<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>দীলতাজ রহমান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sat, 19 Feb 2022 07:53:19 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>দীলতাজ রহমান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৮) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/19/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/19/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 19 Feb 2022 07:53:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1673</guid>

					<description><![CDATA[গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠে আকলিমা খানম বুবলিকে বললেন, কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমাকে? : জানি না তো? কোথায় যেতে চান? : আজ কি আমার যেতে চাওয়ার দিন? আমার বড় ছেলে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠে আকলিমা খানম বুবলিকে বললেন, কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমাকে?<br />
: জানি না তো? কোথায় যেতে চান?<br />
: আজ কি আমার যেতে চাওয়ার দিন? আমার বড় ছেলে তার বউ-বাচ্চা দুটো নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে…।<br />
: সেই জন্যই তো আপনাকে তুলে নিয়ে এলাম, তারা দেখুক, আপনি তাদের যাওয়াকে থোড়াই কেয়ার করেন!<br />
: মাকে যে সবই কেয়ার করতেই হয়!এই যে বউয়েরা ফুসলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ছেলেদের, যা বেতন পায়, তার থেকে বাসা ভাড়া দিয়ে, কাজের মানুষ রেখে বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করবে, তার খরচ। আমি আসলে সেসব ভেবেও কষ্ট পাচ্ছি।কেউ তো অত বড় চাকরি করে না!তারপর বউয়েরাও কিছু করে না। অথচ আমার স্বপ্ন ছিলো, আমার বউমারা সবাই চাকরি করবে, আর আমি মা দুর্গার মতো তাদের সব সামলাবো!</p>
<p style="text-align: justify">: তারা আপনার উদারতার জন্য আপনাকে একটা অসহায় মানুষ ছাড়া আর কিছু ভাবে না। মনে করে আপনি তাদের দাসীবৃত্তি করে খেতে চান। আপনি নিজের জন্য যদি নগদ কিছু রাখতেন, তাদের বাজার করা খাবারের ওপর আপনাকে নির্ভর করতে না হতো, দেখতেন, আপনার কপালের ঘাম, চোখের জল সবই তারা নিজের হাতে মুছে দিতো!<br />
:বাড়িটা তো আমার নামে?<br />
:সেটা আগেও বলেছেন।কিন্তু তারা জানে বাড়ি বিক্রি করে আপনি খুচরো খরচ করবেন না।ওটা করা যায় না।যতদিন আপনি বাঁচেন,বসবাস করবেন। কিন্তু মরে গেলে সবই তাদের।মেয়ে-মানুষ কোনোকালে তাদের সম্পত্তি দরাজ কলিজা নিয়ে নিজের জন্য খরচ করতে পারে না! আঙ্কেল না মরে আপনি মরতেন, দেখতেন আরেকটা বিয়ে করে নতুন করে নিতো, আর জোয়ান বউয়ের প্ররোচণায় তিনটের একসাথে বাড়ি ছাড়া হতে হতো। আর তখনি হতো মায়ের কদর। সরি আন্টি।কথাগুলো আমার নয়, মানুষে বলে তাই শোনা কথা! কিন্তু এখন আমি না বলে পারলাম না।কারণ একটা বয়স পেরিয়ে গেলে কেউ আর ছোট থাকে না!</p>
<p style="text-align: justify">এলোমেলো কোথাও ঘুরতে ইচ্ছে করছে না। আকলিমা খানমের অনুমতি না নিয়েই ড্রাইভারকে বললো, বাসায় চলো।<br />
আকলিমা খানম বললেন, তোমাদের বাসায় যেতে হবে? আমার ফিরতে দেরি হবে না?<br />
: দেরি করতেই তো বাসা থেকে বের করে নিয়ে এলাম! আপনার বড় ছেলে তার পরিবার নিয়ে বেরিয়ে গেলে তন্ময় নিশ্চয় ফোন করবে আপনাকে!<br />
: তন্ময়ের তো ফোন নেই। আর কারো ফোন থেকে ফোন করবেও না!<br />
: তন্ময়ের ফোন আগে ছিলো না।কিন্তু এখন আছে!<br />
ফোনের বিষয়টি আকলিমা খানম অনুমানে বুঝে নিলেন।এর ভেতর বাসায় ঢোকার আগে বিউটি পার্লারের দিকে নজর পড়ে বুবলি ড্রাইভারকে বললো, পার্লারে গাড়ি ঢোকাও। এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে যাই!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম বিউটি পার্লার নামটাই শুনেছেন। কিন্তু কখনো ভেতরে ঢোকেননি। আজ বুবলি তাকে নিয়ে তার জোর আপত্তি সত্ত্বেও ফেসিয়াল করা থেকে মাথার চুলগুলো পর্যন্ত কেটে বিন্যন্ত করে দিতে বললো। আকলিমা খানম প্রথমে না না করলেও পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। বিউটিশিয়ানদের কাজ শেষ হলে বুবলি আকলিমা খানমের চোখেমুখে বহুদিনের জমানো ক্লান্তির ক্ষয় দেখতে পায়।সে আকলিমা খানমকে আয়নার সামনে দাড় করিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে বললো, দেখেন কেমন লাগছে?<br />
আকলিমা খানম তার প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে বললেন,ওটা আমি?<br />
বুবলি বললো, না, আমি!’ বলে দুজন সমবয়সী মানুষের মতো জড়িয়ে ধরে কয়েকটা পাক খেলো।</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম বুবলিদের বাড়িতে ঢুকে দেখলেন, বিশাল ফ্ল্যাটে থাকে ওরা। মানুষের অভাবে ফ্ল্যাটের ভেতরজুড়ে খা খা করছে। তবে সবার ছবির সমারোহ ফ্ল্যাটের প্রতি কোনা জীবন্ত করে রেখেছে। কাজের মানুষদের জন্য থাকার আলাদা জায়গা।তাই না ডাকলে তারা সামনে আসে না। বুবলি যখন বাড়িতে ঢোকে বেলা তিনটা পেরিয়ে গেছে। কাজের মানুষের কাছে খাবার চাইলো এবং তাদের কাছে জানতে পারলো তার বাবা খেয়ে বিশ্রাম করছেন। আজ ছুটির দিন বলে তিনি বাড়িতে। নাহলে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের এসময়ে তিনি অফিসে থাকেন!</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি আকলিমা খানমের পাতে খাবার তুলে দিতে দিতে বলতে লাগলো, খেয়ে দেখেন, এগুলো যতোই দামি হোক, আপনার ডিম ভাজি আর ডাল চচ্চড়ির মতো হয়নি!<br />
: আসলে এখন কিছুই ভালো লাগবে না। এখন না খেতে পারলে ভালো হতো!<br />
: লিমা আন্টি, এরকম উসখুস করলে কিন্তু আমি আর আপনার বাসায় যাবো না। আর এখন তাহলে ড্রাইভার আপনাকে পাঠিয়ে দেবো। সম্পর্কটা আজই শেষ হয়ে যাবে। যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়, যে বেদনা লাঘব করা যায়, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি সেখানে কোনো ভূমিকা না রাখতে পারি, তাহলে কেন সেখানে গিয়ে নিজেকে ভারাক্রান্ত করা!<br />
:তুমি যে কোনোদিন আমার জীবনে ছিলে না, এটা আমি ভাবতে চাই না! একটা মেয়ে, যে এখনো পরিপূর্ণ যুবতী হয়ে ওঠেনি, সে আমার এতটা শক্তি হয়ে কাছে আসবে, এ আমার কত জনমের পূণ্যের ফল!<br />
: আমি যেটুকু করলাম, এটুকুর জন্য বয়স লাগে না। লাগে সাহস। আর সব সাহসী পদক্ষেপই যে সুফল দেয়, তা কিন্তু নয়।</p>
<p style="text-align: justify">তাই সাহস দিয়ে কেনা দুর্গতিতেও কখনো কখনো ধূপধুনো ছোঁয়াতে হয়!<br />
: জানো, ছাত্রী খারাপ ছিলাম না। বিএ পাস করেছিলাম। রেজাল্টও ভালো ছিলো।<br />
: তো বোঝেন এবার? ছুরি-কাঁচিও ব্যবহারের ভেতর না থাকলে তার ধার থাকে না। আর অব্যবহারে বিদ্যার তো থাকেই না!<br />
: ছেলেদের মনোযোগ দিয়ে মানুষ করবো বলে নিজে চাকরি-বাকরি করার কথা ভাবিনি। তন্ময়ের বাবাও চাইতেন, সংসারে টানাপোড়েন নিয়ে হলেও সন্তানদের যত্নে মানুষ করি!<br />
: আমার মাও বলতেন, একটা বাচ্চা মানুষ করতে একজন মায়ের পরিপূর্ণ মনোযোগ লাগে!<br />
:সত্যিই তাই!<br />
:চা খাবেন? দিতে বলবো?<br />
:চা আমি খুব একটা খাই না।তবে বানাতে ভালোলাগে! তন্ময় তো আমাকে কল করলো না?<br />
: হয়তো সিম কেনেনি এখনো! আমি তো ফোন কিনে দিয়েছি, সিম তাকেই কিনতে হবে! বাবা উঠলেন কি না দেখে আসি!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানমের বড় অস্থির লাগছে। যদিও ভয়ে তা বুবলির সামনে প্রকাশ করছেন না। তার বড় সন্তান তার আশীর্বাদ ছাড়া পরিবার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে, এটা তিনি কখনো ভাবেননি! আর সন্তান, যে একবার বাড়ি থেকে বের হয়, সে আর ফেরার গন্য বেরোয় না, এটাও তিনি ভালো জানেন। এখনো তিনি যা ভাবেন, সবার জন্য ভাবেন। ছেলেদের শৈশবের স্মৃতিগুলো সারাক্ষণ তাকে ঘিরে থাকে। তিনি হয়তো সেসব দিনের কথা আপতত মনে করে বিভোর হয়ে ভাবছেন, এরই ভেতর ছেলেরা বাড়ি ঢুতে যার যার রুমে ঢুকে যায়। যেতে যেতে ফিরেও দেখে না মা কী করছে! অথচ তাদেরই পুরনো কত কত কথা তাদের কাছে বলতে ইচ্ছে করে।নিজের কত অসুখ-বিসুখের কথা বলতে মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু যারা জিজ্ঞেসই করে না, আম্মা কেমন আছো?’ তাদের কাছে কোন মুখে বলা যায়, আমার শরীর ভালো নেই!</p>
<p style="text-align: justify">এখন তিনি বোঝেন, সন্তান আসলে নিজের ছত্রচ্ছায়ায় রাখার নয়। মা-বাবার অস্তিত্ব ফুঁড়ে তাদের জন্ম হবে।তাদেরকে লালন-পালন করতে করতে তাদের সাথে স্মৃতি ঘনঘটা বাড়বে।তাদের প্রতি মায়া বাড়বে।তারপর তাদের যে বউ আসবে, সন্তান-সন্তুতি হবে তাদের জন্য আরো মায়া বাড়বে, আর তারা এভাবে না হয়, ওভাবে সরতে থাকবে। তাদের মনে নতুন স্বপ্ন এসে শেকড় ছাড়বে।তাতে ডালপালা গজাবে। আর তারা পিছনের কথা ভুলে সে নতুনগাছ ও ডালপালার পরিচর্যা করবে। সেখানে পিছনের কথা ভাববার অবকাশ তাদের কই!এই মেয়েটির সাথে পরিচয় না হলে নিজের ভুল তিনি কোনোদিন বুঝতে পারতেন না!অন্যকে দিয়ে নিজের জীবন ভরানো যায় না। হোক না সে সন্তান! কারণ সন্তান তো মায়ের সম্পত্তি নয়। তার উচিৎ ছিলো এমন কোনো একটা কাজ করা, যাতে তার অর্থও আসবে। সময়ও কাটবে। তখন যার ইচ্ছে তাকে দেখতে আসবে, তার নিজের ইচ্ছে হলে নিজে গিয়ে দেখে আসবে। এখন এই পঞ্চাশ ছুঁই ছুই বয়সে নতুন করে কিছু করার উদ্যম তার নেই। তবু যদি ছোট ছেলেটার কোনো গতি হতো, নিজেকে নিয়ে না ভাবলেও তার চলতো!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/19/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৭) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 29 Jan 2022 03:39:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1525</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৭ বাড়িতে একজন বড়লোক মেয়ে এসেছিলো তন্ময়ের খোঁজে, এই খবরে তন্ময়ের বড় দুই ভাই শাওন ও সৌরভ উৎকর্ণ হলো। মেয়ে দেখতে কেমন। কয় ভাইবোন। বাবার কি কি আছে! ভাইদের সব &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-৭</strong></span><br />
বাড়িতে একজন বড়লোক মেয়ে এসেছিলো তন্ময়ের খোঁজে, এই খবরে তন্ময়ের বড় দুই ভাই শাওন ও সৌরভ উৎকর্ণ হলো। মেয়ে দেখতে কেমন। কয় ভাইবোন। বাবার কি কি আছে! ভাইদের সব প্রশ্নের উত্তরই দুই বউ ঠিকঠাক না বললেও কাছাকাছি বলতে পারছে।যা তখন বুবলিকে তারা জানতে চেয়ে যে উত্তর পেয়েছিলো, তাই যার যার স্বামীর কাছে কাঁচামাটির মতো লাগিয়ে দিচ্ছে।আর প্রতিধ্বনি হয়ে পাশের ঘরে এসে সেসব কথা কানে পশে যাচ্ছে আকলিমা খানম ও তন্ময়ের।</p>
<p style="text-align: justify">ফোন নেই বলে নাম্বারও নেই।তাই তন্ময়ের কারো সাথে যোগাযোগও হচ্ছে না।এর ভেতর তার মনে হলো, ভালোই হয়েছে এ সময় ওর ফোন না থেকে।ফোন থাকলে বুবলি ওদের বাড়িতে আসার আতিশয্যে অনেক বেশি কথা বলা হয়ে যেতো।তার ওপর মাকে যদি সোনার চুড়ি দুটো না নিয়ে যেতো।</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় ভেবে দেখেছে, এখন ওর আনন্দিত হওয়ার চেয়ে কষ্টের বোধটাই ভালো লাগে। সেই অর্থে ফোনটা হারিয়েও ভালোই লাগছে!ফোনের কোনো অভাবই সে বোধ করছে না। এর ভেতর ক’দিন বাড়ি থেকে না বেরোতে দেখে আকলিমা খানম বললেন, তুই যে একেবারে ঘরোয়া হয়ে গেলি, কারণ কি?<br />
মায়ের কথায় তন্ময় কৌতুক করে বললো, বেশি আনন্দ আমাকে ভারাক্রান্ত করে ফেলেছে মা!<br />
: কী সে আনন্দ?<br />
:ওই যে বুবলি তোমাকে চুড়ি দিয়ে গেলো।এত বছর পরে মেয়েটা বসন্তের বাতাসের মতো এসে তোমার প্রাণটা জুড়িয়ে দিয়ে গেলো, যা আমরা বাড়ির এতোগুলো প্রাণির কেউ পারিনি!<br />
:সেই জন্য ঘরে আটতে থাকতে হবে?<br />
:ভাবছি, এখন যদি বের হই, আর বুবলির সাথে দেখা হয় তাকে আমার ধন্যবাদ দিতে হবে।চকচকে চোখে তাকাতে হবে। নাহলে ভাববে ফিলিংলেস। তার থেকে বাপু আমি বাড়ি থেকে বেরই হবো না আপাতত!<br />
তন্ময়কে বাড়ি থেকে ক’দিন না বেরোতে দেখে বড় বউ বললো, মানুষ প্রেমে পড়লে অস্থির হয়। কিন্তু তুমি দেখি একেবারে স্থিতধী হয়ে গেলে!<br />
মেজো বড় বললো, বড় প্রেম যে!<br />
তন্ময় দুই ভাবীর উত্তর একসাথে দিলো, আমি আসলে কম্পিউটারে কাজ শিখছি।অন্যের কাছ থেকে কিছু বই-পত্রিকা চেয়ে এনেছি, সেগুলোও পড়ে শেষ করতে হবে।’ তারপর মনে মনে বললো, সবই করছি ঠিকই।কিন্তু নিজেকে ঘরে আটকাতেই করছি।</p>
<p style="text-align: justify">মনটা উতলা হলেও তাকে শাসন করার শক্তি তন্ময়ের আছে।তবে বাড়ির অন্য কেউ তখনো আবিষ্কার করতে পারেনি যে তার বাবার হাতের মোবাইলটা তন্ময় হারিয়ে ফেলেছে, বাড়ির সাথে বাড়ির ছোট ছেলের এমনি তার সম্পর্ক।</p>
<p style="text-align: justify">শাওন ও সৌরভের বাড়ি ছাড়ার দির ঘনিয়ে আসছে।বাড়ি থেকে তাদের নেওয়ার তেমন কিছু নেই।ফেলে যাবে কি কি সারাক্ষণ দুই বউয়ের মুখে ফেনা উঠছে সেসব নিয়ে।তবে দুজনই একবাড়িতে যাচ্ছে না।কাছাকাছিও না।যার যার শ্বশুরের বাসার কাছাকাছি সেই সেই বাসা ভাড়া করেছে। যেন বিপদে শ্বশুরবাড়ির হেল্প পায়।এতোদিন মার থেকে যা পেয়ে এসেছে, তা যেন সেবা নয়, সহযোগিতা, অনুদান কিচ্ছুটি নয়।দুই বউ বাড়ি থেকে কী নেবে আর ফেলে যাবে, ফেলে যাবে মানে, সেসব পুরনো ফার্নিচার কেনা লোকেএনে বার দুযেক করে দেখানোও হয়ে গেছে, কত হলে তারা খাট ড্রেসিং টেবিল খুচরো খাচরা জিনিস কিনে নেবে।</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময়ের রোজগারের কোনো অবলম্বন নেই জেনেও ছেলে দুটির একটিও মাকে আশ্বাস দেয়নি, কে কত মাসোহারা দেবে। বরং কটকট করে একটি কথাই বাজিয়েছে, আমরা দুভাই যে দুই রুমে থাকতাম সে দুটো রুম ভাড়া দিয়ে তুমি চলবে। আর তন্ময়কে বলো ভালো করে রোজগারের চেষ্টা করতে!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানমের বলা উচিৎ আমার কথা বাদ দাও, তন্ময়কে ঠিকমতো টিউশন ফি দিতে পারিনি বলে ও লেখাপড়ায় নিরুৎসাহিত হয়ে গেলো। তোমার বাবার রেখে যাওয়া নগদ টাকায় তোমরা পড়েছো, ওর একটা কিছু উপায় হওয়া পর্যন্ত তোমরা ওকে হাত খরচ দিতে বাধ্য। কিন্তু বলেন না। বরং ভাবেন, গাদাগাদি করে হলে এই যে ছেলে দুটি একবাড়িতে ছিলো, দুজনে হিসেব করে প্রতিদিন বাজারের টাকা দিতো তিনি নিজে বুঝে বাজার করে সংসারটা টেনে নিয়েছেন।এখন আলাদা বাসায় গিয়ে বেতনের বড় একটা অংশ দুজনেরই বেরিয়ে যাবে।তা দিয়ে কী করে চলবে, তিনি নিজের কথা ভুলে তাদের কথা ভাবেন। ভাবেন, কি করে বড় বৌমা দুটো বাচ্চাকে একসাথে সামলাবেন।সৌরভের ছেলেটা বড় বেশি চঞ্চল।দিনের ভেতর কতবার যে তিনি তাকে পড়ে যাওয়া থেকে ঠেকান।ছোট বৌমার দুপুরে ঘুমানো অভ্যাস।বাচ্চাটা তার সাথে ঘুমিয়ে না পড়লে ভীষণ মারে। আর তখন তিনি তাকে এনে নিজের কাছে রক্ষা করেন।</p>
