<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাদিয়া সুলতানা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Thu, 13 Mar 2025 19:21:45 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>সাদিয়া সুলতানা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>পাঠ-প্রতিক্রিয়া: সত্যের মতো বদমাশ ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Mar 2025 19:21:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3373</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশের অন্যতম সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্পের ভাষা, আঙ্গিক ও ইঙ্গিতধর্মী বিষয় বৈচিত্র্য তাকে তার সমসাময়িক ও বর্তমান সময়ের লেখকদের কোলাহলের মাঝেও স্বতন্ত্র স্থানে অধিষ্ঠিত করে রাখে। গল্প নির্মাণে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাংলাদেশের অন্যতম সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্পের ভাষা, আঙ্গিক ও ইঙ্গিতধর্মী বিষয় বৈচিত্র্য তাকে তার সমসাময়িক ও বর্তমান সময়ের লেখকদের কোলাহলের মাঝেও স্বতন্ত্র স্থানে অধিষ্ঠিত করে রাখে। গল্প নির্মাণে আবদুল মান্নান সৈয়দের নিরীক্ষা প্রবণতা, শব্দ ও উপমার ব্যবহার এবং পরিমিতিবোধ পাঠককে যেমন আকৃষ্ট করে তেমনি সময়ে সময়ে পাঠককে বিপন্নও করে তোলে। পাঠক তাই গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের মতো মনোজগতের বিপুল রহস্যের ভেতরে খাবি খেতে খেতে তা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজে।</p>
<p style="text-align: justify">‘দ্য প্যারিস রিভিউ’ এ প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে (নৈঃশব্দ্যের সংলাপ, বিশ্বসাহিত্যের নির্বাচিত সাক্ষাৎকার, ভাষান্তর ও সম্পাদনা এমদাদ রহমান) পর্তুগালের লেখক হোসে সারামাগো বলেছিলেন, ‘গল্পের যতগুলো চরিত্র থাকবে সবগুলোই গল্পের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। চরিত্রগুলো গল্পে এমন একটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, গল্পের যে স্ট্রাকচারটি লেখক সৃষ্টি করতে চাইছেন, সেখানে লেখককে তারা সাহায্য করবে।’ ঠিক তেমনটাই দেখি আবদুল মান্নান সৈয়দের কালজয়ী গল্প ‘সত্যের মতো বদমাশ’ গল্পে। গল্পটি পড়তে পড়তে মনে হয় মা, ছেলে, কথা বলা লাল ঠোঁটের টিয়েপাখি, শাদা দাড়ির বুড়ো, কাগজের সাপ থেকে শুরু করে ছেলেকে কবরে যাবার খাটিয়ার চারটি পায়ার মতো বয়ে নিয়ে চলা নিরুত্তর চারজন লোক পর্যন্ত প্রত্যেকটি চরিত্রই গল্পের পূর্ণতার জন্য দরকার ছিল। গল্পের কোনো চরিত্রই হয়তো এককভাবে প্রধান হয়ে ওঠেনি তবে গল্পের নামকরণের ভেতরে যেই সত্য লুক্কায়িত আছে তার জন্য চরিত্রগুলোর উপস্থিতি অনিবার্য ছিল। যতবার ‘সত্যের মতো বদমাশ’ গল্পটি পড়ি ততবারই মনে হয় একটি বন্ধনীর ভেতরে আটকে থাকা শব্দ তিনটি মানবজীবনের অযুত-নিযুত গুঢ় সত্যকে ধারণ করে থাকে যা আবিষ্কার করার জন্য ধ্যানী হতে হয়। এই গল্পে এক কিশোর তার মায়ের সঙ্গে মেলায় যায়।</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের মুখমণ্ডল থাকে তৈলাক্ত করুণ ও লম্বিত আর কিশোরের গোল মুখ তাকে বিস্ময় আনন্দ ও কৌতূহলে ভরা। মা, ছেলে দুজনই এক মুষ্টি অথচ সমুদ্রসমান এই গ্রহের মেলার মধ্যে এসে ঢোকে। ঘুরতে ঘুরতে আনন্দের পাশাপাশি ভয়ও এসে ভর করে ছেলের মনে, সে সামান্য ছায়া দেখেও ভয়ে কুঁকড়ে যায়। মা ছেলেকে স্বস্তি দিতে বলেন, ‘ছায়া সব সময় তোর সঙ্গে-সঙ্গে ঘুরবে, হয় পেছনে না হয় সম্মুখে, ছায়া নেই এরকম কোনো মানুষ আমি দেখিনি। ভয় কী, অমন করে উঠলি কেন?’ কিশোর মায়ের কথায় সত্যি পায় না, সে মুহুর্মুহু মাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে। ধীরে ধীরে তার সরল চোখের সামনে প্রকট হয়ে উঠতে থাকে প্রাণীকূলের শয়তানি। বিপন্ন কিশোর তাই মাকে বলে, ‘আচ্ছা মা, তুমিই বলো আমার গা ছুঁয়ে, যে পাখি কথা বলতে শেখে, সে কি আর পাখি থাকে? সে তো একটা বদমাশ হয়ে যায়।’ একসময় সব ভয়, সব আশংকা সত্যি করে কিশোরের মা মেলায় হারিয়ে যায়। কিশোর বুঝতে পারে না, তার মা কি সত্যি হারিয়ে গেছে, না যারা তাকে জোরজবরদস্তি করে নাগরদোলায় তুলে নিতে চেয়েছিল তারাই মাকে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত কিশোরের পরিণতিও ভয়াবহ কিছুর ইঙ্গিত দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">মা-ছেলের মধ্যকার সম্পর্ক আর টানাপোড়েন নিয়ে আবদুল মান্নান সৈয়দের একটি উল্লেখযোগ্য গল্প ‘মাতৃহননের নান্দীপাঠ।’ ‘পৃথিবীতে মা আমাকে সবচেয়ে ভালোবাসেন, এবং আমি তাঁকে’-আপাতদৃষ্টিতে বাক্যটি সরল ও চিরন্তন সত্যের ইশারা করলেও কথাসাহিত্যিক আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘মাতৃহননের নান্দীপাঠ’ গল্পের পাঠ পরিক্রমায় পাঠক জটিল থেকে জটিলতর এক পরিস্তিতির মুখোমুখি হয়। এই গল্পে মায়ের আচরণ যখন একজন সন্তানের মনে ঘৃণা আর আক্রোশের জন্ম দেয় তখন সন্তান মাকে হত্যা করার মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। ‘মাতৃহননের নান্দীপাঠ’ গল্পের কিছু শব্দ কিছু বাক্য এত বেশি তীক্ষ্ম যে পাঠকও মাকে হত্যার জন্য সন্তানের পক্ষে যুক্তি খুঁজে পায়। পাঠকেরও মনে হতে থাকে, ‘মায়ের দুটি নির্নিমেষ চোখ পিছনে ছুটছে, পিছলে পড়ছে না একবারো, সরে যাচ্ছে না, এমনকি পলক ফেলছে না কখনও, যেন মানুষের চোখ নয়। মানুষের অবশ্য, তবু মানবীয় নয়।’ মূলত মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনই মা ও ছেলের মধ্যে এই বিভাজন সৃষ্টি করছে। যার শুরু এবং শেষ হন্যে হয়ে খুঁজতে হয়। বিষয় বৈচিত্র্যে আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্প অনন্য, এই গল্পও তাই। এর ভাষা শৈল্পিক এবং পরিপ্রেক্ষিত আমাদের জীবন সম্পর্কিত হলেও খুব বেশি চেনা নয়। মূলত একজন যুবকের মনোজগতের দ্বন্দ্ব নিয়ে গল্পের টানটান আখ্যান গড়ে উঠেছে। একটা সময়ে যুবক নিজেই স্বীকার করছে, ‘আমি একজন অস্বাভাবিক প্রকৃতির মানুষ-নির্জনতা সর্বনাশ করেছে আমাকে।’</p>
<p style="text-align: justify">আবদুল মান্নান সৈয়দের আরেকটি আলোচিত গল্প ‘চাবি।’ এই গল্পে চিত্রকলার একজন তরুণ অধ্যাপক একদিন ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত রেখে টের পান, তার ঘরে ঢোকার চাবিটি হারিয়ে গেছে। এরপর তিনি চাবির খোঁজে প্রতিবেশীদের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। কিন্তু দরজা খুলে তাদেরকে খুব একটা আন্তরিকতা নিয়ে অনাহূত অতিথি বা আগন্তুককে স্বাগত জানাতে দেখা যায় না। নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা আমাদেরকে এমনই বিভেদের মুখোমুখি দাঁড় করায় যে পাশের ফ্লাটে বসবাস করা মানুষটিকেও আগন্তুক বলে বলে হয়। মূলত এই বিচ্ছিন্নতাবোধ শহরের মানুষের মনে বিরক্তি আর সন্দেহ প্রবণতা প্রবাহমান রাখে। এখানে অধ্যাপকেরও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। আবার এমনও হয় যে কোনো একটা ঘরের দরজা খুলে যেতেই এক ঝাঁক নবীন ছেলেমেয়ে দেখা যায়, যাদের চঞ্চলতা আর কলহাস্য অধ্যাপকের মন ভালো করে দেয়। দরজা খুলে কেউ আবার ধমকের ভঙ্গিতে বলে, ‘বলছেন, আমাদের উপরের তেরো নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন আপনি? অসম্ভব, আপনাকে কোনোদিন এ অঞ্চলেই দেখিনি। আপনি মশাই চালাকি পেয়েছেন-আসুন, বাজি রাখুন দশ টাকা, বললাম: আপনি এ বাড়ির কোনো ঘরেই থাকেন না। এ বাড়ির লোকদের চেহারা অন্যরকম হয়, জানেন? চাবি খুঁজছেন, হ্যাঁ, চাবির কি হাত হয়েছে?’ এভাবে একটা চাবিকে কেন্দ্র করে শহরবন্দী মানুষের সম্পর্কহীনতা, অবিশ^াস আর পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা প্রকট হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তেতলার সবচেয়ে কোনার ফ্ল্যাটের দরজা খুলে রহস্যময় নারীরা যখন জানায়, ‘চাবি পেলে আসবেন, এখানে কয়েকটি দরোজা-বন্ধ-করা ঘর আছে। আমরাও যে চাবি খুঁজছি গো’&#8230; তখন গল্পটি আর চাবির থাকে না। আর পাঠকও উপলব্ধি করে সে নিজেও ‘কয়েকটি দরোজা-বন্ধ-করা’ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর খুঁজছে তার হারিয়ে যাওয়া চাবি যা হাতে পেলে সে তার কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।</p>
<p style="text-align: justify">‘অস্থির অশ্বখুর’ গল্পটিও একজন অধ্যাপককে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তবে গল্পটি গল্পের চেয়ে বেশি কবিতার মতো মনে হয়। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অধ্যাপক একজন কবি যার বুকের ভেতরে সারাক্ষণ ছেঁড়া উড়ো পঙক্তিমালারা ঘোরে। রাত্রিবেলা জেগে ওঠে কবির ঘর, যেখানে টেবিল ল্যাম্পের আলোর বলয়ে এসে বসতে না বসতেই মায়াবী জাদুবলে অক্ষরবন্দি হতে থাকে কবিতার পঙক্তি। কবির জীবনে ঘুরে ফিরে নারীরা আসে। মিনা, বিবি এমনকি বাড়ির কাজের মেয়েটিও তার সামনে দাঁড়ায় প্রাকৃতিক ভাস্কর্যের সৌন্দর্য নিয়ে। কখনও আগ্রাসী, কখনও বিষণ্ন সুন্দর দেখতে দেখতে কবি টুকরো টুকরো হয়ে পড়েন। তিনি উপলব্ধি করেন, সময় ছুটছে দুরন্ত এক ঘোড়ার মতো যার পায়ের নিচে তার জীবনের শত শত টুকরো শুধু স্পন্দিত হয়, কিন্তু গ্রথিত হয় না। শেষ পর্যন্ত কবি একটা সম্পূর্ণ কবিতাও লিখে উঠতে পারেন না।</p>
