<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>লুনা রাহনুমা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sun, 14 May 2023 14:23:56 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>লুনা রাহনুমা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ওয়েব সিরিজ রিভিউ: মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/05/14/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/05/14/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 14 May 2023 14:23:56 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[লুনা রাহনুমা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2676</guid>

					<description><![CDATA[বিনোদন মিডিয়া চরকিতে মুক্তি পাওয়া সাত পর্বের সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ দেখলাম।এই সিরিজের নামকরণের ব্যাপারটি হচ্ছে স্বপন নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবে।সে একজন একক মানুষ এই পৃথিবীতে, নিজেকে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিনোদন মিডিয়া চরকিতে মুক্তি পাওয়া সাত পর্বের সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ দেখলাম।এই সিরিজের নামকরণের ব্যাপারটি হচ্ছে স্বপন নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবে।সে একজন একক মানুষ এই পৃথিবীতে, নিজেকে ছাড়া আর কারো জন্য তার ভেতরে কোনো মমতা কাজ করে না।অশিক্ষিত স্বপন ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করে ডায়ালগ দেয়, মাইশেলফ এলোন, স্বপন। অর্থ্যাৎ, আমি একা একজন, স্বপন।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু ভুল ইংলিশে সেটি শোনা যায়, মাইশেলফ অ্যালেন।ওয়েব সিরিজটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন নির্মাতা শিহাব শাহীন, প্রযোজনা করেছেন রেদোয়ান রনি।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশি সিরিজ।সিরিজের শুরুতে এবং পরেও অনেকবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।চট্টগ্রামের ভাষা আমার পরিচিত নয়, তবু সংলাপ বুঝতে সমস্যা হয়নি কারণ সাথে চলিত বাংলার সাবটাইটেল দেওয়া আছে।</p>
<p style="text-align: justify">স্বপন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান।অনবদ্য অভিনয়। টিভি পর্দায় একটা খারাপ মানুষকে দেখে দর্শকের মনে যেমন ঘৃণা তৈরি হওয়া দরকার, নাসির উদ্দিন খানের কুৎসিত হাসিটি দেখে সত্যি গা রি রি করে উঠেছে। ইয়াবার মাদক ব্যবসায়ীর চরিত্রের সঙ্গে দারুণ মানিয়েছেন নিজেকে অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছে মিথিলা।আমি সাধারণত মিথিলার নাটক এড়িয়ে চলি, কারণ বেশি নরম বেশি ন্যাকা লাগে আমার কাছে মিথিলার অভিনয়।এই সিরিজে মিথিলাকে বেশ দৃঢ় লেগেছে। সুন্দর অভিনয় করেছেন স্ত্রী আর মায়ের ভূমিকায়। তবে মিথিলার বদলে আরো স্ট্রং চরিত্রের কাউকে নির্বাচন করলে সিরিজের জন্য ভালো হতো।</p>
<p style="text-align: justify">অ্যালেন স্বপন এর ছেলে যাদুর চরিত্রে সেন্টুর অভিনয় আর মুখের অভিব্যক্তি অসাধারণ লেগেছে।</p>
<p style="text-align: justify">ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি জনপ্রিয়তায় চরকির সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছে। কিছু নেতিবাচক আলোচনাও হয়েছে সিরিজটিকে নিয়ে।</p>
<p>প্রথমত মিথিলার মেয়ের চরিত্রে একটি নয় দশ বছরের শিশু ছিল, কেউ কেউ বলছেন এই সিরিজে শিশুদের উপস্থিতি খারাপভাবে দেখানো হয়েছে।আমার কাছে মনে হয়েছে, সিরিজের শেষ পর্বে মাদক চোরাচালানকারী দলের কয়েকটি মাস্তানের মধ্যে শিশু মেয়েটিকে উপস্থিত না করলেই ভালো হতো।কারণ অশ্রাব্য গালাগালি, শারীরিক আঘাত, হত্যা সমস্তটাই ঘটেছে শিশুটির সামনে।এবং মাকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া ওর আর কোনো ভূমিকাই ছিল না।</p>
