<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>নুসরাত সুলতানা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sun, 23 Apr 2023 13:57:21 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>নুসরাত সুলতানা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>উপদ্রুত ঘাসের ভেতর ॥ নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/04/23/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/04/23/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 Apr 2023 13:57:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[নুসরাত সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2653</guid>

					<description><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহর লেখা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পড়েছি।এই লেখকের লেখার কোমল প্রকাশভঙ্গী, ভদ্রোচিত শব্দচয়ন আমাকে মুগ্ধ করে।বইমেলা (২০২২) থেকে সংগ্রহ করি গল্পের বই ‘উপদ্রুত ঘাসের ভেতর’। বইটিতে গল্প আছে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সাইফ বরকতুল্লাহর লেখা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পড়েছি।এই লেখকের লেখার কোমল প্রকাশভঙ্গী, ভদ্রোচিত শব্দচয়ন আমাকে মুগ্ধ করে।বইমেলা (২০২২) থেকে সংগ্রহ করি গল্পের বই ‘উপদ্রুত ঘাসের ভেতর’।</p>
<p style="text-align: justify">বইটিতে গল্প আছে মোট দশটি। গল্পগুলো হলো ‘উপদ্রুত ঘাসের ভেতর’, ‘দুঃখ প্রাইভেট লিমিটেড’,‘কতদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে’, ‘লকডাউনের সন্ধ্যাগুলো’,‘কোয়ারেন্টাইন’,‘বিমর্ষ সন্ধ্যা’, ‘তবে কী তোমার প্রেমেতে পড়েছি’,‘ রানী’, ‘মানুষের মধ্যে’ এবং ‘নেই কেউ নেই’।</p>
<p style="text-align: justify">উপদ্রুত ঘাসের ভেতর: এই গল্পে লেখক সজীব চরিত্রটির নাগরিক জীবনের মানসিক অস্থিরতা, প্রযুক্তির আগ্রাসন, হারিয়ে যাওয়া মধুর শৈশব স্মৃতি আমাদের হারানো সংস্কৃতি সবকিছু নিবিড়ভাবে তুলে এনেছেন।সবশেষে নির্ঘুম রাতে সজীব আওড়ে চলে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা ‘এখন গভীরভাবে ঘাসের ভিতরে বসে/থাকা, ভালো মনে হয় এই প্রগাঢ় রোদ্দুরে’।</p>
<p style="text-align: justify">দুঃখ প্রাইভেট লিমিটেড: এই গল্প করোনাকালের বিমূর্ত চিত্রকল্প।এই গল্পে উঠে এসেছে স্বজন হারানোর বেদনা, অর্থ সংকট এবং জীবনের সাথে কম্প্রোমাইজের নিবিড় আবহ।</p>
<p style="text-align: justify">কতদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে: একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতার হাহাকারের নকশীকাঁথা এই গল্প।রানু একা থাকে এই ব্যস্ত শহরে।শাওন তারচেয়ে বয়সে কিছুটা ছোট।ভালো লাগে শাওনকে রানুর।শাওনের কথা মনে হলে চোখের কোন ভিজে ওঠে। সন্ধ্যার সাথে সাথেই বিষণ্নতা ভর করে রানুর দেহ-মনে।তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মনে পড়ে যায়।শাওনও একা।তিন বছর হলো মাকে হারিয়েছে।মা মারা যাওয়ার পর ক্ষিদে পেলেও খাবার তাড়া দেওয়ার কেউ নেই। কিন্তু রানু আর শাওনের ভালো লাগা ভালোবাসা হয়ে ধরা দেয় না।বিষণ্ন শহরে প্রেম বুঝি কেবলই পরাভূত হয়।</p>
<p style="text-align: justify">লকডাউনের সন্ধ্যাগুলো: এই গল্পে লকডাউনের সময়ের বিভিন্ন সংকট উঠে এসেছে।যানবহনের সংকট, নিম্ন আয়ের মানুষদের অস্তিত্বের সংকট।অনলাইন অফিসের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক ঝামেলা ইত্যাদি সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।<br />
