<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>আরিফুর রহমান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sat, 14 Oct 2023 03:52:28 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>আরিফুর রহমান &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৮ এবং শেষ পর্ব) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/10/14/2903/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/10/14/2903/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 14 Oct 2023 03:48:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2903</guid>

					<description><![CDATA[তারপর মাত্র ঘণ্টা তিনেকের আয়োজনে মনা ও আকাশের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকটা ঘরোয়াভাবেই।দুই পরিবারের সবারই ইচ্ছে আছে কয়েকদিন পর ঘটা করে ওদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের। মেয়েকে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">তারপর মাত্র ঘণ্টা তিনেকের আয়োজনে মনা ও আকাশের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকটা ঘরোয়াভাবেই।দুই পরিবারের সবারই ইচ্ছে আছে কয়েকদিন পর ঘটা করে ওদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের।</p>
<p style="text-align: justify">মেয়েকে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বারান্দায় বসে আছেন মনা-র বাবা-মা। তাদের মনে বিষাদের ছায়া।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ মকবুল হোসেন খানের ফোনে মনার ফোন থেকে কল এলো। দুজনেই অবাক হলেন।তবে প্রথমবার কলটা রিসিভ করলেন না মনার বাবা।অনেক সময় অসাবধানতাবশত কল চলে আসে, এটা ভেবে।কিন্তু আবার কল এল এবং তিনি ফোন তুললেন, হ্যালো মনা, কোনো সমস্যা মা?</p>
<p style="text-align: justify">না বাবা। আসলে একটি কথা তোমাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছিলাম। আচ্ছা বাবা, আমাদের বংশের একটি অংশ ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপারে আছে না? ঠিক কোন জায়গায় বলতে পার?</p>
<p style="text-align: justify">মকবুল হোসেন খান চমকে উঠলেন। তোমাকে এই কথা কে বলল? আর এখন এই প্রশ্ন কেন মা?<br />
বাবা, তোমার কাছে কিছু জানতে চাইবার এই এক সমস্যা, উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করে বসো। মা-কে দাও প্লিজ!</p>
<p style="text-align: justify">রাহেলা খানম ফোন ধরে কাঁপা গলায় বললেন, হ্যালো।তিনি কাঁদছেন!<br />
হ্যাঁ মা, খেয়েছ কিছু? বাবা খেয়েছে? আচ্ছা মা, কবরের কাছে গেলে কী দোয়া পড়তে হয় যেন? ভুলে গেছি।তুমি আবার বাবার মতো উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করো না।আসলে আমার দাদা শ্বশুর মশাইয়ের কবর বৈঠক ঘরের পাশে।ওই কবরের পাশ দিয়েই বাড়িতে ঢুকতে হয়।তো কবরের কাছাকাছি এসে দোয়াটি খুব মনে করবার চেষ্টা করলাম, কিছুতেই মনে করতে পারলাম না! বলো মা।<br />
আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর।<br />
ঠিকাছে মা, রাখি। মনা ফোন রেখে দিল।<br />
ওর বাবা-মার বিস্ময়ের সীমা রইল না!</p>
<p style="text-align: justify">ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের উত্তরপ্রান্তে যে বাজার তাতে একজনকে পাওয়া গেল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছে।মনা লোকটির সামনে গাড়ি থামাতে আকাশকে ইশারা করল।বলল, ওনাকে জিজ্ঞেস কর সৈয়দ বাড়িতে যেতে হবে কোনদিক দিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">লোকটি চার চাকার গাড়ি দেখে সম্ভ্রমের সাথেই বলল, একটু আগাইলেই দেখবেন একটা রাস্তা পশ্চিমে গেছে।ঐ রাস্তা দিয়া দুই-তিন মিনিট আগাইলে একটা মজ্জিদ পাইবেন।হের পিছনের বাড়িই সয়দ বাড়ি। আপনেরা কার ইষ্টি?</p>
<p style="text-align: justify">ভাই, ওই পূর্ণ&#8230;ডিসি অফিসে চাকরি করত।বলল মনা।<br />
ও পুন্ন! হে ত&#8217; মইরাই গেছে! ও ত&#8217; সয়দ বাড়ির পোলা না, নাতি আছিল। ঐ বাড়ির দক্ষিণ মাথায় দেকবেন একটা ছোট্ট বাড়ির উডানে দুইডা কবর আছে। একটা অর দাদার আর একটা অর।অর মা আছে বাড়িত&#8217;। হয়ত শুনবেন কানতাছে!</p>
<p style="text-align: justify">একজনের কাছ থেকে এতগুলো তথ্য পাবে ওরা আশা করেনি।আকাশ তো ভেবেছিল এতরাতে বাড়ি খুঁজে বের করাই সম্ভব হবে না।<br />
তালুকদার বাড়ি থেকে ওরা বেরিয়েছে ঘণ্টাখানেক আগে।অথচ এটা ওদের ফুলশয্যার রাত!</p>
<p style="text-align: justify">হুটহাট করে এবং ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহ হয়েছে বলে বাড়িতে অতিরিক্ত কোনো লোকজন ছিল না।আতাউর রহমান তালুকদার ও মিতা হক, দুজনেই কয়েক ঘণ্টার পরিশ্রমে ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন তাই এগারোটা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়েছেন।সেই সুযোগে আকাশকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে মনা।বরের গাড়ির চাবিটা সে আগেই সরিয়ে রেখেছিল! রেন্ট-এ কারের লোকটি, আকাশের বন্ধু, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও চাবি না পেয়ে বলে গেছিল, ডুপ্লিকেট চাবিসহ সকালে এসে গাড়ি নিয়ে যাব।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আকাশ বাসরঘরে মনার হাতে চাবি দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি গাড়ির চাবি লুকিয়ে রেখেছ কেন?</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এটা ওর শাস্তি।দুষ্টুমির ছলে বলেছিল মনা।তোমার হাঁদারাম বন্ধুর মনোযোগ রাস্তার চেয়ে বেশি লুকিং গ্লাসে ছিল কেন? তাছাড়া এই রাতে লং ড্রাইভে যাব, এটা আমার বহুদিনের দুর্দমনীয় ইচ্ছে!</p>
<p style="text-align: justify">সেই থেকে আকাশের অবাক হওয়ার শুরু।যা এখনো চলছে! ও এখনো স্পষ্ট করে জানে না যে, মনা ফুলশয্যার রাতে ওকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে! কে এই পূর্ণ? সৈয়দ বাড়ির সাথে খান বাড়ির কী সম্পর্ক?</p>
<p style="text-align: justify">মসজিদের পেছনে একটি বড়ো বাড়ি দেখে ওরা বুঝল এটাই সৈয়দ বাড়ি।সারিবদ্ধ অনেকগুলো ঘর।কোনোটি ইটের আবার কোনোটি টিনের, কিন্তু সবগুলোতেই বনেদিয়ানার ছাপ আছে।</p>
<p style="text-align: justify">দক্ষিণে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরু একটি পায়ে হাঁটা পথ দেখতে পেল ওরা। গাড়ি থেকে নেমে সেই পথ ধরে দুজন হাঁটতে লাগল।</p>
<p style="text-align: justify">পথের লোকটির বর্ণনা অনুযায়ী সৈয়দ বাড়ির শেষপ্রান্তে গিয়ে সত্যি ছোট্ট একটি বাড়ি দেখতে পেল ওরা।বাড়ির বাইরের উঠোনে দুটো কবর, পাশাপাশি, শান বাঁধানো।দেখে আক্ষরিক অর্থেই কেঁপে উঠল মনা।ধীরপায়ে কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াল সে।ওর পাশে আকাশ।<br />
ওপরের আকাশে তখন লুকোচুরি চলছে টুকরো টুকরো মেঘে আর পূর্ণিমার চাঁদে! ফাল্গুনী পূর্ণিমায় হঠাৎ মেঘেদের আনাগোনা! আকাশের উত্তরকোণে ধীরে ধীরে জমছে মেঘ, মনখারাপের মতো!</p>
<p style="text-align: justify">মনা জানে না, ওর প্রিয় বন্ধু পলি, যার রক্ষণশীল একটি পরিবারে বিয়ে হয়েছিল, ওর আবারও একটি ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে।কিন্তু ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন চেয়েছিল এবার ছেলে হোক! ফলে ওকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত! এই মুহূর্তে পলি দাঁড়িয়ে আছে বাসার বারান্দায়। ওর দুচোখ ছাপানো অশ্রু-ই কি তবে জমছে আকাশে?</p>
<p style="text-align: justify">মনা এ-ও জানে না, পাখির ডানা পাওয়া ঝুমা-টা এখন নেশাগ্রস্ত স্বামীর সঙ-সার সামলাতে সামলাতে হাঁপিয়ে উঠেছে।তবে কি ওর দীর্ঘশ্বাস-ই মেঘেদের উড়িয়ে নিচ্ছে আকাশের উত্তরকোণে?</p>
<p style="text-align: justify">মনা এখনো টের পায়নি, বরকে নিয়ে যার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করছে তার মা নিঃশব্দে কাঁদছেন ওদের ঠিক পেছনের ঘরে শুয়ে! তার অন্তরের আহাজারি কি মেঘেদের কানে বোধন মন্ত্র জপছে?</p>
<p style="text-align: justify">মোনাজাত শেষে মনা ওপরের দিকে তাকাল।দেখল, পূর্ণ উঠে যাচ্ছে মহাশূন্যে! ও হাত নাড়ছে! প্রতিত্তোরে মনা-ও হাত নাড়ল।<br />
আকাশ তালুকদার কিছুটা বিরক্তি মেশানো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, তুমি ওপরের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছ কেন?</p>
<p style="text-align: justify">ওর খুব মনখারাপ! সেই মনখারাপ থেকেই বিরক্তির উৎপত্তি হয়েছে! মনখারাপ মনার কারণেই।ফুলশয্যার রাতে এই এতদূর সে এসেছে মনার রহস্যময় কথার জালে ফেঁসে। ভেবেছিল এখানে এসে সেই রহস্যের জট খুলে একটি দুর্দান্ত গল্প সে পেয়ে যাবে। এখন দেখছে রহস্য-টহস্য কিছু নয়, মনা এখানে এসেছে পূর্ণ-র কবরে দোয়া করতে! কে ছিল এই পূর্ণ? কোনো পীর-দরবেশ? ও জানে না!</p>
<p style="text-align: justify">মনা আকাশের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, এই মুহূর্ত থেকে তুমি পরিপূর্ণভাবে আমার!&#8230;. চলো, মেঘ জমেছে। যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে।</p>
<p style="text-align: justify">ওরা পূর্ণদের বাড়ি থেকে সরু পথটায় নামতেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হলো! কিন্তু ওরা ছুটে গেল না! আগের মতোই ধীরপায়ে হেঁটে ভিজতে ভিজতে গাড়ির দিকে এগিয়ে চলল।</p>
<p style="text-align: justify">বৃষ্টির কয়েকটি ফোঁটা মনার মুখমণ্ডল স্পর্শ করতেই ওর মনে হলো, এটা অসময়ের বৃষ্টি নয়, কারোর আশীর্বাদ যেন ঝরে পড়ছে ওদের ওপর! ও ওপরের দিকে তাকাল। নাহ্, কেউ নেই!</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ একরাশ শূন্যতা ওকে জাপটে ধরল এবং তক্ষুণি ওর কপালের ঠিক মাঝখানটায় একটা আদুরে স্পর্শ জেগে উঠল! সে জানে এই মায়ার পরশ ওর জ্যেঠিমা ময়নামতির! মুহূর্তেই শূন্যতা উধাও, আর মনার হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল প্রশান্তি! যার আবেশে ওর চোখ বুঁজে এল।<br />
তখনই হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল মনা, কিন্তু আলোভরা দুটো হাত চট করে ওকে ধরে ফেলল।</p>
<p style="text-align: justify"><em>/সমাপ্ত/</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/10/14/2903/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৭) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/09/15/2870/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/09/15/2870/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Sep 2023 05:21:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2870</guid>

					<description><![CDATA[না গো মা, আইজ এইখানে ত’ কোনো এক্সিডেন্ট হয় নাই! তুমারে কে কইল? মনা ছটফট করছে।আমাকে একজন ফোন দিয়েছিল কাকা।সে বলেছে, তার এক্সিডেন্ট হয়েছে এবং আজিজ মাস্টার চত্বরে আছে। না &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">না গো মা, আইজ এইখানে ত’ কোনো এক্সিডেন্ট হয় নাই! তুমারে কে কইল? মনা ছটফট করছে।আমাকে একজন ফোন দিয়েছিল কাকা।সে বলেছে, তার এক্সিডেন্ট হয়েছে এবং আজিজ মাস্টার চত্বরে আছে।<br />
না গো, আমি সকাল সাতটায় আইয়া দোকান খুলছি।কোনোকিছু হইলে আমি দেহুম না, কও?<br />
তাহলে ওগুলো ভাঙা কেন?<br />
ওগলা কাইলকা পুলিশ ভাইঙ্গা দিছে।সরকারি জাগায় অবৈধ দোকান দিছিল।ঐহানে ঘর তুলার পারমিশন নাই ত’।<br />
