<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাইফ বরকতুল্লাহ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AB-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Thu, 27 Mar 2025 20:12:00 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>সাইফ বরকতুল্লাহ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-৫) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/28/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/28/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 27 Mar 2025 20:12:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3385</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৫ ॥ পাঁচ দিন পর নঈম-ঈদ তো চলে আসলো।ঈদ আসার কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়ি ফেরা মানুষগুলো ফিরে যায় তার শিকড়ের কাছে, ভালোবাসার মানুষদের কাছে।কখনো দৃশ্যমান কখনো বা অদৃশ্য মমতার টানে। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>পর্ব-৫</strong> ॥ পাঁচ দিন পর<br />
নঈম-ঈদ তো চলে আসলো।ঈদ আসার কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়ি ফেরা মানুষগুলো ফিরে যায় তার শিকড়ের কাছে, ভালোবাসার মানুষদের কাছে।কখনো দৃশ্যমান কখনো বা অদৃশ্য মমতার টানে। নীরব ঘরখানি, শূন্য উঠোনখানি তখন কোলাহলে মেতে ওঠে।কোথায় ঈদ করবি তুই?<br />
নীলা-ঈদ নিয়ে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস নেই।ঈদ আসলেই কি, না আসলেই কি।আমি বাবা-মার স্নেহের ছায়ায় ছিলাম নির্ভার।মনে হতো, বাবা-মায়ের ভালোবাসার আলোয় আমার জীবনে কোনো অন্ধকার আসবে না।বাবা-মা কেউ নেই।আমার চারপাশে সব আছে, কিন্তু এক অপার শূন্যতা যেন আমায় ঘিরে রাখে সারাক্ষণ।ঈদের সেই আনন্দ নেই।তর কি অবস্থা?<br />
নঈম-এই তো কেটে যাচ্ছে। ঈদের পর গ্রামে যেতে পারি। কুশিগাঙ নদী পরিদর্শনে।<br />
নীলা-ওখানে কেন?নদীর নামটা এমন কেন?<br />
নঈম-তুমি তো জানো, নদী নিয়ে গবেষণা করি আমি। সেদিন খবরের কাগজে দেখলাম, সিলেটের সুরমা নদীর অন্যতম উপশাখা কুশি নদী। কুইগাঙ বা কুশিগাঙ নামে নদীটি বেশি পরিচিত।সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার হাওর থেকে প্রবাহিত পাবিজুড়ি, কাফনা ও করিস নদীর সমন্বিত অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে ‘কুশি নদী’। বিভিন্ন হাওর-বিল হয়ে ৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটি মিলিত হয়েছে সিলেট নগরের সুরমা নদীর কুশিঘাট এলাকায়।সিলেটের সুরমা নদীর সঙ্গে জৈন্তাপুরের সারি নদীর একমাত্র সংযোগ নদী কুশিগাঙ। মোগল আমলে উত্তর-পূর্ব সিলেটের পাহাড়ি জনপদে চলাচল ও বাণিজ্যের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম ছিল কুশিগাঙের নদীপথ। স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদীটি আশপাশের অঞ্চলে পানিপ্রবাহ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে পানির চাহিদা পূরণ করে এলেও এখন নিজেই ধুঁকে ধুঁকে মরছে নদীটি।হারিয়েছে গতিপথ, ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর বিভিন্ন স্থান।বর্ষাকালে পানিতে টইটম্বুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি যেন মৃত খাল।এ সময়ে নদীর দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই সবজি চাষ করেন।নদীর বুকে পড়ে থাকে মাছ ধরার নৌকা।খননের উদ্যোগ নিলে প্রাণ ফিরে পাবে নদীটি। এজন্য যাব সেখানে। নদীটির প্রাণ ফেরার উদ্যোগ নেব।<br />
নীলা-গুড, গুড, গুড।<br />
নঈম-যাবি আমার সাথে সিলেটে?<br />
নীলা-ঈদের পর হলে যাওয়া যায়।দেখি ছুটি যদি কয়েকদিন বেশি নিতে পারি, জানাব তকে।<br />
নঈম-আরে চল, নদীর কাছে গেলে মন ভালো হয়ে যাবে।নদীর পানি, নদীর পাড়, নদীর পাড়ে বালু, কাদায় হাঁটলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হবে।নদীর পাশে বিস্তীর্ণ সোনালি ফসলের মাঠ, সঙ্গে নীলাভ আকাশ।ফসলি জমির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদী, কলকল ধ্বনিতে পানি প্রবাহিত হয়।এসব দৃশ্য দেখে যেন নদীর কাছে মায়া হয়।তর মন এমনিতেই সতেজ হয়ে যাবে। আমার বাড়িটা যদি নদীর কাছে হতো।<br />
নীলা-ছোটবেলায় আমি একবার যমুনার পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম।রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে করিয়ে দিলি,<br />
“আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে,<br />
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।<br />
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,<br />
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।<br />
চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,<br />
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।”অসাধারণ একটি কবিতা।<br />
নঈম-আমার একটা ফোন আসছে, ভালো থাক, কথা হবে। ঈদ শুভেচ্ছা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/28/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-৪) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 Mar 2025 18:53:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3381</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৪ : নঈম-চলে আসছি। নীলা-তুই তো জানিস, আমি কিভাবে বড় হয়েছি।বাবা ছাড়া বিশটা বছর আমি।মা যে এতো কষ্ট করলেন, মায়ের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।যতবার চোখ বন্ধ করে ভাবি, মনে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>পর্ব-৪ :</strong> নঈম-চলে আসছি।<br />
নীলা-তুই তো জানিস, আমি কিভাবে বড় হয়েছি।বাবা ছাড়া বিশটা বছর আমি।মা যে এতো কষ্ট করলেন, মায়ের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।যতবার চোখ বন্ধ করে ভাবি, মনে হয় মা পাশে বসে আছেন।কিন্তু চোখ খুললেই বাস্তবতা কষ্ট দেয়।সত্যি কথা বলতে কি, মাকে ইদানীং খুব খুব মনে পড়ে।জীবনের পথে যতই এগিয়ে যাই না কেনো, মায়ের শূন্যতা আমাকে পীড়া দেয়।আসলে জীবনের কথা ভাবলে নিজেকে ফাপুর ফাপুর লাগে।সময় কত দ্রুত চলে যায়।মায়ের সেই রাগ করে কথা বলার মুহূর্তগুলোর কথা এখনো কানে বাজে।<br />
নঈম-রিলাক্স, বিষয়গুলো ইজিভাবে নে।এতো নস্টালজিয়ার কী আছে!<br />
নীলা-বিশ্বাস কর নঈম, আমার পরিচিতজনেরা মানে কাছের মানুষ যারা তারা বলেছে, ‘আমি বিয়ে করছি না কেন? আমার কি কোনো সমস্যা আছে?’ মেজাজটা এতো খারাপ তরে বলে বুঝাতে পারব না।<br />
নঈম-শোন, রান্না ঘরে যা, চিনি ছাড়া এক কাপ রঙ চা বানিয়ে খা। দেখ, নিজেকে হালকা লাগবে।যা দ্রুত..।<br />
নীলা-চা খেতে ইচ্ছে করছে না।<br />
নঈম-আরে ধুর! যা, আমি বলছি প্লিজ..।<br />
নীলা-উহ!!</p>
<p style="text-align: justify">দশ মিনিট পর<br />
