<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বিতস্তা ঘোষাল &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b2/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Tue, 13 Feb 2024 15:43:46 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>বিতস্তা ঘোষাল &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বইমেলার স্মৃতি ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Feb 2024 15:43:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3113</guid>

					<description><![CDATA[বইমেলা চলাকালীন প্রতিবারই নানান অভিজ্ঞতা হয়।যেসব প্রকাশক স্টলে বসেন তাঁদের সকলেরই নিশ্চয়ই হয়।আমার যে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি হয় সেটা হলো অধিকাংশ পাঠক যাঁরা আমাদের স্টলে আসেন তাঁরা বেশিরভাগ জানেন না &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বইমেলা চলাকালীন প্রতিবারই নানান অভিজ্ঞতা হয়।যেসব প্রকাশক স্টলে বসেন তাঁদের সকলেরই নিশ্চয়ই হয়।আমার যে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি হয় সেটা হলো অধিকাংশ পাঠক যাঁরা আমাদের স্টলে আসেন তাঁরা বেশিরভাগ জানেন না ভাষা সংসদ-এর প্রকাশক আর বিতস্তা ঘোষাল একজনই।</p>
<p style="text-align: justify">অনেকেই জানেন না এই বিতস্তা ঘোষালই আবার অনুবাদ পত্রিকার সম্পাদক।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু প্রায় সকলেই জানেন বিতস্তা ঘোষাল একজন কথাসাহিত্যিক যাঁর লেখা প্রায় প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক কাগজে পড়েন তাঁরা।এনারা কেউই আবার সরাসরি কখনোই আমাকে দেখেননি, আবার কেউ দেখলেও এখনকার চেহারার সঙ্গে কাগজে বেরোনো চেহারা বা বইয়ের ব্লার্বের চেহারা মেলাতে পারেন না।</p>
<p style="text-align: justify">সবচেয়ে মজার যেটা যখন আমাকে আমারই লেখা কোনও বই (অনুবাদ নয়) দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেন, উনি কি আসবেন?<br />
আমি জানতে চাই-কেন বলুন তো?<br />
না,মানে ওনার একটা অটোগ্রাফ নেওয়ার ইচ্ছে ছিল।<br />
তখন বলি, বেশ এলে বলে দেব।আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে যান।</p>
<p style="text-align: justify">কেন বলছি এই কথাগুলো? কারণ একটু আগেই ইনবক্সে একটি মেসেজ এলো।সেদিন আপনিই তো স্টলে ছিলেন।আপনার বইটি কিনলাম। বিতস্তার পাঁচ উপন্যাস।অসাধারণ।কিন্তু আপনি তো বললেন না আপনিই বিতস্তা।সই বা ছবি কোনোটাই নেওয়া হলো না।<br />
তাতে কি? স্মাইলি পাঠিয়ে উত্তর দিলাম।<br />
তিনি বললেন-আজ ভাগ্যিস একজন আপনার ফেসবুক লিংক পাঠালো।তাই চিনতে পারলাম।</p>
<p style="text-align: justify">নাহ! নিজেকে চেনাবার দায় আমার নেই।পাঠক লেখার মাধ্যমে চিনুক আমায় এটাই চেয়েছি বরাবর।</p>
<p style="text-align: justify">অনুবাদ পত্রিকার সম্পাদক হয়েও একটি সংখ্যা ছাড়া কখনও অনুবাদ করি না, অনুবাদকদের সুযোগ দিই অনুবাদের।সযত্নে নিজের অনুবাদক পরিচিতি সরিয়ে রাখি,যাতে আমার জায়গায় অন্য কেউ অনুবাদ করতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু গল্প কবিতা লেখার সময় আমি নিঙড়ে দিই নিজেকে,যাতে লেখক বিতস্তা ঘোষাল ফেসবুকের দুনিয়ার বাইরেও পরিচিতি পায় লেখার জন্য।এই ছোট ছোট মেসেজগুলোই তখন পুরস্কার হয়ে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">@ <em>লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মা, তোমার জন্মদিন ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/12/23/%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/12/23/%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 23 Dec 2023 13:15:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3000</guid>

					<description><![CDATA[মা, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে টুনিয়া স্টেশনে- জমির সঙ্গে মিশে যাওয়া প্ল্যাটফর্মের থেকে বহু দূরে পাহাড় লাল মাটি, ফনি মনসা চোখের সামনে- একটি মেয়ে স্টেশনে স্কুল ড্রেস পরে বসে, হাতে খোলা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">মা,<br />
এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে টুনিয়া স্টেশনে-<br />
জমির সঙ্গে মিশে যাওয়া প্ল্যাটফর্মের থেকে<br />
বহু দূরে পাহাড়<br />
লাল মাটি, ফনি মনসা চোখের সামনে-<br />
একটি মেয়ে স্টেশনে স্কুল ড্রেস পরে<br />
বসে, হাতে খোলা বই।</p>
<p style="text-align: justify">আমার অন্য স্টেশনে থাকার কথা ছিল,<br />
অথচ ওই মেয়েটির হাতে খোলা বই-<br />
মনে হল তুমি ওখানে বসেই পড়ে নিচ্ছ,<br />
একটু পরেই নতুন ক্লাস শুরু হবে,<br />
