<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>লুৎফর রহমান রিটন &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%a8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Wed, 22 Feb 2023 14:42:34 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>লুৎফর রহমান রিটন &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বইমেলার শিশুচত্বরে ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/02/22/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/02/22/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 22 Feb 2023 14:42:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2578</guid>

					<description><![CDATA[বইমেলা যেনো এক বইয়ের শহর শুক্র ও শনিবারে শিশুর প্রহর। কোনখানে? যেইখানে শিশুচত্বর, যাবি তুই? চলে আয় অতিসত্বর। প্রিয় প্রিয় লেখকের প্রিয় প্রিয় বই মায়ের সঙ্গে গিয়ে আমি কিনবই। বইগুলো &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বইমেলা যেনো এক বইয়ের শহর<br />
শুক্র ও শনিবারে শিশুর প্রহর।<br />
কোনখানে? যেইখানে শিশুচত্বর,<br />
যাবি তুই? চলে আয় অতিসত্বর।</p>
<p style="text-align: justify">প্রিয় প্রিয় লেখকের প্রিয় প্রিয় বই<br />
মায়ের সঙ্গে গিয়ে আমি কিনবই।<br />
বইগুলো যেনো ভাই মধু দিয়ে গড়া<br />
গল্প-উপন্যাস-কবিতা ও ছড়া&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">বই পড়া ভারী মজা আয় আয় আয়<br />
একুশের অপরূপ বইয়ের মেলায়&#8230;<br />
টুকটুকি হালুমের দেখা পেতে চাস?<br />
ইকড়িও আছে সেথা আছে উচ্ছ্বাস!</p>
<p style="text-align: justify">আয় বোন ভাই<br />
বইমেলা যাই<br />
বইয়ের চাইতে ভালো বন্ধু যে নাই!</p>
<p style="text-align: justify">অটোয়া ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/02/22/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাঠবেড়ালির ঘরবাড়ি ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/01/21/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/01/21/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 21 Jan 2023 06:31:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2469</guid>

					<description><![CDATA[অটোয়ার একটি দশতলা ভবনের সর্বোচ্চ তলায় থাকি। এপার্টমেন্টগুলোয় একটি করে ছোট্ট বেলকনি আছে। আমার বেলকনি থেকে অটোয়ার অপরূপ সৌন্দর্যের বিশাল একটা অংশ বার্ডস আই ভিউতে অবলোকন করা যায়। সামারে আমি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">অটোয়ার একটি দশতলা ভবনের সর্বোচ্চ তলায় থাকি। এপার্টমেন্টগুলোয় একটি করে ছোট্ট বেলকনি আছে। আমার বেলকনি থেকে অটোয়ার অপরূপ সৌন্দর্যের বিশাল একটা অংশ বার্ডস আই ভিউতে অবলোকন করা যায়। সামারে আমি এই বেলকনিতে বসে অটোয়া রিভারের সুনীল জলের ঢেউ দেখি। পাল তুলে ছুটে চলা সেলবোটগুলোর মধ্যে সাঁতরে বেড়ানো হাঁসের প্রতিচ্ছবি দেখি। হেমন্ত বা ফল সিজনে রঙিন পাতার অনন্ত ক্যানভাস দেখি। সারাদিন ধরে মাঠের সবুজে আর আকাশের নীলে জুঁই ফুলের মতো ফুটে থাকা অজস্র শাদা সীগাল দেখি। সন্ধ্যার ঝিম ধরা আলোয় সুনীল আকাশে শাদা মেঘের আবহে কানাডিয়ান গিজদের দলবদ্ধ ওড়াউড়ি দেখি।গিজদের কোয়াক কোয়াক কোরাস সঙ্গীতের অপূর্ব মূর্ছনা শুনি।</p>
<p style="text-align: justify">বেলকনির বৈকালিক চায়ের আসরে ডালপুরি-সিঙ্গারা-ঝালমুড়ি-চানাচুরের সঙ্গে রেড কিংবা হোয়াইট ওয়াইনের ঢেউ খেলানো গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বেলকনির ছোট্ট সারফেসে এবং কার্নিশে নানান রঙের ফুলের নৃত্য দেখি। আর দেখি অটোয়ার চোখ ধাঁধানো সূর্যাস্ত। সূর্যাস্তের সময় পশ্চিমের আকাশটা গাঢ় হলুদ কিংবা লাল কখনো কখনো কেমন বেগুনি রঙ ধারণ করে! রঙের এই খেলাটা চলতে থাকে লম্বা সময় ধরে। ডিমের কুসুমের মতো গোলাকার সূর্যটা অস্ত যাবার আগে কেমন তীব্র কিন্তু মোহময় আর নরম হয়ে ওঠে। এবং সূর্যাস্তের পরেও আকাশ থাকে বর্ণিল,দীর্ঘক্ষণ।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের চায়ের আসরের সময়টায় মাঝে মধ্যেই নিচের মাঠ পেরিয়ে দশতলা এপার্টমেন্টের বেলকনিতে এসে উপস্থিত হয় একটা দু&#8217;টো কাঠবেড়ালি। অটোক্লোজড ডোরের সিকিউর্ড এপার্টমেন্টের সিঁড়ি কিংবা এলিভেটর ব্যবহার না করেই কাঠবেড়ালিগুলো দশ তলা পর্যন্ত উঠে আসার দক্ষতা দেখায়। ওদের চার হাত পায়ের নখের অদ্ভুত কারিশমায় ওরা দেয়াল খামচে খামচে অনায়াসে চলে আসে আমার বেলকনিতে। শার্লি ওদের তাড়িয়ে দিতে তৎপর হয়। কারণ এই বদমাশগুলো ওর শখের ফুল-সব্জির বাগানটা তছনছ করে দেয়। কামড়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে দেয় ফুলের পাঁপড়িগুলোকে। কখনো কখনো উপড়ে ফেলে টব থেকে, ছোট্ট নাজুক চারাগুলোকে। দাঁত বসায় খুদে টমাটো কিংবা কাঁচা মরিচের লাজুক শরীরেও।<br />
শার্লিকে একটুও ভয় পায় না এই কাঠবেড়ালিগুলো। শার্লি তাড়া করলেও, এমনকি ওর হাতে লাঠি থাকলেও ওরা দাঁড়িয়েই থাকে বুক চিতিয়ে। কারণ এতোদিনে ওরাও বুঝে গেছে একটি অসম্ভব মায়াবতী নারীর নাম হচ্ছে শার্লি।<br />
শার্লির তাগাদায় আমাকেই শেষে নামতে হয় গুন্ডামিতে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার তাড়া খেয়ে সেকেন্ডের মধ্যেই তড়িঘড়ি দৌড় লাগায় কাঠবেড়ালি। বেলকনির কার্নিশ ধরে নিচের দিকে চোখ রেখে অবাক বিস্ময়ে দেখি&#8211;কাঠবেড়ালিটা খাঁড়া দেয়াল বেয়ে চল্লিশ-পঞ্চাশ কিলোমিটার স্পিডে নেমে যাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে চিড়িক পিড়িক শ্লোগান দিতে দিতে!<br />
বছরের পর বছর শার্লির শখের ফুল-ফসলের বাগানের প্রধান এবং একমাত্র শত্রু খয়েরি এবং ধুসর কিংবা কালো এই কাঠবেড়ালিগুলো।</p>
<p style="text-align: justify">ছোট্ট বেলকনি বা বারান্দাটায় অনেকগুলো টবের অবস্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ওদের অবস্থান দেয়াল ঘেঁষা। ফলে খানিকটা আড়াল তৈরি হয়েছে টব-দেয়াল আর কর্ণারের সংযোগস্থলে। এবং এক পর্যায়ে প্রথমে বড় টবের গোড়ায় এবং পরে কর্ণারের আড়ালের আলো আঁধারীতে একটা কাঠাবেড়ালি এসে বাসা বাঁধলো আমাদের অগোচরে। তারপর একদিন সে তার প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে এলো। সেটাও আমাদের অগোচরে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার চা আড্ডার সময়টায় খুব সতর্ক থাকে ওরা। কোনো শব্দ করে না। এই সময়টায় ওদের সমস্ত ভালোবাসাবাসি বন্ধ। বন্ধ খুনসুটি। আমরা টের পাই না। আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে চলতে থাকে ওদের গোপন সংসার-অভিসার। অটোয়ার বৃক্ষ-নদী-পাখি এবং সেলবোটের সৌন্দর্যে বিভোর আমরা টেরও পাই না কোন ফাঁকে ওরা সংসার পেতেছে।</p>
<p style="text-align: justify">ওরা ছাড়াও আরো কয়েকজন কাঠবেড়ালি আসেন আমাদের বেলকনিতে। হামলা চালান শার্লির শখের বাগানে। বেলকনিতে টবের মাটি আর ফুলের ছিন্নভিন্ন পাঁপড়ির ছড়াছড়ি দেখে শার্লির তো কেঁদে ফেলার অবস্থা। একদিন সে পুলিশের মতো নির্দয় লাঠিপেটা করলো কাঠবেড়ালিদের। এবং লাঠিচার্যের এক পর্যায়ে সে আবিস্কার করলো চুপিচুপি কোনো রকম পারমিশানের তোয়াক্কা না করেই আমাদের বেলকনিতে সংসার পেতেছে এক কাঠবেড়ালি দম্পতি!</p>
<p style="text-align: justify">বিনা ভাড়ার ভাড়াটেদের সে উৎখাত করতে চাইলো। কিন্তু ওরা বাড়ি ছাড়বে না কিছুতেই। ওরা চিড়িং পিড়িং প্রাতিবাদ জানায়&#8211;পুলিশ তুমি যতোই মারো/ এই বাড়িটা তোমার যেমন ঠিক তেমনি এই আমারও&#8230;।<br />
অতঃপর ফের শার্লি গুণ্ডা হায়ার করলো।<br />
এক বিকেলে গুণ্ডারূপী আমি পুলিশি একশনে নামলাম লাঠিসমেত। আমার মারপিটের দক্ষতায় ওরা ঘাবড়ে গেলো। আমার লাঠির গুঁতোয় আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো প্রেমিক প্রবর। কিছু একটা বলতে চাইছে সে। কিন্তু আমি শুনবো কেনো? তুমি হারামজাদা তোমার প্রেমিকাকে নিয়ে সুখের সংসার করবা আর আমার প্রেমিকাকে কান্দাইবা সেইটা হবে না। পুরান ঢাকার পোলা আমি জানি ক্যাম্নে বাড়ি খালি করতে হয়। বাড়ি থেকে ক্যাম্নে উৎখাত করতে হয় একটা ফ্যামিলিকে। পেছন থেকে শার্লি আমাকে সমর্থনের হাওয়া দেয়। এমন সময় প্রেমিক বেচারার সঙ্গে ওর বিধ্বস্ত প্রেমিকাও বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। এক ঝলকেই আমরা আবিস্কার করলাম আরে! প্রেমিকা বেচারী তো প্রেগনেন্ট! হারামজাদার প্রেমিকা কোন ফাঁকে প্রেগনেন্ট হয়ে বসে আছে! আমার মারপিটের সমস্ত আয়োজন মুহূর্তেই গেলো থেমে। শার্লি বললো&#8211;থাক। ওদের বাচ্চা হলে পর তাড়িয়ে দিস। থাক এখন। এই অবস্থায় ওরা কোথায় যাবে বাড়ি খুঁজতে!</p>
<p style="text-align: justify">লাই পেয়ে আমাদের বিনা ভাড়ার ভাড়াটেরা কিছুটা সাহসী হয়ে উঠেছে দিনে দিনে। কারণ ওরা বুঝে গেছে আমরা ওদের মেনে নিয়েছি। আমাদের সহাবস্থান নীতি গ্রহণ ওদের পছন্দ হয়েছে।<br />
দিন যায়।<br />
একদিন আমরা আবিস্কার করলাম ওদের স্বামী-স্ত্রীর সংসারে তৃতীয় এবং সম্ভবত চতুর্থ সদস্যের আগমন ঘটেছে। বাচ্চাদের কিচিমিচি আওয়াজ পাই। কান পেতে শুনি বাচ্চাদের চিৎকার-চ্যাঁচামেচি-ছড়াগান।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা অপেক্ষা করি&#8211;দ্রুত বড় হ বাচ্চারা। তোরা বড় না হলে তো তাড়াতে পারছি না তোদের!<br />
