<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মোস্তফা কামাল &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ab%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sat, 17 Sep 2022 02:04:22 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>মোস্তফা কামাল &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১০) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/17/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/17/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Sep 2022 02:04:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2161</guid>

					<description><![CDATA[দশম পর্ব কলেজ স্ট্রিটের রাস্তা ধরে হাঁটেন আলী আকবর খান।আর মনে মনে ভাবেন নজরুলকে নিয়ে। কত বড় আশা নিয়ে নজরুলকে বাড়িতে নিয়ে গেলাম। তরুণ প্রতিভাবান কবি। তাকে ঘরজামাই বানিয়ে কব্জা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দশম পর্ব</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">কলেজ স্ট্রিটের রাস্তা ধরে হাঁটেন আলী আকবর খান।আর মনে মনে ভাবেন নজরুলকে নিয়ে। কত বড় আশা নিয়ে নজরুলকে বাড়িতে নিয়ে গেলাম। তরুণ প্রতিভাবান কবি। তাকে ঘরজামাই বানিয়ে কব্জা করে রাখব। একটার পর একটা বই লিখবে। সেই বই প্রকাশ করব আমি। আমার ব্যবসায় সানায় সানায় উন্নতি হবে। আমি হবো বড় প্রকাশক। কলকাতার নামকরা প্রকাশক। এই ভাবনার মধ্যে নিশ্চয়ই আমার কোনো অন্যায় ছিল না! তারপরও কেন সবকিছু এমন এলোমেলো হয়ে গেলো!</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান একেকজন প্রকাশকের কাছে যান আর নজরুলের কথা জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু কোনো প্রকাশকই নজরুলের খোঁজ দিতে পারলেন না। নজরুল কোথায় আছে, কেমন আছে তাও কেউ জানে না। উল্টা তাকেই তারা বলেন, আপনি না জানলে আমরা কিভাবে জানবো? আমরা তো শুনলাম, সে আপনার সঙ্গেই বেড়াতে গেছে! এখন সে উধাও হয়ে গেলো! এ কেমন কথা বাপু!</p>
<p style="text-align: justify">বিব্রত আলী আকবর খান কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি এবার শহরের আনাচে কানাচে খুঁজতে শুরু করলেন। তন্য তন্য করে তাকে খোঁজেন। জনে জনে তার কথা জিজ্ঞাসা করেন। না। কেউ তার খোঁজ দিতে পারেনি। পরে তিনি নজরুলের কাছের বন্ধুবান্ধবদের কাছে খোঁজ নিতে শুরু করলেন। তারাও কেউ কিছু জানে না। খুঁজে খুঁজে তিনি রীতিমতো হয়রান। আর কোথায় খুঁজবেন তাও বুঝতে পারছেন না। এখন তার নজরুলের জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে। সবাই জানে, নজরুল আমার সঙ্গে বেড়াতে গেছে। এখন সে নেই। নেই তো নেই-ই।</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান মনে মনে বলেন, তার মানে নজরুল কলকাতায় ফেরেনি। তাহলে সে কোথায় গেছে? সে কি আমাদের দেশেই আছে? জরুরি কাজটা তার কোথায়? সত্যিই কি কোনো জরুরি কাজ ছিল তার? তার মানে আমার ভাগ্নির কাছে মিথ্যা বলেছে সে! তাহলে কি সে আর ফিরবে না! এ কী কথা! আমার ভাগ্নির কি হবে? সে তো পাগল হয়ে যাবে! হায় খোদা! তুমি দয়া করো। নজরুলকে না নিয়ে আমি বাড়ি যাবো কোন মুখে?</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি ঠিকমত দোকানে যান না। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করেন না। ঠিকমত ঘুমান না। শয়নে স্বপনে তিনি নজরুলের কথা ভাবেন। কোথায় গেলে নজরুলকে পাবেন তা নিয়ে চিন্তা করেন। এক পর্যায়ে তার বন্ধু বীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের কথা তার মাথায় আসে। নজরুল কি তাহলে বীরেন্দ্রদের বাড়িতে! থাকলে ওখানেই হয়তো থাকতে পারে। বীরেন্দ্র সেনের মাকে সে মা ডেকেছে। আমাদের বাড়ি থেকে হয়তো সেখানেই গিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে কি এতোদিন থাকবে? তারাও বা কেন এতোদিন তাকে রাখবে! আমি খোঁজ নিতে যাবো; দেখব সেখান থেকেও সে চলে এসেছে। কি দরকার শুধু শুধু সেখানে যাওয়া!</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান অনেক চিন্তাভাবনা করে মনস্থির করলেন, তিনি আর কলকাতায় নজরুলকে খুঁজবেন না। অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প কিছু দেখছেন না তিনি। অপেক্ষা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যখন সময় হবে তখন সে ঠিকই ফিরে আসবে।</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান এও ভাবেন, নজরুলের এখন চাকরি বাকরি নেই। তার এখন টাকার প্রয়োজন। বন্ধুবান্ধরের কাছ টাকা ধার নিয়ে কদিন আর চলা যায়। তাকে প্রকাশকদের স্মরণাপন্ন হতেই হবে। সেটা আমি হই বা অন্য কেউ। কলেজ স্ট্রিটে এলে নিশ্চয়ই খবর পাওয়া যাবে। তখন তাকে ধরা যাবে। সে আমার বোনের মেয়ের জামাই। কোনো কারণে মান-অভিমান করে থাকতে পারে। সেটা নিশ্চয়ই সে চিরদিন পুষে রাখবে না। ভাঙবে। অথবা আমাদের ভাঙাতে হবে। তার পাশে দাঁড়াতে হবে। টাকা পয়সা দিয়ে সহায়তা করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান ব্যবসায় মনোযোগ দিলেন। প্রতিদিন দোকান আর বাসা। বাকি সময় নজরুলের সন্ধান করা। ব্যবসার তরী ভাসাতে হলে নজরুলকে তার বড় প্রয়োজন। তিনি মনে মনে নজরুলকে খোঁজেন। তার জন্য বেশ কিছু টাকা তিনি আলাদা করে রেখেছেন। কলকাতায় ফিরলেই তার টাকার প্রয়োজন হবে। তার থাকা-খাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা তিনি নিজেই করবেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পরও নজরুলের কোনো দেখা নেই। কোথায় আছে, কেমন আছে তাও জানা গেলো না।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুলকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতে আলী আকবর খানের মানসিক যন্ত্রণা শুরু হয়। এই যন্ত্রণাটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে নজরুলের বন্ধুবান্ধবরা। তারা এখন প্রায়ই আলী আকবর খানের কাছে এসে নজরুলের খোঁজখবর জানতে চান। কোনো কোনো প্রকাশকও তার কাছে এসে খবর নেন। তিনি যতই বলেন, আমি তার কোনো খবর জানি না; ততই যেন তারা চেপে ধরেন। তারা বলেন, আপনি জানেন না তো কে জানবে?<br />
মহামুশকিলে পড়ে গেলেন আলী আকবর খান। কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে তিনি বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলেন। তাতে তিনি বললেন, কলকাতায় নজরুলকে আমি অনেক খুঁজলাম। কিন্তু তার কোনো হদিশ পেলাম না। সে নাকি কলকাতায় ফেরেনি। তারপরও আমি তাকে খুঁজছি। সে যদি আমাদের বাড়িতে ফিরে যেয়ে থাকে তাহলে অতিসত্বর আমাকে জানাও। আমি তার খবর জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।<br />
কিছুদিন পর বাড়ি থেকে আলী আকবর খান চিঠির জবাব পেলেন। চিঠির জবাব দিয়েছে তার বোন আসমাতুন্নেসা। তিনি চিঠিতে বললেন, পর সমাচার এই যে, নজরুলের জন্য আমরাও অপেক্ষায় আছি। তার কোনো খোঁজখবর আমরা পাইনি। সে যদি আবার ফিরে আসে অবশ্যই আপনাকে জানাবো।</p>
<p style="text-align: justify">বাড়ি থেকে চিঠি পাওয়ার পর আবার চিন্তায় পড়েন আলী আকবর খান। চিন্তায় পড়ে নার্গিসও। নজরুল কলকাতায় যায়নি এ খবর শুনে সে বারবার তার মাকে জিজ্ঞাসা করে, কলকাতায় যায়নি তাহলে কোথায় গেছে মা? সে যে আমাকে বলল, কলকাতায় তার কাজ আছে! তাহলে কি যাওয়ার পথে কোনো সমস্যা হয়েছে! সেই রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে কোথায় গেছে! কুমিল্লা থেকে সকালে কলকাতার ট্রেন ছাড়ে। সকালে সেই ট্রেন ধরতে পেরেছিল! মা, মা কিছু বলো!</p>
<p style="text-align: justify">মেয়ের সামনে আসমাতুন্নেসা পাথরের মূর্তিও মতো স্থির হয়ে আছে। তার কাছেও বিষয়টা রহস্যজনক বলে মনে হয়। তিনি মেয়ের প্রশ্নের কোনো জবাব খুঁজে পান না। কি জবাব দেবেন তিনি? এজন্যই তিনি নার্গিসকে তিনি চিঠিটা দেখাতে চাননি। চিঠি পেয়ে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো সুখবর পাবেন। মহাখুশিতে চিঠিটা খুললেন। কিন্তু চিঠি পড়ার পর হতাশায় ভেঙে পড়লেন। তিনি মনে মনে বলেন, নার্গিস কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। নজরুলের বিদায়ের কষ্ট ভুলতে বসেছিল। চিঠিটা যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিল। মেয়ে যদি আবার পাগলামি শুরু করে তাহলে কী হবে! আবার যদি নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দেয়!</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসা নিজের মনের সঙ্গে নিজে কতক্ষণ লড়াই করলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়েকে সাহস দিয়ে বললেন, দুশ্চিন্তা করিস না মা। কলকাতা অনেক বড় শহর। সেখানে সহসাই তোর মামা তাকে খুঁজে বের করতে পারবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। খুঁজে পায়নি বলেই উনি এভাবে লিখেছেন। হয়তো সে কোথাও কাজে রয়েছে। তোকে যখন সে বলেছে, ফিরে আসবে তখন নিশ্চয়ই আসবে।<br />
কিছুতেই নার্গিসের মন মানে না। সে নজরুলকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে উদাসীন হয়ে পড়ে। সে মনে মনে বলে, নজরুল দ্রæত তুমি ফিরে আসো। তোমার নার্গিস অধীর আগ্রহে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/17/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৯) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/08/16/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/08/16/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 16 Aug 2022 12:35:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2065</guid>