তাহলে কি অন্য কোথাও হয়েছে কাকা?<br />
হইবার পারে।তোমরা এককাম কর, হসপিটালে যাও।ঐখানে গেলেই খবর পাইবা।</p>
<p style="text-align: justify">ঠিকাছে কাকা। আপনাকে ধন্যবাদ।<br />
মনা বাইকে উঠতে উঠতে মেহেদীকে বলল, চল্, জেনারেল হসপিটালে খোঁজ নিই।<br />
সাথে সাথে বাইক আজিজ মাস্টার চত্বর থেকে ছুটল উত্তরদিকে।ওদের মাথার ওপরে ফাল্গুনের সূর্য।রোদ ততটা প্রখর নয় আর হাওয়ায় এখনো উত্তুরে টান আছে।তবু উত্তেজনায় দরদর করে ঘামছে মনা।<br />
রাতে তালুকদার বাড়ি থেকে ফেরার পর অনেকবার ফোনে পূরণকে ট্রাই করেছে সে।ফোন বন্ধ ছিল।সকাল দশটার আগে আগে পূরণ নিজেই কল দিয়েছিল মনাকে।ওর কাছ থেকে এক্সিডেন্টের খবর পেয়েই ছুটে এসেছে ওরা।</p>
<p style="text-align: justify">২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ওদের জানানো হলো, আজ এখন পর্যন্ত কোনো এক্সিডেন্টাল কেইস আসেনি।<br />
ব্যর্থ মনোরথে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসবার সময় আবারও ফোনে ট্রাই করল মনা।সেই একই অবস্থা, ফোন বন্ধ।বাইক পুলিশ সুপারের কার্যালয় পেরোনোর পরপরই ও মেহেদীকে বলল, ডিসি অফিসে ঢুকে যা।<br />
এবার কিছুটা রেগে গেল মেহেদী। ডিসি অফিসে ঢুকে কী করব? শুধু শুধু ঘুরছি।আরে বুদ্ধু, ও তো এই অফিসেই চাকরি করে।এখান থেকে নিশ্চয়ই কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যাবে।</p>
<p style="text-align: justify">জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা গেল পূরণ পাশের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় বসে।সংবাদ পড়বার মতো করে তথ্যটি বলল তথ্যকেন্দ্রের মেয়েটি, ভুল এক্সপ্রেশনে। যেন সবকিছুই স্বাভাবিক। মনার চোখে পড়লেও গায়ে মাখল না।ছুটল গন্তব্যে।</p>
<p style="text-align: justify">একটি রুম পার হতেই বারান্দায় একজনকে পেয়ে গেল মনা। পূরণের নাম বলতেই সামনের রুমটি দেখিয়ে দিল লোকটি। দ্রুত মেহেদীকে নিয়ে ও সেখানে ঢুকল।<br />
তিনটি চেয়ারে তিনজন বসে আছে। মনা দেখল কেউ-ই পূরণ নয়। ও কাঁপা গলায় বলল, পূরণ!<br />
আমি পূরণ। কী বলবেন, বলুন। একজন কিছুটা ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল।<br />
না মানে আমি যে পূরণকে&#8230;!<br />
আপু, ডিসি অফিসে পূরণ একজনই, আর সেটা আমি।<br />
কিন্তু আমি ওকে চিনি।মানে একবার জে-মার্টে দেখেছি।<br />
একবার দেখেছেন।&#8230;. কি আপু, কোনো সমস্যা? মানে ধান্ধাবাজি করে এখানে কোনো কাজ করে দেবে বলে টাকাপয়সা নিয়েছে?<br />
না না! আসলে পূরণের এক্সিডেন্ট&#8230;.।</p>
<p style="text-align: justify">আপনি কোন পূরণের কথা বলছেন জানি না।ডিসি অফিসে আমি একজনই পূরণ, আরফাতুল ইসলাম পূরণ। আর দেখতেই তো পাচ্ছেন আমার কোনো এক্সিডেন্ট-ফ্যাক্সিডেন্ট হয় নাই।<br />
এসব শুনে বারান্দার লোকটি ভেতরে ঢুকে বলল, স্যার, আপায় মনে হয় পূর্ণ স্যার রে খুঁজতে আসছেন।এক্সিডেন্টের কথা বলতেছেন শুনলেন না?<br />
হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়েছে আব্দুল ভাই।&#8230;.আপু, ওনার নাম ছিল পূর্ণ।&#8230;.পূর্ণ ভাইয়ের পুরা নামটা যেন কী ছিল, আব্দুল ভাই?<br />
স্যার, ওনার নাম ছিল মহিবুল হাসান পূর্ণ।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ আপু, কাছাকাছি নাম তো, আপনার মতো অনেকেই ভুল করত। আপনার কথা সত্য, উনি গত বছর এই এপ্রিল মাসেই এক্সিডেন্টে মারা গেছেন। অফিসে আসার পথে, এই আজিজ মাস্টার চত্বরেই, একটা ট্রাক ব্রেক ফেল করে ওনার পা দুইটা পিষে দিয়েছিল! হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকার পঙ্গুতে রেফার করেছিল ডাক্তার। কিন্তু শহর থেকে একটু দূরের একটা মোড়ে একটা বটগাছ আছে ওখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।</p>
<p style="text-align: justify">মনা বিস্ফারিত নয়নে পূরণ নামের লোকটার কথা শুনছিল।<br />
আরে আপু, আপনি ওভাবে কী দেখছেন? পূর্ণ ভাই&#8230;.।<br />
মনা দেখছে, লোকটার চেয়ারের পাশে সেই অ্যাডাল্ট ওয়াকার।<br />
তখনই লোকটার সিনিয়র একজন রুমে ঢুকলে সে চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে খুব কষ্টে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল।তার পা দুটো যেন দুমড়ে মুচড়ে যেতে চাইছে।</p>
<p style="text-align: justify">সাথে সাথে দুলে উঠল মনার পৃথিবী।আর সে টাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।<br />
আকাশ তালুকদার সকাল সকাল অফিসে চলে এসেছে।<br />
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত টানা ঘুমিয়ে সকালে বেশ ঝরঝরে লাগছিল ওর। তাই মিতা হককে বলেছিল, মা, শরীর ভালো লাগছে। আজ কোন বার?</p>
<p style="text-align: justify">ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুনে খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার।তুই সকালে কী খাবি বল।<br />
খুব খিদে পেয়েছে মা।যা করবে তাড়াতাড়ি করো।খেয়ে অফিসে যাব।<br />
অফিসে যাবি এই শরীরে!&#8230;. শুনতে পাচ্ছেন? কোথায় গেলেন আপনি?<br />
ছেলের অফিসের কথা শুনে মিতা হকের খুশি উবে গেছিল।গলা বাড়িয়ে স্বামীকে ডেকে এনে সব বলেছিলেন তিনি।অবশ্য আকাশের সাথে কথা বলে ওকে বাধা দেননি আতাউর রহমান তালুকদার।তিনি চাইছিলেন ছেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাক।তবে মিতা হক কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না।তার যুক্তি ছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে বাড়ানো ছুটি যেহেতু আরও মাসখানেক রয়ে গেছে তার অন্তত অর্ধেকটা বাড়িতে কাটিয়ে আকাশ শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তবেই অফিসে যোগ দিক।কিন্তু আকাশের বাবার যুক্তি ছিল, ছেলের মন চেয়েছে তো সে অফিসে যাক।পরিচিত সবার সাথে মিশুক, কথা বলুক আর যোগদানের আবেদনটাও করে আসুক।তাহলেও তো ও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসে গিয়ে খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি আকাশ। সহকর্মীদের নানাবিধ প্রশ্ন ওকে অতিষ্ট করে তুললে দশটার আগে আগেই বের হয়ে এসেছে। বেরিয়েই হঠাৎ মনে হয়েছে, তক্ষুণি তাকে আজিজ মাস্টার চত্বরে যেতে হবে। কেন, সেটা সে ঠিক জানে না! কিন্তু ওর কেবলই মনে হচ্ছিল ওখানে যেতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">চত্বরে এসে আকাশ ওর চাচাতো ভাই আসিফের বাইক থেকে হঠাৎই লাফিয়ে নেমে উদ্ভ্রান্তের মতো মেইন রোডে কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল! পথচারীরা হৈচৈ করে ছুটে গিয়ে সরিয়ে না নিলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।<br />
আসিফের মুখ শুকিয়ে গেছিল আতঙ্কে। সে টের পেয়েছিল, আকাশ আর তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই।</p>
<p style="text-align: justify">একটু পর কিছুটা ধাতস্থ হয়ে আকাশ অন্যজনের স্বরে ওকে বলেছিল, চল্, হাসপাতালে যেতে হবে।এক্ষুনি। আসিফ জানত বাধা দিলে ও বেপরোয়া হয়ে যাবে। অগত্যা হাসপাতালের দিকে বাইক ছুটিয়েছিল সে।<br />
ওকে সাথে নিয়ে আকাশ জেনারেল হাসপাতালের পুরো লেবার ওয়ার্ড, প্রত্যেকটি কেবিন তন্নতন্ন করে কাকে যেন খুঁজছিল! না পেয়ে, একসময় ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসেছিল।<br />
পুরো সময়টায় ক্রমাগত বিড়বিড় করছিল আকাশ। সেখান থেকে কেবল ডাক্তার, রক্ত, ইনজেকশন, ব্যান্ডেজ, ব্যথা এই শব্দগুলো বুঝতে পেরেছিল আসিফ।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর আকাশকে নিয়ে তারই নির্দেশে সে ঢাকামুখী হাইওয়ে ধরে পূর্বদিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ওরা আজিজ মাস্টার চত্বর পেরিয়ে টেনিস ক্লাবের কাছাকাছি যেতেই বঙ্গবন্ধু স্কুলের রাস্তা ধরে এসে চত্বরে নেমেছে মনা ও মেহেদী।</p>
<p style="text-align: justify">সেই মসজিদের পাশের মোড়ে আসিফকে গাড়ি থামাতে বলেছে আকাশ। তারপর গাড়ি থেকে নেমে খুবই বিমর্ষ চিত্তে পুরো মোড় ঘুরে ঘুরে সে কিছু একটা খুঁজেছে! টানা এবং একমনে। কারোর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, কারোর কোনো উৎকণ্ঠা আমলে না নিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">শেষ পর্যন্ত আকাশ থেমেছে সাড়ে ১২টার দিকে, যখন জোহরের আযান দেবে বলে মুয়াজ্জিন মাইকে ফুঁ দিয়েছে! তারপর আযান চলা অবস্থাতেই সে আসিফকে নিজের গলায় বলেছে, এই মোড়ে যেহেতু এসেছি, চল, খালামণির সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরে যাই।</p>
<p style="text-align: justify">মনা চোখ খুলল। দেখল, সে নিজের বিছানায় শুয়ে আছে, খান বাড়িতে। ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন ময়নামতি! একটু দূরেই চেয়ারে বসে আছেন বড়ো খান সাহেব! তাঁর মুখেও হালকা হাসির আভা ফুটে উঠেছে।<br />
তুমি এত ভয় পাও কেন মা?</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির প্রশ্ন শুনে ওর মনে পড়ল, ডিসি অফিসের পূরণ নামের লোকটির পাশে সেই ওয়াকার আর তার পলকা পা দেখে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল! পানির ঝাপটায় জ্ঞান ফিরলেও খুব ঘুম পাচ্ছিল বলে সে আসিফকে বলেছিল, আমি ঘুমাব।আমাকে মেসে দিয়ে আয়।</p>
<p style="text-align: justify">অবশ্য মনা এটা জানে না যে, আসিফ কতোটা ঝামেলা সয়ে ঘুমন্ত মনাকে মেসে পৌঁছে দিয়েছে এবং ওর বাবা-মাকেও কতোটা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে গাড়ি করে ওকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসতে।</p>
<p style="text-align: justify">মনাকে চিন্তিত দেখে ময়নামতি আবারও প্রশ্ন করলেন, তুমি এত কী চিন্তা করো? এত ভয় কেন পাও? তুমি তো খান বাড়ির মেয়ে, তোমার আরও স্ট্রং পার্সোনালিটি থাকা উচিত।তাই না মা?<br />
না মানে ও মানে পূরণ মানে পূর্ণ!<br />
আর মানে মানে করো না।ওকে ধরে নিয়ে এসেছি।এসো পূর্ণ।হাসতে হাসতে বললেন বড়ো খান সাহেব।</p>
<p style="text-align: justify">পূর্ণকে দেখা যাচ্ছে ওয়াকারে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে! ঠিক যেন বড়ো খান সাহেবই।শুধুমাত্র তারচেয়ে বয়সটা বেশ কম।<br />
ময়নামতি মনার চোখে পূর্ণ-র জন্য মুগ্ধতা দেখছেন।বললেন, ও তোমাকে খুব ভালোবাসত।সেই প্রথম যেদিন তোমাকে বিবিএ পরীক্ষা দিয়ে কলেজ থেকে বের হতে দেখেছিল সেদিন থেকেই।কিন্তু দ্বিতীয়বার তোমার সাথে দেখা হওয়ার আগেই ওর এক্সিডেন্ট হয়।তারপর থেকেই ও তোমাকে চোখে হারাত।আর খুঁজত নিজের অবয়ব। কিন্তু তা তো আর হবার নয়, তাই সুযোগ পেয়ে আকাশের শরীরে বসতি গড়েছিল।সেটাও তোমারই জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু আমাদের জগৎ-টা আলাদা, সেটা ও ভুলে গেছিল। ময়নামতির কথার মাঝখানে কথা বলে উঠলেন বড়ো খান সাহেব।ওখানে একক অস্তিত্বের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।সমষ্টিগত ধারণার মূল্যায়ন করা হয় এবং বাস্তবায়নও।ফলে ইতোমধ্যে ওকে দলছুট ঘোষণা করা হয়েছে।<br />
শুনে, চোখ দুটো ছলছল করে উঠল মনার।মানুষটা আমাকে সত্যিই খুব ভালোবাসত। এখনো কেমন মায়াভরা চোখে তাকিয়ে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">মনার এই ভাবনা ময়নামতিকেও ছুঁয়ে গেল।এখন একমাত্র তুমিই ওকে দলভুক্ত করবার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পার।নয়তো ওর মুক্তি নেই, ওকে দলছুট থেকেই এখানে ঘুরে বেড়াতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">মনা কিছুটা কাঁপা গলায় ওর জ্যেঠিমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি।আমি কীভাবে ওর মুক্তির পথ খুঁজে পাব জ্যেঠিমা?<br />