<p style="text-align: justify">ছুটির দিন। সবাই আজ বাসায়। দুপুরের পর শাওন কিছু জিনিসপত্র রেখে আসতে যাবে।তারপর ফিরে এসে সন্ধ্যার দিকে বউ বাচ্চা নিয়ে যাবে। আকলিমা খানম চোখের জল ফেলতে ফেলতে রান্না শুরু করে দিয়েছেন। এর ভেতর গেটে শব্দ।তন্ময় গেছে গেট খুলতে।আকলিমা খানম রান্নাঘর থেকে মুখ বাড়িয়ে আছেন কে এসেছে দেখতে। বুবলিকে দেখে তিনি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলেন তন্ময়কে লজ্জা পাওয়া থেকে রেহাই দিতে।কারণ তার খালি গা। বুবলির সাথে আরেকটা লোক ঢুকলো। তার হাতে অনেকগুলো প্যাকেট। প্যাকেটগুলো রুমে ঢুকিয়ে বুবলি লোকটিকে বললো, তাড়াতাড়ি গাড়ির কাছে যাও।তারপর তন্ময়ের দিকে চেয়ে বললো, আজ গাড়িতে করে এসেছি। রাস্তার পুলিশকে দুইশো টাকা দিয়ে বলে এসেছি পনের মিনিটের জন্য গাড়িটা দেখে রাখতে।</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় বুবলির দিকে রাগী দৃষ্টিতে চেয়ে বললো, তুমি রোজ রোজ কী শুরু করেছো বলো তো!<br />
: রোজ রোজ মানে? দশদিন আগে এসেছিলাম।এর ভেতর তুমিও তো আমার খোঁজ নাওনি। জ্বর ছিলো খুব। ভাবছিলাম ডেঙ্গু হলো কি না। আজ একটু ভালো লাগছে। তারপর হঠাৎ লিমা আন্টির চায়ের কথা মনে পড়ে গেল।বুবলির আওয়াজ পেয়ে বড় বউ মেজো বউও ছুটে এলো।আকলিমা খানম রান্না থামিয়ে আগেই চলে এসেছিলেন।তন্ময়ের সাথে বুবলির কথা শেষ হলে তিনি বুবলিকে বললেন, এতো কি নিয়ে এসেছো মা? আমি কিন্তু  খুবই বিব্রত বোধ করছি।</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি বললো, আপনার চায়ের পিপাসা আমাকে ছুটিয়ে এনেছে লিমা আন্টি। তারপর তালতলা মার্কেট দেখে মনে হলো কখনো তো এই মার্কেটে ঢুকিনি। আর কারো জন্য কিছু কিনে দেয়ার মতো আমার কেউ নেই।কিন্তু আমার কাছে প্রতি মাসে আমাদের ফার্ম থেকে কিছু টাকা আমার অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তা খরচের কোনো খাত নেই।আগে যখন নিজের টাকা ছিলো না, তখন মার থেকে টাকা নিয়ে মার জন্য এটাওটা কিনতাম।তাই ভাবলাম আজ আপনার কাছে যখন আসছি,আপনার জন্য কয়েকটা শাড়ি কিনি! তমালের কাছে শুনেছি, তন্ময়ের মোবাইলটা নাকি হারিয়ে গেছে।কিন্তু তা জানা সত্বেও আমি ওর জন্য মোবাইল কিনিনি!কারণ কে যে কিসে অহংকার বোধ করে, সেই সব বিষয়ে টোকা না দেয়াই ভালো।</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি মিষ্টির ডাউস প্যাকেটটি বড় বউয়ের হাতে তুলে দিয়ে বললো, এসব আপনাদের জন্য।তারপর শাড়িগুলো ভাঁজ খুলে সোফার ওপর মেলে মেলে রাখলো।বললো, সব টাঙ্গাইলের সুতির শাড়ি। আমার মা এরকম শাড়ি পরতেন। আমি জীবনে এই প্রথম শাড়ি কিনলাম, পছন্দ হয়েছে, লিমা আন্টি?<br />
আকলিমা খানম বললেন, তন্ময়ের বাবা বেশি বড় চাকরি করতেন না। তাই বলে না খেয়ে থাকিনি কোনোদিন।কিন্তু একসাথে পাঁচখানা শাড়ি, তাও আবার এত দামি শাড়ি আমি কিছু বলতে কথা খুঁজে পাচ্ছি না।শেষে তুমি না মনে করো, আমি তোমার থেকে তোমার শাড়ি-চুড়িকে বেশি ভালবাসি!<br />
: লিমা আন্টি, মানুষকে প্রতিদিন চিনতে হয় না।যা চেনার তা একদিনেই চেনা হয়ে যায়।বাকি জীবন তাকে প্রতিবার নতুন বইয়ের মতো পড়তে হয়।এটা আমার মায়ের কথা। আমার মা খুব বিদুষী একজন নারী ছিলেন। যতই আমি বখে যাই, আমি তো সেই মায়েরই মেয়ে।<br />
আকলিমা খানম বুবলিকে বললেন,একটা কথা বলি মা?<br />
: বলেন!<br />
: শাড়িগুলো তুমি আমার জন্যে এনেছো, আমি আমার দুই বউমাকে এখান থেকে দু’খানা শাড়ি দিই?<br />
: অবশ্যই। আপনার জিনিস আপনি যাকে খুশি দেয়ার অধিকার রাখেন।<br />
বুবলির অনুমতি পেয়ে আকলিমা খানম বউদের ইশারা দিলেন, তোমার দুজন দু’খানা তুলে নাও।’</p>
<p style="text-align: justify">দুই বউ একত্রে শাড়ির ওপর ঝুঁকতেই বুবলি তাদের থামিয়ে দিয়ে বললেন, আমি দিচ্ছি’ বলে সে নিজে দুজনের হাতে দুখানা শাড়ি তুলে দিলো। তারপর দুই বউ একত্রে বললো, ‘আমি এইখানাই নিতাম!’<br />
দুই বউয়ের এককথার উত্তরে বুবলি বললো, জানি তো!<br />
বউয়েরা সরে গেলে তন্ময় বললো, আজ তুমি এসে ভালো করেছো। আমি তো আর তোমাকে বলতে পারি না। আশা করারও সাহস নেই…!<br />
এসে কেন ভালো করেছি বলো তো?<br />
: আজ বড় ভাই চলে যাচ্ছে বিকেল নাগাদ। ক’দিন ধরেই মার কান্না আমার পাঁজরে এসে লাগছে। মা মনে করেন তিনি গোপনে কাঁদছেন। কিন্তু পাশের ঘরে থেকে যদি আমি শুনতে পারি, আর দুখানা ঘরও তো তার ঘরের থেকে দূরে নয়! আমার দুঃখ কোথায় জানো?</p>
<p style="text-align: justify">আমি তো ছোট মানুষ নই। আমি একাই থাকতে পারি। মা’র দুটো ছেলের একটি ছেলেও তাকে একটিবারের জন্যও বলছে না, আমাদের সাথে চলো, তুমি ক’দিন অন্তত থেকে আসো। ছেলেমেয়ে নিয়ে ওরা বেরিয়ে গেলে এ বাড়ি তো তার জন্য খোঁয়াড় হয়ে যাবে! শেষে না কাঁদতে কাঁদতে মরেই না যায়!<br />
বুবলি বললো, অপেক্ষা করো, আমি একটা প্রতিশোধ নিই!<br />
কি প্রতিশোধ?<br />
তন্ময়ের কথার উত্তর দেয়ার আগে আকলিমা খানম দুজনের জন্য চা নিয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকলেন।বুবলি তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমি একটা কথা বলবো, শুনতে হবে আপনাকে!<br />
:কি কথা?<br />
: আমার সাথে বেরোতে হবে!<br />
: বড় ছেলেটা চলে যাবে আজ। রান্না বসিয়েছি।<br />
: রান্না আপনার বউমারা করুক। আপনি যান সাবান দিয়ে হাতমুখ ধুয়ে আসেন!<br />
: কতক্ষণ লাগবে ফিরে আসতে?<br />
: বেশিক্ষণ না।</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি বউদের ডেকে বলে এলো, এই যে ভাবিরা, এইবেলা রান্নাটা আপনারা চালিয়ে নেন। আমি লিমা আন্টিকে নিয়ে একটু বাইরে থেকে আসছি। বুবলিকে দেখতে শাওন, সৌরভ যার যার ঘর থেকে মোটাদাগের উঁকি দিলো।বুবলি টের পেয়েও তাদের দিকে ফিরে তাকায়নি।<br />
আকলিমা খানম বাইরের কল থেকে হাতমুখ ধুয়ে এলে বুবলি তাকে বাকি তিনখানা শাড়ি থেকে বেছে একখানা শাড়ি হাতে তুলে দিলো। বললো, এটা পরলে আপনাকে একেবারে অপর্ণা সেনের মতো লাগবে!<br />
আকলিমা বললেন, একেবারে নতুন শাড়ি পরে বেরোবো? সামাল দিতে পারবো তো কুচিটুচি?<br />
: আপনি না পারলে কে পারবে? আপনাকে আরো অনেক কিছু পারতে হবে এবং সেটা আজকে থেকে শুরু হলো!’ কথাগুলো বুবলি বেশ গলা চড়িয়ে বললো, যে শাওন ও সৌরভের কান পর্যন্ত যায়।বউ দুটিকে বুবলি প্রথম দিন থেকেই কাউন্ট করছে না!কারণ মেয়েমানুষকে বুবলির একটু বেশিই মানুষ মনে হয়।কিন্তু এই বউ দুটিকে বুবলির মনে হয়েছে ফিলিংলেস! অর্ধেক মানুষ। অর্ধেক না মানুষ! না হলে তাদের স্বামীরা না বলুক, তারা দুজন তো শাশুড়িকে বুঝিয়ে বলবে, বেশি দূরে তো যাচ্ছি না। আপনিও বেড়াতে যাবেন আমরাও এসে এসে আপনার কাছে থাকবো।’ তাতেও তো শাশুড়ি-বউদের একটা নৈকট্য তৈরি হয়!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা বেগম তৈরি হয়ে আসতে আসতে বুবলি তন্ময়কে বললো, একটা কলম আর কাগজ দিতে পারো? তন্ময় কাগজ-কলম এগিয়ে দিলে বুবলি এমন মগ্ন হয়ে লিখতে বসলো, যেন যাকে লিখছে সে বহুদূরে থাকে!<br />
আকলিমা খানম রেডি হয়ে সামনে এলে বুবলি তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে বললো, দেখেছো, বলেছিলাম না, লিমা আন্টিকে এই শাড়িতে অপর্ণা সেনের মতো লাগবে!<br />
তন্ময় বললো, এক্ষেত্রে আমি সুচিত্রা সেনের সাথে যতো তুলনা করতে শুনেছি। অপর্ণা সেনের সাথে তুলনা এই প্রথম শুনলাম!<br />
: আরে সবাই তো আন্দাজে বলে! আর বুবলি যাচাই করে বলে! আর আমার কাছে কিন্তু সুচিত্রা সেনের থেকে অপর্ণা সেনকে বেশি ভালোলাগে। অপর্ণা সেনের কত কাজ।কত মেধাবী তিনি! আর সুচিত্রা সেন ছিলেন একমাত্রিক। শুধু অভিনয়ই জানতেন এবং তিনি খুব অহংকারী এবং জেদী ছিলেন।’ বলতে বলতে বুবলি খাতাটা তন্ময়ের হাতে দিয়ে বললো, আমরা যখন তোমাদের এই কানাগলির মাঝামাঝি গেছি অনুমান করবে, তখন এই খাতার ভেতরের লেখাটুকু পড়বে।<br />
তন্ময় বললো, কী লিখে যাচ্ছো, আল্লাহ্ জানেন!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানমকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে বুবলি টের পেলো সবাই তাদের গমন পথের দিকে তাকিয়ে আছে।<br />
বুবলি যেমনটি বলেছিলো, তন্ময় আরো পরে খাতাটি খুললো।কারণ সে এখন নিজের ধৈর্যের চর্চা বাড়িয়ে নিচ্ছে।<br />
বুবলি লিখেছে-তন্ময়,একসাথে চলাফেরা করা ক’জন মানুষের থেকে একজন হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে তার খোঁজ নেয়াটা আমার পারিবারিক শিক্ষা।তাই সেদিন তোমার খোঁজে এসেছিলাম। কিন্তু আজ সত্যিই আমি লিমা আন্টিকে দেখতে এসেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো উনি ভালো নেই। তুমি বা তোমার পরিবার কখনো যেন আবিষ্কার না করো, আমি তোমার প্রতি দুর্বল! বরং দুর্বল তোমার মায়ের প্রতি। তিনি সেদিন ভেজা চোখে বলেছিলেন, আমার একটি মেয়ে নেই, সে শূন্যতা আমার কোনোদিনই ছিলো না। কিন্তু তোমাকে দেখার পর মনে হচ্ছে, আমার যদি একটি মেয়ে থাকতো!’ কথাটি খুবই মূল্যবান।অন্তত আমার মতো একটি মাতৃহারা সন্তানের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">আর আমি তোমার জন্য একটি জিনিস এনেছি।বালিশের তলায় দেখো।ওটা নিজের করে ভাবতে না পারলেও ব্যবহার করতে থাকো।যখন তোমার সঙ্গতি হবে, দামটা শোধ দিয়ে দিও।বাবার কাছে বলেছি তোমার কথা। তাকে বলেছি, তুমি যা পারো তেমন একটি পোস্ট তোমার জন্য ক্রিয়েট করা হবে।’ চিঠিখানা পড়া শেষ হলে তন্ময় দ্রুত বালিশ উঁচু করে দেখলো একটি দামি মোবাইলের প্যাকেট। বুবলি চিঠিতে যা লিখেছে তা পড়ার পর শক্তহাতে প্যাকেট খুলে মোবাইলটি বের করতে তার আর খারাপ লাগলো না।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/29/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৬) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/18/1401/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/18/1401/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 18 Dec 2021 04:38:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1401</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৬ বনানী থেকে শাহবাগে ফিরে যেতে বুবলি বসেছে সামনের সিটে।পিছনে তিনজনের সিটে ওরা চারজন। পথে এলেনবাড়ি কী একটা চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ওরা খেতে নামলো। তন্ময় তখন বুবলির কাছাকাছি থাকতে উসখুস করছিলো। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-৬</strong></span><br />
বনানী থেকে শাহবাগে ফিরে যেতে বুবলি বসেছে সামনের সিটে।পিছনে তিনজনের সিটে ওরা চারজন। পথে এলেনবাড়ি কী একটা চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ওরা খেতে নামলো। তন্ময় তখন বুবলির কাছাকাছি থাকতে উসখুস করছিলো। কথা বলছিলো আপনি আপনি করে। তা শুনে বুবলি বললো, আমি তো তোমাকে চাকরিটা দিতে পারিনি! তাই আপনি আপনি বলতে হবে না! চাকরিটা দিতে পারলে না হয় এই বাড়তি সমীহ গিলতাম!</p>
<p style="text-align: justify">পল্লব বললো, চাকরি হয়নি কিন্তু হতেও তো পারে! তাই তুমি বলে পথটা বন্ধ করার দরকার নেই!’</p>
<p style="text-align: justify">পল্লবের কথার জের টেনে তমাল বললো, এই তন্ময়, তুই বুবলিকে আপনি এবং ম্যাডাম সম্মোধন করে কথা বলে যা। এখানে ওরও একটা পোস্ট আছে। ও তোকে নিজের সহকারী করে রাখতে পারে…!’</p>
<p style="text-align: justify">সে তো তুইও পারিস। তোর বাবা তো বড় ডেভলপার!’ বলে বুবলি তমালের মাথায় বেশ জোরে চাটি মেরে দিলো।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবেই পরিচয়টা শুরু হয়েছিলো বুবলির সাথে তন্ময়ের। গ্রুপের কজনের ভেতর তন্ময়ের অবস্থাই কেবল খারাপ ছিলে। তাই ওর জন্য সবারই একআধটু সমবেদনা ছিলো। আর সেটাই তন্ময়ের গলায় কাঁটার মতো ঠেকতো। অথচ সে কোনোদিনই নিজের অবস্থার কথা কাউকেই বলতে ভালোবাসে না। আবার মিথ্যে বাহাদুরিও সে দেখাতে যায় না। সত্যি যা, তা যে যা নিজের মতো করে বুঝুক এটাই তার যাঞ্চা!</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি একদিন তাকে একাই ডেকে চারুকলার পুকুরপাড়ে বসে অনেক কথা বলে ফেলেলো। কিন্তু কথাগুলোর ধরন শুনে তন্ময় এমন ভাব করলো, যে সে কিছু শোনেইনি! সেদিন বুবলি বলেছিলো, ওর ওলেভেল পরীক্ষার আগে ওর মা মারা যাওয়াতে ও পরীক্ষায় ফেল করলো। তারপর আরো একবার পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্ট আরো খারাপ হলো। তারপর তার আর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে ইচ্ছে করলো না! এর ভেতর মা মারা যাওয়ার পর যারা সমবেদনা জানাতে এসেছে এবং যেসব কাজিনেরা বাড়িতে মাঝে মাঝে আমাকে সঙ্গ দিতে থেকে যেতো, তাদেরই একজন আমার বড় চাচার ছেলে। তাকে ছোটবেলা থেকেই কেন যেন আমার ভালো লাগতো। আমি সবাইকে রেখে তারই অনুকূল ঘেঁষে থাকতে লাগলাম। বাড়ির ছোটমেয়ে বলে আমাকে সবাই ছোট জানলেও, ওর জন্য আমার ভেতরে কী এক কাতরতা কাজ করতো। আমার ভাইয়েরা তখন বাড়িতে। আমি সবার নজর এড়িয়ে সাবধানে সেই কাজিনের রুমে চলে যেতাম। খোলা রুম আমি গিয়ে বন্ধ করতাম। দিনের বেলা কেউ কারো দিকে চোখ তুলে চাইতাম না! কিন্তু রাতের জন্য আমার রক্তে দুর্ণিবার টান তৈরি হতো। আর তাতেই যেন মায়ের শোকটা চাপা পড়ে গেলো।</p>
<p style="text-align: justify">একসময় সবাইকে যারযার বাড়ি ফিরে যেতে হলো।মরা বাড়ির অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে এলে কেউ একজন বাড়িতে আসাযাওয়া করলে তো বাড়ির পাহারাদার থেকে বৃদ্ধা আত্মীয়-স্বজনের চোখে পড়বে। আর আগে থেকে ওর একজন পছন্দের মেয়ে ছিলো। আমি তা জানতামও। তবু কেন যে যেতাম এখন হিসেব করে বুঝি না!</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময়ের মনে হচ্ছিলো, বুবলি কেন এসব কথা আমাকে শোনাচ্ছে! সে বললো, চলো আমরা আজিজ মার্কেটে গিয়ে নতুন আসা পত্র-পত্রিকা দেখি’ বলে উঠতে গেলে বুবলি তাকে হাত ধরে টান দিয়ে বসালো। তারপর আবার বলতে লাগলো, একদিন আমাকে দেখাশোনা করার যে আয়া ছিলো, সে বললো, তুমি যে দুই মাস ধরে স্যানেটারি ন্যাপকিন কিনতে বলো না?’ আমি বলতে পারতাম আগের ছিলো। কিন্তু আমিও ভাবলাম, তাই তো!<br />