নঈম-চা খাচ্ছস?<br />
নীলা-হ্যাঁ।<br />
নঈম-সেদিন তোর কবিতা আবৃত্তি শুনে আজ ফেসবুকে একটা কবিতা পড়লাম।কাজী লাবণ্যর লেখা ‘পরিযায়ী পাখি’ শিরোনামে কবিতার শেষ লাইনটা অনবদ্য।শেষ লাইনটা এরকম-“ভালোবাসা দূরে গেলে, এ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ ছাড়া, কোনো কিছুই থেমে থাকে না।”<br />
নীলা-আসলেই দুর্দান্ত।পুরো কবিতার লিংকটা ম্যাসেঞ্জারে দিয়ে রাখিস।</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-৩) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/23/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/23/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 22 Mar 2025 19:01:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3377</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৩ : নঈম-শোন, ঈদানীং রাস্তায় বের হলেই মানুষ দুঃখের গল্প শোনাতে চায় আমাকে।ব্যাপারটা কেমন বল তো, নীলা-বুঝিনি।বুঝায়ে বল। নঈম-গতকাল তিনটি জায়গায় গেলাম।প্রথমে বাসে গেলাম।বাসে একজন যাত্রী আমাকে তার জীবনের গল্প &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><strong>পর্ব-৩ :</strong> নঈম-শোন, ঈদানীং রাস্তায় বের হলেই মানুষ দুঃখের গল্প শোনাতে চায় আমাকে।ব্যাপারটা কেমন বল তো,<br />
নীলা-বুঝিনি।বুঝায়ে বল।<br />
নঈম-গতকাল তিনটি জায়গায় গেলাম।প্রথমে বাসে গেলাম।বাসে একজন যাত্রী আমাকে তার জীবনের গল্প শোনাতে শুরু করলেন। তার ভাইকে নাকি জ্বিনে ভর করেছে।এরপর আরেক জায়গায় গেলাম লেগুনায়।এমন সময় একজন লেখক ফোন দিয়ে বলেন, ‌‍“ভাই একটা চাকরি দরকার। আগে যেখানে চাকরি করেছি, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্টটি বন্ধ হয়ে গেছে। জানেন তো ঢাকায় প্রচুর খরচ। চাকরি দরকার।” শেষে রাতে বাসায় ফিরছিলাম অটোরিকশায়। অটোরিকশার ড্রাইভার শুরু করলেন এই বলে, “ভাই এই ঢাকায় কেউ আসে টাকা ধরতে, কেউ আসে টাকা বিলাইতে, কেউ আসে টাকা পাহারা দিতে। কত রকমের মানুষ যে এই শহরে।”<br />
নীলা-ভালো তো। তরে সবাইকে জীবনের চিত্রগুলো দেখায়-বিষয়টি খারাপ না।হয়তো তাদের দুঃখগুলো বলে কিছুটা তারা মেন্টালি চাপ কমায়।এটা তুই পজিটিভলি ভাবিস।<br />
নঈম-সত্যি বলতে কি, আমি যেমন তরে সব বিষয়ে শেয়ার করতেছি। ঠিক তেমনি আমি যখন রাস্তায় চলি, আশেপাশের মানুষগুলোর গল্প শোনার চেষ্টা করি।এই বিচিত্র জীবনযাপনের আখ্যানগুলো শোনার চেষ্টা করি। কেন জানি ওরাও আমাকে ফ্রাঙ্কলি বলে দেয়। ইন্টারেস্টিং।<br />
নীলা-তর জীবনটাও তো গল্পের মতোনই।<br />
নঈম-হ।<br />
নীলা-জীবন নিয়ে জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা আছে। তিমিরহননের গান শিরোনাম। তরে শোনাচ্ছি-“কোনো হ্রদে<br />
কোথাও নদীর ঢেউয়ে<br />
কোনো এক সমুদ্রের জলে<br />
পরস্পরের সাথে দু-দণ্ড জলের মতো মিশে<br />
সেই এক ভোরবেলা শতাব্দীর সূর্যের নিকটে<br />
আমাদের জীবনের আলোড়ন-<br />
হয়তো বা জীবনকে শিখে নিতে চেয়েছিলো।”<br />
নঈম-বাহ! দারুণ তো।আসলে জীবনানন্দ দাশের কবিতার কথা অনেক শুনেছি।কিন্তু কখনো এভাবে ভাবিনি।তবে কিছুদিন আগে ফেসবুকে জীবন নিয়ে একটা পোস্ট দেখেছিলাম, “Life is what happens while you are busy making other plans”। এই কথাটিও ভালো লেগেছে।<br />
নীলা-কাল কি তুই বিজি থাকবি?<br />
নঈম-কেন?<br />
নীলা-হসপিটালে যেতে হবে।<br />
নঈম-কে অসুস্থ?<br />
নীলা-আমার কলিগের ছেলেটা হাসপাতালে ভর্তি।দেখতে যাওয়া দরকার।<br />
নঈম-যা। আমার সময় হবে না। অফিসের কাজের চাপে চেপ্টা হয়ে যাচ্ছি।ওই শোন, চা খেয়ে আবার আসছি..ওয়েট।<br />
নীলা-ওকে।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/23/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-২) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Mar 2025 18:53:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3368</guid>

					<description><![CDATA[কুশিগাঙ (পর্ব-২):  নঈম-গত কয়েকদিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ মাগুরার মেয়েটা মারা গেছে, জেনেছস কিনা? নীলা-না! তো। কবে মারা গেলো? সারা দেশে তো ওর ধর্ষণের ঘটনায় বেশ তোলপাড় দেখলাম। নঈম-কয়েকটি গণমাধ্যমে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>কুশিগাঙ (পর্ব-২): </strong></span> নঈম-গত কয়েকদিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ মাগুরার মেয়েটা মারা গেছে, জেনেছস কিনা?<br />
নীলা-না! তো। কবে মারা গেলো? সারা দেশে তো ওর ধর্ষণের ঘটনায় বেশ তোলপাড় দেখলাম।<br />
নঈম-কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ দেখলাম, সংবাদে ওই শিশুটির মাকে বলতে শোনা যায়, “আমার মণি যেভাবে মরছে, আমি তারও (অপরাধীর) ফাঁস দিয়ে বিচার চাই। (তার) এরম মৃত্যু চাই আমি, আমার মণির যেমন বেলেড দিয়ে কাটছে, গলায় ফাঁস দেসে, ঠিক সেরকম বিচার চাই আমি আপনাদের কাছে।ওরে যেন ওইরকম ফাঁসি দিয়ে মারে।ওরকম যেন ওরে বেলেড দিয়ে কাটে। আমার মেয়েটারে যে কষ্ট দিছে না? আমি তারেও এরকম দেখতে চাই।”<br />
নীলা-সত্যিই বেদনাদায়ক।সিনেমাতেও মনে হয় এরকম ঘটনা ঘটে না। মেয়েটির ক্ষেত্রে যা ঘটলো।এই ঘটনার অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।<br />
নঈম-শোন, ইদানীং সন্ধ্যাগুলো কেমন বিষণ্ন হয়ে যাচ্ছে।সময়গুলো যাচ্ছে আর আঁধার কাটছেই না।<br />
নীলা-হ্যাঁ, তবে আঁধারের পরই কিন্তু আলো আসে। সুতরাং এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আজ ডিনার কই করবি?<br />
নঈম-ভরপুর ইফতারি খেয়েছি।ডিনার নাও করতে পারি।<br />
নীলা-আমার অফিসে কয়েকটি দিন খুব ঝামেলা যাচ্ছে রে। আর ভাল্লাগে না।এতো কাজের চাপ।তর অবস্থা কী?<br />
নঈম-ভাইয়া আজ ফোন দিয়ে জানালো, আগামী জুনে দেশে আসবে। হয়তো বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়। আমি আছি, কেটে যাচ্ছে। নতুন চাকরি খুঁজছি।<br />
নীলা-কেন? এই চাকরি সমস্যা কী?<br />
নঈম-নানার ধরনের সমস্যা। কয়টা তকে বলবো?<br />
নীলা-আগেই ছাড়িস না।ভালো একটায় জয়েন কর, তারপর। তা নাহলে তো বিপদে পড়বি।<br />
নঈম-তা ঠিক বলেছস। দেখি কী করা যায়। ভাইয়া এলে তো আরো কাজের চাপে পড়বো।<br />
নীলা-তো সমস্যা কী! ম্যানেজ করে নিবি। প্রতিদিন পরিকল্পনা করে কাজ করবি। দেখবি সব সহজ হয়ে গেছে।<br />
নঈম-তর বিয়ের কথা শুনেছিলাম। কী অবস্থা?<br />
নীলা-আরে ধুর! বিয়েশাদী নিয়ে আপাতত ভাবছি না।স্কলারশিপটা হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। আপাতত মাথায় এটাই রাখছি।<br />
নঈম-কোন দেশে অ্যাপ্লাই করেছিস?<br />
নীলা-আচ্ছা কনফার্ম হোক। তখন জানাবো।<br />
নঈম-আজ বাইরে আবহাওয়াটা বেশ রোমান্টিক।<br />
নীলা-বের হো, ঘুরে আয়।<br />
