<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>দিলরুবা আহমেদ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a6/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Fri, 15 Mar 2024 17:57:15 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>দিলরুবা আহমেদ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>অসম্ভব এক যুদ্ধ ॥ দিলরুবা আহমেদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/03/15/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/03/15/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Mar 2024 17:57:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দিলরুবা আহমেদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3167</guid>

					<description><![CDATA[সোহেলী বলে সে যুদ্ধ করতে যাবে। প্রায়ই বলে। এদিক ওদিক চেয়ে রণবীর প্রায়ই ভাবে কোন যুদ্ধে যেতে চায় এই মেয়ে!! এই দেশে তো কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে না। অন্য কোন দেশে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সোহেলী বলে সে যুদ্ধ করতে যাবে। প্রায়ই বলে। এদিক ওদিক চেয়ে রণবীর প্রায়ই ভাবে কোন যুদ্ধে যেতে চায় এই মেয়ে!! এই দেশে তো কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে না। অন্য কোন দেশে গিয়ে এ যোগ দিবে নাকি কোন যুদ্ধে! কিছুই বলা যায় না। লাইনঘাট খুজে নিয়ে অনেক মেয়েই তো চলে যাচ্ছে বহুদিকে। এত কম দিনের পরিচয়ের কারনে বেশি কিছু সে বুঝেও উঠতে পারছে না। তবে এই মেয়েকে বোঝার আকাঙ্খায় এর সামনে পিছনে ঘুরে মরছে সে দিন রাত।</p>
<p style="text-align: justify">অবাক হয়ে একদিন দেখলো সোহেলী হাত ভেঙে এসে হাজির হয়েছে। জানতে চাইলো,<br />
যুদ্ধে গিয়েছিলে! হাত ভেঙেছো কিভাবে?<br />
সোহেলী চোখ বড় করে বলে,<br />
হ্যাঁ, অস্ত্র চালাতে গিয়ে হাত ভেঙেছে।<br />
রণবীর যথার্থই শঙ্কিত হয়।<br />
কি বলছো?<br />
যা বলছি পরিস্কার বাংলায় বলছি।বুঝতে পারছো না কেন!<br />
তুমি কি জান তুমি কি বলছো? ভাবছো? করছো?<br />
বীণা যুদ্ধে প্রাণ নাহি দেব, দেব না। যুদ্ধ চাই। আরেকটা যুদ্ধ চাই।<br />
তোমার সমস্যাটা কি?<br />
আমার সমস্যা তুমি।<br />
আমি কি করে তোমার সমস্যা হই।<br />
শোন ছেলে তুমি যে ভাবছো প্রতিদিন সারাক্ষণ আমাকে নিয়ে, এটা খুবই ভয়ঙ্কর কোন পরিকল্পনার দিকেই সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে।<br />
আমি তোমাকে নিয়ে ভাবছি না।<br />
তুমি ভাবছো।<br />
না ভাবছি না।<br />
তাহলে রোজ আমার কলেজ যাওয়ার পথে এসে দাঁড়িয়ে থাক কেন, এই গাছ তলায়?<br />
কাল থেকে আর থাকবো না।<br />
না এসে পারবে না।<br />
পারবো।<br />
তাহলে না এসে দেখিয়ে দাও।<br />
আাচ্ছা সেটা সম্ভব না। অসম্ভব।<br />
তাহলে মানছো তুমি না এসে পারছো না। কারণ তুমি ভাবছো আমাকে নিয়ে।<br />
হ্যাঁ, ঠিক।<br />
তুমি জান আমরা দুটো ভিন্ন ধর্মের মানুষ।<br />
জানি।<br />
হুম, তাহলে কিভাবে কি?<br />
জানি না। আর শোন তুমি তো পরের গলি দিয়েও কলেজ যেতে পার। তা না গিয়ে এই পথ দিয়ে যাও কেন?<br />
তোমার দাঁড়িয়ে থাকা চেক করার জন্য। দেখি দাঁড়িয়ে আছ না বসে আছ।<br />
শুয়ে থাকবো কাল থেকে।<br />
আমি তার উপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে চলে যাব।</p>
<p style="text-align: justify">এই মফস্বল শহরে দেখেছো কোন মেয়েকে সাইকেল চালিয়ে যেতে? করছো তো তাই। আবার জলজ্যন্ত একটা ছেলের উপর দিয়ে চলে যেতে চাও!<br />
আমি তো আমিই। সব পারি।<br />
এত পারা ঠিক না।<br />
তবে তাহলে যে মেয়ে হেঁটে হেঁটে কলেজ যায় তার পথের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে তো কই দেখি না তোমায়, হে যুবক।<br />
হৃদয়হীনা যুবতী, তোমার হাত কি সাইকেল থেকে পড়ে ভেঙেছে?<br />
হুম, তাই।<br />
তাই হবে। আর বলে কিনা যুদ্ধে যাবে। যুদ্ধের ভয় দেখায়।<br />
তোমার নামটা যেন কী? রণবীর না! তাহলে? যুদ্ধই তো, নয় কি? রণ এবং বীর। রণবীর। তুমি মানেই তো যুদ্ধ। পরিবারের সাথে। ধর্মের সাথে, সমাজের সাথে।<br />
পারবে তো জয়ী হতে এই রণে, এই ভাবনায় আছ তাই না?<br />
আসলেই ভাবনায় আছি।<br />
ভাবতে থাক।</p>
<p style="text-align: justify">এই বলেই সোহেলী সাইকেল চালিয়ে সাই করে বের হয়ে গিয়েছিল সেদিন।<br />
আজও সোহেলী সাইকেল চালিয়ে সাই করে আবারও পার হয়ে গেল, দাঁড়ালো না, জবাবও দিল না তার ডাকের।<br />
অথচ সব সময় সোহেলী বকবকানো শেষে ছুটে বেরিয়ে কিছু দূর গিয়ে পেছন ফিরে চেয়ে ওড়না ওড়ায়। বলে,<br />
এই যুদ্ধ স্বাধীনতার যুদ্ধ। সকল বন্ধনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ ঘোষণা করবো আমি। ধর্মের দোহাই দিয়ে আমাদের আলাদা করে রাখতে পারবে না দুই পরিবার। যুদ্ধ চাই যুদ্ধ চাই। তোমার আমার মিলন মানে একটা মহা যুদ্ধের শুরু থেকে সমাপনী পর্যন্ত সব কিছু এবং সব কিছুর পরের অধ্যায়। পারবে তো ততদিন টিকে থাকতে!<br />
রণবীরও হেসে বলতো, পারবো।</p>
<p style="text-align: justify">গত দিন পাশ থেকে বুড়ামিঞা এক চাষা ঠাকুরদাদা ধান ক্ষেত থেকে বলে উঠেছিলেন,<br />
নাতনী, এতই যদি যুদ্ধ করবার সখ মুক্তিযুদ্ধের আগে কেন জন্মাইলা না। স্বাধীনতা কাকে বলে দেখতা। আমরাও একটা নারী যোদ্ধা পাইতাম।<br />
আমার মায়ে জন্মাইছিলো। ১ বছরের ছিল। ঐ ধান ক্ষেতে তাকে কুকুরের সাথে পাওয়া গেছিল গো দাদা। কেও জানে না সে কোথাকার ধন। কার জন। কার কে। সে হিন্দু না মুসলিম তাও কেও জানে না। মুসলমান নানা-নানী পালছিল তাই মুসলিম হইছে। খৃষ্টান পাললে খৃষ্টান হইতো। আমিও তখন নান হইতে পারতাম। সাদা কালো গাউন পরে পাদীদের আর নানদের মতন ঘুরে বেড়াইতে খুব মন চায়।<br />
এখন হজুর হ। মহিলা হুজুর, ইমাম হ।<br />
ওহ্ আল্লাহ এই গ্রাম দেশে মহিলা ইমাম হুজুর চলবো না।<br />
রণবীরও বলে উঠেছিল,<br />
শুনেছিলাম কানাডায় কোন মসজিদে ঈদের নামাজের ইমাম হয়েছিলেন এক মহিলা।<br />
সে তো বিদেশে। বিদেশ বিদেশই। দূরের কথন বাতিল।<br />
বলেই মুখ ঝামটা দিয়েছিল সোহেলী।</p>
<p style="text-align: justify">আজ সোহেলী দাঁড়ায়নি তার পাশে বা তার ডাকে, মুখ ঝামটা দিতেও ধীরে পাশ দিয়ে পাশ কাটেনি। সাইকেল চালিয়ে সোজা দাদুর পাশে গিয়ে থেমেছে। দাঁড়িয়ে দাদুর সাথে কথা বলছে । আড় চোখে তাকে দেখছে হয়তোবা। বোঝা যাচ্ছে না। সেও হেঁটে এসে ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়ালো।<br />