<p style="text-align: justify">আরেকটি দুর্বল দিক হচ্ছে শেষ পর্বে চোরাচালানকারী স্বপনকে ধরে আনার পর থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার আর অভিনয়ের সময়কালটুকু পুরো সিরিজটাকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। হয়তো সেই দৃশ্যের চিত্রায়ন কিংবা সংলাপের কারণে।এই দিকে আরেকটু মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সবচেয়ে বেশি আলোচিত কিংবা সমালোচিত হচ্ছে ‘তৈ তৈ তৈ আমার বৈয়ম ফাকি কই,’ স্বপনের মুখে উচ্চারিত এই সংলাপ এবং গানের কলিটি। নাসির উদ্দিন খান নিজেই গেয়েছেন গানটি। স্বপন তার স্ত্রীকে আদর করে ডাকে বৈয়ম পাখি।স্বপনের প্রাণ ভোমরা তার স্ত্রী, যেন একটি বৈয়ম অর্থ্যাৎ বোতলের মধ্যে রাখা আছে। আমাদের গ্রামাঞ্চলে তৈ তৈ তৈ করে হাঁস আর হাঁসের বাচ্চাদেরকে ডাকা হলেও এখানে অভিনবভাবে ব্যবহার করা হয়েছে শব্দটিকে।মানুষ ব্যতিক্রম ভালোবাসে।ব্যতিক্রম উপস্থাপনার এই গানটিকে অশালীন আর অসহ্য লাগলেও মানুষের মনের মধ্যে গেঁথে গেছে শব্দটি তৈ তৈ তৈ&#8230; ইউটিউবে কিংবা ফেসবুকে বৈয়াম পাখি গানের সঙ্গে যে ভিডিওটি সবাই দেখেন, সেটি কিন্তু মূল সিরিজে নেই।হয়তো শুধুমাত্র সিরিজের প্রচারের জন্যই বানানো হয়েছে সেই ভিডিওটি।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলা চলচিত্রের নির্মাণে ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ একটি ব্যতিক্রমী নির্মাণ।গল্পের বাস্তবাদী প্লট মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জগৎ সম্পর্কে একটি ধারণা দেয় দর্শকের মনে।বাংলাদেশ আর বার্মার বর্ডার এলাকার সত্যিকার মাদক চোরাচালান কারবারের ইমেজ পাওয়া যায় এই সিরিজে। ইউটিউবে দেখলাম বেশ কিছু ভিডিও চলে এসেছে পুরো ৭টি সিরিজের। কিন্তু সাউন্ড আর প্রিন্ট খুব খারাপ। তাই সম্ভব হলে অরিজিনাল চরকির ভিডিওটি দেখবেন। অবশ্যই ছোট দর্শকদের সামনে নয়। কারণ সিরিজটি ১৮+। সবগুলো পর্ব দেখতে সাড়ে তিন ঘণ্টার কম সময় লাগবে।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>একনজরে</strong><br />
বিভাগ : অপরাধ<br />
পরিচালক : শিহাব শাহীন<br />
প্রযোজক : রেদওয়ান রনি<br />
পরিবেশক : চরকি</p>
<p style="text-align: justify"><strong>প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী</strong><br />
নাসির উদ্দিন খান : অ্যালেন স্বপন/সিদ্দিকুর রহমান স্বপন/শামসুর রহমান তপন<br />
রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা : শায়লা<br />
সুমন আনোয়ার : তানজিল<br />
রাফিউল কাদের রুবেল : বদু<br />
আবদুল্লাহ আল সেন্টু : জাদু<br />
মিশকাত মাহমুদ : রোজি<br />
আইমন শিমলা : অ্যালেন স্বপনের স্ত্রী<br />
কাজী আনিসুল হক বরুণ : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/05/14/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুসুম ও কীট ॥ লুনা রাহনুমা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/03/01/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/03/01/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Mar 2023 12:09:58 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[লুনা রাহনুমা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2592</guid>

					<description><![CDATA[অনেককাল আগে একটি দেশের মাটি নরম বলে সেই দেশের মাটিতে প্রচুর শাক-সবজি, ফলের গাছ, ফুলের গাছ, পাতাবাহার, আসবাবপত্র তৈরির কাঠগাছসহ ইত্যাকার সবরকমের গাছ খুব জন্মাতে লাগল। চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় ও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">অনেককাল আগে একটি দেশের মাটি নরম বলে সেই দেশের মাটিতে প্রচুর শাক-সবজি, ফলের গাছ, ফুলের গাছ, পাতাবাহার, আসবাবপত্র তৈরির কাঠগাছসহ ইত্যাকার সবরকমের গাছ খুব জন্মাতে লাগল। চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় ও দেশের মানুষগুলো বেশিরভাগ নরম প্রকৃতির হওয়ায় দেশটি ধীরে ধীরে কৃষিপ্রধান দেশ বলে পরিচিতি পেল।</p>
