<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>রেজিনা মনি &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sun, 13 Feb 2022 16:17:48 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>রেজিনা মনি &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বসন্তের রাঙা শিমুল ॥ রেজিনা মনি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Feb 2022 16:17:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রেজিনা মনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1637</guid>

					<description><![CDATA[আজ অনেকদিন পর একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। তাপমাত্রা দেখাচ্ছিল ০’সে। অনুভব করছিলাম -৪/-৫’ সে।গুড়ি গুঁড়ি স্নোবৃস্টি হচ্ছিল। দরজা থেকে যেই বাহিরে পা রেখেছি, একটা শীতল হাওয়া যেন আমাকে ধাক্কা দিয়ে গেল।যার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আজ অনেকদিন পর একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। তাপমাত্রা দেখাচ্ছিল ০’সে। অনুভব করছিলাম -৪/-৫’ সে।গুড়ি গুঁড়ি স্নোবৃস্টি হচ্ছিল। দরজা থেকে যেই বাহিরে পা রেখেছি, একটা শীতল হাওয়া যেন আমাকে ধাক্কা দিয়ে গেল।যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।তারপর বাতাসের উল্টোদিকে জোরে জোরে হাঁটা শুরু করলাম।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুক্ষণ হাঁটার পরই ঠান্ডা ভাবটা কিছুটা কম অনুভব করতে লাগলাম । ডেরিআহী রেলস্টেশনের দিকে যাবার জন্য আমার বাসার পাশে একটি শর্টকাট হাঁটার রাস্তা রয়েছে। গল্ফ ক্লাবের পাশ দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা বেশ নিরিবিলি একটি পথ।এই রাস্তাটি দিয়ে আমি হাঁটতে লাগলাম।গাছগাছালিতে ভরা ছিমছাম নিরবতা।কয়েকটি কাঁঠবিড়ালিকে ছুটে যেতে দেখলাম পাশ দিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">আনমনে হাঁটছিলাম কিছু একটা ভাবতে ভাবতে।হঠাৎ আমাকে মুগ্ধ করে থামিয়ে দিল পাখির কিঁচির মিচির আর মিষ্টিসুর।আমি যেন কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গেলাম মনকে রাঙানো সেই সময়টায়, যখন বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কোকিল ডাকত গাছের ডালে ডালে।</p>
<p style="text-align: justify">শিমুল ফুটতো রাঙা হয়ে।প্রকৃতি সেজে উঠত আবীর রঙে।তখন বাতাসে বসন্তের সুর বাজতো ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই। সেই সময় আমাদের পৃথিবীটা একটু বেশিই রঙিন ছিল।আমরা বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করতাম কি শাড়ি পরব।চুলে কি খোঁপাকরে ফুল লাগাব? নাকি চুল ছেড়ে রাখব? কাঁচের চুড়ি পরব? না গাউসিয়ার রিনিঝিনি থেকে নতুন জিজাইনের ফ্যাশন চুড়ি কিনব?</p>
<p style="text-align: justify">ফাল্গুনের প্রথমদিনে হলুদ আর বাসন্তি রঙে সেজে উঠত প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রাঙ্গণ।শহীদ মিনার, বকুল তলা, ক্যান্টিন, গাছের ছায়াতল কিংবা সবুজ মাঠ, সুন্দরীদের উচ্ছাস ও চুড়ির মায়াবী শব্দ রিনিঝিনি করে বেঁজে উঠত।</p>
<p style="text-align: justify">প্রিয় বন্ধুদের সাথে কাটানো শেষ বসন্ত ছিল ২০০৮-এ। এরপর তেরটি বছর চলে গেছে&#8230;.বসন্ত এসেছে বসন্তের নিয়মে। আমরাও সেঁজেছি নতুন দেশে নতুন বন্ধুদের সাথে কোন কোন বসন্তে।আবার কোন বসন্ত জীবনের ব্যস্ততায় টেরই পাইনি।</p>
<p style="text-align: justify">খুব জানতে ইচ্ছে করছে তোদের বসন্তগুলো কেমন করে কাটে এখন? বাচ্চা সংসার সামলিয়ে শাড়ি পরার সুযোগ হয় কি? এখনো কি খোঁপায় গুঁজে দিস্ পছন্দের কোন ফুল? তাড়াহুড়ো করে প্রিয় কাঁচের চুড়ি পরতে গিয়ে কোনটা ভেঙে গেলে, এখনোকি মন খারাপ হয়? রিকশায় উঠে শাড়ির আঁচল সামলাতে এখনও আগের মতন ব্যস্ত হোস? নাকি ড্রাইভিং-এ কমফোর্ট খুঁজতে শাড়ি পরাই বাদ দিয়ে দিস?</p>
