<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Fri, 04 Apr 2025 14:58:36 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>পায়ে চলা মাছ ॥ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/04/04/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%86/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/04/04/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%86/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Apr 2025 14:58:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3389</guid>

					<description><![CDATA[পায়ের ওপরে ভর দিয়ে চলা মাছগুলোর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে। পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রিটাউন থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিনে গডরিচ নামক সৈকতের পাশের জেলেপাড়ায় একটা কাঠের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">পায়ের ওপরে ভর দিয়ে চলা মাছগুলোর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে। পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রিটাউন থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিনে গডরিচ নামক সৈকতের পাশের জেলেপাড়ায় একটা কাঠের সাঁকোর নীচে।</p>
<p style="text-align: justify">গড রিচের কঙ্করময় কন্টকাচ্ছাদিত মাঠে ব্যানসিগ২ এর সদরদপ্তর। আটলান্টিক মহাসাগরের বেলাভূমি থেকে মাত্র ২০০ গজ পশ্চিমে। বাংলাদেশ থেকে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া বাঁশ, কাঠ আর টিন দিয়ে তৈরী করা হয়েছে সৈনিক লাইন, মসজিদ, অফিসকক্ষ-সবই।লাল ধূলিধূসরিত একটা রাস্তা বেলাভূমির সমান্তরাল ইউনিটের সামনে দিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। রিভার-২ নামক সাদা বালির সৈকত পর্যন্ত। লেবানিজ মেয়েদের উচ্ছলতায় ভরে থাকে যেখানকার সকাল-দুপুর-বিকেল।</p>
<p style="text-align: justify">ইউনিটের পশ্চিম পাশে রাস্তার ধারে সবুজ বনের পাহাড়। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর মতো সারি সারি। পাহাড়গুলোর শরীরের ভাঁজে ভাঁজে বিভিন্ন উচ্চতায় ঘরবাড়ি।যারা যত বেশী সামর্থবান, তাদের বাসস্থান ততবেশি ওপরের দিকে।</p>
<p style="text-align: justify">পাহাড়ের অন্তঃস্থল থেকে একটা খাল পেনিনসুলার রাস্তার ওপরের সাঁকোর নীচ দিয়ে গডরিচ জেলেপাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে মিলেছে। রাস্তা থেকে সাধারণভাবে এই খালের অস্তিত্ব বা উৎস কোনটাই দৃশ্যমান নয়। তবে সাঁকোর কাছে দাঁড়ালে সারাক্ষণ জল পড়ার শব্দ শোনা যায়। জলপ্রপাতের অবিরাম শব্দের মতো। প্রতিনিয়ত জোয়ারভাটা হয় এই খালের ভেতরে। সমুদ্রের সাথে গভীর আত্মীয়তার কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিন সকালের মোহন আলোতে প্রতিনিয়ত আমরা সমুদ্রকে অবজ্ঞা করে পেনিন সুলার রাস্তা দিয়ে হাঁটাহাঁটি বা দৌড়াদৌড়ি করি। আজ আমি ক্যাপ্টেন হাসিবকে সাথে নিয়ে এসেছি জেলেপাড়ার দিকে। গডরিচ বীচের সমান্তরালে প্রবাহিত একটা মাটির রাস্তা দিয়ে। জায়গাটা শহরতলীর মতো দেখতে। চারপাশের একতলা টিনের ছাঁদের ঘরগুলো অদ্ভুত রকমের সুন্দর। যুদ্ধের আগে সম্ভবত রিসোর্ট অথবা হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন স্থানীয় অধিবাসীরা দখল করে নিজেদের বাসস্থান বানিয়েছে। ভেতরের দিকে একটা গির্জা। গির্জার দেয়ালে আঁকা মেরীর কোলে যিশু। রিলিফ উয়ার্ক। দুজনের গায়ের রঙই কালো। তাদেরকে ঘিরে আকাশের ভেতরে পরীর পাখা নিয়ে উড়তে থাকা দেবদূতদের রঙও। জীবনে এই আমরা কালো রঙের মেরী আর যীশু প্রত্যক্ষ করলাম।</p>
<p style="text-align: justify">গডরিচ বীচের পার্শ্ববর্তী রাস্তাটা যেখানে শেষ, সেখান থেকে একটু উত্তরে দুই বাড়ির মধ্য দিয়ে সরু রাস্তা। এই পথে একটু এগোতেই সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত খালটির ওপরে একটা কাঠের সেতু। এটা সেই খাল যা পেনিন সুলার সড়কের নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলেপাড়ায় যেতে হলে এই খাল পার হয়েই যেতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">ভাঁটার সময়। সাঁকোর নীচের পানি সমুদ্রের দিকে নেমে গেছে। কর্দমাক্ত মাটি। জলকাদায় একাকার। সাঁকোর ওপর থেকে আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম টাকি মাছের মতো দেখতে উভচর প্রাণী স্বচ্ছন্দে কাদামাটির ওপরে হাঁটাচলা করছে। আনুমানিক ছয় ইঞ্চি দীর্ঘ। চোখ দুটো ব্যাঙের মতো দেহের বাইরে। অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে সাঁকোর ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদেরকে অপলক নেত্রে দেখছে!</p>
<p style="text-align: justify">আমি বিস্মিত ও মুগ্ধ। একটা অসীম কালের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের সুতো দুদিক থেকে টেনে টেনে আমাদের মাঝখানের দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিতে চাইছে আত্মীয়ের মত! মূহুর্তের ভেতর আমার মনের মধ্যে ভাবনা এলো,&#8217;জল থেকে স্থলের দিকে মানুষের অনন্ত যাত্রা তা কি এভাবেই শুরু হয়েছিল?&#8217;</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/04/04/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%86/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দুটি অনূদিত গল্প ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/11/10/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/11/10/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 10 Nov 2023 16:40:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2940</guid>

					<description><![CDATA[দৃশ্যমানতা ‘আবার আমি সৌন্দর্যের কথা ভাবছি! ভাবছি যে সুন্দর কিছুকে পাওয়ার জন্যে আমরা কতই না হন্যে হয়ে খুঁজি! অথচ পৃথিবীর ইতিহাসের সাপেক্ষে একজন মানুষের জীবনের ব্যপ্তি এতই ছোট যে, (বলা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দৃশ্যমানতা</strong></span><br />
‘আবার আমি সৌন্দর্যের কথা ভাবছি! ভাবছি যে সুন্দর কিছুকে পাওয়ার জন্যে আমরা কতই না হন্যে হয়ে খুঁজি! অথচ পৃথিবীর ইতিহাসের সাপেক্ষে একজন মানুষের জীবনের ব্যপ্তি এতই ছোট যে, (বলা যেতে পারে চোখের এক পলক) জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত সময়ও আমাদের জন্যে খুবই কম সেটিকে জাকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে যাপন করার জন্যে।</p>
<p style="text-align: justify">এই যেমন এই মুহূর্তে সূর্য এমনভাবে দেবদারু গাছের পেছনে নেমে আসছে যে, আমার পক্ষে এটা সূর্যোদয়, না-কি সূর্যাস্ত তা বলা সম্ভব নয়। এই সময়ে রক্তিম হতে থাকা পৃথিবীকেও আমার কাছে একইরকম মনে হয়; আমি কোনটা পূর্ব ও কোনটা পশ্চিম তার খেই হারিয়ে ফেলি।</p>
<p style="text-align: justify">আজ সকালের রঙগুলোও এমনকিছুর আভা ছড়িয়েছে, যা কিছুক্ষণ আগেই চলে গেছে।আমি সময় পরিভ্রমণের (time travel) কথা ভাবছিলাম এবং টুলশেড-ছাদের ওপরে বসে সূর্য ডুবে যাওয়া দেখছিলাম। আমি খুব বেশি বিস্মিত হলাম না দেখে যে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটা বদলে দিলো যেভাবে আমরা দেখে থাকি তার ধরনকে, আমাদেরকেও। কারণ সূর্যাস্তও বেঁচে থাকার মতো অস্তিত্বশীল হয় কেবলমাত্র নিজের মিলিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে।</p>
<p style="text-align: justify">আড়ম্বরপূর্ণ হবার জন্যে কাউকে তোমাদের প্রথমে দেখতে পারতে হবে, এবং দেখতে পারাই তাকে প্রলুব্ধ করবে তোমাকে খুঁজতে।’</p>
<p style="text-align: justify">মূল: ওশেন ভং, উপন্যাস-অন আর্থ উই আর ব্রিফলি গর্জিয়াস</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>আইনের প্রবেশদ্বার</strong></span><br />
‘লোকটা আর বেশিদিন বাঁচবে না। মরে যাওয়ার আগে দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতাগুলো তার মাথার এক বিন্দুতে জড়ো হলো একটা প্রশ্ন হিসেবে, যা সে এখনো দারোয়ানকে জিগ্যেস করেনি।</p>
<p style="text-align: justify">হাত নেড়ে সে তাকে কাছে ডাকল, যেহেতু নিজের শক্ত হয়ে যাওয়া শরীরকে আর তুলতে পারছিল না। দারোয়ানকেই বাঁকা হয়ে তার দিকে নীচু হতে হলো। কারণ, দুইজনের মধ্যকার উচ্চতার পার্থক্য ইতিমধ্যে পরিবর্তিত হয়ে লোকটার জন্যে যথেষ্টই অসুবিধা সৃষ্টি করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">‘এখন কী জানতে চাও তুমি, হে অতৃপ্ত মানুষ?’ দারোয়ান জিজ্ঞেস করল।’</p>
<p style="text-align: justify">‘সবাই চেষ্টা করে আইনের কাছে পৌঁছাতে,’ লোকটা বলল, ‘এটা কেমন করে হয় যে এতগুলো বছরের মধ্যে কেবলমাত্র আমিই আইনের প্রবেশাধিকার চেয়েছি?’</p>
<p style="text-align: justify">দারোয়ান বুঝতে পারল যে লোকটা তার শেষ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। সুতরাং লোকটার দুর্বল স্নায়ুগুলো যাতে তার শব্দগুলো বুঝতে পারে, সেজন্যে সে তার কানে গর্জন করে বলল:<br />
‘আর কাউকে কখনো এখানে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি, কারণ এই প্রবেশদ্বারটি শুধু তোমার জন্যে তৈরি করা হয়েছিল।আমি এখন এটা বন্ধ করে দিচ্ছি।’</p>
<p style="text-align: justify">মূল: ফ্রানজ কাফকা, উপন্যাস-দ্য ট্রায়াল</p>
