<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>রোকেয়া ইসলাম &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sun, 09 May 2021 19:52:44 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>রোকেয়া ইসলাম &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>আব্বাস আলী আকন্দের একদিন ॥ রোকেয়া ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/10/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/10/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 09 May 2021 19:52:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[রোকেয়া ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=554</guid>

					<description><![CDATA[লেগুনা থেকে নেমে সোজা ড্রিম হোটেলে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়ায় আব্বাস আলী আকন্দ। হিসাবটা মোটামুটি ঠিক করাই ছিল বাসা থেকে বেরুবার মুখে ফোন করে চম্পা পারুল স্কুলের হেড মাস্টার। দেখা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">লেগুনা থেকে নেমে সোজা ড্রিম হোটেলে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়ায় আব্বাস আলী আকন্দ। হিসাবটা মোটামুটি ঠিক করাই ছিল বাসা থেকে বেরুবার মুখে ফোন করে চম্পা পারুল স্কুলের হেড মাস্টার। দেখা করতে চান।</p>
<p style="text-align: justify">এখন এই অতিমারীর সময়ে স্কুল বন্ধ। অফিসে কিছুটা ছুটোছুটি করতে হয় বটে, তাকেও ছুটতে হবে সে কারণেই আসা তার সুস্পষ্ট ঈঙ্গিত দিয়েই রেখেছে আগে। তার মানে সে দেখা করতে এলে দরকারি কথার সূতোটা দীর্ঘ হয়ে অপ্রয়োজনের টানে ছুটবে। তখন কথা বলে যদি জেনে যেতে পারেন আজকের মূল আয়োজনটা কি? তাই আগেভাগেই তাকেও থাকতে বলতেই হবে।</p>
<p style="text-align: justify">এ তো আর ঘরের রান্না নয় যে তিনজনের রান্না চারজন খেতে পারবে। একজনের প্যাকেট একজনকেই দিতে হবে। গাড়ি নিয়েও আসতে পারে কেউ কেউ। ড্রাইভার থাকবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়ে আসবে গাড়ি। আগে নাক সিটকালেও এখন আর জেনে বুঝে নাকটা সিটকানোর আগে একবার হিসাব মেলাতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আব্বাস আলী যাদের গাড়ি নিয়ে আসার চিন্তা করছে তারা কেউ নিজের টাকার গাড়ি নয় স্বামীর টাকার গাড়ি চড়ছে বহুকাল থেকেই। ভাবতে ভাবতে আরও ছয়টা প্যাকেটের হিসাব মিলিয়ে মোট সংখ্যার সাথে দাম যোগ করে এক হাজার টাকার দুটো নোট দিয়ে রিসিট নিয়ে নিয়ে। ডেলিভারি সময় বেলা একটা লেখা থাকে দুটো কাগজেই।</p>
<p style="text-align: justify">আজ হাঁটতে ইচ্ছে করছে না আব্বাস আলীর। হাত উঁচিয়ে রিকশা ডাকতে গিয়েও থেমে যায়। এইটুকুই তো পথ। এইটুকু পথ পেরুতে কখনও রিকশার প্রয়োজন হয়নি আব্বাস আলীর। গত দুমাস আগেও হয়নি। তাহলে আজ কেন? এটুকু ভাবতে ভাবতে রড় রাস্তা পেরিয়ে মসজিদের কাছে এসে পড়েছে। হঠাৎ মনে হলো ও কি রিসিটটা পকেটে তুলেছে না ক্যাশ কাউন্টারই রেখে এলো কি? পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিয়ে খুচরো কাগজপত্র বের করে আনে। অপ্রয়োজনীয় কিছু কাগজ আছে রিসিটটা নেই। বাম পাশের পকেট হাতড়ে মোবাইল বের আবার ঢুকিয়ে ফেলে।রিসিট নেই।</p>
<p style="text-align: justify">ঘুরে ফিরে যাবার জন্য কয়েক কদম যেতে যেতে পাঞ্জাবি পকেট খুঁজে মানিব্যাগ বের করে দেখে রিসিটটা ব্যাগের ভেতরে চুপটি করে শুয়ে আছে । আজকাল এমন ভুল হচ্ছে আব্বাস আলীর। এটা কি বয়সের দোষ। হতে পারে। অথচ একসময় নিজের মেধার ওপর বিশ্বাস ছিল। স্মরণ শক্তি, কথা মনে হতে নিজের দিকে তাকায়। না এখন বেশ শক্তপোক্ত শরীর তার।</p>
<p style="text-align: justify">স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকতেই শুয়ে থাকা একটা কুকুর উঠে দৌড়ে গেট দিয়ে বের হয়ে গেল। নিজের রুমে বসতে বসতেই মনোয়ার স্যার সালাম দিয়ে বসে পড়ে।স্কুলের খালা ট্রে নিয়ে হাজির। একটা পিরিজে সর মাখা একটা মিষ্টি। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই<br />
-স্যার কাল বাড়ির দোতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। তার মিষ্টি।<br />
&#8211; খুব ভালো সংবাদ। খালা সবাইকে দিয়েছো।<br />
&#8211; না স্যার আপনেরে পরথম দিলাম। ম্যাডামরা কইলো আগে স্যাররে দিয়া আসো হেরবাদে আমরা নেই।<br />
খালা চলে গেল।</p>
