<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>প্রবীর বিকাশ সরকার &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Wed, 12 Mar 2025 18:30:50 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>প্রবীর বিকাশ সরকার &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>মার্চ মাস এলে যাকে মনে পড়ে ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Mar 2025 18:30:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3360</guid>

					<description><![CDATA[১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে শিপ্রা ঘোষালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এই বাড়িটির সামনে। তখন তার যা বয়স আমারও তাই&#8212;-২৪। চকবাজারের তেলিকোণা থেকে ফিরছিলাম দুপুরের পর। চৈত্র্যের খাড়া রোদ মাথার ওপর। শুষ্ক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে শিপ্রা ঘোষালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এই বাড়িটির সামনে। তখন তার যা বয়স আমারও তাই&#8212;-২৪। চকবাজারের তেলিকোণা থেকে ফিরছিলাম দুপুরের পর। চৈত্র্যের খাড়া রোদ মাথার ওপর। শুষ্ক ঝরঝরে বাতাস।</p>
<p style="text-align: justify">ছেলেবেলা থেকেই গান গাওয়ার অভ্যেস আমার। গুনগুন করে গান গাই প্রায় সারাক্ষণই। সেদিনও প্রিয় একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘সেই ভালো সেই ভালো / আমারে না হয় না জানো&#8230;..’ গেয়ে নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম। দেখলাম একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়িটির সামনে। গোলগাল ফর্সা মুখ ও বেশ দীর্ঘ শরীর। কালো শাড়িপরা। কুঁকড়ানো কালো চুল বাতাসে উড়ছে। খালি পা। টুনটুনি পাখির মতো চঞ্চল দুটি চোখ। তাকে দেখেই আমি চুপ করে গেলাম। কখনো এই মেয়েটিকে এই শহরে দেখেছি বলে স্মরণে এলো না। কে সে? কেনইবা এই বাড়িটির সামনে এই অসময়ে দাঁড়িয়ে আছে? ভূতপ্রেত নয়, কারণ তার ছায়া সুস্পষ্টভাবেই মাটিতে পড়েছে। তথাপি অবাক হয়ে তাকালাম এবং দুজনেই হাসলাম। তারপর তাকে পেছনে রেখেই আমি সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম আর পেছনে ফিরে তাকালাম না।</p>
<p style="text-align: justify">২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ভোরবেলা শান্তি মিছিল ছিল আমাদের। সারা শহর প্রদক্ষিণ করে চকবাজার থেকে যখন ফিরছিলাম দেখলাম ডিগম্বরী তলার গলির মুখে সে দাঁড়িয়ে! সেই কালো শাড়ি! খালি পা। হাতে ফুলের তোড়া। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতে এগিয়ে এলো এবং গম্ভীর মুখে আমার ডান পাশে এসে পা পা মিলিয়ে হাঁটতে শুরু করলো।</p>
<p style="text-align: justify">রাজগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে এসে সে আলাদা হয়ে বজ্রপুরের গলির মুখে দাঁড়িয়ে পড়লো। আমি একটু অবাক হয়ে সামান্য এগিয়ে ফিরে এসে তার পাশে দাঁড়ালাম। বললাম, থেমে পড়লেন যে! আমরা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেব। ইচ্ছে করলে আসতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">আমার কথা শুনে চঞ্চল দুটি চোখ আমাকে কয়েক মুহূর্ত দেখলো। কী দেখলো কে জানে! তখন বুঝতে পারলাম মেয়েটির চোখ ঈষৎ ট্যাঁরা। বাহ! ট্যাঁরা মেয়েদের সৌন্দর্যই আলাদা। আস্তে করে বললো, আমার পথ যে এখানেই শেষ! এখানেই তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবো বলে এসেছি।<br />
তার হেঁয়ালি কথার কিছুই মাথার মধ্যে ঢুকলো না আমার। বললাম, কার কথা বলছেন? তিনি কে? এখানে কি আসবেন তিনি? তার জন্য প্রতীক্ষা করছেন?<br />
আমার এতগুলো প্রশ্ন শুনে ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, না। কেউ আসবে না। কারো আসার প্রতীক্ষাও আমার শেষ হয়েছে ১৯৭১ সালেই।<br />
রোদটা ক্রমশ তেজি হয়ে উঠছে। বাতাসও তপ্ত। গ্রীষ্মের আগাম আভাস। পায়ের তলাটায় গরম অনুভূত হচ্ছে। গলাটাও শুকিয়ে আসছে। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে বললাম, ঠিক আছে। আসি তাহলে। ও! আমার নাম প্রবীর। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, ইতিহাসে অনার্স। থাকি ধর্মসাগর পশ্চিম পাড়ে। হয়তো আবার দেখা হবে।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলেই দু-তিন কদম হেঁটে এগিয়ে যেতেই পেছন থেকে ডাক এলো: শুনুন। একটু দাঁড়ান আমিও যাবো।<br />
আমি ঘুরে দাঁড়ালে দেখতে পেলাম সে ফুলের তোড়া কপালে ঠেকিয়ে মাথা নত করে বিড় বিড় করে কী যেন বলছে। অবাক হলাম বটে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। তাকিয়েই রইলাম। উত্তর দিকে রাজগঞ্জ বাজারের দিকে মুখ তার। কাকে প্রণাম জানাচ্ছে! তার সবই অদ্ভুত মনে হলো আমার কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">দীর্ঘ প্রণাম শেষে আমার পাশে এসে বললো, চলুন।<br />
দেখলাম তার চোখ দুটি বেশ লাল এবং অশ্রুতে টলোমলো। কাঁদছে মেয়েটি! কিন্তু কেন?<br />
সেই প্রশ্নের উত্তর সে দিয়েছিল সপ্তাহখানেক পরে চলে যাওয়ার আগে।<br />
আমরা দেশওয়ালিপট্টি হয়ে হেঁটে হেঁটে রানীর দিঘির পূবপাড়ে গিয়ে পৌঁছলাম। দেখলাম মিছিলটি এসে প্রবেশ করছে কলেজের ফটক দিয়ে। আমরাও গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলাম। তারপর এক-এক করে সবাই চলে গেল। রয়ে গেলাম আমরা দুজনে। বন্ধুরা ডাকলো আমাকে যাবো কিনা টাউন হলে অনুষ্ঠান আছে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। বললাম, তোরা যা আমি আসছি।<br />
তখন কলেজ গেটের কাছে রানীর দিঘির পশ্চিম-উত্তর কোণে কৃষ্ণচূড়ার গাছ ছিল। তার নিচে চায়ের স্টল ছিল একটা। আমি বললাম, বেশ গরম! গলাটা শুকিয়ে গেছে। একটু চা চলবে?<br />
ঘাড় কাৎ করে সম্মতি দিল। চা পান করতে করতে বললাম, কিছু মনে করবেন না। আপনার পরিচয়টাই জানা হলো না। মনে হয় আপনি এই শহরের কেউ নন, তাই না?<br />
বললো, ঠিকই ধরেছেন। আমি সিলেট থেকে এসেছি। এখানে আমার মামার বাড়ি ছিল নানুয়া দিঘির দক্ষিণ পাড়ে। আমার নাম শিপ্রা ঘোষাল। আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ি। ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত কুমিল্লায় ছিলাম আমি মামার কাছে। আমার বাবা-মা ছোটভাইকে নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিল অসুস্থ জ্যাঠাকে দেখার জন্য। আমি যাইনি। &#8230;&#8230;..আর এবার এলাম এত বছর পর।<br />
আমি বললাম, এত বছর পর মানে মামাকে দেখার জন্য?<br />
&#8212;না। মামারা স্বাধীনতার পর আর কলকাতা থেকে ফেরেনি। রয়ে গেছে। আমি এসে উঠেছি আমার এক বান্ধবীর বাসায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে রঞ্জিতা পাল।<br />
&#8212;আচ্ছা। রাজগঞ্জ চৌরাস্তার মোড়ে কাকে প্রণাম জানালেন?<br />
চুপ করে থাকলো শিপ্রা। চায়ের কাপটা ফিরিয়ে দিয়ে বললো, আমার এক বন্ধুকে।<br />
আর কিছু বললো না সে। বললো, চায়ের দাম কত?<br />
আমি বললাম, ছি ছি। আমি অফার করেছি। দাম দিয়ে লজ্জায় ফেলবেন না। বলে দামটা আমিই দিয়ে দিলাম। শিপ্রা ধন্যবাদ জানালো। তারপর দুজনে দুদিকে চলে গেলাম।</p>
<p style="text-align: justify">তিন-চার দিন পরের ঘটনা। সন্ধেবেলা টাউন হলে ছিল বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান। কারা আয়োজন করেছিল আজ আর মনে নেই। লোকে লোকারণ্য। হৈচৈ বাইরে এবং হলের ভেতরেও। আমি মাঝামাঝি জায়গায় দেয়ালের কাছে বসে আছি। সেদিন দুপুর থেকেই তুমুল বৃষ্টি। একটু শীত শীত অনুভূতি। হালকা চাদর গায়ে দিয়ে এসেছিলাম। হাতে রবীন্দ্রনাথের &#8220;শেষের কবিতা&#8221; বইটি।সেটা পড়ছিলাম। গান শুরু হতে আরও দেরি। হঠাৎ দেখলাম শিপ্রা এসে হাজির। একেবারে আমার পাশেই এসে বসলো। নরোম করে বললো, কেমন আছেন?<br />
আমি বইটি বন্ধ করে নড়ে চড়ে বসলাম। বললাম, ভালো। আপনি ভালো তো?<br />
মাথা নেড়ে সায় দিল। আমরা পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গান শুনলাম। হঠাৎ করে কারেন্ট চলে গেল। অমনি হৈচৈ চিৎকার শিস দিচ্ছিল লোকজন। সে এক হুলুস্থুল বিশ্রী কাণ্ড। বললাম, চলুন বাইরে যাওয়া যাক।<br />
শিপ্রা বললো, চলুন। আমারও যেতে হবে। আগামীকাল ফিরে যাবো ঢাকায়।<br />
আমি শুনে একটু আহত হলাম অকারণেই। বললাম, ও।</p>
<p style="text-align: justify">হলের বাইরে ভীড়। সেই ভীড় ঠেলে দুজনে বেরিয়ে এলাম। বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশ বেশ পরিষ্কার। পুরো শহরটা অন্ধকারে ডুবে গেছে। তারা মিট মিট করে জ্বলছে আকাশে। তবে বাতাসটা বেশ হিম কিন্তু আরামদায়ক। বললাম, আজ আর কখন বিদ্যুৎ আসে ঠিক নেই। চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।<br />
&#8212;আপনি কষ্ট করবেন। আমি একাই যেতে পারবো। অবশ্য আপনার আপত্তি না থাকলে চলুন।<br />
আমরা পাশাপাশি হেঁটে জলকাদা মাড়িয়ে কলেজের পথ দিয়ে রানীর দিঘির পাড়ে এলে শিপ্রা বললো, আচ্ছা। সেদিন যে গানটা গাইছিলেন আবার গান না। খুব ভালো লাগছিল গানটা।<br />
আমি একটু থমকে দাঁড়িয়ে রানীর দিঘির দিকে তাকালাম। সাদা সাদা ঢেউ বাতাসে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আমি গানটা শুরু করলাম: ‘সেই ভালো সেই ভালো / আমারে না হয় না জানো&#8230;&#8230;..’। গান গেয়েই হাঁটছিলাম। কখন শিপ্রা আমার ডান হাতটি তার মুঠোর মধ্যে চেপে ধরলো। গানটি শেষ হলে শিপ্রা বললো, অপূর্ব কণ্ঠ আপনার। এত সুন্দর রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারেন! আপনার চর্চা করা উচিত। &#8230;&#8230;.জানেন, সেও রবীন্দ্রসঙ্গীত খুব ভালোবাসতো।<br />
কার কথা বলছে শিপ্রা?<br />
কখন সেই রাজগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে এসে গেলাম। তখনও অন্ধকার। টিম টিম করে দোকানগুলোতে হারিকেন না হয় কুপি, মোমবাতি জ্বলছে। রিকশার বেলের ট্রিং ট্রিং শব্দ। মনটা কেমন বিষণ্ণ হয়ে গেল আমার। শিপ্রাও কেমন চুপ হয়ে গেছে।<br />
