৃত হওয়ার ব্যাপারটাই আমাদের জন্য কাল হয়েছিল। কারণ, আমরা সারাক্ষণ ভাবতাম, তার মতন মেধাবী ও জ্ঞানী ছাত্র যদি ফেল করে, তবে আমরা যেকেউ এই রকমের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি।</p>
<p style="text-align: justify">তার অগোচরে তার ব্যর্থতার বিষয়টা নিয়ে আমরা কারণ অনুসন্ধানে জন্য আলোচনায় মেতে উঠলাম। তাকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে ছিলো- সে হয়ত পারিবারিক কোনো সংকটের কারণে ফেল করছে অথবা বার্ষিক পরীক্ষার আগে আগে কোনো বড় অসুখে পড়েছিল, তাই সে ফেল করেছে। ভালোমত পরীক্ষা না দেওয়ার কারণে, এবং এই ধরনের খারাপ ভাগ্যের শিকার হয়েছে। কিন্তু গুজবকে পাত্তা না দিয়ে বরং পাশ কাটিয়ে আমরা সত্যিটাও সবাই জানতাম যে, তার ব্যর্থতার মূলে অন্যকোনো কিছুই নয় বরং সম্পূর্ণভাবে পড়াশোনা সংক্রান্ত ব্যাপার। এটাও আমাদের মনে ভয় হিসেবে প্রবেশ করে গেড়ে বসল যে, দুইদিন বাদে আমরাও হয়ত তার মতন দুর্ভাগা ও ব্যর্থ ছাত্রে পরিণত হবো।</p>
<p style="text-align: justify">একদিন পেছনের এক বেঞ্চে তার পাশের সিটে বসেছিলাম আমি। অন্য কোথাও জায়গা না পেয়ে, সেইদিন কোনো কারণে তার মন ভালো ছিল। তাকে দেখে সুখী মনে হচ্ছিল। সে যেন আমার সাথে কথা বলতে চাইছে। বারবার তাকাতে লাগলো আমার মুখের দিকে। কিন্তু কিছু না বলে বেশ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলো। দুটো ক্লাসের শেষে পরের ক্লাসের স্যার আসার কিছুক্ষণ আগে সে হঠাৎ করে, ফিসফিস করে হাসিমুখে বলে উঠল-‘তুই দুশ্চিন্তা করিস না, ম্যালাদিন থেকে তোর ওপর আমি নজর রেখেছি, আমি নিশ্চিত যে, তুই পাস করবি’।</p>
<p style="text-align: justify">রোল ৩৪ এর মুখে এইসব কথা শোনা আমার জন্য স্বস্তিদায়ক একটা ব্যাপার হলো। আমি অনেক হালকা অনুভব করলাম আর সাথে সাথে ভীষণ খুশি হলাম। আমার খুশির মাত্রা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলো। ক্লাসে স্যার থাকার পরেও আমি বেশ জোরে কথা বলছিলাম এই বেঞ্চ থেকে ওই বেঞ্চের বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি করে। আর থেকে থেকে হেসে উঠছিলাম। যা পুরো ক্লাসের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল। আমার কাছে রোল ৩৪ ছিলো একজন অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বালক। তার অভিজ্ঞতা ও মেধার প্রকাশ দেখে দেখে প্রতিবারই আমি মুগ্ধ হয়ে যেতাম। তাই এরকম একজনের মুখে আমার ভবিষ্যৎ ভাগ্য-লাভের ব্যাপারে আশ্বাস পেয়ে আমি খুব সুখী হয়েছিলাম। টিফিনের পরে আশেপাশের পরিচিত ও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাকে ঘিরে রাখল এবং আমার ও রোল নম্বর ৩৪ এর মাঝের কথোপকথনের ব্যাপারে পুরো ক্লাস জেনে গেল।</p>
<p style="text-align: justify">এই ঘটনার অল্প কিছুদিনের মধ্যে ক্লাসের অন্যান্য সহপাঠীরাও এই বিস্ময় বালকের কাছে তাদের ভাগ্যরেখা ও সাফল্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিয়েছিল। এক সময়ে একটা সন্দেহ ও সোরগোল উঠল যে, রোল ৩৪ আসলে আমাদের সবাইকে মুরগি বানিয়ে মসকরা করেছে। কিন্তু এইখানেই থেমে না থেকে প্রচুর আলোচনা ও তথ্য বিশ্লেষণের পরে আমরা বুঝতে পারলাম, এই ফেল্টুস ছাত্রটি আসলে আমাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস সঞ্চারের জন্য এক ধরনের একটা ঘটনা ঘটিয়েছে, এবং এইটা মজার খেলা হিসেবে চালিয়ে গেছে সে।</p>
