<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ইসরাত জাহান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Thu, 22 Jun 2023 14:10:34 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>ইসরাত জাহান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া (পর্ব-৫) ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/22/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-3/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/22/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-3/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 22 Jun 2023 14:10:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2738</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৫: মাকে হাসপাতালে মেজো খালার কাছে রেখে সাজ্জাদ যখন লিফটে তখন ফোনটা আসে রুদাবার।অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করে। -তুমি কোথায় যাবে? -নামিব মরুভূমিতে, তুই যাবি? -সেটা কোথায়? কখন ফিরবে? -সেটা এই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-৫:</strong></span> মাকে হাসপাতালে মেজো খালার কাছে রেখে সাজ্জাদ যখন লিফটে তখন ফোনটা আসে রুদাবার।অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করে।<br />
-তুমি কোথায় যাবে?<br />
-নামিব মরুভূমিতে, তুই যাবি?<br />
-সেটা কোথায়? কখন ফিরবে?<br />
-সেটা এই ঢাকা শহরের আশপাশেই, সাইকেলে করে যেতে হয়।চল তোকে নরকের দুয়ার থেকে চা খাইয়ে নিয়ে আসি।<br />
-না, তুমিই যাও।তুমি একটা পাগল।কি যা তা বলো।<br />
-তাহলে পাগলের কাছ থেকে চৌদ্দ হাত দূরে থাকবি।ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে চ্যাটিং করবি না।</p>
<p style="text-align: justify">অপর প্রান্তের মোবাইল সাথে-সাথে ছেদ টানে আলাপনে।সাজ্জাদ মনে মনে হাসে।ওর এই কাজিন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে কখনো সামান্তা অথবা কখনো জারা নামে ওকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।মাঝে মধ্যে একসেপ্ট করে, টুকটাক চ্যাটিংও করে।রুদাবার ছেলেমানুষী আগে বেশ এনজয় করতো।তবে এখন বিরক্ত হয়ে গেছে।অবশ্য এখন আর আগের মতো ভ্রমরকৃষ্ণ হয়ে ছুটে বেড়াতে ইচ্ছে করে না।কোথাও বাধা পড়তে মন চায়, সাজ্জাদের এখন শুধুমাত্র শারমীনের কাছে বাধা পড়তে চায়।</p>
<p style="text-align: justify">গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে তন্নীকে ফোন করে, আজ বিকেলে ফ্রি আছে কি না।তাহলে শারমীনের ওখানে আসতে বলবে একসাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য।পুরনো বন্ধুদের প্রতি হৃদপটের ভালোবাসাটা টের পায় সাজ্জাদ।শারমীনের সাথে সম্পর্কটা নতুন করে শুরু করতে হলে তন্নীর সাহায্য ওর প্রয়োজন।ভাবতে ভাবতে ফোনটা করে।</p>
<p style="text-align: justify">-ওই খবর কি তোর? বিয়ে করে তো পুরোপুরি গৃহিণী হয়ে গেলি।কোন খবর নাই।<br />
-নতুন করে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি, তাই একটু ব্যস্ত।শারমীনের সুখবরটা শুনেছিস?<br />
-কি সুখবর?<br />
-ফেসবুকেই দেখতে পাবি, আমি তো দেখে হতবাক।<br />
-কি বলবি বলতো,এতে রহস্য করিস কেন?<br />
-ফেসবুকে দেখ, পাবলিক পোস্ট তুই দেখতে পারবি।শারমীনকে সবাই কংগ্রাচুলেশন করছে।</p>
<p style="text-align: justify">তন্নীর তাড়ায় ফেসবুকে উঁকি দেয় সাজ্জাত।সেখানে বেশ বড় করে কে যেন ওকে উইশ করেছে, কংগ্রাচুলেশন লিখে।সাজ্জাদ ভেবে পায়না কি হলো শারমীনের, এত বড় করে অভিনন্দন জানাচ্ছে কেন সবাই ওকে। একটু পরেই চোখ দুটো আটকে যায় আনামিকায় হীরের আংটি পড়ানো একটি হাতের উপর।</p>
<p style="text-align: justify">অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে শারমীনের ওয়াল।সেখানে একজন লিখেছে,নতুন জীবন আনন্দময় হয়ে উঠুক।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদ গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে কিছু সময়ের জন্য চুপচাপ গাড়ির ভিতরে বসে থাকে।ল্যাম্পপোস্টের তারে বসে থাকা কাকের চিৎকার, সিকিউরিটি গার্ডের তাড়া কিছুই সাজ্জাদের তন্দ্র ভাঙতে পারে না।পার্কিং জোনের একজন সিকিউরিটি এসে তাড়া দেয় গাড়ি বের করার জন্য, পিছনের গাড়ি বের হবে।অবাক হয়ে গার্ডের দিকে তাকিয়ে থাকি কিছু সময়, গাড়ি জানালায় গার্ডের হাতের করতল ওর মৌনব্রত ভঙ্গ করে।চাবিটা গার্ডের হাতে দিয়ে সাজ্জাদ আবার মায়ের কেবিনের দিকে এগোতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">শবমন কিছু সময় পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখে।এই বাড়ির অনেক কিছু বদলেছে।পুরোনো ফ্রিজটা আগের জায়গায় নেই, সেটা জায়গায় নতুন দুই দরজার শার্পের ফ্রিজ এসেছে,পুরোনোটা রান্নাঘরের এককোনায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।শবনমের হঠাৎ করে কেন যেন নিজের রান্নাঘরের ওই ফ্রিজটার মতো মনে হয়।ও তো পুরোনো এই বাড়ির।শিহাব সবসময় শবনমকে পুতুলের মতো রাখতে চেয়েছিলো।প্রথম প্রথম পুতুলই ছিলো, রক্ত মাংসের চাবি দেওয়া পুতুল।শিহাব যা বলতো তাই শুনতো।শাশুড়ির ছায়াসঙ্গী।সকালে শাশুড়ির নাশতা তৈরির সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো, যদি কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয়।দুপুরে শাকের ডাটা কেটে ডালের ফোঁড়ন দিয়ে, মাছের লবণের স্বাদ দেখে শাশুড়িকে খুশি করার চেষ্টা করতো।প্রথম প্রথম শাশুড়িও বেশ আদর করতো।সারাক্ষণ কাছেকাছে রাখতো, তার ছেলেকে কিভাবে বৌমা পোষ মানাবে সেই শিক্ষা দেওয়া চেষ্টা করতো।তিনজনের ছোট সংসারে সুখ ছিলো, যতদিন পর্যন্ত শবনম সব বিষয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিতো।বিয়ের ছয় মাস পরে, হঠাৎ একদিন শবনমের স্বামী মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরে।সেদিন শবনম নিজের গায়ের নতুন আঁচলকে সরিয়ে জিভটাকে একটু রুদ্র করে স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছিলো,<br />
-প্রতিদিন এত সময় কোথায় থাকো? রোজ দেরি করে বাড়ি ফিরে আসো কেন?</p>
<p style="text-align: justify">মুখে ঝাঁঝালো গন্ধটা নাকে লাগছে খুব। ওই এক কথায় দুই কথায় ঝগড়া শুরু হয় টোনাটুনির।হঠাৎ নতুন বউয়ের গন্ধ মাখানো শবনমের কাছে অনভিপ্রেত প্রশ্নে শিহাব কিছুটা বিরক্ত হয়ে শবনমকে চড় দিয়ে বসে।বাবা মায়ের অতি আদরের মেয়ে এই চড়টা হজম করতে পারে না। হাতের কাছে থাকা কাঁচের ফুলদানিটা ছুড়ে দেয় শিহাবের দিকে। অবশেষে বউয়ের কাছে কথার যুদ্ধে হেরে গিয়ে শিহাব শবনমের ইচ্ছে বিরুদ্ধে একটু আদর সোহাগ করে।</p>
<p style="text-align: justify">পরদিন সকালে শবনমের ঘুম ভাঙে তীব্র ব্যাথা কাতর অনুভূতি নিয়ে।শরীরের বিভিন্ন স্থানে অতি ভালোবাসার কারণে জমাট রক্তগুলো ওকে বিদ্রুপ করে।সেদিন অনেকক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে থাকে শবনম ভাষাহীন দৃষ্টিতে।রাগে মাথার রগ গুলো দপদপানি টের পায় পানি দিয়ে শরীরটাকে শুদ্ধ করার সময়।</p>
<p style="text-align: justify">এরপরে অনেকদিন বাক্যলাপ বন্ধ ছিলো ওদের।শিহাব রাগ ভাঙাতে কিছুদিন তাড়াতাড়ি এটা সেটা নিয়ে বাড়ি ফিরতো শবনমের জন্য।বাহিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো।শাশুড়িও নানাভাবে ওকে পুরুষের নানারূপ সম্পকে জ্ঞান দিতো।নিজের ছেলে যে কত ভালো তা প্রতিপদে পদে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কোনপ্রকার কার্পণ্য ছিলো না।স্বামী, যে তো যখন তখন সেক্স করতেই পারে।এই বুঝিয়ে নিজে আবার সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে শবনম।ধীরে ধীরে আবার সবকিছু ঠিক হয়।তবে এরপর থেকে শাশুড়ির সাথে ওর দূরত্ব তৈরি হয়।একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটি মেয়েকে সাপোর্ট না করে ছেলের অপরাধকে পুরুষরা এমনই নামক রূপ দেওয়ার কারণে অনেক অভিমান হয় ওর শাশুড়ির উপর।তবে সেটা নিজের ভেতরে চেপে রাখে শবনম।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুদিন পরে আবারও শিহাব তার আগের রূপে ফিরে যায়।ততদিনে শবনম বুঝতে পারে নতুন একজনের আগমন হচ্ছে।আবারও স্বামীর প্রতিটি কর্মকাণ্ড হাতেনাতে ধরে ফেলার কারণে ক্ষ্যাপা হয় মন, যার কারণে শরীর খারাপ করে বারবার।তারপরে ছেলের আগমন।ছেলে হওয়ায় শবনমের বেশ গুরুত্ব বেড়ে যায় সংসারে।তবে ঘরের চাবি দেওয়া পুতুল বউটা চাবি দিয়ে না ঘোরার কারণে সংসারে শুরু হয় আবারও চূড়ান্ত অশান্তি।যার কারণেই শবনমের এত বছরের নির্বাসন।এতদিনে নির্বাসন আবার স্বেচ্ছায় গুটিয়ে আসায় কারণে শবমনের মনে ভেতরে একটু হীনম্মন্যতা কাজ করে।</p>
<p style="text-align: justify">-মা, দাদী বলে, আমি দাদীর সাতে (সাথে) ঘুমাবো।<br />
-না, তুমি আমার সাথে ঘুমাবে।<br />
-টিত আচে।(ঠিক আছের নতুন রূপ)</p>
<p style="text-align: justify">ছেলের দিকে তাকিয়ে বেশ মায়া লাগে শবনমের।কতকাল নিজের বাড়িতে আসতে পারেনি।আজ হঠাৎ করে ফিরে আসায় ছেলে যে ওর বেজায় খুশি, সেটা বুঝতে আর বাকি থাকে না ওর।আগে মাঝে মধ্যে একা আসতো বাবার সাথে।অনেক খেলনা নিয়ে ফিরতো সেই সময়।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন ফোনটা রেখে আবারও বসে মেইল চেক করতে।আজ আবার তাড়াতাড়ি বের হতে হবে।তাই হাতে কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে একটু তাড়াহুড়োভাবে।তবে ঘড়ি কাটা ওকে তাড়া না দিলেও, পেটের খিদে ওকে জানান দেয় বেলা অনেক হলো, খেতে বসো।</p>
<p style="text-align: justify">খেতে বসার মুহূর্তেই তন্নি ফোন করে,ফোনটা ধরবে কি ধরব না, সেটা ভাবতে ভাবতে অনেকটা অনিচ্ছার পরও ফোনটা রিসিভ করে।কারণ তন্নি যে এক ঘণ্টার আগে ফোন ছাড়বে না, সেটা ওর বেশ ভালো করেই জানা।<br />
-কি রে,এত বড় একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেললি একেবারে নিঃশব্দে। একবার কাউকে কিছু না জানিয়ে।সবাইতো রীতিমতো অবাক।তুই আসলেই একটা সাইলেন্ট কিলার।আমাকেও জানালি না, আমি সবার কাছে কেমন অপদস্ত হয়ে গেলাম।সবাই আমাকে ফোন করছে।বলো তোর প্রিয় বান্ধবী তুই কিছু জানিস না, কিভাবে।<br />
-তোর কথা কি শেষ হয়েছে তন্নি? আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিবি।<br />
-না, তুই আর কিছু বলবি না।আমি বলবো, তুই শুনবি।কবে তোর বরের সাথে পরিচয় করাবি আগে সেটা বল।তলে তলে এতকিছু করলি কবে?<br />
-তন্নি, আমি ফোন রাখছি।খেতে বসবো।তোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলেই, শারমীন ফোন কেটে দেয়।ফোনটা কেটে দেওয়ার পরে নিজের আচরণে নিজেই কিছুটা অবাক হয়।তন্নির ফোন কেটে দেওয়ার মতো এতটা অসামাজিক নয়।সবকিছুর জন্য দায়ী যে বোরহান উদ্দিন আর তার ছেলে সেটা বুঝতে আর ওর বাকি থাকে না।আজ ওর মাথার ভেতরে ওরা একেবারে গেঁথে বসে আছে।আর সেই কারণেই মন আর বুদ্ধি আজ একসাথে কাজ করছে না।</p>