মোড়ে এসে বললো, সেদিন জানতে চেয়েছিলেন আমি এখানে কাকে প্রণাম করেছি?<br />
&#8212;কিন্তু বলেননি তো!<br />
&#8212;ওই যে টিনের বাড়িটির সামনে আমাদের দেখা হয়েছিল কয়েক দিন আগে দুপুরবেলা। সেটা একটা হোস্টেল। আমার বন্ধু তিলক রায় সিলেট থেকে এসেছিল আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ২৪ মার্চ তারিখে কিন্তু আমাকে পায়নি। না পেয়ে ওই হোস্টেলে ছিল। মামা ১৫ তারিখেই আমাদেরকে নিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা চলে যায়। ২৫ তারিখ রাতের বেলা পুলিশলাইন আক্রমণ করে পাকসেনা। তিলক ৩০ তারিখ ভোরবেলা গোমতী নদীর ওপার যাবে বলে বেরিয়েছিল হোস্টেল থেকে। রাজগঞ্জের এই মোড়ে আসতেই হঠাৎ করে তাকে দেখতে পায় টহলরত পাক আর্মি আর অমনি গুলি করে হত্যা করে&#8230;&#8230;.!<br />
সহসা আমার পা থেমে যায়। বুকের ভেতরে তীক্ষ্ণ কিছু একটা নড়ে ওঠে।<br />
বলতে বলতে শিপ্রার গলা ধরে আসে। ছলোছল করে ওঠে আমার চোখও। একটু থেমে বললো, স্বাধীনতার পর তার এক বন্ধু শিবুদার কাছ থেকে এই ঘটনা জানতে পারি।</p>
<p style="text-align: justify">শিপ্রা আঁচলে মুখ ঢাকে। কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে তার শরীর। আমি তার কাঁধে হাত রেখে সমবেদনা প্রকাশ করলাম। তারপর হাত ধরে এগিয়ে দিয়ে এলাম ছাতিপট্টি পর্যন্ত। গলির মোড়ে এসে তার ঢাকার ঠিকানাটা বলেছিল। বলেছিল যাওয়ার জন্য। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী পর্যন্ত মনে আছে আর বাকীটা মনে নেই। মুছে গেছে সময়ের স্রোতে।<br />
মাত্র দুদিনের পরিচয় বন্ধুত্ব হওয়ার মতোও যথেষ্ট সময় নয়। তবুও শিপ্রা ঘোষাল যেন বহু যুগের পরিচিত বন্ধু ছিল আমার! বহু বছর যেন আমরা একসঙ্গে পথ হেঁটেছি। শিপ্রার অন্তরমথিত বেদনার অংশীদারও যেন আমি। কিন্তু শিপ্রাকে তো আমার কথা বলা হলো না! আমার কি কিছু বলার ছিল?</p>
<p style="text-align: justify">আজও যখন রবীন্দ্রনাথের হৃদয় বিষণ্ণকরা &#8220;শেষের কবিতা&#8221; পড়ি শিপ্রার মুখ মনে পড়ে। কোথায় আছে? কেমন আছে জানি না। শুধু জানি:<br />
&#8220;কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও<br />
তারই রথ নিত্যই উধাও<br />
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন<br />
চক্রে পিষ্ট আঁধারের<br />
বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন<br />
ওগো বন্ধু,<br />
সেই ধাবমান কাল<br />
জড়ায়ে ধরিল মোরে<br />
ফেলি তার জাল<br />
তুলে নিল দ্রুতরথে<br />
দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে<br />
তোমা হতে বহু দূরে&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8217;।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জাপানে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/06/03/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/06/03/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 03 Jun 2024 14:22:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3223</guid>

					<description><![CDATA[বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক এবং দার্শনিক কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি মানসে চিরঞ্জীব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক এই কবি শুধু মননশীল সাহিত্য নিয়েই কাজ করেননি, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক এবং দার্শনিক কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি মানসে চিরঞ্জীব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক এই কবি শুধু মননশীল সাহিত্য নিয়েই কাজ করেননি, তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্যতম প্রধান শত্রু, একজন স্বনামধন্য বিপ্লবী বীর। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য বাংলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়েছেন। তাঁর জ্বালাময়ী, তীর্যকভাষাদীপ্ত কবিতার দ্বারা শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই নন, বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, সম্পাদক নেই যিনি উদীপ্ত হননি। শুধু সাহিত্য জগতের বাঙালিরাই নন, বিপ্লবী বীর, স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্মের প্রায় সবাই আলোড়িত এবং উৎসাহিত হয়েছেন। এরকম অকুতোভয়, সাহসী, বিপ্লবী কবি বাংলা প্রদেশসহ ভারতীয় সাহিত্যই শুধু নয়, বিশ্বসাহিত্যেও বিরল বললে কি অতিরিক্ত বলা হবে?</p>
<p style="text-align: justify">কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস এবং সঙ্গীতে শুধু যে স্বাদেশিকতা ও জাগরণের মহিমা বর্ণিত হয়েছে তা নয়, বিশ্বজননীতা, মানবতা, মনুষ্যত্ব এবং অসাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃবোধ স্বমহিমায় মহিমান্বিত। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সর্বজনীন মানবিক আবেদন অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাঁর জীবন, রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা এবং সাহিত্যসাধনা নিয়ে যতখানি বাংলা ভাষায় গবেষণা হয়েছে তার একভাগও হয়নি বিদেশি ভাষায়। তথাপি বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার জন্য কতিপয় বাঙালি গবেষক ইংরেজি ভাষায় তাঁদের গবেষণা বা আলোচনা লিপিবব্ধ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এশিয়ার অন্যতম প্রধান দেশ জাপানে একাধিক প্রভাবশালী বাঙালি বিপ্লবী এসেছিলেন, কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক আশ্রয়ও গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসু এবং হেরম্বলাল গুপ্ত অন্যতম। তাঁরা যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের দ্রোহভাবাপন্ন কবিতার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না তা বলা যাবে না। বিশেষ করে, ১৯২১ সালে নজরুল ইসলাম কর্তৃক রচিত “বিদ্রোহী” কবিতাটি যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সমগ্র বাংলা অঞ্চলে তার তুলনা নেই বললেই চলে। নিশ্চয়ই উক্ত বাঙালি বিপ্লবীদ্বয়ও আলোড়িত হয়েছেন। ১৯১২ সালে যখন ভারতের শাসক ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে হত্যার জন্য দিল্লি-লাহোর ষড়যন্ত্র করেন এবং ব্যর্থ হন তাঁরা, তখন উপায়ন্তর না দেখে বছর দুয়েক ভারতের বিভিন্ন শহরে পলাতক জীবন কাটান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন ধরা পড়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দেয় তখন বাধ্য হয়ে দুজনে পালিয়ে জাপানে আশ্রয় গ্রহণ করেন ১৯১৫ সালে।</p>
<p style="text-align: justify">১৯২১ সালে যখন কবি নজরুলের “বিদ্রোহ” কবিতাটি তুমুল সাড়া জাগায় বাঙালি মননে, তার সংবাদ জাপান প্রবাসী বিপ্লবীদের কাছে নিঃসন্দেহেই পৌঁছেছিল। তখন তাঁরা উদীপ্ত ও উদ্বেল হয়েছিলেন বলাই বাহুল্য। তাঁরা কি সেই কবিতাটি পাঠ করেননি? অবশ্যই করেছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও প্রবলভাবে নজরুলভক্ত ছিলেন। তিনিও জাপানে এসেছেন এবং জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। সিঙ্গাপুরে গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রধান সেনাপতি হিসেবে তিনি যে গানটি সেনাবাহিনির সমরসঙ্গীত হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন সেটি হল:<br />
“কদম কদম বারহায়ে যা,<br />
খুশি কি গীত গায়ে যা<br />
ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কায়াম কি<br />
তু কায়াম পে লুটায়ে যা&#8230;.”<br />
গানটি লেখা হয়েছিল ১৯৪২ সালে বলে জানা যায়। লিখেছেন বংশিধর শুক্লা এবং সুর করেছেন রাম সিং ঠাকুরি। এই গানটিতে কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত এবং বহুশ্রুত গান “নতুনের গান” এর প্রভাব রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ১৯২৯ সালে সেই গানটি নজরুল রচনা করেন। গানটি হল:<br />
“ চল চল চল<br />
ঊর্ধ গগনে বাজে মাদল<br />
নিম্নে উতলা ধরণী তল<br />
অরুণ প্রাতের তরুণ দল<br />
চলরে চলরে চল&#8230;.”<br />
কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ মনোভাব নেতাজিকে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল তাতে কোনো সন্দেহ দেখি না।<br />
জাপানে অবস্থানকালে নিশ্চয়ই উক্ত মহান বিপ্লবীরা বিদ্রোহী কবির কবিতা স্মরণ করে থাকবেন বলে জোরালোভাবেই মনে হয়। গবেষণা করলে সেই তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস।</p>
<p style="text-align: justify">বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম যে কতিপয় জাপানি গবেষক ও শিল্পীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁদের মধ্যে জাপানশীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক এবং বাংলা ভাষার পণ্ডিত অধ্যাপক কাজুও আজুমা, কবি ও শিল্পসমালোচক কুরাহাশি কেনইচি, কাজিওয়ারা নোবুইউকি, ইয়ানাই কাজুকো, বাংলা সাহিত্যানুরাগী গবেষিকা ও অধ্যাপিকা ড.নিওয়া কিওকো অন্যতম। পাশাপাশি বিশিষ্ট জাপানি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কাম্বে তোমোকো নজরুলগীতির সঙ্গে সুপরিচিত। একবার সাক্ষাৎকালে আমাকে বলেছিলেন নজরুলগীতিও তিনি বিশ্বভারতীর ছাত্রী থাকাকালে শিক্ষালাভ করেছেন। গাইতে পারেন নজরুলগীতি।</p>