মাঝে মধ্যে ওদের দেখি লুকিয়ে লুকিয়ে। গায়ে গতরে ওরা বেড়ে উঠেছে। এক পর্যায়ে যখন বুঝলাম&#8211;এইবার ওরা নামতে পারবে দশতলার দেয়াল বেয়ে, তখনই একদিন হামলা চালালাম ওদের বাড়িতে। কিন্তু না কিছুতেই বাড়ি ছাড়তে রাজী না ওরা। স্বামী-স্ত্রী তারস্বরে চ্যাঁচায়। আমরা ক্ষ্যান্ত দিই।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুদিন পর এক দুপুরে আবার আমি &#8216;অপারেশন ক্লিন হার্ট&#8217; স্টাইলে &#8216;অপারেশন ক্লিন স্কুইরাল&#8217; প্রকল্পে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। শার্লির ফুল-শস্যের পাতার ঝোঁপ-ঝাড়ের কারণে ওদের বের করে আনা রীতিমতো দুরূহ ব্যাপার। একটা লাঠি দিয়ে তাই গুঁতোগুঁতি অভিযানে তৎপর হলাম। গুঁতোচ্ছি ঠিকই কিন্তু একই সঙ্গে লক্ষ্য রাখছি যাতে গুঁতোটা খুব বেশি তীব্র না হয়। আমার উদ্দেশ্য পুলিশের মতো &#8216;মৃদু লাঠিচার্যের মাধ্যমে&#8217; মিছিল ছত্রভঙ্গের মতো কাঠবেড়ালির সংসারটা ছত্রভঙ্গ করা। ওদের আহত করা নয়।</p>
<p style="text-align: justify">অবাক কাণ্ড,আমার গুঁতো খেয়ে স্বামী-স্ত্রী আজ তারস্বরে চ্যাঁচাচ্ছে না। (স্বামী-স্ত্রী সম্ভবত খাদ্য সংগ্রহে গেছে।) তার বদলে একটা নতুন কিশোর কণ্ঠ প্রতিবাদ জানাচ্ছে চিঁচিঁ করে। এক পর্যায়ে সেই চিঁচিঁ শব্দটা কেমন পালটে যেতে থাকলো। ওটা ক্রমশঃ hissing-এ পরিণত হতে থাকলো। খানিক পরে কিশোর কাঠবেড়ালিটা দৃশ্যমান হলো। নিজের বাসা থেকে বেরিয়ে সে রুখে দাঁড়ালো আমাকে, দাঁত মুখ খিঁচিয়ে। বেড়ালদের হিসিং অর্থ&#8211;সে আমার প্রতি বিরক্ত। আমার আচরণে ক্ষুব্ধ এবং ক্রুদ্ধ। শংকিত ও ভয়ার্ত সে। এবং সে বলতে চাইছে&#8211;আমি আমাকে ডিফেন্ড করতে প্রস্তুত, তাতে আমার যা হয় হোক। লাগবা আমার সঙ্গে?</p>
<p style="text-align: justify">ছোট্ট বাচ্চা একটা কাঠবেড়ালির দুঃসাহস আমাকে মুগ্ধ করলো। লাঠিটার একটা প্রান্ত ওর শরীরের কাছে নিয়ে ওকে ঠেলে সরাতে চাইলাম। কিন্তু আমার চোখে সরাসরি চোখ রেখে সে তার সর্বশক্তি দিয়ে ফ্লোর আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকলো হিসিং করতে করতে।<br />
সাহসী বাচ্চাটার এমন কাণ্ড দেখে খুব মায়া হলো আমার। আহারে! দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ছোট্ট শক্তিহীন এইটুকুন একটা কাঠবেড়ালির বাচ্চাও কী রকম সাহসী হয়ে ওঠে!</p>
<p style="text-align: justify">আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা শার্লি বললো&#8211;সে কিছুতেই যেতে চাইছে না কারণ সে মনে করছে এটা ওর বাড়ি। এটা ওর জন্মস্থান। ওর জন্মভূমি।<br />
আসলেই। কাউকে তার জন্মভূমি থেকে উৎখাত করা যায় না। জন্মভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠায় মানুষ যেমন প্রতিবাদে প্রয়োজনে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়ায় শত্রুর বুলেটের সামনে, জীবন দেয় অকাতরে, কাঠবেড়ালির ছোট্ট এইটুকুন বাচ্চাটাও সেরকম নিঃশঙ্ক চিত্তে রুখে দাঁড়িয়েছে জীবন বাজি রেখে।</p>
<p style="text-align: justify">উৎখাত অভিযান আপাতত স্থগিত করা হলো।<br />
অতঃপর কাঠবেড়ালির বাচ্চাটাকে জয়ী ঘোষণা করে পরাজিত আমরা সরে এলাম উৎখাত অভিযান থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">অটোয়া ১৪ নভেম্বর ২০২০</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/01/21/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আর্জেন্টিনা! আর্জেন্টিনা!! ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/19/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/19/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Dec 2022 14:03:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2371</guid>

					<description><![CDATA[বলেছিলি কাপ পাবি না আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা পাইছে কি না? পাইছে কী না? পাইছে পাইছে আর্জেন্টিনা !! মাথার ভিত্রে ফিটিং এসি ঠান্ডা মাথায় খেলছে মেসি কেউ কি আছে মেসি বিনা? আর্জেন্টিনা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বলেছিলি কাপ পাবি না<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা<br />
পাইছে কি না? পাইছে কী না?<br />
পাইছে পাইছে আর্জেন্টিনা !!</p>
<p style="text-align: justify">মাথার ভিত্রে ফিটিং এসি<br />
ঠান্ডা মাথায় খেলছে মেসি<br />
কেউ কি আছে মেসি বিনা?<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা !</p>
<p style="text-align: justify">পার্টি লাগাও খানাপিনা<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা !<br />
খাইবা কাচ্চি? নল্লি-সিনা?<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা!</p>
<p style="text-align: justify">ম্যাচ সেরা কে? মেসি কী না?<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা!<br />
হালাল বিয়ার? জ্বি না জ্বি না<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা !</p>
<p style="text-align: justify">নাচ ময়ূরী নাচ নাগিনা<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা!<br />
নাচ পৃথিবী ধিনাক ধিনা<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা!</p>
<p style="text-align: justify">ভালোবাসা।নো মোর ঘৃণা<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা !<br />
বাজাও ঢোলক বাজাও বীণা<br />
আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা!!</p>
<p style="text-align: justify">১৮ ডিসেম্বর ২০২২</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/19/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার পড়া বই এবং আমার লেখা বই ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/10/24/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/10/24/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 24 Oct 2022 14:12:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2257</guid>

					<description><![CDATA[বই পড়তে আমার ভালো লাগে।বই আমার খুব প্রিয়, সেই ছেলেবেলা থেকেই।বিচিত্র বিষয়ের ওপর রচিত নানা রকমের বই আমি পড়েছি এক জীবনে।আমি পড়তে পড়তে ঘুমোই।আবার ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও পড়ি। আমার পড়া বইয়ের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বই পড়তে আমার ভালো লাগে।বই আমার খুব প্রিয়, সেই ছেলেবেলা থেকেই।বিচিত্র বিষয়ের ওপর রচিত নানা রকমের বই আমি পড়েছি এক জীবনে।আমি পড়তে পড়তে ঘুমোই।আবার ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও পড়ি।<br />
আমার পড়া বইয়ের সংখ্যা বিপুল।<br />
দুই রকমের বই আছে পৃথিবীতে।<br />
এক রকমের বইয়ের পাতাগুলোর রঙ বেশির ভাগ সময় সাদা হয়।<br />
কাগজের পৃষ্ঠায় কালো অক্ষরে মুদ্রিত পরিপাটি ভাঁজ করা পাতাগুলো কী সুন্দর সেলাই করা! বোর্ড বাঁধাই কিংবা পেপারব্যাক বাইন্ডিং করা বইগুলোকে আমরা সাজিয়ে রাখি সারি সারি, বুক শেলফের র‍্যাক-এ।<br />
অন্য রকমের বইগুলোকে বুক শেলফের র‍্যাক-এ সাজিয়ে রাখা যায় না। এই বইগুলোর আরেক নাম মানুষ।<br />
হ্যাঁ।<br />
আমি মানুষ নামের বইগুলোও পাঠ করি।<br />
গভীর অভিনিবেশে পাঠ করি।<br />
জড় আর জীবন্ত এই বইগুলোই আমাকে ঋদ্ধ করেছে।<br />
আজকের এই আমাকে নির্মাণ করেছে।<br />
আমার প্রকাশিত বইয়ের পাতায় পাতায় যে কথাগুলো আমি লিখি, সেই কথাগুলো আমাকে বলতে বা লিখতে শিখিয়েছে ওই দুই রকমের বই।<br />
এক ধরনের বই আলো ছড়ায়।<br />
এক ধরনের বই কালো ছড়ায়।<br />
বইয়ের পাতায় দেখা এবং বই থেকে শেখা কথাগুলোই আমি আবার লিখে রাখি বইতে।<br />
এভাবেই রচিত হয় মানুষের ইতিহাস। সমাজের ইতিহাস। সভ্যতার ইতিহাস।<br />
আনন্দ আর বেদনার ইতিহাস।<br />
নিষ্ঠুরতা আর ভালোবাসার ইতিহাস।<br />
আমি ভালোবাসার কথাই বলতে এসেছি।<br />
অটোয়া ১৫ জুলাই ২০২২</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/10/24/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমি ও একটি কাঠঠোকরা ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%a0%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%a0%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 29 Jun 2022 12:51:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1997</guid>

					<description><![CDATA[গত এপ্রিলের শুরুর দিনটায় আমার জন্মদিনে অজস্র মানুষ আমাকে উইস করেছেন। অনেকেই পাঠিয়েছেন বার্থ ডে গিফট। গিফট এর তালিকায় ছিলো বর্ণাঢ্য ভার্চুয়াল ফুল, সুদৃশ্য কেক ইত্যাদি। কয়েকজন বন্ধু পাঠিয়েছেন অনন্য &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">গত এপ্রিলের শুরুর দিনটায় আমার জন্মদিনে অজস্র মানুষ আমাকে উইস করেছেন। অনেকেই পাঠিয়েছেন বার্থ ডে গিফট। গিফট এর তালিকায় ছিলো বর্ণাঢ্য ভার্চুয়াল ফুল, সুদৃশ্য কেক ইত্যাদি। কয়েকজন বন্ধু পাঠিয়েছেন অনন্য ব্যতিক্রমী গিফট&#8211;আমার পোর্ট্রেট বা ক্যারিকেচার বা কার্টুন।এদের একজন তন্ময়।সৈয়দ রাশেদ ইমাম তন্ময়।হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত তরুণশিল্পী তন্ময় আমাদের দেশের এক উজ্জ্বল মেধাবী আঁকিয়ে।পত্রিকার পাতায় এবং কমিক সিরিজে প্রকাশিত তন্ময়ের আঁকা ছবি দর্শক-পাঠকের আদর ও ভালোবাসা কুড়িয়েছে বিপুল। ওর সবচে উল্লেখযোগ্য কাজের নমুনা হচ্ছে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’।বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক কমিক সিরিজ।</p>
