<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ইসমত শিল্পী &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Fri, 17 Nov 2023 17:08:12 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>ইসমত শিল্পী &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>সময় ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/11/17/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/11/17/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 17 Nov 2023 17:08:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2954</guid>

					<description><![CDATA[সময়ের থেকে জীবনের দাবি অনেক অনেক বেশি।তাই জীবনের কাছে নিজেকে তুচ্ছ করে দিয়েই ছুটতে হয়…; এই তুচ্ছতার কষ্ট আছে। কিন্তু প্রয়োজনের কাছে কষ্টকে হার মানতে হয়, তা হয়ত জীবন এবং &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সময়ের থেকে জীবনের দাবি অনেক অনেক বেশি।তাই জীবনের কাছে নিজেকে তুচ্ছ করে দিয়েই ছুটতে হয়…; এই তুচ্ছতার কষ্ট আছে। কিন্তু প্রয়োজনের কাছে কষ্টকে হার মানতে হয়, তা হয়ত জীবন এবং কষ্ট দুই-ই বোঝে।শুধুমাত্র সময়ই বোঝে না।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের স্মৃতির সূচক হচ্ছে সময়।আর জীবনের সূচক হচ্ছে কর্ম।<br />
সময় মানে জীবনের সাথে জড়িয়ে পড়া কিছু মানুষ, লেগে থাকা কিছু স্মৃতি।পরিবেশ পরিস্থিতি।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সময়কে সবথেকে বেশি অবহেলা করি।তবে অগ্রাহ্য করতে পারি না।সময়মতো সময়ই আমাদের বুঝিয়ে দেয় তার মূল্য কত।যখন বুঝি তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।অনেক কিছু চলে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">জীবনের অঢেল অনাবাদি জমিতে অবহেলার বীজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সময়ের আবাদে কিছু না হলেও অল্প বিস্তর ফসলী শব্দের জন্ম হতে পারতো।শব্দের মধ্যে ডুব দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">মাঝে মাঝে অকারণ প্রেমে বিষুবরেখা চিহ্নিত বুক নিয়ে আকাশচারী হবার বাসনা জন্মায়।শেষ পর্যন্ত হয় না কিছুই।অপেক্ষার মৃত্যু হয়&#8230;।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/11/17/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রতিকল্প ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/01/01/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/01/01/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 01 Jan 2023 09:58:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2396</guid>

					<description><![CDATA[১. প্রত্নতাত্মিক ভিড়ে যতক্ষণ ঘাসের চিহ্ন ধরে রাখে সবুজ পাহাড়, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি থাকো কুয়াশায় বৃষ্টির চিহ্ন ডুবে যাবে রোদের সোনালী আভায় হেসে উঠবে বাড়ির ছাদ আমাদের দেখা হবে টুপটাপ &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">১.</p>
<p style="text-align: justify">প্রত্নতাত্মিক ভিড়ে<br />
যতক্ষণ ঘাসের চিহ্ন ধরে রাখে সবুজ পাহাড়,<br />
ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি থাকো</p>
<p style="text-align: justify">কুয়াশায় বৃষ্টির চিহ্ন ডুবে যাবে<br />
রোদের সোনালী আভায় হেসে উঠবে বাড়ির ছাদ<br />
আমাদের দেখা হবে টুপটাপ হলুদ সন্ধ্যায়</p>
<p style="text-align: justify">ত্রিভুজ সংসার ছেড়ে পতিতা সময়<br />
অজানা ভবিষ্যৎ আঁকে রোজ<br />
পরবর্তী ঋতুর সাথে মিলিত হয় দুপুর<br />
নতুন প্রমিকের মতো হাসে ধ্রুপদ বিকাল</p>
<p style="text-align: justify">বেলা পরে এলে আকাশের সাথে দেখা হয়<br />
প্রত্নতাত্মিক ভিড়ে ছায়াও ছাড়েনা ছায়াকে</p>
<p style="text-align: justify">২.<br />
হিমালয় থেকে দূরে সরে এলে ফিরে দেখতে নেই পাহাড়।তাতে দুঃখ বাড়ে। রামধনুর দিকে তাকানো যত আনন্দের পাহাড়ের দিকে ততটা নয়।পাহাড় বরাবরই দুঃখময়।সবুজ ঘাসের মাঝেও দুঃখের সুর, কারণে অকারণে।ওদিকে এগোতেও ভয় হয়।</p>
<p style="text-align: justify">শরীরের রক্তে কপালে টকটকে টিপ আঁকলে সিঁদূর ভেবে ফেলে; কলরব তোলে লোক, হাততালি দেয় বিদ্রুপ।ভ্রু জোড়ার ফ্যাকাসে অস্তিত্ব পুরু কাজলে ঢেকে নেওয়া অতোটা সহজ নয়।যতটা পুকুর কিংবা নদী হওয়া।অথবা ঘাস।<br />
ঘাসের বুকের সাথে জমানো উত্তাপ।ভুল করে কতবার পুড়িয়েছি জল। তাকে অশ্রুবিন্দু বলিনি বলেই বোঝেনি কেউ।সবার উচ্চারিত ভাষা তো একরকম নয়।কেউ কেউ নদীর জলেও সমুদ্রের লবণ চেখে দেখে।সেটাই কি ঠিক? কেউ-বা সমুদ্র বুকে নিয়ে কাটালো জীবণ।রক্ত নিংড়ে রাঙালো কপাল, দুঃখের কাজলে চোখ।তাকে সুখ ভেবে নিলে; সেটা ই কি ঠিক?</p>
<p style="text-align: justify">ঘাস অথবা পাহাড়ে যাবার ইচ্ছে ভয়ে নিংড়ে নিয়েছে দৃষ্টি।চোখ বন্ধ করলে অনেক বেশি দেখা যায় তাই বন্ধ চোখে সবটুকু দেখা হয় মনে মনে। অথচ মন তো অচল পয়সা ! পুরোনো সিন্দুকে মাপে মাপে বসে গেছে বেশ।এসবের কানাকড়িও দাম নেই।</p>
<p style="text-align: justify">যার কোনো দাম নেই তাকে বোঝানোর দরকারই বা কি!<br />
হিমালয় থেকে দূরে সরে এলে ফিরে দেখতে নেই পাহাড়।তাতে দুঃখ বাড়ে</p>
<p style="text-align: justify">৩ .</p>
<p style="text-align: justify">আপনাকে কোনোদিন জানানো হবে না<br />
সময়ের সঙ্গে বায়ুশূন্য শব্দের প্রেম</p>
<p style="text-align: justify">পূর্ণিমা উপছে পড়া চাঁদে এলিয়েনের ছায়া<br />
গাছের সংসার<br />
আপনাকে জানানো হবে না, আমাদের পরিচিত মেঝেতে মৌনতা ছবি আঁকে অন্য কারোর</p>
<p style="text-align: justify">দেখার সাথে দৃষ্টির পার্থক্য কতটা কঠিন, জানানো যাবে না!</p>
<p style="text-align: justify">আপনি সব জানতেন<br />
তাই<br />
কিছুই জানানো গেলো না!</p>
<p style="text-align: justify">৪.<br />
প্রিয় কিছু খুঁজে পাইনা এখন<br />
হাত পা, হাতের আঙুল, নখ<br />
অথবা কপাল<br />
চোখ ও চোখের জল</p>
<p style="text-align: justify">ধুলোয় ধুলোয় মৃত্যুমিছিল<br />
শূণ্যতায় শব্দ ছুটে আসে</p>
<p style="text-align: justify">রোদহীন শীতের সকাল<br />
নখের ভিতরে বরফের জীবন<br />
হঠাৎ চিঠি আসে<br />
খামের ওপর অজানা ঠিকানা<br />
ভেতরে আমার নাম</p>
<p style="text-align: justify">রোদ হারিয়ে যাচ্ছে<br />
আমার একমাত্র প্রেমিক-রোদ</p>
<p style="text-align: justify">৫.<br />
শেষ ট্রেন ছেড়ে দিলে আর কোনো অপেক্ষা থাকে না। কুয়াশামাখা ভোরের অপেক্ষায় রাতের সাথে বাধ্য হয়ে সখ্য গড়ে তুলতে হয়।নিজের সাথে গল্প করতে করতে একাই হাঁটতে শুরু করি, ওমাথার ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকানে বসবো বলে। দোকানের সামনে একটা কাঠের বেঞ্চিতে কজন লোক।পাঁচ জনের স্থানে ছয়জন ঠাসাঠাসি করে বসে। চায়ের সাথে বিড়ি টানছে কয়েকজন।</p>
