<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>রকিবুল হাসান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Wed, 25 Oct 2023 12:09:17 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>রকিবুল হাসান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বাংলা উপন্যাসে বিধবা : বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/10/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/10/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 25 Oct 2023 12:09:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2932</guid>

					<description><![CDATA[‘বাংলা উপন্যাসে বিধবা: বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ’ মোহাম্মদ নূরুল হকের গবেষণা গ্রন্থ।এ বইটি প্রকাশের আগে থেকেই জানতাম, নূরুল হক এরকম একটি কাজ করছেন।এর আগেও তিনি আরও কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন।সেগুলোও আমার পাঠের আয়ত্বে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘বাংলা উপন্যাসে বিধবা: বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ’ মোহাম্মদ নূরুল হকের গবেষণা গ্রন্থ।এ বইটি প্রকাশের আগে থেকেই জানতাম, নূরুল হক এরকম একটি কাজ করছেন।এর আগেও তিনি আরও কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন।সেগুলোও আমার পাঠের আয়ত্বে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">গবেষণাকর্ম বললে এটিই নূরুল হকের প্রথম গ্রন্থ।এর আগেও তিনি গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন, বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।তাঁর দুটি প্রবন্ধ বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন সাপেক্ষে ‘এনইউবি বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি গবেষণা পত্রিকা’য় প্রকাশের সুযোগ আমার হয়েছিল।নূরুল হক গবেষণা এই কর্মটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বা প্রমোশনের আশায় বা উদ্দেশ্যে করেননি।একেবারেই আপন তাগিদে, নিজের আনন্দে করেছেন। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বহুবিধ আলোচনা হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">শিক্ষাজীবনে কোনো পর্বেই তিনি অ্যাকাডেমিকভাবে সাহিত্যের কোনো গবেষণাকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।কিন্তু তিনি যখন বাংলায় এমএ করতে এলেন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর মধ্যে চিন্তা চেতনায় একটু হলেও পরিবর্তন ঘটে।গবেষণাকর্মের প্রতি তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।যা আগে তাঁর মধ্যে ছিল না।কিন্তু সাহিত্যবিষয়ে তাঁর পড়ালেখা জানাশোনা নিজস্ব চিন্তা-চেতনা ছিল উচ্চমার্গের।সেখান থেকেই তিনি সাধারণত যেভাবে যে ধরনের প্রবন্ধ লিখে থাকেন, তাতে পরিবর্তন আনলেন, সচেতনভাবে এবং একেবারেই নিয়ম-কানুন মেনে গবেষণা প্রবন্ধ লেখা শুরু করলেন।এজন্য তিনি নতুন করে কিছুদিন শুধুই গবেষণা বিষয়ক বই পড়েছেন, একই সঙ্গে গবেষণার নিয়ম-কানুন রপ্ত করার চেষ্টা করেন। ‘বাংলা উপন্যাসে বিধবা: বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ’ এ গ্রন্থটি তারই প্রয়াস।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী মনীষী বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের বিধবাবিষয়ক ব্যাপারটি প্রধান হিসেবে আনলেও বাংলা সাহিত্যে শুধু নয় বাঙালির জীবন ও সমাজে সতীদাহ প্রথা থেকে বিধবা সংকট, সেই সময়ের সমাজচিত্র ও বিধবা বিবাহের পুরো ইতিহাস তথ্যসমৃদ্ধভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং তা বাংলা সাহিত্যে কতোটা প্রভাব ফেলেছিল, তাও।</p>
<p style="text-align: justify">এ গ্রন্থে মোট পাঁচটি অধ্যায় আছে।‘বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ: বিধবা সমস্যা’, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় : বিষবৃক্ষ থেকে কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: চোখের বালি থেকে চতুরঙ্গে’, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: বড় দিদি থেকে পল্লীসমাজ’, ও ‘বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ &#8211; শরৎ: চিন্তার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য’-এ সব অধ্যায়ে তিনি বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মধ্যে থেকে গতানুগতিক চিন্তা বা অন্যদের মতামত পাঠকের ওপর শুধু শুধু চাপিয়ে দিয়ে গৎবাঁধা গ্রন্থ রচনা করেননি।তিনি নিজের চিন্তা, মতামত ও সিদ্ধান্ত দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন, যৌক্তিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে।সেটা কতোটা সফলভাবে তিনি পেরেছেন, সেটাই আলোচনার বিষয় হতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">ব্যক্তিগতভাবে গবেষক মোহাম্মদ নূরুল হককে অভিনন্দন জানাই, চমৎকার এ গবেষণাকর্মের জন্য।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/10/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পরানের আখড়ায় ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Aug 2023 05:38:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2794</guid>

					<description><![CDATA[মধ্যমাঠে নিঃসঙ্গ দোয়েল ডানা ঝাপটায় দুপুর যে কেঁদে কেঁদে ফেরে সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই রাত্রির চাদর নামে বিবর্ণ যৌবনে। লালনের গান ভেসে যায় গহিন আত্মায় গগনের ব্যাকুল আকুতি যে অধরা মনের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">মধ্যমাঠে নিঃসঙ্গ দোয়েল ডানা ঝাপটায়<br />
দুপুর যে কেঁদে কেঁদে ফেরে<br />
সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই<br />
রাত্রির চাদর নামে বিবর্ণ যৌবনে।<br />
লালনের গান ভেসে যায় গহিন আত্মায়<br />
গগনের ব্যাকুল আকুতি যে অধরা মনের মানুষ<br />
প্রেমের খাঁচায়,<br />
কালিগঙ্গায় ভাসে সিরাজ সাঁইয়ের সাধনগীতি।</p>
<p style="text-align: justify">দুঃখে ডানা ভেঙে<br />
পোড়ায় যে মানুষ নিজেকে আপন আগুনে<br />
ভালোবেসে শরীরে জড়ায়<br />
কবরে ঘাসের মতো নিস্তব্ধতা-কাঁদে একতারা।</p>
<p style="text-align: justify">মধ্যমাঠে নিঃসঙ্গ দোয়েল ডানা ঝাপটায়<br />
পৃথিবী যে শূন্য খেলাঘর<br />
সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই<br />
নেমে আসে রাত্রি-পরানের আখড়ায় বেদনার গান।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (শেষ পর্ব) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/03/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/03/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 03 Jun 2023 07:08:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2699</guid>

					<description><![CDATA[শিল্প প্রকরণ : শুধু বিষয়বৈভবের তরঙ্গ প্রবাহেই নয়; শিল্প প্রকরণের দিক দিয়েও আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর আবির্ভাব রাজস্বিক।তিনি বিষয় উপযোগী ভাষা ও রচনারীতির প্রয়োগ ঘটিয়ে গল্পগুলোকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন। তবে গঠন কাঠামোতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিল্প প্রকরণ :<br />
শুধু বিষয়বৈভবের তরঙ্গ প্রবাহেই নয়; শিল্প প্রকরণের দিক দিয়েও আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর আবির্ভাব রাজস্বিক।তিনি বিষয় উপযোগী ভাষা ও রচনারীতির প্রয়োগ ঘটিয়ে গল্পগুলোকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন। তবে গঠন কাঠামোতে কিছু কিছু গল্পের শিল্পগুণ ক্ষুণ্ন হলেও অধিকাংশ গল্প শিল্পোত্তীর্ণ বটে।গল্পকার ভাব অনুযায়ী ভাষা ব্যবহারের যেমন পারমঙ্গতা দেখিয়েছেন তেমনি আরবি-ফারসি, হিন্দি ও ইংরেজি শব্দ ব্যবহারে পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।নিম্নে কতিপয় দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো:</p>
<p style="text-align: justify">ক. আরবি-ফারসি ও হিন্দি শব্দের ব্যবহার:<br />
১. করছিস কি, করছিস কি হারামজাদা? (সম্রাটের ছবি, সম্রাটের ছবি)<br />
২. তোর বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষ যার নিমক খেয়ে মানুষ (ঐ)<br />
৩. এদের জাত, মান, পর্দাপুষিদা, ইজ্জৎ আছে (ঐ)<br />
৪. কিন্তু নসিবের ফের গেল না (নীল কমল, সম্রাটের ছবি)</p>
<p style="text-align: justify">খ. নাগরিক জীবনে ব্যবহৃত ভাষার ব্যবহার:<br />
১. আমার মনে হয় কি জান? কাশেম এইবার বাজারের আঁচ পাইছে, বেশ লাভ অইবে বুঝাই তোমারে না জানাইয়া মহাজনকে লাভ ইট্টু বেশি দিয়া গাছগুলো নিতে চায়।শত অউক তবু তুমিও আমার কাছে ফেলনা নও, তুমি এককেবারে ঠইক্যা যাইবা, তাই কথাডা কইলাম।কারও কাছে কইও না, ভাইব্যা দেইখ্যো। (আতঙ্ক, সম্রাটের ছবি)</p>
<p style="text-align: justify">২. রাস্তা শেষ হয়ে গিয়েছে মাটির রাস্তায়।মাটির রাস্তা গিয়ে মিশেছে দূরে ঝালকাঠি বন্দরে পাকা সিমেন্টের রাস্তায়।মাঝখানে গ্রামের আলপথ। মাটির বড় রাস্তা একটা আছে।এখন চিহ্নমাত্র সার।সুপারী বনের ফাঁকে ফাঁকে সে রাস্তা মিলিয়ে গেছে ঢেউতোলা ধানক্ষেতে গিয়ে।আর সেই ধানক্ষেতের ওপারেই আজমল সাহেবের বাড়ি।কমর খালার স্বামী। চৌচালা টিনের ঘর।সামনে টানা বারান্দা, পেছনে গোয়াল।বিকেলে বাড়ি ফিরে গরুকে নিজ হাতে ঘাস জল দিতেন আজমল সাহেব। (বিনিদ্র, সম্রাটের ছবি)</p>
<p style="text-align: justify">ভাষাই সাহিত্যের প্রাণ।ভাষা ব্যবহারে তিনি যেমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তেমনি অলঙ্কার প্রয়োগেও রেখেছেন নিপুণতার স্বাক্ষর।বিভিন্ন প্রকার শব্দালঙ্কার ও অর্থালঙ্কার প্রয়োগ করে তিনি গদ্যকে করেছেন শাণিত।নিম্নে আমরা এ বিষয়ে আলোকপাতের প্রয়াস পাচ্ছি:<br />
ক. অনুপ্রাস :<br />
১.ভিজে ঝাড়ু দিয়ে ঘরের মেঝে মুছে, দেয়াল পরিষ্কার কর অবশেষে চাকর হাত দিল ছবিটায়।(সম্রাটের ছবি, সম্রাটের ছবি)<br />
২. হঠাৎ একেবারে হা হা করে উঠলেন, করছিস কি, করছিস কি, হারামজাদা? (ঐ)<br />
৩. সিংহদরজার দুই দিকের দুই গম্বুজে দুই সিংহমূর্তি স্থাপিত। (নীল কমল, সম্রাটের ছবি)<br />
৪.কিন্তু তার জন্য সেই আটপৌরে মনটির চরিত্র চিত্রণে এ গিয়ে আসতে হত তাঁদের, যাঁরা সেই মনটি চেনেন। (ঐ)<br />
৫.হাট, বাজার, মন্দির, মসজিদ, হিন্দু, মুসলমান, চাষাভূষা, জোতদার, জমিদার, মিলে একাকার।(আদিম, সম্রাটের ছবি)<br />
৬.সত্যি, সাহানা মেয়েটি সুন্দরী।পাথরে কুঁদে গড়া শরীর যেন, অথচ মনে হয়, ছুলে এখনি মোমের মত গলে যাবে।যেমন ঘন চুলের বুনুনি, তেমনি আশ্চর্য নীল চোখ। (চেহারা, সম্রাটের ছবি)<br />
৭.একেক দিন একেক রঙের শাড়ি পরেন।আর গাঢ় রঙটার দিকেই তাঁর ঝোঁক যেন বেশি। কোনদিন লাল, কোনদিন নীল, কোনদিন টিয়ে সবুজ, কোনদিন খয়েরি, কোনদিন জাফরানি, যেদিন যেমনটা খুশি। (অন্য কোনখানে, সম্রাটের ছবি)<br />
