<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মোহাম্মদ তৌহিদ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%a4%e0%a7%8c%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a6/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 07 Jun 2021 18:46:55 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>মোহাম্মদ তৌহিদ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>তিব্বতে বাঙালি পর্যটক ॥ মোহাম্মদ তৌহিদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/06/08/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/06/08/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 07 Jun 2021 18:46:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ তৌহিদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=793</guid>

					<description><![CDATA[তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-৫) পথ টেনে নেয় পথিককে। পথিকের পথচলা তাই কখনওই শেষ হয় না। পথিক আসে, পথিক যায়, পথ ও পদচিহ্ন থেকে যায় বহুদিন। তিব্বতের পথে পথে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা যুগ &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-৫)</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">পথ টেনে নেয় পথিককে। পথিকের পথচলা তাই কখনওই শেষ হয় না। পথিক আসে, পথিক যায়, পথ ও পদচিহ্ন থেকে যায় বহুদিন। তিব্বতের পথে পথে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা যুগ যুগ ধরে হেঁটে গেছেন। বেশিরভাগের ইতিহাসই খুঁজে পাওয়া যায় না এখন। তবে, যাদের পদযাত্রায় সমাজ ও জীবনে প্রভাব পড়ে, ইতিহাস তাদের কথা মনে রাখে। বাংলা অঞ্চলের এমনই একজন মানুষ ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর; যাকে তিব্বতিরা এখনও সম্মানের সঙ্গে মনে রেখেছে। তিব্বতের পথে পথে তিনি হেঁটেছেন, স্থানীয় বৌদ্ধধর্মের সংস্কারে রেখেছেন অসাধারণ ভূমিকা। আমি বাংলাদেশের মানুষ শুনেই তিব্বতের কয়েকজন প্রথমে অতীশ দীপঙ্করের নামটাই উচ্চারণ করেছে। কেউ একজন বোঝানোর চেষ্টা করল- ওই.ওইদিকে অতীশ দীপঙ্করের একটি মন্দিরও রয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১০৩৮ সালে বাংলাদেশের বৌদ্ধপণ্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বতে যান। অতীশ দীপঙ্কর বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।<br />
তৎকালীন বৌদ্ধদের মধ্যে ধর্মের যথাযথ শিক্ষা প্রচার করা ছিল তাঁর লক্ষ্য। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি অবশেষে তিব্বত যান এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। তাঁর তিব্বত-যাত্রা বঙ্গ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কের সেতু স্থাপন করে। অবশ্য, পরবর্তীকালে চীনের সঙ্গে বঙ্গ অঞ্চলের ব্যবসায়িক যোগাযোগের অনেক তথ্য পাওয়া যায়।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-795 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/towhid-52-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/towhid-52-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/towhid-52.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">এরপর, ত্রয়োদশ শতকে চীনা বাণিজ্যতরী ও বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ওয়াং তা ইউয়ানের বাংলা ভ্রমণের ইতিহাস জানা যায়। চতুর্দশ শতক থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত চীনের সঙ্গে বঙ্গ অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময়ে প্রচুর তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্যতম চীনের মুসলিম নৌ-কমান্ডার চাং হ্য— যিনি অন্তত দু’বার জাহাজের বিরাট বহর নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান। প্রাচীন ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ দুই অঞ্চলের মানুষকে এক সুতো দিয়ে মালার মতো গেঁথে রেখেছে। চীনের সঙ্গে বাংলা অঞ্চলের এ সম্পর্ক আড়াই হাজার বছরের পুরনো।</p>
<p style="text-align: justify">বলছিলাম জ্ঞানী অতীশ দীপঙ্করের গল্প। বৌদ্ধ পণ্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক অতীশ দীপঙ্কর ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ঢাকার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ। দীপঙ্করের প্রাপ্তবয়সে তিব্বতের রাজা চ্যাং চুবের একান্ত অনুরোধে ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে কয়েকজন পণ্ডিতসহ দীপঙ্কর তিব্বত যাত্রা করেন। যাত্রা পথে বহু স্থানে এ দলটিকে সম্মাননা জানানো হয় বলে ইতিহাসের বইয়ে উল্লেখ আছে।</p>
<p style="text-align: justify">তিব্বতরাজ চ্যাং চুব অতীশ দীপঙ্করের তিব্বতে যাওয়ার পর দীপঙ্করকে তিব্বতের মহাচার্য ও ধর্মগুরু হিসেবে ঘোষণা করেন।</p>