<p style="text-align: justify">একজনের ঠোঁট দুটো চেপে আছে সিগারেটে।এক পা তুলে হাঁটু মুড়ে বসে, ডান হাতে চায়ের কাপ।কাপ নয়, কাচের গ্লাস।<br />
কাচের গ্লাসে চা খেতে দারুণ লাগে।খুব ইচ্ছে হচ্ছিল এগিয়ে গিয়ে বসে পড়ি।নাহ্ ওই বেঞ্চিতে বসার জায়গা নেই।দাঁড়িয়ে চা খেতেও খারাপ লাগে না।সূর্যটা বেশ রং ছেড়েছে; কমলা রঙের রোদ।</p>
<p style="text-align: justify">এগিয়ে যাচ্ছি ওদিকেই।সিগরেট খাওয়া লোকটি হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো। পায়ে এ্যাশ কালার স্যান্ডেল।এই শীতে স্যান্ডেল?<br />
এ্যাশ আমাকে ভীষণ টানে।লোকটার পাজামা-পাঞ্জাবি বেশ পুরোনো। অগোছালো, এলোমেলো চুল।রাত-জাগা চোখ।কিন্তু এ্যাশ রঙের স্যান্ডেলে বেশ পরিচ্ছন্নতা।ক্রমেই আমাদের দুরত্ব কমছে।অগোছালোর ছায়া আমার ছায়ার কাছে ভিড়ছে।এ্যাশ রঙের স্যান্ডেল লম্বা পায়ে এগিয়ে আসছে।আমি আর এগোতে পারছি না।</p>
<p style="text-align: justify">রোদের কোনো শব্দ হয় না।এখনো নেই।ট্রেনের শব্দের অপেক্ষা আর তীব্র অনুভব আমাকে পীড়া দিচ্ছে।<br />
&#8211; কখন আসবে ট্রেন?<br />
&#8211; আজকের সব ট্রেন চলে গেছে।কালকের জন্যে অপেক্ষা! কীভাবে?<br />
ছায়াটি এগিয়ে এলো? নাকি পাশ কাটিয়ে চলে গেলো!<br />
আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।তীর্যকভাবে পেছন ফিরে আমি ছুটছি। এ্যাশ রঙের স্যান্ডেল, আর রাত-জাগা মানুষ এভাবে আর কখনোই যেনো দেখিনি আমি!</p>
<p style="text-align: justify">৬.<br />
তুমি কথা বললেই,<br />
চাঁদের সিঁড়ি টপকে মহাকাশ ছুঁতে পারি<br />
মহাকাব্য হতে পারে এজীবন<br />
অথচ আংশিক শব্দের সাথে<br />
থেকে যাও বর্ণিল সাজে<br />
আংশিক রেখার উপরে হেঁটে কতদূর<br />
যাওয়া যায় বলো, জ্যামিতিক ভাষায়!<br />
শুধুমাত্র কথার শব্দে গাঁথা যায় না সময়</p>
<p style="text-align: justify">৭.<br />
বারবার ভুল পথের টিকিট করে ফেলি<br />
যাত্রার সময় পেরিয়ে যায়<br />
যাত্রা ও অভিযাত্রায় শৃঙ্খলিত পথ<br />
লাভার উপরে লাভার পলেস্তারা<br />
তবু যেতে হয়!</p>
<p style="text-align: justify">পা বাড়ালেই পথ শেষ হবে এমনও নয়<br />
অথচ<br />
কতবার কথা হলো! পথের কথা, জলের কথা<br />
কাদামাটি, পাখির কথা<br />
তবু<br />
উদ্দেশ্যহীন থেকে গেলো আগামী সৌহার্দ্য!</p>
<p style="text-align: justify">দৃষ্টিতে ভাইরাস ভাসে বলেই গন্তব্য ভোলে পথ<br />
নকল শব্দ ছড়ানো মাঠে প্রান্তরে<br />
পাখিরা হারায় নিয়ম<br />
নদীরাও আত্মহত্যা করে<br />
বৃষ্টিপাতের হাটে</p>
<p style="text-align: justify">৮.<br />
তোমার পায়ের তলায় ছড়িয়ে দেওয়া আমার কিছু ফুল ছিল,<br />
ভুল ছিল<br />
তোমার হাতের মুঠোয় পিষ্ট হওয়া রোদের কিছু ফুল ছিল,<br />
ভুল ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">মেঘের দেশে যাবো বলে মন ছিল<br />
বৃষ্টি শেষে গাছগুলো সব দুলছিল<br />
আমার তোমার হাতের ভিতর ইচ্ছেগুলো উড়ছিল<br />
ভুল ছিল!</p>
<p style="text-align: justify">সিঁদুর রঙা উঠোন জুড়ে কাঠাল পাতার রঙ ছিল, রোদ ছিল<br />
আয়না ভাঙার শব্দ শুনে কাঁঠাল চাপা কাঁদছিল,<br />
শূণ্য আঁচল তোমার হাওয়ায় ভুলের ভিতর দুলছিল,<br />
ভুল ছিল!</p>
<p style="text-align: justify">জন্ম সখা, বিষুবরেখা<br />
যাবজ্জীবন ফিরে দেখা<br />
আয়ুর ভিতর নাভির মরা<br />
চোখের জলে জৈষ্ঠ্য খরা</p>
<p style="text-align: justify">নাড়ির টানে ভুল আলোকে হৃৎ কাঁপানো মৌমাছিরা ঘুরছিল,<br />
ভুল ছিল!</p>
<p style="text-align: justify">আবার যখন দেখা হলো-<br />
বাঁচার কথা বলতে গিয়ে শব্দগুলো অজস্রবার পুড়ছিল,<br />
ভুল ছিল!<br />
তোমার হাতের ভিতর ইচ্ছেগুলো অ-কারণে পুড়ছিল<br />
ভুল ছিল!</p>
<p style="text-align: justify">৯.<br />
দূরে থাকো, তবু থাকো</p>
<p style="text-align: justify">বিষের কৌটায় মোড়ানো আঁধার<br />
রক্তদহের স্রোতে ভাসে হারানো সুন্দর<br />
বিস্তৃত সুর<br />
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে ঝুলে থাকা জল<br />
পুরনো পচন থেকে ঘন ঘন শ্বাস নেয় রোদ<br />
বিনোদন পূর্ণ পতিতা প্রেমিক গান গায় দূরে<br />
রাতের আঁধারে!</p>
<p style="text-align: justify">বারোয়ারি রাজারে দূরের মানুষ<br />
আসে, যায়<br />
দূরেই থাকো, অমৃত সুন্দর।</p>
<p style="text-align: justify">
১০.<br />
সূর্য ওঠেনি<br />
শ্রাবণের জলে নিস্তেজ সকাল<br />
একাকীত্বের সূর<br />
অপেক্ষার ঘরে আচ্ছন্ন বাসন<br />
ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে<br />
অথচ<br />
তুমি কথা বললেই তীব্র উল্লাস জমা হয়<br />
বেঁচে উঠি মহুয়াঘ্রাণে<br />
রোদের রঙ ধরে বাদামি ঘর<br />
তুমি কথা বললেই<br />
পৃথিবী জুড়ে অকৃপণ হাওয়া ভাসে<br />
হীম সময়ে স্রোত আসে, উল্লাসে<br />
তুমি কথা বললেই<br />
রক্তগন্ধা নদী ভরে ওঠে জলে<br />
স্রোতের সাথে ভাসে প্রেম!<br />
তুমি কথা বললেই<br />
এর চেয়ে ঢের বেশি ভালো থাকা যায়<br />
বলো না কেন?</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/01/01/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-১১) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 07 Jun 2022 14:39:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1976</guid>

					<description><![CDATA[হিসেব করে দিন পার করতে কষ্ট হতো খুব, তখন মর্মান্তিক রাতের ভেতর আরেকটা রাত উপচে পড়তো চোখে। সে-চোখের ভিতরে আগুন লেপ্টে থাকা কাজল! জ্বলতে জ্বলতে রঙ ঢালতো বন্ধা আকাশ, আমার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">হিসেব করে দিন পার করতে কষ্ট হতো খুব, তখন মর্মান্তিক রাতের ভেতর আরেকটা রাত উপচে পড়তো চোখে। সে-চোখের ভিতরে আগুন লেপ্টে থাকা কাজল! জ্বলতে জ্বলতে রঙ ঢালতো বন্ধা আকাশ, আমার চৌকষ মেঘের ঘরে।গোটাকয়েক ঘামের ফোটায় ভিজতো অবসন্ন বাতাস।</p>
<p style="text-align: justify">এমনি করেই কেটে গেল সহস্র দিন।কাটতে কাটতে দিনগুলো সব পর হলো। যেদিন বিকেলে ভাসতে ভাসতে শুরু হলো ভাসিয়ে দেয়ার খেলা, সেইদিন শৈশব পুড়লো।ঘাসের কার্পেট মোড়ানো উঠোনে পা ছড়িয়ে বসে কাঁদতে ইচ্ছে হলো খুব।কিন্তু সেই উঠোন পেরিয়ে আমি তখন পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ হচ্ছি জেলা শহরের রাস্তায়।দুই কিলোমিটার দূরে পদার্থ বিজ্ঞান রসায়ন পড়তে যেতে হতো মমতাজ উদ্দিন স্যার আর রাজেন্দ্র স্যারের বাড়ি।সকালে খালি পেটে বেরিয়ে যেতাম।কোনো কোনো দিন একটানা পড়ে, ক্লাস শেষ করে তবে ফিরতে হতো।নূরজাহান ফুফু ততক্ষণে গরম ভাত তরকারি রান্না করে বারান্দায় সাজিয়ে রেখেছে। আমার ক্ষুধা মরে যেতো অতো বেলায়, বিকাল অব্দি না খেয়ে থাকার জন্য।কিছু না খেলে নূরজাহান ফুফু মন খারাপ করে বসে থাকবে তাই না খেয়ে থাকার উপায় ছিল না।সে-ই ডুবন্ত সময় এত যুগ পর এমন স্থায়ী রঙে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি।</p>