<p style="text-align: justify">আমার আরো অনেক, অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করেরে। খুব জানতে ইচ্ছে করে রুপার কথা।ও এখন কোথায় আছে? কেমন আছে?<br />
নীলফামারীর মেয়ে রুপা, সে ছিল রুপের রাজকণ্যা।</p>
<p style="text-align: justify">এককথায় অপরুপা।ঢাকায় পড়তে এসেছিল।ভার্সিটির হোস্টেলে থেকেই পড়ত ।বাবা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।খুব আদর্শ আর পরিপাটির ছোঁয়া ছিল রুপার চলাফেরায়, কথায়, পোশাকে।অনার্স ২য় বর্ষে হুট করেই প্রেমে পরে যায় হিমু নামের এক ছেলের। না, না, এ হুমায়ুন আহমেদের হিমু নয়, এ ছিল আমাদের রুপার হিমু।তবে ছেলেটির অনেক কিছুতে হিমুর সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যেতো।তারও ছিল উসকো-খুসকো চুল, চেহারাও ছিল উদ্ভান্তের মতন, সময় জ্ঞান বলে কিছু ছিল না, কোন কিছুতেই সিরিয়াস ছিল না ছেলেটি।তবে প্রতিদিন বিকাল বেলা পানজাবি পরে এসে দাঁড়িয়ে থাকত রুপার হলের গেটে।</p>
<p style="text-align: justify">রুপার হাত ধরে একঘণ্টা বসে থাকত রাস্তার পাশে।তা না হলে নাকি হিমু সাহেব ঘুমাতে পারেন না।প্রচণ্ড হুমায়ূন ভক্ত রুপা হিমুর এই খেলায়িপনাকে ভালোবাসতো, তার পাগলামিগুলোকে ভালোবাসতো পাগলের মতন।</p>
<p style="text-align: justify">সেই দিনটি ছিল ভার্সিটি জীবনের শেষ বসন্তের।আমরা সবাই হলুদ-কমলা শাড়ি, চুড়িতে সেজেছিলাম।একমাত্র রুপা এসেছিল টুকটুকে লাল রঙের শাড়ি পরে, হাত ভর্তি করে লাগিয়েছিল মেহেদী।খোঁপায় ছিল দোলনচাঁপা। ঘ্রাণে মৌ মৌ করছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সবাই খুব হাসাহাসি করছিলাম ওকে নিয়ে।দুস্টুমি করে বলছিলাম আমরা সবাই আজ হলুদের কন্যা আর রুপা হলো বিয়ের কন্যা।শিউলি বলছিল আরে না ও হলো ‌‌‘বসন্তের রাঙা শিমুল’।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সবাই খুব মজা করছিলাম। হাসাহাসি করছিলাম। শুধু রুপাটা একটু অন্যমনস্ক ছিল। কি নিয়ে যেন খুব ভাবছে, অস্থির হয়ে বারবার ঘড়ি দেখছে, গেটের দিকে তাকাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">দিন গড়িয়ে বিকাল হতেই সবাই একে একে বাসা ও হলে ফিরে যেতে লাগল। আমিও বাসায় ফেরার জন্য উঁঠে পরতেই রুপা আমার হাতটি ধরে একটু আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলল তুইকি আমার সাথে আর কিছুক্ষণ থাকতে পারবি? আমি তখন সিরিয়াসলি ওর কাহিনি কি জানতে চাইলাম।আমাকে অবাক করে বলল আজ ওরা বিয়ে করবে। হিমুর বিকাল চারটায় তার দুই বন্ধুসহ হলের গেটে থাকার কথা। এখন বাজে পাঁচটা, হয়ত আর কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে। আমি যদি ওরা আসা পর্যন্ত থাকি তাহলে খুব ভালো হয়।ওর নাকি কেমন ভয় লাগছে।রুপার বাবা রুপার বিয়ে ঠিক করেছেন ওদের পাশের গ্রামের অত্যন্ত মেধাবী এক ছেলের সঙ্গে। ছেলে কানাডায় পিএইচডি করছেন। ছুটিতে বাড়ি এসেছেন, একুশের ফেব্রুয়ারির দিন বিয়ে। তাই হিমুকে এখন বিয়ে করা ছাড়া ওর হাতে অন্য কোন উপায় নেই। আমি বসে রইলাম রুপার সাথে। ও বার বার ঘড়ি দেখছে, অস্থির হয়ে ফোন করছে, হিমু ফোনটা কেটে দিচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">আটটার সময় হলের গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।তাই আমরা বাইরে রাস্তায় বসে আছি। তখনও বসন্তের আমেজ চারিদিকে। কেউ কেউ কান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে, সারাদিনের আনন্দ শেষে, প্রেমিক যুগল হাত ধরে বসে আছে রিকশায়, ফুল বিক্রি করে যে মেয়েটি সেও সব ফুল বিক্রি করার খুশিতে হাসতে হাসতে বাড়ি যাচ্ছে। কেবল হিমুর কোন খবর নাই, হিমু আসেনি, ছয়টার পর থেকে তার মোবাইলটিও বন্ধ।