দাদু এই ছেলে কবে আমাকে ফলো করা ছাড়বে বলতে পার।<br />
যখন তোমরা এক হবা তখন।<br />
বলে ফোকলা দাঁতে দাদু হাসলেন।<br />
সোহেলী রণবীরের দিকে ফিরতেই রণবীর একটা হাসি দিয়ে চোখ টিপলো। চেয়ে আছে রমনীয় রমনী,তবে চোখ কুচকে। সাইকেলের ব্যাক পেডেল চেপে কাছে আসছে। মেয়েটার সব ব্যাপারেই সাহস বড় বেশি। এসে না আবার ধমকাতে শুরু করে!!<br />
কিন্তু কাছে এসে বললো,</p>
<p style="text-align: justify">আজ মসজিদে যাবা। গিয়া মুসলমান হবা। চার রাকাত দু-রাকাত করে ফরজ থেকে নফল সব নামাজ যদি পড়ে শেষ করে ফেলতে পার তাহলে পরশু সকালে এই পথে এসে দাঁড়াবা। না হলে কোন দিনও যেন আর তোমারে না দেখি। বুঝলা!!<br />
বলেই ১৯ বছরের সোহেলী সাঁই সাঁই করে ছুটলো কলেজের দিকে।<br />
যেন কেমন করে সোহেলী জানে আর কোনদিনও দেখা হবে না রণবীরের সাথে।<br />
একবার পেছন ফিরে চাইতে গিয়েও চাইলো না।<br />
জানে রণবীর হা করে চেয়ে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">সে তাকালেই অনেক হাহাকার উড়ে ধেয়ে আসবে তার কাছে। একদিনের নোটিশে কেও ধর্ম ছাড়বে না। ধমকেও না। সোহেলী জানতো সে কি নিয়ে যুদ্ধ করবে, কিন্তু অপরদিকে যে মা! নিজের মায়ের সাথে, কিভাবে ? মা-কে দেখেছে আপনের খোজে ধাঁধাঁয় থাকতে জীবনভর। অসহায় বিধবা মায়ের দাবি তার কাছে রণবীরের থেকে অনেক উপরে।<br />
এবার তার দাবিতে রণবীর যদি রণে ভঙ্গ দেয় তবে সে আর কি করতে পারে! মন বলছে দেবে, তার মনও বুঝ মেনে যাবে তাহলে। চলে যাক কোথাও, দূরে। জোরে আরও জোরে সাইকেলের পেডেলে চাপ দিতে থাকলো। সেই না হয় চলে যাবে বহু দূরে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/03/15/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এসেছে সে ॥ দিলরুবা আহমেদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/25/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/25/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 25 Nov 2021 15:55:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দিলরুবা আহমেদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1330</guid>

					<description><![CDATA[মৌমিতা ভেবেছিল, ঘরে ঢুকেই দেখবে, সবাই একে একে দৌঁড়ে আসছে। ছুটে ছুটে আসছে।তাকে জড়িয়ে ধরছে।চিৎকার করে উঠছে খুশিতে। চাঁদের হাট বসবে যেন তাকে ঘিরে,এই ভেবেছিল কিন্তু কই! সবাই কই গেল? &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">মৌমিতা ভেবেছিল, ঘরে ঢুকেই দেখবে, সবাই একে একে দৌঁড়ে আসছে। ছুটে ছুটে আসছে।তাকে জড়িয়ে ধরছে।চিৎকার করে উঠছে খুশিতে। চাঁদের হাট বসবে যেন তাকে ঘিরে,এই ভেবেছিল কিন্তু কই! সবাই কই গেল?</p>
<p style="text-align: justify">সেই রাজশাহী থেকে আসা।আমপাকা গরমে সিদ্ধ হয়ে আসা, ট্রেনে, বাসে, এবং রিকশায়।তারপরে এসে পৌঁছানো গেছে বাপের বাড়ির দরজায়।<br />
কিন্তু হয়েছেটা কি?<br />
কালকে ঈদ, এখনও কেও আসেনি নাকি? না, এতো হতেই পারে না। হঠাৎ হরিষ-কে দেখা গেল। সেই ছোটবেলা থেকে এই বাড়িতে আছে। রীতিমত চিৎকার করে সে ডেকে উঠলো,<br />
: আরে হরিষ না! কেমন আছিস রে?<br />
হরিষ ছুটে এসে পা ছুলো। হরিষের বয়স কত এখন, ২৪/২৫ তো হবেই।<br />
: খালুজী আসেননি খালাম্মা।<br />
: নাহ্।<br />
: ভালই হয়েছে।বাসার অবস্থা কেরোসিন।<br />
: মানে!<br />
: বুঝবেন, আসছেন যখন।<br />
: না আসলে কি ভালো করতাম।<br />
: তা জানি না, তবে খালুজিকে যে আনেননি ভাল হইছে।শরমে পরতেন। আমরা একই জাতের মানুষ তো তাই ওনার সম্মান আমার সম্মান।<br />
মৌমিতা শঙ্কিত হয়ে ভাবে, সারছে, বলে কি ছোকরা, এখানেও হিন্দু মুসলিম ভাগাভাগি।<br />
: কি হয়েছে রে বাসায়?<br />
হরিষ বিচক্ষণ ভঙ্গিতে একটা হাসি দিল। বললো,<br />
: এখানে খাড়ান, আমি কেসেটটা বাজিয়ে ভিডিও করি আগে। মুভি।<br />
: মানে?</p>
<p style="text-align: justify">হরিষ ততক্ষণে সামনের সাইড টেবিলের উপর রাখা কেসেট চালিয়ে দিয়েছে।গান ভেসে আসছে, ‘এসো, এসো, আমার ঘরে এসো,’ হরিষ তার পাশে রাখা ভিডিও ক্যামেরা তুলে তার ভিডিও শুরু করলো।<br />
: খালাম্মা, বাসায় এবার কদম ফেলেন।আপনার প্রথম কদম খুবই ইমপরটেন্ট।চুনী খালাম্মা কই দিয়েছেন পা থেকে আস্তে আস্তে ফোকাস বাড়াতে হইবো।<br />
: চুনীবু এসেছেন! কানাডা থেকে?<br />
: সবাই, কেও বাদ নাই।<br />
: কাওকে দেখছি না কেন?<br />
: সবাই দরজা দিয়ে বইস্যা আছে মনে হয়।কাঁদতাছে, না হয় ঝগড়া করতাছে।আমি আগে ছবি তুইল্যা নেই, তারপর ডাকাডাকি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন চুনী খালা।| 24 hours বড় সাহেবের ভিড়িও করতে হবে। আকবর মামু কাজটা শুরু করেছিলেন। তবে উনি ওনার ক্যামেরা তো আর কাওকে ধরতে দেন না, তাই অনেক সিকোয়েন্স বাদ পইরা যাচ্ছিলো।চুনী খালাম্মা তাই নিজের ক্যামেরা বার করে আমাকে দিয়া রেখেছেন।সারাক্ষণ এখন মুভি।</p>
<p style="text-align: justify">ভালো কথা, আর এই এসো এসো&#8230;<br />
: আকবর মামার ভিড়িওতে যখনই কেও ঘরে ঢুকবে বেক গ্রাউন্ড মিউজিক থাকবে, ঐ গানটা। শুধু music, কোন কথা থাকবে না, চুনী খালাম্মার বিষয়টা পছন্দ হইছে, কিন্তু অডিটিং-এর সময় কোথায়। তাই ডাইরেক্ট একশন খালাম্মা। সোজা গান বাজায়ে রেকর্ডিং।<br />
মৌমিতা ভয়াবহ রোদ গরমে পুড়ে যাওয়া সব ভুলে হা হা করে হাসতে থাকলো। হরিষের শুদ্ধ গ্রামীণ মিশ্র ভাষা তাকে আরো হাসাতে থাকে।<br />
: আকবর কোথায়?<br />
: আপনার সাথে আসে নাই। আপনাকেই তো আনতে গেল। শুনে মৌমিতার মনটা ভালো হয়ে গেল। বাস স্টেশনে নেমে যখন দেখলো, কেও নেই, হঠাৎ খুব মন খারাপ হয়ে গেছিল। তাকে নিতে কেও এলো না। এত বছর পরে এলো।১০ বছর।এতদিন এদের কাউকে দেখেনি। কতো দিন এদের না দেখার কষ্টে কেঁদেছে।কত রাত ভোর করেছে এদের কথা ভেবে।<br />
সজল-কে এত করে বললো, আসলো না।বলে কি ঈদ কি করবো।</p>
<p style="text-align: justify">আসলে অভিমান।আসবে না।১০ বছর যে বাপ-মা তার খবর নেয়নি, সেই বাপ মায়ের জন্য এত দরদ থাকার কি দরকার সজল তাও বুঝে না। শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে তার নাকি চেনার কোন দরকার নেই। তাকেও আসতে দিতে চায়নি।তারপরেও সে জোর করে এসেছে।জানে সে বাবা খুব অসুস্থ প্যারালাইস্ট।শুয়ে আছে গেল বছর দুয়েক থেকে।কেউ তাকে একটা খবরও দেয়নি। এতদিন পরে মা’র ফোন পেয়েই জানলো, পুরো দেশের আরেকধারে শুয়ে শুয়ে আজ অপেক্ষা করছেন বাবা তার তাদের জন্য, সে যেন আসে।</p>