পরে তাকেই ডেকে সব বললাম। সে বললো, এখন কি হবে? যদি কনসিভ করে থাকো, খুব ঝামেলা হবে, জানো না তো! কারণ অবিবাহিত মেয়েদের এবরসন কোনো ডাক্তার করতে চান না! পরে সে আয়াই বললো, ওকে বলো তোমাকে বিয়ে করতে!’</p>
<p style="text-align: justify">আমার তখন আঠারো বছর হয়নি। তবু আমি আয়াকে বললাম, না না, আমি তো নিজের দায়িত্বে ওর কাছে গিয়েছি। এখন ওকে আমি দোষ দিয়ে নিজেকে ছোট করতে পারবো না! তারপর আয়াকে নিয়ে অনেক টাকার বিনিময়ে ভেতরে জন্মানো জীবনটাকে রিমুভ করে এলাম। কিন্তু এখন হলে রিমুভ করতাম না!</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় বুবলির সব কথা এতক্ষণ মন নিয়ে না শোনার ভান করলেও বুবলির শেষ কথার পরে বলে উঠলো তাহলে কী করতে?<br />
: আমার রক্তমাংসের ভেতর যে প্রাণ বেড়ে উঠবে, তাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব কি আমার নয়! এতবড় পৃথিবীতে তার জায়গা হতো না! সভ্য দেশগুলোতে সিঙ্গেল মাদার হওয়ার ভেতর কোনো গ্লানি নেই। না হয় তেমন একটা দেশে চলে যেতাম! না হয় এই দেশেই আমি কারো সাথেই মিশতাম না!<br />
: তুমি যে ওইটুকু বয়সে নিজের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে নিজেকে ছোট করোনি এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না! তবে এসব কথা কি তুমি অন্য বন্ধুদেরও বলেছো?<br />
: না! আমার পরে তুমি তৃতীয়। নূরজাহান, মানে আমার সেই আয়া দ্বিতীয়।<br />
: ঠিকাছে আর বলো না। ভুলতে ভুলতে অনেক কিছু মিথ্যে হয়ে যায়। আর মিথ্যেও অনেকবার বললে সত্যের মতো শোনায়। ওটা তোমার শোকের সময়ের একটা বিভ্রম ছিলো। তুমি তোমার কাজিনকে তোমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করোনি, অতএব সিঙ্গেল মাদার হওয়ার অধিকার তোমার ছিলো।এখানেই তুমি আমার কাছে প্রকৃত মানুষ!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/18/1401/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৫) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/02/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/02/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 02 Dec 2021 12:17:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1359</guid>

					<description><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৫) আল্লাহই জানেন চা নিয়ে এসে কী কথা শুনতে হয়! আকলিমা খানম উঠে গেলে তন্ময় তার পিছে পিছে গিয়ে বললো, মা, তোমার হাতের চুড়ি দুটোয় চারভরি সোনা! : &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৫)</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">আল্লাহই জানেন চা নিয়ে এসে কী কথা শুনতে হয়! আকলিমা খানম উঠে গেলে তন্ময় তার পিছে পিছে গিয়ে বললো, মা, তোমার হাতের চুড়ি দুটোয় চারভরি সোনা!<br />
: সোনা? এই দেখ, রূপোলি ঝিলিক! সোনা এমন হয়? সোনা হলে ও দিতো?<br />
: ওটা ওইভাবে মিনা করা। যেন ছিনতাইকারীরা সোনা চিনতে ভুল করে!<br />
: না, না, তাহলে এ চুড়ি আমি রাখবো না! ওকে ফিরিয়ে দিস!’ বলে আকলিমা খানম চুড়ি দুটো খুলে ফেললেন।</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় বললো, মা আমার যা ফেরত দেয়ার তা আমি কীভাবে দিয়েছি, তুমি দেখেছো! কিন্তু তোমারটা ফেরত দেয়ার সাধ্য আমার নেই। আর তোমারও ও প্রসঙ্গ না তোলাই ভালো। ও দুটো যে সোনা তা সে সিএনজি ছাড়ার সময়ে বলেছে। বলেছে, বললাম এজন্য, নাহলে লিমা আন্টি হেলাফেলা করে রাখবে। আর যারা ওটা চিনবে তারা নিয়ে যাবে…।<br />
: মেয়েটা আমাকে একটা নামও দিয়ে গেলো এ বয়সে!<br />
: শোনো যার কাছে যা থাকে সে তো তাই দেবে। আমরা না জেনে সব বড়লোককে খারাপ বলি!<br />
: বড় লোক মানে বড় মানুষও। যার শুধু টাকা আছে, কিন্তু খরচ করার মন নেই। তাকে টাকাওয়ালা বলা যেতে পারে। বড় মানুষ বলা যাবে না। তুই মেয়েটার নাম্বার দে। আমি ফোন করে মেয়েটাকে বকা দিই!<br />
: আমার ফোনটা আসলে হারিয়ে গেছে। তোমাদেরকে তা বলিনি। আর ওর কাছে সে কথা বললে ওর আরেকটা ফোন ও আমাকে গছিয়ে যেতোই।</p>
<p style="text-align: justify">পল্লব বুবলির বন্ধু। যদিও বুবলি ওদের ক’জনের ভেতর সব থেকে ছোট। পল্লবই বলেছিলো, তো অর্ধসমাপ্ত অনার্স দিয়ে যখন কোনো চাকরিই পাচ্ছিস না, দেখি তোকে একজায়গায় নিয়ে।তোর মাপে কিছু আছে কি না!’ বলে পল্লব বুবলিকে ফোন করে তন্ময় সম্পর্কে সব বললো। শেষ কথা ঠাট্টা করে বললো, তন্ময় দেখতে একেবারে নায়কের মতো। ডায়ালগও আওড়াতে পারে ভালো। চাকরি দিতে পারিস না পারিস দেখে রাখিস। বলা তো যায় না, আমরা যদি কখনো কেউ ছবিটবি বানাই ও কে দিয়ে বিনা টাকায় নায়কের রোলটা করিয়ে নিতে পারবো!</p>
<p style="text-align: justify">ওপাশ থেকে মোবাইলের স্পিকারে ভেসে আসা উত্তরটি তন্ময়ের কানেও পৌঁছে গেলো, ‘খালি চেহারা সুন্দর হলেই নায়ক হওয়া যায় না, জনিস না!’<br />
: আরে লুকও ভালো বলে পল্লব ফোন রেখেই তন্ময়কে বললো, চল বুবলি যেতে বলেছে। ও ওদের বাসা ধানমণ্ডি থেকে রওনা দিচ্ছে। আমরা শাহবাগ থেকে বাসে উঠে বনানী যাই!<br />
: বনানী কেন যাবো?<br />
: বুবলিদের আইটি ফার্মে। বিরাট ফার্ম ওদের বুঝলি!<br />
: আইটি ফার্মে আমার কী কাজ?<br />
: দেখি, যদি বিড়ালের ভাগ্যে সিকে ছেড়ে!<br />
পল্লব, তমাল, শাকিল ও তন্ময় চারজনে মিলে বনানী পৌঁছে বুবলিকে পল্লব ফোন দিলো। সে তখনো জ্যামে। কিছুক্ষণ ওরা অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরি করতেই বুবলি এসে পৌঁছুলো। গাড়ি থেকে নেমে কোনো ধরনের ভূমিকা না করেই পল্লবের দিকে তাকিয়ে বললো, আগে ওকে ইন্টারভিউটা দিইয়ে আনি। এমডি চাচার সাথে কথা বলে এসেছি।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু বুবলি তন্ময়কে রেখে নিজে অফিস থেকে নেমে এসে বিরস বদনে বললো, হবে না। যার সহকারী দরকার তিনিই ইন্টারভিউ নিয়েছেন। ও পারবে না তার সহকারী হতে। তার কিছুটা কাজ জানা থাকলে বাকিটা কাউকে দিয়ে ওকে বিশেষভাবে ট্রেনিং দিয়ে করিয়ে নিয়ে যেতো। কিন্তু এখানে যেসব কাজ হয়, সেসব সম্পর্কে ওর কোনো ধারণাই নেই! আর এটা তো প্রাইভেট কোম্পানি। এদের ইনকাম দিয়েই এদের বেতন দেওয়া হয়। তাই সহকারী দুর্বল হলে কাজের মান পড়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় ফিরে এসে বুবলির কথা নিজেই শুনতে পেলো। তাতে তার কিছুটা ভাবান্তরই হলো। বুবলি সেদিকে নজর না দিয়ে বললো, তা এখন তোরা কে কি করবি?</p>
<p style="text-align: justify">পল্লবই বললো, কি আর করবো? ফিরে যাই। জাদুঘরে আজ একসাথে কয়েকজন বিখ্যাত শিল্পীর গানের অনুষ্ঠান আছে। সেজন্যই আমরা ওখানে একত্র হয়েছিলাম।<br />
বুবলি বললো, সে<br />
তো বিকেল থেকে শুরু হবে?<br />
হ্যাঁ! কিন্তু তাই বলে তো আর এখন ঘরে ফিরে যাওয়া যাবে না। একেকজন একেকদিক থেকে এসেছি। তুই বরং আমাদের কিছু খাওয়া!<br />
: চল, তোদের সাথে আমিও গান শুনি। আমারও চারুকলায় কাজ আছে। আমি একছাত্রের কাছে ছবি আঁকা শিখবো। কথা হয়েছে।<br />
: ছবি যদি আঁকা শিখতে হয়, ছাত্র কেন, তুই চারুকলার কোনো টিচারের কাছে শেখ। তোদের তো আর টাকার অভাব নেই!<br />
: টাকা থাকলেই বুঝি খরচ করতে হয়? আর বাচ্চার হাতেখড়িতে প্রফেসারের দরকার হয় না!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/02/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৪) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 20 Nov 2021 02:57:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1296</guid>

					<description><![CDATA[ধারাবাহিক গল্প পর্ব-৪ ড্রেন উপচে গড়ানো পানি বাঁচিয়ে তন্ময় আর বুবলি লাফিয়ে লাফিয়ে দীর্ঘ সরু গলি পার হতে হতে তন্ময় বললো, তুমি কোন সাহসে এই গলিতে ঢুকলে বলো তো? : &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>ধারাবাহিক গল্প পর্ব-৪</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">ড্রেন উপচে গড়ানো পানি বাঁচিয়ে তন্ময় আর বুবলি লাফিয়ে লাফিয়ে দীর্ঘ সরু গলি পার হতে হতে তন্ময় বললো, তুমি কোন সাহসে এই গলিতে ঢুকলে বলো তো?<br />
: বারে, এখানে সারাক্ষণ শত শত মানুষ পার হচ্ছে না! অন্তত মরার আগে তো জেনে মরার অধিকার আছে, নিজের জানাশোনার বাইরেও কতরকম জীবনযাপনের ধারা আছে।</p>
<p style="text-align: justify">বড় রাস্তার পাশে ওরা দুজন দাঁড়িয়ে কথা বলছে।একটা খালি সিএনজি দেখে তন্ময় তা ডেকে আনতেই ড্রাইভারের অনুমতি নিয়ে বুবলি উঠে পড়লো। স্টার্ট দেয়ার আগে বুবলি মুখ বাড়িয়ে তন্ময়কে বললো, লিমা আন্টিকে যে চুড়ি দুটো দিয়েছি, ও আমার মা’র চুড়ি। মা’র স্পর্শ পেতেই আমি মাঝে মাঝে পরি। আবার খুলে রাখি। ও দুটোতে চার ভারি সোনা। সোনার ওপরে রূপালি মিনে করা।যেন ছিনতাইকারীর নজরে না পড়ে। সোনা বললে উনি নেবেন না মনে করে আমি আর বলিনি!তোমাকে বললাম, কারণ হেলাফেলা করে রাখলে শেষে হারিয়ে যায়।<br />
বুবলির কথা শেষ হতেই ড্রাইভার জোরে সিএনজি টান দিলো।তন্ময় তার চোখে উদ্রিত সীমাহীন বিস্ময়ের কণামাত্রও বুবলিকে দেখানোর সুযোগ পেলো না!</p>
<p style="text-align: justify">কখন কিভাবে বাসায় ফিরেছে, উড়ে কিবা সেই ড্রেনের পানি থেকে পা বাঁচাতে শরীর বেঁকেচুরে লাফ দিয়ে দিয়ে তন্ময়ের মনে পড়ে না! জীর্ণ, রঙচটা গেটটিতে টোকা পড়তেই গেট খুলে আকলিমা খানম হাসি মুখে ছেলেকে ধরে নিয়ে বললেন, মেয়েটির কথা কোনোদিনও বলিসনি তো! আজ কতদিন পর কেউ আমাকে কিছু দিলো। তোর জন্য আমার মনটা আজ ভালো হয়ে গেলো। জিনিস যত সামান্য হোক, কারো থেকে কিছু পাওয়া ও দেয়ার ভেতরে একটা অন্য রকম আনন্দ উৎপন্ন হয়। পাওয়ার থেকে অবশ্য দিতেই আমার ভালোলাগে।<br />
: জানি তো। দিয়ে দিয়েই তো নিজের সব শেষ করেছো!<br />
: হু, এবার বল্, মেয়েটির কথা আগে বলিসনি কেন?</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় আশ্চর্য হয়ে বললো, আমার জন্য কেন তোমার মনটা ভালো হবে?<br />
: তোর খোঁজেই তো এ বাড়িতে এসেছিলো। জানিস, যার যা নেই, তা নিয়ে তার কোনো বোধও থাকে না।আমার মনে হতো, আল্লাহ আমাকে একটা মেয়ে না দিয়ে ভাল করেছে এই টানাপোড়েনের সংসারে…! আজ মনে হচ্ছে আল্লাহ আমার দুঃখ বাড়াবে বলেই ওকে এভাবে আমার সামনে এনে হাজির করেছে!<br />
: আমার খোঁজে এসেছিলো, হাতে কাজ নেই, যতই জিন্স-পাঞ্জাবি পরে থাকুক, মেয়ে মানুষের মন তো। ভাবছিলো মরেটরে গেছি কি না! আর ও তোমাকে যা দিয়েছে, তা তোমার জন্যই দিয়েছে।আজকাল কেউ অপরিচিত মানুষ বাড়ি ঢুকতে দেয়? সেখানে তুমি ওর জন্য টাটকা রান্না করে খাইয়েছো।দুইবার মগ ভরে চা খাওয়ালে। যেন কতকালের চেনা।</p>
<p style="text-align: justify">মা, পারোও বটে তুমি! শুধু তোমার সন্তানেরাই তোমাকে চিনলো না! আজো তুমি আমাদের সবার হাতের থেকে কাজগুলো টেনে নিয়ে নিয়ে করো, যেন সব তোমারই দায়! অথচ আমরা তোমার কথা বলতে গেলেও ভাববাচ্যে বলি। গুণ তো গাই-ই না!<br />
: আমি যা করি, সব মা-ই তাই করে! আর মা’রা নিজের প্রতি সন্তানের অবহেলা বুঝেও তো অবহেলা ফেরত দিতে পারে না!<br />
: রাখো তোমার সব মা! মানুষের বাড়ি গিয়ে দেখেছি না, এককাপ চা যদি চাকর-বাকরের হাতে পাঠালো তা মুখে দেয়া যায় না। কত বন্ধুর বাড়ি কতদিন কতকাজে গেছি। কত কত অপেক্ষা করে সময় কাটিয়েছি, পর্দার ওপাশে বসে তারা খাওয়া-দাওয়া করেছে, অথচ কারো মা এসে একটিবার জিজ্ঞেস করেনি, খাব কি না!<br />
: কি জানি বাপু, আমি ভাবতেই পারি না আমার বাড়ি এসে কেউ পেটে ক্ষুধা নিয়ে থাকবে!<br />
: পরের ছেলে-মেয়েকেও যে নিজের ছেলে-মেয়ে মনে করো, তা তোমার ছেলেদের বউ দুটিও কি টের পেয়েছে! দুজনই তো তোমার অনুগ্রহ নিয়ে এ সংসারে ঢুকেছে। ঢোকার পর থেকেই তো তাদের সাধ আহ্লাদের দিকে তোমার নজর।</p>
<p style="text-align: justify">সোনাদানা যা ছিলো একটু একটু করে দুই বউকে দিয়েছো। কই আমার বউয়ের জন্য তো কিছু রাখোনি!<br />
: কি এমন ছিলো, যা আমি দিয়েছি? তোর বউয়ের জন্য আল্লাহ দিবে!<br />
: আল্লাহ আর দিয়েছে তোমাকে! এই যে তোমার ছেলে দুটি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে, তাদের ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করবে তাদের জন্য ভালো পরিবেশ দরকার। যেতেই হবে। চিরকার সব অনঢ় থাকার নয়। কিন্তু আমার কথা বাদ দাও, তোমাকে কি কেউ বলে, সাথে যেতে? কীভাবে একা থাকবে সে ভাবনা তোমাকে অসুস্থ করে তুলছে। আমি বুঝতে পারি…।<br />
: তুই আছিস না?<br />
: আমি থেকে তোমার কী করতে পারছি। আমি বেকার। ভালো কোনো চাকরির বিদ্যা আমি অর্জন করতে পারিনি। এইটুকু বিদ্যা নিয়ে যে কাজ পাই, তা আমার দ্বারা করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমি বেকার জেনেও আমার দুটি ভাই কখনো কি আমাকে হাতে কিছু টাকা দিয়েছে? কিন্তু দিতে তারা বাধ্য। কারণ তাদেরকে লেখাপড়া করাতে তুমি তো বাবার টাকাই খরচ করেছো?<br />
: একথা বল তাদের সামনে গিয়ে!<br />
: মা আমি তো তোমার পেটে হয়েছি! আমি দেখছি, বাবা থাকতে তোমার একটা তেজ ছিলো। ঠিক ফণাতোলা সাপের মতো মনে হতো। কিন্তু সাপের মতো বিষ তোমার কোনোদিন ছিলো না! তাই তুমি কখন যে মাটি হয়ে গেছো, তুমি নিজেই টের পাওনি। নাহলে যে তুমি ডানার নিচে আমাদের আগলে রেখেছো, সেই তুমি তোমার থেকে জন্ম নেয়া সন্তানের কাছে স্বীকার করে ফেলো, একা বাড়িতে থাকতে তুমি এখন ভয় পাও!<br />
: এটাও আল্লাহর ইচ্ছে। বুঝলি! এইটুকু ভয়-ভালবাসার আঠাকষা না থাকলে তো সংসারই থাকবে না! আর আমার বলার আমি বলি। অন্তত পরে নিজেকে বোঝাতে পারবো, আমি তো আমার অসহায়তা আমার সন্তানদের কাছে ব্যক্ত করেছিলাম!<br />
: কিন্তু সবার অবহেলা পেয়েও তো তুমি থেমে থাকো না, কেউ নিজের কাপড়টা ধুতে গেলেও তাকে তুলে দিয়ে নিজে আছড়াতে থাকো!<br />
: চুপ কর! বউয়েরা এসব শুনে মন খারাপ করবে।</p>
<p style="text-align: justify">ওদের কোনো কাজ করতে দেখলে মনে হয় সব শক্তিই তো কবরে নিয়ে যাবো। যেটুকু পারি ওদের জন্য খরচ করি।আমার বয়সে এসে ওরাও তাই করবে!<br />
: তাতে তোমার লাভ হবে কি?<br />
:লাভ এই যে মর্মজ্বালা না থাকলে বুঝতাম না হয়তো জীবনটা কত সুন্দর!<br />
: এখনো মনে হয় তোমার কাছে যে জীবনটা সুন্দর?<br />
:যাদের ছেলে-মেয়ে নেই তাদেরকে ভালোবাসবার মতোও কেউ নেই, অবহেলারও কেউ নেই। তাই বলে তারাও কি ভালো আছে?<br />
: তাহলে ছেলে-মেয়েদেরও বোঝা উচিৎ মায়ের মতো কেউ নেই!<br />