<p style="text-align: justify">আমার জন্মদিনে দুটো ছবি পাঠিয়েছিলো তন্ময় যার একটিতে সে আমাকে এঁকেছে একটি কাঠঠোকরার আদলে।কোনো একজন মানুষের বিশাল একটা কানের লতিতে ঝুলে আছি কাঠঠোকরারূপী আমি।অদৃশ্য সেই মানুষটার কানের মধ্যে ফ্রি হ্যান্ড লেটারিং-এ মোটা হরফে রিভার্সে উৎকীর্ণ তিনটিমাত্র শব্দ&#8211;ঠক ঠক ঠক।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>ইনবক্সে পাঠানো ছবিটার নিচে তন্ময় লিখেছে&#8211;‘ছড়ার ছন্দে সবার কান ঠুকরে যান আজীবন!’</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সত্যি বলতে কি-চমকে উঠেছি আমি তন্ময়ের গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতায়।লেখক এবং শিল্পীদের থাকতে হয় প্রবল অবজারভেশন পাওয়ার।তন্ময়ের মধ্যে সেটা প্রত্যক্ষ করে আমি উল্লসিত।কারণ গত প্রায় পঞ্চাশটি বছর ধরে আমি এই কাঠঠোকরাটির মতো ঠোকাঠুকির কাজটাই তো করতে চেয়েছি বা করে যাচ্ছি বিরামহীন! প্রীতিভাজন তন্ময় সেটা ঠিক ঠিক অনুধাবন করতে পেরেছে।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের অনিন্দ্যসুন্দর ভুবনের একজন বাসিন্দা হিসেবে প্রধানত আমার টার্গেট অডিয়েন্স ছোটোরা।ছোটদের জগৎ এমনিতেই বর্ণালি।রঙ ঝলোমল।ফ্যান্টাসি আর আনন্দে ভরপুর।সেই ফ্যান্টাসি আর আনন্দে সামান্য বাড়তি কিছু রঙ আমি যুক্ত করতে চেয়েছি গোটা জীবনভর।ছন্দে ছন্দে রাঙিয়ে দিতে চেয়েছি ওদের জীবনের কিছু মুহূর্তকে।</p>
<p style="text-align: justify">মূলত ছোটদের জন্যে লিখলেও যেহেতু আমি একজন সামাজিক মানুষ, যেহেতু আমি বাঙলা বাঙালি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী একজন নাগরিক, সেইহেতু আমাকে কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক নাগরিক দায়ও মেটাতে হয়।সেই কারণে<br />
দেশ ও দেশের মানুষের যেকোনো দুর্যোগে দুঃসময়ে ক্রান্তিকালে কিংবা অর্জনে ও প্রাপ্তিতে, আনন্দে ও বেদনায়, ছড়াকার হিসেবে আমার একটা ভূমিকা থাকেই।সেই ভূমিকাটি পালন করতে গিয়ে আমাকে লিখতে হয় অজস্র ছড়া&#8211;যা বড়দের পাঠোপযোগী বা বয়স্কজন পাঠ্য।</p>
<p style="text-align: justify">আমার এরকম ঠোকাঠুকিতে বাংলাদেশের কুখ্যাত বা বিখ্যাত বহু গণধিকৃত চরিত্র আহত হন বিরক্ত হন উত্তেজিত হন।গণমানুষের মনের কথাটিই বলতে হয় লেখক শিল্পীকে।একজন লেখক কিংবা একজন শিল্পীর বলা কথাটিই তখন সমষ্টির কথা হিসেবে বিবেচিত হয়।</p>
<p style="text-align: justify">স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসমূহ, স্বৈরশাসন সামরিক শাসন অপশাসন দুঃশাসন ও সমসাময়িক বিষয়ের নানা খণ্ডচিত্র তাই চিত্রিত হয়ে আছে আমার বড়দের জন্যে রচিত ছড়ার বইগুলোয়।সংখ্যার হিসেবেও যা কম নয়।অনিন্দ্যপ্রকাশ সেই বইগুলো এক মলাটে নিয়ে এসেছে ২০১৫ সালে।যার নাম রেখেছি আমি&#8211;‘এডাল্ট ছড়াসমস্ত’। কোনো রকম ইলাস্ট্রেশন ছাড়া প্রতিটি ছড়া হাফ ইঞ্চি স্পেস ব্যবধান মেনে টানা মেকআপে পাতা সাজিয়েছি।তারপরেও বইটি দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচশো পৃষ্ঠায়।</p>
<p style="text-align: justify">২০১৫-এর পরে লেখা বড়দের ছড়াগুলো নিয়ে প্রকাশের অপেক্ষায় আরো দুতিনটে বই।এখন কথা উঠতে পারে এতো ছড়া আমি লিখি কেনো? কেনোই বা আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা একশোরও বেশি।এর উত্তর একটাই।<br />
ছড়া লেখার বাইরে আর কিছু পারি না আমি।</p>
<p style="text-align: justify">খুব কম যোগ্যতা নিয়ে আমি পৃথিবীতে এসেছি।এসেছি খুব কম আয়ু নিয়েও।<br />
মানুষের চেয়ে অনেক অনেক বেশি বাঁচে একটি কচ্ছপ।<br />
আমার ক্ষমতা আর যোগ্যতা বিষয়ে আমি সচেতন।<br />
আমি জানি আমার চাইতে অনেক বেশি ক্ষমতা রাখে এমনকি একটি কাঠঠোকরাও।<br />
আমি জানি একটি কাঠঠোকরা সেকেন্ডে কুড়িবার ঠোকরাতে পারে।<br />
কিন্তু আমি তো পারি না এতো!</p>
<p style="text-align: justify">একটি কাঠঠোকরার ক্ষিপ্রতার তুলনাতেও আমি নিতান্তই হাস্যকর পর্যায়ের!<br />
কারণ একটি কাঠঠোকরার ঠোকরানোর গতি (ঘাড় ওঠানো নামানো) ১২০০ থেকে ১৫০০ জি ফোর্স অর্থাৎ কিনা গ্রাভিটেশনাল ফোর্স।<br />
সেখানে মানুষের ক্ষেত্রে তার হিসেবটা সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ১০০ জি ফোর্স মাত্র!<br />
গাছের জন্য ক্ষতিকর পোকাগুলো খেয়ে একটি কাঠঠোকরা<br />
নিসর্গে গাছ টিকিয়ে রাখতে যে ভূমিকা সে রাখে আমি তো সেই তুলনাতেও অতি অতিনগন্য পর্যায়ের!<br />
মানুষের জন্যে ক্ষতিকর, সমাজের জন্যে ক্ষতিকর এবং দেশের জন্যে ক্ষতিকর প্রাণিগুলোকে তো আমি নিশ্চিহ্ন করতে পারি না কাঠঠোকরাদের মতো!<br />
তারপরেও আমার অতিনগন্য ক্ষমতা দিয়ে সভ্যতাবিনাশী ক্ষতিকর প্রাণিদের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে সাধারণ মানুষের কান আমি ঠুকরে যাবো&#8211;<br />
ঠক ঠক&#8230;<br />
ঠক ঠক&#8230;<br />
ঠক ঠক&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">অটোয়া ২৮ জুন ২০২২<br />
[কার্টুন/ তন্ময়]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/29/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%a0%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার ছড়াকার হওয়ার জার্নিটায় দাদাভাই ইত্তেফাক এবং পিওন দারোয়ানদের মমতা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 02 May 2022 18:47:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1899</guid>

					<description><![CDATA[জন্মেছিলাম পুরোন ঢাকায়। খুব মামুলি মধ্যবিত্ত একটা পরিবারে অনেকগুলো ভাইবোনের কিলবিলে সংসারে কেটেছে আমার ছেলেবেলাটা। আমার শৈশব বিকশিত হয়েছে ওয়ারিতে। পুরোন ঢাকার সবচে অভিজাত এলাকা হিশেবে ওয়ারির খ্যাতি ছিলো। ওয়ারিতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">জন্মেছিলাম পুরোন ঢাকায়। খুব মামুলি মধ্যবিত্ত একটা পরিবারে অনেকগুলো ভাইবোনের কিলবিলে সংসারে কেটেছে আমার ছেলেবেলাটা।<br />
আমার শৈশব বিকশিত হয়েছে ওয়ারিতে। পুরোন ঢাকার সবচে অভিজাত এলাকা হিশেবে ওয়ারির খ্যাতি ছিলো। ওয়ারিতে আরো অসংখ্য শিশুকিশোরদের মতোই বেড়ে উঠছিলাম আমি। খুবই শাদামাটা ভাবে। ঝাঁকের কৈ হিশেবে। কিন্তু আমাকে খুব সহজেই সেই ঝাঁকের কৈ-এর ডালা থেকে আলাদা করে সুন্দর একটা স্বপ্নের ভেতরে সুন্দর স্বপ্নময় একটা ভুবনের ভেতরে নিয়ে এসেছিলো শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা। বাবা কিংবা বড়ভাই কিংবা মা অথবা বড়বোন আমাকে সেই ‘স্বপ্নময় জগতে’র সন্ধান দেননি। রঙিন সেই ভুবনের বর্ণাঢ্য দরোজার কাছে নিয়তিই আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো। নিয়তিই আমাকে দাড় করিয়ে দিয়েছিলো দক্ষ এক ট্রাফিক সার্জেন্টের সামনে। যিনি মুহুর্তেই বদলে দিয়েছিলেন আমার জীবনটাকে।<br />
কীভাবে?<br />
সেই গল্পটাই বলি আগে।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৭২ সালের রোদেলা এক বিকেল।<br />
এইমাত্র একটা ঘুড়ি বাকাট্টা হলো ওয়ারির আকাশে। ছাদ থেকে সেই দৃশ্য দেখামাত্র দ্রুত পায়ে আমার সিঁড়িভাঙা শুরু। পরনে স্যান্ডোগেঞ্জি আর হাফপ্যান্ট। পায়ে স্যান্ডেল নেই। সেই অবস্থায়ই দে ছুট ঘুড়ির পেছনে। ওটাকে ধরতেই হবে। ছুটে যাচ্ছি আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে। র‍্যাংকিন স্ট্রিট সিলভারডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে এক লোক খপ করে ধরে ফেললো আমার হাত&#8212;এই ছেলে ওরকম ছুটছো যে, একসিডেন্ট করবে তো!</p>
<p style="text-align: justify">মহাবিরক্ত আমি লোকটার দিকে না তাকিয়ে, তাকিয়ে আছি ঘুড়িটার দিকে। ঘুড়িটা তার সাপের মতো লেজ দোলাতে দোলাতে আমার মন খারাপ করে দিয়ে ধরা দিলো আমারই বয়েসী অন্য একটা ছেলের হাতে।&#8230;<br />
এভাবেই ১৯৭২ সালে পথের মোড়ে দক্ষ ট্রাফিক সার্জেন্টের মতো দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন আমার জীবনের গতিপথ। কোট-টাই পরা মোটা ফ্রেমের চশমা চোখের সুদর্শন সেই মানুষটার নাম রোকনুজ্জামান খান ওরফে দাদাভাই। শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার পরিচালক। তখনকার সবচে প্রভাবশালী দৈনিক ইত্তেফাকের ছোটদের পাতা কচি-কাঁচার আসরের পরিচালক। দাদাভাই-ই আমাকে ভর্তি করে নিলেন কচি-কাঁচার মেলার ছবি আঁকার ক্লাশ &#8216;শিল্পবিতান&#8217;-এ। অতঃপর শুরু হলো আমার ছবি আঁকা। টপাটপ কয়েকটা পুরস্কারও পেয়ে গেলাম জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক। দাদাভাই কচি-কাঁচার আসরে আমার আঁকা ছবি ছাপালেন অনেকগুলো। ইত্তেফাকের সেই ছোটদের পাতায় আমার আঁকা ছবির পাশে ছাপা হতো অনেকের ছড়া কবিতা গল্প। সেগুলো পড়ে পড়ে একদিন মনে হলো—আমি কেনো লিখি না ওদের মতো। যদি আমিও ওরকম মিলিয়ে মিলিয়ে ছড়া বানাতে পারি তাহলে দাদাভাই নিশ্চয়ই সেটা ছাপাবেন।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৭২ সালের স্বর্ণালি এক সন্ধ্যায় জয়কালী মন্দির রোডের কচি-কাঁচা ভবনে দাদাভাইয়ের হাতে লজ্জা আর দ্বিধায় জড়োসড়ো হয়ে গুঁজে দিলাম একটা ছড়া—পুতুলের বিয়ে। আমাকে অবাক করে দিয়ে পরের সপ্তাহেই ছাপা হলো ছড়াটা, কচি-কাঁচার আসরে। দাদাভাই ছড়াটা ছাপলেন এভাবে—পুতুলের বিয়ে, রিটন (বয়স ৯)। ছড়াটা ছিলো এরকম—‘খুকুর পুতুলের বিয়ে/পোলাও কোরমা খেয়ে/বর আসবে পালকি চড়ে/বকুল তলা দিয়ে।/সঙ্গে আসবে লোকলস্কর ঢোল-ঢক্কর বাজিয়ে।&#8230;’<br />