<p style="text-align: justify">পিয়ন সেলিমকে খাবার দেওয়ার কথা বলে, অনুতপ্ত মন নিয়ে ফোন করে তন্নিকে।এইভাবে ফোন কেটে দেওয়া ওর যে ভুল হয়েছে, সেটা মন ওকে বারবার জানায়।</p>
<p style="text-align: justify">অনেকবার রিং হবার পরে, অপরপ্রান্ত থেকে যে ফোনটা কেটে দিয়েছে তন্নি।সেটা বুঝতে ওর বাকি থাকে না।শারমীন আবার ফোন করে।রাগ ভাঙাতে হবে ওর, তাই। তবে সেটা আর পারে না।চুপচাপ খেতে বসে।</p>
<p style="text-align: justify">খাওয়া শেষ করে বাসায় ফোন করে, মায়ের উপর সারাদিনের সব রাগ ঝাড়ার জন্য।তিনবার রিং হতেই মায়ের কণ্ঠ শুনতে পায়।<br />
-হ্যালো&#8230;খেয়েছিস শামু।(শামু ওর মায়ের আদরের ডাক)<br />
-একদম ঢঙ করবে না, তোমার ঢঙ আমার একেবারে সহ্য হয় না।<br />
-কেন আমি কি করেছি?<br />
-কি করেছি মানে? বলা নেই, কওয়া নেই, বিয়ে ঠিক করে এখন বলছো কি করেছি?<br />
-তোরা দুই বোন কি শুরু করলি? সকালে শবনম রাগ করে চলে গেলো শশুড়বাড়ি।এখন তুই বকছিস,কেন বিয়ে ঠিক করেছি?<br />
আমার ছেলেটা বেঁচে থাকলে আমাকে এত কটু কথা শুনতে হতো না।<br />
-মা একদম ইমোশনাল ব্লাকমেইল করবে না।আর তোমার মেয়ে শশুড়বাড়ি গেছে,বেশ ভালো কাজ করেছে।তুমিই তো চিন্তায় ছিলে কবে আপার সংসার আবার ঠিক হবে।<br />
-তা তো মায়েদের চিন্তা হয়।তুই বুঝবি না।<br />
-কাজের কথায় আসি, বোরহান সাহেব ফোন করেছিলো।আমাকে নিয়ে ওনারা শপিংয়ে যেতে চায়।তুমি নাকি বলেছো,যেতে।<br />
-হুম তোর শশুর ফোন করলো, আমিও না বলতে পারলাম না।<br />
-তুমি কি আমার পারমিশন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করলে না।আর কি বলছো এইসব..শশুর।<br />
-শশুরই তো।কয়দিন পরে বিয়ে।<br />
-মা, আমি বিয়ে করছি না।তুমি ওনাদের ফোন করে জানিয়ে দাও।<br />
-আমি পারবো না, তুই জানিয়ে দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলে ওর মা ফোনটা কেটে দেয়।সকালে দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া মায়ের কণ্ঠের সাথে দুপুরে ইথারে ভেসে আসা কণ্ঠেস্বরের কোন মিল খুঁজে পায় না।হঠাৎ মায়ের এতটা পরির্বতনের কারণ খুঁজে পায় না।তবে ভাবনায় দাড়ি টেনে উঠে পড়ে ডেস্ক থেকে, নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।তখন পিয়ন এসে খবর দেয় গেস্ট এসেছে, সংখ্যায় দুইজন।</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/22/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-3/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া (পর্ব-৪) ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 25 Mar 2023 03:49:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2624</guid>

					<description><![CDATA[চতুর্থ পর্ব: বেলা দেড়টার সময় শবনম একটা ব্যাগে নিজের কিছু কাপড়, দুই ব্যাগ ভর্তি ছেলের খেলনা আর কাপড়-চোপড় নিয়ে বাবার বাসা আজিমপুর থেকে খিলগাঁওয়ের দিকে রওনা দেয়।বেলা এগারটার সময়ও সবকিছু &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>চতুর্থ পর্ব:</strong> বেলা দেড়টার সময় শবনম একটা ব্যাগে নিজের কিছু কাপড়, দুই ব্যাগ ভর্তি ছেলের খেলনা আর কাপড়-চোপড় নিয়ে বাবার বাসা আজিমপুর থেকে খিলগাঁওয়ের দিকে রওনা দেয়।বেলা এগারটার সময়ও সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক ছিলো। সবাই সবার প্রতিদিনকার কাজে ব্যস্ত ।কেউ ভাবেনি শবমন তার গতকাল রাতের ঘোষণা সকালেই বাস্তবায়ন করবে।সেটা মনে হয় নিজেও ভাবতে পারেনি।</p>
<p style="text-align: justify">সাড়ে এগারটার শারমীনের বড় খালা সুফিয়া খাতুন ছোট বোন আলেয়া খাতুনকে ফোন করেন গতকালকের এনগেজমেন্টর পুরো ঘটনা জানতে। ছয় মাস বয়সী নাতনীর অসুস্থতার কারণে তার জীবনটা যে আজ কতটা সংকটময়, একঘরে হয়ে গেছে, আর সে কারণে না আসতে পারায় মনটা যে কতটা খারাপ সেটা বোঝাতে বেশ আবেগ ব্যবহার করেন শারমীনের বড়খালা।</p>
<p style="text-align: justify">ওদিকে বড়বোনের কাছে মন খুলে কথা বলতে গিয়ে বেফাঁসভাবে, শবমনের যে আজ খুশি হয়ে শশুরবাড়ি ফিরে যাবার কথা বলেছে, সেটাও আবেগ তাড়িত হয়ে মুখ ফসকে বলে ফেলেন আলেয়া খাতুন।আর সেই সময়টায় শবনম মায়ের কাছ থেকে মাত্র দুই গজ দূরে দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখে মা আর খালার গল্প শুনছিলো।আর কথায় আছে না, বন্দুকের গুলি আর মুখে থেকে বেরনো কথা কখন ফেরত নেওয়া যায় না। আলেয়া খাতুন মনে মনে বড় মেয়েকে একটু ভয় পায় পাগলামির আর শিশুসুলভ আচরণের কারণে, যা তার ছোট মেয়ের মাঝে একদম নেই। কিছু সময়ের জন্য তিনি অপর প্রান্তের সাথে কথা বন্ধ করে মেয়ের দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।তারপরে দ্রুত রাখি বলে ফোন কেটে মেয়ের দিকে ছুটে যান।মায়ের আসার আগেই শবনম ব্যাগ নামিয়ে ফেলে।</p>
<p style="text-align: justify">-ব্যাগ নামাইছিস কেন?<br />
-আমেরিকা যাবো।তুমি আমার সামনে থেকে যাও।আমার সাথে তুমি আর কথা বলবা না।<br />
-আমি কথায় কথায় বলছি, তুই রাগ করিস কেন?<br />
-আমি জানি আমার এই বাসায় থাকা তোমার আর তোমার ছোট মেয়ের পছন্দ না।তারপরও আমি থাকি।কেন থাকি সেটা তো জানো, না কি সেটাও ভুলে গেছো?<br />
-জানি,আমার ভুল হইছে। শারমীনের বিয়ে তুই এখন কই যাবি?<br />
-মা আমার সামনে থেকে যাও, এখনই যাও।</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের সাথে ঝগড়া করে ভরদুপুরে খালি পেটে ছেলেকে নিয়ে সিএজিতে করে খিলগাঁয়ের দিকে রওনা দেয় শবনম।রাস্তা কিছুটা ফাঁকা থাকায় বেশ তাড়াতাড়ি পৌঁছে যায়। দুই বছর আগে এককাপড়ে শশুরবাড়ি থেকে ছেলে নিয়ে বাপের চলে গিয়েছিলো খুব ভোরে।আজ আবার ফিরে এসেছে এক মধ্যদুপুরে। কলিংবেলটায় হাত রাখতে বেশ সংকোচ হচ্ছিলো শবমনের। হাতটা আবার নামিয়ে নেয়।কেমন যেন অপরিচিত লাগছিলো নিজেকে এখানটায়। যে সংসারটা এক সময় ওরই ছিলো আজ সেখানে নিজেকে উটকো মনে হচ্ছে ওর।এটা হয়তো ওর কিছুটা ভুল ছিলো।নিজের স্থান কাউকে সহজে ছেড়ে দেওয়া ঠিকনা।এটা সবচেয়ে বড় বোকামি, আর সেটাই শবনম এতদিন করে এসেছে।অনেক হয়েছে আর না।নিজেই নিজেকে বলে শবনম, নিজের আমিত্বের সাথে পণ করে কলিংবেলে আঙুল রাখে।</p>
<p style="text-align: justify">বেলা তিনটায় সাজ্জাদের মায়ের সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।মধ্যরাতে সানজিদা আহামেদ এর একটি ছোট মাইল্ড অ্যাটাক করে ঘুমের ভেতরে।ভালো হাসপাতাল, উপযুক্ত কেয়ার পেয়ে এ যাত্রা পার পেয়ে যান তিনি।তার উপর ছেলের সার্বক্ষণিক সঙ্গ তাকে আরও সুস্থ করে দেয়।চোখ খুলে ছেলের সাথে চোখাচোখি হতেই সাজ্জাদের উৎকণ্ঠা চোখ এড়ায়না তার।মনটা তার তখনই ভালো হয়ে যায়।স্বামীর অবহেলা তাকে এতদিন যতটা কুঁকড়ো ফেলেছিলো, ছেলের আদর আজ ততটাই সচল করছে তার মনকে।কিছু সময় তাকিয়ে থাকে ছেলের দিকে।তার ছেলেটা দেখতে এত সুন্দর কেন? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে।বাড়ি ফিরে এবারই ছেলেকে বিয়ে করবে,পাত্রী দেখা শুরু করতে হবে, যদি ছেলের পছন্দের কেউ থাকে, তাহলে সেই মেয়ের সাথেই তিনি বিয়ে দেবেন, মনে মনে এমন হাজারো কথা বলতে থাকেন সানজিদা আহামেদ।</p>
<p style="text-align: justify">-মা, তুমি গতকাল ওষুধ খাওনি?<br />
-খেয়েছিলাম তো, মনে নেই গতকালকের কথা।<br />
-তোমার এত এত অনিয়মের কারণেই শরীর এত খারাপ তোমার।<br />
-আর করবো না, তুই আমাকে আগে বাড়ি নিয়ে চল, এখন থেকে আমি একদম নিয়ম মেনে চলবো।ওষুধ খাবো, ব্যায়াম করবো, রান্না করবো, সব করবো।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলে সানজিদা আহমেদ। কত সুন্দর সাজানো সংসার ছিলো তার।স্বামী সরকারি কর্মকতা, সরকারি বাড়ি, সরকারি প্রোটোকল সবকিছুই সুন্দর। চাওয়া মাত্রই টাকা চলে আসে হাতে, শপিং করা ছিলো তার একমাত্র শখ। কত জিনিস প্রয়োজনহীনভাবে কিনেছে তার হিসাবও নেই। প্রয়োজনহীন জিনিস কিনতে কিনতে নিজেই কখন যেন অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় নিজের সংসাররে বুঝতেও পারে না।যখন বুঝতে পারে ততদিনে সাজ্জাদের বাবা তার ভালোবাসার শিকল ছিঁড়ে ভিনদেশি মেয়ের লকেটের ছবি হয়ে হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।একবার অফিসের কাজে থাইল্যান্ড যেতে হয় আফজাল আহামেদের।ট্যুরটা এক সপ্তাহের ছিলো।ফেরার সময় বউ আর ছেলের জন্য নানারকম উপহার নিয়ে আর পাঁচটা বাঙালি ভদ্রলোকের মতো ফিরে আসে।কিছুদিন পরে আবার যায় থাইল্যান্ড, সবাইকে জানানো হয় সরকারি সফর কিন্তু সেটা ছিলো অজানা ব্যক্তিগত মনোরঞ্জন।এইভাবে আসা যাওয়া বাড়তে থাকে তার সেই পাপের দেশে।</p>
<p style="text-align: justify">একদিন কাউকে কিছু না বলে সরকারি চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন।তাও সেই থাইল্যান্ডের সাথে যৌথভাবে।আগে যেখানে লুকিয়ে মিথ্যাে বলে যেতেন,পরে তা ব্যবসার কাজে সত্য কথা বলে আসা যাওয়া শুরু করেন আফজাল আহমেদ।এইভাবে আসা যাওয়া করতে করতে একটা সময় সেখানেই নিজের জন্য একটি নীড় গড়েন। তবে সেই নীড়ে তার ছায়াসঙ্গী হয় ‘জেসিকা চেন’ এখন অবশ্য সেই নাম বদলে জেসমিন আহামেদ হয়েছেন সেই থাই তরুণী।</p>
<p style="text-align: justify">-মা, আমার একটু বের হতে হবে। তুমি দুই ঘণ্টা একা থাকতে পারবে।লতিফ চাচা আছে, আর মেজো খালা আসছে।কয়দিন আমাদের বাসায় থাকবে।<br />
-তুই যা, আমি এখন ভালো আছি। বাসায় যাবো কখন? বলি না তো।<br />
-আর একদিন ডাক্তার তোমাকে রাখতে বলেছে। আর বাসায় গিয়ে কি করবে, সময় মতো ওষুধ খাওনা।<br />
-এখন থেকে সব করবো, তুই শুধু দেশে থাক আমার কাছে, তাহলেই হবে। আর একটা বিয়ে কর।</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের কথায় সাজ্জাদ কিছু বলে না। একটু স্মিত হাসি ফুটে ওঠে ঠোঁটের কোনে।একটু পরে শারমীনের অফিস যাবে, দেখা হবে, সেই ভাবনাই সাজ্জাদের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ওর ভাবনার মাঝে এসে ছেদ কাটে ওর মেজো খালা, সাথে তার ওভার স্মার্ট মেয়ে রুদাবা। মেজো খালা প্রচণ্ড আমুদে টাইপ মহিলা। যেখানে থাকে সারাক্ষণ আনন্দে মাতিয়ে রাখে সবাইকে। যতটা ওর মেজো খালাকে পছন্দ করে ততটাই রুদাবাকে অপছন্দ করে। কেন যেন মেয়েটাকে দেখলেই ওর মেজাজ খারাপ লাগে, ন্যাকা টাইপ তাই হয়তো, সাজ্জাদ নিজে নিজে কারণ খুঁজে বের করে।</p>
<p style="text-align: justify">-কি রে সাজ্জাদ আজ কিছু খাসনি?<br />
-এই তো খেলাম।<br />
-তাহলে মনে হয় খাবারগুলো এখনও তার পুষ্টি ঠিক স্থানে পৌঁছে দিতে পারেনি। মুখটা শুকনো লাগছে।<br />