<p style="text-align: justify">‘গল্প ১৯৬৪’ গল্পে নিজের অতীতের গল্প বলছেন গল্পকথক কবির। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে বসন্তের উজ্জ্বল দুপুর, ঈষৎতপ্ত বাতাসে সদ্যস্ফুট আম্রমঞ্জরীর সুরভি, টিলার ওপরকার গাছের ছায়ারেখা, ভীরু চোখের খরগোশ এসে শ্রোতা আর কথককে আনমনা করছে। আর পাঠক ক্রমশ ঢুকে পড়ছে গল্পের ভেতরে। একটা সময়ে গল্পকথক কবিরের শহর যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে অশান্ত হয়ে ওঠে তখন তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু অমল তার বোন শোভাকে কবিরের হেফাজতে রেখে যায়। কবির ছিল দাঙ্গানিবারণী সমিতির সক্রিয় সদস্য। বোনকে অমল যেদিন ফিরিয়ে নিতে আসে তার আগের রাতে জৈবিক তাড়নায় একটা অপরাধ করে ফেলে কবির। কবিরের ভাষায় ‘সব-সমস্ত চলছিলো ঠিক। কিন্তু এক রাতে&#8230;আমার মধ্যে, জানোয়ার জেগে উঠেছিলো।’ ভেতরের পশুত্ব চাপা দিতে না পেরে অনুতাপ আর অনুশোচনায় দ্বগ্ধ হতে থাকা কবিরের বারবার মনে হচ্ছিল, অমল যদি আরেকটা দিন আগে আসতো তাহলে সে বেঁচে যেত। শোভা কিংবা কবিরের পরিণতি শেষ পর্যন্ত জানা না গেলেও মানুষের ভেতরের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা তাকে কীভাবে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারে তার একটা খণ্ডিত চিত্র দেখতে পাওয়া যায় ‘গল্প ১৯৬৪’ এ।</p>
<p style="text-align: justify">‘রাস্তা’ গল্পে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী সুস্থ, সবল দেহের অধিকারী এক যুবকের দিনলিপি হঠাৎ করে পাল্টে যায়, সে হারিয়ে ফেলে তার অতি চেনা অতি আপন বাড়ি ফেরার রাস্তা। সে পুরনো রাস্তার খোঁজে ছোটো, বড়ো, সোজা, বাঁকা অন্ধকার, আলোকিত কত রাস্তায় যে ছুটে বেড়ায় কিন্তু প্রতিবারই সে নিজেকে আবিষ্কার করে নতুন এক রাস্তায়। গল্পটি পড়তে পড়তে নতুন করে উপলব্ধি করি, জীবনের সমস্যা ‘যে পেরোতে পারে সে অবলীলাক্রমেই পেরোয়। যে পারে না, সে কেবল একই বিন্দুতে ঘুরপাক খায়।’ আসলে এই সত্যি হয়তো কারও কারও জন্য চিরন্তন, কারও কারও জন্য অপাংক্তেয় বা গুরুত্বহীন। ‘রাস্তা’ গল্পটিকে আপাতদৃষ্টিতে সাদামাটা মনে হলেও সমাপ্তিতে এসে গল্পটি ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। বলা যায়, রাস্তার রূপকে গল্পকার গণ্ডিবন্ধ মানুষের মধ্যে মুক্তি আর শৃঙ্খল ঘিরে তার যে মনোজাগতিক দ্বন্দ্ব তার একটা খণ্ডিত দৃশ্যপট উপস্থাপন করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্প পড়তে পড়তে আবিষ্কার করি তিনি গল্পের প্রধান, অপ্রধান চরিত্রের জন্য শুরুতেই একটি জাল তৈরি করতে শুরু করেন, ধীরে ধীরে চরিত্রগুলো ঐ জালে আটকে পড়তে থাকে আর বের হতে পারে না। গল্পকার সুকৌশলে পাঠককেও একই জালে বেঁধে ফেলেন। তাই স্বীকার করতেই হয়, আবদুল মান্নান সৈয়দের লেখার স্বকীয়তাই তাকে কাল, দশক নির্বিশেষে বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যখন গল্পের কাছে যাই ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/11/15/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/11/15/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Nov 2024 15:47:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3322</guid>

					<description><![CDATA[প্রতিনিয়ত কত গল্প দেখছি, শুনছি, পড়ছি সেসবের কিছুই তো মনে থাকছে না। গল্পের চরিত্রগুলো চোখের সামনে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে আচমকা অদৃশ্যও হয়ে যাচ্ছে। এ যেন হাতের আজলা ভরে পানি তুলছি, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">প্রতিনিয়ত কত গল্প দেখছি, শুনছি, পড়ছি সেসবের কিছুই তো মনে থাকছে না। গল্পের চরিত্রগুলো চোখের সামনে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে আচমকা অদৃশ্যও হয়ে যাচ্ছে। এ যেন হাতের আজলা ভরে পানি তুলছি, মুখটা ধুয়ে নিতে না নিতেই পানি গড়িয়ে হাত শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এর সংলগ্ন মুহূর্তেই আবার খেয়াল করছি, দুই হাতের পাতা ভেজা ভেজা লাগছে, ত্বকে অদ্ভুত এক বিষণ্নতার ছোঁয়া লেগে মিলিয়ে যাচ্ছে; এই যে ভেজা ভেজা অনুভব, স্যাঁতস্যাঁতে একটা বিষণ্নতা থেকে ফের প্রসন্ন হয়ে ওঠা-গল্পের কারসাজি হয়তো এটাই। যেই গল্প এমন কারসাজি জানে সেই গল্পকে সহজে ভোলা যায় না, গল্পের চরিত্রগুলোও হঠাৎ হঠাৎ মগজের কোনে কোনে পায়চারি করতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু গল্প কী? এ কী নিজের জীবনকে লেখা না অন্যের? গল্পে গল্পে এই যে এত লিখে যাওয়া এর কী আসলে কোনো শেষ আছে? এত যে লেখা হচ্ছে, এতজন যে লিখছেন, গল্প কেন ফুরাচ্ছে না? নিত্য গল্পের মাধুরীর সঙ্গে যত মিশে যাচ্ছি মনে-মগজে তত যুক্ত হচ্ছে সহস্র ভাবনা। ভাবনাগুলো খামখেয়ালি মনে হলেও পাঠের জন্য গল্প নির্বাচনে পারতপক্ষে খামখেয়ালি করতে চাই না। সেই কারণেই হয়তো পাঠক আমি গল্পের নির্মাণ শৈলী, গল্পের যাত্রাপথ আর গল্পের চরিত্র নিয়ে ভাবি।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পের শৈলী কেমন হবে তা নিয়ে আলাপচারিতার অন্ত নেই। আবার লেখক ভেদে এই শৈলীর বৈচিত্র্যেরও শেষ নেই। বলা যায় ছোটগল্প কখনও নির্দিষ্ট বৃত্তের ভেতরে আটকে থাকেনি, এমন কী কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রমুখী হয়ে আবর্তনও করেনি। সময়ের ঘুর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের বিষয়বস্তু পাল্টেছে, পাল্টেছে গল্পের শৈলী। গল্পকারেরা নানা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে পাঠককে চমকেও দিতে চেয়েছেন। পাঠকও যৌক্তিক-অযৌক্তিক প্রশ্নের জটলায় নিজেকে আবিষ্কার করার মধ্য দিয়ে পাঠতৃপ্তি হাতড়ে বেরিয়েছেন। নিরীক্ষাধর্মী অথবা চিরায়ত-যেই আঙ্গিকেই গল্প বলা হোক না কেন যে গল্প পাঠককে ভাবায় না বা অপ্রস্তুত করে না তা যেন ঠিকঠাক গল্প নয়। গল্প যখন পাঠককে এমন এক ইন্দ্রিয়াতীত অনুভবের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় যে তার টেবিলে রাখা চা জুড়িয়ে যায় তখনই গল্পটি অসামান্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে গল্পপাঠ শেষ হলেও এমন গল্প ফুরোয় না। আর এত শত সহস্র গল্প লেখার পরও গল্পের ঝুড়ি শূন্যও হয় না।</p>
<p style="text-align: justify">শূন্য হবে কী করে! দশ জন গল্পকার যেমন একটি প্লটে দশটি ভিন্ন স্বাদের গল্প লিখতে পারেন তেমনি একজন গল্পকার একটি প্লট নিয়ে দশটি গল্প লিখতে পারেন। কেউ আবার হয়তো গল্পের প্লট, থিম, ক্লাইমেক্স এইসব নিয়ে একদম ভাবেন না। নিজের মতো করে নিজের অভিজ্ঞতা নিঙড়ে লিখে যান। আসলে গল্প তো হরেক রকমের। গল্পের সংজ্ঞাগত বিশ্লেষণে যাওয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি শুধু গল্পের ভেতরে সেই ছোট্টবেলার মতো দাদী-নানীর পাশে শুয়ে বসে গল্প শোনার সুখের মতো সুখ খুঁজি। সেই সাথে চাই গল্পের সঙ্গে নিজের জার্নিটা ম্যাড়মেড়ে না হোক, চমকপ্রদ হোক। আর চাই গল্পের শুরুটা আমাকে একেবারে আটকে ফেলবে, বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে মাথা তুলতে দেবে না।</p>
<p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান যখন  ‘আমার জন্ম’ গল্পের প্রথম বাক্যে লিখছেন, ‘আমার চতুর্থ বোনটির জন্মের পর আমার বাবা ওই টুকুন নবজাত শিশুকে পাঁজাকোলা করে অন্ধকার উঠানে ছুঁড়ে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন’ কিংবা রোমানিয়ার কথাকার আনা ব্লানডিয়ানা যখন ‘খোলা জানালা’ গল্পের সূচনা অংশে জানাচ্ছেন জেলখানার অন্ধকার কুঠুরিতে ঢুকে গল্পের নায়ক একটা উজ্জ্বল নীল আকাশ দেখবে বলে দেওয়ালে একটি খোলা জানালা এঁকে ফেলে তখনই সুচারু একটা টোপ গিলে ফেলছি। এরপর বড়শিতে আটকানো মাছের মতো শব্দে শব্দে ঘাই মারছি আরও সামনে যাবো বলে। এই গল্প শেষ না হলে যেন মুক্তি নেই। তাই গল্পের কাছে এর প্রারম্ভেই চাইছি টোপ।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর গল্পের শব্দে শব্দে, বাক্যের পরতে পরতে চাইছি গল্পের বুদবুদ। যা উঠছে, নামছে&#8230;মিলিয়ে যাচ্ছে আবার। ধরতে পারছি না, দেখতে পাচ্ছি না। বিশ্বাস করছি এমনটা হয়, হতে পারে, আবার থেকে থেকে অবিশ্বাসের ঘূর্ণি উঠছে; মুখ খুলে যাচ্ছে বন্ধ কৌটার, বেরিয়ে আসছে আশ্চর্য সব আখ্যান। পড়ছি আর ভাবছি, কেন এমন হচ্ছে? গল্পের মুখ্য চরিত্র বা পার্শ্বচরিত্রটি কেন এমন করছে? কেন এমন নির্মম হচ্ছেন গল্পকার?</p>
<p style="text-align: justify">মাঝেমাঝে গল্প কোনো কিছু ভাবার সুযোগও দিচ্ছে না, নিটোল চৌকাঠে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভাবনার সুতো, গুটি পাকিয়ে যতই সামনে এগোচ্ছি খুলে যাচ্ছে বিস্ময়ের দুয়ার। তবে গল্পের কাছে বিস্ময় চাই ঠিকই কিন্তু গল্প পড়ে মুহুর্মুহু চমকে যেতে চাই না। ঘটনার ঘনঘটা চাই না। চাই না কৃত্রিম বিন্যস্ত পরিসর। চাই ঘটনার অদেখা অভিঘাত, আখ্যানের মোচড়। চাই অভিনব কিছু, যা আগে ঘটতে দেখিনি, তাই দেখতে চাই।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পকার সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের  ‘মেয়ে’ গল্পের মতো অভিনব আখ্যান চাই গল্পে। যে গল্প পড়তে বসে শেষ না করে আর ওঠার উপায় থাকবে না। গল্প পড়তে পড়তে মনের ভেতরে তৈরি হওয়া কৌতূহলের নির্বাণ চাই গল্পের ভেতরেই। যেমন করে ‘মেয়ে’ গল্পে অন্তঃসত্ত্বা লিপির জন্য বরাদ্দকৃত বাড়ির সব ভারি ভারি কাজ কে করে দিচ্ছে তা জানতে উদগ্রীব হয়েছি; লিপির সংসার সাফসুতরো করে উঠান ঝাঁট দেওয়া, রান্না-বান্না করা, কলসিতে করে পানি তোলা ইত্যাদি গৃহস্থালি কাজকর্ম চোখের নিমিষে হয়ে যাওয়ার অভিনবত্বে চমকে গেছি তেমন অভিনব কিছু চাই গল্পের কাছে। লিপির মতো অবাক দৃষ্টিতে দেখতে চাই, পরির মতো সুন্দর, চাঁপাকলির মতো আঙুল আর হরিণচোখের একটি মেয়ে কী করে পেটের ওপর থেকে বেরিয়ে আসছে, একে একে ঘটছে অভিনব সব ঘটনা, চেনা আখ্যানটিও ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠছে। গল্পের কাছে চাই জীবনের চেনা বৃত্তের এমনই অচেনা পরিধি।</p>