কোয়ারেন্টাইন: এই গল্প করোনাকালীন মানুষের বন্দীদশার নিগুঢ় চিত্রায়ন। মহামারির ভয়াল গ্রাস থেকে মানুষ কিভাবে সেল্ফ মোটিভেশনের মাধ্যমে নিজেকে উত্তরণ করেছে তারও চমৎকার আলোকপাত আছে এই গল্পে।</p>
<p style="text-align: justify">বিমর্ষ সন্ধ্যা: এই গল্পটিও কোভিড-১৯ মহামারিরই গল্প।আমরা অনেক বিখ্যাত মানুষদের হারিয়েছি।প্রবাসীদের দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন করার হ্যাপা।করোনার ভেতরেই আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সময়কে ধারণ করেই বেড়ে উঠছে গল্পের শরীর।</p>
<p style="text-align: justify">তবে কী তোমার প্রেমেতে পড়েছি: ইভান আর উসার অনুরাগের মিষ্টি গল্প।প্রেমে পড়ার মুহূর্তে মানুষ নিজের অনুভূতিতেই নিজে মুগ্ধ থাকে। নিমজ্জনের বার্তা বহন করে গল্পটি।</p>
<p style="text-align: justify">রানী: মাসউদ আর রানী দুজন দুজনকে পছন্দ করে।বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় তারা।বসন্তদিনে যায় গোলাপ গ্রাম।দুজনেরই প্রেমের আকাঙ্খা আছে।কিন্তু সংকোচ ভেঙে কেউই প্রকাশিত হয় না।এরই ভেতর মাল্টিন্যাশিনাল কোম্পানির চাকরি নিয়ে মাসউদের বিদেশ যাবার সময় ঘনিয়ে আসে।জড়িয়ে ধরে চোখের জলে দুজন দুজনকে বিদায় জানায়।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষের মধ্যে এবং নেই কেউ নেই চমৎকার দুটি গদ্য।এই দুটি গদ্যে লেখক মানুষের নগর জীবনের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম, বিষণ্নতা, একাকীত্ব এবং মনস্তত্ত্বকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">পরিশেষে বলব, সাইফ বরকতুল্লাহর গদ্যের প্রকাশভঙ্গীতে নতুনত্ব আছে। তবে এরপর কাহিনির বিস্তার, আরও সঘন গদ্যের গল্প চাই এই লেখকের কাছ থেকে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/04/23/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উড়ুক্কু মন ॥ নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%89%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%89%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 30 Jul 2022 05:03:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[নুসরাত সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2023</guid>

					<description><![CDATA[ইচ্ছে হয় সুখে থাকি তোর কপালে ঠোঁট রাখি বুকের মাঝে লুকিয়ে থাকি হয়ে যাই ভীরু হরিণী। ইচ্ছে হয় উড়ে বেড়াই; শালিক পাখির মতো উড়ে উড়ে ঝরিয়ে দিই আছে যত ক্ষত। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ইচ্ছে হয় সুখে থাকি<br />
তোর কপালে ঠোঁট রাখি<br />
বুকের মাঝে লুকিয়ে থাকি<br />
হয়ে যাই ভীরু হরিণী।</p>
<p style="text-align: justify">ইচ্ছে হয় উড়ে বেড়াই;<br />
শালিক পাখির মতো<br />
উড়ে উড়ে ঝরিয়ে দিই<br />
আছে যত ক্ষত।</p>
<p style="text-align: justify">তোর আকাশে ইচ্ছে করে<br />
এক টুকরো মেঘ হয়ে,<br />
ইচ্ছেমতো বেড়াই ঘুরে<br />
সকাল, বিকাল, সাঁঝে।</p>
<p style="text-align: justify">কি আসে যায় এই তো মোটে একটা জীবন<br />