সেই থেকে শুরু।</p>
<p style="text-align: justify">সেদিন দাদাভাই ৯ বছর বয়েসী এক শিশুর অতিশয় দুর্বল সেই ছড়াটা ইত্তেফাকের কচি-কাঁচার আসরে ছেপে না দিলে বাংলাদেশে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের জন্ম হতো না। আজ আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা একশোরও বেশি। কৈশোরে এবং তরুণ বয়েসে কতো যে লিখেছি আমি কচি কাঁচার পাতায় তার কোনো হিশেব নেই। তখন ইত্তেফাক ছিলো বাংলাদেশের সবচে জনপ্রিয় বা পাঠকপ্রিয় পত্রিকা। সার্কুলেশনের দিক থেকে মহাশীর্ষে থাকা এই পত্রিকায় ছোট্ট করে কারো নাম কিংবা ছবি ছাপা হলেই সেটা দেশব্যাপি খবর হয়ে যেতো।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের বাড়িটা ছিলো হেয়ার স্ট্রিটে। তখন শুক্রবারে ব্রডশিটে দুই পাতাব্যাপি ছাপা হতো কচি-কাঁচার আসর। তখন, শাদাকালোয় ছাপা হলেও সেই পাতা দুটি ছিলো রঙে রেখায় বর্ণাঢ্য। এখন সেই পাতাটি রঙিন ছাপা হলেও মনে হয় রঙহীন, ফ্যাকাসে। কিন্তু তখন ছিলো উল্টোটি। দাদাভাই পরম মমতায় পাতা দুটিকে ভরিয়ে তুলতেন চমৎকার সব গল্প-কবিতা-ছড়া আর আঁকা ছবির মিশেল দিয়ে। পাতা দুটি হেসে উঠতো রঙে-রেখায় আর কথার জাদুতে। সত্তুরের দশকে, তখনকার মেধাবী প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখক শাহরিয়ার কবির, মুনতাসীর মামুন, আলী ইমামদের উজ্জ্বল উপস্থিতি ঘটাতেন দাদাভাই। পাশাপাশি থাকতো আরো কিছু তরুণ ও সম্ভাবনাময় লেখকের নানান স্বাদের লেখা। আর থাকতো কখনো কখনো একেবারেই খুদে বন্ধুর লেখা, আমারটা যেমন ছিলো।</p>
<p style="text-align: justify">মনে আছে আমার ছড়াটা যেদিন ছাপা হলো সেদিন আমি কী কান্ডই করেছি সারাটাদিন ধরে। যে পাতায় আমার ছড়াটা ছাপা হয়েছে সেই পাতাটা উন্মুক্ত করে ভাঁজ দিয়ে সেটা টেবিলে রেখে দিতাম যাতে পত্রিকাটা হাতে নিলেই আমার লেখাটা চোখে পড়ে। কিন্তু বারবার সেটা কেউ না কেউ ঠিক মতো ভাঁজ করে পত্রিকার প্রথম পাতাটাই দৃশ্যমান করে রাখতো। বিকেল পর্যন্ত কেউ দেখলোই না! কারো চোখেই পড়লো না এই বাড়ির একটা ছেলে কী না কবি হতে চলেছে! মনের দুঃখে অভিমান বুকে চেপে এক পর্যায়ে বিকেলে মা আর বাবাকে দেখিয়েছিলাম&#8211;এই যে দেখেন এইটা আমার লেখা ছড়া। কিন্তু খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখা গেলো না ওদের কারো মধ্যেই। উলটো বাবা বলেছিলেন, এইসব করে লেখাপড়ার ক্ষতি করার কোনো দরকার নেই। আমার উচিৎ মন দিয়ে লেখাপড়া করা। কারণ আমাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে।<br />
কিন্তু আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইনি।<br />
আমি হতে চেয়েছিলাম শিল্পী।<br />
আমি হতে চেয়েছিলাম লেখক।<br />
বাবা মায়ের সঙ্গে আমার অমত কিংবা দ্বিমতের শুরু সেই তখন থেকেই।</p>
<p style="text-align: justify">আজকে এই পরিণত বয়েসে এসে মনে হয়, আমার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিলো। বাবা মায়ের স্বপ্নের পেছনে ছুটলে আমি হয়তো, হয়তো কি, আমি নিশ্চিত একজন ইঞ্জিনিয়ার হতাম। তাহলে দেশ আরো একজন বেশি ইঞ্জিনিয়ার পেতো। কিন্তু আমি সেটা হইনি বলে, লুৎফর রহমান রিটন নামের একজন ইঞ্জিনিয়ার না থাকাতে বাংলাদেশের তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যায়নি। লেখক লুৎফর রহমান রিটন বাংলাদেশকে উদ্ধার করে ফেলেনি সত্যি, কোনো উপকারে আসেনি সত্যি কিন্তু তার হাত দিয়ে ইট-বালু-সিমেন্ট ও রডের গোলমেলে হিশেবে নড়বড়ে ব্রিজ কিংবা খানাখন্দে ভরপুর ভঙ্গুর রাস্তাঘাট অন্তত নির্মিত হয়নি একটাও। লেখক রিটন দেশের কোনো ক্ষতির কারণ হয়নি,কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর কারণ হয়নি। সেটাই বা কম কী সে!</p>
<p style="text-align: justify">কচি-কাঁচার আসরে আমার কতো যে লেখা আর ছবি দাদাভাই ছেপেছেন তার কোনো হিশেব নেই। একবার ছোট্ট আমি ঈদ উপলক্ষ্যে নিজ হাতে দুইপিঠ গ্লোসি আর্ট পেপারে একটা ঈদকার্ড এঁকে পাঠিয়ে দিলাম দাদাভাইকে। স্বপ্নেও ভাবিনি দাদাভাই ওটাও ছেপে দেবেন কচি-কাঁচার পাতায়! ড্রয়িং ক্লাশে আঁকা আমার ছবিগুলো থেকেই সাধারণত বাছাই করতেন দাদাভাই। যেগুলো রঙিন থাকতো। কিন্তু ইত্তেফাকে সেটা ছাপা হতো শাদাকালোয়। মাঝে মধ্যে আমি নিজের উদ্যোগেই কচি-কাঁচার আসরের জন্যে শাদাকালোয় ছবি এঁকে দাদাভাইকে দিতাম। এরকম একটি ছবির বিষয় ছিলো &#8216;বাবুই পাখির বাসা&#8217;। দাদাভাই ক্যাপশন দিয়েছিলেন এভাবে&#8211;শিল্পী বাবুই পাখি ও তার বাসা। ছবিটি এঁকেছে রিটন, বয়স&#8230;।<br />
আমাদের ছবি আঁকার ক্লাশ &#8216;শিল্পবিতান&#8217;-এ দেশের বড় বড় শিল্পীরা আসতেন পরিদর্শনে। যেমন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। কেন্দ্রীয় মেলার উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। মাঝে মধ্যেই কচি-কাঁচার মেলার ছবি আঁকার ক্লাশে আসতেন তিনি বিনা নোটিসে। প্রথমে র‍্যাংকিন স্ট্রিট সিলভারডেল কিন্ডারগার্টেনের ক্যাম্পাসে, পরে জয়কালী মন্দির রোডে কেন্দ্রীয় মেলার ছবি আঁকার ক্লাশে। ইজেলে পিসবোর্ডের ক্লিপে কার্টিজ পেপার সাঁটিয়ে ছবি আঁকতাম আমরা সারিবদ্ধ হয়ে। কতোদিন শিল্পাচার্য আমার স্কেচ ঠিক করে দিয়েছেন—এইভাবে না, এইভাবে আঁকো। কতোদিন ওয়াটার কালারে জল মেশানোর পদ্ধতির পাশাপাশি তার প্রয়োগও দেখিয়ে দিয়েছেন—তুলিটা এইভাবে ধরবা, তারপর এম্‌নে রঙ মিশাইবা, তারপর এইভাবে চালাইবা তুলি&#8230;। ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ডায়ালেক্টে কথা বলতে খুবই স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন তিনি।</p>
<p style="text-align: justify">কচি-কাঁচার আসরের মাস্টহেড বা লোগোটি ছিলো প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খানের আঁকা। একবার কি মনে করে বড়সড় একটা আর্টকার্ডে কচি-কাঁচার আসরের একটা লোগো এঁকে পৌঁছে দিয়েছিলাম দাদাভাইয়ের দপ্তরে। আহা কী কাণ্ড! পরের সপ্তাহেই দাদাভাই আমার আঁকা মাস্টহেডটি ছেপে দিয়েছিলেন পাঁচ কলাম জুড়ে! এবং রিটন নামের এক খুদে শিল্পী যে ওটা এঁকেছে সেটাও দাদাভাই প্রচার করে দিলেন লোগোর নিচে, সগৌরবে! আমাকে আর পায় কে! শিল্পী হবার স্বপ্নে তখন বিভোর আমি। দু&#8217;চোখ ভরে আমি স্বপ্ন দেখতাম আর্টিস্ট হবো। শিল্পী হবো। ভর্তি হবো চারুকলায়।<br />
কিন্তু নিয়তি আমাকে শিল্পী হতে দিলো না।</p>
<p style="text-align: justify">আমার কান ধরে টেনে এনে নিয়তি আমাকে বসিয়ে দিলো লেখার টেবিলে&#8211;ল্যাখ ব্যাটা।<br />
আমাদের হেয়ার স্ট্রিটের বাড়ি থেকে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ইত্তেফাক অফিস খুব বেশি দূরে নয়, আবার খুব একটা কাছেও নয়। রিকশা করে গেলে কাছেই কিন্তু হেঁটে গেলে সেটা খানিকটা দূরেই। আমাদের বাড়িতে ইত্তেফাক পত্রিকাটি রাখা হলেও শুক্রবার সকালে আমার তর সইতো না। কারণ শুক্রবারে ছাপা হতো কচি-কাঁচার আসর। হকার এসে পত্রিকাটা দিতে দিতে সকাল আটটা বেজে যেতো। পাতাটা দেখার অপেক্ষায় সারা রাত অস্থির হয়ে থাকতাম। ঠিকমতো ঘুমাতেও পারতাম না কখন ভোর হবে সেই চিন্তায়।</p>
<p style="text-align: justify">কেউ জানতো না, কেউ টের পেতো না খুব ভোরে উঠে একা একা ছোট্ট একটা বালক র‍্যাংকিন স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, লারমিনি স্ট্রিট, জয়কালী মন্দির রোড, চণ্ডিচরণ বোস স্ট্রিট, হাটখোলা রোড পার হয়ে চলে যেতো রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ইত্তেফাক অফিসে। ইত্তেফাক ভবনের দেয়ালে প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরেই আঠালো লেই দিয়ে সেঁটে দেয়া হতো সেদিনের পত্রিকার সব ক&#8217;টি পাতা। লম্বা দেয়াল জুড়ে পাতাগুলোর সামনে ভিড় লেগে থাকতো মর্নিং ওয়াক করতে আসা মানুষদের। আমিও গিয়ে যুক্ত হতাম সেই ভিড়ে। বড়দের ভিড় ঠেলে পত্রিকার কাঙ্খিত পাতাটার সামনে দাঁড়াতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হতো। অনেকেই বিরক্ত হতেন ছোট্ট একটা বালকের অনাবশ্যক কৌতূহলে। কিন্তু কেউ কেউ খুব সদয় ভঙ্গিতেই জায়গা ছেড়ে দিতেন&#8211;আসো খোকা।</p>
<p style="text-align: justify">সেই ভিড় ঠেলে কাঙ্খিত পাতার সামনে দাঁড়িয়ে কতোদিন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকেছি নিজের আঁকা কোনো ছবি কিংবা নিজের লেখা কোনো ছড়ার দিকে! আমার ছড়াটির শিরোনাম এবং আমার নামটি চমৎকার হস্তাক্ষরে অর্থাৎ ফ্রিহ্যান্ড লেটারিং-এ ফুটিয়ে তুলতেন শিল্পী আইনুল হক মুন্না! আহা কী মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ ছিলো প্রসন্ন সেই সকালগুলো! ইচ্ছে করতো আমাকে ভিড়ের মধ্যে ঢুকতে দিতে না চাওয়া লোকগুলোকে চিৎকার করে বলি&#8211;এই যে ভাই, যে ছবিটা আপনি দেখছেন, যে লেখাটা আপনি এখন পড়ছেন ওটা এই আমারই লেখা! কিন্তু বলতে পারতাম না। উলটো সংকোচিত হয়ে উঠতাম&#8211;এই বুঝি কেউ বুঝে ফেললো! এই বুঝি কেউ চিনে ফেললো!<br />
