<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সালাহ উদ্দিন মাহমুদ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sat, 26 Nov 2022 13:10:25 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>সালাহ উদ্দিন মাহমুদ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>কারা পাচ্ছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার-২০২২</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/11/26/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/11/26/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 26 Nov 2022 13:10:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সালাহ উদ্দিন মাহমুদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2307</guid>

					<description><![CDATA[দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের মধ্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম।কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে এ পুরস্কার নিয়ে আগ্রহ অনেক। প্রতি বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কারা পাচ্ছেন-এ নিয়ে জল্পনা–কল্পনা শুরু হয়।এমনকি পুরস্কার ঘোষণার পরও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের মধ্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম।কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে এ পুরস্কার নিয়ে আগ্রহ অনেক। প্রতি বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কারা পাচ্ছেন-এ নিয়ে জল্পনা–কল্পনা শুরু হয়।এমনকি পুরস্কার ঘোষণার পরও আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">অমর একুশে বইমেলার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা এখন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।সাহিত্যের সঙ্গে যারা জড়িত কিংবা খোঁজ-খবর রাখেন, তারা অপেক্ষায় থাকেন—কে বা কারা পাচ্ছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।</p>
<p style="text-align: justify">২০২১ সালে পুরস্কার পেয়েছিলেন—কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথাসাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধে হোসেনউদ্দীন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান ও রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় হারুন-অর-রশিদ, বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনীতে সুফিয়া খাতুন ও হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোরে পুরস্কার পেয়েছেন আমিনুর রহমান সুলতান।</p>
<p style="text-align: justify">বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মূলত পুরস্কারের প্রতি আগ্রহটা শুরু হয় নভেম্বর থেকেই। আলোচনায় সরব থাকেন কবি-লেখকরা।বিভিন্ন মাধ্যমে সে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।এ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে আলোচনায় থাকা কিছু নাম বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা পেয়েছি।</p>
<p style="text-align: justify">এ বছর কবিতায় আলোচনায় আছেন—ফারুক মাহমুদ, ময়ূখ চৌধুরী, মজিবুল হক কবির, দুখু বাঙাল, মাহমুদ কামাল, গোলাম কিবরিয়া পিনু, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, ফরিদ কবির, মাহাবুব কবির, চঞ্চল আশরাফ, মিনার মনসুর, জাহিদ হায়দার, তারিক সুজাত, জুয়েল মাজহার, টোকন ঠাকুর ও মাসুদ পথিক।</p>
<p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যে এবার আলমগীর রেজা চৌধুরী, নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর, মোজ্জামেল হক নিয়োগী, পারভেজ হোসেন, মশিউল আলম, মনিরা কায়েস, সেলিম মোরশেদ, প্রশান্ত মৃধা, আকিমুন রহমান ও আহমাদ মোস্তফা কামালকে নিয়ে আলোচনা চলছে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রবন্ধে ভীষ্মদেব চৌধুরী, মাসুদুজ্জামান, সরকার আবদুল মান্নান, আহমেদ মাওলা, ইসরাইল খান, জুলফিকার মতিন, অনীক মাহমুদ।</p>
