<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাক্ষাৎকার &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/interview/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Fri, 11 Oct 2024 15:50:20 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>সাক্ষাৎকার &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>সাহিত্যে নোবেলজয়ী হান কাং এর সাক্ষাৎকার ॥ ‍‍‍‌‌কোরিয়ার সাহিত্যকে সঙ্গী করেই বেড়ে উঠেছি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/10/11/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%80-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/10/11/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%80-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 11 Oct 2024 15:50:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3294</guid>

					<description><![CDATA[২০২৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং।রাজধানী সিউলে নিজের বাসায় ছেলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টােবর ২০২৪) রাতের খাবার শেষ করার পরপরই তিনি নোবেল পাওয়ার খবরটি জানতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="font-size: 14pt"><em>২০২৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং।রাজধানী সিউলে নিজের বাসায় ছেলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টােবর ২০২৪) রাতের খাবার শেষ করার পরপরই তিনি নোবেল পাওয়ার খবরটি জানতে পেরেছিলেন।পরে নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়। নোবেল পাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার।নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে হানের সাক্ষাৎকারটির অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন জেনি রাইডেন।</em></span></p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : হ্যালো?<br />
জেনি রাইডেন : হ্যালো, আপনি কি হান কাং?<br />
হান কাং : হ্যাঁ।<br />
জেনি রাইডেন : আমার নাম জেনি রাইডেন। নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে আমি আপনাকে ফোন করেছি।<br />
হান কাং : হুম, আপনার সঙ্গে কথা বলতে বেশ ভালো লাগছে।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমারও বেশ ভালো লাগছে। অনুগ্রহ করে সবকিছুর আগে আপনি আমার অভিনন্দন গ্রহণ করুন।<br />
হান কাং : ধন্যবাদ। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কী?<br />
হান কাং : আমি বেশ অবাক হয়েছি। বেশ সম্মানিত বোধ করছি।<br />
জেনি রাইডেন : আপনি পুরস্কারের খবরটি কীভাবে জানলেন?<br />
হান কাং : কেউ একজন ফোন করে আমাকে খবরটি দিয়েছিলেন। খবরটি আমাকে অবশ্য বেশ অবাক করেছিল। আমার ছেলের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করার পরপরই আমি খবরটি পাই। তখন কেবল সন্ধ্যা (রাত) আটটা বাজে। বুঝতেই পারছেন, আমার জন্য এটা একটি বেশ শান্তিময় সন্ধ্যা ছিল। আমি আসলেই বেশ অবাক হয়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : আপনি কি এখন সিউলে আপনার বাসায় আছেন?<br />
হান কাং : হ্যাঁ। আমি সিউলে নিজের বাসায় আছি।<br />
জেনি রাইডেন : আজ সারা দিনে আপনি কী কী করলেন?</p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : আজকে? আজ আমি কোনো কাজ করিনি। টুকটাক পড়েছি। হাঁটতে বের হয়েছিলাম। বলতে গেলে একটা সাদামাটা দিন কাটিয়েছি।<br />
জেনি রাইডেন : আপনি বললেন আপনি আপনার ছেলের সঙ্গে আছেন। আপনার নোবেল পাওয়া নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়াটি কেমন ছিল?</p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : আমার ছেলেও বেশ অবাক হয়েছিল। কিন্তু আমরা এটা নিয়ে কথা বলার বেশি একটা সময় পাইনি। (কারণ) আমরা দুজনেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আর (ওই মুহূর্তে) ওটাই ছিল সবকিছু।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : আপনার কাছে সাহিত্যে নোবেল পাওয়াটা কী অর্থ বহন করে?<br />
হান কাং : আচ্ছা, আমি বেশ সম্মানিত বোধ করছি। আমি আপনার সমর্থন ও এই পুরস্কারের সমর্থনের আন্তরিক প্রশংসা করছি।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-3296 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/10/han-kang-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/10/han-kang-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/10/han-kang-3.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাহিত্যে আপনিই প্রথম নোবেল পেলেন। এই অনুভূতিটি কেমন?<br />
হান কাং : আপনি জানেন আমি বই পড়তে পড়তে বেড়ে উঠেছি। শৈশব থেকেই আমার বই পড়ার অভ্যাস। কোরীয় ভাষা ও অনুবাদ- উভয় ধরনের বই পড়তে পড়তেই আমি বড় হয়েছি। তাই আমি বলতে চাই, কোরিয়ার সাহিত্যকে সঙ্গী করেই আমি বেড়ে উঠেছি। কোরিয়ার সাহিত্যের সঙ্গে আমি বেশ ঘনিষ্ঠতা বোধ করি। তাই (আমার পুরস্কার পাওয়া) এটি কোরীয় সাহিত্যের পাঠক, আমার বন্ধু ও লেখকদের জন্য একটি চমৎকার খবর বলে আমার মনে হচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : আপনি একটি সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছেন। কোন কোন লেখকেরা আপনার প্রেরণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস?</p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : শৈশব থেকেই আমার কাছে লেখকদের ব্যাপারে একটি সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তাঁরা জীবনের অর্থ অনুসন্ধান করেছেন। কখনো কখনো তাঁরা হার মেনেছেন। কখনো কখনো তাঁরা অবিচল থেকেছেন। তাঁদের যাবতীয় প্রচেষ্টা ও শক্তি আমার প্রেরণা। তাই প্রেরণা হিসেবে কয়েকজনের নাম বলাটা আমার জন্য বেশ কঠিন। এটা আমার জন্য আসলেই দারুণ কঠিন।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : আমি কোথাও পড়েছিলাম সুইডেনের লেখক অ্যাস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন আপনার অন্যতম প্রেরণার উৎস?</p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : হ্যাঁ। শৈশবে আমার তাঁর ‘লায়নহার্ট ব্রাদার্স’ পড়তে ভালো লেগেছিল। বইটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু এর অর্থ এই না যে, তিনিই একমাত্র লেখক যিনি আমাকে শৈশবে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। লায়নহার্ট ব্রাদার্স পড়ার সময় মানুষ, জীবন ও মৃত্যু নিয়ে বইটির সঙ্গে আমার বিভিন্ন প্রশ্নের মিল খুঁজে পেয়েছিলাম ।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : যে সব ব্যক্তি সবে আপনার কাজ সম্পর্কে জেনেছেন, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী? তাঁরা আপনার কোন বই দিয়ে শুরু করলে ভালো হয়?</p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : আমার বইয়ের কথা বলছেন? আমি মনে করি প্রত্যেক লেখক তাঁর সর্বশেষ বইকে বেশি পছন্দ করেন। নতুন পাঠকেরা চাইলে আমার সর্বশেষ বই ‘উই ডু নট পার্ট’ দিয়ে শুরু করতে পারেন। ইংরেজি অনুবাদে বইটার আরও দুটি শিরোনাম হতে পারে ‘আই ডু নট বিড ফেয়ারওয়েল’ বা ‘ইম্পসিবল গুডবাইস’। আমার মনে হয় এটা দিয়ে শুরু করাটা তাঁদের জন্য ভালো। (আমার এর আগের বই) হিউম্যান অ্যাক্টস সরাসরি উই ডু নট পার্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর পর তাঁরা দ্য হোয়াইট বুক পড়তে পারেন। এটা আমার আত্মজীবনীমূলক বই। পাঠকেরা দ্য ভেজেটারিয়ান দিয়েও শুরু করতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় উই ডু নট পার্ট দিয়ে শুরু করাটা ভালো।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : বিদেশি পাঠকদের কাছে সম্ভবত দ্য ভেজেটারিয়ান সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই উপন্যাস নিয়ে কিছু বলুন।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3292 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/10/Han-Kang-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/10/Han-Kang-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/10/Han-Kang.jpg 724w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : এটি আমি তিন বছর ধরে লিখেছিলাম। কিছু কারণে ওই তিন বছর আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমাকে প্রধান কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং সেই নারী চরিত্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা অন্যান্য চরিত্রগুলোর চিত্রকল্প খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছিল। বর্ণনায় থাকা গাছপালা ও সূর্যকিরণের চিত্রকল্পের জন্যও আমাকে হাঁটুভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">জেরি রাইডেন : শেষ প্রশ্ন, নোবেল পুরস্কার পাওয়াটি আপনি কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন? কিছু ভেবেছেন কি?</p>
<p style="text-align: justify">হান কাং : আপনার সঙ্গে কথা শেষ করে আমি চা পান করার কথা ভাবছি। আমি মদ পান করি না। আমি আমার ছেলের সঙ্গে বসে চা খাব। আজ রাতে নীরবেই আমি নোবেল পাওয়াটা উদ্‌যাপন করব।</p>
<p style="text-align: justify">জেনি রাইডেন : বেশ চমৎকার। আপনাকে আবারও অসংখ্য অভিনন্দন। অনেক ধন্যবাদ।<br />
হান কাং : ধন্যবাদ।<br />
জেনি রাইডেন: ঠিক আছে। ভালো থাকবেন।<br />
হান কাং : আপনিও ভালো থাকবেন।</p>
<p style="text-align: justify"><em>[ সূত্র : প্রথম আলো, ১১ অক্টোবর ২০২৪। ছবি : সিএনএন ও হলিউড রিপোর্টার ]</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/10/11/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%80-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমাকে লেখক বানিয়েছে আমার জীবনের ফাঁদ।মানুষের জীবন ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়: নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/02/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/02/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 29 Feb 2024 16:03:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3140</guid>

					<description><![CDATA[নুসরাত সুলতানা। দ্বিতীয় দশকের কবি এবং গল্পকার।তাঁর কবিতায় যেমন রয়েছে উপমা, উৎপ্রেক্ষা আর গভীর বোধের সম্মিলন।তেমনি গল্পেও রয়েছে দারুণ ন্যারেটিভস সমৃদ্ধ দৃশ্যকল্প এবং চিত্রকল্প।১ মার্চ তার জন্মদিন।এ উপলক্ষে লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>নুসরাত সুলতানা। দ্বিতীয় দশকের কবি এবং গল্পকার।তাঁর কবিতায় যেমন রয়েছে উপমা, উৎপ্রেক্ষা আর গভীর বোধের সম্মিলন।তেমনি গল্পেও রয়েছে দারুণ ন্যারেটিভস সমৃদ্ধ দৃশ্যকল্প এবং চিত্রকল্প।১ মার্চ তার জন্মদিন।এ উপলক্ষে লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা এবং সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইফ বরকতুল্লাহ।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: কথাসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলো কেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> দ্বিতীয় মেয়াদে লিখতে শুরু করি ২০১৭ সালে।মাকে হারিয়ে তখন মানসিক ভারসাম্যহীন।তখন লিখতে শুরু করি কবিতা। প্রথম কবিতাও মাকে নিয়ে।২০১৮ সালে প্রথম গল্প লিখি।খুব কাছের একজন বলেছিলেন-তুমি গল্প লিখতে পারবে না।তাঁর এক মেয়ে বন্ধু ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপে বেশ জনপ্রিয় গল্পকার।সেই তখন থেকে জিদ চেপে যায়।কী গল্প লিখতে পারবো না! এসব কারণ ছাড়াও গল্পের প্রতি দিন দিন সমর্পণ বেড়েছে তার শিল্প সম্ভারের কারণে।আসলে কথাসাহিত্য ছাড়া সমাজ এবং সম্পর্ককে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কতটা সম্ভব!</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: ছোটোবেলা থেকেই লেখক হওয়ার স্বপ্ন ছিল কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> নাহ।একেবারেই লেখক হতে চাইনি।পাঠক ছিলাম। বরং অনেক লেখা মাথায় আসত আমি লিখতাম না।আর সুনীলের প্রেমিকা মার্গারেট মাতিয়্যুর মতো আমিও ভাবতাম-এত লেখকরা লিখে গেছেন।আমার আর লেখার কী দরকার? বরং আমি পড়ি।আমাকে লেখক বানিয়েছে আমার জীবনের ফাঁদ।