<p style="text-align: justify">জানা গেছে, তিব্বতে থো-লিং বিহার ছিল অতীশ দীপঙ্করের মূল ধর্মচর্চা কেন্দ্র। এ বিহারে তিনি অনেকটা দেবতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এখান থেকেই তিনি তিব্বতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন। তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম থেকে ব্যভিচার দূর হয় এবং উন্নত বৌদ্ধ ধর্মচর্চা শুরু হয়। বর্তমান তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে গৌতম বুদ্ধের পর শ্রেষ্ঠ ধর্মগুরু হিসেবে সম্মান ও পূজা করে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইতিহাসের এমন নানা তথ্য লিপিবদ্ধ করা আছে।</p>
<p style="text-align: justify">চলার পথে এ কার হাতছানি! তিব্বতে দারিদ্র্যমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি নিয়েছিল স্থানীয় সরকার। তার একটি হলো- স্থানান্তর প্রকল্প। অর্থাৎ, দুর্গম ও চাষবাস অযোগ্য জায়গা থেকে অপেক্ষাকৃত বসবাস-যাতায়াত-কাজের জন্য উপযুক্ত স্থানে স্থানীয়দের স্থানান্তর করার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্তির চেষ্টা করা। গণচীনের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও সেই প্রকল্প সফল হয়েছে।এরকম অসংখ্য গ্রামের মধ্যে একটি গ্রাম প্রথমেই পরিদর্শন করা হয়। গ্রামটির নাম শিকাহ্। তবে শিকাহ্‌কে আপাতত শিকেয় তুলে রাখি। কারণ, চলার পথে ভয়ঙ্কর এক সৌন্দর্যের অবিরাম হাতছানি আমাদের অবশ করে দিচ্ছে বারবার।</p>
<p style="text-align: justify">সে আমাদের অতি আপন, অতি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ বা ইয়ালুং চাং পো। কিন্তু বাংলাদেশের নদের সঙ্গে এই উৎসভূমির কোনো তুলনা করারই সুযোগ নেই। চীনের তিব্বত থেকে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা পার হয়ে বাংলাদেশে গিয়ে পড়েছে এটি। ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হিমালয়ের শিমায়াঙ-দাঙ হিমবাহ থেকে। পর্বত ঘেরা অঞ্চলে যে ব্রহ্মপুত্র দেখা যাচ্ছে, চিরচেনা বাংলার সেই নদের সঙ্গে এর কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।</p>
<p style="text-align: justify">আসলে ভাটি অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র আর বরফগলা পানিতে সৃষ্ট স্বচ্ছ ব্রহ্মপুত্রের উৎসভূমির এক রূপ হতে পারে না। হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর বিভিন্ন অংশের রূপ-সৌন্দর্য বৈচিত্র্যময় হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।</p>
<p style="text-align: justify">আকাশের নীল আর পর্বতের সবুজ গাছপালার প্রভাবে নদের পানি মিশ্র সবুজ-নীলাভ রং ধারণ করেছে। প্রচণ্ড উত্তাল অথচ ভীষণ গম্ভীর তার রূপ দেখা যাচ্ছে। নদীটি যেন দু’পাশের পর্বতকে দু’হাত দিয়ে উঁচু করে ধরে রেখেছে! প্রকৃতির অদ্ভুত এ সৌন্দর্য আবিষ্ট করে রেখেছিল আমাদের। চলার পথে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের সঙ্গে ছুটে চলল। স্বচ্ছ টলটলে জলধারা বাংলাদেশে অমন ভিন্ন রং ধারণ করেছে ভাবতেই বিষণ্ণতা চেপে ধরল। এই বিশাল নদী অববাহিকার আয়তন ৫,৮৩,০০০ বর্গকিলোমিটার; যার ৪৭,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার অবস্থান বাংলাদেশে। বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান চারটি উপনদীর নাম দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা এবং করতোয়া-আত্রাই প্রণালী।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-796 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/towhid-53-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/towhid-53-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/towhid-53.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">শিকাহ্ গ্রাম<br />
বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর তখনও চলছে। নয়নাভিরাম প্রকৃতির মাঝ দিয়ে, কখনও ব্রহ্মপুত্রের উপর দিয়ে, কখনওবা তার পাশ দিয়ে এগিয়ে চলেছে গাড়িবহর। গন্তব্য শিকাহ্ গ্রাম। তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলের স্থানান্তরিত একটি গ্রামের মানুষের নতুন জীবন দেখানো হবে। গ্রামটিতে মোমবাহ্ জাতির ৭২টি পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষ বাস করছে। গাইড জানালো, ২০০৩ সালে গ্রামটি তৈরি করা হয়েছিল। এরপর আশেপাশের মানুষদের দুর্গম অঞ্চল থেকে নিয়ে এসে এখানে বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথম দর্শনে এটি সাধারণ একটি গ্রাম। ছিমছাম, শান্ত নিরিবিলি এলাকা। সাজানো-গোছানো পথঘাট ও বাড়ি-ঘর। তবে, বসতবাড়ির দেয়াল, বাড়ির চৌকাঠ, ঘরের চালায় তিব্বতি ধাঁচের রঙের ছড়াছড়ি চোখে পড়ার মতো। পর্যটক আকর্ষণেই হয়তো এমন রঙের ব্যবহার সেখানে। আসলে যেখানে প্রকৃতি নিজেই ভীষণ রঙিন, সেখানে প্রকৃতির পরম যত্নে লালিত এসব জাতির মাঝেও রঙের ব্যবহার থাকবে- সেটাই হয়তো স্বাভাবিক।</p>
<p style="text-align: justify">অতিথি আসবে শুনে গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজেছিল। অতিথিদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য কমপক্ষে ১০জন ‘টুরিস্ট গাইডও’ প্রস্তুত ছিল। তারা এ গ্রামেরই বাসিন্দা।এবং এটি একটি পর্যটন গ্রাম।</p>