<p style="text-align: justify">কালক্রমে সেই দেশে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সবার অলক্ষ্যে ভালোর সাথে কিছু দুষ্ট মানুষও ভিড়ে গেল সেখানে। এই দুষ্ট মানুষগুলোর চোখ থাকত ফুলের দিকে।যেই না ফুল ঝরে গাছে ফল হয়েছে, সেই ফলের দিকে তাদের কুনজর পড়ত সবার আগে।প্রথম প্রথম এই ভয়ানক বদলোকগুলো ভয়ে ভয়ে লুকিয়ে চুকিয়ে একটি দুটি পুরুষ্ট পাকা ফল নষ্ট করল।তারপর তারা দেখল কেউ তাদেরকে শাসন করছে না।তাদের দিকে কোদাল, নিড়ানি, কাস্তে হাতে তেড়ে আসছে না।তাই সাহস বেড়ে দুষ্ট এই মানুষগুলো একেকটা হয়ে উঠলো সাক্ষাৎ নরকের যম।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথমদিকে বাগানীরা সমাজ প্রধানের কাছে নালিশ করলেও কেউ খারাপ লোকগুলোকে কোনো শাস্তি দিলো না।চৌরাস্তার মোড়ে প্রকাশ্যে তরতাজা গোলাপ হত্যার দায়ে তাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হলো না।তাই লোকগুলো একসময় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠল।এখন তারা আর কেবল পুরুষ্ট ফল আর ফুটন্ত গোলাপকেই খোঁজে না। তারা এখন অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে কচি অপরিপক্ক কষটে ফুল ফল যাই পায়, সবকিছু তাদের নোংরা নখের আঁচড়ে ক্ষত বিক্ষত করে দিতে থাকে কুৎসিত উল্লাসে।</p>
<p style="text-align: justify">এই দানবদের অত্যাচারের কারণে চাষী তার ভালোবাসা আর যত্নের সাথে একটু একটু করে বড় করা ফুল ফল বৃক্ষের কোনো অংশই আর অক্ষত রাখতে পারছিল না সেই দেশে।উপায় অন্তর না দেখে আর লোকমুখে শুনেশুনে তাদের ধারণা বদ্ধমূল হলো যে বাগানে বা গৃহকোণে রং ছড়ালে পতঙ্গের আক্রমণ হওয়া প্রকৃতির নিয়মের মতোই স্বাভাবিক। এই আক্রমণ ঠেকানোর উপায় তাদের জানা ছিল না।জানা থাকলেও তা বাস্তবায়নের সাহস ছিলো না।</p>
<p style="text-align: justify">অতঃপর তাই সেই দেশের চাষিরা দিনে দিনে চাষবাস করা কমিয়ে দিলো।বাগানীরা তাদের বাগান সংকীর্ণ করে ফেলল।ক্ষুধার্ত শুঁয়োপোকার হাত থেকে ফুল, ফল আর ফসল রক্ষা করতে গিয়ে একদিন দেখা গেলো সেই সবুজ শ্যামল দেশটিতে সবুজের খুব অভাব পড়ে গিয়েছে। রঙিন ফুলেরা আর দুলে ওঠে না পথে প্রান্তরে। গোলাপ শোভা পায় না আর কারো বাড়ির সামনে কিংবা পিছনের বাগানে।পাখি আর পাকা লাল-পেয়ারা অর্ধেক খেয়ে অর্ধেক ফেলে রাখে না গাছের পাতার ফাঁকে। মাঠের পর মাঠ লজ্জাবতীরা আগের মতো দুই বাহু বাড়িয়ে অপেক্ষা করে থাকে না কখন ঘাসফড়িং এসে ছোঁয়াছুয়ি খেলবে তাদের পেলব পাঁপড়িতে।লজ্জাবতীরা সবাই এখন মুখ বুঁজে পড়ে থাকে অশনি সংকেতের মহাআতঙ্কে।</p>
<p style="text-align: justify">দুঃসময়ের চরম মুহূর্তে দুষ্টের দমন করার চিন্তা করেনি সেই দেশের মানুষেরা।সেই দেশের মানুষদের নেতারা কেউ সৎ আর সাহসী হয়নি সমাজ আর পরিবেশ উন্নয়নে।দনুর পুত্রের বিষদাঁত আর করাল থাবা সজোরে প্রতিহত করতে পারেনি তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।বরং সেই দেশে সবাই আঙ্গুল তুলে দুষেছে কোমল ফুলের পাপড়িগুলোকেই।অভিশাপ দিয়েছে বাগানীদের, তাদের অমন আকর্ষণীয় ফসল লোকচক্ষু সম্মুখে ফুটেছিল বলে।মানুষগুলো তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টির সামনে থেকে সাদা সরল পথকেও গায়েবি জানাজা পরিয়ে দিয়ে ঢেকে রাখলো মৃত্যুকূপের গভীর অন্ধকারে।তবু বেশিরভাগ মানুষ সাহস সঞ্চয় করতে পারলো না একটি প্রতিবাদ শব্দ উচ্চারণ করতে।একটিবার উচ্চস্বরে বলতে: “গোলাপকে ফুটতে দাও আপন মনে। গোলাপকে তোমরা দোষ দিয়ো না তার রূপ আর যৌবনের কারণে। বরং নোংরা কাজে প্রবৃত্তি যার, শুধরাও সেই পাপিষ্ঠকে।অনঙ্গ অপ্সরা একেকটি গোলাপের কোমল তনু স্বর্গের অংশ এই ধূলার পৃথিবীতে।নষ্ট করে যে হাত তাদেরকে; অসুর সেই হাত, সত্বর ঠেকাও তারে!”</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/03/01/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাঠ-প্রতিক্রিয়া: উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি ॥ লুনা রাহনুমা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 29 Jan 2022 02:30:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[লুনা রাহনুমা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1520</guid>