ট্রেন এখানে দাঁড়াবার কথা ছিল না<br />
যেমন তোমারও কথা ছিল না<br />
এক অনির্দিষ্ট ট্রেনে কাউকে না জানিয়ে<br />
হঠাৎ উঠে পরার,<br />
আমরা সবাই কোনও এক মুহূর্তে হঠাৎ করে<br />
নিরুদ্দেশ হয়ে যাই!</p>
<p style="text-align: justify">ইচ্ছে করছে না ট্রেনে উঠতে<br />
ওই দূরের পাহাড়টা পেরিয়ে কোন পথ যদি দেখতে পারতাম!<br />
মোবাইলে কোনও নেটওয়ার্ক নেই<br />
তোমার যাবতীয় নেটওয়ার্ক এমন করেই<br />
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আর ফিরে আসেনি<br />
সিগনাল এখনও লাল,<br />
ট্রেন কখন ছাড়বে অজানা<br />
মা, এই স্টেশনে তুমি এসেছ!<br />
আমি তোমার অস্তিত্ব টের পাচ্ছি,<br />
তোমার অবয়ব স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাচ্ছি।<br />
হুইশেল না বাজিয়েই<br />
ট্রেন ছেড়ে দিল,<br />
আমি দাঁড়িয়ে প্ল্যাটফর্মেই,<br />
তুমি ধাক্কা দিয়ে আমায় তুলে দিলে<br />
বগিতে,</p>
<p style="text-align: justify">অনির্দিষ্ট যাত্রা পথ থেকে ফেরত পাঠালে হিসাবের চেনা রুটে<br />
এই পথ শেষ হতে অনেক বাকি কি?<br />
তোমাকে শুভ জন্মদিন-বলার জন্য<br />
তুমি থাকবে তো শেষ স্টেশন আসা পর্যন্ত!<br />
টুনিয়া একটা স্টেশন মাত্র, স্বপ্নও বোধহয়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/12/23/%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ব্রুকসাইটে বৃষ্টি নামল ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 12 Aug 2023 05:10:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2814</guid>

					<description><![CDATA[শিলং পাহাড়ের প্রতি পদে ছড়িয়ে অপার বিস্ময়, কোথাও কুয়াশা কোথাও মেঘ, কোথাও রোদের ঝিকিমিকি। অনাদরে পড়ে থাকা ফুলের রং-এ চোখ ধাঁধায়। পাহাড় মার কোলে তার নিশ্চিত আশ্রয়। ঔদ্ধত্য ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিলং পাহাড়ের প্রতি পদে ছড়িয়ে অপার বিস্ময়, কোথাও কুয়াশা কোথাও মেঘ, কোথাও রোদের ঝিকিমিকি। অনাদরে পড়ে থাকা ফুলের রং-এ চোখ ধাঁধায়। পাহাড় মার কোলে তার নিশ্চিত আশ্রয়।</p>
<p style="text-align: justify">ঔদ্ধত্য ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পাইনের সারি।অর্কিডের সঙ্গে নেই কোনও ঝগড়া তার।ঝরনাকে সে দিয়েছে অফুরন্ত প্রশ্রয়।</p>
<p style="text-align: justify">ঘন কালো মেঘের চাদর গায়ে জড়িয়ে একা মা হাঁটে।পিঠে তার আস্ত পৃথিবীর বোঝা, কাঁখে উত্তরধিকারী।বৃষ্টি ভিজিয়ে দিচ্ছে সর্বাঙ্গ।সে নির্বাকার, নির্বিকল্প।যেন মৌন মুনি চলেছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য। এখানেই কোনও এক বাঁকে অমিতের সঙ্গে লাবণ্যর দেখা।</p>
<p style="text-align: justify">অমিত কে? লাবণ্য? জিজ্ঞেস করল গাড়ির চালক।রবীন্দ্রনাথ ওই গাছের তলায় বসে লিখত।তুমি ছবি তুলবে?<br />
নাহ! শেষের কবিতা এখানে লেখা নয়।তবু তারা এখানে। লাবণ্যর খোঁজ আজও অমিত করে।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলোর দরজা বন্ধ।ফুলে ফুলে ভরা প্রবেশ দ্বার।তার সামনে তিনি।কথার মাঝেই মেঘ এসে ঘিরে ধরল।বৃষ্টি আর মেঘের আলিঙ্গনে গাঢ় হয়ে উঠল জিৎভূম।ব্রুকসাইট রোড ঘিরে শুরু হল ঝোড়ো হাওয়ার দাপট।</p>
<p style="text-align: justify">আমি হেঁড়ে গলায় গান ধরলাম-পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে..<br />
সে বলে উঠল, ‌তুমি দেখছি এই লোকটার মতোই পাগল।<br />
হাসতে হাসতে চোখ ভরে গেল জলে।বৃষ্টি আমাকে ছুঁয়ে দাঁড়িওলা বুড়োটার সঙ্গে খেলায় ব্যস্ত।<br />
সহসা মনে পড়ল আজ বাইশে&#8230; ।</p>
<p style="text-align: justify">
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভোর কতদূর ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/05/30/%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/05/30/%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 30 May 2023 12:20:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2691</guid>

					<description><![CDATA[বিছানায় শুয়ে তুমি তোমার যন্ত্রণাবিদ্ধ মুখ চোখে বিষণ্নতা– অয়েল ক্লথে শুয়ে তুমি ম্যাক্সির নিচে ডায়পার। চরম শূচীবাই তুমি সকালে উঠেই শাড়ি বদলানো তোমার অভ্যাস চুল অগোছালো! রান্নায় না কি চুল &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিছানায় শুয়ে তুমি<br />
তোমার যন্ত্রণাবিদ্ধ মুখ<br />
চোখে বিষণ্নতা–<br />
অয়েল ক্লথে শুয়ে তুমি<br />
ম্যাক্সির নিচে ডায়পার।</p>
<p style="text-align: justify">চরম শূচীবাই তুমি<br />
সকালে উঠেই শাড়ি বদলানো<br />
তোমার অভ্যাস<br />
চুল অগোছালো!<br />
রান্নায় না কি চুল পরে !<br />
ছিঃ ছিঃ বড় ঘেন্নার।</p>