৯.বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে দোলা খেল সকলে।বিশ্বাসটুকু ঈর্ষা-বিষের তীব্রতায় ভরা। (কুমকুম, সম্রাটের ছবি)<br />
১০. আবার কোনদিন আসতে আসতে অন্যদিকে চলে যায়। (উপাখ্যান, সম্রাটের ছবি)</p>
<p style="text-align: justify">খ. উপমা :<br />
১.চোখের গভীর খাদে বাতির ‘শিস’ পড়ার মত একপোঁচ কালির প্রলেপ। (নীল কমল, সম্রাটের ছবি)<br />
২.ক্রমশ: উটের পিঠের মত কাঁচা মাটির স্তর জমাট হয়ে চরের পরিধি বাড়াচ্ছে। (আদিম, সম্রাটের ছবি)<br />
৩.সঙ্গের লোকটি অর্ধপ্রৌঢ়।তালগাছের মত শক্ত, ঋজু, ক্রুর চেহারা। (ঐ)<br />
৪.বর্ষার অন্ধকার আকাশ মৃত্যুর মত নিথর স্তব্ধ। (ঐ)<br />
৫.সাপের তীক্ষ্ম শিসের মত অন্ধকার চিরে চিরে জেগে উঠেছে তার সাফল্যের উল্লাস। (ঐ)<br />
৬.পেসেন্ট-চেম্বারে ঢুকেই তিনি একেবারে শিশুর মতো অসহায় কণ্ঠে বললেন, দেখুন, রোগী আমি নই। (চেহারা, সম্রাটের ছবি)<br />
৭.কবুতরের নরম ডানার মত শাদা লঘু মেঘ ভাসছে, তার মাঝে মাঝে ফুটা-ফাটা নীল আকাশ। (নতুন গোধূলি, সম্রাটের ছবি)<br />
৮.আর তারই সংঘাতে এদের সুকুমার চিত্রও ভোরের শিশির মেখে ফুলের তাজা কোরকের মত পাঁপড়ি মেলতে পারে না। (ঐ)<br />
৯.একটু দূরে মরা সাপের দেহের মত আঁকা বাঁকা রেলপথ। (ঐ)<br />
১০.পাঁচ বৎসরের অভ্যাসে এ হাতের লেখা তো ভামজীর কাছে সরলরেখার মত সহজ। (লাল মেঘ, সম্রাটের ছবি)<br />
১১.ওস্তাদ সমজদারের মত সবাই মাথা ঝাঁকাচ্ছে, তাল ঠুকছে। (আতঙ্ক, সম্রাটের ছবি)<br />
১২.গাছের উঁচু নীচু ডালে অসংখ্য জোনাকির মত অসংখ্য আলোর বিন্দু জ্বলতে থাকে। (অন্য কোনখানে, সম্রাটের ছবি)<br />
১৩.সবুজ আলো নীচে একটি মুগ্ধ বাসনা স্বপ্নের মত উজ্জ্বল। (ঐ)<br />
১৪.বৃষ্টিধোয়া আকাশে অগুনিত তারা অন্ধকারের মাঝ নদীতে নোঙর করা সাম্পানের বাতির মত জ্বলছে। (কুমকুম, সম্রাটের ছবি)<br />
১৫.মনটা গুমোট হয়ে আছে, ওই আকাশেরই মত। (ঐ)<br />
১৬.বাদুড়ের ডানার মত কালোরাত নেমেছে সারাগ্রাম জুড়ে। (দুই শরিক, সম্রাটের ছবি)<br />
১৭.সমুদ্রের মত একটানা নীল দিগন্ত (বিনিদ্র, সম্রাটের ছবি)<br />
১৮.উড়ে এসেছে সাদা বকের পাখনার মত টুকরো টুকরো মেঘ। (ঐ)<br />
১৯.বাজপাখির মত নয়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের মত উঁ নাকে আভিজাত্য আর ব্যক্তিত্বের সুস্পষ্ট ছাপ। (ঐ)<br />
২০.লতিফ চাচার মত গোল করে কাটা টুপি। (রোদের অন্ধকারে বৃষ্টি, বাংলাদেশ কথা কয়)</p>
<p style="text-align: justify">গ. উৎপেক্ষা :<br />
১.তাঁর মুখের অমন সুন্দর রং চুষে নিয়ে কে যেন স্থানে স্থানে কালি লেপে দিয়েছে। (নীল কমল, সম্রাটের ছবি)<br />
২.পানের রস সিক্ত তাঁর লালচে দাঁতগুলো যেন আমার সামনে ঝিলিক দিয়ে উঠল। (ঐ)<br />
৩.গায়ের রঙে যেন এক কিশোর রাজপুত্র। (ঐ)<br />
৪.দু’কূল প্লাবিত বিপুল বন্যাবেগে সংহার-মূর্তির মত ইলশা তার মহাসামুদ্রিক বাহুর বেষ্টনে যেন সোনাকান্দিকে মুছে ফেলতে চায়। (আদিম, সম্রাটের ছবি)<br />
৫.স্বাস্থ্যপুষ্ট দেহের রেখায় শাণিত তলোয়ারের আভা যেন চমকায়। (ঐ)<br />
৬.চ ল চোখের দৃষ্টিতে স্থির সন্ধ্যাতারার আলোটা একটা ধূর্ত হাসিতে নুয়ে পড়ল যেন। (ঐ)<br />
৭.সত্যি, সাহানা মেয়েটি সুন্দরী। পাথরে কুঁদে গড়া শরীর যেন, ছুঁলে এখনি মোমের মত গলে যাবে। (চেহারা, সম্রাটের ছবি)<br />
৮.সেই ছবিতেও যেন তার আঙুলগুলো বীণার তারে ঘুরছে, নাচছে। (নতুন গোধূলি, সম্রাটের ছবি)<br />
৯.তাঁর ভীত মুখ থেকে কে যেন সব লাবণ্য শুষে নিয়েছে। (ঐ)<br />
১০.পথে নেমে হোসেনের স্ফূর্তি যেন দানা বেঁধে উঠল। (আতঙ্ক, সম্রাটের ছবি)<br />
১১.তার মাঝে লাভ লেনের জীবনের যেন বাড়তি রয়েছে কিছুটা চাকচিক্য, ফাউবিস্ময়। (অন্য কোনখানে, সম্রাটের ছবি)<br />
১২.শরীরের আশ্চর্য গোলাপী রঙের সঙ্গেও যেন সবকিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। (ঐ)<br />
১৩.একটা মলিন বিমর্ষতা যেন ফুটে ওঠে আশরাফ আলমের মুখে (ঐ)<br />
১৪.বৃষ্টি যেন আকাশ গলে ঝড়ছে।(কুমকুম, সম্রাটের ছবি)<br />
১৫.অন্ধকারে সেই অকম্প চোখের মণি দুটো যেন সাঁতরাচ্ছে। (ঐ)<br />
১৬.একটি নৃত্যপরা মেয়ে যেন বন্দী হয়ে রয়েছে ওই কৌটোর গায়ে। (দুই শরিক, সম্রাটের ছবি)<br />
১৭.নেকবখত আওরত, সারা শরীরে যেন বিজলি চমকাচ্ছে, এমন রোশনাই। (ঐ)<br />
১৮.দিকহীন সমুদ্র একটি নৌকা যেন একসঙ্গে একশ দাঁড় বেয়ে ছুটে যাচ্ছে নিরুদ্দেশ ভ্রমণে। (বিনিদ্র, সম্রাটের ছবি)<br />
১৯.আকাশের অগুণিত তারা জ্যোৎস্নার রেণু পান করে যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। (ঐ)<br />
২০.দীর্ঘ এক যুগের এক মোহনিদ্র থেকে যেন জেগে উঠলেন কমর খালা (ঐ)<br />
২১.বাইরে রোরুদ্যমান বাতাস অন্ধকারে গাছের ডাল-পালায় লুটিয়ে পড়ে যেন ফুঁসছে।(ঝগড়া, সম্রাটের ছবি)<br />
২২.শওকত যেন হতভম্ব হয়ে গেল। (উত্তরণ, সুন্দর হে সুন্দর)<br />
২৩.দুজনেই যেন আবার দু’জনের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। (কৃষ্ণপক্ষ, কৃষ্ণপক্ষ)<br />
২৪.আপন মেরুদণ্ডের উপর পৃথিবী যেন ভ্রƒক্ষেপহীন পরিক্রমায় রত (বৃত্ত, কৃষ্ণপক্ষ)</p>
<p style="text-align: justify">ঘ. রূপক :<br />
১.চাঁদটা এরই মধ্যে খন্ডমেঘের আড়ালে লুকিয়ে সাদাহাসি বিকিরণ করছে। (নীল কমল, সম্রাটের ছবি)<br />
২.মনের হিংস্র উত্তেজনা কথার আওয়াজে ফুটে বেরুতে চায়। (আদিম, সম্রাটের ছবি)<br />
৩.আকাশের খণ্ড খণ্ড মেঘে অস্তাচলের রঙ লেগেছে।বর্ষার কালো মেঘের রেখায় রক্তাভা। (ঐ)<br />
৪.সূর্যের পথ-পরিক্রমায় সমস্ত পৃথিবী উজ্জ্বল। কৃষ্ণচুড়ার গাছগুলোয় ফুল ফুটেছে গাঢ় লাল রক্তবর্ণ। (নতুন গোধূলি, সম্রাটের ছবি)<br />
৫.কুয়াশা-ম্লান চাঁদের আলো বাগানে গাছ-পালার আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে। (আতঙ্ক, সম্রাটের ছবি)<br />
৬.কুয়াশা-ম্লান চাঁদ জাগা আকাশ লাল হয়ে উঠছে।লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ছে আকাশের পূর্ব কোণ জুড়ে। (ঐ)<br />
৭.গত রাতে নিজ হাতে আমি যে তাকে পুড়িয়ে মেরেছি। (অন্য কোনখানে, সম্রাটের ছবি)<br />
৮.নৈঋত কোণে কালো মেঘ আর ঈশানে শাদা মেঘের জটলা। (কুমকুম, সম্রাটের ছবি)<br />
৯.তাকিয়ে রইলাম, খোলা জানালা দিয়ে গোধূলি সন্ধ্যায় আকাশে মেঘ রক্তরাগটুকুর দিকে। (বিনিদ্র, সম্রাটের ছবি)<br />
১০.মিথ্যে ভাবনার সুতো ছিঁড়ে কি লাভ (ঝগড়া, সম্রাটের ছবি)</p>
<p style="text-align: justify">ঙ. প্রবাদ-প্রবচন<br />
১.বেনে বেদে সোনরু, তিনকূলে নয় কেউ কারো। (দুই শরিক, সম্রাটের ছবি)</p>
<p style="text-align: justify">উপরিউক্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, বাংলাদেশের ছোটগল্পে আবদুল গাফফার চৌধুরীর অবদান প্রাতিস্বিক। তিনি সমাজ বাস্তবতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে পুুঁজি করেই তাঁর ছোটগল্পের বিষয়বৈচিত্রের পসরা সাজিয়েছেন। সেই সঙ্গে শিল্পনৈপুণ্যের সমারোহে গল্পগুলোকে করেছেন কালোত্তীর্ণ।বিষয়ভৈবব ও শিল্পগুণের নিক্তিতে তাঁর ছোটগল্পগুলো উচ্চমার্গের মর্যাদা লাভ করতে পেরেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।</p>
<p style="text-align: justify"><em><strong>সমাপ্ত</strong></em></p>
<p style="text-align: justify">
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/03/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নির্বাচিত দশ কবিতা ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/12/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/12/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 12 Dec 2022 16:09:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2351</guid>

					<description><![CDATA[সবুজ আত্মার ছবি শৈশবের সবুজ মাঠের আলপনা আঁকা ছবিতে তোমার মাঠের পর মাঠ দোল-খাওয়া রূপশ্রী বেণি দুলছে যৌবনা স্বপ্নমৌতাত প্রেম; বাতাসে কী এক মায়াময় মাদকতা ঢেউ খেলে ভেসে যায় হৃৎকম্পন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সবুজ আত্মার ছবি </strong></span><br />
শৈশবের সবুজ মাঠের আলপনা আঁকা ছবিতে তোমার<br />
মাঠের পর মাঠ দোল-খাওয়া রূপশ্রী বেণি<br />
দুলছে যৌবনা স্বপ্নমৌতাত প্রেম;<br />
বাতাসে কী এক মায়াময় মাদকতা ঢেউ খেলে<br />
ভেসে যায় হৃৎকম্পন নগরের অলিগলি<br />
জীবনের গান আনন্দ বেদনা নিজের ভেতর নিজেরই লুকানো<br />
উচ্ছ্বল মায়াবী চোখে সবই ঢেকে যায় কলাপাতা দুঃখে।</p>
<p style="text-align: justify">ভাঙা ভাঙা কাশফুল মেঘ নুয়ে পড়ে তোমার ছবিতে<br />
সুন্দরের স্নিগ্ধস্পর্শ পেতে কপালের লাল টিপ<br />
তোমার দীঘল খোলাচুল মুখভরা মায়াবী হাসিতে;<br />
ঝড়ের বৈশাখ আছড়ে যে পড়ে<br />
শরমের ভাঁজ ভেঙে<br />
তোমাকে চেয়েছে দেউলে তো আলোকরশ্মির গতিতে।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি তো দূরের গহনে কবিতায় ধ্যানে ধ্যানী-তোমার ছবিতে<br />
শাড়িতে জড়ানো পলিমাটি তনুশ্রী শরীর<br />
কবিতার অধিক কবিতা-নিশুতিকা প্রার্থনায়<br />
ব্যাকুল পিপাসা-পিয়ানোতে বুঁদ হয়ে আছে যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়<br />
নিদ্রাহীন চোখ-তোমার ছবি তো ছবি নয়<br />
ভালোবেসেছ যে তুমি দূরের দোয়েল;<br />
তোমার চোখের ভাষা সে কথা বলেছে সরল রাত্রিতে।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি নিজেই দারুণ নগর হয়ে উঠেছ ছবিতে<br />
ঝড়ের রাত্রিতে ভাঙছে শহর গ্রাম মন-মন্দির প্রাসাদ<br />
তোমার চোখের গহনে তৃষ্ণার নদী কথা কয়<br />
জেগে থাকে মুগ্ধতায় কবিতার শব্দ বর্ণ-<br />
ধরা যায় না কিছুতেই;<br />
ছবি হয়ে ভেসে এলে ঢেউআঁকা যৌবনা দুপুরে<br />
ছবিগুলোর ভেতর থেকে জেগে মানবী শরীর<br />
কেউ দেখেনি কখনো সেই প্রাণ উচ্ছ্বল তরুণী<br />
পুষ্পিত হৃদয়ে কীভাবে দিয়েছে মোহনার গান জীবনতরীতে।</p>
<p style="text-align: justify">কতো নদী কতো বাঁক শেষে অবশেষে<br />
খরায় পোড়া পিপাসায় বৃষ্টি ও বন্যা আসে<br />
প্রাণের গভীর আকুতি পেয়েছে জীবন এমন সুন্দর ছবিতে<br />
বিরান জমিনে জমে পলিমাটি উর্বরতা<br />
বুক বাঁধে কৃষাণী নতুন প্রেমে-ঘর ভরে যাবে সুখের ফসলে।<br />
সুন্দর অচেনা কালের ভেলায়-চেনা অচেনায়<br />
বসতি জনমভর-সুন্দরেরা কী এমনই!</p>
<p style="text-align: justify">চিরকালের অধরা নদীর গহীন গভীর কান্না<br />
বলেছি তোমাকে দীর্ঘরাতে;<br />
এইসব কথা লেখা আছে আঁকা আছে সবুজ আত্মার কবির ছবিতে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>কেন যে ডাকো আমাকে</strong></span><br />
আমি তো এসেছি চলে সব আনন্দ উৎসব থেকে<br />
আমার বেদনা কাউকে বলিনি কষ্টে কেঁদেছি একা,<br />
আমার পাঁজর ভেঙেছি আমিই নিদ্রাহীন কত রাত;<br />
আমাকে কেন যে ডাকো!<br />
আমি তো এসেছি চলে ফেরা হবে না কখনো আর।</p>
<p style="text-align: justify">আমাকে যতই ডাকুক আমার স্মৃতি<br />
আমার দোয়েল ঘুঘুপাখি পুকুরে সাঁতার কাটা রাজহাঁস,<br />