					<description><![CDATA[নবম পর্ব নজরুলের যত্ন-আত্তির ব্যাপারে বিরজা দেবী খুবই সতর্ক। নজরুলের কোনো রকম অবহেলা যাতে না হয়; তার খাওয়া দাওয়ায় যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সেজন্য তিনি নিজেই তদারকি করেন। সব &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নবম পর্ব</strong></span><br />
নজরুলের যত্ন-আত্তির ব্যাপারে বিরজা দেবী খুবই সতর্ক। নজরুলের কোনো রকম অবহেলা যাতে না হয়; তার খাওয়া দাওয়ায় যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সেজন্য তিনি নিজেই তদারকি করেন। সব সময় নজর রাখেন। কখনো কখনো নিজেই খাওয়াতে বসান। এটা ওটা পাতে তুলে দেন। কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি সব সময় দেখতে পারেন না। তাই নজরুলের দিকে লক্ষ রাখার জন্য দুলিকেও বলে দেন। শোন দুলি, আমি যেন কখনো শুনতে না পাই যে, নজরুলের ঠিকমতো খাওয়া হয়নি। অথবা কিছু চেয়ে পায়নি। যখন যা দরকার তুই আমাকে বলবি।<br />
আশালতা ঘাড় নেড়ে বিরজা দেবীর কথায় সায় দেয়। মনে মনে সে বলে, আমি তো আপনার এই নির্দেশের অপেক্ষাই করছিলাম কাকীমা। আমি নিজেও তো আমার প্রাণের মানুষের কাছাকাছিই থাকতে চাই। তাকে নয়নভরে দেখতে চাই।<br />
আশালতাকে চুপ থাকতে দেখে বিরজা দেবী বললেন, কি রে দুলি; চুপ করে আছিস যে! কিছু বল!<br />
জি কাকীমা। আপনি নিশ্চিত থাকেন। আমি সব সময় খেয়াল রাখব।</p>
<p style="text-align: justify">বিরজা দেবী নজরুলের ঘরে ছুটে যান। তাকে উদ্দেশ করে বলেন, তুমি আমার ছেলে। এই বাড়িটা নিজের মনে করবে। যখন যা লাগে, বলবে। কোনো রকম লজ্জা করবে না। লজ্জা করলে বুঝব তুমি আমাকে মা ডাকলেও মন থেকে মা হিসেবে গ্রহণ করোনি।<br />
কী যে বলেন মা! আমি আমার মায়ের ভালোবাসা পাইনি। আপনার ভালোবাসা পেয়েছি।<br />
তাহলে মন দিয়ে শোন, এটা তোমার নিজের বাড়ি। আমার বীরেন্দ্রের যে অধিকার, তোমারও সেই অধিকার। আমি দুলিকেও বলেছি; ও যেন সব সময় তোমার দিকে খেয়াল রাখে।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল বিনয়ের সঙ্গে বললেন, আমি তো বেশ আছি মা! তারপরও আপনি এতো চিন্তা করছেন কেন?<br />
বাবা, তুমি তো দেখছই, সংসারের সব ঝামেলা আমার ওপর। সব সময় সংসারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তোমার দিকে তেমন নজর রাখতে পারি না। কখন কি দরকার বুঝতেও পারি না।<br />
মা, এরপরও আপনি বলছেন কী লাগবে বুঝতে পারেন না! আমার কী লাগবে সেটা বুঝে ওঠার আগেই তো আমার হাতে সামনে সবকিছু চলে আসে! এতো কিছু সামলানোর পরেও আপনি যে আমার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেন; এটা যে আমার পরম পাওয়া! এতোটা আমি কখনো আশা করিনি।<br />
পুত্রতুল্য ছেলের সঙ্গেও বিরজা দেবীর বিনয়ের শেষ নেই। তিনি বিনয়ের সঙ্গেই বললেন, এ কী বলছ বাবা! পরম পাওয়া কেন হবে? এ তো মায়ের কাছে ছেলের অধিকার!<br />
বিজরা দেবীর কথায় নজরুল আবেগাপ্লুত হয়ে যান। তিনি আবেগের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে মনে বলেন, এই মহীয়সী নারীর ঋণ আমি কী করে শোধ দেবো!</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল কিছু বলার আগেই বিরজা দেবী বললেন, তোমার পকেট তো মনে হচ্ছে খালি।<br />
না না! আছে। টাকা-পয়সা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। আপনি এতো কিছু করছেন! এরপর টাকা-পয়সা নিয়েও..<br />
এই যে! আচ্ছা, তুমি তোমার মাকে এ কথা বলতে পারতে? পারতে না। তার মানে তুমি আমাকে সত্যিকারের মায়ের আসনে বসাতে পারোনি।<br />
আমি দুঃখিত মা। আপনি কিছু মনে করবেন না। আমি ওভাবে বলতে চাইনি। আসলে আমি ছোটবেলা মায়ের আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। মায়ের আদর-ভালোবাসা কাকে বলে তা জানিও না। আপনার কাছ থেকে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি তা কোনোদিন ভুলতে পারব না।<br />
বিরজা দেবী আঁচলের গিট থেকে টাকা বের করে নজরুলের সামনে এগিয়ে দিয়ে বললেন, এই ধরো, টাকাটা রাখো। পুরুষ মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে কি গায়ে জোর থাকে!</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল বিরজা দেবীর টাকা ফিরিয়ে দিতে পারলেন না। তিনি কৃতজ্ঞতার ভঙ্গিতে বললেন, মা আপনাকে যতই দেখছি ততই বিস্মিত হচ্ছি। পৃথিবীতে এমন মা আর হয় না!<br />
বিরজা দেবী নজরুলের মুখে হাত চেপে ধরে বললেন, বড্ড বেশি কথা বলো। এরপর যদি তুমি আমার কাছে টাকা পয়সা না চাও তাহলে কিন্তু আমি রাগ করব।<br />
নজরুল আর কোনো কথা বলার সুযোগ পেলেন না। তিনি কিছু বলার আগেই বিরজা দেবী চলে গেলেন। তার পেছনে পেছনে এগিয়ে যায় আশালতা। নজরুল উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুক্ষণ পর আশালতা আবার নজরুলের কাছে ফিরে আসে। নজরুল তখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। তিনি ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে আশালতার দিকে তাকান। তাকে নীরব থাকতে দেখে আশালতা বলে, কী ব্যাপার! একেবারে নীরব হয়ে গেলেন!<br />
মা’র কথা ভাবছি।<br />
কাকীমা সত্যিই অসাধারণ!<br />
তুমি চিন্তা করে দেখ, সবদিকে তার নজর। আমি সত্যিই অবাক হচ্ছি। একটা মানুষ কী করে এতোকিছু খেয়াল রাখতে পারেন!<br />
আমিও এমনটি দেখিনি। আমার মা’র সঙ্গেও কাকীমার তুলনা চলে না। আচ্ছা শোনেন, আপনি না বাইরে যেতে চেয়েছিলেন! এখন যাবেন?<br />
তুমি যাবে?<br />
যাবো।<br />
সত্যিই!<br />
সত্যি তো। আমি কাকীমাকে বলে এসেছি।<br />
বলো কী!<br />
হ্যাঁ।<br />
তিনি কি বললেন?<br />
যেতে বললেন।<br />
বাহ!<br />
আশালতা মুচকি হাসে। নজরুল তার হাসির জবাব দেয়। তারপর তারা বাইরে বের হয়। হাঁটতে হাঁটতে দীঘির পাড় পর্যন্ত চলে যায়। দীঘির পাড়ে তারা বসে। এই প্রথম তারা নিরিবিলি পরিবেশে একটু বসার সুযোগ পেল। সুযোগ পেল একটু মন খুলে কথা বলার। একে অপরকে ভালোলাগার কথা; ভালোবাসার কথা।<br />
<em>(চলবে)</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/08/16/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৮) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 14:02:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1778</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৮ আলী আকবর খান ঘরের মধ্যে পায়চারি করছেন। তিনি নজরুলের বিষয়টা নিয়ে ভাবছেন। তিনি কিছুতেই নজরুলের চলে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি পরিবারের সবার কাছে ছোট হয়েছেন। যে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-৮</strong></span><br />
আলী আকবর খান ঘরের মধ্যে পায়চারি করছেন। তিনি নজরুলের বিষয়টা নিয়ে ভাবছেন। তিনি কিছুতেই নজরুলের চলে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি পরিবারের সবার কাছে ছোট হয়েছেন। যে মানুষটির কারণে দৌলতপুর গ্রামে খান পরিবারের মান-মর্যাদা উচ্চস্তরে পৌছে গেছে; সেই মানুষটিই আজ পরিবারের কারো সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না। লজ্জায় তার মাথা হেড হয়ে গেছে। তিনি কারো সামনে যান না। কারো সঙ্গে কথা বলেন না। একঘরে হয়ে যাওয়া লোকের মতোই তার অবস্থা।</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান মনে মনে ভাবেন, এভাবে চলতে পারে না। আলী আকবর খান পরাজিত হবে তা কিছুতেই হতে পারে না। গ্রামের লোকেরা তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে তা কি করে মেনে নেবেন তিনি! এসব ভাবতে ভাবতে তার মাথা বিগড়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। তিনি নিজেকেই নিজে সান্ত্বনা দেন। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে আলী আকবর। একেবারে বরফের মতো ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কথায় বলে না; রেগেছ তো হেরেছ! কাজেই রাগা যাবে না।</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান কলকাতায় যাবেন বলে মনস্থির করলেন। তিনি কলকাতা থেকে নজরুলকে ফেরাবার ব্যবস্থা করবেন। তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন, কাবিননামায় নজরুলকে ঘরজামাই করার শর্ত জুড়ে দেয়াতেই সে গোস্সা করেছে। অভিমান করে সে চলে গেছে। তার অভিমান ভাঙাতে হবে। যে করেই হোক তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য যদি টাকা খরচ করতে হয় তিনি করবেন। সেই সিদ্ধান্তও মনে মনে নিয়ে রেখেছেন।<br />
আলী আকবর খান নার্গিসকে কাছে ডাকলেন। নার্গিসের সঙ্গে আসমাতুন্নেসাও তার কাছে গেলেন। নার্গিসকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বললেন, মা তুই কোনো চিন্তা করিস না মা। আমি যে করেই হোক নজরুলকে ফেরাবো। তুই তার বিবাহিত স্ত্রী। তোকে ফেলে রেখে সে নিরুদ্দেশ হবে তা হতে পারে না। এ আমি হতে দেব না।<br />
নার্গিস কোনো কথা বলল না। সে মাথা নীচু করে রইল। আসমাতুন্নেসা বললেন, ভাই আপনি তারে জোর করতে যাইয়েন না। বুঝাইয়া কইয়েন। আমার মেয়েটা..</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসার কান্না চলে আসে। তিনি আর কথা বলতে পারেন না। তার দুই চোখ দিয়ে দরদর করে পানি পড়তে শুরু করে। তিনি আঁচল দিয়ে চোখের পানি মোছেন। তারপর আবার বললেন, চিন্তায় চিন্তায় মেয়েটা কেমন যেন হইয়া গেছে। মেয়েটার দিকে তাকাতে পারি না!<br />