					<description><![CDATA[বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে।এটি লেখক শওকত ওসমানের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।৮০ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি নাটকের মতো সংলাপ নির্ভর এবং কিছু দৃশ্যের আগে নাটকের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে।এটি লেখক শওকত ওসমানের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।৮০ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি নাটকের মতো সংলাপ নির্ভর এবং কিছু দৃশ্যের আগে নাটকের মতো আলাদা করে পটভূমির বিবরণ দেওয়া আছে। আবার চরিত্রের আগমন এবং প্রস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। উপন্যাসটির বিস্তার ঘটেছে বাগদাদে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ এর সময়কালে তাঁর রাজ্যে।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের শুরুটি হয়েছে সুলতানা জুবাইদা ও তাঁর অত্যন্ত রূপসী এক আরমানি বাঁদীর কথোপকথন দিয়ে। সুলতানা বাঁদী মেহেরজানকে ভালো পোশাক পরিয়ে, সাজিয়ে গুজিয়ে, হাতে আঙুরের থোকা ধরিয়ে দিয়ে রাতের অন্ধকারে হাবশী গোলাম তাতারীর সাথে নিভৃতে সময় কাটাতে পাঠাচ্ছেন।এর আগেই সুলতানা নিজের স্বামী হারুনকে না জানিয়ে মেহেরজান এবং তাতারীর বিয়েও দিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">পরের দৃশ্যে দেখা যায় সম্পদ ও ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ খলিফা হারুনকে তাঁর হারেমখানায় মনোকষ্টে একাকিত্বে ভুগছেন।জল্লাদ এবং খলিফার সহচর মশরুর এসে পৌঁছুলে খলিফা তার কাছে নিজের মনের যাতনা ব্যক্ত করছেন।খলিফা হারুন নিজের বোন আব্বাসাকে হত্যা করেছেন জাফরের সাথে প্রণয়ের কারণে।কিন্তু এখন নিজেই স্মৃতির জালে আটকা পড়েছেন এবং নিজের ভুলের অনুশোচনায় ভীষণ অশান্ত মন।খলিফা বলেন, “মাশরুর আজো নিজের বিচার মানুষ নিজে করতে শেখেনি। সে খোদকসী (আত্মহত্যা) করতে পারে, যেমন সে রোজ গোস্তের জন্য দুম্বা কি গাইকসী করে, কিন্ত নিজের বিচার করে না।”</p>
<p style="text-align: justify">মশরুর খলিফাকে রাতের নিস্তব্ধ পরিবেশে বাগানে হাঁটার পরামর্শ দেয়। পরামর্শ অনুযায়ী খলিফা হাঁটতে গিয়ে রাতের আঁধারে মানব-মানবীর অস্পষ্ট হাসির শব্দ শুনতে পান। “কোথা থেকে আসছে এই হাসি?” হাসির উৎস বের করার দায়িত্ব দেন মাশরুরকে।খোঁজ নিয়ে মশরুর জানায় এই হাসি এসেছে হাবশি গোলামের ঘর থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">জল্লাদ মশরুর এ-ও জানায় খলিফা হারুনের বেগম সুলতানা, মেহেরজানের সঙ্গে তাতারীর বিয়ে দিয়েছেন।গোপন বিয়ের ফলস্বরূপ তারা রাতের অন্ধকারে গোপনে সাক্ষাৎ করে পরস্পরের সাথে এবং হৃদয়ে উপচে পড়া খুশির জোয়ারে উচ্ছসিত কণ্ঠে খুশির হাসি হাসে রাত গভীরে।খলিফার খুব লোভ হয় এমন আনন্দের হাসি কিনে নিতে। এক রাতে খলিফা হারুন তাঁর বিশ্বস্ত কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তাতারীর ঘরে আচমকা উপস্থিত হয়ে সেখানে মেহেরজানকে আবিষ্কার করেন। সেই রাতেই তিনি তাতারীকে মুক্ত ঘোষণা করে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক ঘোষণা করেন।যদিও প্রকৃত অর্থে খলিফা এই উপহারের মাধ্যমে তাতারীকে বন্দি করেন।এবং মেহেরজানকে বন্দি করেন বিয়ে করে নিজের বেগম বানিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">হাবশী গোলাম তাতারী কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অঢেল প্রাচুর্যের মোহে একটুও বিগলিত হয় না।মেহেরজানকে পাশে না পেয়ে তার বিমর্ষ মুখে কিছুতেই আর হাসি ফুটে না।হাসি তো দূরের কথা, দাস দাসীদের কেউ তাতারীর মুখের দাঁত পর্যন্ত দেখতে পায় না।খলিফা হারুন একদিন ক্রীতদাস তাতারীর মুখের সেই প্রাণখোলা হাসির শব্দ শোনাবেন বলে বাজি ধরলেন আবুল আতাহিয়া আর আবু নওয়াসের সাথে।কিন্তু খলিফা হারুন-অর-রশিদ এর আদেশ, ভয় ভীতির মুখেও তাতারীর মুখে হাসি ফোটে না।সকল চেষ্টা বৃথা যাওয়ার পর খলিফা কারণ জানতে চান সঙ্গীর কাছে।কবি আবু ইসহাক তখন বলে, “হেকমী দাওয়াই তৈরি করতে যেমন অনেক উপাদান প্রয়োজন হয়, তেমনি হাসির জন্য বহু অনুপান দরকার।”</p>