<p style="text-align: justify">চমক আনার জন্য গল্পের ভেতরে অণুগল্পও ফাঁদেন গল্পকার। একটা ছোটগল্পে একাধিক অণুগল্প থাকলে একটার সঙ্গে আরেকটার যোগসূত্র রাখেন। আবার কোনো কোনো গল্পের সমাপ্তিতে চমকের বদলে হিরন্ময় নীরবতা নামে যা পাঠকের ভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই প্রসঙ্গে অন্যতম প্রিয় গল্পকার আফসার আমেদের ছোটগল্প ‘হাসিনার পুরুষ’র কথা বলি। এই গল্পের শেষে কিন্তু চমক নেই, চমকহীনতাই এই গল্পের সমাপ্তির অলংকার। কাক্ষ্মিত পুরুষের সংস্পর্শে না যেতে পেরে হাসিনা যখন নিজের ঘরে ফেরে তখন হাসিনার আঁটি চুষে চুষে খাওয়ার যেই দৃশ্য গল্পকার তৈরি করেন সেটাই পুরো গল্পের আকর্ষণ হয়ে ওঠে। হাসিনা আম খায়, আঁটি চোষে, স্বাদে-রসে পরিতৃপ্ত হয় আর পাঠক উন্মুখ হয়ে খুঁজতে থাকে ওর দেহের অভ্যন্তরের বঞ্চনা। ‘হাসিনার পুরুষ’ গল্পের সহজীয়া ভাষাও তখন পাঠকের মনে বিভ্রম তৈরি করে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার কাছে মনে হয় একটা গল্প তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন সেটা পাঠকের মনে ভ্রম-বিভ্রম তৈরি করে। কিন্তু এই ভ্রম-বিভ্রম বা ধাঁধা তৈরি করতে গিয়ে গল্পের ভাষা দুর্বোধ্য হলে হয় না। আমি গল্পের ভাষায় চাই স্বচ্ছতা, বাক্যে চাই মসৃণতা আর শব্দ ব্যবহারে খুঁজি গল্পকারের পরিমিতিবোধ। এখানে ফুলের মতো পেলব, কোমল ভাষার ব্যবহারই যে গল্পের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠবে বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। ফুলের কোমলতায় সত্যি বলার, সত্যিকে খোঁজার স্বস্তি তো নেই। কারণ ‘ফুলকে দিয়ে মানুষ বড় বেশি মিথ্যে বলায় বলেই/ফুলের ওপর কোনোদিনই আমার টান নেই/তার চেয়ে আমার পছন্দ/আগুনের ফুলকি/যা দিয়ে কোনোদিন কারো মুখোশ হয় না।’ আসলে সুভাষ মুখোপধ্যায়ের মতো আমিও ভালোবাসি আগুনের রমণীয় ফুলকি। এই ফুলকি যেই কলমে ওঠে, যেই গল্পে ফোটে সেই গল্পই আমার কাছে প্রিয় পাঠ হয়ে ওঠে। ক্রিম, চিজ, ফাইন সুগার, ড্রাই ফ্রুটস এসব বাহারি উপাদান দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে উপাদেয় খাবারের মতো যেই গল্প পরিবেশন করা হয় সেই গল্পে এই আগুনটা ঠিক থাকে না। আর আগুন থাকে না বলেই সত্যিটা থাকে না। কিন্তু গল্পে আমার সত্যিটা চাই; নিষ্ঠুর, নির্মম সত্যি চাই।</p>
<p style="text-align: justify">আর তাই গল্পের বুননে চাই লেখকের গুঁজে দেওয়া অস্বস্তি।<br />
একটা গল্পের যাত্রাপথ বা বর্ণনা শৈলী মসৃণ হলেও গল্পটা কিন্তু পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এমন গল্প পাঠককে গোলকধাঁধায় আটকেও ফেলতে পারে। ইহকালে ঐ ধাঁধা থেকে পরিত্রাণের পথ পাঠক পায় না। আর সেই গল্পকে ভুলতেও পারে না। তাই হয়তো মান্টোর ‘খুল দো’ গল্পটা একবার পাঠের পরেও অগুনতিবার মনে পড়তে থাকে। এই যেমন এই মুহূর্তে মনে পড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘খুল দো’ গল্পে ডাক্তার স্ট্রেচারে শোয়া গণধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে পরীক্ষা করতে করতে যখন জানালা দেখিয়ে বুড়ো সিরাজুদ্দিনকে বলেন, খুলে দাও&#8230;খুল দো ঠিক তখনই স্ট্রেচারে শোয়া অর্ধমৃত মেয়েটি যন্ত্রণাকাতরতার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সালোয়ারের ফিতে খুলে সালোয়ার নামিয়ে দেয় আর সিরাজুদ্দিন আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন, বেঁচে আছে&#8230;আমার মেয়ে বেঁচে আছে!-এমন তীব্র বেদনা গুটি কয়েক চরিত্রের সমন্বয়ে অল্প শব্দে বর্ণনা করে ফেলেন যিনি তিনি খ্যাতিমান উর্দু গল্পকার সাদত হাসান মান্টো। মান্টোর গল্পের তীব্রতা এমনই যে পাঠকের ভাবনার জগতকে একেবারে ছিড়েখুঁড়ে ফেলে। ভাবি কী করে ভাবতেন মান্টো, কী করে লিখতেন এমন? সময় আর সাহসই কি মান্টোকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে? আবার ভাবি দেশভাগের নির্মমতার মুখোমুখি তো অনেক লেখকই হয়েছেন, মান্টোর মতো আখ্যান নির্মাণে সংবেদনশীল হতে পেরেছেন ঠিক কত জন? কতজনই বা গল্পচ্ছলে সত্যিটা বলে পাঠকের মনে এমন তোলপাড় তুলতে পেরেছেন?</p>
<p style="text-align: justify">অভিজ্ঞতার ঝোলা ভারি হলেই হয়তো এমন তীর তীক্ষ্ম গল্প লেখা সম্ভব নয়। এর জন্য চাই সংবেদনশীলতা। তাই গল্পের শিল্পীকে হতে হয় সংবেদনশীল। এমন একজন গল্পকারই শুধু পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখতে জানেন, জানেন কী করে পাঠককে টেনে গল্পের সমাপ্তিতে নিয়ে যাওয়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">এখন গল্পের সমাপ্তি যেমন চাই-যা চাই তা যখন পাই না তখনই গল্পটি বিশেষ একটি গল্প হয়ে উঠছে। যে উদগ্র ইচ্ছে নিয়ে মনে মনে শেষটার ছক কষে রেখেছি সেখান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়ে যখন ভিন্ন একটি দিকে গল্পকার গল্পের প্রবাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন তখনই পুনরায় পড়বো বলে গল্পটির শুরুতে চলে যাচ্ছি। হোক সেই দিন বা অন্যদিন, গল্পটি পড়তে হচ্ছে দ্বিতীয়বার। এদিকে এমনও হয়-ক্ষোভ জন্মে, অসহিষ্ণু হয়ে উঠি গল্পকারের বাল্যখিল্যতা বা নির্মমতায়, এমনটি হলো কেন? না হলেও তো পারতো। খুব কি অনিবার্য ছিল এমন সমাপ্তি?</p>
<p style="text-align: justify">নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টোপ’ গল্পের সমাপ্তিতে যখন জানতে পারছি, ‘কীপারের একটা বেওয়ারিশ ছেলে যদি জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে থাকে, তা অস্বাভাবিক নয়, তাতে কারো ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রকা- রয়েল বেঙ্গলটা মেরেছিলেন রাজাবাহাদুর-লোককে ডেকে দেখানোর মতো’ তখন হরেক ভাবনা চেপে বসছে মনে। এই যে ভাবছি&#8230;ভাবছি&#8230;গল্পটি শেষ হয়েও ‘মনোরম চটিজোড়া’ দগদগে ঘায়ের মতো জেগে থাকছে মনে সেই গল্পই চাইছি গল্পের কাছে। গল্পের কাছে চাইছি আঘাত, আঘাতের ঘায়ে ভেঙেচুরে যেতে চাইছি, সময়মতো আঘাত থেকে প্রত্যাবর্তনও করতে চাইছি।</p>
<p style="text-align: justify">মনে পড়ে দাদীর মুখে গল্প শুনতাম ছোটবেলায়। থুথ্থুড়ি দাঁতহীন বুড়ি ঘুরেফিরে একই গল্প বলতো। সওদাগর বিবিকে রেখে বানিজ্যে গেছে, ময়ূরপঙ্খি নাওয়ে চড়ে। মস্ত সে নাও। ময়ূরের মতো অগ্রভাগ তার। ঝড়ঝঞ্জা-উন্মত্ত ঢেউ কেটে কেটে নাও চলছে দেশ ছেড়ে ভিনদেশে। তীরে নাও ভিড়িয়ে সওদা করছে সওদাগর। আর তার বিবির জীবনে হচ্ছে দুঃখের সওদা। তার গর্ভে সওদাগরের সন্তানের বদলে সাপ বড় হচ্ছে। ঢাউস হচ্ছে পেট, দুষ্ট দাসী পানির সঙ্গে সাপের বাচ্চা খাইয়ে দিয়েছে বিবিকে। বানিজ্য সেরে সওদাগর বাড়িতে ফিরে চরিত্রহীন অপবাদে বিবিকে গৃহছাড়া করছে। আহা, বনবাসী বিবির শিথানে বিনবিন করছে দুঃখ। দুঃখে রাজ্যের পশুপাখি কাঁদছে, গুমরে মরছে দিনের আলো, রাতের অন্ধকার। দুঃখ-বেদনায় আমিও মুষড়ে যাচ্ছি&#8230;। তারপর কী হলো? সওদাগর কবে বিবিকে ঘরে তুললো? দুষ্ট দাসীর কী শাস্তি হলো? এই তো গল্প&#8230;কী হলো কী হলো ঔৎসুক্যে মিশে থাকছে হাহাকার, তবু গল্পের সমাপ্তিতে যেতে চাইছি। আবার গল্পের কাছে এমন এক মর্মভেদী সমাপ্তি চাইছি যেন চোখ বুঁজে ফেলার পরেও আত্মার ভেতরে নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি বেজে চলে।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পের সৃষ্টিকর্তার কাছে, তার গল্পের কাছে গল্পই চাই; নীতিকথা চাই না, হিসাব পাল্টাতে চাই না জীবনের। গল্পের কাছে চাই গালগপ্পো, যা কখনও কখনও সওদাগরের বিবির পেটে বড় হতে থাকা সাপের মতো গাঁজাখুরি মনে হবে, কখনও কখনও যা কঠিন, নিষ্ঠুর আর অবিচল সত্য হয়ে থাকবে।<br />
গল্প নিয়ে চাওয়া-পাওয়ার এমন সব দোলাচলে ভাসতে ভাসতেই ‘লিলিয়ানা ও একটি ঘরবউনি সাপ’ গ্রন্থের গল্পসমূহ নির্মিত হয়েছে। এই নির্মাণের ধারায় বৈচিত্র্য রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা থাকলেও গল্পগুলো কোনো না কোনোভাবে এক সুতায় বাঁধা পড়েছে। কারণ, এই সংকলনের প্রতিটি গল্পের আখ্যান কোনো না কোনো নারী চরিত্র ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পাঠককে স্বস্তি দিতে তবু জানানোর প্রয়োজন মনে করছি যে, ‘লিলিয়ানা ও একটি ঘরবউনি সাপ’ গ্রন্থের গল্পগুলো কেবল নারীর নয়, পুরুষেরও।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/11/15/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমুদ্রসমগ্র (পর্ব-৭) ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/12/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/12/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 12 Dec 2022 16:29:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2355</guid>