কাটিয়ে দিই হেসে খেলে সঙ্গী করে উড়ুক্কু মন।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%89%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাঠ-প্রতিক্রিয়া: ‘এসো বটগাছ’ ॥ নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/16/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%9f-%e0%a6%97/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/16/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%9f-%e0%a6%97/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 16 Jun 2022 13:49:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[নুসরাত সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1986</guid>

					<description><![CDATA[বিধান সাহার গদ্য পড়েছিলাম প্রথমে মুখবইয়ে।বইমেলা ২০২২ চলাকালীন লেখকের পোস্টে অবগত হই তার গদ্যের বই ‍‍‘এসো বটগাছ’ নিয়ে।বইটির ভূমিকা পড়েই খুব আগ্রহী হয়ে উঠি।তারপর ধীরে ধীরে ডুবতে থাকি এক শৈল্পিক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিধান সাহার গদ্য পড়েছিলাম প্রথমে মুখবইয়ে।বইমেলা ২০২২ চলাকালীন লেখকের পোস্টে অবগত হই তার গদ্যের বই ‍‍‘এসো বটগাছ’ নিয়ে।বইটির ভূমিকা পড়েই খুব আগ্রহী হয়ে উঠি।তারপর ধীরে ধীরে ডুবতে থাকি এক শৈল্পিক চোরাবালিতে।বইটিতে লেখক মোট সতেরটি গদ্য সন্নিবেশ করেছেন।অধিকাংশ গদ্যই তিনি উত্তীর্ণ করেছেন অনন্য শৈল্পিক মাত্রায়।কিছু গদ্যের চুম্বক অংশ তুলে দিচ্ছি।</p>
<p style="text-align: justify">১. সূর্য পোড়া দিনে: ইছামতীর কোনো এক শাখা নদীর তীরে একটা উঁচু ঢিবির ওপর একটা একলা শিমুল গাছ।নদী আর শিমুল গাছের হৃদয় বৃত্তিক যোগাযোগ বোঝাতে লেখক লিখেছেন-‘নদীটির ঢেউ ছাড়া কেউ নেই। শিমুলেরও পাতা ছাড়া কেউ নেই।নদীটি অধ্যাপক শিমুল তার বাধ্যগত ছাত্র।’</p>
<p style="text-align: justify">আমার মানসপটে ভেসে ওঠে অই একলা শিমুল গাছ আর আর নদীটির ঢেউ।কখনো ঢেউ হতে ইচ্ছে করে আবার কখনো বা শিমুল গাছ।</p>
<p style="text-align: justify">২. এসো বটগাছ: ‘নিজেকে বলেছি, একান্নটি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে আজ কান্না পর্ব শেষ হয়ে যাবে।অথবা, চরাঞ্চলে, কোনো এক অন্ধ বৃদ্ধার ঝুলে যাওয়া স্তন স্পর্শ করবে আধবয়সী অজগর।এইসব রূপকথার চারপাশে, জানো না তো কত উর্বশীর ঈর্ষা বয়ে যায়!’</p>
<p style="text-align: justify">একান্নটি তোপধ্বনি, আধাবয়সী অজগর আর বৃদ্ধার ঝুলে যাওয়া স্তন এসবকিছুই যেন সমগ্র জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ধরা দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">৩. বিশ্বাসে মিলায় বস্তু: ‘ভাবছি, কোনো এক কমরেডকে একদিন ডেকে জিজ্ঞেস করব শ্রেণিবৈষম্য কী শুধু অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়? চেতনার নয়?’</p>
<p style="text-align: justify">লেখকের গভীর মনস্তাত্ত্বিক জিজ্ঞাসায় আমিও নিমজ্জিত হই ভাবনার অতলে।</p>
<p style="text-align: justify">৪. প্রজাপতি ও অন্যান্য আগুন: ‘তুমি জানো না সমস্ত গল্পের শেষে যেখানে একটা শূন্যতা তৈরি হয়, সেখানে প্রতিটি মানুষই এক-একটি সাদা বক’</p>
<p style="text-align: justify">কিছু পরে -‘দূর তো শুধু দূর নয়, আরও বেশি করে কাছে থাকার ছদ্মবেশ।’</p>
<p style="text-align: justify">আরও কিছু পরে-আমার বিষন্নতার ভেতর-প্রজাপতি-তোমার পাপড়ি দিয়ো মেলে&#8230;<br />
আমিও হাঁটু গেড়ে করজোড়ে মহাকালকে মিনতি করি-আমার বিষণ্নতাকে হরেক ডানার রঙিন প্রজাপতি করে দিও।</p>
