<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মোহাম্মদ নূরুল হক &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%95/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 05 Dec 2022 15:16:16 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>মোহাম্মদ নূরুল হক &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>নির্বাচিত দশ কবিতা ॥ মোহাম্মদ নূরুল হক</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/05/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/05/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 05 Dec 2022 15:16:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ নূরুল হক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2348</guid>

					<description><![CDATA[স্রোতের নামতা ডালিম দানার মতো লাল লাল কামুক সূর্যাস্তে লাফিয়ে উঠুক মুঠোবন্দি রাধিকার স্তন। আর— সমস্ত আকাশ সেই শিক্ষিত মন্থন দৃশ্য দেখে নাক্ষত্রিক বেদনায় কেঁদে কেঁদে উঠুক এবার। জ্বলন্ত সূর্যের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>স্রোতের নামতা</strong></span><br />
ডালিম দানার মতো লাল লাল কামুক সূর্যাস্তে<br />
লাফিয়ে উঠুক মুঠোবন্দি রাধিকার স্তন। আর—<br />
সমস্ত আকাশ সেই শিক্ষিত মন্থন দৃশ্য দেখে<br />
নাক্ষত্রিক বেদনায় কেঁদে কেঁদে উঠুক এবার।</p>
<p style="text-align: justify">জ্বলন্ত সূর্যের ঠোঁটে চুম্বন এঁকেছি চণ্ডীদাস।<br />
আয় রজকিনী ঘাটে—রসের দিঘিতে আমি ঢেউ।<br />
নদী নদী জল এনে—আয় তৃষ্ণা মেটাবি দিঘির।</p>
<p style="text-align: justify">জানি তোর কোমরের কলসে প্রেমের বিষ নাচে<br />
তোর চুলের বেণীতে ফণা তোলা সাপের নিশ্বাস<br />
তোর চোখের তৃষ্ণায় পুড়ে খাক সহস্র সমুদ্র<br />
চান্দের আন্ধারে নামে গেলাশ গেলাশ প্রিয়ঘুম<br />
আমি ঘুম পান করি—রাত খাই কালান্ধসন্ধ্যায়<br />
বয়স্করাতের দিঘি ঢেউ তোলে শরীরে আমার।</p>
<p style="text-align: justify">তোর গতরের নদী স্রোতের নামতা শেখে নাই?</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>উত্তরবাঁকের মেঘ</strong></span><br />
উত্তরবাঁকের মেঘে জ্বলে ওঠে চান্দের আন্ধার<br />
জলসত্রে নোনা জল। নদীতে বৈশাখ।</p>
<p style="text-align: justify">দুই ফর্মা মেঠোপথে গলে পড়ে মুদ্রিত আকাশ!</p>
<p style="text-align: justify">এসো সখী রজকিনী, জলসত্র খোলো<br />
হাঁটু গেড়ে বসে আছি হাছন-লালন।</p>
<p style="text-align: justify">অসুখী বয়সী রাতে ভেসে যাচ্ছি ধূলোস্রোতে আমরা কজন।<br />
রাতগুলো ক্লান্তিহীন। সিলিংফ্যানের হাওয়ারা—<br />
কেঁপে কেঁপে ঘুমুচ্ছে দেয়ালে।<br />
শুধু আমরা কজন নির্ঘুম চাঁদের সঙ্গী।<br />
বসে আছি পবিত্র নরকে। পান করে গলিত জোছনা আর তার<br />
অপরূপা রূপ।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সমুদ্রগামী। বৃত্তাকার জলবৃন্তে জেগেছে বাতাস।<br />
অসীম জটিল জলে ডুবছে হৃদয়।<br />
আমার বুকের নদী ঢেউ তোলে আজ কারো তিল বরাবর!<br />
পাড় ভাঙে। ঢেউ ভাঙে তোমার ঠোঁটের কোণে তীব্র আলিঙ্গনে।<br />
চুম্বনে অনীহা বুঝি! চুলগুলো দ্রোহী হয়ে উঠছে এখন।<br />
চুলগুলো মেঘরাতে বয়স্কশ্রাবণ।</p>
<p style="text-align: justify">কারা আজ পাঠ করে কুয়াশার শ্লোক?<br />
একরত্তি স্বপ্নবাজ খরার মৌসুমে<br />
নির্বিরোধী পঙ্ক্তির বাসর শয্যায়<br />
ডেকে আনি বন্ধুদের দৃষ্টির অঙ্গার।<br />
পৌরাণিক জলসত্র ভেসে যায় ঘুমন্ত নগরে।<br />
আমাকে ডেকেছে দিঘি—জলের বাকল।<br />
সন্ধ্যারে করেছি মানা বিচূর্ণ বাতাসে—<br />
যেন তার খোঁপা থেকে আন্ধার না ঝরে<br />
নিষেধ মানেনি সন্ধ্যা; শিখেছে ছলনা।<br />
আকাশে ওড়ে না ফড়িঙ—পোড়ে না হৃদয়<br />
রাধিকারা জলপরী পরকীয়া রাতে।</p>
<p style="text-align: justify">অনুজ্বল দিগন্তের ফ্রেমে বসে ছবি আঁকে সতর্ক স্বকাল।<br />
আমার তুলিরা মৃত।<br />
পাহাড়ের আন্ধারেরা পাথরের অশ্রু মুছে দেয়।<br />
অযথা বিকেলগুলো নষ্ট হলে ঈর্ষাতুর মেঘের পাড়ায়—<br />
আজ আর বৃষ্টি হবে?</p>
<p style="text-align: justify">বহুবার কবরের সুনসান নীরবতা ভেঙে আমি<br />
জেগে উঠি—<br />
জেগে ওঠা সমকালে অতীতের দ্রোহী ক্ষুদিরাম।</p>
<p style="text-align: justify">আমার সামনে দ্রুত হেঁটে যায় শহরের প্রধান সড়ক।<br />
লাফিয়ে ওঠে ঘুমন্ত বাড়িগুলো।<br />
উড়ে যায় জানালার কাঁচ।<br />
ক্লান্তি জমে রঙহীন ধুলোর বিকেলে<br />
আর ধূলিজোছনায় স্নান করে আয়নার পুরাণশকুন।<br />
হারমোনিয়ামে গলা সাধি মৃত লখিন্দর;<br />
আমার লাশের গন্ধে বিব্রত ঈশ্বর কাঁদে বেহুলার কোলে।</p>
<p style="text-align: justify">চিঠি আসে। নীল খামে।<br />
খামের ভেতর জাগে অবেলার ঘুম!<br />
এই ঘুম খরস্রোতে ভেসে যাবে আজ!<br />
যদি ভেসে যায়—শিশুঘুম—<br />
প্রৌঢ়রাত্রি বেড়ে যায় অন্ধকার রাতের সমান।<br />
ভরা জোছনার ঢেউ ভাঙে রজঃস্বলা রাতে</p>
<p style="text-align: justify">আর আমি—<br />
হেঁটে যাই—<br />
বাংলার মেঘগ্রামে গান গেয়ে একালের অতুল প্রসাদ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সম্ভ্রান্ত রাত্রির দীর্ঘশ্বাস</strong></span><br />
যখন দ্বিতীয়বার মৃত্যুর স্বাদ পেয়েছি, পুনর্জন্মে সন্দেহ কী!<br />
ধানের গোঁছার ফাঁকে মাথা গুঁজে কামুকবোয়াল<br />
লেজ নাড়ে শিকারের ঘ্রাণে—<br />
তখন বিকেল নামে—সূর্যের আন্ধারে লাল মেঘ।<br />
মৃত্যুর আগে দেখেছি—<br />
ঝাঁক ঝাঁক লাল মেঘ রঙ মাখে দিগন্তের স্লেটে।<br />
সন্ধ্যার অঙ্গারে ডুব দেয় চাঁদ দিগন্তের পিঙ্গল আঁচলে<br />
