<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ফজল হাসান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%ab%e0%a6%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 11 Apr 2022 18:11:21 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>ফজল হাসান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ওলগা তোকারজুকের উপন্যাস ‘এখন মনোযোগ দাও’  ॥ অনুবাদ ফজল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/12/%e0%a6%93%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/12/%e0%a6%93%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 11 Apr 2022 18:09:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ফজল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1845</guid>

					<description><![CDATA[এখন মনোযোগ দাও মূল: ওলগা তোকারজুক অনুবাদ: ফজল হাসান একবার নম্র ও ভদ্র এবং এক বিপজ্জনক পথে, একমাত্র লোকটি তার গতিপথ ধরে হেঁটেছিল মৃত্যুর উপত্যকা।ইতোমধ্যে আমি এমন এক বয়সে পৌঁছেছি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>এখন মনোযোগ দাও</strong><br />
<strong>মূল: ওলগা তোকারজুক</strong><br />
<strong>অনুবাদ: ফজল হাসান</strong></p>
<p style="text-align: justify">একবার নম্র ও ভদ্র এবং এক বিপজ্জনক পথে, একমাত্র লোকটি তার গতিপথ ধরে হেঁটেছিল মৃত্যুর উপত্যকা।ইতোমধ্যে আমি এমন এক বয়সে পৌঁছেছি এবং অতিরিক্তভাবে এমন একটি অবস্থায় আছি, যেখানে অবশ্যই আমাকে সবসময় বিছানায় যাওয়ার আগে পা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়। কেননা রাতে যদি আমাকে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে স্থানান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">আমি যদি সেই সন্ধ্যায় আকাশের ঘটনা দেখার জন্য ক্ষণজীবী পতঙ্গদের পরীক্ষা করতাম, তাহলে আদৌ আমি বিছানায় যেতাম না। এদিকে আমি খুব দ্রুত গভীর ঘুমে তলিয়ে পড়েছিলাম; পানীয় সুরভিত করার জন্য আমি হপের সাহায্য নিয়েছিলাম এবং দুটি ঘুমের বড়িও খেয়েছিলাম। সুতরাং যখন আমি মধ্যরাতে দরজায় হিংস্র, উচ্ছৃঙ্খল এবং অশুভ-অশনি সংকেতের মতো জোরে আঘাত করার শব্দ শুনে জেগে যাই, তখন আমি নিজেকে আস্বস্ত করতে পারছিলাম না।</p>
<p style="text-align: justify">আমি লাফ দিয়ে উঠলাম এবং অস্থিরভাবে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম। কারণ ঘুমের রেশ কাটিয়ে আমার নিদ্রাহীন ও নড়বড়ে শরীর সজাগ অবস্থায় আসতে পারছিল না। আমি দুর্বল বোধ করছিলাম এবং আমার মাথা চক্রাকারে ঘুরতে শুরু করেছিল। মনে হয়েছিল আমি হয়তো জ্ঞান হারাতে চলেছি। দুর্ভাগ্যবশত এ ধরনের ঘটনা সম্প্রতি আমার মধ্যে ঘটতে দেখা যাচ্ছে এবং আমার অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত। অগত্যা আমাকে বসে থাকতে হয়েছিল এবং আপনমনে বেশ কয়েকবার নিজেকে বলতে হয়েছিল যে, আমি বাড়িতে আছি, রাত হয়ে গেছে, কেউ দরজায় কড়া নাড়ছে; কেবল তখনই আমি আমার স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">আমি যখন অন্ধকারে চপ্পল খুঁজছিলাম, তখন শুনতে পাচ্ছিলাম যিনি দরজায় আঘাত করছিলেন তিনি এখন বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিড়বিড় করছেন। নীচের তলায় বৈদ্যুতিক মিটার রাখার খোপের মধ্যে আমি মরিচের স্প্রে রাখি, যা চোরাশিকারিদের মোকাবিলা করার জন্য ডিজি আমাকে দিয়েছিল। এ মুহূ্র্তে সেই মরিচের স্প্রের কথা মনে পড়ল। অন্ধকারের মধ্যে আমি ঠান্ডা অ্যারোসোল আকৃতির মতো পরিচিত স্প্রে খুঁজে পেয়েছি। তাই নিজেকে সশস্ত্র ভেবে আমি বাইরের বাতি জ্বালাই। তারপর আমি পাশের ছোট জানালা দিয়ে বারান্দার দিকে তাকাই।</p>
<p style="text-align: justify">ঘরের বাইরে জমাট বাঁধা তুষার ছিল এবং আমার প্রতিবেশিও ছিলেন। আমি তাকে ওডবল নামে সম্বোধন করি। তিনি নিজেকে পুরোনো ভেড়ার চামড়ার কোটের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। আমি মাঝে মাঝে তাকে বাড়ির বাইরে কাজ করার সময় ভেড়ার চামড়ার সেই কোট পরে থাকতে দেখেছি। কোটের নীচে আমি তার ডোরাকাটা পাজামা এবং পায়ে ভারী হাইকিং বুট দেখতে পাচ্ছিলাম।<br />
‘দরজা খুলুন,’ প্রতিবেশি ভদ্রলোক বললেন।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি আমার লিনেনের তৈরি ঘুমের পোশাকের দিকে আশ্চর্য্যান্বিত দৃষ্টি মেলে সরাসরি তাকালেন (আমি এমন কিছু পরিধান করে ঘুমাই, যা প্রফেসর এবং তার স্ত্রী গত গ্রীষ্মে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন, যা আমাকে অতীত এবং আমার যৌবনের দিনগুলোর এক আশ্চর্য ফ্যাশনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এভাবেই আমি ব্যবহারিক এবং সংবেদনশীল বিষয়কে একত্রিত করি) এবং আমার অনুমতি ছাড়াই তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।</p>
<p style="text-align: justify">‘দয়া করে পোশাক পাল্টিয়ে নিন। বিগ ফুট মরে গেছে।’<br />
কিছুক্ষণের জন্য আমি হতবাক হয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকি। কোনো কথা না বলে আমি আমার লম্বা তুষার বুট এবং কোটের আলনা থেকে হাতের নাগালে প্রথমে উলের যে জামা খুঁজে পেলাম, তাই তুলে নিয়ে গায়ে জড়ালাম। বাইরে বারান্দার বাতি থেকে বিচ্ছুরিত আলোর মধ্যে তুষার ক্রমশ নিদ্রাহীন ঝরনায় পরিবর্তিত হচ্ছিল। আমার পাশে ওডবল নিঃশব্দে দাঁড়িয়েছিলেন। তাকে লম্বা, পাতলা এবং পেন্সিলের কয়েকটি খোঁচায় স্কেচ করা চিত্রের মতো লাগছিল। প্রতিবার যখন তিনি নড়াচড়া করেন, ততবারই তার শরীর থেকে তুষার ঝরে পড়ছিল, যেমন পেস্ট্রির ফিতা গলিয়ে চিনির আইসিং ঝরে পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">‘মরে গেছে বলতে আপনি কী বুঝাচ্ছেন?’ দরজা খুলে আমি অবশেষে জিজ্ঞেস করি। আমার গলার ভেতর শক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ওডবল উত্তর দিলেন না। তিনি সাধারণত খুব বেশি কথা বলেন না। অবশ্যই তার রাশিচক্রে একটি সংযত চিহ্ন থাকতে হবে। আমি মনে করি সেই চিহ্ন তার মকর রাশিতে অথবা কাছাকাছি অন্য রাশিতে কিংবা শনির বিপরীতে আছে। তবে তা বুধও হতে পারে–যা তার মধ্যে গূঢ়গম্ভীর ভাব সৃষ্টি করেছে।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি এবং তৎক্ষণাৎ পরিচিত ঠান্ডা ও ভেজা বাতাসের আলিঙ্গণে আচ্ছন্ন হয়ে যাই। সেই বৈরী আবহাওয়া প্রতি শীতে আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবী মানবজাতির জন্য তৈরি করা হয়নি এবং কমপক্ষে অর্ধেক বছর আমাদের দেখিয়ে দেয় যে পরিবেশ আমাদের জন্য কতটা প্রতিকূল। জমাট বাঁধা তুষার আমাদের গালে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করছিল এবং আমাদের মুখ থেকে বাষ্পের শুভ্র মেঘ বেরিয়ে আসছিল। বারান্দার আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিভে যায় এবং আমরা প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে তুষারের ওপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করি। তবে ওডবলের হাতে বাতি ছিল, যার আলো তার ঠিক সামনে একটি চলমান জায়গায় গাঢ় অন্ধকারকে ভেদ করছিল। তার পেছনে আমি ঝাপসা অন্ধকারে হোঁচট খাই।<br />