-মা, তোমার ফানিটাইপ কথা বন্ধ করো তো।সাজ্জাদ ভাই বিরক্ত হচ্ছে,<br />
-আমি তোর কথায় বিরক্ত হচ্ছি। খালা তুমি কথা বলো। তোমার সাথে গল্প করতে আমার বেশ ভালো লাগে।</p>
<p style="text-align: justify">মা, খালার সাথে আরো কিছু সময় কাটিয়ে সাজ্জাদ বের হয় শারমীনের সাথে দেখা করার জন্য।নিজের কাপড়ের দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিরক্ত হয় নিজের উদাসীনতার জন্য, সকালে একটু ভালো কাপড় পড়ে বের হলেই হতো।কিন্তু তখনকার পরিস্থিতিতে ওটা ওর মনে ছিলো না। তারপরও ঠিক করে এইভাবেই শারমীনের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসে ঢুকেই শারমীন কিছু সময় মেইল চেক করেই বের হয় উত্তরার প্রজেক্ট দেখার জন্য।সেখান থেকে ফিরে আসে ঠিক দুপুর দুইটা পয়তাল্লিশ মিনিটে।খেতে বসবে তখনই ফোন করে হবু শশুর বোরহান উদ্দিন তমালের ফোন থেকে।অনেকটা অনিচ্ছায় ফোনটা ধরে শারমীন।</p>
<p style="text-align: justify">-মা, কেমন আছো?<br />
-জ্বি ভালো।<br />
-অফিস ছুটি কখন, বিকেলে তুমি কখন বের হবে?<br />
-সন্ধ্যা সাতটা হবে হয়তো বের হতে হতে, কেন চাচা?<br />
-আমাকে বাবা ডাকলে বেশি খুশি হবো মা, চাচা তো পুরনো সম্পর্ক।গতকাল থেকে আমাদের একটা নতুন সম্পর্ক তৈরি হলো তো মা।<br />
-জি, (শারমীন চুপ করে থাকে,কিছু বলতে ইচ্ছে হয় না ওর)<br />
-আমি আর তোমার শাশুড়ি আসবো, গুলশানে তমালকে নিয়ে, চলো আজ চারজন একসাথে একটু ঘুরি, কেনাকাটা করি।<br />
-জি, আমি তো বাসায় কিছু বলিনি, আগে বাসা থেকে বলুক, তারপরে না হয় যাবো, চাচা।(এইবারে চাচা ডাকটা শারমীন একটু জোরালোভাবে বলে)<br />
-বেয়াই, বেয়াইনের সাথে কথা হয়েছে মা, তারা সম্মতি দিয়েছে। এখন তুমি যেতে রাজি হলেই হয়।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন কিছু সময় কোন কথা বলে না। নিজের মা, বাবার উপর খুব রাগ হয় ওর।ওকে না জানিয়ে তারা নিজেরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ওদিকে অপর প্রান্ত ওর উত্তরের অপেক্ষায়। কি করবে বুঝতে পারে না। তাই হালকা স্বরে বলে,<br />
-জি, আচ্ছা, যাবো।</p>
<p style="text-align: justify">তবে শারমীন বুঝতে পারে এই বোরহান উদ্দিনের পরিবারের কাছ থেকে ওর মুক্তি নেই।ছেলের যতটা না আগ্রহ,তার থেকে বুড়ো বাবাটার বেশি আগ্রহ।বুড়ো লোকটার গলায় একটা মায়া আছে ওর জন্য, যা শারমীনের ভালো লাগে।খাওয়া শুরুর আগে হাত ধুতে গিয়ে আবারও চোখে পড়ে আংটিটার দিকে।হঠাৎ করে আঙুলে করতে জায়গা করে নিতে আংটিটার একটু অস্বস্তি হচ্ছে, যা শারমীন ভালোই টের পাচ্ছে, কিন্তু দেখতে বেশ ভালো লাগছে হাতটাকে আংটিসহ। হুট করে আংটিসহ হাতের একটি ছবি তুলে পোস্ট করে ফেসবুকে।যা ইন্টোর্ভাট শারমীনের স্বভাবের সাথে একদমই মানায় না।তবে ছবিটা পোস্ট করার পরেপরই বুকের ভেতরে দ্বিধাদ্বন্দ্বে সুক্ষ কাটাটা একটু একটু করে খোঁচাতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">শবনমকে ওর শাশুড়ি দেখে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, নিজের চোখকে নিজে প্রশ্ন করে, যা দেখছি ঠিক দেখছি তো।প্রায় দুই বছর পরে তার একমাত্র ছেলের বউ বাড়ি ফিরে এসেছে। কি করবে ভেবে না পেয়ে, নাতিকে কোলে নিয়ে সোজা নিজের রুমে গিয়ে ঢোকে। শবনমকে কিছু বলে না,</p>
<p style="text-align: justify">‘হয়তো অধিক খুশিতে পাগল হয়ে গেছে’ এটা ভাবতে ভাবতে ঘরে ঢোকে শবনম।</p>
<p style="text-align: justify">শবনম শশুর বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে ফোন করে শারমীনকে।বোনের উপর ওর মারাত্মক রাগ।কিছুটা হিংসাও করে ছোট বোনটাকে।শবনম একটু অস্থির প্রকৃতির মেয়ে, কোনকিছু সহজে মেনে নিতে পারে না। তবে যাকে ভালোবাসে প্রচণ্ড ভালোবাসে, আবার ঘৃণাও প্রচণ্ড। অন্যদিকে শারমীন শান্ত, ধীরস্থির, চুপচাপ, একটু অহংকারী তবে সেটা অন্যরা মনে করে। সহজে রেগে যায় না। আর রেগে গেলেও তা কাউকে বুঝতে দেয় না। মাঝে মাঝে শবনমের বোনের এই গুনগুলো রপ্ত করতে মন চায়, কিন্তু পারে না।</p>
<p style="text-align: justify">-আমি চলে এসেছি, আজ বাসায় ফিরে শান্তি করতে পারবি,আমার ছেলে আর তোকে বিরক্ত করবে না।<br />
-কি যে বলিস না, আমি কবে বললাম রুদ্র আমাকে বিরক্ত করে?<br />
-বলিসনি, ভাবভঙ্গিতে তো বুঝিয়ে দিস।<br />
-তুই ফোন রাখ, মেজাজ এমনিতেই খারাপ। আর খারাপ করিস না।এখন খেতে বসবো।<br />
-কেন কি হয়েছে, অফিসে কোনো সমস্যা?<br />
-তুই জেনে কি করবি, তোর কাছে এর সমাধান নেই।<br />
-শোন, আমি পুরোটাই নোটবই, সবকিছুর সমাধান পাবি।<br />
-আমাকে বোরহান চাচা ফোন করেছিলো, আজ আমাকে নিয়ে তারা ঘুরতে বের হবে।আর মা বাবা তাদের সম্মতি দিয়েছে আমাকে নিয়ে বের হবার জন্য।<br />
-কেন, এটাতো একদম ঠিক করেনি মা। দাঁড়া তুই চিন্তা করিস না, আমি কালই চলে আসবো।এসেই সবঠিক করবো।আর তোর বিয়ে দিয়ে তারপরে যাবো।<br />
-আপা আমি এই বিয়েটাই করতে চাই না।তুই পারলে সেটা বন্ধ কর।<br />
-তাহলে রাজি হইলি কেন?<br />
-তোর উপর রাগ করে।<br />
-একা একা কুড়াল বানিয়ে, নিজের পায়ে আঘাত করে, এখন আমার কাছে ব্যান্ডিজ খুঁজিস।আসাধারণ।<br />
-কি করবো সেটা বল।<br />
-আজ এলে তাদের সাথে বের হয়ে, ঘুরে আয়। তারপরে বলবো কি কি করবি বিয়ে ভাঙার জন্য।এখন রাখি,তোরটা ভাঙার আগে নিজেরটাকে একটু গুছিয়ে নেই।<br />
-ঝামেলা করিস না আবার।একটু মানিয়ে নিস সবকিছু।<br />
-চিন্তা করিস না, এবার সবকিছু ঠিকভাবেই সামলে নেবো।</p>
<p style="text-align: justify">প্রায় এক বছর পরে বোনের সাথে এতটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলে শারমীন।আগে শবনমে সাথে কথা বলার আগেই বিরক্তি প্রকাশ করতো, তাই শারমীনও ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয় বোনের কাছ থেকে। সময় আর পরিস্থিতি সবকিছুকেই বদলে ফেলে।আপনকে দূরে নিয়ে যায় আবার দূরকে কাছে নিয়ে আসে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া (পর্ব-৩) ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 28 Nov 2022 13:48:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2323</guid>

					<description><![CDATA[সাজ্জাদের সকালের ঘুমটা ভাঙে লতিফ চাচার ডাকে। সম্পর্কটা ২৫ বছরের পুরানো হওয়ায় ছোট বাবা বলে ডাকেন তিনি সাজ্জাদকে। এক কথায় বলা যায় লতিফ নামের এই মানুষটা এই বাড়ির দুজন মানুষকে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সাজ্জাদের সকালের ঘুমটা ভাঙে লতিফ চাচার ডাকে। সম্পর্কটা ২৫ বছরের পুরানো হওয়ায় ছোট বাবা বলে ডাকেন তিনি সাজ্জাদকে। এক কথায় বলা যায় লতিফ নামের এই মানুষটা এই বাড়ির দুজন মানুষকে আগলে রেখেছেন পরম মমতায়, দায়িত্বশীল অভিভাবকের মতো। তবে পদবিটা তার কেয়ারটেকার কাম দারোয়ান। অকৃতদার হবার কারণে সাজ্জাদকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন। তার কাছে সবসময় ছোট বাবার সাত খুন মাফ। হয়তো সে কারণেই ছোটবেলা থেকে সাজ্জাদের বাঁদরামিটা সবার থেকে এগিয়ে ছিলো এক ধাপ। প্রথমে তিনি সাজ্জাদকে ঘুম থেকে ডাকেন বেশ ধীরে ধীরে। পরে দরজায় বেশ কয়েকটা চাপড় দেন, সবশেষে দরজায় লাথি মারে বসে নিজের অজান্তে। বেগম সাহেবকে বেশি অসুস্থ হওয়ার কারণে অপ্রত্যাশিত ঘটনাটা ঘটিয়ে ফেলেন তিনি।</p>
<p style="text-align: justify">অনেক রাতে ঘুমানোর কারণে সকালের ঘুমটা কিছুটা গভীরই ছিলো সাজ্জাদের। তাই প্রথমে শুনতে পায় না, অনেকক্ষণ দরজায় আঘাতের পরে ওর ঘুমটা ভাঙে।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদ বাবা, ছোট বাবা, তাড়াতাড়ি ওঠো। তোমার মায়ের শরীরটা আবার খারাপ করছে। হাসপাতালে নেওন লাগবো। কথাটা কানে যেতেই সাজ্জাদ পড়িমরি করে লাফিয়ে উঠে ঘুম থেকে। এতো সকালে মায়ের শরীর খারাপ! রাতে তো অনেক কথা হলো। তখন শরীরটাতো মোটামুটি ভালোই ছিলো অবশ্য একটু বিষণ্ন ছিলো। দরজা খুলতে খুলতে সাজ্জাদ গতকাল রাতের সময়টুকু মনে মনে ভাবে।</p>
<p style="text-align: justify">কখন থেকে অসুস্থ মা? কইতে পারি না, সকালে রাজিয়া চা দিতে গিয়া দেখে অর্ধেক শরীর খাটে অর্ধেক মাডিতে পইরা রইছে। এই কথা শুনতে শুনতে সাজ্জাদ ওর মায়ের ঘরে ঢুকে পড়ে। গিয়ে দেখে মা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন, দুজন কাজের মহিলা পায়ে তেল মালিশ করছে।</p>
<p style="text-align: justify">-আমাকে আগে ডাকবে তো, মাকে হাসপাতালে নিতে হবে। আমি গাড়ি বের করছি।<br />
-বাবা ম্যাডাম তো অজ্ঞান, কেমনে নামামু?<br />
কথা শোনার সাথে সাথে সাজ্জাদ কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ে। মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ‘তাহলে’?<br />
তারপরই বলে,<br />
-আচ্ছা দাঁড়াও। আমি আগে গাড়ি বের করছি। আমিই কোলে করে নামাবো। মহিলা দুজনেকে বলো মাকে একটু গুছিয়ে দিতো। আর ড্রাইভারকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলো। ওর জন্য অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলতে বলতে সাজ্জাদ এক নিঃশ্বাসে দৌড়ে গ্যারেজে চলে আসে। মনে ভেতরে অশনিসংকেত ডাক দিতে থাকে,</p>
<p style="text-align: justify">‘মা ভালো হবে তো’</p>
<p style="text-align: justify">ওর বাবার ওপর প্রচণ্ড রাগ হতে থাকে। স্বামীর অবহেলায় আজ মায়ের এমন অবস্থা। সাথে ঘিয়ে আগুন ঢালার মতো রাগ, অভিমান নামক উপকরণ। চাবির স্টাট বটনে চাপ দিতে দিতে, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো শারমীনকে অবহেলা করবো না। পরক্ষণই আশেপাশে তাকায়, ওর কথা আবার কেউ শুনে ফেললো কিনা। তবে এটা বুঝতে পারে, শারমীন এই মুহূর্তে ওর প্রতিটি রন্ধে রন্ধে ঢুকে পড়েছে। যা মায়ের অসুস্থতাকেও উপেক্ষা করে।</p>
<p style="text-align: justify">মাকে বাড়ি থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু সাজ্জাদ নিজের হাতে করে। তারপরে ফোন করে বাবাকে।শারমীন কিছুক্ষণ আংটিটি দিকে তাকিয়ে থাকে। কালো কার্বন থেকে সৃষ্ট এক টুকরো হীরে কত উজ্জ্বল। আংটি দিকে তাকিয়ে হীরের ভেতরে আলো পড়লে যে ধূসর ও ছাই রংয়ের আলোর ছটা ‘ব্রিলিয়ান্স’ আর বাইরের প্রতিফলিত রামধনুর রঙের আলো, যাকে বলা হয় ‘ফায়ার’ বলে সেটাই বোঝার চেষ্টা করে। কারণ জীবনে এই প্রথম ও কোন হীরা নিজের হাতে ছুঁয়েছে। শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষলে বোঝা যেতো আসল না নকল। কারণ এটাই হীরে চেনার সহজ পদ্ধতি। নকল হলে এই মুহূর্তেই ও বিয়েটা ক্যানসেল করে দিতে পারতো।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন আর কথা বাড়ায় না, অযথা বড় বোনের সাথে তর্ক করার কোন আর কারণ খুঁজে পায় না। শবনম ঠিকই বলছে, ওর কোনো ছেলেকেই ভালো লাগে না। কিভাবে লাগবে, ওর মনে ভেতরে তো শুধুই সেই ভার্সিটি প্লেয়বয় ছেলেটা।</p>
