<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>আমিনুল ইসলাম &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Thu, 28 Mar 2024 17:49:01 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>আমিনুল ইসলাম &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>কবিতার জন্য কাহ্নপা সাহিত্য পদক ২০২৪ ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/03/28/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/03/28/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 28 Mar 2024 17:49:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3181</guid>

					<description><![CDATA[নওগাঁ জেলার প্রতিনিধিত্বকারী সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক অপেক্ষাকৃত নবীন সংগঠন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদ ২০২৪ সালে প্রবর্তন করলো ‘কাহ্নপা সাহিত্য পদক’। কবিতায় উদ্বোধনী ‘কাহ্নপা পদক ২০২৪’ লাভ করে সম্মানিত বোধ করছি আমি। গত &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নওগাঁ জেলার প্রতিনিধিত্বকারী সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক অপেক্ষাকৃত নবীন সংগঠন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদ ২০২৪ সালে প্রবর্তন করলো ‘কাহ্নপা সাহিত্য পদক’।</p>
<p style="text-align: justify">কবিতায় উদ্বোধনী ‘কাহ্নপা পদক ২০২৪’ লাভ করে সম্মানিত বোধ করছি আমি। গত ৮-৯ মার্চ (২০২৪) দুই দিনব্যাপী আয়োজিত লেখক সম্মেলনের ২য় দিন হলভর্তি অনুষ্ঠানে আমার হাতে ‘কাহ্নপা পদক ২০২৪’, ক্রেস্ট এবং দশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি নওগাঁ জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এ কে এম ফজলে রাব্বি।তিনি আমার গলায় নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন।</p>
<p style="text-align: justify">পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক, নওগাঁর তথ্য সেবা অফিসার বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী তানিয়া খন্দকার এবং কথাসাহিত্যিক রবিউল করিম।</p>
<p style="text-align: justify">মঞ্চে আরও ছিলেন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি অরিন্দম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক কবি আশরাফুল নয়ন।ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য কাহ্নপা সাহিত্য পদক ২০২৪ দেওয়া হয় ‘দাগ’ সম্পাদক মিজানুর রহমান বেলালকে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. গোলাম মওলা।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কবিকুঞ্জ এর সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, বগুড়া লেখক চক্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বকুল, মৃদঙ্গ সম্পাদক কবি কামরুল বাহার আরিফ, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, নওগাঁর জেলা কালচারাল অফিসার মো. তাইফুর রহমান এবং আরও কয়েকজন।সভাপতি ছিলেন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।</p>