নঈম-একা যাব?<br />
নীলা-তর না অনেক বন্ধু, কাউকে ম্যানেজ কর।<br />
নঈম-হুম।একটাও কাজের না। হুদাই সব।<br />
নীলা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু নিয়ে একটা কবিতা আছে, নাম ‍‘দুই বন্ধু’। পড়েছিস?<br />
নঈম-আরে না! আমার কবিতা-টবিতা পড়ার অভ্যাস নাই।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Mar 2025 19:36:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3364</guid>

					<description><![CDATA[হ্যালো নীলা-কী খবর? নঈম-কোন খবর চাও? নীলা-এই তো দিনকাল কেমন চলছে? নঈম-কেটে যাচ্ছে।তোমার অবস্থা কী? নীলা-এই তো, শীত চলে গেলো।গরম বেশ ভালোই পড়েছে। রমজান মাসও চলে যাচ্ছে। নঈম-হুম।এবার তারাবি পড়তে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">হ্যালো নীলা-কী খবর?<br />
নঈম-কোন খবর চাও?<br />
নীলা-এই তো দিনকাল কেমন চলছে?<br />
নঈম-কেটে যাচ্ছে।তোমার অবস্থা কী?<br />
নীলা-এই তো, শীত চলে গেলো।গরম বেশ ভালোই পড়েছে। রমজান মাসও চলে যাচ্ছে।<br />
নঈম-হুম।এবার তারাবি পড়তে পারছি না।<br />
নীলা-হুম, তুমি তো বিজি। আর কি খবর? বিশ্ব রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে?বড় বড় নেতাদের যে কথার কূটনীতি দেখছি, তাতে তো মনে হয় সামনে অস্থিরতা আরো বাড়বে।<br />
নঈম-ধুর!! রাজনীতির খবর কে রাখে! তবে ইদানীং দেখছি বিশ্ব মিডিয়ায় নানা রকম হাস্যকর খবর।‘৫০ দিনে যেভাবে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিলেন ট্রাম্প’-এমন একটি নিবন্ধ পড়লাম নিউইয়র্ক টাইমসের সিনিয়র সাংবাদিক ডেভিড ই স্যাংগার লেখা। তিনি লিখেছেনে, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫০ দিনে এমন অনেক কাজ করেছেন, যা দেশটির আধুনিক ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট করেননি। তাঁর এসব কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি খোলনলচে বদলে দিচ্ছে।”<br />
নীলা-হাস্যকর খবর আবার কী রকম?<br />
নঈম-হ্যাঁ, ঠিক তোমার হাসির মতোই।<br />
নীলা-আমার হাসি কী খারাপ?<br />
নঈম-আমি কি বলেছি খারাপ?<br />
নীলা-ধুর! আমার হাসির জন্য কত ছেলেই তো প্রেম করতে চাইলো, আর তুমি হাসি নিয়া কথা বললা।ঠিক আছে ফোন রাখছি।<br />
নঈম-কাজুও ইশিগুরুর গল্প পড়ছিলাম আর তর সঙ্গে কথা বলছিলাম। শোন, রাগ করিস না, আসলে তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর সিরিয়াসলি বলছি। চলো, একদিন একসাথে ইফতারি করি।<br />
নীলা-আমার হাসির প্রশংসা করতে হবে না। ইফতারি করার টাইম নাই।ওই সময় আমি বিজি থাকি।<br />
নঈম-এটা কেমন কথা?<br />
নীলা-এটাই বাস্তব।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমাকে লেখক বানিয়েছে আমার জীবনের ফাঁদ।মানুষের জীবন ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়: নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/02/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/02/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 29 Feb 2024 16:03:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3140</guid>

					<description><![CDATA[নুসরাত সুলতানা। দ্বিতীয় দশকের কবি এবং গল্পকার।তাঁর কবিতায় যেমন রয়েছে উপমা, উৎপ্রেক্ষা আর গভীর বোধের সম্মিলন।তেমনি গল্পেও রয়েছে দারুণ ন্যারেটিভস সমৃদ্ধ দৃশ্যকল্প এবং চিত্রকল্প।১ মার্চ তার জন্মদিন।এ উপলক্ষে লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>নুসরাত সুলতানা। দ্বিতীয় দশকের কবি এবং গল্পকার।তাঁর কবিতায় যেমন রয়েছে উপমা, উৎপ্রেক্ষা আর গভীর বোধের সম্মিলন।তেমনি গল্পেও রয়েছে দারুণ ন্যারেটিভস সমৃদ্ধ দৃশ্যকল্প এবং চিত্রকল্প।১ মার্চ তার জন্মদিন।এ উপলক্ষে লেখালেখি, সংস্কৃতিচর্চা এবং সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইফ বরকতুল্লাহ।</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: কথাসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলো কেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> দ্বিতীয় মেয়াদে লিখতে শুরু করি ২০১৭ সালে।মাকে হারিয়ে তখন মানসিক ভারসাম্যহীন।তখন লিখতে শুরু করি কবিতা। প্রথম কবিতাও মাকে নিয়ে।২০১৮ সালে প্রথম গল্প লিখি।খুব কাছের একজন বলেছিলেন-তুমি গল্প লিখতে পারবে না।তাঁর এক মেয়ে বন্ধু ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপে বেশ জনপ্রিয় গল্পকার।সেই তখন থেকে জিদ চেপে যায়।কী গল্প লিখতে পারবো না! এসব কারণ ছাড়াও গল্পের প্রতি দিন দিন সমর্পণ বেড়েছে তার শিল্প সম্ভারের কারণে।আসলে কথাসাহিত্য ছাড়া সমাজ এবং সম্পর্ককে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কতটা সম্ভব!</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: ছোটোবেলা থেকেই লেখক হওয়ার স্বপ্ন ছিল কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> নাহ।একেবারেই লেখক হতে চাইনি।পাঠক ছিলাম। বরং অনেক লেখা মাথায় আসত আমি লিখতাম না।আর সুনীলের প্রেমিকা মার্গারেট মাতিয়্যুর মতো আমিও ভাবতাম-এত লেখকরা লিখে গেছেন।আমার আর লেখার কী দরকার? বরং আমি পড়ি।আমাকে লেখক বানিয়েছে আমার জীবনের ফাঁদ।মানুষের জীবন ফাঁদ ছাড়া আর কিছু নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি যখন গল্প লেখেন, তখন ঠিক কোন বিষয়টির প্রতি বেশি মনোযোগ দেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> ভাষায় নিজস্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করা, দৃশ্যকল্প, চিত্রকর কল্প, ন্যারেটিভস এবং চরিত্রের শক্তিশালী দিকগুলো যেন দৃশ্য কল্পের ভেতর প্রতিফলিত হয়।আরও একটা বিষয় খেয়াল রাখি-সেটি হলো নদীর মতো গল্পটার যেন একটা পরিভ্রমণ থাকে।গল্পের সাথে পাঠকের মননের যেন একটা সুগভীর পরিভ্রমণ সংঘটিত হয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন।লিখতে গিয়ে অনেকের লেখাই পড়েছেন।একটি সার্থক লেখার গুণাবলী কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন? গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> সার্থক লেখা যেমন সেই জনপদের ইতিহাস, জনজীবন, সংস্কৃতিকে নিংড়ে বেড়ে ওঠে তেমনি তার শিল্পগুণে হয়ে ওঠে বৈশ্বিক।আরও একটা বিষয় হলো-উত্তীর্ণ একটা লেখায় যেমন আপনি সমকালকে নিবিড়ভাবে পাবেন।তেমনি তার আবেদন থাকবে চিরকালীন।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় বিষয়ে আসি, গল্প লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক মনে হয়-গল্পটাকে বোঝা।গল্পের সময় এবং সংস্কৃতিকে মূর্ত করে তোলা ভাষা এবং দৃশ্য কল্পের ভেতর।লেখকের নিজস্ব জীবন দর্শন চরিত্রের জীবনাচরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-3144 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n99-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n99-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n99.