জবাফুল বেলিফুল পোটনির পাশের ভোরের ঘাসফুল<br />
উঠোনে জাঙলাভর্তি পুঁইফল লাউডগা;<br />
আমি তো এসেছি চলে সব আনন্দ উৎসব থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার জীবন জড়ানো গড়াই নদীর মায়াবী বিকেল<br />
স্কুলের খেলার মাঠ-এ পথ সে পথ ভেঙে ঘরে ফেরা<br />
আলপথে নুয়ে পড়া সবুজ জমিন<br />
বুকের গহীন যতই ভাঙুক বেদনায়<br />
আমি তো ফিরব না-ফেরা হবে না কখনো আর</p>
<p style="text-align: justify">একাকী উজানে হেঁটে যাচ্ছি রোদ্দুর দুপুরকে রাত্রি করে<br />
চলে যাচ্ছি অবেলা অচিন বাউলের একতারা হাতে,<br />
যে জীবন ভালোবেসে এতকাল নিজেকে রেখেছি ভুলে<br />
সব কিছুই যে এত বেশি ভুল!<br />
এত বেশি বিষের ছোবল!<br />
মনের মরমে গহিন আঁধার ভালোবেসে<br />
আমি তো এসেছি চলে সব আনন্দ উৎসব থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">আমাকে কেন যে ডাকো-কেন ডাকো!<br />
আমি বেদনায় মুখ গুঁজে পড়ে আছি।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দেবতী সন্ধ্যায়</strong></span><br />
অযত্ন যৌবন শেষে গানের শিশির নামে দেবতী সন্ধ্যায়<br />
আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে নীলাকাশ ভেসে যায়;<br />
দূর দেশে শ্যামলিমা পাখি থাকে কান পেতে বিরহ উজানে<br />
সুরের ঢেউয়ে বেদনার এত বিষতীর কানাই না জানে!</p>
<p style="text-align: justify">কোনোকালে এই রাত হবে না কখনো ভোর<br />
গানে গানে ভেসে যায় মেঘে মেঘে সুরের নূপুর<br />
শ্মশান শহরে পড়বে না মন দেউলের আনন্দ উচ্ছ্বাস<br />
যে সন্ধ্যা ডেকেছে ভালোবেসে, সেখানে যে দীর্ঘশ্বাস।</p>
<p style="text-align: justify">কত সহস্র দিবস রজনী থেকেছি আশায় আশায় জেগে<br />
কাশফুল শুভ্রতায় বাতাসের পালকিতে রাগে-অনুরাগে,<br />
কত আয়োজন ছিল এ অন্তরে- এক সন্ধ্যা করে চাবো;<br />
ভুল অংকে জীবন খাতায় কাটাকুটো-শূন্য হাতে ফিরে যাব।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সেই কিশোরীকে খুঁজি</strong></span><br />
এখনো রোদ্দুর ওঠে-তাতায় ফসলহীন মাঠ-পায়ে চলা পথ নিভে গেছে<br />
আলপথ জড়ানো দুর্বাঘাসেরা কোথায় কীভাবে হারিয়েছে,<br />
কে জানে কেমন এক শূন্য প্রাণ সদরপুরের মাঠ<br />
শিশিরেরা এখনো তো আসে রাত ভেঙে-মমতাহীন আঁচলে।</p>
<p style="text-align: justify">পানি থৈ থৈ সেই বিল-জাল-ভর্তি মাছ-শাপলা গলায় কিশোরী-সাঁতার<br />
কীভাবে যে হারালো সে সব! রূপসী চোখের ভাষা<br />
ঘর বাঁধে রূপকথায়-হাওর-বাঁওড় ডুবে যায় দালান কোঠায়,<br />
কবিতার নারীরা যেমন গহীন শব্দের বাঁকে রহস্যদেবতী মনের দেউলে।</p>
<p style="text-align: justify">যে পাখিরা সুখের ডানায় উড়েছে নেমেছে জলে ও ডাঙায়<br />
গামছা মাথায় যে কৃষাণ লালনের গানে ভেসেছে মনতরীতে,<br />
পদ্মপায়ে হেঁটে হেঁটে টিয়েপাখি ঠোঁটে যে কিশোরী একদিন এই পথে<br />
ঘাস আর ফসলের ডগায় লিখে গেছে প্রেমের কবিতা; সব নিভে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">সদরপুরের যৌবন-হারানো বয়সী বিবর্ণ বুক জানে সেই গহিন বেদনা<br />
সেই কিশোরীকে খুঁজি-পায়ে জড়ানো শিশিরভেজা দুর্বাঘাসের আদর।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ব্যক্তিগত কবিতা</strong></span><br />
তোমার মৃত্যুতে কী ভীষণ আর্তনাদ করে উঠল মেঘ<br />
তারপর বুকভাঙা কান্না<br />
তোমার শীতল মাথা ছুঁয়ে থাকি<br />
তুমি ঘুমোচ্ছ-ক্লান্ত-চোখ-এলোমেলো চুল</p>
<p style="text-align: justify">তোমার মাথায় হাত রেখে<br />
অপেক্ষায় জেগে থাকি- কখন ভাঙবে ঘুম!<br />
তুমি জেগে উঠেই বলবে, মেজো ভাই কখন এলেন!<br />
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি- একটুও টের পাইনি।</p>
<p style="text-align: justify">ঘুম ভেঙেই বলবে, মিলন আসেনি?<br />
কাব্যমুনিকে আনেননি?<br />
কতদিন সোনামুখটা দেখিনি!<br />
আমি অপেক্ষায় থাকি- ঘুম ভাঙে না তোমার<br />
আমি অভিমানের মেঘ হয়ে উঠে যেতেই<br />
তুমি বললে, মেজো ভাই, আমাকে না নিয়েই চলে যাচ্ছেন!</p>
<p style="text-align: justify">ব্যাকুল তৃষ্ণায় ফিরে আসি<br />
হাত রাখি শিয়রে তোমার; ডাক দিই- বুলবুল&#8230;<br />
অতল গহিনে পৌঁছে না আমার ডাক<br />
অপেক্ষায় আবারও বসে থাকি<br />
ঘুম ভেঙে বলবে, মেজো ভাই, কতক্ষণ বসে আছেন!</p>
<p style="text-align: justify">তুমি গভীর গহিন ঘুমে ডুবে আছ<br />
পৃথিবীর সব ক্লান্তি- তোমার শরীরে,<br />
পাথরের মতো ভারি পায়ে<br />
আবার উঠে দাঁড়াই- পা বাড়াই&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">তুমি আবার বললে, মেজো ভাই, চলে যাচ্ছেন!<br />
বিদ্যুৎগতিতে ফিরে তাকাই-শুধুই অন্ধকার&#8230;</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পতঙ্গবহ্নি </strong></span><br />
হেলেনের রূপে পুড়ে গেছে সেই কবে রূপজ নগরী ট্রয়<br />
জয়নাবের রূপাগ্নিতে খুন আর রক্তে উন্মত্ত এজিদ;<br />
রূপের চিতায় পোড়ে সাধক সন্ন্যাসী সম্রাট রাষ্ট্রের অধিকর্তা<br />
আবার সন্ন্যাসী হয়ে যায় গোবিন্দলালের মতো জমিদার<br />
মধু-বিষে মৃত্যু বেছে নেয় দুপুর রোদের মতো স্পর্ধিত সুরেশ।</p>
<p style="text-align: justify">দোদি তুমিও তো মরলে অপ্রতিরোধ্য প্রেমের সড়কে<br />
বিল ক্লিনটন কত রাত নিদ্রাহীন-নিজ ঘরে পরবাসী;<br />
মনিকা লিউনিস্কি যেন তার শরীর জড়ানো বিষধর<br />
সর্পিনী- তবুও এ খেলা কী যে ভয়ংকর সুন্দর<br />
অগ্নিলাভার মতো নিষ্ঠুর দহন।</p>
<p style="text-align: justify">কত সব ক্ষমতাধর আকাশমানুষ লুটোপুটি খায়<br />
আফ্রোদিতি ভেবে বিষভর্তি যমুনা শরীরে<br />
রামধনু ঠোঁটের অদ্ভুত রহস্য হাসিতে পৃথিবীর মতো<br />
ঘুরে ঘুরে মরে পতঙ্গ যৌবন;<br />
অনর্থক অমরত্ব লাভে কবিতার শব্দে অজস্র বিনিদ্র রাত্রি<br />
রাতজাগা কবি পান করে দামি মদের মতো ক্লিওপেট্রা কিংবা<br />
ঐশ্বরিয়া সুন্দরিকা রিহানা শরীর।</p>
<p style="text-align: justify">রাত ভেঙে ভেঙে আরো অন্ধকার রাত হয়ে যায়<br />
নগরীর আলো নিভে নিভে অসভ্য নগরী হয়ে যায়<br />
জীবনের নৌকাঘাট ভেঙে ভেঙে ঘাটহীন হয়ে যায়<br />
হুরপরি নটিনী কিন্তু তখনো ঠিকই দুর্লভ আলোর নগরী।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!</strong></span><br />
একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!<br />
কী এমন সর্বনাশের আগুন জ্বলে!<br />
এই আষাঢ়কীভাবে কেঁদে কেঁদে ফেরে<br />
দেখেছ কখনো কষ্টের কেমন রঙ!</p>
<p style="text-align: justify">হিসেবের চারকোণ যে জীবন<br />
মেঘনা যমুনা গড়াই মধুমতি স্রোতময়ী যে জীবন<br />
কবিতার মতো লালটিপ স্বরবৃত্ত যে জীবন<br />
সেখানেও থাকে দুঃখের গহিন-<br />
চিত্তহরিণী পাপড়ির নিচে থাকে অদৃশ্য কষ্টের ভাঁজ<br />
সেই বেদনায় ভালোবেসেছিল রাধিকাও গোপন শিশিররাত্রি<br />
লাবণ্যময়ী মাদাম বোভারি রোদলকে বেঁধেছিল<br />
গোপন তাবিজে</p>
<p style="text-align: justify">বৃক্ষশরীরে জড়িয়ে থাকে শরমহীন সোহাগিনী স্বর্ণলতা<br />
অচিন পাখির মতো তুমি কেন অধরা দূরের পাখি<br />
একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!<br />
কী এমন সর্বনাশের আগুন জ্বলে!</p>
<p style="text-align: justify">হিসেবের চারকোণ ছিঁড়ে ফেলো দেবতী প্রেমের<br />
বেনারসি উড়ছে পাগলা হাওয়ায়<br />
নকশি আঁচলে আঁকো নতুন যৌবন<br />
তোমার সৌরভ উজ্জ্বলতা হীরক টুকরো রাশি রাশি।<br />
অদৃশ্য ঝড়ের মতো জেগে থাকে মাতাল মধ্যরাত<br />
শুষ্ক ঠোঁট কাঁপে যেন ঢেউখেলা অসহ্য রোদ্দুর<br />
বর্ষার অবাধ্য নতুন জলের মতো ছুটে আসো দীঘল চুম্বনে</p>
<p style="text-align: justify">একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!<br />
কী এমন সর্বনাশের আগুন জ্বলে!</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দেবতীদেউল</strong></span><br />
পাপ বুঝি না দেবতী<br />
পুণ্যও চিনি না<br />
তোমাকে চিনি<br />
তোমাকে চাই<br />
খরস্রোতা নদী যেভাবে সমুদ্র চায়।</p>
<p style="text-align: justify">অঙ্ক বুঝি না দেবতী<br />
পদ্যও বুঝি না<br />
তোমাকে বুঝি<br />
তোমাকে চাই<br />
পদ্মা যেভাবে পাগলা ঢেউয়ে সবকিছু নিজের করে চায়।</p>
<p style="text-align: justify">বাণিজ্য শিখিনি দেবতী<br />
লাভ-লোকসান বুঝি না<br />
তোমাকে বুঝি<br />
তোমাকে চাই<br />
স্বর্ণলতা যেভাবে মেঘের মতো ঢেকে রাখতে চায় বৃক্ষশরীর।</p>
<p style="text-align: justify">বন্দিত্ব জানি না দেবতী<br />
মুক্তিও বুঝি না<br />
জীবনসত্য তুমি<br />
তোমাকে চাই<br />
বন্যার জলে পলি মিশে যেভাবে উর্বরতা বোনে বন্ধ্যাভূমিতে।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি কার-কার ছিলে কবে<br />
কার আছ এখন<br />
বুঝি না হিসাবের কড়ি<br />
চাই তোমাকে প্রবল<br />
কবিতা-গহিনে যেভাবে জেগে ওঠে কাঁচা চরের মতো নতুন কবিতা।</p>
<p style="text-align: justify">পাপ বুঝি না দেবতী<br />
পুণ্যও চিনি না<br />
স্বর্গ-নরক বুঝি না<br />
তোমাকেই চাই<br />
জীবন-উৎসবে যেভাবে জেগে ওঠে যুবতীজমিন।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ভালোবাসার আকাশ</strong></span><br />
প্রত্যেকটি নিশ্বাস আমার স্পর্শ করে দেখলাম আমি<br />
সেখানে আশ্চর্যরকমভাবে লেখা আছে তোমার নাম,<br />
প্রতিটি নিশ্বাস একটু একটু করে সাজিয়ে দেখলাম<br />
অবিশ্বাস্যরকম তার ভেতর থেকে জেগে উঠলে তুমি।</p>
<p style="text-align: justify">বিশাল আকাশবৃত্তে ড্রেসিং টেবিলে নিজেকে দেখি<br />
আমার ভেতরে আমি নেই- জেগে আছে আমার পুরোটা<br />
অন্য কেউ- অবিকল তোমার মতোই- নিশ্চিত তুমিই<br />
তোমার নাম কী- আমি তা-ও জানি- তুমি দেবতী</p>
<p style="text-align: justify">আমি দু’হাঁটুর ভেতর নিজেকে লুকাই- মুখ গুঁজে ভাবি<br />
জীবনখাতায় কত হিসেব জড়ানো থাকে রহস্যের জালে!<br />
তোমার বুকের গোপন আগুনে জ্বলে আমার চোখের চুরুট<br />
কপালে আমার মায়াবী চাঁদ যেন তোমার চুম্বনকুসুম।</p>
<p style="text-align: justify">জেগে থাকি আমি- তোমার পবিত্র স্পর্শে;<br />
কী যে আদরলতায় জড়িয়ে বললে- কেন পোড়!<br />
কেন পোড়াও এভাবে আমাকে!<br />
আমিও তো নেই ভেতরে আমার<br />
ভুল হিসেব কখন কীভাবে যে জীবনের<br />
অধিক হিসেব হয়ে যায়<br />
ভালোবাসার আকাশ বোধহয় এরকমই</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ঠিক এরকম নয়</strong></span><br />
স্বার্থের ছোবল অদ্ভুতরকম ঘরের উঠোন থেকে রাজসিংহাসন<br />
সত্যিকারের মানুষ ঠিক এরকম নয়,<br />
অন্য কোন রকম হয়তো!<br />
নদীকে দেখেছি রোগে শোকে বাঁচামরা হয়ে নিজের দুঃখকে<br />
নিজের বুকেতে দিয়েছে কবর-তবুও<br />
তার পাশে যখুনি যে দাঁড়ায় বেলা-অবেলা<br />
কখনো কাউকে ফেরায় নি;<br />
বৃক্ষের ছায়ায় কত রোদ্দুর দুপুর কেটে গেছে<br />
কত পথিক-মহাজনের-কত ছায়া দিয়েছে ক্লান্ত শরীরে<br />
কখনো করেনি হিসাব-করেনি চাতুির অঙ্ক;<br />