					<description><![CDATA[৭. ঈদটা গেল কই! কোনো কোনো বিজন বিকেলে মনে হয়, দিনের শেষ আলোটুকুর মতো জীবনের সবকিছু ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। আর এই ফিকে সময়কে দেখতে আজকাল চোখে চশমাও পরতে হচ্ছে। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>৭. ঈদটা গেল কই! </strong>কোনো কোনো বিজন বিকেলে মনে হয়, দিনের শেষ আলোটুকুর মতো জীবনের সবকিছু ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। আর এই ফিকে সময়কে দেখতে আজকাল চোখে চশমাও পরতে হচ্ছে। মাঝেমাঝে বেখেয়ালে ‘চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে’ও পড়ছি। এই বয়সের মুশকিল সমাধানযোগ্য নয়, অথচ একটা সময় ছিল যখন খুব সহজেই যেকোনো মুশকিল আশান হয়ে যেতো।</p>
<p style="text-align: justify">এই যে সেই সময়ের জন্য এত হাহাকার করছি, সত্যিই কি সেই সময়টা এত ঝড়ঝাপটা বিহীন ছিল? বয়সের বিড়ম্বনা এখন যেমন আছে তখনও কি ছিল না?<br />
উত্তর হলো, ছিল। শৈশব কৈশোরের অন্যতম বিড়ম্বনা বা একমাত্র দুঃখ যা-ই বলি না কেন, সে ছিল আমার পরাধীনতার দুঃখ। এই পরাধীনতার আগল ভাঙতো ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দাদাবাড়ি কিংবা ঈদের ছুটিতে নানাবাড়িতে পৌঁছালে।</p>
<p style="text-align: justify">এখনকার ছেলেমেয়েদের মতো তখন আমরা উইকেন্ড বা ভ্যাকেশন বুঝতাম না। আমরা বুঝতাম দিন গুনতে গুনতে বৃহস্পতিবার পেরিয়ে আসা শুক্রবারের ছুটি, গরমের ছুটি আর ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা শেষের ছুটি।</p>
<p style="text-align: justify">ছুটি মানেই ছুটোছুটি, আনন্দ। ঈদের ছুটিতে নানাবাড়ি-দাদাবাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেলে তো এই আনন্দের কোনো সীমা থাকতো না।<br />
সে ছিল এক হৈ হৈ রৈ রৈ বাঁধনহারা সময়। চারদিকে স্বজন-প্রিয়জন আর খুশি খুশি আনন্দ!<br />
ঈদ অর্থও আনন্দ। ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা&#8230;এসব বিন্যস্ত নামে আনন্দ সংজ্ঞায়িত হতো না আমাদের মুখে। আমরা বলতাম রোজার ঈদ, কুরবানির ঈদ।</p>
<p style="text-align: justify">সেই ঈদ কি আর এমনি এমনি আসতো! ত্রিশ রোজার সংযম শেষ হয়ে মেহেদি রাঙানো চাঁদ রাত পার হলে তবেই না ঈদ আসতো। তবে আমাদের শৈশব-কৈশোরে রোজার মাস এসেছে তা চাঁদ দেখার চেয়েও নিশ্চিতভাবে বলা যেতো বিটিভির সংবাদ পাঠিকাদের দেখে। রোজা এলেই সংবাদ পাঠিকাদের মাথায় মৌসুমি ঘোমটা উঠতো, আর চাঁদ রাত এলে সেই ঘোমটা গায়েব হয়ে যেতো।<br />
শুনেছি কালে কালে সবকিছুর বদল হলেও বিটিভির বদল হয়নি। আজও এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়নি বিটিভি। বন্ধুরা বলে, সবকিছু বদলে গেলেও বিটিভি কোনোদিন বদলাবে না।</p>
<p style="text-align: justify">অনিঃশেষ স্বার্থপরতা নিয়ে ভাবি; না বদলাক, কিছু জিনিস স্মৃতির মতো চিরায়ত হয়ে থাকুক, যেমন আছে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার পর বাবার শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ‘খোশ আমদেদ মাহে রমজান’ বলার স্মৃতি।</p>
<p style="text-align: justify">মনে পড়ে রমজান মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে বাসার প্রত্যেকটি মানুষের দিনলিপির পরিবর্তন ঘটত। তারাবির নামাজ পড়া, কাফেলার ডাক শুনে ঘুম ভেঙে উঠে সেহরি খাওয়া, মা-বাবার কোরআন শরিফ পাঠ, ইফতারের আয়োজন&#8230;সব মিলিয়ে আশ্চর্য সব সুরেলা মুহূর্ত ঘিরে থাকতো আমাদের।</p>
<p style="text-align: justify">এই সুর অদৃশ্য চেইনে আটকে দিতো প্রতিটা পাড়া, মহল্লা, অলি-গলির বাসিন্দাদেরও। তারাবি নামাজের ওয়াক্তে মসজিদে মসজিদে মুসল্লীদের জমায়েত বাড়তো। মাঝরাতে তারাদের সঙ্গে জেগে থাকতো একদল অত্যুৎসাহী যুবক। গলিতে হেঁটে হেঁটে তারা সুর করে হামদ-নাত গেয়ে বেড়াতো&#8230;&#8217;কে কে যাবি মদীনায়&#8230;।&#8217; এখনকার মতো রেকর্ডারের যান্ত্রিক ডাক ছিল না তখন, থেকে থেকে এই কাফেলাই সমস্বরে আহ্বান করতো, &#8216;উঠুন, জাগুন, সেহরি খাওয়ার সময় হয়েছে&#8230;।&#8217;</p>
<p style="text-align: justify">চোখ কচলে কষ্টে-সৃষ্টে আমরাও উঠতাম। ঢুলু ঢুলু চোখে সেহরি খেতাম। সেহরির সময় শেষ হওয়ার সতর্কবার্তা হিসেবে মসজিদ থেকে তীক্ষ্ম সাইরেন বেজে উঠার সঙ্গে সঙ্গে পানির গ্লাস টেবিলে ঠুকে দিয়ে নতুন করে সময় গণনা শুরু করতাম। দিন যেতো দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে, ইফতারের সময় কখন হবে!</p>
<p style="text-align: justify">ঐ বয়সে সব রোজা রাখতে পারতাম না। পরীক্ষা না থাকলে একটা দুটো রোজা করার অনুমতি পেতাম। বাবা বলতো, রোজা রাখতে রাখতেই অভ্যাস হবে। না খেয়ে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা ঐ বয়সে তো সহজ ছিল না। তাই রোজা থাকাবস্থায় এক চুমুক পানি খাওয়ার গোপন আকুতি বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির বড়দের সামনে প্রকট হয়ে পড়তো। মাঝে মাঝে মা ভুলানোর চেষ্টা করতো, এই তো দুইটা বেজেছে-একটা রোজা হয়েই গেলো, বেশি কষ্ট হলে রোজা ভেঙে ফেল।</p>
<p style="text-align: justify">ওদিকে ভাইয়ের সঙ্গে অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছে, বিছানায় পেট পেতে ঘন্টা দুই শুয়ে থাকা যাবে তবু কোনো প্রলোভনে রোজা ভাঙা চলবে না। পাশের বাসায় ইফতারির থালা দিতে গেলে কণা&#8230;শান্তাকে জানাতে হবে, এই নিয়ে আমার দুটো রোজা হলো!</p>
<p style="text-align: justify">এভাবে রমজান মাসের একেকটা দিন গড়াতো আর মাথার ভেতরে ঘুরপাক খেতো অজস্র দুশ্চিন্তা&#8230; রোজা শেষ হয়ে যাচ্ছে আর ঈদের দিনক্ষণও এগিয়ে আসছে! নতুন জামা-জুতো কবে আসবে! বাবা ছুটি না পেলে তো ঈদে নানাবাড়ি যেতে পারবো না! নানাবাড়িতে না যাওয়া হলে ঈদের কী হবে! আনন্দ তো বৃথা যাবেই, হাত ভরে মেহেদিই বা পরবো কী করে!</p>
<p style="text-align: justify"><strong>পরের পর্ব পড়ুন :</strong> চাঁদ রাতের মেহেদি&#8230;আর ঈদ</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/12/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমুদ্রসমগ্র (পর্ব-৬) ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/10/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/10/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 02 Oct 2022 14:27:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2199</guid>

					<description><![CDATA[৬. শবে বরাতের বরাত স্মৃতি জিনিসটাই বিচ্ছিরি; একবার যদি ভুল করেও এতে ডুব দেয় কেউ, উঠে এলেও রোমের গহ্বর চুঁইয়ে চুঁইয়ে স্মৃতিকণা ঝরতে থাকবে যা হাসাবে, কাঁদাবে, হৃদপিণ্ডে ক্ষরণ ঘটাবে।মুক্তি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>৬. শবে বরাতের বরাত</strong></span><br />
স্মৃতি জিনিসটাই বিচ্ছিরি; একবার যদি ভুল করেও এতে ডুব দেয় কেউ, উঠে এলেও রোমের গহ্বর চুঁইয়ে চুঁইয়ে স্মৃতিকণা ঝরতে থাকবে যা হাসাবে, কাঁদাবে, হৃদপিণ্ডে ক্ষরণ ঘটাবে।মুক্তি দেবে না সহজে।ঢেউ কেটে কেটে জলযান যেভাবে বিবিধ গতিতে এগিয়ে চলে ঠিক সেভাবেই এগিয়ে চলছে স্মৃতির রথ।রথে চড়ে একটু একটু করে পথ এগোচ্ছি আর নাছোড়বান্দা ইচ্ছে সব মাথা চাড়া দিচ্ছে।সবচেয়ে বেশি ঘায়েল করে যে ইচ্ছে তা হলো ‘শৈশবে-কৈশোরে ফেরার ইচ্ছে।’</p>
<p style="text-align: justify">এই ইচ্ছেপূরণ সম্ভব নয় বলেই স্মৃতির কাছে ফেরা।কত কী যে মনে পড়ছে তাই হুড়মুড়িয়ে।কোনটা রেখে কোনটা বলি,কোনটা আগে বলি; খেই হারাই বার বার।এই তো আজ ভাবছি আমাদের সময়ে শবে বরাত উদযাপনের কথা, হুড়মুড় করে মনে পড়ছে ফেলা আসা সময়ের রোজা, ইফতার, চান রাত, মেহেদি ভরা হাত, নতুন জামা, ঈদের দিনের থৈ থৈ আনন্দের কথা।জানি ওসব দিন আর আসবে না, শবে বরাতে বরাতের ফয়সালা হয়তো ঠিক ঠিক হতেই থাকবে।</p>
<p style="text-align: justify">ইসলামী দিনপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান মাসের মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে আসে পবিত্র ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাত।’<br />
ছোটবেলায় শুনতাম এই রাত পবিত্র রাত।বিশ্বাস করতাম, মহান আল্লাহ তার বান্দাদেরকে এই রাতে বিশেষভাবে ক্ষমা করেন আর এই রাতেই বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করেন।এদিকে সারা বছর যেই বান্দার আমল করার খবর থাকতো না সেই বান্দাও শবে বরাতে নিজের ভাগ্য নতুন করে লেখানোর লোভে আমলে মনোযোগী হতো।</p>