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: পুরস্কার নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে।আপনি পুরস্কারকে কোন চোখে দেখেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> পুরষ্কার লেখককে লেখক হয়ে উঠতে বাধাগ্রস্ত করে। প্রতিষ্ঠা লেখকের জন্য নয়।গুরুত্বহীন অনেক পুরষ্কার পেয়ে পেয়েও লেখক নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করেন এবং আত্মতুষ্টিতে ভোগেন।যা নিজেকে ভাঙার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।লেখক হওয়ার জার্নিটা আমৃত্যু।বহমানতাই শিল্পের গন্তব্য।তবে গ্রহণযোগ্য পুরষ্কার লেখককে আত্মবিশ্বাস যোগায়।কিন্তু প্রায় সব পুরষ্কারই তার স্বচ্ছ্বতা এবং গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বর্তমান ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের কল্যাণে সাহিত্যচর্চা যেমন বেড়েছে, তেমন সাহিত্যের চৌর্যবৃত্তিও বেড়েছে।এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় আছে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> চোর একটা টেক্সট চুরি করতে পারে।লেখকের মনন, মেধা, প্রজ্ঞা চুরি করতে পারে না।চাঁদ কখনো সূর্যের মতো উত্তাপ ছড়াতে পারে না।তাই চোরের কাজ চোর করুক, লেখকের কাজ লেখক করুক।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: সাহিত্যচর্চা করতে গিয়ে কখনো কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন? যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তারা কারা? কিংবা সেই প্রভাবের ধরনটি কেমন হতে পারে?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> খুব ছোটবেলায় নজরুলকে অনেক পড়তাম।তারপর রুদ্র, রফিক আযাদ, সুকান্ত ভট্টাচার্য এরপর ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করি-শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শংখ ঘোষ, বিনয় মজুমদার, জীবনানন্দ এদের। এতো গেলো কবিদের কথা।গল্প বা উপন্যাসের কথা যদি বলি-রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প, উপন্যাস খুব পড়েছি।তিন বন্দোপাধ্যায়ের প্রত্যেকেই খুব প্রিয়।এদের ভেতর মানিক আমাকে খুব কষ্ট দেয়।যখনই ভাবি মানিকের মতো হতে পারব না তখনই বুকের ভেতর কষ্ট হয়। তারপর আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস, শহীদুল্লাহ্ কায়সার, আলাউদ্দিন আল আযাদ,শহিদুল জহির, সৈয়দ শামসুল হক, জাকির তালুকদার এদের প্রচুর পড়েছি।আমার লেখক মানসে এদের প্রভাব অবশ্যই আছে।</p>
<p style="text-align: justify">আরও স্পষ্টত বলতে গেলে আমার মনে হয়, মানিক বন্দোপাধ্যায়, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাকির তালুকদার এরা আমার লেখক মানসকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছেন।সেই প্রভাব চিন্তায়, মননে এবং গল্প বলার ঢংয়ে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনি তো কবিতাও লিখছেন।কিন্তু দেখা যাচ্ছে কথাসাহিত্যে আপনার আগ্রহ বেশি।কবি না কথাসাহিত্যিক-কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> আমি লিখি সকল প্রাণের বেদনার অবমুক্তি।লিখি উদীয়মান সূর্যের কথা, গর্ভজাত ফসলের কথা আর বহমান জীবন নদীর ধারা। কোনো পরিচয়েই অস্বাচ্ছন্দ্য নেই।পাঠক তার অভিরুচি অনুযায়ী পড়বে।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3146 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n98989-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n98989-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/02/n98989.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার সমসাময়িক ও অনুজদের মধ্যে কার কার গল্প আপনাকে আকৃষ্ট করে কিংবা কাকে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> অনেকের লেখাই তো পড়ি।এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ইশরাত তানিয়া, মোস্তফা অভি, নাহার তৃণা।আনিফ রুবেদ ভিন্ন স্টাইলের গল্প লিখেন।আব্দুল আজিজের গল্পের সাথে বেশ ভালো বোঝাপড়া আছে।ইসরাত জাহান আগের চেয়ে ভালো করছেন।সাইফ বরকতুল্লাহর গল্প বলার ঢং অন্যদের চেয়ে আলাদা।আরও অনেকের লেখাই পড়ি এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনার কতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে? বইগুলোর বিষয়বস্তু কী?</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> এ পর্যন্ত (২০২৪) আমার সাতটি বই প্রকাশিত হয়েছে। চারটি কবিতা, দুটি গল্প এবং একটি গদ্য।বিষয় তো অবশ্যই মানুষ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: তরুণদের মধ্যে যারা লিখতে চান, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ-</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> অবশ্যই পড়াশোনা করা জরুরি।নিজের ইতিহাস, সংস্কৃতি, উত্তীর্ণ সাহিত্য সব খুব ভালো করে পড়তে হবে।সেই সাথে বিশ্ব সাহিত্যের ক্লাসিকগুলো যতটা পড়া যায়।সময়কে পর্যবেক্ষণ করতে হবে খুব মনযোগের সাথে।সাথে প্রয়োজন মানুষ এবং প্রকৃতি।প্রস্তুতি ছাড়া লিখতে আসা উচিত নয় কোনোভাবেই।লেখালেখি কোনো লুডু খেলা নয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: বাংলা সাহিত্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।</span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> সাহিত্য জীবন আর সময়ের প্রতিচ্ছবি।সময় যেমন বহমান তেমনি নিগুঢ় পর্যবেক্ষকও।যা ধরে রাখার যোগ্য তা ঠিকই ধরে রাখে।সব কলহ এড়িয়েও কিছু ভালো কাজ যেমন এখনো হচ্ছে ভবিষ্যতেও হবে।প্রত্যেকে তার কাজটি করে গেলেই মোক্ষ মিলবে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">সাইফ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ </span><br />
<span style="color: #ff0000">নুসরাত সুলতানা:</span> আপনাকেও অজস্র ধন্যবাদ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/02/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নদী ও সমুদ্রের গান ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/01/20/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/01/20/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 20 Jan 2024 03:40:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3067</guid>