আবারও আসমাতুন্নেসা কেঁদে ওঠেন। তিনি কথা বলতে গিয়েও বলতে পারলেন না। আলী আকবর খান বোনের চোখে পানি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আবেগজড়ানো কণ্ঠে বললেন, তুমি কোনো চিন্তা কইরো না। আমি তো যাচ্ছি। তাকে নিয়েই আমি বাড়ি ফিরব।</p>
<p style="text-align: justify">আশায় বুক বাঁধেন আসমাতুন্নেসা। নার্গিসও তার মামার কথায় কিছুটা আশ্বস্ত হয়। আলী আকবর খান রওয়ানা হন কলকাতার উদ্দেশে। নার্গিসকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাড়ির দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন আসমাতুন্নেসা। তারপর বাড়ি ফিরতে ফিরতে নার্গিসকে তিনি সান্ত্বনা দেন। দেখ, তোর মামা তো বলল, তাকে যে করেই হোক ফিরিয়ে আনবেন। আর মন খারাপ করে থাকিস না মা! তোর কথা ভেবে ভেবে আমিও রাতে ঘুমাতে পারি না।<br />
ধরা গলায় নার্গিস বলল, আমাকে একটু সময় দাও মা। আমি আস্তে আস্তে নিজেকে সামলে নিব। তুমি দেখ।</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসা মেয়েকে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেন। মেয়েকে আদর করেন। তারপর আবার হাঁটতে থাকেন। বাড়িতে গিয়ে নার্গিসকে নিয়ে তিনি নিজের ঘরে বসলেন। নার্গিসের এলোমেলো চুল আচড়ে দেন। আলমারি থেকে নতুন একটা শাড়ি বের করে নার্গিসের হাতে দিয়ে বললেন, যা গোসল করে আয়। কদিন ধরে তো ঠিক মতোন নাওয়া খাওয়া করিসনি। এবার নাওয়া খাওয়া কর। আর নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর। তিনি যেন মন-বাসনা পূরণ করেন।</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিস আসমাতুন্নেসার দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কিছুই বলে না। সে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনে। আসমাতুন্নেসা আবার বললেন, আর আল্লাহর কাছে কি বলবি জানিস? আল্লাহর কাছে বলবি, হে আমার প্রভু, আমি যদি জীবনে কোনো ভুল করে থাকি, যদি কোনো পাপ করে থাকি তা হলে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার মা বাবা কিংবা আমার পরিবারের কেউ যদি পাপ করে থাকে তাহলে তাদেরকেও ক্ষমা করে দিও। হে আমার ভাগ্য বিধাতা, অন্যের পাপে আমাকে পুড়িও না। অন্যের আঘাত আমাকে দিও না। আমি যদি কোনো পাপ করে থাকি তাহলে তোমার কাছে ক্ষমা চাই। তুমি ক্ষমা কর, ক্ষমা কর!</p>
<p style="text-align: justify">ঠিক বলেছ মা। আমি বিধাতার কাছে এই প্রার্থনাই করব। আজ থেকে নামাজ পড়ে এই প্রার্থনাই করব।<br />
নার্গিসের কথা শুনে মন ভালো হয়ে গেলো আসমাতুন্নেসার। তিনি মেয়েকে আবারও আদর করতে করতে বললেন, আমার লক্ষি মা। যা এবার গোসল করে আয়।<br />
তুমি গোসল করবে না?<br />
করব।<br />
তাহলে চলো। গোসল করে আসি!<br />
আমি রান্না শেষ করে করব।<br />
আমি তোমার সঙ্গেই করব না হয়!<br />
আচ্ছা, চল তাহলে রান্না ঘরে যাই। দুজনে মিলে রান্না শেষ করি।</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসা ও নার্গিস রান্না ঘরে যায়। আসমাতুন্নেসা চুলায় মাছ বসিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন। মেয়ের ছোটবেলার কথা মনে করেন। নার্গিস কিভাবে কথা বলত, কিভাবে হাঁটত আর কিভাবে খেলা করত সেসব গল্প শোনান মেয়েকে। অতীতের সেই স্মৃতি তার মনে দারুণভাবে রেখাপাত করে। কিছুক্ষণের জন্য সে ভুলে যায় সব দুঃখ কষ্ট। সে একটার পর একটা প্রশ্ন করে। আর আসমাতুন্নেসা এক এক করে মেয়ের প্রশ্নের জবাব দেন। নার্গিস গুণমুগ্ধ স্রোতার মতো সেই কথাগুলো শোনে। অনেকদিন পর তার মনটা অন্যরকম এক আনন্দে ভরে ওঠে।<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৭) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/05/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/05/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 05 Feb 2022 03:07:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1558</guid>

					<description><![CDATA[সপ্তম পর্ব দারুণ একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙে আশালতার। স্বপ্নটা দেখে সে ভোরের দিকে। ঘুম ভাঙার পর পরই তার কানে ভেসে আসে মোরগের ডাক। ভোর হয়ে গেছে সেটা সে বুঝতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সপ্তম পর্ব</strong></span><br />
দারুণ একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙে আশালতার। স্বপ্নটা দেখে সে ভোরের দিকে। ঘুম ভাঙার পর পরই তার কানে ভেসে আসে মোরগের ডাক। ভোর হয়ে গেছে সেটা সে বুঝতে পারে। তারপরও সে বিছানা থেকে ওঠে না। স্বপ্নটা নিয়ে ভাবে। নজরুলের কোলে মাথা রেখে সে শুয়ে আছে। নজরুল তার চুলে আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছেন। পরম তৃপ্তি অনুভব করছে সে। তৃপ্তি অনুভব করতে করতেই তার ঘুম ভাঙে। ঘুম ভাঙার পর থেকে নজরুলকে এক নজর দেখার জন্য তার মনটা উতালা হয়ে ওঠে। কখন নজরুলের কাছে যাবে তা নিয়ে ভাবে। তার কিছুই ভালো লাগছে না। তার মন পড়ে আছে নজরুলের কাছে। তার সঙ্গে দেখা করার অজুহাত খুঁজছে সে। কিন্তু তার মা কিংবা কাকীমা কেউ না বললে সে যেতে পারছে না। যাওয়াটা শোভন দেখায় না। তাছাড়া কেউ যদি বলে, তোর কোনো কাজকর্ম নেই নাকি! তুই নজরুলের কাছে বার বার কেন যাস? তখন সে কি জবাব দেবে? এসব চিন্তাও তার মাথায় আসে। সে মনে মনে ভাবে, কাকীমার কাছে গেলে নিশ্চয়ই তিনি কোনো কাজের কথা বলবেন। তখন আর কারো কিছু বলার সুযোগ থাকবে না।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা তার কাকীমার কাছে যায়। তার আশপাশে ঘুরঘুর করে। অপেক্ষা করে, কখন তিনি বলবেন, যা নজরুলের কাছে গিয়ে দেখ, ওর কী লাগবে, না লাগবে।<br />
বিরজা দেবী তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তিনি দুপুরে কী রান্না হবে; রাতের জন্য কী হবে এসব নিয়ে ঝি-চাকরদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। আশালতাকে দেখেও যেন তিনি না দেখার ভান করছেন। তিনি কাজের লোকদের নানা রকম নির্দেশনা দিচ্ছেন। নির্দেশনা দেয়া শেষ হওয়ার পর আশালতার দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, কি রে দুলি; কিছু বলবি?<br />
আশালতা আমতা আমতা করে বলল, না মানে কোনো কাজ করতে হবে কি না তাই খোঁজ নিতে এলাম।<br />
বিরজা দেবী কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, তুই দেখ তো দুলি নজরুলের কিছু লাগবে কি না।</p>
<p style="text-align: justify">বিরজা দেবীর কাছ থেকে এই কথাটাই আশালতা শুনতে চাচ্ছিল। শোনার সঙ্গে সঙ্গে আশালতার চেহারা অন্যরকম হয়ে গেলো। সে আর দেরি করল না। দৌড়ে নজরুলের ঘরের দিকে ছুটে গেলো। গিয়ে সে দেখলো, নজরুল গভীর মনোযোগে লেখালেখি করছেন। আশালতা তন্ময় হয়ে তাকিয়ে রইল নজরুলের দিকে। নজরুলের কথা বলার ধরন, তার হাসি, তার হাঁটাচলা সবকিছুই তাকে বিমুগ্ধ করছে। তার কবিতা, গান তাকে খুব করে টানছে। সেদিন নজরুল তাকে যে কবিতাটা উপহার দিয়েছে সেটি আশালতাকে আরো বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। কবিতাটি তার মনে বারবার দোলা দেয়। সে নিজের অজান্তেই কবিতাটি মুখে আওড়ায়।<br />
‘হে মোর রানী!<br />
তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে।<br />
আমার বিজয় কেতন লুটায়<br />
তোমার চরণ-তলে এসে।’<br />
আশালতা মনে মনে ভাবে, এ কবিতা যে তাকে নিয়েই লেখা। সে জানে, নজরুল তাকে ভীষণভাবে ভালোবাসে। নজরুলকেও সে অসম্ভব ভালোবাসে। কিন্তু এই ভালোবাসার পরিণতি কী তা নিয়ে সে ভাবে না। ভাবতে চায় না।<br />
হঠাৎ নজরুলের চোখ পড়ে আশালতার দিকে। নজরুল তাকে উদ্দেশ করে বললেন, কি ব্যাপার! তুমি একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছো যে!<br />
আশালতা বলল, আপনাকে দেখছি।<br />
নতুন করে কি দেখছ?<br />
প্রতিদিনই মনে হয় একজন নতুন মানুষকে দেখছি।<br />
নজরুল বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকায় আশালতার দিকেন। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আশালতাকে ডাকেন, প্রমীলা আমার কাছে এসো।<br />
আপনার এখন লেখার সময়। এ সময় এখানে থাকা কি ঠিক হবে?<br />
ঠিক হবে কি না সেটা আমি বুঝব। তুমি এসো তো!</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা এটাই চেয়েছিল। নজরুল বলুক। তাহলেই সে থাকবে। তা না হলে সে তার সময় নষ্ট করবে না। সে একপা দুইপা করে নজরুলের কাছে এগিয়ে গেলো। নজরুলের মুখোমুখি দাঁড়াল। নজরুল বললেন, বসো না!<br />
আশালতা বসলো না। সে কখনো নজরুলের দিকে তাকায়। আবার কখনো মাথা নীচ করে দাঁড়িয়ে থাকে। নজরুল তাকে উদ্দেশ করে বলে, শোন প্রমীলা; তুমি কাছে থাকলে আমার লেখা আরো ভালো হয়।<br />
আশালতা হাসি হাসি মুখ করে বলল, কী যে বলেন!<br />
সত্যি বলছি প্রমীলা। তুমি আমার অনুপ্রেরণা।</p>
<p style="text-align: justify">কথাটা শুনে ভীষণ একটা ভালোলাগা কাজ করে আশালতার। মনের ভেতরটা নাচন দিয়ে ওঠে। কিন্তু সে তার এই আনন্দ প্রকাশ করতে পারে না। লজ্জায় তার চেহারা লাল হয়ে যায়। সে কী বলবে তা ভেবে না পেয়ে বলে, আপনাকে চা দিই?<br />