<p style="text-align: justify">সাহিত্যের ভুবনে আমি বরেন্দ্রভূমির মুগ্ধ শব্দচাষি।নওগাঁর বিভিন্ন ঐতিহাসিক অনুষঙ্গ নিয়ে আমি অনেক কবিতা লিখেছি।এক কথায় বরেন্দ্রভূমি হচ্ছে আমার কাব্যভাবনার তীর্থভূমি।আমি অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেইন এ দাঁড়িয়েও সেখানকার আদিবাসী মানুষকে দেখার সময় বরেন্দ্রভূমির মানুষের কথা মনে উদয় হয়েছে।আমি সেই অনুভব ও উপলব্ধি নিয়ে লিখেছি:<br />
‘আমি ঘুরি পথে ও প্রান্তরে; সিডনির ব্লু মাউন্টেনে<br />
কৃষ্ণকায় আদিবাসি সাইমনকে দেখে<br />
এই মনে হয়েছিল-<br />
পুরোনো পুঁথির মতো গায়ে তার পরিচিত ঘ্রাণ;<br />
যেন সে আমারই সেই আদি বংশধর-<br />
শিমুলের ফুল গুঁজে তাকিয়ে থাকতো<br />
শবরীর চুলের খোঁপায়;<br />
তুফানের ঢেউ লেগে নৃতাত্ত্বিক তরীখানা<br />
পর্বতের কোল ছেড়ে<br />
ভিড়েছিল একদিন<br />
করতোয়া তীরবর্তী বৃক্ষের পাড়ায় !<br />
আমি তার পাশে বসে উঠিয়েছি বেশ কিছু ছবি;<br />
আমি কি বাতিকগ্রস্ত?<br />
নাকি আমার রয়েছে কোন্ অদ্ভুত ইন্দ্রিয়-<br />
যা আমাকে জাগিয়ে দেয়<br />
ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে নিদ্রিত উঠোনে!’</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-3183 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/03/KAHAN2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/03/KAHAN2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/03/KAHAN2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বরেন্দ্রভূমি হচ্ছে চর্যাপদ এর কবিদের পীঠস্থান।কাহ্নপা নওগাঁর সোমপুর বিহার (পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার)-এ বসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পদ রচনা করেছিলেন।তার নামে সাহিত্য পদক প্রবর্তন একটি মহৎ উদ্যোগ।এটা নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে শৈল্পিক অচ্ছেদ্যতায় সংশ্লিষ্ট থাকার প্রেমময় রূপ।আমি এই পুরস্কারের ধারাবাহিকতা এবং উত্তরোত্তর সাফল্য ও সার্থকতা কামনা করি।আমার মনে হয়, এ ধরনের সাহিত্য পুরস্কার আরও বহু আগেই বরেন্দ্রভূমি থেকে চালু করা সমীচীন ছিলো।বাংলা সাহিত্যের শুরু চর্যাপদ দিয়ে এবং সেই চর্যাপদের উৎসভূমি হচ্ছে বরেন্দ্র বা প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন।কথায় বলে, ভালো কাজ দেরিতে হলেও ভালো।মহৎ উদ্যোগ, চমৎকার আয়োজন এবং সফল অনুষ্ঠান-এই সবকিছুর জন্য আমি নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সম্মানিত সভাপতি অরিন্দম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম এবং অন্যান্য সদস্যের আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/03/28/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বপ্নের কথা ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/07/22/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/07/22/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 22 Jul 2023 14:29:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2766</guid>

					<description><![CDATA[স্বপ্ন দেখাবো না, এ নিয়তে রাত না বাড়তেই ঘুমিয়ে পড়ি রোজ। তবে তার আগে চান্দিতে একরতি জবাকুসুম লাগাই, রেগুলেটার ঘুরিয়ে গতি বাড়াই ফ্যানের, পিতামহীর দেওয়া স্বপ্নহীন মাদুলিটা মাথার চারপাশে ঘুরিয়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">স্বপ্ন দেখাবো না, এ নিয়তে রাত না বাড়তেই<br />
