<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মাসরুর আরেফিন &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sat, 17 Apr 2021 18:48:05 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>মাসরুর আরেফিন &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>মনীষী শামসুজ্জামান খানের প্রয়াণ: আমার প্রাথমিক অনুভূতি ॥ মাসরুর আরেফিন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/18/%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%80-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/18/%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%80-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Apr 2021 18:48:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[মাসরুর আরেফিন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=386</guid>

					<description><![CDATA[[ সম্পাদকীয় নোট: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৪ এপ্রিল ২০২১) প্রয়াত হয়েছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, সাবেক মহাপরিচালক লেখক, গবেষক, ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান। তাঁর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলো। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><em>[ সম্পাদকীয় নোট: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৪ এপ্রিল ২০২১) প্রয়াত হয়েছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, সাবেক মহাপরিচালক লেখক, গবেষক, ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান। তাঁর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাসরুর আরেফিনের এই লেখাটি যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া। বানান রীতি লেখকের]</em></p>
<p style="text-align: justify">চলে গেলেন শামসুজ্জামান খান। আমার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় মাত্র বছর দেড়েকের। তিনি আমার উপন্যাস ‘আগস্ট আবছায়া’ পড়লেন এবং তারপরই আমার এক বন্ধু মারফত আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। আমার দুই উপন্যাসই তিনি পড়েছেন—‘আগস্ট আবছায়া’ ও ‘আলথুসার’; এবং দুটো বই নিয়েই তাঁর মধ্যে অসম্ভব মুগ্ধতা ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">গত বছর অক্টোবর মাসে আমার জন্মদিনে আমার লেখালেখি বিষয়ে তাঁর উচ্চপ্রশংসাভরা এক রচনা এ জীবনে আমার পাওয়া সবচাইতে বড় কমপ্লিমেন্টের একটা ছিল। কিন্তু আমার এ লেখা আমাকে নিয়ে না। তাকে নিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">আমি গত দেড় বছরে তাঁর লেখা অনেক প্রবন্ধ পড়েছি। তিনি আমাকে তাঁর অনেকগুলো বই উপহার দিয়েছেন। আগেও যে তার দু-দশটা লেখা আমার জানা ও পড়া ছিল না, তা না। কিন্তু এই নতুন করে তাকে পড়ার মধ্যে দিয়ে জানলাম যে, আইডেন্টিটি পলিটিক্সের এ রক্তাক্ত সময়ে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি আত্মপরিচয়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের ব্যাখ্যাটা দেবার জন্য তাঁর মতো অগাধ জ্ঞানসম্পন্ন মনীষী আমাদের এই কালে আর একজনও ছিলেন না। শামসুজ্জামান খানের কারণেই আমি বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, শরৎচন্দ্রকে নতুন চোখে দেখতে শিখেছি। সেটা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এক লেখা আজই লিখতে শুরু করলাম।</p>