আহারে আমার সবুজ মায়াময় শৈশব-কৈশোরে আর সোনালি যৌবনে কী দিনগুলোই না উপহার দিয়েছিলো কচি-কাঁচার আসর নামের একটা পাতার মাধ্যমে দাদাভাই নামের একজন স্বপ্নপুরুষ!</p>
<p style="text-align: justify">কচি-কাঁচার মেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে, কচি-কাঁচার আসরের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে কে জানে লেখক না হয়ে আমি হয়তো হতাম কোনো ছিঁচকে মাস্তান কিংবা দুর্ধর্ষ কোনো সন্ত্রাসী। হয়তো হতাম ব্যাংক লুটেরা কিংবা কোনো তস্কর রাজনীতিবিদ। কিংবা কোনো বেপরোয়া হিংস্র গডফাদার। মানুষ খুন করতাম। গুম করতাম। লুট করতাম। আমার পায়ের কাছে গড়াগড়ি খেতো হাজার কোটি লক্ষ কোটির কারেন্সি নোট। আমার দারিদ্র্য তখন মিউজিয়মে মুখ লুকাতো। কিন্তু একটা দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে গরিব কিছু লেখক-শিল্পীও তো লাগে!<br />
ছোটদের পাতা কচি-কাঁচার আসর এবং শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা আমার হাতে অস্ত্র তুলে না দিয়ে তুলে দিয়েছিলো রঙ আর তুলি। ছুরি-চাপাতি কিংবা পিস্তলের বদলে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলো বাদ্যযন্ত্র। পিস্তলের ট্রিগারের বদলে আমার আঙুলে তাই ঝংকৃত হয়েছে হারমোনিয়মের রিড। ছোটদের পাতা আর শিশুসংগঠন সেটাই করে। সাংস্কৃতিক চেতনাটাকে উস্কে দেয়। মূল্যবোধটাকে ঔজ্জ্বল্য দেয়। মনোজগতটাকে করে তোলে ঝকঝকে রঙিন।</p>
<p style="text-align: justify">রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ইত্তেফাক, কচি-কাঁচার আসর এবং কচি-কাঁচার মেলার সঙ্গে আমার এক জীবনের স্মৃতি।<br />
খুব ছোট্ট বয়েস থেকে ওই ভবনে আমার যাতায়াত। শিশুসংগঠন কচি-কাঁচার মেলার সাম্য আর মানবিক শিক্ষা আমাকে গড়পরতা মানুষ না হয়ে আরেকটু ভালো মানুষ হিশেবে গড়ে উঠতে শিখিয়েছিলো। যে কারণে ইত্তেফাক ভবনের পিওন-দারোয়ানদের সঙ্গেও আমার ছিলো চমৎকার সখ্য। ছেলেবেলায় তাঁরা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। অনায়াসে তুমি করে বলতেন। আর আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতাম আপনি সম্বোধনে। নামের সঙ্গে ভাই জুড়ে দিয়ে। যেমন ইত্তেফাকের শামসু ভাই কিংবা রুস্তম ভাই। কচি-কাঁচার মেলার সোহরাব ভাই। ইত্তেফাকে ঢোকার মুখেই ভবনের দারোয়ান থেকে পিওন ও সিকিওরিটি ডেস্কের লোকজনের হাস্যোজ্জ্বল সম্ভাষণ পেতাম&#8211;ভালো আছো রিটন? দাদাভাই আছেন। উপরে যাও। কিংবা ইত্তেফাকে তোমার কবিতাটা সুন্দর হইছে! তাঁদের প্রশংসা আমাকে আনন্দিত করতো। একজন কিশোর লেখকের জন্যে ওরকম প্রাপ্তিটা মহার্ঘ্যই ছিলো। কেউ কেউ কচি-কাঁচার পাতাটা আলাদা করে আমার জন্যে রেখে দিতেন। কাউন্টারে জমা রেখে বলতেন&#8211;তোমার জন্য রাখছি। যাওয়ার সময় নিয়া যাইও। ওদের মমতা আর ভালোবাসা পেতে পেতেই বড় হয়েছি আমি।<br />
একটা ঘটনার স্মৃতি মনে এলো।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৯৯ সালের এক দুপুরে গুলিস্তানের গ্রন্থকেন্দ্র ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য রিকশার একটি থেকে উদোম শরীরের হাস্যোজ্জ্বল এক রিকশাচালক হঠাৎ আমাকে দেখে মহা উচ্ছ্বাসে আমার দিকে হাত নাড়াতে নাড়াতে&#8211;আরে রিটান রিটান তুমি কেমন আছো বলে ডাকাডাকি শুরু করলে আশপাশের পথচারী এবং রিকশাচালকেরা বিস্মিত হচ্ছিলো!</p>
<p style="text-align: justify">তখন, বিটিভিতে অনুষ্ঠান করার সুবাদে আমার চেহারাটা মোটামুটি পরিচিত ছিলো। আমাকে না চিনলেও আমার মতো গাঢ় নীল জিন্সের প্যান্টের সঙ্গে ঝলমলে রঙিন ইন করা শার্ট এবং চকচকে বেল্ট ও ঝকঝকে জুতো পরিহিত ঝাঁকড়া চুলের দশাসই গুম্ফধারী এক তরুণকে একজন রিকশা চালকের তুমি সম্বোধনে অবাক হচ্ছিলো সকলেই। আমার সঙ্গে ছিলেন কবি বেলাল চৌধুরী এবং রবিউল হুসাইন। একসঙ্গেই আমরা ঢুকতে যাচ্ছিলাম গ্রন্থ কেন্দ্রে। সরকারি দলের লেখক প্রতিনিধি হিশেবে আমাদের কোলকাতা বইমেলায় যাবার বিমান ও খরচাপাতির টাকা গ্রন্থকেন্দ্রে জমা ছিলো।একজন রিকশাচালকের সংগে আমার সখ্য দেখে দুজনের একজনও একটুও অবাক হননি। বেলাল ভাই এক মিনিট বলে তাঁদের দাঁড় করিয়ে রেখেই আমি ছুটে গিয়েছিলাম সেই রিকশা চালকের দিকে&#8211;আরে সোহরাব ভাই আপনি? কেমন আছেন? কতোদিন পর দেখলাম বলেন তো?<br />
জীর্ণশীর্ণ সোহরাব নামের মানুষটা ছিলেন জয়কালী মন্দির রোডের কচি-কাঁচার মেলা ভবনের পিওন কাম দারোয়ান প্লাস নিরাপত্তা রক্ষী। খুব হাসিখুশি থাকতেন। তিনি আমাদের নাম ধরে ডাকতেন, তুমি করে বলতেন। আমরা তাঁকে আপনি সম্বোধনে সোহরাব ভাই বলতাম। সোহরাব ভাই খানিকটা পড়তে লিখতে পারতেন। ইত্তেফাকের পাতায় হারমোনিয়াম বাজিয়ে আমার গান গাওয়ার কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ছবি এবং আমার আঁকা ছবি কিংবা লেখা ছাপা হলে পাতাটা আমার সামনে মেলে ধরে একবার আমাকে দেখতেন একবার পাতাটা দেখতেন। তারপর ভুবন ভোলানো সরল হাসিতে দন্ত বিকশিত করতেন&#8211;এই যে রিটান এইটা তুমি! কী সুন্দার!</p>
<p style="text-align: justify">গ্রন্থ কেন্দ্রের সামনে সেই দুপুরে আমাকে পেয়ে সোহরাব ভাই ছিলেন মহা উচ্ছ্বসিত। আশপাশের কৌতূহলী রিকশা চালকদের খুব গর্বের সঙ্গে বলছিলেন তিনি&#8211;এই রিটান (তিনি রিটান ডাকতেন) এই এইটুক থাকনের সুময় থেইকাই আমাদের প্রিয় ছিলো। (আমি যতোটা ছোট ছিলাম না ইশারায় তারচে ছোট সাইজ ইন্ডিকেট করে দেখাচ্ছিলেন তিনি!) রিটান তুমি পাল্টাও নাই। আমারেও মনে রাখছো! বলতে বলতে চালকের আসন থেকে নেমে এসেছিলেন তিনি।</p>
<p style="text-align: justify">তাঁকে আমি জড়িয়ে ধরেছিলাম আচমকা&#8211;কতোদিন পরে দেখা হলো সোহরাব ভাই বলেন তো!<br />
দ্বিধায় জড়োসড়ো উদোম হাড্ডিসার শরীরে আমাকে জড়িয়ে ধরতে একটুও দেরি করেননি সোহরাব ভাই। তার চোখ ছলছল করছিলো। তিনি বলছিলেন&#8211;রিটান তুমি পাল্টাও নাই। এইরমই থাইকো। অনেক দোয়া করি তোমার জইন্যে। শাল্লির লগে কত বন্ধুত্ব আছেলে তোমার। অরে বিবাহ কর্ছো?<br />
সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে বললাম&#8211;করেছি তো সোহরাব ভাই!</p>
<p style="text-align: justify">তিনি আমার মাথায় চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন। ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছিলেন গালটাও&#8211;টেলিভিশনে কতদিন দেখছি তোমারে রিটান&#8230;!<br />
দাদাভাই আমারে কচি-কাঁচার চাকরি থেইকা ছাড়াইয়া দেওনের পরে রিশকা চালাই। বাঁচন তো লাগবে! কত্ত বড় হইছো তুমি রিটান! দোয়া করি আরো বড় হও।</p>
<p style="text-align: justify">আমার ছড়াকার হওয়ার দীর্ঘ জার্নিটায় সোহরাব ভাইদের মতো প্রান্তিক দরিদ্র মানুষেরাও ছিলেন। তাঁদের মমতা ভালোবাসা আর আদরে বিকশিত হয়েছি আমি।<br />
কে বলে আমায় হত দরিদ্র কে বলে আমায় দুখি? আমিই সবচে সুখি।<br />
অটোয়া ৩০ মার্চ ২০২২</p>
<p style="text-align: justify">[ লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া। বানান রীতি লেখকের]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রণতি, লতার প্রতি ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/08/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/08/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 08 Feb 2022 15:48:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1596</guid>

					<description><![CDATA[প্রণতি, লতার প্রতি তোমার কণ্ঠ আশ্রয় হয়ে আসে আমার বেদনা আনন্দ উচ্ছ্বাসে আমার বিরহে সংশয়ে সংকটে বাহুডোরে বাঁধে দ্বিধাহীন অকপটে তোমার সুরের গভীর আলিঙ্গনে হতাশার ক্ষণে গ্লানিতে নিমজ্জনে ডুবে যেতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">প্রণতি, লতার প্রতি</span></p>
<p style="text-align: justify">তোমার কণ্ঠ আশ্রয় হয়ে আসে<br />
আমার বেদনা আনন্দ উচ্ছ্বাসে<br />
আমার বিরহে সংশয়ে সংকটে<br />
বাহুডোরে বাঁধে দ্বিধাহীন অকপটে<br />
তোমার সুরের গভীর আলিঙ্গনে<br />
হতাশার ক্ষণে গ্লানিতে নিমজ্জনে<br />
ডুবে যেতে যেতে ভেসে উঠি পুনরায়<br />
সুর মূর্ছনা সিম্ফনি তুলে যায়&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">প্রবল বিষাদে তুমুল বেদনাবোধে<br />
গাঢ় অভিমানে ক্রন্দনে প্রতিরোধে<br />
গরম কফির পেয়ালার সৌরভে<br />
জানি প্রত্যেহ তোমার ভজন হবে।</p>
<p style="text-align: justify">চশমার কাচে অশ্রুতে ভেজা ফ্রেমে<br />
যাপিত জীবনে আমার সকল প্রেমে<br />
তুমি ছিলে, তুমি রইবে যে চিরদিন<br />
বইছি, বইবো তোমার সুরের ঋণ।</p>
<p style="text-align: justify">কোটি মানুষের হৃদয়ে তোমার ঘর<br />
তোমার কণ্ঠে বাস করে ঈশ্বর<br />
স্বর্গেও বাজে নিত্য তোমার গান<br />
মুগ্ধ প্রকৃতি মুগ্ধ যে ভগবান&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">অশ্রু-সাগরে ভেজা কোটি অন্তর<br />
সুরের ভুবনে দেবী তুমি, ঈশ্বর&#8230;<br />
কী করে সইবো তোমার মৃত্যুশোক?<br />
অমৃতলোকে যাত্রাটা শুভ হোক।</p>
<p style="text-align: justify">৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২</p>