<p style="text-align: justify">চট্টগ্রাম থেকে যখন ফোনটা বেজে উঠেছিল রাজশাহীর মেডিকেল কলেজ চত্বরে মৌমিতা বুঝি আনন্দে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল।<br />
এতগুলো বছর পরে মা তাকে ফোন করেছে। ঈদ করতে যেতে বলেছে। সব ভাইবোন আসবে। ওরা ৮ জন একসাথে আবার মিলবে। মা বললেন, ‘তোমার বাবা আর ক’দিন বাঁচবেন জানি না, এসে দেখে যাও।’ একবারও বলেননি সজলকে আনতে। জিজ্ঞেসও করেননি। মুসলমান মেয়ে বিয়ে করেছে, কেন-ই বা মানবে। সে মা হলেও হয়তো মানতো না।ভালই হয়েছে, ওদের কোন সন্তান নেই। সজল আর সে ডাক্তারি করেই জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে, এই ভালো।<br />
কিন্তু কী কপাল, ডাক্তার হয়েও একবার বাবার চিকিৎসার সুযোগও পেল না।<br />
: আপনে এখানে দাঁড়ান, সবাইকে খবর দিচ্ছি।হরিষ ছুটে ভিতরে চলে গেল।</p>
<p style="text-align: justify">মৌমিতা বহু বছর পরে নিজের বাপের বাড়িতে এসে মেহমানের মতন দরজায় দাঁড়িয়ে রইলো।প্রথমের এটা কাচারির মতন একটা ঘর। চারদিকে অনেক চেয়ার পাতা। তারপর বিশাল হল ঘর। বৈঠক খানা। তারপর খাওয়ার ঘর। সেখান থেকে সারিবদ্ধভাবে দুইধারে চারটা করে রুম। রুমগুলোর বাহিরের দিকে লাগোয়া বারান্দা। বারান্দা দিয়ে আবার সব রুমে যাওয়া যায়। পুরানো বাংলো বাড়ি। যেখানে চার নম্বর রুমটা শেষ হয়েছে তার পাশ দিয়ে লোহার বেশ চওড়া একটা সিঁড়ি নেমে গেছে, ওরা ওটাকে বলতো গোল সিঁড়ি। সিঁড়িটা গোল করে নেমেছে। যেখানে নেমে সিঁড়িটা থেমেছে সেখানে সেটাই উঠোন। উঠোনটার একধারে রান্নাঘর।</p>
<p style="text-align: justify">মৌমিতার সবই মুখস্ত। চোখ বন্ধ করেও এ বাড়ির সব দিকে সে যেতে পারে। এখন দাড়িয়ে আছে, দরজায়। কেন এই শাস্ত্রী। ১০ বছরেও কি তার শাস্ত্রীর মেয়াদ ফুরায়নি। উপরের ছাদটাতে পুরা টালি বসানো। এতগুলো ভাইবোন বলে কয়েকবার ভাবা হয়েছিল উপরের দিকে কয়েকটা রুম করবে। কিন্তু ঐ টালি। টালির সৌন্দর্য্য নষ্ট হবে তাই আর করা হলো না।আর ওরা তো সব কজন একসাথে বড়ই হয়নি। সবার ছোট হিরার জন্মই হয়েছে বড়’বু আর চুনী’বুর বিয়ের পরে। উপরের ছাদটার দিকে তাকিয়ে দেখলো, অনেক উচু। এত উচু ছাদ, এটা দারুণ একটা ব্যাপার বলে তার মনে হয়েছে সব সময়।অনেকটা মসজিদের ভেতর ছাদ যেরকম হয় সেরকম।অনেক উপরে।আহা কত উপরে এই ছাদ। মৌমিতা মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অবাক বিস্ময়ে ছাদ দেখতে থাকে। যেন সে এক বালিকা। বহুকাল পর দেখছে বহু দিনের চেনা সবকিছু।</p>
<p style="text-align: justify">ছোট বেলায় আকবর প্রায়ই বলতো।<br />
: মাথা তুলে ছাদ দেখতে গেলে টুপি পড়ে যায়।<br />
একবার সে তার বন্ধুদের নিয়ে এলো টুপি পরিয়ে, পরীক্ষা করিয়ে দেখানোর জন্য।<br />
আকবর তখন কত ছোট। ১০/১২ বছর বয়স হবে। এখন সেও বিয়ে করেছে, বৌ আছে। লালন আছে। লালনকে দেখার জন্য সে ছটফট করছে। আর থাকতে পারলো না। ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়লো। কারও স্বাগতম জানানোর জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব না। ‘আম্মা, আম্মা’, করে মৌমিতা চেঁচিয়ে উঠলো। আবারও। এবং আবারও।<br />
বহুদিন পরে সে আম্মা করে ঢাকার সুযোগ পেয়েছে। বহুকাল পরে যেন তার মনে হচ্ছে তার ভিতরও একটা শিশু আছে, কাঁদছে সে মায়ের জন্য।<br />
‘আম্মা, আম্মা।’ কিন্তু আম্মা কোথায়?<br />
ভারী সুন্দর একটা মেয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো।<br />
কে মেয়েটি?<br />
হিরা তো নয়ই, সে তা বুঝতে পারছে। তাহলে?<br />
এই মেয়েটির বয়স ১৬ বা ১৭। কে? কী সুন্দর। দেখলে নয়নতারা নয়নতারা জাতীয় একটা ভাব খেলে চারদিকে। মেয়েটি নিজেই বললো।<br />
: আমি শিরী।<br />
পা ছুয়ে সালাম করলো।</p>
<p style="text-align: justify">পান্না বুর মেয়ে। মৌমিতা দুহাতে ওকে বুকের মাঝে টেনে নিল। কেন এত কান্না পাচ্ছে, বুঝতে পারছে না। পেছনে এবার আরেকটি রূপবতী মেয়ে এসে দাঁড়ালো। খান পরিবারের মেয়েরা এত রূপসী হয় কেন? জ্যাকী কি? তাই, দেখতে তো পুরো মায়ের কার্বন কপি হয়েছে সে। মেঝ ভাই বাবর যেদিন হিন্দু ধর্মের এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে এসেছিল সে কি যুদ্ধ! বাপরে, সেই বিয়ের মেয়ে কত বড় হয়ে এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।<br />
: আপনিই তো মৌমিতা ফুপী, না?<br />
এই মেয়েটিও তাকে সালাম করছে।<br />
একজনের খালা সে আরেকজনের ফুপী।<br />
হঠাৎ সে ঢুকরে কেঁদে উঠলো।</p>
<p style="text-align: justify">হরিষ ততক্ষণে মায়ের ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে সারা। ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু বলছে না কেন সে এসেছে। আম্মা বুঝবে কি করে।<br />
হরিষকে বলতেই বললো,<br />
: খালাম্মা, নানুকে সারপ্রাইজ দেব।<br />
: মানে?<br />
: নানু দরজা খুলেই এত বছর পরে মেয়েকে দেখবে, অতীব আশ্চর্য্য হওয়ার ঐ মুহূর্তেরই ছবি তুলতে হবে।<br />
শিরি বললো,<br />
: বাপরে হরিষদা, তোমার তো বেশ Artistic mind।<br />
: জ্বি আপা, সবই চুনী খালাম্মার দোয়া, প্রতিদিন উনি আমার একঘণ্টা করে ছবি তোলার উপর ক্লাস নেবেন বলেছেন।<br />
জ্যাকী সাথে সাথে বলে বসলো,<br />
: সর্বনাশ।<br />
শিরী ঠাস করে নিজের কপালে হাত দিয়ে বাড়ি দিল।<br />
মৌমিতা হরিষের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো।<br />
: আম্মা, দরজা দিয়ে রেখেছেন কেন?<br />
হরিষ বকের মতন গলা উচিয়ে এদিক ওদিক চেয়ে বললো,<br />
: ঝগড়া।<br />
: ঝগড়া কেন।অন্য রুমগুলো বন্ধ কেন?<br />
: একটাতে চুনীখালা, আরেকটাতে তুগী মামা, আরেকটাতে পান্না খালা- বলেই হরিষ হাতের ইশারায় বুঝালো দরজা বন্ধ।<br />
: কেন।<br />
হরিষ আবারও বকের মতন ঘাড় নাড়িয়ে বললো,<br />
: ঝগড়া। আমেরিকা থেকে আসা বড় ভাইজানের বৌয়ের সাথে কারও নো বনিমানা।<br />
: দূর ছোড়া, এটা কোন উত্তর হলো।<br />
হঠাৎ হিরা উদিত হলো। গোল সিড়ি বেয়ে উঠে আসছে সে।<br />
: আরে হিরা না! ওমা তুই কতবড় হয়ে গেছিসরে।</p>