‘আপনার কাছে কী ফ্ল্যাশলাইট নেই?’ তিনি জিজ্ঞেস করেন।<br />
অবশ্যই আমার একটি ফ্ল্যাশলাইট ছিল। তবে সকালে আমি কোথায় যে রেখেছি, তা বলতে পারব না। ফ্ল্যাশলাইটের একটি বৈশিষ্ট্য যে, তাদের কেবল দিনের বেলায় দেখতে পাওয়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">বিগ ফুটের কটেজটি রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে ছিল, যা অন্যান্য বাড়িঘরের চেয়ে ওপরে অবস্থিত। সারা বছর ধরে বসবাস করার জন্য তিনটি কটেজের মধ্যে সেটি ছিল একটি। শুধু তিনি, অর্থাৎ ওডবল, এবং আমি শীতের ভয় ছাড়াই সেখানে থাকতাম; অন্যান্য সমস্ত অধিবাসীরা অক্টোবরে তাদের কটেজগুলো বন্ধ করে দিত, পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন করত এবং তারপর শহরে ফিরে যেত।</p>
<p style="text-align: justify">এখন আমরা আংশিকভাবে পরিষ্কার করা রাস্তাটি ছেড়ে চলে এসেছি। রাস্তাটি আমাদের জনপদ ধরে চলে গেছে এবং প্রতিটি বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে ভাগ হয়েছে। গাঢ় বরফের মধ্যে একটি পথ বিগ ফুটের বাড়ির দিকে চলে গেছে এবং সেটা এতই সংকীর্ণ যে, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এক পা আরেক পায়ের পেছনে রাখতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">‘দৃশ্যটি সুন্দর হবে না,’ আমার দিকে মুখ ঘুরিয়ে ওডবল সতর্ক করে দিয়েছিলেন। সেই সময় তার মাথায় আটকানো বাতির আলো এসে আমাকে ক্ষণিকের জন্য অন্ধ করে দিয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আমি অন্য কিছু আশা করিনি। তিনি কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে থাকেন। তারপর অনেকটা নিজেকে ব্যাখ্যা করার মতো করে বললেন: ‘আমি তার রান্নাঘরের আলো দেখে এবং কুকুরের স্পষ্ট ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তুমি কী শোনোনি?’<br />
না, আমি শুনিনি। আমি হপস এবং ভ্যালেরিয়ানের ক্রিয়ায় বেঘোরে ঘুমিয়েছিলাম।<br />
‘কুকুরটি এখন কোথায়?’<br />
‘আমি তাকে এখান থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছি। সে আমার বাড়িতে আছে। আমি তাকে খাইয়েছি এবং মনে হয় এখন শান্ত হয়েছে।’<br />
আরও এক মুহূর্তের নীরবতা নেমে আসে।<br />
‘তিনি সবসময় আলো নিভিয়ে দিতেন এবং বিদ্যুতের খরচ বাঁচানোর জন্য তাড়াতাড়ি বিছানায় যেতেন। কিন্তু এবার আলো জ্বলতে থাকে। আলোটি বরফের বিপরীতে একটি উজ্জ্বল রেখার মতো দেখাচ্ছিল। আমার শোবার ঘরের জানালা দিয়ে দেখতে পেয়েছি। তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম যে, হয় সে মাতাল হয়ে গেছে নতুবা কুকুরের ক্ষতি করছে, কারণ কুকুরটি অদ্ভূত স্বরে চিৎকার করছিল।’</p>
<p style="text-align: justify">এক সময় আমরা একটি খামার বাড়ি অতিক্রম করি। কিছুক্ষণ পরে ওডবলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে দুই জোড়া উজ্জ্বল চোখ। চোখ দুটির রঙ হালকা সবুজ এবং ফকফকা।<br />
‘দেখুন, অই যে হরিণ,’ আমি একটু জোরে ফিসফিস করে বললাম এবং তার কোটের হাত চেপে ধরলাম। ‘তারা বাড়ির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। তারা কী ভয় পায় না?’</p>
<p style="text-align: justify">হরিণীরা প্রায় তাদের পেট পর্যন্ত উচ্চতা বরফের মধ্যে দাঁড়িয়েছিল। তারা শান্তভাবে আমাদের দিকে তাকিয়েছিল, যেন আমরা তাদের একটি আচার অনুষ্ঠান সম্পাদনের মাঝখানে ধরে ফেলেছি এবং যার অর্থ আমরা বুঝতে পারি না। তখন অন্ধকার ছিল। তাই আমি বলতে পারছিলাম না যে, তারা একই যুবতী হরিণী যারা শরৎকালে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে এখানে এসেছিল, নাকি তারা নতুন অন্য কেউ। সত্যি, কিন্তু কেন তারা শুধু এক জোড়া? অন্য সময় অন্তত চারটি ছিল।<br />
‘বাড়ি যাও,’ আমি হরিণীদের বললাম এবং হাত নাড়তে শুরু করলাম। তারা শরীর ঝাঁকাল, কিন্তু নড়ল না। তারা দৃষ্টির সমস্ত পথ পেরিয়ে সামনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের দিকে শান্তভাবে তাকিয়েছিল। আমার দেহের ভেতর কাঁপুনির ঢেউ বয়ে গিয়েছিল।<br />
ইতোমধ্যে ওডবল অবহেলিত কুটিরের বাইরে তার বুট থেকে বরফ সরানোর জন্য পা দিয়ে ভূমিতে আঘাত করছিল। ছোট জানালাগুলো প্লাস্টিক এবং কার্ডবোর্ড দিয়ে বন্ধ ছিল এবং কাঠের দরজাটি কালো তারের কাগজ দিয়ে আচ্ছাদিত ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">হল ঘরের দেওয়ালে চুলার জন্য জ্বালানি কাঠের টুকরা থরেথরে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। সেসব কাঠের টুকরা ছিল বিভিন্ন আকৃতির। ঘরের ভেতরটি ছিল কুৎসিৎ, নোংরা এবং অবহেলিত। সেখানে পুরো সময়জুড়ে স্যাঁতসেঁতে, কাঠ এবং মাটি-আর্দ্র এবং ভয়ানক গন্ধ বিরাজ করছিল। বছরের পর বছর পুরানো চিটচিটে দেওয়ালের গায়ে ধোঁয়ার দুর্গন্ধ জমেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">রান্নাঘরের দরজা সামান্য খোলা ছিল এবং আমি বিগ ফুটের দেহটি মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখলাম। আমার দৃষ্টি তার দিকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে অন্য দিকে চলে যায়। আমি পুনরায় সেদিকে তাকানোর মাঝে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়। এক ভয়ংকর দৃশ্য ছিল।<br />
বিগ ফুট বাঁকানো অবস্থায় এক উদ্ভট ভঙ্গিতে শুয়েছিল। তার হাত ছিল নিজের ঘাড়ের ওপর, যেন সে কলার টেনে তোলার জন্য লড়াই করছিল এবং যা তাকে চিমটি কাটছিল। আমি সম্মোহিতের মতো ধীর পায়ে আরো কাছে গেলাম। আমি দেখলাম তার খোলা চোখ টেবিলের নিচে কোথাও একটা নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির হয়ে আছে। তার নোংরা খাটো জামা গলার কাছে ছেঁড়া। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল দেহটি যেন লড়াইয়ে হেরে গিয়ে নিজেই ঘুরে গিয়েছে এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে। দৃশ্যটি দেখে আমি ভয়ে আমার শরীরের মধ্যে ঠান্ডা অনুভব করেছিলাম–আমার শিরায় রক্ত জমে গিয়েছিল এবং আমার মনে হয়েছিল বিগ ফুট যেন আমার দেহের গভীর অভ্যন্তরে চলে গিয়েছে। গতকালই আমি তার দেহটি জীবিত অবস্থায় দেখেছি।<br />
‘হায় ঈশ্বর,’ আমি বিড়বিড় করি, ‘কী হয়েছিল?’<br />
অডবল কাঁধ ঝাকান।<br />
‘আমি পুলিশের কাছে যেতে পারি না, কারণ এখানে চেকোস্লোভাকিয়ার নেটওয়ার্ক।’</p>