<p style="text-align: justify">আমারও কি লোভ কম ছিল! মাগরিবের সময়ে গোসল করলে নাকি এত এত সওয়াব হয়, সেই সওয়াবের লোভে ঝটপট গোসল করে ফেলতাম। তারপর জায়নামাজ বিছিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে নামাজ পড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হতো।আর সারাদিনের আয়োজন, ব্যস্ততার কথা তো না বললেই না।আগেরদিন থেকেই মায়ের ব্যস্ততার অন্ত থাকতো না। শুধু আমাদের বাড়িতে কেন বিশেষ দিনটিতে আশেপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নানারকম হালুয়া, বরফি, চালের আটার রুটি বানানো হতো। যেই বাড়িতে কালেভদ্রে গরুর বা মুরগির মাংস রান্না হতো সেই বাড়ি থেকেও মাংস রান্নার ঘ্রাণ ভেসে আসতো, রুটির সঙ্গে একটু মাংসের ঝোল না হলে যেন কারও মন ভরতো না।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের বাড়িও এর ব্যতিক্রম ছিল না।বাবাহীন সংসারে আমাদের শখ পূরণের সাধ্যাতীত চেষ্টা ছিল মায়ের।হালুয়া তেলে উঠে যাওয়ার পর চুলা থেকে নামিয়ে ভাঁপটা সরে যেতে যতক্ষণ, এরপর মায়ের সঙ্গে হাত লাগিয়ে আমরা বোনেরা বোনেরা পোড়ামটির কালো রঙের নকশা আঁকা ছাঁচের ভেতরে চেপে গোল গোল হালুয়ায় নকশার ছাপ দিয়ে ফেলতাম। রুটি বেলার পিঁড়িতে গরম গরম হালুয়া ঢেলে নিয়ে কুসুম কুসুম ওমের মধ্যেই বরফি কাটা হতো।কাজের সময় আস্ত একটা হালুয়া কি হালুয়ার কোনা ভেঙেও মুখে দেওয়া বারণ ছিল।সব বানানো হলে তারপর যার যার ভাগ বুঝে নেওয়া চলতো।এরপর গাজর, সুজি, বুটের হালুয়া, রুটি ট্রেতে সাজিয়ে মাথায় একটা ওড়না পরে প্রতিবেশিদের বাড়িতে দিতে যেতাম।আমাদের প্লেট, বাটি খালি আসতো না কখনোই।এ বাড়ির খাবার ও বাড়ি, ও বাড়ির খাবার এ বাড়িতে ভাগাভাগি করতে করতে মনের ভেতরে আনন্দ বুদ বুদ করে উঠতো, এই তো সামনেই রোজা&#8230;দেখতে দেখতে ঈদ চলে এলো বলে!</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>এদিকে মসজিদের সামনে সাহায্যপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন বসে যেতো। বাড়িতে বাড়িতেও কড়া নেড়ে চলতো ভিক্ষুকেরা, ‘আম্মা, এট্টু হালুয়া, রুটি দেন না।’</em> </span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">বিস্তর সওয়াব হাসিলের লক্ষ্যে এদের খালি হাতে ফেরানো যাবে না বলে আমাদের বিস্তর ছুটোছুটি শুরু হতো।আর যেই দুষ্টু বালকের দলকে সারা বছরেও মসজিদের ত্রি-সীমানায় দেখা যেতো না আলমারিতে তুলে রাখা পাঞ্জাবি-পায়জামা নামিয়ে পরিপাটি হয়ে তারাও নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে ছুটতো।এই ছুটোছুটির ফাঁকে আতশবাজি আর পটকার কথা ভুলতো না তারা।হৃদকাঁপানো আওয়াজে পাড়া কেঁপে উঠলে এদের আনন্দের সীমা থাকতো না।আমরা যারা বাইরে যাওয়ার অনুমতি পেতাম না তারা বাড়ির ছাদ অথবা বারান্দা থেকে আকাশ পানে ধেয়ে চলা আলোর ঝালর দেখতাম।</p>
<p style="text-align: justify">সবকিছু কেন অতীতকালেই লিখছি? এখনো তো শবে বরাত আসে। ইবাদতে মগ্ন হয় মানুষ। তবু কেন আজ অতীত সব?<br />
সত্যি সবই হয় আগের মতো তবু কী যেন একটা নেই এখন, কিছু একটা নেই। এই যে চারদিকে কেমন দিনবদলের সুর। শবে বরাতের দিনে এই হালুয়া-রুটি তৈরি, এসবের বিলিবণ্টন বেদাত বলে অনেক বছরই হলো অভিমত জানাচ্ছেন অনেকে।পোড় খাওয়া হৃদয়ে উপলব্ধি করি ধর্মরক্ষার নামে বহুবিধ স্ট্যাটাস দিতে যতোটা ব্যস্ত থাকছেন তারা, আমল নিয়ে যেন ততোটা নয়।</p>
<p style="text-align: justify">আসলে ‘ধর্ম গেল’ ‘সব গেল’ বলে কিছু মানুষ রব তোলেন বরাবরই তবু এক শ্রেণির মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঠিকই হালুয়া, রুটি বানিয়ে ভালোবাসার বিলিবণ্টন করে আজও সামাজিক সম্প্রীতিকে ধরে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে চলে।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>পরের পর্ব পড়ুন :</strong> ঐ ঈদটা গেল কই!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/10/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শানজানা আলমের ‌‘জল মিশে যায় জলে’র প্রবাহে ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/23/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%af/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/23/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%af/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 23 Sep 2022 17:37:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2178</guid>

					<description><![CDATA[এই সময়ে অনেকেই লিখছেন, কিন্তু সবাই পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না বা পাঠকপ্রিয় হয়েও উঠতে পারছেন না।পাঠক আর লেখকের মধ্যকার এই দূরত্ব ঘোচানোর বিষয়টি সব লেখক আমলে না নিলেও আমি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">এই সময়ে অনেকেই লিখছেন, কিন্তু সবাই পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না বা পাঠকপ্রিয় হয়েও উঠতে পারছেন না।পাঠক আর লেখকের মধ্যকার এই দূরত্ব ঘোচানোর বিষয়টি সব লেখক আমলে না নিলেও আমি বিশ্বাস করি লেখক বা বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাঠকের হিসেব-নিকেশ একেবারে আলাদা হয়।আর যাই হোক পাঠক মাত্রই চান একজন লেখকের লেখা পাঠের মাধ্যমে তার সময়ের সদ্ব্যবহার হোক। সবসময় বিনোদন বা চমকদার কিছু খোঁজেন যারা তারা অবশ্য এর ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়েন।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক শানজানা আলম এই সময়ের লেখক।তাকে অনায়াসে পাঠকপ্রিয় লেখকও বলা যায়।শানজানা আলমের লেখার প্রতি পাঠকের আগ্রহ আর আকর্ষণ দেখে আমিও খানিকটা কৌতূহলী হয়ে তাকে পাঠ তালিকায় নিয়েছি।এত শত মানুষের নির্বাচন যে ভুল হবে না সেই বিষয়টি নিয়ে সংশয় না থাকলেও তার লেখা নিয়ে সামান্য দ্বিধা ছিল মনে সেই বিষয়টিও অস্বীকার করবো না।আসলে চোখ-কান খোলা রাখলেই যেখানে টের পাওয়া যায় পুঁজিবাদ সাহিত্যকে গিলে খেতে চাইছে সেখানে এমন দ্বিধা মনে আশা হয়তো আমার মতো পাঠকের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কিছু নয়।</p>
<p style="text-align: justify">আমার পাঠ অভিজ্ঞতায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ঔপন্যাসিক শানজানা আলমের উপন্যাস ‘জল মিশে যায় জলে।’ শানজানার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শব্দ আর বাক্যের জলের সরলতা।ছোট ছোট সরল বাক্যে জীবনের বড় পরিসরকে এই লেখক বাঁধতে জানেন।তাই বলে ঘটনাপ্রবাহ মোটেই লঘু হয় না তার লেখায়।বরং অনেকটা যত্ন নিয়ে তিনি গল্প বা উপন্যাসের এক একটি চরিত্র নির্মাণ করেন।</p>
<p style="text-align: justify">‘জল মিশে যায় জলে’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মিনুকে লেখক নির্মাণ করেছেন এমনই যত্ন নিয়ে।মিনু একটি মাধ্যমিক স্কুলের অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করে।মিনুর জীবনের কিছুই সমান বা সমান্তরাল নয়, মিনুর ভাষায়, ‘বাঁকা, বক্র, হিজিবিজি।’ মিনুকে ঘিরে ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ আহমেদ, তার মেয়ে প্রিয়সী, স্ত্রী রিমা-এই চরিত্রগুলো এলেও খুব দ্রুত পাঠক এই দম্পতির জীবনের ফ্রেমেও ঢুকে পড়ে।লেখক ইমতিয়াজ-রিমার মধ্যকার দূরত্ব, টানাপোড়েন ইত্যাদি নিয়ে পাঠককে বেশ গোলকধাঁধার ভেতরেও ফেলে দেন।যদিও মানবিক সম্পর্কের ওঠানামা নির্মাণ করতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রে চরিত্রের দর্শনকেই লেখকের দর্শন বলে ভ্রম হচ্ছিল তবু বলবো এই সমাজে এমন ধরনের দ্বিমুখী সত্তার অধিকারী মানুষের অভাব নেই।</p>
<p style="text-align: justify">তাই এই উপন্যাসের ৪৯ পৃষ্ঠায় লেখক যখন রিমার হয়ে জীবনের কিছু পর্যবেক্ষণ আনছেন তখন পাঠকের ভ্রু সামান্য কুঁচকে উঠলেও তা অস্বীকার করার উপায় থাকছে না।যদিও মনে হয়েছে ‘সংসার ধরে রাখার জিনিস, সহ্য করেও ধরে রাখতে হয়।ছেড়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো মাহাত্ম্য নেই, বাইরের পৃথিবী যে সাফল্যটা দেখতে পায়, তার বিপরীতে মনের মধ্যে তীব্র শূন্যতা তৈরি হয়।এই শূন্যতা বাইরের কেউ দেখে না। অনুভব করে না।’-এই বক্তব্যটুকু রিমার মুখ দিয়ে সংলাপ আকারে বের হলেই যেন ভালো হতো।তাহলে হয়তো লেখক যে নির্মোহ দৃষ্টিতে চরিত্র আর ঘটনা নির্মাণ করছেন তা ধরে নেওয়া পাঠকের জন্য সহজ হতো।</p>
<p style="text-align: justify">এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকভাবে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরীর একটি উক্তি মনে পড়ছে, ‘&#8230;হঠাৎ ঔপন্যাসিক ছোটগল্প-লেখককে দেখতে পাবেন পথের ধারে, একটি গাছের ছায়ায় বসে আছেন উদাস দৃষ্টি মেলে। এ কোন উন্নাসিক লেখক?-মনে মনে ভাববেন ঔপন্যাসিক। কোনও মিনারের চূড়ায় উঠল না, দেখল না যুদ্ধের ইতিবৃত্ত, শোভাযাত্রায় সঙ্গ নিল না, এ কেমনধারা সাহিত্যিক!’</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #ff0000">আমি এভাবেই ভাবি, একজন ঔপন্যাসিক মিনারের চূড়ায় উঠে দেখবেন, যুদ্ধের ইতিবৃত্ত দেখবেন, শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন কিন্তু নিজে যুদ্ধে লিপ্ত হবেন না।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">রিমার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের উল্লিখিত অংশটুকু বাদ দিলে জল মিশে যায় জলে পড়তে পড়তে বুঝতে পারছিলাম কথাসাহিত্যিক শানজানাও দূর থেকে দেখছেন, কাছ থেকেও দেখছেন, দেখছেন নিবিড়ভাবে।এই দেখাদেখি জলের স্রোতের মতো বাক্যে বাক্যে প্রবহমান হচ্ছে যা পাঠককে স্বস্তি দিচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">এই উপন্যাসে কয়েকটি অস্বস্তিকর চরিত্রও আছে।জল মিশে যায় জলে উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ইদ্রিস আলী তেমনই এক চরিত্র। সুবিধাবাদী, কুটকৌশলে পারদর্শী ইদ্রিস আলী মিনুর বাবা, গুলনেহারের স্বামী।গুলনেহার তার দ্বিতীয় স্ত্রী, যে নিজেও স্বামীর মতো কৌশলী, আচরণে রূঢ় এবং লোভী।ঔপন্যাসিক এই দুইটি চরিত্রের মনস্তত্ত্ব সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।বিশেষ করে প্রথম পৃষ্ঠাজুড়ে ইদ্রিস আলীর সংসারের বর্ণনা এবং ইমতিয়াজ আহমেদের কাছে চাকরি চাইতে যাওয়া সময়ে তার যেই মনস্তত্ত্ব লেখক বর্ণনা করেছেন তা একেবারে নিখুঁত, নিখাদ মনে হয়েছে।একটা নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো যেভাবে যতটুকু আবেগ পুষে রাখে, প্রেষণা দ্বারা যেভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তা নিবিড় চোখে দেখে কলমের আঁচড়ে তুলে এনেছেন লেখক।</p>