<p style="text-align: justify">এই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কাজী নজরুলের নাম আপাতত প্রথম জানা যাচ্ছে একটি মুদ্রিত অনুষ্ঠানসূচি থেকে। মুদ্রণ সাল যদিও উল্লেখিত নেই উক্ত সূচিপত্রে, তবে অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনোরঞ্জন ধরের নাম মুদ্রিত আছে। তিনি ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত ছিলেন। “বেনগারু বুনকা নো ইউবে: শি তো উতা তো অদোরি” (বাংলার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: কবিতা, গান এবং নৃত্য) নামক অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল “বেনগারু বুনকা কিয়োকাই” (বাংলা সংস্কৃতি সমিতি), “বেনগারু ইউ নো কাই” (বাংলা বন্ধু সমিতি) এবং সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল “নিচিইন তাগো-রু কিয়োকাই” (জাপান-ভারত টেগোর সমিতি) এবং “নিহোন-বানগুরাদেশু কিয়োকাই” (জাপান-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন)। এই অনুষ্ঠানের সূচিতে নজরুলের “কাণ্ডারী হুঁশিয়ার” কবিতাটির আবৃত্তি এবং কাজী নজরুল সম্পর্কে ব্যাখ্যাবিষয়ক দুটি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">পরবর্তী দলিল হিসেবে নজরুলের নাম পাওয়া যায়, ১৯৭৪ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখে জাপানে ‘ইউনেসুকো শিম্বুন’ অর্থাৎ ‘ইউনেসকো পত্রিকা’ নামে নিউজপ্রিন্টে মুদ্রিত এক পাতার একটি কাগজে। পত্রিকাটি মূলত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সাহায্য সংগ্রহের আবেদনকৃত একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারপত্র।</p>
<p style="text-align: justify">এই পত্রিকায় মোট ৭টি বিষয় মুদ্রিত। জাপানি লেখা যেহেতু ডানদিক থেকে পড়তে হয় তাই প্রথম বিষয়টি চমকে ওঠার মতো! বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত কবিতা ‘কাণ্ডারী হুশিয়ার’ এর জাপানি ভাষায় অনুবাদ! অনুবাদ করেছেন সেইসময়কার খ্যাতিমান রবীন্দ্রগবেষক, বাংলা ভাষার পণ্ডিত, বিশ্বভারতীর জাপানি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ১৯৭৩ সালে জাপান ভ্রমণের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দোভাষী অধ্যাপক কাজুও আজুমা। অনুবাদকৃত কবিতাটির নাম “কাজি তোরু হিত য়ো কোকোরো ছেও” / কাজি নোজুরুরু ইসুরামু। কবিতাটির শেষে অনুবাদক দুছত্র কথা লিখেছেন, যা বাংলা করলে দাঁড়ায়: “নজরুল ইসলাম, (তাঁর) ৩৪ বছর বয়সের কবিতা। এই কবিতায়, ইসলামের স্বকৃত সুর বিদ্যমান এবং জাতীয় গান অনুসারে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের জনগণদ্বারা সমাদৃত ও গীত।”</p>
<p style="text-align: justify">৪র্থ বিষয়টি হচ্ছে, বিদ্রোহ কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে লিখিত একটি নিবন্ধ। লিখেছেন পূর্বোক্ত অধ্যাপক কাজুও আজুমা। তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয় দিতে গিয়ে বাংলা অঞ্চলকে নবজাগরণ এবং বিদ্রোহের সূতিকাগার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যা বলেছেন বাংলায় তা হল: “বাংলার বিয়োগান্তক ঘটনা, বাংলার তেজোদ্দীপনার বাহক এবং প্রতীক হচ্ছেন নজরুল ইসলাম। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন।”</p>
<p style="text-align: justify">নিবন্ধের এক জায়গায় অধ্যাপক আজুমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছেন, বাংলায় হল: “(নজরুল) ইসলাম প্রবল অনুরাগ নিয়ে স্বাধীনতার মেনিফেস্টো ঘোষণা করেছিলেন, সেই দীর্ঘসূত্র ধরে আজকের বাংলাদেশ স্বাধীনতার বাস্তব রূপ লাভ করেছে। ১৯৪১ সালের পর থেকে বিয়োগী (নজরুল) ইসলাম ভাষাহীন জগতে বাংলার সাক্ষী হয়ে আছেন।</p>
<p style="text-align: justify">(নজরুল) ইসলাম বাংলা ভাষাকে সবকিছু থেকে ভালোবেসেছেন, সবকিছুই বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছেন। সেই বাংলার মাটিতে বাংলা ভাষায় চিন্তা, শিক্ষা গ্রহণ করে বাংলায় প্রকাশ করার অধিকার রক্ষায় বাংলা ভাষা প্রতিরক্ষা আন্দোলন প্রথম ঘটনা হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তিন জন অধ্যাপক স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। অপহরণ করে তাঁদেরকে হত্যা করা হয়। আমরা তাঁদের মধ্যে সবচে খ্যাতিমান মুনীর চৌধুরীকে কয়েক বছর আগে জাপানে অভ্যর্থনা জানিয়ে বাংলা সংস্কৃতির কথা বলতে বলেছিলাম এবং গভীর বন্ধুত্ব করেছিলাম। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকায় গিয়ে বিধবা পত্নীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় সেই বেদনার গভীরতা অনুভব করে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য জীবন দেয়ার নির্মমতায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারিনি!<br />
সেই বাংলা সাহিত্যের দুটি মহাতারকা হচ্ছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুল ইসলাম।”</p>
<p style="text-align: justify">জাপান ইউনেসকোর এই একপাতার পত্রিকাতে বিশিষ্ট জাপানি আলোকচিত্রধারক এবং “শাপলা নীড়” এনজিওর অন্যতম প্রধান কর্মী য়োশিদা শিগেরুর একটি আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি ছোট্ট ছবি যা তৎকালীন অনেক জাপানির দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। উল্লেখ্য যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন জাপানে ব্যাপকভাবে পরিচিত তেমনটি নন কাজী নজরুল ইসলাম। তথাপি, জাপানের (AALA (Asian Association for Language Assessment) Vol.3 ’72/DEC) বেনগারু শিজিন কাজি নোজুরুরু ইসুরামু তোকুশুউ (বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশেষ সংখ্যা) নামক একটি প্রকাশনায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতাটির জাপানি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়, বিলুপ্ত বাংলাদেশ সোসাইটি-জাপান কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ পোট্রেট’ (মার্চ ২৬, ১৯৮১) স্বাধীনতা দিবস স্মারক সংকলন থেকে। কবিতাটির শিরোনাম আধ্যাপক আজুমার অনূদিত শিরোনাম থেকে ভিন্ন “কি অ ৎসুকেরোয়ো ফুনাচোও” (সাবধানে নাবিক) নামে মুদ্রিত। এটা যৌথভাবে অনুবাদ করেছেন যথাক্রমে কবি ও শিল্পসমালোচক কুরাহাশি কেনইচি, কাজিওয়ারা নোবুইউকি এবং ইয়ানাই কাজুকো।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার জাপানি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে, মূল বাংলা থেকে বিস্তৃতভাবে অনুবাদ করেছেন অধ্যাপিকা নিওয়া কিওকো। “নজরুরু শিশুউ” তথা “নজরুল কবিতা সংকলন” নামে এই গ্রন্থটি ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নজরুলগীতি নিয়েও ব্যাপক গবেষণা করেছেন এবং লিখেছেন মননশীল প্রবন্ধ।<br />
২০১৭ সালের ১২ জুন তারিখে টোকিও বিশ্ববিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে “তাগো-রু তো নজরুরু নো ইউবে: শি নো রোওদোকু তো উতা” (রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল সন্ধ্যা: কবিতা আবৃত্তি ও গান) নামক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাংলা ভাষা বিভাগ কর্তৃপক্ষ। এভাবে ধীরে ধীরে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম জাপানে ছড়িয়ে পড়ছে। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে কবির জীবন, সাহিত্য ও সঙ্গীত নিয়ে আরও আলোচনা ও গবেষণা হবে জাপানি ভাষায়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/06/03/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বইমেলার স্মৃতি ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Feb 2024 15:54:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3116</guid>

					<description><![CDATA[ঠিক ৪০ বছর আগের প্রকাশনা! জাপানে আগমনের আগের বছর যতখানি মনে পড়ে, আমরা কতিপয় তরুণ মিলে আজকাল প্রকাশনী নামে একটি সংস্থা গঠন করেছিলাম।মূল উদ্যোক্তা ছিল উদীয়মান শিল্পপতি সৈয়দ ফয়েজ আহমেদ।তার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ঠিক ৪০ বছর আগের প্রকাশনা! জাপানে আগমনের আগের বছর যতখানি মনে পড়ে, আমরা কতিপয় তরুণ মিলে আজকাল প্রকাশনী নামে একটি সংস্থা গঠন করেছিলাম।মূল উদ্যোক্তা ছিল উদীয়মান শিল্পপতি সৈয়দ ফয়েজ আহমেদ।তার সঙ্গে ছিলাম কবি রেজা সেলিম, কবি বাবুল ইসলাম, কবি মমীম শাহাগীর, স্বপন সেনগুপ্ত এবং আমি।</p>
<p style="text-align: justify">কুমিল্লা অনন্য, অগ্রসর শিক্ষা, সৃজনশীলতা আর রাজনৈতিক ঘটনার পথিকৃৎ।বিশেষ করে সাহিত্য ও সঙ্গীতের অনেক দিকপাল বৃহত্তর কুমিল্লার মুখ উজ্জ্বল করেছেন বিগত শতবর্ষে।</p>
<p style="text-align: justify">বিগত শতকের বিশের দশকে কুমিল্লা শহরের একদল দুরন্ত মেধাবী তরুণ এমন এক সাহিত্য আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজও গবেষণার বিষয়।আর সেই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল &#8220;পূর্ব্বাশা&#8221; সাহিত্য সাময়িকীকে কেন্দ্র করে।সম্পাদক ছিলেন কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য।তাকে সহযোগিতা করেছেন তারই বড়দা অজয় ভট্টাচার্য্য। যিনি প্রভূত সুনাম অর্জন করেছিলেন গীতিকার, মঞ্চাভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং শিক্ষক হিসেবে কলিকাতায়।তাদের সমসাময়িক কুমিল্লারই সৃষ্টিপাগল কৃতী সন্তান সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেববর্মণ, সুরসাগর হিমাংশু দত্ত, গীতিকার সুবোধ পুরোকায়স্থ, সঙ্গীতজ্ঞ দীলিপ সিংহ, কবি ও সাহিত্যিক অজিতকুমার গুহ, অধ্যাপক সুধীর সেন, সুধা সেন, নারায়ণ চৌধুরী, ধুর্যটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কাজী মোতাহার হোসেন, মিন্নাত আলী, অসিত চৌধুরী, পরিমল দত্ত, কুলেন্দু দাশ প্রমুখ।</p>
<p style="text-align: justify">সেই যুগে সংবাদপত্র ত্রিপুরা হিতৈষী সম্পাদনা করেছেন ঊর্মিলা সিংহ, ব্যবসায়ী দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য প্রকাশ করতেন বণিক নামে পত্রিকা।</p>
