<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>জোবায়ের মিলন &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%9c%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%a8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 19 Feb 2024 16:04:53 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>জোবায়ের মিলন &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বইমেলার স্মৃতি ॥ জোবায়ের মিলন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/02/19/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%9c%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/02/19/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%9c%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Feb 2024 16:04:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[জোবায়ের মিলন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3129</guid>

					<description><![CDATA[বইমেলায় প্রচুর হাঁটি আমি।কয়েকবার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যাই। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করি।কথা বলি।গল্পে বসি।চা খাই। বড়, ছোট বলে কোনো রেখা রাখি না।বন্ধু, বন্ধুই। চেনা, অচেনা কতজনের সঙ্গে চেনা হয়, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বইমেলায় প্রচুর হাঁটি আমি।কয়েকবার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যাই। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করি।কথা বলি।গল্পে বসি।চা খাই।<br />
বড়, ছোট বলে কোনো রেখা রাখি না।বন্ধু, বন্ধুই। চেনা, অচেনা কতজনের সঙ্গে চেনা হয়, জানা হয়।নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়, অভিজ্ঞান হয়।</p>
<p style="text-align: justify">সময়টা টানটান উত্তেজনার মধ্যে কাটে, আনন্দের ফল্গুধারা কলকল ঝরে।আমি উপভোগ করি।উদযাপন করি।কেন করি? জানি না।হয়ত মানুষ দেখতে আমার ভালোলাগে বলে, হয়ত মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভালোলাগে বলে, হয়ত আমি মানুষ নই বলে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>হয়ত মানুষের বিচিত্র্য ও বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য আমাকে আকৃষ্ট করে। আবেদন করে।আবার হতে পারে এই মানুষের মধ্যে আমি মানুষ খুঁজে পাই বলে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">নতুনরা, পুরনোরা, মধ্যবর্তীরা প্রাণ খুলে ঘুরে বেড়ান মেলার অঙ্গণ—আমি তাকিয়ে থাকি, দেখি এবং পুলকিত হয়—আহা, আমি কেন পারি না, আরও আরও উদার হতে, মন খোলা হতে, ডানা মেলা হতে! কেন পারি না পরাণের সঙ্গে পরাণ মিশিয়ে মিশে যেতে! এখনও কেন আমি অনেক সময় মানুষ থাকি না? ভেবে পাই না।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষের পায়ের তলার ধুলি হতে ইচ্ছা করে।প্রতিটি মুখের সঙ্গে আমার মুখ মিশিয়ে দিতে সাধ জাগে।মানুষগুলোকে জড়িয়ে ধরে বলতে ইচ্ছা করে, আমাকে নেবেন, আপনাদের সঙ্গে?</p>
<p style="text-align: justify">মনে মনে বলে ঘুরে বেড়াই।এই উচ্চারণটি উচ্চস্বরে বলে হাত বাড়াতে পারি না।যদি পাগল বলে তাচ্ছিল্য করে! চোখে চোখে আহ্বানটি করি—আমাকে আমি বলি বারবার।আর বিলিন হয়ে যাই দেহহীন দেহে, যেখানে আমিত্বটা মুচড়ে মারি সাগ্রহে।বাঁচি অগুণতি আগত মানুষের কল্লোলে, কোলাহলে—এভাবে বাঁচতে, বেঁচে থাকতে কী যে উৎসাহ, কী যে প্রেরণা লাগে তা কি বলে শেষ করা যায়? মানুষের অবারিত সুসম আত্মার মতোই তো এর তৃপ্তি।</p>
<p style="text-align: justify">১৮.০২.২৪</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/02/19/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a5%a5-%e0%a6%9c%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শব্দবৃত্তির আয়োজনে আবৃত্তিশিল্পী তমালের ৫০তম জয়ন্তী উদযাপন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/08/02/2034/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/08/02/2034/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 02 Aug 2022 12:58:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাহিত্য সংবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[জোবায়ের মিলন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2034</guid>