<p style="text-align: justify">তার এই উপকারটুকু আমার কাজে লেগেছিল, এতে আমাদের সবার আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল ভীষণ রকম। কারণ আমরা সকলেই অত্যন্ত জটিল এক মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছিলাম, স্যাররা প্রতিনিয়ত আমাদের অসহ্য মানসিক নির্যাতনের মধ্যে রাখত, এবং এইসব কারণে আমাদের সবার সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল ছিলো ভীষণ বাজে, আমরা সবাই খুব খারাপ একটা অবস্থার মধ্যে ছিলাম, কারো অবস্থাই আশাজনক ছিলো না। সকলে মিলে যেন, সবচেয়ে বড় জাহান্নামের গলিতে প্রবেশ করার যাত্রী হয়েছিলাম।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>ক্লাসের ভেতরে প্রচণ্ড আগ্রহের সাথে খোঁজখবর করা হলো- রোল ৩৪ কি সবাইকেই তার ভবিষ্যৎবাণী শুনিয়েছে, নাকি বিশেষভাবে পছন্দ করা গুটি কয়েক সহপাঠীকেই তাদের নিয়তির পূর্বাভাস দিয়েছে?</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">যারা তখন পর্যন্ত রোল ৩৪ এর ভবিষ্যৎবাণী লাভ করেনি, তারা বেশ ভড়কে গেল। সবচেয়ে দুশ্চিন্তিত ও ডরপুকদের মাঝে অন্যতম ছিলো ৩৭ বা ৩৮ রোল নম্বরধারী (তার রোল নম্বরটা এই দুটো সংখ্যার একটি হবে, আমার নিশ্চিতভাবে মনে নেই), যাই হোক- ভয়ে আধমরা হয়ে, চূড়ান্ত পরাজিত মনোবল নিয়ে, সহ্য করতে না পেরে একদিন সে রোল ৩৪ কে ডেকে জিজ্ঞেস করেই ফেলল- সে পাস করতে পারবে কি-না?</p>
<p style="text-align: justify">তার এই আচানক জিজ্ঞাসায় রোল ৩৪ কিছুটা অবাক হলো এবং বিব্রতবোধ করতে লাগল। কিন্তু মনোভাব লুকিয়ে সাথে সাথে স্বাভাবিক একটা মুখ করে বলল, ‘ক্লাসে তোমাদের সবাইকে সেভাবে লক্ষ্য করার সুযোগ পাইনি, আমি সবার দিকে সমানভাবে মনোযোগ দিতে পারিনি। সত্য কথা বলতে কি, তোমার ব্যপারে সেভাবে খেয়াল করতে পারিনি আমি, আমাকে মাফ করে দিও। আর তোমাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমাকে কতাদিন সময় দাও। তার এই রকমের বিনয়ী কথাবার্তা শুনে কেউই সন্দেহ করতে পারল না যে, সে দুষ্ট,মিথ্যেবাদী কিংবা প্রতারক, তার আচরণ মোটেই সে ধরনের নয় বরং তার কথাবার্তায় যথেষ্ট আগ্রহ ও সরলতার আভাস ছিলো। তার কথাগুলো নিয়ে সন্দেহ করার কোনো সুযোগই নেই। সে তার স্বভাবসুলভ সারল্য থেকেই আমাদের চোখে চোখ রেখে আলাপ করত, কথা বলত, তার প্রতিটি বাক্যের মধ্যেই নতুন কিছু না কিছু বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ছিলো অথবা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় থাকত।</p>
<p style="text-align: justify">তার কথায় যেন আমাদের জীবনের স্থবির সময়ের মাঝে এক ধরনের ঘণ্টাধ্বনির মতো ঝনঝন করে কিছু বেজে ওঠার মতন একটা ব্যাপার ঘটতো।</p>
<p style="text-align: justify">একজন ভীতু সহপাঠী যার রোল ছিলো ৩৭ (কিংবা ৩৮), তাকে রোল ৩৪ যে কথাগুলো বলেছিলো- ক্লাসে তোমাদের সংখ্যা অনেক এবং আমি সবার দিকে মনোযোগ দিতে পারিনি, সেভাবে খেয়াল রাখতে পারিনি। &#8211; এরকম কথা শোনার পর কেউ আর তার ব্যাপারে ভুলভাল খারাপ কিছু ভাবেনি। আর রোল ৩৪ এর কথাগুলো সবসময় গঠনমূলক ও গোছানো হয়ে থাকে। এবং তার বাচনভঙ্গিটি অদ্ভুত ধরনের। মজার ব্যাপার হলো- নিত্যদিন তার আলাপ শুনে শুনে আমরা ভাবতে শুরু করলাম যে, অদ্ভুত স্টাইল ছাড়া কোনো বস্তুনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা বলা সম্ভব নয়।</p>