<p style="text-align: justify">ঝকঝকে গ্লাসে টলটলে পানি দেখে মনে পড়লো তিনি খুবই তৃষার্ত।পানির গ্লাসটা তুলতে মনোয়ারের সাথে টুকটাক কথা হয়। অনুমতি নিয়ে সেও চলে যায়।আব্বাস আলী আকন্দ ধীরে সুস্থে পানি পান করে খুব তৃপ্ত হন।দরজায় কানিজ ম্যাডাম আর তার স্বামী। হাতে বিরাট ফুলের বোকে।ততক্ষণে চাউর হয়ে গেছে আব্বাস আলী জয়েন করার পর যতজন শিক্ষক অবসরে গেছেন আজ তারা আসছেন।</p>
<p style="text-align: justify">হৈ হৈ করে করে ঢুকেন মমতাজ ম্যাডাম<br />
-স্যার একবারও তো বলেননি।<br />
বরাবরের মতো হাসেন আব্বাস আলী।<br />
&#8211; স্যার আমাদেরকেও বলতে মানা করছেন।<br />
কানিজ ম্যাডাম মিটিমিটি হাসতে থাকেন।<br />
একে একে সবাই আসেন। আসেন বললে ভুল হবে সবাই যেন এমন একটা ডাকের জন্য অপেক্ষা, কতদিন পর তাদের পুরানো কর্মক্ষেত্রে আসা। যেখানকার সম্পর্কের সূতো ছিঁড়ে গেছে নিয়মের চুক্তিতে। তবুও রয়ে গেছে তার অপ্রতিরোধ্য ছায়া। এটা সরাবার সাধ্য কার? কেউ কেউ সময় থাকতে বুঝতে চান না বিষয়টা, সময় গেলে হাতড়ে আফসোস করে। আব্বাস আলী বুঝতে পেরেছেন বলেই আজকে তিনি ডেকেছেন সম্পর্ক চুকিয়ে যাওয়াজনদের।</p>
<p style="text-align: justify">সবার কলকাকলীতে মুখরিত টিচার্স রুম। হাসি আনন্দ কথা ভেসে আসে। আব্বাস আলী কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। কত কাজ যে জমা আছে। গত পনরদিন ধরেই লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে আব্বাস আলী।দরজায় দীর্ঘ ছায়া চোখ তুলতেই দৃষ্টি আঁটকে যায় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতির দৃষ্টিতে।</p>
<p style="text-align: justify">দীর্ঘদিন আব্বাস আলী এই স্কুলে, রেখা খন্দকারও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন । তিনি নিজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটিতে থাকেন না বটে তার পছন্দের মানুষ থাকে। কখনো অযোগ্য মানুষও রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্বে আসেন। আব্বাস আলী সহ-সভাপতির নামটা সবসময়ই রেখা খন্দকারেক রাখেন। শিক্ষিত রুচিবান মানুষ। বিচারবোধ সম্পন্ন তার দূরদৃষ্টির প্রশংসা করতেই হয়। আব্বাস আলী আকন্দ আলী গত একুশ বছরে তিনজন সভাপতি পার করেছেন। একজন ছিল ধূর্ত। একজন তার সময়সীমা পার করার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর এখন যিনি আছেন তিনি জনপ্রতিনিধির কাছের লোক ছিলেন এখন বেশ দূরের। সহ-সভাপতি ঘরে ঢুকতেই আজানের ধ্বনি বাতাসে ভেসে ভেসে ঘরে ঢোকে।</p>
<p style="text-align: justify">কথা বলতে বলতেই মনোয়ার স্যার ঘরে ঢোকে। আব্বাস আলী মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তার হাতে দেয় রিসিটসহ।<br />
পাশের রুমে আনন্দ কলোরবে যোগ দিতে চলে যান রেখা খন্দকার।কাজের ফাঁকে ঢুকে পরেন চম্পা পারুল স্কুলের হেড মাস্টার পাশের স্কুলের হেড মাস্টার কানিজ ম্যাডামের স্বামী। সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদ আপগ্রেড করেছে। শিক্ষকদের কাগজপত্র জমা দিতে হবে অধিদপ্তরে। শিক্ষকদের মাথার ঘায়ে পাগল অবস্থা।</p>
<p style="text-align: justify">সুক্ষ্মভাবে শিক্ষকদের তিনটে দল আছে এখানে। আব্বাস আলী বুঝতে পারলেও মুখে কখনো কিছু বলতো না। এই যে তার বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে তিন দলের মধ্যে ঐক্য হয়নি সেটা তিনি জানেন। পুরানো শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে তিন দলে যোগ বিয়োগের ফলশ্রুতিতে দুই দলে রুপান্তরিত হয়েছে। কোন দলের মতামতের তোয়াক্কা করেননি তিনি।</p>
<p style="text-align: justify">আজ এই সবাই এসেছে এটার পরিকল্পনা এবং বাদবাকি সব তার নিজের। কানিজ ম্যাডামের স্বামী বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন । হায় আল্লাহ আড়াইটা বেজে গেছে এখনও খাবার নিয়ে এলো না যে!<br />
মনোয়ার স্যারকে ফোন দিতেই জেনে যায় আরো আধা ঘণ্টা লাগবে খাবার আনতে।<br />
একটার খাবার আসবে তিনটায়।<br />
ড্রিম হোটেলের ম্যানেজারও কি জেনে গেছে!<br />
এক কাপ চায়ের কথা কি বলবে কানিজ ম্যাডামের স্বামীকে। তার নিজের ডায়বেটিস না থাকলেও জানে এইসব রােগীদের নিয়ম মেনে খেতে হয়। কানিজ ম্যাডামের স্বামীর কি ডায়বেটিস আছে?<br />
উঠে টিচার্স রুমে যায়। কেউ কেউ কাগজপত্র নিয়ে ব্যস্ত। কেউ কেউ গল্প করছে।<br />
-স্যার খাবার আসতে এত দেরি কেন হচ্ছে। গেস্ট এসে বসে আছে।<br />