<p style="text-align: justify">স্বপ্ন দেখি না আমি কখনও।সবকিছুই যেন ছেড়ে দিয়ে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।ছেড়ে দিয়ে দেখি, কতদূর যেতে পারে সবাই। আমার তো মনে হয়, সময়কে পার করে বাড়ি ফিরতেই আধেক জীবন কেটে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">যখন ফিরতে চাই পথে, জলে কিংবা জালে।বাড়িগুলো গাছ হয়ে ছাদের উপর অপেক্ষা করে।দেয়ালে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকে অবসন্ন বয়েসী কুকুর।</p>
<p style="text-align: justify">সময়ের কিনার নিংড়ে খেয়েছে আমাদের পরিচিত বাস্তব।যদিও জানি, বাস্তবতা সবসময় পরিচিত হয় না।অনেক অপরিচিত বাস্তব সত্য হয়ে ধরা দেয়, তাতেই কাটতে থাকে বাকিটা জীবন।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি একদিন এ পথে এসো, যে পথ দিয়ে আসে-যায় আজান। যে পথে সেগুনের সারি। সন্ধ্যায় আজান আর শঙ্খের ভালোবাসা কাছাকাছি শব্দ করে ভাসে। যে পথে জলের উপর জল ডিঙানোর খেলা চলে সন্তর্পণে।<br />
একদিন সেই পথে এসো।ঠিক আছে?</p>
<p style="text-align: justify">আমি অপেক্ষায় থাকি রোজ, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।<br />
যখন মেখ ফুটে আলো ছড়াচ্ছে আকাশ ঠিক সেই সময় পাড়ায় পাড়ায় করুন বাতাস।হু হু করে কেঁদে উঠলো বেনুয়া বিধুর এলোমেলো সুর। আমি তো গান গাইতে শিখিনি কখনো, কি গাইবো বলো?</p>
<p style="text-align: justify">শরৎ মাথায় করে বয়ে বেড়াচ্ছে রোদ। তুমি ছুঁয়ে দিলেই দশদিক রোদ ঝলমলে সুর। তুমি ছুঁয়ে দিলেই সম্পূর্ণ শরৎ।মেঘলা রঙের আঁচল আর নীল পাঞ্জাবি ঘিরে থাকতো গাঁ।গাঙের ধারে চুপচাপ সন্ধ্যা নামে।</p>
<p style="text-align: justify">অপেক্ষা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কালো হয়ে যায় আলো।বাতাসের মতো কে যেনো দৌড়ে আসে।চলে যায়।আঁচড় কেটে বয়ে যাচ্ছে স্রোত।একটু ছুঁয়ে গেলে কী এমন ক্ষতি হতো? প্রশ্ন জাগে, চলে যাওয়া আর বয়ে যাওয়া কি এক? শুধাই কাকে, কে দেবে উত্তর&#8230;?</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>‘বাংলার শব্দকথা’ বাঙালি ও বাংলাভাষার অনুভূতির ছবি ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/19/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/19/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 18 Apr 2022 18:08:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1860</guid>

					<description><![CDATA[ডা. নৃপেন ভৌমিক একজন বিখ্যাত স্নায়ুশল্যবিদ্যা বিশেষজ্ঞ। একাধারে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের লেখক, অভিধানকার, গবেষক এবং দধীচি ট্রাস্টের প্রাণপুরুষ। সবথেকে বড়কথা, তিনি অসাধারণ এক স্নিগ্ধ মানুষ; লেখায়, কথায় এবং তাঁর পেশায়। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ডা. নৃপেন ভৌমিক একজন বিখ্যাত স্নায়ুশল্যবিদ্যা বিশেষজ্ঞ। একাধারে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের লেখক, অভিধানকার, গবেষক এবং দধীচি ট্রাস্টের প্রাণপুরুষ। সবথেকে বড়কথা, তিনি অসাধারণ এক স্নিগ্ধ মানুষ; লেখায়, কথায় এবং তাঁর পেশায়।</p>
<p style="text-align: justify">‘বাংলার শব্দকথা’ বইয়ের শুরু থেকেই দেখতে পাই, শল্যবিদ নৃপেন ভৌমিকের দৃষ্টি মানব-শরীর কিংবা মানব-স্নায়ুর দিকে থেকেও বাংলা শব্দভাণ্ডারের গোলাঘরের দিকে গভীরভাবে নিবেদিত।সেই গোলাঘরের দরোজা খুলে তিনি প্রবেশ করেছেন বাংলা শব্দভাণ্ডারের বিপুল সংগ্রহশালায়: খুঁজে পেয়েছেন বাংলা শব্দের রত্মভাণ্ডার।</p>
<p style="text-align: justify">গ্রন্থের ভূমিকার শুরুতেই তাঁর সোচ্চার উচ্চারণ ‘প্রথমেই বলে রাখা ভালো, এটি অভিধান নয়’; ঠিক তাই ‘বাংলার শব্দকথা’ অভিধান নয়। তবে এর ভিত্তি ‘শব্দ’ বা ‘শব্দসন্ধান’, তাই অভিধানের ঘ্রাণসমৃদ্ধ। কেবল শব্দ কিংবা শব্দসন্ধানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শল্যবিদ নৃপেন ভৌমিক; বরং তিনি তাঁর নিত্যসঙ্গী সূক্ষ্ম-শাণিত মন নিয়ে দৃষ্টির গভীর নিরিখে অবলোকন করেছেন শব্দসমূহের অতলরূপ।খুঁজে এনেছেন সেই শব্দনির্ভর বিষয়-আশয়ের তলদেশস্থিত ইতিহাস-সংস্কৃতির রূপ-রূপায়ণ। কেবল তুলে এনেই ক্ষান্ত নন তিনি, বরং পাঠক স্নায়ুর দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন এর যথার্থ মর্মকথা।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা গর্বিত আধুনিক কালের মানব-স্নায়ুশল্যবিদ ডা. নৃপেন ভৌমিক তাঁর অধীত বিদ্যা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে বাংলা শব্দভাণ্ডারকে মানব-স্নায়ুর দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।এর মাধ্যম তাঁর সরস ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও পরিবেশনার অনন্যতা চোখে পড়বার মতো। যা আপনসন্ধানী বাঙালিমানসে চির অম্লান হয়ে থাকবে বলেই বিশ্বাস করা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">শব্দ এবং শব্দার্থধারার বাইরে যুক্ত হয়েছে বিষয়ভিত্তিক অভিধান। এসেছে বিশেষার্থক অভিধান।সংকলিত হয়েছে তারিখ-অভিধান, পরিভাষাকোষ ইত্যাদি।উদঘাটিত এবং সংকলিত হয়েছে শব্দের উৎসানুসঙ্গ।বলা যেতে পারে এটি বৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ভিন্নধারার এক অনুভূতিকোষ গ্রন্থ ‘বাংলার শব্দকথা’ বইটি। একে কোনো বিশেষ অভিধায় অবিহিত করা কষ্টসাধ্য এবং দুঃসাধ্য; ডা. নৃপেন ভৌমিক রচিত এই গ্রন্থের ভূমিকায় গ্রন্থকারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে গ্রন্থের বিষয়-বৈচিত্র্য সম্বন্ধে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি লিখেছেন, ‘নিছক কৌতূহলের বশে বাঙালির অত্যন্ত পরিচিত কিছু বাংলা শব্দের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে তাদের ব্যুৎপত্তি অনুসরণ করে এবং অর্থ পরিবর্তন অনুধাবন করে প্রাচীন বাংলার অজ্ঞাত জীবনচর্চার কিছু কিছু ইতিহাস জানতে পেরেছি।এর ফলে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে বাঙালির পরিচয়, তার ভাষা, চারিত্রিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, ধর্মবিশ্বাস, জাতিভেদ সমস্যা এবং সংস্কার-কুসংস্কারের বিভিন্ন দিক। তারপর একে একে উদ্ঘাটিত হয়েছে বাঙালির ঘরবাড়ি, ঘরসংসার, আসবাবপত্র, বাসনকোশন, রান্নাবান্না, খাবারদাবার, মসলাপাতি, পিঠাপুলি, মণ্ডামিঠাই, কাপড়চোপড়, সাজগোজ, প্রসাধন, গয়নাগাটি, উৎসব-অনুষ্ঠান, বাদ্যযন্ত্র, লোকগীতি, খেলাধুলা, ব্যবসাবাণিজ্য, অসুখবিসুখ, গালিগালাজ ও পদবি ইত্যাদির ইতিবৃত্ত। এছাড়াও বাংলার খেতখামার, জলাশয়, গাছগাছালি, ফলফলাদি, শস্যফসল, শাকসবজি, পশুপাখি, পথঘাট, যানবাহন ও মুদ্রাব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে।’</p>