<p style="text-align: justify">৫. তুলসীগঙ্গা: ‘কেবল জানি, উপযুক্ত বয়সে বৃষ্টির ভেতর হেঁটে যাওয়ার সময়ই কান্না করা ভালো’</p>
<p style="text-align: justify">কিছু পরে- ‘আমার কোনো প্রযত্ন নাই।অনামী প্রান্তর থেকে তাই আলোকিত আকাশ দেখলেই ডেকে বলি-শশী-ওগো শশধর.. ’</p>
<p style="text-align: justify">আমার সামনে স্পষ্টতর হয়ে ওঠে আমারও প্রযত্ন কেবল-অসীম আকাশ।</p>
<p style="text-align: justify">৬. অব্যক্ত সন্ধির দিকে: ‘কবিতা হলো ব্রহ্মতেজকে ধারণ করে, আরও এক বিপন্নতার দিকে তাকিয়ে, একা একা হেঁটে যাওয়া-অব্যক্ত সন্ধির দিকে।’</p>
<p style="text-align: justify">মানুষের জীবন আর কবিতা পুরোটাই একলা যাত্রা অব্যক্ত সন্ধির দিকে। সেই হেঁটে যাওয়া কোমল হোক সকল কবির।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক গ্রন্থটির ভূমিকায় লিখেছেন-‘এ এক ধরনের রচনা কারো কাছে কবিতা, কারো কাছে গল্প, কারো কাছে হয়তো ব্যক্তিগত গদ্য।’</p>
<p style="text-align: justify">‘মায়ের মৃত্যু, প্রেমিকার রহস্যময় নীরবতা, নিজেকে হারিয়ে খোঁজা, নিঃসঙ্গতা.. এগুলোই হয়তো লেখাগুলোর প্রাণ’</p>
<p style="text-align: justify">একজন মননশীল পাঠক হিসেবে আমি বলব ব্যক্তিগত গদ্য হলেও এর সার্বজনীনতা কোনোভাবেই বিনষ্ট হয়নি।শৈশব, মৃত্যু, জীবন বোধ, বহমান জীবনের গতিশীল স্রোতধারার শৈল্পিক সৌন্দর্য লেগে আছে গদ্যগুলোর পরতে পরতে।যেমন মৃত্যু নিয়ে লেখক বলেছেন-মৃত্যু আসলে এক পঙক্তির সলিড কবিতা।</p>
<p style="text-align: justify">‘কত অকারণ সংকোচ ঝেড়ে ফেলে আমিও পুনর্জীবন লাভ করি! তোমার সাথে যদি দেখা হয়, শোনাব, স্তব্ধতার গান,আর ভেতরে ভেতরে বয়ে যাওয়া বিপন্ন নদীটির কথা।’</p>
<p style="text-align: justify">নিমজ্জন আর জীবন বোধের সততা আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে শিল্পের সততার মুখোমুখি এবং আমি ভেতরে ভেতরে শুনতে পাই সেই বিপন্ন নদীটির ঢেউয়ের ছন্দ আর তার চলার নিজস্ব ব্যকরণ।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক বিধান সাহা গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন-এই বটগাছ হয়তো মা, হয়তো প্রেমিকা, হয়তো বা পাঠক। আর আমি পাঠক হিসেবে বলি-এই বটগাছ শিল্প-সাহিত্য নিজে।যে চারা বটগাছটি রোপিত হয়েছে তা একদিন মহীরুহ হোক।আর বিশাল ছায়ায় জুড়াবে পাঠকের অতৃপ্ত, তৃষ্ণার্ত মনন আর হৃদয়।লেখক বিধান সাহাকে অপার ভালোবাসা এবং শুভকামনা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/16/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%9f-%e0%a6%97/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চারটি কবিতা ॥ নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 26 May 2022 16:24:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[নুসরাত সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1945</guid>

					<description><![CDATA[বেচা-কেনা জোছনার এত শক্তি নেই যে-আমাকে বিবাগী করে। এতটা জোর নেই প্রেমের যে আমার রাতকে জাগিয়ে রাখে। আমি পাহাড়ের কাছে শিখেছি অবিচল হতে। বৃক্ষ শিখিয়েছে পরার্থপরতা। তাই তো আত্মায় বুনেছি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>বেচা-কেনা</strong></span><br />
জোছনার এত শক্তি নেই যে-আমাকে বিবাগী করে।<br />
এতটা জোর নেই প্রেমের যে আমার রাতকে জাগিয়ে রাখে।<br />