<p style="text-align: justify">শিশুসাহিত্যিক যারা আলোচনায় আছেন, তারা হলেন—ফারুক নওয়াজ, ফারুক হোসেন, রোমেন রায়হান, তপংকর চক্রবর্তী, ধ্রুব এষ, ইমরুল চৌধরী, স ম শামসুল আলম, সাইদুজ্জামান রওশন ও সারওয়ার-উল-ইসলাম।</p>
<p style="text-align: justify">মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় যাদের নাম আলোচনায় আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—গাজী আজিজুর রহমান, রঞ্জনা বিশ্বাস, মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, ইসহাক খান, রীতা ভৌমিক ও মজিদ মাহমুদ।</p>
<p style="text-align: justify">ফোকলোর বিভাগে তুলনামূলক কম সাহিত্যিক থাকলেও ড. তপন বাগচী, মোস্তফা সেলিম, সুমন কুমার দাসের নাম আলোচিত হচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">অনুবাদে পেতে পারেন সফিকুন নবী সামাদী, আলম খোরশেদ ও মাসরুর আরেফিন।নাটকে ফরিদ আহমদ দুলাল পেতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">ভ্রমণকাহিনি বা আত্মজীবনী বিভাগে ইকতিয়ার চৌধুরী, বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গবেষণায় ড. মিল্টন বিশ্বাস ও ড. মোহাম্মদ হাননানের নাম শোনা যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">সবমিলিয়ে যাদের নাম আলোচনায় এসেছে; তারা প্রত্যেকেই যোগ্য। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগে একজন বা দুজন করে পাবেন পুরস্কার। ফলে অন্যদের আশাহত হতে হবে। এটাই স্বাভাবিক। তবে পরে যে তারা পাবেন না, এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।</p>
<p style="text-align: justify">আবার এ আলোচনার বাইরেও অনেকে আছেন, যারা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। ফলে আলোচনার বাইরে থেকেও যে কেউ পুরস্কার পেয়ে যেতে পারেন। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবুও আশা করবো, যোগ্য ব্যক্তির হাতেই উঠুক যোগ্যতম পুরস্কার।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/11/26/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রথম চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার: আলোচনায় যারা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/08/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/08/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 08 Nov 2021 16:37:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[সালাহ উদ্দিন মাহমুদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1259</guid>

					<description><![CDATA[সাহিত্যে পুরস্কারের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ সাহিত্যিকদের। শত-সহস্র অভিযোগের পরও বাংলা একাডেমি পুরস্কারকে এখন পর্যন্ত সাহিত্য সংশ্লিষ্টরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার বলে মেনে আসছেন। আর এরপরই আলাওল পুরস্কারকে বিবেচনা করা হয়। বিশেষত &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সাহিত্যে পুরস্কারের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ সাহিত্যিকদের। শত-সহস্র অভিযোগের পরও বাংলা একাডেমি পুরস্কারকে এখন পর্যন্ত সাহিত্য সংশ্লিষ্টরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার বলে মেনে আসছেন। আর এরপরই আলাওল পুরস্কারকে বিবেচনা করা হয়। বিশেষত এই পুরস্কারগুলোর মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। এসব পুরস্কার থাকার পরও নতুন করে আসছে ‘চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার’।<br />
সম্প্রতি ঘোষিত পুরস্কারটি এবারই প্রথম দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরস্কারটি হবে দেশের সবচেয়ে নির্মোহ-মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার।</p>