<p style="text-align: justify">তোমার শাড়ির ভাঁজে হলুদ মিশে<br />
পাঁচফোড়ন কড়াইয়ে ছেড়েই তোমার চিৎকার-<br />
“যহ্মিণী”তে “খ” নয় “হ্ম”<br />
ব্যকরণ আর শ্লোক-<br />
যেন বিষয়টা জল-ভাত।</p>
<p style="text-align: justify">তোমার চোখেতে প্রেম সৌধ<br />
শাহাজাহান বানায় তাজমহল<br />
মমতাজ বিরহ ! নাকি সূতিকাগারে<br />
সন্তান প্রসবে মরেছিল অনাদরে<br />
প্রশ্ন ঘোরে মাথায় অনর্গল।</p>
<p style="text-align: justify">ঠিক সাড়ে দশটায় স্কুলে তুমি<br />
ইংরেজি দিদিমণি ,পড়া ভুল হলে<br />
বাড়িতে ধমকানি।<br />
ফেল করা যত মেয়েদের নিয়ে তোমার বিশেষ ক্লাস<br />
যে করেই হোক পাওয়াতে হবেই<br />
তাদের বি +।</p>
<p style="text-align: justify">তোমার গল্পে পরী নেমে আসে<br />
আমাদের ঘরজোড়া খাটে-<br />
নিঝুম রাত–জ্যোৎস্না মাখে<br />
বেঁটে বামন তখন পাতাল বিছানো<br />
চুলে রাজকন্যা বেঁধে রাখে।<br />
কোন সে রাজা ! কোন সে রানী!<br />
কোন সুদূরের যক্ষ্ম পুরী<br />
প্রাণ ভ্রমরা লুকিয়ে কোথায় !<br />
পাছে ঘুম ভেঙে যায় ,বুঝি তাই<br />
তারারাও ফিসফিস কথা বলে &#8230;<br />
শুধু চাঁদ বুড়ি চরকা বোনে&#8230;<br />
বুনেই চলে&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify">লহ্মীবারে লহ্মী পুজো তোমার হাত ধরে<br />
সিঁদুর শাখা ত্রয়োস্ত্রীর ধর্ম মানি না<br />
সপ্তডিঙা ভেসে যায়&#8230;<br />
লহ্মী নামে না এ পোড়া শহরে<br />
তবু পাঁচালি পড়ি নিয়ম করে&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify">আলু পোস্ত বিউলির ডাল কিম্বা চচ্চড়ি<br />
কোনো কিছুই হয়না তোমার মতো-<br />
কবে যেন বড় হয়ে গেছি<br />
বুকের মধ্যে বেড়ে উঠছে ক্ষত ।</p>
<p style="text-align: justify">চেলাকাঠ দিয়ে মারের পর<br />
ছাল ওঠা পিঠে<br />
তুমি দিতে উষ্ণতার লেপ<br />
মন জুড়ে কেবল রক্ত ঝরে<br />
চোখের তলায় কাজলের গাঢ় প্রলেপ।</p>
<p style="text-align: justify">কাকে বলব খিদে পেয়েছে !<br />
কাকে বলব পারব না !<br />
মন জুগিয়ে চলতে চলতে মাগো<br />
বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখি না বলা যন্ত্রণা ।</p>
<p style="text-align: justify">ধামসা মাদল ঘুঙুর নুপূ্র বাজে না<br />
বিষণ্ন রাধা একাকী গায়-<br />
চারপাশে তার সর্বনাশা ঢেউ<br />
সহস্র নাগ জেগে উঠেছে –<br />
মাগো ঘোর কলিযুগ।হা কৃষ্ণ!<br />
কোথা কৃষ্ণ ! কৃষ্ণ আসে না আর।</p>
<p style="text-align: justify">গত জন্ম পর জন্ম–জানি না কিছুই<br />
আছেন কী ঈশ্বর !<br />
পিতা ধর্ম পিতা স্বর্গর পাশাপাশি<br />
বুঝেছি তুমিই দুর্গা তুমিই চন্ডী<br />
আত্মা অবিনশ্বর।</p>
<p style="text-align: justify">পরের শীত নামার আগে<br />
ফিরে যেতে চাই তোমার গহন জঠরে<br />
ঘন অরণ্যের গাঢ় অন্ধকার ; যেখানে<br />
আজো বাতাস বয় নির্জনে ।<br />
কথা দিচ্ছি ,মাগো–প্রজাপতি আলো মেখে<br />
চুপটি করে শুয়ে থাকব সেইখানে।<br />
দেখব মাগো বৃষ্টি এলো এলোচুলে ,<br />
বাসনের টুংটাং ;তোমার চোখে ক্লান্তি নামে–<br />
অতিথি তখন তোমার ঘরে পথ ভুলে।<br />
মাগো তোমার পেটে আগুন জ্বলে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার চোখের পাতায় দুঃখ নেই<br />
নেই বিরহের সুর–<br />
অজস্র ভালোবাসা হীন ভালোবাসায়<br />
বাঁধা পরে আছি।না চাইতেই শ্রাবণ ধারা;<br />
বড় পিছুটান –<br />
মাগো ঘুম আসছে<br />
রাত নামছে চোখের পাতায়&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">ভোর কতদূর ? মাগো স্বর্গ কতদূর ?</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/05/30/%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লকডাউনের ডায়েরি ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/24/%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/24/%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 May 2021 18:44:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=682</guid>

					<description><![CDATA[সকাল সাতটা। হুইসেল। জঞ্জাল ফেলার গাড়ি দুয়ারে।বালতি হাতে নেমে আসা, ম্যাক্সির ওপর হাউসকোট চাপাতে গিয়ে মাস্ক ভুলে যাই।মাস্ক পরে নামার অবসরে গাড়ি হাওয়া।চিৎকার করে ডাকা- ওগো এদিকে এসো, নিয়ে যাও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সকাল সাতটা। হুইসেল। জঞ্জাল ফেলার গাড়ি দুয়ারে।বালতি হাতে নেমে আসা, ম্যাক্সির ওপর হাউসকোট চাপাতে গিয়ে মাস্ক ভুলে যাই।মাস্ক পরে নামার অবসরে গাড়ি হাওয়া।চিৎকার করে ডাকা- ওগো এদিকে এসো, নিয়ে যাও যা আছে&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ, তখন আসলে নিজের মনে একটা কবিতা আওড়াই-<br />