দোয়েল কোয়েল ঘুঘু বউ কথা কও<br />
কত গান দিয়েছে মুগ্ধতা<br />
কত পুষ্প কত লাবণ্য ও ঘ্রাণে সঁপেছে সুন্দরে<br />
কত পাহাড়ে মিলেছে বুক কত আকাশ প্রেম ও অভিমানে<br />
আছড়ে পড়েছে প্রবল প্রপাতে মাথাকুটে কেঁদেছে কতো যে<br />
বুকে বেঁধে নিয়েছে পাহাড় সেই বেদনা আপন করে।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষের কাছে মানুষ কেন যে বেদনার নীলখাম<br />
মানুষের কাছে মানুষের কেন এতো দুঃখসমুদ্র<br />
মানুষের কাছে মানুষের কেন যে কষ্টের বিষাক্ত ছোবল<br />
মানুষে মানুষে কেন তবে প্রতারণা নীল দংশন</p>
<p style="text-align: justify">হাওর-বাঁওড় নদীনালা শাপলা ফুল<br />
গ্রাম-শহরের অঁকাবাঁকা পথ<br />
আনাচে কানাচে উড়ে বেড়ানো চড়–ই<br />
কাদামাটি পলিমাটি উর্বর জমিন<br />
বেণী দুলানো ফসলের মাঠ<br />
রমণীর শরীরের মতো ঢেউখেলা নদী<br />
জীবন জড়ানো পবিত্রতার কবিতা সুন্দরের শিরোনাম<br />
এখন মরণঘাতী বিষে নীলবর্ণ শরীরে মরণ শ্বাসকষ্ট</p>
<p style="text-align: justify">নদীতে দখল-ক্ষতবিক্ষত রমণী শরীর<br />
একান্নবর্তী উঠোনে দখলদারিত্ম-<br />
গোখরা সাপের ভয়ঙ্কর খেলা<br />
স্নেহ-মমতা-ভালোবাসায় দখল নিয়েছে অর্থকড়ির ফণা<br />
হাওর-বাঁওড়ে দখলের লাঠি সুউচ্চ প্রাসাদ<br />
হাছন লালনে অপশক্তির দখল<br />
মাথামোটা রাজনীতিকের দখলে রবীন্দ্র-নজরুল</p>
<p style="text-align: justify">ধবধবে চেহারার দখলদারেরা দেশপ্রেমের দরদী গল্প বলে<br />
এদের সবার মুখশ্রী ও শরীর মানুষের মতো-<br />
সত্যিকার মানুষই ভেবেছি;<br />
এই ভাবনায় এখন নিজের কাছে নিজেরই অজস্র প্রশ্ন।</p>
<p style="text-align: justify">এরা কি সত্যিই মানুষ!<br />
তবে নদী কেন দুঃখ পায়<br />
ফুল-পাখি-প্রজাপতি কেন দুঃখ পায়<br />
মর্ত্য ও আকাশ কেন দুঃখ পায়!<br />
আস্থা ও বিশ্বাস চেতনার টকটকে লাল গোলাপ পাপড়ি<br />
পদদলিত সহজ সরল জীবনপথের মুঠোভরা স্বপ্নে।</p>
<p style="text-align: justify">নদীকে জিজ্ঞেস করেছি সত্যিকারের মানুষ দেখতে কেমন!<br />
বৃক্ষকে জিজ্ঞেস করেছি প্রকৃত মানুষ কেমন!<br />
আঁকাবাঁকা জীবনপথকে জিজ্ঞেস করেছি নিখাদ মানুষ কেমন!<br />
পাহাড় ও আকাশকে জিজ্ঞেস করেছি খাঁটি মানুষের স্বরূপ কেমন!<br />
সবাই রক্তাক্ত বুক দেখিয়ে বলেছে- আমাদেরও একই প্রশ্ন;<br />
সত্যিকারের মানুষ ভেবে যাদের দিয়েছি বুক পেতে<br />
সবাই প্রেমের নামে খুন করে নিয়েছে দখল সরল মাটির;<br />
সত্তাহীন এই বেঁচে থাকা যেন পরিচয়হীন গণধর্ষিতা সুন্দরী নারী!</p>
<p style="text-align: justify">এখন কেন যে মনে হয় সত্যিকারের মানুষ ঠিক এরকম নয়<br />
স্বার্থের ছোবল অদ্ভুতরকম ঘরের উঠোন থেকে রাজসিংহাসন।</p>
<p style="text-align: justify">সত্যিকারের মানুষ ঠিক এরকম নয়, অন্য কোন রকম হয়তো!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/12/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-৬) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/10/22/2248/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/10/22/2248/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 14:34:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2248</guid>

					<description><![CDATA[‘সুন্দর হে সুন্দর’ গ্রন্থের ‘সুন্দর হে সুন্দর’ গল্পটি বাঙালি জীবনের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অম্লমধুর বাস্তবের আলেখ্য। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না।বাঙালি জীবনে বিষয়টি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘সুন্দর হে সুন্দর’ গ্রন্থের ‘সুন্দর হে সুন্দর’ গল্পটি বাঙালি জীবনের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অম্লমধুর বাস্তবের আলেখ্য। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না।বাঙালি জীবনে বিষয়টি একই সুতোয় বাঁধা।তাই সুখ ভোগ করতে গেলে দুঃখ-কষ্ট তার জীবনে স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে।জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে গেলে অসুন্দরও তেমনি দানা বেঁধে ওঠে।অমসৃণ পথে পা বাড়ানোর চিত্র উন্মোচন করে সমাজ-বাস্তবতার এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষ জীবন ও জীবিকাকে সুন্দর ও মসৃণ করে তুলতে চায়।তাই সামাজিক প্রতিকূলতায় প্রতিনিয়ত তাদের সংগ্রাম করতে হয়।নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য বেছে নিতে হয় অসুন্দরের পথ।এ গল্পে দেখা যায় মমতা ভালো বেতনের চাকরিজীবী রায়হানকে বিয়ে করে এবং মনের মধ্যে অনেক সুন্দর স্বপ্ন বুনে।কিন্তু তার স্বামী চাকরি হারালে তাকে জীবন ও জীবিকার জন্য বেছে নিতে হয় গানের মাস্টারের চাকরি।অন্যদিকে মঈন নীলুফাকে বিয়ে করেন।কিন্তু তাকেও জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিতে হয় শিল্পীর।ছবি এঁকেই তার মজুরি মেলে।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি বলতে হয়, গল্পটিতে নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের মানুষের জীবন প্রণালীর বিচিত্রতা এবং জীবন-জীবিকার টানাপড়েনের জটিল আবহ চিত্রিত।</p>
<p style="text-align: justify">ছা-পোষা সমাজের প্রতিনিধি আমাদের দরিদ্র শিক্ষকসমাজ।এই শিক্ষক সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত অসম দুঃখ কষ্টের করুণ চিত্রের ফসল ‘উত্তরণ’ গল্পটি।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পের নায়ক হত দরিদ্র শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি নেয়ামত মাস্টার। স্ত্রী কন্যা নিয়ে তার মাস চলে ত্রিশ টাকায়।তবুও সেটি প্রতি মাসে পাওয়া যায় না। তাই ছাত্র পড়িয়ে অনেক কষ্টে তার সংসার চলে।তার স্ত্রী রাগে ক্ষোভে তাকে মুটোগিরি করতে বলে।</p>
<p style="text-align: justify">অন্যদিকে এই শিক্ষকের কাছ থেকে হাতেখড়ি দিয়ে যারা আজ বড় চাকরি করছে তারা পিয়নকে পঁচাত্তর টাকা বেতন দিচ্ছে অথচ শিক্ষকের ভাগ্য বদলের জন্য কোন চেষ্টা করছেন না।এমনকি শিক্ষকের প্রতি তারা ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধটুকুও করতে পারে না।সমাজের এ শ্রেণির চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে শওকত মিজি ও তার স্ত্রী লুৎফার মধ্যে।আবার আত্মগর্বে ফেটে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে পিয়ন রহিমকে দিয়ে নেয়ামত মাস্টারের কন্যার বিয়ে ঠিক হওয়াতে।কারণ মাস্টারের বিশ্বাস রহিম তার শ্বশুরের পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না।</p>
<p style="text-align: justify">তাই একদিকে পিয়ন রহিম যেমন খুশি হয়েছে ঠিক তার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছে স্কুল মাস্টার।আসলে সুখ-স্বচ্ছলতা একটু আপেক্ষিক ব্যাপার।গ্রামের সাধারণ মানুষভাবে সব সুখ যেন শহরে আটকা পড়ে আছে।সঙ্গত কারণেই প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন শহরের এক পিয়নের সঙ্গে।তিনি ভাবেন রহিম পিয়ন হলেও হয়তো দারিদ্র্য-নিপীড়িত প্রাথমিক শিক্ষককে সত্যিকারের শ্বশুরের মর্যাদায় শ্রদ্ধা করবে।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি বলতে হয়, গল্পটিতে সমসাময়িক কালের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অবহেলিত ও অত্যাচারিত একজন হত দরিদ্র প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকের জীবন জটিলতার বাস্তব চিত্র উন্মোচিত হয়েছে।<br />
চলবে..</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/10/22/2248/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-৫) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/08/21/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/08/21/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 21 Aug 2022 14:33:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2071</guid>

					<description><![CDATA[‘ত্রিযামা’ গল্পে সমাজজীবনে বসবাসরত নানান প্রকৃতির লোকের দোষ-ত্রুটি-হিংসাদ্বেষ, অপকৌশল কার্যসিদ্ধি করার চেষ্টা বর্ণিত হলেও এর মূল বিষয় প্রেম।মিজান ভুঁইয়ার মেয়ে রোশনার প্রতি জহির চৌকিদারের দুর্বলতা এবং তাকে পাবার জন্য সে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘ত্রিযামা’ গল্পে সমাজজীবনে বসবাসরত নানান প্রকৃতির লোকের দোষ-ত্রুটি-হিংসাদ্বেষ, অপকৌশল কার্যসিদ্ধি করার চেষ্টা বর্ণিত হলেও এর মূল বিষয় প্রেম।মিজান ভুঁইয়ার মেয়ে রোশনার প্রতি জহির চৌকিদারের দুর্বলতা এবং তাকে পাবার জন্য সে বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত হয়ে পড়ে। রোশনাকে পাবার জন্য সৈন্যদলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, বাস্তবে তা হয়নি, হয়েছে চৌকিদার-যার কাজ হলো চোর-ছ্যাঁচোড়কে ধরা, পিটুনি দেওয়া। মানসিকভাবে এ চাকরি সে পছন্দ না করলেও মায়ের কান্নাকাটির কারণে চৌকিদারি গ্রহণ করে। কিন্তু এসবের পরেও গল্পে যা প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে তা হলো রোশনাকে পাবার জন্য তার একটির পর একটি অন্যায়, অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র।আর এসবের শুরু হয় যখন রোশনার বাবা মিজান ভূঁইয়া তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।</p>
<p style="text-align: justify">মনের গহীনে সে রোশনাকে না পাবার বেদনা সংগোপনে লালন করে চলে। হঠাৎ একরাতে ‘দীঘির ভৌতিক অস্পষ্ট অন্ধকারের ছায়াশূতিটাকে দু’বাহুতে ঘিরে নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে’ থাকতে দেখে সে ভাবে হয়তো এ গভীর রাতে রোশনাও তার স্বামী মন্তাজের বলিষ্ঠ রোমশ বুকের ভেতর সমর্পিতা হয়ে আছে।জহিরের মনে তখন ঈর্ষার আগুন জ্বলে ওঠে।মন্তাজকে জব্দ করে রোশনাকে পাবার একটা আকুতি তার মধ্যে জন্ম নেয়।মন্তাজকে জব্দ করার জন্য সে তার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত তৈরি করে।প্রেসিডেন্টের প্রিয় রাতের কারবারী করিমের সহায়তায় সে মন্তাজের ঘরে চুরির মাল রেখে দেয়।পুলিশ মন্তাজকে ধরে নিয়ে যায়।রোশনা বুঝতে পারে এটি চক্রান্ত।তার চোখে মুখে আগুন জ্বলে ওঠে।সে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলে ‘আমার স্বামী নির্দোষ’।</p>
<p style="text-align: justify">মন্তাজ অসুস্থ থাকার কারণে সে যে বিছানা ছেড়ে পর্যন্ত ওঠেনি তাও রোশনা স্পষ্টভাবে জানায়।জহিরের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়।করিমই চোরাইমালগুলো মন্তাজের ঘরে রেখে এসেছিলো।এছাড়া মন্তাজের স্ত্রীর গয়নাপত্র এই করিমই চুরি করেছে।মন্তাজ প্রেসিডেন্টের প্রিয়পাত্র করিমকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। আর সে হেরে যায় রোশনার কাছে।ব্যর্থ প্রেমিক হিসেবেই জহির চরিত্র চিত্রিত হয়েছে।সর্বোপরি সমাজজীবনের নানা অসঙ্গতি গল্পটির বিষয়বস্তু হিসেবে স্থান পেলেও একটি ব্যর্থ প্রেমের গল্প হিসেবেই এটির গুরুত্ব অধিক।</p>