<p style="text-align: justify">গ্রন্থসূচিতে রয়েছে আরও বৈচিত্র্য। ৪৩ মূল বিষয়ের ২২৫ বিষয়ধারার সূচিপত্রই তার প্রমাণ।গ্রন্থটি সাজানো হয়েছে বিষয়ভিত্তিক ক্রমানুসারে।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক গবেষক বদিউর রহমান গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেছেন, “গ্রন্থের শিরোনাম ‘বাংলার শব্দকথা’ হলেও এর পরিসীমা কেবল ‘শব্দকথা’র সীমায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; হয়ে উঠেছে আরও কিছু, অন্যকিছু। ‘শব্দকথা’ চাপা পড়ে গেছে বাঙালি জীবনের অজস্র বিষয়াদির উৎস সন্ধানের গভীরতায়; যা সহজেই পাঠকচিত্তকে নিয়ে যায় বিষয়ের অতল গভীরে। পাঠকহৃদয় আপন মনে বলে ওঠে ‘হেথা নয়, হোথা নয়─ অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে’। এই ‘অন্যকিছু’ সন্ধানী বাঙালি পাঠক সহজেই খুঁজে পেতে পারেন তাঁর ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস ইত্যাদির পরিচয়-নির্যাস।”</p>
<p style="text-align: justify">ডা. নৃপেন ভৌমিক বাংলা ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অক্লান্ত সাধনা করে চলেছেন।শিক্ষায় মাতৃভাষাই যে মাতৃদুগ্ধ একথা রবীন্দ্রনাথ বলে গিয়েছেন।যত ভাষাই শিখি না কেনো দিনের শেষে স্বপ্ন দেখি সেই মায়ের ভাষা বাংলাতেই।চিকিৎসার উঠোনে এবং উঠোনের বাইরেও রেখেছেন আমাদের জন্যে কিছু শিক্ষণীয় বিবিধ লেখা। রচনা করেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যভাবনা নামের অসাধারণ গ্রন্থ। মাতৃভাষা যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ধুঁকছে।বিদেশি ভাষাকে অবশ্যই স্বাগত কিন্তু মাতৃভাষার বিনিময়ে কখনোই নয়।একটি বিশেষ দিনে শুধু আবেগে ভাসা নয়, কর্মযজ্ঞে এ আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক।</p>
<p style="text-align: justify">এই মূল্যবান প্রকাশনার জন্য ডা. ভৌমিককে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।এই গ্রন্থ পাঠক সমাজকে অবশ্যই ঋদ্ধ করবে, আমার স্থির এবং দৃঢ় বিশ্বাস।বইটি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি জগতে অসাধারণ একটি প্রকাশনা।‘বাংলার শব্দকথা’ হয়ে উঠুক বাঙালি পাঠকের নিত্যসাথি, ভবিষ্যবাঙালির গৌরবের আধার।</p>
<p style="text-align: justify">এমন অপূর্বসৃষ্টি পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় প্রকাশককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।দুই মলাটের মাঝে বহুবিধ মূল্যবান বাঙালি-সাংস্কৃতিক ছবি এবং বিষয়বস্তু।বইয়ের প্রচ্ছদও মার্জিত এবং অনন্য।</p>
<p style="text-align: justify">বই : বাংলার শব্দকথা<br />
লেখক : ডা. নৃপেন ভৌমিক<br />
প্রকাশক: অবসর<br />
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ<br />
মূল্য: ১২০০ টাকা<br />
পৃষ্ঠা: ৮৩২</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/19/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-১০) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 04 Apr 2022 17:45:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1827</guid>

					<description><![CDATA[বিষাদের স্তরগুলো পুরোনো কাঁঠের মতো পোক্ত হয়ে ওঠে আজকাল। ক্রমেই ভারি হয়, আটকে ধরে গলা।অথচ কী অবলিলায় হেসে উড়িয়ে দিতে চেয়েছি জীবন! পোড়া কাঠের কয়লার স্তুপে বসেও হাসা যায়; বিষাদকে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিষাদের স্তরগুলো পুরোনো কাঁঠের মতো পোক্ত হয়ে ওঠে আজকাল। ক্রমেই ভারি হয়, আটকে ধরে গলা।অথচ কী অবলিলায় হেসে উড়িয়ে দিতে চেয়েছি জীবন! পোড়া কাঠের কয়লার স্তুপে বসেও হাসা যায়; বিষাদকে মামুলি ভেবেই হেসেছি। সে হাসির মর্ম হাসিই জানে, আর কেউ নয়।সবকিছুর মর্ম সবাই জানবে এমন তো নয়! জানবার দরকারই বা কি? অথচ এইসব মামুলি বিষাদ পুরো জীবনকে গিলে খাচ্ছে।ইদানিং সারাক্ষণ মগজে আটকে থাকে কিছু প্রতারণার দৃশ্যচিত্র।অনেক দৃশ্যই এড়িয়ে চলার আগ্রাণ চেষ্টা করি। এখন যেনো কিছুই পারি না।শক্তির শক্তি ক্ষয় হয়- এ তো আমরা জানিই।</p>
<p style="text-align: justify">রাতের দীর্ঘশ্বাস ভারি হয়, বড় হয় রাত।রাত মানে তো কয়েকটি প্রহর মাত্র! আর আগে মধ্যরাত খুব প্রিয় ছিলো।শব্দরা ঘিরে ধরতো মধ্যপ্রহরে।আমরা বৈঠকে মেতে উঠতাম।শব্দের সঙ্গে প্রেম ঘনিষ্ঠ হতো। ভালোবাসা জমতো।আড্ডা বসতো বেশ।এখন মধ্যরাত অবধি নিঃশ্বাসের সঙ্গে রেষারেষি।আমি জিততে না চাইলেও নিঃশ্বাস হেরে যেতে চায় না বলেই ভীষণ বেদনা হয়।বেদনা লম্বা হলে দুঃখবোধ ঘিরে ধরে। দুঃখের সাথে কিছু ছায়া।ছায়াও স্পষ্ট হয়, এখন বুঝি। ছায়া আবছায়ার অদৃশ্য যুদ্ধে ছায়ার জয় হয়।ক্লান্ত প্রহর গড়িয়ে পড়ে সুতানুলি সাপের উপর। সে চমকায়, ছোবল তোলে! কার দিকে! আমার দিকে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি; অপরাধ কি আমার? বিশ্বাসে অপরাধ হয়, তাও এখন নতুন করে বুঝেছি।সময় কতকিছুই বোঝায়।কত অজানাকে জানিয়ে দেয়!</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>এইসব সময়কে দুঃসময় বলতে ইচ্ছে করে না।সময়ের নিজস্ব হিসাব আছে, দায়ও আছে।সত্যকে অস্বীকার করার দায় সময় নেয় না।মানুষ সেই দায় অনেক আগেই নিয়ে নিয়েছে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তবু মানুষকে ঘিরেই বাস, মানুষ নিয়েই আমরা তৈরি করি প্রেমোপখ্যান, কল্পিত প্রাসাদ।হরবোলা মানুষকে মানুষ হয়েও চিনতে পারি নি আজও। মধ্যরাত আমাকে সেগুলোই জানায়।শেখায়।আমার আর শেখার সময় নাই, সবিনয়ে জানিয়ে যাচ্ছি প্রায়ই।বলছি- ছুটি চাই, ছুটি চাই।ছুটি দাও, ওহে হরবোলা জীবন!</p>
<p style="text-align: justify">ছায়াঘেরা মধ্যরাত সদ্যজাত শিশুর মতো কাঁদে; ছুটি দেয় না কিছুতেই। আমি তিন থেকে চারটা কলম বদলাই।আঁকতে পারি না শব্দের সঠিক ছবি।আমার খুব কষ্ট হয়, বেদনা তৈরি হয়।নিঃশ্বাস আটকে আসে। আবার কলম বদলাই।আলাদা রঙের কলম খুঁজি।শব্দগুলো পোড়া কাঁঠের কান্না বুকে নিয়ে অপেক্ষা করে, বড্ড ভালোবেসে।কোনো প্রতারণা ছোঁয় না ওদের।</p>
<p style="text-align: justify">মধ্যরাত ও ছায়ার শব্দকে ঘিরে একটিই ছায়া থাকার কথা ছিলো। আমার নিঃশ্বাস এখনও কি তার জন্যে বেঁচে আছে? যে কিনা বিশ্বাসই করেনি এই খচিত শব্দকে।তবুও অপেক্ষা কেনো বাঁচার; কার জন্যে&#8230;<br />
যা আমরা চোখে দেখি তার থেকে অধিক দেখা থেকে যায় অ-দেখাতে।</p>
<p style="text-align: justify">দৃষ্টিতে দৃষ্টিতে বুঝে নিতে হয়।না বুঝলে কিছু করার থাকে না।আমার কি মনে হয় জানিস? মানুষ যা চোখে দেখে তা হলো চোখ।আর যা মনে দেখে তা, দৃষ্টি।দৃষ্টি যদি প্রখর না হয়, অস্বচ্ছ হয় সেখানে সৃষ্টি ধরা দেয় না।প্রকৃতি সৃষ্টির মাধমে মানুষের কাছে উজার করেছে নিজেকে।আর যুগযুগ ধরে মানুষ শেুধু নিয়েই গিয়েছে, দেয়নি কিছু।এই নিঃস্ব প্রকৃতিও কেঁদেছে অনেক, কেউই বুঝিনি।</p>