ঘুমিয়ে পড়ি রোজ।<br />
তবে তার আগে চান্দিতে<br />
একরতি জবাকুসুম লাগাই,<br />
রেগুলেটার ঘুরিয়ে গতি বাড়াই ফ্যানের,<br />
পিতামহীর দেওয়া স্বপ্নহীন মাদুলিটা<br />
মাথার চারপাশে<br />
ঘুরিয়ে সুরা ফালাক্-নাস পড়ে ফুঁ দিই।</p>
<p style="text-align: justify">দু’চোখ আঁধার করে চোরা-আসক্তির মতন<br />
ঘুম এলে প্রশান্ত অনস্তিত্বে<br />
তলিয়ে যাই আমি অনুভবহীন অতলে।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ বামদিক হতে এক ফেরিওয়ালা<br />
কপালে মোহন চুমু দিয়ে আমাকে জাগায়,<br />
শব্দের ফুলঝুরি ছড়িয়ে বলে:<br />
‘স্বপ্নছাড়া বাঁচবে কী করে ভাই?<br />
আমার কাছে স্বপ্ন আছে !<br />
লাল স্বপ্ন,<br />
নীল স্বপ্ন,<br />
লম্বা স্বপ্ন,<br />
খাটো স্বপ্ন,<br />
এবং পাঁচমিশালী স্বপ্ন।</p>
<p style="text-align: justify">স্বপ্ন দিয়েই ঢাকা আমাদের অতীত,<br />
স্বপ্ন দিয়ে ভরা আমাদের বর্তমান,<br />
স্বপ্ন নিয়েই যাবো আমরা ভবিষ্যতে।<br />
তুমি হয়তো জানো না,<br />
তোমার সে পূর্বপুরুষেরা<br />
ভূরি ভূরি স্বপ্ন দেখতেন,<br />
আর প্রত্যেক সকালে খোয়াবনামা ঘেঁটে<br />
গফুর মারফতীর কাছে<br />
ব্যাখ্যা শুনতেন হা করে;<br />
আর তাজ্জব তুমি সেই বংশের<br />
ছেলে হয়ে কাটাতে চাও স্বপ্নহীন রাত?’</p>
<p style="text-align: justify">আমি বলি: ‘শূন্য গোলা, শূন্য গোয়ালও-<br />
আকাশের নিচে অগণিত মাথা;<br />
স্বপ্ন দিয়ে তো<br />
ক্ষুধাতুরের পেট ভরে না একবেলাও!’</p>
<p style="text-align: justify">ফেরিওয়ালার বিরক্ত স্বর: ‘আহা!<br />
বোঝো না কেন-স্বপ্নটাই মানুষের জীবন!<br />
রুটি-মাংস-ডালভাত এইসব<br />
আদতে ইতর-চাহিদা;<br />
জেনে রাখো-একমুঠো স্বপ্ন বহুগুণে মূল্যবান<br />
একগুদাম মোটা চালের চেয়ে;<br />
আমাদের গরুমার্কা স্বপ্নগুলো কালোত্তীর্ণ<br />
আর এ কৃষিপ্রধান দেশে কার্যকরি ষোলআনা;<br />
অতএব নিজে নাও,<br />
বাড়তি দামে অন্যদেরও দাও, বেশি বেশি;<br />
ঠকবে নাকো মোটেই।’</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিমত পোষণে আমি: ‘ক্ষুধার অন্ন আর<br />
বস্ত্রহীনের বস্ত্র ছাড়া<br />
আমরা চাই না অন্যকিছু;<br />
আমাদের এ-জীবন তো আমাদেরই,<br />
স্বপ্নহীন যায় যদি আমাদের রাত কিংবা দিন,<br />
তাতে কী ক্ষতি অন্যের ?<br />
আর জোর করে স্বপ্ন দেবে,<br />
গণতান্ত্রিক দেশে এটা কেমন কথা ভাই?’</p>
<p style="text-align: justify">অগ্নিশর্মা ফেরিওয়ালা পিস্তল বের করে<br />
গর্জে ওঠে:<br />
‘আমাদের স্বপ্ন নিয়ে হেলাফেলা?<br />
আমাদের পূর্বপুরুষের অসম্মান?<br />
যদি স্বপ্নহীন বাঁচার সখ এতই,<br />
তবে যাও শালা একেবারে স্বপ্নহীন দেশে!’</p>
<p style="text-align: justify">রুদ্ধ আর্তনাদে টুটে যায় আমার ঘুম;<br />
তৎক্ষণাৎ বুক চেপে উঠে বসি<br />
ঘামভেজা বিশৃৃঙ্খল চাদর;<br />