জাহানারা ম্যাডাম নড়েচড়ে বসেন।<br />
&#8211; তাতে কি আমরা তো গল্প করছি সমস্যা হচ্ছে না।<br />
-না আপা আপনি না বললে কি হবে। এত দেরি কেন খাবার আসতে বলুন তো স্যার। কখনো কি এমন হয়েছে।<br />
রাবেয়া ম্যাডামের তীব্র কণ্ঠে একটা সুক্ষ্ম জ্বালা আছে টের পায় আব্বাস আলী আকন্দ।<br />
দরজা থেকে একটু এগিয়ে যায় আব্বাস আলী<br />
&#8211; আমি খাবারের অর্ডার আগেরদিনই দিয়ে গেছি। আসার সময় অগ্রিম টাকা দিয়ে লিখিয়ে নিয়ে এলাম বেলা একটা। অথচ আড়াইটায়ও শুনি আরো আধ ঘণ্টা। বলেন তো কেমন লাগে।<br />
-কখনো তো এমন হয়নি। আজ কেন হলো।<br />
কথাগুলো শুনে মনে হলো সত্যিই তো কখনো তো এমন হয়নি তাহলে বেছে বেছে আজই হতে হলো।</p>
<p style="text-align: justify">ড্রিম হোটেলে ম্যানেজার কি জেনে গেছে আব্বাস আলী আকন্দ রিটায়ার্ড করেছে। এখন এই এলাকায় তার আর প্রভাব প্রতিপত্তি নেই। তাই তার কথা গুরুত্বসহ বিবেচনা না করলেও চলবে। একটার অর্ডার তিনটের পর দিলেও চলবে।<br />
এমন মনে হলো কেন? রিটায়ার্ড নিয়ে তো কখন তার নিজের মনেও কোন ক্ষোভ যন্ত্রণা হতাশা নেই। বরঞ্চ একটা পরিতৃপ্তি নিয়ে তিনি আজ অবসর গ্রহণ করছেন। তার সবকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ছেলে সরকারি চাকরি করে স্ত্রীর অবসর নিতে আরো বছরখানিক আছে। পুত্রবধূ চাকরি করছে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে জামাতা চাকরি করছে। মেয়ের মাস্টার্স বাকি আছে।<br />
নিজের জমানো কিছু আর গ্রামের জমি কিছুটা ছাড়িয়ে পাশাপাশি দুটো ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছে। মাঝখানের দেয়াল সরিয়ে বেশ বড়সড় জায়গা জুড়ে বসবাস করছে পুত্র পুত্রবধূ নাতিসহ।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">রিকশার শব্দে তাকাতেই মনোয়ার স্যারের সাথে চোখাচোখি হয়।</span><br />
<span style="color: #ff0000">অসাধ্য সাধন করতে পেরেছি ভাষায় তার চোখ নেচে উঠে। পেছনের রিকশায় আনোয়ার স্যার।</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">খালা দৌড়ে যায় দু রিকশা ভর্তি খাবার আনেত। স্যাররা কেউ আনতে পারবে না। দ্রুত হাত চালিয়ে খাবার নিয়ে আসে।<br />
হাতে হাতে টেবিলে প্লেট সাজিয়ে গ্লাস পানির বোতল খাবারের প্যাকেড দিয়ে দেয়। আব্বাস আলীর রুমে ছয়জন পুরুষ খেতে বসে।এতক্ষণের ক্ষুধার রোদে টলে যাওয়া মুখগুলো জল পেয়ে টলটল করে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">খাবার পর্ব শেষ হতেই হেমন্তের বেলা দ্রুত ফুরিয়ে যাবার আয়োজনে ব্যাস্ত হয়ে পরে। শিক্ষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে হবে। পুরানো নতুন সবাই টেবিল ঘিরে বসে। দীর্ঘদিনের সহকর্মী। কত স্মৃতি সুমধুর কত কড়া শাসন কত চাপা মনোমালিন্য কিছু স্বচ্ছ বেদনা কিছু গভীর অদেখা কান্না আছে এদের। অভিযোগ থাকতেই পাররে আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে। তিনি ব্যক্তিগত কারণে কখনো কাউকে সামান্য কথাটুকুও বলেনি। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক হিসাবে কড়া ছিলেন। সহকারী শিক্ষকদের ক্লাস করা ছাড়া অন্যকোন কিছু সামলাতে হয়নি কখনো। ক্লাসের বিষয়ে কোন ছাড় দেননি কখনো। তবুও তো আব্বাস আলী, মানুষ। যদি কোন ভুল করে থাকেন। তারও কিছু কথা আছে।</p>
<p style="text-align: justify">আবেগঘন মুহূর্তের চোখ ভিজে ওঠে সবার। শক্ত শরীর শুকনো এঁটেল মাটির মনের আব্বাস আলীও কেঁদে ফেলেন। সবাই চলে গেলেও আব্বাস আলী বসে থাকে। হাতে কিছু কাজ আছে সেগুলো সারতে হবে।<br />
খালাও চলে যায়। নতুন হেড মাস্টার এসে যেন কোন ওর কোন কাজে ভুল না পায়। আর এখন বদলি বন্ধ করোনা- কারণে। স্কুলের সবচেয়ে সিনিয়র টিচার কামরুন নাহার এর দায়িত্ব থাকলো প্রধান শিক্ষককের ভার বহন করার। তাকে সাহায্য করবেন দুজন পুরুষ শিক্ষক আনোয়ার স্যার ও মনোয়ার স্যার।সব কাজ গুছানোর পর পিরিজ দিয়ে ঢাকা গ্লাস ভর্তি পানি ঢকঢক করে পান করে একটা সুস্থির নিশ্বাস ফেলে।<br />
নির্ভার লাগছে নিজেকে।</p>
<p style="text-align: justify">জানালা দিয়ে চোখ যায় মাঠে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ তাই সারামাঠ সবুজ ঘাসে ভরে গেছে । ওঠে বারান্দায় দাঁড়ায়। বিরাট মাঠ পেরিয়ে কয়েকটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে।এগুলো তারই উৎসাহে লাগানো হয়েছে। এখনও সাবালকত্ব পায়নি। দরজায় তালা লাগিয়ে বারান্দা পেরিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে বের হয়ে পড়ে। চাবিটা দেবার প্রয়োজন নেই। টিপতালা তাই চাবিটা নিয়ে গেছে স্কুলের খালা।আস্তে আস্তে হাঁটতে থাকে আব্বাস আলী।</p>