<p style="text-align: justify">হিরা ছুটে এসে মৌমিতাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। এবং কেঁদেই চললো। মৌমিতা তাকে ছাড়াতে চাইলো কিন্তু হিরা ধরেই রাখলো। এ কান্নায় শুধু তাকে এতকাল পরে দেখার কষ্ট না আরো কিছু কষ্ট আছে কে জানে। এ কেমন তার ঘরে ফেরা। বোনকে বুকে রেখেই সে নিজেই এবার চেচিয়ে ডাকলো,<br />
: আম্মা দরজা খোলেন, আম্মা। আমি মৌমিতা।</p>
<p style="text-align: justify">মৌমিতা দরজায় ধাক্কা দিতেই বাবার রুমের দরজা খুলে গেল। তার কণ্ঠ শোনা মাত্রই আয়েশা বেগম দরজা খুলে বের হয়ে আসলেন।<br />
বহু বছর পরে বহুদিনের পুরাতন মৌমিতাকে দেখা মাত্রই আয়েশা বেগমও মৌ -রে আমার, ও আমার মৌমিতা বলে বিলাপ করে দুহাত বাড়িয়ে মৌমিতাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।</p>
<p style="text-align: justify">একে একে সব ভাইবোন দরজা খুলে বের হয়ে আসছে। চারদিকে ঠাসঠুস দরজার শব্দ। পায়ের শব্দ। সব ভাই-বোন এক সাথে হওয়ার এ যে কি আনন্দ! সবাই ছুটে আসছে। তাকে চারদিক থেকে কারা কারা যেন জড়িয়েও ধরছে। চোখের পানিতে তার চোখ এত ঝাপসা যে সে দেখতেও পাচ্ছে না সবাইকে। শুধু অনুভব করছে আলীঙ্গন। তার বুকটা ভরে যাচ্ছে। এতটা শূন্য হয়ে ছিল? পাঁচ বোন এক সাথে অনেক বছর পর। আম্মা বললেন,<br />
: আমি যে বলতাম, নদীতে নদীতে দেখা হয়, বোনে বোনে হয় না, দেখলি তো কতবড় সত্যি কথাটা।<br />
জবাবে বোনগুলো আরো জোরে তাকে জড়িয়ে ধরেছে।</p>
<p style="text-align: justify">বড় ভাইজান আছেন একা দাঁড়িয়ে।আকবর হয়তো বাস স্টেশনে খুঁজছে তাকে।আকবরের বউ মোবাইলে জানাতে গেল বুবু বাসায় পৌঁছে গেছে। মৌমিতাকে হাত ধরে বুকে টেনে নিয়ে বাবার রুমে ঠুকালেন আয়েশা বেগম আর কেঁদে কেঁদে খান সাহেবকে বললেন।<br />
: দেখ, তোমার পাঁচ মেয়ে আজ একসাথে আছে।ওরা সবাই তোমাকে দেখতে এসেছে। ওদের তুমি দোয়া কর।<br />
খান সাহেবর খাটের পাশে ওরা দাঁড়ালো।পাঁচজন সারিবেধে। খান সাহেব বা হাতটা একটু নাড়ালেন, চোখ দিয়ে ফোট ফোট পানি পড়ছে। একটা কিছু বলছেন।বুঝা যাচ্ছে না।<br />
আকবরের বউকে ডাকা হলো।সেই শুধু কিছু কথা বুঝতে পারে।<br />
অনেকক্ষণ শোনার পর বুঝা গেল শব্দটা হচ্ছে ‘নূর জাহান’। খান সাহেব তার মৃত কন্যাটিকেও খুঁজছেন।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/25/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সেই এক বৃষ্টিতে ॥ দিলরুবা আহমেদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/06/17/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/06/17/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Jun 2021 18:37:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দিলরুবা আহমেদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=879</guid>

					<description><![CDATA[রুমঝুম বৃষ্টির শব্দের মাঝেই নুপুর পায়ে নায়াগ্রা ষোলশহর রেলস্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার নুপুরে অবশ্য কোন বোল নেই। স্টেশনের কোলাহলে তা থাকলেও হয়তোবা শোনা যেত না। সম্ভবত: এটাকে পায়েল বলে। এখন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">রুমঝুম বৃষ্টির শব্দের মাঝেই নুপুর পায়ে নায়াগ্রা ষোলশহর রেলস্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার নুপুরে অবশ্য কোন বোল নেই। স্টেশনের কোলাহলে তা থাকলেও হয়তোবা শোনা যেত না। সম্ভবত: এটাকে পায়েল বলে। এখন অবশ্য এনকেলই বেশি আসে মুখে। বিদেশিদের মতন পরেও আছে একপায়ে। অন্য পা-টা খালি। দেখতেই কেমন শির শিরে লাগতো একসময়। শীল পাটার উপর আঙ্গুল ঘষে মসলা টেনে নামানোর মতন। সেই কিলবিল করে কাপুনী লাগাটা এখন থেমে গেছে। সময়ই শিক্ষক। নিজেই এখন এক পায়ে সরু পায়েল পরে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দাঁড়িয়ে আছে মুখোমুখি অতীতের এক দরজায়, সেই রেলস্টেশনে, যা ছিল একদিন অনেক অনেক অনেক স্বপ্নে ভরা এক যাত্রাকথার সূচনা লগ্ন।</p>
<p style="text-align: justify">ট্রেন আসার কি সময় হয়নি এখনও? ছাত্রছাত্রীও বেশ কম চারদিকে। বৃষ্টির কারণে কি এরকম, নাকি শাটল ট্রেনের সময়সূচিই বদলে গেছে। কত এসেছে এই সময়ে এইখানে কত বছর ধরে সেই কত আগে। বহুকালের চেনা জানা দেখা ছোট একটা ছাউনি ঘেরা পারাপারের এই স্টেশনটা।</p>
<p style="text-align: justify">এত বছরেও স্টেশনটির বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়নি। যেমনটি ছিল তেমনই আছে। একই রকম। শুধু বদলে গেছে চরিত্রের চেহারাগুলো। ঐ যে ঐখানে বসে আছে সেই মিঠু আর মমতাজের যুগল। চেয়ে আছে চুপচাপ একে অপরের দিকে। মুখটাই শুধু বদলে গেছে। আর তো সবই এক। চাহনিও এক। স্বপ্নে ভরা সে এক মায়ার বাঁধন যেন। সবার মাঝে থেকেও যেন চলে গেছে অন্য কোন এক জগতে। ব্রিজের কোনার সিঁড়িটা সব সময়ই থাকতো ওদের দুজনার দখলে। এতো মানুষ উঠতো নামতো, ওরা নির্বিকার, ডুবে আছে একে অপরে দিকে, চেয়ে আছে অপলক। দিকে দিকে এত যে কোলাহল কিছুই যেন তাদের ছুঁইছে না। সব ভুলে কইছে কথা পরস্পরের সাথে। বাকবাকুম পায়রা যেন। এত কি কথা কইতো তারা দুজন দুজনার সাথে! কি জানি কি কথা। কি এত কথা ছিল বলার জন্য কে জানে।</p>
<p style="text-align: justify">আজ ভেবে অবাক লাগছে। ঐ ছেলে মেয়েগুলোর পাশে বসে শুনতে বড় মন চাইছে ওদের কথার কলকাকলী। আলাপচারিতা। এতে কি শুধু আপনাকে নিয়েই কাব্য চলে। নাকি থাকে জগৎ সংসার, জীবনযাত্রা, অনাগত ভবিষ্যৎ। যাপিত জীবন। যেমন তেমন সব কিছুই কি মধুময় হয়ে সাত রংয়ের বর্ণিল কোন রংধনুররূপ নিয়ে ওদের আকাশেও খেলা করে। আহা যদি জানা যেত। আহা-ই বা বলছে কেন! ঐ সময় তো সেও পেরিয়ে এসেছে। বসেছিল সেও সেই যুবকের পাশে। তাহলে কেন ভাবছে জানে না সে। সে জগত তো তারও দেখা। জানা কথা। অজানা তো নয়। তারপরও কেন মনে হচ্ছে সব অচেনা, অনাবিস্কৃত। অনাস্বাদিত।</p>