তখন সম্ভ্রান্তরাত্রি নামে দীর্ঘশ্বাসে<br />
মাইল মাইল রাত পাড়ি দিয়ে কবে কোন বঞ্চিত পেয়েছে—<br />
কাঙ্ক্ষার আকাশ?<br />
সতৃষ্ণ আন্ধারে পুড়ে দীক্ষিত রাতের ডাকঘর<br />
এই রাতে লালন কোথায়?<br />
কতকাল একতারা বাজেনি প্রান্তরে!</p>
<p style="text-align: justify">সম্পর্ক গড়িনি।<br />
. ভাঙবো কোন হিম্মতে?<br />
একরাত ক্লান্তি জমে—একরাত বাড়ে অবসাদ<br />
একমুঠো প্রেমে বাড়ে দীর্ঘতম নদী<br />
এক নদী জলে ডোবে বোকা চণ্ডীদাস<br />
ধর্ষিতা চান্দের স্বেদ ডেকে আনে কামান্ধআন্ধার।<br />
চিরকাল রিক্ত হাতে ফিরে যায় দেবতার কামুকনিশ্বাস?</p>
<p style="text-align: justify">শরীরের ক্ষুধা যত বাড়ে, তত কমে পাপ-পুণ্য ভয়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সময়</strong></span><br />
উড়ছে দেখে মেঘরমণী বাতাসে নির্ভয়ে<br />
আমার দু‘চোখ থমকে গ্যাছে অনন্ত বিস্ময়ে।<br />
মেঘরমণী মেঘ নয় যেন নারীর কোমল মন<br />
শহর ছেড়ে উড়ছে বুঝি হাওয়ায় অনুক্ষণ?</p>
<p style="text-align: justify">ও রমণীর নিরীহমন—নিবিড় চুলের ভাঁজ<br />
তোমার সঙ্গে পালিয়ে যাব শহর ছেড়ে আজ<br />
এই শহরে আবর্জনাই বেশি মূল্যবান<br />
হট্টগোলে কেউ শোনে না কালান্তরের গান।</p>
<p style="text-align: justify">আবর্জনার গন্ধে এখন বাতাস ভীষণ ভারী<br />
ও সখী মেঘ দাও পাঠিয়ে তোমার সুনীল শাড়ি<br />
তোমার শাড়ীর ভাঁজে ভাঁজে নেব আমি খুঁজে<br />
প্রিয় নারীর চোখের ভাষা অবাধ্য চোখ বুজে।</p>
<p style="text-align: justify">ও সখী মেঘ—রমণীর মন পুড়ছি ভীষণ জ্বরে<br />
তোমার সঙ্গে উড়তে যে চাই—অনন্তপথ ধরে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>রোদের আঁচড়</strong></span><br />
চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা মানুষের চোখ আঁকে ছাদের আকাশ<br />
তারাগুলো মরে গেলে গলে যাওয়া রাতগুলো ঠিক জেনে যায়—<br />
একবার নদীদের ধর্মঘটে কবিতারা ঢেউ এনেছিল।<br />
সেবার শিখেছিলাম—চূড়ায় উঠতে নেই; চূড়া খুব ছোট<br />
আমি জানি মুঠোভর্তি নদীগুলো কোনোদিন চূড়ায় ওঠেনি।</p>
<p style="text-align: justify">সম্পর্কের বেণী ধরে পতনের পাণ্ডুলিপি পাঠ করো যদি<br />
ইতিহাসে ধূলো জমে, বাতাসেও লাগে সেই রোদের আঁচড়<br />
একঝাঁক অন্ধকার খুঁটে খায় চূড়োর উত্থান—<br />
পতনের নীতি আছে—ঘৃণারও ইতিহাস।<br />
হয়তো নিখিল নীলে ছবি আঁকে চিরঅন্ধ আলোর সন্ত্রাস;<br />
আমাকে উন্মাদ ভেবে মাইল-মাইল রাত গিলে গিলে খায়।<br />
প্রতারক চিত্রকর;<br />
আমাকে পায় না খুঁজে মিছিলের আগে-পরে গোয়েন্দা বায়স!</p>
<p style="text-align: justify">এই নাও সান্ধ্যনদী; সূর্য মরে গেলে দিয়ো মাতাল চুমুক<br />
আমার পকেটভর্তি তৃষাতুর চৈত্রের আকাশ<br />
মগজে স্লোগান তুলে জেগে থাকে রাতগুলো আলোর কাক্সক্ষায়।</p>
<p style="text-align: justify">চূড়ায় ওঠে না নদী—যে ওঠে সে পুড়ে মরে তুমুল ঘৃণায়।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ক্রীতদাসের ইতিকথা</strong></span><br />
বন্ধুরা জানেন—কবির ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হয় না কখনো।<br />
কবি বলেছেন, মানুষেরা ফিরে যাচ্ছে দাসযুগে।<br />
সঙ্গমে অনীহ তারা, ধর্ষণে তাই সুখ খোঁজে।<br />
মানুষেরা খুন করে মানুষের আশা, খুন করে আশ্বাস-বিশ্বাস।<br />
এইসব মানুষের রমণ-গমণ-ক্রোধ সবই দাসের মতন।</p>
<p style="text-align: justify">ক্রীতদাসেরা<br />
কে কার আগে খুলবে নিজের মেরুদণ্ড, নামে এই প্রতিযোগিতায়;<br />
কে কত মেরুদণ্ডহীন, কার ঘটে কত তেল, সকলই গরল ভেল<br />
যদি না কাজে আসে, মনিবের চরণমালিশে।<br />
এই তেলমালিশেও আছে নানা কায়দা কানুন।<br />
অকারণেই কারও-কারও মাথা নত হয়।<br />
কারও-কারও মেরুদণ্ড খুলে পড়ে অবিকল কেঁচোর মতোন।<br />
আর তারা গড়াগড়ি খায় অর্থেশ্বরের পায়ে চুমো খেতে-খেতে!</p>
<p style="text-align: justify">সবচে গোপন সত্য—ক্রীতদাসেরা দাস হতো দ্বৈবচক্রে<br />
আজকাল মানুষেরা ভালোবাসে কৃতদাস হতে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>মানুষ কেন আত্মহত্যা করে</strong></span><br />
হঠাৎ মেঘে ভেসে এলো আওয়াজ<br />
আকাশ ভরা চাঁদের আলাপন<br />
তারারা গায় মন খারাপের গান<br />
মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ যদি কেঁদে ওঠে নদী<br />
পাহাড়ও কি উড়াল দিতে চায়<br />
সাগর আমার সহপাঠী হলে<br />
হাজার মাইলের রাত্রি তবে কার?</p>
<p style="text-align: justify">রাত্রি তো নয়, সকালও নয়, তবু—<br />
সূর্যকান্ত শিশুবৃক্ষে ছায়া<br />
কাঁপলো কেন? হাসলো কেন হাওয়া?</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ কেন তারারা আজ রাতে<br />
যমুনা নয়, গোমতীও নয়, তবে—<br />
মেঘনায় এলো কবিতা ভাসানে?</p>
<p style="text-align: justify">কে বলেছে কবিতা পাঠ? কে?<br />
জীবন ঘষে প্রশ্ন তোলে যে!<br />
আঁধারজোড়া রাত্রি আছে, রাতও<br />
তবুও নদী আদিম প্রশ্ন তোলে—<br />
মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>জংলি কুসুম</strong></span><br />
যদি ভুল করে কোনো ভুলফুল ফোটে তোমাদের ছাদে<br />
জেনে রেখো সে ভুল আমি;<br />
জেনে রেখো তোমার খোঁপায় ঠাঁই হলো না<br />
তাই ফুটেছি অকালে—হৃদয়ের দাবি নিয়ে জংলি কুসুম!</p>
<p style="text-align: justify">কাচের দেয়াল ঘেরা তুমি-আমি-আমাদের পৃথিবী<br />
তবু কেন মনে হয়—এই ছুঁই এই ছুঁই?<br />
আহারে মানবস্বপ্ন! দেয়ালের ওপারেই থাক!<br />
আমাদের বিশ্বে শুধু বয়ে যাক প্রেমের জোয়ার।</p>
<p style="text-align: justify">কোনো রাজকন্যা নয়, না কোনো স্বর্গের দেবী<br />