<p style="text-align: justify">চীন সরকারের উদ্যোগে সারা চীনে কয়েক হাজার ‘পর্যটন গ্রাম’ গড়ে তোলা হয়েছে, গ্রামীণ পর্যটনকে চাঙ্গা করা হয়েছে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাড়তি আয়ের পথ খুলে গেছে। সেই সঙ্গে আধুনিক সুযোগ সুবিধায় বেড়ে ওঠা শহুরে লোকজন- বিশেষত তরুণ সমাজ গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশে আসার সুযোগ পেয়েছে। তারা সামাজিক জীবনের মৌলিক অংশটির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছেন। গ্রামীণ জীবন মানেই সেখানে রয়েছে কৃষিকাজ, পশু-পাখি লালন-পালন, শাক-সবজি-ফলমূল চাষ ইত্যাদি। তবে, তিব্বতের এই গ্রামটিতে যুক্ত হয়েছে বাড়তি কিছু; যেমন- পর্যটন। প্রতি মাসেই শিকাহ্‌ গ্রামে চীনা ও বিদেশি পর্যটকরা আসছেন। তারা ঘুরছেন, দেখছেন, কেনাকাটা করছেন। হ্যাঁ, গ্রামের মানুষ পর্যটকদের কাছে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য তুলে ধরছেন।</p>
<p style="text-align: justify">বেশিরভাগই বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কিত স্থানীয় বিভিন্ন সামগ্রী। যেমন- কয়েক ধরনের আগরবাতি/ধূপকাঠি, হাতে তৈরি কাপড়, রুমাল, ধর্মীয় শ্লোক লেখা দেয়ালচিত্র (ওয়ালম্যাট), রঙিন পুতুল ও খেলনা, হাতে তৈরি কাগজ, পাহাড়-পর্বতে চাষ করা বিভিন্ন মশলা।</p>
<p style="text-align: justify">গ্রামে নেমেই চোখে পড়েছিল চারদিকের সুউচ্চ পর্বতসারি। মেঘ ফুঁড়ে বেড়ে উঠেছে সেসব। সাদা সাদা মেঘে সামনে আগানোর পথ না পেয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ি দেয়ালে ঠেস দিয়ে! বোধ হয় ভাবছে, এখন কী করা! হুরমুড়িয়ে সেসব ছবি তুলছে পর্যটকরা। এসব পর্বতের বুকে চাষ হয় বিভিন্ন ধরনের মশলা ও ওষধি গাছ। গ্রামটির অন্যতম আয়ের উৎসও এটি। গ্রামের মধ্যে ছোট-খাটো একটি জাদুঘর ও হরেক দোকান আছে। শ&#8217;দেড়েক লোক বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে ঘুরে বেড়াল, দেখল, কিনল। কিছু মশলা বেশ পরিচিত। যেমন- দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ। বাকিগুলোর চীনা নাম- মনে রাখা কষ্টসাধ্য। কিছু ওষধি গাছের কাঠের ছোট ছোট টুকরা রয়েছে। তা ঘরের মধ্যে রাখলে সুগন্ধ হবে, পোকামাকড় আসবে না, রোগবালাইও দূর হবে- এমন বলা হলো। এর মধ্যে একটি কাঠ সবার পরিচিত; স্যান্ডালউড বা চন্দন কাঠ। বড় বড় কাঁচের পাত্রের ভারী ভারী ঢাকা সুগন্ধি কাঠের টুকরা। যাত্রাপথের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে গিয়েছিল দশ রকমের কাষ্ঠল-ঘ্রাণে। তিব্বতিরা হয়তো মুচকি হেসেছিল বাঙ্গালি-বিদেশির কাণ্ড দেখে।</p>
<p style="text-align: justify">যাই হোক, জাদুঘরের দুটি সৃষ্টিকর্ম আমার নজর কাড়ে। একটি হলো আগরবাতি বা ধূপকাঠি তৈরির প্রক্রিয়া। পুরোটাই তারা নিজেরা করে। শত শত ট্রেতে লাখ লাখ পিস আগরবাতি রোদে শুকাতে দেওয়া হয়েছে। আরেকটি চমৎকার জিনিস হলো প্রাচীন পদ্ধতিতে হাতে তৈরি কাগজ। খানিকটা মোটা, খসখসে। কাগজের মণ্ড তৈরি করে জালি ট্রেতে বিছিয়ে কয়েকদিন রাখলে একটি স্তর জমে যায়। তারপর সেই ট্রে কয়েকদিন রোদে শুকালে বড় বড় আর্ট পেপার উঠে আসে। রংটা দুধের সরের মতো, কাগজটাও কিঞ্চিত খসখসে শক্ত হয়। তবে কাগজই বটে। শত শত বছর আগের মতো হাতে তৈরি করা সেই কাগজ! চীনাদের চারটি প্রধান আবিষ্কারের মধ্য অন্যতম এই কাগজ। যা নিয়ে সবসময় গর্ব করতে পারবে চীনা জাতি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/06/08/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-৪) ॥ মোহাম্মদ তৌহিদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/04/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/04/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 04 May 2021 17:28:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ তৌহিদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=504</guid>

					<description><![CDATA[নিংছ্রি প্রিফেকচারের দর্শনীয় স্থান: নিংছ্রি এলাকার জনজীবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোরম ও অতুলনীয়। এ এলাকার বেশকিছু স্থান যেন আপন সৌন্দর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে। উঁচু এলাকা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নিংছ্রি প্রিফেকচারের দর্শনীয় স্থান: নিংছ্রি এলাকার জনজীবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোরম ও অতুলনীয়। এ এলাকার বেশকিছু স্থান যেন আপন সৌন্দর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে। উঁচু এলাকা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন থাকায় পর্যটকদের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় পড়তে হয় না। এ অঞ্চলের একটা পার্বত্য এলাকাকে তিব্বতের সুইজারল্যান্ড নামকরণ করা হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">ইয়ালুং চাংপো গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন<br />