<p style="text-align: justify">অনিবার্য প্রয়োজনীয় কিছু নয়। জানতেই যে হবে, তারপরও যেন জানার অপার অসীম আকাংখা। কেমন এই ভালোবাসার রূপকথা। কোন সুরে তালে লয়ে বইছে চলে এত বছর পরেও ঐখানে ঐ সেই একই জায়গায়। বিশটি বছর পরে বিশাল কোন ব্যতিক্রম কি হয়েছে ঐখানে বসে থাকা লাস্যময়ীর সেই হাসিতে। না তো। সবই তো এক সুরে বাজছে। একই ছন্দে দুলছে। শুধু নেই শুধু সেই একজন। আর সবাই যেন সর্বত্র একই ছন্দে বাধা দোলনায় দুলছে। প্রকৃতি ভালই দোলাচ্ছে। তার হৃদয়েও কাঁপন তুলছে। থেকে থেকে মনে পড়ছে কত কিছু, কত কী। সে তো ভেবেছিল সব ভুলে গেছে। কই কোথায়। সব তো তাকেই ছুঁয়ে দিচ্ছি হাত বাড়িয়ে বাড়িয়ে। মিঠুন আর মমতাজের জায়গাটা জুড়ে যারা বসে রয়েছে তাদের পাশে অযথাই এসে দাঁড়ালো।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #0000ff">কিছু কথা শোনার কি লোভ বুঝি সামলানো গেল না! মনে মনে এই ইচ্ছেও কি হচ্ছে না যে ওখানে দাঁড়ালে আগের কোন একটা জায়গায় আবার গিয়ে দাঁড়াতে পারবে, পরক্ষণেই মনে হলো না না, সে যেতে চায় না। কোনদিনও যেতে চায় না। এক্কেবারে ফুলস্টপ। </span></em></p></blockquote>
<p style="text-align: justify">এবার দেশে ফেরার পথে লণ্ডন হয়ে এসেছে। কাটিয়েছে দুটো রাত মিঠুন আর মমতাজের সাথে। তাদের সাজানো সংসার আর ভালবাসার গল্পকথায় কেটেছে অনবদ্য দুটো রাত। দুজনাই প্রচুর মুটিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">হিথরো এয়ারপোর্টে ওদের দেখেই সে বললো, : বাহ্ বাহ্ মোটামুটি ভাল রুপই ধারণ করেছিস দেখছি। : জী আমি মিস্টার, মোটা আর ও মিসেস মুটি দুজনে ভালই আছি মোটামুটি। মিঠুন আগের মতনই ঝটপট উত্তর দিয়েছে, আচ্ছা সেও কি আজও তেমনই আছে আগের মতন কিছুটা কাব্যে কিছুটা বাস্তবতায় কিছুটা দ্বিধায় কিছুটা দ্বন্দ্বে। এখনও একজন ভঙ্গুর নতজানু মানুষ। শিরদাড়া-টা কি আজও খুঁজে পায়নি। কে জানে হয়তোবা তাই। মিঠুন তো আগের মতনই প্রচুর কথার মারপ্যাঁচের ভেতরই আছে। ঐ জালেই তো মমতাজকে জড়িয়েছে। মমতাজ অন্তত তাই বলে। বলে কথা বলে বলে পটিয়েছে। মনে পড়তেই তার হাসি পেয়ে গেল। কথার ক্ষমতা অসীম। ভাল আছে কথাওয়ালা ওয়ালী। এখন দুই বাচ্চা, সাজানো সংসার, আর সেই সাথে প্রচুর ঝগড়াঝাটি নিয়ে, সাজানো সেটাও, মেকী ঝগড়া। মমতাজ সারাক্ষণই হৈ হৈ করে প্রচুর কথার খৈ ফুটিয়েছে। আর অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে বলেছে আগে যদি জানতো তবে ঐ মিঠুন নামের ছেলেটিকে সে কোনদিনও বিয়ে করতো না।</p>
<p style="text-align: justify">মিঠুনও সাথে সাথে গো গা করে বলেছে সেও না। সেও না। তবে সে যা বলে সব কিছু বলে বেশ নীচু স্বরে। গলা বেশি বাড়াতে পারে না। তার আগেই মমতাজের ঝামটা খায়। তবে বোঝাই যাচ্ছে যা বলছে তা বলছে না। মিন করছে না। তাই মিন মিন চিন চিন করে বলছে। সেই ছিপছিপে লম্বা বাজখাই গলার ছেলেটা এখন চারকোণা হয়ে যাওয়া বিশাল বপুর এক লোকে পরিণত হয়েছে। কতটুকু বদলেছে সে, সেই যুবক! সেও কি আজ পড়ন্ত বেলার এক শ্রান্ত পথিক? ক্লান্তি দুচোখে নিয়ে কি সেও ভাবে ফেলে আসা কোন এক সোনালী সময়ের কথা? নাকি ভাবছে বেশ হয়েছে যা হয়েছে। ওরা দুজনা তো অযথাই হি হি করে হাসছে আবার পরক্ষণেই ঘোষণা দিচ্ছে আবার সুযোগ পেলে ঐ পথে আর পা বাড়াতো না। মাড়াতো না ষোল শহরের রেলস্টেশন। বসতো তো না ঐ জায়গায়। আজ সে এসে ওখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওদের পাশে ওরাও যে বসতো। চারজনের জুটি ছিল। কী ভীষণ ভালোলাগা ছিল। আহা।</p>
<p style="text-align: justify">আহারে। আহ্। পপকর্নের সৌরভে ভরা লন্ডনের মেঘময় সেই রাতে কতভাবে কতবার ভেবেছে একটি বার জিজ্ঞাসিত যদি হয় তার কথা কি বলবে সে। তারাও বলেনি। সেও জানতে চায়নি। তারা দুজনাই তো কেবলই বলেছে ফিরে গেলে আর এ পথে নয় অন্য পথে চলতো। অন্য কোন উৎসের সন্ধানে যেত যেন তারা। কিন্তু সে কেবলই অনুভব করেছে আবারও যদি ছেড়ে দিত শূন্য থেকে গুনতে, তবে তারা দ্রুত পৌঁছে যেত ১৮-তে, ১৬ শহরের রেলস্টেশনে, আবার যেন দেখা হয় দুটিতে। মিঠু আর মমতাজের আবার পরিচয় আবার পথ চলা শুরু।</p>
<p style="text-align: justify">সে কি আর চাইবে আসতে এইখানে আর কোনদিন? এত বছর পরে এসেও এত চমক এত কাপুনী কেন যে এলো। না না, সে ফিরে যাবে। এই খানের সেই সময়ের কোন স্মৃতিই সে চায় না সাথে রাখতে। অতীত থাকুক অতীতেই। থাকুক পড়ে হেলায় অবহেলায় অযত্নে। হয়তো ওরাও তা বুঝে গেছে, তাই এত জনের এত কথা বললো শুধু। বড় সঙ্গোপনে এড়িয়ে গেল একজনের কথা। যেন আর কেউ ছিল না এই পৃথিবীতে যার কথা জিজ্ঞেস করা যায়। একজনকে তারাও যেন বড় আলতো করে ঠেলে ফেলে দিল উপেক্ষার জগতে। তারপরও অবাক হয়েছে। সে করেছে বলে বুঝি তারাও তাই করবে। এখনও অবাক দুচোখ নিয়ে চেয়ে আছে কাঠের ব্রিজটার শেষ ধাপ-টার দিকে। ঐ সিঁড়ি থেকে তারা দুজন ছিটকে গেছে কোথায়। উঠেছে কি পড়েছে জানে না। শুধু জানে দুজনাই ছড়িয়ে গেছে বিশ্বময়। দু’জন থেকে দু’জনাই আজ বহুদূরে। দূরত্ব বহু বহু বহু দূরের।</p>
<p style="text-align: justify">নিজেদের ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে নিজের জীবনে। জীবন বয়ে গেছে তীর তীর বেগে। ভিন্ন আলোয় নতুন আঙ্গিকে পেচিয়ে গেছে নতুন ঘূর্ণনে। সবার ভাগ্য একরকম হয় না। কেঊ শুধু দেখেই যায়। দেখে দেখেই জীবন পার করে দেয়। ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে পায়ের কাছটাতে। ভিজে গেছে পায়ের নিচেরটা। রিকশায় এসেছে। প্ল্যাস্টিকের চাদর টেনে রেখেছিল তারপরও জিনসের স্কাটটা ভিজে গেছে। আজ সে সারাটা দিন যাপন করতে চেয়েছিল অনেক বছর আগের একটা সময়ে। বিশ বছর আগের কোন একটা দিনে। নায়াগ্রা যখন ২০ বছরের। বইছে জলপ্রপাতের মতন। কি প্রচণ্ড ভয়াবহ গতিময় সে।</p>
<p style="text-align: justify">নায়াগ্রা ফিরে চায় রাস্তার দিকে। রিকসা আছে কি? ঝম ঝম বৃষ্টির শব্দ যেন বেড়ে গেছে। বুকের ভেতরও ঝমঝমাচ্ছে কিছু। রিনরিনিয়ে উঠতে চাইছে কোন এক না বলা কষ্ট। যে কষ্টের অনুভূতি সে কখনোই অনুভব করতে চায় না। কখনোই না। বুক ফুলিয়ে থাকবে। থাকবেই। মাথা উচিয়ে চলবে। সে কখনোই এই কষ্টের ভেতর দিয়ে যাবে না। সে থাকবে অপরাজিতা। বৃষ্টিটা যেন বেড়েই চলেছে। এরকম বৃষ্টির দিনে রিকশায় ঘুরে বেড়াত না তারা দুজনে। ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টির মাঝে চলতো রিকশাটা। সে তখন কখনো আবৃত্তি করতো বা হেড়ে গলায় গান গাইতো। একদিন বললো, : চল, রিকশা জার্নি করি। ষোলশহর টু ভার্সিটি। : রিকশা করে ভার্সিটি পর্যন্ত যাবে! মাথায় বুঝি গণ্ডগোল হয়ে গেছে তোমার। : সে তো তোমাকে দেখার দিন থেকেই। : ওরে আমার কে রে? : কে রে মানে? আমি কে জান না! : না। : না? : না। ধুপ করে নেমে গেল পাগলটা। তারপর বৃষ্টিতে ভেজা। ভিজে চুপসে যেতে লাগলো। : আরে রিকশায় উঠে আস, জ্বর আসবে তো। : আগে বলো মনে পড়েছে কি আমি কে? : কি বলছো শুনতে পাচ্ছি না। : কি? এই রিকশাওয়ালা ভাইজান, আপনি শুনতে পাচ্ছেন? আহা দরকারে রিকশাওয়ালাকে ভাইজান বানিয়েছে। কী বুদ্ধি, রিকশাওয়ালাকে আবার জিজ্ঞেসও করা হচ্ছে। রিকশাওয়ালাটাও কম না। : আফা না হুইনলে, আই হুনবো কোত্থেইক্যা। আর বুঝি ছয়খান কান আছে? কী কন আপা। : আরে এতো দেখি আফার চামচা। ভ্রুকুচকে কোমরে হাত দিয়ে এমন ভঙ্গীতে চাইলো যেন আরে এতো বেইমান।</p>