আমি মুক্তি চাই না! পূর্ণ-র কণ্ঠ থেকে ক্ষোভ ঝরে পড়ল!<br />
তক্ষুণি পাশের রুম থেকে রাহেলা খানমের গলা শোনা গেল।আমার মেয়েটা কী বলছে ওসব? কিছুই তো বুঝতে পারছি না।<br />
দ্রুত হাতে মনার চোখ ছুঁয়ে দিলেন ময়নামতি।</p>
<p style="text-align: justify">রাহেলা খানম এসে দেখলেন মনা ঘুমিয়ে আছে! দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। কী নিস্পাপ শিশুর মতো ঘুমাচ্ছে মেয়েটা! মাঝে মধ্যে কী হয় ওর? কেন হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যায়? ও কি কোনোকিছু দেখে ভয় পায়? নাকি এটা কোনো রোগ? কেন মনার বাবা আমাকে কিছু বলে না?<br />
প্রশ্নগুলো তার বুক ঠেলে আরও একটি দীর্ঘশ্বাস বের করে আনল।<br />
একটু পর তিনি বেরিয়ে গেলেন আর সাথে সাথে চোখ খুলল মনা! রুমের বাকি তিন সদস্য যে যার জায়গাতেই আছেন।</p>
<p style="text-align: justify">দেখ মা, তালুকদার বাড়ির ছেলেটিকে খুব ভুগিয়েছে পূর্ণ। হয়ত তোমার মায়া-মমতা আর যত্নই পারবে ওর কাছ থেকে পূর্ণ-র জন্য ক্ষমা এনে দিতে। ওর সাথে আমাদের সরাসরি কোনো যোগাযোগ সূত্র নেই। বললেন বড়ো খান সাহেব। তাঁর কণ্ঠ থেকে কি আকুতি ঝরে পড়ল? অনেকটা যেন তেমনই শোনা গেল।<br />
মনা ফিসফিস করে বলল, ও তো ভীরু আর বেশ স্বার্থপরও!<br />
কিন্তু তোমার চোখে ওর জন্য আগের সেই মায়া গতকালও দেখা গেছে। এবার কথা বললেন ময়নামতি।বর একটু ভীরু হলে তাকে মমতার বাঁধনে বেঁধে সংসার করার তৃপ্তি অন্যরকম, আর স্ট্রং পার্সোনালিটির হলে তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে নিঃস্ব হয়ে যাওয়াতেও পরম সুখ! আর স্বার্থপরতার কথা বলছ? সেই রাতে ও বেশ ভয় পেয়েছিল। হয়ত বেশকিছু দিন সেই ভয় থেকে সে বেরোতে পারেনি। তাই তোমার নামে বদনাম ছড়ানোর কোনো প্রতিবাদ করা ওর পক্ষে সম্ভব হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">মনা বেশ লজ্জা পেল। ওর জেঠিমার কথার ইঙ্গিত ও স্পষ্ট বুঝতে পাচ্ছে। শেষ বিকেলের একটু আলো জানালার গ্রিল গলে ওর মুখে পড়ছে।তাতে ওর মুখ আরও লাজুক রাঙা দেখাচ্ছে।সেদিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে পূর্ণ।<br />
লজ্জায় মনার লাল হয়ে ওঠা, দৃষ্টি এড়াল না ময়নামতি ও বড়ো খান সাহেবের।দুজনেই টের পেলেন, বিদায় ঘনিয়ে এসেছে।<br />
কিছুদিন আগে যে অতৃপ্তি নিয়ে চলে যেতে হয়েছিল ময়নামতির।আজ সুদে-আসলে মিটিয়ে নিতেই যেন প্রগাঢ় একটি চুমু এঁকে দিলেন মনার কপালে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff6600"><em>কাশফুলের নরম স্পর্শের স্নিগ্ধতা নিয়ে কয়েক সেকেন্ড চোখ বুঁজে রইল মনা।তারপর কপালের টিপ রাখবার জায়গাটায় সেই স্পর্শানুভূতি নিয়েই চোখ খুলে দেখল, রুমে কেউ নেই।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">বেশ ঝরঝরে লাগছে মনার।বিছানা থেকে নেমে সদ্য স্নান সেরে ওঠা পাখির মতো গা ঝেড়ে সে রাহেলা খানমের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। মা, ওই পাগলটা নাকি আজও ওর ছোটোখালার বাড়ির কাছের মোড়ে গিয়ে নাটক করে এসেছে? বাবাকে এক্ষুনি বলো ওকে আমার মমতার শিকলে বেঁধে ফেলবার ব্যবস্থা করতে এবং সেটা আজই। নয়তো দেখো, ময়না পাখি আবার ফুড়ুৎ! আজ কিন্তু পূর্ণিমা।</p>
<p style="text-align: justify">মেয়ের চোখে-মুখে দুষ্টুমি নাকি সিরিয়াস ভাব কিছুই বুঝলেন না রাহেলা খানম। ছুটে গেলেন স্বামীর কাছে ফোন করতে।<br />
রাতের ঘড়ি এগারোটা ছুঁই ছুঁই। মকবুল হোসেন খান ও রাহেলা খানম বারান্দায় বসে আছেন। বাইরে উথাল-পাতাল জোছনা। এমন জোছনা যে কেবল মনে পুলক জাগায় তা নয়, কখনো কখনো উদাসীনও করে! কখনো মন ভরিয়ে দেয় বিষাদে! এই যেমন এখন মনার বাবা-মার মনে বিষাদ! হুটহাট করে মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেল! এখন সে তালুকদার বাড়িতে।</p>
<p style="text-align: justify">ফাল্গুনের বিকেলটা যখন ছুটে যাচ্ছিল সন্ধ্যার দিকে তখনই রাহেলা খানমের ফোন পেয়েছিলেন মকবুল হোসেন খান।তিনি তখন ছিলেন উপজেলা হাসপাতালের পাশে তার ব্যবসায়িক অফিসে।ফোনের অপর প্রান্ত থেকে রাহেলা খানমের উৎকণ্ঠা মেশানো কথাগুলো শুনে তিনি স্তব্ধ হয়ে গেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে তখনই ডা. জব্বার এসেছিলেন সেখানে, সাথে আতাউর রহমান তালুকদার।</p>
<p style="text-align: justify">ডা. জব্বারের প্রস্তাব এবং তার স্বপক্ষে যুক্তি শুনে তিনি কেবল একটি প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি ডাক্তার হয়েও এমন কথা বলো?<br />
ডা. জব্বার একটু হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, সমাজ-সংসারে কেবল ডাক্তারি বিদ্যা-ই কাজে লাগে না বন্ধু, কখনো কখনো সীমানার বাইরেও দু&#8217;এক পা হেঁটে আসতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">আতাউর রহমান তালুকদার হঠাৎ তার হাত চেপে ধরে বলেছিলেন, তুমি আর অমত করো না। দেখ, বন্ধুত্বে সরি থাকতে নেই, তবে তুমি চাইলে আমি তা-ও বলতে রাজি।<br />
<span style="color: #ff6600"><strong>চলবে..</strong></span></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/09/15/2870/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৬) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 14 Aug 2023 05:53:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2826</guid>

					<description><![CDATA[রসিকতা ভেবে সাধুবাবার কথা গায়ে মাখেননি তিনি।আস্তানা ছেড়ে কিছুদূর এগোতেই তাঁর মনে হয়েছিল শহর ঘুরে ময়নামতির জন্য একটু কেনাকাটা করে গেলে মন্দ হয় না।তাছাড়া দই-চিড়ার দোকানটায় একবার না ঢুকলে মন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">রসিকতা ভেবে সাধুবাবার কথা গায়ে মাখেননি তিনি।আস্তানা ছেড়ে কিছুদূর এগোতেই তাঁর মনে হয়েছিল শহর ঘুরে ময়নামতির জন্য একটু কেনাকাটা করে গেলে মন্দ হয় না।তাছাড়া দই-চিড়ার দোকানটায় একবার না ঢুকলে মন কেমন করা থেকেই যাবে।</p>
<p style="text-align: justify">সেটা ছিল চৈত্র মাসের কোনো দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে আসা একটি সময়।খাঁ খাঁ রোদে ছোট্ট শহরটি খুব ঘামছিল।আলতা, শাড়ি, চুড়ি কিনে বড়ো খান সাহেব ঢুকেছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদের পারের ঝুপড়ি দোকানটায়। হালকা হাওয়ায় শরীর জুড়িয়ে নিতে নিতে দই-চিড়ার দুটো থালা সাবাড় করে ফেলেছিলেন তিনি।তারপর ব্রহ্মপুত্রের ক্ষীণ শরীরের দিকে তাকিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন।তখনই তাঁর চোখে পড়েছিল নদের ওপারের একটি বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক ধোঁয়া উড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">খেয়া নৌকায় নদ পার হয়ে তিনি যতক্ষণে বাড়িটিতে পৌঁছেছিলেন ততক্ষণে পুড়ে গেছিল কয়েকটি ঘর। অবশ্য তারপর আর কোনো ঘর পুড়েনি এবং দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সেদিন শেষ বিকেলের আলোয় পুড়ে যাওয়া ঘরের দিকে শূন্য দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে ছিলেন যে নারী তার দীর্ঘশ্বাস বড়ো কঠোরভাবে তাঁর কানে লেগেছিল। তার অস্ফুট হাহাকার সশব্দে তাঁর বুকে বেজে গেছিল। তার সাদা থানের শোক আর পুড়ে যাওয়া ঘরের কালো দুঃখ তাঁর হৃদয়জুড়ে হঠাৎ মেঘেদের ছোটাছুটির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর তাতে যে কালবৈশাখী ঝড় উঠে গেছিল তার ঝাপটা টের পেয়েছিলেন ময়নামতি।<br />
পরদিন সন্ধ্যার মুখে খান বাড়িতে একটি গোরুর গাড়ি থামলে তা থেকে নেমে অন্য অনেকের সাথে ময়নামতির পা ছুঁয়েও সালাম করেছিলেন সেই নারী। ময়নামতি তখন কোনো কথা বলেননি, এমনকি পরের তিনদিনও না।</p>
<p style="text-align: justify">তৃতীয়দিন দুপুরে নতুন বউয়ের বাবা তাকে নিতে এলে সবার নিদারুণ উপেক্ষা মুখ বুঁজে সহ্য করা সেই নারী খান বাড়ি ছেড়ে গেছিলেন চিরতরে।মনা যে ছেলেটিকে ভালোবাসে সে সেই নারীর বড়ো ছেলের বড়ো নাতি! সম্পর্কে সে-ও খান বাড়ির চতুর্থ প্রজন্ম, কেবল জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা অন্য কোথাও।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে মনা।তিনি পরম মমতায় ওকে আগলে রেখেছেন।তার মন আশ্চর্য স্নিগ্ধতায় ভরে গেছে।সুবহে সাদিকের সময় হয়ে আসছে দেখে বড়ো খান সাহেব ময়নামতিকে ইশারা করলেন। সাথে সাথে যেন সম্বিত ফিরে পেলেন ময়নামতি।মনাকে বুকে নিয়েই উড়ে নেমে এলেন ছাদ থেকে।তারপর আস্তে করে ওর বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটির পাশে ওকে শুইয়ে দিলেন।আর তক্ষুনি হাইস্কুল মসজিদের মুয়াজ্জিন মাইকে দুটো ফুঁ দিয়ে ঘোষণা করলেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>ছোট্ট একটি খেদ নিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন ময়নামতি, ইশ্, মেয়েটির কপালে একটি আদুরে চুমুও দেয়া হলো না!</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">মিতা হক শেষ পর্যন্ত আকাশকে রাজি করাতে পেরেছেন মেয়েটিকে দেখতে আসতে।বহু চেষ্টার পর।আকাশ ভালো চাকরি করে।শহরে একাই থাকে।তবু বিয়ে করতে কিংবা বিয়ের প্রস্তুতি নিতেও রাজি হচ্ছিল না কিছুতেই।মিতা হক বুঝতে পারেন ছেলের মনে একটি গভীর ক্ষত রয়ে গেছে।ময়না খানম মনা। তিনি অবশ্য ওদের পালিয়ে বিয়ে করে ফেলার ব্যাপারটায় আর্থিক ও মানসিক সমর্থন দিয়েছিলেন।কিন্তু ডাকাত দলের কবলে পড়ে সে রাতে যা ঘটেছিল তাতে আকাশ-ই আর মনার নাম মুখে নিতে চাইত না।যদিও দু-তিন মাসের মধ্যেই মনার অস্বাভাবিক আচরণের ব্যাপারটা সবাই ভুলে গেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">ওই ঘটনার বছর দুয়েক পর তিনি একবার চেষ্টা চালিয়েছিলেন আকাশের সাথে মনার বিয়েটা পারিবারিকভাবে দিতে, কিন্তু মকবুল হোসেন খান এমনকি রাহেলা খানমও চাননি।</p>
<p style="text-align: justify">মিতা হকের ছোটো বোন এই নতুন সম্মন্ধটি এনেছেন।তিনি থাকেন সেই মসজিদটির কাছাকাছি যেটার পাশের মোড়ে প্রতি শুক্রবার দাঁড়িয়ে থাকে পূরণ।একটি প্রিয়মুখের খোঁজে; নিজের কিংবা অন্য কারো! যা সে হারিয়ে ফেলেছে হঠাৎ, ওখানেই!</p>
<p style="text-align: justify">সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে সকাল সকাল ওকে নিয়ে বোনের বাড়িতে হাজির হলেন মিতা হক।উদ্দেশ্য বহুদিন পর ছোটো বোনের সাথে প্রাণখুলে আড্ডা দেওয়া, দুপুর পর্যন্ত।তারপর বিকেলের দিকে মেয়েটিকে দেখতে যাওয়া।আরও একটি উদ্দেশ্য আছে, যা কেবল তিনি আর তার স্বামী আতাউর রহমান তালুকদার জানেন।</p>
<p style="text-align: justify">মিতা হকের ছোটো বোনের বড়ো মেয়েটিও মাশাল্লাহ দেখতে শুনতে ভালো।এ বছরই কলেজে পা দিয়েছে।তিনি মনে মনে ভেবে রেখেছেন, সুযোগ বুঝে বোন ও বোন জামাইকে প্রস্তাবটা দেবেন।এর গন্ধ পেয়েই তালুকদার সাহেব এ যাত্রায় তার সঙ্গী হননি! তার সাফ কথা, আত্মীয়র সাথে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের চেয়ে জঙ্গলে চলে যাব।</p>
<p style="text-align: justify">মুয়াজ্জিনের ডাক কানে যেতেই মসজিদের পথে পা বাড়াল আকাশ। আসলে সে কোনো একটা উপায়ে তার ছোটো খালার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিল।এই বাড়ির আজকের পরিবেশ তার কাছে খুব একটা স্বস্তিকর লাগছে না।সবাই কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। ফলে জুম্মার আযান ওর জন্য স্বস্তি বয়ে আনল, আর ও সাথে সাথে বেরিয়ে পড়ল।<br />