এখানকার প্রকৃতি, গিরিখাত ও নদী (ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস) দর্শনীয় স্থান। বছরের গ্রীষ্ম ও শরৎকালে এখানে আরামদায়ক পরিবেশে ভ্রমণ করা যায়। এই স্থানটি ছিংহাই-তিব্বত মালভূমির ‘ছাদে’ সবচেয়ে রহস্যময় অঞ্চল হিসাবে খ্যাত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গভীর, দীর্ঘতম, সর্বোচ্চ ও বিপজ্জনক একটি গিরিখাত; এর গভীরতা ৫৩৮২ মিটার!</p>
<p style="text-align: justify">লুলাং ফরেস্ট<br />
নিংছ্রি শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, চীনের ৩১৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের পাশে ‘লুলাং বনভূমি উদ্যান’ অবস্থিত; সহজ গন্তব্য স্থান। উল্লেখ্য যে, ছাপা বা ডিজিটাল ম্যাপগুলোতে নাম ও নম্বরসহ জাতীয় সড়কগুলো সহজেই চোখে পড়ে। তাই পথ হারাবার আশঙ্কা কম। প্রাকৃতিক এই উদ্যানটির শ্বাসরুদ্ধকর আকর্ষণীয় সৌন্দর্য রয়েছে। ৩৭০০ মিটার উঁচুতে আলপাইন দৃশ্যাবলীর জন্য লুলাং বনভূমি বেশ বিখ্যাত। মালভূমির এই পর্বতশৃঙ্গে ভিন্ন ধরনের গাছপালা ও লতা-গুল্ম চোখে পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify"><img decoding="async" class="size-medium wp-image-506 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/05/Tibbat-par-4-2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/05/Tibbat-par-4-2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/05/Tibbat-par-4-2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" />আবহাওয়া ভালো থাকলে, পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও মেঘ সরে গেলে বহুদূরে মাউন্ট এভারেস্টের বরফাবৃত চূড়ার হাতছানি দেখা যায় বলে জানা গেলো! স্বপ্নের মতো এ দৃশ্যটি লুলাং ফরেস্টের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।</p>
<p style="text-align: justify">বসন্তকালে লুলাং পর্বতাঞ্চলের বনভূমি অঞ্চলে বৈচিত্র্যময় ফুল ফোটে, বিশেষ করে ফেনিল সমুদ্রের মতো আজেলিয়া ফুলের ঢেউ খেলে যায়। গ্রীষ্মকালের মৃদু বাতাস উপভোগ্য হলেও তা কিন্তু গরম নয়! শরৎকালে চীনের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রং-বেরঙের গাছপালা-সহ লুলাং টাউনের তিব্বতি গ্রামীণ জীবন উপভোগ করা যায়। আর শীতকালে, তুষার-ঝরা বনভূমির পাশাপাশি হিমবাহ এবং শ্বেত-শুভ্র স্বপ্নিল জগত ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে এসে হাজির হয়।</p>
<p style="text-align: justify">ইয়ালুং চাংপো নদী ও গিরিখাত:<br />
এটি হিমালয়ের মধ্য চলে যাওয়া নদী হলো ইয়ালুং চাংপো। এটি তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে অবশেষ বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। দীর্ঘ এই নদীটি উৎসমুখে নিংছ্রি কাউন্টিতে ইয়ালুং চাংপো গিরিখাত তৈরি করেছে। বিখ্যাত এই উপত্যকাটি ৪৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ; যা মার্কিন মুল্লুকের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়েও গভীর। এটি প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের গভীরতম উপত্যকাগুলির একটি। এর বিভিন্ন দৃশ্য এতটাই আকর্ষণীয় ও ভিন্ন রকম যে- একে ‘গ্রহান্তরের রহস্যময় জগৎ’ বলে উল্লেখ করা হয়। আর এই গিরিখাতটি অবশ্যই পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">নি-ইয়াং নদী<br />
এই নদীটি তিব্বতের সুন্দরতম খরস্রোতা নদী। ব্রহ্মপুত্র বা ইয়ালুং চাংপো নদীর শাখা নদী এটি। পশ্চিমের মিরা পর্বতে নদীর উৎস; যা সমুদ্রপৃষ্ঠের ৫০০০ মিটার উঁচুতে। সেখান থেকে পূর্বমুখী স্রোতধারা নিংছ্রি কাউন্টির ছেমেং পর্যন্ত গিয়ে ইয়ালুং চাংপো’র সঙ্গে মিলেছে। অনেক উঁচু থেকে প্রবাহিত হয়ে মিনিটে ৫৩৮ ঘনমিটার বা বার্ষিক ২২ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে এ নদীর দুধারে স্রোতের সঙ্গে বয়ে আসা ছোট-বড় পাথরের টুকরা দেখা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">স্থানীয়রা একে কখনও কংপো জনগোষ্ঠীর মাতৃনদী, কখনওবা ‘পরীর অশ্রুধারা’ বলে আখ্যায়িত করে।</p>
<p style="text-align: justify">নিংছ্রিতে এই নদীর তীর ঘেঁষেই তৈরি হয়েছে নিইংছ্রি উচৌ ক্রাউন হোটেল; যেখানে দিনে-রাতে পাথর ভাসিয়ে নেওয়া স্রোতধারার আওয়াজ শুনেছিলাম। এই নদীর স্বচ্ছ সবুজ প্রবাহিত পানি সবাইকে মুগ্ধ করে। সকাল ও সন্ধ্যায় কুয়াশা ও মেঘের অদ্ভুত এক মেলবন্ধন দেখা যায়। মেঘ যেন ভেসে বেড়ায় নিইয়াং নদীর স্রোতে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে—অনেকটা হাতের নাগালে! কোথাও পর্বতমালার গায়ে বাধা পেয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে শুভ্র মেঘমালা।</p>
<p style="text-align: justify">কখনও কখনও পাথুরে নদীর তীর ঘেঁষে ছুটে যায় দুরন্ত ঘোড়ার দল! অদ্ভুত সুন্দর এসব দৃশ্য নিইয়াং নদীর উপরের দিকে বৃহৎ ও সমতল ভূমি রয়েছে, অন্যদিকে নীচের দিকে উভয় তীরে রয়েছে ঘন বনভূমি ও পর্বতসারি। স্বচ্ছ নীল-সবুজ পানিতে গাছ-পালার সবুজাভ প্রতিচ্ছবি বিস্ময় জাগিয়ে তোলে।</p>