<p style="text-align: justify">কতদিন! চাকরির প্রায় অর্থেকের বেশি সময় এখানে কাটিয়ে দিল। মধ্য যৌবন থেকে পৌঢ়ত্ব। আনমনে মূল গেটের দিকে হেঁটে আসছে আব্বাস আলী আকন্দ। হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। নিজেকে সামলাতে সামলাতে বসে পড়ে। একটা বড়গাছের শেকড় মাটির উপর দিয়ে ওঠে আবার মাটিতে লুকিয়ে নিয়েছে নিজেকে। শেকড়টায় হাত রাখে। বেশ মোটা শেকড়। শেকড়টার কত বছর বয়স হবে? বিশ তো হবেই ।</p>
<p style="text-align: justify">এখানে আসার দুবছর পর ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা মিলে বনায়নের কার্যক্রমের অংশ হিসাবে গাছগুলো লাগিয়েছিল। প্রথমদিকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যত্ম করতো। পরে মাটির সাথে চারাগাছগুলোর জনম চুক্তি বসতি হয়ে গেলে যত্ন আর করার দরকার পড়েনি।<br />
মেহগনির বেশ কয়েকটি গাছ উঠে গেছে অনেক উপরে। সজীব পাতাগুলো ঝিলমিল আনন্দে বাতাসের সাথে কথা বলছে।<br />
আকাশ-ছোঁয়ার বাসনায় ওঠছে উপরে। উঠে ধুলি ঝেড়ে সেজা হয়ে দাঁড়ায় আব্বাস আলী। ঠিক মেহগনি গাছগুলোর মতো। শেকড় পোঁতা মাটিতে, আর নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছে আলো হাওয়ায়। পাতাগুলো মনের আনন্দে মেলে ধরছে জাগতিক আবহে।</p>
<p style="text-align: justify">আব্বাস আলীরও শেকড় পোঁতা ছিল এই স্কুলের চৌহদ্দিতে। নিজেকে বৃক্ষের মত করে শেকড় দিয়ে আঁকড়ে রেখেছিল। আজ চলে যাচ্ছে এখানকার সমস্ত কাজকর্ম শেষ করে। নতুন কেউ আসবে দায়িত্ব পালন করতে। মনটা ভারী হয়ে ওঠে। এতদিন!! জীবনের অনেকটা সময়।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">চোখ ভিজে ওঠে। বুকের ভেতর খামচে ধরে অদৃশ্য হাত। গলার কাঁছে আঁটকে থাকা কান্নাটা ভারী হয়ে ওঠে। কতটা সময় এখানে। আগামীকাল থেকেই আব্বাস আলী আকন্দ ‘ছিল’ হয়ে যাবে।</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">উপরে তাকায় গাছের উপরজুড়ে আছে তিন ধরনের পাতা।<br />
পুরানো পাতায় হলদে ছোপধরা মাঝবয়েসী পূর্ণ সবুজ পাতা সাথে নবীন পাতা। নবীন পাতাগুলোয় পৃথিবী দেখার কি অপার আনন্দ। ঝিরিঝিরি বাতাসে ফরফর করে উড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">হলুদ ছোপধরা পাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই গাল বেয়ে জলের ক্ষীণধারা নেমে আসে। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুছে ফেলে।<br />
গাছটা হাত দিয়ে ধরে থাকে কেউ না বললেও তোরা বলিসরে আমিও ছিলাম আমি দিয়ে গেলাম জীবন নিংড়ে জীবনীশক্তি। হলুদ পাতা তোরাও ছিলিরে। সূর্যের আলো থেকে শক্তি নিয়ে গাছের জীবনীশক্তি জুগিয়ে ঝরে যাবি এটাই তো নিয়মরে&#8230;<br />
আবার চোখ ভিজে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">শহরে এত এত কিন্ডারগার্টেন ইংলিশ মিডিয়ামের পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কে আর সম্মান করে। নিম্নবিত্ত পরিবারে সন্তানরা লেখাপড়া করে এই স্কুলে। পরিবারে তেমন কোনো যত্ম নেই লেখাপড়ার, তেমন একটা স্কুলকে শতভাগ পাশের স্কুল করাই না শুধু, সত্যিকারের মূল্যবোধ তৈরি করতে চেয়েছে শিশুদের ভেতরে। দেশপ্রেম ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি দায়বোধ তৈরি করে দিয়েছে নিজের উদ্যোগে। এগুলো চাকরির নিয়মে মধ্যে ছিল না নিজের ভেতরের তাড়না থেকেই করতো আব্বাস আলী আকন্দ। অন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে তার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রার্থক্য এখানেই।<br />
নিজের শৈশবটাকে দেখতে চাইতো ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে।</p>
<p style="text-align: justify">নিজে কতকিছু হতে চাইতো করতে চাইতো শুধুমাত্র সুযোগর অভাবে করতে না পারলেও শৈশবটা ছিল সজীব আর শহরের শিশুদের শৈশব তো কবেই খুন হয়ে গেছে। এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা বুঝতে পারতো আব্বাস আলী আকন্দ অন্য ধাচের শিক্ষক। কিছুটা বাড়তি সন্মান হয়তো ছিল তার প্রতি। বাড়তি খাটনির জন্য বিরাগভাজন হতো সহকর্মীদের। গাছগুলোতে হাত বুলায় আনমনে। গাছগুলো মূল্যবান সম্পদ হয়ে গেছে স্কুলের জন্য, নিজের দিকে তাকায় আব্বাস আলী আকন্দ। নির্জীব মূল্যহীন মনে হচ্ছে।<br />