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে!<br />
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।<br />
&#8230;.<br />
ওগো তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে!<br />
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে!<br />
যেয়ো যেথা যেতে চাও,<br />
যারে খুসি তারে দাও<br />
শুধু তুমি নিয়ে যাও<br />
ক্ষণিক হেসে<br />
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে!<br />
&#8230;..<br />
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছােট সে তরী<br />
আমারি সােনার ধানে গিয়েছে ভরি’।<br />
শ্রাবণ গগন ঘিরে<br />
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,<br />
শূন্য নদীর তীরে<br />
রহিনু পড়ি’,<br />
যাহা ছিল নিয়ে গেল সােনার তরী।<br />
&#8230;..<br />
তরী কী আর ফেরে? বালতি নিয়ে ফিরে আসি পরের ভোরের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল আটটা। লিকার চা আদা দিয়ে,দুটো ব্রিটানিয়া বিস্কুট,সঙ্গে সংবাদপত্র। দুধ, পাউরুটি বা রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু আনা সামনের দোকান থেকে।হ্যাঁ, মাস্ক পরি ও বাড়ি ফিরেই হাত পা ধুয়ে স্যানিটাইজার।যা আনলাম সেগুলো ধুয়ে ফ্রিজে রাখা।দুধ জ্বাল দেওয়ার ফাঁকে মোবাইলে নেট অন করা।এক ঝলকে দেখে নেওয়া কোন তারা খসে গেল অকালে।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল নয়টা। কুটনো কাটা ও রান্নার প্রস্তুতি।একটি দুটি রান্নায় আমার মন ভরে না।তাই যতক্ষণ না নিজের মনে হয় এবার খাওয়া যাবে, রেঁধে যাই। এর মধ্যে খানিক সময় নাচ করে নিজেকে ভারমুক্ত করার চেষ্টা।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল দশটা। রান্না অলমোস্ট ডান।বেসিনে পড়ে থাকা বাসন ধোওয়া কমপ্লিট।এবার স্যান্ডউইচ খাবো আর আরেক কাপ লিকার আদা ও এলাচসহ। এগুলোর সঙ্গেই রামকৃষ্ণের স্তব ও গান চলে একনাগাড়ে।বিরতি হীন&#8230; ছেদ হীন।সঙ্গে চলে ঝুল ঝাড়া ও আগেরদিনের কাচা জামা কাপড় পাট ও আলমারিতে তুলে রাখি এর ফাঁকেই।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল এগারটা। শাশুড়ি মা উঠলেন।জল, লিকার চা, বিস্কুট দিয়ে নিজেও আরেক কাপ পান। অফিসিয়াল ফোন অ্যাটেন্ড, পরিচিতর খোঁজ নেওয়া চলে।সবসময় একটা অজানা আশঙ্কা, ফোন তুলে খারাপ কিছু শুনব নাতো!</p>
<p style="text-align: justify">সকাল সাড়ে এগারটা। শাশুড়ি মায়ের ব্রেক ফাস্ট &#8211; কর্নফ্লেক্স অথবা মুসলে দুধে ফেলে তাহাতে আমসত্ত্ব কদলী মেখে&#8230; নাহ সবসময় আমসত্ত্ব থাকে না।</p>
<p style="text-align: justify">দুপুর বারটা। রায়চৌধুরী সাহেব ও তার কন্যা লিচ্ছবী মেমসাহেব উঠলেন। রায়চৌধুরীকে দুধ মুসলে,লিকার চা দেওয়া। ম্যাডাম নিজেই দুধ চা বানান। এক ঘণ্টা ধরে পান করার পর ধমক খেয়ে স্যান্ডউইচ অথবা একটুকরো পাউরুটি সেকা মুখে তোলেন।</p>
<p style="text-align: justify">দুপুর একটা। আরেক কাপ লিকার চা শেষ করে ডাস্টিং।</p>
<p style="text-align: justify">দুপুর দেড়টা। বাথরুম পরিস্কার (এটা ডেইলি রুটিন) স্নান, ও পুজো।এই পুজোটা ঠাকুরের সামনে নয়।আমি সে অর্থে ঈশ্বর ভক্ত নই।ঠাকুরের সামনে গুজিয়া দেওয়া আমার দ্বারা হয় না।তবে ধূপ দিই। আমার<br />
এই পুজো হল ধ্যান ও মন্ত্র পাঠ, গুরু শ্রী রামকৃষ্ণ ও শ্রী বৈশম্পায়নের সামনে।</p>
<blockquote><p><em><span style="color: #ff0000">পুতুলের আসাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সন্ধ্যাবেলাগুলোও আমি আর মুক্ত নই।সকালেরই পুনরাবৃত্তি চলছে..।</span></em></p></blockquote>
<p style="text-align: justify">দুপুর দুইটা পনের। সবাইকে খাওয়ার জন্য আহ্বান।না এলে কুচ পরোয়া নেই। একা খেয়ে নেওয়া।অবশ্য শাশুড়ি মা ডাক অমান্য করেন না।তিনি এ বিষয়ে বৌমাকে যথেষ্ট ভয় পান।কারণ বৌমা রেগে গেলে টানতে টানতে টেবিলে নিয়ে এসে বসিয়ে দেবে।এতক্ষণ পুজো করে যেটুকু শান্তি অর্জন করেছিলেন, সব নষ্ট হয়ে যাবে।তাই তিনি ভারি শান্ত মেয়ে হয়ে খেতে বসে যান। এই দেরীর কাজ তার ছেলে ও নাতনী সর্বদা করে থাকেন।</p>
<p style="text-align: justify">বিকেল সাড়ে তিনটা। টেবিল গুছিয়ে এবার বিছানায়।একটু নেট সার্ফ ও তারপর চোখ বন্ধ করে ধ্যান।</p>
<p style="text-align: justify">বিকেল সাড়ে পাঁচটা। পুতুল এলো।সে আমার গৃহ সহায়িকা।বাসন ধোওয়া,ঘর মোছা,রাতের রুটি এবার সে সামলাবে।আমি নিশ্চিন্ত। তার দেওয়া এক কাপ লিকার পান করে স্নান সেরে পুজো। এরপর সাতটা থেকে ল্যাপটপের সামনে।সে লাইভ ও হতে পারে, লেখাও হতে পারে।এর মধ্যে পুতুল তিন কাপ লিকার চা দিয়ে যাবে,একবার সঙ্গে মুড়ি ও পেঁয়াজকুচি,আদা কুচি, চানাচুরসহ।</p>