মানুষের জীবন ফাঁদ ছাড়া আর কিছু নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি যখন গল্প লেখেন, তখন ঠিক কোন বিষয়টির প্রতি বেশি মনোযোগ দেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> ভাষায় নিজস্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করা, দৃশ্যকল্প, চিত্রকর কল্প, ন্যারেটিভস এবং চরিত্রের শক্তিশালী দিকগুলো যেন দৃশ্য কল্পের ভেতর প্রতিফলিত হয়।আরও একটা বিষয় খেয়াল রাখি-সেটি হলো নদীর মতো গল্পটার যেন একটা পরিভ্রমণ থাকে।গল্পের সাথে পাঠকের মননের যেন একটা সুগভীর পরিভ্রমণ সংঘটিত হয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন।লিখতে গিয়ে অনেকের লেখাই পড়েছেন।একটি সার্থক লেখার গুণাবলী কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন? গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> সার্থক লেখা যেমন সেই জনপদের ইতিহাস, জনজীবন, সংস্কৃতিকে নিংড়ে বেড়ে ওঠে তেমনি তার শিল্পগুণে হয়ে ওঠে বৈশ্বিক।আরও একটা বিষয় হলো-উত্তীর্ণ একটা লেখায় যেমন আপনি সমকালকে নিবিড়ভাবে পাবেন।তেমনি তার আবেদন থাকবে চিরকালীন।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় বিষয়ে আসি, গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক মনে হয়-গল্পটাকে বোঝা।গল্পের সময় এবং সংস্কৃতিকে মূর্ত করে তোলা ভাষা এবং দৃশ্য কল্পের ভেতর।লেখকের নিজস্ব জীবন দর্শন চরিত্রের জীবনাচরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3144 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n99-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n99-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n99.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: পুরস্কার নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে।আপনি পুরস্কারকে কোন চোখে দেখেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> পুরষ্কার লেখককে লেখক হয়ে উঠতে বাধাগ্রস্ত করে। প্রতিষ্ঠা লেখকের জন্য নয়।গুরুত্বহীন অনেক পুরষ্কার পেয়ে পেয়েও লেখক নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করেন এবং আত্মতুষ্টিতে ভোগেন।যা নিজেকে ভাঙার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।লেখক হওয়ার জার্নিটা আমৃত্যু।বহমানতাই শিল্পের গন্তব্য।তবে গ্রহণযোগ্য পুরষ্কার লেখককে আত্মবিশ্বাস যোগায়।কিন্তু প্রায় সব পুরষ্কারই তার স্বচ্ছ্বতা এবং গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বর্তমান ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের কল্যাণে সাহিত্যচর্চা যেমন বেড়েছে, তেমন সাহিত্যের চৌর্যবৃত্তিও বেড়েছে।এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় আছে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> চোর একটা টেক্সট চুরি করতে পারে।লেখকের মনন, মেধা, প্রজ্ঞা চুরি করতে পারে না।চাঁদ কখনো সূর্যের মতো উত্তাপ ছড়াতে পারে না।তাই চোরের কাজ চোর করুক, লেখকের কাজ লেখক করুক।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে কখনো কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন? যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তারা কারা? কিংবা সেই প্রভাবের ধরনটি কেমন হতে পারে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> খুব ছোটবেলায় নজরুলকে অনেক পড়তাম।তারপর রুদ্র, রফিক আযাদ, সুকান্ত ভট্টাচার্য এরপর ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করি-শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শংখ ঘোষ, বিনয় মজুমদার, জীবনানন্দ এদের। এতো গেলো কবিদের কথা।গল্প বা উপন্যাসের কথা যদি বলি-রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প, উপন্যাস খুব পড়েছি।তিন বন্দোপাধ্যায়ের প্রত্যেকেই খুব প্রিয়।এদের ভেতর মানিক আমাকে খুব কষ্ট দেয়।যখনই ভাবি মানিকের মতো হতে পারব না তখনই বুকের ভেতর কষ্ট হয়। তারপর আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস, শহীদুল্লাহ্ কায়সার, আলাউদ্দিন আল আযাদ,শহিদুল জহির, সৈয়দ শামসুল হক, জাকির তালুকদার এদের প্রচুর পড়েছি।আমার লেখক মানসে এদের প্রভাব অবশ্যই আছে।</p>
<p style="text-align: justify">আরও স্পষ্টত বলতে গেলে আমার মনে হয়, মানিক বন্দোপাধ্যায়, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাকির তালুকদার এরা আমার লেখক মানসকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছেন।সেই প্রভাব চিন্তায়, মননে এবং গল্প বলার ঢংয়ে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি তো কবিতাও লিখছেন।কিন্তু দেখা যাচ্ছে কথাসাহিত্যে আপনার আগ্রহ বেশি।কবি না কথাসাহিত্যিক-কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> আমি লিখি সকল প্রাণের বেদনার অবমুক্তি।লিখি উদীয়মান সূর্যের কথা, গর্ভজাত ফসলের কথা আর বহমান জীবন নদীর ধারা। কোনো পরিচয়েই অস্বাচ্ছন্দ্য নেই।পাঠক তার অভিরুচি অনুযায়ী পড়বে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-3146 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n98989-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n98989-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n98989.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার সমসাময়িক ও অনুজদের মধ্যে কার কার গল্প আপনাকে আকৃষ্ট করে কিংবা কাকে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> অনেকের লেখাই তো পড়ি।এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ইশরাত তানিয়া, মোস্তফা অভি, নাহার তৃণা।আনিফ রুবেদ ভিন্ন স্টাইলের গল্প লিখেন।আব্দুল আজিজের গল্পের সাথে বেশ ভালো বোঝাপড়া আছে।ইসরাত জাহান আগের চেয়ে ভালো করছেন।সাইফ বরকতুল্লাহর গল্প বলার ঢং অন্যদের চেয়ে আলাদা।আরও অনেকের লেখাই পড়ি এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার কতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে? বইগুলোর বিষয়বস্তু কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> এ পর্যন্ত (২০২৪) আমার সাতটি বই প্রকাশিত হয়েছে। চারটি কবিতা, দুটি গল্প এবং একটি গদ্য।বিষয় তো অবশ্যই মানুষ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: তরুণদের মধ্যে যারা লিখতে চান, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ-</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> অবশ্যই পড়াশোনা করা জরুরি।নিজের ইতিহাস, সংস্কৃতি, উত্তীর্ণ সাহিত্য সব খুব ভালো করে পড়তে হবে।সেই সাথে বিশ্ব সাহিত্যের ক্লাসিকগুলো যতটা পড়া যায়।সময়কে পর্যবেক্ষণ করতে হবে খুব মনযোগের সাথে।সাথে প্রয়োজন মানুষ এবং প্রকৃতি।প্রস্তুতি ছাড়া লিখতে আসা উচিত নয় কোনোভাবেই।লেখালেখি কোনো লুডু খেলা নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বাংলা সাহিত্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> সাহিত্য জীবন আর সময়ের প্রতিচ্ছবি।সময় যেমন বহমান তেমনি নিগুঢ় পর্যবেক্ষকও।যা ধরে রাখার যোগ্য তা ঠিকই ধরে রাখে।সব কলহ এড়িয়েও কিছু ভালো কাজ যেমন এখনো হচ্ছে ভবিষ্যতেও হবে।প্রত্যেকে তার কাজটি করে গেলেই মোক্ষ মিলবে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ </span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> আপনাকেও অজস্র ধন্যবাদ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/02/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গল্পে কাহিনির কঙ্কাল দেখতে চাই না, ভাষা উপস্থাপন কৌশল আর বিমূর্ততা দেখতে চাই: শিল্পী নাজনীন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/01/29/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/01/29/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 29 Jan 2023 12:00:56 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2506</guid>

					<description><![CDATA[শিল্পী নাজনীন। কথাসাহিত্যিক ও কবি। সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের ওয়েবম্যাগ গগণহরকরা।১৯৮১ সালের তিনি কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।পেশায় শিক্ষক। প্রকাশিত গ্রন্থ ‘মায়াফুল ও সাপের গল্প’, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>শিল্পী নাজনীন। কথাসাহিত্যিক ও কবি। সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের ওয়েবম্যাগ গগণহরকরা।১৯৮১ সালের তিনি কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।পেশায় শিক্ষক। প্রকাশিত গ্রন্থ ‘মায়াফুল ও সাপের গল্প’, ‘ছিন্নডানার ফড়িং’,‘বিভ্রম’, ‘আদম গন্দম ও অন্যান্য’, ‘তোতন’ ‘ফ‌ড়িঙরাজা’। এবার বইমেলায় (২০২৩) তার নতুন উপন্যাস ‘উলটপুরাণ’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।নতুন গ্রন্থ এবং সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক সাইফ বরকতুল্লাহ।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: আপনার নতুন উপন্যাস আসছে উলটপুরাণ। এর বিষয়বস্তু কী? </span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় অর্থাৎ ১৯৭১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে আমার উপন্যাসের কাহিনি ও চরিত্রগুলো আবর্তিত হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধের ভয়াবহতায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং এক যুদ্ধশিশু, যাকে ওই মুক্তিযোদ্ধা নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, তাদের নিয়েই উপন্যাসের কাহিনি এগিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">পরিবার ও সমাজের মানুষের সীমাহীন স্বার্থপরতা ও অমানবিকতা কী করে একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত ও ধ্বংস করে দেয়, এই সমাজে বেড়ে ওঠা একজন যুদ্ধশিশুর জীবনযুদ্ধ এবং তার মানসিক গঠন কেমন হতে পারে, সে বিষয়গুলো উঠে এসেছে এই উপন্যাসে, সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের আড়ালে থাকা একজন রাজাকারের জীবনও এসেছে এখানে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, আমরা এর মাধ্যমে একটি মানচিত্র পেয়েছি, একটি পতাকা পেয়েছি, কিন্তু কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়েছে, অন্ধকারে হারিয়ে গেছে তারা, আবার সুযোগসন্ধানী কেউ কেউ আঙুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ হয়েও উঠেছে, যে বিষয়গুলোই তুলে আনার চেষ্টা করেছি আমার উপন্যাসে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিয়ে আপনার ভাবনা?</span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> চরিত্রগুলো মূলত কাহিনির প্রয়োজনে এসেছে, কিংবা উল্টো করে বলা যায় চরিত্রগুলোই কাহিনিকে বৈঠা হয়ে টেনে নিয়েছে সমাপ্তির দিকে, অবশ্য যদি সেটাকে সত্যিই সমাপ্তি হিসেবে ধরা যায়। তবে উপন্যাসের মূল দুটি চরিত্র হাবিবুর রহমান এবং তিতলি, এ চরিত্র দুটিতে আমার চেনা দুটি চরিত্রের কিঞ্চিৎ ছায়া আছে। ছায়া মানে ছায়া। তাকে বাস্তবের সাথে মেলানো যাবে খুব সামান্যই। এই ছায়া চরিত্র দুটি পুরো উপন্যাসে ক্রমশ রক্ত-মাংসের চরিত্র হয়ে উঠে এসেছে এবং কাহিনিকে এগিয়ে নিয়েছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2510 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/01/shili-book-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/01/shili-book-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/01/shili-book.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের বাকি চরিত্রগুলো এসেছে মূলত এ দুটি চরিত্রকে গতিশীল করতে এবং কাহিনির প্রয়োজনে। তবে লেখা শুরুর আগেই এই চরিত্রদুটি আমার মাথায় ছিল। কিন্তু তারপরও আমি বলব যে এ উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্রই কাহিনিকে প্রবাহমান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, এবং তারা কেউই এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: এই উপন্যাসের কাহিনি লিখতে গিয়ে কী ধরনের বিষয় নির্মাণ বা রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন? </span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> আমার মনে হয় যে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস বা গল্পগুলো অনেকটাই গতানুগতিক বা একঘেয়ে। সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে উঠে আসে, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেই নিদারুণ ভয়াবহতায় পাঠক ঘুরপাক খায়, হাঁপিয়ে ওঠে। ইতিহাস সেখানকার মূল উপজীব্য। ফলে অনেক সময়ই সেগুলিকে সাহিত্য যতটা তারচেয়ে বেশি সংবাদ সংকলন হয়ে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু আমি এই উপন্যাসে খানিকটা স্বাতন্ত্র আনার চেষ্টা করেছি। মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে লেখায় ফুটিয়ে তোলাটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং একটা ব্যাপার। তাছাড়া আমি উপন্যাসটা লিখেছি সেই ২০০৫/২০০৬ সময়ে দাঁড়িয়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্দিষ্ট একটা ছক মাথায় রেখে আমাকে এগোতে হয়েছে। আমি মূলত সেই ২০০৫/২০০৬ এ থেকেই ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে এনেছি। উপন্যাস যদিও একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মুক্তিযোদ্ধা, একজন যুদ্ধশিশু এবং একজন রাজাকারকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে, তবু এতে ৭১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সে সময়টা সেটা উঠে এসেছে অনেকটা স্মৃতিচারণের মত করে।</p>