না। চা দিতে হবে না। তুমি আমার কাছে থাকলেই আমি খুশি।<br />
অন্য কিছু খাবেন?<br />
বললাম তো! আমার কিছু লাগবে না। তুমি এখানে বসে থাকো।<br />
বারে! শুধু শুধু কেউ বসে থাকে?<br />
নজরুল বললেন, তুমি সত্যি করে বলো তো প্রমীলা; এখানে থাকতে তোমার ভালো লাগে না?<br />
আশালতা ইতিবাচক মাথা নাড়ে।<br />
তাহলে যেতে চাচ্ছো কেন?</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা কোনো কথা বলে না। সে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে। নজরুল আবারও তাকে উদ্দেশ করে বলল, প্রমীলা তুমি বসো।<br />
আশালতা খাটের এক কিনারে বসলো। নজরুল টেবিলে লেখার খাতা গুটিয়ে রেখে গান ধরল।<br />
‘আসে বসন্ত ফুলবনে<br />
সাজে বনভ‚মি সুন্দরী।<br />
চরণে পায়েলা রুমঝুম<br />
মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি।’<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/05/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৬) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 29 Jan 2022 02:50:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1523</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-ছয় খান বাড়ির এ কী হাল! কঠিন এক নীবরতা ভর করেছে বাড়িটার ওপর।বাড়ির মানুষগুলো যেন বোবা কালায় পরিণত হয়েছে।বাড়িতে মানুষ আছে।অথচ তাদের কোনো সাড়াশব্দ নেই।মানুষগুলো কেমন যেন রোবটের আচরণ করছে।কদিন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-ছয়</strong></span><br />
খান বাড়ির এ কী হাল! কঠিন এক নীবরতা ভর করেছে বাড়িটার ওপর।বাড়ির মানুষগুলো যেন বোবা কালায় পরিণত হয়েছে।বাড়িতে মানুষ আছে।অথচ তাদের কোনো সাড়াশব্দ নেই।মানুষগুলো কেমন যেন রোবটের আচরণ করছে।কদিন আগেও খান বাড়িতে হৈ-হুল্লোড়, গানবাজনায় মেতে ছিল।বাড়ির সবার মুখে হাসি ছিল।নজরুল চলে যাওয়ার পর তাদের হাসিও যেন বিদায় নিল।বন্ধ হয়ে গেলো নার্গিসের ছোটাছুটি।একবারের জন্যও তার পায়ের নূপুরের আওয়াজ কানে আসে না।</p>
<p style="text-align: justify">পাশের বাড়ির মহিলারা নার্গিসকে নিয়ে আকথা কুকথা বলে।কখনো কখনো টিপ্পনি কাটে।সেই কথায় কোনো প্রত্যুত্তর করে না খান বাড়ির লোকেরা।আলী আকবর খান অবশ্য অনেক কষ্টে এসব কথা সহ্য করছেন।এক কান দিয়ে শুনছেন আরেক কান দিয়ে বের করে দিচ্ছেন। তিনি মনে মনে বলেন, সময় আসবে।অবশ্যই আসবে।তখন এর কঠিন জবাব তিনি দেবেন।আজেবাজে কথার ঝাল তিনি মেটাবেন।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল চলে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নার্গিস নিজের ঘর থেকে বাইরে বের হয়নি।আসমাতুন্নেসা অনেকবার তাকে ডাকাডাকি করেছেন।বাইরে বের হওয়ার জন্য বলেছেন।কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।নজরুল চলে যাওয়ার পর ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি সে।এ কারণে তার শরীরটাও তেমন ভালো যাচ্ছে না।সে নিজের ঘরে শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছে।আর সারাক্ষণ নজরুলকে নিয়ে ভাবছে।চোখ বন্ধ করলেই নজরুলের হাসি মুখখানা তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।তার সঙ্গে সুখস্মৃতিগুলো নার্গিসের মনে অন্য রকম এক অনুভূতি জাগায়। নজরুল যে চলে গেছে সে কথা বেমালুম ভুলে যায়।সে ভাবে, নজরুল তাদের বাড়িতেই আছে।নজরুল তার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে।সে নজরুলের গান শুনছে।কবিতা শুনছে।দুজন একসঙ্গে হাসিঠাট্টা আর গল্পে মেতে উঠছে।নার্গিস চোখে চোখে দেখছে, পুকুরপাড়ে বসে নজরুল বাঁশি বাজাচ্ছে।সেই বাঁশির সুর এখনো তার কানে বাজে।</p>
<p style="text-align: justify">একদিন সত্যি সত্যি নজরুল পুকুরপাড়ে বসে বাঁশি বাজিয়েছিলেন।তার পাশে বসে বাঁশি শুনছিল নার্গিস।হৃদয় হরণ করা সেই সুর নার্গিসকে এতোটাই বিমুগ্ধ করল যে, সে আর স্থির থাকতে পারল না।সে আবেগাপ্লুত হয়ে বলল, এমন জাদুকরী সুর তুমি কোথায় পেলে! আমি যে পাগল হয়ে যাবো!</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিসের কথায় নজরুলও আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না।তিনি আবেগের হাত রাখলেন নার্গিসের হাতে।তারপর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, তুমি আমার ভালোবাসার নার্গিস! আমার ভালোবাসার ফুল। সারাজীবন তুমি আমার জীবনে সুবাস ছড়াবে।আমার বাউণ্ডুলে জীবনটাকে ভালোবাসার শেকলে বেঁধে রাখবে।</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিসের কাছে কথাগুলো যেন অবিশ্বাস্য লাগছিল।সে কি সত্যি সত্যিই নজরুলের মুখ থেকে কথাগুলো শুনছে! নিজের শরীরে চিমটি কেটে দেখে সে ঠিক আছে কি না! তারপর আবেগজড়ানো কণ্ঠে সে বলল, আপনার এই হাতটা না আমার জন্য সবচেয়ে ভরসার হাত।সারাজীবন যদি আপনার এই হাত আমার হাতের ওপর থাকে তাহলে আমি আর কিছু চাই না।আর কিছুর প্রয়োজন নেই আমার।কথা দিন, আপনি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেন না।</p>
<p style="text-align: justify">ভালোবাসার মানুষকে কি ছেড়ে যাওয়া যায়! নজরুল বললেন।<br />
নার্গিস মনে মনে শুধু বলল, এরচেয়ে ভরসার কথা আর কী হতে পারে! কিন্তু মুখ ফুটে সে কথা বলতে পারল না।নারীরা অনেক কথাই বলতে পারে না।পুরুষকে নারীর মনের কথা বুঝে নিতে হয়।সে রকমভাবেই বোঝাতে চাইল নার্গিস।সে চুপ করে আছে।কিন্তু মনের মধ্যে তার আনন্দ খেলা করে।আনন্দের সাগরে ভাসে সে।আবেগ তাকে এতোটাই আচ্ছন্ন করল যে, সে আর কোনো কথা বলতে পারল না।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল কবি মানুষ।তিনি মানুষের মনকে খুব ভালো রিড করতে পারেন।নার্গিসের মনের অবস্থাও সে ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। সেদিন রাতেই নজরুল লিখে ফেললেন নার্গিসকে নিয়ে একটি কবিতা।কবিতার নাম কার বাঁশী বাজিল।<br />
‘কার বাঁশী বাজিল<br />
নদী পাড়ে আজি লো?<br />
নীপে নীপে শিহরণ কম্পন রাজিল।<br />
কার বাঁশী বাজিল?<br />
বনে বনে দূরে দূরে<br />
ছল করে সুরে সুরে<br />
এত করে ঝুরে ঝুরে<br />
কে আমায় যাচিল?<br />
পুলকে এ তনু মন ঘন ঘন নাচিল।<br />
ক্ষণে ক্ষণে আজি লো কার বাঁশী বাজিল?<br />
কার হেন বুক ফাটে মুখ নাহি ফোটে লো!<br />
না কওয়া কি কথা যেন সুরে বেজে ওঠে লো!<br />
মম নারী হিয়া মাঝে<br />
কেন এত ব্যথা বাজে?<br />
কেন ফিরে এনু লাজে<br />
নাহি দিয়ে যা ছিল!<br />
যাচা-প্রাণ নিয়ে আমি কেমনে যে বাঁচি লো?<br />
কেঁদে কেঁদে আজি লো কার বাঁশী বাজিল?’</p>
<p style="text-align: justify">নজরুলের সেই কথা মনে পড়তেই নার্গিস খুশিতে টগবগ করতে থাকে। নিজেকেই নিজে সান্ত্বনা দেয়, তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে নার্গিস।অপেক্ষা করতে হবে।এতো উতালা হলে চলবে না।সে তোমাকে কথা দিয়েছে; তোমাকে ছেড়ে সে কোথাও যাবে না।জরুরি কাজে তাকে কলকাতায় যেতে হয়েছে।কাজ শেষ করেই সে আবার ফিরে আসবে শ্রাবণ মাসের কোনো একদিন!</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিস আবার ভাবে, একটা রাত সে আমার সঙ্গে কাটাতে পারল না! এই রাত কি জীবনে আর আসবে! তার যদি এতোই জরুরি কাজ থাকবে তাহলে তড়িঘরি করে বিয়ের পিঁড়িতে না বসলেই হতো! অপেক্ষাটা না হয় বিয়ের আগে করতাম! নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে! মামা কাবিননামায় ‘ঘরজামাই’ হওয়ার একটা শর্তজুড়ে দিয়েছেন। সেটাই কি তার আকস্মিক চলে যাওয়ার কারণ!<br />
নার্গিস আর ভাবতে পারে না।<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৫) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/10/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/10/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 10 Jan 2022 17:38:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1453</guid>

					<description><![CDATA[পঞ্চম পর্ব : নজরুল ঘুমিয়ে আছেন। গভীর ঘুমে ডুবে আছেন তিনি। আশালতা তার বিছানার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তন্ময় হয়ে তাকে দেখছে। একটা মায়া, একটা ভালোলাগা কাজ করছে তার ভেতরে। সেই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পঞ্চম পর্ব : </strong></span>নজরুল ঘুমিয়ে আছেন। গভীর ঘুমে ডুবে আছেন তিনি। আশালতা তার বিছানার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তন্ময় হয়ে তাকে দেখছে। একটা মায়া, একটা ভালোলাগা কাজ করছে তার ভেতরে। সেই ভালোলাগাটা তার চেহারায় ফুটে উঠেছে।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা মনে মনে বলে, মনে হচ্ছে আর জ্বর নেই। তারপর সে নজরুলের কপালে হাত বাড়িয়ে দেয়। হাতের স্পর্শে চমকে ওঠেন নজরুল। চোখ মেলে চারদিকটা দেখেন। আশালতাকে দেখে তৃপ্তির হাসি হেসে তার হাতটা চেপে ধরে। আশালতা ছাড়িয়ে নেয়ার কোনো চেষ্টাই করে না। সে আস্তে করে বিছানার পাশে বসে। নরম গলায় বলে, আজ বেশ চাঙ্গা লাগছে আপনাকে।<br />
নজরুল আশালতার কথায় সায় দিয়ে বললেন, বাব্বা! কী যে ঝড় গেলো আমার শরীরের ওপর দিয়ে!<br />
আশালতা বলল, হ্যাঁ গেছেই তো। যে ঝড় মাথায় নিয়ে আপনি দৌলতপুর থেকে এসেছিলেন!<br />
ওরে বাবা! সে কথা মনে পড়লেও গা শিউরে ওঠে। নজরুল বললেন।<br />
আশালতা বলল, আপনার সাহসের তারিফ করতে হয়।<br />