<p style="text-align: justify">রাত নয়টা। সাহেব ফিরলেন।চা পান করবেন।এই চা অবশ্য লিচ্ছবী মেমসাহেব করেন।সেই ফাঁকে এতক্ষণ বন্ধ থাকা হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক চেক করে নেওয়া ।আরও একটু লিখে ফেলি।যদি ইচ্ছে করে।</p>
<p style="text-align: justify">রাত দশটা। খাবার টেবিল।রাজনীতি থেকে কোভিড-পুরো বিতর্ক সভা।আমি বলি কার্টুন। মাঝে মাঝে বাপ-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যও দেখা দেয়, বিশেষ করে রাজনীতি প্রসঙ্গে।</p>
<p style="text-align: justify">রাত এগারটা। রান্না ঘর গোছানো,বাসন ধোওয়া,দই পাতা,এলমন্ড ভেজানো শেষ।</p>
<p style="text-align: justify">রাত এগারটা কুড়ি। অবশেষে এবার বিছানায়।প্রেসারের ওষুধ, ভিটামিন,ও ইনহেলার সঙ্গী।<br />
ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে খানিকক্ষণ দাপাদাপি।<br />
ইচ্ছে হলে বা এলে কবিতা লেখার চেষ্টা।</p>
<p style="text-align: justify">রাত বারটা।<br />
ঘুমের ওষুধ।নাহ, এখন শুধু ঘুমের ওষুধ বলে কিছু নেই। নার্ভ ঠান্ডা রাখার ওষুধ।<br />
অশান্ত পৃথিবীর মৃত্যু মিছিলে মন বিভ্রান্ত। তাই এই দাওয়াই।অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে।<br />
সাড়ে বারটা থেকে একটার মধ্যে তিনি চোখের পাতা স্পর্শ করলেন ।সেই মুহূর্ত থেকে খানিকক্ষণ ধ্যান পৃথিবীর কল্যাণ কামনায়। অবশেষে পরদিন সকাল সাতটায় দেখা হবে &#8230; এই বিশ্বাস নিয়ে রূপকথার দেশে পাড়ি।</p>
<p style="text-align: justify">পুনশ্চ: এর বাইরে বেশ খানিকক্ষণ আকাশ দেখি। বেল গাছেদের ফাঁক দিয়ে ধূসর আকাশ,কাকেদের সাংসারিক কলতান শুনি,ওদের সকলেই আমি জানলায় বসলেই চলে এসে খেতে চায়।রুটি,পাউরুটি দিই।ওরা হাত থেকেই নেয়।রেখে দিলে ভুলেও মুখে দেয় না।ওরা সব আমার পূর্ব জন্মের সঙ্গী। আমি এ জন্মে মানুষ হয়ে গেছি, ওরা সামনের জন্মে হবে।<br />
আমার ফ্ল্যাটের বারান্দায় কোনও গাছ নেই। তাই গাছে জল দেওয়াও নেই। এই পাখিদের সঙ্গেই আমার ভাব ভালোবাসা।একবার শাশুড়ি মাকে দেখে আসি,গায়ে চাদরটা দিয়ে দিই।অধিকাংশ সময় তিনি প্রায় ঝুলন্ত অবস্থায় শুয়ে থাকেন।ঠিক করে দিই।</p>
<p style="text-align: justify">ঘুমন্ত মেয়েকে আদর করি।তিনি বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে আবার ঘুমিয়ে যান।ঘুমন্ত বাচ্চার শান্ত মুখে, ঠোঁটের কোণে,কপালে ভ্রু যুগলের মাঝখানে,চোখের পাতায় যেন কোটি কোটি বছর ধরে প্রবাহিত ভালোবাসা, স্নেহ আর স্বপ্নের বুনিয়াদ লেখা থাকে।মনে করিয়ে দেয়,সেও এই জগতের বিশাল কর্মকাণ্ডের এক কনা।</p>
<p style="text-align: justify">পুতুলের আসাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সন্ধ্যাবেলাগুলোও আমি আর মুক্ত নই।সকালেরই পুনরাবৃত্তি চলছে..।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/24/%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যখন মুহূর্ত থমকে দাঁড়ায় ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/22/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b9%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%a5%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/22/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b9%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%a5%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 22 Apr 2021 05:31:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=436</guid>

					<description><![CDATA[ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর/ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক &#8230; শঙ্খ ঘোষ চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ। কবি প্রাবন্ধিক চিন্তাবিদ নাকি একজন আমার দেখা এক অন্যরকম ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ভাবব এই প্রশ্নটা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর/ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক &#8230; শঙ্খ ঘোষ</p>