-সার অহনও যান নাই বেইল তো পইড়া গেল<br />
চমকে তাকায় স্কুলের খালার দিকে।<br />
&#8211; যাই।</p>
<p style="text-align: justify">হাঁটতে শুরু করে আব্বাস আলী আকন্দ। বেলা পড়ে যাওয়া সময়ে কর্ম জীবনের শেষ হাঁটা&#8230;.</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/10/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কখনো ভোরের স্বপ্ন ॥ রোকেয়া ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/01/%e0%a6%95%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a7%9f/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/01/%e0%a6%95%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a7%9f/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 31 Mar 2021 19:05:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[রোকেয়া ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=275</guid>

					<description><![CDATA[শিউলির কথাগুলো শুনে শিউরে উঠে অরণি। দু-হাত টেবিলে রেখে হাতের তালু দিয়ে মাথা চেপে ধরে অরণি। ওর সমস্ত শরীর ঘিন ঘিন করে উঠে। কি করে বেঁচে আছে শিউলি। এত ঘৃণা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিউলির কথাগুলো শুনে শিউরে উঠে অরণি। দু-হাত টেবিলে রেখে হাতের তালু দিয়ে মাথা চেপে ধরে অরণি। ওর সমস্ত শরীর ঘিন ঘিন করে উঠে। কি করে বেঁচে আছে শিউলি। এত ঘৃণা এত ক্ষোভ যন্ত্রণা ওর বুকের ভেতর। অথচ প্রথম দেখাতেই শিউলিকে শান্ত ধীর স্থির মনে হয়েছে।কত হবে ওর বয়স আবেদন পত্রে তো কুড়ি বছর লেখা। অরণি মনে মনে আরও দুই যোগ করে নেয়। ওর এই বাইশ বছর বয়সে এত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ভেতরে অগ্নিকুণ্ড রেখে উপরটা পুরাই বরফের চাই।</p>
<p style="text-align: justify">অরণি একটা গ্রুপ অফ কোম্পানির চেয়ারম্যান। প্রতিদিন অফিসে আসে না। বোর্ড মিটিং ছাড়া সপ্তাহে তিন চারদিন তাও সেকেন্ড হাফে। শিউলির ডিউটি অন্য জায়গায়। আর চেয়ারম্যান ম্যাডাম এলে তার ধারে কাছে থাকা। গত দু-মাস থেকে কাজ করছে এই অফিসে। আগের কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। একেবারে ফ্রেস। এত ছোট পদের নিয়োগ চেয়ারম্যান ম্যাডামের হাত দিতে হয় না।<br />
অরণি প্রথমদিন গজগজ করছিল ভেতরে ভেতরে। একেবারে নতুন একে কাজ শেখাতেই তো তিন মাস লেগে যাবে।<br />
অরণি অবাক হয়ে খেয়াল করে খুব অল্প সময়েই নিখুঁত পরিপাটি করে কাজ করে শিউলি। কখন অরণির পানির প্রয়োজন। পানির গ্লাসে কয় টুকরো বরফ ফেলতে হবে চায়ের কাপে ক-ফোঁটা লেবুর রস ফেলতে হবে সব জানা হয়ে গেছে শিউলির।</p>
<p style="text-align: justify">কয়েকদিনেই অরণির মন জয় করে নিয়েছে।<br />
কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু ব্যক্তিগত বিষয় জানা হয়।<br />
-তুমি কি একাই থাক ঢাকায়?<br />
-হ্যা ম্যাডাম। এক ফ্যামেলির লগে সাবলেট থাকি।<br />
-বাড়িতে কে কে আছে?<br />
-কেউই নাই আবার আছেও।<br />
এমন হেঁয়ালি ধরনের উত্তর অবণির চেনা শিউলির কাছ থেকে আশা করেনি।</p>
<p style="text-align: justify">অরণি একটু কাছে ডেকে কথা বলেছে অমনি মাথায় উঠে নাচতে শুরু করলো কিনা কে জানে।<br />
ফাইলেই চোখ নিবন্ধ রেখেই বলে<br />
-এ কথার মানে কি?<br />
অরণির মৃদু কণ্ঠস্বরেও কঠিন কিছু ছিল সেটা বুঝতে পারে শিউলি।<br />
&#8211; ম্যাডাম মাফ কইরা দেন ভুুল হইলে। আমি কইলাম সত্য কথাই কইলাম।<br />
অরণি ফাইল থেকে চোখ সরায় না। শিউলি এই ফাঁকে লেবুর রসের ফোঁটা গুণে এক কাপ চা সামনে রাখে।<br />
লেবুর মনোহরি গন্ধে চায়ের কাপে চোখ রাখে। মিহি ধোয়া ধ্রুপদী নাচের ভঙ্গিতে উপরে উঠে মিলিয়ে যায়।<br />
মেয়েটা সত্যি কাজের অজান্তেই মনের কথা বুঝতে পারে।<br />
-কি বললে তখন কেউ আছে নাকি নেই।<br />
দু-পা এগিয়ে আসে শিউলি।<br />
-বেয়াদবি নিয়েন না কইছি আছেও আবার নাইও।</p>
<p style="text-align: justify">একটু থামে। ঘরে এসি চলছে। এসির বিজবিজ শব্দ আর দেয়াল ঘড়ির টিক টিক শব্দ ছাড়া আর কিছু নাইও।<br />
-কিছু বলতে চাও আমাকে?<br />
আঙুলে ওড়না জড়াতে জড়াতে নিঃশব্দে দু-পা এগিয়েছে শিউলি।<br />
-আপনের কাজের ক্ষতি হইব না তো।<br />