<p style="text-align: justify">আমি পকেট থেকে সেল ফোন বের করি এবং টেলিভিশন-৯৯৭ থেকে আমার পরিচিত নম্বরটি চাপি। অতি শিঘ্রই স্বয়ংক্রিয় চেক কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। এখানে তাই হয়। জাতীয় সীমানার প্রতি কোনো শ্রদ্ধা ছাড়াই সংকেতটি ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়। কখনো অপারেটরদের মধ্যে বিভাজক লাইন আমার রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকে এবং কখনো কখনো তা বেশ কয়েক দিন ধরে ওডবলের বাড়িতে বা ছাদে বন্ধ থাকে। এ ঘটনার প্রকৃত ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই কঠিন।<br />
‘আপনার বাড়ির পেছনের পাহাড়ের ওপরে উঠে যাওয়া উচিত ছিল,’ দেরি হলেও আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম।<br />
‘তারা এখানে এসে পৌঁছার আগে দেহটি কাঠের তক্তার মতো শক্ত হয়ে যাবে,’ ওডবল এমন এক সুরে কথাটা বলেছিলেন, বিশেষ করে এ কারণেই আমি তাকে অপছন্দ করি, যেন তার কাছে সমস্ত উত্তর জমা ছিল। তিনি তার ভেড়ার চামড়ার কোটটি খুলে একটি চেয়ারের পিছনে ঝুলিয়ে রাখলেন। ‘আমরা তাকে এভাবে ছেড়ে যেতে পারি না। তাকে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। তার ওপর তিনি আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন।’</p>
<p style="text-align: justify">আমি যখন গোবেচারা বিগ ফুটের বাঁকানো শরীরের দিকে তাকালাম, তখন আমার বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল যে কেবল গতকালই আমি লোকটিকে দেখে ভয় পেয়েছিলাম। আমি তাকে পছন্দ করতাম না। আমি তাকে অপছন্দ করতাম, তা বলার জন্য কথাটা হয়তো খুবই হালকাভাবে বলা হল। তার পরিবর্তে আমার বলা উচিত ছিল যে, আমি তাকে ঘৃণ্য এবং ভয়ানক বলে মনে করেছি। আসলে আমি তাকে মানুষ হিসেবে গণ্য করিনি। এখন সে তার নোংরা দাগযুক্ত অন্তর্বাস পরে মেঝেতে শুয়ে আছে। তার দেহ ছোট এবং চর্মসার, নিস্তেজ এবং নিরীহ। শুধু একটি বস্তুর টুকরা, যা কিছু অকল্পনীয় প্রক্রিয়া যেন কোনো এক ভঙ্গুর বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং যা অন্য সবকিছু থেকে আলাদা। আমাকে দুঃখিত এবং ভীত করে তুলেছিল, এমনকি তার মতো এমন জঘন্য ব্যক্তিও মৃত্যু আশা করে না। পৃথিবীতে মৃত্যুকে কে আশা করে? একই ভাগ্য আমার জন্যও অপেক্ষা করছে এবং ওডবল ও বাইরের হরিণ; একদিন আমরা সবাই লাশ ছাড়া আর কিছুই হব না।<br />
আমি কিছুটা সান্ত্বনা পাবার আশায় ওডবলের দিকে তাকালাম, কিন্তু ইতোমধ্যে তিনি আলুথালু বিছানা তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিছানাটি তৈরি করা হচ্ছিল একটি জরাজীর্ণ ভাঁজ খোলা খাটের ওপর। তাই নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম। একসময় আমার মনে হয়েছিল যে, এভাবে বিগ ফুটের মৃত্যু হয়তো কোনো ভালো কিছু হতে পারে। তাকে জগাখিচুড়ি জীবন থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং তার কাছ থেকে অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীরা মুক্তি লাভ করেছে।</p>
<p style="text-align: justify">ওহ হ্যাঁ, অকস্মাৎ আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মৃত্যু কতটা ভালো জিনিস হতে পারে, কতটা ন্যায্য এবং কতটা নির্ভেজাল, যা জীবাণুনাশক অথবা ভ্যাকিউয়াম ক্লিনারের মতো। আমি স্বীকার করি যে, আগে যা ভেবেছিলাম, আমি এখনো তাই মনে করি।</p>
<p style="text-align: justify">বিগ ফুট আমার প্রতিবেশী ছিল। আমাদের বাড়ির দূরত্ব ছিল মাত্র অর্ধেক কিলোমিটার। তবুও তার সঙ্গে আমার কোনো কিছু করার মতো সীমিত সংখ্যক জিনিস ছিল। সৌভাগ্যবশত তার পরিবর্তে আমি তাকে দূর থেকে দেখতাম–তার ক্ষুদ্র, নমনীয় কিন্তু শক্ত কাঠামো। সবসময় একটু অস্থির মানুষটি ভূমির ওপর চলাফেরা করতেন। তিনি এগিয়ে যাওয়ার সময় নিজের সঙ্গে বিড়বিড় করতেন এবং প্রায়শই তার অপরিবর্তনীয় কথাগুলো মালভূমির বাতাসের শব্দের সঙ্গে আমার কানে এসে পৌঁছত। তার শব্দভাণ্ডারে প্রধানত অভিশাপ বিষয়ক শব্দ জমা থাকত, যার ওপর তিনি কিছু সঠিক বিশেষ্যকে আঘাত করতেন।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি এই ভূখণ্ডের প্রতিটি খুঁটিনাটি অংশ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন, কারণ মনে হয় তিনি এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং কোডজকোর চেয়ে বেশি দূরে যাননি। এছাড়া তিনি বনাঞ্চল ভালোভাবে জানতেন–বিশেষ করে অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি কোন অংশ ব্যবহার করতে পারেন, তিনি কী এবং কার কাছে বিক্রি করতে পারেন। সেসব জিনিসের মধ্যে ছিল মাশরুম, ব্লুবেরি, চুরি কাঠ, জ্বালানোর জন্য ডালপালা, ফাঁদ, উঁচুনিচু ও আঁকাবাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর বার্ষিক প্রতিযোগিতা, শিকার ইত্যাদি। বনজঙ্গল ছোট্ট এই অপ-দেবতাকে লালন-পালন করেছে। সুতরাং বনকে সম্মান করা তার উচিত ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি। কোনো এক আগস্টে, যখন খরা ছিল, তিনি পুরো ব্লুবেরি জমিনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আমি অগ্নি নির্বাপক অফিসে ফোন করেছিলাম, কিন্তু খুব বেশি কিছু বাঁচানো যায়নি। আমি কখনোই জানতে পারিনি কেন তিনি কাজটি করেছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">গ্রীষ্মকালে তিনি একটি করাত নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন এবং ফল ভর্তি গাছ কাটতেন। যখন আমি বিনীতভাবে তাকে উপদেশ দিয়েছিলাম, যদিও আমার রাগ সংযত করা কঠিন বলে মনে হয়েছিল, তখন তিনি সহজ ভাষায় উত্তর দিয়েছিলেন: ‘গোল্লায় যাও, তুমি একটা বয়স্ক বুড়ি ।’ কিন্তু কথার মধ্যে তার চেয়েও বেশি অসভ্যতা ছিল। অতিরিক্ত নগদ আয় করার জন্য সে সবসময় চুরিচামারি এবং ছিঁচকে চুরির মতো তুচ্ছ কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখত; যখন গ্রীষ্মকালে বাসিন্দারা উঠোনে ফ্ল্যাশলাইট বা গাছ কাঁটার কোনো বড় কাঁচি রেখে যেত, তখন বিগ ফুট তাৎক্ষণিকভাবে সেসব জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত এবং পরে শহরে বিক্রি করত। আমি মনে করি ইতোমধ্যে তার বেশ কয়েকটি শাস্তি পাওয়া উচিত ছিল, এমনকি তাকে কারাগারেও পাঠানো দরকার ছিল। আমি জানি না কিভাবে সে সবকিছু নিয়ে পালিয়ে গেল। সম্ভবত কিছু দেবতা তার ওপর নজর রেখেছিল; কখনো কখনো তারা ভুল দিক থেকে দৃশ্যমান হয়।</p>
<p style="text-align: justify">আমি এটাও জানতাম যে, তিনি সম্ভাব্য সব উপায়ে শিকার করেছেন। তিনি বনকে তার নিজের ব্যক্তিগত খামারের মতো আচরণ করেছিলেন–সেখানে যা কিছু ছিল, তা ছিল তার নিজস্ব সম্পত্তি। তিনি ছিলেন একজন লুটেরা।<br />