					<description><![CDATA[শীতের সন্ধ‌্যা। কুয়াশামাখা আকাশে আপন মনে উড়ে গেল বকের সারি। ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। রাত বাড়ছে। অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। সঙ্গী চাঁদ-তারার হাসি, সমুদ্র, জলরাশি আর রাতের আকাশ। আমরা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শীতের সন্ধ‌্যা। কুয়াশামাখা আকাশে আপন মনে উড়ে গেল বকের সারি। ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। রাত বাড়ছে। অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। সঙ্গী চাঁদ-তারার হাসি, সমুদ্র, জলরাশি আর রাতের আকাশ।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা তখন ঢাকা বিআইডব্লিউটিসি থেকে ইলিশার (ভোলা) দিকে যাচ্ছি। এমভি অ‌্যাডভেঞ্চার-৩ জাহাজে প্রথম যাত্রা বিরতি হবে ভোলার চরফ্যাশন বেতুয়া লঞ্চঘাটে। ৩০০ কিলোমিটার নৌ-পথ! বিকেল সাড়ে তিনটায় জাহাজ ছাড়ার কথা ছিলো। কিন্তু সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার। ঢাকার রাস্তায় প্রচণ্ড জ‌্যাম! দুইশ ত্রিশ জনের দল। অনেকেই সময় মতো পৌঁছুতে পারেননি। হঠাৎ দেখি জাহাজটা কেঁপে উঠল। জাহাজের দড়ি পন্টুন থেকে আলাদা হতে শুরু করল। যাত্রী ঠিকঠাক উঠল কিনা দেখার জন্য সার্ভেয়ার ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছেন। অবশেষে জাহাজ ছাড়ল সন্ধ‌্যা সাড়ে ছটায়।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3069 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমরা লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি। কেউ ছবি তুলছেন। কেউ সেলফি। এরই মধ‌্যে জাহাজ ভ্রমণের সমন্বয়কারী সবাইকে কেবিনের চাবি এবং ভ্রমণের নির্দেশনা বুঝিয়ে দিলেন। তখন সময় রাত প্রায় নয়টা। আমরা কয়েকজন ডেকে দাঁড়িয়ে জল দেখছি। শীতের রাতে হিমেল বাতাস এসে শরীরে লাগছে। অন্যরকম এক অনুভূতি। আকাশে তখন তারার আলো। আনমনেই শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। এরই মধ্যে ঘোষণা এলো জাহাজের নিচতলায় কুপন দেওয়া হবে। নাস্তা আর গিফট হিসেবে রয়েছে ব‌্যাগ।</p>
<p style="text-align: justify">নিচ তলা অডিটরিয়ামের মতো। একপাশে চায়ের দোকান। রাত বাড়ছে। ব‌্যান্ড দল ‘আপনঘর’-এর গান চলছে। অনেকেই গান শুনছেন। কেউ নাচছেন। কেউ চা, কফিতে ব‌্যস্ত। রাত তখন তিনটা। আমি জাহাজের ডেকে চলে এলাম। মাস্টারের রুমে গেলাম। কিছুক্ষণ মাস্টার নাসির ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করলাম। কীভাবে তারা জাহাজ চালায়, কীভাবে দিক নির্ণয় করে সামনে এগিয়ে যায়, পানি কম না বেশি কীভাবে জানাতে পারে- এসব নানা বিষয়ে কথা বলে জানার চেষ্টা করলাম।</p>
<p style="text-align: justify">বুঝতে পারলাম ঘুম পাচ্ছে। সকাল ছয়টায় বের হয়ে অফিস শেষ করেই জাহাজে এসে উঠেছি। আমি নাসির ভাইয়ের রুম থেকে আবারও নিচে চলে এলাম। রং চা আর বিস্কুট খেয়ে শরীর চাঙা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু না, শরীর ঘুমে ভেঙে পড়ছে। রাত চারটার দিকে জাহাজের দো’তলায় ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে কম্বল মুড়িয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর হঠাৎ হইচইয়ে ঘুম ভেঙে গেল। সময় তখন ভোর সাড়ে চারটা। পরে জানতে পারি ছোটো ছোটো নৌকার লাইট চারদিক থেকে আমাদের জাহাজের দিকে আসছিলো। ফলে অনেকেই ডাকাত মনে করে চিৎকার দিয়েছে। এরপর আর ঘুম হয়নি। চেয়ার থেকে উঠে আবারও চলে যাই ডেকের সামনে। উদ্দেশ‌্য সূর্যোদয় দেখা।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-3070 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri5-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri5-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri5.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">রাত শেষে ভোরে সূর্য ওঠার অপেক্ষায়। আমি ডেকে দাঁড়িয়ে আছি। বাতাস আর ঢেউয়ে শীত শীত অনুভব হচ্ছে। এরই মধ্যে সূর্য দেখা যাচ্ছে। ছবি তুললাম। ভিডিও করলাম। নতুন সূর্য আর পানির ঢেউয়ের ছন্দ আমি হারিয়ে গেলাম অন্য এক ভুবনে।</p>
<p style="text-align: justify">সূর্য আর পানির ঢেউ দেখতে দেখতে বেতুয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছে যাই। সময় তখন সকাল আটটা। ঘাটে পা রাখতেই চোখ জুড়িয়ে গেল। সামনে বিশাল মেঘনা। কিন্তু মনে হবে বিশাল জলরাশির মেঘমাল্লার। মনে হবে যেন সমুদ্র। জল, জল, জল আর পানির ঢেউয়ের ছন্দ।</p>
<p style="text-align: justify">বেতুয়া লঞ্চঘাটে নেমে কিছুক্ষণ হেঁটে বাসে উঠি। সেখান থেকে ভোলায় গিয়ে নাস্তার বিরতি। নাস্তা শেষে জ্যাকব টাওয়ার পরিদর্শন শেষে আবারও বাস। চল্লিশ মিনিট পর বাস থেকে নেমে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চর কুকরিমুকরির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। নৌকা যাচ্ছে। সময় তখন দুপুর। নদীর পাড়ের সবুজ অরণ্যে ঘেরা। আঁকা-বাঁকা খাল পেরিয়ে যখন নদীর মোহনায় চোখে পড়ে সেখানে অপার সৌন্দর্যের হাতছানি। নদীর ঢেউ, নির্মল বাতাস, ম্যানগ্র্যোভ বন, দৃষ্টির সীমানার পুরোটা যেন সবুজ আর সবুজ। অপরূপ প্রকৃতির সাজে সাজানো বনভূমি যেন আরেক সুন্দরবন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পৌঁছে গেলাম। নৌকা থেকে নেমে চর কুকরিমুকরিতে পা রাখছিলাম তখন সময় দুইটা।</p>
<p style="text-align: justify">লাঞ্চ শেষ করে আমরা কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করি। এরপর বিকেলে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চরফ্যাশনের দিকে ফিরছি। যখন ডুবে গেলো সূর্য তখন নদী, তীর ছুঁয়ে জাগা চর, ম্যানগ্রোভের বনে নেমে এলো সন্ধ্যা। সমস্ত প্রকৃতি যেন ধ্যান করছে মৌনতার। চরাচরে নেমে আসা এই সন্ধ্যায় হৃদয়ে শুধু ঢেউয়ে শব্দ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-3071 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukr3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukr3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukr3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">রাত সাতটার দিকে আমরা বেতুয়া লঞ্চঘাটে আবার জাহাজে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। এই ভ্রমণের ব্যবস্থাপনায় ছিলো ‘লোক’। ভ্রমণ পরিচালনা করেছেন কবি অনিকেত শামীম। আমাদের ভ্রমণে ছিলেন কবি মতিন রায়হান। রাতে যখন ফিরছিলাম তখন মতিন ভাই কবিতা লিখলেন। নদী-সমুদ্রের গান শিরোনামে এই কবিতাটি দিয়েই শেষ করছি লেখা। তিনি লিখেছেন—</p>
<p style="text-align: justify">নদী-সমুদ্রের বন্ধনের কাছে কিছু জমা রেখে যাই<br />
তুমি শল্কপত্রে প্রত্নস্মৃতি, আমি মন্মথ তোমাকে পাই<br />
দেহের বীণায়! হৃদয়ের পুষ্প ডানা নাড়ে সজল গ্রীবায়, এসো মরমিয়া, উজ্জ্বল উদ্ধারে পৃথিবীকে ত্রস্ত করে তুলি!</p>
<p>তুমি চর কুকরিমুকরি যাবে? ফুঁসছে সমুদ্র,<br />