বালিশটার দিকে হাত বাড়াতেও ভয় পাই।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/07/22/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আকাশের ঠিকানায় সাগরের চিঠি ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/03/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/03/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 02 May 2022 18:05:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1890</guid>

					<description><![CDATA[যেদিন প্রথম দেখা, রাজশাহী নিউ মার্কেটে, ভালো লেগেছিল, দেখতে তো তুমি সুন্দরই ছিলে, লম্বা, ছিপছিপে, মাথাভর্তি চুল বোতামের ফাঁক দিয়ে বুকভরা লোমের উঁকিঝুঁকি; কিন্তু আমাকে মুগ্ধ করেছিল তোমার কথা, যেন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">যেদিন প্রথম দেখা, রাজশাহী নিউ মার্কেটে,<br />
ভালো লেগেছিল,<br />
দেখতে তো তুমি সুন্দরই ছিলে,<br />
লম্বা, ছিপছিপে, মাথাভর্তি চুল<br />
বোতামের ফাঁক দিয়ে<br />
বুকভরা লোমের উঁকিঝুঁকি;<br />
কিন্তু আমাকে মুগ্ধ করেছিল তোমার কথা,<br />
যেন নজরুলের কবিতা,<br />
অবিশ্বাস করবো-<br />
এমন কোনো ফাঁক ছিল না উচ্চারণে।<br />
অবশ্য তখন আমার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা নয়,<br />
তখন আমার প্রেমে পড়ারও সময় ছিল না হাতে।</p>
<p style="text-align: justify">তখন আমার পায়ের পাতা ছুঁয়ে-অ্যাপ্রন-উজ্জ্বল দিন;<br />
তখন আমার বাস্তবের বারান্দায় কল্পনার হাওয়ার দোলা;<br />
তখন আমার উঠোন জড়িয়ে-<br />
একটি স্বপ্নমাখা ভবিষ্যতের ভূগোল;<br />
কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বুঝতে পারি<br />
বিধাতার বাসনায় প্রচুর প্যারাডক্স থাকে,<br />
সেদিনও ছিল; আজও কি নেই?</p>
<p style="text-align: justify">তো অতঃপর আমার অন্তরঙ্গ আনন্দিত হওয়ার পালা শুরু<br />
অতঃপর আমার নিবিড় বিস্মিত হওয়ার পালা শুরু<br />
অতঃপর আমার অভূতপূর্ব চাপাকান্নার অঘোষিত উদ্বোধন;</p>
<p style="text-align: justify">তুমি চরাঞ্চলের কৃষকের ছেলে ছিলে বলে<br />
কৃষকদের প্রতি তোমার বাড়তি পক্ষপাত দেখে বিস্মিত হইনি;<br />
কিন্তু রিকশায় উঠেই রিকশাওয়ালার সাথে<br />
ছোট পরিবার আর শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে<br />
আলাপ জুড়ে দেয়া,<br />
‘বুঝলে, কোনোভাবেই দুটোর বেশি সন্তান নেবে না,<br />
আর যতই কষ্ট হউক, তাদের লেখাপড়া করাবে!’<br />
দোকানে গিয়ে ধূর্ত দোকানির সবকথাকেই<br />
মুহূর্তে বিশ্বাস করে ফেলা,<br />
‘ঠিক আছে, এটা প্যাক করে দিন।’<br />
অফিসের কেরানী আজিজ বাসায় এলে<br />
তাকে আপ্যায়নে বাড়াবাড়ি,<br />
পিওন শফিককে পাশে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে<br />
একসাথে ডিনার করা, সত্যি বলতে কি আকাশ,<br />
এসব আমার ভালো লাগতো না;<br />
আফটার অল, আমি তখন শহরের<br />
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা<br />
এক কলেজ-যুবতী যার শরীরে<br />
দুটি জোতদার রক্তের ক্ষয়িষ্ণু ধারা,<br />
যার আবেগ ও রুচির প্রশ্ন<br />
নির্বাচিত সিলেবাসের সাজেশন নিয়ে তৈরি।</p>
<p style="text-align: justify">অথচ আমার চোখের ভাষাকে অগ্রাহ্য করে<br />
প্রৌঢ়া এক কাজের মহিলাকে তুমি<br />
এমনভাবে খালা বানিয়ে তুললে যে-<br />
পড়শি ভাবীরা পযন্ত বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেন-<br />