প্রকৃতি হেমন্তে পা দিয়েছে টের পাওয়া যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">দিগন্ত জোড়া ধানখেতে শীষ ফুটছে।আর মৃদু হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে তার ঘ্রাণ।শরতের অভ্যেস মেনে ঘন নীল ডানা মেলে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে আকাশ।সূর্যবাবু ঢালছে গা-সওয়া রোদ্দুর।তা-ই গায়ে মাখতে মাখতে দু-তিন জনের পরই মসজিদে ঢুকল আকাশ তালুকদার।পূরণের একটু দেরি হয়ে গেছে।আজ ব্রহ্মপুত্রের ওপার থেকে ধানখেতের আলপথে এসেছে সে।দেখেছে, একসপ্তাহের ব্যবধানেই অনেক ধানখেতে শুরু হয়েছে শীষ ফোটানোর উৎসব। আর সেই উৎসবের আমেজে বিভোর ছিল সে।ফলে যতক্ষণে ও বটতলায় পৌঁছেছে ততক্ষণে জনা পাঁচেক মুসল্লি মসজিদে ঢুকে পড়েছেন।অবশ্য সে কারণে ওকে খুব একটা দুঃখিত দেখাচ্ছে না।এখনো শত শত মানুষের মসজিদে আসা বাকি।বেশিরভাগ মানুষের ব্যর্থতা আসে তাড়াতাড়ি আর সফলতা আসতে সময় লাগে ঢেরবেশি!</p>
<p style="text-align: justify">অন্যান্য দিনের মতোই আজও নামাজ শুরু হতে চললেও সফলতার মুখ দেখতে পেল না পূরণ।গিয়ে বসল বটগাছটির পূর্বমুখী সেই ডালে।এখান থেকে মসজিদের ভেতরের কিছুটা অংশ চোখে পড়ে।আনমনে সেদিকে তাকাতেই একটি মুখ যেন জ্বলজ্বল করে উঠে পরক্ষণেই হারিয়ে গেল ওর চোখ থেকে।একটি ক্ষীণ আশায় সে আরও কয়েকবার ওদিকে তাকালেও আর একবারও মুখটি দেখতে পেল না।</p>
<p style="text-align: justify">আবার কোনোকিছু ধ্যানজ্ঞানে পরিণত হলে চরম দুর্ভাগাও হয়ত একসময় সফল হবার কোনো পথ খুঁজে পায়, হোক না সে-পথ দুর্গম।<br />
নামাজ শেষে মুসল্লিগণ বেরিয়ে যেতে শুরু করলে পূরণ যেন তেমনি একটি দুর্গম পথের সন্ধান পেল এবং একটি মুহূর্ত অপেক্ষা না করে সে ছুটে গেল সেদিকেই।</p>
<p style="text-align: justify">মসজিদ থেকে বেরিয়ে আকাশ তালুকদার সবেমাত্র মোড়ে দাঁড়িয়েছে, তক্ষুনি ছুটে গিয়ে ওর শরীরের ভেতরে ঢুকে গেল পূরণ।আর আকাশের সমস্ত অস্তিত্বে দ্রুত নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ছড়িয়ে পড়ল।তার ফলে প্রচণ্ড আতঙ্কে এবং যন্ত্রণায় পিচঢালা মোড়ে পড়ে গিয়ে ছটফট করতে লাগল আকাশ।ওর চোখ দুটো জবা ফুলের মতো হয়ে গেল এবং যেন ছিটকে বেরিয়ে যেতে চাইল।ওর হাত-পায়ের খিঁচুনি দেখে মুহূর্তেই জড়ো হওয়া একদল লোকের অনেকেই বলাবলি করতে লাগল, মনে হচ্ছে মৃগী রোগী।</p>
<p style="text-align: justify">হ হ, মিরগিঅলা মানুষই!<br />
ঐ, কেউ চামড়ার জুতা ধরো হের নাকে।<br />
হ হ, চামড়ার জুতা হুঙ্গাও! দেখবা অক্ষণ ভালা হয়া যাইব।<br />
একজন খুব উৎসাহ নিয়ে নতুন কেনা নিজের চামড়ার জুতা খুলে দুবার আকাশের নাকে ছুঁয়ে দিল! কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল জুতাটি।তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে একজন ধমকে উঠল, অ্যাই সরে যাও, ওগুলো করা যাবে না।ওসব কুসংস্কার।আরে, এ তো আকাশ! বড়ো ভাইয়ের ভায়রার ছেলে।<br />
মিনিট দুয়েক পর আকাশের অবস্থা আপনাআপনি স্বাভাবিক হয়ে এলো এবং প্রচণ্ড ক্লান্তিতে সে ওখানেই বসে রইল কিছুক্ষণ।</p>
<p style="text-align: justify">তারপরের তিনটি মাস খুবই এলোপাতাড়ি ছুটোছুটির মধ্যে কাটল আকাশদের।এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার; আজ এখানে তো কাল ওখানে! এমনকি ওঝা কবিরাজও বাদ গেল না! কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া গেল না! আকাশ তেমনই রয়ে গেল, দ্বৈত সত্তার ঘোরের ভেতর।একটি তার নিজের এবং অন্যটি পূরণের।</p>
<p style="text-align: justify">টানা তিন মাস ধরেই আকাশের হালকা জ্বর ও বমিবমি ভাব। বেশিরভাগ সময়ই ঠিক করে খেতে পারছে না, আবার কখনো কখনো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলছে! কখনো নিজের স্বরে কথা বলছে, কখনো অন্যের স্বরে। সেই অন্যস্বরটি আতাউর রহমান তালুকদারের চেনা চেনা লাগছে, যেন বহুবার শুনেছেন, কিন্তু ঠিকঠাক চিনতে পাচ্ছেন না।</p>
<p style="text-align: justify">এই পুরো সময়টায় খুবই ব্যস্ত ছিল মনা। এমবিএর প্রস্তুতি, তারপর পরীক্ষা। সব শেষ করে অনেকটা হালকা হয়ে সে যেদিন খান বাড়িতে ফিরল সেদিনই জানতে পারল আকাশের অমন অদ্ভুত অসুখের কথা! মকবুল হোসেন খান, রাহেলা খানম কিংবা মেহেদী, কেউ-ই ওকে কিচ্ছু বলেনি।</p>
<p style="text-align: justify">কোথায় যেন একটা টান লাগল ওর।পুরনো-পরিত্যক্ত ঘর হলেও যেমন মন কখনো কখনো আনচান করে একবার উঁকি দিয়ে দেখতে মনার যেন তেমনই বোধ হলো।</p>
<p style="text-align: justify">সে নিজেকে একটু সামলে নিল।তারপর শেষ বিকেলে রাহেলা খানমকে ডেকে ওর রুমে নিয়ে বলল, মা, আমি তো এখন সব বুঝি, এমবিএ শেষ করে ফেললাম। ওখানে আমার যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল।তোমরা খুব-একটা হস্তক্ষেপ করোনি।বাড়িতেও নিশ্চয়ই আমি তেমন স্বাধীনতা পাব এখন, বল? ততটা ম্যাচিউরড আমি নিশ্চয়ই হয়েছি?</p>
<p style="text-align: justify">রাহেলা খানম মেয়ের ইঙ্গিত বুঝতে পেরে বললেন, তবু বাবা-মা মরার আগ পর্যন্ত ছেলে-মেয়েদের সঠিক দিশা দিতে চেষ্টা করে। করে না মা?<br />
আমি তোমাদের অধিকার খর্ব করবার কথা বলিনি মা, আমার স্বাধীনতার কথা বলছি। প্লিজ।<br />
ঠিকাছে, তুই আসলে কী বলতে চাচ্ছিস, সেটা বল।</p>
<p style="text-align: justify">মনা ওর মা-র কাছাকাছি হয়ে আবেগঘন গলায় বলল, আকাশ এতদিন ধরে এতটা অসুস্থ তোমরা কেউ আমাকে বলোনি! জানি ওর ভুল ছিল। ও আর ওর বন্ধুরা যা করেছিল সবই ভুল।তবুও।ওকে তো তুমি খুবই পছন্দ করতে।ওর অসুখের কথা শুনে তোমার নিশ্চয়ই খুব খারাপ লেগেছে? তাহলে আমি কি করে সব একেবারে ভুলে যাই মা? আর তুমি অন্তত আমাকে জানাতে পারতে ও অসুস্থ! আমি না হয়&#8230;. যাক সেসব। মেহেদীকে নিয়ে আমি ওকে একবার দেখে আসি মা?</p>
<p style="text-align: justify">মেয়ের অভিমান ভরা কথা শুনে ভেতরে ভেতরে কিছুটা চমকালেন রাহেলা খানম।মনে মনে বললেন, কিছু অতীত বড়ো নির্মম হয়।আর বর্তমানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো দৃঢ় মনোবল তোর মা-র অবশিষ্ট নেই মা! মাফ করিস।</p>
<p style="text-align: justify">মুখে বললেন, মিঠা রে তিতা বানাইতে একটু-ই যথেষ্ট কিন্তু তিতা রে মিঠা বানাইতে অনেক অনেক লাগে মা! তালুকদার বাড়ির সাথে খান বাড়ির সম্পর্ক এখন বড্ড তিতা। তবে তোরে আটকে রাখব সেই সাধ্য আমার নাই। কিন্তু মেহেদী রে না, সন্ধ্যার পর তুই ফুলিরে নিয়ে চট করে একবার ঘুরে আসিস। দরকার হলে একটা রিকশা<br />
নিয়ে যাস।</p>
<p style="text-align: justify">মনা ওর মা-কে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা!<br />
ফাল্গুনী পূর্ণিমার আগের সন্ধ্যা বলে প্রায় গোলাকার চাঁদটি পূর্বাকাশে নিজের মুখ অনেকখানি তুলে ধরে তাকিয়ে দেখল, ফুলিকে নিয়ে মনা রিকশায় উঠে বসল।গন্তব্য কিলোমিটার খানেক উত্তরের তালুকদার বাড়ি।</p>
<p style="text-align: justify">আলোর একটি মন্দ বৈশিষ্ট্য হলো, আলোতে দাঁড়িয়ে পাশের অন্ধকারের কিছুই দেখা যায় না। ফলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মেহেদী চেষ্টা করেও দেখতে পেল না যে, হুড তোলা রিকশায় করে কে বেরিয়ে গেল তাদের বাড়ি থেকে। আবার অন্ধকারের একটি ভালো বৈশিষ্ট্য হলো, তার ভেতরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায় আলোর সবকিছু। মনা দেখতে পেল, তার ছোটোভাই মেহেদী বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে!</p>
<p style="text-align: justify">ফুলি-ও দেখতে পেল। সে খলবল করে বলল, আপা, মেহেদী বাই ত&#8217; সিগ্রেট খাইতাছে!<br />
মনা ঠোঁটে আঙুল চেপে ফিসফিস করে বলল, চুপ, কোনো কথা বলিস না!<br />
আসলে ওর মনে অন্যকিছু চলছে। সে বিকেল থেকে পূরণের সাথে ফোনে কথা বলতে চাইছে, কিন্তু ফোন আনরিচেবল বলছে।সবসময় এমনই হয়ে আসছে! ওর সাথে এই বছর খানেকের সম্পর্কে সে নিজ থেকে ফোন করে একবারও ওকে পায়নি! অবশ্য খুব বেশিবার ও আগে ফোন করতে সুযোগ পায়নি।যা দুচারবার ফোন করেছে, বন্ধ পেয়েছে।একদিন তো মুখ ফসকে বলেই ফেলেছিল, যখনই তোমাকে কল করব ভাবি তখনই তুমি কল করো! কীভাবে? তুমি অশরীরী নও তো?<br />
ঠা ঠা হাসিতে সেদিন মনার প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়েছিল পূরণ।</p>
<p style="text-align: justify">পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ভেবেও মনা কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি প্রশ্নটির!<br />
বেশ কয়েক বছর পর তালুকদার বাড়ির সীমানায় পা রাখল<br />
মনা। বড়ো পুকুর, তারপর বৈঠকঘর, তারপর উঠোন পেরিয়ে ওরা আকাশদের ঘরের সামনে দাঁড়াল।</p>
<p style="text-align: justify">আতাউর রহমান তালুকদার বারান্দায় বসে আছেন। তার শূন্য দৃষ্টি উঠোনেই নিবদ্ধ।দুটো লম্বা ছায়া সেখানে এসে স্থির হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে?<br />
আমি আঙ্কেল।মাথা থেকে ওড়না নামিয়ে ফেলল মনা।<br />
তালুকদার সাহেব চিনতে না পেরে যখন আবারও ওদের পরিচয় জানতে চাইবেন তখনই ঘরের ভেতর থেকে আকাশ অন্যজনের স্বরে ডাকল, মনা, ভেতরে এসো।<br />
চমকে উঠল মনা, পূরণ এখানে!<br />
আরও একবার আকাশের এই কণ্ঠস্বর খুব চেনা চেনা লাগছে তালুকদার সাহেবের।অথচ কিছুতেই মনে করতে পারছেন না, কোথায় শুনেছেন!<br />
তিনি বেশ অবাক হলেন, মনা এ বাড়িতে! দেখলেন, সে স্বচ্ছন্দে ঘরের ভেতরে ঢুকল! তক্ষুনি তার মনে পড়ল আকাশের এই কণ্ঠস্বর হুবহু মনার জ্যেঠামশাই মানে বড়ো খান সাহেবের মতো! কৈশোরে তিনি বহুবার তাঁর ভরাট কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু এত বছর পর আকাশ কী করে তাঁর কণ্ঠে কথা বলছে? নিজের মনে উদয় হওয়া প্রশ্নটি তাকে ভাবিয়ে তুলল।</p>
<p style="text-align: justify">বারান্দায় ওভাবেই বসে বসে ভাবছিলেন আতাউর রহমান তালুকদার। হঠাৎই একটা অজানা শঙ্কায় কেঁপে উঠলেন তিনি! তারপর মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ঘরের ভেতরে ঢুকলেন।<br />
মিতা হকের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মনা করুণ চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। কী হাল হয়েছে ওর! সেই ঝাঁকড়া চুলের যুবকের মাথায় এখন ছোটো ছোটো চুল! চোখ কোটরগত আর চোয়াল দেবে গেছে!<br />
মনাকে সামনে পেয়ে ক্রমাগত এটা-সেটা বলে যাচ্ছে আকাশ। কখনো নিজের গলায় আবার কখনো বড়ো খান সাহেবের গলায়!<br />
তালুকদার সাহেব মনা-র সামনে এসে হঠাৎ হাতজোড় করে কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, আমার ছেলেটাকে তুমি মাফ করে দাও মা! ওকে তুমি বাঁচাও! আমি জানি একমাত্র তুমি-ই ওকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবে!</p>
<p style="text-align: justify">মনা খুবই বিস্মিত হলো! এসব কি বলছেন আঙ্কেল?&#8230;. আপনি হাতজোড় করছেন কেন?&#8230;. ছি! আঙ্কেল, আপনি আমাকে পাপী বানাচ্ছেন!<br />
কী করছেন আপনি! মিতা হক স্বামীকে থামানোর চেষ্টা করলেন।<br />
না না, মনা মা শোনো, এই যে আকাশ অন্য একজনের গলায় কথা বলে, স্বভাব বিরুদ্ধ আচরণ করে, এ-সব হুবহু বড়ো খান দাদার মতো! আমি ছোটোবেলায় তাঁকে দেখেছি। ঠিক এভাবেই কথা বলতেন তিনি!<br />
কি বলছেন আঙ্কেল? আশ্চর্য! বিস্ফারিত নয়নে তালুকদার সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছে মনা।</p>
<p style="text-align: justify">কি বলছেন? এ-সব সত্যি? মিতা হক-ও ভীষণ অবাক!<br />
তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে চোখ ছানাবড়া করে ফুলি বিড়বিড় করছে, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমিন!<br />