<p style="text-align: justify">আবার জয়া চ্যাটার্জির ‘বাঙলা ভাগ হল’ বইটা নিয়ে আজ থেকে মাত্র পাঁচ শুক্রবার আগে স্যারের সঙ্গে ফোনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কথা হল আমার—না, বলা উচিত বাদানুবাদই হয়ে গেল। ওই বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় ‘হিন্দু ঐক্য ও মুসলমান স্বেচ্ছাচার’ নিয়ে স্যার আমাকে যা-যা বললেন তা অনেকের পায়ের তলা থেকে হয় মাটি সরিয়ে নেবে, না হয় ঘুম থেকে ধাক্কা দিয়ে জাগাবে। মোটামুটি একই সময়ে স্যারই আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর লেখা পেপার ‘হাজার বছরের পুরোনো বাংলা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা‘। আমি পড়া শেষে দু-দিন পরেই স্যারকে ফোন করলে তিনি বললেন, ‘লেখার মধ্যে দুটো ঐতিহাসিক ভুল আছে, মাসরুর। বলতে পারলে বুঝবো মন দিয়ে পড়েছো।’ আমি বলতে পেরেছিলাম, স্যার খুশি ও বিস্মিত হয়েছিলেন। জয়া ও শাস্ত্রীর এই দুটি বিষয় ভাব ও তাৎপর্যের দিক থেকে একই ছিল। এটা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ লেখা আমাকে লিখতেই হবে।</p>
<p style="text-align: justify">শামসুজ্জামান খান আমার কাছে সবচাইতে শ্রদ্ধার্হ্য তাঁর বাংলার রাজনীতিতে গ্রামের অভ্যুদ়য় নিয়ে নিজস্ব ধরনের অভিজ্ঞানের জন্য। তাছাড়া মফস্বলের সংস্কৃতি, স্বামী বিবেকানন্দ, অরবিন্দ ঘোষ, ভদ্রলোকের চোখে এই দেশ, ছোটলোকের চোখে এই বাঙালি হওয়ার স্বরূপ, কেন হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়, কেন এই পারস্পরিক ধর্মভিত্তিক ঘৃণা, লর্ড কার্জন তাঁর বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে কী দাঁড়াত ভারতীয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেহারাটা, আর রামমোহন, আর কেশবচন্দ্র আর রামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক সমন্বয়বাদ বোঝার সঙ্গে মুসলিম রাজনৈতিক চেতনাকে বোঝার ব্যাপারটা কীভাবে জড়িত, কীভাবে শরৎচন্দ্র ব্রিটিশ স্বার্থের পক্ষের লোক ছিলেন আর সেটা ঠিক কী প্রভাব ফেলেছিল হিন্দু মধ্যবিত্ত মানসিকতায়, এবং ভারতবর্ষের ইতিহাস প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পুনর্মূল্যায়নটা আমরা কীভাবে করব, ঠিক তাঁর কোন্ কোন্ লেখা ধরে কাজটা শুরু করব—প্রথমে এসব প্রশ্নকে জানবার এবং পরে তার প্রতিটারই সবচাইতে স্বচ্ছ উত্তর হাজির করবার বিষয়ে আমার কাছে প্রায় শেষ-কথা ছিলেন শামসুজ্জামান খান।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু তার চাইতেও বড় আমার কাছে তিনি ছিলেন এই বোঝাবুঝিটুকুর জন্যে যে (স্যারকেই স্মৃতি থেকে কোট করে বলছি): ‘মাসরুর, দ্যাখো এই মাটিতে বৈদিক ধর্ম ছিল, ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ছিল, শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব ধর্ম ছিল, ছিল জৈন ও বৌদ্ধ; কিন্তু হিন্দু ধর্ম বলে আলাদা কোনো ধর্ম ছিল না। আর এবার ভূগোলের দিকে তাকাও—বাংলায় বাঙালি ছিল, পাঞ্জাবে পাঞ্জাবি, উড়িষ্যায় ওড়িয়া, তামিলনাড়ে তামিল, কিন্তু ভারতীয় জাতি নামে আলাদা কোনো জাতিসত্তা ছিল না। তাহলে কীভাবে হঠাৎ কোত্থেকে জন্ম নিল হিন্দুধর্ম, আর ভারতীয় জাতি নির্মাণ-ভাবনার বাসনা? মনে রাখবা, ভিনদেশের কেউ ভারত দখলের আগে ভিনদেশের ধর্ম ভারত দখল করেছিল। ইসলাম নামের একদম সুসংগঠিত এক ধর্ম এখানে যেই আসলো, তারই প্রতিক্রিয়ায় আসলো নিজেদের মাটির হিন্দু ধর্ম খাড়া করবার বোধ, আর আসলো হিন্দুত্বের বেসিসে এক অখণ্ড হিন্দু ভারতীয় জাতির ভাবনা। এই মাটিতে ইসলামের সবচাইতে বড় অবদান এইটা যে, সে হিন্দুধর্মের থিওলোজিক্যাল চেহারাটার অতিরিক্ত সামাজিক সাংস্কৃতিক রূপরেখাটারও জন্ম দিয়েছে। একটা কাজের প্রতিক্রিয়ায় আরেকটার জন্ম হওয়া ইতিহাসে স্বাভাবিক কথা। তেমনই স্বাভাবিক যে, গ্রামবাংলায় এখন এই যে ইসলামী চেতনার নতুন এক বিরাট জোয়ার চলছে, এর প্রতিক্রিয়ায় একদিন এই রাষ্ট্র তার আধুনিকতামনষ্ক স্বতন্ত্র এক সংখ্যাগুরু বাঙালি মুসলিমের জাতি রাষ্ট্রচিন্তার আসল যে ব্যতিক্রমী পরিচয় “সেক্যুলারিজম”, সেটা হারাবে।&#8217;</p>