তোমাকে চেয়েছি শুধু শর্তহীন আঁধারে-আলোয়<br />
অনন্ত পথের শেষে দাঁড়িয়ে থেকেছি বহুকাল<br />
পথ শেষ হয় তবু, দেখা আমি পাই না তোমার</p>
<p style="text-align: justify">মনে হয় এই ছুঁই এই ছুঁই<br />
জানি তুমি পথের শেষে নেই, আছ পথের ওপারে।</p>
<p style="text-align: justify">ফুটেছি বুনোফুল পুকুর ঘাটে, ক্ষেতে ও খামারে<br />
পায়ে পায়ে চুমো খাই সকালে-বিকালে<br />
যদি তুমি ভুল করে হাতে তুলে নাও,<br />
যদি ভালোবাসা পাই—<br />
ফুটেছি গোপনে ফুল, টবে নয় ছাদের কিনারে!</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দুরন্ত দুপুর</strong></span><br />
নাটাইফলের মতো বাঁকা পথেরা দিন শেষে<br />
নিরস কোনো খবর নিয়ে আসে।<br />
আমি তখন মধ্যরাতের লাল ডায়েরি লিখি<br />
কে এলো আর কে পালালো সে খবরে আর<br />
ঘুমকাতুরে উড়ন্ত রাত পোড়ে না ক্যানভাসে।</p>
<p style="text-align: justify">আজও তেমন হদ্দনবিস, আজও তেমন নাদান<br />
মেঘ দেখেও ঝড় বুঝি না—মুখ দেখেও মন<br />
মূর্খ আছি তেমনই ঠিক, যেমন ছিলাম প্রেমে<br />
নাটাইফলের নিরস স্বাদে কাকে মনে পড়ে?</p>
<p style="text-align: justify">কেমনতরো স্মৃতিকাতর, কেমন মনের ভুল<br />
একলহমায় হাওয়া লিখি—একমুহূর্তে মেঘ<br />
এবার যদি ফিরে আসে পাখি<br />
আর দেব না পায়ে শেকল, আকাশ থাকুক বুকে।</p>
<p style="text-align: justify">আয়রে আমার ঘুমতাড়ানি, আয়রে ডাকাত সুর<br />
তোর বুকে আজ খুন হয়ে যাক দুরন্ত দুপুর।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>লাল মাছি</strong></span><br />
একটি লাল মাছির গান শুনে জেগে উঠে দেখি<br />
আমার সামনে তুমি—<br />
অন্ধনদীর সতীন হয়ে বসে আছ একা একা!<br />
আমি স্রোতের নামতা ভুল করে গেয়ে উঠলাম<br />
তোমার নামে নিটোল কোনো সন্ধ্যার স্বরলিপি।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের দক্ষিণের বারান্দায় নাকি বহুদিন<br />
ঘুমিয়েছিল সম্ভ্রান্ত রাত<br />
অথচ রাত্রির গানে কোনোদিন সুর সাধিনি!</p>
<p style="text-align: justify">আমি বাউল ছিলাম; তেপান্তরে হাঁটিনি কখনো?<br />
অথচ তোমরা শুধু শুনে গেলে তীব্র পদধ্বনি!<br />
অন্ধ রাতের মগজে সূর্য ডুবে গেলে—<br />
আমি একা পার হব লাল মাছি জেগে থাকা মাঠ?</p>
<p style="text-align: justify">কাউকে চাই না আজ সূর্যকান্ত রাতের শয্যায়!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/05/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উপ-বিকল্প সম্পাদকীয় ॥ মোহাম্মদ  নূরুল হক</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/06/12/%e0%a6%89%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/06/12/%e0%a6%89%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 12 Jun 2021 14:01:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ নূরুল হক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=826</guid>

					<description><![CDATA[স্রোতের নামতা ডালিম দানার মত লাল লাল কামুক সূর্যাস্তে লাফিয়ে উঠুক মুঠোবন্দী রাধিকার স্তন। আর— সমস্ত আকাশ সেই শিক্ষিত মন্থন দৃশ্য দেখে নাক্ষত্রিক বেদনায় কেঁদে কেঁদে উঠুক এবার। জ্বলন্ত সূর্যের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="color: #ff0000"><strong>স্রোতের নামতা</strong></span></p>
<p>ডালিম দানার মত লাল লাল কামুক সূর্যাস্তে<br />
লাফিয়ে উঠুক মুঠোবন্দী রাধিকার স্তন। আর—<br />
সমস্ত আকাশ সেই শিক্ষিত মন্থন দৃশ্য দেখে<br />
নাক্ষত্রিক বেদনায় কেঁদে কেঁদে উঠুক এবার।</p>
<p>জ্বলন্ত সূর্যের ঠোঁটে চুম্বন এঁকেছি চণ্ডিদাস।<br />
আয় রজকিনী ঘাটে—রসের দীঘিতে আমি ঢেউ।<br />
নদী নদী জল এনে—আয় তৃষ্ণা মেটাবি দিঘির।</p>
<p>জানি তোর কোমরের কলসে প্রেমের বিষ নাচে<br />
তোর চুলের বেণীতে ফণা তোলা সাপের নিশ্বাস<br />
তোর চোখের তৃষ্ণায় পুড়ে খাক সহস্র সমুদ্র<br />
চান্দের আন্ধারে নামে গেলাশ গেলাশ প্রিয়ঘুম<br />
আমি ঘুম পান করি—রাত খাই কালান্ধ সন্ধ্যায়<br />
বয়স্করাতের দীঘি ঢেউ তোলে শরীরে আমার।</p>
<p>তোর গতরের নদী স্রোতের নামতা শেখে নাই?</p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>লাল মাছি</strong></span><br />
একটি লাল মাছির গান শুনে জেগে উঠে দেখি<br />
আমার সামনে তুমি—<br />
অন্ধনদীর সতিন হয়ে বসে আছ একা একা!<br />
আমি স্রোতের নামতা ভুল করে গেয়ে উঠলাম<br />
তোমার নামে নিটোল কোনও সন্ধ্যার স্বরলিপি।</p>
<p>আমাদের দক্ষিণের বারান্দায় নাকি বহুদিন<br />
ঘুমিয়েছিল সম্ভ্রান্ত রাত<br />
অথচ রাত্রির গানে কোনওদিন সুর সাধিনি!</p>
<p>আমি বাউল ছিলাম; তেপান্তরে হাঁটিনি কখনও<br />
অথচ তোমরা শুধু শুনে গেলে তীব্র পদধ্বনি!<br />
অন্ধ রাতের মগজে সূর্য ডুবে গেলে—<br />
আমি একা পার হব লাল মাছি জেগে থাকা মাঠ?</p>
<p>কাউকে চাই না আজ সূর্যকান্ত রাতের শয্যায়!</p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>জলের অক্ষরে লেখা রূপকথাগুলো</strong></span><br />
কেবলই স্বপ্ন আর বাস্তবের তুমুল অমিলে<br />
পৃথিবী ও হৃদয়ের দূরত্ব মেপেছি<br />
ভেবেছি—মৃত্যুর দিন মানুষেরা পতঙ্গস্বভাবে<br />
ঘুরে ঘুরে স্বপ্ন দেখে তরল রাত্রির।</p>
<p>আকাশে উড়ন্ত নদী ডানার পালক গিলে খায়<br />
কুমারী স্তনের মতো থরোথরো রোদের অসুখ<br />
বহুদিন বৃষ্টি নেই মাঠে মাঠে গলিত আগুন<br />
আমাদের দৃষ্টি তবু সূর্য ভালোবাসে!</p>
<p>চারিদিকে রোদের মিছিল<br />
বাতাসেরা উড়ে উড়ে মেঘের সন্ত্রাস<br />
চোখের কোটরে নামে ফালি ফালি লাল তরমুজ<br />
ত্রিভুজ বাতাসে ভাসে রোদের পালক<br />