<p style="text-align: justify">‘জইতুন’ গল্পে সমাজের নিকৃষ্ট একশ্রেণির চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে। সাদাসিধে স্বভাবের সুরুয সাধারণ এক জিলিপি বিক্রেতা।সততা ও আদর্শ মেনে তার জীবন।কোনো অন্যায়, অসততা, মিথ্যাচারিতা তার মধ্যে নেই।স্বল্পভাষী সুরুয নিয়মকানুন মেনে সামাজিকভাবে জইতুনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। চেরাগ মিজির মাধ্যমে।মিজি আশঙ্কা করে জইতুনের সঙ্গে সুরুযের বিয়ে তেমন কঠিন না হলেও জলিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।কারণ জলিল জইতুনকে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে পেতে বদ্ধপরিকর।জলিলকে যখন সুরুযের বিষয়টি জানানো হলো তখন সে বাধা দেয় না। বরং ‘খুশি মনে আরো পঁচিশ’ টাকা ঋণ দেয় সুরুযকে।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু এর বিনিময়ে একটা চিরকুটে সুরুযের টিপসই নিয়ে রাখে।মনে মনে ভাবে সুরুযকে একসময় সর্বশান্ত করে জইতুনকে তালাক দিতে বাধ্য করবে এবং এরপর সে নিজে জইতুনকে বিয়ে করবে।জলিলের চক্রান্ত অনুযায়ী সুরুযের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। সুরুয এতে অবাক হয়।জলিল সুরুযের কাছে জইতুনকে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দিলে রাগে ক্ষোভে ঘৃণায় সে জলিলের গালে কষে এক চড় মারে। তারপর ঘরে ফিরে যখন জইতুনকে বলতে শোনে ‘দোহাই তোমার, ক্যান আমার লাইগ্যা মান-সম্মান, বাড়ি-ঘর, জোত-জমি হারাইবা’ তখন দুঃখ-কষ্টে জইতুনের গালেও কষে চড় মারে।এরপর সুরুযের দুচোখ পানিতে ভরে ওঠে। আর সে চোখে তখন ‘দুঃসহ ক্রোধ, তিক্ত ঘৃণা, নিদারুণ বেদনার ম্লান ছায়া’।সমাজে জলিলের মত নষ্ট মানুষেরা ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির জন্য বিভিন্ন চক্রান্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে যে কত রকম বিপদ সমস্যা ও অসম্মানের মধ্যে ঠেলে দেয় এবং মানসম্মান, বাড়িঘর, জোত-জমি এসবের থেকেও সুরুযের মত মানুষের কাছে স্ত্রীই বড়-এ দুটি দিক গল্পের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।গল্পের বিষয়বস্তু হিসেবে সমাজের একশ্রেণির মানুষের নোংরা কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষেরা কিভাবে ভোগান্তির শিকার হয় তা উপস্থাপিত হয়েছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/08/21/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-৪) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-3/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-3/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 30 Jul 2022 05:28:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2026</guid>

					<description><![CDATA[‘দুই শরিক’ গল্পের বিষয়বস্তু একেবারেই আমাদের চেনা-জানা।বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনচিত্র, স্ত্রীদের বংশ-অহমিকা, সম্পদের প্রতি লোভ-লালসা, স্ত্রীর পরামর্শ-প্ররোচনায় ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব, ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার, সহজ-সরল উপায়ে শঠতাবাণিজ্য- এ গল্পের উপজীব্য &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘দুই শরিক’ গল্পের বিষয়বস্তু একেবারেই আমাদের চেনা-জানা।বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনচিত্র, স্ত্রীদের বংশ-অহমিকা, সম্পদের প্রতি লোভ-লালসা, স্ত্রীর পরামর্শ-প্ররোচনায় ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব, ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার, সহজ-সরল উপায়ে শঠতাবাণিজ্য- এ গল্পের উপজীব্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে।গ্রামীণ সমাজে পরিবারে বহুকাল আগে থেকেই এসব সমস্যা চলে আসছে।এখনো আছে।শিক্ষা-দীক্ষার সঙ্গে সমাজ ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ঘটলেও সমাজচক্ষুর আড়ালে কখনো প্রত্যক্ষভাবেই এসব সমস্যা বিরাজিত।গল্পটির বিষয়বস্তুতে কোনো নতুনত্ব না থাকলেও লেখকের ভাষা আর উপস্থাপনা শৈলীগুণে গল্পটি পাঠকের মনোযোগ কাড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">লেখকের আর একটি কৃতিত্ব হলো গল্পটি ইয়াসিন ও ইউসুফ এই দুই সহোদর অর্থাৎএকটি পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।একটা বৃহৎ সমাজ ব্যবস্থাকে আকরভাবে ধারণ করার চেষ্টা লক্ষ করা যায়, সে সঙ্গে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজিত সমস্যাগুলোকে তিনি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেখিয়েছেন।আবার এভাবেও বলা যায়, গল্পটিতে একটি সময়কে ধারণ করা হয়েছে- যে সময়ে আমাদের একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা, নিজস্ব প্রভাব ও ক্ষমতাগিরি দেখানোর যে অসুস্থ মানসিকতা তৈরি হয়েছিল সেটিই মূলত ‘দুই শরিক’ গল্পটির মূল বিষয়বস্তু হিসেবে এসেছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘কৃষ্ণপক্ষ’ প্রেমের গল্প।সহেলি আর রিজভির প্রেমকে কেন্দ্র করে ‘কৃষ্ণপক্ষ’ গল্পের কাহিনি তৈরি হলেও প্রয়োজনে আরো অনেক চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে।সেহেলি ও রিজভি একে অপরকে ভালোবাসলেও বাস্তবে দুজনের কেউই কাউকে পায়নি।সেহেলির বিয়ে হয়েছে মমতাজ নামক এক যুবকের সঙ্গে।রিজভি বিয়ে করেছে মুশতারিকে।কিন্তু জীবন চলার পথে সেহেলি স্বামীকে হারিয়েছে,রিজভি হারিয়েছে স্ত্রীকে।অর্থাৎ জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে মধ্য বয়সে এসে দুজনেই আবারা একা।সেহেলি একটি স্কুলের শিক্ষক।স্কুলটি করুণানগর টিলার উপর মোহনীয় অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এক পরিবেশে অবস্থিত। চমৎকার এই পরিবেশে বহুদিন পর দুজনের দেখা হয়।দুজনই আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে থাকে।কিন্তু বিপত্তি ঘটায় মমতাজের ছবি।বেগম সুরতুন্নেসা ফখর বানুর জীবনের সঙ্গে যেন নিজের জীবনের কোথাও একটা সাদৃশ্য খুঁজে পায় সেহেলি।ফখর বানু ক্লিওপেট্রা ক্যাসলের সম্রাজ্ঞী ছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">আধুনিকতাকে ধারণ করে তিনি গড়ে উঠেছিলেন।বিয়ে করেছিলেন করুণানগর এস্টেটের জমিদার সেকান্দার খানকে।বিয়ের পর যখন তিনি বুঝলেন স্বামীর চিন্তাভাবনা ও রুচির সঙ্গে তাঁর কোনো মিল নেই। তিনি তখন এস্টেটের তরুণ ম্যানেজারের প্রতি অনুরক্ত হন। সেকান্দার খান স্ত্রীর এ বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং আকস্মিকভাবে তিনি মারা যান।স্বামীর মৃত্যুর পর ফখর বানুর মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। তরুণ ম্যানেজারকে বিতাড়িত করেন।স্বামীর নামে স্কুল-লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে থাকেন এবং এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেন।সেহেলি ট্রাজিক এ কাহিনি রিজভিকে শোনায়।রেস্ট হাউসের একটা রুমে শোভাবর্ধন করছে একটি গ্রীক ভাস্কর্য।শরীরে সুশোভিত একটি বাঙালি মেয়েল তৈলচিত্র।নিচে নাম লেখা : বেগম সুরাতুন্নেসা ফখর বানু। ট্রাজিক এ কাহিনির প্রসঙ্গ এখান থেকেই ওঠে।ফখর বানুর জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের সাদৃশ্য খুঁজে পায় সেহেলি।ফখর বানু দাম্পত্যজীবনে সুখী ছিলেন না।</p>
<p style="text-align: justify">সেহেলির দাম্পত্য জীবনও তাই-ই। মমতাজ তাকে ভালোবাসলেও সেহেলি তাকে ভালোবাসতে পারেনি।এর কারণ হয়তো বিবাহের পর সে রিজভিকে ভুলতে পারেনি।রিজভিকে সে সবসময় ভেবেছে।সে কারণে রিজভিকে একান্ত করে পাবার জন্য পারিবারিক সব ঝামেলামুক্ত হয়ে নিজেকে যখন তৈরি করে সেহেলি- তখন মমতাজের ফটোর দিকে তাকিয়ে মেঘমেদুর সন্ধ্যায় ঘণীভূত অন্ধকারে রিজভির মুখ স্পষ্ট ঠাহর করতে পারে না।ফলে তাদের মিলন সম্ভাবনা পূর্ণবার তৈরি হলেও তা সফল হয়নি।সে কারণে ফখর বানুর প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অনুভূত হয়।রিজভিকে ফখর বানুর জীবন কাহিনি শোনানো থেকেও এর সত্যতা অনুধাবনযোগ্য।সেহেলি ও রিজভির কাহিনির মূলস্রোতে ফখর বানু সংযোজিত হয়ে কাহিনির গতিকে ও বিষয়বস্তুকে আরো অর্থবহ ও তাৎপর্যপূর্ণতা দান করেছে। ব্যর্থ প্রেমের একটি গল্প হিসেবেই ‘কৃষ্ণপক্ষ’কে চিহ্নিত করা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">কুলিদের বেদনার্ত জীবনচিত্র ‘বৃত্ত’ গল্পটির মূল উপজীব্য।গল্পটিতে কুলিরা অমানবিক পরিশ্রম করে যা আয় করে তার একটা মোটা অংশ কুলি সর্দারের জন্য জমা বরাদ্দ থাকে।অথচ কুলি সর্দার সাধারণ কুলিদের কোনো সহযোগিতা করে না, কোনো সহানুভূতিও দেখায় না। বরং তাদের উপর যখন তখন অত্যাচারের স্টিম রোলার চালায়। কুলিদের দৈনন্দিন জীবনচিত্র গল্পটিতে অত্যন্ত দরদের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন লেখক।গল্পের নায়ক পাঁচুর যে জীবনচিত্র উপস্থাপিত হয়েছে- তা শুধু একজন পাঁচুর জীবনচিত্র নয়, সব কুলিদেরই জীবনচিত্রের প্রতীকি চিত্র হয়ে উঠেছে।সর্দারের অত্যাচারে পাঁচুর ভেতর যে ক্ষুব্ধতা, সংগ্রাম, বিদ্রোহ, প্রতিশোধপরায়ণতা জন্ম নেয়- তা শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের সংগ্রামেরই চিরায়ত রক্তাক্ত আর্তচিৎকার।পাঁচুর ক্ষেত্রে সে চিৎকার তার বুকের ভেতর আর্তনাদ করে আছড়ে মরে, রক্তাক্ত হয়, কিন্তু বাস্তবে সে কিছুই করতে পারে না।</p>
<p style="text-align: justify">‘বৃত্ত’ গল্পটিতে কুলিদের দৈনন্দিন জীবনচিত্রই মূল বিষয় হিসেবে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে।তবে শ্রেণি-বৈষম্য বা শ্রেণি দ্বন্দ্ব- এ গল্পের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-3/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-৩) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/18/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/18/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 18 Jun 2022 04:28:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1991</guid>

					<description><![CDATA[‘কুমকুম’ গল্পে আমরা দেখি, গল্পটির নায়িকা কুমকুম তার পাড়া-মহল্লায় সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও সবার থেকে সে আলাদা, কথাবার্তায় চালচলনে স্বাধীনচেতা স্বভাবের।পাড়া-মহল্লায় সে দুমুর্খ বলে পরিচিত, আবার তার রূপের খ্যাতিও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘কুমকুম’ গল্পে আমরা দেখি, গল্পটির নায়িকা কুমকুম তার পাড়া-মহল্লায় সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও সবার থেকে সে আলাদা, কথাবার্তায় চালচলনে স্বাধীনচেতা স্বভাবের।পাড়া-মহল্লায় সে দুমুর্খ বলে পরিচিত, আবার তার রূপের খ্যাতিও যথেষ্ট।তার সাহস,স্পষ্টবাদিতাকে পাড়ার বখাটে-মাস্তান ছেলেরা ভয় পায়।আবার প্রেমেও সে নিঃসঙ্কোচ, স্পষ্টবাদী।</p>