<p style="text-align: justify">আমি স্যারকে বলেছিলাম, ‘স্যার, ভয় লাগে। আর বলবেন না। আমার নার্ভাস ব্রেকডাউন মতো হয়ে যায়।’<br />
স্যার বলেছিলেন, ‘আমারও ভয় লাগে।&#8230;&#8221;আলথুসার&#8221;-এ তুমি পরিবেশ বিষয়ে পৃথিবীর সংগ্রামগুলো নিয়ে কী সুন্দর করে লিখেছ। এবার তুমি আমাদের এই &#8220;ভয়&#8221;-টা নিয়ে লেখো। শুরু করতে পারো সুনীতিকুমারের বই &#8220;ইরানিয়ানিজম&#8221; থেকে। আছে তোমার কাছে? না থাকলে ড্রাইভার পাঠাও। আমারটা নাও।’</p>
<p style="text-align: justify">আমি পরশু বা পারশ্ব নামের বৈদিক আর্যগোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতীয় আর্যদের মিথস্ক্রিয়ার কথা ভাবছি, স্যারের কাছ থেকে ক্লু নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছি যে, কীভাবে সেই মিথস্ক্রিয়া থেকে জন্ম নিল আমাদের প্রিয় শব্দ ‘রিলিজিয়ন‘-এর, মানে ধর্ম, মানে রোজকার নামাজ ও পূজাপাঠের বাইরে আমাদের বড় স্বপ্ন সে, আমাদের আত্মা, আমাদের ভাত সে, আমাদের মাছ, আমাদের কলারের কাপড় সে, আর কলারের নিচে থাকা গলার কাছের এক জোট-ঘোঁট-দলা। গলার কাছে স্পষ্ট এক দলা নিয়ে আমি শামসুজ্জামান খান স্যারের জন্য কাঁদছি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/18/%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%80-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আন্ডারগ্রাউন্ড ॥ মাসরুর আরেফিন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/03/15/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/03/15/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 14 Mar 2021 18:42:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[মাসরুর আরেফিন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=138</guid>

					<description><![CDATA[আমার তৃতীয় উপন্যাস ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ আসছে এ মাসের (মার্চ) ২৫ তারিখের পরে বইমেলায় ‘কথাপ্রকাশ’-এর স্টলে। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী আনিসুজ্জামান সোহেল। কথা ছিল তৃতীয় উপন্যাস হবে ‘স্কয়ার ওয়ান‘। কিন্তু ওই দেড় লাখ &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আমার তৃতীয় উপন্যাস ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ আসছে এ মাসের (মার্চ) ২৫ তারিখের পরে বইমেলায় ‘কথাপ্রকাশ’-এর স্টলে। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী আনিসুজ্জামান সোহেল।</p>
<p style="text-align: justify">কথা ছিল তৃতীয় উপন্যাস হবে ‘স্কয়ার ওয়ান‘। কিন্তু ওই দেড় লাখ শব্দের, ওই একশর ওপর চরিত্রের বিশাল গ্রন্থের কাজে তাড়াহুড়া করলাম না। ওটা আসবে এ বছরের শেষ ভাগে আশা করি।</p>
<p style="text-align: justify">‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ আগেই লেখা ও প্রকাশিত এক নভেলা ছিল। বেরিয়েছিল পাঁচ বছর আগে ‘সমকাল‘ পত্রিকার ঈদ সংখ্যায়। বন্ধুরা পড়ে অনেক ভালো বলেছিল গল্পটাকে, গল্পের ভাষাকে। ‘সমকাল’-এর ওই প্রায় ২০,০০০ শব্দের মধ্যে প্রমাণ সাইজ কোনো উপন্যাসের পূর্ণাঙ্গ উপাদান বিদ্যমান ছিলই। আর সেই ২০১৫ সালেই এর অধ্যায় টু অধ্যায় ড্রাফটিং-ম্যাপিং-ডায়াগ্রাম সব আমার করাই ছিল এক নীল নোট বইয়ের ৩৪ পৃষ্ঠাজুড়ে। তা নিয়েই কাজ করলাম গত দেড় মাস। দাঁড়িয়ে গেল প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস—‘আন্ডারগ্রাউন্ড’।</p>