<p style="text-align: justify">নিংছ্রি থেকে লাসা যাবার পথে মিরা পর্বতের নির্দিষ্ট একটি রুট ধরে এগুলে নিইয়াং নদীর উৎসমুখে পৌঁছানো যায়। এই মিরা পর্বত মূলত লাসা নদী ও নিইয়াং নদীর সংযোগ/সম্মিলিত জলাধার (&#8216;watershed&#8217;)।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-508 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/05/Tibbat-par-4-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/05/Tibbat-par-4-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/05/Tibbat-par-4-3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">নামচাবাওয়া পর্বতশিখর<br />
গোটা চীনের সবচেয়ে সুন্দর তুষার-ঢাকা পর্বতশিখর (snow-capped mountain) নামে এটি পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৭৮২ মিটার উঁচুতে হিমালয় পর্বতমালার পূর্ব প্রান্তে মিনলিং কাউন্টিতে অবস্থিত স্বর্গীয় সৌন্দর্যের আধার এই পর্বতশিখর।</p>
<p style="text-align: justify">তিব্বতি ভাষায়, নামচাবাওয়া শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘জ্বলন্ত বজ্রপাত’। স্থানীয় রাজা গেসারের মহাকাব্যে নামচাবাওয়াকে ‘আকাশে বিদ্ধ বর্শা’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর বর্ণনাতীত সৌন্দর্য ও স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো আবিষ্ট শক্তির কারণে প্রাচীনকাল থেকেই এ চূড়াকে ‘দেবতাদের অন্যতম আবাস’ হিসাবে পূজা করা হতো।</p>
<p style="text-align: justify">নামচাবাওয়া-এর আশেপাশে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত আছে। সন্নিকটেই ইয়ালুন চাংপো ব্রহ্মপুত্র গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও মেদগ প্রাকৃতিক সংরক্ষিত অঞ্চল রয়েছে। প্রচণ্ড শীতকাল এড়িয়ে গ্রীষ্ম ও শরৎকালেই এ অঞ্চলের মোহনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/04/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-৩) ॥ মোহাম্মদ তৌহিদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/10/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/10/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 10 Apr 2021 06:30:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ তৌহিদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=312</guid>

					<description><![CDATA[নিংছ্রি প্রিফেকচার তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি তিব্বতের সবচেয়ে নিচু ভূমির এলাকা। এখানকার গড় উচ্চতা প্রায় ৩,০০০ মিটার; আবার কিছু অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০০ মিটারের নিচেও রয়েছে! নিংছ্রি নামটির আক্ষরিক অর্থ- &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নিংছ্রি প্রিফেকচার তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি তিব্বতের সবচেয়ে নিচু ভূমির এলাকা। এখানকার গড় উচ্চতা প্রায় ৩,০০০ মিটার; আবার কিছু অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০০ মিটারের নিচেও রয়েছে!</p>
<p style="text-align: justify">নিংছ্রি নামটির আক্ষরিক অর্থ- সূর্যের সিংহাসন। এ কাউন্টির বৈশিষ্ট্যময় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই আকর্ষণীয় এ নাম দেওয়া হয়েছে। তিব্বতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় নিংছ্রি হ’লো সেই জায়গা যেখানে দৃষ্টি সীমানা বরাবর সূর্যোদয় দেখা যায়। ঠিক যেন বাংলাদেশের কুয়াকাটা অঞ্চলের মতো; যেখানে চোখ বরাবর সমুদ্রের বুকে সূর্যকে হারিয়ে যেতে দেখা যায়। পায়ি টাউন, নিংছ্রির প্রশাসনিক কেন্দ্র। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে এর দূরত্ব ৪০৬ কিলোমিটার।</p>
<p style="text-align: justify">নিংছ্রি কাউন্টির পূর্বদিকে লাসা, দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে শান-নান, দক্ষিণে ছামদো এবং উত্তরে নাগছুর সীমানা রয়েছে। নিংছ্রিতে আকর্ষণীয় হ্রদ, গভীর গিরিসঙ্কট, পর্যাপ্ত বনভূমি ও আজেলিয়া ফুলে ছাওয়া তৃণভূমি রয়েছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-110 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">নিংছ্রি প্রিফেকচার চীনা পর্যটকদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এখানকার উচ্চতায় সাধারণত কারও সমস্যা হয় না। তারপরও টুর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাধারণ কিছু ব্যবস্থা থাকে। তবে নিংছ্রি থেকে লাসা যাবার পথে ৫০১৩ মিটার উচ্চতার ‘মিলা পাস’ পার হতে হয়। তখন কেউ কেউ উচ্চতা সমস্যার জন্য অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন। এজন্য, তিব্বত ভ্রমণে সবসময় উষ্ণ গরম পানি পান করা, তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রম এড়ানো ও কথা-বার্তা-মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।<br />
চলবে</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/10/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-২) ॥ মোহাম্মদ তৌহিদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/03/26/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/03/26/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 25 Mar 2021 19:20:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ তৌহিদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=235</guid>