<p style="text-align: justify">বিশেষ করে যুদ্ধের যে বর্ণনাগুলো এখানে আছে সেটা কোনোটাই সরাসরি নয়, কারো স্মৃতিচারণ কিংবা অবচেতন মনের ভাবনার মাধ্যমে বিষয়গুলো এসেছে এখানে। এটা আমি করেছি যতটা না কাহিনির প্রয়োজনে তারচেয়ে বেশি স্বকীয়তা রাখার চেষ্টায়। তাছাড়া এটা আশলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়টাই এর মূল উপজীব্য, সেটাও মাথায় রাখতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ফলে একটি পরিবারে তৈরি হওয়া বিপর্যয়, সেই পরিবারের মানুষগুলোর জীবনে হঠাৎ করে নেমে আসা ঝড় কী করে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আরো তীব্র হয়ে উঠেছিল, তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া মানসিক বিপণ্নতা কীভাবে তাদের জীবনযুদ্ধে প্রভাব ফেলেছিল, উপন্যাসটিতে সে বিষয়গুলোই আমি তুলে আনার চেষ্টা করেছি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার গ্রল্পগুলোর একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। বিশেষ করে গল্প বা উপন্যাসের কাহিনি, এছাড়া নামগুলো অন্যরকম হয়। আপনার অভিমত বলুন-</span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> এটা তো পাঠক ভালো বলতে পারবেন। আমি আমার মতো করে লিখি। বিশেষ কাউকে অনুকরণ বা অনুসরণ করে নয়, হয়ত সে কারণেই লেখায় কিছুটা স্বাতন্ত্র থাকে। আর নামকরণের ব্যাপারে আমি খুব খুঁতখুঁতে। অনেকটা সময় নিই নামকরণে। যেমন এই উপন্যাসের কিছু অংশ একসময় অনলাইন পোর্টাল চিন্তাসূত্রে ছাপা হয়েছিলো প্রথমে ‘ঝিঁঝিলাগা দিনগুলি’ পরবর্তীতে ‘উজানে গড়াই’ নামে। কিন্তু উপন্যাস হিসেবে প্রকাশের সময় মনে হলো নামটা যথার্থ হয়নি, ফলে আবার পাল্টালাম। আর কাহিনি নিয়ে আমি তেমন বিশেষ ভাবনা-চিন্তা করি তেমন নয়। যখন যে বিষয় আমার ভাবনাকে প্রভাবিত করে তখন সেটা নিয়ে লিখি। ইউনিক হতে হবে, পাঠকের ভালো লাগবে না কি লাগবে না, সেসব ভেবে কখনো বিষয় নির্বাচন করি না। সময় এক্ষেত্রে বড় একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি তো কবিতাও লিখছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কথাসাহিত্যে আপনার আগ্রহ বেশি। কবি না কথাসাহিত্যিক-কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? </span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> নিজেকে আমি কবি ভাবতে চাই না একদমই। কবি পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করি না কখনো। আমি মূলত কথাচিত্রী। আমার কবিতাগুলো মূলত আমার মনখারাপের ডায়েরি। একান্তই ব্যক্তিগত প্রলাপ বলা যায় সেগুলোকে। ওতে আমার নিজেরই আস্থা নেই তেমন। কোনো বিষয়ে খুব যখন কষ্ট পাই, মন খারাপ হয়, তখন কবিতার মতো কিছু একটা লিখতে চেষ্টা করি। আর নিজের লেখার প্রতি সবারই একটা দুর্বলতা থাকে, আমারও আছে। তাই মাঝে মধ্যে তার দু-চারটে কোথাও কোথাও প্রকাশ করে ফেলি। কিন্তু আমি নিজে মনে করি ওগুলো মোটেই কবিতা নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন। লিখতে গিয়ে অনেকের লেখাই পড়েছেন। একটি সার্থক লেখার গুণাবলি কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন? গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক কী বলে মনে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> যে লেখা পাঠকের ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে, পাঠকের মন ও মননে আলোড়ন তুলতে পারে, ভাবনাকে উসকে দিতে পারে সে লেখাই আমার কাছে সার্থক লেখা। আর সাহিত্য কোনো নীতিশাস্ত্র নয়, যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা, আনন্দ-বেদনার শৈল্পিক উপস্থাপনই সাহিত্য। এখানে নীতিকথা আওড়ানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়গুলোর প্রতিফলন যে লেখায় ঘটে, সে লেখাই সার্থক হয় সম্ভবত।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>গল্প লেখার ক্ষেত্রে আমি বিশেষ কোনো টেকনিক কখনো অনুসরণ করি না। গল্পের প্রয়োজনে যখন যেমন মনে করি তখন তেমন লিখি।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">গল্পে আমি শুধু কাহিনির কঙ্কাল দেখতে চাই না, তাতে ভাষা, উপস্থাপন কৌশল আর কিছুটা বিমূর্ততা দেখতে চাই, কিছুটা আড়াল রাখতে চাই, যা পাঠককে খানিকটা ভাবার সুযোগ দেবে, তার কল্পনাকে বাড়িয়ে তুলবে, এটুকুই।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বর্তমান ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের কল্যাণে সাহিত্যচর্চা যেমন বেড়েছে, তেমন সাহিত্যের চৌর্যবৃত্তিও বেড়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় আছে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> চৌর্যবৃত্তির সমস্যা বর্তমানে অনেক বড় একটা সমস্যা। আমার অনেক গল্প এবং কবিতা চুরি হয়েছে, কখনো হুবহু, কখনো খানিকটা এদিক-ওদিক করে। এবং এই চোরেরা খুব দূরের কেউ নয়, চেনা জন, প্রশংসা করে লেখার, পড়ে আপ্লুতও নাকি হয়, আর শেষে নিজের মনে করে নিজের লেখা হিসেবে চালিয়েও দেয়। দেখে হাসি পায়, করুণাও হয়। এর থেকে পরিত্রাণের বিশেষ কোনো উপায় নেই সম্ভবত। তবে আমার মনে হয়, এদের ভয়ে অতটা তটস্থ হওয়ারও কিছু নাই আসলে। কারণ চুরি করে আর যা-ই হওয়া যাক কবি বা লেখক হওয়া যায় না। এরা হয়ত দু-চারটে লেখা চুরি করবে, সাময়িক হাততালি কুঁড়াবে, তারপর ক্লান্ত হয়ে একসময় নিজে থেকেই লেজগুটিয়ে পালাবে। তাছাড়া প্রত্যেক লেখকেরই কোনো না কোনো নিজস্বতা থাকে, যা দিয়ে পাঠক তাকে আলাদা করতে পারে, সেটা কেউ কখনো চুরি করতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2511 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/01/shilpi-book2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/01/shilpi-book2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/01/shilpi-book2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার সমসাময়িক ও অনুজদের মধ্যে কার কার গল্প আপনাকে আকৃষ্ট করে কিংবা কাকে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।</span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> অনেকেই আছেন, ভালো লিখছেন। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে নাহিদা নাহিদ, মাহরীন ফেরদৌস, আনিফ রুবেদ, সাইফ বরকতুল্লাহ, প্রদীপ আচার্য, সুবন্ত যায়েদের কথা। নাহিদ আর সুবন্তের লেখা আমাকে ভীষণ টানে, মন দিয়ে পড়ি এদের লেখা। অনুজদের মধ্যে শারমীন রহমান, সায়মা ইসলামের নাম মনে পড়ছে এই মুহূর্তে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বাংলা সাহিত্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।</span><br />
<span style="color: #ff0000">শিল্পী নাজনীন:</span> বাংলা সাহিত্যে বর্তমানে একটা জোয়ার এসেছে বলা যায়। ফেসবুক এসে এখন কবি আর লেখকের জোয়ারে বাংলা সাহিত্য সয়লাব। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে করপোরেট দুনিয়ার থাবা। এরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কবি বা লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাছা পরে লেখেছে যেন। এসব কারণে অনেকটা ত্রাহি ত্রাহি দশা এখন বাংলা সাহিত্যের। তবে জোয়ার শেষে যেমন শুধু পলি পড়ে থাকে, আবর্জনা সব ভেসে যায় জোয়ারের টানে, ঠিক তেমনি সময়ের স্রোতে বাংলা সাহিত্যের গায়ে এসে পড়া সব জঞ্জাল ভেসে যাবে একসময়, পড়ে থাকবে নিখাদ কিছু স্বর্ণদানা। তাই বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি হতাশ হতে চাই না কখনো।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/01/29/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যে লেখা মানুষকে ভাবায়, সে লেখা গুরুত্বপূর্ণ: সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/15/2365/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/15/2365/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 15 Dec 2022 11:27:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2365</guid>

					<description><![CDATA[এ বছর কথাসাহিত্যে ‘চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন সাদিয়া সুলতানা। তার জন্ম ১৯৮০ সালের ৫ জুন, নারায়ণগঞ্জে।ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করছেন।বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>এ বছর কথাসাহিত্যে ‘চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন সাদিয়া সুলতানা। তার জন্ম ১৯৮০ সালের ৫ জুন, নারায়ণগঞ্জে।ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করছেন।বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত আইন অভিধান ‘আইন-শব্দকোষ’-এ তিনি গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।বর্তমানে তিনি বিচারক হিসাবে বাংলাদেশ বিচার বিভাগে কর্মরত আছেন।তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ: চক্র, ন আকারে না, ঘুমঘরের সুখ-অসুখ, মেনকি ফান্দার অপরাধ কিংবা পাপ ও উজানজল।প্রকাশিত উপন্যাস: আমি আঁধারে থাকি, আজু মাইয়ের পৈতানের সুখ, ঈশ্বরকোল ও বিয়োগরেখা।সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন পুরস্কার, লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা ও সাম্প্রতিক সাহিত্য নিয়ে।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক সাইফ বরকতুল্লাহ।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: কথাসাহিত্যে চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে পুরস্কার প্রাপ্তিতে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আমার শুধু মনে হচ্ছে, আমার নামটা তো এখন নতুন করে বা প্রথমবারের মতো কারো কারো মুখে উচ্চারিত হলো অর্থাৎ কিছু নতুন পাঠকের কাছে হয়তো এখন আমার লেখা পৌঁছাবে, তারা যেন আমার একটা লেখা পড়ে পরবর্তী কোনো লেখা পড়তে অনাগ্রহী না হয় সেভাবেই নিজের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।এটা ঠিক ভালোলাগা নাকি নিজেকে একবার নিজেই যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া তা ঠিক বুঝতে পারছি না।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: আপনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন।লিখতে গিয়ে অনেকের লেখাই পড়েছেন।একটি সার্থক লেখার গুণাবলি কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন? গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক কী বলে মনে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আসলে কোন লেখা যে সার্থক হয়েছে বা সময়ের প্রেক্ষিতে কোন লেখা যে সার্থক হয়ে উঠবে তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল।একটা লেখা মানুষকে রাতারাতি বদলে দিতে পারে বা তার জীবনের হিসেবনিকেশ আমূল পাল্টে দিতে পারে তা আমি মনে করি না। তবে লেখা মানুষের চিন্তাভাবনা, দর্শন ও আদর্শকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্বাস করি।যেই লেখা মানুষকে প্রভাবিত করে, মানুষকে ভাবায়, মানুষের মনে অস্বস্তি তৈরি করে সেই লেখাকেই আপাতদৃষ্টিতে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।এক্ষেত্রে সার্থক শব্দটা আমি ব্যবহার করবো না।</p>