<p style="text-align: justify"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য দুজন বিখ্যাত লেখকের লেখা থেকে গল্পগুলো অনূদিত ]</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/11/10/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা বালির সৈকত ॥ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/23/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/23/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 23 Aug 2023 05:49:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2849</guid>

					<description><![CDATA[“Some 16km out of Freetown&#8217;s dust and noise is a piece of unexpected paradise. River Number Two beach” — The Guardian. ২০০২ সালের কাহিনি। স্থান- পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">“Some 16km out of Freetown&#8217;s dust and noise is a piece of unexpected paradise. River Number Two beach” — The Guardian.</p>
<p style="text-align: justify">২০০২ সালের কাহিনি। স্থান- পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী সিয়েরা লিওন। গুমা ভ্যালী বাঁধ থেকে আঁকাবাঁকা ঢালু পথ দিয়ে অবতরণের পর আমরা পেনিনসুলার রোডে ফিরে এলাম। মোশাররফ গাড়ি চালাচ্ছে। মোরশেদ আর আমি গাড়ির পেছনের সিটে। রাস্তার বামদিকে সিংহ পর্বতের সারি। সমুদ্রের সমান্তরালে দক্ষিণ পুর্ব দিকে চলে গেছে। পুরো রাস্তাটাই ধূলিধূসরিত। লালচে ধূসর রঙের। ধূলার কারণে সামনের রাস্তাকে কুয়াশার মতো অস্পষ্ট মনে হচ্ছে, অথচ মাথার উপরে তীব্র রোদ। চোখ ঝলসে যাচ্ছে। রাস্তার ডানদিকে কিছুদূর পর পরই পাম গাছের ঘন সারি, আম গাছের বন, নাম না জানা গাছের দল। রাস্তা থেকে সাগরের অস্তিত্ব বোঝা যায় না। শুধু একটু পর পর গাছের ফাঁক দিয়ে চোখের ভেতরে রুপালী আলো ঝিলিক দিয়ে ওঠে। তখন বোঝা যায় যে, ডানেই সমুদ্র।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুক্ষণ চলার পর মূল রাস্তা থেকে বের হয়ে ডানদিকে একটা ঘন বনের মতো জায়গা। বিশাল বিশাল গাছের ছায়ায় গাড়ি পার্কিং প্লেস। রাস্তার উল্টোদিকে একটা সাদা দেয়ালের পাশে কয়েকটা উন্মুক্ত জলের শাওয়ার। বাসার বাথরুমে যেমনটা থাকে। ভ্রমণকারীরা সৈকত থেকে উঠে আসার পর এখানে শরীরের লবণাক্ত জল ধুয়ে ফেলে। পার্কিং প্লেসের পাশেই কয়েকটা স্যুভেনিরের দোকান। ভেতরে কাঠের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য। সবগুলোই মেহগনি অথবা আবলুশ কাঠ দিয়ে তৈরি। এগুলোর শিল্পীরা সবাই এদেশের সাধারণ মানুষ। আমি একবার ফ্রিটাউনে এক যুবক শিল্পীর সাথে কথা বলেছিলাম। ১৯৯৮ সনে রিবেলরা তার একহাত কেটে ফেলে দিলে সে পূনর্বাসন কেন্দ্রে ছিল। এখন অন্য হাত দিয়েই সে লম্বা ছুরি দিয়ে নরম কাঠের উপরে কার্ভিং করে বিভিন্ন ভাস্কর্য তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে। তার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। পাহাড়ের গুহার দেয়ালে বিভিন্ন রঙের পাথর গুড়ো করে রঙ তৈরী করে প্রাণী বা প্রাণি শিকারের ছবি আঁকা মায়া সভ্যতার শিকারীদের মতো।</p>
<p style="text-align: justify">দোকানের বেশীর ভাগ স্থাপত্যই ঈগল পাখির। অদ্ভুত সব ভঙ্গীতে উড়ছে। অবশ্য আমি এই দেশে আসার পর এদের একটাকেও আকাশে উড়তে দেখিনি। তবে সাদা গলার অনেক কাক দেখেছি। সিয়েরালিওনের সর্বত্র এই ঈগল- মূর্তি পাওয়া যায়। আমার বিশ্বাস সিয়েরালিওনে জাতিসংঘ মিশন সম্পন্ন করা সকল বাংলাদেশী সেনাসদস্যদের প্রতিজনের বাসায় একটা করে ঈগল পাখির ভাস্কর্য থাকবে। পাশেই শরীরহীন কাঠের তৈরী একটা কালো মানুষের ভাস্কর্য। নাম ‘থিংকিং ম্যান’। পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয়। কাঠের কার্ভিং দিয়ে গড়া মানুষ, বই পড়ছে। নাম ‘Man reading’। পাশেই আবলুশ কাঠের তৈরী বিমূর্ত চেহারার যুবতী মেয়ে। পিঠে জলের পাত্র নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অদ্ভুত সুন্দর ও বাঙময় ভঙ্গিতে। দোকানের দেয়ালের গায়ে বিভিন্ন ধরণের মুখোশ। সবই আফ্রিকার মানুষদের মুখ। অসাধারণ তাদের মুখের প্রকাশ। হিংসা, বেদনা বা আনন্দ সকল অনুভূতিই ফুটে উঠেছে। সবগুলোই অদ্ভুত ধরণের অলঙ্কার পরা।বন্য গণ্ডার অথবা হাতির ভাস্কর্যগুলো দেখে মনে হচ্ছিল এরা একটু পুর্বেই পর্বত আর সবুজে ঢাকা ওয়েস্টার্ন এরিয়া রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে এখানে চলে এসেছে। জল বা খাবারের সন্ধানে।</p>
<p style="text-align: justify">একটু দূরে পাহাড়ের গায়ের সরু রাস্তা দিয়ে পিঠে করে কাঠ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কালো মানুষেরা। অসাধারণ পেশীবহুল শরীর। গডরিচে আমাদের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নিকটেই মিল্টন মার্গাই স্কুল অফ এডুকেশন এন্ড টেকনোলোজির পাশে বিশাল টিলার পাশে প্রকান্ড একটা খেলার মাঠ। সেই মাঠে ঘাস নেই বললেই চলে। পুরো মাঠই কংকরময় ও পাথুরে। একদল কিশোর এই মাঠে সারাদিনমান ফুটবল খেলে খালি পায়ে। সূর্যের আলোতে তাদের শরীরের পেশীগুলো চকচক করতে থাকে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>অথচ এই দেশের মানুষেরা সারাদিনে মাত্র একবার প্রধান আহার করে থাকে। দিনের অন্য সময়ে প্রধানত বিস্কুট বা হালকা ধরণের কিছু খেয়ে থাকে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">অবাক করা ব্যাপার হলো সমুদ্রের পাশে হলেও এই জায়গা থেকে সমুদ্র তেমন দেখা যায় না। রাস্তার পূব পাশেই কয়েকটা খাবারের রেস্টুরেন্ট। সেগুলোর ভেতর দিয়ে হেঁটে সমুদ্রের তীরে আসতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবার যোগাড়। বিশাল বিশাল পাম গাছের সারি। পাশে বিস্তৃত বালির সৈকত। ধবধবে সাদা। আমি জীবনে কোনদিনই একসাথে এত বিশাল প্রাকৃতিক শুভ্রতা দেখিনি। পামগাছগুলোর পাশে অনেকগুলো ছনের তৈরী গোলঘর। একসারিতে। সাগরে সাঁতার কাটার পর এগুলোর সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চের উপরে শুয়ে রেস্ট নেয়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">এখন ভাটির সময়। সাগরের জল উপকূল থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। স্বচ্ছ জলের নীচে সমুদ্রের তলদেশ দেখা যাচ্ছে। সেটাও সাদা। বালি অতিক্রম করে সমুদ্রের ভেতরে হালকা নীল জল। মনে হচ্ছে অতিকায় এক তিমি মাছ জলের নীচে ভাসছে। একটু দূরেই রিভার-২ নদীর মোহনা। গুমা ভ্যালি থেকে এঁকেবেঁকে এই নদী সমুদ্রে এসে পড়েছে। মূল সমুদ্রে মিলে যাবার আগে পাকস্থলীর মত একটা ল্যাবিরন্থ তৈরী করেছে। এটা একটা লেগুন। জোয়ার আসার পূর্বে স্নানার্থীরা এই লেগুনেই সাঁতার কাটে। নিরাপত্তার কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">সাগরের বেলাভূমিতে হাঁটার সময়ে আমার ভেতরে বিভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয়।একেক সময়ে একেক অনুভূতি। কখনও কখনও বেলাভূমির সাপেক্ষে মানুষের অনিত্যতা আমাকে কষ্ট দেয়। মনে হয় এই সৈকত এখন থেকে সহস্র বছর পূর্বেও একই রকম ছিল। কত মানুষ, কত প্রাণী এই সাগরের তীরে এসেছে। এর জলে অবগাহন করেছে। জল পান করেছে। এরা কেউই এখন আর নেই। একদিন আমিও থাকব না।</p>
<p style="text-align: justify">তবে এই সাদা বালির সৈকতের অনুভূতিটা অন্য ধরণের। ফ্রীটাউন থেকে একটু দূরের এই জায়গাটায় অদ্ভুত ধরণের একটা শান্তি বিরাজ করে।</p>
<p style="text-align: justify">আকাশে কোনো ধূলা নেই। পার্থিব কোন দুঃখ-বেদনা কখনই এই জায়গাকে স্পর্শ করেনি। এমনকি গৃহযুদ্ধ বা কোনো অরাজক অবস্থাই এই স্থানের শান্তিকে বিনষ্ট করতে পারেনি। প্রকৃতি এখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে স্বর্গ রচনা করেছে। আনন্দে আমাদের তিন বন্ধুর মন ভরে উঠল। জোয়ারের জল বাড়ছে। বেলাভূমির বিস্তৃতি কমছে। আমরা তিনজনে সাগরের সুনীল জলে নেমে গেলাম।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/23/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তিনটি অনূদিত গল্প ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/05/27/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/05/27/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 May 2023 09:16:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2686</guid>

					<description><![CDATA[আফ্রিকার স্বপ্ন খুব কম সময়ের মধ্যেই সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমের মধ্যে সে আফ্রিকার স্বপ্ন দেখল, যেখানে সে একটি বালক ছিল।দেখল দীর্ঘ সোনালী ও সাদা বালির সৈকত, সুউচ্চ অন্তরীপ এবং বিশাল &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>আফ্রিকার স্বপ্ন</strong></span><br />
খুব কম সময়ের মধ্যেই সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমের মধ্যে সে আফ্রিকার স্বপ্ন দেখল, যেখানে সে একটি বালক ছিল।দেখল দীর্ঘ সোনালী ও সাদা বালির সৈকত, সুউচ্চ অন্তরীপ এবং বিশাল বাদামী পর্বতমালা। সাদা বালির সৈকতগুলো এতোই সাদা ছিল যে সেগুলো তার চোখকে ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর থেকে সে প্রতি রাতে সেই উপকূলের তীরে বাস করতে লাগল, এবং স্বপ্নের মধ্যে শুনতে লাগল সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন, দেখতে লাগল সেগুলোর ওপর দিয়ে স্থানীয় নৌকাগুলোর ভেসে আসা।</p>