বেশ ভদ্রতাও জানে তো মেয়েটা। চোখে মুখে বুদ্ধির ছাপ আছে।<br />
দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকায়, ঘণ্টাখানিক সময় তো আজ ঠান্ডা ঘরের চার দেয়ালে ঘুরতে দিতেই পারে। ঘুরুক সময় তার মতো। অরণি থাকুক শিউলির আছে আবার নাই এর গোলক ধাধায়।</p>
<p style="text-align: justify">-আমার পাঁচ বছর আর আমার ছোট ভাইয়ের তিন বছর বয়স তহন আমাগো পানিতে ভাসাইয়া বাপে মইরা গেল।<br />
দাদায় বংশের বাতি দেওনের লিগা ছোট ভাইকে রাইখা আকাইম্যা আমাগো মায় &#8211; ঝি রে খেদাইয়া দিল। বুইড়া নানা নানীর সংসারের চাবি মামীর শক্ত হাতের মুঠায়। দুইদিন কাইন্দা কাইটা ভালোই মমতায় থাকলাম।<br />
মামার রিকশা চালাইয়া কতই আর আয় করে।টানাটানি সংসারে বিবেক আর মমতা থাকে না ম্যাডাম ।<br />
লাত্থি-গুতা খাইয়া মাটি কামড়াইয়া একটা বছর টিকা আছিলাম মা আর ম্যায়া ।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">মামায় মায়েরে বিয়া দিল এক কুইঠ্ঠাল ধনী ব্যাডার লগে। ব্যাডার আগের দুই বউর একজন বিয়ার পরপর আরেক ব্যাডার হাত ধইরা পলাইয়া গেছে। পরের বউ সংসার করছে দুই পোলার জন্মও দিছে।</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">বড় বড় পোলা বড় সংসার, সংসারে ম্যালা কাজ কাম। বউ নাই আবার ব্যাডারও বিয়ার বয়স আছে।<br />
মামা সব দেইখ্খা মায়ের বিয়ার ব্যবস্থা করে। হ্যায় এক্কু ঢিলে তিনটা পাখি মারে। ধনী বাড়িতে বৈনের বিয়া হইলে বুইড়া বাপ-মায়ের খরচা পাওয়া যাইব। আর নগদে লাভ আমারে মায়ের লগে দিয়া দেওন যাইব।<br />
মামার মাথায় পাক্কা বুদ্ধি আছে। বিয়ার সুময় ব্যাডারে শর্ত দেয় বৈনেরে তিনখান সুনার গয়না দেওন লাগব আর চাইর বিঘা জমি লেইক্খা দেওন লাগব।<br />
শুইনা নানা নানি খুশি হইলো। বিয়ার দিন আমার মায়ের স্বামী কইলো তাড়াহুড়া কইরা বিয়ার দিন ঠিক হইছে তাই গয়না আনবার পারে নাই। দুই একদিন পরে গয়না বানাইয়া দিবনে। মামারে লইয়া গিয়া জমি রেজেস্টি কইরা দিব। বিয়ার দিন মামায় আমারে লগে দিয়া দেয় নাই। দশ পনেরদিন পরে ম্যায়া মায়েরে ছাড়া খালি কান্দে অজুহাতে আমারে থুইয়া আইলো।<br />
আসোনের কালে আমার মায়ের স্বামী পকেট থিকা কিছু ট্যাকা বাইর কইরা মামারে দিয়া কইলো- বুইড়া বাপমায়ের পরতি আপনের যেরহম করতব্ব তেমুন মাইয়ারও আছে। মাঝেমইদ্দে আইসা খরচা বাবদ কিছু নিয়া যাইয়েন।<br />
আরও দিলো এক বস্তা ধান।<br />
মায়ে আর মামাতো খুশিতে আটখান।</p>
<p style="text-align: justify">আমার লিগা মায়ের ঘরের লগে ঘরের ভিতর দিয়া বরাবর টিন দিয়া বেড়া দিয়া ঘর কইরা দিল। দরজা দিয়া বারান্দায় বাইর হওয়া যায়।<br />
স্কুলে ভর্তি কইরা দিল। নতুন কাপড় চোপর বানাইয়া দিলো।<br />
এই বাড়িতে ম্যালা কাম আমার মায় হারাদিন কাম করে। লগে লগে আমিও কাম করি। দুইজন কামের মানুষ সকালে আহে বিকালে যায়। এত কাম করন লাগে তাতেও মায়ের মন খারাপ হয় না খুশিতে খুশিতে নাচতে নাচতে নিজের সংসারে কাম করে।</p>
<p style="text-align: justify">আমি নাইনে উঠলাম।<br />
শিউলি একটানে প্রচুর কথা বলে ফেলেছে। গলা তো শুকাবারই কথা। বাইরে যায়। অরণির চায়ের কাপের চা তলানিতে ঠেকেছে। এসির শব্দ আর ঘড়ির আওয়াজ মিলে সংগীতের মোহন আয়োজন ভালো লাগছে।<br />
শিউলি এর মধ্যে ওর জীবনের তিনটে তিনটা পর্ব শেষ করে ফেলেছে।<br />
অরণি ঘড়ির দিকে তাকায় খুব বেশি সময় নেয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">এখনো বুঝতে পারছে না &#8220;আছেও আবার কেউ নাইও&#8221; কোথায় গিয়ে ঠেকবে।<br />
শিউলি বোধহয় ওয়াশ রু্মে গিয়েছিল। বেশ ফ্রেশ লাগছে ওকে।<br />
-ম্যাডাম বাসায় যাবেন না।<br />
ঘড়ির দিকে তাকিয়েই বলে<br />
-না বল বাকিটুকু শুনি।<br />
-আমার মায় যদি ব্যাডার কাছে গয়না চায় ব্যাডায় কয় মাইয়া মাইনসের গয়না হইলো স্বামী। জমি দেওনের কতা কইলে কয় মইরা দুই আানী অংশ পাবি<br />
অরণি এই বিষয়গুলো জানে। কতভাবেই না মেয়েদের ঠকানো হয়। মানসিক নির্যাতনের কথা কেউ স্বীকার করে না। উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্ত সমান সমান এ বিষয়ে।<br />
-আমি বুঝতে পারলাম না আমি বড় হইছি কিনা আমার মায়ের স্বামী আমার সাজোনের লিগা ছুনু পাউডার লেপেস্টিক লেন পলিশ আরো কত কি লইয়া আমার মায়ের হাতে দেয়। সুন্দর সুন্দর জামা কাপড় পাইয়া আমার মায়ে যে কি খুশি। আমিও খুশি। জীবনেও আসল বাপ বাইচ্চা থাকলে এত কিছু একলগে পাইতাম না।<br />