<p style="text-align: justify">ইদ্রিস আলীর প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান মিনু, মুর্শিদা, জাহিদা, মানিক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান রাব্বি-অল্প সময়ের মধ্যে লেখক এমন অসংখ্য চরিত্রের সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিলেও পাঠককে খেই হারানোর সুযোগ দেননি।ছোট ছোট পর্বে এক একটি চরিত্র, তাকে ঘিরে বিভিন্ন পার্শ্ব-চরিত্র, তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ক্লাইমেক্সকে তিনি কৌশলের সঙ্গে বর্ণনা করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">জল মিশে যায় জলে পড়তে পড়তে যখনই মনে প্রশ্ন এসেছে, এই আখ্যান কি শুধু আটপৌরে জীবনকে ঘিরেই আবর্তিত? ঠিক তখনই পাঠক আমার জন্য নতুন একটা চমক এসেছে আর ঘটনাপ্রবাহও ভিন্ন দিকে বাঁক নিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘জল মিশে যায় জলে’ পড়তে পড়তে শেষের দিকে মনে হচ্ছিল খানিকটা অস্থিরতা কাজ করেছে লেখকের ভেতরে।শেষ কয়েক পর্বে তিনি একটু যেন অযত্নও করেছেন সম্পাদনায়।এই যেমন নেহারের প্রথম স্বামী কেন রাব্বিকে নিজের কাছে এনেছেন এই অংশটা বইয়ের ৭৩ ও ১৭৪ পৃষ্ঠায় দুবার এসেছে।আবার মুশু চরিত্রটা বিনু হয়ে গেছে কয়েক জায়গায়, সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সরল বাক্যে উদ্ধরণ চিহ্ন বসেছে।এসব অপাংক্তেয় সীমাবদ্ধতা বাদ দিলে জল মিশে যায় জলের প্রবাহে অবগাহনের সময়কাল আমার জন্য বেশ আনন্দের ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাস: জল মিশে যায় জলে<br />
লেখক: শানজানা আলম<br />
প্রকাশকাল: ২০২১<br />
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/23/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%af/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমুদ্রসমগ্র (পর্ব-৫) ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/10/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/10/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 09 Sep 2022 18:02:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2125</guid>

					<description><![CDATA[৫. নারী হয়ে ওঠার দিনে কোনো কোনো ভোরে সময় প্লাবিত হয় একটু একটু করে, একটা মেয়ের নারী হয়ে ওঠার দিনগুলোর মতো ধীরে সুস্থে।যেই রহস্যময়তার ভেতরে ধীরে ধীরে তার পূর্ণ হয়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>৫. নারী হয়ে ওঠার দিনে</strong></span><br />
কোনো কোনো ভোরে সময় প্লাবিত হয় একটু একটু করে, একটা মেয়ের নারী হয়ে ওঠার দিনগুলোর মতো ধীরে সুস্থে।যেই রহস্যময়তার ভেতরে ধীরে ধীরে তার পূর্ণ হয়ে ওঠা, সেই রহস্য যেন অচেনা অদেখা এক আলোর প্লাবনে ভাঙে।ভোর ভেঙে সকাল ফোটে, সকাল হয় রোদ; রোদ নিভে গিয়ে প্রগাঢ় রহস্যময়তার রাত এসে সন্ধেকে ঢেকে দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">সন্ধে আর রাতের সূক্ষ্ম ফারাক যেমন বোঝে না মেয়ে তেমনি বোঝে না কবে সে নারী হলো।এ যাত্রা তার একার।পথও অচেনা।গোপন সুড়ঙ্গ পথে একা একা হামাগুড়ি দিয়ে যে গন্তব্যে সে পৌঁছায় দেখে সেখানে আলোর সমপরিমাণ অন্ধকার।অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে একসময় অঢেল আলোর দেখে মেলে, নিজেকে দেখারও অবসর হয়।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের গড়ন পাল্টায়, দেখার ধরন পাল্টায়।এই দেখার প্রতিশব্দ অনেক হলেও মাধ্যম দুটো; নিজের ও অন্যের দৃষ্টি দিয়ে দেখা।</p>
<p style="text-align: justify">মেয়ের দৃষ্টি দেখে ঢেউ আর লাবণ্য।বাদবাকি সকলে দেখে শরীর আর বৃদ্ধি।দেখতে দেখতে বলে, ‘ও রে&#8230;তুই দেখি বড় হয়ে গেছিস!’ এই বড় হয়ে ওঠা মানে যে শুধু বেড়ে ওঠা নয় তা বোঝে শুধু ঐ মেয়ে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>ঐ মেয়ে আমি।ঐ মেয়েই তুমি।ঐ মেয়েই তোমার বোন, মা, স্ত্রী, প্রেমিকা।ও মেয়ে খোলসভাঙা কুসুম।ও মেয়ে কুসুমকোমল মনোরম। তারপর মনোরম মেয়ে থেকে একদিন নারী হয়ে ওঠা।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">নারী হয়ে ওঠা মানে নদী হয়ে ওঠা।নদীর থাকে জল।সেই জলের অপর নাম কান্না।আমিও কাঁদি, একা একা কেঁদে কেঁদে দীর্ঘ এক নদী হয়ে যাই। আর অর্নিণীত সব বেদনার প্রতি হাজারো শব্দ লিখতে থাকি।<br />
এবার তবে অতীতের দিকে যাই, আরও শত শব্দ লেখা জরুরি অতীতের প্রতি।</p>
<p style="text-align: justify">একদিন স্যারের ব্যাচ থেকে ফিরে টের পেলাম, তলপেট মুচড়ে ব্যথা হচ্ছে, থেকে থেকে উরুসন্ধিতে ছোবল দিচ্ছে যন্ত্রণা, প্যান্ট ভিজে যাচ্ছে রক্তে।বাথরুমের দরজা আটকে ভয়ে কাঁদছি।ও রক্ত কোথা থেকে এলো? পা কেটেছে, উরু কেটেছে? পেটে মস্ত অসুখ করেছে? হাড় মাংস গলে ব্যথারা সব বের হচ্ছে রক্ত হয়ে?<br />
গুমরে গুমরে কাঁদি আর দেখি, এ রক্ত তো কান্নার মতো, কিছুতেই বন্ধ হয় না!<br />
মায়ের ওপর রাগ হয়, বোনদের ওপর হয় অভিমান, প্রাণের বন্ধু রুমকি, কানন, রেহানা, ফৌজি সকলের সঙ্গে মনে মনে আড়ি নিই&#8230;কই এরা তো কখনোই বলেনি এভাবে রক্ত ভেঙেই একদিন নারী হয়ে উঠতে হয়?<br />
অভিমানী কান্নায় এভাবে রোজ কত পৃষ্ঠা ভিজে যায়&#8230;পাঠ্য বইয়ের আড়ালে লুকানো তিন গোয়েন্দা, সেবা রোমান্টিকের নিউজপ্রিন্ট পাতা সবকিছুতে জলের ছোপছাপ দাগ পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">মাকে ভয় পাই বলে ঐ বয়সে ‘আউট বই’র মতো বেদনা লুকাই। মা লুকায় ‘আউট জগত।’ জানতে দেয় না কী করে বড় হতে হয়।<br />
বড় হয়ে অনেক পরে বুঝেছি, আসলে জানাতে যে হয় মা তা নিজেই জানে না।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>পরের পর্ব পড়ুন</strong> : <em>শবেবরাতের বরাত</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/10/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মৌলী আখন্দের ‘স্বপ্নচূড়া’ যেই স্বপ্ন দেখায় ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/06/%e0%a6%ae%e0%a7%8c%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%9a%e0%a7%82%e0%a7%9c%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/06/%e0%a6%ae%e0%a7%8c%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%9a%e0%a7%82%e0%a7%9c%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 06 Sep 2022 15:50:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2108</guid>

					<description><![CDATA[‘যুগে যুগে সব যক্ষপুরীতে শুধু লোভ আর সঞ্চয়।এর বিপরীতে মানুষের সত্যিকারের প্রাণ অসীম।আমাদের প্রত্যেকের জীবন ভরা পাপে ও পূণ্যে। কেউ নিষ্কলঙ্ক নই, কেউ নই কলঙ্কের একচ্ছত্র দাবিদার’ সোজাসাপটা কথাগুলোর সত্যতা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘যুগে যুগে সব যক্ষপুরীতে শুধু লোভ আর সঞ্চয়।এর বিপরীতে মানুষের সত্যিকারের প্রাণ অসীম।আমাদের প্রত্যেকের জীবন ভরা পাপে ও পূণ্যে। কেউ নিষ্কলঙ্ক নই, কেউ নই কলঙ্কের একচ্ছত্র দাবিদার’</p>
<p style="text-align: justify">সোজাসাপটা কথাগুলোর সত্যতা যাচাই করার বয়সে এখন আর নেই তবু কথাশিল্পী মৌলী আখন্দের উপন্যাস ‘স্বপ্নচূড়া’ র ব্যাককভারে উদ্ধৃত বাক্যগুলো আমাকে নতুনভাবে আক্রান্ত করে।তাই বৃষ্টিসজল সন্ধ্যায় আবেগঘন কৌতূহল নিয়ে স্বপ্নচূড়ার এক একটি পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে পরিচিত হই কনক, কাঁকন, কাঞ্চন, ইমরান, হাসান, শাওন, রূপা, রেইনি, হিমেলের সঙ্গে।আর দেখি এক ঝাঁক স্বপ্নাক্রান্ত তরুণ-তরুণীর জীবন কীভাবে নানাদিকে বাঁক নেয়।</p>
<p style="text-align: justify">‘স্বপ্নচূড়া’ একটি নাট্যদল।এই নাট্যদলের কর্মীরা মূলত দুইটি জীবন যাপন করে।একটি ‘রক্তকরবী’ নাটকের জন্য নির্মিত স্ক্রিপ্টের ভেতরে, আরেকটি রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে এই কঠিন পৃথিবীর বুকে।নাটক মঞ্চস্থ করার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে রিহার্সালের একটা খণ্ডিত সময়কে ঘিরে উপন্যাসের যাত্রা শুরু হয়।ধীরে ধীরে বিভিন্ন চরিত্রের কোলাহলে এই রূঢ় পৃথিবীর সঙ্গে রক্তকরবী নাটকের যক্ষপুরীর সাদৃশ্য প্রকট হতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">স্বপ্নচূড়ার প্রতিটি চরিত্রের স্বপ্নপূরণের আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা, উভয়ের পারদ যেন পাশাপাশি ওঠানামা করে। সেই সঙ্গে বিপর্যস্ত করে পাঠককেও।রেইনির জীবনে উদ্ভূত সংকট আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ওকে চূড়া থেকে একেবারে মাটিতে নামিয়ে দেয়।আসলে স্বপ্ন তো দেখে সকলেই, স্বপ্নের চূড়ায় তো সবাই পৌঁছাতে পারে না।কেউ কেউ মাঝপথে মুখ থুবড়ে পড়ে, কেউ বা তাল সামলাতে না পেরে চূড়ার নিকটবর্তী হতে না হতেই ভারসাম্য হারিয়ে অস্তিত্বশূন্য হয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">স্বপ্নচূড়া উপন্যাসের রেইনি, পিংকি এমনই দুই চরিত্র।যারা স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছানোর বাজিতে জয়ী হতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়।বাস্তবতার এমন নির্মমতার পূর্ণাঙ্গ রেখাপাত দুই মলাটের ভেতরে তুলে আনা সহজ কাজ নয়।তবু বলতে দ্বিধা নেই এই কাজে হাত দিয়ে ভালোভাবেই উৎরে গেছেন এই আখ্যানকার।</p>