আমিও ভাবছি, সাহসটা একটু বেশিই দেখিয়ে ফেলেছিলাম! তাই না?<br />
হুম। সাহস না দেখালে হয়তো আমার সঙ্গে আর দেখাও হতো না! মুচকি হেসে বলল আশালতা।<br />
তা বটে তা বটে!<br />
এবার হাতটা ছাড়ুন মশাই!</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা দুই দাঁতের পাটিতে জিহবা কামড়ে মনে মনে বলে, মশাই বলাটা কি ঠিক হলো! যাকগে, যা বলা হয়ে গেছে তা তো আর ফিরাতে পারব না! কাজেই চেপে যাওয়াই ভালো। তারপর সে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নজরুল হাত ছাড়লেন না। তিনি চেপে ধরে রাখলেন। আশালতা বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলল, এই! কেউ এসে দেখে ফেলবে তো!<br />
তাতে আমার বয়েই গেলো!<br />
একটুও ভয় ডর নেই বুঝি!<br />
কিছুক্ষণ আগেই তো বললে, আমার অনেক সাহস।<br />
বলেছি তো!<br />
তাহলে ছাড়ব কেন?<br />
এভাবে সারাজীবন ধরে রাখতে পারবেন? আশালতা এক রকম মুখ ফসকে বলে ফেলল কথাটা।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল আবেগের দৃষ্টিতে আশালতার চোখের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটুও দৃষ্টি ফেলছেন না তিনি। এতে আশালতা কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায়। সে বলে, কি দেখছেন?<br />
তোমাকে দেখছি।<br />
আমি সে রকম সুন্দরী কেউ না।<br />
কী যে বলো! শোন, আমি যদি তোমার একটা নাম দিই! সেই নামে আমি ছাড়া আর কেউ তোমাকে ডাকবে না!<br />
তাই!<br />
হুম। আমি তোমাকে প্রমীলা বলে ডাকব।<br />
বাহ! সুন্দর নাম তো! প্রমীলা..<br />
তোমার পছন্দ হয়েছে?<br />
হুম। খুব পছন্দ হয়েছে।<br />
তাহলে আজ থেকে তুমি আমার প্রমীলা।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুলের কথা শুনে আশালতার শরীরের ধমনিগুলো আনন্দে নেচে ওঠে। খুশির বন্যা বয়ে যায় তার মনের ভেতরে। এতো খুশি সে আগে কখনো হয়নি। সে আর এক মুহূর্তও সেখানে রইল না। সে তার হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে এক দৌড়ে ভেতরের ঘরে চলে গেল। তার হাসি মুখখানা দেখে বিরজা দেবী বললেন, কি রে, তোকে খুব খুশি খুশি দেখাচ্ছে! ঘটনা কি?<br />
আশালতা মাথা নীচু করে বলল, কিছু না।<br />
বললেই হোলো কিছু না। অবশ্যই কিছু হয়েছে। বিরজা দেবী বললেন।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা কিছুতেই তার আনন্দের কথা প্রকাশ করতে চাইল না। পরে বিরজা দেবী প্রসঙ্গ পাল্টালেন। নজরুল ঘুম থেকে উঠেছে কিনা জানতে চাইলেন। আশালতা মাথা নেড়ে সায় দিল। বিরজা দেবী বললেন, তাহলে ওকে গিয়ে বল, নাশতা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। হাতমুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি যেন নাশতা খেতে আসে।<br />
আশালতা আবার ছুটে যায় নজরুলের কাছে। তাকে নাশতা খাওয়ার তাগিদ দিয়ে আবার ফিরে আসে বিরজা দেবীর কাছে। এখন সে খুবই সাবধানী। কোনোভাবেই যাতে তার মনের ভাব প্রকাশ না পায় সেজন্য নিজের ভেতরেই তার আনন্দ চেপে রাখে। বিরজা দেবী আশালতার দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যারে, কেমন দেখলি নজরুলকে? আগের চেয়ে ভালো তো?<br />
আশালতা ইতিবাচক মাথা নাড়ে।<br />
গত দুইদিন কোনো জ¦রটর আসেনি?<br />
আশালতা ডানে-বায়ে মাথা নাড়ে।<br />
তুই নাশতা করেছিস?<br />
আশালতা বলল, না।<br />
নজরুলের নাশতা রেডি করে তুই খেয়ে নে।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা নজরুলের জন্য নাশতা রেডি করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নজরুল বিরজা দেবীর সামনে এসে দাঁড়ায়। তাকে দেখে বিরজা দেবী তড়িঘড়ি করে নাশতার তৈরির তাগাদা দেন। তারপর তার কাছে এগিয়ে গিয়ে জানতে চান, এখন কেমন আছো বাবা?<br />
জি মা; ভালো আছি। এখন একদম সুস্থ মনে হচ্ছে। আপনি যা করলেন! আমাকে চিরদিনের জন্য ঋণী হয়ে গেলাম।<br />
এ কী বলছ তুমি বাবা! মা ছেলের জন্য করবে না তো কার জন্য করবে?<br />
তারপরও মা। আপনি না হলে সত্যিই আমার মরণ দশা হতো!<br />
বাছা আমার কি বলে! মা থাকতে ছেলের মরণ দশা হতে দিলে তো!<br />
মা, আমার এবার যেতে হবে।<br />
আরে যাবে তো! এতো তাড়া কিসের? আরো কিছুদিন থাকো। এখনো তো শরীরের দুর্বলতা কাটেনি!<br />
এখন আর অসুবিধা হবে না মা। কলকাতায় কিছু কাজ আছে। আমি আবার আসব। আপনি যে মায়ার বন্ধনে আমাকে জড়ালেন তা থেকে মুক্তির কি কোনো উপায় আছে!<br />
কী যে বলো বাবা! অবশ্যই তুমি আসবে। মাকে দেখতে আসবে না! শোন, যেখানে থাকো যেমনই থাকো মায়ের কথা ভুলো না যেন! তাহলে আমি কিন্তু ভীষণ রাগ করব!<br />
না মা। কোনোদিন না। আপনাকে ভুলে থাকা সম্ভব না।<br />
কথাটা মনে থাকে যেন!</p>
<p style="text-align: justify">এ সময় আশালতা নাশতা নিয়ে হাজির হয়। সে নজরুলের সামনে নাশতা এগিয়ে দেয়। বিরজা দেবী তাকে নাশতা খাওয়ার জন্য বলে নিজের হাতে চা বানান। তারপর চায়ের কাপ এগিয়ে দেন নজরুলের সামনে। আশালতা পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। তাকে উদ্দেশ করে বিরজা দেবী বললেন, তুই যা না দুলি; খেয়ে নে।<br />
পরে খাই! আশালতা বলল।<br />
বিরজা দেবী বললেন, কেন পরে কেন?<br />
আশালতা নীচু গলায় বলল, এমনি।<br />
নজরুল মুখের খাবার গিলতে গিলতে বললেন, মা আমি তাহলে আজই রওয়ানা হই!<br />
জ¦রের কারণে তোমাকে তো কিছু খাওয়াতেই পারলাম না। আর দুদিন পরে যাও। একটু ভালো মন্দ রান্না করি।<br />
প্রতিদিন যা খাচ্ছি! আর কত খাবো মা?<br />
বিরজা দেবী এবার শাসনের সুরেই বললেন, না না; তুমি না কোরো না তো! তোমার জন্য ভালো ভালো রান্না হচ্ছে। আগামী দুদিন ভালোমন্দ খাবে। শরীরটাও ঠিক হয়ে উঠবে। তারপর তোমার যাওয়া।<br />
নজরুল আর কোনো কথা বললেন না। মনে মনে তিনি খুশিই হলেন। কারণ আশালতা। যে সেবা তাকে সে দিয়েছে, এটা আর কেউ দিত কি না সন্দেহ। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ এবং আশালতার প্রতি তার ভালোবাসা তাকে আকড়ে ধরেছে। তার পায়ে যেন শিকল পড়িয়েছে। আরো দুদিন আশালতার সঙ্গ পেলে মন্দ কী!<br />
পাশে দাঁড়িয়ে আশালতা মুচকি মুচকি হাসে। সে নিজেও ভীষণ খুশি। আরো দুদিন নজরুলের সান্নিধ্য পাবে। এটা তার জন্য অনেক বড় পাওয়া।<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/10/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৪) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/26/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/26/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Dec 2021 17:02:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1421</guid>

					<description><![CDATA[চতুর্থ পর্ব দুদিন আগেও যে বাড়িতে লোকে গমগম করেছে সেই বাড়িটাতে আজ জনমানবশূন্য। বিয়ে বাড়ির কোনো চিহ্ন নেই। আত্মীয়স্বজনরা চলে গেছে যে যার বাড়িতে। তারা চলে যাওয়াতে বাড়ির লোকরা কিছুটা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>চতুর্থ পর্ব</strong></span><br />
দুদিন আগেও যে বাড়িতে লোকে গমগম করেছে সেই বাড়িটাতে আজ জনমানবশূন্য। বিয়ে বাড়ির কোনো চিহ্ন নেই। আত্মীয়স্বজনরা চলে গেছে যে যার বাড়িতে। তারা চলে যাওয়াতে বাড়ির লোকরা কিছুটা স্বস্তিবোধ করছে। যেভাবে তারা ফোড়ন কাটা শুরু করেছিল। আর দুএকদিন থাকলে হয়তো আসমাতুন্নেসা পাগল হয়ে যেতেন। এখন আর বাইরের কেউ এই বাড়িতে নেই। যারা আছেন তাদের সবারই মনমরা অবস্থা। মনমরা হয়ে থাকার একটাই কারণ, নার্গিস। নার্গিসের জন্য তাদের মন খারাপ। বাপমরা মেয়ের জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটবে তা কে জানত! অথচ নার্গিস নিজেকে নিয়ে মোটেই ভাবছে না। সে ভাবছে নজরুলকে নিয়ে। সে এখনো ঘোরের মধ্যে আছে। নজরুল নামক এক কঠিন ঘোর তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। তার ঘোর কিছুতেই কাটছে না। সে চোখে চোখে নজরুলকে দেখছে। তার মুখে নার্গিস ডাক শুনতে পাচ্ছে সে। ঘরের চারদিক থেকে তার অট্টহাসি ভেসে আসছে। সে কখনো গান গাইছে। কখনো বাঁশি বাজাচ্ছে। আবার কখনো কবিতা আবৃত্তি করে সবাইকে মাতিয়ে তুলছে। এই দৃশ্য নার্গিসের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বারবার।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল দৌলতপুরে এসেই সবার মন জয় করে ফেলেছেন। এ যেন সেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। তার পেছনে পেছনে ছেলে-মেয়েরা দলবেঁধে ছুটছে। তাকে যে যা অনুরোধ করছে সঙ্গে সঙ্গে তাই তিনি করছেন। কোনো কিছুতেই তার না নেই। একবার গাঁয়ের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ঘিরে ধরল। তাদের উদ্দেশে একটি কবিতা লেখার জন্য অনুরোধ জানাল। ওমনি নজরুল লিখে ফেললেন, হার মানা হার কবিতা।<br />
‘তোরা কোথা হতে কেমনে এসে<br />
মণি-মালার মতো আমার কণ্ঠে জড়ালি!<br />
আমার পথিক-জীবন এমন ক’রে<br />
ঘরের মায়ায় মুগ্ধ ক’রে বাঁধন পরালি।<br />
আমায় বাঁধতে যারা এসেছিল গরব করে হেসে<br />
তা’রা হার মেনে হয় বিদায় নিল কেঁদে<br />
তোরা কেমন করে ছোট্ট বুকের একটু ভালোবেসে<br />
ঐ কচি বাহুর রেশমী ডোরে ফেললি আমায় বেঁধে!<br />
তোরা চলতে গেলে পায়ে জড়াস,<br />
‘না’ ‘না’ বলে ঘাড়টি নড়াস,<br />
কেন ঘর ছাড়াকে এমন ক’রে<br />
ঘরের ক্ষুধা স্নেহের সুধা মনে পড়ালি।’</p>