<p style="text-align: justify">বেশিদিন অপেক্ষা করতে না পেরে রোল ৩৭ (বা ৩৮) একদিন রোল নম্বর ৩৪ কে তার ব্যাপারে কি বোঝা গেল, প্রশ্ন করলে, ৩৪ সে উত্তর এড়িয়ে গেল। অথবা বিরত থাকল, অন্যকিছু নিয়ে আলাপ শুরু করল, ভবিষ্যৎবাণী করল না। তার এই চেষ্টা দেখে আমাদের মনে হলো- সে কষ্টদায়ক কোনো সত্য লুকানোর চেষ্টা করছে। অনেকক্ষণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপের শেষে সে রোল ৩৭ (বা ৩৮) কে বলল, ‘আমাকে আর কয়েকটা দিন সময় দাও, আমি এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলার মতন সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পারিনি।’</p>
<p style="text-align: justify">আমরা ধরে নিলাম এই ডরপুক ছেলেটা ফেল করবে। তবে পরীক্ষার কিছুদিন আগ দিয়ে আমাদের সবাইকে বিস্মিত করে, আমাদের প্রিয় বিস্ময় বালক ভবিষ্যৎবক্তা, ওই ডরপুক রোল ৩৭ (অথবা ৩৮) কে ডেকে বলল, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, তুই পাস করবি। আমি তোকে খেয়াল করেছি। এবং আমি নিশ্চিত যে, তুই পাস করবি।’</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের সবার আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে গেলো, ক্লাসের সবাই আলোকপ্রাপ্ত হয়েছি তাই, এই জ্যোতিষীর দ্বারা, তবে তখনও একটা উটকো খটকা মনের কোথাও ঠুকরে চলছে, সেটা হলো ক্লাসের সবাই একযোগে পাস করে যাওয়া কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। প্রচুর অনুসন্ধানের পরে আমরা জেনেছিলাম, এই স্কুলের শত বছরের ইতিহাসে সপ্তম শ্রেণির ৪৫ জন ছাত্রের মাঝে সবাই নিরঙ্কুশ ভাবে পাস করে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার মতন কোনো ঘটনা ঘটেনি ইতোপূর্বে।</p>
<p style="text-align: justify">পরবর্তী দিনগুলোতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করে, দিনরাত একাকার করে পড়াশোনা চালিয়ে গেলাম। তবে, এর মাঝেও মনে মনে আমরা রোল ৩৪ এর ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে বেশ খানিকটা সন্দেহ করতাম। সে আমাদের হাবভাব দেখে, বিষয়টা আন্দাজ করে ফেলেছিল, কিন্তু আমাদের এই ঠুনকো দ্বিধাকে সে পাত্তা দিত না, এরচেয়ে বরং টিফিন বিরতিতে খুব মজা করে গাজর চিবুতে লাগল প্রায়দিন এবং সময়ে সুযোগে যখন যাকে বাগে পায়, তার সাথেই তার আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী ত্বাত্তিক আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে লাগল। পরীক্ষা নিকটবর্তী হওয়ায় আমাদের শ্রেণিকক্ষের সামাজিক মেলামেশায় সামান্য ভাটা পড়েছিল, কিন্তু সে এর মধ্যেই সবার কুশলাদি জিজ্ঞেস করে জেনে নিত, কার কি হাল এবং কি ধরনের অবস্থায় আছে সবাই, তা জানতে তার আগ্রহের কমতি ছিল না।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবেই খুব দ্রুত সময় ফুরিয়ে গিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা এসে হাজির হলো। পরীক্ষা শেষে যথাসময়ে স্কুল খুললে, রেজাল্ট হাতে পৌঁছুলে দেখা গেল- রোল নম্বর ৩৪ এর ভবিষ্যৎবাণী যথেষ্ঠ সঠিক ছিল। আমাদের চারজন সহপাঠী তীরে না পৌঁছেই সলিল-সমাধির কোলে ডুবেছেন, এর মধ্যে রোল ৩৭ (অথবা ৩৮) সহ চারজন ছাত্র ছিলো, যারা পরীক্ষাই দেয়নি। বাকি ৪১ জনের মাঝে ৪০ জন পাস করেছিল, ফেল করে ক্লাসে থেকে যাওয়া একমাত্র ছাত্রটি এবারও আর কেউ নয় বরং আমাদের ভবিষ্যৎবক্তা সেই রোল ৩৪।</p>