একদিন রাইতে ঘুমাইয়া পড়ছি। মাায় জানি কেমনে টের পাইচে তার বুইড়া স্বামী আমার ঘরে হান্দাইছে।<br />
আমি তো ব্যাডার মুখ আর হাত সামলাইতে সামলাইতে শুনি মায় জোরে জোরে দরজা ধাক্কইতাছে আর চিক্কুরইর পারতাছে।<br />
ব্যাডা মায়ের ধাক্কানিরতে দরজা খুইল্লা দ্যাহে হ্যার বড় পুলা খাড়াইয়া আছে দরজার বোগলে।</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের হাত ধইরা টাইন্যা ঘরে নিয়া গিয়া দরজা আাঁটকাইয়া গুম্মুর গুম্মুর কিল দেয়।<br />
মায়ের চিল্লাচিল্লিতে কামের কাম কিছুই হইলো না। মইদ্দে থিকা ব্যাডার বড় পোলার কপাল খুল্লো।<br />
পোলায় দুইদিন আইলে বাপে একদিন আমার ঘরে হান্দায়।<br />
আমার মায়ে রাইতে কাটা মুরগির মতো দাপড়াইতো।<br />
এই দোজকে থাইকা কলেজে ভর্তি হইলাম।</p>
<p style="text-align: justify">ব্যাডা ধুমধাম কইরা পুলারে বিয়া করাইলো। আমি মনে মনে কইলাম প্রতিযোগি কমাইলো। আর বাপে পুলায় এক ম্যায়ালুক নিয়া মৌজ করতেও তো শরমায়।<br />
ততদিনে ছোটপুলা লায়েক হইয়া গেছে।<br />
একদিন আমার মামাতো ভাই সুজন বেড়াইতে আইলে হ্যারে চাকরির কতা কই।<br />
ততদিনে পুরুষের চোখ চিনা হইয়া গেছে আমার।<br />
কেমনে কইরা হে এই চাকরির সন্ধান দিল। লগে নিয়া আইসা ইন্টারভু দেওয়াইলো।<br />
চাকরি হইলো। এক ফেমেলির লগে একটা রুম লইয়া থাকি।<br />
সুজনের লগে কতা হইছে বিয়া করুম না। বাড়িতে তারো বউ পোলামাইয়া আছে। মাসে একবার আসে।<br />
সারাদিন এহানে ওহানে ঘুইরা বেড়াই স্বামী স্ত্রীর মতো। মাসের বাজার কইরা লই একবারে। বেকেই জানে সুজন আমার স্বামী। স্বামী না হইলে তো বাসা ভাড়া পাওন যায় না।<br />
পাশের ঘরের ব্যাডার চোখটাও দইম্যা থাকে সুজনেরে দেইখ্খা।<br />
দুই হাতের তালু থেকে মুখটা তোলে। আর নিতে পারছে না অরণি। হাত দিয়ে ওকে থামায়।</p>
<p style="text-align: justify">সারাটা রাত শিউলি অরণিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ঘুম হয় না একেবারে। এত অল্প বয়সের একটা মেয়ে! সারাটা জীবন সামনে পড়ে আছে।<br />
আকাশে তাকায় অরণি। নীল আকাশে সাদা মেঘ ভেসে ভেসে নিজেকে নানাভাবে রুপ দিচ্ছে। হাতী হচ্ছে পালটে ফেলছে শূর। ছোট হয়ে খৈ ফোটাচ্ছ আকাশজুড়ে। মন্থর মেঘ আকাশজুড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">খৈ এর গুঁড়ো গুঁড়ো মেঘময় আকাশে মন নেই আজ অরণির<br />
হঠাৎ ফোনটা হাতে নিয়ে ফোন দেয় শিউলিকে। শিউলি ফোনটা ধরার আগেই কেটে দেয় অরণি।<br />
আরে ও নিজেও তো সেদিন শিউলির মা যে ভুল করেছে আজ সেই ভুলটা করতে যাচ্ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">পাঁচ ইঞ্চি দেয়ালের এপাশ আর ওপাশ ঘর ওদের। শিউলি যা ঢেকে রেখে নিরাপদে চলছে। আজ অরণির সাথে কথা বলতে গিয়ে, তার অনেকটাই উন্মোচিত হয়ে যাবে। বিপণ্ন হবে ওর আজকের গোছানো বসবাস।<br />
অরণির ফোন বেজে ওঠে। শিউলির নম্বর জ্বলছে নিভছে জ্বলছে। রিঙ থেমে যেতেই অরণি কল করে<br />
খুশিতে গলগলে কণ্ঠ ওর। সালাম দিয়ে ফোন না ধরার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলো। ঘরের কাজ করছে তাই ফোন ধরতে পারেনি। বিনয়ের সাথে জানতে চায় কেন ফোন করেছিলেন ম্যাডাম।<br />
-ভুলে চলে গেছে।<br />
-আমার সৌভাগ্য।<br />
-ঠিক আছে এখন কাজ কর। রাখি।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">শিউলির সাথে কি ওর সম্পর্কটা একটু সহজ হয়ে গেল।</span><br />
<span style="color: #ff0000">হোক না সহজ, অরণি জানে কিভাবে সহজ সম্পর্কের মাঝে অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখতে হয় ।</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">অরণির মগজে খোঁচাতে শিউলির যাপিত জীবন। একা লড়াই করে যাচ্ছে। কার বিরুদ্ধে? প্রশ্ন মনে হতেই শিউরে উঠে অরণি।<br />
সমাজে প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে! কি শক্তি ওর?<br />
আসলে প্রতিপক্ষ যতই ঠেলে দিয়েছে ওকে, ও ততই শক্তি অর্জন করেছে, মহাশক্তিধর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠার।<br />
কিছু প্রশ্ন ওকে করতে হবে ফিরিয়ে আনতে হবে সমাজে।<br />
অফিসে ওর সাথে এই বিষয়ে কথা বলবে না। ওর নিজের বাসায় তো নয়ই।</p>
<p style="text-align: justify">আজ ওরা এসেছে শহরের প্রান্ত ছুঁয়ে থাকা এক নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে।<br />