আমি পাহাড়ের কাছে শিখেছি অবিচল হতে।<br />
বৃক্ষ শিখিয়েছে পরার্থপরতা।<br />
তাই তো আত্মায় বুনেছি মানবতা নামক ধানের বীজ।<br />
মননে-মগজে বুনেছি মাতৃত্বের চারা গাছ।<br />
আমাকে চটুল প্রেমের দামে কিনতে এসো না-<br />
হে সংস্কৃতিহীন সভ্য প্রেমিক।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>প্রলম্বিত বিচ্ছেদ</strong></span><br />
বিচ্ছেদকে অযথা প্রলম্বিত করো না প্রেমী,<br />
প্রেমের অমর্যাদা হয় যে তাতে<br />
মাধুর্য হারানো প্রেমকে বিদায় জানাতে হয়-<br />
স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া ট্রেনের মতোই।<br />
যখন দেখবে চোখ বন্ধ করলে-<br />
তুমি আর প্রিয় মানুষটির বুকে নেই<br />
যখন আর তার গায়ের গন্ধে তুমি<br />
মাতাল হবে না।<br />
মানুষটিকে মনে পড়লে আর<br />
তেষ্টায় বুক ফেটে যাবে না,<br />
বুঝে নেবে ক্লান্ত পাখির ডানা।<br />
ওড়ার সাধ, সাধ্য কোনোটা আর নেই।<br />
তখন কেবল শেষ চুম্বনে তাকে বলে দাও-<br />
ভালো থেকো বোহেমিয়ান,<br />
তুমি আমাকে নন্দনতত্ত্ব শিখিয়েছ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পাবে না</strong></span><br />
আমাকে পাবে না তুমি<br />
আমাকে পেয়েছে ভোরের আযান,<br />
পেয়েছে টুপটাপ খসে যাওয়া তারা।<br />
আমাকে পেয়েছে কৃষ্ণচুড়ার চিরল পাতা।<br />
আমাকে পেয়েছে আমার পুত্র-কন্যা।<br />
আমাকে পাবে না মাৎসর্য আর মদ,<br />
পেয়েছে আমাকে মায়ের পোষা ধবলীর দুধ।<br />
আমাকে পেয়েছে আমার প্রার্থনা,<br />
আমাকে পাবে না লোভাতুর, ছদ্মবেশী প্রেমিক,<br />
পেয়েছে মহাকাল।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>স্তন</strong></span><br />
ঐ বুকে শুধু কামনা খুঁজো না প্রেমিক।<br />
খুঁজো না মাংসের গন্ধ,<br />
ঐ বুকে জলপাই ঘ্রাণ।<br />
ঐ খয়েরী বোটায় তোমার অনাগত শিশুর<br />
জীবন ধারণের অমিয় রসদ।<br />
যা পান করে তুমি আজ শিশু থেকে পুরুষ!<br />
স্তন কামনার নয়, ভালোবাসার<br />
এ শুধু প্রেমিকার উন্মত্ত বুক নয়<br />
মাতৃত্বের বিমূর্ত রূপ!<br />
আত্মার অংশ খাইয়ে<br />
মানব শিশুকে বড় করতে<br />
অঙ্গীকারবদ্ধ এক জোড়া নারী অঙ্গ!<br />
তাকে কেবলই ভেবো না কামনার<br />
আর ভোগের প্রেক্ষিত!<br />
এ যে তোমার মর্তে পাওয়া মাতৃস্বর্গ</p>
<p style="text-align: justify">
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একুশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নারী: সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা ॥ নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/06/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/06/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Dec 2021 19:11:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[নুসরাত সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1366</guid>

					<description><![CDATA[১৯৬৯ সালে শুরু হয়ে ৯০এর দশকের শুরুর দিকে এসে বিশ্ব ইন্টারনেট নামক বৈশ্বিক ভার্চুয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হয়। সাথে সাথে বদলে যেতে থাকে বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">১৯৬৯ সালে শুরু হয়ে ৯০এর দশকের শুরুর দিকে এসে বিশ্ব ইন্টারনেট নামক বৈশ্বিক ভার্চুয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হয়। সাথে সাথে বদলে যেতে থাকে বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। সঙ্গত কারণেই এর প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাপন এবং মনস্তত্ত্বেও।</p>