যে বন্ধুকে নিয়ে আসার কথা তাদের ফোন করে জানা গেল হিমু তাদের কিছুই বলেনি। রুপা প্রচণ্ড শক্ত হয়ে বসেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">রাত নয়টা বেজে গেছে। আমি রুপার হাতটা শক্ত করে ধরে সিএনজি করে বাসায় নিয়ে এলাম। সারারাত ও বারান্দায় বসে দুনয়ন বাসিয়ে কাঁদল। বাবার সাথে খারাপ আচরণ ও রাগারাগি করেছে বলে প্রচণ্ড অনুতপ্ত হলো।তারপর সকালের বাসে করে ও নীলফামারী চলে গেল। ফোন করলেই হিমুর কথা বলে অনেক কান্না করত। হিমুর ফোন তখনও বন্ধ ছিল।বন্ধুরাও কেউ ওর খবর দিতে পারেনি।</p>
<p style="text-align: justify">বাইশে ফেব্রুয়ারি আমাকে বিয়ের ছবি মেসেজে পাঠালো।বিয়ের সাজে রুপাকে অপরুপা সুন্দরী লাগছিল। বরটিও মাশাল্লাহ খুব হ্যান্ডসাম। ক্যামেরার শত বাল্বের আলোর ঝলকানিতেও কেবল রুপার মুখে ছিল অন্ধ বিষাদের ছায়া। তার মাস খানেক পরে ফেসবুকে বিমানবন্দরে বিদায়ের ছবি দিয়ে লিখেছিল<br />
‘এই পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুদ, মানুষরা সেই নিয়মের গুটিমাত্র’।<br />
তারপর রুপা আমাদের সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল, ফেসবুকের আইডিটি ডিএকটিভ করে দিয়েছিল।হয়ত নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে চেয়েছে। চেয়েছে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনের গোপন কোঠরিতে বন্দি করে প্রকৃতির নিয়মের সাথে তাল মিলাতে। আমি এখনো মাঝে মাঝে রুপার ফেইসবুকের আইডিটি খুঁজে বেড়াই ।খুঁজে বেড়াই ‘বসন্তের রাঙা শিমুল’-কে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিজেকে খুঁজি বদলে যাওয়া ভিড়ে ॥ রেজিনা মনি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/06/14/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ad/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/06/14/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ad/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Jun 2021 18:38:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[রেজিনা মনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=852</guid>

					<description><![CDATA[একচিলতে বাগান আমার বাড়ির পেছনে ছোট্ট একচিলতে বাগান রং বেরংয়ের কত পাখি আসে রোজ, তাদের রঙিন পালক, স্বাধীন উড়া চেনা অচেনার ভীড়ে নিত্য স্বপ্ন আঁকা। একটা নাম না জানা ছোট্ট &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>একচিলতে বাগান</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">আমার বাড়ির পেছনে ছোট্ট একচিলতে বাগান<br />
রং বেরংয়ের কত পাখি আসে রোজ,<br />
তাদের রঙিন পালক, স্বাধীন উড়া<br />
চেনা অচেনার ভীড়ে নিত্য স্বপ্ন আঁকা।</p>
<p style="text-align: justify">একটা নাম না জানা ছোট্ট পাখি<br />
রোজ জোড়াবেঁধে আসে,<br />
চড়ুই পাখির মতোন দেখতে<br />
গলায় কমলার মাফলার,<br />
কিযে গাঢ় সেই কমলার রংটা</p>
<p style="text-align: justify">তারচেয়েও গাঢ় তাদের প্রেম,<br />
ছোট্ট ডানায় উড়ে এসে বসে<br />
কাপড় নাড়ার সরু তারে।<br />
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এঁকে দেয় গভীর চুম্বন।</p>
<p style="text-align: justify">লজ্জায় লাল হয়ে একটা পাখি উড়ে গিয়ে বসে<br />
মেরুন ফেন্সের বুকে বেড়ে উঠা, সবুজ লতানো গাছটায়;<br />
সাথি পাখিটাও উড়ে যায়, বসে আবার পাশাপাশি,<br />
হেসে দুজনেই লুটোপুটি&#8230;তৃপ্ত ভালোবাসায়।</p>