<p style="text-align: justify">কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী ‘চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হবে মাত্র তিন ক্যাটাগরিতে। এগুলো হলো : (১) প্রবন্ধ, (২) কথাসাহিত্য ও (৩) কবিতা শাখা। পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ডিসেম্বরের শেষ দিকে। আর পুরস্কার দেওয়া হবে ২০২২ সালের শুরুর সপ্তাহেই। কিন্তু কারা পাচ্ছেন প্রথমবার এই পুরস্কার, তা নিয়ে ইতোমধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে সাহিত্য সমাজে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রবন্ধে যাদের নিয়ে সাহিত্যমোদীরা আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত, তারা হলেন— তপন বাগচী, মাসুদুল হক ও হামীম কামরুল হক। নব্বই দশকের কবি, প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক তপন বাগচী। কবিতা ও শিশুসাহিত্য ছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে—‘সাহিত্যের এদিক-সেদিক’, ‘সাহিত্যের কাছে-দূরে’, ‘চলচ্চিত্রের গানে ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান’, ‘লোকসংস্কৃতির কতিপয় পাঠ’, ‘বাংলাদেশের যাত্রাগান: জনমাধ্যম ও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত’, ‘মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জ’, ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ: চন্দ্রাহত অভিমান’, ‘নির্বাচন সাংবাদিকতা’, ‘নজরুলের কবিতায় শব্দালঙ্কার’, ‘তৃণমূল সাংবাদিকতার উন্মেষ ও বিকাশ’। প্রবন্ধে তার এই মৌলিক কাজের জন্য তিনি আলোচিত।</p>
<p style="text-align: justify">মাসুদুল হক মূলত কবি ও কথাসাহিত্যিক। অনুবাদ ও গবেষণায় তার সমান আগ্রহ রয়েছে। তার প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ ৬টি । প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ হচ্ছে—‘বাংলাদেশের কবিতার নন্দনতত্ত্ব’, ‘হাজার বছরের বাংলা কবিতা’, ‘দিনাজপুরের লোকসংস্কৃতি: ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার’, ‘মুক্তিযুদ্ধ: দিনাজপুর’, ‘জীবনানন্দ দাশ ও অন্যান্য’। তার সম্পদিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে—‘কবিতা সিরিজ’, ‘এই সময় এই স্রোত’, ‘মৃত্যূত্তীর্ণ: ইয়াসমিন’, সাক্ষাৎকারগ্রন্থ ‘সেলিনা হোসেন’, লিটল-ম্যাগ সম্পাদনা ‘শ্রাবণের আড্ডা’। প্রবন্ধ, সম্পাদনা ও গবেষণায় তিনি সার্থকতার পরিচয় দিতে পেরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">হামীম কামরুল হক পত্রপত্রিকায় লিখে আসছেন বিশ শতের অন্তিমকাল থেকে থেকে। তার প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে—‘জাদুবাস্তববাদ’, ‘ছোটগল্প লেখকের প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিবেচনা’, ‘মৃত্যুক্ষুধা: গতিপ্রকৃতি ও পাঠ বিবেচনা’। এছাড়া যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন ‘লেখার শিল্প লেখকের সংকল্প’, ‘অসমাপ্ত একাত্তর মুক্তিসংগ্রামের দ্বিতীয় পর্যায়’। তার বইয়ের সংখ্যা কম হলেও ‘ছোটগল্প লেখকের প্রস্তুতি ও অন্যান্য’ বিবেচনা বইটি তরুণদের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। তরুণ গল্প লেখকরা বইটিকে দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">এদিকে কবিতায় যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তারা হলেন—আসাদ মান্নান, বিমল গুহ ও মাহমুদ কামাল। এর মধ্যে আসাদ মান্নান মহান মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরবর্তী সময়ের প্রথম সারির অন্যতম শক্তিশালী কবি। কাব্যবুননে তিনি নিজস্ব ধরন, কৌশল বা রীতি স্বকীয় প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। বাংলা কবিতায় তার নিজস্ব বলয় সৃষ্টির বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি মেরুকরণ বলা যেতে পারে। বাংলা ভাষার কবি ও কবিতায় তিনি বিশেষ জায়গায় অবস্থান করে আছেন। কবি আসাদ মান্নান একজন সুপরিচিত এবং সুনন্দিত নাম। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সামাজিক আন্দোলনের তার কবিতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তার বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার পাশাপাশি বেশ কিছু গদ্যও রচনা করছেন। ‘সুন্দর দক্ষিণে থাকে’, ‘হে অন্ধ জলের রাজা’, ‘সৈয়দ বংশের ফুল’, ‘ভালোবাসা আগুনের নদী’, ‘ভালোবাসার কবিতা’, ‘সূর্যাস্তের উল্টোদিকে’, ‘দ্বিতীয় জন্মের দিকে’, ‘তোমার কীর্তন’, ‘যে-পারে পার নেই সে-পারে ফিরবে নদী’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ ও ‘প্রেমের কবিতা’ প্রভৃতি তার অন্যতম কাব্যগ্রন্থ।</p>