<p style="text-align: justify">সবাই কেন তার দলভুক্ত হচ্ছে না এই আফসোসে বৃষ্টির পানিতেই ঝুপঝাপ করে পা পিটালো। রিকসাওয়ালাও অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। যেন সে তার প্যাসেঞ্জারের দলে। পথচারীর না। সে যখন নেমে গেছে পথে সে তখন মাঝরাস্তার পথিক। : উঠে এসো, ভিজে চুপসে গেছ তো প্রায়। : আমিও শুনতে পাচ্ছি না। ভাগ্যিস এটা চট্টগ্রাম শহর। নাহলে এতক্ষণে ট্রাফিক জাম লেগে যেত। রাস্তার উপর দাঁড়িয়েই তার ঝাকরা চুলের পানি ঝাড়ছে। কানা চোখে আবার চেয়ে চেয়ে দেখছেও। আহারে, সে কি করছে তাও তার দেখতে হবে। না ডাক দিলে কেমন হয়।</p>
<p style="text-align: justify">ভিজুক। আচ্ছা মতন ভিজে কাকগুলোর বন্ধু হোক। সে আবারো কানা চোখে চাইছে। আশা করছে সে আবার ডাকবে। কোনভাবেই তাকে না ডেকে সেও কি পারবে! ডাক দিল, : উঠে আস বলছি। আসছে না। হাসছে অন্যদিকে চেয়ে। : উঠে আস বলছি কাক মিঞা। : আগে জবাব, তারপরে। : কী ছেলেমানুষী করছো। : ভাইজান উইঠ্যা আসেন। ভিইজ্যা শেষ হইয়া যাইতাছেন। শেষে আফনের কাপড়ের তুন আফারও কাপড় ভিজবো। : কী দরদ রে বাবা আফার জন্য। কোন জনমের বোন রে তোর। রিকশাওয়ালাও কম না, বললো, : ভাইজান থেকে শালায় নামায়ে দিলরে দিল আমারে। রিকশাওয়ালা আর তার কথোপকথন থামাতে নায়াগ্রা ঝটপট বলে উঠেছিল, : তুমি হচ্ছো, তুমি হচ্ছো, ভাবছি, তাড়াতাড়িই বলবো, উঠে এসো আগে। একটি বছর শেষ হয়নি। একটি বছর পার করে তারপরে বলবো বলেছি। : তোমার এ নিষ্ঠুরতা কবে শেষ হবে বলতে পার, : এক বছর পরে। : ভাইঁজান এক বছর অপেক্ষা করেন। বেশি দিন না। : তুই কি বুঝিস, বেশি না কম। প্রেমে পড়েছিস কখনো। : বহুতবার। এটাই সে চাইছিল এড়াতে রিকশাওয়ালাকে নিজেদের ভেতরে আনা, কথার কোন প্রাইভেসি থাকে তাহলে। কিন্তু সে দিব্যি রিকশাওয়ালার সাথেই আলাপজুড়ে দিল। এই করেছে সব সময়। তৃতীয় ব্যক্তিকে সবসময় মাঝে এনে দাঁড় করিয়েছে। ভিজছে সেদিকে খেয়াল নেই, রিকশাওয়ালাকেই জিজ্ঞেস করছে, : উঠলি কেমনে। যেন তার নিজের ওঠাও খুব জরুরি।</p>
<p style="text-align: justify">পথ খুঁজে পাচ্ছে না। সাহায্যকারী বললো, : মায়ে রশি দিয়া বাইন্ধা তুলছে। : আরে সবখানে মায়েরাই কি ভিলেন নাকি? এই হাত মেলা আমার সাথে। : আমিও একদিন ছেলের মা হব তাই নায়কবাবু শোনেন, ভিলেনের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। চলবে না। ‘চলবে না, চলবে না’ বলতে বলতেই রিকশায় উঠেছে রাজপুত্র। উঠেই যথারীতি হুটে বাড়ি খেল। : লম্বু মিঞা। : মিয়াও মিয়াও। তালগাছ ভাবছো আমাকে। হু আমি কিন্তু তাহলে আকাশে উঁকি মারবো, তারা রানীর খোঁজে, তখন বুঝবে। : ওরে আমার কেরে? : আবার? আবার যাব নাকি নেমে। নাহ্ এই মেয়েকে আমি কিছুতেই বিয়ে করবো না। : আগে দেখ প্রেম হয় কিনা। তারপর তো বিয়ে। একবছর পেরুতে পেরুতে দেখ আমিই না শ্বশুরবাড়ি চলে যাই। : যাও দেখি! ধরে নিয়ে আসবো। যেখানেই থাক না কেন বছর পূর্ণ হতেই জবাব চাই, পাস ফেল জানতে হবে। জানতে হবে আমার। তোমার হ্যাঁ বা না। শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে গেলেও এবং সেটা যদি আমার বাপের বাড়িও হয় তাহলেও দরজায় নক নক করে জানতে চাইবো, বল এবার ভালােবাস কি না!</p>
<p style="text-align: justify">এতবড় ভাষণে নায়াগ্রা হা হা করে হেসে ফেললো। রিকশাওয়ালাও প্যাডেল ঘোরাতে ঘোরাতে বললো, : আমারেও খবর দিয়েন। আমিও যাব রিকশা লইয়া আফারে আননের লাই। ভালই লাই পেয়েছে তো এই ব্যাটা। সাথে চলছে আর মতামত দিয়ে যাচ্ছে। বিরক্ত চোখে পাশের লোকের দিকে চাইলো। সব দোষ তার। মানুষটা তাড়াতাড়ি বললো, : আমি গাড়ি কিনে তারপরে যাব বিয়ে করতে, বুঝেছো। তোমাকে নেব না। বুঝতে পারছে সে বিরক্ত হচ্ছে দেখে রাজার কুমার গাড়ির কথা তুলে রিকশাওয়ালাকে বাতিল করছে। কিন্তু সে কি আর থামে। বললো, : আমি তো ভাইবতাম হেই তারে আননের লাগি পক্ষীরাজে যামু।</p>
<p style="text-align: justify">রিকশা থামতে না থামতেই লাফ দিয়ে নেমে পড়লো রাজা সাহেব। যেন তার ইচ্ছাই সব। ভাড়াও মিটালো। বেড়ার চায়ের দোকানে ঢুকতে ঢুকতে বললো, : রিকশাওয়ালাটা বেশি বেশি তোমার দিকে চাচ্ছিল, আমার পছন্দ হচ্ছিল না, তাই নেমে পড়লাম। কেউ তোমার দিকে তাকালেই আমার কেন যে এত রাগ লাগে। নায়াগ্রা হাসলো। কি পাগল ছেলে। অযৌক্তিক কথাবার্তা বলে বেশি। নির্বিকার চিত্তে ভেজাচুল ঝাকালো তার গায়ের উপর। পানি ছিটালো তার চোখে মুখে। পরোটা আর বুটের ডালের অর্ডার দিল। সবজি ভাজাও। তার প্রিয় খাবার।</p>
<p style="text-align: justify">নায়াগ্রা হেসে বললো, : যদি অন্য কারো সাথে চলে যাই তাহলে তুমি সত্যিই কি করবে? : যাও তো দেখি। বেনী ধরে টেনে রেখে দেব। : সে কারণেই ভাবছি ববকাট করে ফেলবো। : মুণ্ডু তো থাকবে ঘাড়ের উপর, নাকি তাও বাদ দেবে। সেটাই ধরে রাখবো। একদম পকেটে পুরে রেখে দেব। খাচ্ছে, গল্প করছে, খুব খুশিতে আছে সে। নায়াগ্রা জানে সে পাশে থাকলেই ঐ যুবক হেসে উঠে প্রাণের পরশে। বলেও সে প্রায়ই, তুমি হচ্ছো আমার জিয়ন কাঠি। : জিয়ন কাঠি এবার যেতে চায়। ভার্সিটির বদলে বাসায় ফিরে যাব। : হু, রাখাল কুমার বুঝি আর রাজকন্যার পছন্দ হচ্ছে না। বাসায় ফিরতে হবে না। আজ সারাদিন আমার সাথে থাক। : আবদার! : আমি হচ্ছি তোমার তাবেদার। : চল ফিরি তাবেদার কোথাকার। : কেমন করে ফিরবো। : কেন রিকশা করে। : তুমি মুখে বলছো যাবে কিন্তু আসলে তো যেতে চাইছো না। : এত বুঝো! হা হা। : ইয়েস, বুঝতে পারি। আমি হচ্ছি তোমার ব্যাপারে সবজান্তা ডিকশনারি। : ওরে আমার কে রে? : বুঝে শুনে বল, সত্যি যদি কোনদিন সত্যি-সত্যিই হারিয়ে যাই তাহলে কিন্তু কেঁদে কুল পাবে না। : দেখা যাবে। নায়াগ্রা আজ বসে ভাবে একা একবৃষ্টি মাথায় নিয়ে কেউ কেঁদেছে কি কোন দিন গত ২০টা বছরে। ভালোবাসার সেই যুবকের জন্য। নাহ্। একেবারেই নাই। না তো। কখনোই না। কোনদিনও না। পরের জন্য কাঁদতে হয় কেমন করে নায়াগ্রা জানেও না। বৃষ্টি বাড়ছে। প্রকৃতিইবা এত কাঁদছে কেন?