রোদ উঁকি দিচ্ছে দেহের কিনারে; সবুজ বনের হরিণীরা চর্যার নতুন চরে ঢেউ তুলছে! বোধের নগরে দোলা দিচ্ছে অজন্তার গুহাচিত্র! বিস্ময়ে বিমূঢ় আমি! চরফ্যাশনের জাহাজঘাটে আজ কী রেখে এলাম?</p>
<p>অন্ধকার না কি আলোর ফোয়ারা? মধুমতি, তুমি কি<br />
নদীকে চেনো? চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় ও কথা বলে!<br />
আমি তো চিরশরণার্থী হৃদয়ের অসুখবিসুখে!</p>
<p>ও ঢেউখেলানো সবুজ, কী অস্থির পরাপৃথিবীর সজল মেঘমল্লার&#8230; দ্যাখো, প্রেমের নৈবেদ্য কী করে সাজাই!<br />
ও জোৎস্নাফোটা রাত, নির্জনে স্তনের মতো তোমাকে বাজাই!</p>
<p>আলোকচিত্র: লেখক, ৮ জুলাই ২০২০</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/01/20/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাহাড় মেঘ ঝরনার দেশ ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/09/09/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/09/09/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 09 Sep 2023 14:26:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2856</guid>

					<description><![CDATA[ঢাকা থেকে যখন রওনা দেই তখন রাত সাড়ে এগারোটা। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি। প্রচণ্ড গরম। আকাশভরা চাঁদের আলো। ঢাকা ত্যাগ করে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্টগ্রাম যখন পৌঁছাই তখন রাত তিনটা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ঢাকা থেকে যখন রওনা দেই তখন রাত সাড়ে এগারোটা। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি। প্রচণ্ড গরম। আকাশভরা চাঁদের আলো। ঢাকা ত্যাগ করে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্টগ্রাম যখন পৌঁছাই তখন রাত তিনটা প্রায়। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যাচ্ছি। শেষ রাতের আবহাওয়াটা তখন চমৎকার। জানালা দিয়ে দেখছি রাস্তার দুইপাশে পাহাড়। সারি সারি গাছগাছালি সরে সরে যাচ্ছে। শেষ রাতের নিঃস্তব্ধ প্রকৃতি আর বাতাসে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। মনটাও মিশে যায় প্রকৃতির মাঝে।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবে যেতে যেতে খাগড়াছড়িতে সকাল সাতটায় পৌঁছে যাই। বাস থেকে নেমে শাপলা মোড়ে দাঁড়িয়ে ফোন দেই মানিক ভাইকে। মানিক ভাই খাগড়াছড়ির স্থানীয় তরুণ সংবাদকর্মী। দুরন্তপনায় প্রাণোচ্ছল এক টগবগে যুবক। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মানিক ভাই এসে হাজির হন।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2858 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek.jpg 724w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">শাপলা মোড়ে হোটেলে বসে সকালের নাস্তা সেরে নেই। নান রুটি আর সবজি। সঙ্গে চা। আট ঘণ্টা জার্নির পর শরীর চাঙ্গা করার জন্য চা জরুরি ছিল। এরপর চাঁদের গাড়ি ঠিকঠাক করে ঘণ্টাখানেকের মতো রেস্ট নেই। এই ফাঁকে রাতে থাকার জন্য হোটেল বুকিং, পরেরদিন রাতে ঢাকায় ফিরে আসার জন্য অগ্রিম বাসের টিকিটও বুকিং দিয়ে রাখি।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয় আমাদের খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালিতে যাত্রা। আমরা নয়জনের একটা টিম যাচ্ছি। যাওয়ার রাস্তাটিও চমৎকার। দুপাশে সারি সারি সবুজ আর উঁচুনিচু পাহাড়ি রাস্তা। কখনো উঁচু আবার কখনো নিচু, এ যেন মন ছুঁয়ে যাওয়া অন্যরকম অনুভব।</p>
<p style="text-align: justify">দীঘিনালার পথে যেতে দেখি দুপাশে রাবার বাগান, ফলের বাগান। পাহাড়ের বুকে বসবাস করা আদিবাসীদের বসতি। আঁকাবাঁকা পথের বাঁক। পথে আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হয় আমাদের। দীঘিনালা থেকে কিছুটা সামনে গিয়ে বাঘাইহাট বাজারে গাড়ি থেমে যায়। ছোটখাটো ছিমছাম বাজার। এখানে আমরা দুপুরের খাবার কিনে নেই। হাঁসের মাংস, ভাত, শুটকি ভর্তা। সাথে দুই বোতল পানি। যদিও খাগড়াছড়ি থেকে তিনটা পানির বোতল নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে পানি সংকটে যেন না পড়ি সেজন্যই দুই বোতল কিনে রাখা। বাঘাইহাট বাজারে আমাদের এক ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ এখান থেকে আর্মি স্কর্ট ছাড়া কোনো পর্যটক আসা-যাওয়া করতে পারে না। যে কারণে আমাদের এই অপেক্ষা।</p>
<p style="text-align: justify">বাঘাইহাট বাজার ছেড়ে যেতেই বড় বড় সব পাহাড়ি রাস্তা। চাঁদের গাড়ির ছাদে বসে মনে হবে এই যেন রোলার কোস্টার। এক পাহাড় থেকে নেমে তীব্র গতিতে উঠতে হয় আরেক পাহাড়ে। দুইপাশে চোখে পড়ে সবুজ আর সবুজ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2859 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বাঘাইহাট থেকে মাচালং বাজার। বাজারের পরেই শুরু হয় সাজেকের মূল পথ। অসংখ্য পাহাড়ের বন্ধনে সবুজে ঢাকা অপরূপ সাজেকের রাস্তা। আমরা যাচ্ছি। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে সাজেকের উচ্চতা প্রায় এক হাজার ৭০০ ফুট।</p>
<p style="text-align: justify">পুরো সাজেক পাহাড়ি সৌন্দর্যে মোড়ানো এক মেঘের উপত্যকা। সবুজ অরণ্যে ঘেরা অসংখ্য পাহাড়ের বুকে সাদা মেঘের ভেলা। এ সময় সবকিছু ভুলে শুধুই মনে হয় সত্যি সত্যিই মেঘের দেশে চলে এসেছি। এত কাছ থেকে মেঘ দেখার আনন্দ আহ এক কথায় অসাধারণ!</p>
<p style="text-align: justify">সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত হলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার।</p>
<p style="text-align: justify">সাজেকে গিয়ে আমরা যখন পৌঁছি তখন সময় দুপুর একটা। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। এমনিতেই রাত জেগে জার্নি তারপরে আবার প্রচণ্ড গরম। সাজেকে পৌঁছেই প্রথমে দুপুরের খাবার সেরে নেই আমরা। তারপর সাজেকের সৌন্দর্য দেখতে থাকি।</p>
<p style="text-align: justify">সাজের চূড়ায় নরম ঘাসে বসে দেখি মেঘ। এর মধ্যেই ইভান আমাকে বলে, মামা কয়েকটা ছবি তুলে দাও। আমি ক্যামেরা নিয়ে সাথে সাথে ক্লিক করি। আর তাকিয়ে দেখি মেঘ আর পাহাড়।</p>
<p style="text-align: justify">আমার মোবাইলে চার্জ শেষের দিকে। কিন্তু সাজেকে বিদ্যুৎ নেই। আছে সোডিয়াম লাইট, বায়োবিদ্যুৎ। স্থানীয় রুসুই ত্রিপুরা আমাকে জানাল, এখানে রাতে জ্বলে সোডিয়াম বাতি। চার্জ আর দিতে পারলাম না।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের হাতে সময় আছে আর ঘণ্টাখানেকের মতো। কারণ সাড়ে তিনটার মধ্যে সাজেক থেকে রওয়ানা করতে হবে। আমরা আরো মেঘের কাছে অর্থাৎ পাহাড়ের কোলঘেঁষে যাই। সামনে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখি এক টুকরো সাদা মেঘ। চলতে চলতে নিজেকে মনে হয় মেঘের রাজ্যের অতিথি। পাহাড়ের কোলঘেঁষে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। নীল আকাশ মিতালি করে সেই হ্রদের সাথে। আমি হারিয়ে যাই অন্য এক মোহনায়।</p>