<p style="text-align: justify">রেজাল্ট হাতে পেয়ে আনন্দ শেষে আমরা তার কাছে গেলাম, তাকে সামান্য শান্ত্বনার বাণী শোনাতে। তাকে ভীষণ দুঃখী দেখাচ্ছিল কিন্তু সে নিরব হয়ে বসেছিলো অনেকটা সময় এবং আমাদের কথা শুনেও সে কোনো আহাজারি করছিলো না। একটা সময় সে মুখভাব স্বাভাবিক করে, আমার চোখে চোখ রেখে বলল- এবারও আমি ভিন্ন কোন ফলাফল আশা করিনি। পড়াশোনা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, আমি অত মেধাবী নই, এত ভালো স্কুলে আমার থাকা আর ঠিক নয়, আমি বরং অন্য স্কুলে গিয়ে পড়লে, এরচেয়ে ভালো ফল লাভ করতে পারব। কথায় আছে, সোজা পথে চলে সমাধান না পেলে, পথ সামান্য পরিবর্তন করে, ঘোরা পথে যাওয়াই উত্তম। এখন আমার পথ পরিবর্তনের সময় এসে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">রোল ৩৪ কে হারিয়ে আমরা সবাই দুঃখ পেয়েছিলাম। এত দ্রুত তার সাথে বিচ্ছেদ আমরা কেউ স্বাভাবিকভাবে নিতে পারিনি। তবে পরের সপ্তাহে নতুন বছরের প্রথম ক্লাসে আমরা আবার তাকে দেখতে পেলাম। আমাদের সহপাঠী নয় সে আর, বরং সে আবারও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রদের সারিতে এবং সেই পুরনো ক্লাসেই বসেছিল। যদিও আমাদের স্কুলে ফেল করে একই ক্লাসে দুই বছর থেকে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই এবং এসব ক্ষেত্রে ফেল করা ছাত্রদের প্রমোশন দিয়ে পরের ক্লাসের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু রোল ৩৪ এর ক্ষেত্রে আমরা সেই নিয়মের প্রয়োগ দেখলাম না। আমরা শিখেছিলাম, a burnt child always fear fire, অথবা গাছের দশটা ফল থেকে পাতের একটাই ভালো। আমাদের সকলকে অবাক করে দিয়ে রোল ৩৪ আবারও একই ক্লাসে আরেকটি নতুন বছর কাটিয়ে দিতে নিজেকে প্রস্তুত করতে লাগল।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>একদিন টিফিন বিরতিতে, তার কথা মনে হলো, গেলাম তার ক্লাসে তাকে দেখতে। বন্ধুত্বসুলভ নরম মনে তার সাথে মিশতে চাইলাম, সেও যথেষ্ঠ ভালো ব্যবহার করেছিল, তাকে আগের তুলনায় রোগা লাগছিল এবং চেহারা মলিন হয়ে গেছে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এই ক্লাসের নতুন সহপাঠীদের তুলনায় তাকে বেশ বয়স্ক লাগছিলো। এবং এই পার্থক্যটা খুব বেশি দৃষ্টিকটু লাগছিল। বেশ অনেকটা সময় চলে গেল যখন, আমার ফিরে আসার কিছুক্ষণ আগে, সে তার স্বভাবসুলভ হাসিমুখে বলে উঠল, আমি এখন আর রোল ৩৪ নই। আমার কথা মনে রেখেছো তাই তোমার কাছে কৃতজ্ঞ আমি। তবে তোমাদের সেই প্রিয় বন্ধু রোল ৩৪ বলে আর কেউ নেই, আমি এখন রোল ২৯ এবং এই ক্লাসের ছাত্রদের সহপাঠী; এই নতুন বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতেই হবে আমাকে। তোমাকে আমার মনের কথা বলছি, এই ক্লাসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে নতুন নতুন বন্ধু তৈরি করা আমার কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীত নিয়ে পরে থেকে কি লাভ বলো।</p>
<p style="text-align: justify">তার কথা আমি সবসময় মুগ্ধ হয়েই শুনেছি। আজো মেনে নিলাম তার যুক্তিগুলো। বিদায়বেলায় সুন্দর হাসি বিনিময় করে যে যার ক্লাসে ফিরে এলাম। মাঝে মাঝে দূর থেকে দেখতাম সে তার নতুন সহপাঠীদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে, বা স্যারদের সাথে কথা বলছে। আমার যতদূর মনে আছে, ওই বছর সে পাস করেছিল, কিন্তু তাকে সেভাবে আর দেখতে পাইনি অনেকদিন। হয়তো আমাদের স্কুল ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গিয়েছিলো সে। এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পথ পরিবর্তন করে সাফল্যের দেখা পেয়েছিলো সে, সৌভাগ্য ধরা দিয়েছিলো তার কাছে, কারণ সত্যিকার অর্থে সে একজন মেধাবী ও গুণী ছাত্র ছিল।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/07/05/952/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