</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #0000ff">সেদিনও কেঁদেছিল প্রকৃতি। আনমনে। বলেছিল কি গোপনে নিরবে এই দিনই শেষ দেখা। সে তো তা কই ধরতেও পারেনি। নায়াগ্রার মুগ্ধ দুচোখে ছিল শুধু ধরা প্রিয় সেই মুখ। চেয়েছিল অপলক তার দিকে যাকে সে বলেনি ভালোবাসি। </span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">একটা বছর ধরে ভাববে বলে ঘুরিয়ে রেখেছে। চা দোকানের কাঠের টেবিলে বসে গালে হাত দিয়ে দুনয়ন মেলে চেয়ে থেকেছিল শুধু সেই অপরূপ ভালোলাগার দিকে। বাহিরে বৃষ্টি। টিনের চালে টাপুর টুপুর, চায়ের ঘ্রানে কি অবিনাশী সুন্দর এক লগ্ন। কী কাটা কাটা চেহারা তার। এত বুজদার অথচ তার কাছে এলে যেন শিশু। এত হুমকি ধামকী দিয়ে বেড়ায় অথচ তার আশেপাশে এলে যেন এক বিড়াল ছানা। নয়ন ভরে থাকে নায়াগ্রার দুচোখে ভালোবাসার প্রপাতে। আজ হঠাৎ সেই পানি তার চোখে নামতে চাইছে কি? চমকে উঠে নায়াগ্রা। লাফ মেরে উঠে। নাহ্ যাবে না ভার্সিটি। অতীতকে ছোঁবে না। ট্রেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আসছে ট্রেন। না, সে ফিরে যাবে তার নিজের জীবনে, ফিরে যাবে না অতীতে। এক বছর শেষের জন্য সে তো বসে থাকতে পারেনি। বলা হয়নি জবাবটা। বিয়ে হয়ে গেছে তার। আর ওটা ওখানেই শেষ। দাঁড়ি, কমা, সেমিকলন সব পরে গেছে। নায়াগ্রা রেলস্টেশন থেকে বের হতে হতে আপন মনে বলে, তোমার আমার যে একটা গল্প ছিল তার নটে গাছটি মুড়ালো। এখানেই ফেলে রেখে গেলাম। এ গল্পে আমার আছে শুধু একফোটা অশ্রুজল। থাকুক তা আঁধারে কোথাও একান্ত অজানায় অবহেলায় পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">ট্রেনের শব্দটা শুধু দ্রুত কাছে চলে আসছে। সে ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্ম থেকে। হঠাৎ পেছন থেকে মনে হলো, চলমান ট্রেন থেকে কেঊ চেঁচিয়ে ডেকে উঠলো নায়াগ্রা, নায়াগ্রা। চমকে সে ফিরে তাকালো। কই কোথাও কেঊ তো নেই। ট্রেনটা তো থেমে গেছে স্টেশনে। বুঝে গেল ওটা ফ্লাশব্যাক। হঠাৎ ফিরে আসা একটা পলক। এক ঝলকে হঠাৎ পাওয়া পলকটি আবার কোথাও হারিয়ে গেছে। সেই গল্প থেকে ছুটে বের হয়ে আসা একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/06/17/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পথ শেষে একজন ॥ দিলরুবা আহমেদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/14/%e0%a6%aa%e0%a6%a5-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/14/%e0%a6%aa%e0%a6%a5-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 May 2021 19:42:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দিলরুবা আহমেদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=618</guid>

					<description><![CDATA[এই পৃথিবীতে দারুণ আরেকটা ব্যাপার আছে, সেটা তুমি জান না। হামিদ সাহেবের বলার ভঙ্গিতেই যথেষ্ট রহস্য রয়েছে। কিন্তু মমতাজ খুবই নির্বিকারভাবে বললেন, : তুমি জানাওনি, তাই জানি না। জানাও এখন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">এই পৃথিবীতে দারুণ আরেকটা ব্যাপার আছে, সেটা তুমি জান না। হামিদ সাহেবের বলার ভঙ্গিতেই যথেষ্ট রহস্য রয়েছে। কিন্তু মমতাজ খুবই নির্বিকারভাবে বললেন,<br />
: তুমি জানাওনি, তাই জানি না। জানাও এখন জেনে যাব।<br />
কি সহজ সরল স্বীকারোক্তি। হামিদ সাহেব একটু হাসলেন। মমতাজের মুখে পান। পান চিবুচ্ছে। আরেকটা পান বানাচ্ছে তার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">হামিদ সাহেব ইজিচেয়ারে লম্বা হয়ে শুয়ে আছেন। চশমাটা অযথাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছেন। সচরাচর পান খান না। আজ হঠাৎ খেতে চাইলেন। একসময় পুলিশের ডাক সাইটের অফিসার ছিলেন। এখন রিটায়ার্ড। তাও বছর তিন/চার হবে। অবাক হয়ে আজকাল প্রায় ভাবেন ৬২/৬৩ বছর বয়সেই জীবনটা এমন থেমে গেল কেন?</p>
<p style="text-align: justify">মনে হয় এই তো সেদিন পুলিশ বিভাগে ঢুকেছেন, চোরের পেছনে দৌড়াচ্ছেন। কেইস নিয়ে ছুটছেন। আল্লাহতালা জীবনটা আরেকটু বড় করে যদি দিতেন, আরেকটু বড়&#8230; আহ্ তাহলে কতই না ভাল হতো। নিদেনপক্ষে যৌবনটা। ২৫ বছর বয়সে পৌঁছুলেই গণনাটা যদি এরকম হতো-২৫.৫, ২৬, ২৬.৫, ২৭, ২৭.৫&#8230;এভাবে বছর গড়াবে। আর তাতে যদি ১০টা বছরও বেশী পাওয়া যেত ৩৫ এ পৌঁছাতে! তারপর না হয় আবার চলতো প্রাগ ঐতিহাসিক নিয়ম ৩৬, ৩৭, ৩৮। স্লো হয়ে গেছে ঘড়ির কাটা ভাবতেই কীভালো লাগছে। আজকাল অবসরে আরো অদ্ভুত সব ভাবনা চিন্তাতে সময় কাটে।</p>
<p style="text-align: justify">সামনে বসা মমতাজের পাকা চুলগুলো ঝিলিক দিচ্ছে। কী অসম্ভব সুন্দরই না ছিল এই মমতাজ। সেই ফেলে আসা কোনো এক যৌবন-বেলায় বলেছিলেন,<br />
: সম্রাট শাহজাহান বেঁচে নেই, থাকলে আরেকটা তাজমহল তৈরি হত। মমতাজ হেসে বলেছিল,<br />
: যে জন আছে সেইবা কম কিসের? নদীর তীরের কি দরকার হাতির ঝিলই সই।</p>
<p style="text-align: justify">হাতিরঝিলের চওড়া এই রাস্তাটার উপরই তাদের বাড়িটা। তখন সবে জমিটা কিনেছে। বাড়িটা তুলেছে বহু পরে। নাম রাখতে চেয়েছিল ‘তাজমহল’।<br />
মমতাজ বললো,<br />
‘না, তুলনার সুযোগ দেওয়ার কী দরকার। যা আমাদের তা আমাদেরই। অন্যের সাথে কি?<br />
সম্রাট শাহজাহানে সাথে প্রতিযোগীতায় যাওয়া হলো না আর তার। মমতাজ পেছনে টেনে ধরেছে। মমতাজ বরাবরই এরকম, টেনেই ধরে রেখেছে পেছন থেকে আজীবন, জীবন ভর। এক সময় মনে হতো, এই মেয়েকে এক নজর না দেখলে ঘুম আসবে না, একটি বাক্য না বললে ভাত হজম হবে না। সেসব দিনকে আজ বহুদূরে ফেলে রেখে চলে এসেছে আজকের এই দিনে।</p>
<p style="text-align: justify">সেদিনও জানতো দিন দিনের মতন যাবেই চলে, রাতও এসে হাজির হবে, তারপরও মন মানতো না, মন কেবলই বলতো এই দিন এই রাত কখনই কাটবে না মমতাজকে ছাড়া। সে কী এক মোহাবিষ্ট দিন রাত, সময়ক্ষণ। সবই এখন সুদূর অতীত। বুড়ীয়ে গেছে আজ তার সেই মমতাজ, মমতা রয়ে গেছে তারপরও অঢেল, ভালোবাসার তাজ এখনও আছে মাথায়।<br />
হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন,<br />
: তোমার বয়স কত হলো?<br />
: এটাই সেই দারুণ ব্যাপার!<br />
: না।<br />
: তবে!<br />
: তোমার বয়স এখন ৫৫।<br />
: জানইতো, আবার একটা বিয়ে করবে? ২০ বছর বয়সী কাওকে!<br />
হামিদ সাহেব হাসেন,<br />
: সাধ আর সাধ্যের টানা পোড়ন। সম্ভব হবে না।<br />