<p style="text-align: justify">সাংবাদিকতায় রজত নন্দী, ফজলে রাব্বী, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, আহমেদ নূরে আলম, আবদুল ওহাব, মোহাম্মদ উল্লাহ আফতাবুর রহমান, প্রদীপ সিংহ রায়, রেজাউল করিম শামীম, আবুল হাসনাত বাবুল, শাহজাহান চৌধুরী, গাজী মোহাম্মদ ইউনুস প্রমুখ অগ্রসর ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তীতে আজিজুর রহমান মোমীন, শান্তনু হাসান খান, জসীমউদ্দিন অসীম ব্যাপক কাজ করেছে।শান্তনু আমার &#8220;মানচিত্র&#8221; কাগজেও কিছু প্রতিবেদন লিখেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">শিল্পকলায় সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রেখায়নখ্যাত রাগীব আহসান চৌধুরী, আইনুল হক মুন্না কুমিল্লার অবিস্মরণীয় প্রতিভা।<br />
কলিকাতার স্বনামধন্য চলচ্চিত্রকার সুশীল মজুমদার, দাগু বর্ধন, সালাউদ্দিন, এস এম শফি তো কিংবদন্তি আজ।গীতিকার মাজহারুল আনোয়ার কুমিল্লার গৌরব।</p>
<p style="text-align: justify">তাদের উত্তরসূরি হিসেবে পরবর্তীতে আত্মপ্রকাশ করেছেন কথাসাহিত্যিক সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়, কবি জহিরুল হক দুলাল, অধ্যাপক, গবেষক ও সাহিত্যিক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, অধ্যাপক ও পাঠ্যপুস্তক রচিয়িতা শেখর রঞ্জন সাহা, কবি তিতাস চৌধুরী, কবি ও সাহিত্যিক স্বপ্না রায়, কবি আনোয়ারুল হক, কবি হরিপ্রসাদ সেন, কবি শওকত আহসান ফারুক, কবি হাসান ফিরোজ, কবি ফখরুল হুদা হেলাল, কবি ফখররুল ইসলাম রচি, কবি ও তুখোড় গল্পকার সৈয়দ আহমাদ তারেক, কবি নেলী ইসলাম, কবি বাবুল ইসলাম, কবি কাপালিক সরকার, কবি বাদল বৈরাগী, কবি কামাল হাসান, কথাসাহিত্যিক অরুণ চৌধুরী, কবি আবুল হাসনাত বাবুল, কবি নীরু শামীম ইসলাম, কবি গাজী মোহাম্মদ ইউনুস, কবি ফরিদ মুজহার, কবি নাজমা আক্তার, কবি নুরুন্নাহার শিরীন, কবি মোহাম্মদ আলী, কবি মুস্তাক আহমেদ শিমুল, কবি বিজন দাস, কবি সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, কবি তসলিমা শিরীন, কবি আজিজুর রহমান মোমীন তথা কমল মমীনসহ আরও অনেক।</p>
<p style="text-align: justify">একঝাঁক তরুণ ছড়াকারও স্বাধীনতার আত্মপ্রকাশ করেছিল কুমিল্লায়। খ্যাতিমান টিভি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত ছড়াকার হিসেবে কুমিল্লা থেকেই উত্থান ঘটেছে বলে জানি। ছড়াকার, সংগঠক ও কবি আবু হাসান শাহরিয়ারও কুমিল্লায় ছিলেন একসময়। কথাসাহিত্যিক শহীদ আখন্দও কুমিল্লায় সাহিত্যচর্চা করেছেন।বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি বুদ্ধদেব বসু কুমিল্লার ইতিহাসের সঙ্গে অকাট্য সম্পর্কযুক্ত।</p>
<p style="text-align: justify">স্বাধীনতার পর নাট্যচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ফখরুল হুদা হেলাল, শাহজাহান চৌধুরী, হাসান ফিরোজ প্রমুখ। কুমিল্লায় নাট্যচর্চা ব্রিটিশ আমলেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">একাধিক সাহিত্য ও সঙ্গীত সংগঠন, শিক্ষালয় ছিল কুমিল্লার অহংকার। আমরা জ্যোস্নার প্রতিবেশী, আমি তুমি সে, জাগৃতি, বিনয় সাহিত্য সংসদ প্রভূত সুনাম অর্জন করেছে। বিগত শত বছরে কতশত সাহিত্য সংকলন কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার হিসেব নেই!</p>
<p style="text-align: justify">এই ধারাবাহিকতায় আমরাও একটি প্রকাশনা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। যদিও বন্ধুবর ফয়েজ আহমেদ লেখক নয়, কিন্তু সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং প্রকাশনা ক্ষেত্রে তার অসীম আগ্রহ ঈর্ষণীয়।তারই আর্থিক সহযোগিতায় প্রকাশিত হয়েছিল আমার প্রথম কবিতার বই এবং আরো পাঁচজন কবিতা সংকলন।এই দুটি গ্রন্থের প্রচ্ছদ এবং অঙ্গসজ্জা করেছিলেন কবি বাবুল ইসলাম।এরপরে মমীন শাহাগীরের সম্পাদনায় একটি অসামান্য সাহিত্য সংকলন &#8220;পরাজয় তোমাকে নিষেধ&#8221; প্রকাশিত হয়েছিল ঢাকা থেকে একরঙা, অফসেট প্রেসে মুদ্রিত। সেটাই সম্ভবত কুমিল্লার প্রথম কবিতা সংকলন অফসেটে মুদ্রিত। সংকলনটির প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছিলেন কুমিল্লার খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল।</p>
<p style="text-align: justify">আজকাল থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে ধর্মসাগর দিঘির দক্ষিণ পাড়ে। বৈশাখের প্রথম সকালে কবিতা পাঠের আসর। একবার কবি আল মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কবিতা পাঠ করেন কুমিল্লার নবীন-প্রবীণ অনেক কবি। এ উপলক্ষে একটি সুদৃশ্য কবিতা পোস্টারও প্রকাশিত হয়েছিলো &#8220;তোমার ছায়াকে ঘিরে&#8221; যার একপাশে কবিতা এবং অপর পাশে অংশগ্রহণকারী কবিদের ছবি। স<br />
ম্পাদনা করেন কবি রেজা সেলিম।এটার ডিজাইনও শিল্পী মাসুক হেলালের।</p>
<p style="text-align: justify">দুটি প্রকাশনাই সেই সময়ে কুমিল্লার সাহিত্য-সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট সবার কাছে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৮৪ সালে আমি জাপানে চলে এলে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে এরপরও আরও কয়েক বছর আজকাল টিকেছিল। কবি বাবুল ইসলামের সম্পাদনায় &#8220;একটি গল্প অনেক কবিতা&#8221; নামে ডিমাই সাইজের বেশ কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। একটি আমার সংগ্রহে ছিল অনেক বছর। একবার ফেইসবুকে লিখেওছিলাম এটা নিয়ে যতখানি স্মরণে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">উল্লেখ্য যে, আজকালের সব প্রকাশনার একক প্রকাশক ছিল ফয়েজ আহমাদ কাদেরী। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে সাহিত্য জগতের বাইরে থাকা এমন মানুষ কুমিল্লায় আর দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। বেশ কয়েক বছর আগে ফয়েজ কুমিল্লা থেকে একটি ব্যয়বহুল কালার ফ্যাশন ম্যাগাজিন প্রকাশ করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।একটি মফস্বল শহরে সম্পূর্ণ রঙিন গ্লোসি পেপারে ফ্যাশন ম্যাগাজিন প্রকাশ করা শুধু পরিশীলিত রুচিবোধই নয়, দুঃসাহসিক পদক্ষেপও বটে! প্রকাশের আগে হঠাৎ করেই একদিন তার সঙ্গে কান্দিরপাড়ে দেখা! সালটা ২০১৩ কি? আমি তখন কুমিল্লায় এবং মাসিক &#8220;কিশোরচিত্র&#8221; ট্যাবলয়েড শিশুপত্রিকা প্রকাশ করছি। পত্রিকাটি দেখে সে উচ্ছ্বসিত হয়েছিল। বলল সে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে যাচ্ছে কুমিল্লা থেকে পরামর্শ আর লেখা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আমি চমকে উঠলাম! আমি বললাম, ফ্যাশন ম্যাগাজিন মানেই ভালো কাগজ, রঙিন ছাপা এবং নান্দনিক ডিজাইন না হলে নয়! সেসব কি করতে পারবি? ফয়েজ বরাবরই অত্যন্ত জেদি! বলল, সে ব্যাপারেই আলাপ করব। তোর তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে।</p>
<p style="text-align: justify">একদিন বাসায় গিয়েছিলাম। গ্রীষ্মকাল ছিল। বিয়ার পান করতে করতে তার ফ্যাশন ম্যাগাজিন নিয়ে আলাপ এবং আজকালের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে জমজমাট আড্ডা দিয়েছিলাম। তার &#8220;কারুকাজ&#8221; ফ্যাশন ম্যাগাজিনে আমার দু-তিনটি লেখা প্রকাশ করেছিল। আধুনিক প্রকাশনায় ফয়েজ আহমাদ কাদেরী কুমিল্লায় সে পথিকৃৎ। সমগ্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অগ্রণী স্বীকার করতেই হবে।</p>
<p style="text-align: justify">আজকাল প্রকাশনী আন্দোলনের বিস্মৃত ইতিহাস উন্মোচিত হলো গতকাল যখন অগ্রজ কবি, ছড়াকার, শিল্পী এবং সংগঠক ফখরুল ইসলাম রচিভাই এই দুটি ছবি আমাকে পাঠানোর মধ্য দিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">কুমিল্লার দুজন কবির কাছে বিস্তর পুরনো প্রকাশনা সংগৃহীত আছে বলে আমার বিশ্বাস। আর আছে রামমালা গ্রন্থাগারে। এসব সংগ্রহ করে রচিভাই যদি একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করেন কুমিল্লার অতীত এবং বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দুর্ভাগ্য যে কুমিল্লায় কোনো সাহিত্য সংগ্রহশালা নেই। ফলে সংরক্ষণের অভাবে বহু সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক প্রত্নসম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">তথ্যঋণ: মমীন শাহাগীর ও শান্তনু হাসান খান</p>
<p style="text-align: justify">@<em> লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/02/13/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রতিদান সামান্য হলেও মানবিক পৃথিবীর সমান ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/11/14/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/11/14/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 14 Nov 2023 13:57:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2947</guid>

					<description><![CDATA[জাপানিদের সেকিনিনকান বা দায়িত্বজ্ঞান অত্যন্ত প্রখর এবং গভীর। এককথায় অতুলনীয়।জাপানিরা কারো দ্বারা সামান্যতম উপকৃত হলেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেন না।তার প্রতিদান দেবার জন্য ঘুম হারাম করে ফেলেন।কী করলে, কী দিলে, কী &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">জাপানিদের সেকিনিনকান বা দায়িত্বজ্ঞান অত্যন্ত প্রখর এবং গভীর। এককথায় অতুলনীয়।জাপানিরা কারো দ্বারা সামান্যতম উপকৃত হলেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেন না।তার প্রতিদান দেবার জন্য ঘুম হারাম করে ফেলেন।কী করলে, কী দিলে, কী বললে যথার্থ প্রতিদান হবে তাদেরকে রীতিমতো ভীষণ ভাবনায় ফেলে দেয়।অনেকের কাছে তা অতিরিক্ত বলে বিরক্তির কারণ হতে পারে।সামান্য উপহার পেলে বা উপকৃত হলে তারচেয়ে যত বেশি প্রতিদান দেওয়া যায় সেটা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে পড়ে।নিজের স্ত্রী জাপানি বলে সেটা প্রত্যক্ষ দেখে আসছি প্রায় ৪০ বছর ধরে।</p>