আর ফেরারি যৌবন<br />
শিমুল তুলার মতো নেমে আসে বয়স্ক দুপুরে</p>
<p>আমাদের মনে হতে থাকে<br />
এখানে শ্রাবণ ছিল—বৃষ্টি হতো প্রার্থনার মতো<br />
অবিকল প্লাবনের দিন—<br />
লখিন্দর দেখেছিল গাঙভরা মৃতের ভাসান<br />
মনে হতে থাকে—<br />
এভাবে নীল কমল ফুঁসে উঠেছিল<br />
ক্রোধের আগুন তার জ্বলেছিল রক্তের ভেতর।</p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>উপ-বিকল্প সম্পাদকীয়</strong></span><br />
হঠাৎ ক্ষেপে উঠলে মনে হয় পৃথিবীটা আস্ত বানচোদ<br />
চারিদিকে কেবল স্বার্থের হোলি।</p>
<p>আবাল্য গ্রামে ছিলাম—মাঠের রাখাল<br />
শ্লীল-অশ্লীল বুঝিনি<br />
হঠাৎ ক্ষেপে উঠলে—দিয়েছি গর্জন<br />
আমার গর্জনে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল<br />
তেপান্তরের মাঠ—শান্ত দিঘি, দুরন্ত নদীও।</p>
<p>নগরে এসেছি বলে<br />
ভুলে যাইনি আজও সেই সমুদ্রের ডাক<br />
কেউ লাঠি হাতে সামনে দাঁড়ালে<br />
আজও নির্ভয়ে বলে দিতে পারি—কাউরে চুদি না।</p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>মানুষের কত গল্প থাকে</strong></span><br />
মানুষের কত রকমের গল্প থাকে<br />
কারও বন্ধুর গল্প—<br />
কারও কারও থাকে পূর্বপূরুষের<br />
বীরত্বের গাথা—সমুদ্রজয়ের কথা!</p>
<p>কারও কারও পূর্বপূরুষ ছিলেন<br />
বাবা আদমের মতো<br />
কারও বা আলেকজান্ডার।<br />
এসবই তারা অতীতের গল্পচ্ছলে<br />
বলে।</p>
<p>আর বর্তমান? আরও নাকি উজ্জ্বল।<br />
কারও বন্ধুরা র‌্যাবে আছে,<br />
কারও বন্ধু আর্মিতে<br />
কেউ কেউ ম্যাজিস্ট্রেট<br />
কারও কারও বন্ধু আবার সচিব<br />
এমপি-মন্ত্রীর পুত্র।</p>
<p>এই বন্ধুভাগ্যঅলা যুবকেরা ঠিক<br />
সন্ধ্যার আন্ধারে বসে<br />
এইখানে ঝিলপাড়ে<br />
করে গল্প, নিজেদের আর প্রেমিকার<br />
আর করে বন্ধুদের নানা বীরত্বের।<br />
আমি চুপচাপ শুনি।</p>
<p>আমার কোনও বন্ধু নেই<br />
না সচিবালয়ে না পুলিশে—আর্মি—র‌্যাবে<br />
তাই আমার কোনো গল্প থাকে না<br />
এসব আড্ডায়।</p>
<p>আমার থাকে পেছনে<br />
মেঘের কার্নিশ বেয়ে নেমে আসা<br />
মাইল মাইল রাত্রি—গাঢ় অন্ধকার<br />
আর থাকে—<br />
রূঢ় বর্তমান—সূর্যকে কপালে রেখে<br />
উদয়াস্ত হেঁটে চলা গন্তব্যের দিকে।<br />
আর থাকে<br />
নির্বান্ধব পিচ্ছিল রাত্রির দীর্ঘশ্বাস!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/06/12/%e0%a6%89%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যতের কবিতা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/12/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8e-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/12/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8e-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 May 2021 19:50:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ নূরুল হক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=578</guid>

					<description><![CDATA[বাংলা কবিতার অতীত উজ্জ্বল, বর্তমান অন্ধকার, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল-জীবনানন্দ থেকে শুরু করে আল মাহমুদ-এমনকি বিশ শতকের শেষ মুহূর্তে আবির্ভূত কবিদের রচনায় অতীত-ঔজ্জ্বল্যের প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু আমরা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাংলা কবিতার অতীত উজ্জ্বল, বর্তমান অন্ধকার, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।</p>
<p style="text-align: justify">পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল-জীবনানন্দ থেকে শুরু করে আল মাহমুদ-এমনকি বিশ শতকের শেষ মুহূর্তে আবির্ভূত কবিদের রচনায় অতীত-ঔজ্জ্বল্যের প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু আমরা যে সময়ে এখন বাস করছি, এ সময়টা আশ্চর্যজনকভাবে প্রায়-কবিতাশূন্য। কারণও স্পষ্ট। মানবসভ্যতার কোনো কিছুই দীর্ঘকাল ঊর্ধ্বগামী থাকে না। প্রতিটি প্রপঞ্চ একটি নির্দিষ্ট উচ্চতাপর্যন্ত ক্রমোন্নতির দিকে যায়। এরপর থেকে আবার ক্রমাগত নিম্নমুখীও হয়। বাংলা কবিতার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় জীবনানন্দ-বিষ্ণু দে-সুধীন্দ্রনাথ-বুদ্ধদেব বসু-অমিয় চক্রবর্তীদের আভির্ভাব, বিকাশ ও প্রতিষ্ঠা। এই পঞ্চকবি বাংলা কবিতাকে নিয়ে গেছেন বহুরৈখিকে ও চরম উৎকর্ষে। এরপর থেকে গত শতকের শেষ মুহূর্ত-পর্যন্ত আরও অন্তত ৫/৬ জন বাংলা কবিতাকে দিয়েছেন প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্য। বলা চলে, গত শতকের বারো আনা কালই বাংলা কবিতার ক্রমোৎকর্ষের কাল। কিন্তু সভ্যতার অন্যান্য দিকের মতো কবিতায়ও হঠাৎ ধস নেমেছে-যেভাবে ইতিহাসের একেকটি রাজবংশের পতন হয়েছে। আরও সহজ করে বলা চলে, পরিশ্রমী শিল্পীদের বিপরীতে প্রায় স্টান্টবাজদের সময়ে এসে পড়েছে বাংলা কবিতা। ফলে এখন তেমন আর কবিতা সৃষ্টি হচ্ছে না। যারা লিখছেন, তারা অকবি-স্টান্টবাজদের দৌরাত্ম্যে প্রায় উপেক্ষিত।</p>