<p style="text-align: justify">‘কুমকুম’ গল্পে নারীদের সমাজের শেকল ভেঙে নিজস্ব অধিকার বোধে সচেতনতা এবং প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশে দ্বিধাহীন নিসঙ্কোচ সাহসিক একটি চিত্র আমরা পাই।সময়ের প্রেক্ষিতে যা একটি সাহসী উচ্চারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।আমরা এখনো দেখি নারীরা নানাভাবে অপমানিত হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন, এমনকি আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন।এ সময়ের প্রেক্ষাপটেও কুমকুম বাঙালি নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিবাদী এক চরিত্রই শুধু নয়, প্রতিনিধিও।</p>
<p style="text-align: justify">পাড়ার খারাপ ছেলেদের দলপতি রাজ্জাক।মহল্লায় মেয়েদের নিয়ে আজব টাইপের অদ্ভুত সব মিথ্যে ও নোংরা গল্প তৈরি করে বন্ধুদের বাহবা কুড়ায় সে।একদিন কুমকুমকেও প্রেমের প্রস্তাব দেয় বন্ধুর মাধ্যমে একটা চিঠি পাঠিয়ে।কুমকুম সেই চিঠি পেয়ে সরাসরি রাজ্জাকের সামনে এসে তীর্যকমিশ্রিত ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করে।</p>
<p style="text-align: justify">বাকপটু বখাটে রাজ্জাক তখন বোকা বনে যায়।ব্যারণ কোম্পানির বড় সাহেবের বউ রাজিয়া বানু কুমকুমকে বেশ স্নেহ করেন।কুমকুম তার কাছ থেকে প্রায়ই গল্পের বই নিয়ে পড়ে।রাজিয়া বানুর কাছে কুমকুমের এরকম ছোটখাটো উপদ্রব নিয়মিত হয়ে উঠলেও তাকে স্নেহ করেন। তার বাড়িতেই একদিন কুমকুমের সঙ্গে দেখা হয় আমিন চৌধুরীর। আমিন চৌধুরী রাজিয়া বানুর খালাতো ভাই।এই আমিন চৌধুরীকে নিয়ে রসকিতা করতেও ছাড়ে না সে।একদিন আমিন চৌধুরী ঝড়ের কবলে পড়ে মাথা ফাটিয়ে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে বাসায় ফেরে।মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা দেখে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে কুমকুম।তার সেবায় প্রেমে কুমকুম গভীরভাবে মগ্ন হয়ে পড়ে সে।আমিনকে জড়িয়ে তার নামে পাড়ায় বিভিন্নরকম খারাপ কথা তৈরি হয়।রাজিয়া বানুর কানেও একদিন সে কথা পৌঁছে যায়।তিনি এসব কথাকে মিথ্যে এবং যারা এসব অপপ্রচার করছে তাদের মনকেই ‘ছোট’ বলে কুমকুমের কাছে আপন মনে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন- ‘ছি ছি, লোকগুলোর মন কি ছোট, কি মিথ্যে সন্দেহ ওদের?’</p>
<p style="text-align: justify">কুমকুম এ সময় রাজিয়া বানুর কথায় বাধা দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় আমিন আর তাকে নিয়ে লোকে যা বলাবলি করছে তা মিথ্যে নয়। রাজিয়া বানু নিজেও এতে বিস্মিত হন।এরপর আমরা দেখতে পাই, ‘চার পা এগিয়ে, দু’পা পিছিয়ে’ আমিন যখন হাঁটছে তখন কুমকুম এই দৃশ্য পরখ করে দ্রুত এগিয়ে তার কাছে যায়।তখন পার্কের কোণে ‘রাস্তার লোক’ রাজ্জাক এবং তার সঙ্গীরা জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিচ্ছে।এসবের কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে সমস্ত দ্বিধাকে জয় করে সে আমিনকে হাত ধরতে বলে।আমিন তার হাত ধরতে সাহস করে না।কুমকুম তখন তাকে রীতিমতো ধমকাশ্রিত ভঙ্গিতে বলে, ‘আমার হাত ধর’। তখন কুমকুমের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দেয় আমিন।এরপর তারা এগুতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">কুমকুম এ সমাজের সাহসী নারী মুখ।জীর্ণতা ভেঙে, গতানুগতিকতাকে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে, সামাজিক সংকীর্ণতা দুপায়ে মাড়িয়ে এই সমাজের বুকেই প্রেমে-সাহসে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় সঙ্কোচ-দ্বিধাকে পিষে, নিজের অধিকার-ভালোবাসায় তখন উজ্জ্বল এক নারী স্মারক হয়ে ওঠে সে। আর এখানেই একজন কুমকুম সাধারণ থেকে অসাধারণ ও অনন্য হয়ে উঠেছে।কুমকুম যেভাবে নষ্ট সমাজচক্ষুর মাঝে দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে আমিনের হাত ধরে তা এই সমাজের অবরুদ্ধতা ভেঙে নারীকে খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার একটি সাহসী উচ্চারণ হিসেবেই বিবেচনা করা যায়। ফলে এটি চমৎকার একটি প্রেমের গল্প হয়েও ব্যাপক অর্থে ভিন্ন ব্যঞ্জনা ও গুরুত্ব বহন করে।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পকারের সযত্ম সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক একটি গল্প ‘রুচিরা’।গল্পটিতে পাশাপাশি ফ্ল্যাট বসবাসরত দুটি পরিবারের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত নানান বিষয় বিশেষ করে তাদের রুচিশীলতার বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিক ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে।ইঞ্জিনিয়ার খালেদ আর বাংলার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ক্লাসের ছাত্রী ফরিদা নতুন দম্পতি।বাহ্যিকভাবে তারা অত্যন্ত সুখী একটি পরিবার।চালচলন, কথাবার্তায়, সাজগোজ সর্বক্ষেত্রে ফরিদার মধ্যে একটি রুচিশীলতা কাজ করে।এমনকি গান পছন্দের ক্ষেত্রেও।এ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র ‘উত্তমপুরুষ’ এবং তার স্ত্রী এ দুজনের কাছেও মনে হয়েছে আসলেই ওদের ‘সুখ হিংসে করার মত’।</p>
<p style="text-align: justify">উত্তমপুরুষ ব্যক্তির সঙ্গে ফরিদার রবীন্দ্রসংগীত পছন্দের একটি ভারি মিলের দাবি সে কারণেই।সামান্য সময়ের ব্যবধানে সে দাবি অর্থহীন হয়ে যায়। উত্তমপুরুষ ব্যক্তিটি ‘রেকর্ড প্লেয়ারের ডালা খুলে সুইচ অন করে’ ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না সখি, বেলা হল মরি লাজে’ গানটি বাজাতেই ফরিদা ‘অদ্ভুত ত্রাসে’ উঠে দাঁড়ান।প্রায় চিৎকার করে বলেন ‘থামান, থামান এ গান থামান&#8230; ছি ছি কি রুচি আপনার।’</p>
<p style="text-align: justify">ফরিদার এ ধরনের আচরণ তার স্বামী খালেদের কাছে ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে বিবেচিত।যা উত্তমপুরুষ চরিত্রের কাছে বিস্ময়ের বিষয়।এরপর গল্পটি এগিয়েছে মনস্তাত্ত্বিকতায়।খালেদ সাহেব স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য বারবার বিনীত ভঙ্গিতে ক্ষমা চেয়ে কথা বলাকে একটা মানসিক সমস্যা হিসেবে ভেবেছেন উত্তমপুরুষ।মানসিক ও শারীরিক অতৃপ্তিতে ভোগা খালেদ সাহেব সামাজিকভাবে নিজেকে একজন সুস্থ মানুষ মনে করেন। তার কথাবার্তা আচার-আচরণ তার মানসিক অসুস্থতা এবং একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোর প্রকাশ ঘটতে থাকে।ফরিদা বিয়ে করেও চুমু না খেয়ে, শারীরিকভাবে মিলিত না হয়েও স্বামীকে ভালোবাসতে চায়। শারীরিক সম্পর্ক তার কাছে অশ্লীল ও বিরক্ত মনে হয়।স্বাভাবিক ও অপরিহার্য এই বিষয়টি খালেদ বহুবার বহুভাবে চেষ্টা করেও স্ত্রীকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে একরাতে তাকে জোর করে নিজেই নিজের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।ফরিদা তখন ঘর থেকে ছুটে বের হয়ে পাশের ফ্ল্যাটে যায় এবং উত্তমপুরুষের স্ত্রীর সঙ্গে রাত্রিযাপন করে।এ বিষয়টি নিয়ে উত্তমপুরুষ এবং তার স্ত্রী দুজনে রীতিমতো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।পরের দিন তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয় খালেদের কথাতেই।</p>
<p style="text-align: justify">ফরিদার রুচি আর শ্লীলতাবোধের বাই মাঝে মাঝে বাড়াবাড়িতে পৌঁছে। তখন স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটাকেও সে অশ্লীল ভেবে ঘৃণা করে।<br />
খালেদ বিভিন্নভাবে ফরিদাকে অনুগত করার, স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্ককে বোঝানোর চেষ্টা করেছে।ঘরে ছোট ছোট দোলনা পর্যন্ত এনেছে- যদি এতে সন্তানের আশা জাগে, চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েছে, কিন্তু কোন কিছুতেই সফল হননি তিনি।সে কারণে স্ত্রীকে জোর করে পাবার একটা প্রবণতা তৈরি হয় তার মধ্যে এবং তার প্রয়োগও ঘটে। ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফল ভালো হয় না’ এরকম ধারণা পোষণ করেন উত্তমপুরুষ চরিত্রটি।স্ত্রীকেও এ বিষয়ে নিজস্ব ধারণার কথাটি বলেছেন তিনি।কিন্তু অবাক হওয়ার মতো ঘটনা এই জবরদস্তির ঘটনা খালেদ ও ফরিদার মধ্যে পরের রাতেও ঘটে।উত্তমপুরুষ দম্পতি এ ঘটনা বুঝতে পেরে দরজার কাছে এগিয়ে যান।কিন্তু দরজার বাইরে তালা লাগানো দেখে রীতিমতো বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে দরজার একেবারে কাছ থেকে ফিরে আসেন নিজেদের ফ্ল্যাটে।এরপর অফিসের জরুরি কাজে উত্তমপুরুষ মফস্বল শহরে যান।সাতদিন পর উত্তমপুরুষ লোকটি ফিরতেই নিজের ঘরে ‘কেন যামিনী&#8230; মরি লাজে’ গানটি বাজতে শুনে অবাক হন।এরপর রীতিমতো বিস্মিত হলেন যখন শুনলেন গানটি ফরিদার পছন্দে বাজছে।ফরিদার দিকে চোখ ফিরে এ যেন এক অন্য ফরিদাকে তিনি দেখেন-কপালে কুমকুমের জ্বলজ্বলে ফোটা, ঠোঁটে গাঢ় রং আর কাঁধকাটা ব্লাউজের বাইরে সুডৌল ফর্সা দুটি নিটোল বাহু।ফরিদার রূপ যেন রাতারাতি বেড়ে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">এ গল্পে নারী চরিত্রের রহস্যময় জটিল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। ভালোবেসে বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ককে যে নারী স্থূলতা মনে করেছে, যে গান তার কাছে অশ্লীল মনে হয়েছে, শত চেষ্টা-কৌশল-চিকিৎসা তাকে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে স্বাভাবিক ভাবাতে পারেনি- সেই নারীই আবার অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত ঘটনার মধ্য দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, রুচির ধরন বদলায়, চেহারা-সুরতে ফুটে ওঠে তৃপ্ততার আভা।নারী চরিত্রে এক জটিল দিক এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে।সে সঙ্গে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাসরত দুটি পরিবারের সামাজিক, আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক একাত্মা হৃয়দবন্ধন তৈরির বিষয়টিও গল্পটির বিষয়বস্তুতে শুধু চমকপ্রদতাই তৈরি করে না- তাৎপর্যতাও বহন করে। আর এ গল্পের মানব-মানবীর জৈবিক প্রবৃত্তি চিরন্তন এই সত্য বিষয়টি ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে।প্রকৃতিগত এই চিরন্তন সত্যটিকে জোর করে অস্বীকার করা যায় না- জীবনের সিঁড়িতে সহজাত আদিম এই প্রবৃত্তি কখনো না কখনো জড়িয়ে যাবেই। আর এটিও সুন্দরেরই এক অনবদ্য রূপ।এই সুন্দরতাই মন-শরীরে বিকশিত হয়ে ওঠে তৃপ্ততার আলো রূপে।মনস্তাত্ত্বিক শৈল্পিকতায় এই জটিল বিষয়বস্তু ‘রুচিরা’ গল্পে চিহ্নিত হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘চেহারা’ গল্পে সমাজের ক্ষত তুলে ধরার চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।