<p style="text-align: justify">‘কি রে তুই তো এখনই আংটির ভেতরে ডুবে গেলি। বিয়ের পর তো পুরোই শশুরবাড়ি আর তমালের ভেতরে ডুবে যাবি’।<br />
শবনমের ডাকে শারমীন সমোহনীয় ফিরে পায়। বোনের কথায় কেন যেন ওর খুব রাগ হয়।<br />
‘আমি যদি ডুবতে পারি, তাহলেই বেশি খুশি হবো। তোর মতে বাপের বাড়ি ওযথা বসে থাকবো না’।<br />
‘কি&#8230;আমি এমনি এমনি বসে আছি। তুই কি জানিস না কেন বসে আছি? তুই জানিস না ওরা আমার সাথে কি কি করত’।<br />
‘তুই ও ধোয়া তুলসী না আপা। তোরও অনেক সমস্যা আছে। আগে নিজেকে ঠিক কর। তারপরে অন্যের দোষ দিস। তুই আসলে ভালোবাসা নিতেও জানিস না দিতেও জানিস না’।<br />
‘হুম, আমি না হয় দিতেও জানি নিতেও জানি না। তুই মনে হয় ভালোবাসার দোকান খুলে বসেছি? সেজন্যই তো একটাও প্রেম করতে পারলি না। দুনিয়ায় কোনো ছেলেকেই তোর ভালো লাগে না’।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসের জন্য তৈরি হয়ে খাবার টেবিলে বসতেই ওর মা আলেয়া খাতুন দৌড়ে আসে। এমনভাবে দৌড়ে আসে যেন আলৌকিক কিছু ঘটেছে আজ একটু আগে।</p>
<p style="text-align: justify">‘শারমীন, তমাল এসেছে। তমাল এসেছে। ’<br />
‘তমাল কে?’<br />
‘মানে, তোর কি মাথা ঠিক আছে? এইসব কি বলিস? তমাল কে মানে?’</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন কিছু সময় মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে অবাক দৃষ্টিতে, একটু পরে বুঝতে পারে বড়সড় একটা ভুল করে ফেলেছে।<br />
‘মা, আমি মজা করছিলাম। এতো সকাল সকাল কেন এসেছে, তোমার হবু জামাই? কেউ কি অসুস্থ?<br />
হবু বৌমাকে দেখেতে চায় শেষ নিঃশ্বাসের আগে।’<br />
‘তোর মুখে আর কিছুই আটকায় না, তাই না? শবনম তোর থেকে ভালো। অনেক হিসাবনিকাশ করে কথা বলে।’<br />
‘তোমার বড় কন্যার হিসাবের নমুনা আমাকে বলো না। নাশতা দাও।’<br />
‘জামাইকে ডাকছি। একসাথে নাশতা কর। ছেলেটা ড্রয়িংরুমে চুপচাপ বসে আছে।’<br />
‘মা চা দিয়ে আসো ওখানে। তাছাড়া সে এখনও জামাই হয়নি। আমার অস্বস্তি হবে। আর এসেছে কেন এতো সকালে?’<br />
‘তোকে অফিস পৌঁছে দিতে।’<br />
‘আলহামদুলিল্লাহ বলবো! না মাশাআল্লাহ বলবো? না নাউজুবিল্লাহ বলবো। ঠিক বুঝতে পারছিনা মা’<br />
‘এতো বুঝতে হবে না, তাড়াতাড়ি নাশতা করে, তমালের কাছে যা। তারপরে একসাথে অফিস যা।’</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন কিছু সময় নাশতার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপরে চুপচাপ টেবিল থেকে উঠে নিজের রুমে চলে যায়। কেন যেন আজ ওর আর অফিসে যেতে ইচ্ছে করে না। কিভাবে এই ছেলের সাথে কথা শুরু করবে ভেবে পায় না।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীনের তমালের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই চোখাচোখি হয় দুজনের। তমাল সাথে সাথে চোখ নামিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ও ভেবে পায়না কি বলবে। তারপরে ভদ্রতার খাতিরে শুরু করে কথা নিজেই আগ বাড়িয়ে,যা ওর স্বভাব বিরুদ্ধ।<br />
‘আপনি এতো সকালে, কোনো সমস্যা কি হয়েছে বাড়িতে।’<br />
‘জ্বি না।’<br />
‘তাহলে?’<br />
‘বাবা আপনাকে অফিস পৌঁছে দিতে বললো।’<br />
‘আমি তো একাই যেতে পারি। কোনো দরকার নেই। আপনা শুধু শুধু কষ্ট করছেন’</p>
<p style="text-align: justify">তমাল আর কোন কথা বলে না। আবারও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। শারমীন বের হবার জন্য পা বাড়ায় দরজার দিকে। তমালও শারমীনের পিছু নেয়। মনে মনে হাজার বার আল্লাহ নাম নিতে নিতে।গাড়ির ভেতরে দুজন বোবা প্রাণি নিজের স্বতার সাথে কথা বলতে থাকে। শারমীন খেয়াল করে তমাল বেশ ভালো গাড়ি চালায়। কিভাবে কথা শুরু করবে ভেবে পায় না। অফিসে কাছাকাছি সেই মুহূর্তে শারমীন শুরু করে কথা।<br />
-আপনি বেশ ভালো গাড়ি চালান।<br />
-জি।<br />
-আপনি কি কথা কম বলেন?<br />
-জি<br />
-আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন অনেক চেষ্টা করেও কথা আর এগিয়ে নিতে পারে না। আবার চুপ হয়ে যায়। তমাল নামক জি-বাচককে মনে মনে বকতে থাকে, আংটি টির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে।<br />
‘আপনার কি অফিসে যাবার বেশি তাড়া আজ।’<br />
জি?</p>
<p style="text-align: justify">জি-বাচককের কাছ থেকে কথা শুনতে পেয়ে শারমীনও জি-বাচক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে হঠাৎ করেই।</p>
<p style="text-align: justify">‘তাড়া না থাকলে আমরা কোথাও বসতে পারি। আপনি মনে হয় আজ সকালে নাশতা করেননি।<br />
জি?<br />
কথা বলতে বলতে গাড়ি এসে থামে বনানী এগারোর একটি ফাস্ট ফুড দোকানের সামনে। গাড়িটা সাইডে পার্ক করে তমাল শারমীনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দোকানে ঢুকে পরে। কিছুসময় পরে বের হয়ে আসে একটি চারকোনা প্যাকেট হাতে।</p>
<p style="text-align: justify">‘এতো সকালে আর কিছু পেলাম না। একটা বার্গার আছে’।<br />
‘আমি এই সাত সকালে বার্গার খেতে পারবো না।’<br />
‘পুরোটা না পারলে আমাকে অর্ধেক দিন। আমিও নাশতা খাইনি আজ সকালে।’</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ করে শারমীন তমালের দিকে সরাসরি তাকায়। লোকটাও সকাল থেকে না খেয়ে আছে। কিছু মায়া হয় লোকটার প্রতি। প্যাকেট খুলে অর্ধেক বার্গার টিস্যুতে নিয়ে বাকিটা তমালের দিকে এগিয়ে দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদ ওর মাকে স্কয়ার হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে ঢোকানোর সাথে সাথেই ডাক্তারা নানারকম পরীক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সানজিদা আহামেদর। সাজ্জাদ কিছু সময় ওর বাবার সাথে কথা বলে রাগের মাথায় ফোনটা ফ্লোরে আছাড় মারে। মুহূর্তেই ফোনটা তার ব্যাটারিকে ত্যাগ করে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে থাকে ফাটা স্ক্রিন সেভার নিয়ে। লতিফ চাচা দৌড়ে এসে সাজ্জাদকে ধরে চেয়ারে বসায়। রাগে হুঁশ হারিয়ে ইংরেজিতে নিজের বাবাকে কিছুক্ষণ গালিগালাজ করতে থাকে নীচু স্বরে। যার কোনটাই লাতিফের বোধোগম্য হয় না। তবে পঁচিশ বছর ধরে যেভাবে আগলে রেখেছেন তার সাজ্জাদ বাবা, ছোটো বাবাকে সেভাবেই আগলে রাখেন।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীনের অফিসের সামনে এসে, তমাল বেশ দ্রুত দৌড়ে এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয়। আর অপলক দৃষ্টিতে অফিসের দারোয়ান গেটের দরজা শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন আজ কোনভাবেই শারমীন আপার ক্লোন কপিকে অফিসে ঢুকতে দেবে না সেই পণ করে।</p>
<p style="text-align: justify">‘আমি বিকেলে আবার আসবো আপনাকে নিয়ে যেতে, কয়টার ছুটি হয় আপনার’<br />
-রাত ১২টায়।<br />
-ঠিক আছে, ৬টায় আসবো। আর কোন দরকার হলে আমাকে ফোন করবেন। আমার ফোন নম্বর আপনাকে সেন্ট করেছি। চেক করুন।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন ইনবক্সে যে নম্বরটা পায় সেটা গতকালকের নম্বর নয়। তমালের কথা শুনতে শুনতে ভাবতে থাকে সেই ব্যাপারটা নিয়ে, গতকাল ওকে তাহলে কে মেসেজ দিলো। নিশ্চয়ই সাজ্জাদ। ওর ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন সাজ্জাদ নামক ব্যক্তির টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রতি আবার আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে। তাই আর তমালের সাথে কথা না বাড়িয়ে অফিসে ঢুকে পড়ে শারমীন। কিন্তু বিকেলে শারমীনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে বড় রকমের একটি চমক।<br />
<em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া (পর্ব-২) ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/17/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/17/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Sep 2022 01:56:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2157</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-২ শারমীনের হঠাৎ মনে হলো, ওর বুকের ভেতরের ডান অলিন্দ বাম অলিন্দ কিছু সময়ের জন্য রক্ত পাম্প করতে ভুলে গেলে, দুটো ধারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-২</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">শারমীনের হঠাৎ মনে হলো, ওর বুকের ভেতরের ডান অলিন্দ বাম অলিন্দ কিছু সময়ের জন্য রক্ত পাম্প করতে ভুলে গেলে, দুটো ধারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে ওর। সত্যি কি সাজ্জাদ বসে আছে? ওদের এই বাড়িটা একটু পুরোনো আমলের। বসার ঘরে প্রবেশ মুখে এক ইট উঁচু ব্যারিকেড দেওয়া। ওখানটায় একটু অসচেতনতা জন্য হোঁচট খেয়েও নিজেকে সামলে নেয় শারমীন। আবার তাকায় ওই কর্নারে&#8230;। এবার বুঝতে পারে ব্যাপারটা।</p>
<p style="text-align: justify">শবনম সন্ধ্যা থেকে এক প্লেট ভাত নিয়ে ছেলের পেছনে পেছনে ঘুরঘুর করছে। ছেলে খাবারটা কোনরকম আপত্তি ছাড়াই মুখ নিচ্ছে, পরক্ষণেই আবার ফেলে দিচ্ছে। দ্বিগুণ আগ্রহে। খাবারটা মুখ থেকে ফেলে সবার দিকে একবার তাকায়। তারপর নিজে নিজেই হাতে তালি দেয়। ও দেখে শবনমের মুখ শুকিয়ে যায়, রাগে ফোঁস ফোঁস করতে থাকে। শবমন দুই বছর ধরে বাপের বাড়িতে আছে চার বছরের ছেলেকে নিয়ে। ওর ছেলে জারিফ। সারাক্ষণ নানারকম দুষ্টুমি করে নানা, নানীসহ সবাইকে তটস্থ রাখার চেষ্টা করে। খাওয়া দাওয়ায় যত অনীহা দুষ্টুমিতে ততই আগ্রহ।</p>