<p style="text-align: justify">গল্প লেখার বিশেষ কোনো টেকনিক রপ্ত করে বা শিখে আমি নিজে লেখালেখি শুরু করিনি।তাই গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক কী হওয়া উচিত সেই বিষয়ে কিছু বলা আমার জন্য একপ্রকার ধৃষ্টতাই হবে। আমি পড়তে পড়তে লিখতে শিখেছি।লিখতে লিখতে শিখেছি।শিখছি। গল্পের পাঠক হিসেবে আমি শুধু মনে করি, গল্পে গল্প থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা গল্পে গল্প বা আখ্যান না থাকলে আমি পড়ে স্বস্তি পাই না।আবার গল্প শুধু নিস্তরঙ্গ একটা গল্প বলে গেলে বা শুধু ভাষার সৌকর্যে আখ্যানকে বেঁধে রাখলে কিংবা গল্পে কোনো অস্বস্তি বা আঘাত করার অনুষঙ্গ না থাকলে সেই গল্পও আমাকে টানে না।নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টোপ’ গল্পের কথাই ধরুন, এই গল্পের সমাপ্তিতে যখন জানতে পারছি, ‘কীপারের একটা বেওয়ারিশ ছেলে যদি জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে থাকে, তা অস্বাভাবিক নয়, তাতে কারো ক্ষতি নেই।কিন্তু প্রকাণ্ড রয়েল বেঙ্গলটা মেরেছিলেন রাজাবাহাদুর-লোককে ডেকে দেখানোর মতো’ তখন হরেক ভাবনা চেপে বসছে মনে।এই যে ভাবছি&#8230;ভাবছি&#8230;গল্পটি শেষ হয়েও কিন্তু ‘মনোরম চটিজোড়া’ দগদগে ঘায়ের মতো মনে জেগে থাকছে। এমন আঘাত দিতে পারে যেই গল্প সেই গল্পের কাছেই আমি বার বার ফিরে যাচ্ছি।আবার দেখুন গল্পহীন গল্পের নেপথ্যে কিন্তু গল্প বলারই পাঁয়তারা থাকে।এই ধরনের কিছু গল্পও আমাকে আকৃষ্ট করে।এমনও হয়েছে পড়ার পর মাথা থেকে সহজে নামাতে পারিনি।আসলে আখ্যানের সঙ্গে গল্পের কাঠামোকে কীভাবে আকর্ষণীয় করা যায় সেই কৌশল লেখকের একেবারে নিজস্ব যা তাকে অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র করে।যিনি গল্পের শৈলীতে অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র হন তার লেখা পাঠ করাই আমার কাছে জরুরি বলে মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: পুরস্কার নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে।আপনি পুরস্কারকে কোন চোখে দেখেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আমি একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসে কোনো লক্ষবস্তুর দিকে তীর ছুঁড়ছি, তীরটা যদি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তবে কি আমার ভালো লাগবে? নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না।আমি তীর ছুঁড়ছি তা যে কাউকে বিদ্ধ করছে সেটি আমি বুঝতে পারি যখন অন্য পাশ থেকে কোনো সাড়া আসে।পুরস্কার বিষয়টাও আমার কাছে অনেকটা তেমন মনে হয়। আরেকভাবে বললে আপনি যেই কাজ করছেন সেই কাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় পুরস্কার।আর ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেকোনো আলোচনাই তো লেখককে পরিশীলিত আর পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">আমার মনে হয় যথাযথভাবে যদি যথাযথ মানুষটির কাছে পুরস্কার পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে তবে তা নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ তৈরি হবে না।পুরস্কার বিষয়টিও সবাই তখন ইতিবাচক একটা অর্জন হিসেবে দেখবেন।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: বাংলা একাডেমি পুরস্কার, করপোরেট পুরস্কারের পাশাপাশি দেশের সাহিত্য সংগঠনগুলো থেকে দেওয়ার পুরস্কারের মধ্যে আপনি স্পষ্ট কোনো পার্থক্য দেখেন? কোন পুরস্কারকে আপনার নিরপেক্ষ ও বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়?</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো পরিণত আমি এখনো হইনি।পুরস্কারগুলো কীভাবে দেওয়া হয় সেসব সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণাও নেই।আমার কাছে লেখালেখি করে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে পড়াও।পড়ালেখা বিষয়টাই আনন্দের আমার কাছে।সাহিত্যের সংস্পর্শে আছি, এই ভাবনাই আমাকে সর্বক্ষণ আন্দোলিত করে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: কথাসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলো কেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আমার বেড়ে ওঠা, বড় হয়ে ওঠা সবকিছুর সঙ্গেই ছিল বই।আমার বাবার সংগ্রহে প্রচুর বই ছিল।স্কুলের পরীক্ষা শেষে বই, উপহারে বই, অবসরে বই-আমাদের ভাই-বোনদের সময় কেটেছে বইয়ের সঙ্গে।বই পড়ার এই অভ্যাস আমাদের বাবাই গড়ে দিয়েছিলেন।এতে কোনো জোরজবরদস্তি ছিল না।বই নিয়ে থাকছি, থাকবো এটাই খুব স্বাভাবিক ছিল আমাদের জন্য।বই ছিল আমাদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম।শৈশব-কৈশোরে ঠাকুমার ঝুলি, দাদুর চশমা, ম্যাক্সিম গোর্কির মা, লিম্যান ফ্র্যাঙ্ক বোমের ওজের জাদুকর থেকে শুরু করে বঙ্কিম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিমল মিত্র, বিভূতি, শংকর, অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত, শওকত ওসমান, আশাপূর্ণা দেবী, তিন গোয়েন্দা সিরিজ সবই ছিল পাঠতালিকায়।তখন তো বুঝতাম না কথাসাহিত্য কী, বুঝতাম বই আমার সঙ্গী, বই পাঠেই আনন্দ।সেই হিসেবে বলা যায় কথাসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল সেই শৈশবে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: বর্তমান ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের কল্যাণে সাহিত্যচর্চা যেমন বেড়েছে; তেমন সাহিত্যের চৌর্যবৃত্তিও বেড়েছে।এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় আছে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে ফেসবুক, অনলাইন পোর্টালগুলো বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।লেখক তো আর চৌর্যবৃত্তির ভয়ে এসব মাধ্যমে নিজের লেখার প্রকাশ করা বন্ধ করতে পারবেন না।নিজে কারো চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতেও পারবেন না।চৌর্যবৃত্তি থেকে পরিত্রাণের পথ আসলে পাঠকই করে দিতে পারে।আমি দেখেছি সচেতন পাঠকমাত্রই চৌর্যবৃত্তি ধরিয়ে দেয়।একজন লেখক যখন পাঠকের মনে নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে সমর্থ হন তখন পাঠকই খুঁজে খুঁজে বের করে দেন, এই লেখাটা প্রকৃতপক্ষে কার আর কে কীভাবে চুরি করেছে, কতটুকু চুরি করেছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে কখনো কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন? যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তারা কারা? কিংবা সেই প্রভাবের ধরনটি কেমন হতে পারে? </span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আমি যেহেতু সচেতনভাবে কারো লেখা দ্বারা প্রভাবিত হতে চাইনি সেহেতু আমি এর উত্তর দিতে পারবো না।এর উত্তর দিতে পারবেন, পাঠক।তারাই ভালো বলতে পারবেন, আমার লেখায় কার কার প্রভাব তারা দেখতে পান বা আমার লেখায় সত্যিকার অর্থেই কার কার প্রভাব আছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: আপনার সমসাময়িক ও অনুজদের মধ্যে কার কার গল্প আপনাকে আকৃষ্ট করে কিংবা কাকে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আমার শ্রদ্ধেয় অগ্রজ, সমসাময়িক ও অনুজ অসংখ্য লেখকের গল্পই আমাকে আকৃষ্ট করে।ধীরে ধীরে পরিশ্রমী অনেক গল্পকার গুরুত্বপূর্ণও হয়ে উঠছেন।গুটি কয়েক গল্পকারের নাম বলা আসলে মুশকিল।অনেকেই এত ভালো লিখছেন, এত নিরীক্ষাধর্মী গল্প নির্মাণ করছেন যে পড়তে পড়তে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই।ভাবি, এভাবেও ভাবা যেত! এভাবেও লেখা যায়!</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: বাংলা সাহিত্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।</span><br />
<span style="color: #ff0000">সাদিয়া সুলতানা:</span> আমি আশাবাদী।আশা যেমন আমাকে দোলায়, স্বপ্ন তেমন আমাকে আলোড়িত করে।আমাদের বাংলা সাহিত্য নিয়েও আমি আশা আর স্বপ্নের ভেতরে থাকি।বর্তমানে অনেকেই এত ভালো লিখছেন, এত সম্ভাবনা আছে তাদের মধ্যে যে আমি মনে করি এই লেখাগুলো জায়গামতো পৌঁছালে বিশ্বসাহিত্যে আলাদা স্থান করে নিবে।তাই আমাদের পরস্পরের লেখা নিয়ে, ভালো লেখা নিয়ে প্রচুর কথা বলা দরকার।প্রতিটা সম্ভাবনাই যেন সৃষ্টির কথা বলতে পারে সেই পথও আরও মসৃণ হওয়া দরকার।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/15/2365/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাঙালি আসলে সাহিত্য বোঝে না, রবীন্দ্রনাথ বঙ্গজীবনে সাহিত্য এনেছেন: ব্রাত্য বসু</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/29/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/29/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 29 Jun 2022 12:34:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1994</guid>

					<description><![CDATA[[ ব্রাত্য বসু একজন নাট্যকার, নাট্য পরিচালক, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ।তার এই সাক্ষাৎকারটি ২৪ জুন ২০২২ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়।আনন্দবাজারের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য প্রকাশিত &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em><span style="font-size: 14pt">[ ব্রাত্য বসু একজন নাট্যকার, নাট্য পরিচালক, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ।তার এই সাক্ষাৎকারটি ২৪ জুন ২০২২ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়।আনন্দবাজারের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো।]</span></em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: আপনি জানতেন আপনাকে জীবনানন্দের মতো দেখতে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> (প্রশ্ন শুনে অবাক) নাহ! একেবারেই না। জীবনানন্দ বহুবার পড়েছি।কিন্তু আমায় কোনও দিন তার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে ভাবিনি।খুব শক্ত কাজ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: কেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> জীবনানন্দের ব্যক্তিজীবন বেশির ভাগটাই অধরা।যা তথ্য পাই, তা শুধু বাইরের।কিন্তু মানুষটার ভেতরে যাওয়া, সমুদ্রের গভীরে যাওয়া খুব কঠিন ছিল।সেটা আমি আমার মতো করে করার চেষ্টা করেছি।জীবনী পাঠ করলাম।কিন্তু আমাকে খুব সাহায্য করল শাহাদুজ্জামানের লেখা ‘একজন কমলালেবু’ বইটি।বিশেষত তার বোনের সঙ্গে যে সম্পর্ক; স্ত্রী লাবণ্যের সঙ্গে অবনিবনা; সমসাময়িক লেখকদের কাছ থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখা; একটা অবরোধের মধ্যে বাস করা- এগুলো বিশদে জানতে পেরেছি।যা চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে খুব কাজে লেগেছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: ‘ঝরা পালক’ ছবিতে কি আপনার সামনে নতুন জীবনানন্দ এলো?</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> বলতে পারেন।ওর স্ত্রী লাবণ্যকে আরও জানলাম।সে অর্থে আমি তাকে বাহবাই দেব।পৃথিবী থেকে প্রত্যাখাত, অসফল একজন মানুষকে আগলে রেখেছেন তিনি।তার চাকরি চলে গেছে।ছাত্রমহলেও তিনি জনপ্রিয় নন।মুখচোরা এমন একজনের সঙ্গে থাকা, মাঝে মাঝে থাকতে না পেরেও সহ্য করা-এটা কম কথা নয়।মাঝে মাঝে স্ত্রী পেরেও উঠতেন না।এই জায়গাটা দেখলাম।আর বুঝলাম, জীবনানন্দ আত্মহত্যা করেছিলেন।তার মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়।সমস্ত সমাজ তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল।যেহেতু তিনি অত্যন্ত অনুভূতিপ্রবণ, তাই সমাজের স্থূলতা, ক্রূরতা, অসাড় নিষ্ঠুরতা এই সংবেদনশীলতাকে বোঝার উপযোগী ছিল না।সমাজের বয়েই গেছে।এইটা ছবি করতে গিয়ে বোঝা গেলো।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: আর আজকের জীবনানন্দ?</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> এই সময় তো আরও খারাপ অবস্থা।আজ যে জীবনানন্দ, তার পক্ষে মানিয়ে নেওয়াই অসম্ভব ব্যাপার।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: বাঙালির কাছে কবি মানেই মুখচোরা, নরম, কিছু কবিতা নিয়ে চলা জীবন…</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> আরও আছে।বাঙালির কাছে তিনিই কবি, যিনি তার জীবৎকালে কবিতা প্রকাশ করবেন না।পরে তার কবিতার পাণ্ডুলিপি প্রকাশ পাবে।বাঙালি আসলে গড় অর্থে কোনও সাহিত্য বোঝে না। মাঝখানে একটা লোক চলে এসেছিলেন- রবীন্দ্রনাথ! তিনি এই সাহিত্যের বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন।রবীন্দ্রনাথ আমার মতে ‘কিংবদন্তী’, তবে প্রভাবসঞ্চারী নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: মনে হয় না রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন…</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> একেবারেই নয়।রবীন্দ্রনাথ জ্যান্ত।তবে তিনি নিজে এই বাঙালি জাতির মতো সংখ্যালঘু তৈরি করেছেন।তিনি নিজেও অবশ্য লড়াই করে সংখ্যালঘু হয়েছেন।এই সংখ্যালঘুদের অবস্থা ভালো নয়। কারণ, সংখ্যাগুরু মাত্রেই ভোঁতা।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রশ্ন: ‘ঝরা পালক’ কাদের ছবি?</span><br />