<p style="text-align: justify">ঘুমন্ত অবস্থায় প্রতিরাতে সে ডেকের আলকাতরা ও আলগাভাবে পাকানো দড়ির গন্ধ পেত এবং সকালের মৃদুমন্দ বাতাসে পেত আফ্রিকার গন্ধ।</p>
<p style="text-align: justify">মূল : আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (উপন্যাস- দ্য ওল্ডম্যান অ্যান্ড দ্য সি)</p>
<p style="text-align: justify">২.<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>ইনভেশন অফ ইডিয়টস</strong></span><br />
সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লাখ লাখ নির্বোধ (ইডিয়ট) মানুষদেরকে কথা বলার অধিকার দেয়, যারা কেবলমাত্র কথা বলত মদ্যপ হবার পর, তাও সমাজের ক্ষতি করে নয়।এবং এর অব্যবহিত পরেই দ্রুত তাদেরকে নীরব করে দেওয়া হতো।<br />
কিন্তু এখনকার অবস্থা ভিন্ন।তাদের এখন কথা বলার অধিকার নোবেলজয়ীদের মতো।এটাই হলো নির্বোধদের আক্রমণ।</p>
<p style="text-align: justify">মূল : ইতালিয়ান লেখক উমবের্তো একো (১৯৩২-২০১৬)</p>
<p style="text-align: justify">৩.<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>পরশপাথর</strong></span><br />
সময়ের সাথে বেশিরভাগ জিনিসই আমরা ভুলে যাই।যুদ্ধ ভুলে যাই, জীবন মৃত্যুর সংগ্রামও ভুলে যাই।এগুলোকে মনে হয় সুদূর অতীতের।<br />
প্রাত্যহিক জীবনে আমরা এতোটাই বাঁধা পড়ে থাকি যে আমাদের অতীতের ঘটনাগুলো প্রাচীন নক্ষত্রগুলোর মতো পুড়ে বিলীন হয়ে যায়; আমাদের মনের কক্ষপথে আর আবর্তন করে না।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিন আমাদেরকে অনেক বেশি বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়, অনেক নতুন নতুন জিনিস শিখতে হয়।নতুন স্টাইল, নতুন তথ্য, নতুন প্রযুক্তি, নতুন পরিভাষা&#8230;..</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু এরপরেও, যত সময়ই পার হোক না কেন, এই সময়ে যা-কিছু ই ঘটুক না কেন, কিছু কিছু জিনিস আছে, যেগুলো আমরা বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে ফেলি না, এগুলোর স্মৃতি মুছে ফেলতে পারি না।এরা চিরকাল আমাদের সাথে রয়ে যায়, পরশপাথরের মতো।</p>
<p style="text-align: justify">মূল : হারুকি মুরাকামি (উপন্যাস-কাফকা অন দ্য শোর)</p>
<p><span style="font-size: 14pt"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য তিন বিখ্যাত লেখকের লেখা  থেকে গল্পগুলো অনূদিত ]</em></span></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/05/27/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যেভাবে লেখা হলো মেকং এর নাকফুল ॥ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/02/20/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%82-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/02/20/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%82-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 20 Feb 2023 15:30:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2554</guid>

					<description><![CDATA[‘স্বরে অ’ প্রকাশনী (বইমেলা ২০২৩, স্টল নম্বর ১৭২) থেকে প্রকাশিত হয়েছে আমার নতুন বই ‘মেকং এর নাকফুল’।বইটি নিয়ে আমার আবেগ বহুদিনের।আমি খুবই খুশি যে শেষ পর্যন্ত আমি ও প্রকাশক মিলে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘স্বরে অ’ প্রকাশনী (বইমেলা ২০২৩, স্টল নম্বর ১৭২) থেকে প্রকাশিত হয়েছে আমার নতুন বই ‘মেকং এর নাকফুল’।বইটি নিয়ে আমার আবেগ বহুদিনের।আমি খুবই খুশি যে শেষ পর্যন্ত আমি ও প্রকাশক মিলে বইটি প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছি।বিস্তর প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করার পর।একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো বইটি প্রকাশ করার জন্যে দীর্ঘকাল যাবৎ আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে গেছেন কম্বোডিয়াতে আমার সাথে কর্মরত ছিলেন এমন সহকর্মীরা এবং ফেসবুকের বন্ধুরা। তাদের সবার প্রতি আমার প্রবল কৃতজ্ঞতা রইল।</p>
<p style="text-align: justify">নিচে বইটির প্রারম্ভিক কয়েকটি অনুচ্ছেদ দেওয়া হলো:<br />
‘প্রথমেই বলে রাখি যে, আমার এই লেখা ইতিহাস নয়; এমনকি ভ্রমণ কাহিনিও নয়।একে একটি যাপিত জীবনের ক্ষুদ্র স্মৃতিকথা বললেও অত্যুক্তি হবে না বলে আমার ধারণা।এই স্মৃতিকালের শুরু ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে এবং সমাপ্তি ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে। এক বছরের চেয়েও কিছু কম সময়ের।</p>
<p style="text-align: justify">আমি তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদবিতে কর্মরত। আমার বিশ্বাস, সেনাবাহিনীর পদমর্যাদাগুলোর মধ্যে এই পদটাই সবচেয়ে সুশোভিত ও একই সাথে যৌবনদীপ্ত।আমার সেই যৌবনদিনে বিশ্ব আধিপত্য বিস্তারের খেলার ফলাফল আমাকে টেনে গিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়া তথা ইন্দোচীনের বিখ্যাত এক নদীর অববাহিকা অঞ্চলে। মেকং নামক বিখ্যাত এক নদীর তীরে।কম্বোডিয়ায়। আমি সেখানে গিয়েছিলাম জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক (মিলিটারি অবসার্ভার) হিসেবে। আনটাক (UNTAC) বা ইউনাইটেড নেশনস ট্রানজিশনাল অথরিটি ইন ক্যাম্বোডিয়া বা বাংলায় কম্বোডিয়ায় জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের হয়ে এক শান্তিপ্রতিষ্ঠার যুদ্ধে।১৯৯০ দশকে জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক পরিচালিত এই শান্তি মিশন সম্পূর্ণভাবে সাফল্য অর্জন না করলেও, এই মিশনের অনেকগুলো লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">তিব্বতের মালভুমি থেকে এশিয়ার যে কয়টা মহানদী নেমে এসেছে তাদের মধ্যে মেকং অন্যতম। সাগরের সাথে মহামিলনের তীর্থযাত্রায় এই নদী কয়েকটা দেশ অর্থাৎ চীন, মায়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম অতিক্রম করে চীন সাগরে পতিত হয়েছে।তার ৪২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথে সে দক্ষিণ এশিয়ার সমগ্র মধ্যাঞ্চলকে প্লাবিত করে সমৃদ্ধ করেছে।বলা যেতে পারে যে, কেবলমাত্র মেকং নদী দিয়েই ইন্দোচীনের সকল দেশগুলোকে বিনিসুতোর মালায় গেঁথে ফেলা সম্ভব। আদিকাল থেকে এই নদীর তীরবর্তী অববাহিকার দেশগুলোতে গড়ে উঠেছে নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা।যেগুলোকে কেন্দ্র করে বর্তমান পর্যন্ত আবর্তিত হয়েছে ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদ, ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের লড়াই, প্রতিরোধ, সংগ্রাম ও বিপ্লব।এমনকি উত্থান-পতনও।</p>
<p style="text-align: justify">আরেকটু বলি।কম্বোডিয়ার রাজধানীর নাম নমপেন।১৯৭৫ সালের ১৭ এপ্রিল তারিখে পলপটের নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ খেমার রুজ গেরিলারা নমপেন শহরে প্রবেশ করে। অতঃপর ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে নানাবিধ সংস্কার ও শুদ্ধি অভিযানের নামে তারা নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞ চালায়।এই গণহত্যায় আনুমানিক ৩০ লক্ষ কম্বোডীয় জনগণ মৃত্যুবরণ করে।</p>
<p style="text-align: justify">এমন প্রেক্ষাপটেই ১৯৯২-৯৩ সনে পরিচালিত হয়েছিল এই শান্তিরক্ষা মিশন তথা শান্তি অভিযান।এক বছরকাল আমার কেটেছিল মেকং অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নদী, বনভূমি, পাহাড়, সমতলভূমি আর মানুষদের সাথে। আনন্দ-বেদনার সাথী হিসেবে ও নিবিড় সখ্যতায়। অদ্ভুত ব্যাপার হলো বর্তমান থেকে দুই যুগেরও অধিককাল অতিক্রান্ত হলেও সেই সময়কালের বেশ কিছু স্মৃতি আমি বিস্তারিতভাবে স্মরণ করতে সক্ষম।যদিও এগুলো নিয়ে আমি কখনোই গভীরভাবে চিন্তা করিনি অথবা সেই সময়েও তেমন মনোযোগ দেইনি।বিশেষ করে কখনই ভাবিনি যে, বিষয়গুলো নিয়ে আমি ভবিষ্যতে কোনদিন লিখতে বসতে পারি!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/02/20/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%82-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep (পর্ব-৩) ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/01/03/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/01/03/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Jan 2023 13:29:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2406</guid>

					<description><![CDATA[গল্প : Sleep মূল : হারুকি মুরাকামি অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ পর্ব :৩ [যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep এর তৃতীয় পর্ব ছাপা হলো ] স্বামী অফিসে ফিরে যাবার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>গল্প :</strong></span> Sleep<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>মূল :</strong> </span>হারুকি মুরাকামি<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>অনুবাদ :</strong></span> মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব</strong> </span>:৩</p>
<p style="text-align: justify"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep এর তৃতীয় পর্ব ছাপা হলো ]</em></p>