<p style="text-align: justify">চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ। কবি প্রাবন্ধিক চিন্তাবিদ নাকি একজন আমার দেখা এক অন্যরকম ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ভাবব এই প্রশ্নটা যখনই কোন এই মাপের মানুষ চলে যান ভাবতে বসি। আরও বিব্রত বোধ করি এই নিয়ে কিছু লিখতে হলে। লেখালিখি ও সম্পাদনার সূত্রে যোগ একরকম হয়, আবার ব্যক্তিগত যোগাযোগের পরিসর- সেটা অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক হয়ে ওঠে। আমার ক্ষেত্রে বিদগ্ধ মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কগুলো দুভাবেই এসেছে। বলা যেতে পারে এটা বাড়তি পাওনা।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em>ভাষা সংসদ ও অনুবাদ পত্রিকার সম্পাদক আমার বাবা শ্রী বৈশম্পায়ন ঘোষাল এবং শঙ্খ (ঘোষ) জ্যেঠুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটা শ্রদ্ধার এবং এই শ্রদ্ধা দুজনের চোখেই আজীবন ছিল। কিন্তু আমি জ্যেঠুকে চিনেছি প্রথমে তাঁর লেখায়, পরে ব্যক্তিগতভাবে এবং মজার বিষয় এটা বাবার মাধ্যমে হয়নি।</em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">বুদ্ধদেব বসুর মেয়ে মিনাক্ষী দত্ত ও জ্যোতির্ময় দত্ত আমেরিকা থেকে কলকাতায় এলেই কঙ্কাবতী দত্ত মানে তাঁদের মেয়ের গলফগ্রীণের বাড়িতে সারাদিন রাত নানা অনুষ্ঠান, হই হট্টোগোল, আড্ডা, খাওয়া ও বই প্রকাশের উৎসব চলত। তাতে উপস্থিত থাকতেন দুই বাংলার অজস্র কিংবদন্তী মানুষ। আর আশ্চর্যজনক ভাবে আমিও জুটে যেতাম সেখানে কঙ্কাবতীদির ডাকে। তিনি আমাকে সন্তানতুল্য স্নেহ করার কারণে আমার একটা গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকত এই ক্ষেত্রে। সেটা হল সল্টলেক অঞ্চলের বাসিন্দা এইসব বিখ্যাত মানুষদের গাড়িতে করে গলফগ্রীণে নিয়ে যাওয়া। কঙ্কাবতীদি এই কাজটি আমার ওপর পরম নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিতেন। আমার ধারণা এর দুটো কারণ ছিল। এক- আমি তখনো সাহিত্য জগতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হইনি, ফলে বিখ্যাত মানুষদের সংস্পর্শে এলে নবাগত লেখক-লেখিকাদের যে উৎসাহ ও ক্যালকুলেসন চলে তা আমার মধ্যে ছিল না, আর একটা অবশ্যই যেটা তিনি চাইতেন, এনাদের সঙ্গে আলাপচারিতার মধ্যে দিয়ে আমার একটা স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও পরিচয় গড়ে উঠুক, যা শুধুমাত্র বৈশম্পায়ন ঘোষালের নিরিখে বিচার্য হবে না।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-438 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/04/shankha-bitasta-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/04/shankha-bitasta-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/04/shankha-bitasta.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">তিনি যাই ভেবে থাকুক না কেন আমি সব অর্থেই লাভবান হলাম। পৌঁছে গেলাম সেলিব্রিটিদের অন্দর মহলে কোনও দাবি ছাড়াই। এভাবেই আমার দায়িত্ব এসে পড়ল বিদ্যাসাগর আবাসন থেকে শঙ্খ জ্যেঠু, তারপর অম্লান দত্ত, ও শেষে শিবনারায়ণ রায়কে নিয়ে আসা ও পৌঁছে দেওয়ার। এখন যাওয়া মাত্রই যে তাঁরা গাড়িতে বসে পড়বেন এটা তো হয় না। হয়তো জ্যেঠিমা রেডি হচ্ছেন, আমি তখন জ্যেঠুর সঙ্গে গল্প করছি। তখন তো আমি নেহাতই কলেজ শেষ করেছি। ফলে সেই নিয়েই আলোচনা, পড়াশোনার ফাঁকে কি করি, বই পড়ি কিনা এসব প্রসঙ্গ। আমি ছোটো বেলা থেকেই বইয়ের পোকা। ফলে জ্যেঠুর বাবরের প্রার্থনা, নিভন্ত এই চুল্লীতে মা একটু আগুন দে..এসব কবিতা মুখস্থ। নিভন্ত এই চুল্লী কবিতার সঙ্গে লোপামুদ্রার গান তখন আমার কোরিওগ্রাফিতে অনেকবার মঞ্চস্থ। জ্যেঠুকে সে কথা বলতেই তিনি বললেন- এই কবিতার তুমি নাচ করেছ? দেখিও তো কেমন করলে?</p>
<p style="text-align: justify">ততক্ষণে জ্যেঠিমা রেডি হয়ে এসে গেছেন। আমি বললাম, ওখানে গিয়ে দেখাব। এখন চলো। অম্লান জ্যেঠু, শিবনারায়ণ জ্যেঠু অপেক্ষা করছেন।</p>
<p style="text-align: justify">শুনেই উঠে পড়লেন তিনি। শিবনারায়ণ রায় ও অম্লান দত্তের সময় জ্ঞান মারাত্মক। দেরি হলে আমিই বকা খাব। তাই আমার তাড়া। চার জনকে কখনো বা শিবনারায়ণ জ্যেঠুর স্ত্রী জ্যেঠিমাকেও গাড়িতে তুলে চললাম প্রথমে যেখানে বই প্রকাশ অনুষ্ঠান সেখানে। এই সময় অম্লান জ্যেঠু আর শিবনারায়ণ জ্যেঠুর মধ্যে কোনও না কোনও বিষয়ে মতান্তর হতই, আর দুজনেই শঙ্খ জ্যেঠু এবং আমার থেকে মতামত চাইতেন কার বক্তব্য সঠিক বলার জন্য। আমি তো একেবারেই নবীশ। যা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করছেন তা নিয়ে বক্তব্য রাখব কি! অন্য দিকে শঙ্খ জ্যেঠু মুচকি মুচকি হাসছেন, আর বলছেন বিতস্তা এখনকার জেনারেশন। তার মন্তব্য শোনা প্রয়োজন।</p>
<p style="text-align: justify">একবার হঠাৎ জ্যেঠু বললেন, তুমি বৈশম্পায়নবাবুর মেয়ে?<br />