<p style="text-align: justify">ইন্টারনেট আবিষ্কার এর সাথে সাথেই আবিস্কৃত হয় ইমেইল, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, ইয়াহু মেসেঞ্জার ইত্যাদি প্রযুক্তি। নব্বইয়ের দশক থেকেই কমতে থাকে বিশ্বে কাগুজে যোগাযোগ।</p>
<p style="text-align: justify">বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ চলমান প্রক্রিয়া। সেই জার্নির হাত ধরেই ৭০ এর দশকের শুরুর দিকে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মোবাইল উৎপাদিত হয়।<br />
১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল মটোরোলা সবার আগে বাণিজ্যিকভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। সেটি ছিল দুনিয়ার ওয়ান জি মোবাইল ফোন বা জিরো জেনারেশন মোবাইল ফোন।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর ১৯৮২ সালে ইউরোপের ১১টি দেশের প্রকৌশলী এবং প্রশাসকরা সুইজারল্যান্ডের স্টকহোমে একত্রিত হন। তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার ব্যাপারে সম্মত হন।এভাবেই মোবাইল ফোনের উত্থান ঘটতে থাকে এবং ছড়িয়ে পড়তে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">ধীরে ধীরে মোবাইল ফোনে বিস্তার ঘটে এশিয়াতেও। ১৯৯৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে পৃথিবীর অনেক দেশেই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়। সে বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রথম চালু হয়। হাচিসন বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (এইচবিটিএল) ঢাকা শহরে এএমপিএস মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন সেবা শুরু করে।বর্তমানে সারা বিশ্বে ফোর জি ও থ্রি জির নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। চালু হয়েছে ফাইভ জি।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যালো শব্দটি আবিস্কারের সাথে সাথে ধীরে ধীরে মিইয়ে যেতে থাকে অপেক্ষা, চোখের জল, হারিয়ে যেতে থাকে পত্র আদান-প্রদান সংস্কৃতি, সংকুচিত হতে থাকে আবেগের প্রকাশ।এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আসে স্মার্টফোন প্রযুক্তি। ১৯৯৪ সালে আইবিএম(IBM) কোম্পানি এবং মিতসুবিসি ইলেকট্রিক কর্পোরেশন একসাথে মিলে যৌথ উদ্যোগে তৈরি করেছিল বিশ্বের প্রথম স্মার্ট ফোন এবং যার নাম ছিল আইবিএম সিমন এবং এই স্মার্টফোন বাজারে আসার প্রায় ১৫ বছর পরে অ্যাপল আইফোন বাজারে আসে।একুশ শতকের শুরুর দিকে স্মার্ট ফোনের ব্যাপক ব্যবহার বিস্তৃত হয় বাংলাদেশে।</p>
<p style="text-align: justify">স্মার্ট ফোনের বৈশিষ্ট্য এবং বহুবিধ ফিচার এর কারণে স্মার্ট ফোন মানুষের জীবনের অপরিহার্য উপাদান হয়ে ওঠে। মুভি দেখা, গান শোনা, ই-মেইল করা, পড়া সবকিছু এক ফোনের মাধ্যমে করা সহজতর হয়ে ওঠে। মানুষের বিনোদনের জন্য আড্ডা সংকুচিত হতে থাকে।<br />