তার জন্য আমি অনেক নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছি। সেসব নির্ঘুম রাতে আমি অসহায়ের মতো বিছানায় শুয়ে থাকতাম। অনেকবার আমি পুলিশকে ফোন করেছিলাম– শেষ পর্যন্ত টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে উত্তর দেওয়া হলে আমার আবেদন বিনীতভাবে গ্রহণ করা হত, তবে অন্য কিছুই ঘটত না। বিগ ফুট তার স্বাভাবিক কাজকর্মে চলে যেত। তখন তার বাহুতে থাকত একগুচ্ছ ধনুক এবং সেগুলো অশুভ শব্দ করত। ছোট, মন্দ ভূতের মতো, দুষ্টু এবং অকল্পনীয়। তিনি সর্বদা সামান্য মাতাল থাকতেন এবং সম্ভবত তা তার বিদ্বেষপূর্ণ মেজাজকে প্ররোচিত করত। তিনি হাতে একটি লাঠি নিয়ে বিড়বিড় করে গাছের গুঁড়িতে ক্রমাগত আঘাত করতেন, যেন তিনি তার চলার পথ থেকে সেগুলো সরিয়ে দিতে চাইতেন। তখন তাকে দেখে মনে হত তিনি মৃদু নেশাগ্রস্ত। অনেক সময় আমি তার চলার পথ অনুসরণ করতাম এবং প্রাণীদের ধরার জন্য তার পাতা তারের ফাঁদ সংগ্রহ করে জড়ো করতাম। ফাঁদ এমনভাবে পাতা হত যে, সেসব ফাঁদে আটকে গিয়ে প্রাণীরা মাঝ আকাশে ঝুলে থাকত। অনেক সময় আমি মৃত প্রাণী, যেমন খরগোশ, ভোঁদর এবং হরিণ, খুঁজে পেয়েছি।</p>
<p style="text-align: justify">‘আমাদের অবশ্যই তাকে খাটে স্থানান্তরিত করতে হবে,’ ওডবল বললেন।<br />
প্রস্তাবটি আমার ভালো লাগেনি। আমি তাকে ছুঁতে পছন্দ করতাম না।<br />
‘আমি মনে করি আমাদের পুলিশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত,’ আমি বললাম। কিন্তু ওডবল ইতোমধ্যে ভাঁজ খোলা খাটে জায়গা করে নিয়েছে এবং তিনি তার সোয়েটারের হাতা গুটিয়ে নিয়েছেন। তিনি তার সেই ফ্যাকাশে চোখ দিয়ে আমার দিকে তির্যকভাবে তাকান।<br />
‘আপনাকে এ অবস্থায় খুঁজে পাক, আপনি তা চান না, তাই না? এমন উদ্ভট অবস্থায়। এটা অমানবিক।’<br />
ওহ হ্যাঁ, মানুষের শরীর অবশ্যই অমানবিক। বিশেষ করে মরা মানুষ।<br />
এটা কী ভয়ানক আত্মবিরোধী ছিল না যে, এখন আমাদের বিগ ফুটের বিশাল শরীরের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে, যা দিয়ে তিনি আমাদের এই চূড়ান্ত সমস্যায় ফেলেছেন? আমরা যারা তার প্রতিবেশি ছিলাম, তিনি তাদের কখনো সম্মান করতেন না, এমনকি কখনো পছন্দ করতেন না এবং কখনো যত্ন নেননি?</p>
<p style="text-align: justify">আমার মতে মৃত্যুকে বস্তুর বিনাশ দিয়ে অনুসরণ করা উচিত। এটাই হবে শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান। এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেহগুলো সরাসরি কৃষ্ণ গহ্বরে ফিরে যাবে, যেখান থেকে সেগুলো এসেছিল। সকল আত্মা আলোর গতিতে আলোর মধ্যে ভ্রমণ করবে। তবে আত্মার মতো যদি কোনো জিনিস থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রচণ্ড বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে আমি ওডবলের কথা মতো কাজ করেছিলাম। আমরা বিগ ফুটের দেহটি পা এবং হাত দিয়ে ধরেছিলাম এবং খাটের ওপর রেখেছিলাম। আমি অবাক হয়ে দেখেছিলাম যে, মৃত দেহটি ভারী ছিল, তবে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল না। বরং তার পরিবর্তে ঠ্যাঠার মতো শক্ত ছিল, অনেকটা শর্করাযুক্ত বিছানার লিনেনের মতো এবং মাত্র ইস্ত্রী করা হয়েছে। আমি তার মোজাও দেখেছি, অথবা তাদের জায়গায়-নোংরা ছেঁড়া কাপড় যা দিয়ে তার পা মোড়ানো ছিল এবং এখন তাতে ধূসর আর দাগ লেগে আছে। আমি জানি না কেন, কিন্তু সেই মোড়ানো কাপড়ের দৃশ্য আমার বুকে, ডায়্যাফ্র্যামে, এমনকি আমার পুরো শরীরে এত জোরে আঘাত করেছিল যে, আমি আর কান্না ধরে রাখতে পারছিলাম না। তিরস্কারের সঙ্গে ওডবল আমার দিকে শীতল এবং ক্ষণস্থায়ী দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">[পাদটীকা: মূল লেখায় নেই, তবে পাঠকের সুবিধার্থে দেওয়া হলো–অনুবাদক ]<br />
১।হপ– হপ উদ্ভিদ হুমুলাস লুপুলাসের ফুল (যা বীজ শঙ্কু বা স্ট্রোবাইলসও বলা হয়)। এগুলো প্রাথমিকভাবে তিক্ত, স্বাদযুক্ত এবং স্থায়িত্ব এজেন্ট হিসেবে পানীয়তে ব্যবহার করা হয়।এছাড়া এরা ফুলের এবং লেবু-জাতীয় ফলের স্বাদ ও সুগন্ধি সরবরাহ করে।হপস অন্যান্য পানীয় এবং ভেষজ ওষুধে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।</p>
<p style="text-align: justify">সূত্র: ‘এখন মনোযোগ দাও’ (ইংরেজিতে ‘নাউ পে অ্যাটেনশন’) অংশটি ওলগা তোকারজুকের ‘ড্রাইভ ইয়োর প্লাউ ওভার দ্য বোনস্ অব দ্য ডেড’ উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়। পোলিশ ভাষা থেকে উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অ্যান্টোনিয়া লয়েড-জোনস্। উল্লেখ্য, অনূদিত অংশটি উপন্যাসের চুম্বক অংশ (এক্সসার্প্ট) হিসেবে লন্ডন ভিত্তিক ‘ফিটজক্যারাল্দো এডিশনস’ ব্লগে ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রকাশিত ‘বুকব্রাউজ এলএলসি’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।তবে লেখাটি ‘বুকব্রাউজ এলএলসি’ ম্যাগাজিন থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/12/%e0%a6%93%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আধুনিক ফিলিস্তিনি গল্প ॥ রামালায় প্রেম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/23/%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/23/%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 23 Nov 2021 17:07:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ফজল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1325</guid>

					<description><![CDATA[রামালায় প্রেম মূল: ইব্রাহিম নাসরাল্লাহ অনুবাদ: ফজল হাসান এক. ওয়ার্দা উম্ম ওয়ালিদের দরজায় কড়া নাড়ে এবং কয়েক মুহূর্ত পরে একজন মহিলা দরজা খুলে বেরিয়ে আসে ।১ ‘স্বাগতম ।২ আমি তোমার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">রামালায় প্রেম<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>মূল:</strong></span> ইব্রাহিম নাসরাল্লাহ<br />
<span style="color: #ff0000"><strong>অনুবাদ:</strong> </span>ফজল হাসান</p>
<p style="text-align: justify">এক.<br />
ওয়ার্দা উম্ম ওয়ালিদের দরজায় কড়া নাড়ে এবং কয়েক মুহূর্ত পরে একজন মহিলা দরজা খুলে বেরিয়ে আসে ।১<br />
‘স্বাগতম ।২ আমি তোমার জন্য কী করতে পারি, মাই চাইল্ড?’<br />
‘আমি শুনেছি আপনাদের বাড়িতে একজন অবিবাহিত যুবক আছে,’৩ বলল ওয়ার্দা ।<br />
‘ঠিক আছে, কিন্তু সে ঠিক যুবক নয়,’ উম্ম ওয়ালিদ থতমত হয়ে বললেন ।<br />
‘তাহলে কোন বিভ্রান্তি নেই, আমি কি দেখতে পারি, তাকে কি ডাকা হয় &#8230; ইয়াসীন?’<br />
‘হ্যাঁ, সে-ই,’ উম্ম ওয়ালিদ মাথা নাড়েন ।<br />
‘তাহলে সে একজন যুবক!’ ওয়ার্দা বিস্মিত হয়ে বলল ।<br />
‘কিন্তু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে তার সঙ্গে তোমার দেখা করা দরকার, তুমি কী তাই মনে করো না?’<br />
‘না, সত্যি তার কোন প্রয়োজন নেই।সে কী এখানে আছে?’<br />