<p style="text-align: justify">বিমল গুহ’র কবিতায় স্বাজত্যবোধ, স্বাধীনতার স্মৃতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়, মানুষের বিবেক, প্রকৃতি ও ধরন উঠে এসেছে নিগূঢ় বাস্তবতায়। তার কবিতায় একদিকে যেমন গৌরবমাখা; অন্যদিকে বিষাদের কালো ছায়া ফুটে ওঠে। পরক্ষণেই আবার অন্ধকার ভেদ-করা অন্য এক আলোর সকাল দেখা দেয়। যে কারণে তিনি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তার কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে—‘অহংকার, তোমার শব্দ’, ‘সাঁকো পার হলে খোলা পথ’, ‘স্বপ্নে জলে শর্তহীন ভোর’, ‘ভালোবাসার কবিতা’, ‘কবিতাসমগ্র’, ‘নষ্ট মানুষ ও অন্যান্য কবিতা’, ‘প্রতিবাদী শব্দের মিছিল’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘বিমল গুহের কবিতা সংকলন’, ‘আমরা রয়েছি মাটি ছুঁয়ে’, ‘প্রত্যেকই পৃথক বিপ্লবী’ ও ‘বিবরের গান’ প্রভৃতি।</p>
<p style="text-align: justify">কবি মাহমুদ কামাল একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। সজিব ও সৃষ্টিশীল লেখক হিসাবে সব সময় সচল। বাংলাদেশ ও ভারতে সমানভাবে সমাদৃত তিনি। একটি পুরো জীবনকে তিনি কবিতা তথা সাহিত্যের জন্য নিবেদন করেছেন। কবি মাহমুদ কামাল ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠাতা ও স্বীকৃতি পেয়েই তৃপ্ত নন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সাহিত্য সাধনাকে প্রণোদনা জাগাতে সব সময়ই তৎপর রয়েছেন। নানা বয়সের নানা স্থানের কবিদের আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরতেও সফল হয়েছেন তিনি। তার কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে—‘বাকিটুকু অদ্ভুত আঁধার’, ‘মুখোশের ভেতরে মুখোশ’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘ব্যাকুল শব্দেরা’, ‘যাবো না তবু যাই’, ‘কাব্য সমগ্র’, ‘মুহূর্তের কবিতা’ প্রভৃতি।</p>
<p style="text-align: justify">এছাড়া, কথাসাহিত্যে আলোচনায় রয়েছেন রুমা মোদক, প্রশান্ত মৃধা ও আকমল হোসেন নিপু। এর মধ্যে রুমা মোদকের শুরুটা আরও অনেকের মতোই কবিতা দিয়ে। ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘নির্বিশঙ্ক অভিলাষ’। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকে। রচনা করেন কমলাবতীর পালা, বিভাজন, জ্যোতি সংহিতা ইত্যাদি মঞ্চসফল নাটক। অভিনয়ও করেন। মঞ্চে নাটক রচনার পাশাপাশি নিরব অন্তঃসলিলা স্রোতের মতো বহমান থেকেছে গল্প লেখার ধারাটি। জীবন ও জগৎকে দেখা ও দেখানোর বহুস্তরা এবং বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার উৎসারণ ঘটেছে ২০১৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত ছোটগল্প সংকলন ‘ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি’তে। ‘প্রসঙ্গটি বিব্রতকর’গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলোয় সে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে উঠেছে আরও নির্মোহ। তার গল্প অতলস্পর্শী ও মমতাস্নিগ্ধ। নদীর নাম ভেড়ামোহনা, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস: হবিগঞ্জ জেলাও অন্যতম কীর্তি।</p>
<p style="text-align: justify">প্রশান্ত মৃধা মূলত কথাসাহিত্যিক। তার জন্ম ১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর বাগেরহাটে। কলেজে শিক্ষকতায় যুক্ত। গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি প্রবন্ধ ও কলামসহ বিভিন্ন ধরনের গদ্য লেখেন। ব্যক্তিগত ও রম্য রচনায়ও আগ্রহী। বইয়ের সংখ্যা পঁয়ত্রিশ। সাহিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ‘বাঙলার পাঠশালা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্য পুরস্কার’, ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ এবং ‘কাগজ তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার’। তার উল্লেখযোগ্য বই—‘হারিয়ে যাওয়া জীবিকা’, ‘বিগতকালের অনুমান’, ‘ডুগডুগির আসর’, ‘জল ও জালের তরঙ্গ’, ‘আপন সাকিন’, ‘কুহক বিভ্রম’ ও ‘যুধিষ্ঠিরের সঙ্গী’।</p>