<p style="text-align: justify">শুধরে নিতে সুযোগ দিয়েছে কতই, কেউ তা করি নি।এখনও প্রতিটি প্রহরে আমি তার কান্না শুনি।কী অসহ্য যন্ত্রণা! কাঁতর শব্দ! রাত যত বাড়ে এ শব্দ ততই স্পষ্ট হয়।বুকে বাজে বড্ড, ঘুমোতে পারি না।কত রাত ঘুমহীন কেটে যাচ্ছে, হিসেব করি না। তুই কি ঘুমোতে পারিস অতনু? হয়তো পারিস।সবার অনুভূতি তো একরকম নয়।বো্ধ যেখানে শূন্য অনুভবের সেখানে ঠাঁই কোথায় ! তোদের হিসেবের জীবন, আমার বেহিসেবের।এভাবেই তো ফুরোলো! বাকিটাও যাবে, যাক না..!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%a6-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-৯) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/01/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/01/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Feb 2022 15:49:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1531</guid>

					<description><![CDATA[সাদা কার্বন (পর্ব-৯): যা বলছিলাম, আমার মা রাজেশ্বরী। দৈনন্দিন দুঃখস্রোত বেয়ে গড়িয়ে নামতে থাকা নদী। গাঁও গেরামের টুকটুকে ঠোঁট টিয়া। আমার মা আমার কাছে নীল রঙের গল্প। আদর না পাওয়া &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>সাদা কার্বন (পর্ব-৯): </strong>যা বলছিলাম, আমার মা রাজেশ্বরী। দৈনন্দিন দুঃখস্রোত বেয়ে গড়িয়ে নামতে থাকা নদী। গাঁও গেরামের টুকটুকে ঠোঁট টিয়া। আমার মা আমার কাছে নীল রঙের গল্প। আদর না পাওয়া অনাড়ম্বর মাটির পুতুল।</p>
<p style="text-align: justify">আমার মা মাত্র সাত বছরে দূর গাঁয়ে বৌ হয়ে আসা অবনত মুখর কিশোরী। সাত চড়ে রা করতো না, খেতো না যখন তখন। ওপার এপার পুকুর সাঁতরে পার হতে পারতো। কিন্তু হুকুম ছিলো না। রান্নাঘর থেকে গোয়াল ঘর। বড়জোর উঠোন পেরিয়ে উত্তরের পুকুর পাড়ে ঝিঁঝির ডাক শুনতে যেতে পারতো, এটুকুই। তাও আবার বাছুর দেখার ভান করে। নানা মশাই তাঁর মেয়েকে বাছুর সমেত গাই গরু উপহার দিয়েছিলেন। মেয়ে তাঁর দুধভাত বড্ড পছন্দ করে। নানা মশাই অনেক বেশি ভালোবাসা দিয়েছিলেন মেয়েকে। সেই সাথে সুখের সংসার সাজাতে অনেক কিছুই।</p>
<p style="text-align: justify">আসবাবপত্র আর বড় বাড়ি সুখের জন্য সবকিছু নয় এটা কি তিনি জানতেন? শুধুমাত্র শিক্ষিত ও নামকরা পরিবারের মধ্যেই সুখ সীমাবদ্ধ নয় এও বুঝতেন না! ভালোবাসাকে উপঢৌকন হিসেবে দেওয়া যেতো না। দেবার মতো হলে হয়তো দিতেন। চল ছিল যা- সবকিছু দিয়েছিলেন। যা তাই চাওয়া যায় না। মা কোনোদিন চায় নি তেমন কিছু। না চাইলে কিছু পাওয়া যায় না। মা ভাবতো তাঁর কপালে যা আছে তাই পাবে। কপাল খুব ভয়ংকর জিনিস।</p>
<p style="text-align: justify">আমার মা কপালের কাছে সবকিছু সপে দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে জীবন কাটিয়ে দিলো। এত সাধারণ ভাবে! অসাধারণ একটা হৃদয় নিয়ে যাচ্ছেতাই ভাবে প্রকৃতির সাথে মিশে গেলো; রাজেশ্বরীর মতো। জানেন তো রাজেশ্বরী সে যে!</p>
<p style="text-align: justify">আমিও কিংবদন্তী হতে পারতাম। কিংবদন্তী হতে পারতো আমার মা! কী বলেন পিতা ?<br />
আপনি থেমে গেলেন? হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। বাবা-মাকে তুমি বলতে পারার তুপ্তি আনন্দ বা স্বাদ কোনও বয়সেয় আমি পাইনি। স্বাদ না পাবার এই অপূর্ণতা অনুভব করলাম যৌবনে। মা&#8217;কে যখন ‘তুমি’ করে বলতাম।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ, এটাও নিজেই নিজেকে শিখিয়েছিলাম। রপ্ত করেছিলাম নিজেই। রপ্ত হয়েছিলো দিনে দিনে। আপনি জানতেন না, বোঝেননি। মাও বোঝেনি; সরলতার দিনপঞ্জি বুকে নিয়ে জন্মেছিলো আমার মা। সরল সহজ মানুষ সংসারে মূল্য পায় কম। মা’ও তেমনি। কী অভাবী গোছের গোছালো একটা জীবন কাটিয়ে দিলো! কোন চাওয়া নেই, পাওয়া নেই।</p>
<p style="text-align: justify">অভিযোগ নেই। নেই উদ্দীপনা। আফসোস ছিলো না কোনো কিছুর অথচ পাবার আঁকূতি ছিলো ঢের। নিরেট ভালো মানুষ ছিলো মা। একটা আস্ত জীবন, বিরাট না পাওয়া নিয়ে নিরবে চলে যায় কীভাবে মানুষ! ইস্, অথচ কতকিছু পেতে পারতো সে! সেই সামর্থ্য তো আপনার ছিলো! ছিলো না ? জানি, ছিলো। সামর্থ্য তো অর্থ দিয়ে বিচার হয় না। অর্থ মানুষকে ধনী বানায়, সামর্থ্য মানুষের অর্জিত সম্পদ। তা শুধু অর্থে বা টাকা-পয়সায় সীমাবদ্ধ না। শিক্ষায় প্রতিপত্তিতে ঐতিহ্যে আপনার যশ সুনাম মর্যাদা কতকিছু ছিলো! মায়ের ছিলো না প্রাপ্য; শুধু দিয়েই গেলো সেই মানুষ। নিলো না কিচ্ছু।</p>
<p style="text-align: justify">অবিশ্রান্ত মমতার ভিটেভরা ফুল ছিলো আমার মা। তাঁকেও আম্মা বলতে শিখেছিলাম। শৈশব হতেই বুঝেছি, পারিবারিক শিক্ষার আবহে সহজাত কিছু শব্দ মানুষ শিখে নেয়। ইচ্ছের বাইরেও মানুষ কতকিছু শেখে! সেগুলো সহজাত শিক্ষা। বড়বেলা সেগুলোকে এড়াতে পারেনা। অপছন্দ হলেও পারে না। আমি এডিয়েছিলাম। মাকে আপনি থেকে তুমি করে ফেলেছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">আপনার দুটো সন্তানের আরেকজন আমার ভাই। আপনার পুত্র। মা-বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান। আমার ৮বছর পরে জন্ম। ওই পরিবারে কন্যা সন্তান হিসেবে আপনি বরং কিছুটা অবহেলা করতেন আমায়। আর কেউই করেনি কখনও। মা আমায় ভালোবাসতো, আমিও মাকে। এ নিয়ে আপনার পুত্র সন্তানের ক্ষোভ ছিল খুব, পুত্র বধূরও। কিন্তু ভালোবাসা ছিল না। তা তো আপনার অজানা নয়! কিন্তু উপেক্ষিত। ঠিক আমি যেমন। যেমন আমার মা।</p>
<p style="text-align: justify">আমি আর আমার মা পরবর্তীতে একটা অনুভবে মিশে গেলাম। আপনার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা মায়া মমতা মেনে চলাতে আমার কমতি ছিলো না। বরং বেশিই ছিলো। ঠিক মায়ের মতোই। কষ্টগুলোও একইরকম। সময় সবথেকে বড় বন্ধু আবার বড় শত্রু। কিন্তু আমাদের বেলায় বন্ধু হলো সময়। আর চিন্তা ও অনুভব। আমাদের ভাবনা চিন্তা আমাদেরকে মিলিয়ে দিয়েছিলো একসাথে। অনুভব বয়স মানে না। অনুধাবন শক্তি হৃৎপিণ্ডের ভেতর থেকে গজিয়ে ওঠা শূন্যতা। বস্তুতে বস্তু না মিললেও শূন্যতা একে অপরের সাথে মিলে মিশে যায়। জড়াজড়ি করে বেঁচে থাকে। আমরাও তাই। মা চলে যাওয়ার পর থেকে আরও বেশি।</p>
<p style="text-align: justify">মা চলে যাবার সময় হৃৎপিণ্ডের খুব কাছে শুয়ে ছিলাম আমি। আমার বাম হাতের তালু স্পর্শ করেছিলো মায়ের হুদয়। কী বিশাল হৃদয়! কী বৃহৎ জলাশয়! কী মহান মানবী আমার মা! সেই শুষ্ক কণ্ঠ, শীর্ণ হাত, সেই মাংসহীন শরীর, রানীর মতন মন- আমার রাজেস্বরী-মা!</p>
<p style="text-align: justify">আপনার কাছে সামান্য স্ত্রীর ভূমিকায় জীবন কাটিয়ে দেওয়া একটা মানুষ। এত বিশাল পৃথিবী বুকে পুষেছিলো কীভাবে ? প্রশ্ন হয়.. কতকিছু জেগে ওঠে, মরে যায়। আবার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।<br />
সে কী রাজেশ্বরী বলেই..?<br />