<p style="text-align: justify">স্বামী অফিসে ফিরে যাবার পর আমি স্নানের কাপড় ও তোয়ালে নিয়ে এলাকার এথলেটিক ক্লাবে যাই।গাড়ি চালিয়ে।এক ঘণ্টা সাঁতার কাটি। পরিশ্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত।সাঁতার কাটা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোন উন্মাদনা নেই।আমি শুধু আমার মাংশপেশীগুলোকে সবল রাখতে চাই। আমার নিজের শরীরের গড়নকে আমি সকল সময়েই পছন্দ করে এসেছি।তবে আমার মুখমণ্ডলকে আমি কখনই পছন্দ করিনি।কিন্তু আমার শরীর আমার কাছে অন্য রকমের একটা বিষয়।আমি আয়নার সামনে পরিচ্ছদহীন হয়ে দাঁড়াতে পছন্দ করি।আমি সেখানে আমার শরীরের নরম অবয়বকে নীরিক্ষা করে দেখি।এর মধ্যদিয়ে আমি জীবনের প্রাণশক্তিকে খুঁজে পাই।আমি জানি না আসলে সেটা কি? কিন্তু আমার মনে হয় সেখানে ভেতরগত কিছু একটা আছে, যা আমার জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমি সেটাকে হারাতে চাই না।</p>
<p style="text-align: justify">আমার বয়স তিরিশ বছর।আপনি যখন তিরিশে পৌঁছাবেন, তখন বুঝতে পারবেন ৩০ বছরই জীবনের শেষ নয়।যদিও আমি বয়স বেড়ে যাওয়াকে পছন্দ করি না, তবুও আমি জানি যে, এটা আমাদের কিছু কিছু জিনিসকে সহজ করে দেয়।একটা বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে, যদি তিরিশ বছরের কোন মহিলা সত্যিকার অর্থেই যদি তার নিজের শরীরকে ভালোবাসে এবং সেটা যেমন থাকা উচিৎ, তেমন রাখতে চায়, তাহলে তাকে তাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।আমার মায়ের কাছ থেকে আমি এটাই শিখেছিলাম।এক সময়ে তিনি স্লিম, সুন্দরী মহিলা ছিলেন।তবে বর্তমানে তিনি আর তেমন নেই।আমার ক্ষেত্রেও তার মতো ঘটুক, তা আমি চাই না।</p>
<p style="text-align: justify">সাঁতারের পর বিকেলের অবশিষ্ট সময়ে আমি বিভিন্ন ধরনের কাজ করি।কখনও আমি স্টেশন প্লাজায় ঘুরে বেড়াই।উইন্ডো-শপিং করি।</p>
<p style="text-align: justify">কিছু কিছু সময়ে আমি বাসায় ফিরে সোফার উপরে বিড়ালের মতো জড়ো হয়ে শুয়ে বই পড়ি।এফএম স্টেশন শুনি।অথবা শুধুই আরাম করি।এক সময়ে আমার ছেলে স্কুল থেকে ফিরে আসে।আমি তাকে খেলাধুলার পোষাকে পরিবর্তন করতে সাহায্য করি।তার জন্যে স্ন্যাক তৈরি করি।যখন তার যথেষ্ট খাওয়া-দাওয়া হয়ে যায়, তখন সে তার বন্ধুদের সাথে খেলার জন্যে বাইরে চলে যায়।বিকেলে ক্র্যাম স্কুলে যাওয়ার বয়স তার এখনও হয়নি।তাছাড়া আমরা তাকে কোন পিয়ানো বাজানো বা অন্য কিছু শিখাচ্ছি না। ‘তাকে শুধু খেলাধুলাই করতে দাও,’ আমার স্বামী বলে। ‘তাকে প্রাকৃতিকভাবে বড় হতে দাও।’ ‘আমার ছেলে বাসা থেকে বাইরে যাবার সময়ে আমিও স্বামীর মতো তাকে বলি,’ ‘সতর্ক থেকো,’ এবং সে উত্তর দেয়, ‘চিন্তা করো না। ‘পড়ন্ত বিকেলে আমি ডিনার তৈরি করা শুরু করি। আমার ছেলে ঠিক ছয়টার ভেতরে ফিরে আসে।তারপর টিভিতে কার্টুন দেখে।’</p>
<p style="text-align: justify">কোনো জরুরি রোগী না থাকলে আমার স্বামীও সন্ধ্যা সাতটার আগেই বাসায় ফিরে আসে।সে কখনই এক বিন্দুও মদ পান করে না এবং বিনা কারণে সামাজিকতা করাও পছন্দ করে না।কাজ শেষে সোজা বাসায় ফিরে আসে।ডিনারের সময়ে তিনজনে মিলে আমরা গল্প করি।বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সারাদিন আমরা কি করেছি সেগুলো নিয়ে।আমার ছেলেরই সবচেয়ে বেশী বলার থাকে।যা কিছুই তার জীবনে ঘটে তার সবই সদ্য ঘটে যাওয়া এবং রহস্যে পরিপূর্ণ।সে কথা বলে এবং আমরা মন্তব্য করি। ডিনারের পর তার যা করতে ইচ্ছে করে, তাই করে।টেলিভিশন দেখে, পড়ে, অথবা আমার স্বামীর সাথে কোন গেইম খেলে।তার যখন কোনো হোমওয়ার্ক থাকে, তখন সে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে সেগুলো করে। সাড়ে আটটায় সে বিছানায় ঘুমাতে যায়।আমি তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার মাথার চুলের ভেতরে আঙুল দিয়ে নাড়ি এবং তাকে শুভরাত্রি জানাই।তারপর তার কক্ষের আলো নিভিয়ে দেই।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর আমরা স্বামী ও স্ত্রী একত্রে।সে সোফার উপরে বসে এবং খবরের কাগজ পড়ে।মাঝে মধ্যে তার রোগীদের সম্পর্কে অথবা খবরের কাগজের সংবাদ নিয়ে কথা বলে।তারপর সে হেইডন অথবা মোজার্ট শুনে।তার সঙ্গীত শোনাকে আমি অপছন্দ করি না।</p>
<p style="text-align: justify">তবে কোনক্রমেই আমি এই দুই সঙ্গীতজ্ঞের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাই না। দুজনের মিউজিকই আমার কাছে শুনতে একই রকমের মনে হয়।যখন আমি আমার স্বামীকে এটা বলি, সে বলে যে, এতে কিছুই আসে যায় না। ‘ওগুলো সুন্দর এবং সেটাই বিবেচ্য।’ ‘ঠিক তোমার মতো,’ আমি বলি।‘ঠিক, আমার মতো,’ সে বিরাট একটা হাসি দিয়ে বলে।তাকে তখন সত্যিকার অর্থেই খুব আনন্দিত মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">ঘুমানো বন্ধ করার পূর্বে এটাই ছিল আমার জীবন।প্রতিটা দিনই পূর্বের দিনের পুনরাবৃত্তি।আমি একটা ডায়েরি লিখতাম।কিন্তু কোনো কারণে যদি দুই অথবা তিনদিন লিখতে ভুলে যেতাম, তাহলে কোনদিন কি ঘটেছিলো তার খেই হারিয়ে ফেলতাম।গতকাল হয়ত বা হয়ে যেত পরশুদিন অথবা তার উল্টোটা।আমি অনেক সময়েই অবাক হয়ে ভাবতাম যে, এ কেমন জীবন আমার? এর মানে এই নয় যে, জীবনকে আমার শূন্য মনে হতো।আমি শুধুই অবাক হতাম দিনগুলোর ভেতরে কোন ধরনের পার্থক্য খুঁজে না পেয়ে।অথচ সত্য ছিল যে, আমি এই জীবনেরই অংশ ছিলাম এবং এই জীবন আমাকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আমি আরও অবাক হতাম এই ভেবে যে, আমার পদচিহ্নগুলো মুছে যাচ্ছিল, আমি সেগুলোকে এক নজর দেখার পূর্বেই।যখনই আমার এটা মনে হতো, তখন আমি বাথরুমের আয়নায় নিজের মুখ দেখতাম।একনাগাড়ে পনের মিনিট সময় ধরে।সে সময়ে আমার মন সম্পূর্ণই শূন্য থাকত। আমি আমার মুখের দিকে এমনভাবে দেখতাম, যেন সেটা কোনো বস্তু ছিল।আস্তে আস্তে এক সময়ে সেটা আমার অস্তিত্ব থেকে পৃথক হয়ে যেত।এবং আমার অস্তিত্বের সমান্তরালে পৃথক কিছু হিসেবে অস্তিত্ববান হয়ে উঠত।তখন আমার মনের ভেতরে একটা বোধোদয়ের সৃষ্টি হতো যে, এটা ঘটছে, এখন, এই মুহূর্তেই।আমার পদচিহ্নের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।বাস্তবতা ও আমি পরস্পরের সমান্তরালে অস্তিত্ববান হয়ে উঠতাম।এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু এখন আর আমি ঘুমাতে পারি না।ঘুমানো বন্ধ করার পর আমি ডায়েরি লিখাও বন্ধ করে দিয়েছি।আমার স্পষ্ট মনে আছে সেই রাতটির কথা, যে রাতে আমি ঘুমানোর সামর্থ হারিয়েছিলাম।সে রাতে আমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম।একটা অন্ধকার, ঘর্মাক্ত স্বপ্ন।মনে নেই স্বপ্নটা কী নিয়ে ছিল।কিন্তু মনে আছে আমার অনুভূতিটা কেমন ছিল।তা ছিল অশুভ এবং ভয়ংকর।উত্তেজনার চরম মুহূর্তে আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল।একটা চমক দিয়ে।আমার মনে হচ্ছিল কিছু একটা শেষ মুহূর্তে আমাকে মারাত্মক কোনো সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল।আমি যদি আর এক মুহূর্তও ঘুমের ভেতরে নিমজ্জিত থাকতাম, তাহলে আমি চিরকালের জন্যে হারিয়ে যেতাম।ঘুম থেকে জাগার পর, কিছুক্ষণ আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।আমার হাত ও পাগুলোকে মনে হচ্ছিল অবশ হয়ে গেছে।আমি অসাড় হয়ে শুয়ে আমার নিজের ক্লান্তিকর শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ শুনছিলাম।মনে হচ্ছিল আমি একটা গুহার ভেতরে লম্বালম্বি শুয়ে আছি।</p>
<p style="text-align: justify">‘এটা স্বপ্ন,’ আমি নিজেকে বলেছিলাম এবং অপেক্ষা করছিলাম আমার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসার।পিঠের উপরে নিশ্চল হয়ে আমি অনুভব করেছিলাম যে, আমার হৃদপিণ্ড অস্বাভাবিকভাবে কম্পিত হচ্ছে।আমার ফুসফুস হাপরের মত ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে নিজের ভেতরে রক্ত টেনে নিচ্ছিল।আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে, ঘড়িতে তখন কয়টা বাজে।বালিশের উপরের ঘড়ির দিকে তাকানোর চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু আমার মস্তককে বেশী ঘুরাতে পারছিলাম না। ঠিক এই সময়ে আমি বিছানার শেষপ্রান্তে কিছু একটার ছায়া দেখতে পেয়েছিলাম।শূন্য ও কালো ছায়ার মতো কিছু।ভয়ে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।আমার হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, আমার ভেতরের সকল কিছুই সেই মুহূর্তে স্থির হয়ে গিয়েছিল।আমি প্রাণপণে চেষ্টা করেছিলাম কালো ছায়াটিকে দেখতে।যে মুহূর্তে আমি সেটার উপরে দৃষ্টিকে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করেছিলাম, তখনই সেটা একটা নির্দিষ্ট আকার ধারণ করতে শুরু করেছিল।ঠিক যেন সেটা আমার লক্ষ্য করার জন্যেই অপেক্ষা করছিল।ওটার অবয়ব স্পষ্ট হবার পর সেটা বস্তু দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।এবং তারপর সেটার বিস্তারিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">ওটা ছিল একটা বৃদ্ধ লোক।পরনে চামড়ার সাথে এঁটে থাকা কালো শার্ট। তার চুলগুলো ছিল বাদামি ও ছোট।তার গাল দুটো চুপসে ছিল।সে আমার পায়ের কাছে দাঁড়িয়েছিল।একদম স্থির হয়ে।কিছুই বলছিল না। কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।তার চোখদুটো ছিল খুবই বড়।আমি সেখানে শিরার জাল দেখতে পাচ্ছিলাম।বৃদ্ধ লোকটির মুখে কোনো অনুভূতির প্রকাশ ছিল না।সেই মুখ দিয়ে আমাকে সে কিছুই বলছিল না।তার মুখটিকে দেখতে মনে হচ্ছিল অন্ধকারের ভেতরে একটা খোলা গর্ত।তবে এটা স্বপ্ন ছিল না।আমি জানতাম।স্বপ্ন থেকে আমি আগেই জেগে উঠেছিলাম।শুধু জেগে উঠা নয়, আমার দুই চোখই তখন খোলা ছিল।এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, ওটা ছিল বাস্তব।তবে এই বৃদ্ধকে আমি ইতিপূর্বে দেখিনি, আমার বিছানার শেষপ্রান্তে দাঁড়ানোর পূর্বে।</p>