<p style="text-align: justify">আকমল হোসেন নিপু পেশায় সাংবাদিক। তার বইগুলো হচ্ছে—গল্প: ‘জলদাসের মৎস্যঘ্রাণ’, ‘বুড়ি চাঁদ ডুবে যাবার পরে’, ‘আমরা খুব খারাপ সময়ে বেঁচে আছি’, ‘সাদা কাপড়ের শোক’, ‘রাতটা পূর্ণিমার ছিল’, উপন্যাস: ‘হলুদ পাখির ডাক অথবা অন্ধকারের নদী’, ‘ভূমিপুত্র অথবা হাওর পুরাণ’, ‘হীরামতি ও তার রাঁধুনীকাল’। তার ‘নির্বাচিত গল্প’ গ্রন্থ বেরিয়েছে ২০২০ সালের বইমেলায়।</p>
<p style="text-align: justify">প্রবন্ধে যে তিন জনের নাম উঠে এসেছে, তারা প্রত্যেকেই সম্মানিত হওয়ার দাবি রাখেন। কাকে রেখে কাকে দেওয়া হবে এ পুরস্কার; তা নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে আয়োজকদের। কবিতায় যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তারাও কেউ কারও থেকে পিছিয়ে নেই। ফলে একজনকে নির্বাচন করা জটিল হয়ে পড়বে। এরপরও বিচারক তথা নির্বাচকদের নির্মোহভাবে যেকোনো একজনকেই বেছে নিতে হবে। কথাসাহিত্যে কাকে দেওয়া যায়, এ নিয়ে গলদঘর্ম হতে হবে নিশ্চয়ই। তারা তিনজনই সমান যোগ্য। তবে কে পাবেন কথাসাহিত্যে চিন্তাসূত্র পুরস্কার, তা সময়ই বলে দেবে।</p>
<p style="text-align: justify">বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন প্রতিবছরই কোনো না কোনো পুরস্কার দিয়ে থাকে। একেকটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের নিয়ম একেক রকম। চিন্তাসূত্রের সদ্যঘোষিত সাহিত্য পুরস্কার কমিটিও তাদের নীতিমালা ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ীই তারা পুরস্কার দেবে। পুরস্কার নিয়ে যেহেতু সবারই কমবেশি আগ্রহ থাকে, তাই বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনাও হয়। চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, প্রবন্ধ-গবেষণা, কথাসাহিত্য-নাটক, কবিতা-গানে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে। আর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে।</p>
<p style="text-align: justify">সেখানে আরও বলা হয়েছে, সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় প্রতিবছর মাত্র একজনকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হবে। মনোনীত ব্যক্তির নাম ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি প্রকাশ করা হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আয়োজকরা বলেছিলেন, চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কারের জন্য কোনো লেখককে কোনো বই জমা দিতে হবে না। চিন্তাসূত্রই যোগ্য সাহিত্যিকের বই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সংগ্রহ করবে। তারা তাদের সিদ্ধান্তে এখনো অবিচল আছে। কেননা তাদের ভাষায়, পুরস্কার দেওয়া হবে মনোনীত সাহিত্যিকের সর্বশেষ দশ বছরের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করে। কোনো একক বই বা পাণ্ডুলিপির জন্য নয়।</p>
<p style="text-align: justify">সুতরাং চিন্তাসূত্র কর্তৃপক্ষ যদি তাদের নীতিমালা অনুযায়ী পুরস্কার দিতে পারে, তাহলে আলোচনার জন্ম দিতে পারবে। যেটা লক্ষ করা যাচ্ছে নাম ঘোষণার আগেই। এখনই সাহিত্যজনরা বিভিন্ন জনের নাম ধরে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন। সার্বিক বিবেচনায় চিন্তাসূত্রের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে যারা এ বছর পাচ্ছেন না, তারা যে ভবিষ্যতেও পাবেন না, এমন কোনো নীতিমালা নেই বলেই মনে হচ্ছে। এবার না হলেও পরবর্তী সময়েও আপনার হাতে উঠতে পারে চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার। যারা পুরস্কার পাবেন, তাদের অগ্রিম অভিবাদন জানিয়ে রাখছি। জয় হোক চিন্তাসূত্রে, চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কারের।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/08/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লাল রাত্রির গান: বিরহ-আবেগের অনুচ্চারিত বয়ান ॥ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/03/13/%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/03/13/%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 13 Mar 2021 17:44:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[সালাহ উদ্দিন মাহমুদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=113</guid>