<p style="text-align: justify">কবিতাটির এই অংশটুকু নার্গিসের মনে পড়ে। সে মনে মনে বলে, কী করে সম্ভব এভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি কবিতা লেখা! এ যেন এক মূর্তিমান বিস্ময়! এমন বিস্ময়কর প্রতিভার কথা সে জীবনে কখনো শোনেনি। আর সেই প্রতিভা তার হাতের নাগালে। হৃদয়ের মণিকোঠায় ঝড়ের বেগে তিনি ঢুকে গেছেন। গভীর ভালোবাসা, গভীর মায়ার বাঁধনে বেঁধেছেন তিনি। ভালোবেসে সৈয়দা খাতুনের নাম দিয়েছেন নার্গিস। নজরুল যখন বলেছেন যে, তাকে তিনি নার্গিস বলে ডাকবেন। তখন তার কী যে আনন্দ হয়েছিল! আনন্দে তার মাটিতে পা পড়ছিল না। সে নাচতে নাচতে বলল, বাহ! সুন্দর নাম তো!<br />
তারপরও নজরুল বললেন, তোমার আপত্তি নেই তো!<br />
সৈয়দা খাতুন উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে বলল, আপত্তি! কিসের আপত্তি? এ যে আমার পরম পাওয়া!<br />
সেই থেকে সবাই সৈয়দা খাতুনকে নার্গিস বলেই ডাকে। মাত্র কদিনের ব্যবধানে ছোটবেলায় মা বাবার দেয়া ‘সৈয়দ খাতুনের’ নামটি মুছে যায় তার জীবন থেকে। যেন সৈয়দা খাতুন বলে কোনো নামই ছিল না।</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিস পাগলের মতো ছোটাছুটি করে। সে ঘরের মধ্যে এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যায়। নজরুলকে খোঁজে। উঠানে, ঘরের সামনে, পেছনে, ডানে বায়ে উঁকি দিয়ে দেখে। কোথায় আছে নজরুল। তার মনে হয়, নজরুল তাকে ডাকছে। ডাকার সঙ্গে সঙ্গে সে ছুটে যায় তার কাছে। তাকে না পেয়ে আবার অন্য দিকে যায়। তার মনে হয়, তাকে ডেকেই সে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। নার্গিসও ছুটে যায় সেখানে। না পেয়ে আবার অন্য দিকে দৌড়ায়। মনে হচ্ছে যেন লুকোচুরি খেলছে।</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসা অনেকক্ষণ ধরে নার্গিস নার্গিস বলে উঁচু গলায় ডাকেন। কিন্তু তার ডাক সে শুনতে পাচ্ছে না। সে সারাক্ষণ নজরুলের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়। তার ডাকেই সে সাড়া দেয়। অন্য কারো ডাক তার কানে পৌছায় না। কখনো সে নজরুলের হাত ধরে হাঁটে। আবার কখনো নজরুলের আবেগের হাত নার্গিসের কাঁধে রাখে। তারপর দুজনে একসঙ্গে হাঁটতে থাকে। গ্রামের মেঠোপথে হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে যায় অনেক দূরে। নার্গিসকে তিনি গুণগুণিয়ে গান শোনান।<br />
‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়<br />
সে কী মোর অপরাধ!<br />
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে করোরিণী<br />
বলে না তো কিছু চাঁদ।<br />
চেয়ে চেয়ে দেখি ফোটে যবে ফুল<br />
ফুল বলে না তো সে আমার ভুল<br />
মেঘ হেরি ঝুরে চাতকিনী<br />
মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।<br />
জানে সূর্যেরে পাবে না<br />
তবু অবুধ সূর্যমুখী<br />
চেয়ে চেয়ে দেখে তার দেবতারে<br />
দেখিয়াই সে যে সুখী।<br />
হেরিতে তোমর রূপ-মনোহর<br />
পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর<br />
মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর<br />
নয়নের সেই সাধ।’</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিসের কোনো সাড়া না পেয়ে আসমাতুন্নেসা নিজেই ছুটে আসেন তার কাছে। এসে দেখেন, নার্গিস উদাস দৃষ্টিতে এদিক তাকায়। ওদিন তাকায়। কখনো সে শব্দ করে হাসে। কখনো পাগলের মতো প্রলাপ বকে। আসমাতুন্নেসা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে মনে বলেন, এ কী হলো আমার মেয়ের! তার যে মাথা ঠিক নেই! এখন উপায় কী হবে!<br />
আসমাতুন্নেসা কন্যার কাছে ছুটে যান। তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, কি রে মা! তুই এমন করছিস কেন?<br />
নার্গিস তার মায়ের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না। সে পাল্টা প্রশ্ন করে বলে, মা নজরুল কোথায়? ওকে খাবার দিয়েছ? কি রান্না করেছ মা? তোমার হাতের ছোট মাছের চচ্চরি নাকি খুব ভালো হয়!</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসা কোনো কথা বলেন না। তিনি নার্গিসের দিকে তাকিয়ে থাকেন। নার্গিসকে ভালো করে দেখেন। মেয়ের জন্য তার বড় কষ্ট হয়। কান্না পায়। অনেক কষ্টে তিনি আবেগ সংবরণ করেন। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তোর ক্ষুধা পায়নি? চল খেতে চল।<br />
মা যে কী কয়! নজরুলের খাওয়ার আগে আমি খাব? আগে নজরুলকে খাওয়াতে হবে না! তার জন্য খাবার রেডি করছ?<br />
নজরুলকে তুই কোথায় পেলি?<br />
নার্গিস ভ্ররু কুচকে আসমাতুন্নেসার দিকে তাকায়। তাকে পাল্টা প্রশ্ন করে, কেন? তুমি নজরুলকে দেখতে পাও না?<br />
কোথায় আমাকে দেখা তো! আসমাতুন্নেসা বললেন।<br />
নার্গিস নিজের বুকে হাত দিয়ে বলল, এই যে! এই এখানে! আমার বুকের মধ্যে।<br />
আসমাতুন্নেসা নির্বাক দৃষ্টিতে নার্গিসের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি কি বলবেন ভেবে পান না।<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/26/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৩) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/11/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/11/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Dec 2021 03:34:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1376</guid>

					<description><![CDATA[তৃতীয় পর্ব ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তদের একান্নবর্তী পরিবার। ভাইবোনরা সবাই বড় হয়ে গেছে। সবাই বিয়ে-থা করেছে। তারপরও পরিবার আলাদা হয়নি। পরিবারটি কুমিল্লা শহরে অভিজাত পরিবার হিসেবে খ্যাত। এরকম শান্তিপূর্ণ একটি পরিবার শহরে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তৃতীয় পর্ব</strong></span><br />
ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তদের একান্নবর্তী পরিবার। ভাইবোনরা সবাই বড় হয়ে গেছে। সবাই বিয়ে-থা করেছে। তারপরও পরিবার আলাদা হয়নি। পরিবারটি কুমিল্লা শহরে অভিজাত পরিবার হিসেবে খ্যাত। এরকম শান্তিপূর্ণ একটি পরিবার শহরে দ্বিতীয়টি নেই। ইন্দ্রকুমারের ছোট ভাই বসন্তকুমার সেনগুপ্ত ত্রিপুরার রাজার নায়েব থাকাকালে কুমিল্লার মানুষের বেশ উপকারও করেছেন। সেই কথা মানুষ মনে রেখেছে। সেই জন্য পরিবারটিকে সবাই সমীহ করে।</p>
<p style="text-align: justify">বসন্তকুমারের আকস্মিক মৃত্যু হলে পরিবারের পুরো দায়িত্ব চাপে ইন্দ্রকুমার সেনের কাঁধে। তিনিই পরিবারের যাবতীয় বিষয়-আশয় দেখভাল করেন। তবে ঘর সামাল দেন তার স্ত্রী বিরজা সুন্দরী দেবী। তার হাতেই সংসারের চাবি। বিরজা দেবী ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। কোনো ঝুটঝামেলাতেই তিনি বিরক্ত হন না। মান-অভিমান করেন না। কেউ ইচ্ছা করেও তাকে রাগাতে পারে না। মাঝেমধ্যে ইন্দ্রকুমারও তার ধৈর্য দেখে বিস্মিত হন। মনে মনে বলেন, এটা কী করে সম্ভব! এতো কিছু কী করে সামাল দেয় সে!</p>
<p style="text-align: justify">বসন্ত কুমারের মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী গিরিবালা ও একমাত্র কন্যা আশালতা ওরফে দুলি হতাশায় ভেঙে পড়ে। সেই মুহূর্তে তাদেরকে কাছে টেনে নেন বিরজা দেবী। তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বললেন, শোন গিরিবালা, তুমি আমার ছোটবোনের মতো। এই বাড়িতে আমি যখন আসি; তখন আমার কতই বা বয়স! তের কী চৌদ্দ। আমি ছিলাম ভীষণ লজ্জাবতী। সে সময় আমার শাশুড়ি আমাকে খুব সহায়তা করেছিলেন! তিনি না থাকলে আমার যে কী হতো! তিনি সব সময় বলতেন, একান্নবর্তী পরিবারে থাকতে হলে সবাইকেই কিছু না কিছু ছাড় দিতে হয়। তুমি এই সংসারের বড় বউ। তোমাকে সবচেয়ে বেশি ছাড় দিতে হবে। তোমার কাছ থেকেই অন্যরা শিখবে। সেই কথা আমার সব সময় কানে বাজে।</p>
<p style="text-align: justify">সেন বাড়িতে তুমি বউ হয়ে আসার পর থেকেই তো তোমাকে দেখে আসছি! তোমার কোনো ত্রুটি আমি পাইনি। বরং একসঙ্গে থাকার জন্য যতটা সম্ভব সহায়তাই করেছ। তুমি আমার বয়সে অনেক ছোট। তোমাকে আমি সব সময় ছোটবোনোর মতোই জেনে এসেছি। আমি যতদিন আছি তোমাদের কোনো রকম অসুবিধা হবে না। তাছাড়া আমার ছেলে বীরেন্দ্রও তো তোমাকে পছন্দ করে। আমার মেয়ে কমলা ও অঞ্চলি তোমার মেয়ের বয়সের কাছাকাছি। ওদের সঙ্গেই দুলি বড় হবে। ওরাও দুলিকে আপন বোনের মতোই জানবে। আর এ কথার যদি অন্যথা হয় তা হলে তুমি ছোট হয়ে যে শাস্তি দেবে আমি তা মাথা পেতে নেবো। আমি আশা করি, এর পর আর তোমার কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না।</p>
<p style="text-align: justify">বিরজা দেবীর কথায় আশ্বস্ত হলেন গিরিবালা দেবী। তিনি মনে মনে ভাবেন, বিরজা দেবীর বড় মন। তিনি মুখ দিয়ে একবার যা বলবে তা কখনো উল্টাবে না। মুখে এক আর অন্তরে আরেক, সেই মানুষও তিনি নন। তার মতো বড় মনের অধিকারী আমিও হতে পারিনি। তিনি যে বড় সেই বড়ত্ব তিনি বজায় রেখেছে। সবাইকে আগলে রাখা তার পক্ষেই সম্ভব। তিনি না পারলে আর কারো পক্ষে সম্ভব না। তাছাড়া সংসার পরিচালনার জন্য যে ধৈর্য দরকার তা বিরজা দেবীর আছে। আমার কিন্তু ধৈর্য খুব কম! অল্পতেই আমার মেজাজ চড়ে যায়। ঠাণ্ডা মাথা হলে বড় সংসার সামলানো যায় না। প্রতিবেলার রান্নার যে ঝক্কি তা সামলানোই তো কঠিন ব্যাপার!</p>