সশরীরে যোগাযোগ এর স্থলে ভার্চুয়াল যোগাযোগ প্রাধান্য পেতে থাকে। ছবি তোলা, ভিডিও গেম খেলা,, চ্যাটিং বা মেসেঞ্জিং সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে আসে মানুষের। মানুষের ভেতর আত্মকেন্দ্রিকতা জেঁকে বসতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">২০০৪ সালে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক নামের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্ভাবন করেন। শুরুতে এই মাধ্যমটি শুধু হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভেতর সীমাবদ্ধ ছিল। ধীরে ধীরে তা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৫ সালে আবিস্কৃত হয় ইউটিউব। আজকের বিশ্ব স্মার্টফোন, ইউটিউব, আর ফেসবুকের রাহু গ্রাসে বিপর্যস্ত।</p>
<p style="text-align: justify">এর আগে বিনোদনের জন্য মানুষের প্রয়োজন ছিল ভালো বই পড়া, ভ্রমণ করা, বন্ধুদের সাথে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠা, সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। এসবকিছুই মানুষ করতে পারে ; স্মার্টফোন, ইউটিউব<br />
এবং ফেসবুকের মাধ্যমে।</p>
<p style="text-align: justify">বিশ শতকের শুরুতে এসে যে পণ্য সংস্কৃতি বা পুঁজিবাদ, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ, ভোগবাদ এবং বিশ্বায়নের উদ্ভব ঘটে; একুশ শতকে এসে তা সর্বগ্রাসী রূপ পরিগ্রহ করে। পুঁজিবাদ মানুষকে সবকিছুর মূল্যায়ন করতে শেখায় অর্থনৈতিক মূল্যে। ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদ পরিণত হয় ব্যক্তি কেন্দ্রিকতায় যা কেবল নিজেকেই আরও বেশি করে চেনায়, ভোগবাদ বা অতি বস্তুবাদীতা মানুষকে কেবলই ভোগে উৎসাহিত করে, আর বিশ্বায়নের নামে শুরু হয় নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা আর ঐতিহ্যের বর্জন। মানুষ ক্রমে সরে যেতে থাকে নিজস্ব শেকড় থেকে। সামাজিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়তে থাকে। লোপ পেতে থাকে আত্মীয়তার চর্চা, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ। সুখ যেমন একা ভোগ করো, দুঃখ ও একা ভোগ কর। ঘরে স্মার্ট টিভি, ডাবল ডোর ফ্রিজ, এয়ার কুলার মেশিন, স্মার্ট ফোন সব আছে কিন্তু মনে সর্বগ্রাসী একাকীত্বের হাহাকার। অনিবার্য প্রয়োজন হয়ে ওঠে মনের ভাব প্রকাশের। প্রত্যেকটি মানুষ হয়ে ওঠে একেকটি বিচ্ছিন্ন, মনোহর দ্বীপ।</p>
<p style="text-align: justify">এই জনপদে নানা কারণে শিক্ষা, সংস্কৃতি,সাহিত্য এবং গবেষণার বিকাশ বিস্তৃত হয়নি। শিক্ষা ব্যবস্থায় সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মের গভীরভাবে পাঠের অভাব পরিলক্ষিত হয়। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি নিয়ে কোনো সরকারই তেমনভাবে গবেষণায় এগিয়ে আসেনি। ফলে অগভীর চিন্তা-ভাবনার একটা প্রজন্ম শেকড় ছাড়া হয়ে বেড়ে উঠতে থাকে যারা লালন, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, শহীদুল্লাহ্ কায়সার, মানিক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সৈয়দ শামসুল হক কাউকে চেনে না। তাদের মনন পড়ে থাকে পতিত জমির মতোই। ফলশ্রুতিতে তারা না বোঝে মেধা ও মননের চাষাবাদ, না বোঝে সময়ের ব্যবহার।</p>
<p style="text-align: justify">এরই মধ্যে বাংলা সাহিত্যে উদ্ভব হয় বিনোদনমূলক সাহিত্যের।তাতে না ঘটলো মননের শ্রীবৃদ্ধি, না হল জ্ঞানার্জন। কিন্তু সময় কাটলো বেশ। আগেই বলেছি বিশ্বায়ন, পুঁজিবাদ আর ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা মানুষকে একেকটি মনোহর দ্বীপে পরিণত করেছে। মানুষের ভাবের আদান-প্রদান অনিবার্য হয়ে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">ফেসবুকের নিউজফিডে লেখা থাকে ইটস অন ইউ&#8217;র মাইন্ড। মানুষ ফেসবুকের নিউজফিডে লিখতে থাকলো; সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন-হতাশার উপাখ্যান। আর তার একেকটা শিরোনাম দিয়ে দিল। এর নাম হয়ে গেল কবিতা।