					<description><![CDATA[বিমানবন্দরে তিব্বতীয় আপ্যায়ন: বিমান থেকে নামার পরই বিস্ময়মাখা আনন্দ বিরাজ করে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের চোখে মুখে। দারুণ এক রহস্যপুরী জয়ের আনন্দে অনেকেই অভিভূত। বিমানবন্দরেই তিব্বতি আতিথেয়তার দেখা পাওয়া যায়। ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিমানবন্দরে তিব্বতীয় আপ্যায়ন: বিমান থেকে নামার পরই বিস্ময়মাখা আনন্দ বিরাজ করে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের চোখে মুখে। দারুণ এক রহস্যপুরী জয়ের আনন্দে অনেকেই অভিভূত। বিমানবন্দরেই তিব্বতি আতিথেয়তার দেখা পাওয়া যায়। ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় পোশাক পরা তিব্বতিরা দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।</p>
<p style="text-align: justify">তাদের গলায় দীর্ঘ সাদা কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীদের হাতের পাত্রের দিকে দৃষ্টি আটকে যায়। বর্ণিল পোশাকধারী কারও হাতে গম, কারও হাতে বার্লি, কারও হাতে স্থানীয় পাই চিও বা মদ ভর্তি পাত্র। অতিথিরা বিভিন্ন পাত্রে রাখা বিভিন্ন উপকরণ আঙ্গুল ডুবিয়ে নেন এবং আকাশের দিকে তিনবার ছিটিয়ে দেন। এতে স্বর্গ ও পৃথিবীর জীবনে কল্যাণ হবে বলে বিশ্বাস করে স্থানীয়রা। বিদেশিরা তাতে কোনো বিশ্বাস না করলেও স্থানীয়দের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সে রীতি পালন করেন। অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছবি তুলতে। বাস্তব অবস্থা এমন যে, বিমানবন্দরের যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই যেন ছবির মতো সুন্দর।</p>
<p style="text-align: justify">বিমান থেকে নামতেই যেন &#8216;আকাশের&#8217; সঙ্গে দেখা। কেন বলছি এ-কথা? কারণ আমরা তো আকাশের বুকে যে বিমানবন্দর- সেখানেই নেমেছি। এ বিমানবন্দরটি জেলার সবচেয়ে উঁচু স্থানে অবস্থিত। প্রায় ৩০০০ মিটার। মাথার বেশ কাছাকাছি মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। সাদা-সাদা পেঁজো তুলোর মতো মেঘে। চোখের এত কাছে উড়ে বেড়াচ্ছে যা অবিশ্বাস ছবির মতো মনে হয়। কিন্তু তাই সত্য, সুন্দর ও বাস্তব। অতিথিরা যে যার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন দারুণ প্রাকৃতিক দৃশ্য ধারণে। জগতের খুব বেশি স্থানে নিশ্চয়ই এমন সৌন্দর্যের দেখা পাওয়া যায় না।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">বিমানবন্দরের তিন দিকই সবুজ পর্বত বেস্টিত। তাতে বিছিয়ে রয়েছে উপর থেকে দেখা সেই সারি সারি গাছ। আর তারই মধ্য দিয়ে পাহাড়-পর্বত-মেঘ ফুঁড়ে চলে গেছে বিদ্যুতের তার। আর লম্বা লম্বা টাওয়ার।<img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-237 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-tbbat-top-2-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-tbbat-top-2-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-tbbat-top-2-3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /> </span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তিব্বতবাসীরা বেশ আগেই বৈদ্যুতিক সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছে। রাজধানী বেইজিং থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে ও আকাশের এত উপরে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হলো না।</p>
<p style="text-align: justify">তিব্বতের গোটা সময় দেখেছি, দিনের বেলা সাধারণত তিব্বতের কোথাও আলোর ঘাটতি থাকে না। মাথার ওপর নীল আকাশ একটু বেশি পরিমাণ স্বচ্ছ, মেঘের ওপর ঠিক্‌রে পরা সূর্যের আলোকচ্ছটা—সবকিছুকে যেন একটু বেশিই রাঙিয়ে তুলেছে। আলো ও তার তেজ যেন একটু বেশি! বেশিক্ষণ চোখ খোলা রাখা অথবা রোদচশমা না পরে থাকাটা কষ্টকর বলেই মনে হলো। রোদের তীব্রতা যতটা-না গায়ে লাগে, তার চেয়ে ঢের বেশি লাগে চোখে। স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার মাত্রা কিছুটা বেশিই যেন এই রহস্যময় তিব্বতে।</p>
<p style="text-align: justify">বিমানবন্দর থেকে বের হতেই অপেক্ষমাণ দীর্ঘ গাড়ির সারি চোখে পড়ল। ২০ সিটের মিনিবাস- অন্তত ১০টা। তিব্বত ভ্রমণের দিনগুলোতে সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল এসব গাড়ি। যেখানে যাই, আগে পিছে চলে গাড়ির বহর।</p>
<p style="text-align: justify">নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবার উপকরণ ছিল এসব গাড়িতে। শহর বা শহরের বাইরে, মেঘের মাঝে, মাউন্টেন পাসে এসব গাড়ি ও তার লোকবল আমাদের কর্ডন করে নিয়ে গেছে সবসময়। এটা সরকারি আতিথেয়তা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিদেশি পর্যটকদের যাত্রা নিরাপদ করতে জনসাধারণের যাতায়াত কিছুটা নিয়ন্ত্রণও করা হয়েছে দেখছিলাম। রাজধানী কিংবা জেলা শহরে মানুষের ভিড় খুব একটা বেশি নেই।</p>