<p style="text-align: justify">গিরিবালা দেবী নিজের মেয়েকে সান্ত্বনা দেন। কোনো রকম দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দিদি তোকেও তার মেয়ের মত ভালোবাসে। তুই কোনো দুশ্চিন্তা করিস না মা। তিনি একথার মানুষ। নিশ্চয়ই তিনি তোর সবকিছু দেখবেন। যদি কখনো কোনো অসুবিধা হয়, তখন বলা যাবে! আমাদের দায়িত্ব তো বিরজা দেবী নিজেই নিয়েছেন! তাই না?</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা মায়ের কথায় সায় দিলেও তার মনে শঙ্কা থেকেই যায়। সে সময় নেয়। বিরজা দেবীকে বোঝার চেষ্টা করে। কিছুদিনের মধ্যেই আশালতা বুঝতে পারে, বিরজা দেবীর ভালোবাসা মেকি নয়। লোকদেখানোও নয়। আশালতার ব্যাপার তিনি খুব আন্তরিক। সে বিরজা দেবীর ভালোবাসায় মুগ্ধ। সেও বিরজা দেবীকে মায়ের মতো ভালোবাসতে শুরু করে। মেয়ের মনের পরিবর্তন দেখে গিরিবালা তৃপ্তি অনুভব করেন। এই সংসারের কাছে তার যেন আর কোনো চাওয়া পাওয়ার নেই! কন্যা খুশি থাকলেই তিনি খুশি। সংসার নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই। তিনি তার মেয়ের দেখাশুনা আর পূজা-অর্চনা করে সময় কাটান।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিনের মতো আজও গিরিবালা পূজা-অর্চনা করে সামনের ঘর ঝার দিতে গেলেন। সামনের ঘরে লোক দেখে চমকে উঠলেন তিনি। এক মুহূর্তও না দাড়িয়ে ছুটে গেলেন বড় জা’র কাছে। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে জানতে চাইলেন, দিদি সামনের ঘরে কে শুয়ে আছে!<br />
আমার ছেলে।<br />
মানে!<br />
বিস্ময়ভরা কণ্ঠে আবারও বললেন গিরিবালা। বিরজা দেবী গিরিবালার দিকে তাকান। তারপর বললেন, ছোট বউঠান তুমি আমার ছেলেকে চেন না?<br />
গিরিবালার বিস্ময় কিছুতেই কাটে না। বিরজা দেবীর ছেলেকে তিনি চিনবেন না! তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। না, তিনি কিছুই কিনারা করতে পারলেন না। অবশেষে তিনি আবার বললেন, দিদি রহস্য না করে খুলে বলো? সত্যি আমি বুঝতে পারছি না।<br />
নজরুল গো! আমার ছেলে নজরুল! এর আগে একবার এসে কয়েকদিন থেকে গেলো! তুমি দেখনি! দেখেছ, দেখেছ। এতো দ্রুত ভুলে গেলে কি করে ছোট বউঠান?</p>
<p style="text-align: justify">গিরিবালা এতোক্ষণ পর যেন বুঝতে পারলেন। তিনি মাথাটা ওপর-নীচ করতে করতে বললেন, মানে ওই কবি!<br />
হ্যাঁ গো হ্যাঁ। জ¦রে তার কঠিন অবস্থা। পারলে দুলিকে একটু ওর কাছে পাঠাও। ছেলেটাকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলুক। আমি যে গিয়ে ওকে একটু দেখব তাও কাজের চাপে পারছি না। সকাল থেকে নানা ঝামেলায় আটকে গেছি।<br />
ঠিক আছে দিদি। তুমি চিন্তা কোরো না। আমি দেখছি।<br />
গিরিবালা ঘরে গিয়ে আশালতাকে নজরুলের অসুস্থতার কথা জানালেন। তাকে বললেন, তুই একটু যা তো মা। ছেলেটাকে একটু দেখ। সে নাকি খুব অসুস্থ।</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের নির্দেশ বলে কথা। তাছাড়া নজরুলকে এর আগেও সে দেখেছে। সেই দেখাটা ছিল একটা স্বপ্নের মতো। তার মনে ঝড় তুলে দিয়ে সে চলে গেছে দৌলতপুরে। সেই মানুষটা আবার এসেছে। এরমধ্যেই শরীরে অসুখ বাঁধিয়েছে। হঠাৎ কী কারণে অসুখ করল! মনে মনে ভাবে আশালতা। তারপর সে ছুটে যায় সামনের ঘরে। সেখানে গিয়ে দেখে, খাটের ওপর একটা লোক মরার মতো পড়ে আছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত দুটি পাতলা কাঁথা দিয়ে ঢাকা। দূর থেকে লোকটার নিশ্বাসের আওয়াজ ভেসে আসে তার কানে। ঠাণ্ডা লাগলে নাক থেকে যেমন আওয়াজ বের হয় ঠিক তেমনই। গরগর একটা শব্দ। আশালতা লোকটার মাথার কাছে গিয়ে কপালে হাত রাখে। হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গে সে চমকে উঠল। বিদ্যুৎ শকের মতো অবস্থা হলো তার। সে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলল, ও মাই গড! এতো দেখছি সাংঘাতিক জ¦র! শরীরটা যেন তপ্ত আগুনে পুড়ছে!</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা রান্না ঘরের দিকে ছুটে যায়। কলসি থেকে গামলায় পানি ভরে মগসহ নজরুলের কাছে যায়। সে তার মাথায় পানি ঢালতে থাকে। কপালে পানির পট্টি লাগায়। অনেকক্ষণ ধরে পানি ঢালার পর তার জার কিছুটা কমে। কিছুক্ষণের জন্য চোখ মেলে তাকায় সে। তার শিওরের পাশে বিরজা দেবী না অন্য কেউ তা সে ঠাহর করতে পারে না। সে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। আশালতা ভেজা কাপড় দিয়ে নজরুলের মুখ মুছে দেয়। তারপর শুকনো গামছা দিয়ে মাথা মুছে দেয়। এতে আরামবোধ করে নজরুল। কিন্তু ঘুমের রেশ কাটেনি।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা এবার নজরুলের মুখের দিকে ভালো করে তাকাল। তাকে দেখে বুকের মধ্যে কেমন যেন করে উঠল। এই রকম রাজপুতের মতো চেহারার মানুষ সে কালেভদ্রে দেখেছে। মলিন মুখখানা দেখে তার বড্ড মায়া হয়। অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। সে বুঝতে পারে, এই মানুষটার অনেক সেবা লাগবে। সেবা দিয়ে তাকে সারিয়ে তুলতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা মনে মনে ভাবে, সারারাত নিশ্চয়ই কিছু খায়নি। জ্বরের শরীর। মুখে কোনো কিছু রোচেও না। কিন্তু না খেলে যে শরীর আরো দুর্বল হবে। জ¦র তখন আরো পেয়ে বসবে। কি খাওয়ানো যায়!</p>
<p style="text-align: justify">আশালতা ভাবতে ভাবতে বিরজা দেবীর কাছে ছুটে যায়। তার কাছে গিয়ে রোগীর অবস্থা সবিস্তারে জানিয়ে বলে, কাকীমা রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। মনে হচ্ছে কঠিন জ¦র। আমি ঘণ্টাধিককাল মাথায় পানি দিয়েছি। কপালে পানির পট্টি দিয়েছি। তারপরও জ¦র পরেনি। রোগীকে এখন না খাওয়ালে আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়বে। শিগগির কিছু খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন কাকীমা।</p>
<p style="text-align: justify">আশালতার কাছে রোগীর অবস্থা জেনে বিরজা দেবী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি আশালতাকে বললেন, দুলি তুই তাড়াতাড়ি ডাক্তারকে খবর দিতে পারবি?<br />
আশালতা কোনো কিছু চিন্তা না করেই বলল, হ্যাঁ পারব।<br />
তাহলে যা ডাক্তারকে খবর দে। এর মধ্যে আমি শাগু রেডি করছি। তুই এসেই খাইয়ে দিবি। যা যা, তাড়াতাড়ি যা।<br />
আশালতা ঘাড় নেড়ে তার কথায় সায় দেয়। তারপর ডাক্তার ডাকার জন্য ছুটে যায়। বিরজা দেবীর কাজে গিরিবালা সহায়তা করেন। শাগু তৈরি হতে না হতেই আশালতা ডাক্তার নিয়ে হাজির হয়। সে তাকে নজরুলের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার নজরুলকে ভালো করে দেখেন। এরমধ্যে শাগুর বাটি নিয়ে বিরজা দেবীও সামনের ঘরে গিয়ে হাজির হন। তিনি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে ডাক্তারের কাছে জানতে চান, এখন কি অবস্থা ডাক্তারবাবু?<br />
সাংঘাতিক জ্বর। এরচেয়ে জ্বরের মাত্রা বেড়ে গেলে বিপদ ঘটে যাবে। আমি মিক্চার বানিয়ে দিচ্ছি। প্রতিবেলা খাওয়ার পর এক দাগ করে খাইয়ে দেবেন। আরেকটা কথা, রোগীর সেবা লাগবে। কঠিন সেবা দিয়ে রোগীকে সারিয়ে তুলতে হবে।<br />
বিরজা দেবী ডাক্তার কথা বুঝতে পার বুঝতে পারলেন। তিনি আশালতাকে উদ্দেশ করে বললেন, আমার পুত্রের সেবার যেন ত্রুটি না হয়।<br />
আশালতা মাথা নেড়ে বলে, জি কাকীমা। ত্রুটি হবে না।<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/11/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-২) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 Nov 2021 03:20:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1336</guid>

					<description><![CDATA[দ্বিতীয় পর্ব নার্গিস নীড়হারা পাখির মতো কেবল ছটফট করছে। তার মাথা চরকির মতো ঘুরছে। কিছুতেই সে নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না। বালিশে মাথা ঠেকালে মনে হয় পুরো দুনিয়াই ঘুরছে। তার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দ্বিতীয় পর্ব</strong></span><br />
নার্গিস নীড়হারা পাখির মতো কেবল ছটফট করছে। তার মাথা চরকির মতো ঘুরছে। কিছুতেই সে নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না। বালিশে মাথা ঠেকালে মনে হয় পুরো দুনিয়াই ঘুরছে। তার কাছে সবকিছু কেমন স্বপ্নের মতো মনে হয়। নজরুল যেদিন নার্গিসদের বাড়িতে এলো সেদিনের আগের রাতে সে স্বপ্নে দেখে, এক রাজপুতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। কত আনন্দই না হয়েছে সেই বিয়েতে। বিয়ের আনন্দ করতে করতেই ঘুম ভেঙে যায় তার। ঘুম ভাঙার পরও সুন্দর স্বপ্নের রেশ থেকে যায়। সকালে তার আনন্দ আর কে দেখে! মনের আনন্দ তার শরীরেও যেন খেলা করে। সে এদিকে যায়, ওদিক যায়। ছুটে বেড়ায় সারা বাড়ি। একা একা সে হাসে। অবাক বিস্ময়ে মেয়েকে দেখেন আসমাতুন্নেসা।</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিসের সেই হাসি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই খান বাড়িতে এসে হাজির হলেন নজরুল। ঠিক যেন সেই রাজপুত! নার্গিসের স্বপ্নের সেই রাজপুত! রাজপুতের মতোই চেহারা তার। রাতে যাকে স্বপ্নে দেখল সে-ই যখন সকালে তার সামনে এসে দাঁড়ায় তখন কি অবস্থা হয়! নিশ্চিতভাবে মানুষটি জ্ঞান হারাবে! তা না হলে আর কী হতে পারে! পাথরের মতো স্থির হয়ে যাবে! বাড়ির আঙিনায় নজরুলকে দেখে সে রকম অবস্থাই হয়েছিল নার্গিসের। একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সে। তার মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন, কাকে দেখছে সে? এই মানুষটিকেই কি সে স্বপ্নে দেখেছিল! এই মানুষটির সঙ্গেই কি তার বিয়ে হয়েছিল! হায় খোদা! এ রকম হুবহু মানুষের মিল হয় কী করে!</p>