আকাশের বিছানা থেকে অদ্ভুত শব্দ ভেসে এলে সবাই একসাথে তাকাল সেদিকে। সে ঘুমিয়ে পড়েছে এবং নাক ডাকছে!<br />
বিস্ময়ের ঘোরে মনা এক পা এগিয়ে ওকে আস্তে করে ডাকল, আকাশ, আকাশ।</p>
<p style="text-align: justify">কোনো উত্তর না পেয়ে এবার সে ডাকল, পূরণ, পূরণ!<br />
কোনো উত্তর নয়, একটানা নাক ডাকবার শব্দ-ই কেবল ভেসে আসছে।<br />
মিতা হক একটু এগিয়ে মনার বাহু স্পর্শ করে জিজ্ঞেস করলেন, মনা, পূরণ কে? তুমি কাকে ডাকছ?<br />
মনার ঘোর কেটে গেল। কিন্তু মিতা হকের প্রশ্নের উত্তর দেবার মতো কোনো কথা সে খুঁজে পেল না!</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৫) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Jun 2023 13:52:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2729</guid>

					<description><![CDATA[ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৫): ছাদে বসে গল্পগুজব করবার জন্য ইংরেজি ইউ আকৃতির একটি বেদী আছে।তার-ই একপ্রান্তে বসে আছেন মানুষটা,পাশে ভাঁজ করে রাখা ওয়াকার। মনা তার কাছাকাছি যেতেই তিনি গমগমে গলায় প্রশ্ন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৫):</strong> ছাদে বসে গল্পগুজব করবার জন্য ইংরেজি ইউ আকৃতির একটি বেদী আছে।তার-ই একপ্রান্তে বসে আছেন মানুষটা,পাশে ভাঁজ করে রাখা ওয়াকার।</p>
<p style="text-align: justify">মনা তার কাছাকাছি যেতেই তিনি গমগমে গলায় প্রশ্ন করলেন, ভয় পেয়েছিলে কেন?<br />
মনা টের পেল মানুষটা পূরণ নয়।সে বড় খান সাহেবের সামনে দাঁড়িয়ে আছে! যাকে দেখে যমুনাপারের সব মানুষ ভয় পেতেন, সম্মান করতেন। তিনি খান বাড়ির বাইরের উঠোনে বের হলে ছোট বড় কোনো মেয়ে মানুষেরই সাহস হতো না বাইরে থাকে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তো দূরের কথা! এসবই সে ওর বাবা-দাদার কাছ থেকে শুনেছে।অথচ সেই মানুষটির সামনে সে নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং আত্মবিশ্বাসী গলায় বলছে, ভয় পাইনি তো, মাথাটা হঠাৎ ঘুরে গেছিল!<br />
হুম, ভাগ্যিস&#8230;!</p>
<p style="text-align: justify">আমার বহুদিনের ইচ্ছে আপনাকে সামনাসামনি দেখবার, জ্যেঠিমাকেও।<br />
সে তো তোমার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে।<br />
মনা পেছন ফিরে দেখল, ময়নামতি দাঁড়িয়ে আছেন আর চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠেছে তার সৌন্দর্যে! ও মুগ্ধ হয়ে গেল এবং কয়েক পা এগিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল নির্ভয়ে! তিনিও পরম মমতায় খান বাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের এই গুণবতী মেয়েটিকে বুকে টেনে নিলেন।তিনি জানেন মেয়েটি দেখতে অনেকটা তারই মতো।তাই তো মনার প্রতি অন্যরকম একটা টান তিনি অনুভব করেন।আর মেয়েটির বড়ো বড় বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে যান।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতি ওকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ছেলেটিকে ভালোবাস?<br />
কোনো উত্তর না পেয়ে তাকিয়ে দেখলেন মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়েছে! ওকে বুকে নিয়েই তিনি স্বামীর পাশে বসলেন ময়নামতি।<br />
বড় খান সাহেব অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ চোখে মনাকে দেখছেন।আর ময়নামতি অতীতের পাতায় জমা হওয়া ধুলো ঝাড়তে লাগলেন।</p>
<p style="text-align: justify">খুব ছোটোবেলায় মনা একবার ওর মা-র পেছন থেকে পুকুরে পড়ে গেছিল।ফুটফুটে ছোট্ট যে মেয়েটা রাহেলা খানমকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বলেছিল, ‘আন্নি, মনা পলে গেতে’ সে খান বাড়ির বা তার আশেপাশের বাড়ির কারোর মেয়ে ছিল না! একটু পরই আর ওকে খুঁজে পায়নি কেউ!</p>
<p style="text-align: justify">প্রাইমারিতে পড়বার সময় একবার একটি দ্রুতগতির বাইক মনাকে প্রায় চাপা দিয়ে ফেলেছিল।লোকটার বাঁ পায়ের ভেতরে এখনো পঙ্গু হাসপাতালের রড রয়ে গেছে! অবশ্য তার মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হওয়া লোকটিকে মকবুল হোসেন খান দশ কাঠা ধানী জমি লিখে দিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">সে রাতে ডাকাতদের কবলে পড়া মনাদের নৌকায় যখন ডাকাত দলের সর্দার বলেছিল, ‘খুন করে ফেলবে’ তখন মনা যে আগুন চোখে তাকিয়ে ডাকাতদের নাস্তানাবুদ করেছিল, তার উৎস কী? তারপরই তো প্রচণ্ড ভয়ে আকাশের মাথা থেকে বিয়ের ভূত পালিয়ে গেছিল।আর গ্রামে ফিরে আকাশের বন্ধুরা রটিয়েছিল মনার সাথে জ্বিন-ভূত আছে! তবে একটু বদনাম ছড়ানোর মাধ্যমে হলেও ওকে যে সমূহ সর্বনাশ থেকে রক্ষা করা গেছিল তাতে স্বস্তি পেয়েছিলেন ময়নামতি ও বড় খান সাহেব।</p>
<p style="text-align: justify">মাত্র দ্বাদশে পড়ুয়া খান বাড়ির একটি মেয়ের পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করা, সর্বনাশই! আর বদনামের রং, সেতো মাসখানেকের মধ্যেই ফিকে হতে শুরু করেছিল মনাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও পড়াশোনা করতে দেখে।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির পাশে বসে প্রসন্ন দৃষ্টি রেখে মনাকে দেখছেন বড়ো খান সাহেব।তিনি ভাবছেন ছেলেটির কথা, যাকে মনা ভালোবাসে বলে মনে হচ্ছে তাদের। তারই রক্ত! মনার মতো ওর শরীরেও বইছে খান বংশের রক্ত।</p>
<p style="text-align: justify">তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল।বড় খান সাহেব শহরের কাছাকাছি পশ্চিমদিকের একটি গ্রামে এসেছিলেন একজন সাধু-সন্ন্যাসীর দর্শনে।ওই ধরনের মানুষের প্রতি তার আলাদা একটা টান ছিল।শুনেছিলেন সাধুবাবা ছদ্মবেশী নন, প্রকৃতপক্ষেই সংসার ত্যাগী মানুষ।তিনি তখন আস্তানা গেড়েছিলেন সেই গ্রামের বড় দীঘির পারে।</p>
<p style="text-align: justify">খান সাহেব যখন সেখানে পৌঁছেছিলেন তখন সাধুবাবা মাছ ধরছিলেন দীঘির পানিতে খালি হাত ডুবিয়ে! তাকে পারে উঠতে দেখে বলেছিলেন, ব্যাটা, তুইও আমারই লাইনের লোক।তোর সাথে জমবে ভালো।আরও ভালো হবে তুই যদি তোর ছায়াসঙ্গীকে বাইরে রেখে আস্তানায় ঢুকিস।<br />
তারপরের দুটো দিন সাধুসঙ্গ উপভোগ করে বিদায় বেলায় বড় খান সাহেব শুনেছিলেন, তোর ফিরতি পথ/রূপবতীর আগুন লেগে/পুড়বে মনোরথ!/হায় হায়!পুড়ল মনোরথ।<br />
<em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৪) ॥ মায়াবন বিহারিণী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/03/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-7/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/03/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-7/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 03 Jun 2023 06:44:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2697</guid>

					<description><![CDATA[হা হা হা। শব্দ করেই হাসল রুকন।মনা কিছুটা বিব্রতবোধ করছে। কারণ পাশের গোল কুঁড়েঘরগুলো থেকে অনেকেই তাকিয়ে আছে।সে নিজেকে মনে মনে ধমকে দিল, ‘কেন তুই ও মোর ময়না গো’ গানটার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">হা হা হা। শব্দ করেই হাসল রুকন।মনা কিছুটা বিব্রতবোধ করছে। কারণ পাশের গোল কুঁড়েঘরগুলো থেকে অনেকেই তাকিয়ে আছে।সে নিজেকে মনে মনে ধমকে দিল, ‘কেন তুই ও মোর ময়না গো’ গানটার কথা ওকে বলতে গেলি? গাধা!</p>
<p style="text-align: justify">আর তক্ষুণি ওর মনে পড়ে গেল পূরণ দেখতে অবিকল ময়নামতির স্বামী মানে বড়ো খান সাহেবের মতো! ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনের পরপরই ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা তাঁর সাদাকালো ছবি সে দেখেছে তাদের পারিবারিক অ্যালবামে।মনা অবাক চোখে পূরণের দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে, দুটো মানুষের মধ্যে এত মিল! তা-ও আবার অর্ধশত বছর আগে-পরের দুটো মানুষের মধ্যে! আচ্ছা, এই মিলের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই তো?</p>
<p style="text-align: justify">ওয়েটার ছেলেটা লাচ্ছি এনে টেবিলে দিয়ে গেল।পূরণকে কিছুটা বিচলিত দেখাচ্ছে। সে বারবার পশ্চিমাকাশে তাকিয়ে কী যেন দেখছে।ব্যাপারটা মনার দৃষ্টি না এড়ালেও সে কিছু বলল না। সে ভাবছে দুটো মানুষের মধ্যে মিলের কথা।এখানকার লাচ্ছির স্বাদ এবং সেই বিষয়ে মজার একটি গল্প বলছে অন্ধ রুকন। সে বুঝতে পারছে না মনার এতটুকুও মনোযোগ নেই ওর গল্পে। তবু সে তাড়িয়ে তাড়িয়ে লাচ্ছির স্বাদ আস্বাদন করছে আর বকে যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">পশ্চিমাকাশের গা ঘষটে ঘষটে জেলা পরিষদ ভবন এবং বঙ্গবন্ধু স্কুলের ফাঁক গলে নেমে যাচ্ছে লাল সূর্যটা।পূরণের দুশ্চিন্তার কারণ ওই সূর্যটাই। সময় যে আর খুব বেশি নেই!</p>
<p style="text-align: justify">আরেকটা জিনিসে বারবার দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে মনার।পূরণ ও রুকনের চেয়ারের ফাঁকে ভাঁজ করা একটি অ্যাডাল্ট ওয়াকার দাঁড় করানো! ওটা কার? কেউ ভুল করে রেখে গেছে? তা কি করে হয়? কেউ তো আর ভুল করে তার ওয়াকার রেখে দিব্যি হেঁটে চলে যাবে না! তাহলে ওটা ওখানে কেন? সে রুকনকে ভালো করে চেনে।ও অন্ধ, কিন্তু ওর পায়ে তো কোনো সমস্যা নেই।</p>
<p style="text-align: justify">মনাকে বারবার ওয়াকারের দিকে তাকাতে দেখে দ্রুত বিদায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনল পূরণ।বলল, মাগরিবের সময় হয়ে আসছে, এবার তো উঠতে হয় পাখি।<br />
মনা-ও তাতে সায় দিল।আচ্ছা জনাব, চলুন উঠি।<br />
রুকন হঠাৎ বলে ফেলল, ঠিকাছে এগোও, আমি আরও কিছুক্ষণ বসি।<br />
মনা দাঁড়িয়ে গেছে এবং বিস্ফারিত চোখে দেখছে পূরণ টেবিলে ভর দিয়ে খুব কষ্টে উঠে দাঁড়াচ্ছে! সে খুব সাবধানে দুই চেয়ারের মাঝখান থেকে ওয়াকারটি বের করল, আর ওর পা দুটো যেন দুমড়ে মুচড়ে যেতে চাইছে! সাথে সাথে দুলে উঠল মনার পৃথিবী এবং টাল সামলাতে না পেরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল!</p>
<p style="text-align: justify">মুহূর্তেই শোরগোল পড়ে গেল জে-মার্টের উঠোনে।আশেপাশের সব গোল কুঁড়েঘর থেকে একে একে সবাই জড়ো হলো কাঁঠালতলায়।ছুটে এল কয়েকজন ওয়েটার এবং ম্যানেজার।</p>
<p style="text-align: justify">রুকন ক্রমাগত প্রশ্ন করছে, কী হয়েছে? কে পড়ে গেছে? হ্যালো ভাই, কেউ বলবেন কী হয়েছে?<br />
কেউ ওর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না।ম্যানেজার উল্টো ওকেই ধমকের সুরে প্রশ্ন করল, আপনার সামনে মেয়েটা কীভাবে পড়ে গেল?<br />
রুকন তোতলানো শুরু করল, কী কী কী ব-অ-লেন এইসব!<br />
একজন ওয়েটার এগিয়ে এসে ওকে সেভ করল, ওনার কোনো দোষ নেই স্যার।আমি ওখান থেকে দেখেছি ম্যাডাম একা একাই পড়ে গেছেন। রুকন ভাই ওখানেই বসে ছিলেন।ততক্ষণে মনার মেসের তিনজন মেয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করছে ওর জ্ঞান ফিরিয়ে আনবার জন্য।মনাকে না জানিয়ে ওরা চুপিচুপি এখানে এসেছিল ওর স্বপ্নপুরুষকে আড়াল থেকে দেখে চলে যেতে! ওরা যখনই জে-মার্টের উঠোনে নেমেছে তখনই মনা ধপাস! তক্ষুণি তিনজন ছুটে এসেছে মনার কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">চোখেমুখে পানির ঝাপটা দিলে জ্ঞান ফিরল মনার। চোখ খুলে সে বোকার মতো এদিক সেদিক তাকিয়ে ওর মেসের মেয়েটার কোল থেকে মাথা তুলে বসল।তারপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্ন করল, উনি কোথায়? বড়ো খান সাহেব?<br />