<p style="text-align: justify">আমি ভেবেছিলাম আমার কিছু করা উচিৎ।যেমন আলো জ্বালানো, স্বামীকে ডাকা, চিৎকার করা।আমি নড়ার চেষ্টা করেছিলাম।সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম আমার অঙ্গগুলোকে সক্রিয় করতে।কিন্তু আমার কোন প্রচেষ্টাই সার্থক হয়নি।আমার একটা আঙুলও আমি নড়াতে পারছিলাম না।যখন আমার কাছে স্পষ্টভাবে মনে হয়েছিল যে, আমি আর কোনদিনই নড়াচড়া করতে সক্ষম হবো না, তখন একটা আশাহীন ভয় আমাকে আক্রান্ত করেছিল।এটা ছিল এমন একটা আদিম ভয়, যার অভিজ্ঞতা আমি ইতিপূর্বে কখনই অর্জন করিনি।শীতলতার মতো যা স্মৃতির তলাহীন কুয়া থেকে নিঃশব্দে উঠে এসেছিল।আমি চিৎকার করার চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু শব্দ উৎপাদন করতে সক্ষম ছিলাম না। এমনকি আমার জিহ্বাও নাড়াতে পারছিলাম না।</p>
<p style="text-align: justify">শুধুমাত্র আমি একটা জিনিস করতে সক্ষম হয়েছিলাম। তা হল বৃদ্ধ লোকটির দিকে তাকিয়ে থাকতে।আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে, সে কিছু একটা ধরে আছে –একটা লম্বা, সরু, গোলাকার ধরনের উজ্জ্বল সাদা কোন জিনিস।আমি যখন এই বস্তুর দিকে তাকিয়েছিলাম, ভাবতে ভাবতে যে এটা কী হতে পারে, তখন সেটা একটা নির্দিষ্ট আকার ধারণ করছিল। ঠিক আগের ছায়াটার মতো।সেটা ছিল একটা কলস।পুরনো আমলের পোর্সেলিনের তৈরি।কিছুক্ষণ পর লোকটা কলসটিকে উপরে উঠিয়ে সেটা থেকে আমার পায়ে জল ঢালতে শুরু করেছিল।কিন্তু আমি জলকে অনুভব করতে পারছিলাম না।শুধু দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলাম জলের ছিটা আমার পায়ের উপরে পড়ছে।সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার ছিল সে যতই ঢালছিল না কেন, কলসটা কখনই খালি হচ্ছিল না।আমি উদ্বিগ্ন হওয়া শুরু করেছিলাম যে, শেষ পর্যন্ত আমার পা পচে ও গলে যাবে।পায়ে জল ঢালা ছাড়া সে আর কী করতে পারে? এই কথা ভাবতেই আমার পা পচে গলে যেতে শুরু করেছিল।আমি আর সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে সুতীব্র চিৎকার দিয়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু সেই চিৎকার আমার শরীর ছেড়ে কোথাও যায়নি।আমার ভেতরেই ধ্বনিত–প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।আমাকে ছিন্নভিন্ন করে।আমার হৃদপিণ্ডকে স্তব্ধ করে।যখন আমার চিৎকার আমার প্রতিটি কোষের ভেতরে প্রবেশ করেছিল, তখন আমার মস্তকের ভেতরের সবকিছুই মূহুর্তের ভেতরে সাদা বর্ণ ধারণ করেছিল।এবং আমি অনুভব করেছিলাম যে, আমার ভেতরের কিছু একটা মরে এবং কিছু একটা গলে গিয়ে মিলিয়ে গেছে।কম্পমান একটা শূন্যতাকে রেখে।তারপর একটা বিস্ফোরক আলোর ঝলকানি আমার অস্তিত্বের সবকিছুকেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল। আমি যখন চোখ খুলেছিলাম, তখন বৃদ্ধ লোকটি সেখান থেকে চলে গিয়েছিল। কলসটাও সেখানে ছিল না। বিছানার প্রান্তগুলো ছিল শুষ্ক। এবং আমার পায়ের কাছে কোনকিছুই ভেজা ছিল না।</p>
<p style="text-align: justify">যদিও আমার শরীর ঘামে ভেজা ছিল।ভয়ংকর ধরনের ভেজা।এত ঘাম যে মানুষের শরীর তৈরি করতে পারে সে সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিল না।কিন্তু সত্য যে, এই ঘামগুলো আমার শরীর থেকেই নির্গত হয়েছিল।আমি প্রথমে একটা আঙুল নেড়েছিলাম।তারপর অন্যটা, এবং আরেকটা, এবং পরিশেষে অবশিষ্টগুলো।অতঃপর আমার হাত ও পা’কে ভাঁজ করেছিলাম।আমার পা দুটোকে ঘুরিয়েছিলাম এবং হাঁটু ভাঁজ করেছিলাম।কোনকিছুই আর আগের মতো ছিল না, তবে তারা নড়ছিল।যখন আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে, আমার শরীরের অঙ্গগুলো কাজ করছে, তখন আমি বিছানার উপরে বসেছিলাম।এবং স্ট্রীটল্যাম্পগুলো থেকে আসা অস্পষ্ট আলোতে আমি পুরো কক্ষ তন্ন তন্ন করে খোঁজ করে দেখেছিলাম।বৃদ্ধ লোকটি সেখানে ছিল না।আমার বালিশের উপরের দেয়াল ঘড়িতে তখন বাজছিল ১২টা বেজে ৩০ মিনিট।শুধুমাত্র দেড় ঘণ্টা সময়ের জন্যে ছিল আমার এই ঘুম।<br />
চলবে&#8230;</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/01/03/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep (পর্ব-২) ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/13/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a6%aa%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/13/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a6%aa%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Dec 2022 13:22:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2362</guid>

					<description><![CDATA[গল্প : Sleep মূল : হারুকি মুরাকামি অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ পর্ব :২ [যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep এর দ্বিতীয় পর্ব ছাপা হলো ] ঘুম (দ্বিতীয় পর্ব) আমি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>গল্প :</strong> </span>Sleep<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>মূল :</strong></span> হারুকি মুরাকামি<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>অনুবাদ :</strong> </span>মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব :২</strong></span></p>
<p style="text-align: justify"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep এর দ্বিতীয় পর্ব ছাপা হলো ]</em></p>
<p style="text-align: justify">ঘুম (দ্বিতীয় পর্ব)<br />
আমি জানি না কেন আমি সেই সময়ে ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। অথবা কেনোই বা হঠাৎ করে পুনরায় সুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম।আমার কাছে বিষয়টি ছিল বাতাসের সাথে কোথাও থেকে আসা ঘন কালো মেঘের মতো।অশুভ জিনিস দিয়ে ভরা।আমার কোনো ধারণাই ছিল না এগুলো কোথা থেকে আসত এবং কোথায় চলে যেত।আমি শুধু জানতাম যে, কিছুটা সময়ের জন্যে সেটি আমার উপরে ভর করেছিল।তারপর চলে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">তবে এখন আমার যা হয়েছে, তা ইনসমনিয়া নয়।একেবারেই না।শুধু আমি ঘুমাতে পারি না।এক সেকেন্ডের জন্যেও।এই সহজ সত্য ছাড়া আমি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।আমার ঘুম পায় না।আমার মনের ভেতরে মূহুর্তের জন্যেও কোন ঘোলাটে ভাব থাকে না।অবশ্য যদি ঘোলাটে বলে আদৌ কোনো জিনিস থেকে থাকে।শারীরিকভাবেও আমি খুবই স্বাভাবিক।আমার ক্ষুধামন্দা নেই।ক্লান্তি বোধ করি না।মোটকথা প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতার নিরিখে আমার কোন সমস্যাই নেই।</p>
<p style="text-align: justify">শুধুমাত্র ঘুমাতে না পারা ছাড়া।এমনকি এই যে আমি ঘুমাচ্ছি না, তা আমার স্বামী বা ছেলে কেউই খেয়াল করেনি।আমিও তাদেরকে বলিনি। আমি চাই না কেউ আমাকে বলুক ডাক্তারকে দেখাতে।আমি জানি তাতে কোন লাভ হবে না।নিশ্চিতভাবেই।আমি আগেও জানতাম যে, এটা এমন একটা বিষয় যা আমার নিজেকেই সমাধান করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">বাইরে থেকে আপনার কাছে মনে হবে যে, আমার জীবনে কোনো পরিবর্তনই হয়নি।চলছে চিরকালের মতো।শান্তিপূর্ণ ও নৈমিত্তিক ছন্দে। স্বামী ও ছেলেকে সকালে বিদায় দেওয়ার পর আমি গাড়ি নিয়ে বের হই। মার্কেটে যাই।আমার স্বামী একজন দাঁতের চিকিৎসক।আমাদের বাসস্থান এলাকা হতে তার ক্লিনিকে গাড়িতে করে যেতে দশ মিনিট সময় লাগে। সে ও তার ডেন্টাল স্কুলের এক বন্ধু যৌথ মালিকানায় ক্লিনিকটি চালায়। দুজনে চালানোর কারণে তারা একজন টেকনিশিয়ান ও একজন রিসেপশনিস্ট রাখতে সক্ষম হয়েছে।বেতন দিয়ে।ডাক্তার হিসেবে আমার স্বামী ও তার বন্ধু দুজনেই ভাল।সুতরাং মাত্র পাঁচ বছর পূর্বে কারও সাথে সংযোগ বা সাহায্য ছাড়াই ক্লিনিকটি শুরু করার পর তারা ভাল সুনাম কুড়িয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">“আমি খুব বেশি পরিশ্রম করতে চাই না,” আমার স্বামী বলে। “কিন্তু পরিশ্রম না করে আমার কোন উপায় নেই।’’ সত্য। অফিসটা খুলতে আমাদেরকে বড় অংকের একটা ব্যাংক লোন নিতে হয়েছে।একটা দাঁতের চিকিৎসার ক্লিনিক বা অফিস খুলতে যন্ত্রপাতির জন্যে বিশাল একটা বিনিয়োগ করতে হয়।প্রতিযোগিতাও খুবই প্রবল।তাছাড়া যে মুহূর্তে আপনি অফিস খুলবেন, সেই মুহূর্ত থেকেই রোগীরা টাকা ঢালা শুরু করে না। রোগীর অভাবে অনেক ডেন্টাল ক্লিনিকই বন্ধ হয়ে যায়।সেই সময়ে আমরা অল্প বয়স্ক এবং গরীব ছিলাম।আমাদের একটা শিশু সন্তানও ছিল।এই কঠিন পৃথিবীতে আমরা বাঁচতে পারব কিনা তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না।কিন্তু আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম যে করেই হোক।এবং এভাবেই আমরা পাঁচ বছর সময় অতিক্রম করেছিলাম।কাজেই কারও বিরুদ্ধেই আমাদের আমাদের অভিযোগ করার কিছুই নেই।যদিও ঋণের দুই তৃতীয়াংশ পরিশোধ করতে আমাদের এখনও বাকি আছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘আমি জানি তোমার রোগীর সংখ্যা এতো বেশি কেন,’ আমি প্রায়ই তাকে বলি।‘কারণ তোমার চেহারা যথেষ্টই সুন্দর।’ এটাই আমাদের প্রতিদিনের কৌতুক।বাস্তবে তার চেহারা আদৌ সুন্দর নয়।সে দেখতে কিম্ভূতকিমাকার।এখনও মাঝে মধ্যে আমি ভাবি এই অদ্ভুত চেহারার মানুষকে আমি কেন বিয়ে করেছিলাম।তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর ছিল আমার একটা বয়ফ্রেন্ড।আমার স্বামীর মুখমণ্ডলটাও খুবই অদ্ভুত রকমের।কি রকমের অদ্ভুত তা আমি সত্যিই বলতে পারব না।কারণ, তা সুন্দরও নয়, আবার কুৎসিতও নয়।এমনকি ওটাকে বিশেষ কোন বৈশিষ্টের অন্তর্ভুক্তও করা সম্ভব নয়।শুধুমাত্র ‘অদ্ভুত’, এই কথাটাই তার ক্ষেত্রে মানায়।অথবা হয়ত বা এটা বলাই অধিকতর সঠিক হবে যে, তার চেহারার ভেতরে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট নেই।এটাও মেনে নিতে পারতাম যদি বুঝতে পারতাম যে, তার চেহারার মধ্যে এমন কিছু আছে যার জন্যে তাকে বৈশিষ্ট্যহীন বলে মনে হয়।তাহলেও ‘অদ্ভুত’ বিষয়টা আমার নিকট বোধগম্য হতো।</p>