তিনি তোমার সত্যিকারের খালা,<br />
গরীব হয়ে পড়ায় রান্নাবান্না করেন আমাদের বাসায়!</p>
<p style="text-align: justify">আমার মনে আছে, তোমার অধর থেকে<br />
তখনো বেরিয়ে আসতো ছাত্রজীবনের বামপন্থী ঘ্রাণ<br />
যদিও বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্রের পতনে<br />
মুকুল ভাইয়ের মতো শোকাহত ছিলে তুমিও।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু যেই পন্থী হও, তুমিও পদোন্নতি চাইতে;<br />
কাজের ফাঁকে ফাঁকে কীসব বিদঘুটে ধরনের<br />
বইপত্র পড়তে! হায় পদোন্নতি!<br />
এদেশের সরকারি চাকরিতে কখন কীভাবে<br />
কেন পদোন্নতি হয়, আর কেন যে হয় না,<br />
এত বোঝো, অথচ আজ পর্যন্ত এই ছোট্ট বিষয়টা<br />
বোঝাতে পারলে না আমাকে!<br />
তোমার নাকি এসিআর ভালো; সবকিছু ক্লিয়ার;<br />
তাহলে বাধা কোথায়!<br />
আচ্ছা আকাশ, এসএসবি জিনিসটা কী?<br />
সেটা কি বোদলেয়ারের বিড়াল<br />
কিংবা টেড হিউজের কাক<br />
অথবা জীবনানন্দ দাশের<br />
মহিনের ঘোড়াগুলোর লাহান কিছু?<br />
তুমি তো অন্তত আমাকে একবার দেখাতে পারতে!<br />
তোমাদের সরকারি চাকরিজীবীদের বাইবেল-<br />
অই যে ফিরোজ মিয়ার ‘চাকরিবিধি’ বইটি,<br />
যেটা প্রায়শই পড়তে তুমি অফিস যাওয়ার আগে,<br />
সেটি পড়া ছেড়ে দিয়েছো তুমি সেই কবে! কেন?</p>
<p style="text-align: justify">অবশেষে চল্লিশোর্ধ্ব নাহার খালার বিয়ের মতো<br />
বঞ্চিত সেই তোমার পদোন্নতি হলো একদিন;<br />
আহা পদোন্নতি!<br />
গাড়ি পেলে, সাথে ইয়ং এক ড্রাইভারও;<br />
আমার তো আনন্দ; সায়মাও খুশি;<br />
আর কয়েকমাস যেতে না যেতেই<br />
আমাদের ছোট্ট শিমুল<br />
ড্রাইভার আজিজুলকে বানিয়ে নিলো<br />
তার সবচেয়ে আপনজন;<br />
সায়মা-শিমুল আজিজুলকে পাশে নিয়ে<br />
ডাইনিং টেবিলে বসে খায়<br />
আর কোথায় কোথায় যাবে<br />
তার অগ্রিম ট্যুর প্রোগ্রাম বানিয়ে<br />
মেতে ওঠে উচ্ছলতায়;<br />
শিমুল বড় হয়ে ড্রাইভার হবে,<br />
আজিজুলের মতই তার একটি গাড়ি থাকবে,<br />
ইস্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই সে লিখে ফেললো<br />
তার মাই এম ইন লাইফ রচনা<br />
আনকোরা শৈশবের স্লেটে।</p>
<p style="text-align: justify">আন্তর্জাতিক নারী দিবস আসে<br />
আসে বেগম রোকেয়া দিবস,<br />
নারী স্বাধীনতার লম্বা মিছিল,<br />
উচ্চকিত স্লোগান:<br />
‘নারীর প্রতি বৈষম্য, মানি না, মানবো না!’<br />
আমাকে সাথে নিয়ে তুমি মেতে ওঠো<br />
সে-মিছিলের নেতৃত্বে,<br />
অনভ্যস্ত সেই আমাকে বক্তৃতা দিতে হয়<br />
আলোচনা অনুষ্ঠানে;<br />
প্রাইমারির সুরাইয়া আপা নতুন বাঁধা ভাওয়াইয়া গানে<br />
ভাসিয়ে দেন নারী বৈরিতার যাবতীয় জঞ্জাল!<br />
এমনই হাততালি, মনে হয়<br />
হাততালির শব্দে ফেটে যাবে<br />
পুরুষতন্ত্রের পুরানো কান !<br />
অভ্যস্ত স্থানীয় মাননীয়দের না নিয়ে,<br />
জেলা প্রশাসকদের বাদ দিয়ে,<br />
তুমি স্থানীয় বিশিষ্ট নারীদের প্রধান অতিথি,<br />
বিশেষ অতিথি বানাও-<br />
সে-সকল সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে!<br />
তোমার পুরুষ সহকর্মীরা,<br />
যারা সংখ্যায় ছিল প্রায় নব্বই ভাগ,<br />
এসব মন থেকে মেনে নিতেন না,<br />