<p style="text-align: justify">কয়েকটা শালিক পাখিও আসে প্রায়ই<br />
কিচির মিচির করে ভরিয়ে তুলে আমার আঙিনা।<br />
কেউ বাগানের বার্ড ফোয়ারায় গা ভেঁজায়<br />
কেউ বা তুলে গানের মধুর সুর;<br />
সেই সুরে পাখা মেলে নাচে অন্য দুজন<br />
এদের আমার সদ্য কলেজে ভর্তি হওয়া তরুণী মনে হয়<br />
কারণে অকারণে হেসে উঠা সহজ জীবন যাদের,<br />
স্কুলের কড়া শাসন পেরিয়ে পা দিয়েছে বড় আঙিনায়<br />
তারুণ্যরর উচ্ছ্বলতায় উজ্জ্বল পৃথিবী।</p>
<p style="text-align: justify">দু-একটা কাঠবিড়ালীরও দেখা পাওয়া যায়<br />
গেইটের কাছে বড় গাছটার শরীর বেয়ে নেমে আসে।<br />
চোখের পলকেই দৌঁড়ে, লাফে পৌঁছে যায়<br />
দোলনার পাশে রাখা পাউরুটির ট্রেটার কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">এরা আবার বাতাবি লেবু খাওয়া<br />
কাজী নজরুলের পেটুক বিড়ালী নয়।<br />
আইরিশ মানবীদের হাতে বানানো<br />
ব্রেড, তুলতুলে নরম কেক খেয়ে বেড়ে উঠা<br />
স্বাধীন ও মুক্ত জীবনের জীবন্ত উদাহরণ।</p>
<p style="text-align: justify">এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে আমার বাড়িতেও আসে<br />
সাদা কালোর ডোরাকাটা ও বাদামি রঙের বিড়াল দুটো;<br />
শুনেছি এদের একজনার নাম টেডি আরেকজনার জিঋারী।<br />
দুজনার মধ্যে আবার ভীষণ ভাব।</p>
<p style="text-align: justify">এজনার গলায় ছোট্ট একটি ঘণ্টা বাধা<br />
নরম তুলতুলে পশম ঘেরা শরীর দুলিয়ে<br />
ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে, দুকাঠের মাঝের ফাঁক গলিয়ে<br />
কেমন করে যেন কায়দা করে ঢুকে পরে।</p>
<p style="text-align: justify">এদিক সেদিক একটু ঘুরোঘুরি করে<br />
সোজা যেয়ে বসে আমার ভেজি বেডের উপর<br />
আয়েস করে গা টা এলিয়ে দেয়।<br />
কোন ভয়-ডর ছাড়া, দেশ,বর্ণ, ধর্ম, জাত তুচ্ছজ্ঞান করে<br />
ঠিক খুঁজে নেয় নিজের আরাম আর ভালোলাগার অধিকারটুকু।</p>
<p style="text-align: justify">কড়ায় গণ্ডায় নিজেকে ভালোবাসার, ভালোরাখার কি অদ্ভুদ স্বাধীনতা<br />
হাজারও মানুষের জীবনের পাওয়া না পাওয়ার হাহাকার; কিছু না পেয়ে ও হারানোর তীব্র ভয়, স্বপ্ন বাঁচানোর যুদ্ধ,<br />
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার দিনভর লড়াই।</p>
<p style="text-align: justify">বর্ণে ধর্মে যুদ্ধ, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, জাতে আর লিঙ্গে বৈষর্ম্য, ধনী গরিবের রেষারেষি আর হাজারও না, না’র ভিড়ে,</p>
<p style="text-align: justify">অসুখী মানুষের সব প্রশ্নের উত্তর<br />
আমি অনায়াসে খুঁজে পাই আমার একচিলতে বাগানে।</p>
<p style="text-align: justify">চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে ভাবি<br />
কে বলেছিল মানুষ স্বাধীন?<br />
কে বলে, মানুষ স্বাধীন?</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নিজেকে খুঁজি বদলে যাওয়া ভিড়ে</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">ঠিক এই খানটায়-<br />
একটা কাঁঠের দুতলা বাড়ি ছিল।<br />
বাড়ির দৈর্ঘ্যে একটা টানা বারান্দা,<br />
সেই বারান্দার প্রতিটি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে</p>
<p style="text-align: justify">আমার শৈশবের গল্প&#8230;<br />
ঠিক ওই কোনে, দাদুর ইজি চেয়ারটা পাতা ছিলো;<br />
সাথে লম্বা নলওয়ালা হুক্কাটা।<br />
মুখে নল গুঁজে দিয়ে দাদু আয়েস করে<br />
পিঠ হেলিয়ে দিত।</p>
<p style="text-align: justify">তার চোখে চেইনে বাঁধা সরু চশমা,<br />
হাতে পুঁথির বই;<br />
নলিনদা হুক্কার কলকির টিক্কা জ্বালাতে<br />
ব্যস্ত তালপাখার বাতাস দিত,<br />
দিনগুলো কত সহজ ছিলো।</p>