<p style="text-align: justify">আমি তার ছবি আঁকার চেষ্টা করতাম।কিন্তু পারতাম না।কারণ, আমি মনেই করতে পারতাম না যে, সে আসলে দেখতে কেমন।ফলে ছবি আঁকার পেন্সিল হাতে কাগজ নিয়ে বসে থাকতাম।একটা আঁচড়ও দিতে সক্ষম হতাম না।আমি হতবুদ্ধি হয়ে যেতাম এই ভেবে যে, কেমন করে আমি এমন একজন মানুষের সাথে বাস করছি, যার চেহারা আমার মনের ভেতরে আনতে পারি না।অবশ্য আমি তাকে অবশ্যই শনাক্ত করতে সক্ষম ছিলাম।এমনকি কখনও কখনও আমি তার মানসিক ছবিও অনুধাবনও করতে সক্ষম ছিলাম।কিন্তু সমস্যা হতো তখনই, যখন আমি তার ছবি আঁকতে যেতাম।এই সময়ে তার মুখমণ্ডলের কিছুই আমার মনে থাকত না।এরকম অবস্থায় কী করতে পারতাম আমি? আমার মনে হতো আমি একটা অদৃশ্য দেয়ালের ভেতরে দৌড়াচ্ছি এবং আমার সামনে তার অদ্ভুত মুখমণ্ডল।এই বিষয়টি আমাকে অধিকাংশ সময়েই আমাকে স্নায়বিকভাবে দুর্বল করে রাখত এবং আমি ঘাবড়ে যেতাম।</p>
<p style="text-align: justify">তারপরেও সে ছিল এমন ব্যক্তি, যাকে সকলেই পছন্দ করত।ব্যবসার ক্ষেত্রে তার জন্যে এটা বিশাল ইতিবাচক দিক ছিল।কিন্তু আমার ধারণা শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই তার সফল হবার সম্ভাবনা ছিল।লোকজন তার সাথে কথা বলার সময়ে নিরাপদ বোধ করত।তার মতো মানুষের সাথে আমার ইতিপূর্বে সাক্ষাৎ হয়নি।আমার সব মেয়ে বন্ধুরা তাকে পছন্দ করে।আমার কথা বলাই বাহুল্য।আমি মনে করি আমি তাকে ভালোবাসি।কিন্তু সত্য হলো আমি তাকে পছন্দ করি না। যাই হোক, সে শিশুদের মত প্রাকৃতিক ও নির্মলভাবে হাসতে সক্ষম।</p>
<p style="text-align: justify">অনেক বয়স্ক মানুষেরাই এটা পারে না।আমার ধারণা, সবাই আশা করে যে, একজন ডেন্টিস্টের দাঁত সুন্দর হবে, যা তার আছে।‘এটা তো আমার দোষ নয় যে, আমি দেখতে খুবই সুন্দর,’ সেসব সময়ে উত্তর দেয়, যখন আমরা পরস্পরের সাথে কৌতুক করি।শুধুমাত্র আমরা দুজনেই বুঝি এই কথার অর্থ কি।এটার অর্থ হলো বাস্তবকে স্বীকার করে নিয়ে কোনো না কোনোভাবে বেঁচে থাকার সামর্থ অর্জন করা।আমাদের দুজনের জন্যেই এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ আচার।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সে কন্ডোমোনিয়ামের পার্কিং গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়।আমাদের ছেলে তার পাশে বসে।তার প্রাইমারি স্কুল অফিসের রাস্তায় যেতেই পড়ে।‘সতর্ক থেকো” আমি বলি। ‘চিন্তা করো না,’ সে উত্তর দেয়।সব সময়েই এই একই ডায়ালগ।সে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দেয়।কারের স্টেরিওতে হেইডন অথবা মোজার্টের টেপ ঢুকায় এবং মিউজিকের তালে তালে গুনগুন করে।আমার দুইজন ‘মানুষ’ আমার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ে।তাদের হাত ঠিক একইভাবে নড়ে।এটাও একটা অলৌকিক ব্যাপার।তারা দুজনেই একই কোণে মাথা হেলান দিয়ে রাখে এবং তাদের হাতের তালু আমার দিকে ঘুরায়।তারপর দুটোকে একইভাবে সামান্য নাড়ায়।ঠিক যেন কোনো কোরিওগ্রাফার তাদের দুজনকেই প্রশিক্ষণ দিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার নিজের কার আছে।একটা ব্যবহৃত হোন্ডা সিভিক।আমার একটা মেয়েবন্ধু দুইবছর পূর্বে আমার কাছে বিক্রি করেছিল।ওটার একটা বাম্পার চূর্ণবিচুর্ণ হয়ে গেছে।গাড়ির বডিটাও সেকেলে।ভেতর থেকে মরিচা দেখা যায়।কারটার অডোমিটারে ১৫০,০০০ কিলোমিটারের বেশি দেখাচ্ছে।কোন কোন সময়ে–মাসে এক অথবা দুইবার গাড়িটা স্টার্ট করতে পারাটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।তারপরেও খারাপ নয়। আপনি যদি সেটাকে শিশুর মতো আদর করতে পারেন এবং দশ মিনিটের মতো বিরাম দেন, তাহলে ইঞ্জিন সুন্দর ও উচ্চস্বরে চলা শুরু করবে।আসলে প্রতিটা জিনিস–প্রতিটা মানুষই মাসে এক দুইবার আংশিকভাবে অকেজো হয়ে যায়।এটাই জীবন।</p>
<p style="text-align: justify">আমার স্বামী আমার কারটাকে ডাকে ‘তোমার গাধা’ বলে।আমি কিছুই মনে করি না।ওটা আমার এটাই বড় কথা।সিভিকটাকে চালিয়ে আমি সুপার মার্কেটে যাই।মার্কেট থেকে ফেরার পর আমি বাসা পরিষ্কার এবং কাপড় ইস্ত্রি করি।তারপর লাঞ্চ তৈরি করি।সকালের টুকিটাকি কাজগুলো আমি সতেজভাবে করে থাকি।সম্ভব হলে সকালেই ডিনারও তৈরি করে ফেলি।ফলে বিকেলটা আমার নিজের জন্যে ফ্রি থাকে।আমার স্বামী লাঞ্চের জন্যে বাসায় আসে।সে বাইরে খেতে পছন্দ করে না।বলে যে, রেস্টুরেন্টগুলোতে সবসময়ে ভিড় থাকে, খাবারের মান ভাল না, এবং সিগারেটের ধুঁয়া তার জামার ভেতরে ঢুকে যায়।কাজেই অতিরিক্ত সময় লাগলেও সে বাসাতেই খেতে পছন্দ করে।কিন্তু তারপরেও আমি তার লাঞ্চের জন্যে সৌখিন কিছু তৈরি করি না।সকালের অবশিষ্ট খাবারগুলোকে আমি মাইক্রোওয়েভে গরম করি অথবা এক বাটি নুডুলস তৈরি করি।সুতরাং রান্নার সময়টা খুবই সংক্ষিপ্ত থাকে।এবং অবশ্যই একা একা নিঃশব্দ ভাবে খাওয়ার চেয়ে স্বামীর সাথে খাওয়া আমার জন্যে যথেষ্টই আনন্দের।</p>
<p style="text-align: justify">ক্লিনিকটা যখন সবে শুরু হয়েছিল, তখন বিকেলের দিকে কোন রোগী আসত না।তখন আমরা লাঞ্চের পর বিছানায় শুয়ে থাকতাম।ঐ সময়টা ছিল তার সাথে আমার সবচেয়ে সুন্দর সময়।বিকেলের নরম আলো আমাদের রুমের ভেতরে প্রবেশ করত।আমরা দুজনেই তখন কম বয়সী ও সুখী ছিলাম।অবশ্য আমরা এখনও সুখী।অন্তত আমি তাই মনে করি। আমাদের পরিবারে কোন গৃহস্থালী সমস্যা নেই।আমি তাকে ভালবাসতাম এবং বিশ্বাস করতাম।আমি নিশ্চিত যে, আমাকেও সে একই রকম অনুভব করত।কিন্তু, ধীরে ধীরে যখন মাস, বছর অতিক্রান্ত হয়, তখন আমাদের জীবন বদলায়।এটাই স্বাভাবিক।এ বিষয়ে আমরা কিছুই করার নেই।এখন বিকেলের সময়গুলো আর আমাদের নেই।</p>
<p style="text-align: justify">খাওয়া শেষ করার পর আমার স্বামী দাঁত মেজে দ্রুত গাড়ির দিকে চলে যায় এবং অফিসে ফিরে যাবার জন্যে।অনেকগুলো অসুস্থ দাঁতের মানুষেরা সেখানে তার জন্যে অপেক্ষা করে।আমরা দুজনেই এখন জানি যে, নিজেদের মতো করে প্রত্যেকটি জিনিস আমাদের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/13/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a6%aa%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a5%a5-%e0%a6%85/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a5%a5-%e0%a6%85/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 28 Nov 2022 14:05:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2325</guid>

					<description><![CDATA[গল্প : Sleep মূল : হারুকি মুরাকামি অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ পর্ব : ১ [যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep এর প্রথম পর্ব ছাপা হলো ] ঘুম আজ আমার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>গল্প :</strong></span> Sleep<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>মূল :</strong></span> হারুকি মুরাকামি<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>অনুবাদ</strong> </span>: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব</strong> </span>: ১</p>
<p style="text-align: justify"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির গল্প Sleep এর প্রথম পর্ব ছাপা হলো ]</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ঘুম</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">আজ আমার ঘুমহীন সপ্তম দিন। না, ইনসমনিয়া নয়। ইনসমনিয়া কী তা আমি জানি। কলেজে পড়ার সময়ে আমার একবার ইনসমনিয়ার মতো কিছু একটা হয়েছিল। কিছু একটা বললাম এই কারণে যে, আমার যা হয়েছিল তা আদৌ ইনসমনিয়া ছিল কিনা তা আমি আজও নিশ্চিত নই। সম্ভবত ডাক্তাররা বলতে পারতেন। কিন্তু আমি তখন ডাক্তারের কাছে যাইনি।</p>
<p style="text-align: justify">ভেবেছিলাম গিয়ে কোন কোনো লাভ হবে না। এই ভাবনার পেছনে আমার যে খুব সঙ্গত কারণ ছিল, তাও নয়। তবুও একজন মেয়ে মানুষের ইনটুইশন থেকে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, তারা কেউই আমাকে কোনভাবেই সাহায্য করতে পারবেন না। সুতরাং আমি তাদের কাছে যাইনি। এমনকি পিতামাতা বা বন্ধুদের কাছেও বিষয়টা চেপে গিয়েছিলাম। কারণ, আমার কাছে নিশ্চিত মনে হয়েছিল যে, তারা সকলেই আমাকে ডাক্তারের কাছেই যেতে বলবেন।</p>
<p style="text-align: justify">আমার সেই ‘ইনসমনিয়ার মতো কিছু একটা’র সময়কাল ছিল এক মাস। এই সময়ে আমার ঘুম হতো না। রাতে বিছানায় গিয়ে আমি মনে মনে আওড়াতাম, ‘এখন আমার ঘুমানোর সময়।’ অথচ এই কথাটাই আমাকে জাগিয়ে রাখত। এটাই ছিল আমার স্নায়ু থেকে প্রত্যক্ষ ও তাৎক্ষণিক সাড়া। ফলে আমি যত বেশি ঘুমানোর চেষ্টা করতাম, তত বেশিই সজাগ হয়ে উঠতাম।</p>