					<description><![CDATA[প্রত্যেক মানুষই আবেগী। তবে সে আবেগের বহিঃপ্রকাশ একেক জনের একেক রকম। কেউ কেউ আবার আবেগ প্রশমনেও পারদর্শী হয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার প্রকাশে অগ্রগামী। তবে মোহাম্মদ নূরুল হক আবেগ প্রকাশে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">প্রত্যেক মানুষই আবেগী। তবে সে আবেগের বহিঃপ্রকাশ একেক জনের একেক রকম। কেউ কেউ আবার আবেগ প্রশমনেও পারদর্শী হয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার প্রকাশে অগ্রগামী।</p>
<p style="text-align: justify">তবে মোহাম্মদ নূরুল হক আবেগ প্রকাশে সংযমী। কারণ তিনি কবি। কবি মোহাম্মদ নূরুল হকের আবেগ প্রকাশিত হয় ভাষায়, ছন্দে, কবিতায়। ফলে সে আবেগ হয়ে ওঠে যুক্তিসঙ্গত। তাই তো তার আবেগ প্রসঙ্গে কবি ও প্রাবন্ধিক মামুন রশীদ বলেছেন, ‘মনোযোগী পাঠকমাত্রই তার কবিতায় আবেগের সঙ্গে যুক্তি ও প্রজ্ঞার সমন্বয় খুঁজে পাবেন। কবিতার ক্ষেত্রে কিছু নির্ধারিত শব্দ রয়েছে, যা ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কবি তার আবেগকে স্পষ্ট করে তোলেন। কবিতার জন্য পেলব, গীতল শব্দসমষ্টির প্রতি তার পক্ষপাত স্পষ্ট। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত, নির্দিষ্ট শব্দমালাকে ঘুরেফিরে কবি নিজেকে প্রকাশের জন্য বেছে নেন।’</p>
<p style="text-align: justify">এখানে আবেগের প্রসঙ্গ এসেছে কবি ও প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ নূরুল হকের কবিতার বই ‘লাল রাত্রির গান’ পড়তে গিয়ে। বলে রাখা ভালো, এটি কবির চতুর্থ কবিতার বই। বইটিতে তেপ্পান্নটি কবিতা স্থান পেয়েছে। প্রতিটি কবিতার শরীরজুড়ে আবেগ আর বিরহের ছড়াছড়ি। নীরবে-নিভৃতে কবি ভালোবেসে গেছেন। পাওয়া-না পাওয়ার বেদনা নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন মানব জনম। অথচ কবির কোনো গল্প নেই। যা আছে সব নিজের অনুভূতি। সেই অনুভূতি কারো সঙ্গে ভাগ করেন না তিনি। কারণ তার কোনো বন্ধুও নেই। তাই তো কবি বলেছেন—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘আমার কোনো বন্ধু নেই<br />
না সচিবালয়ে না পুলিশে—আর্মি—র‌্যাবে<br />
তাই আমার কোনো গল্প থাকে না<br />
এসব আড্ডায়।’<br />
(মানুষের কত গল্প থাকে)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">নিভৃতচারী মানুষটি তার দীর্ঘশ্বাস জমিয়ে রাখেন রাতের গভীরে। আর হেঁটে যান নিজস্ব গন্তব্যের দিকে। এখানেই তার চিন্তার সার্থকতা।</p>
<p style="text-align: justify">তার কবিতায় গ্রামবাংলা ধরা দেয় আপন মহিমায়। কারণ তিনি শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও তারুণ্য গ্রামেই কাটিয়েছেন। কর্মের সন্ধানে পা ফেলেছেন নগরে। তাই নগর জীবন তাকে স্মৃতিতাড়িত করে। ফলে নগরীর বাস্তবতা সুনিপুণভাবে তুলেছেন কবিতায়। তিনি বলেন—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘আমরা গ্রামের ছেলে—চিরকাল অবুঝ-অবুঝ<br />
বুঝিনি স্বার্থের প্যাঁচ, শুধু জানি ভালোবাসাবাসি<br />
আমাদের কোনো ক্যালেন্ডার নেই<br />
কোকিলের ডাক শুনে বুঝে যাই বসন্ত এসেছে<br />
ভুলে যাই কবেকার বিষণ্ন সকাল!<br />
ছন্দে ছন্দে মাঠে নামি<br />
ঘরে ফিরি মাতাল সন্ধ্যায়!’<br />
(কাচারি ঘরের পালা)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">গ্রামে বেড়ে ওঠা প্রত্যেকেরই এমন কাচারি ঘরের ইতিহাস বা স্মৃতি রয়েছে। তাই কবিতাটি পড়লে সবাই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়বেন বলে মনে করি।</p>