<p style="text-align: justify">যাই হোক, বিমানবন্দরের আতিথেয়তা ছেড়ে আমরা যার যার নির্ধারিত গাড়িতে চেপে বসি। প্রতিটি গাড়িতে ছিল একজন ইংরেজি ভাষা জানা তিব্বতি ট্যুর গাইড, একজন চিকিৎসক, ২/১টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ওষুধপত্র। ভাবছিলাম, এসবের কী প্রয়োজন? উত্তর মিলল কিছুক্ষণ পরেই।<br />
গাইড জানালেন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার উঁচু স্থান হওয়ায় তিব্বতের মোটামুটি সবখানেই অক্সিজেনের পরিমাণ কম। সাধারণ মানুষ খুব সহজেই এসব স্থানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। &#8216;হাই অ্যালটিচুড সিনড্রোম&#8217; দেখা দেয় সহসাই। এর মোকাবিলায় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিল গাইড তরুণীটি। সার্বক্ষণিক পানি পান ও ধীরে চলাফেরার নীতি অবলম্বন করতে বলল গাইড। কিছুটা ভয়ে নির্দ্বিধায় মেনে নিল দলের সবাই। না-জানি কী অসুস্থতার ঝামেলা হয়—এ আতঙ্কে ছিল নতুন অনেকেই।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-111 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-inner-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-inner-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-inner.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">তবে সে আতঙ্ক বেশিক্ষণ ভর করতে পারেনি। গাইডের কণ্ঠস্বর ছাপিয়ে চারপাশের জানালা দিয়ে অবর্ণনীয় যে সৌন্দর্য চারদিকে হাতছানি দিচ্ছিল, তার বর্ণনা করার উপায় নেই! পার্বত্য পথ ও দু&#8217;ধারের তিব্বতি ধাঁচের বাসা-বাড়ি ভেদ করে এগিয়ে চলেছে আমাদের গাড়িবহর। গন্তব্য হোটেল নয়। যদিও সেটা হলেই ভালো হতো। ভোর রাত থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত যাত্রার পর সবাই বেশ ক্লান্ত। তার ওপর এমন সুন্দর প্রকৃতির চাপে সবাই খানিকটা ধাতস্থ হবার জন্য বিশ্রাম নিতে চাইছিল। কিন্তু তা সম্ভব নয়।</p>
<p style="text-align: justify">অল্প দিনের সফরে সর্বোচ্চ পরিদর্শনের তাড়াও ছিল সবার। তিব্বত প্রশাসন তার উন্নয়নের কিছুটা নিদর্শন দেখানোর জন্য উদগ্রীব ছিল। আর সেটি দেখতে একটি গ্রামের দিকে ছুটে চলল আমাদের গাড়িবহর। আমরা তখনও নিংছ্রি বা লিনচ্রি শহরেই রয়েছি।<br />
চলবে..</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/03/26/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিব্বতের দিনগুলো ॥ মোহাম্মদ তৌহিদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/03/13/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/03/13/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 13 Mar 2021 17:25:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ তৌহিদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=109</guid>

					<description><![CDATA[তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-১): তিব্বত নামটির সঙ্গে যেন মিশে আছে কোনো রহস্য। বিশেষ করে, প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ যেন তিব্বত সম্পর্কে অদ্ভুত ধারণা পোষণ করে আসছে। কেউ বলেতেন, তিব্বত হলো জাদুর &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">তিব্বতের দিনগুলো (পর্ব-১): তিব্বত নামটির সঙ্গে যেন মিশে আছে কোনো রহস্য। বিশেষ করে, প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ যেন তিব্বত সম্পর্কে অদ্ভুত ধারণা পোষণ করে আসছে। কেউ বলেতেন, তিব্বত হলো জাদুর দেশ, যেখানে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না।</p>
<p style="text-align: justify">পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত এ অঞ্চলটি হিমালয় পর্বতমালার আড়ালে ছিল দীর্ঘদিন দুর্গম পার্বত্য পথ। রহস্যাবৃত সুউচ্চ অঞ্চল ও বিভিন্ন কঠোরতার কারণে কাছাকাছি থেকেও তিব্বত যেন খুব ‌দূরের দেশ হয়ে থেকেছে আমাদের কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">তবে, যুগ বদলে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে তিব্বত এখন আর অধরা কোনো রহস্য নয়। ‘পৃথিবীর ছাদ’ হিসেবে পরিচিত তিব্বত এখন চীন ও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। বাংলাদেশের উত্তর সীমান্ত পার হয়ে ভারত ও হিমালয় পর্বতের ঠিক ওপারেই তিব্বত। এর রাজধানী লাসা। দুই দশক আগেও তিব্বতে যাতায়াত করতে হতো দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে। কিন্তু সময় বদলেছে। তিব্বত এখন আর ততটা দুর্গম নয়, যতটা দুর্গম রয়েছে মানুষের কল্পনায়। তিব্বতের প্রতিবেশী তিনটি রাষ্ট্র রয়েছে- নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার। এ দুই অঞ্চলের পর্যটকরা, বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সারা বছরই তিব্বত যাওয়া-আসা করছেন।</p>
<p style="text-align: justify"><strong><span style="color: #ff0000">যাত্রা শুরু</span></strong><br />