উত্তর দেবেন।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/01/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-৮) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 07 Jan 2022 16:26:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1443</guid>

					<description><![CDATA[খেয়াল কোনো দুর্বলতম শব্দ নয়। ‘খেয়াল’ যতটা কাব্যিক তার থেকে বহুগুণ দরকারি ও অর্থবহনকারি শব্দ। নানাভাবে জীবনে খেয়ালের দরকার হয়। আমরা তার কতটুকুই বা বুঝি ! যে পায় না স্যেই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">খেয়াল কোনো দুর্বলতম শব্দ নয়। ‘খেয়াল’ যতটা কাব্যিক তার থেকে বহুগুণ দরকারি ও অর্থবহনকারি শব্দ। নানাভাবে জীবনে খেয়ালের দরকার হয়। আমরা তার কতটুকুই বা বুঝি ! যে পায় না স্যেই বোঝে-দরকার কতটা জরুরি জীবন চলতে। না পাওয়ার অভাবটা সেইই নিদারণভাবে বোঝে- যে পায় না। তাতে আবার ভাবনার কি হলো ? এই প্রশ্নও ভাবায়। ভাবনা আসে বলেই ভাবতে হয়। সেই বশেই খেয়াল শব্দ নিয়ে ভাবতে বসেছি।</p>
<p style="text-align: justify">তবে বলি। কারোর প্রতি খেয়াল রাখাকে কেউ যখন শেকল বা বন্ধন মনে করে তখন তাকে ছেড়ে দিতে হয়। মুক্ত করে দিতে হয়। মুক্তি কি এর নাম ? বোঝার বিষয় এটাও যে, শৃঙ্খলা আর শেকল তো এক না। তাহলে মুক্তি কেনো ? শৃঙ্খলায় থাকাকে বন্ধন ভাবলে তার সাথে শব্দ-যুদ্ধে রপ্ত হওয়া আহাম্মকের কাজ।</p>
<p style="text-align: justify">বরং স্বাধীনতা দিতে হয়, তার ক্ষতি হবে জেনেও। কারণ ভালোবাসা এবং দরদকে যদি নেতিবাচক হিসেবে অপরের কাছে পরিগণিত সে বহু কষ্টের। বোঝা দরকার দরদ হলো মায়া, ভালোবাসা এবং তাকে বন্ধন বা শৃঙ্খল মনে করা হলো মায়া ও দরদের অপমান। অন্য কেউ অপমান করলে হাসতে হাসতে হজম করার শক্তি আমার আছে। তাই বলে নিজেকে নিজে অপমান হতে দেইনা কখনো। যে কোনো মূল্যেই হোক নিজেকে রক্ষা করাই ধর্ম, বড় তপস্যা। তাতে যা ক্ষতি হলো, হোক।</p>
<p style="text-align: justify">ভেতরে বাহিরে রক্ত ঝরিয়ে এক সংসার-জীবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ার সাহস হয়েছে সেদিন। যেদিন নিজেকে চরমভাবে অপমানিত হতে দেখেছি। তার আগে অবধি দশ বছরেও সেই জায়গা থেকে তো নয়ই সেখানকার মানুষগুলোকেও মাথায় করে রেখেছি। অটল একটা দায়িত্ববোধ থেকেই সকল অপমান নিজেই মাথা পেতে নিয়েছিলাম। তা অনেক কিছুর বিনিময়ে, অনেক কিছু খুইয়ে। অনেক বছর ধৈযে; এটাই আমার স্বভাব। মনে হয়, সবথেকে বাজে স্বাভাব, সবকিছুর শেষ পর্যন্ত দেখা। শেষ পর্যন্ত দেখা মানে লেগে থাকা। লেগে থাকতে থাকতেই জীবনটার অর্ধেকখানি বা তারও অধিক পিছিয়ে রেখেছি। যেখানে পৌছনোর কথা ছিলো- একশোভাগ, আমার যোগ্যতা এবং ক্ষমতা অনুযায়ী সে পর্যন্ত তো যাইইনি। বরং পিছিয়ি থেকেছি সবকিছু থেকে। নিজের যা পাবার কথা, হবার কথা, এমনকি যা আমার অধিকারভুক্ত সেখানেও বিশাল এক গর্ত বানিয়ে চলছি আজীবন। শূন্যতার গহ্বর। সেই শূন্যতাকে আবার জলাধার ভেবে নিয়ে সামনে চলার শক্তিও অর্জন করি চরমভাবে।</p>
<p style="text-align: justify">কিছু স্বভাবের জন্যে নিজেকেই নিজে গালি দিই প্রায়ই। কারণ এই শেষ পর্যন্ত দেখতে দেখতে জীবনের অনেক ক্ষতি হয়ে যায় যা কোনোকিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। সময় কী পূরণ করা সম্ভব অন্য কিছুতে ! এই এক জীবন থেকে সময় যে দিয়েই চলেছি; দিয়েই চলেছি। আর কি কিছু রইলো বাকি !</p>
<p style="text-align: justify">ছোটবেলা থেকেই বুঝতাম, আমি আব্বার মতো স্বভাব পেয়েছি। ওইরকমই ত্যাগ করেছি সারাজীবন, কিছুটা একরোখাও। প্রচণ্ড টালমাটাল পরিস্থিতিতেও আব্বাকে খুব স্থির থাকতে দেখেছি। কী রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী সাংসারিক অভাব অনটন বা পারিবারিক জটিলতা- সবের বেলাতেই।</p>
<p style="text-align: justify">প্রচণ্ড ঝোড়োবাতাসেও একফোটা টলতে দেখিনি আব্বাকে।<br />
টলতে দেখিনি কিন্তু সোজা হয়ে সুয়ে থাকতে দেখেছি আব্বাকে অনেক সময়। আমি যখন কলেজে তখন খুব খেয়াল করতাম, আব্বা বেশিরভাব সময় লম্বা হয়ে সুয়ে আছে কিন্তু ঘুম নয়। বুঝতাম। ঘুমোনো মানুষকে আর না ঘুমোনো মানষকে বোঝা যায়। আমি বুঝি।</p>
<p style="text-align: justify">এও বুঝি ওই যে নিজেকে টলতে না দেওয়া মানুষটা যতসব কষ্ট, না পাওয়া, একাকিত্ব এসবের ভেতরে ক্রমেই নিজেকে সেধিয়ে দিচ্ছে। তবুও টলে যাবে না- এ এক যেনো স্থির ব্যক্তিত্ব। কিন্তু কী মর্মান্তিক কী ভয়ংকর গর্তের ভিতরে একটা মানুষের পা থেকে শুরু করে পুরো শরীরটা ঢুকে পড়ছে ক্রমেই ! এবং জেনে বুঝেই সচেতনভাবেই ঘটতে দিচ্ছে এগুলো; সারাজীবন। অথচ টলে যাবার ইচ্ছে নেই ! আবার কিচ্ছু পাবারও নেই। না পাওয়াগুলো নিয়ে কী নিদারণভাবে ত্যাগের চুড়ান্ত এক মহিমায় নিজের প্রতি অন্যায় করা !</p>
<p style="text-align: justify">নিজের প্রতি প্রতিনিয়ত অন্যায় করে যাওয়া মানুষটার উপরে প্রচণ্ড রাগ হয় আমার। প্রচণ্ড ক্ষোভ হয়। ক্ষোভ রাগ জমা হতে হতে বিরাট একটা পাথর উপরন্ত আমার উপরেই ভর করে পুনরায়। আমি তাহলে যাবো কোথায় ! আর কতটা ভাঙনের ভেতরে পা দিয়ে এভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায়, আব্বা !</p>
<p style="text-align: justify">এখন যেমন নিজের বেলায় বুঝি। বুঝি, আব্বার বেলাতেও ঠিক এমনটাই হতো। স্বাধীনতা পছন্দ করা মানুষদের নিজের জন্যে কিচ্ছু থাকে না, কেউ থাকে না। শুধুমাত্র নিজের মনের উপর ভর দিয়ে চলতে থাকলে সঙ্গী হিসেবে কেউই থাকে না। সবার প্রয়োজনে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার উপলব্ধি কে বুঝবে ! আর কেউ না বুঝলে নিজেকে নিজেই বুঝতে হয়। সেইটুকু না হলে বেঁচে থাকার পথ কোথায় !</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ae-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-৭) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/12/11/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/12/11/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Dec 2021 03:17:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1373</guid>

					<description><![CDATA[আমরাই কেউ না কেউ তৈরি করি তপ্ত বালিয়াড়ি। আমাদের শোবার ঘরে অথবা বাগানে। রোদ জল ঝড় উপেক্ষা করে হাঁটি। একান্তে কী এক মহাকাল বুকে পুষে রাখি তাবৎ তরঙ্গ ও শূন্য &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আমরাই কেউ না কেউ তৈরি করি তপ্ত বালিয়াড়ি। আমাদের শোবার ঘরে অথবা বাগানে। রোদ জল ঝড় উপেক্ষা করে হাঁটি। একান্তে কী এক মহাকাল বুকে পুষে রাখি তাবৎ তরঙ্গ ও শূন্য আরণ্যকজুড়ে। তা কজন বুঝি! অর্ধেক বয়েসেই চতুরগুণ যাপন মুখস্থ করা অতো সহজ নয়, জেনেও মুখস্থ করি।</p>