<p style="text-align: justify">ঔপন্যাসিক মৌলী আখন্দ নিজে তরুণ বলেই হয়তো তারুণ্যের সংকট, শঙ্কা, সম্ভাবনা আর স্বপ্ন সবই তার নখদর্পনে।উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রের কম-বেশি দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>ছোট ছোট সরল বাক্যে উপন্যাসের গাঁথুনি মজবুত করার প্রয়াসে তিনি সফলও হয়েছেন।প্রায় প্রতি পর্বের শেষে রক্তকরবী নাটকের বিভিন্ন সংলাপের যৌক্তিক ব্যবহার আখ্যানের কাঠামোকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">‘আমি প্রকাণ্ড মরুভূমি-তোমার মতো একটি ছোট্ট ঘাসের দিকে হাত বাড়িয়ে বলছি, আমি তপ্ত, আমি রিক্ত, আমি ক্লান্ত’- সংলাপটি আওড়াতে আওড়াতে হাসান যখন নিজের সংকটের কথা কনককে না বলতে পারার যন্ত্রণায় নির্ঘুম রাত কাটায় তখন পাঠকের মনে নিভৃতে হাহাকার জেগে ওঠে। আবার ‘বিধাতার সেই বদ্ধ মুঠো আমাকে খুলতেই হবে’ সংলাপের সঙ্গে রেইনির নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া, ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা দেখে মনে হয়, এই আত্মপ্রত্যয়টুকু না থাকলে পৃথিবীটা সত্যি সত্যি বাসের অযোগ্য হয়ে উঠতো।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যেমন বহু পথ হাঁটিয়েছেন লেখক, তেমনি মাঝেমধ্যে সংকট থেকে উত্তরণের পথও দেখিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">যদিও পাঠশেষে মনে হয়েছে স্বপ্নচূড়ার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কনক বা শাওনের জীবনের গল্প যতোটা আসতে পারতো ঠিক ততোটা আসেনি।</p>
<p style="text-align: justify">তবে লেখক মৌলী আখন্দের কলম স্বপ্ন আর কল্পনার ফারাকের কথা বলছে, সম্ভাবনার কথা বলছে এ কথা দৃঢ় স্বরেই উচ্চারণ করা যায়। এমন কলম কালে কালে আরও সৃষ্টি করবে, আরও শাণিত হবে-এমন স্বপ্ন দেখার সাহস করা বাহুল্য হবে না বলেই বিশ্বাস রাখতে চাই।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাস: স্বপ্নচূড়া<br />
লেখক: মৌলী আখন্দ<br />
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ<br />
প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা, ২০২২</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/06/%e0%a6%ae%e0%a7%8c%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%9a%e0%a7%82%e0%a7%9c%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমুদ্রসমগ্র (পর্ব-৪) ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/08/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/08/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 02 Aug 2022 13:33:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2040</guid>

					<description><![CDATA[৪. হিম হিম আইসক্রিম দিন সেই কখন থেকে রোদের খেলা দেখছি।বুড়ো কড়ই গাছের পাতার ঝালর ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে&#8230;ঝলমল ঝলমল, ঝিলমিল ঝিলমিল সোনালি রোদ্দুর। রোদকে রোদ্দুর ভাবলে কেমন একটা আদর &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>৪. হিম হিম আইসক্রিম দিন</strong></span><br />
সেই কখন থেকে রোদের খেলা দেখছি।বুড়ো কড়ই গাছের পাতার ঝালর ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে&#8230;ঝলমল ঝলমল, ঝিলমিল ঝিলমিল সোনালি রোদ্দুর। রোদকে রোদ্দুর ভাবলে কেমন একটা আদর আদর ওম লাগে। অমন ওম ওম রোদের পরশ নিতে নিতে দুচোখ বুঁজে আসে।তখনই ঝট করে মা ডেকে ওঠেন, ‘অবেলায় ঘুমাইস না&#8230;।’</p>
<p style="text-align: justify">এই ভরদুপুরে এত দূরে মা কোথা থেকে এলো, ভেবে চমকে উঠি।আমার কাছ থেকে প্রায় তিনশ বারো কিলোমিটার দূরে থাকে মা।আসলে দূরে থেকেও কাছে থাকে।বার বার মনে করিয়ে দেয়,‘অফিসের কাজে অমনোযোগী হইস না।ভুলভাল সাইন করবি, তখন বিপদ হইব।তোর বাবারও একবার বিপদ হইছিল।’</p>
<p style="text-align: justify">বিপদের নাম শুনে নড়েচড়ে বসি।আমার মা এখনও আমার বিপত্তারিণী।বিপদকে নাশ করতে যেই মানুষটি বার বার উচ্চারণ করেন, ‘না।’</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আমার তো মনে হয় কমবেশি আমাদের সবার মা-ই জীবনে সবচেয়ে বেশি বার যে শব্দটি উচ্চারণ করেন, করেছেন সেটি হলো, ‘না।’</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সত্যি বলছি, আমার মায়ের মুখ থেকে উচ্চারিত ন আকারে ‘না’ শব্দটি হিসাব করার জন্য জগতের সব ক্যালকুলেটরকে একসঙ্গে সক্রিয় করলে সব যন্ত্রই একসঙ্গে বিকল হয়ে যেত।</p>
<p style="text-align: justify">এই যে এখন চুলে পাক ধরেছে, নিজেই বাচ্চার মা হয়েছি তবু মায়ের মুখের ‘না’ শব্দের সম্প্রচার বন্ধ হয়নি।বিটিভির সেই রাত আটটার বাংলা সংবাদের মতো মা আজও নিয়ম করে বলে, ‘অতো বেশি মোবাইল দেখিস না, কম্পিউটারের সামনে বেশিক্ষণ থাকিস না&#8230;অতো ঘোরাঘুরি করিস না।’</p>
<p style="text-align: justify">নথিপত্র, ল্যাপটপ গুটাতে গুটাতে বাড়ি ফিরি।পথে পথে সুখদৃশ্য দেখি।<br />
নিভন্ত রোদের আমেজে বাবা-মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছে একটা বালক, বাবাকে সে এটা-সেটা প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।সতর্ক বাবা জেব্রা ক্রসিং ক্রস করার আগেই বালককে বুকে তুলে নিয়েছেন।মা উষ্ণ কণ্ঠে বলছেন, ‘বাবার কোল থেকে নামো।এত বড় ছেলে কোলে ওঠে না।বাবার কষ্ট হয়।’ মায়ের বারণ শুনেও শোনে না বালক। নরম হাতে আরও শক্ত করে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে, আর মাকে দেখিয়ে দেখিয়ে হাসে।যেন আইসক্রিমের বায়না পূরণ হলেই কোল থেকে নামবে।<br />
আইসক্রিম!</p>
<p style="text-align: justify">মনে পড়ে যায়, ঐ বয়সটাতে কালেভদ্রে আইসক্রিম জুটতো।সেই আইসক্রিম আদতে ছিল ঠান্ডা ঠান্ডা জমাট বরফের আয়তাকার টুকরো। মাঝে মধ্যে আইসক্রিমের ডগায় নারকেলের গুঁড়ো লাগানো থাকতো। শুনতাম ঐসব সস্তার আইসক্রিমে স্যাকারিন দেয়।চিনি আর স্যাকারিনের পার্থক্য বুঝতাম ছাই।হিম হিম কিছু খাচ্ছি সেই তো অনেক।</p>
<p style="text-align: justify">স্কুলগেট আর বাসার সামনে আসা ফেরিওয়ালারার বাকশের কুলফির স্বাদও নিয়েছি।এর অনেক অনেক পরে চেখে দেখেছি জিভ-ঠোঁট রাঙানো ললি আর দোকানে বিস্কুটের খোপে ঢুকানো পাহাড়ের চুড়োর মতো গোলাপি, সাদা কোন আইসক্রিম।</p>
<p style="text-align: justify">আইসক্রিমের কথা মনে পড়লেই মনে পড়ে যায় রোজার দিনের বরফের কথা।তখন পাড়া-মহল্লার দোকানে টুকরো বরফ বিক্রি হতো।বিশাল আকৃতির বরফের চাঁই থেকে ভেঙে টুকরো করে বরফ বিক্রি করতো দোকানদার।রোজার ঈদের দিন কয়েক আগে নানা বাড়িতে যাওয়া হলে আনন্দের সীমা থাকতো না।দোকান থেকে বাটিভর্তি বরফ নিয়ে পিঠাপিঠি মামা-খালাদের সঙ্গে দিতাম ছুট।ঐ বরফ আরও টুকরো টুকরো করে ইফতারের আগে আগে শরবতে দেওয়া হতো।রোজা রাখলে শরবত জুটতো ভাগ্যে।নয়তো আবদারের পর পেতাম এক আধটুকরো বরফ।সে ছিল এক মজাদার চকলেট।ধীরে ধীরে চুষে খেতাম সেই ঠান্ডা চকলেট।ঠোঁট-জিভ ঠান্ডায় লাল হয়ে যেতো, আর তা দেখে আমাদের সে কি হাসি!</p>
<p style="text-align: justify">আজকাল ক্রনিক ব্রংকাইটিসটা ভোগাচ্ছে বেশ, হিম ঠান্ডা কিছু খেতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ডাক্তার।ওবিসিটি কারণে-অকারণে বেকায়দায় ফেলায় চড়চড়ে রোদের দিনের ইফতারিতে চিনি গোলা শরবত আর ঠান্ডা পানীয় গ্রহণেও বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">মাঝে মাঝে তবু সব সতর্কতা ভুলে যাই, ফ্রিজের ঠান্ডা পানিতে বানানো ট্যাং-লেবুর শরবতে মিথ্যেমিথ্যি ছোটবেলার সেই আত্মা জুড়ানো শান্তিটা খুঁজি।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>পরের পর্ব পড়ুন :</strong> নারী হয়ে ওঠার দিনে</p>
<p style="text-align: justify">
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/08/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমুদ্রসমগ্র (পর্ব-৩) ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 02 Jun 2022 16:26:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1965</guid>

					<description><![CDATA[৩.বিটিভির সঙ্গে নিজের কথাগুলো গুছিয়ে বলা খুব মুশকিল।যতই সাজাতে-গোছাতে যাই, সবকিছু যেন তত অগোছালো হয়ে পড়ে।মাঝেমাঝে মনে হয়, অন্যের জীবনকে খুঁটিয়ে দেখার প্রবণতা থাকলে নিজেরটা দেখা সম্ভব হয় না কখনও।তাই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>৩.বিটিভির সঙ্গে</strong></span><br />
নিজের কথাগুলো গুছিয়ে বলা খুব মুশকিল।যতই সাজাতে-গোছাতে যাই, সবকিছু যেন তত অগোছালো হয়ে পড়ে।মাঝেমাঝে মনে হয়, অন্যের জীবনকে খুঁটিয়ে দেখার প্রবণতা থাকলে নিজেরটা দেখা সম্ভব হয় না কখনও।তাই ভাবি যখন, লিখি যখন আমার অভ্যন্তরে তখন ঢুকে যায় অনেক আপনজন অনেক অপরজন।তাই হয়তো যার জন্য কাঁদা উচিত না তার জন্য কাঁদি, যাকে নিয়ে ভাবা উচিত না তাকে নিয়ে ভাবি।যার জন্য কথা বলা উচিত না তাকে নিয়েই বলি।নিজেকে নিয়ে ভাবার ফুরসৎ কোথায়!</p>
<p style="text-align: justify">সময় নেই-এ এক প্রকার মিথ্যে অজুহাত।আসলে দিনের কথাগুলো খেয়ে ফেলে চারকোণা বাকশের উইপোকা, কানের কাছে কুটুরমুটুর শব্দে মিথ্যে মন্ত্র আওড়ায়, ‘ভালোবাসি গো ভালোবাসি।’ ওদিকে রাত নামলেই তন্ত্রমন্ত্রের ভালোবাসা হয়ে যায় হাওয়ার বুদবুদ কিংবা উড়াল মেঘ, ধরতে গেলেই অতিকায় ডানা লাগিয়ে সে নাগালহীন আকাশে মিলায়।</p>