সুদর্শনা নারী সমাজে কোনো কালেই যে নিরাপদ নয়- পদে পদে তাদের জন্য বিপদ যে ওত্ পেতে থাকে এবং একটি মাত্র অনাকাঙ্খিত ঘটনা জীবনকে কিভাবে বদলে দিতে পারে- কিভাবে আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন-সৌধ ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে, কিভাবে পারিবারিক সম্মান-খ্যাতিতে আকস্মিক বজ্রাঘাতের মত কলঙ্ককালিমা লেপন হয়ে সমাজজীবনে কতটা বিব্রত অবস্থা সৃষ্টি করে- এসবই আলোচ্য গল্পে মূল উপজীব্য। আশরাফ খানের সুন্দরী মেয়ে সানু।একদিন তারা পারিবারিক কাজে বাইরে বেড়াতে যান।সানু প্রকৃতির নির্মলতায় মনের ডানা মেলে ঘুরে সন্ধ্যায় একা রিকশায় বাসায় ফিরছিল।তাকে একা পেয়ে একদল ছেলে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।ছেলেগুলো কর্তৃক সানুর শ্লীলতাহানি ঘটে।এরপর থেকেই সানু অসুস্থ।পারিবারিক সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে আশরাফ খান এই ঘটনাটি নিজেদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ছাড়া অন্য কাউকে জানাননি।দীর্ঘদিনেও সানু সুস্থতা লাভ না করায় আশরাফ খান মনো-চিকিৎসাবিদ ডা. মঈনউদ্দীন চৌধুরীর শরণাপন্ন হন।তিনি আশরাফ খানের আন্তরিক মিনতিতে সুদূর ময়মনসিংহে যেয়ে চিকিৎসা করতে সম্মত হন। ডা. মঈনউদ্দীন চৌধুরীরর চিকিৎসায় সানু সুস্থ হয়ে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">আশরাফ খান সানুর শ্লীলতাহানির ঘটনাটি গোপন করে একরকম তাড়াহুড়ো করে দ্রুতই তাকে পাত্রস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন।এমএ পাস পাত্র পেয়ে তার সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই শুধু শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে মেয়েকে পাত্রস্থ করেন।বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর বর-কনেকে পর্দায় ঘিরে আয়নায় পরস্পরের মুখ দর্শনের সময় সানু বরের মুখ দেখামাত্রই ভয়ে চিৎকার করে জ্ঞান হারায়।সুবেশি সুশিক্ষিত চেহারা, ভদ্র-মার্জিত, চোখেমুখে বুদ্ধির ছাপসম্পন্ন এই শিক্ষিত বর স্বরূপ পুরুষটির বাহ্যিক চেহারার আড়ালে যে তার আর একটি ভয়াবহ অন্ধকার দিক আছে- যে অন্ধকারের ভয়াল থাবার শিকার সানু নিজেই।তার মুখ আয়নায় দর্শন করা মাত্রই অতীতের ভয়ঙ্কর ঘটনাটি তার মনে পড়ে এবং সে চিৎকার দিয়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।ডা. চৌধুরীরর চেষ্টায় স্বল্পসময়ে সে আবার সুস্থ হয়ে ওঠে।গল্পটিতে একজন মেয়ের সুন্দর চেহারা যেমন তার বিপদের জন্য সহায়ক, তেমনি আর একশ্রেণির পুরুষ আছে যারা বাইরে ভদ্র-মার্জিত শিক্ষিত, ভেতরে নারীলোভী।সমাজচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে নৈতিক স্খলিত এ ধরনের পুরুষেরা সমাজে সভ্য ও ভদ্রতার লেবাস পরে অসংখ্য ও অমার্জনীয় ক্ষত তৈরি করে- লেখক খুব দক্ষতার সঙ্গে সমাজের ভয়াবহ এসব ‘চেহারা’ তুলে ধরতে পেরেছেন। ‘চেহারা’ গল্পে মূলত সমাজের কালোদিকগুলোই শৈল্পিকভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/18/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-২) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 02 Jun 2022 16:04:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1962</guid>

					<description><![CDATA[‘অন্য কোনখানে’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর এক নাগরিক জীবনের জটিলতার গল্প। নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ অভাব-অনটনে পড়ে কিভাবে চরিত্রের স্খলন ঘটান এবং সমাজের উচ্চশ্রেণিতে পরিণত হন তার এক বাস্তব চিত্র এ গল্পে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘অন্য কোনখানে’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর এক নাগরিক জীবনের জটিলতার গল্প। নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ অভাব-অনটনে পড়ে কিভাবে চরিত্রের স্খলন ঘটান এবং সমাজের উচ্চশ্রেণিতে পরিণত হন তার এক বাস্তব চিত্র এ গল্পে ফুটে উঠেছে।</p>
<p style="text-align: justify">এ গল্পের নায়িকা মিস নীলিমা নাসরিন।সে গ্রাম্য সহজ-সরল বিএ ফেল যুবকের স্ত্রী।চাটগাঁর লাভ লেনের ভাঙাবাড়িতে তারা বসবাস করত। স্বামীর টাকা নেই মূলধন নেই।স্বামীর কারণেই এই ভাঙাবাড়ির সামনে মাঝে মাঝেই মোটর এসে দাঁড়াত।ধনাঢ্য মানুষের আগমন ঘটতো। কিন্তু নীলিমা এসবে প্রবল আপত্তি করতো, বাধা দিত এবং নিরুপায় হয়ে কান্নাকাটি করতো।অথচ তাঁর স্বামী অনড়।কারণ নীলিমা তার বিয়ে করা বউ।বউয়ের ওপর তার যথেচ্ছার অধিকার রয়েছে।এই অধিকারকে পুঁজি করে নিজের বউকে বাধ্য করে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গ দিতে, তাদের মনোরঞ্জন করতে।অবশেষে স্বামীর অনৈতিকতা ও অপইচ্ছার কাছে হেরে নীলিমা গ্রাম্যবধূর পোশাক খুলে আধুনিকা হয়ে ওঠে।আর এর পিছনে ইন্ধন জোগায় জোয়ারদার।ঠিক দশ বছরে নীলিমা মোহনীয় ও ধনবতী মহিলাতে পরিণত হয়।বর্তমানে সে কসমোপলিটান ট্রেডার্স-এর সেক্রেটারি।</p>
<p style="text-align: justify">তারই স্বামী আশরাফ আলম তার হেড ক্লার্ক।স্বামীর সামনেই সে ইভনিং রিক্রিয়েশন করার জন্য ওভারসিজ এজেন্সির ডিরেক্টর মি. ডানকান, নজফ খোরাসানি, গ্রীন হিলের জোয়ারদারকে ডাকেন।এ সমস্ত ঘটনায় আশরাফ আলম মলিন বিমর্ষতায় কামরা থেকে বেরিয়ে আসেন। লেখকের ভাষায় যা চিত্রিত হযেছে এভাবে- একটা মৃতদেহ যেন হেঁটে বেরিয়ে আসে খাস কামরা থেকে।সকলে অবাক হয়ে দেখে।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসের জুনিয়র টাইপিস্ট মেঞ্জিসের স্বভাব বউ পাল্টানো।তার দ্বিতীয় বউ তাকে ডিভোর্স দিয়েছে এ কথা অফিসে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। নীলিমা নাসরিন আশরাফ আলমকে ডাকার আগেই সে হাজির হয়ে পদত্যাগ পত্র দিয়েছে।আশরাফ আলম নির্ভয়ে স্ত্রীর মতো সম্মোধন করে কথা বলেছে।তারপর সে বিবর্ণ ও বিমর্ষ বেশে নয় স্বহাস্য ও জীবন্ত বেশে কামরা থেকে বের হয়ে এসেছে।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক তার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-<br />
মেম সাহেবের চেম্বার থেকে আজ আর একটা মৃতদেহ নয়, রক্ত-মাংসের সজীব আরেক আশরাফ আলম যেন বেরিয়ে আসেন।তারপর থেকেই নীলিমা স্বাভাবিক থাকতে পারেননি।দশ বছর আগের স্মৃতি তার ভেসে ওঠে।সমাজের এ দুর্বৃত্তদের প্রতি তার ঘৃণা নিক্ষিপ্ত হয়।স্বামীর ছবিটিতে আগুন ধরিয়ে অ্যাসট্রেতে গুঁজে দেন।ছটফট করে ওঠে তার মনপ্রাণ। ঘামতে থাকেন অবিরত।হঠাৎ সকালে হাউমাউ করে দরজায় আঁছড়ে পড়ে মেঞ্জিস।কারণ, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আশরাফ আলম পালিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি, গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বিশ্লেষণ ও নাগরিক সভ্যতার জীবন-জটিলতার বাস্তব আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।গল্পকার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নগরজীবনে ঘটে যাওয়া অসঙ্গতিগুলোকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">‘আদিম’ মূলত সামাজিক প্রেমের গল্প।জেলে কন্যা লক্ষ্মীকে ঘিরেই এর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।এই গল্পে ইলশার বুকে জেলেদের জীবনযুদ্ধ, সোনাকান্দি গ্রামের মানুষদের জীবন-জীবিকা-সংগ্রাম, আর্থ-সামাজিক, সে সঙ্গে সুন্দর তরুণী-বধূ লক্ষ্মীকে ঘিরে বংশীর প্রেম-ঈষা-হিংসা-প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সোনাকান্দির বিত্তশালী মনসুর তালুকদারের প্রেমার্তি পাঠকের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।লক্ষ্মী চলা চোখের আলোতে মনসুর তালুকদারকে সম্মোহিত করে ইলশা নদীতে বাঁধ দেবার অনুমতি লাভ করিয়ে নেয়।</p>
<p style="text-align: justify">মনসুর তালুকদার নিজেও জানতেন নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে সোনাকান্দি গ্রামের মাঠের পর মাঠ ধান পচে যাবে।অভাব-অনটনে জর্জরিত হবে সাধারণ মানুষ।কিন্তু লক্ষ্মীর চোখের আলোর নাচন আর রহস্যময় শরীরী সৌন্দর্যে তার কাছে সে সব তুচ্ছ হয়ে ওঠে।নদীর বুকে এই বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীর স্বামী যুগল এবং সেকান্দারের মধ্য বাক-বিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সেকান্দারের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়।তখন যুগলভাবে সেকান্দারকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখলে সারা গ্রামের লোক তাদের দিকে ছুটে আসবে এবং আক্রমণ করবে।ফলে যুগলের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়।লক্ষ্মী তা বুঝতে পেরে ছুটে আসবে এবং আক্রমণ করবে।</p>
<p style="text-align: justify">ফলে যুগলের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়।লক্ষ্মী তা বুঝতে পেরে স্বামীকে নির্ভাবনা করে জ্ঞানহীন সেকান্দারকে মায়াবী স্পর্শ বুনে দিতে থাকলে একসময় সে জ্ঞান ফিরে পায়।লক্ষ্মীর স্পর্শে মুহূর্তসময় সে মোহাবিষ্ট হলেও হঠাৎ স্ত্রী সখিনার কথা মনে পড়ে যাওয়ায় তার মোহচ্যুতি ঘটে এবং সে দ্রুত সখিনার কাছে ছুটে যায়।এই দৃশ্য লক্ষ্মীর প্রেমপ্রার্থী বংশী দেখে ফেলে। যুগলের কাছে বারবার অপমানিত হওয়া এবং লক্ষ্মীকে নিজের করে না পাবার কারণে প্রতিশোধপরায়ণ বংশী হয়তো এরকম একটি সুযোগের অপেক্ষাই করছিলো।বংশী বুঝতে পারে রক্তাক্ত সেকান্দারকে দেখে গ্রামের লোক প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে এবং বাঁধ ভেঙে ফেলবে।</p>
<p style="text-align: justify">আর এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সে যুগলকে খুন করার পরিকল্পনা করে।কারণ সে নিশ্চিত-এ খুনের দায় পড়বে গ্রামবাসীর ওপর।সবাই জানবে যুগল গ্রাম্য-বিবাদে খুন হয়েছে।তারপর লক্ষ্মীকে নিয়ে সে চলে যাবে।অর্থাৎ সাগরের নিরুদ্দেশ বুকে।বংশী খুন ঠিকই করে কিন্তু যুগলকে নয়, মনসুর তালুকদারকে।অন্ধকারে বংশী ঠিক চিনে উঠতে পারেনা তাকে। আর যে লক্ষ্মীর জন্য এতসব করলো বংশী- সেই লক্ষ্মীর সজোর ধাক্কাতেই নদীগর্ভে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায় সে।বাঁধ ভেঙে যায়। গহীন স্রোতে ভেসে যায় মনসুর তালুকদার, আর সে সঙ্গে বংশীও।নারী নিজের শরীরি সৌন্দর্য ও চোখের যাদু পুরুষের চোখে-মনে ছড়িয়ে আদিম প্রবৃত্তির নেশা জাগিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার যে চেষ্টা এটিই এই গল্পের প্রধান দিক।</p>
<p style="text-align: justify">এই গল্পটিতে জীবন সংগ্রামের এক অনবদ্য চিত্র পাওয়া যায়।দরিদ্র রূপসী নারীর অসহায়ত্বকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা ধণীশ্রেণির স্বভাবজাত, আর এই অন্যায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার কারণে অসংখ্য মানুষের জীবনে কতটা ভয়াবহ ক্ষতি নেমে আসে, আবার জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য জেলে কন্যা রূপবতী লক্ষ্মীর বিভিন্ন ধরনের ছলাকলার আশ্রয় গ্রহণ, প্রেমে ব্যর্থ বংশীর ঈর্ষা, প্রতিশোধপরায়ণতা গল্পটির বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 26 May 2022 16:37:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1949</guid>