<p style="text-align: justify">অবলিলায় হাঁটে যুগ। অথচ যাপনের কাল্পনিক তরঙ্গ এত শব্দ খোঁজে কেন? কেউ তো ডাকে না অমন! তবু বিনয়ের সেতার কাঁদে! এদিক ওদিক কেউ নেই, চেনা বা অচেনা! তবু কাকে যেনো খুঁজি সঙ্গপোনে। আয়েসে আপনে অক্লেশে কাকে চাই ভুল করে?</p>
<p style="text-align: justify">ছোটবেলা থেকেই বুঝি, আমি আব্বার মতো স্বভাব পেয়েছি। ওরকমই ত্যাগ করেছি সারাজীবন, কিছুটা একরোখাও। প্রচণ্ড টালমাটাল পরিস্থিতিতেও আব্বাকে খুব স্থির থাকতে দেখেছি। কী রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী সাংসারিক অভাব অনটন বা পারিবারিক জটিলতা- সবের বেলাতেই। প্রচণ্ড ঝোড়োবাতাসেও একফোটা টলতে দেখিনি আব্বাকে।</p>
<p style="text-align: justify">টলতে দেখিনি কিন্তু সোজা হয়ে সুয়ে থাকতে দেখেছি আব্বাকে অনেক সময়। চুপচাপ, অধো-অন্ধকারে একা। আমি যখন কলেজে তখন খুব খেয়াল করতাম, আব্বা বেশিরভাব সময় লম্বা হয়ে সুয়ে আছে কিন্তু ঘুমোয় নি। বুঝতাম। একইভাবে সুয়ে থাকা ঘুমোনো মানুষ আর না ঘুমোনো মানুষ বোঝা যায়। আমি অন্তত: বুঝি।</p>
<p style="text-align: justify">এও বুঝি নিজেকে টলতে না দেওয়া মানুষটা যতসব কষ্ট, না পাওয়া, একাকিত্ব এসবের ভেতরে ক্রমেই নিজেকে সেধিয়ে দেয়। তবুও টলে যায় না- এ যেনো স্থির, আরেক ব্যক্তিত্ব। ভেতর থেকে শক্তি ছেকে নিয়ে আসতেই এই স্থিরতা।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু কী মর্মান্তিক কী ভয়ঙ্কর গর্তের ভিতরে একটা মানুষের পা থেকে শুরু করে পুরো শরীরটা ঢুকে পড়ছে ক্রমেই ! এবং জেনে বুঝেই সচেতনভাবেই ঘটতে দিচ্ছে এগুলো; সারাজীবন। অথচ টলে যাবার ইচ্ছে নেই ! আবার কিচ্ছু পাবার ইচ্ছেও নেই। হয়ত সাধ ছিলো। ইচ্ছে আর সাধ তো এক নয়! এই যে স্থিরতা, তা কি হাজার না পাওয়া নিয়ে নিদারণভাবে ত্যাগের চূড়ান্ত এক মহিমায় নিজের প্রতি অন্যায় করা নয়।</p>
<p style="text-align: justify">ত্যাগও এক ধরনের মোহ। সেই মোহকেও ত্যাগ করা প্রয়োজন- আব্বা ! নিজের বেলায় যেমন বুঝি আপনার বেলাতেও অমনই বুঝি।<br />
নিজের প্রতি প্রতিনিয়ত অন্যায় করে যাওয়া মানুষটার উপরে প্রচণ্ড রাগ হয় আমার। ক্ষোভ হয়। ক্ষোভ রাগ জমা হতে হতে বিরাট একটা পাথর আমার উপরেই ভর করে পুনরায়। উপরন্ত দ্বিগুণ স্থিরতা ভর করে আমার ওপর।</p>
<p style="text-align: justify">আমি তাহলে যাবো কোথায় ! আর কতটা ভাঙনের ভেতরে পা দিয়ে এভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায়! সারাজীবন পরগাছাই থেকে গেলাম। অথচ গাছ হতে চেয়েছিলাম। গাছ হবার কথা ছিলো- হব না !</p>
<p style="text-align: justify">স্বাধীনতা পছন্দ করা মানুষদের নিজের জন্যে কিচ্ছু থাকে না, কেউ থাকে না। শুধু নিজে ছাড়া। শুধুমাত্র নিজের মনের উপর ভর দিয়ে চলতে থাকলে সঙ্গী হিসেবে কেউই থাকে না। সবার প্রয়োজনে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার উপলব্ধি কেমন, তা কে বুঝবে !</p>
<p style="text-align: justify">আর কেউ যখন বোঝে না তখন নিজেকে নিজেই বুঝতে হয়।সেইটুকু না হলে বেঁচে থাকার আর পথ থাকে না।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/12/11/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ad-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-৬) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/27/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/27/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 Nov 2021 03:32:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1342</guid>

					<description><![CDATA[সাদা কার্বন (পর্ব-৬) তার সাথে আমার দেখা হঠাৎ যোগাযোগে, চোখাচোখিতে না। তবে যোগাযোগটা হলো দৃঢ়। এই দৃঢ়তম যোগাযোগের সমস্ত টুকুই আমার জন্য। সে হোক আমার দোষ অথবা হোক ম্লান শর্তাবলি। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সাদা কার্বন (পর্ব-৬)</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">তার সাথে আমার দেখা হঠাৎ যোগাযোগে, চোখাচোখিতে না। তবে যোগাযোগটা হলো দৃঢ়। এই দৃঢ়তম যোগাযোগের সমস্ত টুকুই আমার জন্য। সে হোক আমার দোষ অথবা হোক ম্লান শর্তাবলি। যোগাযোগ চলতে থাকলে তখন আর একজনের থাকে না, ব্যাপারটা দুজনের হয়ে যায়। আমাদেরও তেমনি হলো।</p>
<p style="text-align: justify">এইসব বলছি কারণ, দুজন মিলে একপথে চলতে থাকলে পথও আপনার হয়। দোকলা হয়ে ওঠে অপরিচিত আকাশ, ঘরবাড়ি, ছায়া। রাস্তায় পরিচিত খাবারের দোকানে বসে লুচি আর চা খেতে খেতে মরচে পড়া আগুনে অপরের মুখ জ্বলজ্বল করে। ফুটে ওঠে লক্ষকোটি তারা, মাঘের আকাশ ঝলমলে লাগে, শরতের মতো। ইস্কাটনের রাস্তা আমাদের পরিচিত ঘরদোর হয়ে উঠলো। মগবাজার, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল, বেইলি রোডের &#8216;দেশাল&#8217; আর &#8216;কে ক্র্যাফট&#8217; আমাদের টিফিন ফাঁকির মতো জায়গা হলো। পাগলের মতো ভালোবাসা উপচে পড়া কথা আসতো গলগল ধারায়। আমি উড়তাম; সেও কি ওড়েনি একচুলও! একা একা কোনো কিছু বেশি দিন চলতে পারে না, আমাদের চলছিল।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবে উড়তে উড়তে কাজের ফাঁকে দিনের সন্ধ্যাটি নিজের করে নিতে ছুটেই চলি। কে জানতো, এই ছোটাছুটি নিরর্থক হবে! অর্থ বিচার করে কি সম্পর্ক হয়! কেই বা ভাবে প্রকৃতির নিয়ম এমন নিষ্ঠুর হতে পারে! প্রকৃতি বড় অসহায় হয়ে পড়ে মানুষের কাছে। হাল ভেঙে দেবার থেকে ছেড়ে দেওয়া খানিকটা ভালো। তোমাদের নিষ্ঠুরতা ছাড়া সেই বা পেয়েছে কী এমন! তাই সে হাল ছেড়ে বেঁচেছে।</p>
<p style="text-align: justify">আমি যখন ঈশ্বরের চাইতে প্রকৃতির শক্তি অধিক বলতাম। তোমার কুদৃষ্টি আমার চোখ এড়াতো না, অপছন্দের মৃদু ভৎর্সনাও বড্ড বুকে বাজতো। কিন্তু মনে লাগতে দিইনি কখনো। সচেতন ভাবেই এড়িয়ে চলার দক্ষতা আমার অনেক দিনের। তোমার কপট চোখ ভীরু ধার্মিকদের মতো জ্বলতো। ভেতরে যিনি অবিচার পোষেন ধর্ম তার উপযুক্ত পোশাক। এই বাক্য আমার, তোমার সাথে হুবহু মিলে যায়। মানবিকতা আর মনুষ্যত্বের গলা কেটে হত্যা করে যারা, তাদের কাছে আবার ধর্ম কীসের! ধর্ম তাদের লেবাস মাত্র। আর এই লেবাসধারী লোকটি যদি নিজের কেউ হয় তাহলে নিরবতা পালন করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।</p>
<p style="text-align: justify">ওসব হিসেব বাদ দিয়েই স্বাভাবিক ভাবে আমার অবস্থানে অটল থেকেছি। আমার মতোই চলেছি আমি, তোমাকে বাদ দিয়ে জীবনের কিছুই ভাবিনি। এটাই কি দুর্বলতা ভেবে নিলে শেষে? শেষই বা বলছি কেনো? শুরুর থেকেই তো শেষ আসে? শেষ তো শুরুতে যেতে পারে না! তোমাকে শুধরে নেবো ভেবেই এভাবে লেগে থাকা, তোমাকে পাবার জন্য নয়। আমি তো আমাকে সবটুকু জানি, আর কেউ জানুক বা না জানুক।</p>