: সাথে বাবার কথাও বলো!<br />
: মা, অনেক বাবাকে দেখেছি, স্ত্রী মারা যাওয়ার পনের দিন না পেরোতে আরেকজনকে ঘরে আনার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">খন তো আমি বড় হয়েছি, আমারও দেখার দৃষ্টি হয়েছে! আরে বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে দেখছি না, যাদের মা মারা গেছেন!<br />
: হয়েছে! দুনিয়াতে সুখ-শান্তির ঘটনাও কম নেই!<br />
: শোনো মা, তোমার কাছে টাকা আছে?<br />
: না রে! কোত্থেকে আসবে?<br />
: একটু সোনা-রূপা?<br />
: সোনা-রূপার ওপর লোভ আমার কখনো ছিলো না। তবে যা ছিলো বউমা দুজন, তারপর নাতি-নাতনিদের দিয়েছি।<br />
: তোমার নিজেকে অসহায় লাগে না এই যে তোমার হাত একেবারে খালি…।<br />
:অসহায় লাগে তো! তবে বাড়িটা তো তোর বাবা আমার নিষেধ সত্তে্বও আমার নামে করায় কিছুটা রক্ষে। কিন্তু জমি বিক্রি করে তো খুচরো খরচ মেটানো যায় না!<br />
: দেখো, ধান ভানতে শীবের গীত গাইলাম আমি!<br />
: মানে কি? আজ এতকথা বলছিস কেন? অন্যদিন তুই-ই বা কয়টা কথা বলিস আমার সাথে?<br />
: আজ তো ওই মেয়েটাই আমাকে পাগল করে গেলো!<br />
: আগে বুঝি পাগল হোসনি? ও এমনি এ্যদ্দূর এসেছে?<br />
: আরে মা পুরোটাই খামখেয়ালিপনা! মন থেকে এসব ধুয়ে মুছে ফেলো। নাহলে তুমি পাগল হবে আর ওই মেয়ে ভালই থাকবে! বড়লোকরা ভালই থাকে।<br />
: আমি পাগল হলে হবো। যা তো!<br />
: কিন্তু আরো একটা কথা শুনলে তো তুমি ভিরমি খাবে!<br />
: তাহলে না শোনাই ভালো!<br />
: আচ্ছা শুনো না!<br />
: বল তো! আজ বহুদিন পরে আমারও নিজেকে নতুন মানুষ মনে হচ্ছে!<br />
: তো যাও, ওই বুবলির চায়ের মতো আমার জন্যও ঘন দুধ দিয়ে কড়া চা নিয়ে এসো!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/20/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-৩) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/06/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/06/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 06 Nov 2021 04:48:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1243</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৩ আকলিমা খানম জোহর এবং আসরের নামাজ একসাথে পড়ে সবার জন্য আবার চা বানিয়ে বুবলির হাতে আগে বড় একটি মগ ভর্তি করে দিয়ে আবার চলে গেলেন। যেতে যেতে বলে গেলেন, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">পর্ব-৩</span><br />
আকলিমা খানম জোহর এবং আসরের নামাজ একসাথে পড়ে সবার জন্য আবার চা বানিয়ে বুবলির হাতে আগে বড় একটি মগ ভর্তি করে দিয়ে আবার চলে গেলেন। যেতে যেতে বলে গেলেন, আমার শুধু তিনটি ছেলে। কোনোদিন আমার একটি মেয়ে না থাকার জন্য দুঃখ বা শূন্যতা ছিল না। আগে ভাবতাম ছেলে বিয়ে দিলেই মেয়ে আসবে।আজ এইটুকু সময়ে তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে আমার একটি মেয়েও থাকা দরকার ছিল!<br />
তন্ময় বললো, আম্মা, তুমি ওর ভেতর মেয়ের কী দেখলে? ও তো পরেই আসছে জিন্স-পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির ওপরে যেখানা পরে আছে, তা ওড়না হিসাবে নয়, উত্তরীয় হিসাবে পরেছে! দেখো কবিতা লেখা…। যদিও উত্তরীয়-ওড়না দুটি শব্দের মানে একই।</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম ফিরে গিয়ে সবার জন্য চা এনে সন্ময়সহ দুই বউয়ের হাতে হাতে নিজেই সে চা তুলে দিলেন। আজ তিনি সবার কাপেই একটু বেশি করে চা ঢেলে ফেলেছেন। যা সবার হাতেই ছলকাচ্ছে।<br />
দ্বিতীয় কাপ চা খেয়ে বুবলি চলে যেতে উঠে পড়লো।তন্ময় বললো আমি আসছি একঘণ্টা হয়নি আর তুমি চলে যাবে? বসো আমিই এগিয়ে দিয়ে আসবো!<br />
বুবলি হেসে বললো, তোমার সাথে যাব না। যেভাবে এসেছি, সেভাবে একই যাব বলে ভেবে ফেলেছি! আচ্ছা, তোমাকে ফোন করে পাইনি কেন?<br />
আমার ফোনটা নষ্ট হয়ে গেছে। দোকানে ঠিক করতে দিয়েছি। মেকানিক বলল, আরো ক’দিন সময় লাগবে। ওরা রোগ ধরতে পারছে না!<br />
বুবলি তার দুটি ফোনের একটি থেকে সীম খুলে রেখে তন্ময়কে দিয়ে বলল, এটা রাখ। তোমার ফোন ফিরে এলে ইচ্ছে করলে আমারটা ফিরিয়ে দিতেও পার নাও পার!</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় ছিঁটকে পিছনে ফিরে বলল, না না এ তুমি কিছুতেই আমাকে দিতে পারবে না! আমি আমার মা বাবার তৃতীয় সন্তান। একটু আদর যেমন বেশি পেয়েছি, তেমনি অভাবের ভাগটাও আমার ভাগে বেশি পড়েছে। তাই আমিও সব টানাপোড়েন সইতে শিখেছি এবং সেই ফিলিংটা আমাকে একধরনের আত্মপ্রসাদ এনে দেয়! তারপর বুক চাপড়ে বলল, ‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান/তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান…।’ অনভ্যস্ত কণ্ঠে এটুকু বলে তন্ময় থেমে গেল। কিন্তু নির্ভুলভাবে দীর্ঘ কবিতাটি বুবলি আবৃত্তি করল। আর তাতে তার প্রতি সবার মুগ্ধতা বেড়ে গেল।</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় বললো, তোমাদের বলেছিলাম না, ও কী চিজ, ধীরে ধীরে টের পাবে!<br />
ফোন নিয়ে মৃদু বাদাবাদির ও কবিতা আবৃত্তি পর বুবলি তার ফোনটি আবার ব্যাগে ভরে রাখে। তারপর আকলিমা খানমের দিকে চেয়ে বলল, আপনার ছেলেকে আমি ফোনটি ধার দিতে চেয়েছিলাম। নিলো না! আপনাকে আমি একটি জিনিস দিতে চাই।নেবেন?<br />
আকলিমা খানম না বুঝেই বললেন,কি দিতে চাও?</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি তার ব্যাগ থেকে দুটি চুড়ি বের করলো।আকলিমা খানম হাত বাড়িয়ে বললেন, দাও।’ বুবলি আকলিমা খানমকে চুড়ি দুটি দুহাতে পরানোর পর আকলিমা খানম হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে বললেন, জানো সোনাদানার ওপর আমার কোনো লোভ কোনোকালেই ছিলো না। তবে এরকম সব জিনিস খুব কিনতাম। তন্ময়ের বাবার সাথে কখনো চারুকলা, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমির পাশ দিয়ে গেলে রিকশা থামার আগেই লাফিয়ে নেমে পড়তাম। এসব কিনতে। আর সেই যুবতী বেলায় গাওছিয়া মার্কেটে গেলে দুর্দাড় করে আগে এ ধরনের মালা-চুড়ি-দুল এগুলো কিনে নিতাম। তারপর নিজেরও বয়স হলো, বউদের আবার এসবে দেখি কোনো আকর্ষণ নেই। তাই এখন এসব কেনাকাটার অভ্যেসও চলে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি বলল, আমি তো ইংলিশ স্কুলে পড়েছি। ছোটবেলা থেকে আমারও পরার অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। কিন্তু বিভিন্ন উপলক্ষে সেই ছোটবেলা থেকেই আমি মায়ের জন্য কিনতাম। এখনো কেনার অভ্যাস রয়ে গেছে। মায়ের স্পর্শ পেতেই মায়ের গহনা আমি মাঝে মাঝে পরি।আবার খুলে ব্যাগে রেখে দেই!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/06/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক গল্প (পর্ব-২) ॥ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/10/30/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/10/30/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 30 Oct 2021 04:39:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1216</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-২ একপর্যায়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বুবলিকে রেখেই বউ দুটিকে তাদের যার যার সন্তান নিয়ে মধ্যাহ্নের ব্যস্ততায় ভিড়তে হলো। শুধু সঙ্কটাপন্ন মনোভাব নিয়ে আকলিমা খানমকে বুবলির সামনে বসে থাকতে হলো। বলার মতো &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-২</strong></span><br />
একপর্যায়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বুবলিকে রেখেই বউ দুটিকে তাদের যার যার সন্তান নিয়ে মধ্যাহ্নের ব্যস্ততায় ভিড়তে হলো। শুধু সঙ্কটাপন্ন মনোভাব নিয়ে আকলিমা খানমকে বুবলির সামনে বসে থাকতে হলো। বলার মতো কোনো কথাই খুঁজে পাচ্ছেন আকলিমা খানম। তিনি বললেন, আমি তোমাকে একটা গল্পের বই দিই পড়তে থাকো। তারপর তোমার জন্য একটু খাবারের জোগাড় করি।আমার বউমা দুজন বুঝতে পারেনি যে দুপুরে আসা অতিথিকে দুপুরের মতোই খাবার দিতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি বললো, খাবার দেবেন? দেন! কিন্তু আমি যে একেবারে শূন্য হাতে চলে এসেছি।বাড়িতে বাচ্চা আছে।আসলে আমার মাথায় আসেনি এসব। আর বাসা পর্যন্তই আসতে হবে ওকে খুঁজতে তাও ভাবিনি।<br />
আকলিমা খানম বললেন, ওমা, সে কি কথা! তুমি যে কারণেই আস না কেন, আমি প্রথমে ভড়কে গেলেও এখন কিন্তু আমার ভালো লাগছে।বলে তিনি একবোঝা বই এনে বুবলির সামনে রাখলেন। দেখলেনও না স্তূপাবস্থায় কী কী বই দিলেন। তারপর দ্রুতই আবার এসে এককাপ চা তার সামনে রেখে গেলেন।</p>
<p style="text-align: justify">এটুকু সময়ের ভেতর চা! বুবলি যে আশ্চর্য হয়ে আকলিমা খানমের দিকে তাকালো, আকলিমা খানমের আর সময় ছিলো না তা চোখ পেতে দেখার। তিনি দৌড়েই রান্নাঘরে ঢুকলেন এবং বুবলি সম্পর্কে মনে মনে ভাবলেন, এর ভেতর কোনো মেয়েলি আচরণ টের পাচ্ছি না। আবার কোনো পুরুষালী আচরণও করছে না। অথচ চেনাজানা কোনো মেয়ের সাথে একে তুলনা করা যাচ্ছে না। তিনি ভাবতে লাগলেন, তন্ময়ের সাথে এমন একটি মেয়ের অপেক্ষা করার সম্পর্ক কেন হতে যাবে! কী চায় সে তন্ময়ের কাছে! দেখে তো মনে হচ্ছে বড়লোলোকের মেয়ে। দু-দুবার ফেল করেছে, তাও কেমন অকপটে স্বীকার করলো।</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম গরম ভাত আর ডিমের গরম গরম দোপিঁয়াজি এবং মাখা মাখা ডাল ট্রেতে সাজিয়ে ড্রয়িংরুমের টিপাইয়ের ওপর রাখতেই বুবলি তা নিয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে এলো। বললো, লিমা আন্টি আপনি কষ্ট করে এটুকু সময়ের ভেতর আমার জন্য বাড়তি আয়োজন করেছেন, এই তো বেশি। আমি টেবিলে বসে আপনার সাথেই খাই।<br />
আকলিমা খানম বললেন, আমার নাম লিমা তা তোমাকে কে বললো?<br />
: ওই যে গেটে আকলিমা খানম লেখা?<br />
: কিন্তু লিমা?<br />
: আমি একটু মডার্ণ করে নিলাম!<br />
বুবলির কথায় অনেক দুঃখের ভেতরও হেসে ফেললেন আকলিমা খানম। তারপর তিনি খেয়াল করলেন, তিনি মেপে যা খাবার দিয়েছেন, তার প্রায় সবটাই বুবলি খেয়েছে এবং তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছে।তাকেও তার পাশে বসে খেতে বাধ্য করেছে। এতে তার এই অসময়ে ঝক্কি করার ক্লান্তি বহুগুণ আনন্দে ভরিয়ে দিলো। কারণ তিনি খেয়াল করছেন, তিনি রান্না করছেন জানলেই ছেলেরা একটা না একটা খুঁত বের করে। এমন লেখাপড়ায় এগোতে না পারা, কোনো কাজকর্ম জোগাড় করতে না পারা ছোটটাও। আর বউ দুটোও কখনো বলে না, কোনটা কেমন হলো। এইসব ছোটখাটো ঘটনার মাধ্যমে তারা তার বেঁচে থাকার আনন্দের উৎসে ছাই ছিটিয়ে দেয়। আজ এই অযাচিত অতিথি মেয়েটির মুখের একটু তৃপ্তিভাব তাকে যে সুখভাবটুকু এনে দিলো, তিনি সেই জোয়ারে ভেসে বললেন, আবার চা খাবে মা?<br />
:এখুনি দেবেন? আপনার কষ্ট হবে না?<br />
: তুমি খেয়ে আনন্দ পেলে আমার খারাপ লাগবে না!<br />
: দেন তাহলে? আমি কিন্তু ঘন দুধের চা খাই!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম অনেকদিন পর একটু হাসলেন। বললেন, আমিও। আর মনে মনে বললেন, কিন্ত সেদিন তো এখন বাসি। সেই ঘন দুধের চায়ের দিন! আসলে চা তিনি নিজের জন্য কখনোই করেন না।<br />
আকলিমা খানম বড় কাপ ভরে ছলকানো চা নিয়ে বুবলির কাছে পৌঁছুতেই গেটে কলিংবেলের শব্দ। বউয়েরা তাদের বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত। বাড়িতে কোনো কাজের লোক নেই তাই তাকেই যেতে হলো গেট খুলতে!<br />
এই ঘোর অসময়ে তন্ময়কে দেখে আকলিমা খানম আঁতকে উঠলেন। সাধারণত তার ছোট ছেলে কখনো বাসা থেকে বের হতে ভর দুপুর লাগায়। কিন্তু ভর দুপুরে বাসায় ফেরে না। তিনি নিচু কণ্ঠে বললেন, তোর জন্য একটি মেয়ে এসে অপেক্ষা করছে। তন্ময়, সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ে বললো, আমার জন্য কেউ বাসায় এসে আপেক্ষা করবে? তাও আবার একটা মেয়ে? দেখি সরো তো, কে?<br />
তন্ময় মাকে ঠেলে সরিয়ে নিজেই বসবার ঘরে ঢুকে বুবলিকে দেখে মাথায় হাত দিয়ে বললো, তুমি?<br />
: তোমাকে ক’দিন দেখি না। ফোন করি, কল ঢোকে না, তাই ভাবলাম, খুঁজে দেখি তোমার কি হলো?<br />
: তন্ময় একটু লজ্জা পেয়ে বললো, যাহ, আমাকে এতো খোঁজাখুঁজি করার মতো কি তোমার সাথে আমার সম্পর্ক? বুঝেছি, পল্লব, রায়হান, সাকিরা কেন তোমাকে মহিলা হিমু বলে! তা এরা তোমাকে কিছু খেতেটেতে দিয়েছে তো? বড় ভাবি…! মেজো ভাবি…!<br />
তন্ময়ের ডাকে আশ্চর্য হয়ে দুদিকের দুই রুম থেকে দুই বউ ছুটে এলো। আকলিমা খানম বললেন, কেন সবাইকে ডেকে বাড়ি মাথায় করছিস? আমি ওকে খাইয়েছি!</p>
<p style="text-align: justify">ভাবিরা এসে তন্ময়ের দিকে চোখ টিপে হাসতে লাগলো। বোঝাতে চাইলো, তলে তলে এদ্দূর! দুই বউয়ের ভাববাচ্যের প্রশ্নের উত্তর তন্ময় বুবলির সামনেই দিলো। বললো, ওর এই আগমন তোমরা বাঁকা চোখে দেখো না!<br />
বড় বউ চোখ কাৎ করে বললো, না তো! একদম সোজা চোখে দেখছি!<br />
তন্ময় মেজো বউয়ের দিকে চেয়ে বড় বউয়ের কথার উত্তর দিলো। বললো, ভাবি, ও হলো মহিলা হিমু! নাহলে আমাদের এই এঁদো গলিতে ঢুকে ড্রেনের উপচেপড়া পানি পায়ে মাখামাখি করে আসতে পারে?’<br />
মেজো বউও কী ইশারা করলো চোখে।তার ইশারার জের ধরে তন্ময় কথা অব্যাহত রাখলো, বললো, যেখানে আমরা একবার ঢুকলে আর কেউ বেরোতে চাই না, পায়ে ড্রেনের গড়ানো পানি লাগবে বলে! সেই গলি পেরিয়ে আমার মতো এক হতচ্ছাড়ার জন্য যে এসে বসে থাকে, সে আসলে এক ঘরবিরোধী মানুষ! আর তা তোমরা ধীরে ধীরে টেরও পাবে। আর মা জানো, ও একজন তুখোড় ছাত্রী। তবু ইচ্ছে করে ফেল করে আমার মতো কয়েকজন বাউণ্ডুলের সাথে পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়ায়! আর আমাদের খাবারের বেশির ভাগ দাম ও-ই মিটায়।<br />
মেজো বউ ফিসফিসিয়ে বললো, ও কোথায় চাকরি করে?</p>
<p style="text-align: justify">তন্ময় জোরে উত্তর দিলো, ও চাকরি করবে কি? ওদের আইটি ফার্ম আছে। সেখানে ওর আন্ডারেই অনেকে চাকরি করে!<br />
দুই বউ প্রায় একসাথে বললো, তয় যে বললেন …দুবারই ফেল করেছে?<br />
ফেল করে কারো অধীনে চাকরি করা যায় না। কিন্তু যারা চাকরি করতে পারে তাদের বস হওয়া যায়।<br />
তন্ময় নিজেই আজ রান্নাঘরে ঢুকে খালি হাঁড়িপাতিল কাছিয়ে যেখানে যতটুকু পেলো একসাথে নিয়ে বসতে বসতে বুবলিকে বললো, খাবে নাকি আর চারটে?<br />