<p style="text-align: justify">লেখক শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল ১৯৬২ সালে। যখন সমগ্র পাকিস্তানে জারি করা হয়েছে সামরিক শাসন। আর বাঙালিদের ঘাড়ে চেপে রয়েছে আইয়ুব খান। নির্মম একপেশে সেই শাসন ব্যবস্থার ফলস্বরূপ পূর্ব বাংলা স্বৈরশাসনের অত্যাচার ও নিপীড়নে দোযখে পরিণত হয়েছে। পূর্ব বাংলার সেই সময়রূপ যেন ঠিক এই উপন্যাসের বাগদাদেরই প্রতিচ্ছবি। মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, খলিফার কথার অবাধ্য হলেই মানুষের গর্দান কাটা পড়ছে, খলিফার মতের সাথে অমত হলেই জল্লাদের হাতে প্রাণ দিচ্ছে অসংখ্য দাস, দাসী, সাধারণ প্রজা।উপন্যাসের প্রথম অংকে খলিফার বেগম জুবাইদার মুখে তাই উচ্চারিত হয়, &#8220;মরজী যেখানে ইনসাফ সেখানে কোন কিছুর উপর বিশ্বাস রাখতে নেই!&#8221; অর্থাৎ যেখানে ন্যায় অন্যায় খলিফার মন মেজাজের উপর নির্ভর করে সেখানে ন্যায়বিচারের আশা করা যায় না।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক শওকত ওসমান এই উপন্যাসে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকেই ব্যঙ্গ করেছেন।যেখানে রূপক অর্থে পূর্ব বাংলা হয়েছে বাগদাদ, খলিফা হারুন-অর-রশিদ হয়েছে স্বয়ং আইয়ুব খান আর তাতারী হলো স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের প্রতিনিধি। আর এই রূপক অর্থকে লুকাতে শওকত ওসমান আশ্রয় নিয়েছেন আরব্য রজনীর ছদ্মবেশ। আলেফ লায়লা ওয়া লায়লা (সহস্র ও এক রাত্রি)-কে রূপান্তরিত করেছেন আলেফ লায়লা ওয়া লায়লানে (সহস্র ও দুই রাত্রি)-তে, যার শেষ গল্প এই ‘জাহাকুল আবদ’ অর্থাৎ ‘ক্রীতদাসের হাসি’।ক্রীতদাস তাতারীর হাসির মাধ্যমে লেখক বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে ফুটিয়ে তুলেছেন যে হাসি বা স্বপ্নকে খলিফা হারুন তথা আইয়ুব খান গায়ের জোরে নিজের করে রেখে দিতে চান। তৎকালীন মূর্খ শাসকগোষ্ঠী উপন্যাসের এই রূপক অর্থ ধরতে পারেনি। আর তাই উপন্যাসটি প্রকাশের একই বছরে এটি বছরের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের পুরস্কার পায়।এবং ইতিহাসের ব্যঙ্গ ভ্রূকুটি হিসেবে কথাশিল্পী শওকত ওসমান এই পুরস্কার গ্রহণ করেন স্বয়ং আইয়ুব খানের হাত থেকেই।আর এই ঘটনার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় ১৯৯৫ সালে ‘পুঁথিঘর লিমিটেড’ থেকে যখন উপন্যাসটির পুনঃমুদ্রণ হয় এবং সেই মুদ্রিত বইয়ের ভূমিকায় শওকত ওসমান লিখেছেন: “জুয়াড়ির মতো আমি দান ধরেছিলাম। হয় জয়, অথবা সর্বনাশ সুনিশ্চিত। জিতে গিয়েছিলাম শাসক শ্রেণীর মূর্খতার জন্যে।”</p>
<p style="text-align: justify">অসামান্য এই উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি পড়তে শুরু করলে পুরোটা শেষ না করে থামা কঠিন পাঠকের জন্য।পড়তে পড়তে উপন্যাসটির অনেক কথাই বাণীর মতো পাঠক-মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে। আমার পছন্দের কয়েকটি লাইন নিচে তুলে দিলাম।<br />
“আমিরুল মুমেনিন, হাসি মানুষের আত্মারই প্রতিধ্বনি।”<br />
“মনে রেখো, যোগ্যতা থেকে কোন চিজ না পেলে তা ঢিলে লেবাসের মত বেখাপ্পা-ই দেখায়। আর যোগ্যতা-মেহনৎ ব্যতিরেকে যারা পুরস্কার প্রার্থী- তারাই হচ্ছে দুনিয়ার আসল গোলাম।”<br />
“দুঃখ আর মৃত্যু এক জিনিস নয়।দুঃখের গান গাই দুঃখকে দূর করার জন্যে, দুঃখের মোকাবিলায় দাঁড়াতে পারব, তার জন্যে। যারা এই জীবন জিইয়ে তুলতে পারে না, তারা কবিতা লেখে শকুনদের জন্যে। পারশীরা শকুনের কাছে যেমন মড়া ফেলে দেয়, ওই কবিরা তেমন কবিতা ছুড়ে দেয় পাঠকদের জন্যে।আজান দিয়ে মুসল্লি ডাকে, তুমি কবিতা দিয়ে মানুষ ডাকার বন্দোবস্ত করো। তুমি -”<br />
“দীরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস গোলাম কেনা চলে। বান্দি কেনা সম্ভব-! কিন্তু-কিন্তু-ক্রীতদাসের হাসি-না-না-না-না-”।</p>
<p style="text-align: justify">ক্রীতদাসের হাসি<br />
শওকত ওসমান<br />
বর্তমান মুদ্রণ: সময় প্রকাশন<br />
প্রকাশক: ফরিদ আহমেদ<br />
মূল্য: ১০০ টাকা</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বর্ষার প্রেমিক যুগল  ॥ লুনা রাহনুমা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Apr 2021 19:31:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[লুনা রাহনুমা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=355</guid>

					<description><![CDATA[‘এমন দিনে তারে বলা যায়…..’ সিডি প্লেয়ারে বাজতে থাকা জয়তী চক্রবর্তীর গলার সাথে মিলিয়ে গুনগুন করে গাইছে মিলা। এখন সকাল সাড়ে নয়টা বাজে। মিলা সকালের চা বানিয়ে দুটি উলের কাঁটা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘এমন দিনে তারে বলা যায়…..’ সিডি প্লেয়ারে বাজতে থাকা জয়তী চক্রবর্তীর গলার সাথে মিলিয়ে গুনগুন করে গাইছে মিলা।</p>