সেটা আমি তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে<br />
ঠিকই টের পেতাম; জেনেও ছিলাম;<br />
আমার একধরনের ভয়ও হতো।<br />
কিন্তু ক্যাম্পাসের আমন্ত্রিত ভাবীগণ,<br />
স্কুল-কলেজের ম্যাডামবৃন্দ,<br />
অংশগ্রহণকারী এনজিও-নারীরা<br />
সর্বোপরি স্লোগানে সোচ্চার ছাত্রীরা<br />
গভীরভাবে উচ্ছলিত হয়ে উঠতেন;<br />
অবসরের দেয়ালে হেলান দিয়ে<br />
ফেলে আসা দিনের দিকে তাকালে-<br />
তাদের চোখমুখের সেই উদ্ভাসিত ছবি-<br />
আজও আমি দেখতে পাই।</p>
<p style="text-align: justify">নারী স্বাধীনতার ইঞ্জিনে তুমি কতটুকু অকটেন দিতে পেরেছিলে,<br />
সে-হিসাব আমার কাছে নেই,<br />
হয়তোবা সে কথা ভুলে যেতে বসেছেন<br />
সেদিনের সেই নারীরাও;<br />
তবে একথা আমি আজও ভুলিনি-<br />
সেদিনের সেই তুমি, যাকে বলে হিরো-,<br />
তাই-ই হয়ে উঠেছিল<br />
বেশকিছু নারীর চোখে,<br />
যাদের-কেউ ছিলেন চাকরিজীবী,<br />
কেউ এনজিওকর্মী,<br />
কেউ ছাত্রী,<br />
কেউবা আমার মতো কক্ষচ্যুত নক্ষত্র।<br />
আমি এসব, বলা যায়, এনজয়ই করতাম,<br />
বলা যায়, এক ধরনের গর্বও হতো আমার যদিও<br />
মুখ ফুটে সেসব কাউকে বলতাম না,<br />
তোমাকে তো নতো নয়ই।</p>
<p style="text-align: justify">পুরোহিত সময়কে পিছে ফেলে, তুমি আর আমি,<br />
হাত ধরাধরি করে হাঁটতাম-<br />
সকালে, সন্ধ্যায়, রৌদ্রে, বৃষ্টিতে, শীতেও;<br />
আর ছুটির দিন পুকুরঘাটে বসে সিলেবাসহীন আড্ডা!<br />
ক্যাম্পাসের ভাবীরা প্রথম প্রথম অবাক হতেন,<br />
পরে তারাও কেউ কেউ যোগ দিতেন আমাদের সাথে;<br />
আমরা যখন লক্ষীপুরে, ডিসিভাবী তো দেখামাত্রই<br />
‘এই যে এসে গেছে মানিকজোড়’- বলে আমাদের<br />
পাশে বসিয়ে আদর করতেন,<br />
আমরা উৎসাহিত হতাম, ধন্যবাদ দিয়ে বলতাম,<br />
‘আমাদের জন্য দোয়া করবেন, ভাবী!’<br />
অবশ্য তোমাকে ঘিরে ব্যাচমেট ভাবীদের<br />
কারও কারও মুগ্ধ দৃষ্টি, নিবিড় প্রশংসা<br />
মাঝে মাঝে সন্দেহের মেঘ জমাতো<br />
আমার মনের আকাশে,<br />
কিন্তু তোমার প্রতি গভীর বিশ্বাস ছিল বলে<br />
সেসবকে পাত্তা দিতাম না মোটেও।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ পেতাম,<br />
আমরা রৌদ্রে পুড়ে আনন্দ পেতাম<br />
আমরা সচ্ছল সহবাসে আনন্দ পেতাম<br />
আমরা একটা ছোট্টো চুমুতে আনন্দ পেতাম<br />
আমরা পাতানো ঝগড়ায় আনন্দ পেতাম<br />
আমরা প্রাপ্তিতে আনন্দ পেতাম<br />
আমরা অপেক্ষায় আনন্দ পেতাম<br />
আমরা সাফল্যে আনন্দ পেতাম<br />
আমরা ব্যর্থতায় আনন্দ পেতাম।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবেই চলতে পারতো জীবন-<br />
এভাবেই চলতে পারতো সবকিছু;<br />
কিন্তু আবারও বিধাতার বাসনার প্যারাডক্স!<br />
সহসায় আমার নিবিড় বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়ে<br />
একবার একটা বিল ক্লিনটন করে বসলে!<br />
আর কাঁদোমাদো চোখ রেখে আমার উৎকণ্ঠিত চোখে-<br />
হাতজোড় সত্যবাদিতায় স্বীকার করলে সবকিছু<br />
‘আমাকে বাঁচাও সাগর! আমাকে বাঁচাও!<br />
প্লিজ! প্লিজ! প্লিজ!<br />
আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে চাই না!’<br />
আমি কোনো কথা বলার আগেই<br />
পলাশীর আম্রকানন ছোঁয়া সেই<br />
ঐতিহাসিক বেদনা ও গালি সিডর হয়ে<br />