: না ভাত আর খাবো না পেট ভরা আছে। তবে লিমা আন্টি তোমাকে যখন চা দেবে আমাকেও দিতে বলো?<br />
তন্ময় চোখ কপালে তুলে বললো, লিমা আন্টি কে?<br />
: তোমার আম্মা! আকলিমা থেকে লিমা রেখেছি!<br />
: বাহ্, এটা তো আমাদের মাথায় কখনো আসেনি! বরং সেকেলে নাম বলে কেউ মায়ের নাম জিজ্ঞেস করলে কুণ্ঠিত হই!<br />
: কেন? আকলিমা নাম খারাপ কি? আকলিমা অর্থ দেশ, সাম্রাজ্য। আদম আ.এর এক কন্যার নাম আকলিমা ছিলো। যাকে কেন্দ্র করে হাবিল এবং কাবিলের সাথে কলহ বাঁধে এবং একজনের মৃত্যুর ভেতর দিয়ে কলহ শেষ হয়।<br />
তন্ময় বললো, কোনখান থেকে মেরে দিলে তা স্বীকার করলে না?<br />
বুবলি বললো, এটা সত্য কথা। কোথায় পড়েছি আমি মনে করে বসে আছি নাকি?</p>
<p>চলবে…</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/10/30/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল ॥ দীলতাজ রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/10/16/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a3-%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/10/16/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a3-%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 16 Oct 2021 16:32:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1203</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-১ দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল বুবলি নামের এক ঊনিশ-বিশ বছরের মেয়ে বিধবা আকলিমা খানমের জীবন ও সংসারে এক স্বর্ণালী আভার মতো উদিত হয়েছে।আকলিমা খাতুনের স্বামী নেই প্রায় একযুগ। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">পর্ব-১<br />
দ্বিতীয় শ্রাবণ ফোটালো প্রথম কদম ফুল</p>
<p style="text-align: justify">বুবলি নামের এক ঊনিশ-বিশ বছরের মেয়ে বিধবা আকলিমা খানমের জীবন ও সংসারে এক স্বর্ণালী আভার মতো উদিত হয়েছে।আকলিমা খাতুনের স্বামী নেই প্রায় একযুগ। স্বামী যখন মারা গেছেন, ছেলেদের তখনো কোনোটা লেখাপড়াই শেষ হয়নি। স্বামী হাবিবুর রহমানের ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা যৎসামান্য টাকা-পয়সা আকললিমা খানম খুঁটে খুঁটে গুছিয়ে বড় দুটির লেখাপড়া শেষ করিয়েছেন। বিয়ে দিয়ে সংসারী করেছেন। কিন্তু ছোট ছেলে তন্ময় পাবলিক কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ায় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে ছিলেন। সেখানেও রেজাল্ট ভালো না করায় সে নিজেই মাঝপথে লেখাপড়া ছেড়ে দিলো।</p>
<p style="text-align: justify">লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়ার পর সেই সকাল হলে আকলিমা খানমের ছোট ছেলে তন্ময় বেরিয়ে যায়। আসে অনেক রাতে। তার হাত খরচ যা, তা সে মায়ের কাছ থেকেই নেয়। তবে জুলুম করে নেয় না। কারণ সে জানে, বাবার যা ছিলো, ভাঙাচোরা রাস্তা বেয়ে সরু কানাগলির শেষ মাথার এই চার রুমের সেমিপাকা বাড়িটি ছাড়া আর কিছু নেই! তাও বাবা বাড়িটি মার নামে কিনেছিলেন বলে মার রক্ষা। নাহলে বড় দুইভাইয়ের যা রূপ প্রকাশ হতে দেখছে সে, এ বাড়ি বিক্রি করে যার যার ভাগের টাকা নিয়ে তাকে আর তার মাকে পথে বসিয়ে যেতো।</p>
<p style="text-align: justify">আর তন্ময়ের বড় দুই ভাইয়ের ধারণা, মা কুড়িয়ে কাছিয়ে যা করুক টাকা তো বাবারই। বাবারই দায়িত্ব ছিলো তাদের লেখাপড়া করানো।এখন তাদের লেখাপড়া শেষ।চাকরি হয়েছে।যারযার সংসার হয়েছে।একটি দুটি করে সন্তানও হয়েছে।এখন তারা দুই ভাইয়ের কেউই আর সরু এঁদো গলির টিনসেড বাড়িতে থাকতে চাইছে না। তারা বুঝে গেছে, যে বাড়িতে গাড়ি ঢোকা দূরে থাক রিকশাও ছাড়তে হয় বড় রাস্তায় নেমে, সে দুইকাঠা জমি আর কত বিক্রিও হবে! তাই আকলিমা খানমের বড় দুই পুত্রের পরিকল্পনা দুইভাই-ই তারা এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আলাদা আলাদা থাকবে।</p>
<p style="text-align: justify">বড় দুই ছেলে আর দুই বউয়ের পরিকল্পনার টুকটাক কথা যা কানে আসে আকলিমা খান বুঝে নেন বেশিটা। কিন্তু কাউকে বলেন না কিছুই। ছেলেরা বউয়েরা নিজেরা নিজেরা যা আকলিমা খানমকে না জানিয়ে পরিকল্পনা করে, তারা মনে করে, মা এটুকু জানে না। কিন্তু ভাবগতিকে মা আকলিমা খানমের মনে খবর হয়ে তিনি যে ভয়ে দমে আছেন, সেটুকু তিনি লুকিয়ে রাখেন না। তিনি ছেলেদের বলেন, তোরা যে যার মতো চলে গেলে আমি একা থাকতে ভয় পাবো!<br />
ছেলেরা বলে, তোমার ছোট ছেলে তো রইলো। আর ভয়ই বা কি?<br />
: আমি তো কখনো একা থাকিনি। তোদের বাবা আমাকে রেখে কোনোদিন কোথাও যায়নি! তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও তিনি তা তদবির করে ঠেকিয়েছেন। সংসার পাগল মানুষ ছিলেন তিনি।তোদেরকে ছেড়ে একটা রাত তিনি কোথাও থাকবেন,এ তিনি ভাবতেও পারতেন না!তারপর তোরা তিন ভাই বড় হতে হতে বাড়িটা চাঁদের হাট হয়ে উঠলো। তোদের বাবা মারা গেলেও পরপর বাড়িতে দুটো বউ এলো, তারপর এই যে আমার তিন তিনজন নাতি-নাতনি, আমি তো মরণ পর্যন্ত এদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না!’</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম এতখানি আক্ষেপ-শঙ্কা নিজের পেটের ছেলেদের কাছে অকপটে ব্যক্ত করে ফেলে নিজের মনের ভার নামালেও টের পান, তার কথা ছেলেরা আমলে নিচ্ছে না।তারওপর বড় দুই ছেলের কেউই বলছে না, তন্ময়কে যেমন হোক একটা বিয়ে দিয়ে বাড়িতে রেখে তুমি আমাদের কারো সাথে থাকবে।বা বলতে পারে, তোমার যখন যেখানে থাকতে ভালো লাগে তুমি ঘুরেফিরে থাকবে।তন্ময় বাড়িটার একটা অংশে থাকবে। আরেক অংশ সে ভাড়া দিয়ে কিছু টাকা পাবে।আর চাকরি-বাকরি যা হোক কিছু হবে!না, এমন আশ্বাস তাকে রোজগেরে দুই ছেলের কেউই দেয় না!</p>
<p style="text-align: justify">আকলিমা খানম বুঝতে পারেন ছেলেদের সাথে তার এই সম্পর্কের টানাপোড়েন তাকে অসুস্থ করে তুলছে। তার হাত-পা জ্বালাপোড়া করে। সারা শরীর ঝিমঝিম করে।এমনিতে এখন শরীর এমনি করার বয়স।তার ওপর এসব উদ্বেগে তা আরো বাড়ে। জগৎ-সংসারের সাত-পাঁচ অনুপূঙ্ক্ষভাবে না বুঝেও আকলিমা খানমের নিজের প্রতি একটা ভালোবাসা আছে।বেঁচে থাকতে তার বড় লোভ।সারাজীবন স্বপ্ন দেখে আসছেন, ছেলেরা বড় হলে তিনি অভিজাত এলাকায় না হোক, নিম্ন মধ্যবিত্তের এলাকাতেই একটা ঝকঝকে বড় না হোক মাঝারি পরিসরের বাসায় বসবাস করবেন। কিন্তু জীর্ণ ভেলার মতো তিনি একাই সবাইকে বুকে করে ভয়াল সাগর পাড়ি দিয়ে কূলে এসে দেখেন, তাকে রেখে সবাই সমতলে চলে যাচ্ছে। তিনি একাই পড়ে আছেন অ-কূল, অঘাটে।</p>
<p style="text-align: justify">এর ভেতর এক দুপুরে কৈশরে উত্তীর্ণ এক তরুণী তন্ময়ের খোঁজে বাসায় এসে আকলিমা খানমের উদ্বেগ হুহু করে আরো খানিক বাড়িয়ে দিয়েছে! অচেনা তরুণীর আগমন টের পেয়ে বাড়ির দুই বউ ছুটে এসে কৌতুহলে তাদের ফেটে পড়ার দশা। আকলিমা খানম মেয়েটির সাজ-পোশাক আর কথা বলার ধরণ দেখে তাকে না পারছেন বসতে বলতে। না তার পারছেন তার নাম জিজ্ঞেস করতে। কারণ সে যেভাবে ইংলিশ বলছে, তিন নারীর কারোই বিদ্যায় কুলোচ্ছে না তা বুঝে ঝটপট উত্তর দেয়। অবশেষে সে একসাথে তিন নারীর অপারগতা বুঝে বাংলাতেই স্বাভাবিকভাবে তার কথা বলতে লাগলো। তন্ময় বাসায় নেই শুনে তরুণী তার জন্য অপেক্ষা করতে চাইলো। এতে শাশুড়িসহ দুই বউ আরো ভড়কে গেলো। কিন্তু কারো বসতে বলার তোয়াক্কা না করে তরুণী নিজেই পুরনো তেলচিটে সোফায় গিয়ে স্বাচ্ছন্দে বসে পড়লো। আকলিমা খানম হতবিহ্বল হয়ে বললেন, তুমি কেন এসেছো তন্ময়ের কাছে?</p>
<p style="text-align: justify">তরুণী বুঝতে পারছে, আকলিমা খানম থতমত খাচ্ছেন। তার ইংরেজি শুনে মেলাতে পারছেন না, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া এই মেয়ে এখানে কেন এসেছে! তাই পরিস্থিতি সহজ করতে মেয়েটি বাংলাতেই বলতে লাগলো। আমার নাম বুবলি। তন্ময় আমার বন্ধু। ওর সাথে অনেকদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো। কিন্তু একসপ্তাহ যাবত ওর কোনো খোঁজ নেই। ফোন করলে কল ঢুকছে না। এই দেখেন, বলে ওদের সামনে আরো কয়েকবার চেষ্টা করলো। তারপর বললো, তাই আজ এক বন্ধুর থেকে কাছ থেকে ওর বাসার ঠিকানা নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে চলে এলাম। খুব কষ্ট হয়েছে আপনাদের এই মৌলবিরটেক বাসা খুঁজে পেতে। জানেন, আগে আমি এই জায়গার নামও শুনিনি। অনেক দূর হেঁটে এসেছি। আমাকে একটু পানি দেবেন?</p>
<p style="text-align: justify">তরুণী ঠিক নয়। কৈশর পেরনো এক মেয়ের এমন অকপট কথায় আকলিমার খানমের কিছুটা সন্দেহ কমে এলো। যদিও তার সব কথা বড় মানুষের কথার মতো শোনায়। তিনি কাউকে না বলে নিজেই উঠলেন পানি আনতে। কারণ তিনি জানেন তার থেকে দ্রুত আর কেউ পানি নিয়ে ফিরে আসতে পারবে না। ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানি স্বাভাবিক পানির সাথে মিলিয়ে, দুখানা বিস্কুট বৈয়ম থেকে ছোঁ মেরে একটা রেকাবিতে তুলে আনতে যেটুকু সময়, এর ভেতর এসে শোনেন বড় বউমার প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটি বলছে তারা ধানমন্ডি থাকে। তিন ভাই-বোন তারা। ভাই দুটি বড়। তারা একজন নরওয়ে, আরেকজন রাশিয়ায় লেখাপড়া করে। আর সে দেশে একটি নামকরা ইংলিশ স্কুলে পড়তো। কিন্তু মা মারা গেলে তার আর লেখাপড়া করতে ভাললাগেনি। দুইবার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেনি বলে বাবা আর প্রেসার ক্রিয়েট করেননি! কিন্তু একাডেমিক লেখাপড়া না করলেও বিভিন্ন বিষয়ে সে একাই লেখাপড়া করছে নিজের মতো একটা কিছু করতে!</p>
<p>চলবে&#8230;</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/10/16/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a3-%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অগ্নিতৃষ্ণা ॥ দীলতাজ রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/10/560/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/10/560/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 10 May 2021 11:41:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=560</guid>

					<description><![CDATA[খুব সকালে প্রাচীরের ওপাশে মাটি কোপানোর শব্দ শুনে তারাবানু রাস্তা দিয়ে ঘুরে সেখানে চলে গেলেন। তারাবানু গিয়ে দেখেন তাদের পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী একমাত্র সদস্য চল্লিশোর্ধ রীটা প্রায় হাঁটু সমান এক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">খুব সকালে প্রাচীরের ওপাশে মাটি কোপানোর শব্দ শুনে তারাবানু রাস্তা দিয়ে ঘুরে সেখানে চলে গেলেন। তারাবানু গিয়ে দেখেন তাদের পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী একমাত্র সদস্য চল্লিশোর্ধ রীটা প্রায় হাঁটু সমান এক গর্ত করে ফেলেছে। পাশে সেই বিশাল স্তূপ মাটিসহ বাংলাদেশের শন-আকৃতির একবোঝা গুল্ম। যা খুব সাবধানে বেঁধে আনা।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানু রীটার খুঁড়ে তোলা মাটি প্রায় ডিঙিয়ে গুল্মগুচ্ছের কাছে চলে গেলেন। পরখ করে দেখলেন, ওটা আসলে শন নয়। এখানে আশেপাশের আরও বাড়িতে তিনি ওটা দেখেছেন। এটা অন্যরকম এক ফুলগাছ। এর প্রতিটি ডগায়ই গাঢ় গোলাপি রঙের সরু সরু ফুল ফোটে। দেখতে তখন বেশ লাগে।</p>
<p style="text-align: justify">অত সকালে রীটার অমন ভজখট সময়ে তারাবানুর উপস্থিতিতে রীটা খুশি হলো কিনা, তারাবানু সে ভাবনার ধারেকাছেও গেলেন না এবং তিনি আগবাড়িয়ে শাবলের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন রীটাকে সহযোগিতা করতে। আর রীটাও শাবলখানা আস্তে করে ছেড়ে দিল পঞ্চাশোর্ধ তারাবানুর হাতের ভেতর। তারাবানুর প্রতি রীটার তখন ভাবখানা, ‘দেখো, পারো কি না!’</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানু চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। এসব কাজে অভ্যস্ত তিনি দেখলেন, এ মাটি বাংলাদেশের মাটির মতো নয়। খুবই শক্ত। রীটাকে আবার শাবলখানা ফিরিয়ে দিয়ে গায়েপড়া মানুষের মতো তিনি সেখানে দাঁড়িয়েই থাকলেন। রীটা জানে না, যে রীটা ধীরে ধীরে তারাবানুর সত্তারই আরেকটি অংশ হয়ে গেছে! রীটা যে তারাবানুর ভেতরে বেজেচলা বিষণ্ণ সেতারেরই আরেকটি তার তা কি তারাবানু নিজেও আগে অতটা বুঝেছেন? রীটা গর্তটা মসৃণ করতে করতে তারাবানুর মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, এই গাছ সে তার এক্স হাজবেন্ডের বাড়ি থেকে এনেছে।</p>
<p style="text-align: justify">রীটা ফ্যাশন ডিজাইনার। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর হলো। রীটার দুটি ছেলে আছে। এখন তাদের একটির বয়স বিশ আরেকটির বারো। রীটার নিজের থাকার জায়গা ছিল না বলে ছেলেরা তার সাথে আসেনি। বাবার কাছে থেকে গেছে। সে শুধু স্কুল হলিডেগুলোতে ছেলেদেরকে কাছে পেত। তাও তাদেরকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, রেস্টুরেন্টে খাইয়ে আবার তাদের বাবার কাছে রেখে আসতে হত।</p>
<p style="text-align: justify">রীটা ফ্ল্যাটটি যে কিনেছে, সে নিজেই জানে এর দাম অনেক বেশি পড়েছে। তবু এই ফ্ল্যাটটি তার কেনার কারণ, এই লাইনের কোনো এক বাড়িতে তার সুখের দাম্পত্য অতিবাহিত হয়েছে। সে সেই স্মৃতির কাছাকাছি থাকতে চায়। তারাবানু দেখেছেন, যতবারই রীটা তার পরিবারের কথা বলতে যায়, প্রতিবারই সে অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। একটি বাক্য শেষ করতে কয়েকবার তাকে ঢোক গিলতে হয়। রীটার সাথে পরিচয় হয়ে আটপৌরে ধ্যান-ধারণার তারাবানুর সমস্ত জীবনের ধারণা পাল্টাতে থাকে। তিনি ভাবতে থাকেন, সারাজীবন শুনে এসেছেন, উন্নত দেশের নারীরা পুরুষের ছেড়ে যাওয়ার তোয়াক্কা করে না। স্বামী একজন নিয়ে গেলে স্ত্রীও আরেকজন খুঁজে নেয়। এসব নিয়ে খুব বেশিদিন তারা দুঃখবোধ পোষে না!</p>
<p style="text-align: justify">প্রথম পরিচয়েই রীটা কোনো রাখঢাকের ধার না ধেরে বলেছিল, ওর স্বামী আরেক নারীর প্রেমে পড়ে ওকে ডিভোর্স দিয়েছে।<br />
তারাবানু সেদিন জানতে চেয়েছিলেন, তোমার প্রাক্তন স্বামী পরে তাকে বিয়ে করেছে?<br />
রীটা বলেছিলো, না। তবে তারা নিয়মিত ডেটিং করে।<br />