<span style="color: #ff0000">ব্রাত্য বসু:</span> এই ছবি সংখ্যালঘুদের দেখার ছবি।যারা ধ্বস্ত, সাহিত্যপ্রেমী। এই সমাজের মূল স্রোতে চলতে না পারা লোক এই ছবি দেখবে।এই ছবি মার-খাওয়া মানুষের কথাই বলে।</p>
<p style="text-align: justify">[ সংক্ষেপিত ]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/29/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যা কিছু করতে পারিনি এই দীর্ঘ জীবনে, কিন্তু করতে চেয়েছি, সেগুলোই এখন আঁকড়ে ধরবো: দিলারা হাশেম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/24/%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/24/%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 24 Mar 2022 12:15:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1797</guid>

					<description><![CDATA[[সম্পাদকীয় নোট: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক দিলারা হাশেমের এই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয় মার্চ ৩১, ২০১১, ভয়েস অফ আমেরিকায়। গত ১৯ মার্চ ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মারা যান তিনি।তার মৃত্যুতে সাক্ষাৎকারটি যোগসূত্রের পাঠকদের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong><em>[সম্পাদকীয় নোট: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক দিলারা হাশেমের এই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয় মার্চ ৩১, ২০১১, ভয়েস অফ আমেরিকায়। গত ১৯ মার্চ ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মারা যান তিনি।তার মৃত্যুতে সাক্ষাৎকারটি যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো।]</em></strong></p>
<p style="text-align: justify">‘যা কিছু করতে পারিনি এই দীর্ঘ জীবনে, কিন্তু করতে চেয়েছি, সেগুলোই এখন আঁকড়ে ধরবো’ বিদায়ী সাক্ষাৎকারে বলেছেন কথাশিল্পী, সাহিত্যিক দিলারা হাশেম।</p>
<p style="text-align: justify">ভয়েস অফ আমেরিকার বেতার ভাষ্যকার, সাংবাদিক দিলারা হাশেম দীর্ঘ ৩৫ বছর কর্মব্যস্ত জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন ৩১ শে মার্চ ২০১১ সালে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1785 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বিদায় নেওয়ার সময় সাক্ষাৎকারে তিনি কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত স্মরণ করে বলেন, ‘এই কাজে পূর্ণ সময়ের জন্য যোগ দেওয়ার পর আমার প্রথম দায়িত্ব হয়েছিল দুটি সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান করার। আমেরিকার জীবনধারা ও কান্ট্রি মিউজিকের আসর।তো এই দুটো অনুষ্ঠান করার জন্য আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি। ভয়েস অফ আমেরিকা থেকেই আমাকে পাঠানো হয় কান্ট্রি মিউজিকের পীঠস্থান ন্যাশভিলে।বেশ কয়েকবার সেখানে গিয়েছি বার্ষিক অনুষ্ঠান কভার করতে। সেখানে বহু শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে – ব্লু গ্রাস সঙ্গীতের নামী শিল্পী বিল মনরোর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে।ওয়াশিংটনে জোন বায়েজের আত্মজীবনী – অ্যা ভয়েস টু সিং – বইটির প্রকাশনা উৎবে তার সঙ্গে দেখা হয়।উনি তার বইতে রবিঠাকুরের যে কবিতা রয়েছে, তার অংশ বিশেষ পড়ে শুনিয়েছিলেন, সেটা আমার কাছে চমৎকার লেগেছিল।তার সাক্ষাৎকার ভিত্তিক সেই অনুষ্ঠান ভয়েস আমেরিকার পুরস্কার পেয়েছে’।</p>
<p>পড়ুন</p>
<p><a href="https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/">বিদায় দিলারা আপা ॥ আদনান সৈয়দ</a></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/24/%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমি যা দেখছি, যা চাচ্ছি তাদের মধ্যে সমন্বয় করতে সাহিত্যের পথ বেছে নিয়েছি: নাসরিন সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/21/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/21/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 21 Feb 2022 04:14:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1687</guid>

					<description><![CDATA[নাসরিন সুলতানা।শিশুসাহিত্যিক, নাট্যকার। বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টি। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা এবং সাম্প্রতিক সাহিত্য নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>নাসরিন সুলতানা।শিশুসাহিত্যিক, নাট্যকার। বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টি। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা এবং সাম্প্রতিক সাহিত্য নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক <strong>সাইফ বরকতুল্লাহ</strong>।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: আপনি তো ছোটদের জন্য বেশি লিখছেন। বিশেষ করে শিশুদের বিকাশে সিরিজ রচনা করছেন।এ বিষয়ে জানতে চাই।</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> খুব ভালো লাগছে যে শিশুদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করতে পারছি।শখ নামের একটা মেয়েকে নিয়ে আমি সাতটি বই করেছি। প্রত্যেকটি বইয়ে মেয়েটির বয়স একটু একটু করে বেড়েছে।তার মানে গল্পের বিষয়বস্তু ক্রমশগভীরে গিয়েছে।লেখার পরিমাণ বেড়েছে।ছবির পরিমাণ কমেছে।বইগুলোর পেছনে শিশুর বয়স আর শখের বাংলা বই ১, ২, ৩ এরকম লেখা আছে। যে শিশু ২ পড়তে পারবে তাকে ৩ দিতে হবে। যে শিশু ৫ পড়তে পারবে না তাকে ৬ দেওয়া যাবে না। বয়স অনুযায়ী শিশুর পড়ার দক্ষতা ঠিক আছে কি না সেটি পরিমাপ করা যাবে।তাতে শিশুর পড়ার দক্ষতা বাড়বে।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পটা যে বিষয়ে লেখা হয়েছে সে দিকেও শিশুর মনোযোগ যাবে। আমরা তো বছরের শুরুতেই শিশুর পড়ার সক্ষমতার স্তর নির্ধারণ করি এবং তিনটি দলে ভাগ করে ফেলি।এই কাজটি বছরে তিন চারবার করতে হতে পারে। শিশু তো একটা স্তরেই থাকবে না। তার পরিবর্তন ধরার জন্য টুলস ব্যবহার করতে হবে।টুলস বানানোর যোগ্যতা সবার থাকে না।থাকলেও সময় হয় না।বারবার আগের শ্রেণির বই ব্যবহার করার চেয়ে আমার বইগুলো ব্যবহার করলে ভালো হবে।শিশু নতুন একটি গল্প জানবে।যে শিশু কথা বলতে পারে কিন্তু বর্ণ চেনে না, তার জন্য আমি একটি বই করেছি। সে বইয়ে কোনো লেখা নেই।ছবি দিয়েই গল্পটা সাজানো।ছবি সম্পর্কে বললে তার বলার দক্ষতা বাড়বে। অনেক কিছু মাথায় রেখে বইগুলো করেছি।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1689 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/nas-Book-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/nas-Book-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/nas-Book.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার লেখালেখি কীভাবে শুরু হলো, সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলো কেন, ছোটোবেলা থেকেই লেখক হওয়ার স্বপ্ন ছিল কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> আমি যখন বর্ণ চিনতাম না, তখন থেকেই মুখে মুখে ছড়া বানাতাম। যখন লিখতে শিখেছি তখন থেকে লেখা শুরু করেছি।লেখার গুণটা নিয়েই আমি পৃথিবীতে এসেছি। আমার মা কাজ করতেন আর গল্প শোনাতেন।কথায় কথায় ছড়া কাটতেন। আমার খুব ভালো লাগত। আগ্রহটা ওখান থেকেই এসেছে। পাঠ্যবইয়ে তো সাহিত্য ছিলই। সেগুলো পড়তে গেলেই মনে হতো আমার নামটা যদি এখানে থাকত! আমি যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তখন থেকেই আমি ঠিক করেছি লেখক হবো। স্নাতকে ভর্তি হয়েই আমি স্থানীয় দৈনিকগুলোতে লেখা পাঠাতে শুরু করি।এখন তো বড় হয়েছি। বৃদ্ধ হওয়ার আগে ভালো কিছু কাজ করতে চাই। আমি আমার দেশকে অনেক ভালোবাসি। আমি যা দেখছি আর যা চাচ্ছি তাদের মধ্যে একটা সমন্বয় করার জন্য আমি সাহিত্যের পথটা বেছে নিয়েছি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার কতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে? বইগুলোর বিষয়বস্তু কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> ১৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে। নাটকের পাণ্ডুলিপি, গল্প আর উপন্যাস।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বর্তমান ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের কল্যাণে সাহিত্যচর্চা বেড়েছে।এতে লেখকও বাড়ছে। আপনার অভিমত জানতে চাই। </span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> আমি শেক্সপিয়রের নামটা বলতে চাই। আজ আমরা যত মানুষের লেখা পড়ছি তিনি তো এত পড়েননি। আমরা কেন তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারছি না? লেখকের কাজ হচ্ছে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। যার মনের মধ্যে লেখার বিষয়বস্তু তৈরি হয় না সে লেখক নয়। অন্যের লেখা পড়ার পরে উপস্থাপনার সৌন্দর্যটা বাড়তে পারে। লেখকের চারপাশে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো দেখেই তার মনে লেখার বিষয়বস্তু তৈরি হবে। কেউ যদি দশটি লেখা পড়ে একটা বিষয়বস্তু বানায় সে প্রকৃত লেখক নয়।একটি লেখা পড়লেই বোঝা যায় তা ভেতর থেকে এসেছে না কি অন্যেরটা পড়ে লেখা হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: একটা সার্থক লেখার গুণাবলী কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> একজন পাঠক হিসেবে বলব, সেই লেখাই সার্থক যা মানুষের কাছে ভালো লাগে। লেখাটা হতে হবে শুদ্ধ বাংলায়।আমি আর কোনো শর্ত দিতে চাই না। ছাপার ভুল বা বানানে ভুল কেউ ইচ্ছে করে না। সেটা পাঠক ধরেন না। কবিতা লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম মাপের কথা বলা হয়। কেউ কেউ মাত্রার হিসেব ঠিক করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় শব্দ আর প্রত্যয় যোগ করেন। সাহিত্য আর গণিত এক কথা নয়। যে পাঠক কবিতার মাত্রা গুণতে জানেন না তিনিও শুদ্ধ বাংলা জানেন। তাদের কথা মাথায় রেখে লিখতে হবে।সাহিত্য হচ্ছে পাঠকের অবসর কাটানোর মাধ্যম।সেটা অবশ্যই সুন্দর হতে হবে। পাঠক কখনও দুর্বোধ্য লেখা চান না। একজন লেখক হিসেবে বলব, সাহিত্যের প্রত্যেকটা শাখার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিছু নিয়ম আছে।</p>