<p style="text-align: justify">শবনম শারমীনের বড় বোন। ওরা দুই বোন একভাই। ভাই রাজীব পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পাঁচ বছর আগেই চলে গেছে। বাবার ছোট একটা ওষুধের দোকান আছে। যার ভাড়া আর বিদ্যুৎ বিল দিয়ে বাড়িতে যৎসামান্য টাকা আসে তাই এখন এই পরিবারে শারমীনকেই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এতদিন শারমীন নিজের থেকে বিয়ের জন্য রাজি হয়নি। হঠাৎ করে সেইদিন ওর বোনের শাশুড়ি এসে যা-তা বলে যাওয়ার কারণে বিয়ের জন্য নিমরাজি হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">ওর বোন দুই বছর আগে এক কাপড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে শাশুড়ি ও স্বামীর সাথে ঝগড়া করে। শবমনের সমস্যাই বেশি ছিলো। কোনকিছু মেনে নিতে পারত না। তার ওপর বাবা মায়ের অতি আদরের কারণে সব ছেড়ে ছুঁড়ে বাবার বাড়ি এসে স্বামীবিহীন সংসার শুরু করে। প্রতি মাসের ৫ তারিখে শবনমের স্বামী ছেলে আর স্ত্রীর জন্য মোটা অংকের টাকা দিয়ে যায় শাশুড়ির হাতে। সেই টাকার পুরোটাই শবনম ছেলের পেছনে অপচয় করে ফেলে। একদিন শবনমের শাশুড়ি এসে ওর বাবা মায়ের সাথে বাজে ব্যবহারের কারনে শারমীন শবমনকে একটু বোঝানোর চেষ্টা করে শশুর বাড়ি ফিরে যাবার জন্য। বড় বোনকে জ্ঞান প্রদানের কারণে শারমীনে কিছু বাজে কথা ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। যার কারণে শারমীন হঠাৎ করেই মা বাবাকে বিয়ের জন্য হ্যাঁ বলে পাত্র দেখতে বলে। কিন্তু আজও শারমীন দেরি করে বাসায় ফেরে অফিসের কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">রাত সোয়া এগারটা। মোট পাঁচজন লোকের সামনে বসে আছে শারমীন নিজের এতদিনকার সকল পুঁথিপত্র বিদ্যা বিসর্জন দিয়ে। পাত্রী নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশের আশায়। পাঁচজনের ভেতরে সবচেয়ে বয়ষ্ক ভদ্রলোক শারমীনকে নাম, শখ কি, রান্না করতে জানে কিনা- এই নিয়ে জিজ্ঞেস করে। শারমীন সুশীলা নারীর মতো মাথা নেড়ে অল্প কথায় সবকিছু বলে। কিছু সময় নিজেদের ভিতরে আলোচনা করেন চারজন উপস্থিত ব্যক্তি। বাকি একজন শারমীনের থেকেও বেশি মাথা নিচু করে বসে থাকে।শারমীন চুপচাপ বসে বসে তাদের চোখের ভাষায় বোঝার চেষ্টা করে ওর পাত্রী নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #ff0000">আপা মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে। আপনাদের আপত্তি না থাকলে আমরা আজই আংটি পড়াতে চাই।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">-আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নাই। আপনি সুফিয়া আপা ভাসুর, আমাদের শ্রদ্ধাভাজন। আপনার কথাই আমাদের কথা। আমরা রাজি।শারমীনের মা বেশ খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে কথাগুলো বলে তার বড়বোন ভাসুরকে। এই বিয়ের প্রোপজালটা নিয়ে আসে ওর খালা। তার ভাসুরের বড় ভাইয়ের ছেলের জন্য।শারমীনের জন্য যে পাত্র পছন্দ করা হয়, সেই ছেলে ব্যবসায়ী। বসুন্ধরা মার্কেটে তিনটা দোকান আছে। ঢাকা শহরে ছয় তলা বাড়ি। বাবার বাংলামোটরে গাড়ির তেলের ডিলারশিপের ব্যবসা। ছেলে ওটাই দেখাশোনা করে। ছেলের নাম আজিজুল ইসলাম তমাল।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীনকে নামিয়ে দিয়ে সাজ্জাদ কিছুসময় রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করে। অনেকদিন শারমীনকে বলার চেষ্টা করছে ওর মনের কথাটা। ফোন নম্বর জোগাড় করে রেখেছে, বাসার ঠিকানা, অফিসের ঠিকানা সবই আছে সাজ্জাদের কাছে। কিন্তু যে কথাটা বলার জন্য এতো আয়োজন সেটা বলার সাহস এখন হারিয়ে ফেলেছে। একটা সময় ভার্সিটির সবাই যে শারমীনকে অপমান করেছিলো,ওকে চিঠি দেবার জন্য। আজ সেই শারমীনের মায়াভরা মুখখানি সারাজীবন দেখার জন্য বিদেশের পার্ট চুকে চলে এসেছে। সাজ্জাদ গাড়িতে উঠে ড্রাইভারকে বাড়ি ফেরার নির্দেশ দিয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে। মনে মনে ঠিক করে আগামীকাল শারমীনদের বাসায় ওর মাকে নিয়ে যাবে। ওর সাহস শারমীনের সামনে গেলে চুপসে গেলেও মায়েরটা ঠিকই থাকবে। আজই মাকে গিয়ে সবকিছু খুলে বলতে হবে। কেমন করে এতো সাধারণ চুপচাপ শান্ত একটা মেয়ে ওর মনকে দিনে দিনে অশান্ত করে তুলছে তার সবকিছুই আজ খুলে বলবে মাকে, এই পণ করে সাজ্জাদ।</p>
<p style="text-align: justify">ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা ১২ ছোঁয়ার আগে মিনিটের কাঁটা নবম ডিজিটে থাকাকালীন আজিজুল ইসলাম তমাল, সৈয়দা শারমীন জাহানের বাম হাতের অনামিকায় একটি হিরের আংটি পড়িয়ে দেয়। তখন চারপাশ থেকে সবাই মুখে শোনা যায় আলহামদুলিল্লাহ।</p>
<p style="text-align: justify">শবনম খুশিতে সবার সমানে বলে বসে আগামীকালই শশুর বাড়ি চলে যাবে। বোনের বিয়ে অনেক দায়িত্ব আছে, তাই শাশুড়িকে এই খুশির খবরটা দিতে হবে ওকে।</p>
<p style="text-align: justify">মেহমান চলে যাবার পরে মায়ের সাথে সবকিছু গুছিয়ে শারমীন রুমে এসে যখন শোয়ার প্রস্তুতি নেয়, তখন মোবাইল একটি মেসেজ আসে অপরিচিত নম্বর থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">‘আগামীকাল মাকে নিয়ে তোমার বাসায় আসবো। তুমি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো’। মেসেজটা দেখে শারমীন হা হয়ে তাকিয়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে। এতরাতে এই মেসেজ ওকে কে দিতে পারে। ওর মোবাইল নম্বর কি তমাল সাহেব ইতিমধ্যে জোগাড় করে ফেলেছে? ফেলতেই পারে। ব্যবসায়ী মানুষ হয়তো আগের থেকেই সংগ্রহ করেছে। লোকটাকে ওর শান্ত মনে হয়েছে। আঙুল ছোঁয়ার সময় লোকটার হাত কাঁপছিলো। হঠাৎ করে শারমীনের সাজ্জাদের কথা মনে পড়ে যায়। এই মেসেজটা সাজ্জাদ ওকে দিতে পারে। আজ গাড়িতে উঠার পর থেকে বেশ ছটফট করছিলো ওকে কিছু বলার জন্য। কিন্তু সাজ্জাদের অব্যক্ত কথাগুলো শারমীন যে ইতিমধ্যে পড়ে ফেলেছে সেটা সাজ্জাদ বুঝতে পারেনি। একবার ভাবে মেসেজের রিপ্লাই দেবে, পরে আর সেই ইচ্ছেটাও ওর মরে যায়। আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">বোরহান উদ্দিন আজ বেশ খুশি তার ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স ছেলের জন্য ইঞ্জিনিয়ার বউ ঠিক করতে পেরেছেন। বোরহান উদ্দিন নিঃসন্তান। বড় ভাইয়ের এই ছেলেকে তিনি ছয় মাস বয়সে দত্তক নিয়ে আসেন। আজ তার বড়ভাই বেঁচে থাকলে আরও খুশি হতো। বোরহান উদ্দিন একটু পাগলাটে ধরনের। আংটি পরানোর খুশিতে মাঝরাতে বাড়ির সব বাচ্চাদের ডেকে তোলে মিষ্টি খাওয়ার জন্য। তমালদের ছয়তলা বাড়ির প্রতিটি ঘরে আজ আলো জ্বলছে।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদের গাড়ি যখন গেটে এসে দাঁড়ায়, তখন ওদের পুরো বাড়ি অন্ধকার। দারোয়ান লতিফ দৌড়ে এসে গেট খোলে। সামনের লনের আলো জ্বালিয়ে দেয়। দরজা খুলে নিজের রুমে ঢোকার আগে মায়ের রুমে উঁকি দেয়। হালকা আলো আঁধারে ঘেরা মায়ের ঘরটায় কেমন যেন একটা মায়াবী ঘোর তৈরি করে। সাজ্জাদের মা সানজিদা আহামেদ ইজি চেয়ারে চুপচাপ বসে আসে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="font-size: 1rem">-মা তুমি এখনও ঘুমাওনি?<br />
-তুই কোথায় ছিলি এত রাত পর্যন্ত?<br />
-একটু কাজ ছিলো।<br />
-আসার পর থেকেই তো শুধু বাহিরে বাহিরে থাকিস। কোথায় কোথায় যাস এতো?<br />
-একজনকে খুঁজে ছিলাম, কয়কদিন হলো খুঁজে পেয়েছি।<br />
-কে?<br />
-শারমীন, আমার সাথে পড়তো। এখন একটা ফার্মে চাকরি করে। ওকে খুঁজতেই এসেছি। মা বাবা কোথায়?<br />
-থাইল্যান্ড।</span></p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="font-size: 1rem;color: #ff0000">হঠাৎ একটা নিরবতা নেমে আসে মায়াবী আলো আঁধারী ঘরটাজুড়ে।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সকালে শবমনের চিৎকার চেঁচামেচিতে শারমীনের ঘুম ভাঙে। চোখ খুলেই অনামিকায় আটকে থাকা আংটিটি একটু দূতি ছড়িয়ে ওকে জানান দেয়, বাঁধা পড়ে গেছো। মুহূর্তেই শারমীনের মনে সাজ্জাদের অসহায় মুখখানি ভেসে উঠে।</p>
<p style="text-align: justify">চলবে..</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/17/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া (পর্ব-১) ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/08/16/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/08/16/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 16 Aug 2022 13:15:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2067</guid>

					<description><![CDATA[নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া কফির মগে লাস্ট চুমুকটা দিয়ে সবকিছু গুছিয়ে যখনই অফিস থেকে বের হবে, তখনই শারমীনের ডাক পড়ে বসের রুমে।ঘন দুধ আর ফেনাযুক্ত উষ্ণ ক্যাপাচিনোর তৃপ্তি নিমেষে হাওয়া &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া</strong></span><br />
কফির মগে লাস্ট চুমুকটা দিয়ে সবকিছু গুছিয়ে যখনই অফিস থেকে বের হবে, তখনই শারমীনের ডাক পড়ে বসের রুমে।ঘন দুধ আর ফেনাযুক্ত উষ্ণ ক্যাপাচিনোর তৃপ্তি নিমেষে হাওয়া হয়ে যায় ষাটোর্ধ জাদরেল বসের ডাকে।তিতিবিরক্ত মেজাজের সাথে প্লাস্টিক হাসির সমন্বয় ঘটিয়ে শারমীন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও।বস এক সপ্তাহের বিদেশ ভ্রমণ শেষে আজই অফিসে ফিরেছে।তাই অফিস মোটামুটি তটস্থ তার উপস্থিতে।</p>
<p style="text-align: justify">যাবার আগে শারমীনকে দুটো প্রজেক্টের কাজ দিয়ে গিয়েছিলো।এখন সেগুলোর লাস্ট আপডেট জানতে চাইবে।ওদিকে আজ ওকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে।মায়ের তাড়া।এখন যদি দুই প্রজেক্টের ফাইল নিয়ে বসে তাহলে কম করে হলেও সাড়ে নয়টা বেজে যাবে।</p>
<p style="text-align: justify">‘আজ না স্যার কাল বসি, বাসায় গেস্ট আসবে’-এই কথা অনেকক্ষণ মনে মনে আওড়ায় বলার জন্য কিন্তু সেটা কিভাবে স্যারকে বলবে তাই ভেবে পায় না শারমীন।ওদিকে আজ তাড়াতাড়ি না ফিরলে মা ভীষণ রেগে যাবে।বের হবার সময় পইপই করে ওকে বলেছিলো,<br />
‘ছুটি নাও,আজ কোনভাবেই দেরি করা চলবে না’</p>
<p style="text-align: justify">কাঁচের দরজা সরিয়ে শারমীন যখন বসের সামনে গিয়ে হাজির হয়, তখন আকমল সাহেব অনেকগুলো ফাইলের ভিতরে চোখ ডুবিয়ে বসে আছে।<br />
স্যার ডেকেছিলেন?<br />
চশমার ফাঁকে, কপাল কুঁচকে শারমীনের দিকে তাকায় আকমল সাহেব অনেকটা অপরিচিত চাহনিতে।<br />
জি, ডেকেছিলাম।আমাদের উত্তরার ছয় নম্বর সেক্টরের প্রজেক্টটা নিয়ে বসুন।ওটার লাস্ট আপডেট কি?<br />
স্যার, একটা কথা ছিলো।<br />
কি ব্যাপারে?<br />
স্যার আজ আমার একটু তাড়া আছে, আগামীকাল বসলে কি, (কথাটা শেষ করতে পারে না, তার আগেই বস কথা শুরু করে)<br />