<p><em>[অলঙ্করণ ও কবিতা ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ]</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/08/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a7%8e%e0%a6%ab%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দাঁড়িয়ে থাকার গল্পটা ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/06/15/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/06/15/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 14 Jun 2021 18:32:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=861</guid>

					<description><![CDATA[সময়কাল ২০০৩। নতুন আসা কানাডায় আমার তখন টিকে থাকার অনিঃশ্বেষ সংগ্রাম। নদী স্কুলে পড়ে। শার্লি সংসার সামলায়। আর আমি কাজ করি। একজনের আয়ে সংসার চালানো কঠিন। আমাকে তাই দিনে দু&#8217;টো &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সময়কাল ২০০৩। নতুন আসা কানাডায় আমার তখন টিকে থাকার অনিঃশ্বেষ<br />
সংগ্রাম। নদী স্কুলে পড়ে। শার্লি সংসার সামলায়। আর আমি কাজ করি। একজনের আয়ে সংসার চালানো কঠিন। আমাকে তাই দিনে দু&#8217;টো &#8216;জব&#8217; বা কাজ করতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">কি কাজ?</p>
<p style="text-align: justify">ফুটানিকা ডিব্বা বাঙালিরা এই ধরণের জবকে বলে &#8216;অড জব&#8217;। অথচ আমেরিকা কানাডা ইউরোপে কোনো জবই অড জব নয়। আমার কাজটা দাঁড়িয়ে থেকে করতে হয়। বসার সুযোগ একদমই নেই। আমি একজন বেকার অর্থাৎ মাফিন-কেক আর বিস্কুট তৈরি করি। বার্গার আর স্যান্ডুইচ বানাই। এবং ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করি। বেকারির কাজে এতোটাই দক্ষতা অর্জন করেছিলাম যে টানা পাঁচ-ছয় বছর আমি এই প্রফেশনে ছিলাম। কেক বানানো মাফিন বানানো কিংবা নানান রকমের বিস্কুট বানানোর কাজটা তেমন কঠিন লাগতো না আমার কাছে। কঠিন ছিলো টানা আট ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকাটা। সে এক অবর্ণনীয় কষ্ট।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথম কাজটা সকাল ছয়টায় শুরু হয়ে দুপুর দুইটায় শেষ হয়। দ্বিতীয় কাজটা শুরু হয় বিকেল চারটায় এবং শেষ হয় রাত দশটায়। প্রথম কাজটা আট ঘন্টার হলেও দ্বিতীয় কাজটায় ছয় ঘন্টার শিফট। প্রথম কাজটা অটোয়ার ডাউন টাউনে। কার্লিং এভেনিউর উড্রিজ ক্রিসেট থেকে অর্থাৎ আমার বাসা থেকে বেশ দূরে। ছয়টায় শুরু হওয়া কাজটায় সময় মতো পৌঁছাতে ভোর পাঁচটার বাসে আমাকে চেপে বসতে হয়। তারপর দুপুর দুইটায় কাজ শেষ করে ফের বাসে চেপে বাড়ি ফিরতে লেগে যায় আরো প্রায় এক ঘন্টা। বাড়ি ফিরে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে সোফায় শুয়ে সামান্য একটু রেস্ট নিয়েই ছুটতে হয় বাস ধরতে। দ্বিতীয় কাজটা চারটায় শুরু। ওটাও আমার বাসা থেকে হাঁটার দূরত্বে নয়। বাসে করেই যাওয়া লাগে। চারটা থেকে দশটা পর্যন্ত কাজ করে সাড়ে দশটায় যখন ফিরে আসি বাড়িতে তখন আমার বেহাল বিধ্বস্ত অবস্থা। দ্রুত ভাত খেয়ে বেডরুমের সমস্ত আলো নিভিয়ে দিয়ে একটা ঘুমের জন্যে তৎপর হয়ে উঠি। সিডি প্লেয়ারে একটা গান তখন খুব বাজাই&#8211;আর কারো চোখে আমি দোষী নই, শুধু তোমার নির্দোষ চোখে আমি দোষী&#8230;। ব্যান্ড শিল্পী মিজানের গাওয়া গান। মিজানের আর কোনো গান আমি শুনিনি। কিন্তু ওই একটা গান এমন দরদ দিয়ে গেয়েছেন মিজান যে গানটা আমার প্রিয়র তালিকায় অনায়াসে ঠাঁই করে নিয়েছিলো।</p>
<p style="text-align: justify">সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকার কাজটা করেছি বলে পা আমার ফুলে ঢোল। ব্যথায় কাতর আমার পায়ে শার্লি কিছুটা উপশম দিতে চায়। কিন্তু আমার খারাপ লাগে। শার্লি জোর করে দুই পা মালিশ করে দেয় পরম মমতায়&#8211;একটু ঘুমা। আবার তো উঠতে হবে কয়েক ঘন্টা পরেই! ফোলা পা দু&#8217;টোকে স্বাভাবিক চেহারায় ফিরিয়ে আনতে শার্লি আমার পায়ের নিচে চারটা পাঁচটা বালিশ দিয়ে দেয়। রাত বারোটা থেকে ভোর সারে তিনটা চারটা পর্যন্ত পা দু&#8217;টো ঊর্ধাকাশমুখী করে রাখতে পারলে পায়ের ফুলে যাওয়া চেহারাটা বেশ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">গান শুনতে শুনতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তারপর চারটায় জেগে উঠি ঘড়ির কর্কশ এলার্মে। আমার আগেই উঠে পড়ে শার্লি। টেবিলে আমার জন্যে খাবার রেডি করে রাখে। আমি দ্রুত শাওয়ার নিয়ে খেয়ে তারপর কাঁধে একটা ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে বাস স্টপে এসে দাঁড়াই। ঠিক পাঁচটায় বাস চলে আসে। শীত এবং বরফের কালে ভোর পাঁচটার বাস ধরতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার এই সময়টা কতো কষ্টকর সেটা লিখে বোঝানো কঠিন। যদিও পরনে মোটা উইন্টার জ্যাকেট, ইনারসমৃদ্ধ প্যান্ট আর স্নোবুট এবং হাতের গ্লোভস ও মাথার হুডি বহাল থাকে তথাপি প্রচন্ড উইন্ডচিল অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহ দুর্বিষহ করে তোলে প্রতিটা মুহূর্তকে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিন রাতে পায়ের ব্যথায় কাতর আমি একটু ঘুমানোর জন্যে যখন নিদ্রাদেবীকে কাতর কণ্ঠে আহবান করি&#8211;এসো গো নিদ্রা দেবী, আমাকে একটু ঘুম দিয়ে যাও, ঘুম দিয়ে যাও, ঘুম দিয়ে যাও&#8230;। নিদ্রাদেবী তখন হাসে&#8211;অতো সহজে আমি আমি ধরা দেই না রে পাগল। আমাকে পেতে হলে সাধনা কর। সাধনায় সিদ্ধিলাভ।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>এই ভয়াবহ সময়টায় মাঝে মধ্যেই একটা কিশোরকে আমার মনে পড়ে। সে আমার &#8216;ছোটদের কাগজ&#8217; পত্রিকার অফিসে পিওনের কাজ করতো। স্মৃতি আমাকে এক ঝটকায় ঢাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">০২<br />
শাহবাগ আজিজ মার্কেটের তিন তলায় ছিলো আমার &#8216;ছোটদের কাগজ&#8217;-এর অফিস। সময়কাল ১৯৯৬। এক কক্ষ বিশিষ্ট মোটামুটি পরিসরের ছিমছাম সেই অফিসে একটা সেক্রেটারিয়েট টেবিল, আমার কাজের সুবিধার বিবেচনায় একটা রিভলবিং চেয়ার, অতিথিদের জন্যে চারটে আরামদায়ক চেয়ার ওই টেবিলের সামনে , একটা ছোট আলমারি এবং দেয়াল সাঁটানো একটা সুদৃশ্য বইয়ের র‍্যাক&#8211;এই ছিলো ফার্নিচার।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসে প্রতিদিন আমাকে সহায়তা করার জন্যে একজন কিশোরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পদটা &#8216;অফিস সহকারী&#8217; হলেও আমাদের এলিট ও আধা এলিট মধ্যবিত্তের কাছে ওটা পিওন। ছোটদের কাগজের সেই &#8216;কিশোর পিওন&#8217; ছেলেটা খুবই হাসিখুশি। উদ্যমী। আজিজ মার্কেটের নিচ তলায় আমার রিকশাটা পৌঁছালেই কোত্থেকে ছুটে আসতো সে। তারপর আমার সঙ্গে নড়বড়ে লিফট কিংবা সিঁড়ি টপকে অফিসের দরোজায় এসে আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে সাটারটা ওপরের দিকে চালান করে দিতো। তারপর টেবিল-চেয়ারসহ পুরো অফিসটাকে ক্লিন ঝকঝকে করে তুলতো। তারপর আমার জন্যে নিয়ে আসতো ধোঁয়া ওঠা এককাপ গরম চা। তিন তলার চায়ের দোকান থেকে সারাদিন আমার নিজের ও অতিথিদের জন্যে চা এবং সিঙ্গারার চালান নিয়ে আসতো ছেলেটা। সন্ধ্যায় বা রাতে ফেরার সময় ছেলেটা আমাকে টাকার অংকটা বলতো। তারপর আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে চা-স্টলের পাওনা পরিশোধ করতো।</p>
<p style="text-align: justify">ছেলেটার অফিস টাইম আমার অফিস টাইমের সঙ্গে নির্ধারিত। আমি দুপুরে চলে গেলে দুপুর থেকেই ওর ছুটি। আমি রাতে ফিরলে তারও ফেরার টাইম রাতে। আমি অফিসে না এলে সারাদিন ওর ছুটি। মাসের মাইনের টাকাটা পেলে তার মুখে উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠতো। নির্ধারিত মাইনের বাইরেও প্রতিদিন কিছু বখশিস পেতো সে। আর পেতো চা-সিঙ্গারা-বিস্কুটের ভাগ।</p>
<p style="text-align: justify">এক বিকেলে কাজ করতে করতে খেয়াল করলাম, যতোক্ষণ আমি অফিসে থাকি, ডাকা মাত্র মুহূর্তেই সামনে এসে দাঁড়ায় ছেলেটা। লক্ষ্য করলাম আমার অফিসে থাকার পুরোটা সময় সে দাঁড়িয়ে থাকে রেলিং ধরে, টানা বারান্দায়। এই সময়টায় আশপাশের অফিসগুলোর ওর বয়েসী পিওনদের সঙ্গে গসিপিং-এ মেতে থাকে সে। কিন্তু ওর কান থাকে উৎকীর্ণ&#8211;কখন আমি ডাকবো তাকে।<br />
খুব মায়া হলো ছেলেটার জন্যে।<br />
সারাটা দিন সে দাঁড়িয়ে থাকে! আহারে!</p>
<p style="text-align: justify">পরদিন আমি রিকশা থেকে নামছি যখন, ছেলেটা ছুটে এলো। আমার সঙ্গে সেদিন নিজের ব্যাগ-কাগজপত্র ছাড়াও ছোট্ট সুদৃশ্য একটা টুল। স্টিলের পায়া আর গোলাকার আসন সমৃদ্ধ টুল। আসনটার রেক্সিনের নিচে নরম ফোমের সমাহার। টুলটা সে তুলে নিলো হাতে। তারপর তিনতলার অফিস খুলে ওটা ভেতরে আমার টেবিলের সামনে থাকা চেয়ারগুলোর পাশে রেখে দিলো। ওয়াশরুম থেকে এসে ওকে ডাকলাম। মুহূর্তেই হাজির সে&#8211;জ্বি স্যার।<br />
&#8211;এই টুলটা তোর জন্যে এনেছি।<br />
&#8211;মানে? আমার জন্যে টুল!<br />
&#8211;হ্যাঁ তোর জন্যে টুল। সারাদিন তুই দাঁড়িয়ে থাকিস। এখন থেকে এটায় বসে থাকবি।<br />
&#8211;স্যার এইটার উপ্রে আমি বসুম! (ছেলেটার চোখে একই সঙ্গে বিস্ময় আর অবিশ্বাস)<br />
&#8211;হ বসবি ব্যাটা।<br />
খুশিতে চকচক করে ওঠে ছেলেটার চোখ&#8211;<br />
&#8211;স্যার কুনখানে বসমু আমি?<br />
&#8211;এইখানে এই রুমের ভিত্রেও বসতে পারিস। দরজাটার মুখেও বসতে পারিস। যেইখানে তোর ভালো লাগে।<br />
&#8211;না স্যার ভিত্রে বসুম না। আপনের কাছে নামী দামি স্যারেরা আসে মেডামরা আসে আমি স্যার তাইলে বাইরে নিয়া যাই টুলটা? বাইরে বসি বারান্দাটায়?<br />