<p style="text-align: justify">সেই নিয়মগুলো রক্ষা করে যদি লেখা হয় সেই লেখাটাই সার্থক। শিশুসাহিত্যের কথা একটু আলাদা করে বলব। কারণ ওরা যদি বড়দের লেখা পড়ে তা হলে ওদের মাথায় একটা চাপ পড়বে।একটা শিশুর পড়ার সক্ষমতার স্তর শূন্য থেকে ছয় পর্যন্ত হতে পারে।স্তরটা বইয়ে লিখে দিতে হবে।গদ্য হোক, পদ্য হোক সেটি কত বছরের শিশুর জন্য লেখা হলো তাও বইয়ে লেখা থাকবে। কোন স্তরের শিশুসাহিত্যে কতটুকু ছবি থাকবে, পৃষ্ঠা সংখ্যা কত হবে, এক পৃষ্ঠায় ক’টা বাক্য থাকবে, একটা বাক্যে ক’টা শব্দ থাকবে, একটা শব্দে ক’টা বর্ণ থাকবে, বর্ণের আকার কতটুকু হবে, এগুলোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট শর্ত আছে।এই শর্তগুলো রক্ষা করে যদি শিশুসাহিত্য লেখা হয় তা হবে সার্থক শিশুসাহিত্য।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি শিক্ষকতা করছেন, পাশাপাশি লিখছেনও। কাজের সমন্বয় কীভাবে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> সরকারি দপ্তরগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক দিন।বছরে বায়ান্ন সপ্তাহ।এই বায়ান্ন দিন বছরের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে দেওয়া হয়।চার বা পাঁচবার বড় ছুটি পাই।তখন আমি লিখি।একটা দেশের বিবেক হচ্ছে সে দেশের শিক্ষক সমাজ।শিক্ষকতাকে যারা পেশা হিসেবে নিয়েছেন তাদের অনেক দায়িত্ব।আমার মধ্যে লেখার প্রতিভা আছে।সময় আমাকে বের করতেই হবে।আমি কখনও স্কুলে বসে লিখি না।ছোটোখাটো লেখা রাতে বা ছুটির দিনে লিখি।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1690 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ns-book-66-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ns-book-66-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ns-book-66.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: তরুণদের মধ্যে যারা লিখতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ..</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> লেখক সমাজ হচ্ছে একটা দেশের আয়নার মতো।দেশ কেমন আছে-এটি শুধু লেখকরাই বলতে পারেন। আয়না যদি নষ্ট হয়ে যায় চেহারা ঠিকমতো দেখা যায় না। লেখক হতে হলে তাকে ভালো মানুষ হতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আপনি যা লিখতে চান তার নিয়মগুলো জানুন। সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করুন। ভালো লেখকদের লেখা পড়ুন। জাতীয় দৈনিকগুলোতে যে লেখাগুলো ছাপা হয় সেগুলো পড়ুন। যে বইগুলো পুরস্কার পায় সেগুলো পড়ুন। এক সময় আপনি নিজেই বুঝবেন আপনার লেখা কেমন।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সময় দেওয়ায় ধন্যবাদ।</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাসরিন সুলতানা:</span> আপনাকেও শুভেচ্ছা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/21/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একজন লেখক বিশেষ কিছু দেখাকে কেন্দ্র করে সচেতন-অচেতন এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখেন: ইশরাত তানিয়া</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/08/1588/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/08/1588/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 08 Feb 2022 15:34:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1588</guid>

					<description><![CDATA[ইশরাত তানিয়া। কথাসাহিত্যিক ও প্রবন্ধসাহিত্যিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে পিএইচডি করেছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো ‘নেমেছ ইচ্ছে নিরিবিলি’, ‘বীজপুরুষ’, ‘মদ এক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>ইশরাত তানিয়া। কথাসাহিত্যিক ও প্রবন্ধসাহিত্যিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে পিএইচডি করেছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো ‘নেমেছ ইচ্ছে নিরিবিলি’, ‘বীজপুরুষ’, ‘মদ এক স্বর্ণাভ শিশির’। বিভিন্ন কাগজে নিয়মিত গল্প, গদ্য ও প্রবন্ধ লিখছেন। সম্প্রতি তার নতুন গ্রল্পগ্রন্থ ‘মেলো ইয়েলো, শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে’ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন গ্রন্থ এবং সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক <strong>সাইফ বরকতুল্লাহ</strong>।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ বরকতুল্লাহ: আপনার গ্রন্থগুলোর একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। বিশেষ করে নামগুলো অন্যরকম হয়। আপনার অভিমত বলুন-</span><br />
<span style="color: #ff0000">ইশরাত তানিয়া:</span> অন্য যেকোনো সচেতন লেখকের মতো আমাকেও গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবতে হয়। আখ্যান, উপস্থাপনা এবং সমাজের ভেতর অন্তর্গত দ্বন্দ্ব আর উদ্ভুত সংকটের পাশাপাশি দুর্বৃত্ত পুঁজিবাদের বিশ্বব্যাপী যে আগ্রাসন এবং সে ব্যবস্থার সাথে যখন আমাদের উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি কিংবা বলা যেতে পারে জনগোষ্ঠীর শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্প্রদায় জড়িত হয়, তখন বিষয়গুলো ডিল করা খুবই কঠিন। মাঝে মাঝে সংশয় জাগে আমার প্রিপারেশান কতটুকুই বা? তবু আমি চেষ্টা করি এ বিষয়গুলোকে যথাসম্ভব তুলে আনার। ফলে দেখাটা তোভিন্ন হতে বাধ্য। তাই বোধ হয় আমার গল্পের নামগুলো অন্যরকম বলে আপনাদের কাছে চিহ্নিত হয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি যখন গল্প লেখেন, তখন ঠিক কোন বিষয়টির প্রতি বেশি মনোযোগ দেন? </span><br />
<span style="color: #ff0000">ইশরাত তানিয়া:</span> গল্প লেখার সময় অনেকগুলো বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়। এখানে লক্ষ্য করেছি ভাষা ও নিটোল কাহিনিকে প্রাধান্য দিয়ে গল্প লেখা হয়। যেন একটি বিষয়কে গুছিয়ে বলাই গল্প। আমার কাছে এগুলো প্রামাণ্য চিত্রছাড়া আর কিছুই না। আমি মনে করি একজন লেখক তাঁর বিশেষ কিছু দেখাকে কেন্দ্র করে সচেতন ও অচেতন এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখেন। ওই দেখাটাই এক সময় লেখককে চালিত করে। লেখক সব সময় সবজান্তা নাও হতে পারেন। গল্পগুলো লেখার পর পড়ে দেখি, আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়, ওই দেখাগুলোর সমন্বয় ঠিকঠাক মতো হয়েছে কি না আর আসলেই কি আমি সমষ্টির জন্য কিছু বললাম? এটুকুই।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সম্প্রতি জলধি আয়োজিত ‘পাঠ ও আন্তর্পাঠে মেলো ইয়েলো, শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে’ অনুষ্ঠানে অগ্রজ কথাসাহিত্যিক সেলিম মোরশেদ, নাসরীন জাহান, সালমা বাণী, নাসিমা আনিস, পারভেজ হোসেনসহ আরও কয়েকজন আপনার গল্পের বেশ প্রশংসা করলেন। বিষয়টি কীভাবে দেখেন? </span><br />
<span style="color: #ff0000">ইশরাত তানিয়া:</span> জলধি থেকে প্রকাশিত আমার তৃতীয় গল্পগ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন লেখক আমার গ্রন্থ আলোচনায় যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন, খুব কম তরুণ লেখকের জীবনে এরকম ঘটে। পরবর্তী সময়ে বার বার মনে হয়েছে এটা শুধু আমার ব্যক্তি পরিচয়ের কারণে হয়নি। জলধি এবং এর প্রকাশক কবি, কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক নাহিদা আশরাফীর গ্রহণযোগ্যতা একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1590 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ishrat-Book1-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ishrat-Book1-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ishrat-Book1.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">সাধারণত কোনো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্নধারার লেখকরা আলোচনার ক্ষেত্রে এতোটা স্বতঃস্ফূর্ত হন না। বাংলাসাহিত্যের কীর্তিময়ী কথাশিল্পী নাসরীন জাহান যখন বলেন-‘ইশরাত তানিয়া যে আমার প্রিয় কথাসাহিত্যিক, আমার পরিচিতজনদের ভেতর কে না জানে?’ এ কথা শোনার পর অন্য তরুণদের মতো উচ্ছ্বসিত না হয়ে বরং সংহত হই। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সালমা বাণীর সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে আমাকে যে আশীর্বাদ করেছেন- সেটাও অনেক বড় প্রাপ্তি। শ্রদ্ধেয় কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন তিনিও মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও কথাসাহিত্যিক মনি হায়দারসহ অনেক গুণীজন আমার লেখা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানে যে আলোচনাটি সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছিলো- শুধু আমি না, সবার কাছেই-বাংলাদেশ ও বাংলা সাহিত্যের নানাবিধ দিক নিয়ে বলেছিলেন আশির ছোট কাগজ আন্দোলনের কথাশিল্পী সেলিম মোরশেদ।তিনি ৪৭ পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্যের ধারাবাহিক গতিপ্রকৃতি বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া আট দশকের ছোটগল্পের ক্ষেত্রপট ধরে ঠিক এই সময়ের গল্প পর্যন্ত যৌক্তিক ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন।</p>
<p style="text-align: justify">আমি অপরাপর বিস্মিত হয়েছি, এরই মধ্যে আমার তিনটি বইয়ের ৪২ গল্প নিয়ে সেখান থেকে ৬টি গল্পকে উনি যেভাবে বিচার্য তালিকায় ফেললেন, তাতে আমিও জানতাম না যে, লেখায় একজন তরুণ লেখকের প্রবণতা এবং গণপাঠককূলের ভালোলাগা-মন্দলাগার বাইরেও একজন প্রকৃত শিল্পীর মতোই অন্য শিল্পীর শিল্পসত্তাকে এভাবে শনাক্ত করা যায়। বিশেষত সাম্প্রতিক বাংলা কথাসাহিত্যের জীবিত লেখকদের মধ্যে আমি যাকে বিকল্প অভিব্যক্তির অর্থাৎ বাঁক বদলের ধারায় সবচেয়ে প্রতিভাবান লেখক বলে মনে করি, তাঁর কাছ থেকে এমন মূল্যায়ন পাওয়া আমার দুর্লভ সৌভাগ্য। যদিও আমি জানি, আমার লেখা হয়তো সেই স্থান কিছুটা স্পর্শ করেছে সত্য, কিন্তু তারও অধিক, বাংলা ভাষার সাম্প্রতিককালের সুপঠিত সুপরিচিত ও অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী নাসরীন জাহানের আমার লেখার প্রতি অসামান্য ভালোবাসা ও মনযোগের কারণে কথাশিল্পী সেলিম মোরশেদ আমার ৪২টি গল্প পড়ে মেধা ও শ্রম দিয়ে এই মূল্যায়নটি করে গেলেন।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>এখানে আরও উল্লেখ্য, সম্পূর্ণ বিপরীতধারার সমসাময়িক দুজন কথাশিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আমাকে বিস্মিত করেছে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এতটা নৈর্ব্যক্তিক এবং একইসাথে আত্মিক আলোচনার পর কথাশিল্পী সেলিম মোরশেদের শনাক্তকৃত সেই ৬টি প্রতিনিধিত্বশীল গল্প (‘জুনাই বিবির অভিযোজন’, ‘বর্তমান অবর্তমানে’, ‘মদ এক স্বর্ণাভ শিশির’, ‘মেলো ইয়েলো, শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে’, ‘গজ্ঞা ঠাকুরের সুগন্ধি’ এবং ‘অবনী বাড়ি নেই’) আমি বার বার পড়েছি এবং অনুভব করেছি আমার লেখকসত্তা এই প্রথম কেউ ধরিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ করছি গল্পগুলোর রচনাকাল ২০১৬ থেকে ২০২০।</p>
<p style="text-align: justify">শুধু তাই না, অবশ্যই এটা আমি করি, যা তিনি বললেন, সমাজ সংশ্লিষ্ট সংকটে আমার গল্পের চরিত্ররা সমষ্টির ভেতর থেকে বেরিয়ে ব্যক্তি স্কেপ করে, যা মূলত ট্রমা। আবার কখনো ব্যক্তি সমষ্টির প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টাও করে। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, আমার ওপর তিনি পরোক্ষভাবে একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলেন। এমন কি তিনি যখন গল্পের চরিত্র চিত্রণ ও অন্যান্য চরিত্রের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় আমার যে আরও সচেতন হওয়া উচিৎ এ বিষয়টি তীব্রভাবে বলেন, তখন আমার কাছে অনেক পুরস্কার, সম্মাননার চেয়েও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে অনেকেই তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেনবলে আমাকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে গল্পে চরিত্রের সমতা রক্ষার ব্যাপারে।<br />
আলোচনার শেষে চলে যাবার আগে তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন ৬টি গল্পের মধ্যে বিশেষত ‘জুনাইবিবির অভিযোজন’, ‘মেলো ইয়েলো, শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে’, এবং ‘মদ এক স্বর্ণাভ শিশির’ এই ৩টি গল্প সাম্প্রতিককালের কথাসাহিত্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মাত্রায় প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1591 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ishrat-Book2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ishrat-Book2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/02/ishrat-Book2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">এই প্রশ্নটি যথার্থ করেছেন এই জন্য যে, আপনারা কথাশিল্পী সেলিম মোরশেদের আলোচনাটি পড়লে বুঝবেন সাহিত্য আলোচনা কতোটা বিশ্বস্ত হতে পারে এবং একই সাথে অন্যান্য লেখকের মননকেও কতোটা শক্তিশালী করে তুলতে পারে। জলধি আয়োজিত এই অনুষ্ঠান, আমি মনে করি, আমার লেখকজীবনের ওপর একটা বড় প্রভাব ফেলবে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি তো কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলেন।কিন্তু দেখা যাচ্ছে কথাসাহিত্যে আপনার আগ্রহ বেশি। কবি না কথাসাহিত্যিক- কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? </span><br />