উম্ম ওয়ালিদ মাথা দোলান।<br />
‘সত্যি সে যদি এখানে থাকে, কিন্তু লুকিয়ে আছে, তবে তাকে বলে দিন যে একটি মেয়ে তার বাড়িতে অবস্থান করবে, যতক্ষণ না সে মেয়েটিকে বিয়ে করতে সম্মত হয়!’<br />
‘তাহলে এই কী তোমার শেষ কথা?’ উম্ম ওয়ালিদ জিজ্ঞেস করেন ।<br />
‘শেষ কথা!’<br />
‘তুমি যদি ইয়াসীনকে ছাড়া অন্য কারোর কথা জিজ্ঞেস করতে, তাহলে আমি বলতাম তুমি একটা আস্ত উন্মাদ ।’<br />
ওয়ার্দা হাসে: ‘আল-হামদুলিল্লাহ্, আমার হৃদয়টা শান্ত হয়েছে ।’</p>
<p style="text-align: justify">উম্ম ওয়ালিদ যখন ইয়াসীনকে ঘটনা বলে, তখন ইয়াসীন হাসি থামাতে পারেনি ।<br />
‘এটা একটা ভালো লক্ষণ, তুমি কী তাই মনে করো না?’ উম্ম ওয়ালিদ জিজ্ঞেস করেন ।<br />
‘আমি ভাবছি মেয়েটি কিভাবে আমার বাড়ির সন্ধান পেয়েছে।’<br />
‘মেয়েটি বলেছে যে সে তোর জীবন এবং কারাবাস সম্পর্কে নাটক থেকে তোর সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং সে ভেবেছে যে আসল ঘটনা আরও চমকপ্রদ হবে।তাই সে মনের টানে এখানে এসেছিল।’<br />
দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে ইয়াসীন জিজ্ঞেস করে, ‘কিন্তু মেয়েটি সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন?’<br />
‘সত্যি বলব?’<br />
‘অবশ্যই!’<br />
আরও অনেকক্ষণ পরে নীরবতা কেটে যায়।তারপর একসময় উম্ম ওয়ালিদের সমস্ত মুখমণ্ডলে হাসি ছড়িয়ে পড়ে।তিনি বললেন, ‘তোকে সত্য বলছি, আমি মেয়েটিকে পছন্দ করেছি ।’<br />
সুতরাং ইয়াসীন বলল, ‘আমি একই কথা বলতে চাই, এমনকি মেয়েটির সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই!’</p>
<p style="text-align: justify">দুই.<br />
‘সত্যি বলছি, তোমার চেহারায় বয়সের ছাপ ফুটে উঠেছে, নাঈম,’ ইয়াসীন বলল।<br />
‘আমাদের সবারই বয়স বাড়ছে,’ জবাবে নাঈম বলল। ‘এমনকি তুমি এখন আর আমার সঙ্গে ফুটবল খেলো না! তোমার কী মনে পড়ে প্রতি সপ্তাহে তুমি আমাকে এবং স্থানীয় অন্য ছেলেদের নিয়ে খেলতে যেতে? আর এখন তুমি তাদের ছেলেদের নিয়ে যাও।’ একটু থেমে সে আরও যুক্ত করে, ‘তোমার ছেলেদের কী খবর? এখন কী তোমার বিয়ে করার বয়স না এবং কয়েকজন সন্তান হোক?’<br />
‘আমি? নাহ, আমাদের লোকদের আরেকজন বিধবা এবং আরও অনাথ ছেলে-মেয়ের প্রয়োজন নেই। এখানে যথেষ্ট কষ্ট আছে! তুমিই একমাত্র ব্যক্তি, যার বিয়ে করা উচিত।’<br />
‘না, আমি সুযোগ হারিয়েছি, দোস্ত এবং আমি মালগাড়ির দায়িত্ব নিচ্ছি না,’ বলেই ইয়াসীন হাসে। ‘আমার কথায় গুরুত্ব দিও না।’<br />
‘তুমি যদি অন্য কিছু বলতে, তবে আমি বলতাম যে কারাগার তোমাকে বদলে দিয়েছে,’ জবাবে নাঈম বলল ।</p>
<p style="text-align: justify">দুই পাহাড়ের মাঝে ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে রামালায় যাওয়ার বাস থামাতে হয়।জায়গাটির নাম উয়েন আল-হারামিয়া৪।এমন কোনদিন ছিল না যখন সৈনিকেরা এই জায়গায় অবস্থান করেনি। প্রথমে ছিল বৃটিশ সৈন্য; তাদের পরে জর্ডানের সৈন্য এবং এখন আমাদের আছে ইজরায়েলি সৈন্য।ইয়াসীন এই সব জানতো।<br />
‘এখানে একদিন আমাদের চেকপয়েন্টে হবে,’ নাঈম বলল।<br />
‘তুমি কী দেখতে পাচ্ছ আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখন কতটা বিশাল?’ ইয়াসিন পাল্টা বলল।<br />
ওরা বাসের সব যাত্রীদের নেমে আসার জন্য হুকুম করে।একজন সৈনিক বাসে ওঠে এবং মাঝের সরু পথ পেরিয়ে শেষ মাথায় যায়।অতপর সে বাসের ভেতর থেকে টারম্যাকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের মুখের দিকে তাকিয়ে উদাসীনতা ছাড়া অন্য কোনো অভিব্যক্তি খুঁজতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">সৈনিকটি বাস থেকে নেমে যায় এবং যাত্রীদের চারপাশে চক্কর দেয়। একসময় সে একজন আকর্ষণীয় অল্পবয়স্ক মেয়ের দিকে তাকানোর জন্য মেয়েটির পাশে থামে। সে কয়েক কদম এগিয়ে যায় এবং পুনরায় থামে। পেছনে ঘুরে সে অন্য তিনজন সৈনিককে কাছে আসতে ইশারা করে। তারা পনের মিটার দূরে দাঁড়িয়ে দৃশ্য অবলোকন করছিল।</p>
<p style="text-align: justify">তিনজন সৈনিক প্রথম সৈনিকের দিকে এগিয়ে আসার সময় প্রথম সৈনিকটি যাত্রীদের লাইনের শেষ মাথায় হেঁটে যায় এবং ইয়াসীন ও নাঈমের সম্মুখে থামে।তারপর সে নাঈমকে লাইন থেকে বের হয়ে সামনে আসতে ইশারা করে।</p>
<p style="text-align: justify">নাঈম চেকপয়েন্ট সম্পর্কে সবকিছুই জানত।সে সবাইকে চিনত এবং প্রথমদিন থেকেই তারা তার জন্য অপেক্ষা করত। অভিজ্ঞতা থেকে সে জানত যে, দিনের এই সময়ে সৈন্যরা তাদের নিজস্ব বিনোদনের জন্য যাত্রীদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করতে ভালোবাসে, এমনকি তাদের খেলার সরঞ্জাম হিসেবে যাত্রীদের বিবেচনা করতে পছন্দ করে।</p>
<p style="text-align: justify">বিকেল সাড়ে চারটের সময় দু’পাহাড়ের মাঝে যথেষ্ট উত্তপ্ত বাতাস ছিল। ইয়াসীন বাসের পিছনে থেমে থাকা মোটর গাড়ির বহরটি একবার দেখে নেয়।লোকজনের চোখ থেকে নির্গত নীরব অভিশাপ শোনার জন্য কারোর কোনো পরাশক্তির প্রয়োজন ছিল না, বিশেষ করে শরীরী ভাষা, যা চারপাশের সবকিছুর সঙ্গে তাদের হতাশা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল ।<br />
‘এদিকে আসো!’ অনড় নাঈমকে উদ্দেশ্য করে সৈনিকটি ঘেউ ঘেউ করে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথম সৈনিকটি সরাসরি আকর্ষণীয়া যুবতী মেয়েটির সামনে গিয়ে থামে এবং নাঈম সৈনিকটির পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।সৈনিকটি ঘুরে দাঁড়ায়, নাঈমের দিকে তাকায় এবং তারপর পুনরায় মেয়েটির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়।</p>
<p style="text-align: justify">‘তুমি কী চাও পাশ বাসটি কেটে চলে যাক?’ প্রথম সৈনিকটি নাঈমকে জিজ্ঞেস করে।সম্মতির ভঙ্গিতে নাঈম মাথা নাড়ে।<br />
‘তুমি যদি বাসকে অতিক্রম করে যেতে দিতে চাও, তবে অবশ্যই ওকে চুমো খেতে হবে,’ তরুণীর দিকে আঙুল উঁচিয়ে সৈনিকটি বলল।<br />
অন্য সৈন্যদের চোখ ঝলকে উঠে।তারা খেলাটা পছন্দ করেছে এবং তারা তাদের উৎসাহিত হয়েছে।অন্যদিকে যাত্রীরা একে অপরের দিকে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।তরুণীর কাছে পুরো বিষয়টি প্রচণ্ড ধাক্কার মতো মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">বাসের পেছনে থেমে থাকা মোটর গাড়ির ভেঁপুর শব্দ এক মুহূর্তের জন্য নিস্তবদ্ধতাকে চুরমার করে ভেঙে দেয়।<br />
‘কোন গাধায় ভেঁপু বাজায়?’ প্রথম সৈনিকটি আর্তনাদ করে উঠে এবং সঙ্গে সঙ্গেই সে গাড়ির দিকে যেতে শুরু করে। গাড়ির চালক কিছুতেই তাকে বোঝাতে পারছিল না যে, আকস্মিকভাবে ভেঁপু বেজে উঠে।কিন্তু সৈনিকটি জোরাজুরি করছিল যেন মোটর গাড়িটি দীর্ঘ লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসে এবং ঘুরে যেখান থেকে এসেছে, সেখানে ফিরে যায়, অর্থাৎ নাবলুস।</p>