<p style="text-align: justify">দিদিভাইয়ের রুপার একটা পানের বাঁটা ছিলো<br />
সেই বাঁটায় সুন্দর চারটা কৌটা;<br />
দামি জর্দা, সুপারি, খয়ের আর চুন,<br />
পান সাজানোতেই তাঁর বড় সুখ।</p>
<p style="text-align: justify">মাদলখানা জানালার পাশে পাতা ছিলো-<br />
আর তাঁর পা দুটো মেলা সেই মাদুলে;<br />
একতারের নুপূর সেই আলতা রাঙা পায়ে।<br />
দিনগুলো সব রঙিন ছিলো।</p>
<p style="text-align: justify">বাম পাশের লেবু তলার পাশে<br />
মস্ত বড় একটা শিউলী গাছ;<br />
বারান্দায় বিছিয়ে থাকত ফুলগুলো,<br />
ভোর বেলায় সেই ফুল কুঁড়ানো সখ</p>
<p style="text-align: justify">আমার আর রাঙা বুবুর&#8230;.<br />
রাঙা বুবু আমার সবকিছুর সাথী;<br />
তার লাল পাড়ের শাড়ি,<br />
লম্বা চুলে গজমতি হাঁটের ফিতে<br />
পুতুল বিয়েতে শিউলীমালা সজ্জা,<br />
দিনগুলো সব স্বপ্নের ছিলো।</p>
<p style="text-align: justify">আস্তে আস্তে সব কেমন বদলে গেল<br />
কাঁঠের বাড়ি ভেঙে হলো মস্ত দালান ।<br />
অকাজের শিউলী গাছ পড়লো কাঁটা।<br />
দাদুর হুক্কার পাইপ বসার ঘরের সজ্জায়,<br />
পুরোনো স্টোরে ইজি চেয়ার,<br />
দিদার সখের রুপার পানদানী<br />
অযতনে এককোনে পরে রইল,<br />
সেই সাথে একটু একটু করে আমার শৈশবের ইতি হলো</p>
<p style="text-align: justify">সেই হাসিমাখা রৌদোজ্জ্বল শৈশব<br />
কোথায় হারিয়ে গেল?<br />
আমি আজও তাঁকে খুঁজে ফিরি<br />
খুঁজে ফিরি সেই টানা বারান্দা,<br />
দাদুর হুক্কার গড়গড় শব্দ,<br />
দিদিমার আলতা রাঙা পায়ের চিকন নুপূর,<br />
রাঙা বুবুর গজমতি হাঁটের ফিতে,</p>
<p style="text-align: justify">সব স্মৃতির ভিড়ে আমি হাঁতড়ে খুঁজি<br />
আমার সেই শৈশবকে।<br />
আমি আসলে আমাকেই খুঁজি<br />
বদলে যাওয়া ভিড়ে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/06/14/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ad/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চাঁদের হাসি ॥ রেজিনা মনি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/14/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/14/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 May 2021 18:02:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[রেজিনা মনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=594</guid>

					<description><![CDATA[বাস দুটো ছুটে চলছে পাশাপাশি। টানা একঘণ্টা কলাবাগান আর ধানমন্ডির রাস্তায় তীব্র জ্যামে প্রায় কচ্ছপ গতিতে চলছিল।সায়েন্স ল্যাবরেটরি পার হতেই যেন অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেল রাস্তা। আর তাতেই প্রতিযোগিতা শুরু &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাস দুটো ছুটে চলছে পাশাপাশি। টানা একঘণ্টা কলাবাগান আর ধানমন্ডির রাস্তায় তীব্র জ্যামে প্রায় কচ্ছপ গতিতে চলছিল।সায়েন্স ল্যাবরেটরি পার হতেই যেন অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেল রাস্তা। আর তাতেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে মিরপুর-আজিমপুর রোডের দুই কোম্পানির দুই বাসের মধ্যে। কার আগে কে পৌঁছাবে। এই সময়ে ফিরতি যাত্রী পাওয়া সমস্যা না। হাজার হাজার মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে যানবাহনের আসায়। তারপরও কেন যে বাসে বাসে কম্পিটিশন। অনেকক্ষণ জ্যাম থাকার কারণে ফিরতি পথের তেমন কোনো গাড়িই পায়নি মানুষজন। সারাদিন ভিড় ঠেলে পরিবারের জন্য শপিং করে ক্লান্ত, শ্রান্ত হয়ে একটা কিছু পাওয়ার অপেক্ষায় তির্থের কাকের মতন দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। যাও দুই একটা সিএনজি আসে তা থামার আগেই কেউ ঝাপিয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কোনো বাসেরও দেখা নেই। আর আসলেও শখানেক লোক দৌড়ে যাবে তার দিকে।</p>