তারাবানু বুঝেছিলেন, ও লোক আর ও মেয়েকেও বিয়ে করছে না! শুধু মুক্ত বিহঙ্গের মতো ওড়ার সাধ মিটাচ্ছে। খোলা মাঠে ঘাস খাওয়া পশুকে পোষ মানাতে মানুষের বেগই পেতে হয়েছিল। তারপরই তো তারা বংশানুক্রমে পোষ মানতে শুরু করেছে! মানুষের বেলায় নিশ্চয় এরকম হেরেফের থেকে থাকবে।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর ছেলে আর রীটা, দুজনের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। কিন্তু বাড়িটি মাঝামাঝি ভাগ হয়ে সামনে পিছনে দু’পাশে মোট চারখানা উঠোন। দু’দিকের উঠোনেই মাঝখানে কাঠের প্রাচীর। সে প্রাচীর ফুঁড়ে এপাশ থেকে ওপাশে, আর ওপাশ থেকে এপাশে দেখা যায় না কিছুই। কিন্তু হাঁটাচলা এমন কি নিঃশ্বাস দীর্ঘ হলে তারও শব্দ শোনা যায়। আর এভাবেই পঞ্চাশ অতিক্রান্ত তারাবানু রীটার অনেকটাই জেনে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">রীটা বাসায় থাকলে কে আসছে, কে যাচ্ছে, কখনো একজন দুজন, বা অনেকের মিলিত হৈচৈও কখনো ভেসে আসে। এতে তারাবানু খুশিই হন। এতবড় বাড়িটাতে মেয়েটিকে বিষণ্ণ একটি প্রদীপের মতো মনে হয় তারাবানুর। অবশ্য মাঝারি গড়নের শক্ত-পোক্ত শরীরের রীটার বয়সও পয়তাল্লিাশের কম হবে না। তবু সে তারাবানুকে মম বলে ডাকে। কারণ এপাশে তারাবানুর ছেলে-বউমা, নাতি-নাতনি নিয়ে এক ভরা সংসার। তাই তাকে মায়ের স্থান না দিয়ে সেও পারেনি। তারাবানু ইংরেজি জানে না তবু ভাঙাচোরা যা বলে তা রীটা বুঝে নেয়। আবার রীটার কথার পুরোটা না বুঝলেও তারাবানু নিজের মতো করে যা বোঝার বুঝে নেন।</p>
<p style="text-align: justify">পাশের ফ্ল্যাটটি বিক্রির আগে খুব যখন ঘষা-মাজা রঙ-পলিস করার কাজ চলছিল, তাতেই তারাবানুর পরিবার বুঝতে পেরেছিল, যে ওপাশটা বিক্রির আয়োজন হচ্ছে। তারপর একদিন রীটা কতগুলো কামরাঙা নিয়ে এলো, এপাশের মানুষের সাথে পরিচিত হতে। বিদেশি রীটার হাতে অনেকগুলো কামরাঙা দেখে চমকে ওঠে তারাবানুসহ ঘরের সবাই। তারাবানুই আশ্চর‌্য হয়ে বললেন, কুইন্সল্যাণ্ডে কামরাঙা হয়? আমি তো ভেবেছিলাম, পুরো অস্ট্রেলিয়ার কোথাও এ ফল নেই।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">রীটা বললো, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীনে যা হয়, তার স-বই কুইন্সল্যাণ্ডে হয়। পেঁপে, পেয়ারা, এমন কি গ্যাণ্ডারিও। কুইন্সল্যাণ্ডের আবহাওয়া অনেকটা ভারত উপমহাদেশের মতোই!</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তারাবানু বললেন, কি জানি মেলবোর্নে থাকতে তো অনেক রকম চারা কিনে লাগিয়ে দেখেছি। যেকোনো চারা একটু বাড়ে, তারপর সব পাতা শীতে এমনভাবে পুড়ে যায়, মনে হয়, আগুনে পুড়ে গেছে। তবে ওখানকার নিজস্ব কিছু ফল-ফসল আছে, যা শীত এলে বাড়ে। যেমন পালংশাক, ধুনেপাতা, জুকিনি। তাছাড়া অনেক গাছই মরে যায়। মেলবোর্নে আমার ছেলের নিজের বাড়ি আছে। সেখানে তো আমি গাছ-গাছালি নিয়ে এত এক্সপেরিমেন্ট করেছি, কিন্তু নিজের দেশে যা কখনো করা হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">উঠোনের খালি জায়গা দেখিয়ে রীটা সেই প্রথম দিন এসেই বলেছিল, এখানে কি কি গাছ লাগালে ভালো হবে। রীটার কথার উত্তর তারাবানুর বউমা দিয়েছিল। বউমা বলেছিল, আমরা দুজনই কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির টিচার। দুই বছরের জন্য এখানে এসেছি। আবার মেলবোর্ন নিজের বাড়ি ফিরে যাবো। তাই এসব নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা নেই। এখানে এই অল্প বিস্তর যা করেছেন, আমার শাশুড়িই করেছেন। উনি কারো নিষেধ শোনেন না! দেখা যাবে এটুকু খোঁড়াখুঁড়ির জন্য বাড়িভাড়া বাবদ যা টাকা অ্যাডভান্স করেছি, বাড়িওয়ালা পুরোটাই কেটে রেখেছে।</p>
<p style="text-align: justify">রীটার গর্ত করা শেষ হলে বিশাল একতাল মাটিসহ তুলে আনা সে গাছ রীটা একাই গর্তের ভেতর লম্বা খুব সাবধানে একাই নামিয়ে দিল। তারপর তার গোড়ায় আর আগের মাটি না দিয়ে আলাদা করে করে রাখা কিছু শুখনো পাতাযুক্ত মাটি, কিছু বালি আরো কি কি সব প্রতি পরতে পরতে সাজিয়ে দিতে দিতে সে নিজে থেকেই বললো, তার এক্স হাজবেণ্ডের বাগানে আরও কতরকম গাছ আছে। ধীরে ধীরে সে দু-একটি করে আনবে। তার গাছ-গাছালির খুব শখ।</p>
<p style="text-align: justify">রীটার এই কথায় তারাবানুর চোখের সামনে কেমন এক গল্পের চোখ খুলে যায়। তারাবানুর অনেকদিন কাঠের প্রাচীরের এপাশ থেকে মনে হয়েছে, এই রীটার বাসায় এত মানুষ আসা-যাওয়া করে। এদের ভেতর ওর স্বামীও কি আসে না কখনো! অথবা কখনো সে একা? যা আমাদের ধর্মে গর্হিত অপরাধ। একদিন তারাবানু দুপুরের খাওয়া সেরে একটি বাংলা পত্রিকা নিয়ে তাদের সামনের উঠোনে গিয়ে বসছেন। পত্রিকার পাতা ওল্টানোর আগেই ওপাশে কজনের কলহাস্য করতে করতে বেরিয়া যাওয়া অনুমান করলেন। কিন্তু সবাইকে বিদায় দিয়ে ঘরে ঢোকার আগেই রীটার বমির শব্দ কানে এল। তারাবানু বুঝলেন, মদ বেশি খাওয়া হয়ে গেছে! তবু তারাবানু রীটাকে এতটুকু ঘৃণা করতে পারলেন না। কারণ রীটার যে প্রবল মাতৃত্ব তিনি টের পেয়েছেন, তা এরকম কিছু তুচ্ছ ঘটনা কোনোভাবেই ম্লান করে দিতে পারবে না!</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু তিনি তখন গভীরভাবে ভাবতে লাগলেন, রীটা যদি স্বামীর বাড়ির মাটি খুঁড়ে গাছ আনতে পারে আর এমন অকপটে তা স্বীকারও করতে পারে এবং যদি তার প্রাক্তন স্বামী তার এখানে কখনো আসে, একা বা দলের সাথে তাহলে রীটা হারালোটা কি?<br />
বাড়ির সামনে দিয়ে এতটুকু রাস্তা পেরিয়ে যে পথে তারাবানু গিয়েছিলেন, ঠিক সেই পথে ফিরে আসতে আসতে তার মনে হলো, রীটা যা হারিয়েছে, তা শুধু স্বামীত্বের অধিকার! কারণ স্বামীর সাথে সংসার করাকালীনও তো এসব দেশে কেউ শুধু সংসার নিয়ে থাকে না। সব নারীই পুরুষের মতো একইভাবে রোজগার করে। তাহলে রীটাও নিশ্চয় তখনো রোজগার করতো! স্বামী স্বেচ্চাচারী হলে স্ত্রী তাকে বাঁধা দিতে পারে। কিন্তু স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলে তো তার আর অধিকার থাকে না তার ভ্যাবিচার ঠেকাতে। বা তা নিয়ে তাকে কিছু বলার! তাই রীটার সব বোবা অভিমান ওই অধিকারটুকু হারানোতেই।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু রীটার নিজের অর্জিত যে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তা তাকে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করেছে বটে। কিন্তু আদতে ও তো এক আহত পাখির মতো বেঁচে আছে। স্বামী-সন্তান-সংসার নিয়ে এই একই মনোভাব নিশ্চয় পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের প্রতিটি নারীর। যদিও তারাবানু খুব বেশি কিছু দেখেননি জীবনে। খুব বেশি রকম মানুষকে তিনি জানেনও না। তবু এরকম বিন্দু-বিসর্গ ঘটনা চোখে পড়ে তার ইদানীং এরকমই মনে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর নিজের চোখে দেখা, তাও সেই শিশুবেলায়। তবু তিনি তা আজো ভুলতে পারেন না। তারাবানুর এক ফুপুর ভাসুরের ছেলে স্ত্রী এবং দুটি ছেলে রেখে আবার বিয়ে করেছে। দ্বিতীয় বউটি ততদিনে বছর পাঁচেকের এক কন্যাসন্তানের জননীও হয়ে গেছে। দ্বিতীয় বউটির বয়স কম এবং সুন্দরী হলেও নিচু ঘরের তা তার আচরণে বোঝা যায়। শিক্ষা-দীক্ষা আছে বলেও সেই তখনি শিশু তারাবানুর তা মনে হয়নি। ফুপুর ভাসুরের সে ছেলে খুলনা একটি জুটমিলে চাকরি করতো। সেখানে সে একাই দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল। সে বউ-কন্যা নিয়ে মাঝে মাঝে বাড়িতে এলেও সে ওই দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়েই পড়ে থাকতো। একদিন ওরকম দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ফুপুর ভাসুরের ছেলে আবার বাড়িতে এসে আবার সেই ছোট বউকে নিয়েই শোয়ার আয়োজন করতে করতে তারাবানুর ফুপু তার ভাসুরের সেই ছেলের কাছে গিয়ে খুব অনুনয় বললেন, ‘বাবা, আমজাদ, তুমি আজ পাশের ঘরে গিয়ে তোমার ছেলে দুটোর কাছে ঘুমাও। ছোট বৌমা আর নাতনিকে আজ আমি আমার ঘরে আমার কাছে নিয়ে রাখি।’</p>
<p style="text-align: justify">ছোট বউ আমার ফুফুর থেকে অতখানি মান্যতা পাওয়ার মতো নয়। সে মান্যতা তাকে ও বাড়ির কেউ কোনোদিন দেয়নি। কিন্তু দীর্ঘদিন স্বামীর সাহচার্য ছাড়া বড় বউটির প্রতি সমব্যথি হয়ে ফুপুর যারপর নেই ওই চেষ্টা ছিল। কিন্তু ফুপুর ভাসুরের ছেলে কিছুতেই রাজি হলো না, বরাবর তাদের অত্যন্ত সম্মান পাওয়া, থানার বড় দারোগা তাদের ছোট চাচার স্ত্রী, আমার ফুপুর সে প্রস্তাবে। এক ঘরের ভেতর পার্টিশন দিয়ে করা দুটি রুম। তারই একটাতে বড় বউ থাকে। আর তার স্বামী এলে শ্বশুর-শাশুড়ি আরেকটি রুম ছেড়ে দিয়ে বারান্দার ছোট রুমটিতে যায়। দূরত্ব শুধু এটুকু। কিন্তু সেই দূরত্ব কোনোদিন আর বড় বউয়ের জীবন থেকে ঘোচেনি।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর আজো মনে আছে, ফুপুর ভাসুরের ছেলেকে ফুপুর অনুনয়-বিনয়ের সময়ে ঘরের ভেতর লম্বা ঘোমটা আড়ালে বড় বউটি লজ্জায় মরিয়া হয়েছিল। কারণ তার বাড়ন্ত ছেলে দুটি সেখান দিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। বারান্দায় তারাবানুর ফুপুর সাথে ছিল সে বড় বউটির নিজের শ্বশুর-শাশুড়ি ছাড়াও বাড়ির ওই শ্রেণির আরো মুরুব্বিরা। ছিল সেই কচি মাংসের তাল জাতগোত্রহীন তার স্বামীর দ্বিতীয়বার বিয়ে করে আনা সেই অকর্ষিত নারীও, যার কাছে মাটি হয়ে গেল কর্ষিত মৃত্তিকার মতো বউটির স-ব সম্ভাবনা ও অহংকারের গৌরব।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর বয়স তখন সাত-আটের বেশি হবে না! তবু তার মনে হচ্ছিল, কি লজ্জা। কি অপমান, স্বামীকে তার কাছে শোয়ানোর জন্য মুরুব্বিরা অনুরোধ করছে। তবু স্বামী তার কাছে যাবে না! যায়নি গত দীর্ঘ আট বছর। তবু সে বউয়ের মুখে হাসি ফুটে থাকতো। সংসারের প্রতিটি কাজ সে-ই করতো। বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমতও কম করতো না। গালভরে তাদের আব্বা-আম্মাও ডাকত! কেন বউটি অত ভাল ছিল, তারাবানুর বয়স বউটির কাছাকাছি হলে তখন ঠিকই তার কাছে জানতে চাইত, ‘তুমি এত ভালো কেন?’ ফুপুর ভাসুরের ছেলেকে তার প্রথম স্ত্রীর কাছে মাত্র একটি রাত কাটানোর সেই নিষ্ফল আকুতির বছর পাঁচেক পর যখন বউটি এমনি এমনি কদিনের জ্বরে মরে গেল, তখন তারাবানু পরিপূর্ণ কিশোরী। খবরটা শোনার পর সেই পাঁচ বছর আগে, তার কাছে তার স্বামীকে মাত্র একটি রাত যাপনের জন্য ফুপুর যে অপারগতা তিনি নিজের চোখের সামনে ঘটতে দেখেছিলেন, তার সব সুদে আসলে বেড়ে বহুগুণ হয়েছিল। ততদিনে তারাবানুর নিজেরও তো বয়স বেড়েছে। তাই তিনি সেই বড় বউটিকে এবার কল্পনায় মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বলতে লাগলেন, ‘কেন এমনিই মরতে গেলি! কেন বিষ খেয়ে মরলি না? গলায় দড়ি জোটেনি তোর? জগতের বুকে কেন ক্রুশের মতো একটি কঠিন চিহ্ন এঁকে দিয়ে গেলি না? কেন তোর নিজের মরণটা এমন অভিযোগহীন রেখে গেলি? কেন?’</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর গা গুলাতে থাকে। নিজেকে ধমকান তিনি, পৃথিবীতে কতকিছু আছে ভাববার। এই যে নিজের দেশ ছেড়ে এমন একটি উন্নত দেশে তার আসার সুযোগ হয়েছে। তার উচিৎ এখানকার ভালো ভালো ঘটনায় স্মৃতির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে নিয়ে যাওয়া। ভালই তো তার দিন কাটছিল এখানে এসে। আগে ওই ফ্ল্যাটে কজন ছাত্র-ছাত্রী মেস বানিয়ে থাকতো। ছেলে-মেয়েগুলোর কলহাস্যে বাড়িটি মুখর হয়ে থাকতো। আগে তো তিনি ভাবতেই পারেননি, উন্নত দেশ হলেও ছাত্র-ছাত্রীরা একসাথে এভাবে থাকতে পারে। তাদেরকে তুলে বাড়িটা বিক্রি হয়ে রীটা এসে তারাবানুর মনে এই সংকট এই টানাপোড়েন তৈরি করেছে।</p>
<p style="text-align: justify">আর রীটার সূত্র ধরে একের পর এক ফেলে আসা বিস্মৃত অনেকগুলো অসহ্য মুখ তারাবানুর মনে পড়ে যেতে থাকে। তারাবানু যে স্কুলে পড়েছে, সেই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, সেক্রেটারির এক মেয়ে আদিলা আর তারাবানু একসাথে পড়তো। বড়লোক আদিলাদের বাড়ির কাছেই ছিল, খানদানি কিন্তু নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মানো তারাবানুদের বাসা। দুজনের খুব ভাবও ছিল। তাই দিনে দু-একবার দুই বাড়ির মাঝখানের মাঠের ভেতর দিয়ে আড়াআড়ি ওরা যাওয়া আসা করতো। একদিন তারাবানু ওরকম পিছনের পথ দিয়ে আদিলাদের বাড়িতে ঢুকছিল, আর তখনি ওর কানে চলে এল, ‘বুবু, আইজকার রাইতটা আমি হ্যার ঘরে শুই?”</p>
<p style="text-align: justify">শোয়ার এই কথাাটা বলছেন, আদিলার নিজের মা তার মায়ের বড় সতীনকে। মানে আদিলার সৎমাকে। কুয়োর প্রায় পনের ফুট কিংবা তারচেয়ে বেশি নিচে থেকে পানি তুলতে হত। আদিলার মা দড়িতে ছোট বালতি বেঁধে, সেই দড়ি টেনে টেনে পানি তুলে বিশাল দুই বালতি ভরে প্রতিদিন পানি তুলে দিয়ে সাংসারিক অন্য কাজে চলে যায়। আর আদিলার বড় মা ডলে ঘষে স্বামীকে গোসল করিয়ে, গা মুছিয়ে সাথে করে নিজের ঘরে নিয়ে যান। এর ভেতর স্বামীর সাথে টু-শব্দ করার অবকাশ থাকে না আদিলার নিজের মায়ের।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর বয়স কম হলেও তার মন প্রমাদ গুণতে শুরু করে দেয়। তিনি তখনি ভেবেছিলেন, মেঘ কতটা ভারী হলে আকাশে ফিরে না গিয়ে সে পৃথিবীতে এসে ঢেলে পড়ে। তেমনি আদিলার মার শরীর তাকে কতটা আলোড়িত করলে তিনি প্রভুর মতো সতীনের কাছে স্বামীর ঘরে একটি রাত কাটানোর প্রার্থনা জানাতে পারেন। তারাবানু তার নিজের চোখে আরো দেখেছেন, বড় বড় সংসারে শুধু কাজ করানোর জন্য দরিদ্র ঘর থেকে পরিশ্রমী মেয়ে দেখে দ্বিতীয়, তৃতীয় বিয়ে করিয়ে আনা হতো! আদিলার মাও যে ওই ঐতিহ্যবাহী পরিবারটিতে তেমন ছিল, তা কিশোরী তারাবানু আগেই আঁচ করতে পেরেছিল একদিন স্কুল থেকে তারা কজন এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে, পথে শনের ছোট ছোট দু-খানা ঘরের একটি বাড়ি দেখিয়ে বলেছিল, এটা আদিলার মামাবাড়ি।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">শহরের বড় বাজারে শাড়ি-কাপড়ের বিশাল দোকান ছিল আদিলাদের। তার বাবা সকালে গিয়ে সেই দোকানে বসতেন। দুপুরে নেয়ে-খেয়ে, বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে আবার হেঁটে হেঁটে দোকানে চলে যেতেন। আসতেন গভীর রাতে।</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সেদিন আদিলার মার প্রশ্নের জবাবে আদিলার বড় মা যে ঝামটা মেরে ‘নায়!’ বলেছিলেন, নাটকের খণ্ডাশের মতো সে বিষয়টি তারাবানুর চোখের সামনে পড়ে গিয়ে, তখন তারাবানুর ফুপুর সেই ভাসুরের ছেলের বড় বউটির পর সরাসরি তারাবানু দেখলেন আরেক চরম নিগৃহীতাকে। সেই থেকে তারাবানু দীর্ঘদিন ভেবেছে, এই যে আদিলার মায়ের পেটে যে ওরা ছয় ভাইবোন জন্ম নিয়েছে, তাদের সবার শুক্রাণু কি তার বড় মা ভায়া হয়ে তারই অনুগ্রহ নিয়ে তার বাবার কাছ থেকে তার মাকে গ্রহণ করতে হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">আদিলা খুব সুন্দরী ছিল। কারণ তার মাও খুব সুন্দরী ছিলেন। সেদিনের সেই ঘটনার পর থেকে, আদিলাকে দেখলেই তারাবানুর মনে হতো, একজন সন্তানের কাছেও ছাইচাপা থেকে যায়, কত মায়ের কত বঞ্চনার আগুন। তারাবানু আদিলার উদ্দেশ্যে মনে মনে বলতেন, আদিলা তোর জীবনের গরলে আমি প্রতি মুহূর্তে কতটা ফেনায়িত হচ্ছি, তুই তা কোনোদিনও জানবি না।</p>