<p style="text-align: justify">আর যদি জাপানিদেরকে অনুরোধ করেন তাহলে তারা সম্ভব হলে অনুরোধ শুনবেন এবং রক্ষা করার জন্য যাবতীয় যা কিছু করার করবেন নির্ভুলভাবে।সম্ভব না হলে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চাইবেন।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু সেই ব্যক্তিই যদি শত উপহার দেন বা উপকার করে থাকেন, সামান্য ভুলের বশে অপমানজনক আচরণ করেন জাপানিরা সহজেই তাকে পরিত্যাগ করেন, ভুলেও তারা আর কোনোদিন ফিরেও তাকান না।জাপানে দীর্ঘকাল বসবাস এবং জাপানি সমাজে মিশে যাওয়ার ফলে আমার চরিত্রেও অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।আমিও বিগত দিনে বেশকিছু বাঙালি ও জাপানিকে পরিত্যাগ করেছি উপকৃত হওয়া সত্ত্বেও। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীও রয়েছেন।আমি তাদের আচরণে উন্নাসিকতা, আমার দেশ ও জাতি সম্পর্কে অসত্য বলা, অহেতুক আমাকে শিশুভেবে অতিরিক্ত গালাগাল করা এবং সজ্ঞানে অবজ্ঞা করার আলামত প্রত্যক্ষ করেছি। ফলে সেই উপকারটা অর্থহীন হয়ে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">সুতরাং এইসব কারণে জাপানিরা বিরাগভাজন হয়ে থাকেন, এটা সচেতনতায় রাখা জরুরি।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপূর্ব এবং যুদ্ধকালীন জাপানিদের দ্বারা কোরিয়া, চিনসহ এশিয়ার দেশগুলোতে যা ক্ষতি হয়েছে তার কয়েকগুণ বেশি প্রতিদান দিয়েছে।এখনো দিয়ে যাচ্ছে।অথচ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি কিছুই করেনি।এত ক্ষতি করেছে আমেরিকা জাপানের যার নজির নেই ইতিহাসে, আজ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা দূরে থাক, জাপানকে উপনিবেশ বানিয়ে রেখেছে বললে অতিরিক্ত বলা হয় না।সচেতন জাপানিরাই বলছেন।</p>
<p style="text-align: justify">কোরিয়া ও চিন জাপানের বিরুদ্ধে বহু মিথ তৈরি করেছে।জাপান কিছুই বলেনি।কিন্তু কী পরিমাণ উপকৃত হয়েছে জাপানের দ্বারা বিগত ৫০ বছরে অর্থনৈতিকভাবে দুটি দেশ তারও নজির খুঁজে পাওয়া কঠিন।কিন্তু আজ পর্যন্ত সামান্য ধন্যবাদটুকুও তারা দেয়নি।এখন জাপান এই দুই দেশকে পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">বাঙালির মধ্যে দায়িত্বজ্ঞান কতখানি আছে, তা আর বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।যারা সচেতন তারা ভালো জানেন।মাঝে মাঝে এমন কতিপয় বাঙালি দায়িত্বজ্ঞানের উদাহরণ স্থাপন করেন যা আশাব্যঞ্জক এবং মনকে আলোকিত করে।জাপান প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক কাজী ইনসানুল হক তেমনি একটি অপরিমেয় কাজ সম্পাদন করতে চলেছেন।তাঁর সম্পাদিত প্রয়াত প্রাক্তন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে (আবে শিনজোও) নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ শিগগিরই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।তাঁকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন। কেন তিনি এই দায়িত্বপূর্ণ উদ্যোগটি নিলেন তা সম্পাদকীয়তে স্পষ্ট করবেন বলাই বাহুল্য।</p>
<p style="text-align: justify">দান-প্রতিদানের এই বিনিময় অসামান্য এক ইতিহাস স্থাপন করবে, আর বাঙালির জন্য শিক্ষাটা সেখানেই।শুধু টাকা নয়, মানবিক মূল্যবোধ যদি কিছু শিখতে চান তাহলে জাপানে আগমন অর্থবোধক হবে।জাপানি সমাজেও অন্ধকার আছে কিন্তু আলোর আধিক্যই বেশি।বহু আলোকিত জাপানি নাগরিক আছেন যাঁদের অবদানের মূল্য দেওয়া সম্ভব নয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবে শিনজোও তেমনি একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, প্রাচ্যবাদী এবং বাঙালিপ্রেমী ছিলেন।বাঙালি সেই ইতিহাস জানে না বললেই চলে।</p>
<p style="text-align: justify">আবারও বন্ধুবর কাজী ইনসানকে অভিবাদন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি, তাঁর এই মহৎ কাজের আলোকে আমরা আলোকিত হবো, আলোকিত হবে বাংলাদেশও।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/11/14/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দক্ষিণ কোরিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/29/%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/29/%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 29 Jun 2023 08:57:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2745</guid>

					<description><![CDATA[কোরিয়ার প্রাচীন নাম চোওছেন।এই চোওছেনের একটি প্রদেশ শিলা’র সঙ্গে প্রাচীন ভারতের অযোধ্যা তথা উত্তর প্রদেশের কোনো এক রাজবংশের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় খ্রিস্টাব্দের উষালগ্নে। অযোধ্যার সেই রাজবংশের এক কন্যা চোওছেনে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কোরিয়ার প্রাচীন নাম চোওছেন।এই চোওছেনের একটি প্রদেশ শিলা’র সঙ্গে প্রাচীন ভারতের অযোধ্যা তথা উত্তর প্রদেশের কোনো এক রাজবংশের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় খ্রিস্টাব্দের উষালগ্নে।</p>
<p style="text-align: justify">অযোধ্যার সেই রাজবংশের এক কন্যা চোওছেনে এসে শিলা’র রাজবংশের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক মাধ্যমে বসতি স্থাপন করেন।তার নাম Heo Hwang-ok যিনি দশের অথিক সন্তানের জননী।তার বংশধররা কালক্রমে কোরিয়ার তিনটি বিখ্যাত পদবি যথাক্রমে হেও, কিম এবং লি নামে পরিচিতি লাভ করে।এই তিন বংশের জনসংখ্যাই বেশি বলে জানা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">২০০১ সালে রানী হেও ওয়াঙ-ওকএর একটি স্মারক স্থাপত্য নির্মাণ করা হয় কোরিয়ান সরকারের প্রচেষ্টায় অযোধ্যা শহরে।যদিওবা ভারতীয় কোনো ইতিহাস গ্রন্থে এই বিষয়ে কিছুই লিখিত নেই।</p>
<p style="text-align: justify">একজন বিখ্যাত কোরিয়ান বৌদ্ধ ভিক্ষু হিয়েচোও বা হুই চাও শিলা থেকে ভারতে যান পর্যটক হিসেবে ৭২৩ খ্রিস্টাব্দে।আধুনিককালে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ভারতের সঙ্গে ১৯৭৩ সালে।</p>
<p style="text-align: justify">১৯২৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন জাপানে শেষবারের মতো আসেন এবং অবস্থান করেন টোকিওতে শিল্পপতি ড.ওওকুরা কুনিহিকের বাসভবনে প্রায় তিন সপ্তাহকাল।সেই সময় কোনো এক সভায় জাপান প্রবাসী কতিপয় কোরীয় উচ্চশিক্ষার্থী কবিগুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তাঁকে কোরিয়াতে আমন্ত্রণ জানান।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু কবিগুরু তখন অসুস্থ ও ক্লান্ত ছিলেন।তাদের আমন্ত্রণ সবিনয়ে প্রত্যাখান করেন।তার বিনিময়ে ছাত্রদের অনুরোধে একটি চার লাইনের কবিতা লিখে উপহার দেন।কবিতাটির নাম দি ল্যাম্প অব দি ইস্ট।</p>
<p style="text-align: justify">সেটাই কোরিয়ার হাঙ্গুল ভাষায় অনূদিত হয়ে দোঙ ইল-বোও পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।কালক্রমে কবিতাটি কোরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।আজও কবিতাটি কোরিয়ান শিশুদের পাঠ্য বলে জানা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার অর্জন চীন, জাপানের মতো কোরিয়াতেও প্রবল ঝড় তুলেছিল বুদ্ধিজীবী মহলে।১৯১৫ সালেই গীতাঞ্জলি থেকে কবিতা কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ হয়।সেইধারা অব্যাহত থাকার ফলে টেগোর সোসাইটি অব কোরিয়া গঠন করা হয় ১৯৮১ সালে, জাপানের দশ বছর পর।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট স্বনামধন্য কবি ও রবীন্দ্রঅনুবাদক শ্রীমতী কিম ইয়াং-শিক (১৯৩১-)। বিগত বছরগুলোতে ৭ খণ্ডে রবীন্দ্ররচনাবলী অনূদিত হয়েছে কোরিয়ান ভাষায় টেগোর সোসাইটির উদ্যোগে। বিস্তারিত আছে আমার গ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথ ও জাপান: শতবর্ষের সম্পর্ক’তে।</p>
<p style="text-align: justify">সম্প্রতি কোরিয়ার প্রভাবশালী দৈনিক দোঙ ইল-বোও পত্রিকার ২২শে মার্চ , ২০১৯ তারিখের সংখ্যায় একটি চমকপ্রদ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।কলকাতার রবীন্দ্র জাদুঘরে কোরিয়া-কক্ষ হিসেবে একটি স্মারক সংগ্রহশালার উদ্বোধন করা হবে এই বছরের শেষ নাগাদ।(রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কি না উল্লেখ করেনি পত্রিকাটি।) রবীন্দ্র-কোরিয়া সম্পর্কিত তো বটেই, ভারত-কোরিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কিত তথ্য ও দলিলপত্রাদিও এখানে সংরক্ষণ করা হবে।খুলে যাবে রবীন্দ্রজগতের আরও একটি দিগন্ত।</p>
<p style="text-align: justify">উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের মে মাসে রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের চোননোগু হেফাদোন সাবওয়ে স্টেশনের সম্মুখভাগে রবীন্দ্রনাথের একটি আবক্ষ স্মারক ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">ছবি ও তথ্য : দৈনিক দোঙ ইল-বোও পত্রিকার সৌজন্যে</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/29/%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তাকারাজুকা রেভ্যু ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 22 May 2022 12:33:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1937</guid>

					<description><![CDATA[আই লাভ ইউ জাপান। জাপানে দীর্ঘ বছর থেকে &#8220;তাকারাজুকা রেভ্যু&#8221; মিউজিক থিয়েটার দেখেনি এমন বিদেশির সংখ্যাই বেশি।আমিও বহু বছর ধরে এত শুনেছি, পড়েছি এর ইতিহাস অথচ সময় ও সুযোগই হয়নি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আই লাভ ইউ জাপান।<br />
জাপানে দীর্ঘ বছর থেকে &#8220;তাকারাজুকা রেভ্যু&#8221; মিউজিক থিয়েটার দেখেনি এমন বিদেশির সংখ্যাই বেশি।আমিও বহু বছর ধরে এত শুনেছি, পড়েছি এর ইতিহাস অথচ সময় ও সুযোগই হয়নি দেখার। ১৪ মে ২০২২ দেখার সুযোগ হলো। আর এই সুযোগটা আমার স্বর্গবাসী বাবাই করে দিয়েছেন বলে আমার স্ত্রী নোরিকোর ভাষ্য।</p>