এভাবে একঝাঁক লেখকের আবির্ভাব ঘটে একুশ শতকের শুরুর দিকে।একুশ শতকের জিরো দশকের প্রারম্ভে সৃষ্টি হতে থাকে ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপ। যেখানে অধিকাংশ লেখক এবং পাঠকের কোনো দায় থাকে না। পুরোপুরি না পড়েই পাঠক মন্তব্য করতে থাকে অপূর্ব, অনবদ্য, অসাধারণ। অনেক নারী যেমন এসব গ্রুপে যুক্ত হন, তেমনি কর্মজীবী নারীরাও যুক্ত হন। যুক্ত হলেন, বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ সবাই। পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় যেকোনো কাজেই আদর্শগত বা প্রাণের তাগিদের চেয়ে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বেশি প্রাধান্য পায়।</p>
<p style="text-align: justify">এই গ্রুপভিত্তিক সাহিত্য চর্চাকে কেন্দ্র করে হিড়িক পড়ে গেলো যৌথ কাব্যগ্রন্থ, যৌথ গল্পগ্রন্থ প্রকাশের। দুয়েকটা গ্রুপ থেকে হলো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।এতো গেল গ্রুপ কেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চা। মূল ধারায় পত্রিকা, লিটল ম্যাগ, ওয়েবম্যাগ এসব ক্ষেত্রেও দেখা যায়, একদল সুবিধা দিয়ে কিছু নিতে চান, অন্যদল কিছু দিয়ে হলেও সুবিধা নিতে চান।কিন্তু প্রশ্ন উঠে, সৃষ্টিকে ততখানি পরিণত হতে হবে তো। রিজিয়া রহমানের বং থেকে বাংলা কিংবা সেলিনা হোসেন এর হাঙর নদী গ্রেনেড কিংবা শহীদুল্লাহ্ কায়সার এর সংসপ্তক কিংবা বিভূতি ভূষণ এর অপরাজিত এরচেয়ে কোনো অংশে কম শৈল্পিক সৃষ্টি?</p>
<p style="text-align: justify">যেসব নারী-পুরুষ লেখকের সৃষ্টি কালোত্তীর্ণতা পেয়েছে তারা প্রত্যেকেই একনিবিষ্ট সাধক ছিলেন। প্রতিনিয়ত অধ্যয়ন করেছেন সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন, অর্থনীতি সর্বোপরি মানুষের জীবন এবং প্রকৃতি। রিজিয়া রহমান এর সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম তার লেখা পত্রিকায় যায় বলে ওনার বোন শ্বশুরবাড়ি থেকে কথা শুনতেন। কারণ ওনার হাতের লেখা অন্যপুরুষ দেখতে পায়। আর সেলিনা হোসেন বলেছেন লেখক হওয়ার সাধনায় তিনি অনেককিছুই ছেড়েছেন। আজকে আমরা সহজেই ফেসবুকের নিউজফিড কিংবা সাহিত্য গ্রুপে লিখছি আবার লাইভ করে পরিচিত হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যা করছি তা কতখানি অর্থবহ কিংবা আদৌ কি কিছু শিখছি? পূর্বসূরীদের চেয়ে আমরা প্রচার এবং চর্চায় অনেক এগিয়েছি। তাই সৃষ্টি কর্মেও এগিয়ে থাকতে হবে। এজন্য নিরবধি সাধনা প্রয়োজন।লেখক বা শিল্পী হতে গেলে অধ্যয়ন এবং সাধনা অত্যাবশকীয়।</p>
<p style="text-align: justify">পৃথিবীর সর্বপ্রথম কবি ছিলেন নারী যার নাম এনহেদুয়ান্না। নারীর হাতেই সূচিত হয়েছিল কৃষি বিপ্লব। সাহিত্যেও নারীর হাতে রচিত হতে পারে বিপ্লব। নারীর দেখার দৃষ্টিভঙ্গী অনেক গভীর। হয়তো বা পুরুষের মতো ভ্রমণ করা সম্ভব হয় না। সেই ঘাটতি নারী অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারেন বই পড়ে। সাধনায় নিবিষ্ট হলে হয়তো আপনার, আমার ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসবে অরুন্ধতী, লুইস গ্লিক, এলিস মুনরো!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/06/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