<p style="text-align: justify">এখন সকাল সাড়ে নয়টা বাজে। মিলা সকালের চা বানিয়ে দুটি উলের কাঁটা আর আকাশি রঙের একটা উলের গোলা নিয়ে ড্রয়িংরুমের মেঝেতে বসেছে আধ-ঘণ্টা আগে। পাশের ফ্ল্যাটের কাকিমার কাছে নতুন শিখেছে উলবোনা। শেখার পর প্রথমেই একটি মাফলার বানিয়েছে তানভীরের জন্য। এবার ভাবছে, সাহস করে একটি জাম্পার বানানো শুরু করবে। বরের জন্য মিলার নিজের হাতে বোনা উলের জাম্পার। সারপ্রাইজ গিফট। যদিও বছরের এই সময়টায় কেউ জাম্পার পরে না। তবুও মিলার ইচ্ছে, বিয়েবার্ষিকীর রাতে আচমকা যদি খুব বৃষ্টি নামতো! অথবা সারাদিন সারারাত একটানা বৃষ্টির পর সেদিন হয়তো হালকা শীত শীত লাগবে। তানভীরের শীতল গায়ে ওমের পরশ দিবে মিলার দশটি আঙুলের ছোঁয়া। ভাবতেই মন চলে যায় দুই বছর আগের সেই দিনটিতে।</p>
<p style="text-align: justify">তখন শ্রাবণের মাঝামাঝি। কয়েকদিন পর কবিগুরুর সত্তরতম মৃত্যুবার্ষিকী। তাই উদযাপনের তোড়জোড় চলছিল পুরো শহরে। সবখানে সাজসাজ রব। বাড়িতে, গাড়িতে, বাসে, মোড়ের দোকানে লাউড স্পিকারে সবাই নিজেকে রবীন্দ্রপ্রেমী পরিচয় দিতে উঠে পড়ে লেগেছে যেন।</p>
<p style="text-align: justify">মিলাও রবীন্দ্র কন্যাটির মতো সেজে টিএসসির সামনে দাঁড়িয়েছিল অনেকক্ষণ। আসলে মিলা যে আবৃত্তি সংগঠনের সাথে যুক্ত। তাদের প্র্যাকটিস ছিল সেদিন। প্র্যাকটিস শেষে বাড়ি ফিরতে রিকশা খুঁজছিলো। কিন্তু ভুতের গলিতে কোনো রিকশাওয়ালা যাবে না। ভেতরে রাস্তা ভাঙা। বৃষ্টির পানি জমে খুব খারাপ অবস্থা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যখন লাভ হলো না, তখন পরিস্থিতি আরো সঙ্গিন করতে নামলো মুষলধারে বৃষ্টি।</p>
<p style="text-align: justify">মিলা দৌড়ে আবার ঢুকে গেলো টিএসসির ভেতর। বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচতে তখন সে পারলে দেয়ালের ভেতর সেটে ফেলে নিজেকে। এমন সময় চোখ পড়ে তার দিকে। সেও তাকিয়ে দেখছিলো অনেকক্ষণ। চোখাচোখি কিছুক্ষণ। সেই অল্প কিছুক্ষণ হয়ে গেলো সমস্ত জীবনের মতো মিলন মালায় গাঁথা।</p>
<p style="text-align: justify">‘ছিল মন তোমারি প্রতীক্ষা করি যুগে যুগে দিনরাত্রি ধরি &#8230;.” চারটি নয়নে শুধু মুগ্ধতা আর প্রেম ঝরছিল দুজনের।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em>গানের সিডিটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাইরে খুব বাতাস বইতে শুরু করেছে এখন। বিদুত্যের লাইন অফ হয়ে জেনারেটর চালু হলো। মিলা উঠে গিয়ে জানালাটা বন্ধ করলো। মনে হচ্ছে খুব বৃষ্টি হবে আজ সারাদিন।</em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">:তোমাকে আমার বৃষ্টির মতো লাগে মিলা। কেমন ভেজা ভেজা কিন্তু অনেকটা একসাথে না পেলে ঠিক ভেজাও যায় না, মিলার জন্য তানভীরের ভালোবাসার উচ্চারণগুলো এমনি হৃদয় ছোঁয়া ছিল।<br />
:তুমি কবি, তাই আমাকে এমন করে ভাবতে পারো। আমি অনেক লাকি।<br />
:তুমি আমার শ্রাবণ মাস মিলা। তুমি আমার শ্রাবণের গান। জানো তো শ্রাবণ হলো মনোস্কাম পূর্ণ হবার মাস।<br />
:তোমার বুঝি সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়ে গেলো আমাকে পেয়ে। আর কিছু চাইবার নেই জীবনের কাছে?<br />
: এই শ্রাবণে তুমি ঝরঝর ঝরে পড়ো মিলা। শ্রাবণে হয় বর্ষার সমাপ্তি। যেমন তোমাতে শেষ হয় আমার জাগতিক সকল দুঃখবোধের অনুতাপ।</p>
<p style="text-align: justify">মিলার মনের ভাবনার সাথে মিলিয়ে আকাশটাও যেন আজ গলা মিলিয়েছে তানভীরের ভাষায়। জানালা খুলে বাইরে হাত বাড়ায় একবার। হালকা বৃষ্টির ছাট এসে ছুঁয়ে দিলো আঙ্গুলগুলো। ঠিক যেন তানভীরের ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে গেলো মিলার করতলে। কানে বেজে উঠলো তানভীরের কণ্ঠস্বর, উৎপল কুমার বসুর কবিতা:<br />
‘মন মানে না বৃষ্টি হলো এত/সমস্ত রাত ডুবো নদীর পাড়ে/আমি তোমার স্বপ্নে পাওয়া আঙুল/স্পর্শ করি জলের অধিকারে।’</p>
<p style="text-align: justify">সোফার উপরে পা তুলে বসে নিজেকে সুস্থির করতে চেষ্টা করে মিলা। বৃষ্টির সাথে ওর জীবনের সুখের দিনগুলো সব কিভাবে যেন গাঁথা। প্রথম বিয়েবার্ষিকীতে তানভীর মিলাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলো। পথে কোত্থেকে একগুচ্ছ কদম ফুল নিয়ে এসে মিলার সামনে সিনেমার নায়কের মতো হাঁটু গেড়ে বসে গেয়ে উঠেছিল, ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান&#8230;’।</p>