<p style="text-align: justify">১৪ মে ২০২২ ছিল বাবার দশম প্রয়াণ দিবস।মনটাও ভারাক্রান্ত ছিল। আমার স্ত্রী বলল, মন খারাপ করো না।বয়স হলে মানুষ অনন্তকালের পথে চলে যাবে এটাই চিরসত্য।আমার বাবাও তো চলে গিয়েছে ২০১১ সালে, এক বছরের ব্যবধানে।চলো তাকারাজুকা থিয়েটার দেখে আসি। টিনা দুটো টিকিট সংগ্রহ করেছে আমাকে নিয়ে দেখতে যাবে বলে।কিন্তু টিনা কাজে ব্যস্ত যাবে না বলছে, আমরা দুজনকে যেতে বলছে আজকে। তাকারাজুকার কথা তো জানোই, সহজে টিকিট পাওয়া যায় না আর ব্যয়বহুলও।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-1939 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-3.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">মন কেমন করে উঠলো। তাই তো! বাংলাদেশে থাকলে একটা ঘরোয়া স্মরণসভা করা যেত বাসায়।জাপানে যখন আছি বাবার পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জগৎ-বিখ্যাত জাপানি নারীদের সৃজনশীল সংস্কৃতিচর্চার অপূর্ব কর্মকাণ্ড দেখে আসি।বাবা তো আমার সৃজনশীলতাকে সবসময় উৎসাহ দিয়েছে।খুশিই হবে।</p>
<p style="text-align: justify">সাড়ে তিন ঘণ্টার তাকারাজুকা গীতিনাট্য এবং গীতিনৃত্য দেখে লা জওয়াব অভিভূত হয়ে গেলাম।বহুতল বিশাল মিলনায়তন টোকিও তাকারাজুকা থিয়েটার বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল হোটেলের পাশেই, ইউরাকুচোও শহরে।দর্শকে লোকারণ্য, প্রচণ্ড ভিড়।তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সবাই নারী দর্শক, অধিকাংশ আবার তরুণী।পুরুষ একেবারে হাতগোনা কয়েকজন মাত্র।তাদের মধ্যে আমি অন্যতম।এর মূল কারণ হচ্ছে, &#8220;তাকারাজুকা রেভ্যু&#8221; হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে নারীদের দ্বারা পরিচালিত ও অভিনীত।পুরুষ চরিত্রের অভিনয়ও নারীরাই করে থাকে।কোনো পুরুষ চরিত্র নেই।আর এটাই বিশেষত্ব।নারীদের মধ্যে এক কথায় অবিশ্বাস্য জনপ্রিয় এই তাকারাজুকা।বিশ্বে সম্ভবত এরকম দ্বিতীয়টি আছে কিনা জানা নেই।</p>
<p style="text-align: justify">যেমন অভিনয়, তেমন কণ্ঠস্বর, তেমন গতিশীল দৈহিক পারদর্শিতা। তাজ্জব। দেখে চোখের পলক পড়ে না, এত সুদক্ষ এবং নান্দনিক! মাল্টি-পারপাস-স্টেজও বিস্ময়কর। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্দার বদল ঘটছে। ঘরবাড়ি, দোকান, সিঁড়ি, অ্যাভিনিউ ইত্যাদি বিশাল মঞ্চের মধ্যে নিচ থেকে উঠছে, নামছে, ঘুরছে সে এক এলাহিকাণ্ড বটে। সেইসঙ্গে একাধিক ভিডিও দৃশ্য চলমান যার ঝলোমলো রঙের বৈচিত্র‍্যে চোখ ধাঁধিয়ে যায়।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-1940 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-1-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-1-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-1.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">মোট কথা, একটা অসামান্য, অপূর্ব অভিজ্ঞতা হলাে বাবার জন্য, তাঁর নাতনি টিনার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">১৯১৩ সালে তাকারাজুকা কাগেকিদান বা তাকারাজুকা মিউজিক থিয়েটার আমেরিকার ব্রডওয়ে-স্টাইলে গঠিত হয় হিয়োগো-প্রিফেকচারের তাকারাজুকা শহরে।যা শতবর্ষ অতিক্রান্ত হয়ে আজও সমান জনপ্রিয়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জাপানের হেমন্ত ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/09/24/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/09/24/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 Sep 2021 06:24:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1126</guid>

					<description><![CDATA[আজ জাপানে সরকারি ছুটি। কারণ আজ থেকে শুরু হল হেমন্ত ঋতু। সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ তারিখকে বলা হয় ‘শুনবুন নো হি’ অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে বা জাতীয় বর্ষপঞ্জিমতে ‘হেমন্ত ঋতুর জন্মদিন’ যা প্রাচীনকালের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আজ জাপানে সরকারি ছুটি। কারণ আজ থেকে শুরু হল হেমন্ত ঋতু।</p>
<p style="text-align: justify">সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ তারিখকে বলা হয় ‘শুনবুন নো হি’ অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে বা জাতীয় বর্ষপঞ্জিমতে ‘হেমন্ত ঋতুর জন্মদিন’ যা প্রাচীনকালের রীতি অনুসারে ১৯৪৮ সালে আইন দ্বারা স্বীকৃত হয়। এই সময় থেকে দিন-রাত্রির স্থায়িত্ব সমান হতে থাকে। সকালবেলা একটু হিম হিম, দুপুরে গরম, সন্ধেবেলা ও রাতে শীতের আমেজ। ঝড় ও বৃষ্টি থাকে প্রায়শ। আকাশের রং বোঝা মুশকিল তাই প্রবচন আছে: ‘ওননা গোকোরো তো আকি নো সোরা’ অর্থাৎ ‘নারীর মন আর হেমন্তের আকাশ’ ঘন ঘন বদলায়। তাছাড়া হেমন্তকে নিয়ে আরও প্রবচন রয়েছে যেমন ‘আকি কাজে গা ফুকু’ অর্থাৎ ‘নারীপুরুষের সম্পর্ক যখন শীতল’ হয়ে যায়, ‘ইচিজিৎসু ছেন শুউ’ অর্থাৎ ‘একদিন দেখা না হাওয়া যেন বহুদিন দেখা না হওয়া!’ ইত্যাদি।</p>
<p style="text-align: justify">অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ থেকে শুরু ‘কানরো’ অর্থাৎ ‘হিমকুয়াশা’র আগমন। হেমন্তর রূপ একটু একটু করে উদ্ভাসিত হতে থাকে। পাহাড়ে পাহাড়ে দেখা যায় বেশ হিমশীতল কুয়াশার বিস্তার। এখানে সেখানে কায়েদে বা মোমিজি (মেপল বৃক্ষ), সাকুরা, ইচোও প্রভৃতি বৃক্ষের পাতাগুলো লালচে-হলদে রঙে রূপান্তরিত শুরু করে, সাদা কুয়াশার আড়ালে-আড়ালে অস্পষ্ট রঙের ছোপ জানান দেয় জাপানি ঋতুর সুসজ্জিতা রাজকন্যা হেমন্তিকা সমাগত। তাই গাছগুলো প্রকৃতির সবুজাবরণকে খসিয়ে ফেলার উৎসবে মেতে উঠতে থাকে লালরঙা পোশাকে সেজে হেমন্তের পায়ে লুটিয়ে পড়ার জন্য। এ রং আসলে লজ্জার নয়&#8211;এ রং যেন পাতাঝরা রক্তিম মৃত্যুর চরণে শেষ নৈবেদ্য। কারণ ডিসেম্বরেই তো প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের নির্মম স্পর্শে নিষ্পত্র বৈরাগী হবে সব বৃক্ষ দীর্ঘ সময়ের জন্য। তথাপি অক্টোবরে হেমন্ত ঋতুর অন্যতম প্রতীক ‘নানাকুসা’ বা ‘সপ্ত কুসুম’ ফোটা শুরু করে। বনে বনে, উদ্যানে, নদীতীরে, জলাশয়ের ধারে ধারে শুভ্র সাদা ‘সুসুকি’ বা ‘কাশফুলে’ ছেয়ে যায়। দোল খায় মৃদুমন্দ বাতাসে। রোদালো দুপুরে ফুলে ফুলে ‘আকা তোনবো’ বা ‘লাল ফড়িং’ আর বিচিত্র রঙের প্রজাপতির ওড়াওড়ি এবং সন্ধেবেলা ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাকির সবুজাভ ঝিলিমিলি দেখার মতো অপরূপ!</p>
<p style="text-align: justify">নোট: অসমাপ্ত। “জাপানের হেমন্ত” নাম মূল প্রবন্ধটি প্রকাশিতব্য “জানা অজানা জাপান” গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/09/24/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রবীন্দ্রভক্ত শিল্পী আকিনো ফুকু ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/08/13/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/08/13/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 Aug 2021 05:47:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1040</guid>

					<description><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় তো বটেই, তাঁর তিরোধানের পরও একাধিক বিশিষ্ট জাপানি নারী শান্তিনিকেতনে পা রেখেছেন প্রভাবিত হয়ে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম, শিক্ষা, চিন্তা, দর্শন, চিত্রকলা, শিশুভাবনা, সঙ্গীত, বিশ্বজনীনতা ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় তো বটেই, তাঁর তিরোধানের পরও একাধিক বিশিষ্ট জাপানি নারী শান্তিনিকেতনে পা রেখেছেন প্রভাবিত হয়ে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম, শিক্ষা, চিন্তা, দর্শন, চিত্রকলা, শিশুভাবনা, সঙ্গীত, বিশ্বজনীনতা ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাঁকে জানার জন্য, তাঁর মাধ্যমে বাঙালিকে, ভারতবর্ষকে জানার জন্য জাপানিদের কৌতূহল আজও শীর্ষস্থান দখল করে আছে। আধুনিক ভারত, স্বাধীন বাংলাদেশকে জাপানিরা চিনেছেন রবীন্দ্রনাথকে দিয়েই। তাই বহির্বিশ্বে আজও বাঙালি জাতির প্রধান পরিচিতি সমগ্র এশিয়া মহাদেশে প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জাপানেও এর ব্যতিক্রম নেই।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় জাপানে ও ভারতে একাধিক জাপানি নারীর সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। এঁদের মধ্যে মাদাম ড.কোওরা তোমি, নৃত্যশিল্পী ইরিয়ে শিজুয়ে, ইকেবানা-প্রশিক্ষক হাশিমোতো মাকি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তাঁরা শান্তিনিকেতনে গিয়েছেন একা-একাই।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথ ইহলোক ত্যাগ করেন ১৯৪১ সালে, এর কয়েক মাস পরেই ডিসেম্বরে জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে যায়। ফলে রবীন্দ্র-জাপান দ্বিপাক্ষিক ভাববিনিময় সম্পর্কে সাময়িক ছেদ পড়ে। সেই সম্পর্ক পুনরায় উন্মুক্ত হয় ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যলিয়ের ভারতীয় দর্শন বিভাগের প্রধান ও ভারতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড.নাকামুরা হাজিমের যৌথ উদ্যোগে। আবার শান্তিনিকেতনে জাপানি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বিভিন্ন স্তরের মানুষজন যাতায়াত শুরু করেন, ভারত ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাঙালি রবীন্দ্রভক্ত ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীরাও বিভিন্ন কাজ উপলক্ষে জাপানে আসতে থাকেন।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জাপানে ১৯৬৭ সাল থেকেই প্রাথমিকভাবে উদ্যোগ গৃহীত হয়। সেই সময় ভারতের প্রধান মন্ত্রী জওহরলাল নেহরু কন্যা ইন্দিরা গান্ধীসহ জাপান ভ্রমণরত অবস্থায় এই উদ্যোগ গ্রহণে নেতৃত্ব দেন মর্যাদাসম্পন্ন হেইবোনশা পাবলিশার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিমোনাকা ইয়াসাবুরোও। পরের বছর থেকেই বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে বহুবিধ পরিকল্পনা ও প্রকল্প নিয়ে রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫৯ সালে ৬০ জনের বেশি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বসহ শতাধিক কর্মী ও সদস্য নিয়ে গঠিত হয় “তাগো-রু কিনেনকাই” তথা “টেগোর মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন”, যার সভাপতি হন স্বনামধন্য কাগজ ব্যবসায়ী, চিন্তাবিদ এবং বিখ্যাত তোওয়োও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড.ওওকুরা কুনিহিকো।</p>