<p style="text-align: justify">মেঘ আর পাহাড় দেখতে দেখতে কখন যে সময় শেষ হয়ে যায় টের পাইনি। মাহবুব, আশিক, সাইমন, ইভান ওরা আগেই গাড়িতে চলে গেছে। চাঁদের গাড়ির ড্রাইভার মান্নান আমাকে ফোন করে বলে, স্যার চলে আসেন, যেতে হবে। আমি শেষ সেলফি তুলে বিদায় জানাই সাজেক ভ্যালি।</p>
<p style="text-align: justify">রাতে যখন খাগড়াছড়িতে পৌঁছাই তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি আর বাতাস। শহরের শাপলা মোড়ে আটকা পড়ে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টার মতো এ অবস্থা। বৃষ্টি কিছুটা কমলে হোটেলে চলে যাই। ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেতে আবারও বের হই। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। খাবার হোটেলে গিয়ে বিপদে পড়ি। কোনো ভাত নেই।</p>
<p style="text-align: justify">হোটেল ম্যানেজারকে বললাম, এ অবস্থা কেন? হোটেল ম্যানেজার জানাল, গত দুই দিনে পর্যটকদের প্রচণ্ড চাপ। জন্মাষ্টমীর ছুটি থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। একটু বসেন, ভাত রান্না হচ্ছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2860 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek4-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek4-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek4.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">যাই হোক, আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে গরম আতপ চালের ভাত সাথে কচুশাক, আর গরুর মাংসের ভুনা দিয়ে রাতের খাবার শেষ করলাম। হোটেলে গিয়ে আর কোনকিছু না ভেবে সরাসরি ঘুম।</p>
<p style="text-align: justify">পরের দিন সকালে চলে যাই রিছাং ঝরনা। খাগড়াছড়ি থেকে আট কিলোমিটার দূরে আলুটিলা হয়ে সেখান থেকে আরো দুই কিলোমিটার দূরে মাটিরাঙ্গা উপজেলাতে এই ঝরনা। ঝরনায় নেমেই মনটা শান্ত হয়ে গেল। ঝরনার পানি এতো ঠাণ্ডা। পানিতে পা রেখে পাথরের উপর বসতেই শরীরটায় প্রশান্তি নেমে আসে।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর আমরা চলে যাই আলুটিলা পাহাড় ও গুহায়। সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যময় অহঙ্কার আলুটিলা। আলুটিলা পাহাড় থেকে খাগড়াছড়ি শহরের পুরো চিত্র দেখা যায়। প্রাকৃতিক গুহা যা এখানকার মূল আকর্ষণ। এই গুহা ২৮২ ফুট দৈর্ঘ্য এবং গুহার একপাশ থেকে অন্য পাশে যেতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। গুহার একপাশ থেকে অন্যপাশে পানি প্রবাহমান। গুহার ভিতর অনেক অন্ধকার। পর্যটন কেন্দ্রের গেটে আমরা ২০ টাকা দিয়ে মশাল নিয়ে ভেতরে ঢুকে যাই।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর তারাং, ঝুলন্ত ব্রিজ দেখে চলে আসি খাগড়াছড়িতে। রাত নয়টায় খাগড়াছড়িকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা করি ঢাকার উদ্দেশ্যে। যখন বাস ছাড়ে তখন আকাশে অনেক তারা, আর চাঁদের আলো। আমি জানালা দিয়ে তারার আলো আর রাস্তার দুপাশে পাহাড়, গাছগাছালি দেখছি। জানালা দিয়ে শরীরে হালকা বাতাসের পরশ লাগছে। হাতে ঘড়িটায় যখন চোখ রাখি- দেখি রাত তিনটা। ততক্ষণে খাগড়াছড়ি চলে গেছে স্মৃতির ডায়েরিতে।</p>
<p style="text-align: justify"><em>২ সেপ্টেম্বর ২০১৬</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/09/09/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অবকাশে একদিন আনন্দের ঝরনাধারা ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 14 Aug 2023 05:30:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2820</guid>

					<description><![CDATA[সকাল ৮টা। মাঘের সকাল। হালকা বাতাস সবার শরীরে শীতের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে। সবার চোখেমুখেই উচ্ছ্বাস। কারণ, মাথা, হাতের আঙ্গুল আর সবকিছুরই ছুটি। ঘোষণা হলো সবাই গাড়িতে উঠুন, এখনই বাস ছেড়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সকাল ৮টা। মাঘের সকাল। হালকা বাতাস সবার শরীরে শীতের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে। সবার চোখেমুখেই উচ্ছ্বাস। কারণ, মাথা, হাতের আঙ্গুল আর সবকিছুরই ছুটি। ঘোষণা হলো সবাই গাড়িতে উঠুন, এখনই বাস ছেড়ে যাবে। ব্যাস, সবাই উঠে গেলেন বাসে। রাজধানী ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ছেড়ে দিল বাস।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2822 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। দিনটি শুক্রবার হওয়ায় খুব যানজট পোহাতে হয়নি। গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পরই সহকর্মী রাসেল পারভেজ শুরু করেন নাচ আর গান। হালকা শীতের মিষ্টি আবহে তার সঙ্গে সহকর্মীদের অনেকেই যোগ দেন নাচে-গানে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই গাড়ি রাজধানী অতিক্রম করে পৌঁছে যায় টঙ্গী স্টেশন রোডে। এখানে গাড়িতে সঙ্গী হন আমাদের (রাইজিংবিডির) নির্বাহী সম্পাদক তাপস রায়। তিনি গাড়িতে উঠার পর সহকর্মী উজ্জল জিসান তার হাতে হ্যান্ড মাইক ধরিয়ে দেন।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, আপনরাদের ডিম দেওয়ার কথা ছিল, চিন্তা কইরেন না, জায়গা মতো পৌঁছে গেলেই ডিম দেওয়া হবে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথমেই শুরু হলো চেয়ার দখল। এরপর পিলো পাসিং। প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হলো র‌্যাফল ড্র। অনেকেই পুরস্কার পেলেন। সবার মুখেই আনন্দ আর হাসির ঝরনাধারা। কতদিন এমন মুক্ত জায়গায় যাওয়া হয় না! এমনিতেই রাজধানীতে বন্দি জীবন, তার ওপর আবার সাংবাদিকতা পেশা। সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকতে হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। আজ ছিল না সে কাজ। বনভোজনে গিয়ে শ্যামল ছায়ায় স্নিগ্ধ হাওয়ার পরশে আমাদের প্রাণে বয়ে যায় আনন্দের ঢেউ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2823 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur3-pilo-pasing-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur3-pilo-pasing-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur3-pilo-pasing.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমরা মেতে উঠেছি কবিতা, কৌতুক, গান আর আড্ডায়। সবার হৃদয়ের গহিন থেকে নিসৃত আনন্দের ঝিলিক চোখেমুখে। এভাবে কখন যে বেলা ৪টা বেজে গেল বোঝাই গেল না। এমন সময় ঘোষণা এলো বিকেল ৫টায় বাস ছেড়ে দেবে। সবাই ব্যাগ, জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। আমরা কয়েকজন এই ফাঁকে চলে গেলাম বাঁশের সাঁকোতে।</p>