কে বড়ো খান সাহেব?<br />
তুমি কার কথা জিজ্ঞেস করছ আপু?<br />
এখানে রুকন ভাই ছাড়া তো আর কেউ ছিলেন না!<br />
খলবল করে কথাগুলো বলল মনার মেসের মেয়েরা।আরও একবার চোখ ঘুরিয়ে জড়ো হওয়া সবাইকে দেখে মনা ক্লান্ত গলায় বলল, আমাকে বাসায় নিয়ে চল্।খুব ঘুম পাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">কথাগুলো বলে একটা মেয়ের কাঁধে মাথা রেখে সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ল সে!<br />
ওদের পেছন থেকে রুকন তখনো প্রশ্ন করছে, ভাই, কী হয়েছে?<br />
ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা কিছুটা রাগত স্বরে উত্তর দিল, আরে ভাই, আপনার সামনে বসে ছিল যে মেয়েটা সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেছিল মাটিতে।আর এখন জ্ঞান ফিরে এলেও আবোল তাবোল বকছে!<br />
মনা! ওর নাম মনা।হঠাৎ জ্ঞান হারাল কেন?</p>
<p style="text-align: justify">লোকটা রুকনের এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওর সামনে থেকে সরে গেল।<br />
মনা যখন চোখ খুলল তখন রাত ঠিক কতটা গভীর সে বুঝতে পারল না।দেখল, রুমে হালকা আলোর বাতিটা জ্বলছে আর ওর পাশে শুয়ে ঘুমাচ্ছে পূর্বদিকের শেষ রুমের শান্তা।সময় দেখবে বলে পাশ ফিরে মোবাইলটা খুঁজতে গিয়ে ও স্পষ্ট দেখল রুমের দরজা হাট করে খোলা আর ওয়াকারে ভর দিয়ে একজন মানুষ বেরিয়ে যাচ্ছেন! আশ্চর্য! ও একটুও ভয় পেল না।বরং কৌতূহলী হয়ে উঠল, কে বেরিয়ে গেল? পূরণ? নাকি বাবার দাদা মশাই মানে বড়ো খান সাহেব?</p>
<p style="text-align: justify">নিজের মনে করা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সে উঠে নির্দ্বিধায় মানুষটার পিছু নিল এবং একটু পরই নিজেকে ছাদে দেখতে পেল! আকাশে তখন হালকা কুয়াশার আড়াল থেকে আবছা জোছনা ঢালছে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ।</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/03/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-7/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৩) ॥ মায়াবন বিহারিণী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/05/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/05/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 May 2023 08:54:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2683</guid>

					<description><![CDATA[মনা নিজেকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিচ্ছে।এই ব্যাপারটায় সে একেবারে অপটু! সবসময় সাদামাটা জীবনযাপনেই অভ্যস্ত সে।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কখনোই সেভাবে নিজেকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা সে করেনি। কিংবা কারোর পাশে নিজেকে মানাবে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">মনা নিজেকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিচ্ছে।এই ব্যাপারটায় সে একেবারে অপটু! সবসময় সাদামাটা জীবনযাপনেই অভ্যস্ত সে।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কখনোই সেভাবে নিজেকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা সে করেনি। কিংবা কারোর পাশে নিজেকে মানাবে কিনা তা লিটারে-মিটারে মেপে দেখবার ইচ্ছে হয়নি।এর একটি কারণ হতে পারে, মনা এমনিতেই অপরূপা এবং স্বাভাবিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটুকুতেই সে দারুণ আত্মপ্রত্যয়ী! বাড়তি কোনোকিছু তাই ওর একদম পছন্দ নয়।তাছাড়া ওর ধ্যানজ্ঞানই ছবি আঁকা।ক্যানভাসে সৌন্দর্য চর্চাতেই ওর পরম তৃপ্তি!</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু আজ মনা ছকের বাইরে একটু উঁকি দিয়ে নিজেকে দেখতে এবং সাজিয়ে তুলতে বসে গেছে আয়নার সামনে।কারণ অবশেষে পূরণ দেখা করতে রাজি হয়েছে।অবশ্য সে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">মনা অনুরোধ, অনুনয় এবং শেষে অভিমানের ছড়ি ঘুরিয়ে পূরণকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে যে, তাদের প্রথম দেখা বিসিএস-এর প্রিলিমিনারী পরীক্ষার দিন হবে।</p>
<p style="text-align: justify">সেদিন মনার কথার মায়াজালে আটকা পড়ে পূরণ শেষে বলেছিল, শর্ত প্রযোজ্য!<br />
কী শর্ত? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল মনা।<br />
শর্ত হলো, প্রিলিমিনারী খুব ভালো দিতে হবে যাতে টিকে যাও।<br />
ঠিকাছে, আমি রাজি।তবে প্রত্যেক প্ল্যান-এরই একটা অলটারনেটিভ প্ল্যান থাকা ভালো।যদি পরীক্ষা ভালো না দিতে পারি, তাহলে?</p>
<p style="text-align: justify">তখন পূরণ কঠোর কণ্ঠে বলেছিল, যে ব্যর্থ হবে তার জন্য শুভকামনা!<br />
মনা বুঝতে পেরেছিল, সবই তাকে উসকে দিয়ে লক্ষ্য পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠবার আহ্বান!</p>
<p style="text-align: justify">‘মহাশয় তো আজও একটা শর্ত দিয়েছেন’ ভেবে হাসল মনা। পূরণ সত্যিই ওকে একটা শর্ত দিয়েছে।সে আজ বিকেলে দেখা করবে মনার সাথে।তবে তাকে নীল শাড়ি পরে যেতে হবে!</p>
<p style="text-align: justify">শর্ত শুনে ঘাবড়ে গেছিল মনা।নীল শাড়ি সে কোথায় পাবে? সে তো এখানে কোনো শাড়ি আনেনি।সব গ্রামের বাড়িতে।তাহলে? অবশ্য উত্তর পেয়ে গেছে সাথে সাথেই।তারপর সে ছুটে গেছে নিচে।বাড়িঅলার স্ত্রী, লামের আম্মু, ওকে খুব স্নেহ করেন।তাঁর কাছ থেকে নীল শাড়ি আর ম্যাচিং করা অন্যসব জিনিসপত্রও পেয়ে গেছে সে।</p>
<p style="text-align: justify">আজিজ মাস্টার চত্বরের জে-মার্টের দিকে বেরিয়ে যাবার সময় মনাকে ওর পাশের রুমের মেয়েরা, এমনকি লামের আম্মুও বললেন, তোমাকে একদম অপরাজিতা ফুলের মতো লাগছে!</p>
<p style="text-align: justify">বুয়া ওকে দেখে হা হয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।তারপর মুখটিপে হেসে বলল, মাশাল্লা! দেইখো কারো নজর য্যান না লাগে।<br />
মনা জে-মার্টের দিকে এগোচ্ছে আর টের পাচ্ছে একটা শিহরণ খেলে যাচ্ছে ওর ভেতরে।অবশ্য একটা অস্বস্তি রয়েই গেছে, পূরণ তার সাথে একজন বন্ধুকে আনবে! কেন? সে একবার ভেবেছিল ঝুমাকে ডেকে নেবে, কিন্তু পরে সেই ভাবনা বাতিল করেছে।পূরণ তো তার অপরিচিত নয়। কেবলমাত্র দেখা করাটাই হয়ে ওঠেনি।</p>
<p style="text-align: justify">আচ্ছা, চর্মচক্ষুতে দেখাই কেবল দেখা, হৃদয়ের চোখে দেখাটা দেখা নয়?<br />
অবশ্যই! মনে মনে এমন প্রশ্ন-উত্তর পর্ব চালিয়ে যেতে যেতে মনা পৌঁছে গেল জে-মার্টে।<br />
এখানকার ছোট্ট ছোট্ট গোল গোল কুঁড়েঘরগুলো ওর খুব ভালো লাগে! পূরণ ফোনে জানিয়েছে পূর্বদিকের কাঁঠালগাছতলার গোল কুঁড়েঘরে সে অপেক্ষা করছে তার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">জে-মার্টের বড়ো রুমটা পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল মনা। তারপর ইট বিছানো রাস্তা দিয়ে ধীরপায়ে এগিয়ে চলল কাঁঠালতলার দিকে। গোল ঘরটির কাছাকাছি যেতেই চাটাই-এর বেড়ার আড়াল থেকে মুখ বাড়িয়ে একজন মনা-কে বলল, পাখি, শুভাগমন। কণ্ঠস্বরটি চিনতে পারল মনা।বুঝল ও-ই পূরণ।তাই নির্দ্বিধায় বিপরীত দিকের চেয়ারে বসতে বসতে সে বলল, অবশেষে মহাশয়ের মুখমণ্ডল দর্শন করা গেল! একটু যেন নড়ে উঠল পূরণের পাশে কালো রোদচশমা পরে পুতুলের মতো বসে থাকা ছেলেটা।বলল, আপনি এসেছেন!</p>
<p style="text-align: justify">মনার মনোযোগ পূরণের দিকে।স্বপ্নের অসম্পূর্ণ মানুষটি এখন সম্পূর্ণ অবয়ব নিয়ে তার সামনে বসে আছে।সুঠাম দেহ, ফর্সা গোলগাল মুখ এবং বোঝা যাচ্ছে বেশ লম্বাও।তবে মনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করছে পূরণের চোখ! ছেলেদের চোখও এতটা সুন্দর হতে পারে ধারণা ছিল না ওর। আর মনার খুব চেনা চেনা লাগছে পূরণকে।যেন বহুবার মানুষটাকে দেখেছে সে! কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না, কোথায় দেখেছে।</p>
<p style="text-align: justify">ওয়েটার এগিয়ে আসছে দেখে পূরণ মনাকে বলল, তোমার পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার কর।আমি কিছু খাব না, প্লিজ।আর ও আগেই আমাকে বলেছে তোমার পছন্দই ওর পছন্দ।</p>
<p style="text-align: justify">ওয়েটার ছেলেটা এসে মনার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে হা হয়ে কয়েক সেকেন্ড ওকে আর রোদ চশমাঅলা ছেলেটাকে দেখল।মনাকে না চিনলেও ছেলেটাকে সে ঠিকই চেনে।‘এই নীলপরি কানা রুকনের লগে এইহানে কী করে! তা-ও আবার বসছে কোণাকুণি হইয়া!’ মনে মনে ভাবল ছেলেটা। তারপরই নিজের দায়িত্ব মনে পড়ে যাওয়ায় হড়বড় করে জিজ্ঞেস করল, আপু অর্ডার প্লিজ।আমাদের এখানে কিন্তু ভালো ভালো&#8230;!</p>
<p style="text-align: justify">আসলে তেমন কিছু খাব না আমরা।হাতে সময়ও খুব বেশি নেই।দুটো লাচ্ছি দিন।সেপ্টেম্বরের শেষদিনও যা গরম গেল!<br />
ওকে আপু, একটু বসুন প্লিজ।<br />
ওয়েটার চলে গেলে পূরণ ইশারায় রুকন-কে দেখিয়ে বলল, ও রুকন, তোমাদের কলেজেই পড়ে।<br />
ততক্ষণে ওকে চিনতে পারল মনা।রুকন ভাই, কেমন আছেন?<br />
কে? রুকন জিজ্ঞেস করল।<br />
আমি মনা, আপনার ক্লাসমেট শিমুর বান্ধবী।চিনতে পেরেছেন?<br />
হ্যাঁ হ্যাঁ মনা, ভালো আছো তুমি?<br />
জি ভাইয়া।আপনার গানটা কিন্তু এখনো আমার কানে বাজে।সেই যে আপনাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সেমিনারে বসে শুনিয়েছিলেন, ‘ও মোর ময়না গো।’</p>
<p><em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/05/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১২) ॥ মায়াবন বিহারিণী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 25 Mar 2023 04:00:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2626</guid>

					<description><![CDATA[হ্যালো মহাশয়, আমার পরীক্ষা দারুণ হয়েছে! ওয়াও! আলহামদুলিল্লাহ। জানো, খুব টেনশন ছিল সাধারণ জ্ঞান আর মানসিক দক্ষতা অংশ নিয়ে। সাধারণ জ্ঞানের সব পেরেছি আর মানসিক দক্ষতার একটি বাদে বাকিগুলো হয়েছে! &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">হ্যালো মহাশয়, আমার পরীক্ষা দারুণ হয়েছে!<br />
ওয়াও! আলহামদুলিল্লাহ।<br />
জানো, খুব টেনশন ছিল সাধারণ জ্ঞান আর মানসিক দক্ষতা অংশ নিয়ে। সাধারণ জ্ঞানের সব পেরেছি আর মানসিক দক্ষতার একটি বাদে বাকিগুলো হয়েছে! সব আপনার আলোচনার মধ্যেই ছিল স্যার!</p>
<p style="text-align: justify">মানসিক দক্ষতার কোনটা পারনি?<br />
একটু হোল্ড কর। মনা দ্রুত হাতে প্রশ্নপত্রটি বের করল। ও প্রিলিমিনারী পরীক্ষা দিয়ে মাত্রই নিজের রুমে ফিরেছে।<br />
হ্যালো শোনো, তিনটি বৃত্তের ওপরের দিকে&#8230; এটা।<br />
আহা, ওটা&#8230;এভাবে ভাবলেই হতো।<br />
কেন যে গতরাতে ফোন বন্ধ রাখলাম! রাতে তোমার সাথে কথা হলে হয়ত ওটাও পেয়ে যেতাম, ইশ্!</p>
<p style="text-align: justify">আর তখনই মনার মাথার বাঁ পাশটায় একটি চিনচিনে ব্যথা এবং একটি প্রশ্ন গেঁথে গেল, আমার সমস্যার অংশের সবগুলো প্রশ্নই ও কীভাবে আগেই আলোচনা করে সহজ করে দিল?<br />
কিন্তু প্রশ্নটি ও না পূরণকে করে উত্তর জেনে নিতে পারল, না নিজে ভেবে বের করতে মনোযোগ দিতে পারল! মাথাটা বামহাতে চেপে ধরে শুধু বলল, তুমি ফোনটা একটু রাখ প্লিজ! আমার মাথাটা খুব ধরেছে।</p>
<p style="text-align: justify">পূরণ ফোনটা রেখে দিল এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল! কারণ সে-ও আন্দাজ করছিল মনা হঠাৎই প্রশ্নটি করবে এবং তার কোনো সদুত্তর সে দিতে পারবে না।</p>