<p style="text-align: justify">এই অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সম্মানিত সদস্য ছিলেন ৫১ বছর বয়স্ক একজন খ্যাতিমান নারী চিত্রশিল্পী আকিনো ফুকু। ১৯০৮ সালের ২৫ জুলাই, শিজুওকা প্রদেশে সাধারণ এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আকিনো যৌবনেই স্বপ্রচেষ্টায় চিত্রকলায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। চিত্রশিল্পী হিসেবে জাপানের প্রাতস্মরণীয় মনীষী, শিল্পকলার ইতিহাসবিদ, শিল্পাচার্য ওকাকুরা তেনশিন এবং রবীন্দ্রনাথের মধ্যে ১৯০২ সাল থেকে যে গভীর প্রাচ্য ভাববিনিময় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল কলিকাতায় সেই ইতিহাস তিনি জানতেন। এবং মনে মনে এই ইতিহাস দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন বলাই বাহুল্য। তাই ১৯৬২ সালে যখন তাঁর কাছে প্রস্তাব আসে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত “তাগো-রু কোকুসাই দাইগাকু” তথা “বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে” অতিথি অধ্যাপক হিসেবে যাওয়ার জন্য, তিনি আগপিছ না ভেবেই সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে ফেলেন। তখন তাঁর বয়স ৫৪ বছর। না জানেন ভাষা, না জানেন ভারত সম্পর্কে বিশদকিছু, না জানেন খাদ্য-খাবারের সংস্কৃতি কিন্তু সাহস করে একাই জাপানে থেকে সাত হাজার মাইল দূরবর্তী বাংলা অ ল তথা শান্তিনিকেতন আশ্রমে পা রাখেন। এটাই তাঁর প্রথম বিদেশযাত্রা। আর এখানেই তিনি যা প্রত্যাশা করেছিলেন তাই পেয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। শান্তিনিকেতন তথা বাংলা অ ল ও ভারতের অন্যান্য বৌদ্ধ, হিন্দু তীর্থস্থান ভ্রমণ করে আপ্লুত হয়েছেন। বাঙালি এবং ভারতীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ভালোবেসেই ফেলেছেন! যা তাঁর চিত্রকর্মের বিশাল বিশাল ক্যানভাসে উদ্ভাসিত হয়ে আছে! বাংলার নিসর্গ ও জনজীবন এত বিশাল ক্যানভাসে খুব কম জাপানি চিত্রশিল্পী এঁকেছেন বলে মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">শান্তিনিকেতনে এক বছর অবস্থানকালে ভাষা ছাড়াই শুধুমাত্র চিত্র অঙ্কন করে ছাত্রছাত্রীদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন তিনি, পারস্পরিক যোগাযোগে, সহবস্থানে কোনো প্রকার বাধাবিপত্তি ঘটেনি বলে জাপানি ভাষার সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোতে তাঁর প্রদত্ত সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়। যেহেতু তিনি বাংলা বা ইংরেজি জানেন না একমাত্র মাতৃভাষা জাপানি ছাড়া, তাই ভিনদেশি সংস্কৃতিজাত ছাত্রছাত্রী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে প্রথম থেকেই শাড়ি পরা ও স্থানীয় খাবারদাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। আর এই সংস্কৃতি তাঁর মনে নিখুঁত প্রভাব বিস্তার করে যা “লাল পোশাক”,“সোনালি হরিণ”,“হলুদ মাটি”, “স্টেশন কুলি”,“সকালের প্রার্থনা”, “ঘরেফেরা মহীষের দল”, “আল্পনা”, “চম্পাফুল”; বিশাল ক্যানভাসে আঁকা “গঙ্গা”সহ আরও কিছু চিত্রকর্মে বিধৃত আছে। বিশাল মাপের “আকিনো ফুকু জাদুঘরে” শোভা পাচ্ছে প্রাচ্য তথা বাংলার নিসর্গ, মাটি, নদনদী, নারী, দেবদেবী, মন্দির, প্রাণী যা গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সারাজীবনের আরাধ্য ছিল। বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে যে তিনি রবীন্দ্রনাথকে অনুভব করেছিলেন তা বলাই বাহুল্য। জীবনের শেষ ৪০ বছরকাল তিনি আরও একাধিকবার গিয়েছেন শান্তিনিকেতন তথা বাংলায়, গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে ছবি এঁকেছেন। সেইসব শিল্পকর্ম জাপানে প্রদর্শিত হয়ে চলেছে নিয়মিত।</p>
<p style="text-align: justify">এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, ভারতে তিনি শান্তি ও সৌভাগ্যের দেখা পেয়েছিলেন। কারণ, ছবি আঁকার উৎকৃষ্ট সুযোগ হয়েছিল সেখানে তাঁর। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ যেমন নিজের ছবি সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমার ছবিও যেমন নীরব, আমিও তাই, ব্যক্ত করাই তো ওদের কাজ, ব্যাখ্যা করা নয়’&#8211;আমিও তাই মনে করি।”</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রভক্ত শিল্পী আকিনো ফুকু ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে ইহলোক ত্যাগ করেন ৯৩ বছর বয়সে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/08/13/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রবীন্দ্রনাথ ১৯১৬ সালে জাপানে ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/07/31/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a5-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%a7%e0%a7%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/07/31/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a5-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%a7%e0%a7%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 30 Jul 2021 18:27:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1015</guid>

					<description><![CDATA[১৯১৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জাপান ভ্রমণে আসেন। জাপানি জাহাজ “তোসামারু”তে চড়ে তিনজন সঙ্গী যথাক্রমে পিয়ারসন, অ্যান্ড্রুজ এবং তরুণ চিত্রশিল্পী মুকুলচন্দ্র দেসহ কোবে সমুদ্রবন্দরে অবতরণ করেন মে মাসের ২৯ &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">১৯১৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জাপান ভ্রমণে আসেন। জাপানি জাহাজ “তোসামারু”তে চড়ে তিনজন সঙ্গী যথাক্রমে পিয়ারসন, অ্যান্ড্রুজ এবং তরুণ চিত্রশিল্পী মুকুলচন্দ্র দেসহ কোবে সমুদ্রবন্দরে অবতরণ করেন মে মাসের ২৯ তারিখ।</p>
<p style="text-align: justify">জাহাজে জাপানি বন্ধু মনীষী ওকাকুরা তেনশিন রচিত “দি বুক অফ টি” গ্রন্থটি পাঠ করতে করতে আসেন। তখন কবিগুরুর বয়স ৫৫ বছর।<br />
কোবে অবতরণের পর তিনি কোথায় থাকবেন এই নিয়ে তাঁর অভ্যাগতদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানা যায় কোনো কোনো সূত্র থেকে। যেহেতু তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি নন, তাই তাঁর ভক্তরা চেয়েছিলেন তাঁদের পছন্দমতো কোনো হোটেলে বা বাড়িতে রাখবেন।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বলে কথা, ভেবে দেখলেন, জাপানি ভক্তদের আবাসস্থলে তো থাকা যায়ই, কিন্তু যারা প্রবাসী ভারতীয় তাঁদের আবদারও তো রক্ষা করতে হয়। তাই তিনি মত দিলেন মাদ্রাজি এক পরিবারে থাকার জন্য। এবং তাই হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">জুন মাসের ১ তারিখ ওসাকা শহরে গেলেন। সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল তাঁর প্রথম বক্তৃতার। তেননোওজি কোওয়েন কোওকাইদোও মিলনায়তন মঞ্চে বক্তৃতা দিলেন “ইন্ডিয়া অ্যান্ড জাপান” নামে। জানা যায়, তাঁর এই বক্তৃতা শুনতে আসা জাপানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণী ছাত্রী এবং মধ্যবয়সী নারীরা অবাক চোখে রবীন্দ্রনাথের রমণীবিদ্ধ চেহারাই দেখছিলেন। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ছিলেন লেডি কিলার! বিষয়টি যে আতিশয্য নয়, উপস্থাপিত আলোকচিত্রটিই তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।</p>
<p style="text-align: justify">কোবে শহরে বসবাস খ্যাতিমান এক চিত্রশিল্পী মুরাকামি কাগাকু YMCA ভবনে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর একটি প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন যা দেখে রবীন্দ্রনাথ আনন্দিত হন। জাতীয় এবং স্থানীয় সংবাদ ও সাময়িকীগুলোর সাংবাদিকরা রবীন্দ্রনাথের সংবাদ ও সাক্ষাৎকার প্রচারের জন্য এমন উন্মত্ত হয়ে ওঠেন যে, কবি রীতিমতো বিরক্ত হন।</p>
<p style="text-align: justify">জুন মাসের ৫ তারিখ ট্রেনে চড়ে ওসাকা থেকে রাজধানী টোকিওতে আগমন করেন। সংবাদপত্রে অবগত হওয়া তাঁর প্রচুর ভক্ত স্টেশনে এসে ভিড় করেন। গলায় মাল্যদান করে বরণ করে নেন।</p>
<p style="text-align: justify">কবিগুরু ভারতে পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু চিত্রশিল্পী য়োকোয়ামা তাইকানের উয়েনো শহরস্থ বাসভবনে প্রায় দিন দশেক আতিথ্যগ্রহণ করেন। এর মধ্যে টোকিওর বিখ্যাত কয়েকটি স্থান পরিভ্রমণ করেন। এসবের মধ্যে ওকাকুরা তেনশিনের প্রতিষ্ঠিত জাপান চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান ১০ জুন, সেখানে শিল্পকলা বিষয়ে বক্তৃতা দেন বলে জানা যায়, কিন্তু বক্তৃতাটির দলিল আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।</p>
<p style="text-align: justify">ঠাকুরবাড়ির ‘বিচিত্রা’ চারুকলা বিদ্যালয়ের শিল্পকর্ম দিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হয় উক্ত প্রতিষ্ঠানে।</p>