<span style="color: #ff0000">ইশরাত তানিয়া:</span> কবিতাকে আমি ভালোবাসি। আমি মনে করি হৃদয়ের অন্তর্গত বিষয়গুলোকে কবিতাই ধারণ করতে পারে। এবং গদ্য লেখার ক্ষেত্রে আমি অবাক হয়ে দেখেছি কাব্যপনা নয়, কবিতার এমন কিছু অনুভব আছে যা গদ্যের সাথে সঙ্গতি করতে পারলে গদ্যের সমৃদ্ধি শুধু নয়, ওরহান পামুক লেখায় ‘ট্রিটমেন্ট’ বলে যে কথাটি বলেন, অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি, আমার কবিতা লেখার আকাঙ্ক্ষাটা পরবর্তী সময়ে গদ্যকে মাত্রাদেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। যদিও আমি গদ্যের ঋজুতা কোনোভাবে ব্যাহত হোক সেটা চাই না। কবিতা আমার হৃদয়ের সাথে রয়েছে। আমার পরিশ্রুত অনুভূতি তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে কবিতা অনুকূল ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আমি মনে করি অনেক ব্যবহারিক বিষয়ের প্রয়োজনে আমার মেধা ও শ্রম কথাসাহিত্যের দিকে ঝুঁকে গেছে। সে অর্থে নিজেকে আমি কথাসাহিত্যিক বলে মনে করি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে কখনো কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন?যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তারা কারা? কিংবা সেই প্রভাবের ধরনটি কেমন হতে পারে? </span><br />
<span style="color: #ff0000">ইশরাত তানিয়া:</span> আমি পরম্পরায় বিশ্বাসী। ছোটবেলা থেকে আজঅব্দি বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের যেসব লেখকের সাহিত্য পড়েছি, আমি মনে করি, কোথাও না কোথাও প্রত্যেকের পরোক্ষ প্রভাব আমার লেখায় রয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সময় দেওয়ায় আপনাকে শুভেচ্ছা।</span><br />
<span style="color: #ff0000">ইশরাত তানিয়া:</span> আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/08/1588/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কারও ভাবনাকেই আমি বাতিল করার অধিকার রাখি না: রুমা মোদক</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/21/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b2-%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/21/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b2-%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 20 Dec 2021 19:18:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1408</guid>

					<description><![CDATA[এ বছর ‘চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন রুমা মোদক। কথাসাহিত্যে তিনি এ পুরস্কার পান। রুমা মোদক একাধারে গল্পকার, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকর্মী। জন্ম ১৯৭০ সালের ৭ মে, হবিগঞ্জে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>এ বছর ‘চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন রুমা মোদক। কথাসাহিত্যে তিনি এ পুরস্কার পান। রুমা মোদক একাধারে গল্পকার, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকর্মী। জন্ম ১৯৭০ সালের ৭ মে, হবিগঞ্জে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- নির্বিশঙ্ক অভিলাষ, নির্বিশঙ্ক অভিলাষ, ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি, প্রসঙ্গটি বিব্রতকর, গোল, মুক্তিযুদ্ধের তিনটি নাটক, অন্তর্গত। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন পুরস্কার, লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা এবং সাম্প্রতিক সাহিত্য নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক <strong>সাইফ বরকতুল্লাহ</strong>।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: কথাসাহিত্যে চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে পুরস্কার প্রাপ্তিতে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> কথাসাহিত্যে এটাই আমার প্রথম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার। এর আগেও গল্প লিখে একাধিক পুরস্কার পেয়েছি। তখন এই যে আপনারা কথাসাহিত্যিক অভিধায় ডাকছেন, আমার সে পরিচয় ছিল না। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ইউনিলিভার ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’ প্রমোট করার জন্য একবার ভালোবাসার গল্প নামে প্রতিযোগিতায় গল্প আহ্বান করলো। পঞ্চাশজন গল্পকারের একজন হিসেবে পুরস্কার পাওয়ার জন্য দেশের প্রায় সব কয়টি পত্রিকায় আমার নাম ঘোষণা করলো। গল্পগুলো খুব সম্ভব সাপ্তাহিক ২০০০ প্রকাশ করলো। হুমায়ূন আহমেদ বিচারক হিসেবে কয়েকপাতা সমালোচনামূলক ভূমিকা লিখলেন। সবই হলো। কিন্তু পুরস্কার আমার হাতে পৌঁছালো না। কেন তা আজও জানি না।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর অবশ্য আরও দুয়েকবার এরকম বিচ্ছিন্ন একটা-দুটো গল্পের জন্য পুরস্কার পেয়েছি। নামে পরিচিত না হলেও আর্থিক প্রাপ্তি হিসেবে বেশ ছিল। এরকম একটি পুরস্কারের টাকা আমার সন্তানদের জন্মের সি সেকশনের সময় কাজে লেগেছিল। বৈশাখী টিভির সেরা গল্পকারের পুরস্কার পেয়েছিলাম যে গল্পটি লিখে, সাহিত্যিক অমর মিত্র সে গল্পকে খুবই দুর্বল গল্প হিসেবে আমার পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। আসলে ধান ভানতে এতো শিবের গীত গাওয়ার কারণ, আমাদের সাহিত্য পুরস্কার গুলোর প্রায় সব কয়টি পক্ষপাতিত্বমূলক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এ পুরস্কার ব্যাপারটি আসলে আপেক্ষিক।</p>
<p style="text-align: justify">চিন্তাসূত্র প্রথমবারের মতো এ কথাসাহিত্য পুরস্কারের জন্য আমাকে নির্বাচিত করেছে। বিষয়টি আমার জন্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত। বাংলাদেশের অধিকাংশ সাহিত্য পুরস্কার গত কয়েকবছর ধরে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে পুরস্কারপ্রাপ্তি গৌরবের চেয়ে বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। পুরস্কারপ্রাপ্তির পর আনন্দ প্রকাশের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরস্কারটি কতটা নিরপেক্ষ তার প্রমাণ হাজির করা। পুরস্কার বা পদক যিনি বা যাঁরা দেন, তাঁরা মূলত এর মাধ্যমে লেখকদের সম্মান জানান। তাঁরা নিশ্চয়ই পাঠকও বটে। লেখক হিসেবে তাঁদের মূল্যায়নকে অসম্মান করার হিম্মত আমার নেই। তাই পুরস্কারকে লেখক জীবনের অমূল্য অর্জন বলে মনে করি। চিন্তাসূত্র এবার প্রথমবারের মতো পুরস্কার দিচ্ছে। কাজেই সেটা কতটা পক্ষপাতিত্বহীন কিংবা গোষ্ঠীবদ্ধতার ঊর্ধ্বে কিংবা নিরপেক্ষ তা ভবিষ্যৎ বলবে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1410 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/12/ruma-modok-Book-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/12/ruma-modok-Book-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/12/ruma-modok-Book.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন। লিখতে গিয়ে অনেকের লেখাই পড়েছেন। একটি সার্থক লেখার গুণাবলি কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন? গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক কী বলে মনে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> এটা বলা খুব মুশকিল। এই যে লেখার টেকনিক বা ক্রাফট বা শৈলী সেটাই লেখকের স্বাতন্ত্র্য। একেকজন লেখক একেকরকম করে ভাবেন, বলেন। কারও ভাবনাকেই আমি বাতিল করার অধিকার রাখি না। আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগা না লাগা কোনো স্বতসিদ্ধ সিদ্ধান্ত নয়। কেউ ভাষাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন, কেউ শৈলীকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন, কেউ বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন। কেউ আখ্যানকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন, কেউ আখ্যানহীনতাকে। আমি পাঠক হিসাবে কাউকেই বাতিল করি না, লেখক হিসাবে তো করিই না। তবে পাঠক হিসাবে আমার কাছে আখ্যান আর ক্রাফট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ভাষা তো কমিউনিকেশনের মাধ্যম। ভাষার বাহুল্য আখ্যানকে দুর্বল করবে এটা প্রত্যাশা করি না। আবার পাঠক কমিউনিকেট করতে পারবে না ভেবে দুর্বল ভাষায় লেখাও প্রত্যাশা করি না। পাঠকের উপর আমার অগাধ ভরসা।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: পুরস্কার নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। আপনি পুরস্কারকে কোন চোখে দেখেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> এর উত্তরটা বোধহয় প্রথম প্রশ্নেই দিয়েছি৷ এই যে আমি পুরস্কার পেয়েছি, এখন যতই বলি চিঠি পাওয়ার আগে রকিবুল ইসলামকে চিনতামই না, অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। হা হা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অবিশ্বাস যে খুব অমূলক তাও তো নয়। অভিজ্ঞতাই তো এসব বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে যাই হোক এসব বিতর্কের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বাংলা একাডেমি পুরস্কার, করপোরেট পুরস্কারের পাশাপাশি দেশের সাহিত্যসংগঠনগুলো থেকে দেওয়ার পুরস্কারের মধ্যে আপনি স্পষ্ট কোনো পার্থক্য দেখেন? কোন পুরস্কারকে আপনার নিরপেক্ষ ও বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> হায়! সব প্রশ্নের উত্তর দিলে তো শত্রু তৈরি হবে। লেখকের পাঠক তৈরি দরকার, শত্রু নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি তো কথাসাহিত্য ছাড়াও নাট্যচর্চা করছেন। কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> আমি কথাসাহিত্যিক। এই পরিচয়টাই অর্জন করতে চাই। আগে পরে কিছু নেই। নাটকও আমি মনে করি সাহিত্যই। আমি থিয়েটার চর্চা শুরু করেছি বেশ পরে। নাটক লেখাও পরে। শুরুটা হয়েছে ছোট গল্প দিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: কথাসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলো কেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> পড়তে পড়তে। আমার পড়া শুরু শরৎচন্দ্র দিয়ে। পরে পড়েছি ঠাকুর মার ঝুলি, সুকুমার রায়। লেখক হওয়ার স্বপ্ন ভেতরে দানা বেঁধেছে পথের পাঁচালী পড়ে, নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বর্তমান ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের কল্যাণে সাহিত্যচর্চা যেমন বেড়েছে; তেমন সাহিত্যের চৌর্যবৃত্তিও বেড়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় আছে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> সাহিত্যচর্চা বেড়েছে, চৌর্যবৃত্তিও বেড়েছে। দ্রুত নাম করতে ইচ্ছুক লেখকরা এতে জড়িয়ে পড়ছেন। এ নিয়ে আমাদের দেশে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা নেই।কপিরাইট আইনটিতে বিশাল ফাঁক। লেখকদের মূলত অন্তর্দৃষ্টি থাকতে হয়, জীবনাভিজ্ঞতা থাকতে হয়। মানুষের কাছে যেতে হয়। সর্বোপরি থাকতে হয় দায়বোধ। বর্তমান সাহিত্যচর্চা দেখলে বোধ হয় এসবের গুরুত্বই সবচেয়ে কম। বরং গোষ্ঠীবদ্ধতা, পিঠ চাপড়ানো, ব্যক্তিগত অবস্থান বা পদমর্যাদা ইত্যাদিই বেশি বিবেচ্য।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1411 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/12/ruma-modok-in-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/12/ruma-modok-in-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/12/ruma-modok-in-3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে কখনো কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন? যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তারা কারা? কিংবা সেই প্রভাবের ধরনটি কেমন হতে পারে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ, মানিক, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, আবুল বাশার, হাসান আজিজুল হক, শওকত আলী—নানাজনের দ্বারা নানাসময় প্রভাবিত হয়েছি। কিন্তু লিখতে গিয়ে নিজের স্বতন্ত্র স্বর তৈরি করার ক্ষেত্রে সদা সতর্ক থেকেছি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার সমসাময়িক ও অনুজদের মধ্যে কার কার গল্প আপনাকে আকৃষ্ট করে কিংবা কাকে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> অনুজ বা সমসাময়িক। এরকম প্রশ্ন অনেকেই এড়িয়ে যাবেন। আমি কয়েকজনের নাম বলবো, কিন্তু হয়তো কয়েকজন বাদও পড়বে। তবু যে নামগুলো মনে আসছে- দীপেন ভট্টাচার্য, সৈয়দ মনজুরুল হক, নাসরীন জাহান, কুলদা রায়, ইমতিয়ার শামীম, আহমাদ মোস্তফা কামাল, শাহনাজ মুন্নী, আশান উজ জামান, সাদিয়া সুলতানা, স্মৃতি ভদ্র, সাদিক হোসেন, অনির্বান প্রমুখ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বাংলা সাহিত্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।</span><br />