শিউলি এমন রেস্টুরেন্টে জীবনে প্রথম। কিন্তু এখানেও ওর সাথে সাধারণ কথা ছাড়া অন্যকথা বলতে বাঁধো বাঁধো ঠেকছে।<br />
পূর্বাঞ্চলের ওদিকে প্রচুর খালি জায়গা পড়ে আছে এমন একটা জায়গা বেছে নেয় অরণি।<br />
অফুরন্ত নীল আকাশ নিবিড় বয়ে চলা বাতাস অনেক সবুজ তবুও অভিমানী মনে হলো এই সবুজকে।<br />
অরণি চারপাশে চোখ বুলাতেই বুঝতে পারে নতুন এই স্যাটেলাইট শহরের জন্য সীমাহীন সংখ্যার গাছ আত্মাহুতি দিয়েছে।<br />
একটা বোধ ওর ভেতরে জেগে ওঠেছে। এখানে দাঁড়িয়ে অরণি আর শিউলি ফাঁরাক খুঁজে পায় না। তবুও অদৃশ্য দেয়াল থাকলো।<br />
ছুটির দিন রাজধানীর গুমোট আবহাওয়া থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে ছুটে এসেছে অনেক মানুষ।<br />
নিরিবিলি জায়গা খুঁজে পায় না অরণি।<br />
শিউলি বুঝতে পারে অরণির অবস্থা।<br />
-ম্যাডাম পৃথিবীতে গোপন জায়গা নাই। খালি মানুষ আর মানুষ। লন কুনু জায়গায় বসি।<br />
বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে একটা গাছের নিচে দাঁড়ায় দুজন।<br />
শিউলি ওর ব্যাগ থেকে এক টুকরো কাপড় বের করে বিছিয়ে দেয়। অরণি ওর ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে তার ওপর বিছায়।<br />
শিউলি দূরত্ব বজায় রেখে থপ করে মাটিতে বসে পড়ে।<br />
-তুমি সুজনকে বিয়ে কর।<br />
কোনরকম ভূমিকা না করেই অরণি বলে ফেলে।<br />
শিউলি নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।<br />
অরণিকে এখন আর বস মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ওর অভিভাবক। অরণিরও শিউলিকে অধস্তন কেউ মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ওর কাছের কেউ। বান্ধবীর ছোট বোন।<br />
-না সেইডা কোনদিন হইব না।<br />
-তুমি সমাজ মানবে না।<br />
-সমাজ! সেইডা কি ম্যাডাম। আর আপনেগো সমাজে আর কুনু শিউলি আর শিউলির মা য্যান না জন্মায় সেই লেইগাই আমি একলা ভালাে আছি।<br />
-এটা কোন সমাধান হলো না।<br />
-তাইলে দিক আপনেগো সমাজ আমারে ফাঁসি। তাও আমি আর কুনু শিউলিরে আইতে দিমু না।<br />
উঠে পড়ে শিউলি।<br />
-ম্যাডাম আপনেগো সমাজ আমাগো কথা ভাবে না। আমার মতো হাজার হাজার শিউলি সমাজের কাছে গেছি। সমাজ তো আমার মায়ের স্বামীর লিগা তার পোলার লিগা। আমাগো লিগা আমরাই আছি।</p>
<p style="text-align: justify">উঠে পড়ে দুজন। সারাটা পথ কেউ কারো মুখের দিকে তাকায় না।<br />
যে যে যার যার ভাবনায় মশগুল থাকে।<br />
শিউলি ভাবছে কেন ম্যাডামকে এতগুলা কথা খুলে বলতে গেলো। এতটা বয়স হলো এত লাত্থিগুতা খেল তবুও ওর শিক্ষা হলো না কেন। মিছেমিছি চাকরি হারালো। এতকিছু জানার পর ম্যাডাম হয়তো ওকে চাকরিতে রাখবে না।</p>
<p style="text-align: justify">অরণি ভাবছে কেন এতগুলো কথা শুনতে গেলো শিউলির কাছ থেকে। অফিসে যদি কোনদিন জানাজানি হয়ে যায় আর যদি কোনভাবে প্রকাশ পায় অরণি বিষয়টি আগেই জানতো তাহলে তো মহা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।<br />
অরণির এতদিনের সম্মান পজেশন টলে উঠবে।<br />
কি করবে অরণি। শিউলির মত কর্মচারীর চাকরি নাকচ করা অরণির জন্য কোন বিষয় নয়। অ্যাডমিনে জানিয়ে দিলেই হবে।<br />
আজ রাতে না জানিয়ে কাল সকালে জানালেই হবে।<br />
শিউলিকে ওর বাড়ির কাছাকাছি কোন একটা গলির মুখ থেকে তুলেছিল। ড্রাইভার সেখানে এসে গাড়ি থামায়। গাড়ি থেকে নেমে পড়ে শিউলি।<br />
অরণির সিটের কাছাকাছি এসে উইন্ডোর কাঁচে টুকটুক শব্দ তোলে<br />
দরজা খুলে দিতেই সালাম করে অরণিকে।<br />
-ম্যাডাম কুনু ভুল হইলে মাফ কইরা দিয়েন। আর তো কুনুদিন দেহা হইব না।<br />
-কাল অফিসে যেতে হবে তো তোমাকে। এখন যাও তাড়াতাড়ি।<br />
শিউলি তাকায় অরণির চোখের দিকে। সবুজ পান্নার দ্যূতি নিয়ে জ্বলছে একজোড়া চোখ।ল্যাম্পপোস্টের আলো উইন্ডো দিয়ে ভেতর ঢুকে ম্যাডামের চোখজোড়াকে আশ্বাসের ফল্গুধারা বইয়ে দিচ্ছে&#8230;<br />
হালকা বাতাসে চুল উড়ছে শিউলির। এলোমেলো চুলগুলো এসে মুখের উপর পড়ছে। ওকে এতক্ষণের ঘাড় উঁচিয়ে থাকা লউয়ের ডগার মতো উদ্ধত মনে হচ্ছে না অরণির। নমনীয় লাগছে।<br />
তবুও দুজনের ভেতর সুক্ষ্ম কাঁটার মতো সমাজ বিঁধে থাকলো অদৃশ্য শক্তি নিয়ে&#8230;.।</p>
<p><strong>অলঙ্করণ: নূরুল আসাদ</strong></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/01/%e0%a6%95%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