					<description><![CDATA[আবৃত্তি সংগঠন শব্দবৃত্তির আয়োজনে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী আহসানউল্লাহ তমালের ৫০তম জয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ জুলাই ২০২২) রাজধানীর পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আবৃত্তি সংগঠন শব্দবৃত্তির আয়োজনে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী আহসানউল্লাহ তমালের ৫০তম জয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">বুধবার (২৭ জুলাই ২০২২) রাজধানীর পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজধানী ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মী, সংগঠক, শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">আহসানউল্লাহ তমালের সুবর্ণজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার সংস্কৃতি চর্চার তিন দশকের বেশি সময় আন্দোলন-সংগ্রামের নির্লোভ-নির্মোহ কাজ করে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন সম্মলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পষিদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ, বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের উপদেষ্টা আশরাফুল আলম, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান পাখি, রফিকুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন তালুকদার, উপদেষ্টা মীর বরকত, যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদ হাসান, আজহারুল হক আজাদ, মাসুদুজ্জামান, গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজারুল চৌধুরী সুইট, পথ নাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস, কবি শেখর বরণ, আব্দুল কাইয়ুম, ওপার বাংলার আবৃত্তিশিল্পী ও কাজী সব্যসাচী আবৃত্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সেলিম দুরানী বিশ্বাস, মৌ পাঠক সিংহ, সেলিম রেজা সাগর।</p>
<p style="text-align: justify">
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/08/02/2034/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দ্রাক্ষা রসে উৎসারিত সাধু শরবত ॥ জোবায়ের মিলন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/20/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a7%8e%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a7/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/20/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a7%8e%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a7/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Feb 2022 17:49:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[জোবায়ের মিলন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1681</guid>

					<description><![CDATA[‘পাখিরোষ’ নামে এবার একটি ছোটগল্পের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। গল্পকার আশরাফ জুয়েল। যে কোনো কারণ কেন্দ্র করে এর পাণ্ডুলিপি পাঠের সুযোগ হলো। সুযোগ না বলে সৌভাগ্য বলাই সম্ভবত &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘পাখিরোষ’ নামে এবার একটি ছোটগল্পের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। গল্পকার আশরাফ জুয়েল। যে কোনো কারণ কেন্দ্র করে এর পাণ্ডুলিপি পাঠের সুযোগ হলো। সুযোগ না বলে সৌভাগ্য বলাই সম্ভবত শ্রেয় এই কারণে যে, পাণ্ডুলিপিটি পড়া না হলে পরে এই গ্রন্থটি পড়া হতো কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না; যা দুর্ভাগ্যই হতো। কেননা, তাতে মিস করে যেতাম আকালে কিছু কালিন ফল ভোগের স্বাদ।</p>
<p style="text-align: justify">আশরাফ জুয়েলকে আগে পড়িনি, এমন নয়। তার পূর্বোক্ত গ্রন্থ না হলেও প্রথম শ্রেণির সাময়িকীতে প্রকাশিত কয়েকটি গল্প পড়েছি। একটি ধারণাও তৈরি আছে তার সম্পর্কে। কিন্তু ‘পাখিরোষ’ পাণ্ডুলিপির গল্পগুলো আগের ধারণাকে ভেঙে দিয়ে নতুন চিন্তায় দাঁড় করিয়েছে। সিরিয়াস, একটু কঠিন, প্রবল প্রতীকি অথচ স্পষ্ট, ঝরঝরা, কুলীন, কর্দমাক্ত সন্ধ্যা খুঁড়ে দিবালোর নির্জাস তুলে আনার পূত প্রচেষ্টা। যেন কোমল কঠিন তুলি হাতে সমকাল ব্যবহারে যাপিত যাপনের মুখ আঁকা।</p>