&#8211;তোর যেইখানে খুশি বস গিয়া।</p>
<p style="text-align: justify">মহা আনন্দে ভাসতে ভাসতে ছেলেটা টুলটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। তারপর আমার দরোজা বরাবর না বসে খানিকটা ডানে চেপে রেলিং-এর পাশে টুলটা স্থাপন করে সেখানে গদগদ ভঙ্গিতে বসলো। আমি টের পেলাম ওকে ঘিরে ওর বয়েসী পিওন বন্ধুদের জটলা।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #ff0000">এরপর প্রতিদিন অফিস বন্ধ করার সময় ছেলেটা তার প্রিয় টুলটা অনেক যত্নে ভেতরে নিয়ে আসে। আবার অফিস খোলার পর টুলটা বারান্দায় নিয়ে যায়। সারাদিন সে মনের আনন্দে টুলটায় বসে থাকে কখন আমি ডাকবো তাকে।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">কয়েকদিন পর এক সন্ধ্যায় দু&#8217;জন ভদ্রলোক এলেন আমার কাছে&#8211;একটু আসবো?<br />
কেতাদুরস্ত পোশাক দু&#8217;জনেরই। একজনের পরনে লেদারের জ্যাকেট অন্যজনের গায়ে ব্লেজার। আমি উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলাম&#8211;আসুন আসুন। বসুন। আপনারা? কোত্থেকে?<br />
ওদের একজন পরিচয় দিলেন&#8211;আপনার বাঁ পাশের দুইটা অফিস আমাদের।<br />
আমি বললাম&#8211;বাহ্‌ তার মানে আমরা নেইবার।<br />
পিওনকে হাঁক দিলাম এই চা দে রে তিন কাপ&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify">দ্রুতই তিন কাপ চা নিয়ে এলো ছেলেটা। চায়ে চুমুক দিতে দিতে একজন কেতাদুরস্ত ভদ্রলোক বললেন,<br />
&#8211;আপনি তো বিখ্যাত মানুষ। একদিন আসেন না আমাদের অফিসে।<br />
&#8211;নিশ্চয়ই। পরিচয় যখন হলো নিশ্চয়ই আসবো।<br />
অন্যজন বললেন,<br />
&#8211;আপনার কাছে এসেছি বিশেষ একটা প্রয়োজনে।<br />
খুব মনোযোগী হয়ে উঠলাম আমি,<br />
&#8211;জ্বি জ্বি বলুন।<br />
&#8211;আপনি তো আমাদের বিপদেই ফেলে দিয়েছেন?<br />
&#8211;বিপদে? আমি? কী ভাবে?<br />
&#8211;এই যে আপনি আপনার পিওনকে একটা টুল দিয়েছেন বসার জন্যে<br />
&#8211;কী মুশকিল! আমার পিওনকে বসার জন্যে আমি টুল দিয়েছি, এতে আপনার বিপদটা কোথায় আমি তো ঠিক বুঝলাম না ভাইজান!<br />
&#8211;না মানে হয়েছে কি আমাদেরও তো পিওন আছে অফিসে। ওর কাছাকাছি বয়েসের। ব্যাপারটা নিয়ে ওরা ফিসফিস ক&#8217;রে আলাপ করে। মুশকিল না! আমাদের অনুরোধ টুলটা আপনি দিয়েন না। এতে করে আমাদের মানে আপনার প্রতিবেশীদের অফিসিয়াল ডেকোরাম নষ্ট হচ্ছে। প্লিজ আপনি শিক্ষিত মানুষ। বিখ্যাত মানুষ। আশা করি আপনি বিষয়টা বুঝবেন।</p>
<p style="text-align: justify">খানিকক্ষণ একেবারেই চুপ করে থাকলাম আমি। কেতাদুরস্তরা অপেক্ষা করছে আমার জবাবের। ওদের দু&#8217;জনার চোখের দিকে তাকালাম আমি। তারপর বললাম,<br />
&#8211;জীবনে একটা কঠিন শিক্ষা পেলাম ভাই! আসলে শিক্ষা না ধাক্কা খেলাম। আপনারা যেভাবে বললেন সেভাবে ভাবিনি আমি। আমাকে ক্ষমা করবেন।<br />
শুনে খুশি হয়ে উঠলেন দু&#8217;জনেই। একজন বললেন,<br />
&#8211;আরে না না ক্ষমা করার কথা বলছেন কেনো!<br />
আমি বললাম,<br />
&#8211;আমাকে ক্ষমা করবেন কারণ আপনাদের অনুরোধ আমি রক্ষা করতে পারবো না। টুলটা ওখানেই থাকবে। আমার পিওনটা সেই টুলেই বসবে। আমি তো ভেবেছিলাম আমার দেখাদেখি আপনারাও আপনাদের পিওনদের বসার জন্যে একটা কিছুর ব্যবস্থা করবেন। তা না করে আপনারা আমার কাছে এসেছেন টুলটা সরানোর অনুরোধ নিয়ে! আশ্চর্য!<br />
বলতে বলতে আমি উঠে দাঁড়ালাম। অর্থাৎ কী না এইবার আসেন আমাকে আমার কাজ করতে দেন।</p>
<p style="text-align: justify">খানিকটা অপমানিত চেহারা নিয়ে ওরা দু&#8217;জন বেরিয়ে গেলেন। আমি খেয়াল করলাম এতোক্ষণ ধরে চলতে থাকা আমাদের কনভারসেশনের পুরোটাই আড়ালে দাঁড়িয়ে শুনেছে ছোটদের কাগজের পিওন ছেলেটা। ওকে ডাকতেই সেকেন্ডেরও কম সময়ে সে ভেতরে প্রবেশ করলো। কেমন একটা জড়োসড়ো অপরাধীর ভঙ্গি ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে।<br />
আমি বললাম,<br />
&#8211;কী রে ব্যাটা তুই সব শুনছস?<br />
খুব ব্যথাতুর কণ্ঠে ছেলেটা বললো,&#8211;জ্বি স্যার।<br />
আমি বললাম,<br />
&#8211;মেজাজটা খারাপ হইয়া গেছে। অফিসটা বন্ধ কর। আইজকা আর অফিস করতে পারুম না।</p>
<p style="text-align: justify">দেখি ছেলেটার চোখ ছলছল করছে। আমি বললাম, তুই ঘাবড়াইস না ব্যাটা। তর টুল তরই থাকবো। রোজ তুই অই টুলে বইসা থাইকা ডিউটি করবি। আমি কি ডরাই নিকি ব্যাটা অই হালাগো!</p>
<p style="text-align: justify">দেখলাম, ছেলেটা কোনো কথা বলে না। অথচ কী যেনো একটা বলতে চায় কিন্তু পারে না। বারকয় ঢোক গেলে সে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে, তারপর খুব বিব্রত হয়ে বলে,<br />
&#8211;আপনের জন্যে দোয়া করি স্যার&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">কানাডায় গভীর রাতে পায়ের ব্যথায় জর্জর অবস্থায় একটু ঘুমের প্রত্যাশায় নিদ্রাদেবীকে কাতর অনুনয় করতে করতে প্রায়শঃ আমার ছোটদের কাগজের সেই পিওন ছেলেটার চেহারা মনে পড়তো। ওর সেই অপ্রস্তুত বিব্রত জড়োসড়ো অপরাধীর ভঙ্গিতে বলা সংলাপটা কানে বাজতো&#8211;আপনের জন্যে দোয়া করি স্যার&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">কী দোয়া করলি রে হারামজাদা! তোর দোয়ার বদৌলতে আমি তো এখন দাঁড়িয়ে থাকার জব করি রে ব্যাটা!!</p>
<p style="text-align: justify">অটোয়া ১৪ জুন ২০২১</p>
<p style="text-align: justify">
[ লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া। বানান রীতি লেখকের ]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/06/15/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অনুশোচনার গল্প ভালোবাসার গল্প ॥ লুৎফর রহমান রিটন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/28/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/28/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 28 Apr 2021 13:43:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[লুৎফর রহমান রিটন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=479</guid>

					<description><![CDATA[আমি তখন আজিমপুরের শেখ সাহেব বাজারে একটা দোতলা বাড়িতে ভাড়া থাকি। ওয়ারির পিতৃগৃহ থেকে বিতাড়িত হয়ে এই এলাকায় এসেছি নদী আর শার্লিকে নিয়ে। আমাদের সঙ্গে থাকে নদীর বয়েসী একটা মেয়ে। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আমি তখন আজিমপুরের শেখ সাহেব বাজারে একটা দোতলা বাড়িতে ভাড়া থাকি। ওয়ারির পিতৃগৃহ থেকে বিতাড়িত হয়ে এই এলাকায় এসেছি নদী আর শার্লিকে নিয়ে। আমাদের সঙ্গে থাকে নদীর বয়েসী একটা মেয়ে। সে আমাদের গৃহ সহায়তাকারী। বাড়ি গুছিয়ে রাখা আর রান্নাবান্নায় শার্লির ডানহস্ত হিশেবে বেশ দক্ষ। অবসরে খেলার সঙ্গী নদীর।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৯৪ সালের জানুয়ারির শেষান্তে, এক বিকেলে ছোটদের বিশেষ একটি অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং শেষে রামপুরা বিটিভি ভবন থেকে আজিমপুরে ফিরছি। আমার পরনে বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবির সঙ্গে নীল জিন্সের প্যান্ট আর কোলাপুরি চপ্পল। আমাকে বহনকারী সিএনজিটা মৌচাক মোড় থেকে সিদ্ধেশ্বরীর গলিতে ঢুকে পড়লো শর্টকাট মারবে বলে। কিছুক্ষণ চলার পর সিএনজির সামনের চাকাটা আচমকা ভাঙা রাস্তার একটা গর্তে পড়তেই ছিটকে পড়লাম আমি ড্রাইভারের পিঠ ঠেকানো সরু রড নির্মিত নেটের ফ্রেমের ওপর। আমার কপালটা ঠুকে গেলো রডের খোপে। নাকটা বাঁচলেও নাকের ওপর দিকে দুই ভ্রুর মাঝখানে কেটে গেলো বিচ্ছিরি রকম। মুহূর্তেই ঝরঝর করে রক্ত গড়িয়ে পড়লো নাক বেয়ে। বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবিটার বুকের কাছটায় টকটকে লালের ছোপ। কপালের কাটা অংশে বাঁ হাত চেপে ড্রাইভারকে শুধু বললাম&#8211;কাজটা করলা কী! রাস্তাটা দ্যাখবা না!<br />
ড্রাইভার পেছন ফিরে আমার রক্তারক্তি অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেলো&#8211;ছার আমি বুঝতে পারি নাই। সামনেই একটা হাসপাতাল আছে। যামু?<br />
আমি বললাম&#8211;যাও।</p>
<p style="text-align: justify">মিনিট খানেকের মধ্যেই সিদ্ধেশ্বরী মনোয়ারা হাসপাতালের সামনে এসে থামলো ওর সিএনজি। গাড়িটা থামিয়ে খুব যত্ন করে আমাকে নামিয়ে ধরে ধরে নিয়ে গেলো সে ইমার্জেন্সি বিভাগে। একজন তরুণ ডাক্তার মনে হয় অপেক্ষায় ছিলেন আমার। আমাকে দেখেই দ্রুত শুইয়ে দিলেন একটা একপ্রস্ত স্ট্রেচারের ওপর। এক্সিডেন্টের বৃত্তান্ত শুনলেন, প্রথমেই। আমি বললাম, ডক্টর, টাকাপয়সা নিয়ে ভাববেন না। আমি শুধু প্রপার ট্রিটমেন্টটা চাই।<br />
দরোজায় দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভার বললো, ছার আমার কাছে টাকা যা আছে নিতে পারেন লাগলে।<br />
তরুণ চিকিৎসক হাসলেন, আরে নাহ্‌ টাকা পয়সা খুব বেশি লাগবে না মনে হয়। যদি লাগে, সঙ্গে না থাকলে পরে এসে দিয়ে যাবেন। বলতে বলতে আমার কপালের রক্ত মুছে ক্ষতস্থানটা ক্লিন করে তিনি দেখলাম সেলাই ফোঁড়াইয়ের এন্তেজাম করছেন। আমি তো চেঁচিয়ে উঠলাম&#8211;আরে আরে করেছেন কী! স্টিচিং লাগবে নাকি? স্টিচিং দিয়েন না!<br />
ডক্টর বললেন, স্টিচিং তো লাগবে!<br />
আমি বললাম, যদি লাগে তো এনেস্থেশিয়া দিলেন না যে! প্লিজ ডক্টর উইদাউট এনেস্থেশিয়া স্টিচিং আমি নেবো না। ব্যথা আমি সহ্য করতে পারবো না প্লিজ!<br />