<p style="text-align: justify">‘তুমি যদি রাতে এখানে ঘুমাতে চাও, তাহলে থাকো, অথবা নাবলুসে ফিরে যাও।কিন্তু আজ তোমার জন্য কোন রামালাহ নেই, বুঝতে পেরেছ?’</p>
<p style="text-align: justify">কয়েক মিনিট পরে যাত্রীসহ মোটর গাড়ি চেকপয়েন্ট ছেড়ে আরেক চেকপয়েন্টের দিকে চলে যাচ্ছিল, যা তারা কিছুক্ষণ আগে পেছনে ফেলে এসেছে। মোটর গাড়ির ভেতর থেকে তিনটি বাচ্চা পেছনের জানালা গলিয়ে তাকিয়ে সেই সময় ঘটে যাওয়া ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছিল।<br />
প্রথম সৈনিকটি পেছন ফিরে নাঈমের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি কী মনে করো, ঘটনা শেষ হয়ে গেছে? তোমার উপর নির্ভর করছে।তোমরা ফিলিস্তিনিরা সবসময় স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছ।ঠিক আছে, তুমি যদি চাও বাস এবং বাসের পেছনে থেমে থাকা মোটর গাড়িগুলো চলে যাক, তবে আমি যা বলেছি, তাই করো।’</p>
<p style="text-align: justify">যুবতী মেয়েটি মেঝের উপর মাথা দিয়ে আঘাত করে।এই সময় পর্যন্ত সে লজ্জার দরিয়ায় ডুবে ছিল।তার চোখে অশ্রুর প্লাবন এবং সে নাঈমের দিকে অসহায় ভাবে ফাঁকা চোখে তাকায়।নাঈমকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সে-ও নিজে আরো বড় দরিয়ায় ডুবে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">সত্যি কথা বলতে কি, চেকপয়েন্ট সম্পর্কে তার সমস্ত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নাঈম কখনই এই জাতীয় দৃশ্যের কথা ভাবেনি।সে তার বন্ধু ইয়াসীনের দিকে তাকায় এবং আবিস্কার করে যে, ইয়াসীন যেন বিস্ফারিত দৃষ্টি মেলে নিজের মধ্যে হারিয়ে গেছে।<br />
‘তুমি যা করতে বলেছ, আমি তা করব না।’<br />
‘আমি বলেছি, তুমি মুক্ত খাবিবি৬। তুমি যদি না চাও, তাহলে চুমো খেও না।কিন্তু তুমি এবং অন্য সবাই যদি এই চেকপয়েন্ট পেরিয়ে যেতে চাও, তবে চুমো খাও।তারপর সৈনিকটি যেই চলে যাচ্ছিল, তখন সে আরও বলল, ‘যেখানে আছ, সেখান থেকে সরবে না।অপেক্ষা করো।’<br />
চেকপয়েন্টের সম্মুখে সৈনিকেরা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছিল। তারা তাদের পকেটে খুচরো পয়সা খুঁজে বের করে এবং অন্যদের দিকে এগিয়ে দেয়।কেননা তারা সে যুবতী মেয়েটিকে চুম্বন করবে কিনা, তা নিয়ে বাজি ধরতে শুরু করে।সে মেয়েটিকে চুম্বন করবে, বলেই প্রথম সৈনিকটি পকেট থেকে কিছু খুচরো বের করে বালির বস্তার উপর ছুড়ে দেয়। সূর্য্য ডুবতে শুরু করেছে এবং যাত্রীদের মনে হয় তারা যেন সময়ের মহাশূন্যে ঝুলে আছে।<br />
‘তুমি বললেও আমি তা করব না।’<br />
আর তাই রাইফেলের গোড়া নাঈমের উরুতে আঘাত করেছিল।সে মাটিতে পড়ার আগে সবাই তার উরুতে আঘাতের শব্দ শুনেছিল। সৈনিকটি পায়ের জ্যাকবুট দিয়ে তার পেটে প্রচণ্ড জোরে লাথি মারে।<br />
‘আমরা এখানে ব্যস্ত আছি।আমি তো আগেই বলেছি তুমি যদি মেয়েটিকে চুম্বন করো, তাহলে সবাই চলে যেতে পারবে।যদি তা না হয়, তবে এখানে ঘুমিয়ে পড়ো।’<br />
‘তুমি বললেও আমি তা করব না।’<br />
অন্য সৈন্যরা প্রথম সৈনিকটির এই জঘণ্য খেলার প্রতিবাদ করেছিল এবং তারা ভেবেছিল যে, তার সহিংসতার ব্যবহার বাজির ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে।কিন্তু প্রথম সৈনিকটি সহকর্মীদের অভিযোগ কানে তোলেনি।<br />
আরেকটা আঘাতের শব্দ হয়। নাঈম সৈন্যদেরকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পালানোর কোন পথ খোলা ছিল না।তার কপাল থেকে রক্ত ঝরছিল।একসময় প্রথম সৈনিকটি চলে যায়।মনে হয়েছিল যেন সবকিছু বিস্ফোরিত হতে চলেছে।সারিবদ্ধ যাত্রীরা নড়াচড়া করতে না পেরে দৃশ্যটি দেখার সময় তারা অস্থির হয়ে উঠেছিল।কয়েকটি মোটর গাড়ি এবং বাসের যাত্রীরা নেমে রাস্তার উভয় পাশে দাঁড়িয়েছিল। সৈন্যরা তাদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে ধরে এবং তাদেরকে মোটর গাড়ি ও বাসে ফিরে যাওয়ার জন্য আদেশ করে।<br />
তখন এমন সময় যে, নাঈমের সামনে কেউ মেয়েটিকে মাথা নুইয়ে থাকতে দেখেনি।নাঈমের হাত ধরে মেয়েটি ফিসফিস করে বলল, ‘আমাকে চুম্বন করুন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি!’</p>
<p style="text-align: justify">নাঈম পুনরায় যাত্রীদের দিকে তাকায়।তারা মাটির দিকে দৃষ্টি আবদ্ধ করে রেখেছে, যেন তারা সেখানে উপস্থিত নেই।<br />
নাঈম মেয়েটির ডান গালে আলতো করে চুম্বন করে।যেই তার ঠোঁট মেয়েটির মুখমণ্ডল স্পর্শ করে, ঠিক তখনই কয়েকজন সৈনিক ‘উপস্’ আওয়াজ তোলে, যেন তারা তাদের দলের বিজয়ী গোলের জন্য উল্লাস করছে।অন্যদিকে তাদের মধ্যে বাকিরা বিরোধিতা করে বিড়বিড় করে ।<br />
বাসটি যখন চেকপয়েন্টের পাশ কেটে চলে যায়, তখন যাত্রীদের চোখেমুখে লজ্জা, নিপীড়ন, আক্রোশ, ক্রোধ এবং অস্বীকৃতির মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা ভগ্ন হৃদয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাসের মধ্যে নীরব ছিল নতুন যাত্রী, যা সব যাত্রী সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে ।</p>
<p style="text-align: justify">যখন সবার মাথা নত হয়ে আছে, তখন মেয়েটি মাথা তোলে। সে নাঈমের দিকে তাকায়, যেন নাঈম তার তাকানো বুঝতে পারে। একসময় নাঈম মাথা উঁচু করে এবং মেয়েটির দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করে, যা শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ছিল। যাত্রীরা আসন ছেড়ে ইয়াসীনকে অনুসরণ করে।শুধু দুজন বাসের মধ্যে বসে থাকে; একজন নাঈম এবং আরেকজন যুবতী মেয়েটি।</p>
<p style="text-align: justify">তিন.<br />
সবসময় যখন উম্ম ওয়ালিদ জানালার কার্ণিশে গোলাপের তোড়া খুঁজে পান, তখন তিনি জানতে পারেন কখন তার ভাগ্নে এসেছিল।<br />
প্রথমে উম্ম ওয়ালিদ ইয়াসীনকে মৃদু ভৎসনা করে, ‘গোলাপ কেন? এগুলোর জন্য নিশ্চয়ই তোমার অনেক খরচ হয়েছে!’ তারপর থেকে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।যখন গোলাপের তোড়া আনতে ইয়াসীনের দেরি হয়, তখন তিনি গোলাপের অনুপস্থিতি অনুভব করেন । একসময় গোলাপ শুকিয়ে যেত, কিন্তু তিনি সেই শুকনো গোলাপ রেখে দিতেন এবং তাজা গোলাপের তোড়ার জন্য অপেক্ষা করতেন।<br />
‘জানো, আমি এখন গোলাপের জন্য প্রতীক্ষায় থাকি, যেমন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় থাকে বৃক্ষরাজি।আমি যখন তাজা গোলাপের তোড়া দেখি, তখন আমার হৃদয় আনন্দে নেচে উঠে।<br />
‘আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, ফুলদানি কখনই গোলাপ ছাড়া থাকবে না ।’</p>
<p style="text-align: justify">‘কিন্তু রামালাহ থেকে ফুল আনতে তোমার কী কষ্ট হয় না?’<br />