<p style="text-align: justify">নাহ, আজ যেন কিছুতেই মিলা স্মৃতি থেকে ছাড়া পাচ্ছে না। তানভীর অফিসে। মাসের শেষের এইদিন কতক অফিসে ওদের খুব ব্যস্ত থাকে। জেনেও মিলা মোবাইল হাতে নিয়ে তানভীরকে ফোন করলো। একটি রিং পুরোপুরি বাজার আগেই তানভীর কথা বলে উঠলো ওপাশে, আমার মিল-মিল-মিলা, বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। আমি জানতাম তুমি এক্ষুনি ফোন করবে। আমার মতো তোমাকেও ভোগাচ্ছে এই বৃষ্টির জল, জ্বালা। এ তো আমাদের ভালোবাসা। প্রকৃতির জন্য এ শ্রাবণের ধারা আর আমার জন্য তুমি শ্রাবণগাঁথা&#8230;..</p>
<p style="text-align: justify">মুখের খুব কাছে মোবাইল ফোনটি রেখে অনর্গল কথা বলে যায় তানভীর তার প্রেমিকার সাথে। কানের খুব পাশে মোবাইল ফোনটি জোরে চেপে ধরে চোখ বুঁজে থাকে মিলা। ঝরঝর ঝরে পড়ে অশ্রুধারা। এখন শ্রাবণ মাস। নারী ও প্রকৃতি-দুজনেই বিশুদ্ধ জলে সদ্য স্নান করে উঠা।<br />
: কিছু বলবে না?<br />
: না। কিছু বলবো না।<br />
: তাহলে আমি বাড়ি চলে আসি! মুখোমুখী আমরা দুজন চুপ করে বসে থাকি। টেলিফোনে আমি তোমাকে দেখতে পাই না। মিস করি তোমার মুখ।<br />
:তাহলে চলে এসো এখনই।আমি চা বানাচ্ছি।<br />
:কি উপলক্ষে আমি আজ অফিস ফাঁকি দিচ্ছি ম্যাডাম!<br />
: উম, আর মাত্র ১২দিন পর আমাদের পরিচয়-হওয়া বার্ষিকী। এই উপলক্ষে।<br />
: আজকের দিনটাও দেখো সেই সেদিনের মতোই। আকাশ বাতাস ঝাঁপিয়ে তুফান আসছে যেন। টিএসসিতে যাবে?</p>
<p style="text-align: justify">:না। তুমি বাড়ি এসো। একা ভালো লাগছে না। তোমাকে মিস করছি।<br />
: হ্যালো হ্যালো হ্যালো।<br />
: শুনছি তো।<br />
: আমি শুনতে পারছি না কেন?<br />
: শুনতে না পারলে শুকে দেখো। গরম পানিতে লিকার দিলাম।<br />
: কী ভীষণ জ্বালায় ফেললে আমাকে মিলা! বললেই কী বাড়ি চলে আসা যায়? অফিসের একটা নিয়ম আছে না?<br />
: নিজের অফিসে বস যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। আমিও যা খুশি আবদার করতে পারি।</p>
<p style="text-align: justify">খোলা জানালার কপাট সজোরে বন্ধ করে দিলো দমকা ঝড়ের দাপট। ফোনের লাইন কেটে মিলা একটা শাড়ি পরতে গেলো। তানভীরের প্রিয় হালকা বেগুনি রঙা তাঁতের শাড়িটি পরলো। তানভীরের জন্য একটি নতুন পাঞ্জাবি বের করে রাখলো চেয়ারের উপর। খাটের পাশে সাইড টেবিলে ওদের দুজনের যুগল ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। বিয়ের সময় তানভীর খুব ঠ্যাঙ্গা পাতলা ছেলে ছিল। মিলার আত্মীয় স্বজনেরা সবাই খুব বিরক্ত হয়েছিল মিলা তানভীরকে বিয়ে করছে বলে। খুব বেমানান দেখাতো তখন মিলার পাশে তানভীরকে। তাছাড়া মেগা সফল ব্যবসায়ী বাবার একমাত্র সন্তান মিলাকে তানভীরের মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের একটি ছেলে বিয়ে করতে পারছে দেখে কেউ কেউ তানভীরকে খোঁটা মেরে বলেছিলো, তুমি তো রাজত্ব আর রাজকন্যা দুইই ছিনিয়ে নিলে। লাকি ম্যান।</p>
<p style="text-align: justify">মিলার ভালোবাসা শুরু থেকে আজও তেমনি অটুট আছে ওর প্রিয় মানুষটির জন্য। তানভীরের চরিত্রের সহজাত বিনয়, সংযম, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, প্রিয়নারী মিলার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা আচ্ছন্ন করে রেখেছে মিলাকে। মিলা জানে, তানভীর ওকে ওর জন্যই ভালোবাসে। মিলা প্রখ্যাত ধনকুবের সরফরাজ চৌধুরীর ওরসে জন্ম নেওয়া সন্তান নয় জেনেও সে মিলার জন্ম পরিচয় নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা পোষণ করেনি কখনো।</p>
<p style="text-align: justify">মনের ভেতর নানারকম চিন্তা আসা যাওয়া করছে। এর মধ্যেই দরোজায় বেল বেজে উঠলো। তানভীরের গায়ের গন্ধ পাচ্ছে যেন মিলা। দরজা খুলতে যাওয়ার আগে সিডি প্লেয়ারের ভলিউমটা আরোবাড়িয়ে দিলো,<br />
‘আজ যেমন করে গাইছে আকাশ তেমনি করে গাও গো।আজ যেমন করে চাইছে আকাশ তেমনি করে চাও গো॥<br />
আজ হাওয়া যেমন পাতায় পাতায় মর্মরিয়া বনকে কাঁদায়,<br />
তেমনি আমার বুকের মাঝে কাঁদিয়া কাঁদাও গো…।’</p>