<p style="text-align: justify">পূরণ আঞ্চলিক মহাসড়কের একটা মোড়ের বড়ো বটগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে মনার সাথে কথা বলছিল।গাছটির উত্তরপাশে মসজিদ, আর পিচঢালা পথটি দক্ষিণ দিক থেকে এসে বাঁক নিয়ে সোজা পশ্চিমে চলে গেছে।ওদিকেই শহর, মনা থাকে ওই শহরে।</p>
<p style="text-align: justify">পূরণের পাশ দিয়ে দলে দলে লোক মসজিদে যাচ্ছে, আর সে ব্যাকুল হয়ে সবার মুখ দেখছে।আসলে সে শুধু দেখছে না, খুঁজছে! খুঁজছে একটি চেনা মুখ, চেনা শরীর! যার সাথে বিচ্ছেদ হয়েছে মাস কয়েক আগে, এমনই এক ভরদুপুরে! তারপর থেকে প্রতি সপ্তাহে ও এখানে আসে আর আঁতিপাঁতি করে খুঁজে চেনা মুখটি।</p>
<p style="text-align: justify">ইমাম সাহেবের খুতবা পাঠ শেষপর্যায়ে।প্রায় সব মুসল্লি মসজিদে চলে এসেছেন।এখন যে দু&#8217;চারজন আসছেন তারা বদনসিব।জুম্মায় উপস্থিত মুসল্লির খাতায় তাদের নাম আর তুলবেন না ফেরেস্তারা।</p>
<p style="text-align: justify">পূরণ বটগাছটির পূর্বমুখী ডালে উঠে বসল।এখানে কিছুটা হাওয়া দিচ্ছে। আশ্বিন মাসের পনেরো দিন যাচ্ছে অথচ কী গরম! কিন্তু কয়েক বছর আগেও মুরুব্বিগণ বলতেন, আশ্বিনে শিন শিন, মানে শীত শীত ভাব। ওরাও তা টের পেত এবং শেষরাতের দিকে কাঁথা মুড়িয়ে ঘুমাত। আর এখন!</p>
<p style="text-align: justify">নামাজ শেষে মুসল্লিগণ বেরিয়ে যেতে শুরু করলে সে আবার তাদের ওপর নজর রাখবে।যদি চেনা মুখটি দেখতে পাওয়া যায়! আচ্ছা, খুঁজে পেলে কী করবে পূরণ? এটা সে জানে না।ভাবেনি কখনো।সে শুধু জানে ওই মুখটি, ওই শরীরটি তাকে খুঁজে বের করতেই হবে।নিজের জন্য, মনার জন্য, মনাকে পাওয়ার জন্য! এই করুণ বিরহকাল, এই বিচ্ছেদ ব্যথা তাকে খুব ভোগাচ্ছে, খু-উ-ব!</p>
<p style="text-align: justify">এমন নয় যে, মুখটিকে পূরণ শুধু এখানেই খুঁজে। বরং সব জায়গায় খুঁজে, সবসময় খুঁজে।তবু প্রতি শুক্রবারের ভরদুপুরে সে এখানে একবার করে আসে।কারণ উৎসে ফিরে আসবার ব্যাপারটাকে সে খুব বিশ্বাস করে। এখানেই সে হারিয়ে ফেলেছে তার প্রিয়মুখ।তাই এখানেই ফিরে আসে বারবার।বিশ্বাস করে কোনো একদিন এখানে কিংবা অন্য কোথাও তাকে অবশ্যই খুঁজে পাবে।</p>
<p style="text-align: justify">নামাজ শেষে একে একে সবাই বেরিয়ে গেল কেবল মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া।তাদের এখনো কিছু কাজ বাকি আছে।সবকিছু গুছিয়ে, জানালাগুলো লাগিয়ে দরজায় তালা দিতে হবে।তালা দিতে হবে বারান্দার গ্রিলটাতেও।নয়ত চুরি হতে পারে! আহা, হা! কী করুণকাল! মসজিদেও চুরি হওয়ার ভয়ে থাকতে হয়!</p>
<p style="text-align: justify">আগের অনেক শুক্রবারের মতো আজও ব্যর্থ মনোরথে ধীরে খুবই ধীরে শহরের দিকে এগোল পূরণ।এখানে একটি প্রিয়মুখ খুঁজে না পেলেও ওখানে অন্য একটি প্রিয়মুখ রয়েছে তার অপেক্ষায়।সে বুঝতে পাচ্ছে, মনা আজ তার সাথে দেখা করতে চাইবে এবং বহুদিন ছলচাতুরী করে কাটিয়ে দেওয়ার পর হয়ত আজ তাকে ওর মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে!</p>
<p style="text-align: justify">পূরণ একটা ঝড়ের পূর্বাভাস পাচ্ছে।হৃদয়ঘটিত বিচ্ছেদপ্রবণ শক্তিশালী একটা ঝড় ধেয়ে আসছে তাদের দিকে! অদৃশ্য সেই ঝড় মনাকে তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে না তো? ভাবতেই শিউরে ওঠে সে! এই একটা ভয়ে এতদিন কোনোভাবেই মনার সাথে দেখা করতে রাজি হয়নি পূরণ। কিন্তু একদিন তাকে এমন একটা নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতেই হবে, সে তা জানে। হয়ত আজ পনেরো আশ্বিন রোজ শুক্রবার-ই সেই দিনটা!</p>
<p style="text-align: justify">চলবে&#8230;</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১১) ॥ মায়াবন বিহারিণী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/12/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/12/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 27 Dec 2022 13:28:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2394</guid>

					<description><![CDATA[হঠাৎ ডাকাত দলটির সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটি এগিয়ে এসে বললেন, সদ্দার, অগো দুই বাড়িরই এলাকায় খুব নাম ডাক আছে।তুমি চিনো কিনা, তয় আমি মাইয়াডার দাদা রে চিনি। অর দাদার বাপের বিয়াও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p>হঠাৎ ডাকাত দলটির সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটি এগিয়ে এসে বললেন, সদ্দার, অগো দুই বাড়িরই এলাকায় খুব নাম ডাক আছে।তুমি চিনো কিনা, তয় আমি মাইয়াডার দাদা রে চিনি। অর দাদার বাপের বিয়াও হইছিল যমুনায়।এমুনি নাওয়ের ভিত্রে।<br />
কি কও মে বাই? সর্দারের কণ্ঠে অবিশ্বাস।</p>
<p>হ সদ্দার, তোমার দাদা আর আমার দাদা সাক্ষী আছিল সেই বিয়ার। কয় বছর আগে যে চরডা নদী ভাইঙ্গা নিছে অতে তোমাগো আর আমাগো যত জমিজিরাত আছিল তার বেবাক অর দাদার বাপে দান করছিলেন।<br />
হ মে বাই, মনে পরছে।দাদায় তারে খান সাব কইতেন।তিনি নাকি জ্বীন-ভূত পালতেন?<br />
হ হ সদ্দার, অহন চিনছ।</p>
<p>দুটো নৌকারই ইঞ্জিন বন্ধ।দুটোই স্রোতে গা ভাসিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণে। আকাশদের নৌকার মাঝি ও তার সহকারীকে বেঁধে ফেলেছে ডাকাতরা। ভয়ে কাঁপছে ওরা।ওদের আশঙ্কা ‘নায়ের সাতে জানডাও হারামু নাকি!’ ছইয়ের ভেতরে কাজী সাহেব, আকাশ, মনা বা আকাশের বন্ধুরা কেউই কোনো কথা বলবার সাহস পাচ্ছে না।</p>
<p>সর্দারকে কিছুটা চিন্তিত দেখাচ্ছে।সে কাউকে উদ্দেশ্য না করে প্রশ্ন করল, তাইলে এগোরে নিয়া এহন কী করমু?<br />
যেন অসীম আঁধারে হঠাৎ একটা আলোর রেখা দেখতে পেল আকাশ। সেই আলোয় নিজেদের মুক্তির সম্ভাব্য পথ খুঁজে নিতে সে সর্দারকে বলল, প্লিজ, আমাদের ছেড়ে দিন।</p>
<p>সাথে সাথে ধমকে উঠল সর্দার, চুপ হারামি! বাপ-দাদার ইজ্জতের ডুগডুগি বাজাইতে আইছস, তগোরে এম্নেই ছাড়মু? তর বাপের নাম কী কইলি তহন? দাদার নাম কী?<br />
আকাশ চুপ করে রইল।ও খুব অপমানিত বোধ করছে।ওকে নিরুত্তর থাকতে দেখে ওর এক বন্ধু বলল, ওর বাবার নাম আতা তালুকদার। দাদা বাঘা তালুকদার, মারা গেছেন।</p>
<p>আতা তালুকদার, বাগা তালুকদার।বিড়বিড় করল ডাকাত সর্দার। তারপর গলা চড়িয়ে জলিমদ্দি নামের কাউকে ডাকল, অই জলিমদ্দি, পুবপারের কারোর নম্বর আছে? ফোন দে।<br />
জলিমদ্দি নামের লোকটা ছইয়ের ভেতরে ঢুকে বলল, আমার শালার ভায়রার নম্বর আছে সদ্দার।অরে ফোন দিমু?</p>
<p>এর চায়া লম্বা লতা-পাতায় ইষ্টি আর নাই? হারামজাদা! দে, অরেই ফোন দিয়া ক’ তালুকদার বাড়ি’ত খবরডা পৌঁছায়া দেক।কইতে কবি, এরা আমাগো জিম্মায় আছে।আইসা নিয়া যাক।পুলিশের ঝামেলা হইলে এগো খুন কইরা ফালামু।<br />
কিন্তু জলিমদ্দি ফোন করবার সুযোগ পেল না।তার আগেই তাণ্ডব শুরু হয়ে গেল।<br />
মনা এতক্ষণ ধরেই চুপ করে ছিল।ও কোনো কথা বলেনি বলে ওর দিকে কেউ মনোযোগ দেয়নি।কিন্তু সব দেখেশুনে ও ভেতরে ভেতরে খুব রেগে যাচ্ছিল।</p>
<p>‘খুন করে ফেলবে’ কথাটা শুনে মনা-র রাগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেল আর সেই সাথে ও নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।তখনই শুরু হলো তাণ্ডব।মনাকে নিজের জায়গা থেকে এতটুকুও নড়াচড়া করতে হলো না। ও কেবল আগুন চোখে জলিমদ্দির দিকে তাকাল, সাথে সাথে সে নৌকার পাটাতনে পড়ে ছটফট করতে লাগল।</p>
<p>হঠাৎ এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে গেল ডাকাত সর্দার।বয়স এখনো চল্লিশ স্পর্শ না করলেও ইতোমধ্যে ছোটোবড়ো অনেকগুলো ডাকাতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে সে। তার কোনো কোনোটায় আবার নির্মমতার কমতি ছিল না। তাতে একটুও ঘাবড়ায়নি, কিন্তু এমন ভূতুড়ে পরিস্থিতিতে সে কখনো পড়েনি।</p>
<p>সর্দার কিছু বলবার আগেই মনা তার দিকে তাকাল আর সাথে সাথে এক ঝাপটা বাতাস ধাক্কা মেরে তাকে নৌকার পাটাতনে ফেলে দিল।<br />
ব্যথায় ককিয়ে উঠল সর্দার।মনা তার দিকে কঠিন চোখে তাকিয়েই আছে।তারপর কী ভেবে ছইয়ের পেছন দিকটায় তাকাল সে।ওখানে অস্ত্র হাতে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা পড়ে গেল উল্টো দিকে।এই ফাঁকে সর্দার ও জলিমদ্দি পড়িমরি করে ছইয়ের বাইরে বেরিয়ে গেল।<br />
ভেতর থেকে শোনা গেল সর্দার ঘড়ঘড়ে গলায় বলছে, বাঁচতে চাইলে এই নাও ছাইড়া দে।</p>
<p>আকাশে তখনই মেঘের আড়াল থেকে ক্ষণিকের জন্য বেরিয়ে এলো আষাঢ়ে পূর্ণিমার চাঁদ।মনা চোখ ফিরিয়ে দেখল জোছনায় ঝলমল করতে থাকা যমুনার জলে একটা নৌকা ছুটে পালাচ্ছে।কিন্তু তক্ষুণি ওটা ডুবে যেতে লাগল।</p>
<p>এসব দেখে আকাশ ও তার বন্ধুরা ভয়ে নীল হয়ে গেছে।কাজী সাহেব ক্রমাগত দোয়া-দরুদ পড়ছেন।<br />
কেউই মনা-কে চিনতে পারছে না।তাদের সামনে বসে থাকা মেয়েটা পরিচিত সেই মনা নয়। যেন অন্য কেউ।<br />
হঠাৎ বৃষ্টি ঝরতে শুরু করল। তুমুল বৃষ্টি।</p>
<p>যমুনার জলে বৃষ্টির ছুপ ছুপ ছুপ, ঝুপ ঝুপ ঝুপ শুনতে শুনতে শুয়ে পড়ল শ্রান্ত-ক্লান্ত মনা এবং সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ল।<br />
ততক্ষণে যেন সম্বিত ফিরে পেলেন কাজী সাহেব।ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললেন, আল্লাহ রাসুলের নাম নিয়ে মেশিন ইস্টাট দেও মাঝি।<br />
আর মনে মনে বললেন, বিয়ে পড়ানোর গুষ্ঠি কিলাই।</p>
<p>রাত দুপুর পার করে মনাদের নৌকা যখন ঘাটে ভিড়ল তখনও নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে আছে সে।</p>
<p>মেঘ মুক্ত আকাশ থেকে চাঁদও তখন জোছনা ঢালছে নিশ্চিন্ত মনে।<br />
মকবুল হোসেন খান নৌকা থেকে ঘুমন্ত মেয়েকে নামিয়ে আনতে গিয়ে চমকে উঠলেন, ছইয়ের ভেতরের পুষ্পশয্যায় ঘুমিয়ে আছেন সতেরো কিংবা আঠারো বছর বয়সী তারই দাদী, মানে বড়ো মা, ময়নামতি।<br />
<em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/12/27/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১০) ॥ মায়াবন বিহারিণী</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-3/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-3/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 28 Nov 2022 13:38:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2321</guid>

					<description><![CDATA[শেষ পর্যন্ত ওদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।জসিম সর্দার হাতের ইশারায় সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, গায়ের শক্তি এবার ভালা কামে নাগাও বাহে। কেউ একজন ক্ষোভ ঝেড়েছিল, আর আমাগো বাড়ির এক ছেমড়ি রে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শেষ পর্যন্ত ওদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।জসিম সর্দার হাতের ইশারায় সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, গায়ের শক্তি এবার ভালা কামে নাগাও বাহে।</p>
<p style="text-align: justify">কেউ একজন ক্ষোভ ঝেড়েছিল, আর আমাগো বাড়ির এক ছেমড়ি রে যে পাগলী করে থুয়ে যাইচ্চে তার বিচার হবি নে?<br />
বিচার! হ, বিচার ত’ করাই নাগবি, তয় পরের না ঘরের মাইনষের।<br />
তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে ডেকেছিলেন, ময়নামতি, ময়নামতি।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতি যে ঘরে বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদছিলেন তিনি সেই ঘরে ঢুকতেই তার স্ত্রী দুহাত প্রসারিত করে সামনে দাঁড়িয়ে গেছিলেন এবং বলেছিলেন, মেয়েটা সেই তখন থেকেই খালি কাঁদতিছে।আপনে ওরে বকাবকি করতে পারবেন না।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি আমারে অতো বেরহম ভাবতিছ ক্যা? আমি অর সাথে কতা কইতি চাই। শুনি ময়না কী কয়।<br />