<p style="text-align: justify">জুন মাসের ১১ তারিখ টোকিও ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন ‘এ মেসেজ অব ইন্ডিয়া টু জাপান’ নামে। এই বক্তৃতা নিয়েই বাঁধে বিপত্তি। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক আলোড়ন এবং বির্তকের ঝড় ওঠে জাপানে।</p>
<p style="text-align: justify">এই বক্তৃতায় কবিগুরু জাপানের অতিরিক্ত পাশ্চাত্যপ্রীতি এবং সমরবাদের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তাতে করে প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীদের একাংশ প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সমালোচক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে শীতল মনোভাব দেখা দেয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে কথা, দ্রুত অবস্থা বুঝতে পেরে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এক কূটনৈতিক চাল চালেন। আরেকটি বক্তৃতা দেন জুলাই মাসের ৩ তারিখ (মতান্তরে ২ জুলাই) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ কেইও গিজুকুি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ‘দি স্পিরিট অব জাপান’ নামে। এই সুদীর্ঘ বক্তৃতা দিয়ে তিনি আবার আলোড়ন সৃষ্টি করেন। শীতল মনোভাব অনেকটাই উষ্ণ হতে থাকে। এটা তাঁর জীবনের অনেক বক্তৃতার মধ্যে অসামান্য একটি কাজ। বক্তৃতায় জাপানিদের জাতিগত শক্তি, দর্শন, ইতিহাসচেতনা, প্রকৃতিপ্রেম, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য ও স্বান্তত্র্য বিষয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথ যে জাপান সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এটাই প্রমাণিত হয়। যাই হোক, জুন মাসের ১৪ তারিখ কবিগুরু সদল তাইকানের বাসভবন তথা টোকিও থেকে বন্দর নগরী য়োকোহামাতে স্থানান্তরিত হন। প্রকৃতির অমরাবতী বলে খ্যাত ‘সানকেইএন’ বাগানবাড়িতে আতিথ্য লাভ করেন।</p>
<p style="text-align: justify">এই বিখ্যাত বাগানবাড়ির কর্ণধার ছিলেন প্রভাবশালী রেশম বণিক ও শিল্পকলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হারা তোমিতারোও। হারা মহাশয়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গভীর বন্ধুত্বের কথা জাপানে কিংবদন্তিস্বরূপ। বন্ধু হারার একটি গ্রীষ্মাবাস ছিল য়োকোহামার কাছেই হাকানো নামক শহরে।<br />
সেখানকার পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও দেখার মতো। সানকেইএন এবং হাকোনোর গ্রীষ্মাবাস মিলিয়ে কবিগুরু ৮০ দিন অবস্থান করেন। কী রকম সম্পর্ক গড়ে উঠলে পরে চার জন বিদেশি প্রায় তিন মাস এই প্রথম পরিচিত একজন ব্যক্তির আতিথ্যগ্রহণ করতে পারেন তা সহজে অনুধাবন করা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">এই দীর্ঘ সময় রবীন্দ্রনাথ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আপন বাড়ির মতো নির্ভার আনন্দময় সময় উপভোগ করেছেন। নানা ঘটনা ঘটেছে এই সময়। বহু খ্যাত-অখ্যাত জাপানি ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে সান্নিধ্য পেতে প্রতিদিনই আসতেন। আমার ‘রবীন্দ্রনাথ ও জাপান: শতবর্ষের সম্পর্ক’ গ্রন্থে সেসব বর্ণিত আছে। প্রকাশক, কলকাতার আত্মজা পাবলিশার্স।</p>
<p style="text-align: justify">যাই হোক, সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখ কবিগুরু সদল য়োকোহামা বন্দর থেকে আমেরিকার দিকে যাত্রা করেন। ছবিটি সানকেইএন বাগানবাড়িতে ধৃত।</p>
<p style="text-align: justify">টোকিও ৩০.৭.২০২১</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/07/31/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a5-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%a7%e0%a7%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রবীন্দ্রসান্নিধ্যে হিয়াকুতাকে আকিকো ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/07/02/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/07/02/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 02 Jul 2021 11:39:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=944</guid>

					<description><![CDATA[“জাপানি নারীদের মননে রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক গবেষণা করতে গিয়ে খুঁজে পেলাম একজনকে যিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জীবদ্দশায় দুবার ফুল দিয়ে বরণ করেছিলেন জাপানে অভ্যর্থনা সমাবেশে। তিনি হিয়াকুতাকে আকিকো (১৯১২-২০০৮)। পিতৃপ্রদত্ত নাম অবশ্য &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">“জাপানি নারীদের মননে রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক গবেষণা করতে গিয়ে খুঁজে পেলাম একজনকে যিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জীবদ্দশায় দুবার ফুল দিয়ে বরণ করেছিলেন জাপানে অভ্যর্থনা সমাবেশে। তিনি হিয়াকুতাকে আকিকো (১৯১২-২০০৮)। পিতৃপ্রদত্ত নাম অবশ্য সোয়েজিমা আকিকো।</p>
<p style="text-align: justify">আকিকো মেইজি যুগের শেষ বছর ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে সাগা প্রদেশে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সোয়েজিমা ইয়াসোরোকু (১৮৭৫-১৯৫০), জাপানের দক্ষিণ সাগরীয় অনুসন্ধানকারী এবং জাপান-ভারত অ্যাসোসিয়েশনের (প্রতিষ্ঠা ১৯০৩-) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। ভারত সম্পর্কে তাঁর মূল্যবান গ্রন্থও রয়েছে। বলাই বাহুল্য, সোয়েজিমা রবীন্দ্রনাথের একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথ যখন প্রথম এশিয়ায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন তখন জাপানিদের মনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এই বিরলতম ঘটনা। জাপানের নাগরিকরা তাঁকে দেখার জন্য প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠলে সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানাতে কলকাতায় প্রতিনিধি পাঠানোর সংবাদ পাওয়া যায় কোনো কোনো উৎস থেকে। কিন্তু কতখানি সত্য তা গবেষণাসাপেক্ষ।</p>
<p style="text-align: justify">আবার এও জানা যায় যে, বেসরকারিভাবে জাপান-ভারত অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় সভাপতি শিল্পপতি শিবুসাওয়া এইইচি রবীন্দ্রনাথকে জাপানে আগমনের আমন্ত্রণপত্র পাঠান। সেই আমন্ত্রণ পেয়ে স্বব্যয়ে তিনি জাপন ভ্রমণে আসেন ১৯১৬ সালে মে মাসের ২৯ তারিখে। কোবে সমুদ্রবন্দরে অবতরণ করার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কিছুদিন কাটিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে আগমন করেন জুলাই মাসে।</p>
<p style="text-align: justify">টোকিও স্টেশনে কবিগুরুকে এক বিপুল সংবর্ধনা প্রদান করা হয় তাঁর ভক্তকুলের পক্ষ থেকে। তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে ছোট্ট একটি মেয়েও অভ্যর্থনা জানায়। সেই মেয়েটি হচ্ছেন হিয়াকুতাকে আকিকো, সোয়েজিমা ইয়াসোরোকুর দ্বিতীয় কন্যা, বয়স তখন মাত্র ৩ বছর। বড়বোনের কোলে চড়ে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন টোকিও রেল স্টেশনে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>সেই সময়কার স্মৃতি তাঁর সুস্পষ্ট মনে ছিল। এরপর ১৯২৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন পঞ্চম বা শেষবারের জন্য জাপানে আগমন করেন তখন আকিকো ১৭ বছর বয়সী কিশোরী। পুনরায় কবিগুরুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে টোকিও তথা জাপানের প্রথম আধুনিক হোটেল ইম্পেরিয়াল হোটেলের সদর প্রাঙ্গণে। এবারও ফুলের তোড়া দিয়ে কবিকে অভ্যর্থনা জানান তিনি।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">শেষবারের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টোকিওতে প্রায় এক মাস অবস্থান করেছিলেন তাঁর বিশিষ্ট ভক্ত ড.ওওকুরা কুনিহিকোর বাসভবনে। এই সময় কবিগুরু বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ ও সভায় বক্তৃতা ও কবিতা পাঠ করেন। তাছাড়া প্রভাবশালী দৈনিক আসাহিশিম্বুন পত্রিকার আহবানে ধারাবাহিকভাবে কয়েকদিন পাঠ করেন তাঁর সুদীর্ঘ প্রবন্ধ “ফিলোসফি অব লেইজার” বা “অবসরের দর্শন।” যা পরে তাঁর নারী ভক্ত মাদাম ড.কোওরা তোমি “ইউকান তেৎসুগাকু” নামে জাপানি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং আসাহিশিম্বুন ওই সালেই গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে।</p>
<p style="text-align: justify">কিশোরী আকিকো সেই সময় গুরুদেবের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁর কণ্ঠে বক্তৃতা এবং কবিতা পাঠ শুনে বিমুগ্ধ হন। সেই অবিস্মরণীয় মনোরম স্মৃতিকথা পরবর্তীকালে তিনি তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণিকাতে লেখেন। পুনরায় লেখেন যখন তিনি বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছেছেন ২০০৩ সালে তখন, জাপান-ভারত অ্যাসোসিয়েশনের শতবর্ষপূর্তি স্মরক বুলেটিনে ১৯২৯ সালের একটি দুর্লভ ছবিসহ। সেই ছবিতে গুরুদেবের ডানপাশে ফুলের তোড়া হাতে সুদর্শনা হিয়াকুতাকে আকিকোকে দেখা যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">এই স্মৃতিকথায় আরেকটি ছোট্ট ইংরেজি কবিতাবিশেষ মুদ্রিত হয়েছে, সেটা এরকম:<br />
The New Japan<br />
has sent her garland of<br />
welcome by the<br />
hand of a child<br />
to the Old<br />
India. Who<br />
blesses her in<br />
the voice of an<br />
old poet.</p>
<p style="text-align: justify">Rabindranath<br />
Tagore</p>
<p style="text-align: justify">এই কবিতা বা শুভেচ্ছাবার্তাটি ১৯১৬ সালের প্রথম ভ্রমণের সময় লিখিত এবং আকিকোকেই উপহার দিয়েছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">টোকিও<br />
২৯.৬.২০২১</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/07/02/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