জুনের প্রথম সপ্তাহ- ভরা গ্রীষ্মকালে বেইজিং থেকে আমার যাত্রা শুরু হয়। বেইজিং থেকে বিশেষ বিমানযোগে সরাসরি চার ঘণ্টা উড্ডয়ন করে তিব্বতের লিনচ্রি জেলার নিংছ্রি শহরের বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিশেষ বিমান। সাধারণত যাত্রীবাহী বিমান বেইজিং থেকে সরাসরি লিনচ্রি যায় না। তবে, বিশেষ বিমান বলে কথা!</p>
<p style="text-align: justify"><img loading="lazy" decoding="async" class=" wp-image-111 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-inner-300x176.jpg" alt="" width="413" height="242" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-inner-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/03/china-top-inner.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 413px) 100vw, 413px" /></p>
<p style="text-align: justify">দিনটি ছিল সুন্দর। রৌদ্রদীপ্ত। অবশ্য বিমান থেকে মেঘমালার ওপরে পরিবেশ সবসময় এমনই হয়—তা বিমান ভ্রমণকারীরা জানেন। রহস্যে ঘেরা তিব্বতের প্রথম বিস্ময়টা মূলত এই আকাশ থেকেই শুরু হয়। সাধারণত, আকাশের ওপর থেকে মেঘ ও বাতাসের স্তর ভেদ করে কিছুটা ঝাঁকুনি সহ্য করে তবেই রানওয়েত নামে বিমান। কিন্তু, এ অঞ্চলে যেন তার ব্যতিক্রম দেখলাম। উজ্জ্বল আকাশে মেঘের ওপর থেকে শুধু মেঘই দেখা যাচ্ছে না, বরং মেঘ ফুঁড়ে জেগে ওঠা অসংখ্য পার্বত্য চূড়া দেখা যাচ্ছিল।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>“সে কী! ধাক্কা লেগে যাবে তো!”</strong></span><br />
আমার মতো যারা প্রথম এখানে এলো, সবাই যেন এমনটাই আশঙ্কা করছিল।খানিকটা বিস্ময় নিয়ে ভালোমতো খেয়াল করে দেখা গেল, আকাশের বুকে শুধু মেঘ নয়, অসংখ্য পাহাড়-পর্বতের চূড়া যেন ছুঁতে চাচ্ছে আমাদের বিমানটিকে। আকাশের যে স্থানে শুধু মেঘ থাকার কথা ছিল, এখানে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে পর্বতমালার অনেকগুলো চূড়া! তবে তা রূক্ষ-শুষ্ক নয়; যতদূর চোখ যায় বেশিরভাগই সবুজের চাদরে ঢাকা। এত উঁচু থেকে বিমানের মোটা কাঁচ ভেদ করে স্পষ্ট দেখা যায়। এক জাতীয় ঝাউ গাছ বলেই মনে হলো।</p>
<p style="text-align: justify"><strong><span style="color: #ff0000">চোখের জ্যোতি বেড়ে গেল নাকি!</span></strong><br />
আসলে ঠিক তা নয়। ভূ-পৃষ্ঠের এতটা উঁচুতে আকাশের সীমানায় দূষণ নেই বললেই চলে। সবকিছু এত ঝকঝকে যে বহুদূর পর্যন্ত খালি চোখে দেখা যায় খুব সহজেই।</p>
<p style="text-align: justify">আকাশের সীমানায় এত গাছ লাগালো কে, কখন এবং কীভাবে- এ প্রশ্ন মাথায় নিয়েই বিস্মিত হয়ে চারদিকে চোখ রাখলাম। দেখলাম কঠিন পর্বত, গাছের সারি ও মেঘের সীমানা ভেদ করে এগিয়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। তিব্বত সরকার পর্বতাঞ্চলের এ-মাথা ও-মাথা, সবখানেই যেন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বলাই বাহুল্য আমরা তখনও মাঝ আকাশে রয়েছি এবং সেখান থেকেই মেঘের সীমানায় এসব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। একেবারেই যেন অবিশ্বাস্য লাগছিল। আকাশের মধ্যে পাহাড়-পর্বত, গাছ-গাছালি বিদ্যুতের লাইন—আধা ঘণ্টা এমন ঘোরেই কেটে গেল যাত্রীদের। অবশেষে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আকাশের মধ্যেই পর্বতাঞ্চলের খানিকটা সমতলে তৈরি করা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিশেষ বিমানটি। হ্যাঁ, তখনও আমরা আকাশে। কারণ, চারদিকে মেঘের চলাচল দেখা যাচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর দেখা গেল—ঘটনা সত্যি। বিমানবন্দরের বিমান ও মেঘ প্রায় এক সারিতে চলাচল করছে। লাফ দিলেই যেন মেঘ ধরা যায়- এমনই এক অবস্থা। তবে, কী মেঘ নেমে এলো ধূলির ধরায়? আসলে তা নয়।</p>
<p style="text-align: justify">বিমান অবতরণ করেছে তিব্বতের লিনচ্রি জেলার নিংছ্রি মিল্লিং এয়ারপোর্টে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯৮৪ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। আকাশের যেখানে মেঘমালার ঘর- বিমানবন্দরটি অনেকটা সেখানেই তৈরি। আসলে গোটা জেলায় আকাশের সীমানায় গড়ে উঠেছে। লিনচ্রিতে অবস্থানের দিনগুলোতে ঘুরে ফিরেই এ দৃশ্য বার বার চোখে পড়েছে। সমুদ্রতীরের দেশ বা ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছে এ একেবারেই অস্বাভাবিক। সারাজীবন যে অধরা মেঘ মাথার ওপরে ছায়া দিয়ে বেড়িয়েছে, তা হঠাৎ করেই যেন পাশে এসে কাঁধে হাত রেখে বলছে, “বন্ধু! কী খবর বল!”</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ, তিব্বতের অবতরণের পরই মেঘের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলাম, মেঘের সৌন্দর্য, পাহাড়-পর্বতে তার উচ্ছল লুকোচুরি দেখে মেঘের প্রেমেও পড়ে গিয়েছিলাম। যারা আকাশের সৌন্দর্য দেখতে পছন্দ করেন, মাথার ওপর বিশাল-উদার নীল আকাশ আর সাদা মেঘের মাতামাতি দেখতে ভালোবাসেন, তিব্বত হতে পারে তাদের অন্যতম আকর্ষণীয় অঞ্চল। কারণ, তিব্বত মালভূমি থেকে আকাশকে যতটা কাছে দেখা যায়, অন্য কোনো স্থান থেকে তা সম্ভব না! (চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/03/13/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