ময়নামতি কাঁদতে কাঁদতেই বলেছিলেন, আপনে আমাকে অনুমতি দেন আব্বা, আমি তার কাছে যাই।<br />
পাগল হইছ মা। সে অচেনা যুবক, চইলা গেছে।<br />
না আব্বা, তিনি আমার অপেক্ষায় ঘাটে বসে আছেন।<br />
জসিম সর্দার বা তার স্ত্রী, কেউ-ই মেয়েকে ঠিকঠাক চিনতে পাচ্ছিলেন না। ময়নামতি অন্যরকম স্বরে কথা বলছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির মা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোকে কে বলল?<br />
উত্তর বাড়ির কালু কাক্কুর ছেলে।<br />
অথচ কালু মিয়ার ছেলেকে কেউ ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখেনি। সে ডাকাতিয়া ঘাট থেকে সোজা ওর বাড়িতে চলে গেছিল।<br />
ময়নামতির মা সত্যি সত্যিই ভয় পেয়ে গেছিলেন।আর বাড়ির ভেতরের উঠোন থেকে কেউ কেউ বলেছিলেন, ঐ ছেমড়া কবরেজ, ময়নারে তাবিজ করিছে।<br />
না রে কবরেজ না, যাদুকর।পাড়ার হগল রে যাদু করিছে।<br />
হ হ, ঠিক। বড় কবরেজ ডাকা নাগবি।মন্ত্র কাটাইতে হবি।<br />
জসিম সর্দার অবশ্য ওসব বিশ্বাস করেননি।তিনি বড়ো খান সাহেবের চোখে-মুখে অন্যরকম আলো দেখেছিলেন।দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি কিছুক্ষণ চুপচাপ মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছিলেন, বড়ো কঠিন সিদ্ধান্ত।<br />
চল মা, ত’রে নিয়া ঘাটে যাই।<br />
ময়নামতির মা তার হাত চেপে ধরে বলেছিলেন, কী বলছেন আপনে।<br />
ময়নামতি আগের মতোই অন্যরকম স্বরে বলেছিলেন, ওনার ইচ্ছে, আমি একলা যাই।</p>
<p style="text-align: justify">শেষ পর্যন্ত ময়নামতি একাই হাঁটা দিয়েছিলেন ঘাটের দিকে।ততক্ষণে মাগরিবের আযান শেষ হয়ে গেছিল।কাউকে তার সাথে নিতে রাজি হননি ময়নামতি। শুধু শত নিষেধ স্বত্তেও পিছু নিয়েছিল তার চাচা তো ভাইটা। সে তার শেষ চেষ্টাটুকু করতে বদ্ধপরিকর।</p>
<p style="text-align: justify">ঘাটের কাছাকাছি গিয়ে তারা দেখেছিলেন তিনি নামাজ পড়ছেন।আরও কয়েক পা এগিয়ে যেতেই সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করেছিলেন তিনি।<br />
ময়নামতি শেষ পর্যন্ত তার হাত ফসকে চলে যাচ্ছে দেখে চাচা তো ভাইটা মরিয়া হয়ে তার বাহুতে হাত দিতেই তিনি চোখ তুলে তাকিয়েছিলেন। আর সাথে সাথে কোত্থেকে এক ঝাপটা বাতাস এসে ধাক্কা দিয়ে ছেলেটাকে সাত-আট হাত দূরে ফেলে দিয়েছিল। অথচ চারপাশের পরিবেশ আগের মতোই শান্ত ছিল।আর ময়নামতির কেবল ঘোমটা খুলে গিয়ে চুলগুলো উড়ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতি একটু ঘুরে অবাক চোখে একবার তার চাচা তো ভাইকে দেখে ফের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে পৌঁছে গেছিলেন মানুষটার কাছে।<br />
সে রাতে আষাঢ়ে পূর্ণিমার জোছনায় ঝলমল করছিল যমুনার জল, আর তাতে ময়ূরপঙ্খি নায়ে পূর্ব পারের দিকে এগিয়ে চলেছিলেন বড়ো খান সাহেব ও ময়নামতি।</p>
<p style="text-align: justify">মাঝ নদীর একটা চর থেকে একজন হুজুর এবং আরও চারজন মানুষ উঠিয়ে নিয়েছিলেন বড়ো খান সাহেব।তারাই সেই রাতে যমুনার জলে ভেসে চলা সেই নায়ে তাদের দুজনকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">পরদিন সূর্যোদয়ের আগে আগে যমুনার জলের স্পর্শে ঘুম ভাঙলে ময়নামতি দেখেছিলেন তিনি তার স্বামীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছেন অচেনা একটি ঘাটে।লজ্জা পেয়ে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। দেখেছিলেন, একটু দূরে বসে আছেন হুজুরসহ সেই চারজন।</p>
<p style="text-align: justify">এত বছর পর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির শঙ্কায় টালমাটাল খান বাড়ি। আর তার আঁচ টের পাচ্ছে তালুকদার বাড়ির লোকজনও।<br />
মকবুল হোসেন খান যখন ফোনে আকাশ তালুকদারকে পেয়েছেন তখন ওরা যমুনার কিলোমিটার খানেক ভেতরে চলে গেছে।কাজী সাহেব লেখালেখির কাজও প্রায় শেষ করে ফেলেছেন।তিনি পাত্র-পাত্রীর পরিচয় পেয়ে আঁৎকে উঠেছিলেন এবং বিয়ের কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।অনুনয় করে বলেছিলেন, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও।এ বিয়ে পড়ালে আমার অস্তিত্ব থাকবে না।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু আকাশের বন্ধুরা তাকে বাধ্য করেছে।শেষ পর্যন্ত নিতান্ত অনিচ্ছায় খাতা খুলে প্রয়োজনীয় লেখালেখির কাজ গুছিয়ে এনেছেন তিনি।তখনই মোবাইলে নেটওয়ার্ক চলে আসায় মকবুল হোসেন খানের কলটা এসেছে আকাশের কাছে।তিনি খুব রাগারাগি করলেও আকাশ খুব একটা ভয় পায়নি।কিন্তু তক্ষুণি অন্য একটা মহাবিপদ ওদের নৌকার গতিরোধ করে দিল।একদল ডাকাতের কবলে পড়ল ওরা।</p>
<p style="text-align: justify">ডাকাত দলের সদস্যরা নৌকার ছইয়ের ভেতর বিয়ের আয়োজন দেখে বেশ অবাক হলো।দলটির সর্দার অস্ত্র দেখিয়ে ধমকে ধমকে ওদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা শুনল এবং জেনে নিল সকলের পরিচয়।তারপর কাজী সাহেবকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করল ছেলে-ছোকরাদের সাথে তিনিও তাল মিলিয়ে বিয়ে দিতে চলে এসেছেন বলে।ভয়ে কাঁপতে থাকা কাজী সাহেব একটা কথাও বলতে পারলেন না।<br />
<em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/11/28/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7-3/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-৯) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/11/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/11/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 19 Nov 2022 15:28:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2291</guid>

					<description><![CDATA[কোনো কিন্তু নাই।অনেক চেষ্টা করেও আমি আপনেরে এই পেশা ছাড়াইতে পারি নাই।আমি ফেল! কিন্তু আমি চাই আমাগো মেয়ে পড়ালেখা করুক।আমি ওরে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে চাই।সেটাই আমার জীবনের পাস! সত্যি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কোনো কিন্তু নাই।অনেক চেষ্টা করেও আমি আপনেরে এই পেশা ছাড়াইতে পারি নাই।আমি ফেল! কিন্তু আমি চাই আমাগো মেয়ে পড়ালেখা করুক।আমি ওরে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে চাই।সেটাই আমার জীবনের পাস!</p>
<p style="text-align: justify">সত্যি সত্যিই তার নিঃসন্তান বড়ো ভাই-ভাবী ময়নামতিকে পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছিলেন।ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন প্রাইমারিতে। সেখানে থেকেই ময়নামতি নিম্নমাধ্যমিক পাস করে দু-বছর আগে বাড়ি ফিরেছে এবং এসেই বাবার পেশা পরিবর্তনের জন্য খুব চেষ্টা চালিয়েছে। অবশ্য জসিম সর্দারের সাথে সরাসরি সে কোনো কথা বলে না।</p>
<p style="text-align: justify">শেষে মেয়ের অভিমান বুঝতে পেরে তিনি ধীরে ধীরে দলের দায়িত্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলেন, আর বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ছোটো ভাইয়ের ছেলেকে।সেই ছেলে আবার বছর খানেক ধরে ময়নামতিকে মনে মনে পছন্দ করে এবং অপেক্ষায় আছে দলের সর্দার হয়ে গেলেই জ্যেঠাকে সরাসরি প্রস্তাব দেবে।ভেবে রেখেছে, সোজা কথায় কাজ না হলে প্রয়োজনে বাড়িতে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে।</p>
<p style="text-align: justify">তেমনই দিনগুলোর একটিতে সর্দার বাড়িতে পা রেখেছিলেন বড়ো খান সাহেব, মানে মকবুল হোসেন খানের দাদা মশাই।<br />
বহুদিন পর মেয়ের ডাকে বাষ্পপূর্ণ হয়ে উঠেছিল জসিম সর্দারের দুচোখ! পাষাণ হৃদয়ও গলে গেছিল হঠাৎ! চেহারার কাঠিন্য মুছে গিয়ে ফুটে উঠেছিল আবেগ! আর আগন্তুকের আশ্রয় প্রার্থনা বিনা বাক্য বেয়ে মঞ্জুর হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">জসিম সর্দার কখনো ভাবেননি তার কাছে কেউ আশ্রয় চাইতে আসতে পারে।কারণ তিনি ডাকাতদের সর্দার! সর্দারপাড়া মূলত ডাকাতপাড়া! সেই পাড়ায় কোনো অপরিচিত মানুষ দূরে থাক আশে-পাশের গ্রামের পরিচিত মানুষজনও ঢুকতে সাহস পেত না।</p>
<p style="text-align: justify">মাগরিবের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে বড়ো খান সাহেব জসিম সর্দারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এ পাড়ায় মসজিদ নাই? আযান শোনা গেল না।<br />
বহু বছর পর জসিম সর্দার লজ্জা পেয়েছিলেন, সত্যি তো এ পাড়ায় একটা ওয়াক্ত মসজিদও তো নাই।</p>
<p style="text-align: justify">সারা পাড়ার লোকজন মাঝরাত অব্দি অতিথির কাছ থেকে দ্বীন দুনিয়ার কথা শুনেছিলেন।শুনেছিলেন দেশের মানুষের কষ্টের কথা, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুফলের কথা।</p>
<p style="text-align: justify">পরদিনও অতিথিকে থাকতে হয়েছিল।কারণ সূর্যোদয়ের পরপরই পাড়ার কয়েকজন জসিম সর্দারের বাড়ির বাইরের উঠোনে মসজিদ নির্মাণের কাজে লেগে গেছিলেন।শনের ছাউনি ও পাটখড়ির বেড়া দিয়ে দুপুরের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেছিল সর্দারপাড়ার প্রথম মসজিদ।</p>
<p style="text-align: justify">কীভাবে যেন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল আশে-পাশের গ্রামে।ফলে সেই মসজিদ এবং সর্দারপাড়ার লোকজনের এমন অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটানো মানুষটাকে দেখতে দু-তিন গ্রামের মানুষ এসেছিলেন একের পর এক, দল বেঁধে।বাদ আছর যে দলটি এসেছিল তারই একজন ভক্তিভরে বড়ো খান সাহেবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাবাজী রে ত দেখতে পীরসাবের মতন লাগে! বাবা, আপনে কি পীর-এ-কামেল?<br />
মনে মনে আঁতকে উঠেছিলেন বড়ো খান সাহেব, এই ধারণা তিনি কারোর অন্তরে জন্মাতে দিতে চান না।</p>
<p style="text-align: justify">বিদায় নিয়ে একটু পরই বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি।যদিও বাদ জোহর-ই শেষ নৌকা ঘাট ত্যাগ করে গেছিল পূর্ব পারের দিকে।আর সবার থেকে বিদায় নেওয়াও ছিল বেশ কষ্টকর।তবু তিনি হাঁটতে হাঁটতে যমুনার পারে এসে দেখেছিলেন ঘাটে কয়েকটি জেলে নৌকা।সন্ধ্যা মিলিয়ে যেতেই ওগুলো ভাসতে শুরু করবে নদীর বুকে।</p>
<p style="text-align: justify">রাতটা ওদের কোনো নৌকায় কাটিয়ে সকাল সকাল খেয়া নৌকা ধরবেন ভেবেছিলেন বড়ো খান সাহেব।কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।তক্ষুণি সর্দারপাড়ার একজন লোক দৌড়ে এসে তাকে জানিয়েছিল, তিনি ফিরে না গেলে সর্দারের বাড়িতে বড়ো কোনো অঘটন ঘটে যাবে।</p>
<p style="text-align: justify">বড়ো খান সাহেব মুচকি হেসে বলেছিলেন, কিচ্ছু হবে না।তুমি ফিরে যাও, আর তাকে বলো আমি এই ঘাটেই তার অপেক্ষায় থাকব।<br />
লোকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, কারে বুলব?<br />
সে তুমি ও বাড়িতে ফিরে গেলেই বুঝতে পারবে।</p>
<p style="text-align: justify">জসিম সর্দারের বাড়িতে তখন তাঁর সমালোচনা করেছিল কেউ কেউ। বাপদাদার পেশা ছেড়ে হঠাৎ সবার সাধুসন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া পছন্দ হয়নি যাদের, তারা-ই চেষ্টা করেছিল জসিম সর্দারসহ ডাকাতদলের অন্যান্য সদস্যদের খেপিয়ে তুলতে।<br />
চলবে..</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/11/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%af-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