<p style="text-align: justify">মেঘলা মাঝে মাঝে ভাবে এত কস্ট করে রোজা রেখে মানুষ কেন পাগলের মতন শপিংয়ের জন্য মার্কেটের পর মার্কেট ছুটে বেড়ায়?</p>
<p style="text-align: justify">ভাবতে ভাবতেই দেখে পাশের বাসটি যেন গায়ের ওপর উঠে আসছে এই বাসের। জানালায় জানালায় ঘষা লেগে চির চির শব্দ করে উঠলো।আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল মেঘলাসহ কয়েকজন। ঘসা দিয়ে সাইডে একটু দমিয়ে সাঁই সাঁই করে বাসটি চলে গেলো সামনে। এই বাসের ড্রাইভারও ছাড়বার পাত্র নয়, যেন পিছিয়ে গেলে মান যাবে। পারলে বাম সাইডের রিকশাগুলোকে মারিয়ে ফুটপাতে উঠে যেতে চায়। তারপরও এগিয়ে যেতে হবে। আবারও পাশাপাশি চলে এসেছে বাস দুইটি। দুই ড্রাইভারই যেন চাচ্ছে বাস দুটোকে বিপরীত দিকে ঠেলে চাপিয়ে দিতে। অবাক ব্যাপার অনেক যাত্রীর এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই। ভাবলেশহীন ভাবে ভাবছে এ আর নতুন কি! দু-একজন ড্রাইভারকে গালিগালাজ করছে। প্রচণ্ড রেসারেসির এক পর্যায়ে পাশের বাসটি এমন ভাবেএই বাসের দিকে আসছে ।</p>
<p style="text-align: justify">মেঘলার মনে হচ্ছে পাশের বাসটি তার উপরে উঠে যাচ্ছে। কি হতে যাচ্ছে সেকেন্ডের মধ্যে বুঝে গেল মেঘলা, মনে হলো আর মাত্র কয়েকটা মুহূর্ত, তারপর সব শেষ হয়ে যাবে&#8230;। প্রচণ্ড ভয়ে চোখ বন্ধ করে বাস থামান বাস থামান বলে চিৎকার করে যাচ্ছে মেঘলা&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">[ বাকি অংশ ‌১৫ মে আপডেট হবে]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/14/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রমনার বৈশাখী মেলায় ॥ রেজিনা মনি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Apr 2021 19:40:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রেজিনা মনি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=358</guid>

					<description><![CDATA[ঢাকার ভিআইপি রাস্তা দিয়ে রিকশাটা আপন মনে ছুটে চলছে। তার সাথে দুর্বার গতিতে চলছে দুই কিশোরীর উল্লাসিত মন। খোলা হুডে এলোমেলো বাতাসের দাপট তাদের আনাড়ি হাতের খোঁপার বাঁধন খুলে দিতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ঢাকার ভিআইপি রাস্তা দিয়ে রিকশাটা আপন মনে ছুটে চলছে। তার সাথে দুর্বার গতিতে চলছে দুই কিশোরীর উল্লাসিত মন। খোলা হুডে এলোমেলো বাতাসের দাপট তাদের আনাড়ি হাতের খোঁপার বাঁধন খুলে দিতে চাইছে। এক হাতে রিকশা আর আরেক হাতে শাড়ির আচঁল সামলাতে সামলাতে তারা এগিয়ে যাচ্ছিল রমনার দিকে।</p>
<p style="text-align: justify">তখন বৈশাখ মানেই অন্যরকম আমেজ। চারিদিকে উৎসবের ছোঁয়া। পাড়ার ছোট্ট মাঠেও দেখা যেত নাগরদোলা, ছোটদের ২/১ টিখেলনার স্টল, রিং ছুঁড়ে মেরে সাবান বা অন্যকিছুকে জিতে নেওয়ার লটারির স্টল, কয়েকটা কাঁচের চুড়ির, বেলুনের পসরা সাজিয়ে একটা কোনায় বেলুনওয়ালা, সাদা, গোলাপী হাওয়াই মিঠাই লাঠিতে ঝুলিয়ে মিঠাইওয়ালা। আর মুড়ি মুরকি, নিমকি, কদমা, বাতাসা, মুরালি হরেক রকম খাবার নিয়ে একটা বড় স্টল নিয়ে এলাকার বৈশাখী মেলা। বিকালে সেই মেলায় স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের নাচ, গানের আয়োজনও হতো। আমাদের তখন একটু বড় বড় ভাব, এলাকার স্কুল ছেড়ে কলেজে গিয়েছি বছর দুই হয়ে যাবে। সামনে এইচএসসি দিব। মনে প্রাণে একটু বড় হওয়ার চেষ্টা।এলাকার এই মেলায় এখন আর যেতে ভালো লাগে না। এগুলো পাড়ার ছোট ছেলে-মেয়েদের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু।</p>