<p style="text-align: justify">ছোটগল্পের ছক ছবি ছত্র নির্ণয় করে পাণ্ডিত্য প্রকাশের শক্তি আমার নেই; ভালোলাগার, খারাপলাগার অনুভূতিটুকু ব্যক্ত করার সামর্থ আছে বলে বলতে দ্বিধা নেই, পাণ্ডুলিপিটির পাঠ সন্তুষ্ট করেছে তার নিজগুণে, বৈশিষ্ট্যে, বিশিষ্ট্যতায়। ক্ষয় ধরা রক্তিম, খুনি, ভণ্ডুল সময়কে নির্ভর করে নির্মিত নির্মাণ এই পাণ্ডুলিপির স্বতন্ত্র সারমর্ম। যা পাঠে নৈত্যিক দিনকে, রাতকে দেখা যায় আয়নার সমনে উপবিষ্ট হয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পকারের ভাষ্যে আকারে ইঙ্গিতে কোনো গল্প পরাবাস্তবতার আদলে অঙ্কিত, কোনো গল্পে জাদুবাস্তবতার অবিমিশ্র রেখা আঁকা। আবার কোনো গল্প ইশারা প্রবণ। পাঠ করতে যেয়ে এমন উপমা ইঙ্গিতের মুখোমুখী হতে হয়, পূর্বে যা অধিত ছিল না অন্য কোথাও। হয়ত ছিলও। তবে উপস্থাপনের ভঙ্গিতা প্রজ্ঞ মুন্সির সাক্ষর রাখে। বাস্তবতার নিরিখে আঁকা যে গল্পটি, তা-ও রূঢ় বাস্তবতার বোতাম উন্মিল করে চেনার ভেতর অচেনার গাম্ভির্যে। যেখানে ছোট ছোট করে নোটের মতো বাক্য, যেখানে জীবন এক শিশির বিন্দু, ফের চৈত্রের দাবানলে ঝরা লবন ফোটা! যেন জীবনকে ছেড়ে যাওয়া দূরহ্ কর্মক্লান্তি কিংবা বহন করা এক নন্দিত নরক নিরিখ।</p>
<p style="text-align: justify">‘পাখিরোষ’ পাণ্ডুলিপিতে মোট গল্প সংখ্যা দশ। মনে করি, গল্প সংখ্যা যদি দুই, তিন বা চারও হতো তাতে পাণ্ডুলিপিটির আবির এতটুকু ম্লান হতো না এই কারণে যে, এতে ‘ছায়াসন্দেহ, ঘন বাতাসের সুলেখা, বিজ্ঞাপিত সুখ, পাখিরোষ, হত্যাখামার’ নামক চারটি সূক্ষ সেলাইয়ের গল্প আছে। প্রকৃতপক্ষে একটি গ্রন্থে কয়টি ভালো লেখা হলে গ্রন্থটিকে ভালো গ্রন্থ বলা যায়? খুব বেশি মনে হয় প্রয়োজন হয় না। দুই তিনটি হোঁচটহীন লেখা হলেই পাঠক খুশি থাকে। হোক তা গল্পের, কবিতার, প্রবন্ধের, ভ্রমণ বা অন্য গ্রন্ধ। আলোচিত গ্রন্থটি যদি শুধু মাত্র ‘পাখিরোষ ও হত্যাখামার’ গল্প দুটি নিয়ে প্রস্তুত হতো তা হলেও এর কথা কথালাপে বলতাম গল্পদুটির প্রতি নির্মোহ ভালোলাগার হেতু। কোথাও যদি ছোটগল্প নিয়ে আড্ডা করি, অবশ্যই এই গল্পকারের এই দুটি ছোটগল্পের কথা টানব- কম সময়ে ভাবনায় অধিক জমিন দখল করে নেয়ার দক্ষতার জন্যে। বাকি ‘সুখনিদ্রা পারত্যাজ্যে, জাগো মৃগরাজতেজে’, ‘একটি নোংরামূল্যের গল্প’, ‘গর্ভনাশ’, ‘এতো নিশ্চিত হইয়া মানুষ নিজের মৃত্যুকে খায় ক্যামনে’, অপ্রকাশিত ভাবনার কাফকা’ গল্প ছয়টি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যাবে এমনটিও নয়।ভালোর মধ্যে ভালোর কথা টানতে এর স্থান পরে হলেও বিষয়ে ব্যতিক্রমী টান স্পর্শ করে এই গল্পগুলোর ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে।</p>
<p style="text-align: justify">আশরাফ জুয়েল পূত চর্চার কল্লোলিত মানুষ; তার গল্প তার সম্পর্কে এ কথা স্বীকার করায়। স্বীকার করায় বলেই তার গল্পের গভীরে একটা চিৎকার ঘুরে বেড়ায়। হাহাকার হাউমাউ করে কাঁদে। সে কান্নাটা দিনক্ষয়ের কান্না। খুন হয়ে যাওয়ার পর সুজনের শক্ত কান্না। স্বজনের সব হারানোর শোকাচ্ছন্ন বেদনা। তারপর আজীবন তার রেশ বহন করে চলার যন্ত্রণা। এই যে আমাদের চারপাশ, বোবা পরিবেশ, বধির সমাজ, রাষ্ট্র, দেশ, উশৃঙ্খল পৃথিবী- এর বিপরীতে কী অমানবিক পোড়ন লতার মতো লতিয়ে উঠছে, কী অবক্ষয় ঘটছে, কতটা নীচে নেমে যাচ্ছে সভ্যতা, স্বচ্ছতা, স্বদাচারণ তার কি কোনো খোঁজ আছে তাদের কাছে, যারা রোজ রক্তস্নান না করলে ঘুমোতে যেতে পারে না, নাস্তার টেবিলে বসতে পারে না? খোঁজ কি আছে তাদের কাছে, যারা দিনে অন্তত একটি ধর্ষণ করতে না পারলে কাজে নামতে পারে না, স্পৃহা পায় না? খোঁজ কি আছে তাদের কাছে, যারা অনৈতিকতায় না মাতলে তাদের মাদল বাজে না? আশরাফ জুয়েল সেই চিত্রটা ভিন্ন ও বিভিন্ন ফর্মে চিহ্নিত করে এক মলাটের মধ্যে পরিবেশন করেছেন।পরিবেশনটা সবার সমান উপভোগ্য হবে এমন কথা নেই কিন্তু অনেকের হবে বিশ্বাস।</p>
<p style="text-align: justify">তবে এই গ্রন্থে কয়েকটি ছেদ চোখে পড়েছে। দু-একটি গল্পের শিরোনাম সরলের দাবি রাখে। পরা ও জাদুবাস্তবতায় আরেকটু ঘনবুনন হলে ভালো। ইশারা যেন ইঙ্গিতের ঙ-এ বিলিন না হয়ে দৃষ্টির সীমায় থাকে তার দিকে নজর ঋজু হওয়া উৎকৃষ্ট।তদতিরিক্ত আশরাফ জুয়েল এর কথা বিন্যাস প্রশংসার। সাধুবাদ পাওয়ার। ‘পাখিরোষ’ গ্রন্থটি পাঠকের সমাদর পাবে- বড়মুখ করে বলছি।</p>
<p style="text-align: justify">‘পাখিরোষ’ প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। প্রচ্ছদ করেছেন তাইফ আদনান। দাম ১৮০ টাকা।</p>
<p>আরও পড়ুন: <a href="https://www.jogsutra.com/2022/02/17/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a5-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87/">নতুন গল্পগ্রন্থ ॥ পাখিরোষ</a></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/20/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a7%8e%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a7/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