এনি প্রব্লেম? আমি তো আগামীকাল ফার্স্ট ফ্লাইটে ইউকে যাচ্ছি।আজ না বসলে একটু প্রব্লেম হবে মনে হয় আপনার।অল্প কিছু বাক্য ব্যয়ে নিজের অপারগতার কথা জানিয়ে, আবারও চোখ ডোবায় ফাইলের কালো অক্ষরের মাঝে।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন পেশায় একজন আর্কিটেক্ট।পাঁচ বছর যাবত দেশের একটি নামকরা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে কাজ করছে।এই পাঁচ বছর কাজের সুবাদে ওর বস আকমল সাহেবের কাছে কিছুটা নির্ভরতা অর্জন করতে পেরেছে।তাই তো বিদেশে যাবার আগে উত্তরার বড় দুটো প্রজেক্টের কাজ ওকে দিয়ে যায়।শারমীন এর মধ্যেই ক্লাইন্ডের সাথে দুইবার মিটিং করে বিল্ডিংয়ের নকশা, তাদের আইডিয়া, স্কেচ, পুরো প্রজেক্টের ব্যয় সবকিছু নিয়ে মোটামুটি আলোচনা করে ফেলেছে।বিভিন্ন সময় সেগুলো বসকে ইনফর্ম ও করেছে।এই মুহূর্তে আকমল সাহেব সেগুলোই নিজের চোখে চেক করে পরবর্তী কাজগুলো দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এই মিটিংয়ে আয়োজন করে।কিন্তু আজকের সময় একটু অসময় হয়ে যায় শারমীনের জন্য।আজ শারমীনের জীবনে বিশেষ একটি দিন হলেও হতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">অনেকটা তাড়াহুড়ো করে রাত নয়টায় শারমীন মিটিংয়ের রুম থেকে বের হয় দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে বসকে বকাবকি করতে করতে। উবারে কল করে, কিন্তু কাছে পিঠে কোন গাড়ির সন্ধান দিতে ব্যর্থ হয় উবার নামক অ্যাপ ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার প্রদানকারি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানটি।কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শারমীন পায়ের সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে হাঁটা শুরু করে।বনানী ১২ থেকে আজিমপুরের দুরত্ব এতটাই বেশি যে পায়ের উপরে নির্ভর করতে পারে না শারমীন।আশপাশে তাকায় সিএনজি আশায়।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #ff0000">হঠাৎ শারমীনের মনে হয়, একটি কালো রঙের গাড়ি ওকে ফলো করছে।মুহূর্তেই পা দুটো আসাড় হয়ে আসে, এক বিন্দু হাঁটার শক্তিটাও হারিয়ে ফেলে নার্ভের অসহযোগিতায়।গাড়িটা হালকা ব্রেক কষে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়, ধীরে ধীরে গাড়ির কালো গ্লাসটা নিচে নেমে আসে।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">ম্যাডাম, লিফট লাগবে?<br />
জি, না।<br />
আমরা আজিমপুরের দিকেই যাবো।<br />
আমি ওদিকে যাব না।আপনি আসুন,বিরক্ত করলে লোক জড়ো করবো কিন্তু।<br />
ঠিক আছে, ম্যাডাম।</p>
<p style="text-align: justify">গাড়িটা কিছু দুর গিয়ে দাঁড়ায়, একটু পরে ব্যাক গিয়ারে দিয়ে আবারও ওর সামনে এসে দাঁড়ায়।এবারে গাড়ির পেছনের গ্লাসটা নেমে যায়। গ্লাসটা নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ওর চোখ আর কপালের আমূল পরিবর্তন হয়ে যায়।সেই পরিবর্তনটা দেখে গাড়ির ভেতরের অবস্থানকারী ভদ্রলোক হাসতে হাসতে বলে ওঠে।<br />
নাকটা তো এখনও ফুলে উঠলো না রে..<br />
এই মাঝরাতে তুই কোথা থেকে?<br />
তুই সেখান থেকে আমিও সেখান থেকে।<br />
মানে, তুই কি এখন দেশে নাকি?<br />
সবকথা রাস্তায় দাঁড়িয়ে শেষ করবি, গাড়িতে উঠে আয়।</p>
<p style="text-align: justify">ড্রাইভার তাড়াতাড়ি বের হয়ে গাড়ির পেছনের দরজা খুলে দেয়। শারমীন গাড়িতে উঠে বসে।সাজ্জাদ আবারও সেই হাসিটা উপহার দেয় শারমীনকে।<br />
এতো হাসির কি হলো শুনি, তখন থেকে হাঁদারামের মতো হেসেই চলছিস।<br />
তোকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইউনিভার্সিটির কথা মনে পড়ে গেলো।</p>
<p style="text-align: justify">ইউনিভার্সিটির কথা বলতেই শারমীন চুপ হয়ে যায়।শারমীনের নিরবতা ওকেও কিছুক্ষণের জন্য নিরব করে দেয়।কিন্তু চিরকালের চঞ্চল সাজ্জাদ কিছু সময় পরে আবারও আলাপ শুরু করে।<br />
আজ এত দেরি হলো তোর?<br />
কাজ ছিলো।তুই এখনে কিভাবে? তুই কি এখন দেশে থাকিস? কবে আসলি ইংল্যান্ড থেকে?<br />
একটা একটা করে উত্তর দেই, আমি এখানে এসেছিলাম একজনকে একটা কথা বলতে, দেশে থাকার ইচ্ছে আছে, একমাস হলো দেশে এসেছি।<br />
আজ আমার দেরি হলো মানে? তুই কিভাবে জানিস, আমার কখন ছুটি হয়।<br />
তুই বলেছিলি তোর অফিসের কথা, মনে আছে?<br />
শারমীন একটুভাবে, মনে করার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না।কারণ ওর মনে পড়ে, ও কখন সাজ্জাদের সাথে যেচে কোন কথা বলেনি সেইদিনের পর থেকে, তারপর থেকে তো যোগাযোগ একেবারেই বন্ধ।তারপর নিজের থেকেই প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে শারমীন বলে ওঠে।<br />
তন্নীর বিয়েতে গিয়েছিলি?<br />
গিয়েছিলাম, তুইতো আসলি না।আমি তোর অপেক্ষায় ছিলাম সেইদিন।</p>
<p style="text-align: justify">দ্রুত গতি গাড়িটাকে হঠাৎ করেই শারমীনের মনে হয় ওটার গতি জড়তার অবনতি হয়েছে।আর সেই কারণে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।নিজেকে সামলিয়ে নেয় বেশ ত্বরিতার সাথে।</p>
<p style="text-align: justify">অপেক্ষা&#8230; কথাটা ওর বুকের বাঁপাশের হৃদয়ের মিউজিকটাকে দ্রুত তালে কুচকাওয়াজ শুরু করিয়ে দেয়।যার ওর শরীরে ভালোলাগা,ঘৃণা,কান্নার কাঁপন সৃষ্টি করে।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদ ওর জন্য অপেক্ষা করেছিলো সেইদিন, কিন্তু কেন? ওর তো অপেক্ষা করার কথা নয়।একটা সময় এই অপেক্ষাটা&#8230; শুধুমাত্র শারমীন করতো।ক্যাফেটোরিয়ায়, লাইব্রেরি, ক্লাসের বাইরে, ক্লাসের ভেতরে, সারাক্ষণ সাজ্জাদের জন্য অপেক্ষা।কখন আসবে, একটু দেখবে।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদ আর শারমীন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলো একসাথে। একই বন্ধুমহল, উঠাবসা সব একসাথেই ছিলে ওদের।সাজ্জাদ ছিলো ওদের ক্লাসের সবচেয়ে সুদর্শন ছেলে।নিউ সেশন এলে নিউ পার্টনার জোগাড় করা ছিলো ওর রোজকার রুটিনের মতো ব্যাপার।আর শারমীন সাধারণ চেহারার মোটামুটি ভালো টাইপ স্টুডেন্ট।পড়াশোনা ছাড়া অন্য আর কোনদিকে কোন নজর ছিলোনা।হঠাৎ করে শারমীন কোন কারণ ছাড়াই সাজ্জাদের প্রেমে পড়ে যায় থার্ড ইয়ারে পড়ার সময়।কিছুদিন সেই কথা নিজের ভেতরে চেপে রাখে, লাস্ট ইয়ারে একদিন সাহস করে একটা চিঠি লেখে সাজ্জাদের কাছে।তবে ওটার প্রতি উত্তরটা যে এতো জঘন্য ভাবে আসবে সেটা শারমীন কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, সেই সময়&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">একদিন সবাইকে ডেকে, ইউনিভার্সিটির ক্যাফেটোরিয়ায় সবার সামনে সাজ্জাদ সেই চিঠি পড়ে শোনায় প্রেরকের নামসহ।সেই চিঠি নিয়ে নানারকম ব্যঙ্গ, আরও কতশত ঢঙ।কিভাবে আরও রোমান্টিক প্রেমপত্র লেখা যায় তার উপরেও ছোটখাটো ক্লাস নেয় সবার।সেদিনের পর থেকে রাগে, ঘৃণা, অভিমানে, লজ্জায় শারমীন ক্লাসে যাওয়া,পড়াশোনা একেবারে বন্ধ করে দেয়।প্রতিজ্ঞা করে সাজ্জাদ নামক ভালোলাগাকে পুরোপুরি মন থেকে মুছে ফেলবে, কখনো মুখ দেখবে না।সেই কারণেই টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করে না।সাজ্জাদকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে নিজেকে নিজেই পিছিয়ে নেয় এক বছরের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">কি রে চুপ হয়ে গেলি একেবারে?<br />
কোথায়? তুই কথা বলছিস তাই।<br />
কেন অপেক্ষা করে ছিলাম, জানতে চাইলি না যে?<br />
না বললে জানবো কিভাবে?<br />
শারমীন আই এম স্যরি?<br />
কেন? কি করেছিস তুই?<br />
তোকে ‘তুই’ থেকে ‘তুমি’ হবার সন্মান না দেবার জন্য।সবার সামনে তোকে ছোট করার জন্য&#8230;<br />
থাক,ওগুলো পুরনো কথা, ভুলে যা। যা গেছে পুরোপুরিই গেছে,তাছাড়া ওটা আমার বোকামি ছিলো।অন্যকিছু নয়।<br />
কিন্তু&#8230;<br />
সাজ্জাদকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে, ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে শারমীন।<br />
কতদূর এলাম ড্রাইভার সাহেব?<br />
সাইন্সল্যাব।<br />
আমাকে নীলক্ষেতের মোড়টায় নামিয়ে দেবেন, কেমন।<br />
দুজনেই চুপ হয়ে যায়, ওদের সঞ্জীবনী কাব্য আবার তার লয়, মাত্রা ও তালের ছন্দপতন ঘটায়।কোনভাবেই সেটা শুদ্ধ সংগীত হয়ে উঠতে পারে না।শারমীন নেমে যায় ওর নির্দিষ্ট স্থানে শুধু ধন্যবাদটুকু বলে।</p>
<p style="text-align: justify">রাত যখন সাড়ে দশটা। শারমীন বাসায় ঢোকে ধীর পায়ে। ঢোকার মুখেই স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে যায় কিছু অপরিচিত মানুষের বসার ঘরে উপস্থিতর কারণে।<br />
এই তো শারমীন এসে পড়েছে।এত দেরি হলো আজ।<br />
এই কথা বলতে বলতে শারমীনের মা চোখের ইশারায় মুরব্বিদের সালাম করতে বলে মেয়েকে।সাজ্জাদের ঘোর পুরোপুরি না কাটার কারণে একটু দেরি হয়ে যায় মায়ের ইশারা বুঝতে।কোনমতে সালাম দিয়ে নিজের ঘরে ঢোকে অনেকটা চোরের মতো।পিছন থেকে মায়ের হুংকারে অনেকটা লাফিয়ে উঠে শারমীন।<br />
তাড়াতাড়ি একটু ফ্রেশ হয়ে সামনের রুমে আসো।ওরা অনেকক্ষণ হলো বসে আছে।আর ফোন ধরছিলে না কেন?<br />
ফোন মিউট করা ছিলো, তুমি যাও, আমি আসছি।</p>
<p style="text-align: justify">মনের সকল দ্বিধা দূর করে নিজেকে সাজ্জাদের চৌম্বক আকর্ষণ থেকে বের করে নেওয়ার জন্য শারমীন নিজেকে তৈরি করে।যতটুকুতে নিজেকে সুন্দর লাগবে সেটুকুই সাজে।ধীর পায়ে এগিয়ে যায় বসার ঘরে সেই মানুষগুলোর সামনে।সালাম দিয়ে চোখ তুলে তাকাতেই চোখ পড়ে কর্নারে বসে থাকা ছেলেটির উপর।<br />
সাজ্জাদ&#8230;?</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/08/16/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার বই পড়া ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/23/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/23/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 23 Apr 2022 03:47:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1872</guid>

					<description><![CDATA[বইয়ের সাথে সখ্যতা আমার ছোটবেলা থেকে। তবে কবে থেকে বই পড়া শুরু করেছিলাম মনে করতে না পারলেও, কবে থেকে ছেঁড়া শুরু করেছিলাম, দিব্যি মনে আছে।স্কুল ভর্তির প্রথমদিন থেকেই আমার বই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বইয়ের সাথে সখ্যতা আমার ছোটবেলা থেকে। তবে কবে থেকে বই পড়া শুরু করেছিলাম মনে করতে না পারলেও, কবে থেকে ছেঁড়া শুরু করেছিলাম, দিব্যি মনে আছে।স্কুল ভর্তির প্রথমদিন থেকেই আমার বই ছেঁড়া অপকর্মের সূচনা।নার্সারিতে রাইমসের রঙিন বইগুলো ছিঁড়ে সেগুলো দিয়ে পুতুল বানিয়ে খেলতাম৷মনে হয় তখন থেকেই আমার বই পড়ার শুরু।এখন বইয়ের পাতা ভাঁজ করলেও কষ্ট হয়।মনে হয় বইগুলো ব্যাথা পাচ্ছে।থাক ওসব কথা। আমার বই পড়া শুরুর গল্পটা বলি।</p>
<p style="text-align: justify">ছোটবেলায় নানারকম শিশুতোষ গল্পের বই আমাকে পড়তে দেওয়া হতো।তবে আমি একটু ইঁচড়েপাকা হওয়ার কারণে বড়দের বই পড়তেই বেশি পছন্দ করতাম। ‘রুশদেশের উপকথা’ আমার পড়া প্রথম শিশুতোষ বই।বাসায় হঠাৎ একদিন খুঁজে পেয়েছিলাম ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসটি।মাকে জিজ্ঞেস করায় বলেছিলেন,ওটা নাকি বাবার বই। যেন না ধরি। তবে আমি মায়ের নিষেধ না শুনে মা উপন্যাসটি পড়েছিলাম অনেকটা ছোট বয়সে। উপন্যাসের নায়ক পাভেল ভ্লাসভ আর তাঁর মা পেলেগোয়া নিলভনা দুটো চরিত্র ম্যাক্সিম গোর্কির অনবদ্য সৃষ্টি।বইটা পড়ার পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওটা আসলে মায়ের বই ছিলো। কারো থেকে ধার এনেছিলো পড়ার জন্য হয়তো কখনো।কেননা আমার ছোট ভাইয়ের জন্মের পরে, মা ওর নাম রেখেছিলো ‘পাভেল’। পাভেল চরিত্রটি হয়তো তাকে এতটাই বিমোহিত করেছিলেন যে, ছেলের নামটি তিনি পাভেল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।আমার বই পড়ার স্বভাবটা আমি মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">ছোটবেলায় বাসায় বিভিন্ন ধরনের পত্রিকা রাখা হতো। মায়ের প্রিয় ছিলো বেগম পত্রিকা।পত্রিকাটি বাসায় এলেই আমি পত্রিকার পাতা উল্টেপাল্টে দেখতাম আর ঘ্রাণ নিতাম। সেই থেকে আজও বাসায় নতুন বই এলে আমি প্রথমে সেই বইয়ের ঘ্রাণ শুঁকি।জানিনা কার কেমন লাগে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। আমার নেশা নেশা লাগে।মনে হয় ঢুকে পড়ি বইয়ের প্রতিটি অক্ষরে, শব্দের ভেতরে, আর শুষে নিই প্রতিটি বাক্যের গদ্য সৌন্দর্য ।</p>