<p style="text-align: justify">এই মুহূর্তে পুরোটা বাড়ির আনাচে কানাচে সবখানে কণিকার কণ্ঠে বেজে চলেছে মিলার মনের গভীর আকুতি। দরজা খুলতেই বাতাসের ঝাপটায় মিলাকে ডুবিয়ে দিলো প্রেমিকের প্রেম। অসময়ের গভীর প্রাপ্তি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে অশ্রুর মতো উঠলে গলে পড়ে খানিকক্ষণ। তানভীর দুষ্টামিভরা কণ্ঠে বলে, ‘এই যা! আজ দেখছি ঘরে-বাইরে সবখানেই ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। ভিজে গেলাম একেবারে। কই মিলা, দাও তোমার আঁচলখানি, নিজেকে একটু শুষ্ক করি।’</p>
<p style="text-align: justify"><strong>অলঙ্করণ: নূরুল আসাদ</strong></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অনূদিত গল্প ॥ আন্দালুসিয়ায় একা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/03/20/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a7%9f/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/03/20/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a7%9f/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 20 Mar 2021 17:54:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[লুনা রাহনুমা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=188</guid>

					<description><![CDATA[মূলগল্প: ট্রেসি লি-নিউম্যান অনুবাদ: লুনা রাহনুমা নাইজল যখন ঘটনাটি জানতে পারলো, তখন তার মুখটি চিমসে ম্লান হয়ে গেছে। তার ভ্রূ দুটি কুঁচকে একটি হয়ে কপালের উপরে ঝুলতে থাকা মাথার চুলগুলোকে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>মূলগল্প: ট্রেসি লি-নিউম্যান</strong></span><br />
<span style="color: #ff0000"><strong>অনুবাদ: লুনা রাহনুমা</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">নাইজল যখন ঘটনাটি জানতে পারলো, তখন তার মুখটি চিমসে ম্লান হয়ে গেছে। তার ভ্রূ দুটি কুঁচকে একটি হয়ে কপালের উপরে ঝুলতে থাকা মাথার চুলগুলোকে ছুঁয়ে ফেললো।</p>
<p style="text-align: justify">নাইজলের সেই মুখটি দেখে মেয়েটির খুবই আশ্চর্য লাগে, এই মুখের ভেতরে সে কী দেখেছিল? গতকালই নাইজল সাগর তীরে খাড়া একটি চুড়োর নিচে তোয়ালে বিছাচ্ছিল যখন, তখন তার স্ত্রীকে লোভাতুর চোখে পাহাড়ের চুড়োর ঠিক মাথায় তাকাতে দেখে সতর্ক করে বলেছে, ‘হেলেন, একদম সহস দেখাবে না।’</p>
<p style="text-align: justify">যদিও কথাটি বলেই তিনি হেসে ফেলেছিলেন। কারণ, গত বিশ বছর হেলেন পাহাড়ে উঠেনি। তাদের যমজ বাচ্চাদের জন্ম হবার পর আর পাহাড় বাওয়া হয়ে উঠেনি হেলেনের। কারণ, বাচ্চাদের জন্মের পর হেলেনের মা-শরীর ভারী হয়ে গেছে। পাহাড়ে ওঠার মতো শরীরের অবস্থা নেই আর তার। কারণ, এই সময়ে এসে এমন চিন্তা করাটাও হাস্যকর যে হেলেন এখনো নিজের শখের কিছু একটা আঁকড়ে ধরার কথা ভাবতে পারে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">কিন্তু, এই তো! হেলেন ঠিকই পৌঁছে গেছে এখানে। পাথুরে পাহাড়ের গাঁ বেয়ে সূর্যোদয় হচ্ছে। শান্ত শীতল নীলজল অনেক অনেক নীচে, ধরা ছোঁয়ার একদম শেষ সীমানায়।</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">হেলেনের হাতের আঙ্গুলগুলো থেতলে গেছে, তার দুই বাহু জ্বলে যাচ্ছে, আর তার দুই পায়ের তলা খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে, সেখানে রক্তের পিচ্ছিলতা। কিন্তু হেলেন হাসছে। আবার, হেলেন কাঁদছে। এটা তার জীবনে প্রথমবার একা পাহাড় চূড়োয় উঠে যাওয়া। চুড়োর ওপর দাঁড়িয়ে হেলেন নাইজলের হতাশামাখা দীর্ঘশ্বাস কল্পনা করতে পারে ঠিক ঐ অনেক নিচে নীল সাগরের বুকে জলের ঢেউ আছড়ে পড়ে মিলিয়ে গেলো যেমন করে।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>লেখক পরিচিতি:</strong> ট্রেসি লি-নিউম্যান, তিনি সম্প্রতি এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে (ডিস্ট্রিঙ্কশন) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে নিজের উপন্যাস লেখায় ব্যস্ত। তিনি নিজের পরিবার নিয়ে এসেক্সে বসবাস করেন। স্পেশাল নীডস কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পার্ট টাইম চাকরি করেন।</p>
<p>অলঙ্করণ: নূরুল আসাদ</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/03/20/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