<p style="text-align: justify">এখন তুমি তোমার মতো, আমি আমার মতোই। শুধরে নেবো, সে যোগ্যতাও তো একটা মানুষের থাকতে হয়! তোমার সেটুকুও নেই। নিজেকে জানে না যে, সে অন্যকে কীভাবে জানবে? আমি আমার জানার মধ্যে দিন যাপন করি, তুমি তোমার ভুল স্বর্গে থাকো। &#8216;আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না..&#8217;।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/27/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ac-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা কার্বন (পর্ব-৫) ॥ ইসমত শিল্পী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/11/15/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/11/15/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 15 Nov 2021 13:24:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসমত শিল্পী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1278</guid>

					<description><![CDATA[সাদা কার্বন পর্ব-৫ তার সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। বিরোধও না। পার্থক্য ছিল ঢের।আমি ছিলাম খোলা বই। সে ভীষণ গোপন। আমার &#8216;কঠিন&#8217; পছন্দ, গোপনীয়তা নয়। তবু আমি পড়তে চেয়েছিলাম। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>সাদা কার্বন পর্ব-৫</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">তার সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। বিরোধও না। পার্থক্য ছিল ঢের।আমি ছিলাম খোলা বই। সে ভীষণ গোপন। আমার &#8216;কঠিন&#8217; পছন্দ, গোপনীয়তা নয়। তবু আমি পড়তে চেয়েছিলাম। গোপন মানেও তো একরকমের অজানা। অজানাকে জানার কৌতূহল দমিয়ে রাখা যায় না। অজানাকে জানার কৌতূহল, এক ধরনের সাধ। দুর্বোধ্যকে পড়তে চাইবার সাধ ও আকাঙ্খা নিয়েও বেঁচে থাকা যায়, অবলিলায়, আনন্দে।</p>
<p style="text-align: justify">এ প্রত্যয় নিয়েই এতটা বছর কাটলো! সমস্ত আনন্দ ঢেলে দিলাম সেখানে। এর মূল্য নেই, না থাকুক- আমার কাছে এমন উজাড়ের মূল্য আছে। আমার কাছে আমি কী তা আমি জানি; এটা জানা সবথেকে জরুরি।</p>
<p style="text-align: justify">এখানেই ছিলো আমার সাথে তার চরম অমিল। আমি স্রেফ কাট-কাট কথায় অনেকবার বোঝাতে চেয়েছি, “নিজেকে বোঝো”- এই দর্শনটা বুঝলেই কোনো সমস্যা থাকে না। এসবই চর্চার বিষয়। নিজেকে নিজেই চর্চা করতে হয়।এসব বই পুস্তকে থাকে না। নিজের কাছ থেকেই নিজে জীবনভর শিখতে হয়, শেখা যায়। এটাই রিয়েলাইজেশন&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুতেই সেটা বুঝলে না! তোমার ভেতরে একশ ভাগ দৈন্যতা-এই বোধের। কে জানতো, এ দৈন্যতা কখনো ঘুচবে না! কিছুতেই না! মানুষের মধ্যে সহজাত বলে একটা ব্যাপার আছে, যা জন্মসূত্রে পাওয়া। যা নিয়ে সে জন্মায়-নতুন করে শিখতে হয় না।একটা সময় পরে আর শেখাও যায় না। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই জিনিস এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় জিন এর মাধ্যমে।পরবর্তী সময়ে মানুষ শিখতে থাকে। মনুষ্য জীবনে এমন কিছু সময় আছে যা তাকে বিশেষ বিশেষ কাজে পটু হতে সাহায্য করে।নির্দিষ্ট সময়টা পেরিয়ে গেলে শত চেষ্টাতেও আর তাকে সে বিষয়টা রপ্ত করানো যায় না।যেমন, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো; এরকম কিছু দক্ষতা।</p>
<p style="text-align: justify">সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতিবোধও গড়ে ওঠে অতিশৈশবেই। আমাদের বর্তমান সমাজ মূল্যবোধ ও নীতিবোধহীনতার এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। শৈশবের শেখা মূল্যবোধ ও নীতিবোধ মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে।এই শিক্ষাটা মানুষ লাভ করে পরিবার থেকে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">আর থাকে অর্জন, মানুষের অভিজ্ঞতার দ্বারা।জন্ম থেকে মৃত্য অবধি আমরা অর্জন করতে থাকি।সবারই একেক রকম অর্জন থাকে সারাজীবনে। তোমার অর্জন জটিল ও রহস্যময়। জটিলতা নীতি আদর্শের ভিত্তিতে নেতিবাচক।তোমার মধ্যে মিশে আছে এমন সব জটিলতা, যাকে ভুল করে কঠিন ভেবেছিলাম।কঠিন হলে আমার থেকে সুখী এবং খুশি আর কেউ হতো না! আর আমার অভ্যাস সবসময়ই খোলা চোখে জীবন দেখা।</p>
<p style="text-align: justify">শৈশব থেকে বেড়ে উঠেছি, শিখেছি খোলা মনে মেনে নেওয়া, মানিয়ে চলা।প্রাণ খুলে হাসতে চাওয়া আমার প্রাণপণ চেষ্টা।বলেছি অসংখ্যবার, একটাই তো জীবন! এই-আর কটা বছর-ই তো, একসাথে হাসতে হাসতে গড়িয়ে দেওয়া যেতো না বলো ? যেত- কিন্তু তোমার লোভ সবকিছুকে নষ্ট করলো।অনেক কিছু পাবার লোভ। ক্ষমতার লোভ।জয়ী হবার লোভে মরিয়া হয়েছো সবসময়।প্রাপ্তিতে তুষ্টি নেই তোমার।দখলদারিত্ব বজায় রাখার প্রবণতা প্রবল।তোমাকে পড়তে পড়তে অনেক বেশি জেনেছি, হয়তো তোমার থেকেও বেশি।কতকিছু জেনেও পাশে থেকে তোমাকে পরিশীলিত করবার বাসনায় নিজেকে উচ্ছন্নে দিয়েছিলাম।আমার লোভ ছিলো না কিছুতে কোনোদিনই।উদার হয়েছি বলেই কি এমন ফাঁকি দিতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষ নিজের সাথে ঠিক বোঝাপড়া করতে না জানলেও একটা বোঝাপড়া করে নিতে জানতে হয়।আমি সেভাবেই করেছিলাম।তুমিও করেছিলে, তোমার মতো করে। জটিল অজানায়।আমার বোঝাপড়াটা ছিলো বিশ্বাসে। আস্থায়, অবিচল গতিময়তায়। তাই কিছু না পেয়েও আস্থা আর বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থেকেছি।সেটািই কাল হলো।তোমার সবকিছুই ছিলো সাজানো; ফাঁকি, আস্থাহীন আড়ষ্টতার। সাবলিলতা না থাকলে সেখানে স্বস্তি থাকে না।</p>
<p style="text-align: justify">তোমার সাথে আমার এতটা অমিল বুঝেও মেলাতে গিয়ে ঘা খেয়েছি অনেক। ফিরে আসিনি। হাল ছেড়ে দেওয়া আমার ধাতে নেই। দোষ- সবকিছু ঠিকঠাক করতে চাওয়ায়।<br />
আসলে আমার থেকে তুমিই বেশি অস্বস্তিতে কাটালে! তুমি যা না, তার ই প্রকাশ ঘটাতে গিয়েছো, এতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে হাঁপিয়ে উঠেছি আমরা দুজন।আচ্ছা, এখন কি স্বস্তিতে আছো?</p>
<p style="text-align: justify">ফাঁকি আর চুরির ভেতরে কখনও কোনও স্বস্তি থাকতে পারে না। এ আমার বিশ্বাস।আমি তোমাকে বহুবার বলেছি, &#8216;তোমাকে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না জেনেও আমি বিশ্বাস করতে চাই।কারণ বিশ্বাসের মাঝে আছে ভীষণ রকমের তৃপ্তি আর স্বস্তি।বিশ্বাসের মাঝে আছে ভীষণ শান্তি।&#8217; বলেছি, তোমাকে তুমি বিশ্বাস করো বা না করো, আমি যে তোমাকে বিশ্বাস করি- এটাকে অন্তত বিশ্বাস করো!</p>
<p style="text-align: justify">তুমি অনেক কিছু অর্জন করেছো, ক্ষমতা দখল করার জন্য জয়ী হবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে, ভাবতেও লজ্জা লাগে আমার! এখন তুমি জয়ী কিন্তু স্বস্তিতে আছো কি? ক্ষমতা দিয়ে আর যাই হোক স্বস্তিতে থাকা যায় না। তৃপ্তি আসে না কিছুতেই। এই বিরাট শূন্যতা নিয়ে আমি কষ্টে থাকলেও অস্বস্তিতে নেই।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/11/15/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