<p style="text-align: justify">এখনও মনে পড়ে বিভিন্ন রান্না, সেলাই, গল্প, সবই পড়তাম বানান করে করে। এখন সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে হাসি পায়। আমার কাছে রান্নার বই বলতে এখনও প্রিয় সিদ্দীকা কবির রেসিপি, ওই বইখানি।</p>
<p style="text-align: justify">আরও কিছুসময় পরে পড়তাম দেশ পত্রিকা, সানন্দা। আনন্দলোক পড়ার থেকে আমি দেখেই বেশি আনন্দ পেতাম।কি ঝকঝকে মলাট, রঙিন সব ছবি।একসময় সানন্দা ও দেশ পত্রিকার উপন্যাসগুলো পড়া শুরু করি (তখন হয়তে ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়ি।)</p>
<p style="text-align: justify">সেই সময় আমাদের বাসায় পত্রিকা দিতো আসতো বাবুল কাকা। আমাদের পাড়ার হকার।তার সঙ্গে অনেক সখ্য ছিলো। হয়তো আমার পড়ার আগ্রহের কারণে আমাকে একটু বেশি আদর করতেন।এমনও হয়েছে, বাবুল কাকা আমাকে পত্রিকা দিয়ে যেত একদিনের জন্য। আমি সেই পত্রিকা একদিনে পড়ে শেষ করতাম।যেন পরীক্ষার পড়া, একরাতে সিলেবাস শেষ করতে হবে। আমার সেই পত্রিকা, বইগুলো এখন বাসায় জমানো আছে (মায়ের বাসায়)।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>বই সংগ্রহ করার জন্য আমি সব পত্রিকা ও গল্পের বইগুলোতে একটা নম্বর দিয়ে রাখতাম।মাঝে মাঝে মিলিয়ে নিতাম সব নম্বর দেওয়া বইগুলো। হঠাৎ কখনো কোন বই মিসিং হলে কাঁদতাম।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">কৈশোরে চাচা চৌধুরী, মাসুদ রানা,আর সেবা প্রকাশনীর সেই রোমান্টিক গল্প গুলি পড়তাম ।তবে সেগুলো বেশ চুরি করে, বড় বইয়ের ভেতরে ছোট বই ঢুকিয়ে পড়া, কত ধরা পড়েছি মায়ের হাতে, গালমন্দের সাথে চড় থাপ্পড় থাকতো বোনাস হিসেবে।আমার সেই করুন ইতিহাস বলে শেষ হবে না।</p>
<p style="text-align: justify">ক্লাস এইটে থাকাকালীন শীর্ষেন্দুর দূরবীন পড়ে আমি তো ধ্রুবর প্রেমে পড়ে গেলাম।সাতকাহনের দীপার মতো হতে চাইতাম।একবার তো মাকে বলেই ফেললাম, আমাকে দীপার মতো ছোটবেলায় বিয়ে দিতে, আমিও তাহলে ভালোভাবে পড়াশুনা করবো। নন্দিত নরকে উপন্যাসটি দিয়ে শুরু হলো হুমায়ুন আহমেদ এর বই পড়া।আমি প্রথমে পড়ে কিছুই বুঝি নাই।তখন আসলে ওটা বোঝার জন্য যে পরিমাণ বুদ্ধি দরকার ছিল, সেটা তখনও হয়নি আমার।তবে আমি পড়েছিলাম।আজ যখন মেয়েকে এমনভাবে গল্পের বই পড়তে দেখি, তখন নিজের সেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়।আমার মা প্রায় সময় বলতো, তুই যতটা মন দিয়ে গল্পের বই পড়িস, তেমন করে যদি লেখাপড়া করতি, তাহলে আমার আর কোন কষ্ট থাকত না।</p>
<p style="text-align: justify">কলেজে ওঠার পড়ে শুরু করলাম বুদ্ধদেব গুহ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো। সুনীল ও বুদ্ধদেব গুহ এই দুজন লেখকের লেখাকে যদি আমাকে বিবেচনা করতে বলে আমি বুদ্ধদেব গুহর লেখাকে বেশি পছন্দ করবো। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প আমাকে এখনও টানে, তবে কাজী নজরুল ইসলামের বই পড়া হয়নি তেমনভাবে। তবে তার গল্পের কাহিনিগুলো বিভিন্ন দিবসের নাট্যরূপের মাধ্যমে জানা হয়েছিলো। পদ্মা নদীর মাঝি দিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সাথে সখ্যতা শুরু। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা, জননী, ছোটগল্প প্রাগৈতিহাসিক আমার এখনও প্রিয়। জীবনানন্দ দাশের প্রতিটি গল্প পড়ে আমার মনে হয়েছে তিনি তার জীবনের কষ্টগুলোকে তার উপন্যাস ও গল্পে তুলে এনেছিলেন।সেটা আরও বিস্তৃত আকারে জানাতে পারি শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’ পড়ে।শাহাদুজ্জামানের লেখাও আমার ভালো লাগে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার বই পড়ার তালিকায় উল্লেখযোগ্য অনেক বই জমা হয়েছে। এখনও হচ্ছে। ওয়ার অ্যান্ড পিস উপন্যাসটি আবার শুরু করবো ভাবছি। ইদানীং অনুবাদ পড়া হচ্ছে প্রচুর। হারুকি মুরাকামির প্রায় অনুবাদ গ্রন্থগুলো পড়া শেষ। ইদানীং গল্পপাঠ ওয়েবজিনে অনুবাদ গল্পগুলো পড়ি অফিসে যাওয়া আসার পথে৷ জ্যামের অলস সময়টাকে এখন বই পড়ার পেছনে কাজে লাগাচ্ছি। আশাপূর্ণা দেবী, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা আমার ভালো লাগে। ইদানীং পড়া হয়েছে সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্যান্টি ও অন্যান গল্প’। বাংলা ছোট গল্পের জাদুকর মনে হয় হাসান আজিজুল হক। তার দেশভাগ নিয়ে লেখা আগুনপাখি উপন্যাসটি আমাদের সাহিত্যের একটি ক্লাসিক উপন্যাস। আরও আছে শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, মাহমুদুল হকের অনুর পাঠশালা ভালো লেগেছে।শহীদুল জহীরের মুখের দিকে দেখি, আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু উপন্যাস দুটো আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় থাকবে। নাসরীন জাহানের লেখা আমাকে টানে। কিছুদিন আগে পড়লাম ওয়াসি আহমেদের বরফকল। এখনকার সময়ে সাদিয়া সুলতানার ঈশ্বরকোল ও মোজাফফর হোসেন তিমিরযাত্রা পড়ার সুযোগ হয়েছে। ভালোবেসেছি তাদের লেখাগুলো।ইশরাত তানিয়া ও নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের গদ্য আমার ভালো লাগে।</p>
<p style="text-align: justify">এখন সময়ের অভাবে তেমনভাবে পড়ার সুযোগ হয় না। তবে সমস্যা নেই, বুড়ো বয়সটা জমিয়ে রেখেছি।তখন আবার শুরু করবো বই পড়া। এখন যা পড়ছি সেগুলো তো বোনাস।তবে আমি চেষ্টা করছি আমার বাচ্চাদের ভিতরে বই পড়া অভ্যাসটা গড়ে তুলতে।ইদানীং মনে হয় আমি সেটা কিঞ্চিৎ পেরেছি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/23/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিঃসঙ্গতার অস্তায়মান ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/31/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/31/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 30 Mar 2022 19:15:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1811</guid>

					<description><![CDATA[‌‘হারাডাদিন ভাতারের লগে হুইয়া থাকলে হইবে? ঘরের কাম করোন লাগবো না। আমার পোলাডাও বলদা, বৌডারে মাথা তুইলা নাচে। বাপের মতো হইলো না বলদাডা&#8230;’ সকালে গরুর খাবার দিতে দিতে আম্বিয়া এই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‌‘হারাডাদিন ভাতারের লগে হুইয়া থাকলে হইবে? ঘরের কাম করোন লাগবো না। আমার পোলাডাও বলদা, বৌডারে মাথা তুইলা নাচে। বাপের মতো হইলো না বলদাডা&#8230;’</p>
<p style="text-align: justify">সকালে গরুর খাবার দিতে দিতে আম্বিয়া এই কথাগুলো বলতে থাকে। এই কথাগুলো মরিয়মের শাশুড়ির প্রতিদিনকার সকালের সূচনা বাণী।সকালে ছেলের ঘরের টিনের দরজাটা বন্ধ দেখলে ওনার মুখমণ্ডল কালবৈশাখী ঝড়ের আগের রূপ ধারণ করে। মাঝে মাঝে বিজলির মতো ঝলকানি দেয়ার মতো করে কিছু অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ছেলে ও ছেলের বউকে। মরিয়ম সবকথা শুনেও, না শোনার ভান করে চুপচাপ স্বামীর গায়ের সাথে লেপ্টে থাকে আর জয়নাল সাদাসুখ নিঃশেষ করে বেঘোর ঘুমায়। একটু আগে যে ছিলো স্ত্রীর কাছে দানব।মরিয়মও সারা শরীরে সুখ মেখে এখন কিছুটা ক্লান্ত। তাই তো উঠতে ইচ্ছে করে না। উঠলেই সারাদিনে হাড়ভাঙা খাটুনি।চাঁটাই বিছিয়ে মরিচ শুকানো, ধান শুকানো, গরুর গোসল ও খাবারের জন্য পুকুর থেকে পানি আনা।টিউবওয়েল থেকে দশ কলস পানি এনে ইট বাঁধানো খোলা হাউজটা ভরা- সবই নিজের হাতে করতে হয়। পাছে আবার শাশুড়ির নানা বাহানার গালাগাল তো আছেই। তাও হজম করতে হয়। আম্বিয়াকে বাড়ির ষাটোর্ধ্ব বুড়োও ভয় পায়। সেখানে মরিয়ম তো কচি শিশু। কিছু বলার চিন্তা করলেও ভয়ে গলার কাছের কথাগুলো দলা পাকিয়ে যায়। তখন তার অন্যায়গুলো ন্যায় ভেবে চুপসে যায় মুখখানি। ছেলে জয়নাল আবার মাকে পাত্তা দেয় না। তাইতো স্বামী যতক্ষণ বাড়ি থাকে ততক্ষণ মরিয়মের শান্তি। গঞ্জের হাটের দিনে ওর মন খারাপ থাকে। সকাল সকাল চলে যায় আর ফেরা হয় রাতে সব সবজি, ডিম, হাঁস-মুরগি বেঁচে। ফেরার পথে বউয়ের খুশির জন্য আলতা, সুবাস সাবান, চুড়ি নিয়ে ফেরে। তবে পুরোটাই লুকিয়ে কারণ বুড়ির (বয়স চল্লিশের বেশি) আবার ছেলের এসব আধিখ্যেতা সহ্য হয় না।</p>
<p style="text-align: justify">‘কি রে জয়নাল আইজকা উঠবি না, কি রে বাপ শরীরডা কি ভালো আছে?’<br />
আবার কিছুসময় দম নিয়ে বলে,<br />
‘ছিনাল মাগিডা তো জামাইয়ের গতরে হাইন্দা থাকতে পারেই বাঁচে’</p>
<p style="text-align: justify">মরিয়মের আর সহ্য হয় না। উঠে বসে। চৌকির আশপাশে ব্লাউজটা খোঁজে, পায় না। বোঝে ওর ব্লাউজ জয়নালের শরীরের নিচে শায়িত । পেটিকোটের গিঁটটা শক্ত করে বেঁধে শাড়িটা শরীরের সাথে জড়িয়ে বের হয় টিন কাঠ দিয়ে বাধানো ঘর থেকে। ওর বাপের ঘর আবার বেড়া ও শনের তৈরি। ঘর থেকে বের হয়ে বেশ দ্রুত কলপাড়ের দিকে পা বাড়ায় মরিয়ম।যেন বুড়ির সাথে চোখাচোখি না হয়। ওর যেদিন সকালে শাশুড়ির সাথে প্রথম দর্শন হয়, সেইদিন ওর দিনটা খারাপ যায়। হয় গরুর শিংয়ের ঘুতা খায় বা পুকুরপাড়ে স্যাঁতস্যাঁতে কাদায় আছাড় খায়। আজ চেষ্টা করেও শাশুড়ির চোখ এড়াতে পারে না।</p>
<p style="text-align: justify">‘কি রে কুইড়া নবাবজাদি ঘুম হইছে? বুড়া শাশুড়িডারে না খাটাইলে চলে না তোর’</p>
<p style="text-align: justify">মরিয়ম আর কথা বাড়ায় না। সোজা চলে যায় চুলার পাড়ে কয়লা খুঁজতে। সকালবেলা কাঠকয়লা দিয়ে দাঁত ঘষার অভ্যাস ওর জন্ম থেকে। এখন হালের ব্রাশ দিয়ে দাঁত ঘষামাজা করতে ভালো লাগে না । ক্রিমের মতো মিষ্টি মিষ্টি জিনিসটা জিভে জ্বালা ধরায়।তাই তো এড়িয়ে চলে। তবে জয়নাল সবসময় বলে কয়লা দিয়া দাঁত না মাজতে।</p>