<span style="color: #ff0000">রুমা মোদক:</span> ওরে বাবা এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। ক্ষমা করবেন। নিজের কাজটা যেনো করে যেতে পারি ধ্যানের সাথে, দায়বদ্ধতার সাথে, আপাতত এটুকুই ভাবছি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/21/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b2-%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লেখা স্বতঃস্ফূর্তভাবে না এলে জোর করে কিছুই লিখি না ॥ নাহিদা আশরাফী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/03/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/03/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 02 Nov 2021 18:00:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাদমান সাবের]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1229</guid>

					<description><![CDATA[বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার-২০২১ পেয়েছেন নাহিদা আশরাফী। লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনায় তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।তিনি একাধারে কবি, গল্পকার , প্রাবন্ধিক, সম্পাদক এবং প্রকাশক। ছোটকাগজ ‘জলধি’ সম্পাদনা করছেন তিনি। বগুড়া লেখক চক্র &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার-২০২১ পেয়েছেন নাহিদা আশরাফী। লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনায় তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।তিনি একাধারে কবি, গল্পকার , প্রাবন্ধিক, সম্পাদক এবং প্রকাশক। ছোটকাগজ ‘জলধি’ সম্পাদনা করছেন তিনি। বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার পাওয়ার পর নাহিদা আশরাফীর মুখোমুখি হয় যোগসূত্র। এ সময় তিনি লেখালেখি, সম্পাদনা ও পুরস্কারপ্রাপ্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন <strong>সাদমান সাবের</strong>।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যোগসূত্র: লিটলম্যাগ সম্পাদনায় বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে পুরস্কার প্রাপ্তিতে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাহিদা আশরাফী:</span> বগুড়া লেখক চক্র দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাদের সুনাম রয়েছে। খ্যাতিমান অনেক লেখকের হাতেই যে পুরস্কার উঠেছে , তাতে এ বছর আমার নাম যুক্ত হচ্ছে জেনে অবশ্যই ভালো লাগছে।ধন্যবাদ বগুড়া লেখক চক্রকে। তবে ভালোবেসে কোনো পাঠক যখন জলধির কোনো একটি পুরনো সংখ্যাও হাতে তুলে নেন বা খুঁজে নেন ও পড়েন তখন সেই আনন্দক্ষণকেই আমার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যোগসূত্র: আমাদের ছোটকাগজ আন্দোলন সাহিত্য নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাহিদা আশরাফী:</span> ইতিহাস ঘাটলে লিটলম্যাগ এর যে লালনভূমি সেখান থেকে কিছুটা নয় আমি বলি বেশ খানিকটাই সরে এসেছে।বাজার ভর্তি বাণিজ্যিক কাগজের ভিড়ে লিটল ম্যাগ তার স্বরূপ ও স্বভাব হারাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানিক তাবেদার ও সাহিত্য ইজারাদার এর সংখ্যা বাড়ছে। ফলত তারুণ্যের যে সাহিত্যপ্রবণতা তা রুগ্ন আকার ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের তোষামোদি ও প্রচার প্রপাগান্ডার স্থুলতায় চাঁপা পড়ে ভগ্ন ও মৃতপ্রায় শাখায় পরিণত হয়েছে।আদর্শিক চেতনা ও মননশীল চর্চার নিশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।আশার কথা এটুকুই যে, এর মধ্যেও ছোটকাগছের চর্চা নিভু নিভু করে হলেও জ্বলছে।আঠেরো শতকের মাঝামাঝি প্রকাশিত আমেরিকার বোস্টন থেকে প্রকাশিত, যৌথভাবে রেলফ ওয়ালডো এমারসন ও সারা মার্গারেট সম্পাদিত ‘ডায়াল’ (১৮৪০-৪৪), বিংশ শতাব্দীতে আমেরিকার শিকাগো থেকে প্রকাশিত ও কবি হেনরিয়েট মনরো এবং কবি এজরা পাউন্ড (বিদেশি সম্পাদক) সম্পাদিত ক্ষুরধার লিটলম্যাগ ‘পোয়েট্রি : এ ম্যাগাজিন অব ভার্জ’ (১৯১২) জাপান থেকে প্রকাশিত ‘গারাকুতা বুনকো’ (১৮৮৫), ভারত উপমহাদেশে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গদর্শন’, অবিভক্ত বাংলায় কলকাতার ‘কল্লোল’ (১৯২৩), বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা (১৯৩০), পঞ্চাশের দশকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ এর কৃত্তিবাস, হাংরি জেনারেশন এর ‘হাওয়া ৪৯’ ঢাকা থেকে প্রকাশিত &#8216;মিজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা&#8217; &#8216;সমকাল&#8217; &#8216;স্যাড জেনারেশন&#8217; এরকম আরো অনেক নাম বলা যায় যারা লিটল ম্যাগ এর আদর্শিক চেতনাকে ধারণ ও লালন করেছেন। প্রশ্ন এসে যায় সেই চেতনা এখন কেন বিলুপ্তপ্রায়। এটা কী প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখায় লিটল ম্যাগকে ঢেলে সাজাবার অপচেষ্টায় নাকি তরুণদের সাহিত্যের প্রতি অনিহা। ভাববার বিষয় বোধকরি। এই অপচেষ্টা বা অনিহার কারণ কী? একটা সূক্ষ্ম যোগ কিন্তু রয়েছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1233 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/11/jaladi-2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/11/jaladi-2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/11/jaladi-2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">লিটল ম্যাগ এ তারুণ্যের ছোঁয়া ও আলো না থাকলে তাকে কী লিটল ম্যাগ বলা যায় । তবে হ্যাঁ এই &#8216;ছোঁয়া&#8217; আর &#8216;আলো&#8217;র ব্যাখ্যাটি জরুরি মনে করছি। জনাকয়েক ছেলেমেয়ের নিজের মত লিখবে বলে, আত্মদর্শনের ঐশ্বর্য প্রকাশ করার বাসনা নিয়ে যার যার মাটির ব্যাংক ভেঙে যা পেলো এনে জড়ো করে নিজেদের মতো একখানা কাগজ বের করলো। সে কাগজের ফর্মা গুনে হতাশ হলেও ফর্ম আর ফিউচার নিয়ে আপনার মনে আলো জাগবেই। এই আলোর নাম আশা। আর সেই আশার হাত ধরে ধরে আপনি তাকে পৌঁছে দিলেন আরো কিছু হতাশ-বিতৃষ্ণ-বিচ্ছিন্ন অন্তরে। এই ভগ্নপ্রায় হৃদয়গুলো আলো পেলো। এই সব উজ্জ্বল তরুণদের জিজ্ঞেস করে দেখুন আমি নিশ্চিত তাদের দশজনে দুজন অন্তত পাবেন যারা বড় পত্রিকার তাবেদারি বা দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের চাহিদা মাফিক লেখা লেখেন না। তারা নিজের স্বস্তিতে লেখেন। কারণ তারা জানেন লেখা নিজ আত্নার প্রশান্তির জন্যে। তার মানে এই দুজন অন্তত পাওয়া গেল যারা সাহিত্যের মহাকাল ছোঁয়ার জন্যে নিরুত্তাপ ও নিরুদ্বিগ্নভাবে লিখে যান। আর লিটল ম্যাগের সার্থকতা এখানেই।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যোগসূত্র: ছোটকাগজ সম্পাদনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলো কেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নাহিদা আশরাফী:</span> &#8216;ভারতবর্ষ&#8217; পত্রিকার প্রথম প্রচ্ছদ করেন শিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ গোস্বামী। চিত্রটি ছিলো এক নারীর, যার মাথায় মুকুট, হাতে শস্যগুচ্ছ, গলায় সাতনরী হার। বা দিকের একটু উপরে সূর্যাস্তের চিত্র। ফেনিল জলরাশি থেকে সিক্ত বসনে যেন উঠে আসছেন ভারতমাতা। &#8216;যেদিন সুনীল জলধি হইতে উঠিলে জননী ভারতবর্ষ/ সেদিন বিশ্বে সে কি কলরব, সে কি মা ভক্তি, সে কি মা হর্ষ।&#8217; &#8211; দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত এই বিখ্যাত কবিতাটি পত্রিকার তৃতীয় ও চতুর্থ পৃষ্ঠায় শোভিত হয়ে পত্রিকাটির জৌলুশ ও নামকরণের সার্থকতা যেন সর্বাংশে সবার সামনে উদ্ভাসিত করে তুলেছিলো। এই প্রচ্ছদটি দেখার পর থেকে চোখ ফেরাতে পারিনি অনেকটা সময়। আমি তখন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছি। সেদিন থেকেই নিজের ভিতরে এক অন্যরকম স্বপ্ন বুনেছি। একটা নিটোল ছোট কাগজ করার। স্বপ্নকে লালন করলে একদিন তা বাস্তবায়ন হয়- দরকার শুধু সাহস আর গন্তব্যের প্রতি স্থির দৃষ্টি।সম্পাদক জলধর সেন সেদিন কিন্তু জানতেন না শতবর্ষ পরে তার পত্রিকাটির প্রচ্ছদ ও লেখা কারো ভেতরে এমন উদ্দীপনা তৈরি করবে। আমিও স্বপ্ন দেখি শত বছর পরে কেউ একজন ঠিক এমন করেই জলধির কথা লিখবেন। জলধি দিয়েই শুরু করবেন তার লেখাটি অথবা জলধিকে তার সৃষ্টির প্রেরণা ভাববেন। স্বপ্ন দেখি কেউ একজন লিখছে&#8230;<br />
জলধি<br />
জলে জোছনায় জীবনের আবাহন<br />
প্রথম বর্ষ- প্রথম সংখ্যা<br />
জুলাই-২০১৭<br />
সম্পাদক- নাহিদা আশরাফী<br />
প্রকাশক – ..</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff00ff"><em>স্বপ্নটা কী খুব বেশি হয়ে গেলো? হোক না। স্বপ্ন দেখার অন্তর্দৃষ্টি যদি হয় পাখির মত তবে তার উড়বার আকাশটাও হোক সীমাহীন। লিটল ম্যাগ মানেই তো প্রাচীর ভাঙ্গার গল্প, শিকল ভাঙার কবিতা।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যোগসূত্র: আপনি তো লিটলম্যাগ সম্পাদনা ছাড়াও কবিতা, কথাসাহিত্যও চর্চা করছেন। কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?</span></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">নাহিদা আশরাফী:</span> আপনার পাঁচটি সন্তান থাকলে কার পরিচয়ে নিজেকে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন ? ঘাসফুল থেকে গোলাপ সব মিলিয়েই যেমন বাগানের সৌন্দর্য , সন্ধ্যাতারা থেকে শুকতারা মিলিয়েই যেমন অপরূপ আকাশ তেমনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও সম্পাদনা- সব মিলিয়েই আমার সাহিত্যের চর্চা।আমার আত্মার প্রতিধ্বনি, আমার চিন্তার প্রতিফলন। আলাদা করতে পারছি না তাই কোনটাকেই।তবে লেখা স্বতঃস্ফূর্তভাবে না এলে জোর করে কিছুই লিখি না। কারণ জোর করে আর যাই হোক নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। লেখা আমার কাছে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস এর মতই নিরবচ্ছিন্ন ও সতত প্রবাহমান ধারা মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যোগসূত্র: পুরস্কার নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। আপনি পুরস্কারকে কোন চোখে দেখেন?</span></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">নাহিদা আশরাফী:</span> আমার কাছে যেকোনো পুরস্কারই কর্মস্পৃহা বাড়ায়, সেই সাথে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করে।কাজের প্রতি এই যে ভালোলাগা তৈরি করা, দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া এভাবে ভাবলে পুরস্কারের ইতিবাচক দিকটা অবশ্যই আনন্দের।আর পুরস্কার পেয়ে পা যদি মাটি ছেড়ে উপরে উঠে যায় তাহলে ক্ষতিটা লেখকেরই।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1234 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/11/jaladi-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/11/jaladi-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/11/jaladi.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">সাহিত্য পুরস্কার লেখককে মূল্যায়ন করে আর সেই মূল্যায়ন ধরে রাখার দায়িত্ব তো লেখকের।একজন লেখককে এটা মাথায় রাখা জরুরি যে একটি পুরস্কারের চেয়েও একজন পাঠকের কাছে মূল্যায়িত হওয়া অনেক বড় প্রাপ্তি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যোগসূত্র: বাংলা একাডেমি পুরস্কার, করপোরেট পুরস্কারের পাশাপাশি দেশের সাহিত্যসংগঠনগুলো থেকে দেওয়ার পুরস্কারের মধ্যে আপনি স্পষ্ট কোনো পার্থক্য দেখেন? কোন পুরস্কারকে আপনার নিরপেক্ষ ও বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়?</span></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">নাহিদা আশরাফী:</span> নিরপেক্ষ হলে সবই গ্রহণযোগ্য মনে হয় ও হবে। সেখানে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোনো পার্থক্য করারই কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না। ভালোবেসে গাছতলায় ডেকে নিয়ে কোনো সংগঠন যদি এক ঝুড়ি শিউলি ফুল দেয় তার মূল্য আর কর্পোরেট বা বাংলা একাডেমি পুরস্কারের মূল্য আমি আলাদা করতে পারি না। হয়তো এ আমার অক্ষমতা ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/03/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