<p style="text-align: justify">এ সময়ে যারা কবিতা লেখার কসরৎ করতে চেয়েছেন, তাদের সিংহভাগেরই রচনা হয় তীব্র ভাবাবেগের স্ফূরণ মাত্র, নয় কোনো মতবাদ বা ইচ্ছা-অনিচ্ছার ভাষিক রূপ। যা তারা প্রেমিকা বা কোনো নারীর উদ্দেশে কিংবা মনোবিকলনের বিশেষ মুহূর্তে লিখেছেন। কিন্তু মনের স্বাভাবিক অবস্থায় ওই রচনার শিল্পমান নিয়ে কখনো ভাবেননি। প্রয়োজনও মনে করেননি। এ কথা সত্য-ব্যক্তিগত অভিরুচির প্রকাশ-প্রবণতা আধুনিকদের মজ্জাগত। কিন্তু আজকের যে তরুণরা কবিতা লিখতে এসেছেন, তাদের অভিরুচিই গড়ে ওঠেনি। যা গড়ে উঠেছে, তা হলো অন্যকে বোঝার চেয়ে বোঝানোর, বহির্জগতের নানা প্রপঞ্চ জানার চেয়ে নিজেকে বিজ্ঞপিত করার মানসিকতা। অথচ জীবনানন্দ-সুধীন্দ্রনাথ-বিষ্ণু দে প্রমুখ কবির উত্থানকালে একচ্ছত্র অধিপতি রবীন্দ্রনাথ। লিখে চলেছেন মহৎ সব রোমান্টিক কবিতা-সাধনায় মগ্ন আধ্যাত্ম্যের। চরাচরের দৃশ্য-চিত্র-শব্দ-বর্ণ-গন্ধ অনুষঙ্গে কবিতাকে আধুনিক মানুষের দিনানুদিনের অভ্যাসে পরিণত করেছেন। তবে সে সত্য প্রকাশে নাগরিক জীবনের বৈকল্য-যান্ত্রিক অস্বস্তিকে যতটা গুরুত্ব দিলেন, তারও বেশি পল্লীর বিশ্বাস-পরিবেশ ও প্রতিবেশকে ধারণ করলেন কবিতায়। একই বৈশিষ্ট্য জসীমউদ্দীনের কবিতায়, জীবনানন্দের কবিতায়ও পরিলক্ষিত। জসীমউদ্দীনের পল্লীপ্রেম সত্ত্বেও নাগরিক বোধ থেকে তাকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। আবার জীবনানন্দের কবিতায় গ্রামীণচিত্রের পাশাপাশি নগর জীবনের একাকিত্ব, নৈরাশ্য বিশ্বস্তভাবে চিত্রিত হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">ইতোমধ্যে বিশ্ববাসীর অভিজ্ঞতায় যোগ হয়েছে দুই-দুটি বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। মানুষের জীবনযাত্রায় বিপুল পরিবর্তন ঘটে। স্বপ্নের ভাষা ও ব্যাবহারিক ভাষার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে। কারণ-‘মানব সমাজে রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিবর্তন অনবরত ঘটে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে কোনো বৃহৎ পরিবর্তন আসে না। উপস্থিতকালে জীবিত বুদ্ধিজীবীরা সবাই ভাবেন যে, রাজনীতির পরিবর্তন মানুষের চিন্তার রাজ্যেও বিরাট পরিবর্তনের সূচনা করে। পরিবর্তন হয়তো আসে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আসে না।’ (আধুনিক বাংলা কবিতা: সৈয়দ আলী আহসান)।</p>
<p style="text-align: justify">এদিকে রবীন্দ্রনাথ যুদ্ধের ভয়াবহতাকে প্রত্যক্ষ না করেও অনুভব করার চেষ্টা করেছেন দার্শনিক প্রত্যয়ে-রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। রবীন্দ্রকাব্যের শব্দ-ভাষাশৈলী সহজ সরল সত্য; কিন্তু তা কোনোভাবেই দিনানুদিনের ভাষা নয়। সে ভাষা সহজবোধ্য হলেও পোশাকি। অন্যদিকে জসীমউদ্দীনের কবিতার বিষয়বস্তু যেমন পল্লী থেকে আহরিত, তেমনি ভাষাও পল্লীবাসীর কথোপকথন থেকে সংগৃহীত। ফলে জসীমউদ্দীনের চেতনা প্রকাশভঙ্গিতে ঐকতান সুস্পষ্ট। জীবনানন্দ বিষয় নির্বাচনে যেমন জসীমউদ্দীনের সমগোত্রীয়, তেমনি রবীন্দ্রনাথেরও। কিন্তু শব্দ নির্বাচনে পল্লীর বিষয়-আশয়কেন্দ্রিক হলেও তা সম্পূর্ণরূপে পল্লীর নয়। পল্লী ও গ্রামীণ জনপদ থেকে শব্দ ও বিষয়-আশয় সংগ্রহ করেছেন সত্য; তাকেই অকৃত্রিমভাবে প্রকাশ করেননি। নিজের অনুশীলনগুণে পল্লী থেকে মন্থিত বিষয়-আশয় এবং শব্দসমবায়কে করে তুলেছেন মার্জিত। ফলে তার কাব্যভাষা না-গ্রাম্য, না-শহুরে-সংকরও নয়-হয়ে উঠেছে শিক্ষিতজনেরর মার্জিত-পোশাকি কথ্যভাষা।</p>
<p style="text-align: justify">বাঙালির অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনে প্রথম সংকট ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা, দ্বিতীয় সংকট-প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি। ইংরেজ কবি এলিয়ট যুদ্ধোত্তর বিশ্বকে দেখেছেন রুক্ষ, রুঢ় ও নিরস রূপে। যা ওয়েস্টল্যান্ডের পঙ্ক্তিতে-পঙ্ক্তিতে উৎকীর্ণ। একদিকে বাঙালির মধ্যে একদিকে জাতীয়তাবোধ-দেশপ্রেম প্রবল হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে কোনো-কোনো বাঙালি জাতীয়তার বৃত্তকে সংকীর্ণ বৃত্ত ভেবে দেশপ্রেমকে নিছক আঞ্চলিকতাপ্রীতি হিসেবে গণ্য করেছেন।<br />
প্রথমোক্তদের লক্ষ্য- দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি-রাজনৈতিক স্বাধিকার। এ কারণে তাদের বিবেচনাবোধের কাছে সমগ্র মানবজাতির ঐক্য ও বিশ্বমানবতা গৌণ হয়ে উঠলো। পক্ষান্তরে যারা মানুষকে প্রতিদিনের আচরণ ও ব্যক্তিস্বার্থের কদর্যময় চিত্রের ভেতর আবিষ্কার করতে চাননি, তারা মানুষকে গ্রহণ করতে চাইলেন সব ধরনের দ্বেষ, প্রতিহিংসা, বৃত্ত ও সংকীর্ণতার বিপরীতে। ফলে তাদের চোখে শাসক-শাসিতের সম্পর্কের টানাপড়েন ততটা মূল্য পায়নি, যতটা মানবপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত তাদের চিন্তা। তাদের চিন্তায় প্রকাশিত হয়েছে মানুষের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও ব্যক্তির মনোবিকলনের রূপ। রবীন্দ্রনাথ এ শ্রেণির বাঙালির প্রমূর্ত সত্তা। তার কবিতা যতটা ভ্রাতৃত্ব ও আত্মাধ্যবোধ ব্যঞ্জিত, ততটা শোষিত-পরাধীন জাতির মুক্তির মন্ত্র হয়ে ওঠেনি। এর কারণ-রবীন্দ্রনাথ মানুষকে তার প্রতিদিনের কর্মের মধ্যে আবিষ্কার না করে তাকে স্নেহে-প্রেম-মমতা এবং আত্মনিবেদনের চিরন্তন মানবধর্মের মধ্যে আবিষ্কারের চেষ্টা করেছেন। অথচ ইউরোপের প্রধান কবিরা তখন ব্যক্তির নৈঃসঙ্গ, নৈরাশ্য ও নৈরাজ্যকে প্রমূর্ত করে তুলছেন কাব্যে। তারা আধুনিক জীবনযাত্রায় দেখেছেন বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব, সংশয় এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের উদগ্র বাসনার ভেতর।</p>