<p style="text-align: justify">নজরুলও একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন নার্গিসের দিকে। প্রথম দেখাতেই দুজন দুজনের মনে ধরে যায়। মনে মনে ভালোবেসে ফেলে। প্রথম দেখাই হয়ে যায় তাদের শুভদৃষ্টি। নার্গিসের মামা আলী আকবর খান নজরুলের সঙ্গে ভাগ্নিকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। তাদেরকে পরিচয় করানোর যেন কোনো প্রয়োজন নেই। তারা আগে থেকেই যেন পরস্পরকে চেনে-জানে; সে রকম অবস্থা!</p>
<p style="text-align: justify">নজরুলকে নিয়ে নার্গিস ঘরে যায়। তার মা আসমাতুন্নেসার সঙ্গে পরিচয় করায়। আসমাতুন্নেসা তড়িঘড়ি করে সরবত বানিয়ে দেন। নার্গিস সরবত খাইয়ে আপ্যায়ন করায় নজরুলকে। তারপর তাকে চা-নাশতা দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে। চা নাশতা দিতে দিতেই সে নজরুলের সঙ্গে কথা বলে। নানা কথার উত্তর দেয়। তার মধ্যে একটুও গ্রাম্য নারীর লজ্জা কিংবা জড়তা নেই। নজরুলের সামনে ভীষণ সাবলিল সে। আকবর আলী খান অবাক বিস্ময়ে তার ভাগ্নিকে দেখেন। তার চিত্ত যেন সন্তুষ্টিতে ভরে যায়। তিনি মনে মনে বলেন, লাজুক মেয়েটি হঠাৎ এমন পাল্টে গেলো কী করে! এটাই তো চেয়েছিলেন তিনি। ভাগ্নিকে নজরুলের হাতে তুলে দেবেন বলেই তাকে নিয়ে এসেছেন এই বাড়িতে। তার গোপন উদ্দেশ্য বোধহয় সফল হতে চলেছে। নজরুলকে তিনি সারাজীবনের জন্য কব্জা করতে চান। এজন্য তাকে বিশেষ কোনো কৌশলও করতে হবে না। নজরুলকে দেখে মনে হচ্ছে সে পটে গেছে! ভাগ্নিকে সে খুব পছন্দ করেছে। একাকী ভাগ্নিকে আরো কথা বলার সুযোগ দিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে চলে যান।</p>
<p style="text-align: justify">মামার ইঙ্গিতটা ভাগ্নি ভালোই বুঝতে পারে নার্গিস। নজরুলের মন ভজাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সে। প্রচন্ড আবেগী মানুষ নজরুল। নার্গিসের বাঁধভাঙা আবেগের সঙ্গে নজরুলের আবেগ একাকার হয়ে যায়। বানের স্রোতের মতো দুজনের আবেগ ছুটে চলে এক মোহনায়।<br />
মধ্যাহ্নভোজেই নজরুলের পছন্দের সব মাছ রাখা হয়। খেতে বসে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন নজরুল। বিস্ময়ের সঙ্গে তিনি বললেন, কি ব্যাপার! একদিনের মধ্যে আমার সব পছন্দের মাছ! কোথায় পেলেন?</p>
<p style="text-align: justify">আলী আকবর খান হাসতে হাসতে বললেন, আমাদের পুকুরের মাছ। নানাজাতের মাছ পাওয়া যায় পুকুরে।<br />
নজরুল খুব তৃপ্তি সহকারে দুপুরের খাবার খেলেন। ঠিক যেন মায়ের হাতের রান্না। নজরুল মুখে শুধু বললেন, বাহ! খুব ভালো রান্না হয়েছে।<br />
নজরুলের এই কথাতেই খুশিতে আটখানা আসমাতুন্নেসা। তিনি নার্গিসকে বললেন, বেশি করে তুলে দে মা।<br />
নজরুল রীতিমতো পেটপূজা করলেন। নার্গিসের আপ্যায়নে তিনি ভীষণ খুশি। অনেকদিন তৃপ্তি সহকারে খাওয়া হয়নি তার। মায়েরাই বুঝি সন্তানদের এভাবেই খাওয়ায়। নিজের মায়ের হাতে কবে খেয়েছিলেন তা মনেও করতে পারেন না নজরুল। মায়ের কথা মনে করে হঠাৎ তার চোখের পানি আসে। টানাটানির সংসারে কত কষ্টই না করেছেন তার মা! নজরুলের চোখ ভেজা দেখে নার্গিস বিচলিত হয়ে জানতে চায়, আপনার কি হয়েছে?<br />
না। তেমন কিছু না। হঠাৎ মায়ের কথা মনে পড়ল।<br />
আপনার মা কোথায় আছেন?<br />
দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে নজরুল বললেন, আমার মা কোথায় যে আছেন!</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিসও দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে। তারপর কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলে না। নজরুল অতিথি ঘরের দিকে যায়। তার পেছনে পেছনে নার্গিসও যায়। নজরুলের বিছানা ঠিকঠাক করে দিয়ে বলল, নিন, এবার বিশ্রাম নিন। বিকেলে আড্ডা হবে।<br />
নজরুল বিছানায় বসে নার্গিসের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, তুমি গান জানো?<br />
নার্গিস এবার লাজুক ভঙ্গিতে না সূচক ঘাড় নাড়ালো। তারপর বলল, আপনি নিশ্চয়ই জানেন?<br />
নজরুল হ্যাঁ সূচক ঘাড় নেড়ে বললেন, কিছু কিছু।<br />
তা হলে বিকেলে আপনার গান শুনব।</p>
<p style="text-align: justify">নজরুল ইতিবাচক মাথা নাড়লেন। আর কোনো কথা বললেন না। নার্গিস ঘরের ভেতরে যায়। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে নজরুলের কাছে।<br />
(চলবে)</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১) ॥ দেবো খোঁপায় তারার ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 20 Nov 2021 17:04:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মোস্তফা কামাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1305</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-১ ঝড়ের রাত। তুমুল বাতাসের সঙ্গে বিজলি চমকাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টি কিছুতেই থামছে না। কখন থামবে তাও ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মধ্যরাতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-১</strong></span><br />
ঝড়ের রাত।<br />
তুমুল বাতাসের সঙ্গে বিজলি চমকাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টি কিছুতেই থামছে না। কখন থামবে তাও ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মধ্যরাতে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন কাজী নজরুল। জীবনের সবচেয়ে আনন্দের বাসরঘর ছেড়ে অনিশ্চিত গন্তব্যে পা বাড়িয়েছেন তিনি। চারদিকে গাছপালা, ঝোপ-জঙ্গল। ঘন অন্ধকার। সামনে পা ফেলতেই শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে হিমশীতল বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার। ঠাণ্ডায় একেবারে কুকড়ে যাওয়ার দশা হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে তার শরীরে কাঁপন শুরু হলো। দাঁতে দাঁতে বাড়ি খেতে লাগল। তারপরও তিনি হাঁটছেন। এবড়ো-খেবড়ো রাস্তায় কখনো পা ফসকে পড়ে যান। আবার কখনো বর্জপাতের কান ফাটানো শব্দে চমকে ওঠেন। বড় কোনো গাছের আড়ালে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আবার তিনি হাঁটতে শুরু করেন।</p>
<p style="text-align: justify">নার্গিস ঘরে একা। সে কাঁদছে। কান্নার শব্দটা বড় করুন শোনাচ্ছে। রাতে কান্নার শব্দ পেয়ে আসমাতুন্নেসা ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠেন। কান্নার শব্দ কোন দিক থেকে আসছে তা কান খাড়া করে বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি উৎকণ্ঠার সঙ্গে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেন, এতোরাতে কে কাঁদছে! কান্নার শব্দ কোথা থেকে আসছে! নার্গিসের ঘর থেকে! কেন? বাসররাতে সে কেন কাঁদবে? এই কান্না নিশ্চয়ই আনন্দের কান্না নয়! এমন ঘটা করে বিয়ে হলো! তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কান্নার কি হলো?</p>
<p style="text-align: justify">আসমাতুন্নেসা নার্গিসের ঘরের দিকে ছুটে যান। ঘরের দরজার সামনে এসে আবার কান পাতেন। থেকে থেকে কান্নার শব্দ আসছে তার কানে। এবার তিনি নিশ্চিত হন। হ্যাঁ, নার্গিসই কাঁদছে। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে নার্গিসের ঘরের দরজায় টোকা দেন। মৃদু স্বরে ডাকেন। নার্গিস! নার্গিস!<br />
নার্গিস কান্না থামায়। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। আবার কান্না শুরু করে। আসমাতুন্নেসা আবার ডাকেন, নার্গিস! মা আমার! কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন?</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>এবারও নার্গিস চুপ করে আছে। কোনো কথা বলছে না। আসমাতুন্নেসা উদ্বিগ্ন কণ্ঠে মেয়েকে ডাকেন। মা নার্গিস! দরজা খোল মা! </em></span><br />
<span style="color: #ff0000"><em>অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকির পর দরজা খোলে নার্গিস। আসমাতুন্নেসা ঘরে ঢুকতেই নার্গিস তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। সে কী কান্না!</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে দিতেই তিনি ঘরের দিকে চোখ বুলান। ঘরে কাজী নজরুলকে না দেখে বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বললেন, নজরুল! নজরুল কই! নজরুলকে যে দেখছি না!<br />
নার্গিস কাঁদতে কাঁদতেই বলল, সে চলে গেছে মা!<br />
কী বলিস তুই! বাইরে তো প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি! এরমধ্যে বের হলো কি করে?<br />
এরমধ্যেই বের হয়েছে মা! আমি কিছুতেই আটকাতে পারিনি।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বনাশ! হঠাৎ কেন কি হয়েছে? তোর সঙ্গে কোনো কিছু হয়েছে?<br />
না মা। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কি ঘটলো? কেন হঠাৎ যাওয়ার জন্য জেদ ধরলো?<br />
বের হওয়ার সময় কি বলে বের হলো?<br />
আমাকে বলল, তার বিশেষ জরুরি কাজ আছে। কলকাতায় তাকে ফিরে যেতে হবে। শ্রাবণ মাসের কোনো এক সময় সে আবার আসবে। ফিরে এসে আমাকে নিয়ে যাবে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