আমি বললাম, হ্যাঁ। (এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি, বাবা কখনোই চাইতেন না আমি নিজে থেকে কোথাও তাঁর পরিচয় দিই। কারণ আমি যখন সাহিত্য জগতে পা রাখছি তার বহু আগে তিনি এই সমস্ত জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে মগ্ন অধ্যাত্ম সাধনায়। সেখানে তিনি নির্জন সাধক। চাইতেন না কোনও সেলিব্রিটিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। তাই ছোটোবেলা থেকে যেসব বিখ্যাত মানুষদের দেখে বড় হয়েছি তাঁদের জন্য বাবার ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছিল)।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em>তিনি বললেন, আমি অনুমান করেছিলাম। আমি হাসলাম। তিনিও হাসলেন। কিন্তু কি ভাবে অনুমান করলেন জিজ্ঞেস করলাম না। তিনিও আর কিছু বললেন না।</em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এরপর তাঁর সঙ্গে অন্য আরেক প্রসঙ্গ ধরে সম্পর্ক গভীর হল। ততদিনে আমি পত্রিকা দপ্তরে আসা-যাওয়া শুরু করেছি। এর আগে অনুবাদ পত্রিকায় তাঁর একাধিক অনুবাদ লেখা ছাপা হয়েছে। বাবার সময় বাদ দিলেও অনুরাধাদি (মহাপাত্র) যখন দায়িত্বে ছিলেন তখনো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই বৃদ্ধি পেল। তবে এবার কঙ্কাবতীদির মাধ্যমে নয়। ততদিনে আমি ওনার ও জ্যেঠিমার স্নেহের পাত্রী হয়ে উঠেছি। তবে সম্পাদক হিসেবে আমি লেখা চাইতে গেলাম প্যাপিরাসের কর্ণধার অরিজিত কাকু (কুমার) এর সঙ্গে। কাকু তখন আমাকে হাতে কলমে পত্রিকা প্রকাশনার কাজ শেখাচ্ছেন। শঙ্খ জ্যেঠুর অনেক গ্রন্থের প্রকাশক তিনি এবং দুজনের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা দেখার মতো।</p>
<p style="text-align: justify">ফলে আমি এই দুইয়ের সংস্পর্শে এসে ক্রমশ মানুষ-কবি, প্রাবন্ধিক শঙ্খ ঘোষের পাশাপাশি একজন শিক্ষককেও পেলাম। প্যাপিরাস থেকে আমার প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হলো- একা এবং রঙিন হলুদ বিকেলের গল্প। কাকু যে বই-ই প্রকাশ পেত তাঁর প্রকাশনা থেকে সে সবই পাঠাতেন জ্যেঠুকে। এটিও পাঠালেন। আমি তা জানতাম না। তাছাড়া আমার মনে হতো আমি কে! যে ওনারা আমার লেখা পড়ে মন্তব্য করবেন! এমন কিছুই লিখি না আমি।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু তাঁর ফোন এলো। বিতস্তা তোমার সব গল্পগুলো ভালো হয়েছে একথা বলব না। তবে ‘একা’ গল্পটা অসাধারণ। বিষয়ের বর্ণনা চমৎকার। আরেকটি গল্পের উল্লেখ করলেন- ‘আত্মজ’। তারপর লেখার বিন্যাস নিয়ে পরামর্শ দিলেন। আরও লিখতে বললেন।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-439 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/04/shankha-bitasta-2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/04/shankha-bitasta-2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/04/shankha-bitasta-2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমি সেদিন বিস্মিত হয়ে গেছিলাম। এমন বিখ্যাত কবি আমার লেখা পড়েছেন?<br />
২০১২ তে প্যাপিরাস থেকে প্রকাশিত হলো আমার দুটি গ্রন্থ। একটি উপন্যাস, অন্যটি কর্তার সিং দুজ্ঞলের গল্পের অনুবাদ। উপন্যাসের বিষয় নিয়ে কাকু দ্বিধায় ছিলেন। তিনি সেই পাণ্ডুলিপি পাঠিয়ে দিলেন জ্যেঠুকে। পড়ার পর জ্যেঠু ফোন করলেন। এই লেখা কিন্তু তোমাকে বিতর্কিত করে তুলবে। প্রকাশ্যে তুমি নানা সম্পর্কের কথা বলছ, আর বৈশম্পায়ন বাবুর নানা আইডিওলজি ব্যবহার করেছ। তাই ওনার অনুমতি নিও। কারণ উনি এখন এসব বাহ্যিক আলোচনা থেকে বহু যোজন দূরের মানুষ। কিন্তু লেখাটা ভালো। আমি অরিজিতবাবুকে নোট দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছি। কিছু এডিট করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আমি চুপ করে শুনছি। বুঝতে পারছি না বইটা কাকু করবেন কিনা! খানিক বাদে আবার বললেন, বাবার সঙ্গে কথা বলে নিও। আর কর্তার সিং দুজ্ঞলের গল্পের অনুবাদ বেশ ভালো হয়েছে। অরিজিতবাবু বললেন, এটাই তোমার প্রথম অনুবাদ। ভালো অনুবাদ হচ্ছে। এতক্ষণ ভয় লাগছিল। এবার মনটা হঠাৎ খুশিতে ভরে গেল। লেখক যদি নাও হতে পারি অনুবাদক তো হতে পারব ভেবেই।</p>
<p style="text-align: justify">লিখতে বসে কত টুকরো টুকরো স্মৃতি মনে পড়ছে। অনুবাদ পত্রিকা প্রকাশিত হলে তাঁর বাড়ি যেতাম নিজে হাতে প্রণাম করে দেব বলে। চা বিস্কুট সিঙাড়া মিষ্টি একের পর এক আসতেই থাকত। তিনি পত্রিকা হাতে নিয়ে ভালো করে চোখ বুলিয়ে বলতেন, তুমি তো ভালোই কাজ করছ, অনেক বিষয় বৈচিত্র্য।</p>
<p style="text-align: justify">অনুবাদ নিয়ে এক আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিলাম ইকবাল অনুবাদ করেছেন এতদিন ধরে কেন? তাঁর উত্তরে বললেন-‘সর্বোচ্চ চূড়ার সর্বোচ্চ প্রাসাদ, আরামবিলাসের অন্ত নেই, আর তার সঙ্গে উপচে-পড়া প্রাকৃতিক সম্ভার। সেইখানে বসে, হঠাৎ একবার মিলিয়ে দেখবার ইচ্ছে হলো রবীন্দ্রনাথ আর ইকবালের মতো প্রায়-সমকালীন দুই কবি-প্রতিভাকে। কাজটি কঠিন ছিল, কেননা মধ্যে ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির এমনকী ধর্মবোধের ব্যবধান এবং ইকবাল সম্পর্কে শীর্ণ ধারণা ও তথ্যগত জ্ঞানের অপরিসরতা। তবু আরব্ধ কাজটি সম্পন্ন হল, তবে একটানা নয়, থমকে থমকে।’</p>