‘না, তবে যাত্রীদের কাছ থেকে আমি যে চোখের চাহনি দেখি, তা আমাকে কষ্ট দেয়। উম্ম ওয়ালিদ, এটা আমাকে বিভ্রান্ত করে যে, অনেকে বস্তা ভর্তি মোলোখিয়া৭ বা পেঁয়াজ বহন করে জেনিন থেকে রাফা৮ পর্যন্ত, কিন্তু যাত্রীরা কেউ তাদের দিকে তাকায় না।অথচ আমি যখন গোলাপের তোড়া নিয়ে আসি, তখন সবাই আমার দিকে এমনভাবে তাকায় যেন আমি আমার জন্মদিনের পোশাক পড়ে আছি।’<br />
‘তুমি কী বিব্রত বোধ করো?’</p>
<p style="text-align: justify">‘না, এটা আমাকে কখনো বিব্রত করে না।তবে যা আমাকে বিরক্ত করে, তা হলো গোলাপগুলো খুবই অপরিচিত মনে হয়।যে মুহূর্তে আমরা রামালাহ ছেড়ে রওনা হই, তখনই নিঃস্তব্ধতা দখল করে নেয় এবং আমি যেন তাদের তাত্ত্বিক কথাবার্তা এবং প্রশ্ন শুনতে পাই: “গোলাপ গুচ্ছ তার স্ত্রীর জন্য,” একজন ভাবে।অন্যদিকে আরেকজন মনে করে: “আজকাল কেউ তার স্ত্রীকে গোলাপ দেয় না।সে অবশ্যই কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে বা জন্মদিন যাচ্ছে” এবং তৃতীয় জনের ভাবনা: “এটা কী সেই শিয়ালের পুরোনো গল্প যে সে ভুলে গেছে যে, সে আর কিশোর নয় এবং প্রেমে পড়েছে?!”<br />
‘ওহ, ইয়াসীন, সৃষ্টিকর্তা তোমার প্রতি সদয় হোন।মানুষেরা দয়ালু এবং তাই তারা এরকম ভাবে না !’<br />
‘মানুষ – শুধু এখানেই নয়, অন্য অনেক জায়গায় – দয়ালু হওয়ার চেয়ে অভিশাপ দেওয়া সহজ বলে মনে করে।<br />
‘অবশ্যই না ।’<br />
‘কিন্তু আপনি তো যুদ্ধ বিমান থেকে বোমা ফেলতে দেখেছেন, তাই না?’<br />
‘মাঝে মধ্যে।’<br />
‘দেখছেন! পৃথিবী কি রকম অদ্ভূত! আপনার কি অবস্থা! মানুষের সম্মুখে আবু ওয়ালিদকে কতবার বলেছেন যে, আপনি তাকে ভালোবাসেন?’<br />
‘হায় সৃষ্টিকর্তা! মানুষের সম্মুখে? এমনকি আমি তাকে কখনও বলিনি যে, আমি তাকে নিভৃতে ভালোবাসি!’<br />
‘হা! কিন্তু আপনি যদি তাকে ভালোবাসেন, তাহলে মানুষের সম্মুখে বলছেন না কেন?’<br />
‘তুমি কী তাদেরকে বলাতে চাও যে, আমি একজন উন্মাদ?’<br />
‘দেখছেন! আমি তাই বলার চেষ্টা করছি।সুন্দর জিনিসের প্রতি আমাদের শরম সত্যিকারের লজ্জাকর হায়াকে ছাড়িয়ে যায়।যাহোক, আমি আপনার জন্য গোলাপ আনা অব্যহত রাখব এবং যারা বিষয়টি অদ্ভুত মনে করে, তাদেরকে মানসিক যন্ত্রণায় ফেলতে চাই এবং বুঝাতে চাই যে, আমি ফুলগুলো রামালাহ থেকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছি।’</p>
<p style="text-align: justify">‘তুমি কী মনে করো, এমন মানুষ আছে যারা এটাকে অদ্ভূত মনে করে না?’<br />
‘মাঝে মাঝে।একবার, কিছুক্ষণ আমার দিকে এবং গোলাপ গুচ্ছের দিকে তাকিয়ে থাকার পরে, একজন মহিলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমাকে বলেছেন: “আমি তাকে ঈর্ষা করি, তিনি ভাগ্যবান।” আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, “আপনি তাকে বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন ?” জবাবে তিনি বলেছেন, “যার জন্য আপনি গোলাপ গুচ্ছ নিয়ে যাচ্ছেন।” আমি তাকে বলেছি, “না, বরং তাকে পেয়ে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।” অবশেষে মহিলা বলেছেন: “তাহলে তিনি দ্বিগুণ ভাগ্যবান, আপনাকে পেয়ে এবং আপনার গোলাপের তোড়া পাওয়ার জন্য।’”<br />
তারপর উম্ম ওয়ালিদ ইয়াসীনের দিকে তাকান: ‘তুমি কেন শান্ত হচ্ছ না, ইয়াসীন?’<br />
‘বিশ্বাস করুন, আমি যদি শান্ত হই, তাহলে উন্মাদ হয়ে যাব।’</p>
<p style="text-align: justify">মেঘের ফাঁকে দুপুরের সূর্য্য জ্বলজ্বল করছে।মহিলার বাড়ির নীচের উঠানে সামনের দুটি বাদাম গাছের ছায়া এখন নেই।গাছের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের লাইনের উপরে ওড়াউড়ি করা বাড়ির এক ঝাঁক চড়ুই পাখি সাবধানে বাচ্চাদের জন্য উঠান পরিষ্কার করার কাজ দেখছিল। উম্ম ওয়ালিদ দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে ছিলেন।তিনি অপরিস্কার উঠানে খেলায় ব্যস্ত বাচ্চাদের পাশ কাটিয়ে তাকান; স্বাভাবিকের চেয়ে আজ তাদের সংখ্যা কম।অনেক উঁচু আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি তিনটি ঘুড়ি উড়তে দেখেন।তারপর তিনি তার প্রতিবেশীর জানালার দিকে চোখ সরিয়ে নেন।ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জানালার কাঁচ ভেঙে গিয়ে পিছনের বাচ্চাদের আঘাত হানতে গিয়েছিল।সেখানে সবাই স্কুলে যাওয়ার আগে তাদের মায়ের প্রাতঃরাশ করার জন্য অপেক্ষা করছিল ।</p>
<p style="text-align: justify">উম্ম ওয়ালিদ পুনরায় দূরের দিকে তাকান।তিনি বাচ্চাদের খেলা দেখেন । আজ তার মনে হচ্ছিল, বাচ্চারা প্রথমবার খেলে যে ধরনের আনন্দ অনুভব করে, তারা সেই খেলা খেলছে।তিনি জানতেন না যে, একটি বল তাড়া করার জন্য দুটি দলে কয়জন করে খেলোয়ার থাকে।তাই তিনি দূরান্তে তাকিয়ে থাকেন &#8230;<br />
বাচ্চাদের চিৎকার-চেঁচামেঁচিতে উম্ম ওয়ালিদের সম্বিত ফিরে আসে। চটজলদি তিনি তার দৃষ্টি আবু ওয়ালিদের দিকে প্রসারিত করেন।আবু ওয়ালিদ যেখানে বসেছিলেন, তার শেষ প্রান্তে তিনি দৃষ্টি আটকে রাখেন। আবু ওয়ালিদের সঙ্গে একদল লোক ছিল, যারা উম্ম ওয়ালিদের কাছে এতটাই পরিচিত ছিল যে তাদের কথাবার্তার সম্ভবত প্রতিটি শব্দ তিনি অনুমান করতে পারেন।<br />
উম্ম ওয়ালিদ এবং আবু ওয়ালিদ ও তার সঙ্গীদের মাঝে একশ’ পঞ্চাশ, হয়তো বা দুইশ’ মিটার দূরত্ব ছিল, কিন্তু তারচেয়ে বেশি নয়।<br />
রাস্তার শেষের দিকে উম্ম ওয়ালিদের অত্যন্ত পরিচিত আওয়াজ তার মনোযোগ আকর্ষণ করে।সেনাবাহিনীর টহল।রাস্তায় চারটি জিপ গর্জন করতে করতে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।গাড়ির কালো ধোঁয়ায় সরু গলির মধ্যে দমবন্ধ করা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।পুনরায় তারা সেখানে সব দখল করে আছে।<br />
ইয়াসিনের মুখ উম্ম ওয়ালিদ দৃষ্টির সীমানা ছেড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।<br />
জিপের কোলাহল উম্ম ওয়ালিদকে তাদের সরু রাস্তায় ফিরিয়ে আনে। জিপগুলো তার বাড়ির পাশে উত্তর দিকে কাছাকাছি কোথাও পার্ক করা আছে।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু বাচ্চারা খেলা বন্ধ করেনি।তারা এমনভাবে খেলা চালিয়ে যেতে থাকে যেন তাদের খেলার জায়গাটি কখনো কোন সৈনিক দেখেনি। সেখানে তারের উপরে চড়ুই পাখিদের ডানায় যে সতর্কতা ফুটে উঠেছিল, তা ছিল লক্ষণীয়।<br />
উম্ম ওয়ালিদ তার দৃষ্টি উঠানের দূরের দিকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। দেয়ালের অন্য প্রান্তের ঘটনা উপলব্ধি করে লোকজন গল্প করা বন্ধ করে দিয়েছিল।তারা ঘটনার কিছুই জানত না।তবে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিল যে বাচ্চারা তখনো খেলছিল।<br />
আবু ওয়ালিদকে দূর থেকে হাত নাড়তে দেখে উম্ম ওয়ালিদও হাত নাড়েন।সৈনিকেরা তাদের অঙ্গভঙ্গি লক্ষ্য করছিল।ইয়াসীনের মুখ আবারও পাশ কেটে যায়, কিন্তু এবার তা অদৃশ্য হয়ে যায়নি।উম্ম ওয়ালিদ তাকে সিঁড়ি দিয়ে নীচের উঠানের দিকে যেতে দেখেন এবং এক মুহূর্তের জন্য তিনি উঠানটি কল্পনা করেন, যেমনটি সবসময় ছিল, সবুজ এবং পরিপাটি।</p>