<p style="text-align: justify">রীটার উঠোন থেকে এসে তারাবানুর মনের বয়স পিছিয়ে সেই তার স্কুলের শেষের দিনগুলোতে নিয়ে যায়। সে যেন পথ পায় না আর বেরোতে। আর সেখানে এসে ভেড়ে আরো অসংখ্য অসংখ্য নারীমুখ।</p>
<p style="text-align: justify">আরেকবার, সেও ওই আদিলাদের বাড়ির কাছের বাড়িতে থাকাকালীন কোনো এক গ্রাম থেকে তাদের প্রতিবেশীর একবোন এসেছিল ঢাকাতে চিকিৎসা করাতে। বছর পয়ত্রিশের মতো হবে তার বয়স। কদিনে একটু পরিচয় জমে উঠতেই সে এক গভীর রাতে এসে তারাবানুর মাকে বলছে, ‘আপা, আমার নিজের মা নেই। আর যাকে বলি, সে-ই আমাকে বুঝ দেয়। সবাই বলে, ‘বাদ দাও। তোমার ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে গেছে তুমি তাই নিয়ে থাকো।’ ছেলে-মেয়ে নিয়েই তো আছি আপা। কিন্তু সারারাত ঘুম আসে না। আপনার জানাশোনা কেউ থাকলে তার কাছ থেকে আমাকে একটা তাবিজ নিয়ে দেন। আমার স্বামী যেন আমার কাছে আসে।’</p>
<p style="text-align: justify">শীতের ঋতু ছিল তখন। লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমের ভান করে পড়ে ছিলেন কিশোরী তারাবানু। তখন বয়সটা তারাবানুরও এমন এক সন্ধিক্ষণে, যখন তাদের সমবয়সী দু-একজন করে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। হোক না তা অকাল বিয়ে। আকলিমা নামের একজন তো বাচ্চা পেটে নিয়ে স্কুলেই আসে। নবম শ্রেণির পরীক্ষাটা শেষ পর্যন্ত তার দেওয়া হবে না বলে সে মনে করছে। তারাবানু যখন আরও দুই ক্লাস নিচে পড়তেন, তখন একদিন বিকেলে কানামাছি খেলতে গিয়ে দীপু নামের পাশের বাড়ির ধেড়ে ছেলেটি তাকে ছুঁয়ে দেওয়ার নামে পিঠ বা অন্য কোথাও না ছুঁয়ে সে তার বুকে এমনভাবে ছুঁয়েছে, যে তাতে তিনি যেমন ব্যথা পেয়েছিলেন, তেমনি খুব অপমানিতও বোধ করেছেন। দীপুর মা-বাবা অন্য কোথাও থাকতো। আর সে থাকতো তার দাদা-দাদির কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">অপমান বোধে সেদিন নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে, তারাবানু দীপুর দাদা-দাদির কাছে গেলেন বিচার দিতে। চোখ ফেটে বেরিয়ে আসা জল নিয়ে মনে মনে পণ করলেন তারাবানু, যে গিয়ে বলবেন, দীপু তাকে পিঠে খুব জোরে কিল দিয়েছে। ব্যথায় তার দম আটকে আসছে।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানু দীপুদের খিল আঁটা গেটের কাছে গিয়ে প্রথমেই দরজার কপাটের কাঠ থেকে গিরা ছোটা ছিদ্র দিয়ে এক চোখ বন্ধ করে আরেক চোখে নিরিখ করে দেখে নিতে চাইলেন, বুড়ো দাদা-দাদি এদিকটায় আছেন কি না! তখনো পূর্ণ কিশোরী না হয়ে ওঠা তারাবানু দেখলেন, দীপুর বৃদ্ধা দাদি নিচে জলচৌকি পেতে বসা, আর তার ষাটোর্ধ দাদা তার দাদির সামনের জলচৌকি ছেড়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে লুঙ্গির গেরো খুলে স্ত্রীর মুখের কাছে নিজের লিঙ্গটি নিয়ে বলছেন, ‘ধর, ধর, ধরি ছা, লোহার নাহাল শক্ত!’ তারাবানু ঊর্ধশ্বাসে ছুটে পালাতে পালাতে নিজের ব্যথা-কষ্ট ওই মুহূর্তে সব ভুলে গেল। তার শরীর কাঁপতে কাঁপতে চিন্তা-ভাবনা পাল্টাতে থাকে। সে ভেবেছিল, দাদা-দাদিদের জীবন থেকে এই অধ্যায় বহু আগে চলে যায়। কিন্তু আজ তার ভুল ভেঙে গেল। সে কার কাছে কি বলতে এসেছিল!</p>
<p style="text-align: justify">নতুন আতঙ্ক তাকে পেয়ে বসলো। কারণ পরিপূর্ণ বয়সের কোনো পুরুষের লিঙ্গ সে এই প্রথম দেখলো। তাহলে যে অনেককেই তিনি বলতে শুনেছেন, তাদের একেকজনের সাত, আট, নয়, দশ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল। তাহলে তাদের কি উপায় হতো। কিভাবে তারা ওটা ধারণ করতো! তারপর থেকে বড় হতে হতে ওই চিন্তা আর তারাবানুর মাথা থেকে যায় না। একেকটা অকাল বিয়ের খবর শোনে আর দীপুর দাদার সেই দৃশ্য তার সামনে ভেসে ওঠে। কানে বাজে, ‘ধর, ধর, ধরি ছা’!</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের কাছে তাবিজের জন্য আসা প্রায় তার মায়ের সমবয়সী নারীটিকে মা খুব মমতা নিয়ে বলেছিলেন, তোমার নাম কি?<br />
নারীটি বলেছিল, আয়েশা!<br />
মা বললেন, শোনো আয়েশা, এসব তাবিজ-কবজে আসলে কিছু হয় না। আমি তোমাকে বুদ্ধি দিই, তুমি নিজে তার গায়ের ওপর পড়ো না কেন? তুমি কেন তাকে টেনে ধরো না?<br />
আয়শা বললো, কেমনে ধরি আপা। কাছে তো আসতে হবে। চার বাচ্চার বাপ সে, কোনো এক কারণে মামলা খাইছিল, কোনখানে কোন বন্ধুর বাড়ি পালাতে গিয়ে বন্ধুর অবিবাহিত কুমারী বোনকে বিয়ে করে বাড়ি তুলেছে। সেই থেকে সে আর আমার মুখোমুখি হয়নি। এখনো দিনরাত সারাক্ষণ তার কাছে পড়ে থাকে। দিনেরবেলাও আরেক ঘরের থেকে তার খাটের মচর মচর শব্দে আমি টিকতে পারি না। দিনভর হাসিঠাট্টা আর খিল এঁটে যা করে সব আমি টের পাই। আমার শেষে মনে হয়, পাগল হয়ে একদিকে হেঁটে চলে যাই। কিন্তু ছেলে-মেয়ের জন্য পারি না।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">তারাবানুর মা বললেন, তোমার স্বামীর পেশা কি? সংসার চলে কি করে? </span><br />
<span style="color: #ff0000">আয়েশা বললো, শ্বশুরের বংশের নামডাক আছে। অবস্থা ভাল। জমিজমা মানুষের কাছে বর্গা দেওয়া। তারা যা দেয়, তাতে সংসার ভালভাবে চলে যায়।’</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তারাবানুর মা বললেন, তোমার শরীরের কি হাল করেছ তুমি! মন শক্ত করো। শরীরের যত্ম নাও। লোকটা মহাঘোরে আছে। তুমি একটু সেজেগুজে থাকার অভ্যাস করো। আয়েশা বললো, আপা, দাবানলে বনের কি থাকে? এই দুই বছরে আমি ছাই হয়ে গেছি। এত লজ্জার কথা কাউকে তো বলাও যায় না! নাহলে দেখতে তো আমিও সুন্দরী ছিলাম। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে খুব পছন্দ করে এনেছিলেন। আর সেও তো কম ভাল বাসতো না!<br />
এইসব কথপোকথন শোনার পর তারাবানুর মা’য়ের ওপর তারাবানুর খুব রাগ হল। মনে পড়লে এখনো হয়। মার ভাবা উচিৎ ছিল, তার চৌদ্দ/ পনেরো বছরের মেয়ে তারাবানু ঘুমিয়েছে না সজাগ! সজাগ থাকলেও তো তাদের দুজনের এ ধরনের কথা ওঁৎ পেতে তার শোনারই বয়স। নিজের শরীরের ভেতর সেই তখন থেকে অস্বস্তিভাব এসে যায় তারাবানুর। নারী-পুরুষ সম্পর্কের এই বিষয়টি মানুষের জীবনের এত ঘনিষ্ঠ, সেদিন ওই আয়েশা নামক নারী আর মা’র কথপোকথনে তারাবানু আরো স্পষ্ট করেই বুঝেছিলেন। আর সেই থেকে বিধাতাকে তার পুরুষই মনে হয়। নারীর এই অসহায়, বোবা বেদনা তিনি নিজে নিশ্চয় পরখ করে দেখেননি। নাকি এ তার নিষ্ঠুর এক খেলা।</p>
<p style="text-align: justify">সমাজের ঘেরাটোপ সরে গিয়ে দিনে দিনে তারাবানুর দেখা এসব নারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর তারা তার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে যায়। এসব নারীরা তার সত্তারও একেকটা অংশ হয়ে যায়। তিনি কোনোদিনই এদেরকে আর মন-মগজ থেকে নামাতে পারেননি। সেই সাত সমুদ্র পার হয়ে এত দূর অস্ট্রেলিয়া এসেও, এত বছর পরও তারা একেকজন তেমনি তার মনে জ্বলে আছে। আদতে তারা অনেকে হয়ত এখন পৃথিবীতেই নেই। তবু তার আঁকা আকাশে ধূসর সেই তারাদের ভেতর এখন শুরু হলো প্রবল দাহ নিয়ে রীটার গনগন করে জ্বলে থাকা।</p>
<p style="text-align: justify">তারাবানু ভাবেন, মেয়েটি যা খুশি তা করুক। অনেক বন্ধু-বান্ধব আসুক তার ঘরে। তার যাকে পছন্দ হয়, তার সাথে সে দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হোক! এছাড়া নারীমুক্তি ধুয়ে কি নারীরা পানি খাবে?<br />
তারাবানু আবার ভাবেন, কিন্তু রীটা বিয়ে করছে না কেন? ওর শরীরের বাঁধন ভাল। কাজ জানে। নিজে বাড়ি কিনলো। দামি গাড়ি আছে। তাহলে কেন যোগ্য কেউ তাকে বিয়ে করে সুখী করছে না!</p>
<p style="text-align: justify">বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটাহাঁটি করার সময়ে তারাবানুর চোখের দৃষ্টি নিজের অগোচরে সুচালো হয়ে রীটার ঘরের জানালার ঘোলা কাচ ভেদ করে ঢুকে চলে যায়। তার চেতন-অবচেতন মন ওই ঘোলা কাচ ফুঁড়ে জানতে চায়, গাড়ি যখন বাড়ির সামনে এবং আর কোনো একটি গাড়িও যখন ধারে কাছে নেই, তাহলে এমন ভারী সন্ধ্যায় একা ওই নারীটি কি করছে? তারাবানু প্রবল চেষ্টায় অনুমান করেন, ছায়ার থেকেও আবছা কায়াটির বইয়ের পাতা উল্টনোর আভাস ভাসছে পর্দাহীন জানালার ধূসর কাচে।<br />
এমনাবস্থায় তারাবানুর পানির পিপাসা পায়। ঘরে ঢুকে প্রতিদিনই ঢকঢক করে পুরো গ্লাস পানি তিনি খেয়ে ফেলেন। এখানকার পানি তার কাছে অত্যধিক ঠান্ডা মনে হয়। তবু যেন এমন সব সময়ে পিপাসা মেটে না। নাকি পানি তার সে পিপাসা ছুঁতেই পারে না! তিনি ভাবতে থাকেন রীটার স্বামী সেই মেয়েটিকেও তো বিয়ে করেনি। আবার রীটার কাছেও আসে। একটা, ডিভোর্সি বা বিপত্নীক পুরুষ যদি একটি কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে চায়। সেটা তার দ্বারা অসম্ভব হয় না। আর তাই ছেলে-মেয়ের মা হয়ে যাওয়া নারীকে সে কেন গ্রহণ করবে? তার যত যোগ্যতাই থাকুক, অর্থবিত্ত থাকুক সেটার সাথে শরীরের টানটান মাংস পেলে শিথিল মাংসের নারীকে তারা কেন বিয়ে করে জীবনসঙ্গী করবে? রীটা কি তবে তার পাশে মাছের মতো ভনভন করা পুরুষদের সেইরকম মনোভাবের শিকার?</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু একজন নারী দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে গেলে সে দেখে, অগেরজনের চেয়ে দ্বিতীয়জন যেন কোনো অংশে যোগ্যতায় খাটো না হয়! তাহলে এই পরাজয়টা তার নিজের কাছেই অপমৃত্যুর সমান।<br />
ভিন্ন ভাষাভাষী, ভিন্ন ভূখণ্ডের, ভিন্ন ধর্ম-সংস্কৃতির প্রায় পৌঢ়া এই নারীও অবশেষে তারাবানুর অতীতে দেখা সব অতৃপ্ত ও স্বামী দ্বারা নিগ্রহের শিকার নারীদের সাথে একত্র হয়ে তারাবানুকে ঘিরে কোনো কুয়াশাছন্ন নির্জন জায়গায় শীতের প্রবল হীমে প্রতিদিন বারবার জমিয়ে তোলে। আর বারবারই তার একার সে আড়ষ্টতা ভাঙতে সময় লাগে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/10/560/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রথম সঙ্গম ॥ দীলতাজ রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Apr 2021 18:38:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দীলতাজ রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=349</guid>

					<description><![CDATA[দুপুরে ইসাবেলার ফ্ল্যাটে গিয়ে ইসাবেলার সাথে গল্প করছিলো উর্মি। দুপুরের খাওয়াটাও তাই ইসাবেলার সাথে সারা হয়ে গেছে। ইসাবেলারও অনেক সময় ঊর্মির বাসায় ঢুকে অমনটি হয়। দুই নিকটতম প্রতিবেশী যোগ দুই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">দুপুরে ইসাবেলার ফ্ল্যাটে গিয়ে ইসাবেলার সাথে গল্প করছিলো উর্মি। দুপুরের খাওয়াটাও তাই ইসাবেলার সাথে সারা হয়ে গেছে। ইসাবেলারও অনেক সময় ঊর্মির বাসায় ঢুকে অমনটি হয়।</p>
<p style="text-align: justify">দুই নিকটতম প্রতিবেশী যোগ দুই বান্ধবী ঊর্মি ও ইসাবেলা অবশেষে বিছানায় গড়াগড়ি করছিলো। এর ভেতর ঊর্মির এক দেবর মোবাইল ফোনে বললো, তোমাদের রিসিপশনে দাঁড়িয়ে আছি! রিসিপশন থেকে তোমাকে ইন্টারকমে কল দিয়ে যাচ্ছে। তুমি ধরছো না। আবার এরা বলছে তোমাকে বাইরে যেতে দেখেনি!<br />
ঊর্মি বললো, আমি ইসাবেলার ফ্ল্যাটে এসেছি। তুমি এসো। আমি বাসায় যাচ্ছি!<br />
ঊর্মি ইসাবেলার ফ্ল্যাট যাওয়ার সময় ওর সর্বকনিষ্ঠ দেবর পাপ্পুকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো। ভাইয়ের বাসায় বাহুল্য জিনিসের মতো পড়ে থাকা ছাড়া যার আর কোনো কাজ নেই। ঊর্মি স্বগোক্তি করলো, দুপুরবেলা নির্জন বাসা। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে। এর ভেতর চাচাতো দেবর। কেমন জানি লাগে!<br />
ইসাবেলা বললো, বাব্বা, এই বয়সে এসে তোর এত শিহরণ?<br />
: তুই আমার শিহরণের কী দেখলি? শোন, রাস্তা থেকে যে গাড়ি নিয়ে অক্ষত অবস্থায় ঘরে ঢুকিস, সেটা খালি তোর ড্রাইভার ভালো গাড়ি চালায় সবসময়ই সেজন্য নয়! অন্য গাড়িগুলো তোর গাড়ির ওপর না উঠে ছেড়ে দেয় বলে।<br />
: এই উদাহরণ দিয়ে কী বোঝালি?<br />
: একটা পুরুষ মানুষ আসবে ঘরে। অন্য কেউ বাসায় নেই, তাই পাপ্পুকে নিয়ে যাচ্ছি। দুজন নারী-পুরুষের ভেতর আরেকজন থাকলে নিজের কাছে স্বাচ্ছন্দ্য লাগে।<br />
: নোমান তোর নিজের দেবর হলেও অবিশ্বাস করতি?<br />
: কম করতাম!<br />
: তাহলে যারা এসব মানে না, তাদেরকে তুই অবিশ্বাস করিস?<br />
: বিশ্বাস করার দরকার হলে তবেই না অবিশ্বাস?</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em>ঊর্মির এই কথাটা ইসাবেলার একটু লাগলো। কিন্তু ঊর্মির মনে হয়নি সে বাহুল্য কিছু বলছে। সে তাই স্বাভাবিক ভাবে বললো, একটু চিনি দে তো! ঘরে চিনি নেই। আর দরজাটা খোলা রাখিস চা করে তোর জন্যও পাঠাবো!</em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">একটি ছয়তলা বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় ওদের মুখোমুখী ফ্ল্যাট। বাড়িটিতে লিফট নেই। ঊর্মি দরজার লক খুলতে খুলতে নোমান চলে এসেছে। সবাই একসাথে ঘরে ঢুকলো। পাপ্পুর হাতে চিনি দেখে নোমান বললো, কী এমন ঘটিয়ে ছো ভাবি, যে মিষ্টি মুখ করানোর জন্য চিনি নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আছো?<br />
ঊর্মি বললো, চিনি ফুরিয়ে গেছে। ইসাবেলার ঘর থেকে তোমার জন্য চিনি নিয়ে এলাম!’ বলেই পাপ্পুকে ঊর্মি বললো, যা তো ভাই, চা টা তুই বানা। আমার চায়ের থেকে তোর চা ভালো হয়। আমি দেখি আমার দেবর কী পয়গাম নিয়ে বউ রেখে একা এসেছে!</p>
<p style="text-align: justify">আমি রাতে ধারে কাছেই ছিলাম। সারারাত ঘুমাইনি। দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে এই উঠে এলাম। সন্ধ্যা থেকে অফিস। আবার তোমার বাসার কাছেই ফিরতে হবে। লিলি বললো, বড় ভাইয়ের বাসায় দুপুরে খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে ওখান থেকে অফিসে যেও। দেখলাম বুদ্ধিটা বউ মন্দ দেয়নি!<br />
: ভালো করেছো, এইটুকু সময়ের জন্য আবার মিরপুর যেতে…!<br />