<p style="text-align: justify">প্রথমার্ধ সিমলায় ঘটলেও পরের অংশটি সম্পন্ন করলেন ,‘১৯৯৪-এ এক চা-বাগিচার নিরালায় এবং ’৯৫-এ বেতলার জঙ্গলে। তবু ভরিল না চিত্ত, যেহেতু অপরার্ধের রূপান্তর কর্মে মূল ফার্সি বয়ানের সঙ্গে তাঁর কাজটি মিলিয়ে দেখা হয়ে ওঠেনি’।</p>
<p style="text-align: justify">২০০৮-এ সে কাজ শেষ হওয়ার পরেও আরও চার বছর পার করে তবে ২০১২-য় এই বই তাঁর অনুমোদন পেল মুদ্রণের। ইকবাল থেকে গ্রন্থটির ভূমিকাতেও তিনি এটাই লিখেছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">অনুবাদ পত্রিকায় ওনার প্রকাশিত অনুবাদগুলো নিয়ে একটি গ্রন্থ করার ইচ্ছে হল। ওনাকে সে কথা বললাম। বললেন, বেশ। যতগুলো লেখা প্রকাশ পেয়েছে অনুবাদ পত্রিকায়, চেয়ে পাঠালেন। তারপর জানলাম, সেগুলো নিয়ে প্যাপিরাস একটা গ্রন্থ করছে। একটু অভিমান হল। কিন্তু ভেবে দেখলাম, যোগ্য প্রকাশকের হাতেই হচ্ছে। তাঁর বেশিরভাগ বিখ্যাত গ্রন্থগুলো তো প্যা্পিরাসই করেছে।</p>
<p style="text-align: justify">বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২০২০ এর একদম গোঁড়ায় অনুবাদ পত্রিকায় অনুবাদ সংক্রান্ত একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার অনুমতি চাইলাম। দিলেন। তবে তখন তাঁর গলার স্বর ভালো করে শোনা যাচ্ছিল না। কিছু কিছু জিনিস লিখে দিচ্ছেলেন কাঁপা হাতে। আমার সঙ্গে সুখেন্দু ছিল, উনিই এই সাক্ষাৎকার পর্বটি দেখেন। উনি লিখে নিচ্ছেলেন যেগুলো বুঝতে পারছিলেন। তারপর মহামারী শুরু হল। গিয়ে নেওয়া আর সম্ভব হলো না। শারদীয়ায় অনুবাদ কবিতা দিলেন। তবে ওনার নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজে গিয়ে দিয়ে আসিনি পত্রিকা। পাঠিয়ে দিলাম। প্রাপ্তি স্বীকার করে ফোনে জানালেন সে কথা।</p>
<p style="text-align: justify">আসলে জ্যেঠুর সান্নিধ্য যে অর্থে সম্পাদক বা লেখক হিসেবে অন্যরা পেয়েছেন, আমি সেভাবে কখনো মিশিনি। ওনার বাড়ির রবিবারের আড্ডাতেও কখনো যাইনি। কিন্তু যে মুহূর্তগুলো পেয়েছি তাতেই সমৃদ্ধ হয়েছি। দেখেছি বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিবাদী একটা মানুষে মুখ,যা কখনো পথে নেমে সোচ্চার, কখনো কলমের মাধ্যমে। দেখেছি চরম অপমানিত, আঘাত পেয়েও নিরুত্তাপ একটা মুখ। ভেতরে ভেতরে রক্তাত্ব হয়েছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে একটি খারাপ কথা বা অভিযোগ করেননি, যাতে কোনও প্রকার অশান্ত পরিবেশ, বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি এই নিয়ে দু’একবার জিজ্ঞেস করেছি। উনি শান্ত স্বরে বলেছেন, তুমি বৈশম্পায়নবাবুর মেয়ে। এসব তুচ্ছ আলোচনা থেকে দূরে থেকো। আঘাত এলে সহ্য করার মতো মন তৈরি করতে হয়। শান্ত স্থির থাকতে হয়।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify">খুব বেশি মতামত দিতেন না, সবাই বলে যাচ্ছেন, আর উনি নীরব শ্রোতা। অথচ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু উনিই। হয়তো সব শোনার পর একটা প্রতিক্রিয়া দিলেন, কিংবা চুপ থাকলেন। এই সব সময় আমি তাঁর ‘শব্দ আর সত্য’ নামে গ্রন্থের একটি প্রবন্ধ পড়ছিলাম।</p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">যাতে তিনি লিখেছেন-‘শব্দবাহুল্যের বাইরে দাঁড়িয়ে, ভুল আস্ফালনের বাইরে দাঁড়িয়ে সত্যিই যদি নিজেকে, নিজের ভিতর এবং বাহিরকে, আগ্নেয় জীবনযাপনের বিভীষিকার সামনে খুলে দিতে পারেন কবি, সেই হবে আজ তাঁর অস্তিত্বের পরম যোগ্যতা, তাঁর কবিতা।’</p>
<p style="text-align: justify">জ্যেঠুকে নিয়ে লিখতে বসে এসব কথাই মনে হচ্ছে। কবির তো মৃত্যু হয় না। কবিতায় বেঁচে থাকেন। বার বার মনে হচ্ছে এই মহামারির সময় তিনি যেন নিজেকে আত্মাহুতি দিয়ে বলে গেলেন-<br />
‘এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিম<br />
আজ বসন্তের শূন্য হাত—<br />
ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও<br />
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।&#8230;<br />
&#8230;<br />
আমারই হাতে এত দিয়েছ সম্ভার<br />
জীর্ণ ক’রে ওকে কোথায় নেবে ?<br />
ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর<br />
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।’</p>
<p style="text-align: justify">অজস্র পাঠকের, লেখকের মনে ও স্বপ্নে থাকবেন জ্যেঠু তথা কবি প্রাবন্ধিক অনুবাদক শব্দের কারিগর শঙ্খ ঘোষ। আর আমি একা বসে লিখব তাঁকে নিয়ে কিছু মুহূর্তের লেখা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/22/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b9%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%a5%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