<p style="text-align: justify">উম্ম ওয়ালিদ শুনতে পেলেন নিজের কণ্ঠস্বর শরীরের মধ্য দিয়ে নদীর মতো প্রবাহিত হচ্ছে।তিনি ডাকেন, ‘আবু ওয়ালিদ!’ তখন তার মনে হয় সেই ডাক যেন তার হৃদয়ের গভীরতা থেকে উঠে আসছে এবং ফুসফুস ভরে দিচ্ছে।<br />
উঠানের অন্য প্রান্ত থেকে কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, যেন সে উম্ম ওয়ালিদের ডাকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আছে: ‘কী হয়েছে?’<br />
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, আবু ওয়ালিদ।আমি তোমাকে ভালোবাসি!’<br />
সৈন্যরা এই বয়স্কা মহিলাকে তার পুরুষকে ডাকতে দেখছিল, তার আগে তাদের চোখ অন্য দিকে চলে যায় এবং দেখে লোকটি জিজ্ঞেস করছে, ‘কী?’<br />
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি,’ উম্ম ওয়ালিদ পুনরায় বললেন।<br />
আবু ওয়ালিদ মাথা নাড়েন।তিনি কিছুটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকান।কিন্তু তার সঙ্গীদের মুখের ভাষা পড়ার সময় তার চোখ অস্বাভাবিক ঝলকের সঙ্গে জ্বলজ্বল করছিল।<br />
একসময় উম্ম ওয়ালিদ মাথা তোলেন।এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হল বাচ্চারা খেলা বন্ধ করে দিয়েছে, এবং চড়ুইরা বুঝতে পারছিল না কোন দিকে উড়ে যাবে।<br />
সৈনিকেরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে রেখেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আবু ওয়ালিদ বুঝতে পেরেছিলেন যে, পুরো পৃথিবী থেমে গেছে এবং তার জন্য অপেক্ষা করছে।তিনি উঠানের দূরের দিকে তাকান, যেখানে পাইন গাছের মতো গর্বিত এবং দীর্ঘাঙ্গী একজন মহিলা তার জন্য অপেক্ষা করছিল । আবু ওয়ালিদ তাকে বললেন:<br />
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, উম্ম ওয়ালিদ!’<br />
‘কী?’ উম্ম ওয়ালিদ জবাব দেন, যদিও তিনি প্রথমবার জোরে এবং পরিস্কার শুনেছিলেন ।<br />
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি ।’<br />
এবং সবকিছু মিটমাট হয়ে যায় ।</p>
<p style="text-align: justify">আবু ওয়ালিদ নীরবতাকে পর্যবেক্ষণ করেন যে, তার কণ্ঠস্বর যেন মহাশূন্যে সৃষ্টি হয়েছে । ‘উম্ম ওয়ালিদ বার্তা পেয়েছেন, যা ছিল জোরে এবং স্পষ্ট ।’ তিনি নিজের আসনে ফিরে এসে নীরব আনন্দে নিজেকে ফিসফিস করে বললেন । একই সময়ে টহলরত সৈনিকটি বিভ্রান্তিতে মাথা নাড়ে: ‘একজন বৃদ্ধ এবং আরেকজন বৃদ্ধা, একে অপরের প্রতি আমি তোমাকে ভালবাসি বলে চিৎকার করছে।পাগল আর অশ্লীল ফিলিস্তিনিরা ।’<br />
যেন উম্ম ওয়ালিদের মধ্যে পাইন গাছটি হঠাৎ আরও উঁচু হয়ে বেড়ে যায় এবং তিনি নিজেকে অন্য দিনের চেয়ে দীর্ঘাঙ্গী অনুভব করেন । উঠানের অন্য দিকে তার সহানুভূতিশীল দৃষ্টি ছড়িয়ে পড়ে । উম্ম ওয়ালিদ টহলরত সৈনিকদের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকেন ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পাদটীকা:</strong></span> মূল গল্পে যেভাবে ছিল, সেভাবেই দেওয়া হয়েছে, তবে সামান্য হেরফের করে– অনুবাদক ।<br />
১ আরবদের নিয়ম অনুযায়ী নামের আগে ‘উম্ম’ এবং ‘আবু’ যথাক্রমে ‘মা’ এবং ‘বাবা’ বোঝায় এবং সাধারণত তাদের বড় ছেলের নাম অনুসরণ করে ।<br />
২ আরবীতে ‘আহলান ওয়া সাহলান’ অর্থ ‘স্বাগতম’ । তবে খুবই জোরালো ভাবে ব্যবহার করা হয়, যেমন ‘আপনি পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের মধ্যে আছেন এবং আমাদের সঙ্গে আপনার থাকা কখনই বোঝা নয়’ ।<br />
৩ পুরো বাক্যটি সামাজিক রীতির এক ধরনের আরোপণ, যেখানে অবিবাহিত পুরুষদের মায়েরা যুবতী মেয়েদের পরিবারের কাছে অনুসন্ধান করতে যান বলে জানা যায়; কিন্তু এখানে এটা বিপরীত ভাবে ব্যাহার করা হয়েছে ।<br />
৪‘ওয়াদি আল-হারামিয়া’-তে ইজরায়েলি সামরিক চেকপয়েন্ট, যা চোরদের উপত্যকা হিসেবে পরিচিত ।<br />
৫গাধার আরবি শব্দ, কিন্তু ইজরায়েলিরা ভুল উচ্চারণ করে ।<br />
৬ইজরায়েলিদের ভুল উচ্চারণ ‘খাবিবি’, আসলে আরবীতে শব্দটি ‘হাবিবি’, যার আক্ষরিক অর্থ ‘আমার ভালোবাসা’, কিন্তু সাধারণভাবে &#8216;সঙ্গী&#8217; বোঝায় ।<br />
৭ একধরনের পুষ্টিকর ‘করকোরাস অলিটোরিয়াস’ প্রজাতির পাতাযুক্ত উদ্ভিদ, যা সাধারণত লেভান্ট, মিশর এবং সাইপ্রাসের অংশজুড়ে পাওয়া যায় এবং গাঢ় সবুজ স্যুপের মতো খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।<br />
৮ জেরিন পশ্চিম তীরের সবচেয়ে উত্তর দিকের শহর এবং রাফা গাজা স্ট্রিপের সুদূর দক্ষিণে অবস্থিত । এই পথে যাতায়াতের উপর ইজরায়েলিদের বিধিনিষেধের কারণে ফিলস্তিনিদের অতিরিক্ত বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>লেখক পরিচিতি:</strong> </span>আরব বিশ্বেরসবচেয়ে পঠিত লেখকদের মধ্যে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জর্ডানের লেখক ইব্রাহিমনাসরাল্লাহ অন্যতম । একাধারে তিনি একজন ঔপন্যাসিক, গল্পকার, কবি এবংঅঙ্কন ও চিত্রশিল্পী।তার জন্ম ১৯৫৪ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮সালে ফিলিস্তিন থেকে তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।তিনি জর্ডানের একটি শরণার্থী শিবিরে শৈশব ও যৌবন অতিবাহিত করেন এবং সৌদি আরবে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আম্মানে ফিরে এসে মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কাজ করেন।তিনি ২০০৬ সালে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন । তিনি পনেরটি কবিতা সংকলন, একুশটি উপন্যাসসহ বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।বিগত আড়াই শ’বছরের আধুনিক ফিলিস্তিনি ইতিহাসকে নিয়ে ১৯৮৫ সালে তিনি ‘প্যালেস্টিনিয়ান কমেডি’ উপন্যাস রচনা করেন।তার বিভিন্ন লেখা ইংরেজি, ইতালীয়, ড্যানিশ, তুর্কি এবং ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার লাভ করেন, যেমন ২০১৮ সালে ‘দ্যসেকেন্ড ওয়ার অব দ্য ডগ’ উপন্যাসের জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর অ্যারাবিক ফিকশন’ (‘আরবি বুকার’ পুরস্কার হিসেবে পরিচিত)।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>গল্পসূত্র:</strong></span> ‘রামালায় প্রেম’ গল্পটি ইব্রাহিম নাসরাল্লাহর ইংরেজিতে ‘লাভ ইন রামালাহ’ গল্পের অনুবাদ। আরবি থেকে গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মেদ ঘালাইনি।গল্পটি ২০২১ সালে প্রকাশিত এবং মায়া আবু আল-হায়াত সম্পাদিত ‘বুক অব রামালাহ: অ্যা সিটি ইন শর্ট ফিকশন’ছোটগল্প সংকলনে অন্তর্ভুক্ত এবং সেখান থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/23/%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