<p style="text-align: justify">আমি আর আমার প্রিয় খালাতো বোন রিপা মিলে ঠিক করলাম রমনার বৈশাখী মেলায় যাব। ছোট বেলায় গিয়েছি দু-একবার বড়দের সাথে। গত বছরও আমরা বন্ধুরা মিলে এক বন্ধুর বাবা মার সাথে রমনার বৈশাখী আয়োজন দেখতে গিয়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">তাই অচেনার ভয়টা একটু কম তাছাড়া রিপা সিদ্ধেশরী গার্লসে এইচএসসি প্রথম বর্ষে.. তার শিক্ষকদের বাসায় পড়তে যাবার সুবাধে মোটামুটি পরিচিত জায়গা। আর তেজগাঁও থেকে রমনা পার্ক বেশি দূর নয়।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সকালের নাস্তা করে দুজনে প্রায় একই রকম লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে বাসা থেকে বের হলাম। ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল সহজেই একটা রিকশা পেয়ে গেলাম। সাধারণত মেইন রাস্তায় ওই সময়ে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ বিশেষ দিন ও হরতালের দিনগুলোতে ঢাকা শহরের সব রাস্তায় রিকশা চলাচলের অনুমতি ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের রিকশা কোন বাঁধা ছাড়াই সাত রাস্তা, মগবাজার, বেইলীরোড পার হয়ে রমনার দিকে এগুতে লাগল। সাদা লাল শাড়ির ললনাদের দল দেখতে পেলাম বেইলী রোড পার হতেই..ভোরে আসা একদল মানুষ বাড়ি ফেরার পথে, কেউবা দূরে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে চলছে রমনার দিকে, সাদা পান্জাবি পরা বাবার হাত ধরে হেলেদুলে হাঁটছে ছোট্ট পরি মেয়েটি। তার শাড়ির আচঁল দুলছে এদিক সেদিক। একটু বসার জায়গা পেয়ে রাস্তার পাশে বসে পড়েছে ৮-১০ বছরের ছেলেটি। সেও বাবা মার সাথে মিলিয়ে লালসাদা পান্জাবি পরে এসেছে। হাঁটতে হাঁটতে বড্ড ক্লান্ত। তারপরও চোখে মুখে আনন্দের দীপ্তি। গালে একটা একতারা আঁকা। পায়ে মনে হয় ফোসকা পরেছে, মা জুতা খুলে সেখানে একটা ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলেন। বেশ গুছানো মনে হল পরিবারটিকে।</p>
<p style="text-align: justify">রিকশা এগুতে পারছে না। মানুষের জ্যাম। রমনার প্রবেশ মুখটায় মানুষের ঢল। সব রিকশা, গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্যেই ফাঁকফোকর বের করে একটা মোটরসাইকেল এগিয়ে চলছে। এক অপরূপ সুন্দরী বসে আছে চালকের কাঁধে হাত রেখে। সাদা রঙের শাড়িতে তাঁকে অস্পরী লাগছে। খোঁপায় ও হাতে বেলী ফুলের মালা ঝুলছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে সদ্য বিবাহিত কাপল। আপন মনে দোলা দিচ্ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আর চোখে নতুন স্বপ্ন। মনে হলো বিয়ের পর আমিও নিশ্চয়ই এমন করে প্রিয় মানুষের হাত ধরে ভোরের আলো ফুটার আগে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখতে আসব। হাতে ঝুলতে থাকবে সুবাসিত বেলী ফুলের মালা।কপালে বড় একটা লাল টিপ। আব্বু আম্মু কখনো এত সকালে আসায় অনুমতি দেননি। তাই টিভির পর্দাই দেখেছি আজীবন বর্ষবরণ। সেই ইচ্ছেও একদিন পূর্ণ হবে&#8230;.ইস বড় হলে কত মজা, সবকিছু করা যায় ইচ্ছেমতন।</p>
<p style="text-align: justify">রিকশা আর বেশিদূর আগাতে পারল না। ভাড়া মিটিয়ে আমরা নেমে পরলাম। রমনায় প্রবেশের জন্য বেশ বড় করে জায়গা নিয়ে দুপাশে বাঁশের বাউন্ডারি দিয়ে গেইট পর্যন্ত একটা লম্বা হাঁটার পথ করা হয়েছে। তার আরেক পাশ দিয়ে বের হবার পথ।</p>