: তোমার বন্ধু ইসাবেলাকেও ডাকো, একসাথে গল্প করি! অনেকদিন দেখা হয় না। সেই যে আমাদের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলে…।<br />
: ফোন করি! বলে ঊর্মি ইসাবেলাকে বললো, নোমান তোকে আসতে বলছে!<br />
ইসাবেলা পানসে কণ্ঠে বললো, না রে তুই যাওয়ার পর আবার শুয়ে পড়েছি! চোখ লেগে এসেছে! ঊর্মি সংক্ষেপে ইসাবেলার না আসার খবরটা নোমানকে জানিয়ে দিলো।<br />
ইসাবেলা ও উর্মির সাথে বন্ধুত্ব ওই পাশাপাশি ফ্ল্যাট কেনার সূত্রে। মনে মনে তাদের মিল কতটা তা নিজেরাও জানে না। কিন্তু পুরো ভবনের মানুষ জানে পাঁচতলার দুই ফ্ল্যাটের দুই মহিলার দারুণ ভাব। একজনের প্রয়োজনে আরেকজন সব সময় সাথে থাকে!</p>
<p style="text-align: justify">ঊর্মি আর নোমান সমবয়সী। স্কুল-কলেজে একই সাথে লেখাপড়া করেছে। দুজনের আচরণ দেবর-ভাবি সম্পর্কের চেয়ে বন্ধুর মতোই বেশি। নোমান সাংবাদিকতা করে। সাথে লেখালেখিরও সামান্য অভ্যাস আছে। তবে যা লেখে প্রথম শ্রেণির হয়।</p>
<p style="text-align: justify">খবরের কাগজে চাকরি করার দরুণ নোমানের এমন সময়ে-অসময়ে হুটহাট করে তার এই চলে আসাটা নতুন নয়। ঊর্মি বা ওর স্বামী কামরানেরও এটা গা সওয়া। এতে কেউ কিছু মনে করে না। কারণ ঊর্মি তার বিয়ের পরেও দেখেছে তাদের একান্নবর্তী পরিবার।</p>
<p style="text-align: justify">ঊর্মি নোমানকে বলল, তুমি কোনদিক থেকে এলে? ভাত খাবে কি না, জানতে চাইলাম না। এখনো তো দুপুর শেষ হয়নি…।<br />
: তাই তো আমি ভাবছি, আমি এসেই ভাত খাব। তা বলেছিও তোমাকে। দেখছি খেয়াল করোনি! না হয় দুপুরটা একটু পড়ে এসেছে। আমার কথা না শুনে একেবারে চা করতে পাঠিয়ে দিলে!<br />
: চা করতে পাঠিয়েছি তো কি! আমি ভাত বাড়ছি! পাপ্পু, চুলো নিবিয়ে দে ভাই!<br />
: তুমি না বললে তুমি পাশের বাসা থেকে খেয়ে এসেছো! রান্না করা আছে?<br />
: আছে, আছে! রান্না না করেই গেছি নাকি! রান্নাবান্না সেরেই গিয়েছিলাম। ইসাবেলা না খাইয়ে ছাড়লো না! তাই শোওয়া পর্যন্ত গড়ালো।<br />
: ছাড়লো না, না কি তুমি না খেয়ে এলে না!<br />
অই হলো। নাও তুমি শুরু করো। পাপ্পু, তোকে তো আমি খেতে দেখিনি! তুইও বস্!<br />
পাপ্পু বললো, আমি দুইবার নাস্তা করছিলাম, তাই দেরি করে খাব ভেবে খাইনি!<br />
: ঠিকাছে, তোর দেরি এতক্ষণে পুরে গেছে। নোমানের সাথে এখন খা!</p>
<p style="text-align: justify">নোমানের সাথে পাপ্পুকেও ঊর্মি খাবার বেড়ে দিতে দিতে নোমানের দিকে তাকিয়ে বললো, হোটেলে কেন থাকতে হলো বললে না তো?<br />
: বন্ধুরা মিলে তিনতারা হোটেলে এক ভিন্নধর্মী টপিক নিয়ে গল্প হয়েছে।<br />
: যে টপিক নিয়েই গল্প করো, কারো বাড়ির ড্রয়িংরুমের ঢালা বিছানায় গল্প করা যেতো না! ইশ্ গল্প করার জন্য কতগুলো টাকা খরচ হলো!<br />
: আরে টাকা কি আর আমাদের মতো ছাপোষা লেখক-সাংবাদিক কেউ দিয়েছে নাকি?<br />
: তাহলে?<br />
: টাকাওয়ালা কতজন কবি হতে চায়। লেখক হতে চায়। তাই আসল কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের দলে ভেড়ার জন্য তারা গাড়ি ভাড়া করে দলবেঁধে ভ্রমণ করতে নেয়। খাওয়ায়।<br />
: গতরাতেও সেরকম টোপ ছিলো?<br />
: টোপ মানে, মহাটোপ!<br />
: তো তোমাদের গল্পের টপিক কি ধরাবাঁধা ছিলো?<br />
: বলতে পারো!<br />
: কী সেটা বলো তো!<br />
: তোমাকে বলা যাবে না! শেষে দাদাভাইকে বলে দেবে! শেষে তার সামনেই আর আসতে পারেবা না!<br />
: আরে না!<br />
: কথা দিচ্ছো!<br />
: দিচ্ছি!<br />
: প্রথম সঙ্গম!</p>
<p style="text-align: justify">ঊর্মি থতমত খেয়ে নোমানের দিকে তাকিয়ে তারপর পাপ্পুর দিকে তাকালো। নোমানকে বোঝালো, ওর সামনে কথাটা বলা ঠিক হয়নি!<br />
কিন্তু ঊর্মির চোখের ইশারা এত তরিৎ ঘটে গেছে পাপ্পু তা খেয়াল করার সুযোগ পায়নি। সে খাবারের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ভাতে মাখানো পাতলা ডাল চুমুক দিয়ে খাচ্ছিলো। এর ভেতর নোমানের কথা শুনে মাথা না তুলেই খিকখিক করে হেসে বললো, ‘প্রথম সঙ্গম…! আমার এক মামা নতুন বিয়া হইররা আনছেলে। সেই মামার গঞ্জে দোহান আছেলে। এহনও আছে। মামায় সপ্তায় একদিন বাড়িত আইতে। পরদিন সকালে চইললা যাইতে। সপ্তাহর ছয়দিন মামা দোহানেই থাকতে। আর মোরা ছোডরা, বেবাকতে মামীর দারে ঘুমাইতে চাইতাম। মোর এহনো মোনে আছে, মোগো বাড়ি আর মামা গো বাড়ি তো কাছে, মানে আমার মা’য় আর বাবা’য় আছেলে চাচাতো বাইবুইন। হেইডা তো ঊর্মি আফায় মোর বাবির দারে শোনছেনই। একদিন মামী হরলে কী, সকালে আমারে গুমেরতন টাইন্যা ল্যাঙডা কইররা হ্যার নেজেন ওপর উডাইয়া লইছে। ওরে আল্লারে মামীর বেতরে বেমালা গরম। শেষে আমি দিছি মুইত্যা…! সেই গডনা জেবনেও বুলবার মতো না। ওইরোম আর জেবনেও ঠ্যাহেনাই…। নতুন মামীর গাও দিয়া বুরবুরইরা কসকো সাবানের সুবাস বাইর অইতে। হের লাইগ্যা বেবাকতে মোরা মামীর ধার ঘেইষ্ষা শুইতে চাইতাম…। মামী ছোডবেলা আমাগো গল্প যে শোনাইতে, হাসদে হাসদে আমাগো প্যাট ফাইট্টা মরণের দশা অইতে!’</p>
<p style="text-align: justify">কথাগুলো বলতে বলতে পাপ্পুর খাওয়া পুরোদস্তুর শেষ হয়ে গেলো। সে প্লেট নিয়ে সিঙ্কে চলে গেলো। নতুন করে চায়ের কথা আর তাকে বলতে হলো না। অবদমিত অবস্থার ভেতর থেকেও ঊর্মি আওয়াজ শুনে টের পাচ্ছে পাপ্পু চা বানাচ্ছে। কিন্তু পাপ্পু খাবার টেবিল ছেড়ে চলে গেলেও ঊর্মি, নোমান আর কেউ কোনো কথা বলতে পারে না। নোমান খালি বললো, ওরে বাবা, গতরাতে জনা দশেকের যা গল্প শুনলাম এ বিষয়ে, তোমার পাপ্পুর গল্প সবাইকে হার মানিয়েছে!<br />
: তোমার দোষ। তোমাকে কে বলেছিলো ওর সামনে এসব কথা তুলতে?’ ফুঁসে উঠে কথাগুলো বলে উর্মি।<br />
: যা বাবা, আমি বললাম কই? তিনবার মেট্টিক ফেল করা একটা ছেলের সামনে এটুকু বলতে পারা জায়েজ আছে! আর আমি তো খালি টপিকটা বলেছি তোমাকে। তাই বলে আর বলতাম নাকি!<br />
: আসলে তোমরা যারা সাংবাদিকতা করো, লেখালেখি করো, তোমরা সবাইকে নিজের সমান বয়স মনে করো!<br />
: আসলেই তো তাই! একটা বয়সের পর থেকে সবার বয়সই এক!</p>
<p style="text-align: justify">এক সময় চা নিয়ে আসে পাপ্পু। ঊর্মি তাকে বলে তোর চা নিয়ে তুই বাসায় যা। তোর ভাবির জন্য বানিয়েছিলি তো?<br />
: হ, আপনে বাবিরে কথা দিয়া আইছেন, সেইডা আপনে ভোললেও মুই কি ভুলি!<br />
: ঠিকাছে! যা।<br />
: তাইলে আমার আর আপনেরে পাহারা দেওনের কাম নাই! তাইলে কি নোমান ভাইয়ারে কইয়া দিমু কী কইছিলেন?<br />
: তোর বলতে হবে না। তুই যা। আমি বলবোনে। ইসাবেলা খুব গরম চা ছাড়া খায় না!’ বলে পাপ্পুকে ঠেলে পাঠিয়ে দরজাটা খোলা রেখে একটা ডাইনিং চেয়ার টেনে দরজা ঠেক দিয়ে রাখলো যেন বাতাসে দরজা ঠাস করে লেগে না যায়। নোমান বললো, তুমি দরজা খোলা রাখলে যে!<br />
: দরজা খোলা না থাকলে ওপাশ থেকে বাতাস আসবে না।<br />
: মানুষ দেখবে যে দেবর-ভাবি দরজা খোলা রেখে গল্প করছি!<br />
: দেবর-ভাবির দরজা বন্ধ করে গল্প করছি তা দেখার চেয়ে খোলা রেখে গল্প করছি সেটাই মানুষের কাছে উদাহরণ হয়ে থাক!<br />
: পাপ্পু কী বলে গেল, কী বলছিলে আমার বিরুদ্ধে?<br />
: ওকে বলছিলাম, আয় তো আমার সাথে। ভর দুপুরে নির্জন বাড়িতে দেবর আসছেন। তাও চাচাতো দেবর…।’<br />
: তুমি চাচাতো দেবর ভাবো? আমি-আমরা কিন্তু তোমাকে আপন ভাবি-ই ভাবি!<br />
: আমি চাচাতোই ভাবি! কেন চাচাতো কি পর? কামরানের আপন ভাইদের জন্য যে ফিলিং তোমাদের জন্য অন্যরকম। কিন্তু তার মূল্যও কম নয়!<br />
: যাকগে, তো যার পাহারায় থাকতে তাকে ডেকে আনলে, দেখলে তো তিনি কত বড় ডাকাত?<br />
: হু। কিন্তু সে তখন শেষ কথা কী বলেছে, তা শোনোনি?<br />
: বলেছে ‘পরে আর ওরকম হয়নি’! তার মানে মামীর পরও ঘটনা আছে!</p>
<p style="text-align: justify">পাপ্পু সম্পর্কে নোমানকে ঊর্মির নতুন করে বলার মতো কিছু নেই। নোমান সব জানে। ইসাবেলার নিজের বাড়ি খুলনা। শ্বশুরবাড়ি বরিশাল। ইসাবেলার শাশুড়ি মারা গেলে শ্বশুর একেবারে বৃদ্ধ বয়সে জোয়ান বিধবা চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীর গর্ভে পাপ্পুর জন্ম। ইসাবেলার শ্বশুর সম্পত্তি যা রেখে গেছেন, তা দিয়ে বেশ আয়েশেই ছেলেকে নিয়ে চলতেন ছোট শাশুড়ি। কিন্তু তিন তিনবার তার ছেলে এসএসসি ফেল করার পর স্বামীর বড় ছেলেকে অনুনয় করে সে শাশুড়ি বললেন, তোমরা যদি ওকে শাসন না করো, মানুষ না করো তাহলে তো ও মানুষ হবে না। তোমাদেরও বদনাম হবে…।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু ইসাবেলা এই উটকো ঝামেলা তখনো পছন্দ করে উঠতে পারেনি দেখে তাকে এক টেবিলে খাবারও দিতো না। কৌশলে হেরফের করতো। আর এটা বুঝেই ঊর্মি কাজের ছলে, মানে দোকান থেকে এটা ওটা আনার ছলে ওকে ডেকে এনে শুধু খাবারই নয়, তাকে সমবেদনার কথা বলে ভার কমিয়ে দিতো! একদিন তো প্রশ্রয় পেয়ে বিরাট গল্প ঝেড়ে ফেলেছিলো। বলছিলো, ঊর্মি আপা, কন দেহি, বাপের বয়সী বড়বাই মোরে খামাখা লইয়া আইছে। কিছু কইতেও পারি না। মোরে দিয়া কি আর রেহাপড়া অইবে কন দেহি! ওদিকে বাবি একদিন বাইয়ারে কইছে, ওয়ারে কোনো দোকানে থাকতে দাও!’ দোকানে দাও মানে কি? মুই কর্মচারীগিরি করুম? মুই তো দ্যাশে দোকানের মালিকই অইতে পারি! বাইয়ারে তো মুই কইতে পারি না, আপনেরা আমারে অভিনয় করার সুযোগ হইররা দ্যান! দোকান যত বড়ই অউক, মাইনষে দোকানদার কইবে। কিন্ত অভিনয় করলে আপাতত টাকাপয়সা না পাইলেও মানুষে তো মোরে অভিনেতা হিসাবে চেনবো! আমি ইদানীং শুইয়া শুইয়া খালি বাবি, মুই অভিনয় হরতাছি…!’</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em>পাপ্পু তার কাছে মন খুলে কথা বলাতে সেদিন থেকেই ওর মাতৃহৃদয় ওর জন্য আরো বিগলিত হয়ে উঠেছিলো। সারাদিন ইসাবেলার শ্যেন দৃষ্টিতে ছেলেটি যখন ঝলসে থাকতো, ঊর্মি যেন পাপ্পুর জন্য এক ঝলক সুবাতাস হয়ে ঢুকতো ইসাবেলার ঘরে!</em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সেদিন পাপ্পুর কথাগুলোই নতুন করে নোমানকে ঊর্মি বলছিলো। নোমান বললো, তাই নাকি? ছেলেটি এমন ভাবে? অভিনেতা হতে চায়? তবে ও পারবে কিন্তু।কারণ গ্রামের অবারিত খোলা জায়গায় মানুষ হয়েছে।মায়ের অস্বাভাবিক প্রশ্রয়ে মানুষ হয়েছে। তারপর শেষ শিক্ষাটা তাকে ইসাবেলা দিয়েছে। এবার সে সুযোগ পেলে অভিনয়টা পারবে। দেখি আমি চেষ্টা করে।<br />
:তবে দেখো ভালো কারো হাতে ছাড়া ওকে তুলে দিও না। নাহলে ওই একই ঘটনার সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া কাজের কাজ দেখো কিছু হবে না। শেষে আমার নিজেকে দায়ী মনে হবে!</p>
<p style="text-align: justify">ঊর্মির ছেলে-মেয়েরা স্কুল থেকে এসে পড়েছে। জ্যাম ঠেলে তাদের বাবার ফিরতে ফিরতে রাত হবে জানে ঊর্মি। সে নোমানকে বললো, তুমি বাবলুর ঘরে গিয়ে একটু চোখ বন্ধ করো। সন্ধ্যায় চা খেয়ে বের হয়ো!</p>
<p style="text-align: justify">:এই কথাটি আগে বলতে পারেতে তো! তাহলে এখানে ঝিমুতে ঝিমুতে বেহুদা সোফায় বসে বকর বকর করতে হতো না!<br />
: না, আগে বলতে পারতাম না! আমার ছেলে-মেয়ে, আমার স্বামী বাসায় ফিরে দেখবে খালি একটা বাড়িতে আমরা দুটি প্রাণি…।মানে ছেলেমেয়ে দেখবে তাদের মা আর চাচা…।<br />
: তুমি যদি দেখো, ভাইয়া আরেক ভাবির বাড়িতে…।’<br />
:সেটাও খুব ভালো হয় না। এখন ছেলে-মেয়ে বাসায় ফিরেছে এবার তুমি ভেতর বাড়িতে ঢুকতে পারো। আর এমনিতেও পারতে। তখন তোমাকে রেখে আমি বাহানা করে ইসাবেলার বাসায় চলে যেতাম। কিন্তু আজ তো সে পরিবেশ ছিলো না! আজকে তো ওই হারামজাদা পাপ্পু আমার মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে! ও এত খারাপ…।<br />
:এভাবে বলতে পারো না ওটা ঘটে গেছে বলে। ও অবস্থার শিকার। আর ও যদি না বলতো? এর থেকে কত মারাত্মক ঘটনা মানুষের জীবনে থাকে, খালি অন্য কেউ না জনলেই সে ভদ্রলোক।:তাহলে বুঝতেই পারছো, ওই ঘটনা ঘটানোর পরিবেশটা কখনো ঘন হয়ে উঠতে দিতে নেই! তাই দিনভর কতজন দেখে গেলো দরজা খোলা রেখে দেবর-ভাবি গল্প করে একবেলা পার করে দিলো!<br />
: আজ দিনের এইটকু সময় আমি বাকি জীবনে ভুলবো না। অথচ আমাদের বাড়ির মানুষ তোমার সন্ধান পেয়েছিলো আমার সূত্রে! তা ভাবতেও আমার ভালো লাগে।<br />
: ভাগ্যিস তোমার বোন রুনুর বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিলে। আর আমরাও হুড়মুড়িয়ে বিয়ে গায়ে হলুদ বৌভাত কোনোটা ছাড়িনি। তবে একটা ক্ষতি যে করেছো, তা তো বলিনি!<br />
: কী সেটা?:তোমার মতো ইউনিভার্সিটিতে আর পড়া হলো না। এক ছাপোষা, কলমপেষা অফিসারের বউ হয়ে লিফট ছাড়া একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা এই মগবাজারের মগী হয়ে জীবন কাটবে বোঝা যাচ্ছে!<br />
:কথা মিথ্যে নয় যদিও।তবে সেদিন একদিক দিয়ে এক মেয়েকে বের করে দু’মাস না যেতে আরেক মেয়েকে, মানে তোমাতে বাড়ি তুলেতে পেরেছিলো। কিন্তু তোমাকে কিন্তু আমার অতো পছন্দ ছিলো না!<br />
:এমা তাই? তো ভাঙানি লাগাওনি কেন? আর কাকে তোমার পছন্দ ছিল তা বলো?<br />
: বলবো? না থাক, তুমি এই পৌঢ় বয়সে সব রহস্য একাকার করে দেবে!<br />
: তাতেও যদি হৃদয়ে আমাদের একটু বাড়তি রং এসে লাগে…।<br />
: লীমাকে!<br />
:মাই গড! ওর সাথে কোনদিন আমার ভালো কাটেনি!<br />
: তোমার তো কাটাতে হতো না…।তুমি তখন কোথায় না কোথায় থাকতে!<br />
: সে ঠিক কথা! কিন্তু তুমি নিজের জন্য লীমাকে বলোনি কেন?<br />
: বলেছিলাম!:পাত্তা পাওনি? তাহলে যাও, কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাক আর তার কথা ভাব গে!<br />
:‘অন্তরে যার না পাই নাগাল/বাহিরেতে জেগে রয় সে!’ ওকে ভালো লাগতো। ও প্রেমও বুঝতো। কিন্তু বিরহ দিতে পারে নাই…। পরে মনে হলো, যাকে চাই সে লীমা নয়।<br />
: ও তোমাদের পুরুষের ধর্ম! যাও তো বিশ্রাম নাও গে।<br />
আমি ছেলে-মেয়ে দুটোকে খাবার দিই!<br />
: তোমাকে আজ আমি নতুন করে চিনলাম…।<br />
: কী, আমি ভালো মানুষ নই?<br />
:ভালো এবং মন্দের ঊর্ধ্বে কিছু একটা। আগে তো এভাবে আসিনি। তাই বুঝতে পারিনি তুমি আমাদের…, আমাকে অন্তত কী ভাব! আজ স্পষ্ট হলো বিষয়টি।<br />
:দেখো নোমান, আমরা এভাবেই বড় হয়েছি আসলে।<br />
:না না ভাবি, মন্দ বলি সে সাহস আমার নেই।তুমিই ঠিকাছো!<br />
:সবকিছুই সবসময় সবার কাছে ঠিক লাগে না।তাই অনেক সময় অনেককিছু ভালো লাগাতে আমরা যা করি, তা ঠিক করি না। যাও, এবার বিশ্রাম করোগে।’ বলে ঊর্মি নিজের কাজে চলে যায়।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>অলঙ্করণ: নূরুল আসাদ</strong></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/14/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