					<description><![CDATA[সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ কিংবা অসংখ্য শাণিত কলাম রচনার জন্যই নয়; পঞ্চাশের দশকে যে কজন কথাশিল্পী জীবন ও সমাজকে পাশাপাশি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ কিংবা অসংখ্য শাণিত কলাম রচনার জন্যই নয়; পঞ্চাশের দশকে যে কজন কথাশিল্পী জীবন ও সমাজকে পাশাপাশি রেখে সমাজবাস্তবতার অম্লমধুর গান গেয়েছেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী (জন্ম ১৯৩৪) তাদের মধ্যে অন্যতম। কেননা শিল্পীমাত্রই সমাজজীবনের অনুসন্ধিৎসু দর্শক।সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অবিচার, অনাচার, ব্যভিচার, জ্বালা-যন্ত্রণা, জীবনের উন্মত্ততা ও নগ্নতাকে পছন্দ মতো শৈল্পিক উপাদানে কলমের আঁচড়ে সাহিত্যে তুলে ধরেন।আবদুল গাফফার চৌধুরীর ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি সামন্তবাদ ও বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার অসঙ্গতিগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।আমরা আলোচ্য প্রবন্ধে তার গল্পের আলোকে বিষয়টি চিহ্নিত করার প্রয়াস পাব।</p>
<p style="text-align: justify">আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রকাশিত গল্প গ্রন্থের সংখ্যা তিনটি। গ্রন্থগুলো হলো ‘সম্রাটের ছবি’ (১৯৫৯), ‘কৃষ্ণপক্ষ’ (১৯৬৬) ও ‘সুন্দর হে সুন্দর’ (১৯৬৭)।</p>
<p style="text-align: justify">‘সম্রাটের ছবি’ গ্রন্থের ‘সম্রাটের ছবি’ গল্পটি সামন্ততন্ত্রের এক উজ্জ্বল মাইলফলক।এ গল্পে আবদুল গাফফার চৌধুরী তৎকালীন সময়ে জমিদারদের বৃটিশপ্রীতির এক অনবদ্য চিত্র তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে দেশ স্বাধীনের পরও বৃশিটদের প্রতি তাদের অন্ধ প্রীতির আলেখ্য চিত্রিত করেছেন।গল্পের নায়ক যুবক জমিদার উমর আলী খান।তিনি বৃটিশদের প্রতি আনুগত্য ও সাহায্য সহযোগিতার জন্য পেয়েছেন ‘খান বাহাদুর’ উপাধি।এর মধ্যে তার জীবন থেকে ঝরে পড়েছে চল্লিশটি বছর।তার সংসার বড় হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে।বিলুপ্তি হয়েছে জমিদারি প্রথা। তবুও প্রাচীন ঐতিহ্যকে লালন করার জন্য তিনি বহন করছেন ‘সম্রাট জর্জ দ্য ফিফথ’ এর ছবি।সেগুন কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটি দীর্ঘসময় পাড়ি দিলেও তার জৌলুস এখনও বিলুপ্ত হয়নি।খান বাহাদুর এখনও ছবিটিকে ঋষিতুল্য ভক্তি করেন।তাইতো চাকরকে কাঁধের ময়লা গামছা দিয়ে ছবিটি পরিষ্কার করতে দেখে খান বাহাদুর হা-হা করে গর্জে উঠে বললেন-<br />
করছিস কি, করছিস কি হারামজাদা? তোর ময়লা গামছা লাগিয়েছিস ঐ ছবিতে! শালা জানিস ঐ ছবি কার, তোর বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষ যার নিমক খেয়ে মানুষ।দৌঁড়ে যা, আমার টার্কিশ তোয়ালেটা নিয়ে আয়। তারপর ফের ধুয়ে রাখিস।</p>
<p style="text-align: justify">অন্যদিকে তার ছেলে মনসুর সদরের তরুণ উকিল।জেলা জজের ছোট জামাই।মনসুরের স্ত্রী রিজিয়া আধুনিক শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। মনসুর বৃটিশপ্রীতিকে উপেক্ষা করে সবার সঙ্গে মিশতে শুরু করেছে। বৈঠকখানার সোফায় সাধারণ প্রজাদের বসবার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু খান বাহাদুর এসব সহ্য করতে পারেন না।তবুও ছেলের যুক্তির কাছে হার মানেন।আরও হার মানেন ছেলে ও বৌমার সুকৌশলে সামন্ততন্ত্রের আঁকড়ে ধরা শেষ চিহ্নটি উৎখাত করার সময়। তখন খান বাহাদুর রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তিনি আরো ক্ষুব্ধ হন চল্লিশ বছর আগে শয্যাগৃহে রাখা মহারাণী ভিক্টোরিয়ার যুবতী বয়সের ছবিটি সরানোর পর। বিবির অজ্ঞতা ও মূঢ়তা দেখে তিনি রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন-‘জান ছবিটি কার? রামা-শ্যামা তোমার আমার নয়, রাণীর-হারম্যাজেস্ট্রি কুইনের; যার রাজ্যে বাস কর।’</p>
<p style="text-align: justify">তবুও বিবি তার জিদ বহাল রাখে।কারণ মেয়ে মানুষতো।মেয়ে মানুষ মেয়ে মানুষকে সহ্য করতে পারে না।তারপরও আবার যুবতী রাণী। তাইতো চল্লিশ বছর পরে বাতের ব্যথায় ক্লান্ত ও মেদবহুল বিবি ছেলের বৌয়ের ঘরে ঢুকে সেই ছবিটি দেখে স্বরসতী বাঁদীকে ডেকে বললেন- ‘ওই রাণী মাগীর ছবি এখানে কেন?’ শুধু তাই নয় বৌমার ঘরে অশ্লীল ছবি দেখে বলেছেন-‘এগুলো কি ছবি বৌ! মেম সাহেবরা ন্যাংটো হয়ে নাচছে। এগুলো কি ছবি? এদের জাত, মান, পর্দাপুষিদা, ইজ্জত আছে?’</p>
<p style="text-align: justify">এখানেই চরিত্রটির মনস্তাত্বিক দিকের পরিস্ফুটন ঘটেছে। ‘সম্রাটের ছবি’ গল্পটি রোমান্টিক আবহে নির্মিত একটি মধুর রসের গল্প। এখানে মানবজীবনের জটিলতাকে উন্মোচিত করে একটি জীবনতত্ত্ব প্রকাশ করেছেন। সার্বিক বিচারে গল্পটি পাঠকনন্দিত হতে পেরেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।</p>
<p style="text-align: justify">‘নীল কমল’ গল্পে ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত পরিবারের অভ্যন্তরীণ জীবন-জটিলতার বাস্তব চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।এ পরিবারের সামন্ত প্রতিভূ শমসের আলী খান।একসময় তার জমিদারির জৌলুস ছিল।কালক্রমে তা নিঃশেষ হতে চলেছে।লেখক তার ক্ষয়ে যাওয়া সামন্ত প্রাসাদের বর্ণনা দিয়েছেন এভোবে-<br />
বসবার ঘরে পা দিয়েই বুঝলাম, জুতোর নিচে কার্পেট বিছানো।যদিও এখন ধূলি-মলিন এবং বিবর্ণ, তবু এককালে যথেষ্ট দাম দিয়ে কেনা হয়েছিল সন্দেহ নাই।&#8230; এককালে হয়তো ঘরটা ‘হোয়াইট ওয়াশ’ করা ছিল, এখন চারদিকে পলেস্তারা খসে শ্যাওলা জমে বিচিত্র বর্ণ সমারহের সৃষ্টি হয়েছে।দেয়ালে নবাব-সুবাদের সাজে সজ্জিত পূর্ব পুরুষদের তৈলচিত্রগুলো অস্পষ্ট, জীর্ণপ্রায় হয়ে এসেছে।একপাশে ইংরেজ প্রভুদের অনুকরণ করতে গিয়ে তৈরি ফায়ারপ্লেসটা এখন স্তুপীকৃত জঞ্জালে ভরে রয়েছে।বসতে গিয়ে সাবধান হতে হলো।সোফার একদিকের আচ্ছাদনী সরে স্প্রিং বেরিয়ে পড়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">এর কারণ শমসের আলীর চরিত্রের স্খলন।সে চাঁদনী রাতে বজরায় গিয়ে রাত কাটায়।পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়স্কা কুলসুমের সঙ্গে তার সম্পর্ক। এমনকি দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম রিজিয়া বানুকে উপেক্ষা করে তার আবার নতুন বিয়ের পরিকল্পনা।মধ্য বয়সে উপনীত হয়েও শমসের আলীর পরিবারে কোন সন্তান নেই।সন্তানহীনতার বেদনায় তাকে আবার বিয়েতে উদ্বুদ্ধ করে।তাই সে পরিকল্পনার বৈরিতা নিয়ে ডাক্তারকে দিয়ে স্ত্রীকে পরীক্ষা করান।কিন্তু বিষয়টি আলাদা।যা তার স্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে-<br />
মদ আর মেয়ে মানুষের পেছনে সব উড়িয়ে এখন প্রায় ফতুর। গেটে যে দারোয়ানটা দেখেছেন, সেও যাচ্ছে না কেবল সাবেক আমলের লোক বলে।নইলে-<br />
এগুলো তার নিঃশেষ হয়ে যাওয়া সন্তানহীনতার কারণ হলেও তিনি নতুন বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অটল।ডাক্তার সাহেব বেগম রিজিয়া বানুর মা হওয়ার কোন অন্তরায় না দেখে শমসের আলীকে পরীক্ষা করতে চান। কিন্তু শমসের আলী বাঁদী কুলসুমের গৌরবর্ণ পুত্রটিকে দেখিয়ে হেসে বলেন এই ছেলেটি তারই ঔরসজাত সন্তান।তখন ডাক্তার মনে মনে বলেন-<br />
দশ বছর আগের সেই সুস্থ সমর্থ শমসের আলী আজ কোথায়? এতদিনের অত্যাচারের পরিণতিই যে এই নয়,তা কি আপনি বলতে পারেন?<br />
সর্বোপরি ‘নীল কমল’ সম্পর্কে বলা যায় লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতারই একটি জীবন্ত গল্পরূপ তাতে কোন সন্দেহ নেই।</p>
<p style="text-align: justify">‘নতুন গোধূলী’ গল্পটি আবদুল গাফফার চৌধুরীর একটি প্রেমের গল্প। এখানে স্বামী-স্ত্রীর প্রেমের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।গল্পের নায়ক জমির একজন খ্যাতিমান গায়ক।গানের নেশা-ই তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।ঘুরতে ঘুরতে সে আশ্রয় পেয়েছে গল্পের নায়িকা হাসিনা বানুদের বাড়িতে।হাসিনা জমিরের কণ্ঠ পছন্দ করে, জমির পছন্দ করে হাসিনার রূপ ও সৌন্দর্য।দুজন দুজনকে ভালোবাসে।কিন্তু তাদের মিলনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় হাসিনার বাবা।সঙ্গত কারণেই তারা পাড়ি জমায় শহরে।কিন্তু গায়ক অবস্থায় জমিরের যে উদাসীনতা তা তাকে নতুনভাবে পেয়ে বসে।ধীরে ধীরে তার গলা বসে যেতে শুরু করে এবং শরীর ভেঙে পড়ে।জমির ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারে তার গান ছেড়ে দিতে হবে এবং পুরোপুরি অবসরে থাকতে হবে।তারপর থেকেই শুরু হয় হাসিনার প্রতি তার উদাসীনতা।কারণ জমির জানে হাসিনা তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে এবং জমিরই তার একমাত্র ভরসা।এজন্যই জমির টিউশনির উসিলা করে সারাদিন বাইরে থাকে। কেউ টিউশনির জন্য এলে তাকে নানা টালবাহানায় ফিরিয়ে দেয়। হাসিনাকে ভুলে থাকার জন্য সে মদ পান করে।হাসিনা বাধা দিলে তাকে প্রহার করে।এমনকি স্বামী-স্ত্রীর রোমান্টিক মুহূর্তেও তাকে সোহাগ থেকে বিরত করে।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবেই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জ্বলতে থাকে জমির।জীবনে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে সে এখনও টিকে আছে।শেষ পর্যন্ত তার জীবনের ট্রাজিক পরিণতি দেখা যায়।গল্পকার গল্পের শেষ পরিণতি টানার জন্য প্রথম থেকেই উত্তমপুরুষের চরিত্র আমদানি করেছেন।সে ‘আমি’র বদান্যতায় জমিরের চিকিৎসা হয়।আর হাসিনা বানু খুঁজে পায় এক নির্ভরতার প্রতীককে।জমির ভালো হয়ে ওঠে এবং এর ছয় মাস পরেই আকস্মিকভাবে তার জীবনের ইতি ঘটে।তার প্রিয়তমা স্ত্রী হাসিনা বানু এতদিন যে আশা খুঁজেছিল তার বুকের ভেতরে আজ সে পাথরের মূর্তির মতো হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে থাকে।তার নির্ভরতা ও আশ্রয় আজ কোথায়? গল্পকার সুকৌশলে গল্পের শেষে তার নির্ভরতা ও আশ্রয়ের সমাধান দিয়েছেন এভাবে-<br />
আমাকে দেখে নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালেন তিনি।ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন, আমি তো বহু আগেই জানতাম ওর কি হয়েছে।তবু কেন আমার কাছে লুকোল। ও জানতো, ওকে আমি বাঁচাতে পারি না। তবু কেন ও বিশ্বাস করল ওকে ছাড়াও আমি বাঁচতে পারি। আর তাই আমাকে বাঁচাতে&#8230; কথা শেষ হল না। হাসিনা আমার দু’হাত একত্র করে মুখে চাপা দিয়ে ভেঙে পড়লেন।চোখের পানিতে আমার হাত ভিজে গেল।তার এতদিনের কান্নার অর্থও আমার কাছে পরিস্কার হয়ে গেল।হৃদয়ের সমস্ত অনুভূতি দিয়ে যে বেদনার উপলব্ধি, তার সান্ত্বনা কোথায়।এখন তাঁর সমস্ত নির্ভরতা এই হাত দু’টির উপর।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি, গল্পটি মানবজীবনের জীবন- জটিলতার বাস্তব আলেখ্য। শুধু সে সময়েই নয়, আজও আমাদের সমাজে অহরহ ঘটে যাচ্ছে এ ধরনের বাস্তব ঘটনা।যা আমাদের চারপাশের জীবনধারার সঙ্গে একিভূত হয় বৈকি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