<p style="text-align: justify">বাঙালি কবিরা ইউরোপীয় জীবনযাত্রার প্রত্যক্ষদর্শী না হলেও ইয়েটস, পাউন্ড, এলিয়টের কবিতা পঠন-পাঠনের সুবাদে আধুনিক যুগ-যন্ত্রণার স্বরূপ উপলব্ধি করেন। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে কাব্যক্ষেত্রে আধুনিকতার রূঢ়-রূপ চিত্রায়ণে ব্যাপক নিরীক্ষা করলেও, পশ্চিমের জীবনযাত্রার স্বরূপ বঙ্গীয়করণের চেষ্টা জোরালোভাবে করেননি। তবে বুদ্ধদেব বসু ও জীবনানন্দ দাশ বেশি ঋণপরিগ্রহণ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">পৃথিবীতে যত প্রপঞ্চ আছে, তার মধ্যে ধর্ম সবচেয়ে বেশি প্রভাবসঞ্চারী। যখন কোনো একটি বিশেষ প্রপঞ্চ প্রবল প্রতাপান্বিত হয়ে ওঠে, তখন ওই প্রপঞ্চের প্রতি বিমুখ-আস্থাহীন-নিরপেক্ষ মানুষের শ্বাসরোধ হয়ে আসে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবসঞ্চারী প্রপঞ্চের বিরুদ্ধে নিকটবর্তী প্রভাবসঞ্চারী প্রপঞ্চের অনুগামীরা হয়ে ওঠে প্রতিবাদমুখর। এ তথ্য অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান, জাদু, ধর্ম, কবিতা ও শিল্পকলার তাবৎ অঞ্চল সম্পর্কে সত্য।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৩৫ সনের ভারত শাসন আইনের ফলে ভারতবর্ষে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলো, তার প্রভাব শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষা-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেভাবে পড়েছে, সেভাবে স্পর্শ করেনি এই কবিদের। তেমনি লাহোর প্রস্তাব, গান্ধী-নেহেরু-জিন্না মতবিরোধের ফলে দেশেসৃষ্ট দাঙ্গার ঘটনাও তাদের ব্যথিত করেনি। তাদের কবিতায় ব্যক্তির মনোজগত যতটা প্রতিফলিত; বহির্জগতের আচরণ ও কর্মব্যস্ততা ততটা নয়। ফলে প্রেম, হিংসা, বিদ্বেষ, ভালোবাসা, মান-অভিমান কবিতার মূল অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, সামাজিক অস্থিরতার বিষয়গুলো কবিতায় অঙ্গীভূত হতে পারেনি।</p>
<p style="text-align: justify">সমাজে বিভিন্ন সময়ে বিত্তবান ও ক্ষমতাবানদের আচরণে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত অবদমিত থাকে। এই অবদমন থেকে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ। সময়ে এই অসন্তোষই ক্ষোভে পরিণত হয়। ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় বিদ্রোহের। যা চিত্রিত হয়েছে, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুকান্ত ভট্টাচার্য, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সিকান্দার আবু জাফর, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ থেকে শুরু করে রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রমুখের কবিতায়।</p>
<p style="text-align: justify">উপস্থিতকালের যুগযন্ত্রণা সবাইকে সমানভাবে ব্যথিত করে না, আবার জীবনানন্দ-বিষ্ণু দে-সুধীন্দ্রনাথ-বুদ্ধদেব বসুর সতীর্থ কবি সমর সেন তার স্বকালের কবিতা সম্পর্কে ‘সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন—‘আমাদের অভিজ্ঞতা এখনও অনেকটা ধরা করা, বই পড়া; দেশের মাটির, দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে আমাদের পরিচয় বলতে গেলে সবেমাত্র শুরু হয়েছে, আত্মীয়তায় এখনও পরিণত হয়নি। ফলে নতুন প্রভাবে বাগাড়ম্বরের দিকে বাঙ্গালীর স্বাভাবিক ঝোঁক আরও প্রখর হতে পারে, মানবিকতার নামে কীর্তনের ভাবালুতা আবার আসতে পারে এবং কবিরা ভুলে যেতে পারেন যে বুদ্ধি ও আবেগের সমন্বয়ই সার্থক কবিতার উৎস।’ আধুনিক বাংলা কবিতা পূর্ববর্তী বাংলা কবিতারই ধারাবাহিক প্রপঞ্চ, ঐতিহ্যিকও। তবে পূর্ববর্তী ধারা ও রবীন্দ্রকাব্যের সঙ্গে আধুনিক বাংলা কবিতার বেশ কিছু পার্থক্যও সুষ্পষ্ট ছিল। যেমন জীবনানন্দ-সুধীনদত্ত প্রমুখের কবিতার সঙ্গে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ; রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে আবিদ আজাদ, রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লা, ময়ুখ চৌধুরী, আবু হাসান শাহরিয়ার, মাসুদ খান, হেনরী স্বপন, রহমান হেরনী, মজনু শাহ প্রমুখের কবিতার আঙ্গিক-প্রকরণ-ভাষাশৈলীর ক্রম পার্থক্য সুস্পষ্ট।</p>
<p style="text-align: justify">এ ধরনের পরিবর্তনে কতগুলো নিয়ামক কাজ করেছে। প্রধম কারণ পারিবারিক-সামাজিক, দ্বিতীয় কারণ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক। মানুষ সামাজিক জীব, পারিবারিক বন্ধন মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও নির্ভরশীল করে তোলে। পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে ভাই-বোন, বাবা-মা পরস্পরের সুখে-দুঃখে সহমর্মী ও সহযোগী হন। বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান। এদেশের মানুষ মূলত কৃষিপ্রধান জীবিকানির্বাহ করে। মানুষ যতদিন গ্রামে থাকে, ততদিন তাদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধনও সুদৃঢ় থাকে। একেক গ্রামে, একেক পরিবারের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, রুচিবোধ ও আচরণবিধি, পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শ একেক রকম। একজনের সঙ্গে অন্যজনের মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। কিন্তু মানুষ যতই শিক্ষাদীক্ষা অর্জন করে ততই কৃষিভিত্তিক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিতে চায় বেশি। শহরে শিল্পনির্ভর সংস্কৃতি ও পেশাদারিত্ব গড়ে উঠতে থাকে ধীরে ধীরে। শিক্ষিত মানুষেরা গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হয়। বিয়ে থেকে শুরু করে নানা রকম সামাজিক সম্পর্কগুলো নতুনভাবে সৃষ্টি হয়। এক সময় শহরেই থিতু হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে অভিবাসনের ফলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। একেক জনের সঙ্গে একেক জনের চিন্তার ভিন্নতা দেখা দেয়। শিথিল হতে থাকে পারিবারিক বন্ধন। শুরু হয় নিঃসঙ্গতা। এ নিঃসঙ্গতা হয়ে উঠেছে আধুনিক কবিতার বিষয়, একইসঙ্গে আঙ্গিকও। অর্থাৎ বিশ শতকের কবিরা কবিতায় বিষয়-শব্দ-বাক্যে যেমন একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতাকে তুলে এনেছেন, তেমনি ছন্দ-মাত্রা-পঙ্ক্তি বিন্যাসে করেছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। স্বরবৃত্ত-মাত্রবৃত্তে