<p style="text-align: justify">একবার অ্যালকোহল পান করে ও ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কোনই ফল দেয়নি। প্রতিদিন সকালে ভোরের আলোতে যখন আকাশ উজ্জ্বল হয়ে উঠত, শুধু তখনই আমার চোখ ক্লান্তিতে বুজে আসত। কিন্তু সেটাও ঘুম ছিল না। তখন আমার হাতের আঙুলগুলো ঘুমের সবচেয়ে বাইরের প্রান্তকে ছোঁয়ার চেষ্টা করত। এই পুরো সময়েই আমার মন জেগে থাকত। আমি তন্দ্রার মতো কিছু একটা অনুভব করতাম। কিন্তু আমার মন জেগে থাকত একটা স্বচ্ছ দেয়ালের ওপারে। আমার শরীর সকালের মৃদু আলোতে ভাসতে থাকত। মন ঠিক তার পেছনেই তাকিয়ে থাকত। শ্বাস-প্রঃশ্বাস গ্রহণ করত। শরীর থাকত ঘুমের প্রান্তদেশে। অথচ মন জেগে থাকত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে যে সে ঘুমাবেই না।</p>
<p style="text-align: justify">আমার এই অসম্পূর্ণ তন্দ্রাবস্থা দিনভর চলত। পুরো সময়েই মস্তিষ্ক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে থাকত। ফলে আমি আমার চারপাশের জিনিষগুলোকে সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারতাম না। বিশেষ করে দূরত্ব, ভর ও রঙকে। এই আচ্ছন্নকারী তন্দ্রা আমাকে সাবওয়ে, ক্লাসরুম বা ডিনার টেবিল– সকল স্থানেই দখল করে রাখত। ঢেউয়ের মতো একটু পরপর বিরতি নিয়ে। এক সময়ে আমার মন শরীর থেকে বেরিয়ে যেত। পৃথিবীটা দুলতে থাকত নিঃশব্দে। আমার হাত থেকে জিনিস পড়ে যেত। পেনসিল, ওয়ালেট, কাঁটাচামচ মেঝের উপরে গড়াগড়ি দিত। আমি শুধুই চাইতাম বিছানায় নিজেকে ছুঁড়ে দিতে এবং ঘুমিয়ে পড়তে। কিন্তু পারতাম না। অনিদ্রা আমাকে ছাড়ত না। সারাক্ষণ পাশে পাশে ঘুর ঘুর করত। আমি তার শীতল ছায়াকে অনুভব করতাম। অদ্ভুত তন্দ্রার ভেতরে আমি অনুভব করতাম যে, আমি আমার ছায়ার ভেতরে ঢুকে গেছি। তন্দ্রার ভেতরেই হাঁটতাম, খাওয়া-দাওয়া করতাম এবং মানুষজনের সাথে কথা বলতাম। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার ছিল যে, কেউই আমার ব্যাপারটা খেয়াল করত না।</p>
<p style="text-align: justify">সেই মাসে আমি ১৫ পাউন্ড ওজন হারিয়েছিলাম এবং দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কেউই তা লক্ষ্য করেনি। এমনকি আমার পরিবারের, বন্ধুদের বা ক্লাসমেটদেরও কেউই কখনই বুঝতে পারেনি যে, পুরো সময়টাতেই আমি জেগে জেগে ঘুমাচ্ছিলাম। একটা ডুবে যাওয়া শবের চেয়ে আমার অনুভূতি বেশী ছিল না। পৃথিবীতে আমার অস্তিত্ব, জীবন দুটোকেই মনে হত হ্যালুসিনেশন বা মায়া। প্রবল বাতাসের ভেতরে মনে হতো আমার শরীর পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দিকে উড়ে যাচ্ছে। এমন কোন স্থানে, যেটা আমি কখনই দেখিনি অথবা যার কথা শুনিনি। যেখানে যাবার পর আমার আত্মা ও শরীর পরস্পর থেকে চিরকালের জন্যে পৃথক হয়ে যাবে। নিজেকে আমি শক্ত করে ধরে রাখতে বলতাম। কিন্তু বাস্তবে ধরার কিছুই ছিল না সেখানে।<br />
তারপর দিনের শেষে রাত আসত। তখন আমার ভেতরে সেই প্রবল জাগ্রত অবস্থা ফিরে আসত। কোন শক্তিই ছিল না আমার সেটাকে প্রতিহত করার। একটা প্রকাণ্ড শক্তি আমাকে তার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখত।</p>
<p style="text-align: justify">আমি যা পারতাম, তা হলো পরেরদিন সকাল পর্যন্ত অন্ধকারের ভেতরে খোলা চোখে জেগে থাকা। এমনকি কোন চিন্তাভাবনাও করতে পারতাম না। শুধু শুয়ে শুয়ে ঘড়ির সেকেন্ডের কাটা ঘোরার শব্দ শুনতাম। অন্ধকারের দিকে নির্নিমেষ নয়নে তাকিয়ে থাকতাম। দেখতাম অন্ধকার গভীর হতে হতে, এক সময়ে আবার ফিকে হয়ে যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">অতঃপর একদিন কোন ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা বাইরের কোন কারণ ছাড়াই আমার এই অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটল। আমি ব্রেকফাস্ট টেবিলে জ্ঞান হারালাম। আবার জ্ঞান ফেরার পর কাউকে কিছু না বলেই দাঁড়ালাম। আমি হয়ত কিছু একটা ধাক্কা দিয়ে টেবিল থেকে ফেলে দিয়েছিলাম। মনে হয় কেউ একজন আমার সাথে কথাও বলেছিল। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। দুলতে দুলতে নিজের কক্ষে ফিরে আসলাম। হামাগুড়ি দিয়ে বিছানায় উঠলাম। এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম।</p>
<p style="text-align: justify">সাতাশ ঘণ্টা আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। আমার মা ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। তিনি প্রায়ই আমাকে জাগানোর চেষ্টা করতেন। একবার আমার গালে কষে থাপ্পড়ও মেরেছিলেন। কিন্তু আমি নিরুদ্রপভাবে সাতাশ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলাম। কোন ধরনের বিরতি ছাড়াই। অবশেষে আমি চূড়ান্তভাবে জেগে উঠেছিলাম। পুনরায় ফিরে পেয়েছিলাম আমার পূর্ব স্বত্বা।</p>
<p><em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-sleep-%e0%a5%a5-%e0%a6%85/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আজ শরতের কাশের বনে ॥ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/10/01/%e0%a6%86%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/10/01/%e0%a6%86%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 01 Oct 2022 12:24:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2196</guid>

					<description><![CDATA[‘শরৎকাল আসিয়া পড়িয়াছে সন্দেহ নাই। নদীতীরে কাশের বন এবার সাদা হইয়া উঠিবে।’ – মানিক বন্দোপাধ্যায় (পদ্মা নদীর মাঝি) ছোটবেলায় প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তন হতো আমাদের দৃষ্টির সম্মুখে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘শরৎকাল আসিয়া পড়িয়াছে সন্দেহ নাই।<br />
নদীতীরে কাশের বন এবার সাদা হইয়া উঠিবে।’<br />
– মানিক বন্দোপাধ্যায় (পদ্মা নদীর মাঝি)</p>
<p style="text-align: justify">ছোটবেলায় প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তন হতো আমাদের দৃষ্টির সম্মুখে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত একের পর এক তাদের সৌন্দর্য মেলে ধরতো। কিন্তু বর্তমান কালটা ভিন্ন। কখন যেকোনো ঋতু এসে চলে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। মনে হয় এদের ক্রমটাও নষ্ট হয়ে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">গত সপ্তাহ যাবত চলছে ক্রমাগত মরুভূমির উত্তাপ। ঢাকা শহরের বুকে। সাথে চরম আর্দ্রতা। ঢাকা শহরের কথা বললাম এ কারণে যে, চতুষ্কোণ অফিস বা বাসস্থানের ভেতরেই আমার বর্তমান জীবন সীমাবদ্ধ। যদিও মাঝে মধ্যে ক্লান্ত-বিষণ্ন বিকেলে আমি, আমার স্ত্রী এবং মেয়ে গাড়িতে ঘুরতে যাই ৩০০ ফুট রাস্তায়। এখানে প্রকৃতি ধ্বংস করে আমরা গড়ে তুলছি নতুন নগর। একবিংশ শতাব্দীতে ঢাকা সরে এসে বাসা বাঁধবে এখানে।</p>
<p style="text-align: justify">সুতরাং আমার প্রকৃতি দর্শন মূলত ফেসবুক থেকে। এখানে উঁকি দিলেই আমি বুঝতে পারি বার্ষিক গতিতে পৃথিবীর অবস্থান।</p>
<p style="text-align: justify">গত বছর আমার এক বন্ধু তার টাইমলাইনে পদ্মা তীরের কাশবনের ছবি পোস্ট করেছিলো।গতকাল করেছে আমার অন্য এক ফেসবুক বন্ধু। আজ সকালে আমার ক্যাডেট কলেজের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। ছবিগুলো থেকে আমি বুঝতে পারছি শরৎকাল এসে চলে যাচ্ছে। আমার অজান্তে।তবে ছবিগুলো আমার পূর্ব-স্মৃতিকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। পিঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মতো করে। ফলে এক এক করে স্মৃতির পাতা খুলে যাচ্ছে আমার!</p>
<p style="text-align: justify">সময়কাল আমার ছেলেবেলা। আমাদের বাড়ি থেকে একটু পশ্চিমে ঝাড়কাটা স্কুল। ঝাড়কাটা নদী থেকে একটা ধূলিধূসরিত রাস্তা ঝাড়কাটা স্কুল পেরিয়ে তেঘরিয়া বাজার, চর পাকেরদহ, চর নগর হয়ে বালিজুরি হাটে পৌঁছেছে। প্রতি বুধ ও শনিবারে এই হাট বসে। হাট শেষ হবার পর পুনরায় একটা ধূলিধূসরিত রাস্তা দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ মাদারগঞ্জ থানার দিকে প্রবাহিত হয়েছে। হাট থেকে আধা মাইল দূরে এসে এই রাস্তা দুই খণ্ড পথে বিভক্ত হয়ে গেছে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>একটা বিশাল বট বৃক্ষের ঠিক সামনে এসে। হাটবারে বালিজুরি বাজার এই বটগাছ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">প্রথম পথটি বটগাছকে পশ্চিমে রেখে সোজা দক্ষিণে চলে গেছে। মাদারগঞ্জ আশেক মাহমুদ স্কুলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার পর খরকা বিলকে বাঁয়ে রেখে এই পথ সুখ নগরী গ্রামের নিবিড় অরণ্যানীর ভেতরে ঢুকে গেছে। এই গ্রামেই ছিলো আমার নানাবাড়ি। ১৯৮৮ সনের বন্যার সময়ে নদীর ভাঙনে এই গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে পৃথিবীর বুক থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় পথটি বট বৃক্ষটিকে হাতের বাম পাশে রেখে ধূলিধূসরিত প্রশস্ত মেঠো পথ হিসেবে চাঁদপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পশ্চিম দিকে। চাঁদপুর গ্রামের শেষ প্রান্তে এই পথ আলতাফুর রহমান তালুকদারের বাড়ির পাশ দিয়ে যমুনা নদীর দিকে চলে গেছে। অতঃপর নদী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নদীর সমান্তরালে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। মাইলের পর মাইল।</p>