<p style="text-align: justify">স্মৃতিতাড়িত কবি ভালোবাসারও কাঙাল। তাই তো তার রাত বিরহের। তিনি কেবল ভালোবেসেই যান। তাই তো বিরহকে সঙ্গী করে নেন। ফলে রাত নিয়ে কবির আলাদা দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। রাতের গভীরে নিজেকে আবিষ্কারের চেষ্টা করেন। কবি বলে ওঠেন—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘অনন্ত তৃষ্ণায় আমি পুড়ি, আর পোড়ে<br />
রাগি রোদ্দুরের চৈত্রে গেরুয়া বাউল;<br />
আমাদের রাত্রি তবু সুর তোলে চির বিরহের!’<br />
(লাল রাত্রির কসম)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">কবি আবার অন্যত্র বলে ফেলেন—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘আয় তবে তন্দ্রাহীন—আয় এই নাদানের বুকের গহিনে<br />
কেমনে মেটাবি তৃষ্ণা আদিগন্ত প্রেমহীন শরাব বিহনে?’<br />
(নিশাচর রাশির জাতক)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">মোহাম্মদ নূরুল হকের কবিতার পরতে পরতে ইতিহাস, রূপকথা, লোককথা, উপকথা, ঐতিহ্য, প্রণয়োপাখ্যান প্রস্ফূটিত হয়ে উঠেছে। তার ‘আবহমান’ কবিতায় রাধা-কৃষ্ণ, বেহুলা-লখিন্দর, ইউসুফ-জুলেখা, লাইলী-মজনুর প্রেমকাহিনি উচ্চকিত হয়ে উঠেছে। কবি তাই বলেছেন—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘রূপকথা-উপকথা লোককথা শুনে<br />
পথ কাটে প্রেমিকের দিন গুনে গুনে।’<br />
(আবহমান)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এই রূপকথা-লোককথার বাইরেও ঘরের সাধারণ নাস্তার টেবিল তার কবিতায় বিশেষায়িত হয়ে ওঠে। নাস্তার টেবিলকে কবিতায় এমনভাবে উপস্থাপন করা কেবল তার দ্বারাই সম্ভব। এমনকি ‘লাল’ রঙের প্রতি কবির বিশেষ অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। তাই তো তার কবিতায়—<br />
১. লাল রাত্রি<br />
২. লাল ষাড়<br />
৩. লাল সূর্য<br />
৪. লাল স্রোত<br />
৫. লাল মাছি<br />
৬. লাল সূর্যাস্ত<br />
৭. লাল হাপর<br />
৮. লাল জবা<br />
ইত্যাদি শব্দযুগল চোখে পড়ে। আবার রাতকে কখনো ‘লাল’ আবার কখনো ‘নীল’ বলেছেন। তার এ শব্দবৈচিত্র্য পাঠককে ভাবাতে চেষ্টা করবে।</p>
<p style="text-align: justify">কবি যেন বরাবরই একাকিত্ব অনুভব করেন। আর সেই একাকিত্বের অনুষঙ্গ হয়ে বারবার ধরা দেয় রাতের নির্জনতা বা রাতের গভীরতা। তার বেশিরভাগ কবিতায় তাই রাত এসেছে বিভিন্ন প্রসঙ্গে। রাতকে তিনি কখনো গোপনীয়তা, কখনো নিরবতা, কখনো সীমাহীনতা হিসেবে কল্পনা করেছেন। তাতে কেমন যেন একটা নিঃসঙ্গতা ভর করে আছে। কবি তখন বলে ওঠেন-</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘এই বিকলাঙ্গ রাত আর ওই বিগলিত দিন<br />
আমার নয়, ছিল না কখনো আমার<br />
তবে কেন আমি এই অন্ধকারে একা একা?’<br />
(এই রাত)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">আবার তিনি নিঃসঙ্গতাকে ভালোবাসেন না-কি এড়িয়ে চলতে চান, তা ঠিক বোধগম্য নয় আমার কাছে। কেননা কবিই তো বলেছেন-</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘বুঝে ওঠার আগেই দেখি—আমি একা হতে হতে<br />
হয়ে গেছি পৃথিবীর একমাত্র নির্বান্ধব বেকুব জাতক।’<br />
(জুনের জাতক)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এখানে তিনি বছরের জুন মাসকে অভিশপ্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ তিনি না-কি জুনের জাতক। এ কথা তার বাবা তাকে বলতেন। তবে রাত, একাকিত্ব ছাড়াও অন্ধকার যেন কবিকে ঘিরে রাখে সব সময়। তাই হয়তো অন্ধকার, আঁধার বা আন্ধার শব্দকে তিনি একাধিক কবিতায় ব্যবহার করছেন। তবে ‘অন্ধকার’ ও ‘আঁধার’ শব্দের চেয়ে ‘আন্ধার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বহুবার।</p>
<p style="text-align: justify">এসব দিন-রাত বা বিরহ-বেদনা ছাড়াও কবিকে প্রতিবাদী হতে দেখেছি। কোনো কোনো কবিতায় তিনি প্রতিবাদ করেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। ধর্ষণ, হত্যা, হামলা, জঙ্গিবাদ নিয়েও কথা বলেছেন কবি। তার প্রতিবাদের ধরন এরকম—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘এদেশে মৃত্যুর উৎসব চলে হরদম,<br />
এদেশে খুনের উৎসব; উপভোগ করে খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র<br />