পঙ্ক্তিদৈর্ঘ্যে এনেছেন বৈচিত্র্য। পর্বের সমতা ভেঙে পঙ্ক্তিগুলো করে তুলেছেন বিসমপার্বিক। তুলে দিয়েছেন অন্ত্যমিল। এর পরিবর্তে মধ্যমিলকে দিয়েছেন গুরুত্ব। আর অক্ষরবৃত্তকে এমনভাবে গদ্যের কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন, তাতে গদ্যপদ্যের স্থূল প্রভেদ প্রায় ঘুচে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৩৫ সালের ভারতশাসন আইন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, সাত চল্লিশের দেশবিভাগ, পাকিস্তানপ্রীতি ও পাকিস্তানবিদ্বেষ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের সাধারণ নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরের মুজিব হত্যা, সামরিক শাসন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান। এসব ঘটনার সঙ্গে জাতির অর্থনৈতিক বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। রাজনৈতিক মুক্তি ব্যতীত অর্থনৈতিক মুক্তি অসম্ভব। অর্থনৈতিকভাবে দাসত্বের কারণে ব্যক্তি হয়ে পড়ে ভীরু, মেরুদণ্ডহীন। তাই গত শতকের কবিরা রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তিরও দাবি তুলেছেন। বিষয়-আঙ্গিকের পাশাপাশি তাদের চেষ্টা ছিল কণ্ঠস্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠাও।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু আজকের কবিযশপ্রার্থীরা কবিতার কোনো শর্তই মানতে অনীহ। তাদের মনে কোনো একটি বিশেষ ভাবের উদয় হওয়া মাত্রই তা অক্ষরে-শব্দে-বাক্যে রূপ দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্যের একটি দৃশ্যমান শরীরই সৃষ্টি হচ্ছে কেবল, তাতে প্রাণ-রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ থাকছে না। তারা লিখে যাচ্ছেন, স্বীকৃতিও দিচ্ছেন একে অন্যকে। তাদের প্রায় রচনা আত্মপ্রতারণায় পর্যবসিত হচ্ছে। পূর্ববর্তী কালের কবিদের সাধনা-নিরীক্ষাকে তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন, গ্রহণ করছেন না বোদ্ধাসমালোচক-অগ্রজ কবিদের কোনো পরামর্শ।</p>
<p style="text-align: justify">তাদের মধ্যে আত্মঅহম বড় হয়ে উঠেছে। এই আত্মম্ভরিতাকে প্ররোচনা দিচ্ছে। শিল্পে শত্রু কিছু প্রতিষ্ঠান-সংঘ। এই প্রতিষ্ঠান-সংঘ পুরস্কার-পদকের ফাঁদে ফেলে তরুণদের করে তুলছেন বিপথগামী। দৈনিকলগ্ন সাহিত্যপাতাগুলোও বর্তমানকে কবিতাশূন্য কালে পর্যবসিত করার জন্য দায়ী।‘অসাহিত্যিক সাহিত্য সম্পাদকেরা সাহিত্য পাতা সম্পাদনার দায়িত্ব পেলে পুরো পাতাটিকে পারিবারিক সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের দেয়ালিকায় পরিণত করেন। এই অসাহিত্যিক সাহিত্য সম্পাদকেরা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন লেখকদের প্রতি তাকান ভীত সন্ত্রস্ত চোখে, আর আমলা ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চানাচুর মার্কা রচনা পত্রস্থ করেন যত্মসহকারে। সাহিত্যসমাজে যখন স্নবরি বা স্টান্টবাজ লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকে তখন নির্মোহ, নিরাসক্ত ও নির্লোভ প্রাজ্ঞ ও হৃদয়বান সাহিত্যিকেরা উপেক্ষিত হতে থাকেন।’ (সাহিত্যের রাজনীতি : মোহাম্মদ নূরুল হক)। এই অসাহিত্যিক সাহিত্য সম্পাদকেরা নিজের বান্ধবী, আমলা ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের অকবিতা ছাপিয়ে ছাপিয়ে সমাজে একধরনের ধারণা দিয়ে রাখেন—এই হলো কবিতা। ওই সব অবিতা পরবর্তী সময়ে বই আকারে প্রকাশিতও হয়। কিন্তু পাঠক-সমালোচক গ্রহণ না করলেও ওই সব বই ঠাঁই পায় বিভিন্ন পুরস্কার দাতা প্রতিষ্ঠান আর প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মানীপ্রাপ্ত সাহিত্যবিচারকদের ড্রয়িংরুমে। একসময় ওই বইগুলোর মলাটজুড়ে পুরস্কার জোটে। ওই পুরস্কার প্ররোচিত করে অনতি তরুণদের। তারা ভেবেই নেয়, পুরস্কারই কবি জীবনের বড় প্রাপ্তি। তারা ছোটে ওই পুরস্কারদাতাদের পেছনে। পুরস্কার দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন দলবাজি-গোষ্ঠীপ্রীতি- গোষ্ঠীবিদ্বেষ। তারা নিজেদের গোষ্ঠীর লেখকের রচনা ছাড়া অন্যদের রচনা পড়ে দেখেন না, স্বীকারও করেন না। এছাড়া পুরস্কার না পেলে তারা ওই কবিকেও স্বীকৃতি দেন না। অথচ এই স্বীকৃতি-অস্বীকৃতি ও পুরস্কার-পদকের সঙ্গে কবিতার কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণেই বাংলা কবিতার বতর্মান অন্ধকারে নিমজ্জিত।</p>
<p style="text-align: justify">আর ভবিষ্যতের কবিতা নির্ভর করবে, বর্তমানের সৎ-পরিশ্রমী কবিদের নিষ্ঠা-প্রস্তুতির ওপর। আগেই বলা হয়েছে, সবকিছুরই উত্থান-পতন রয়েছে। তেমনি কাল-কালান্তরের কবিতারও। উপস্থিতকালের কবিদের প্রস্তুতি-নিষ্ঠা কবিতাবান্ধব হলেও ভবিষ্যতে যথার্থ কবিতা-ই সৃষ্টি হবে। হয়তো দশ কি বিশ বা ত্রিশ বছর সময়ের মধ্যেই বাংলা কবিতা ফিরে আসবে, স্বরূপে, স্বমহিমায়। যেমন পদাবলির দীর্ঘকাল পর মাইকেল, এর দীর্ঘদিন পর রবীন্দ্রনাথ; তারপর রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে স্বীকার করেও সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে জীবনানন্দ-সুধীনদত্ত-বিষ্ণু দে প্রমুখের হাতে আধুনিক বাংলা কবিতার সৃষ্টি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/12/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8e-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জলের নুপূর ॥ মোহাম্মদ নূরুল হক</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/12/%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/12/%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 12 Apr 2021 00:32:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ নূরুল হক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=323</guid>