<p style="text-align: justify">খুব চাইছি, রাত্রির পথ ধরে আজ জোছনা নামুক, যেই জোছনায় ডুবসাঁতার কাটতে কাটতে তার সঙ্গে পাড়ি দেবো কথার সমুদ্দুর।<br />
তাই তো মনে মনে কথা সাজাই, স্মৃতি সাজাই&#8230;মনে পড়ে সেই ছোটবেলায় ‘এটা করিস না, সেটা করিস না, ওটা ধরিস না&#8230;ওখানে যাস না’&#8230;মায়ের কড়া শাসন শিথিল হলে প্রতিদিন টেলিভিশন দেখার অনুমতি মিলতো।</p>
<p style="text-align: justify">তখন টেলিভিশন মানেই ছিল বিটিভি।আর বিটিভি মানেই ছিল কার্টুন শো পাপাই দ্য সেইলার ম্যান, থান্ডার ক্যাটস, ক্যাপ্টেন প্লানেট, টম অ্যান্ড জেরি, উডি উড পেকার, টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টারটেলস।<br />
বিকালের কার্টুন ছাড়াও প্রিয় ছিল ‘আলিফ লায়লা।’ আলিফ লায়লা ও ও ও ও ও ও&#8230;টাইটেল সং শুরু হলে যেখানেই থাকতাম ছুটে আসতাম। মুখস্থও ছিল গানটা-দেখ সব নতুন কাহিনি/মন ভরে দেয় তার বাণী/কত যুগ পেরিয়ে গেছে/নতুন তবু রয়ে গেছে।’</p>
<p style="text-align: justify">সিন্দবাদ, টারজান, দ্যা এক্স ফাইলস, দ্য গার্ল ফ্রম টুমরো, ম্যাকগাইভারের সূচনা সঙ্গীতের সেই মোহময় সুর&#8230;তিন হাজার সাল থেকে বর্তমানে চলে আসা দ্য গার্ল ফ্রম টুমরোর অ্যালানার মাথার ব্যান্ড, দ্যা এক্স ফাইলসের ফক্স মোল্ডারের হাসি, ডানা স্কালির হেয়ার কাট, ম্যাকগাইভারের বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টি&#8230;সবকিছু নতুন রয়ে গেছে। বদলে গেছে শুধু সময়।</p>
<p style="text-align: justify">একটা সময়ে ঘরে ঘরে বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল শুক্রবারের সিনেমা। সম্ভবত দুপুর তিনটা বিশের দিকে শুরু হতো বাংলা সিনেমা। তখন শাবানা, আলমগীর জুটির সিনেমা দেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতো অনেকেই। আর আমরা মুখ টিপে টিপে হাসতাম ফুলে ফুলে টোকাটুকি আর এই দৃশ্যের পরপরই শাবানার আচার খাওয়া দেখে।কী বুঝতাম কে জানে, গানের দৃশ্যগুলোতেও এ ওর দিকে তাকিয়ে বাঙময় হাসতাম।<br />
মনে পড়ে, তখন বিশেষ কয়েকজন সংবাদ পাঠকের জন্যই কেবল টেলিভিশনের সামনে অপেক্ষা করতাম না বিশ্ব নাটক আর প্রিয় প্রিয় কিছু বিজ্ঞাপনের জন্যও অধীর হয়ে বসে থাকতাম।</p>
<p style="text-align: justify">পড়া শেষ হলে টেলিভিশনের সামনে বসার অনুমতি মিলবে এই আনন্দে যেন পড়াও মুখস্থ হতো তাড়াতাড়ি।পড়া শেষ হলেই আর পায় কে!<br />
আমজাদ হোসেনের ঈদ নাটকের সংলাপ ‘টেকা দেন দুবাই যামু’, ‘জবা, কুসুম, রোকন, দুলালের মা’, হুমায়ূন আহমেদের বহুব্রীহি নাটকের ‘তুই রাজাকার’ বলা টিয়ে পাখি, অয়োময় নাটকের ছোট মির্জা, এলাচি বেগম আর শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে সম্প্রচারিত নাটক ‘সংশপ্তক’র হুরমতি, কানকাটা রমজান, রাবু আপা, মালুকে মনে পড়ে আজও।</p>
<p style="text-align: justify">মনে পড়ে বিজ্ঞাপন বিরতি&#8230;‘যুগের সাথে চলো, ইকোনো লিখে ভাল, ইকোনো সবার প্রিয়, ইকোনো বলপেন’&#8230;‘আলো আলো বেশি আলো’&#8230;‘তুমি সেই তুলনাহীনা’&#8230;‘ও মানিক কী বাত্তি লাগাইলি’&#8230;‘প্রিয় প্রিয়’&#8230;‘মনে পড়ে মনে পড়ে ফেলে আসা ছেলে বেলা, মনে পড়ে মনে পড়ে হৃদয় মেলতো পাখা&#8230; ‘হারানো সেই দিন, মনে আছে যেনো এখনো সজীব যেনো হয়নি বিলীন&#8230;মনে আছে সেই নীল খাম, চিঠি?’</p>
<p style="text-align: justify">মনে পড়ে, বাসার ছাদে লম্বা বাঁশের মাথায় লাগানো থাকতো টেলিভিশনের এন্টেনা।মেজো আপা ছুটে গিয়ে ছাদে থাকা টিভির এন্টেনা ঘুরাতো আর থেকে থেকে জানতে চাইতো, ‘হইছে&#8230;হইছে?’ ঘর থেকে বড় আপা চিৎকার করে জানান দিতো, ‘হয় নাই&#8230;।’ আচমকা, ‘হইছে’ শুনতে পেলেই সিঁড়িতে মেজোর ধুপধাপ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যেতো, ‘ইস, প্রথমটুকু মিস হয়ে গেলো।’</p>
<p style="text-align: justify">ঐ বয়সটাতে কিছু ‘মিস’ হয়ে গেলেও কিছুই হারাতো না। আর এখন সামান্য কিছু ‘মিস’ হলে সবই যেন হারিয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>পরের পর্ব পড়ুন</strong> : হিম হিম আইসক্রিম দিন</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমুদ্রসমগ্র (পর্ব-২) ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 22 May 2022 11:47:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1934</guid>

					<description><![CDATA[২. আমাদের সাদাকালো জাদুবাকশো যেই ঘরে বসে লিখি সেই ঘর লাগোয়া বারান্দায় সারি সারি টব।মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে মাথাটা একটু জাগালেই দেখতে পাই একটা মাঝারি আকৃতির টবে আরামসে বেড়ে ওঠা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>২. আমাদের সাদাকালো জাদুবাকশো</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">যেই ঘরে বসে লিখি সেই ঘর লাগোয়া বারান্দায় সারি সারি টব।মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে মাথাটা একটু জাগালেই দেখতে পাই একটা মাঝারি আকৃতির টবে আরামসে বেড়ে ওঠা ক্ষীরী বৃক্ষ টগরের দুধ সাদা ফুল।ঐ থোকা থোকা শুভ্র পাপড়ির আড়ালে গোঁজা মৃদু ঘ্রাণ উন্মনা করে।মন ফিরলে কুঞ্জলতার সরু পাতার ভীরু কাঁপন দেখি, দরজায় এলিয়ে থাকা বৃষ্টিধোয়া বাতাস স্পর্শ করি।স্পর্শ করি আঁচলে লুটিয়ে পড়া পাতার সবুজ।</p>
<p style="text-align: justify">এই সবুজ আনন্দ দেয়, বিহ্বল করে।দৃষ্টিসন্ধিতে বিভ্রম তৈরি করে।সবুজ সবুজ মায়া একসময় দুচোখ ঝাপসাও করে তোলে।ঝাপসা দৃশ্যপটে স্পষ্ট হতে থাকে একটি কিশোরীর মুখ।শীর্ণ গড়ন, সাদামাটা শ্যামলা মুখশ্রী, ছোট ছোট চোখ, ভ্রু সন্ধিতে টিপ আকৃতির একটা ছোট্ট আঁচিল।ঐ কিশোরীকে তার ডাকনাম ধরে ডাকলে এখন অনেকেই চিনবে না।</p>
<p style="text-align: justify">এক সময় চিনতো কেউ কেউ।সবচেয়ে বেশি চিনতো কিশোরীর বাবা।<br />
মিতা, রিতা, মুনমুন, জিকু, বিপাশা&#8230;বাবাই প্রথম ওদের চেনে, পৃথিবীকেও চেনায়।কিন্তু এই এইটুকুন বুদ্ধি তখন ওদের।আর টিলো এক্সপ্রেস, বরফ পানি, ইচিং বিচিং চিচিং ছার ঝুঁটি বাঁধা দুরন্ত শৈশব-কৈশোরের কার্যকারণহীন খলবল ছটফটানির দিন।তাই হয়তো ভাইবোন কারোই কোনো কিছুর সঙ্গেই তেমন করে পরিচয় ঘটতো না।ভাবতো, বাবা তো আজীবনই থাকবে; সব চিনে-বুঝে-জেনে-শিখে রাখার দরকার কী।বাবা ছাড়া কাউকে দরকার নেই, কিছুরই দরকার নেই।তাই দরকারে-অদরকারে ডাক পড়তো বাবার।বাবার ডাকাডাকিও শোনা যেত ভোর হলেই।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ, কুসুম কুসুম ভোরে বাবার ঘর থেকে ভেসে আসতো হৈমন্তী শুক্লার কণ্ঠের প্রভাতী সঙ্গীত, ‘ডাকে পাখি খোল আঁখি/দেখ সোনালী আকাশ/বহে ভোরের বাতাস&#8230;।’</p>
<p style="text-align: justify">তখনও ওরা বুঝতো না, রেডিও বা ক্যাসেট প্লেয়ারের সুরে সুরে শুরু হওয়া প্রভাতীয়া লগ্নের মতো ওদের জীবনের শেষ বিলাস হিসেবে সঞ্চয় হয়ে থাকবে বাবার সান্নিধ্যে কাটানো কালটুকুই।তাই ঘুমের বিলাসে ফুলে ফুলে প্রজাপতির দোল দেখার সুযোগ হতো না ভাইবোন কারোই। আলস্যে গড়িয়ে শুধু টের পেতো বাবার ঘরে সকাল এসেছে অনেক আগেই।</p>
<p style="text-align: justify">বাবার কল্যাণে শুধু সকাল নয়, ঐ বাড়িতে সন্ধেও আসতো দ্রুত।সন্ধে হলেই ঘরে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে লতা মঙ্গেশকর গেয়ে উঠতেন, নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা বুঝিবা পথ ভুলে যায়/নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা বুঝিবা পথ ভুলে যায়/কুলায় যেতে যেতে কি যেন কাকলী আমারে দিয়ে যেতে চায়/নিঝুম সন্ধ্যায়&#8230;<br />
‘দূর পাহাড়ের উদাস মেঘের দেশে, ওই গোধূলির রঙিন সোহাগ’ মিশে যেতে যেতে রাতও নেমে আসতো দ্রুত।মফস্বলী জীবনে রাত মানেই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ঘুমের সঙ্গে সমঝোতা।</p>
<p style="text-align: justify">তখন তো আর স্মার্টফোনের যুগ ছিল না যে ঘুমানোর সময় গিলে খাবে। পরিপাটি শোপিসে ঠাসা ড্রইংরুমের আভিজাত্যও ছিল না তখন। মধ্যবিত্তের ঘরে আভিজাত্য বলতে ছিল একটা অতিকায় ল্যান্ডফোন আর মেহমানদের বসার জন্য সংরক্ষিত সোফার ওপরে মায়ের হাতে নকশাতোলা সোফাম্যাট আর কুশন কভার।মেহমান না এলে রোজ সন্ধ্যায় একসঙ্গে পড়তে বসা, পড়া শেষে একসঙ্গে পাত পেতে বসে খেয়ে নিতেই ঘুমানোর সময় চলে আসতো।</p>
<p style="text-align: justify">অবশ্য টেলিভিশন সচল হলেই ছক বাঁধা রুটিন পাল্টে যেতো।জীবনে আনন্দের সীমাও থাকতো না।চকচকে পেট, ফোলা পিঠের ঢাউস আকৃতির ঐ টেলিভিশনই তখন ছিল ওদের জীবনের একমাত্র জাদুবাকশো।</p>
<p style="text-align: justify">সেইসব রঙিন দিনে ওদের চমকে দিতে সাদাকালো জাদুবাকশে সম্প্রচারিত হতো বিটিভি।বিটিভি মানেই চারকোনা এক লোগো, বাসার ছাদে বাঁশের আগায় ঝুলানো টিঙটিঙে বাহুর একটা অ্যান্টেনা, টেলিভিশনের পেছনে জ্যাকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জানালার গ্রিলের ফাঁক গলে যাওয়া দীঘল কালো তার আর ঝিরঝির ঝিরঝির ব্যাকগ্রাউন্ড।</p>
<p style="text-align: justify">শুধু ওদের কেন, ঐ ঝিরঝিরে ব্যাকগ্রাউন্ডেই মধ্যবিত্ত প্রতিটা পরিবারের রংধনু জীবনের বিলাসী মুহূর্তগুলো আটকে থাকতো।</p>
<p style="text-align: justify">পরের পর্ব পড়ুন : <strong>বিটিভির সঙ্গে</strong></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