হাসলেন ডক্টর&#8211;আমার ওপর আস্থা রাখেন। মাত্র এক্সিডেন্টটা হয়েছে। যে মাত্রায় আহত হয়েছেন তাতে জায়গাটা এমনিতেই এনেস্থেটিক পজিশনেই আছে। একদম টের পাবেন না আপনি।</p>
<p style="text-align: justify">একটা কাগজ চেয়ে নিয়ে দ্রুত আমি আমাদের বাড়ির ল্যান্ডফোন নাম্বারটা লিখে ডক্টরকে দিয়ে বললাম, যদি সেন্সলেস হয়ে যাই তো কাইন্ডলি একটা কল দিয়ে জানাবেন এইখানে, আমার কন্যা বা স্ত্রী রিসিভ করবে কলটা।<br />
ডক্টর হাসলেন, আরে অতো ঘাবড়াচ্ছেন কেনো? ওসব কিচ্ছু হবে না।</p>
<p style="text-align: justify">কালো সূতোসহ একটা বাঁকা সূচ আমার নাক বরাবর নেমে আসার সময় বললাম, সেলাই না দিলে হয় না?<br />
ডক্টর হাসলেন। বললেন, হয়। হবে না কেনো? কিন্তু তাতে করে টেলিভিশনে আপনার ভ্রুর ওপরে কপালের মাঝ বরাবর কাটা জায়গাটা স্পষ্ট দেখা যাবে। (অর্থাৎ তরুণ এই ডক্টর আমাকে চিনতে পেরেছেন। আশ্বস্ত হলাম খানিকটা।) মাত্র দুটো সেলাই দেবো। দেখবেন দাগটা ঠিক মিলিয়ে যাবে ভবিষ্যতে। আর সেলাই না দিলে চিরস্থায়ী একটা কাটা দাগ থাকবে আপনার কপালে।<br />
&#8216;গাল কাটা কামালের মতো কপাল কাটা রিটন&#8217; আমি হতে চাই না বলে দুই চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলাম নিঃশ্বাস প্রায় চেপে রেখে।<br />
ক্ষিপ্র গতিতে দেড় মিনিটেরও কম সময়ে দুইটা সেলাই কমপ্লিট করলেন ডক্টর। সত্যি সত্যি ব্যথা তো ব্যথা, আমি টেরই পেলাম না কিছু।<br />
সবশেষে চার্জ করলেন মাত্র সাড়ে তিনশো টাকা!<br />
আমি বললাম, এতো কম!<br />
ডক্টর বললেন, এটাও নিতাম না কিন্তু নিতেই হচ্ছে। সুঁই-সূতো-গজ আর সামান্য মেডিসিন কস্‌ট্‌। নিতেই হলো।<br />
বললাম, সেলাই কাটাতে কবে আসবো?<br />
তিনি বললেন, আসতে হবে না। পানি থেকে সাবধানে রাখবেন ড্রেসিংটা। সূঁতোটা মিশে যাবে চামড়ার সঙ্গে। ব্যথা বেশি হলে প্রেস্ক্রিপশনে লেখা ট্যাবলেটগুলো খাবেন। আর রেস্টে থাকবেন মিনিমাম দুই/তিন সপ্তাহ। এমনকি টেলিভিশনেও যাবেন না, হাহ হাহ হাহ।<br />
বললাম, থ্যাংক ইউ ডক্টর।<br />
সিএনজি ড্রাইভারকে আমি চলে যেতে বললেও সে যায়নি। সে অপেক্ষা করেছে। বিকেল গড়িয়ে তখন প্রায় সন্ধ্যা। শেখ সাহেব বাজার গলিতে নেমে ড্রাইভারকে বললাম, তুমি এতোক্ষণ থাকলে আমার সঙ্গে। কতো দিতে হবে বলো। আমাকে অবাক করে দিয়ে ওর সঙ্গে রফা হওয়া রামপুরা-টু শিক্‌সা বাজারের ভাড়াটাই চাইলো সে। উলটো দুঃখ প্রকাশ করলো, আমি গর্তটা দেখি নাই বইলাই তো আপনের এতো কষ্ট হইলো ছার!<br />
বেশকিছু অতিরিক্তসহ ওর হাতে ভাড়া মিটিয়ে আমি দরোজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, সে বললো, যাইতে পারবেন তো ছার? বাড়িত দিয়া আমু? লগে আসি? আওগাইয়া দেই?<br />
বললাম, না। আমি ঠিক আছি। যাও তুমি। তুমি একজন ভালো মানুষ। সাবধানে চালাইও।<br />
সিঁড়ির রেলিং ধরে ধরে খুব সাবধানে দোতলায় পৌঁছে দরোজায় দুইবার নক করতেই কে? বলে আমার কন্ঠস্বর নিশ্চিত হয়ে কাজের মেয়েটা দরোজা খুললো। এবং দরোজা খুলেই আমার কপালে ছোট্ট ব্যান্ডেজ এবং পাঞ্জাবিতে রক্তের ছোপ দেখে একটা চিৎকার শেষে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো মেয়েটা! ওর চিৎকার আর কান্না শুনে ছুটে এলো শার্লি আর নদী। এবং অস্থির হয়ে কাঁদতে শুরু করলো নদী আর শার্লিও। তিনজনের কান্নায় রীতিমতো একটা কেলেঙ্কারী অবস্থা!</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ কী যে হলো আমার! কষে একটা ধমক দিলাম কাজের মেয়েটাকে&#8211;এই তুই কাঁদছিস ক্যানো!<br />
আমার ধমকে কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো মেয়েটা! জোর করে ঠোঁট চেপে সে তার কান্না থামাতে সচেষ্ট হলো। ওর দুইচোখে অশ্রু টলোমল করছে। হাতের চেটোয় চোখের জল মুছে অবিশ্বাস্য বেদনার্ত চোখে তাকিয়ে থাকলো সে আমার দিকে।<br />
আমার হুঁশ ফিরলো একটু পরেই! এ আমি কী করলাম! হায় হায় এটা কী বললাম আমি!<br />
কাজের মেয়েটা একটু দূরেই দরোজার পাশে দাঁড়িয়ে আমার অবস্থা অবলোকন করছে।</p>
<p style="text-align: justify">শার্লি আর নদী আমার সেবা শুশ্রুষা করছে সোফায় শুইয়ে দিয়ে। শোয়া থেকে উঠে বসলাম আমি। তারপর মেয়েটাকে ডাকলাম, আয়।<br />
দ্বিধা থরোথরো পায়ে মেয়েটা এগিয়ে এলো আমার কাছে। উঠে দাঁড়িয়ে ওর মাথায় আর গালে আদরের স্পর্শ দিতে দিতে বললাম, খুব অন্যায় হয়েছে আমার। তোকে বকা দেয়া ঠিক হয়নি। আমার জন্যে তুই কাঁদবি না তো কে কাঁদবে? মাথার ঠিক ছিলো না বুঝলি? তুই আমাকে মাপ করে দিস? কিছু মনে করিস না রে। আমার মাথার ঠিক ছিলো না তখন&#8230;&#8230;<br />
আমাকে ওরকম ক্ষমা চাইতে দেখে দুখি ছোট্ট মেয়েটা ফের কাঁদতে শুরু করলো&#8211;খালু আপ্নে কতো কষ্ট পাইছেন! কতো রক্ত বাইরাইছে আপ্নের!&#8230;<br />
সাতাশ বছর পরেও আমাদের আজিমপুরের ভাড়া বাড়িতে ঘটে যাওয়া সেই সন্ধ্যার ঘটনাটা আমাকে বিষণ্ণ করে তোলে প্রায়ই। ছোট্ট কাজের মেয়েটার বিস্মিত হতভম্ব বেদনার্ত চোখ দু&#8217;টো আমাকে তাড়া করে ফেরে। একটা অপরাধবোধ আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। কতো অকৃতজ্ঞ আর অমানুষ আমরা! আমাদের সঙ্গেই আমাদের পরিবারেই থাকে ওরা রাতদিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। কিন্তু আমরা কোনোদিনই পরিবারের একজন বলে ভাবতে পারি না ওদের!<br />
মনোজগতে সামন্তবাদী একটা দানবকে আমরা লালন করি। সেই দানবটাই বহাল রাখে শ্রেণি বৈষম্যের দেয়ালটা।</p>
<p style="text-align: justify">০২<br />
কাজের ছেলে আর কাজের মেয়েদের নিয়ে বেশ কিছু ছড়া আছে আমার। বিভিন্ন সময়ে দৈনিক পত্রিকার ছোটদের পাতা এবং আমার সম্পাদিত ছোটদের কাগজসহ আমার বইগুলোয় মুদ্রিত হয়েছে সেগুলো।<br />
নাম ভুলে যাওয়া সেই ছোট্ট মেয়েটাকে মাথায় রেখে ঘটনার বাইশ বছর পর ২০১৬ সালে ওর বয়েসী কাজের মেয়েদের যাপিতজীবনের কাহিনি অবলম্বনে একটা ছড়া লিখেছিলাম।<br />
তখনও পত্রিকার পাতায় এবং স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রায় নিয়মিতই প্রচারিত হতো গৃহকর্মীদের ওপর তথাকথিত ভদ্র-শিক্ষিত এবং উচ্চবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত শ্রেণির সাইকো গৃহকর্ত্রীদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের ভয়াবহসব প্রতিবেদন। দেখে শিউরে উঠতাম। সামান্য ছুঁতোয় শারীরিক নির্যাতন তো করেই, ঠিক মতো খেতেও দেয় না কাজের মেয়েদের। অনেক বাড়িতেই কাজের মেয়েদের জন্যে থাকে আলাদা নিম্নমানের রান্নার ব্যবস্থা! কী ভয়ংকর মানসিকতা!</p>
<p style="text-align: justify">আজ সকাল থেকে আমাদের আজিমপুরের ভাড়াবাড়ির ছোট্ট সেই গৃহসহায়তাকারী &#8216;কাজের মেয়েটা&#8217;র কথা বারবার মনে পড়ছিলো। আমাকে আহত অবস্থায় দেখে কী রকম চিৎকার করে কাঁদছিলো মেয়েটা! জানি না সে এখন কোথায় আছে কেমন আছে। নিষ্ঠুর নিয়তি তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে কে জানে!<br />
কাজের মেয়েদের বিষয় করে ২০১৬ সালে লেখা ছড়াটা খুঁজে বের করলাম। ফেসবুকে আমার পাঠক বন্ধুদের জন্যে ছড়াটা এখানে তুলে দিলাম&#8211;<br />
দেখো তো আমায় চিনতে পারো কী না !<br />
লুৎফর রহমান রিটন<br />
তোমার বাড়ির কাজের মেয়ে আমি<br />
দেখো তো আমায় চিনতে পারো কী না!<br />
খুব সামান্য খুব সাধারণ মেয়ে<br />
খুবই গরিব, বাহারী নাম &#8216;বীণা&#8217; ।<br />
আমার বাবার বাজনা ছিল প্রিয়<br />
বীণা নামটা সেই কারণেই রাখা।<br />
কিন্তু বাবা জানতো না যে মোটে<br />
বীণার সুরে দুঃখ থাকে আঁকা!<br />
এ সংসারের হাজার রকম কাজ<br />
সূর্যোদয়ের আগ থেকে তার শুরু।<br />
তোমার মায়ের হুংকারে ঘুম ভাঙে<br />
সমস্ত দিন বুকটা দুরু দুরু।<br />
পান থেকে চূন খসলে উপায় নাই<br />
শক্ত হাতে ধরবে চুলের মুঠি।<br />
জুটবে আরো চড় থাপ্পড় গালি<br />
রোজ প্রতিদিন, একদিনও নাই ছুটি।<br />
ঘর-দোর সাফ জামা কাপড় ধোয়া<br />
রান্না ঘরে বাসন-কোসন মাজা,<br />
শাক সবজি তরকারি মাছ কুটা<br />
ইলিশ কিংবা রুই-এর টুকরো ভাজা&#8211;<br />
গরুর মাংস মুরগির ঝোল আর<br />
মাঝে মধ্যে পোলাও রান্না হয়,<br />
পোলাও খেতে ভীষণ ইচ্ছে করে<br />
খুশবুটা তার ছড়ায় জগতময়&#8230;<br />
এ-সব কাজই সামলাই দুই হাতে<br />
আমার তাতে দিন গড়িয়ে রাত।<br />
ক্লান্ত শরীর, ক্ষুধায় শরীর কাঁপে<br />
গোগ্রাসে খাই বাসি ডাল ও ভাত।<br />
মাছ মাংস আমার জন্যে নয়<br />
আমার জন্যে বরাদ্দ ঝোল-ডাল।<br />
নেই অভিযোগ আমি তাতেই খুশি<br />
চাই না আমি অনাহারের কাল।<br />
বইপত্তর তোমার জামা জুতো<br />
যত্ন করে গুছিয়ে রাখি রোজ।<br />
রোজ প্রতিদিন অপেক্ষাতে থাকি<br />
নাও না তুমি একটু আমার খোঁজ!<br />
তোমার মতো আমিও পড়তে চাই<br />
তোমার মতো ইশকুলে চাই যেতে।<br />
তোমার পরিবারের সঙ্গে থাকি<br />
আশ্রয় আর দু&#8217;মুঠো ভাত খেতে&#8230;<br />
জানি না কোন কষ্ট অভিমানে<br />
আমার চোখে জল করে থইথই&#8211;<br />
তোমার পরিবারের সঙ্গে থাকি<br />
(কিন্তু) পরিবারের আমি তো কেউ নই&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">
অটোয়া, ২৫ এপ্রিল ২০২১</p>
<p style="text-align: justify">[ লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া। বানান রীতি লেখকের ]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/28/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