ছিন্নমস্তক যুবক পড়ে থাকে ঘরে-ম্যানহোলে<br />
মন্ত্রীরা উল্লাসে নাচে, হাতে হাতে বিয়ারের গ্লাস।’<br />
(মন্ত্রী মহোদয়গণ)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">কেননা রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অন্যায়-অসঙ্গতিও কবিকে ভাবিত করে। তাই তিনি শ্লেষ বা উষ্মা প্রকাশ করেন কবিতার চরণে চরণে।</p>
<p style="text-align: justify">মোহাম্মদ নূরুল হকের কবিতার ভাব, ভাষা, ছন্দ, অলঙ্কার, অন্ত্যমিল, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, যমক—সবকিছুই পাঠককে আকৃষ্ট করে। ছন্দের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ফুটে ওঠে প্রতিটি কবিতায়। শুধু কবিতায়ই নয়, একজন বিদগ্ধ প্রাবন্ধিক হিসেবেও কবিতায় ছন্দের ব্যবহারকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। যারা ছন্দবিরোধী; তাদের তিনি কবি বলতে নারাজ। তবে কখনো কখনো তিনি মুক্তক ছন্দে বা গদ্যছন্দে কবিতা লিখে থাকেন। কেননা কবি মোহাম্মদ নূরুল হকও যথেষ্ট আধুনিক। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগে এসে তিনিই বা কেন মধ্যযুগে পড়ে থাকবেন? হাল ফ্যাশনের সবকিছুই তার নজরে পড়ে। এখন ফেসবুক-টুইটারেও তার রাত চমকায়। মোটকথা, পুরাণ থেকে বর্তমান—কোনো কিছুই বাদ যায় না তার কবিতা থেকে। সে কারণেই মোহাম্মদ নূরুল হক সময় সচেতন কবি। পাশাপাশি ছন্দ সচেতন একজন সমালোচকও বটে।</p>
<p style="text-align: justify">সব ছাপিয়ে কবি কখনো কখনো ভালোবাসা-স্নেহ কাতর একজন বাবাও। কেননা কন্যারা বাবার অস্তিত্বজুড়ে বিরাজ করে। তারও প্রমাণ মেলে তার কবিতায়। কবি কন্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘বাবা তো ক্রন্দনরত পাহাড়ের নাম<br />
গোপন রক্তক্ষরণে<br />
ক্রমাগত ক্ষয় হয়ে জীবনের আয়ু<br />
অন্তহীন তৃষ্ণা বুকে নিয়ে জেগে থাকে<br />
সাহারা-সাহারা।’<br />
(কন্যাকে লেখা পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম চিঠি)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তাই তো তার কবিতাগুলো পড়া শেষ হলে মনে হয়, বেদনার সুর বেজে ওঠে। বিরহকাতর হৃদয় হাহাকার করে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে। তাই মনে হয়, যাবতীয় দুঃখ, আঁধার, চাঁদ, পাখি, রাত, নদী, জল তার বিরহের উপজীব্য। কবির ভাষায় বলতে গেলে—</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">‘হয়তো আকাশ ভেঙে পড়ে একফালি রাত কেটে<br />
হয়তো বা কেউ আঘাত পেয়ে যায় ফিরে যায় হেঁটে<br />
কালো কোকিল ডাক দিয়ে যায় বাউল সাথীটিরে।’<br />
(নাগরিক রাতের বয়স)</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">অনিচ্ছাসত্ত্বেও একটু বলতে হচ্ছে—ছাপাখানার ভূত আমাদের সাহিত্যচর্চার পিছু ছাড়ে না। সেই ভূতের কারণে হয়তো কিছু বানান বিভ্রাট চোখে পড়ে। সম্পাদনার সময় একটু সচেতন হলেই কিন্তু এসব বিভ্রাট এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়ে উঠতে পারে। যদিও ভূত তাড়ানো একেবারে সহজ কথা নয়। সবশেষে বলতে হয়, কবি ও প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ নূরুল হক কবিতায়ও সফল। তার প্রবন্ধ পড়েও তাকে সফল প্রাবন্ধিক মনে হয়েছে। এবার কবিতা পড়েও তা-ই মনে হলো। কেননা একজন সার্থক কবি হিসেবে সাহিত্যের যেকোনো বিষয়ে সাবলীল ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রবন্ধ রচনায়ও সিদ্ধহস্ত তিনি। আমি তার ‘লাল রাত্রির গান’র বহুল পাঠ, প্রচার ও প্রসার কামনা করছি। সেই সঙ্গে বাংলা কবিতারও জয় হোক।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #008000"><strong>কাব্যগ্রন্থ: লাল রাত্রির গান</strong></span><br />
<strong>মোহাম্মদ নূরুল হক</strong><br />
প্রচ্ছদ: কাব্য কারিম<br />
প্রকাশনী: দৃষ্টি<br />
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২১<br />
দাম: ২০০ টাকা</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/03/13/%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