					<description><![CDATA[জলের নুপূর এক. এমন শ্রাবণ রাতে বন্ধু তুমি অনেক দূর ওগো জলের নূপুর। আকাশে আজ মেঘ জমেছে, বাতাসে তার বাঁশি হিজল তলায় কে কার গলায় পরায় প্রেমের ফাঁসি। ওই বাতাসে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>জলের নুপূর</strong></span></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #0000ff">এক</span>.<br />
এমন শ্রাবণ রাতে বন্ধু তুমি অনেক দূর<br />
ওগো জলের নূপুর।</p>
<p style="text-align: justify">আকাশে আজ মেঘ জমেছে, বাতাসে তার বাঁশি<br />
হিজল তলায় কে কার গলায় পরায় প্রেমের ফাঁসি।<br />
ওই বাতাসে ভেসে আসে তারই মধুর সুর।<br />
ওগো জলের নূপুর।</p>
<p style="text-align: justify">কেমন আছ, কোথায় আছ কাকে ভালোবেসে<br />
একবার এসে যাও গো বলে আমার ঘুমের দেশে।<br />
ও গো মধুর মধুর হেসে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার মনের শ্রাবণে আজ ভিজবে তোমার চুল<br />
ঘুমকে আমার দিলাম ছুটি বৃষ্টিকে বকুল।<br />
তুমি আমার মরমিয়া রোদেলা দুপুর।<br />
ওগো জলের নূপুর।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #0000ff">দুই.</span><br />
অকারণে দোষী হলি ওরে পোড়া মন<br />
বলরে বিধি জ্বলছে কেন আমার দু-নয়ন</p>
<p style="text-align: justify">হারিয়ে আমার মনের মানুষ খুঁজি ঘাটে ঘাটে<br />
ওরে ও মেঘ উত্তরে যাও মনের মাঠে মাঠে<br />
যেখানে আজ হারিয়ে এলাম আমার আপন জন</p>
<p style="text-align: justify">বিধিরে তোর আদালতে আমি অপরাধী<br />
নিজের বিচার চাইতে এলাম হয়ে নিজেই বাদী<br />
কেন তারে খুঁজে আজও পোহায় নারে ক্ষণ।</p>
<p style="text-align: justify">সে যে আমার গোলাপ ছিল আমি নিঠুর খুনি<br />
অন্ধরাতে মুগ্ধ আমি নিত্য সে গান শুনি<br />
বিধিরে বল, কেন আমার হয় নারে মরণ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #0000ff">তিন.</span><br />
ওরে আমার হৃদয়রে তুই কাঁদলি জনম ভর<br />
জগৎজুড়ে দেখলি কেবল শূন্য বালু চর।</p>
<p style="text-align: justify">ও তোর পথে পথে তুলছেরে দেখ, কালনাগিনীর ফণা<br />
আজও চিনলি না তুই মনের মানুষ ওরে অবুঝ মনা<br />
ও তোর শূন্যভিটায় সাপের বসত রাখলি না খবর।</p>
<p style="text-align: justify">পথে পথে ঘুরলেকি আর পাবিরে তুই সুখ<br />
মন-মানুষের আঘাত পেলে ভাঙেই জানি বুক<br />
এবার ঘরকে যখন পর করেছিস, পথ হবে তোর ঘর।</p>
<p style="text-align: justify">যারে খুঁজে মরিস পাগল দেখলি না তুই তারে<br />
সে তোর মনের ভেতর বসে কাঁদায় বারে বারে।<br />
ও তুই অন্ধ বলে চিনলি নারে আজও আপন পর।</p>
<p style="text-align: justify">অলঙ্করণ: নূরুল আসাদ</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/12/%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আর কারে তুই ভরসা করিস</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/02/03/%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/02/03/%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 02 Feb 2021 18:17:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ নূরুল হক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=43</guid>

					<description><![CDATA[ঝুলছে দুপুর ঝুলছে দুপুর চার দেয়ালে, ঝুলছে দুপুর মনে উড়ন্ত মেঘ থমকে তাকায় হঠাৎ তারার বনে। দুরন্ত রোদ উড়ছে এখন কারও কি মন পুড়ছে ভীষণ কেউ কি আবার জ্বলছে প্রেমে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="color: #ff0000"><strong>ঝুলছে দুপুর</strong></span><br />
ঝুলছে দুপুর চার দেয়ালে, ঝুলছে দুপুর মনে<br />
উড়ন্ত মেঘ থমকে তাকায় হঠাৎ তারার বনে।</p>
<p>দুরন্ত রোদ উড়ছে এখন<br />
কারও কি মন পুড়ছে ভীষণ<br />
কেউ কি আবার জ্বলছে প্রেমে কোথাও সংগোপনে?</p>
<p>যায় পুড়ে যায় স্মৃতির নদী সাগর ভুলে যায়<br />
হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসলো কি চাঁদ মোমের জোছনায়?</p>
<p>গাছের পাতায় স্বপ্ন দেখে<br />
প্রজাপতি কী দেয় এঁকে<br />
কী উড়ে যায়, কী রেখে যায় কারা সযতনে?</p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>চিনতে যদি মনের বাউল</strong></span><br />
চিনতে যদি মনের বাউল কাঁদতে কি আর করুণ সুরে<br />
একতারাটা বলতো কি আর চলো রে মন অচিনপুরে?</p>
<p>রাখলি না তুই পথের খবর<br />
পথ হলো তোর শশ্মান-কবর<br />
ওই তুই অন্ধ বলে মরলি শুধু বিরান মাঠে ঘুরে ঘুরে।</p>
<p>আজ যারে তুই হানলি হেলা কাল সে হবে কান্নারে তোর<br />
কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাবি, রাতের শেষে আসবে না ভোর।</p>
<p>তাই বলি শোন, ওরে পাগল<br />
ভেঙে দে তোর সকল আগল<br />
সেই পথে চল, যে পথ গেছে মায়া ভুলে অনেক দূরে।</p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>আর কারে তুই ভরসা করিস</strong></span><br />
আর কারে তুই ভরসা করিস ওরে আমার মন<br />
সবাই তোকে পর করেছে নেই তো আপন জন।</p>
<p>তোর আছে আজ শূন্য আকাশ, ধূ-ধূ তেপান্তর<br />
ও তুই অনাথ বলে ঘর পেলি না, রইলি যাযাবর।<br />
দুঃখরে তুই সঙ্গী করিস, কান্নারে তোর ধন।</p>
<p>সুরের নেশায় ডুবলি বলে ঘর হলো তোর পর<br />
পথে পথে ঘুরলিরে তুই কাঁদলি জনম ভর।</p>
<p>মনের মানুষ পর হলো তোর, খবর পেলি নারে<br />
আর কি তারে খুঁজে পাবি, এই ভবসংসারে?<br />
যে গেছে সে পর হয়েছে, ভুলেছে দিন ক্ষণ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/02/03/%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