<p style="text-align: justify">আমরাও নেমে গেলাম মানুষের ঢলে। সূর্যের আলো মাথার ওপর। চারিদিকে উচ্ছ্বসিত মানুষ। কেউ ঢোল বাঁজাতে বাঁজাতে হাঁটছে, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে। ছোট ছেলে-মেয়েরা মেলা থেকে মাত্র কেনা ডুগডুগি বাজাচ্ছে। কারো বেলুন হাত থেকে ছুটে আকাশে উড়ে গেলবলে কাঁদছে। জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট দলে মানুষ আনন্দে মেতেছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের আয়োজনে নানান অনুষ্ঠান হচ্ছে আলাদা আলাদা মঞ্চে। কোথাও বাউল সংগীত, কোথাও শিশুদের নৃত্য। আবার কোথাও কবিতা পাঠের আসর।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সবকিছু দেখতে দেখতে হাঁটছি ছায়ানটের মূল মঞ্চের দিকে। দূর থেকে ভেঁসে আসছে রবীন্দ্রনাথের মঙ্গল ও বারতা&#8230;ছায়ানটের বেড়িতে বসে দুজন মিলে গান শুনলাম, সাথে গলা ছেড়ে গাইলাম আমার আপনার চাইতে আপন যেজন..।</p>
<p style="text-align: justify">যেন সারা বছরের জন্য মনটা ভালোলাগার রসত নিয়ে নিচ্ছে। এত আনন্দ চারিদিকে, এত স্বপ্নজাগানীরা&#8230;সত্যি এক অদ্ভুত ভালোলাগায় দুজন বুঁদ হয়ে গেলাম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার আগেই আমরা উঠে পড়লাম। ঝালমুড়ি আর ঝালঝাল টকে ডুবিয়ে ফুচকা খেলাম। ঝাল কমানোর জন্য আইসক্রিম নিলাম। দুহাত ভর্তি করে কাঁচের চুড়ি কিনলাম। ডুগডুগিও কিনে ফেললাম দুইটা। ডুগডুগি বাজাতে বাজাতে আমরা বের হওয়ার গেইট খুঁজছি। সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফিরতে হবে। অনেকগুলো গেইট রয়েছে পুরো রমনার এলাকা জুড়ে। বেইলী রোডের দিকের গেইটটা খুঁজে পেলাম। গেইটের কাছাকাছি যেতেই দেখলাম বিশাল জটলা গেইটের প্রবেশ মুখে। চারিদিকে এত মানুষ কিন্তু কোথাও এমন বিশৃঙ্খলা দেখিনি। রাজ্যের এলোমেলো আর জটলা কেবল গেইটাকে ঘিরেই মনে হলো। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখছিলাম আর বুঝার চেস্টা করছিলাম কিভাবে বের হব।দেখলাম প্রবেশ করা আর বের হবার আলাদা করা বাঁশের বেড়াটি ভেঙে ফেলেছে কিছু উৎসাহী মানুষ। তাই যারা বের হতে যাচ্ছে তাদের বিপরীত দিক থেকে ধাক্কাচ্ছে যারা মেলায় প্রবেশ করতে চাচ্ছে। তারপরে বুঝলাম, নানা বয়সি কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ ইচ্ছে করেই গেইটে জটলা বাড়াচ্ছে, তারা বেরও হচ্ছে না আবার ভিতরেও আসছে না। গেইটের মুখেই অযথা ভিড় করছে। বুঝতে বাকি রইল না কি তাদের উদ্দেশ্য ।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা ভয়ে খুঁজতে লাগলাম কাছাকাছি অন্য একটা গেইট। কাছে যেতেই দেখি সেখানেও একই নাটকীয়তা। দেখলাম আমাদের মতো অনেকেই বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। আবার অনেক পরিবারকে দেখলাম লোহার গ্রিলের বাউন্ডারি টপকে বের হয়ে যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">দ্রুত সন্ধ্যা নামছিল। আরও অপেক্ষা করলে রাত হয়ে যাবে। আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে। কি করব ভেবে ভয়ে অস্থির লাগছিল। তারপর মস্তিস্কের সিগনাল পেয়ে এগিয়ে গেলাম উঁচু গ্রিলের বাউন্ডারির দিকে। বাড়ির ছোট্ট ওয়ালে কোনদিন উঠতে না পারা আমি কিভাবে সেদিন শাড়ি আর উঁচু হিল ম্যানেজ করে সেই গ্রিলের দেয়াল টপকে ছিলাম জানিনা, শুধু মনে আছে শখ করে কেনা কাঁচের চুড়ির অনেকগুলো ভেঙে আঁচড়ে, কেঁটে কিছুটা রক্তাক্ত হয়েছিল হাত। তবুও প্রশান্তি নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিলাম। তারপর কিছুটা হেঁটে রিকশা পেয়ে গেলাম। দুজন দুজনার হাত আঁকড়ে ধরে বসে আছি রিকশায়। সারা দিনের উল্লাস কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল, আনন্দের সেই চোখ দুটোতে তখনো আতঙ্ক, হাসিও মিলিয়ে গিয়েছিল, আমরা নিশ্চুপ হয়ে বসেছিলাম&#8230;আর ভাবছিলাম মানুষ কেন এমন হয়?</p>
<p><strong>চিত্রশিল্পী : সমর মজুমদার</strong></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