<p style="text-align: justify">একসঙ্গে পাঁচটা গল্প চলছে এতে পাশাপাশি: এক ভাই তিরিশ বছর পরে তার হারিয়ে যাওয়া বড় ভাইকে খুঁজছে দূর এক দেশের লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া এই বর্তমানে; দুই বন্ধু হিসাব মেলাতে চাইছে শৈশবের বরিশালে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর এক নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে পরের এক মাথা-ঘোরানো সাম্প্রদায়িক খুনের; নায়কের বিলিয়নিয়ার বন্ধু বলছে যে, সে ভেঙেচুরে শেষ ও সর্বস্বান্ত হয়ে পড়া এক স্বদেশী ছোটভাইকে সাহায্য করতে রাজি কেবল সেই ছোটভাইয়ের স্ত্রীর শারীরিক সঙ্গ পাওয়ার বিনিময়েই।—ব্যক্তিগত এসব গল্পের সূত্র ধরে নায়ক বুঝতে চায় পরিস্থিতির কোন জংশনে এসে ব্যক্তির জীবনের কাহিনিগুলো ব্যক্তিগতকে পেরিয়ে ইতিহাসের দুয়ারে এসে মেলে? বুঝতে চায়, রাষ্ট্রের কোন প্রাণহরণকারী ইচ্ছার থেকে একজন ব্যক্তি মানুষ হঠাৎ ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে?</p>
<p style="text-align: justify">শেষের এই প্রশ্নই তাকে টেনে নিয়ে যায় বিশ শতকের শ্রেষ্ঠতম রাশিয়ান কবি ওসিপ মান্দেলস্তামের বর্বর হত্যাকাণ্ডের দিকে। তাকে বলা হয়, সব লেখকের বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করবার জন্য ১৯৩৮ সালে ওসিপের কলম যে থামিয়ে দেওয়া হল, সেই ঘটনার আদ্যোপান্তটুকু বোঝা গেলেই জানা যাবে এই পৃথিবী ও এর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদগুলো কারা চালায়, কীভাবে চালায় এবং কেন তারা তা ওভাবেই চালায়, আর কেন ঠিক নির্দিষ্ট ওই একভাবে সিস্টেমটা চলে বলেই টিকে থাকে রাষ্ট্র ব্যবস্থা?</p>
<p style="text-align: justify">পৃথিবীকে বোঝাবুঝির এমন এক টালমাটাল মুহূর্তে নায়কের সেই বিলিয়নিয়ার বন্ধু তাকে জানায়—না, সে ভুল; মাটির ওপরে ওভারগ্রাউন্ডে আসলে কোনো সত্যই নেই, সত্য আছে কেবল আন্ডারগ্রাউন্ডে, যেহেতু যা কিছু ঘটে তা কিছু ঘটানো হয় আন্ডারগ্রাউন্ড থেকেই। এবার আমরা মুখোমুখি হই আন্ডারগ্রাউন্ডের এক প্যারালাল পৃথিবীর, যেখানে ন্যায়-অন্যায়, বিচার-অবিচার, প্রেম-ঘৃণা, আমাদের স্বাধীনতা ও সেই স্বাধীনতা হরণকারী শোষণ ও জুলুম, এই সবকিছুর হিসাব আর বোঝাবুঝি ধনী ও গরীবে সম্পূর্ণ আলাদা। কেন?</p>
<p style="text-align: justify">মাটির ওপরের প্রকাশ্য পৃথিবী আর মাটির নিচের গোপন পৃথিবীর মধ্যে পার্সপেক্টিভের এত ফারাক থাকলে বর্তমান সিস্টেমের পক্ষে কী করে সম্ভব মানবসমাজের জন্য কোনো বৃহত্তর ঐক্যসূচক অর্থ খাড়া করা? তো, এভাবে কতদিন টিকবে আর এই সিস্টেম? কবে শেষ হবে এই অনাচার ও তামাশার, উন্নয়নের বর্ণচ্ছটা ও জনগণের দাবির নামে হালাল হওয়া সব নিষ্ঠুর ব্যবস্থার? আর শেষ হওয়াটা কি আদৌ জরুরি?</p>
<p style="text-align: justify">সঙ্গত কারণেই আন্ডারগ্রাউন্ডের সেই দুনিয়াকে দেখবার পরে নায়ক বুঝতে পারে কেন জঘন্য ওই কাণ্ডটা ঘটেছিল বরিশালে, কেন তার বড় ভাই পালাচ্ছে নিজের মায়ের কাছ থেকেও, কেন লোভের হিসাব চিরকালই করা হচ্ছে হয় টাকা না-হয় নারী শরীরের কারেন্সিতে, আর কেন ওসিপ মান্দেলস্তামদেরকে মরতেই হচ্ছে ক্ষমতা-মেশিন চালু রাখবার বৃহত্তর স্বার্থে। এসব যতই তার বোধগম্য হয়ে উঠতে থাকে, ততই তার ভাবনা এবার ঘুরপাক খেতে থাকে একটা মাত্র প্রশ্নকে ঘিরে—পৃথিবীর কোনোকিছুই যদি ভালভাবে না চলে, যদি বিপ্লব সে কারণে অনিবার্যই হয়ে ওঠে, তো সেই বিপ্লবের পরে কী?</p>
<p style="text-align: justify"><strong>[ লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া। বানান রীতি লেখকের ]</strong></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/03/15/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