<p style="text-align: justify">এই রাস্তাটিই আমাদের থানা অতিক্রম করে সরিষাবাড়ি আলহাজ জুটমিলের পাশ দিয়ে চলে গেছে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট বা বন্দরে। এখান থেকে যমুনা অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জ ঘাট হয়ে আপনি রেলপথে ঈশ্বরদী জংশন হয়ে কুষ্টিয়া, যশোর, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা দিয়ে সমগ্র ভারতবর্ষ পরিভ্রমণ করে আসা যেতো।</p>
<p style="text-align: justify">আবার সরিষাবাড়ি থেকে আপনি চাইলে এই রাস্তা ধরে জামালপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা হয়ে সিলেট অথবা চট্টগ্রামে চলে যেতে পারবেন। অতঃপর কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ। পরিশেষে নাফ নদী অতিক্রম করলেই মায়ানমারের আরাকান রাজ্য।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় পথ অর্থাৎ বটগাছের পশ্চিম দিকের রাস্তা ধরে আধা মাইল সামনে গেলেই এক বিশাল অমল ধবল প্রান্তর। যমুনার তীরে। এই প্রান্তরে আমি ছেলেবেলায় অনেকবারই গিয়েছি। চার দশক পরেও ছবিগুলো দেখে সেই প্রান্তরের দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এতটাই স্পষ্ট এই দৃশ্য যে, মনে হয় ইচ্ছে হলেই আমি সেগুলোকে ছুঁতে পারি!</p>
<p style="text-align: justify">পরের রাস্তা এবং যমুনার জলের মধ্যবর্তী স্থানে এক বিস্তীর্ণ বালুর প্রান্তর। প্রাকৃতিক। ৩০০ ফুট রাস্তার পাশের মতো প্রকৃতি ধ্বংস করে এটার সৃষ্টি হয়নি। প্রকৃতিই তার খেয়ালখুশি মতো একে সৃষ্টি করেছে। শরৎকালে এই প্রান্তর কাশফুলে ভরে যেতো। মনে হতো শরতের শ্বেত শুভ্র মেঘকে আকাশ থেকে নামিয়ে এনে বসিয়ে দেয়া হয়েছে প্রান্তরের বুকে! কাশবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে আছে নদীর জলে। যেনো আর্শিতে মুখ দেখছে উদ্ভিন্ন যৌবনা কোন নারী!</p>
<p style="text-align: justify">এতগুলো স্মৃতি একসাথে মনে পড়ে গেলো। এতকাল পর! মনের ভেতরে গুন গুনিয়ে উঠছে ছেলেবেলার সেই বিখ্যাত কবিতা:<br />
‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,<br />
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।’</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/10/01/%e0%a6%86%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হারুকি মুরাকামির উপন্যাস Hear the Wind Sing ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/13/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/13/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Sep 2022 12:34:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2148</guid>

					<description><![CDATA[উপন্যাস: Hear the Wind Sing মূল : হারুকি মুরাকামি অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ [যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির প্রথম উপন্যাস Hear the Wind Sing এর অংশবিশেষ ছাপা হলো ] বন্ধুত্ব &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>উপন্যাস:</strong></span> Hear the Wind Sing<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>মূল : </strong></span>হারুকি মুরাকামি<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>অনুবাদ :</strong></span> মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</p>
<p style="text-align: justify"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য হারুকি মুরাকামির প্রথম উপন্যাস Hear the Wind Sing এর অংশবিশেষ ছাপা হলো ]</em></p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>বন্ধুত্ব</strong></span><br />
তিন বছর আগে র‍্যাটের সাথে আমার প্রথম দেখা।বসন্তকালে।আমরা দুজনেই তখন কলেজের প্রথমবর্ষে।উভয়েই ধ্বংসের ভেতরে নিমজ্জিত। আমার মনে পড়ছে না কিভাবে আমাদের পরস্পরের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল।আমি এটাও মনে করতে পারছি না কিভাবে আমি তার উজ্জ্বল ফিয়াট ৬০০ গাড়িতে উঠেছিলাম।ভোর ৪টায়।হতে পারে আমাদের দুজনেরই কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">মহাসড়কের পাশের একটা পার্কের ভেতরে নিজেদেরকে আমরা প্রথম আবিস্কার করেছিলাম।সম্ভবত গাড়ি দিয়ে প্রাচীর ভেঙে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করেছিলাম আমরা।ঢুকেই পার্কের বাগানের সাজানো এযালিয়া ফুলের গাছগুলোকে মাটির সমান্তরালে মিশিয়ে দিয়েছিলাম।তারপর আমাদের গাড়িটা একটা পাথরের পিলারকে আলিঙ্গন করে থেমে গিয়েছিল।তবে, অদ্ভূত ব্যাপার হলো, দুজনে কেউই বিন্দুমাত্রও আঘাতপ্রাপ্ত হইনি।</p>
<p style="text-align: justify">সে রাতে দুর্ঘটনার প্রাথমিক ধাক্কা সয়ে যাবার পর আমি পা দিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে কারের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলাম।গাড়ির অবস্থা ছিল আসলেই শোচনীয়।রেডিয়েটরের সামনের চালুনি ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।ওপরের সামনের হুডটা আকাশপথে উড়ে গিয়ে অবতরণ করেছিলো একটা বানরের খাঁচার সামনে।ওদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল মধ্যরাতে এরকম অভদ্র ও কর্কশভাবে ঘুম ভাঙানোটা তাদের মোটেই পছন্দ হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">র‍্যাট তখনো গাড়ির ভেতরে।স্টিয়ারিঙের ওপরে হাত রেখে ড্যাশবোর্ডের ওপরে মাত্র এক ঘণ্টা পূর্বে খাওয়া পিজার সবটুকুই বমি করছে।আমি হামাগুঁড়ি দিয়ে গাড়ির কাছে গেলাম।সানরুফের মধ্য দিয়ে তার দিকে তাকালাম।<br />
“তুমি কি ঠিক আছো?”, জিজ্ঞেস করলাম তাকে।<br />
“হ্যাঁ, তবে মনে হয় পান করাটা বেশি হয়ে গিয়েছিল।তার কারণেই বমি।”<br />
“তুমি কি বের হয়ে আসতে পারবে?”<br />
“পারব।আমাকে একটু ঠেলা দাও।”<br />
র‍্যাট ইঞ্জিনের উপরিভাগটা কেটে ড্যাশবোর্ডের ওপরে রাখা সিগারেটের প্যাকেটটি পকেটে ঢুকিয়ে আমার হাত ধরলো।তারপর শান্তভাবে গাড়ির ছাদে উঠলো।আমরা পাশাপাশি বসলাম।তারপর নিঃশব্দে একটার পর একটা সিগারেট ধ্বংস করতে লাগলাম।আকাশ ইতিমধ্যেই ফর্সা হতে শুরু করেছিল।কোনো কারণ ছাড়াই সেই মুহূর্তে আমার রিচার্ড বার্টন অভিনীত একটা যুদ্ধের চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়ে গেল।এই ছবিতে তিনি ছিলেন একজন সাঁজোয়া বহরের কমান্ডার।র‍্যাট ঐ মুহূর্তে কি ভাবছিল তা আমার জানা নেই।</p>
<p style="text-align: justify">পাঁচ মিনিট পর র‍্যাট আমাকে বলল, “তোমার কি মনে হয় না যে আমরা দুজনেই ভাগ্যবান? আমার গায়ে একটা আঁচড়ের দাগও পড়েনি।বিশ্বাস করতে পারো?”<br />
আমি মাথা নাড়ালাম।“তবে গাড়িটা খরচের খাতায় চলে গেছে,” বললাম।<br />
“এটা নিয়ে চিন্তা করো না।আমি সব সময়েই নতুন একটা কিনতে পারবো।কিন্তু ভাগ্যকে আমরা কখনোই কিনতে পারি না।”<br />
আমি নিবিড়ভাবে র‍্যাটের দিকে তাকালাম।“তুমি কি খুব ধনী?”<br />
“বলতে পারো।”<br />
“চমৎকার”, আমি বললাম।<br />
র‍্যাট অবজ্ঞা ভরে মাথা নাড়ালো।বলল, “যাই হোক, অন্তত ভাগ্য আমাদের পক্ষে আছে।”<br />
“ঠিক।”</p>
<p style="text-align: justify">র‍্যাট জলন্ত সিগারেটটা তার জুতার তলায় ফেলে দিয়ে পায়ের গোড়ালি দিয়ে নিভিয়ে ফেললো।তারপর সিগারেটের পুঁতাটিকে তুলে নিয়ে বানরের খাঁচার দিকে ছুঁড়ে মারলো।<br />
“শুনো, আমরা দুজনে মিলে যদি একটা দল গঠন করি, তাহলে কেমন হয়? আমার তো মনে হয় ফাটাফাটি ধরনের ভবিষ্যৎ হবে আমাদের।”<br />
“আমরা এখন কি করবো?”, আমি জিজ্ঞেস করলাম।<br />
“আরো অনেকগুলো বিয়ার খাবো।”</p>
<p style="text-align: justify">আমরা আধ ডজন বিয়ারের ক্যান কিনলাম পাশের ভেন্ডিং মেশিন থেকে।সেগুলোকে নিয়ে সাগরের তীরে গেলাম।বেলাভূমিতে শুয়ে শুয়ে সেগুলো পান করলাম।শেষ করার পর দুজনেই জলের দিকে তাকালাম। চারপাশের আবহাওয়া তখন চমৎকার হয়ে উঠেছিল।<br />
“তুমি আমাকে র‍্যাট নামে ডাকতে পারো।”, সে বলল।<br />
“এমন অদ্ভুত নাম তুমি কোত্থেকে পেয়েছো?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।<br />
“আমার মনে নেই।অনেক বছর আগে।প্রথমদিকে নামটা নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনা অনুভব করতাম।তারপর থেকে আর করি না।একজন মানুষ সবকিছুতেই অভ্যস্ত হতে সক্ষম।”</p>
<p style="text-align: justify">বিয়ারের খালি ক্যানগুলোকে আমরা সাগরের ভেতরে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম।পেছনের বাঁধের ঢালুতে হেলান দিয়ে শরীর থেকে জামা খুলে ভাঁজ করে নিজেদের মাথার নিচে রাখলাম।সবশেষে দুজনে মিলে একটা লম্বা ঘুম দিলাম।ঘুম ভাঙার পর নিজেকে প্রবল জীবন্ত ও সজীব মনে হলো।এতোটা জীবন্ত আর সজীব আমি কখনোই বোধ করিনি ইতিপূর্বে।<br />
“আমার মনে হচ্ছে আমি ষাট মাইল দৌড়াতে পারবো,” র‍্যাটকে বললাম।<br />
“আমিও,” র‍্যাট বলল।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে যা ঘটেছিলো তা হলো, আমাদেরকে দুজনকেই পরবর্তী তিন বছর সময়কাল যাবত চক্রবৃদ্ধিহারে সুদসহ পার্ক মেরামতের সমুদয় টাকা সিটিহল কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হয়েছিলো।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/13/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