<p style="text-align: justify">আম্বিয়া বউকে দেখে নিজের ঘরে যায়। জানে এখন মরিয়ম ধীরে ধীরে ওর রোজকার কাজগুলো গুছিয়ে গুছিয়ে করবে।বউটার একটাই সমস্যা সকাল সকাল উঠতে চায় না। তাছাড়া সবদিক থেকে সেরা বউ হলো ওর ছেলের বউ।মনে মনে স্বীকার করলেও মুখ ফুটে কখনো বলে না। যদি মেয়ের দেমাগ বাড়ে। ভাসুরের ছোট মেয়েটাকে ছেলের বউ করেনি ঐ মেয়ের দেমাগের কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">আম্বিয়া এই বাড়িতে বউ হয়ে আসে পনেরো বছর বয়সে। দুই বছর স্বামীর সোহাগ পায়, তারপরে আচমকা সবশেষ হয়ে যায় একদিনেই। কয়দিনের বৃষ্টিতে পাটক্ষেতে পানি জমে ছিলো, তাই তো জয়নালের বাপ পাটক্ষেতে গিয়েছিলো নালা কাটতে। নালা কেটে ঘরে এসে কচু তরকারির সালুন দিয়ে ভাত খায় অনেকগুলো। তবে খেয়ে উঠে আর দাঁড়াতে পারে না, মুখে ফেনা তুলতে তুলতে শুয়ে পড়ে চাটাইতে। আম্বিয়ার শ্বশুর ছুটে আসে কবিরাজ নিয়ে , তার আগেই সবশেষ। কবিরাজ পরে জানায় জয়নালের বাপ আজগরকে সাপে কেটে ছিলো নালা কাটার সময়ই, টের না পাওয়া দেরি হয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">বিষ ছড়ায় সারা শরীরে।আম্বিয়া তখন তিন মাসের পোয়াতি ছিলো। জয়নালের জন্মের পরে মুখে হাসি ফোটে ওর ।কারণ ছেলে জন্ম দিয়ে বংশরক্ষা করতে পেরেছিলো একমাত্র আম্বিয়া। অন্য বউরা বছর বছর মেয়ে জন্ম দেয়ার কারণে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে ওর একটা আলাদা কদর হয় তখন। আর সেই কদরের কারণেই সতেরো বছর বয়স থেকে একা নিঃসঙ্গ আছে এই বাড়িতে। সকাল সকাল জা, ননদের ভেজার শাড়ি, ব্লাউজ দেখে বুকের ভেতরে হুরহুর করে উঠতো একটা সময়।শরীরে কামনা জাগতো, কিন্তু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কামনা শারীরিক পরিশ্রমে মাধ্যমে পানি করে ফেলতো।তাই তো এখন এই বাড়ির সবাই ওর এক ডাকে ভয়ে জড়ো হয়, মান্য করে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>‘ও জয়নাল, ও বাপ, আর কত ঘুমাবি? তাড়াতাড়ি উঠ। গঞ্জে গিয়া আমার বাতেঁর ব্যাদনার তেলডা অ্যাইনা দেয়। সারারাইত ঘুৃমাইতে পারি না।’</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে ২৩ বছরের তাগড়া যুবক জয়নালের।ছয় মাস আগে পাশের গ্রামের মরিয়মকে বিয়ে করছে মায়ের পছন্দে। চাচাতো বোনের সাথে একটু পিরিত ছিলো, সাথে মদ ও জুয়ার প্রতি টান।সেটা আম্বিয়া টের পেয়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে করিয়ে আনে গরীব ঘরের সুন্দরী মেয়ে মরিয়মকে।ঘরের বউ এসে যেন ছেলেকে বেঁধে রাখতে পারে সব আসক্তি থেকে।কারণ মায়ের কথা শুনতো না জয়নাল। আদরে বাঁদর হয়েছিলো ছেলে।</p>
<p style="text-align: justify">জয়নাল ঘুম থেকে উঠে বউকে খোঁজে, পেটে দানাপানি দেয়ার জন্য। তাছাড়া কচি লাউয়ের ডগার মতো চঞ্চল বউটাকে ওর বেশ ভালো লাগে।সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকতে মন চায়।</p>
<p style="text-align: justify">মইরাম<br />
ও মইরাম,<br />
স্বামীর ডাকে কান খাড়া হয় মরিয়মের, রান্নাঘর থেকে বের হবার আগেই শাশুড়ি গিয়ে হাজির হয়।মনে মনে শাশুড়িকে ভৎর্সনা করে আবারও চুলার সামনে গিয়ে বসে।ছেলের হাতে টাকা দেয় ওষুধ, মালিশ তেল আনার জন্য, সাথে কিছু ডিম আর লাউ দেয় গঞ্জে বিক্রি করার জন্য, যদি কিছু টাকা আসে হাতে। নতুন একটা গাভী গরু কেনার ইচ্ছা অনেকদিনের, সেজন্য টাকা জমাচ্ছে আম্বিয়া। বউটা যদি পোয়াতি হয় তাহলে প্রতিবেলা দুধ খাওয়াবে। নাতিটা যেন বউটার মতো সুন্দর হয়। অনেক স্বপ্ন আম্বিয়ার চোখে। আজগরের সাথে বিয়ের পরে ওর দাদী শাশুড়ির নারকেল, তিল আর হলুদ মাখানো তেল ঘষতো ওর গায়ে যেন চাপা গায়ের রংটা একটু উজ্জ্বল হয়। গায়ের রং উজ্জ্বল হয়েছিলো কিন্তু সেই গায়ে সোহাগ মাখাতে পারেনি বেশীদিন।</p>
<p style="text-align: justify">বেলা গড়ায়, ধান মরিচ ঘরে তুলে মরিয়ম যায় পুকুরে গোসলের জন্য। গতকাল নতুন একটা গন্ধ সাবান আনছে জয়নাল। আজ বলেছে এই সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করতে। আজ গঞ্জ থেকে আসার সময় মোবাইলে নতুন সিনেমা লোড করে আনবে।রাতে দুজনে একসাথে দেখবে। বাড়িতে কিছুদিন হলো পল্লীবিদুৎ এসেছে, কিন্তু টিভি এখনো আসেনি ঘরে।তাই তো বিনোদন বলতে ওই মোবাইলে লোড করা সিনেমা, গান আর নাটকই ভরসা।সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কাপড় তুলে মরিয়ম চুলে তেল দিতে বসে শাশুড়ির কাছে।আম্বিয়া বেশ যত্ন করে বউয়ের মাথায় তেল দিয়ে চুলগুলো বেঁধে দিতে দিতে নিজের পুরনো দিনের সুখ দুঃখের আলাপ সারে। তেল দেয়া শেষ হলে মরিয়ম যায় চাচা শ্বশুরের ঘরে ননদগুলোর সাথে গল্প করতে।যা আম্বিয়ার আবার একদম পছন্দ না।তবে মুখ ফুটে কিছু না বললেও হাবভাবে বুঝিয়ে দেয়। মরিয়ম গায়ে মাখে না।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ পাশের বাড়ির আক্কাস ছুটে আসে আম্বিয়ার কাছে।<br />
‘চাচী, জয়নাল তো মটোরসাইকেল এক্সিডেন্ট করছে। ওরে সদর হাসপাতালে লইয়া গেছে, তুমি তাড়াতাড়ি লও’</p>
<p style="text-align: justify">আম্বিয়া দোচালা ঘরের মাঝে দাঁড়ানো থেকে মাটিতে বসে পড়ে।দুই পাশের ঘর থেকে ছুটে আসে ভাসুর দেবর দুজনেই। ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার ভেসে আসে মরিয়মের সাথে আরো কিছু নারী কণ্ঠ ।মূর্ছা যায় সুন্দরী বউটা স্বামীর শোকে।এই শোক দীর্ঘ হয়, যখন সারাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে মধ্যরাতে জয়নালের মৃত্যুর সংবাদটি।ফজরের নামাজের সময় ইমান সাহেব সকলের কাছে জায়নালের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।বাদ জোহর লাশ সদর থেকে আনা হয়, আর বাদ আসর জানাজার।কিছু সময়ের ভেতরে মরিয়মের রঙিন কাপড় সাদা হয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">নতুন সূর্য ওঠে।অস্ত যায়।দিন গিয়ে সপ্তাহ যায়।সপ্তাহ মাসকে স্বাগতম জানায়।কিন্তু আম্বিয়া আর মরিয়মের কোন পরিবর্ত হয় না। শোক কাটিয়ে উঠতে পারে না দুজন।</p>
<p style="text-align: justify">দেড়মাস মোটামুটি কোনরকম হুঁশ থাকে না। নতুন তাজা কবরের মাটি, খেজুর পাতা শুকিয়ে আসে।নতুন বেড়া দেয়া হয়। সব আম্বিয়ার ভাসুর, দেবর নিজ নিজ তাগিদে করে মৃত ভাইয়ের একমাত্র ছেলের জন্য। প্রতিদিন গ্রামের বয়স্ক পুরুষরা নামাজ শেষে মোনাজাত করে আসে কবরে পাশে দাঁড়িয়ে জয়নালের জন্য।এসে আবার জানায় কেমন আছে আম্বিয়ার সোনার টুকরার কবরখানি।</p>
<p style="text-align: justify">মাস গড়িয়ে তিনে যায়, মরিয়ম এখন শাশুড়ির সাথে এক বিছানায় ঘুমায়।রাতে আম্বিয়া বউমার মাথায় হাত বুলায়, গায়ে কাথাঁ দেয়। মাঝেমাঝে নিজের হাতে খাইয়ে দেয়।যেদিন মরিয়ম বেশি কান্নাকাটি করে।ছয় মাস পরে ধীরে ধীরে জয়নালের শোক কাটিয়ে দুজন মানুষ একটু স্বাভাবিক হয়ে আসে।আম্বিয়া ঘরের লাগোয়া গোসলখানা বানায়, সাথে পায়খানা।যেন রাতবিরাতে ছেলের বউয়ের কষ্ট না হয়। হঠাৎ একদিন মরিয়মের বাবা আসে বেয়াইনের সাথে আলাপ পরামর্শ করে মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে।সেহেতু জয়নালের কোন স্মৃতি মরিয়ম বহন করতে পারেনি।তাই শুধু শুধু এই বাড়িতে মায়া বাড়িয়ে কি লাভ। মেয়েকে নতুন করে বিয়ে দিতে চান তিনি।অল্প বয়সী মেয়ে, ছয়মাস সংসার করেছে মাত্র।বাকি জীবনটা সাদা ভুষনে রাখতে চায় না মেয়েকে।</p>
<p style="text-align: justify">বেয়াইকে দেখে প্রথমে খুশি হলেও পরে কথাবার্তা শুনে আর ভালো লাগে না।কিন্তু বুদ্ধিমতি আম্বিয়া মুখ ফুটে কিছু বলে না। চুপচাপ সবকথা শোনে।<br />
‘হো, অল্প বয়স। আমিও বুঝি। ভালো পোলা পাইলে আমিও চাই মরিয়মের বিয়া দিতে।যতদিন বিয়া না হয় আমার কাছেই থাউক। ঘরডা খালি খালি লাগে। তয় একটা কতা, আমার বাড়ি থাইক্যাই বিয়ার কন্যা যাইবো বেয়াই’</p>
<p style="text-align: justify">মরিয়মের বাবা বেয়াইনের উদারতায় মুগ্ধ হয়ে খুশি মনে বাড়ি ফেরে। মেয়ের জন্য নতুন বিয়ের সমন্ধ দেখতে শুরু করে।মরিময় সুন্দরী তাই পাত্রের অভাব হয় না।</p>
<p style="text-align: justify">একেএকে চার পাঁচটা বিয়ের সমন্ধ নিয়ে গেলেও কারো সাথে মরিয়মের বিয়ে দিতে পারেনা ওর বাবা।সবাই ফেরত যায়।তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, সবারই মেয়ে দেখে পছন্দ করে, হাতে টাকা দেয়। পাকা কথা দিয়ে যাবার দুইদিন পরেই পাত্রপক্ষই জানায়, তারা বিয়েতে রাজি না। এইভাবে বছর গড়িয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">স্বামীর মৃত্যর পরে মরিয়মের আর বাবার বাড়ি যাওয়া হয় না।ওর মা এসে মাঝেমাঝে মেয়েকে সঙ্গ দিয়ে যেতো। হঠাৎ মায়ের পুকুর ঘাটে আছাড় খেয়ে পায়ে ব্যাথা পাওয়ার সংবাদ শুনে মায়ের কাছে যাওয়ার ইচ্ছে পোষন করে মরিয়ম।তারপরও শাশুড়ির শরীর খারাপসহ নানান ঝামেলায় সময় করতে পারে না।একদিন অনেকটা রাগ করে বাপের বাড়ি যাবার জন্য কাপড় গোছানো শুরু করে। বাপকে আসতে বলে, মাকে দেখতে মন চায় এই খবর জানিয়ে।ওদিকে কষ্টে বুক ফেটে আম্বিয়ার।এতো আদর যত্নের পরও কেন মরিয়ম তাকে ছেড়ে যেতে চায়। তাছাড়া এতদিন ধরে সুকৌশলে সব বিয়ে যে আম্বিয়াই ভাঙিয়েছে, তা যদি মরিয়ম বা ওর বাবা জেনে যায় কোনভাবে। মা বাবার মায়ার কারণে আর যদি ফিরতে না চায় মেয়েটা। তাহলে কি নিয়ে থাকবে।এতো বছর পরে নিঃসঙ্গ রাতের একজন সঙী হয়েছিলো ওর।তাই তো কোনভাবে হাতছাড়া করতে চায় না, ছেলেহারা বিধবার মায়ের একমাত্র যক্ষেধন পুত্রবধূ মরিয়মকে।</p>
<p style="text-align: justify">‘আম্মা আইয়া পড়মু, দুইদিন থাকমু, মায়েরে দেখতে মন চায়’<br />
‘এক গ্লাস দুধ খাইয়া যাও বৌমা ,একটু খাড়াও আনতাছি’</p>
<p style="text-align: justify">মরিয়মের বাবা অপেক্ষা করে, সাথে মরিয়মও।কিছুসময় পরে চুলার পার থেকে আম্বিয়ার চিৎকারে ছুটে যায় মরিয়ম, দেখে গরম দুধের হাড়ি থেকে দুধ পড়ে ডান হাতের অনেকটা অংশ ঝলসে গেছে করিৎকর্মা বৃদ্ধার।শাশুড়ির হাত নিয়ে ছোটাছুটি করে একটা সময় বাপকে একাই ফেরত পাঠায় মরিময়।মাকে নিয়ে আসতে বলে সুস্থ হলে।</p>
<p style="text-align: justify">রাতে ঝলসানে হাত থেকে পানি বের হয়। গায়ে জ্বর আসে আম্বিয়ার। শাশুড়ির জন্য সাগু রান্না করে।পাশের ঘরের চাচী শাশুড়িরা আসে মরিয়মের কাছে।সুখ-দুঃখের আলাপ করে।মরিয়ম তাদের কথার ইঙ্গিত বুঝেও না বোঝার ভান করে।</p>
<p style="text-align: justify">রাতে নিজে হাতে ভাত খাইয়ে দিতে দিতে মরিয়ম শাশুড়িকে বকা দেয় একটু আদুরে স্বরে।<br />
‘হাত না পুড়াইলেই হইতো আম্মা।আমারে কইলেই আমি যাইতাম না। আমি আপনেরে ছাইড়া কোনদিনও যামু না আম্মা।আম্নেহ আর ইমন পাগলামী কইরে না কইলাম’</p>
<p style="text-align: justify">কিছু সময় চুপ করে চোখের পানি ফেলে শাশুড়ির মুখের দিকে তাকায়।<br />
‘জয়নালের কব্বরডার বড়ই মায়াগো আম্মা, বড়ই মায়া, আমি জয়নালে ছাইড়া যাইতাম না’</p>
<p style="text-align: justify">আম্বিয়া ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকে তার যক্ষেরধনের দিকে।মেয়েটা কখন বউ থেকে যে মেয়ে হয়ে গেলো।বুঝতেই পারলো না। শেষ হলো আম্বিয়ার নিঃসঙ্গতার কালরাত্রি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/31/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