<p style="text-align: justify">ওখানে দাঁড়িয়ে ফানুস উড়িয়ে চেয়ে রইলাম আকাশের দিকে। গোধুলিবেলায় মন চাইছিল না ফিরতে। তারপরও ধীর পায়ে সবাই যাচ্ছিলেন গাড়িতে ওঠার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">এরই মধ্যে দেখি শাহনেওয়াজ ভাই হারমোনিয়াম নিয়ে বসে গেছেন গানের আসরে। আহ! কতদিন তার এমন গান গাওয়া হয় না! গলা ছেড়ে দিলেন সুরে, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে..।’</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2824 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">গানের তালে মুস্তাফিজ শুরু করলেন নাচ। আমি দোলনায় উঠে গানের তালে দোল খেলাম। কিছুটা সময় তালে তালে দোল। এরপর ইতি ঘটলো গানের। ধীরে ধীরে সবাই সব পেছনে ফেলে চলে এলাম গাড়িতে। ততক্ষণে অন্ধকার নেমেই এসেছে। গাড়ি ছেড়ে দিল।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শ্রাবণ ঘনায় দু নয়নে ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/2783/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/2783/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Aug 2023 05:30:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2783</guid>

					<description><![CDATA[শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে আকাশের মত আঁখি মগন বরিষণে শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে &#8211;নচিকেতা চক্রবর্তী নৌকার দাঁড়ের ছপ-ছপ শব্দ। এ যেনো মায়াবী বিকেল।আকাশে রোদ্র-ছায়ার খেলা। নদীর পানিতে সূর্যের আলো-ছায়া। দুই পাশে গাছের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে<br />
আকাশের মত আঁখি<br />
মগন বরিষণে<br />
শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে<br />
&#8211;<em>নচিকেতা চক্রবর্তী</em></p>
<p style="text-align: justify">নৌকার দাঁড়ের ছপ-ছপ শব্দ। এ যেনো মায়াবী বিকেল।আকাশে রোদ্র-ছায়ার খেলা। নদীর পানিতে সূর্যের আলো-ছায়া। দুই পাশে গাছের সারি। নদীর বুকে ভেসে যাচ্ছে নৌকা। গানে-আনন্দে উচ্ছ্বসিত নৌকার যাত্রীরা। দারুণ এক দৃশ্য। সুন্দর মুহূর্ত।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ, বলছিলাম এক বিকেলে নৌকা ভ্রমণের কথা। দিনটি ছিল রোববার (১৪ শ্রাবণ ১৪৩০)। অফিস শেষে আমরা (ইসমাইল, মাহি, ইভা, সুমি, সাইফ) বাসে চলে গেলাম মিরপুর দিয়াবাড়ি হয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2785 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1334649486-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1334649486-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1334649486.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আবহাওয়া বেশ গরম। বাস থেকে নেমে আমরা ধুলো ও বিকট শব্দহীন স্বচ্ছ রাস্তায় যাচ্ছি নদীর ধারে। আমাদের সবার মুখে হাসি আর বেড়ানোর উচ্ছ্বাস। এ যেনো এক আনন্দঘন মুহূর্ত। একপাশে ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর, আর অন্যপাশে দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির তুরাগ নদী। এখানে-ওখানে ফুটে আছে নাম না জানা ফুল। বাঁধের পাথুরে ব্লকগুলোয় ফাঁকে ফাঁকে সবুজ ঘাস জাল বিছিয়ে আছে যেন। পা মেলে একটু বসলেই ছুটে আসা ফুরফুরে বাতাস। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ যেনো অদ্ভূদ সুন্দর।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আমরা নদীর পাড়ে গিয়ে বসলাম। রোদ আছে। হালকা বাতাস বইছে।নদীর তীরে অনেকগুলো নৌকা। অনেকেই সেই নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরছেন। অনেকেই আবার বসে নদীতে দৃশ্য দেখছেন।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তুরাগের তীরে দেখলাম বিভিন্ন রকম স্থাপনা। দোকান-পাট। কিছু রিসোর্টের মতো করে ছোট ছোট হোটেল। পাশে দেখলাম তামান্না পার্ক। সেখানে ভিড়। সেখানে রাস্তার ডান পাশে আবার চিড়িয়াখানা। সেখানে বোটানিক্যাল গার্ডেনের শেষাংশ এসে মিশেছে। সবুজে-সবুজে আচ্ছাদিত কোলাহল আর লোকালয়হীন একটি অনিন্দসুন্দর জায়গা। দেখেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। ঢাকার এত কাছে, এত অল্প সময়ে, জ্যাম-ধুলো-বালি আর কোলাহলহীন নিশ্চুপ জায়গা, ভাবতেই হারিয়ে যাই নতুন ভুবনে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2786 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1471077780-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1471077780-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1471077780.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">নদীতে নৌকা চলছে। আমরা বসে দেখছি। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করতেই তারা জানালেন, এখানে গাজীপুরের কড্ডা, মজলিশপুর, ভাওয়াল মির্জাপুর, সাকাশ্বর, চা-বাগান এলাকার তুরাগ নদের অংশ ও কালিয়াকৈর বাজারের চাপাইর ব্রিজ এবং বরইবাড়ি ও মকস বিলের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন নৌকা ভ্রমণে আসেন ভ্রমণ পিয়াসীরা। অনেকেই পরিবার নিয়ে আসেন। অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে আসেন, সব বয়সীরাই আসেন এখানে সময় কাটাতে।</p>
<p style="text-align: justify">সাড়ে তিনশ টাকা ভাড়ায় আমরা নৌকায় উঠলাম। ইসমাইল ভাই সেলফি তুলতে ব্যস্ত। মাহি গান গাইছে। সুমি ভিডিও করছে। ইভা পানিতে হাত দিয়ে পানি ছিটাচ্ছে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আমরা নৌকায় যাচ্ছি। পাশে আরেক কয়েকটি নৌকা যাচ্ছে। একটু পরে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দেখলাম হাই ভলিয়মে গান বাজছে আর কয়েকজন নাচছেন।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। নদীর নিস্তব্ধতা ভেঙে পাখিরা কলকালিতে মেতে উঠলো। সূর্যটাও ক্লান্ত হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ঢ়লে পড়তে লাগলো।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2787 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1911988776-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1911988776-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1911988776.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমরা নৌকায় ঘুরছি। মাঝি আনন্দ ভাই দাঁড় টানছেন। নদীর পানিতে গোধূলির আলো ঝিকমিক করছে।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সবাই নৌকা বসে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করলাম।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/2783/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