: আমি টুপ করে মরে গেলেই তো হলো। সাধ্যেও কুলাবে, সাধতো রয়েছেই।<br />
হামিদ সাহেব হাসতে থাকলেন, মমতাজ কথা বলেন খুব কম, কিন্তু যখন বলেন ছেড়েও বলেন না।<br />
: ঐ বিষয়েই বলতে চাচ্ছিলাম। এই পৃথিবীতে দারুণ আরেকটা ব্যাপার আছে,আমরা দুজন একসাথে একদিনে মরবো না।<br />
: সচরাচর এরকম হয় না। শুনেছো কখনো এরকম হতে! একসিডেন্ট, সুসাইড হলে আলাদা কথা।<br />
: তুমি কি তাহলে কখনো ভেবেছো আমরা একজনই শুধু আরেকজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাব।<br />
মমতাজ একটু থমকালেন, বললেন না কিছু। ভাবলেন,<br />
আসলেই এতটা তো সে কখনও ভাবেনি। মরে যাব আমরা সবাই, এটা জানা। তাই বলে&#8230; মমতাজের বুকটা হঠাৎ হু হু করে কেঁদে উঠলো।<br />
প্রতিদিন ভোরে উঠে যে মুখ দেখে ঘুমাচ্ছে, তারই পাশে, একদিন জেগে দেখবে সেই মুখ আর জাগবে না। রাতে বিছানাতে ঘুমাতে যাবে একা এবং একা একা!</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">এতটা মাথা তো সে কখনোই ঘামায়নি। হাজার কাজের ভেতর দিয়ে সকাল সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে যাচ্ছে। প্রায় ৩৫ বছরের সংসার জীবন। একসাথে চলেছে, বসেছে, খেয়েছে, ঘুমিয়েছে তারপর একজন নেই! </span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এ কেমন কথা। বড় ধ্রুব কিছু জিনিষ চোখেই পড়ে না। আশ্চর্য্য! একজন না থাকলে আরেকজন কেমন করে বেঁচে থাকে! মমতায় চোখ ছলছল করে উঠে। হয়তোবা এসব বিষয় ভাবনার মাঝে আসে না, থাকে না, তাই হেসে খেলে চড়ে বেড়ানো যাচ্ছে। নতুবা সারাক্ষণই থাকতে হতো শংকিত, ভীত, সারাক্ষণই কাঁদতে ইচ্ছে করতো।<br />
মমতাজ বললেন,<br />
: তোমাকেই তাহলে এই দৃশ্যটা দেখতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">হামিদ সাহেব একথাতে শুধুই হাসলেন। এসব আবেগঘন কথাবার্তাতে তিনি আবার ভালই কাঁচা। তার মনোজগতের গড়নটা খুবই শক্ত, একেবারেই পুলিশী মেজাজ যাকে বলে। সেই মনোজগতে একবারই হামলা হয়েছিল, হামলাকারী আর কেও না। ঐ যে সামনে বসা বৃদ্ধা, যে ঘটিয়েছিল এই ঘটনা প্রচণ্ড যৌবনে। সবকিছু ভেঙে চুরে চৌচির করে দিয়েছিল। সব নিয়ম, শিক্ষা, সৌজন্যতা সবই ভেসে গিয়েছিল। এখন সামনে বসে আছে, কি শান্ত সমাহিত চেহারা নিয়ে। জীবন চলতে গিয়েও দেখেছে জীবন সম্পর্কে এই মহিলা খুব বেশী চাতুর্য্যরে অধিকারী নয়। নিতান্তই সরলা ধরনের একটি মেয়ে। তবে অনেক অপবাদ জুটেছে এই রমনীর। রমনীটি বিবাহিতা ছিল,একটি মেয়ের মা ছিল। তারপর একটি প্রেম, তার সাথে প্রেম, ভালোবাসা। তার সাথে পালিয়ে যাওয়া, তারপর বিয়ে। কতই না কলঙ্কিত আলোচিত হতে পারে তা তারা নিজেদের জীবন দিয়ে দেখেছে। হামিদ সাহেব ইজিচেয়ারে উঠে বসলেন। হাত বাড়িয়ে মমতাজের মাথাটায় হাত রাখলেন। একটু হাত বুলালেন।<br />
: আরেক কাপ চা দাও।</p>
<p style="text-align: justify">মমতাজ লক্ষ্য করেছেন, আজকাল হামিদ সাহেব প্রচুর চা চান। কিন্তু প্রায়ই চা ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে থাকে। অথবা দু-এক চুমুক দিয়েই ফিরিয়ে দেন, বা টেবিলের উপর রেখে অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।<br />
তারপরও প্রচুর চা চাই। কেন! কে জানে।<br />
:শোনো, দাঁড়াও, তোমাকে নিয়ে কোথাও যাবো ভাবছি। কিছু বলার আছে।<br />
:কোথাও গিয়ে বলতে হবে কেন?একি সেই প্রেম পর্বের মতন, অমুকখানে এসো তমুক কথা বললো। এখনই বল। বলে ফেললেই বলা হয়ে যাবে। এত না ভেবে বলে ফেল।<br />
:তুমি ভয় পাবে। কষ্ট-ও<br />
: তাহলে বল না !<br />
:বলতে হবে যে ।<br />
মমতাজ কিছু না বলে শুধু চেয়ে থাকে।<br />
হামিদ সাহেববললেন,<br />
: হঠাৎ মরেযাওয়ারচেয়ে আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে মারা যাওয়া মনে হয় অনেক ভালো, সবাই প্রস্তুত হয়, তৈরি থাকে , কি বল।<br />
: না মারা গেলেই সবচেয়ে ভালো হয়!<br />
হামিদ সাহেব হেসে ফেললেন,বললেন,<br />
: অমর কে কবে কোথায় হয়েছে বল! তবে তুমি যদি ভাবো জীবনটা একটা পথ, পরিক্রম করতে হবে, ওপারে গেলেই অনন্ত জীবন কাল তাহলে আপনজনহারানোর ভাবনাগুলোতেকষ্ট পাবে না। সবাই এই পথ পার হবে, পথের ওপারে তো আবার সবারই দেখা হবে,তাই না! তাহলে মৃত্যুতে এতো কেন হারানোর হাহাকার! এতো নিত্য সত্য, সতত জীবন বিধান। তারপরও আমরা কেন পরস্পরকে প্রস্তুত করি না এই ধ্রুব সত্যকে ধারণ করতে।</p>
<p style="text-align: justify">এবার মমতাজ বেগম কাঁদতে শুরু করলেন। আর বলতে থাকলেন, আমি এসব শুনতে চাই না।<br />
হেসে হামিদ সাহেব বলেন,<br />
: তুমি বুঝি বেঁচেই থাকবে। আমরা সবাই মরেযাবো, তুমি একাই বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, কেমন হবে তখন বলত। সারা পৃথিবীতে একাএকজন শুধু বেঁচে আছেন, ওনার নাম অনারেবল মমতাজ বেগম।দৌড়ে গিয়ে তাজমহলে থাকতে শুরু করে দিও তখন। কেও তো নেই কোথাও বাধা দেওয়ার। কিন্তু পাইলটও মারা গেছেন, যাবে কিভাবে, হেঁটে। হেঁটে চলেছি বনজ্যোৎস্নায় জাতীয় কোনো ব্যানার নিয়ে হাঁটাই না হয়দিয়ো।</p>
<p style="text-align: justify">এটুকু বলেই যেন ক্লান্ত হয়ে গেছেন হামিদ সাহেব। ক্লান্ত চোখে তার দিকে চেয়ে আছেন।<br />
মমতাজ আর শুনতে চায় না। কান্না থামিয়ে চললেন চা আনতে।<br />
পিছনে শুনলো হামিদ সাহেব বলছেন, ফিরে এসে আমায় যে দেখবে জীবন্ত তার কোনো গ্যারান্টি নেই অথচ এই ভাবনাটা ভাবি না বলেই আমরা এতটা জীবন্ত প্রাণবন্ত।<br />
: চুপ করবে!<br />
: ঠিক আছে,আমার কথা ফুরালো, নটে গাছটিও মুড়োল। তবে তোমাকেরবির বৌয়ের মতন কিছু না শিখিয়ে দেখিয়ে বুঝিয়ে সাগরে ভাসিয়ে যেতে পারবো না। এতো ভালোবেসে কি হলো যদি আমার পরে তোমাকে একাশক্তভাবে দাঁড়াতেই না শিখিয়ে গেলাম! তুমিই বল!</p>
<p style="text-align: justify">মমতাজ বেগম না দাঁড়িয়ে হন হন করে হেঁটে চলে গেলেন।<br />
হামিদ সাহেব আনমনে তার চলে যাবার বারান্দাটার দিকে চেয়ে বললেন,এই তো করো তোমরা রমণীরা, থাকো পতি নির্ভর তারপরে সমুদ্র নির্ভর, জলে পর, জলপরী তো আর হওনা তখন,উল্টে খাও হাবুডুবু। আমার একটা কঠিন অসুখ হয়েছে, মরে যাবো, তুমি শুনতেই চাইছো না তাহলে সত্যিটা এসে গেলে নেবে কিভাবে মেনে, বলো তো!<br />
উত্তরে কেবল দূরে কোথাও বসে থাকা কাকের কা কা ডাক-ই কানে এলো ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/14/%e0%a6%aa%e0%a6%a5-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