তোলাপাড় জুড়ে দিলো<br />
মেঘনার পাড় ছুঁয়ে থাকা আমার ছায়াঢাকা বুকে!</p>
<p style="text-align: justify">ঘৃণা শব্দটিকে তার পরিপূর্ণ ব্যঞ্জনায়<br />
সেই প্রথমবারের মতো আবিস্কার করলাম আমি!<br />
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো<br />
কী ভয়ানক কুৎসিত একটা মুখ! তাহলে আমি কি<br />
এ মুখেই চুম খেয়ে এসেছি এতদিন?<br />
চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল আমার!<br />
কীসের ক্ষমা! ইচ্ছে হলো, থাপ্পড় থাপ্পড়ে<br />
তোমার বাম গালটা বাঁকা করে দিয়ে,<br />
পার হয়ে এশিয়ান হাইওয়ের ওপর নির্মিত<br />
এশিয়ার একাদশ বৃহত্তম সেতু,<br />
একটানে চলে যাই বেগম রোকেয়ার বাড়ি,<br />
একটি ভুল মানুষের জন্য<br />
যেখানে ফেলে এসেছি আমি আমার<br />
সারাজীবনের স্বপ্ন ও ভালোবাসার সিলেবাস!</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু বিধাতা বোধহয় পুরুষ!<br />
তিনি তোমার পক্ষ নিলেন;<br />
আমার এজহারহীন চোখের জলে-<br />
ধুয়ে গেল<br />
ভেসে গলে<br />
ডুবে গেল<br />
সাংসারিক ইমপিচমেন্টের ভাবনা!</p>
<p style="text-align: justify">তুমি চাকরি করো, কবিতা লেখো, বক্তৃতা দাও<br />
হাঁটো, খাটো, ঘুমাও-<br />
সবখানেই তোমার একটা বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে<br />
মানবতার পক্ষে অনড় তোমার অবস্থান;<br />
বসরার গুলবাগিচায় মার্কিনীদের বোমা পড়ে,<br />
উত্তরাধুনিকতার বেড়া ভেঙে-<br />
তোমার কবিতায় ঢুকে পড়ে নজরুলীয় আবেগ;<br />
আফ্রিকার দুর্ভিক্ষপীড়িত শিশু ও শকুনের ছবি<br />
কেভিন কার্টারের ক্যামেরা নয়,<br />
তোমার হাতে তুলে দেয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের হারানো কলম;</p>
<p style="text-align: justify">রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে-ঘুমের মধ্যে<br />
জেগে ওঠো তুমি, ঘুম ভেঙে যায় আমারও;<br />
আসামের বাঙালিদের তাড়াতে অন্যায় এনআরসি হয়,<br />
তুমি ছটফট করো, তোমার হাতে রচিত হয়-<br />
গণতন্ত্রের জঙ্গলায়ন নামক প্রতিবাদের কবিতা;<br />
অথচ আবার ভেতরের ও বাইরের অনেক চাপের কাছে<br />
মাঝে মাঝে হেরে গেছো তুমি,<br />
মাঝে মাঝে সারেন্ডার করেছো,<br />
মাঝে মাঝে পিছু হটে এসেছো;<br />
এটা তোমারই কথা, বাল্যে পড়শির বরইগাছে ঢিল ছোড়া<br />
ছিল তোমার দ্বিতীয় আনন্দ;</p>
<p style="text-align: justify">হয়তোবা তারই প্রভাব<br />
তাই মাঝে মাঝে ভুলের চাররঙা ঠোঁটে<br />
চুমু দিয়ে দেখতে গোপনে;<br />
অথবা হয়তো এটাই আসল কারণ যে-<br />
নিয়তিও তোমার পক্ষে থাকেনি কখনও<br />
একটানা কয়েক বছর;<br />
যখনই বড় কোনাকিছু করতে চেয়েছি আমরা,<br />
তখনই মুহম্মদ বিন তুঘলকের ভাগ্য এসে<br />
দাঁড়িয়েছে বাস্তবায়নের পথে;<br />
নদীপাড়ে জন্ম তোমার; নদীই তোমার প্রথম প্রেমিকা<br />
তোমার কবিতা মানেই-<br />
স্রোত, ঢেউ, ছলছল, কলকল আর পাড়ভাঙার শব্দ!</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু কেবল নদীর কবিতাই নয়, নদীপাড়ের ভাগ্যও তোমাকে<br />
ছেড়ে যাইনি কোনোদিন!<br />
একথা ওকথা বলে তুমি আমাকে বোঝাতে চাইলেও<br />
আমি আসল ব্যাপারটা ঠিকই টের পেয়ে যেতাম।<br />
কিন্তু তুমি কষ্ট পাবে বলে বলিনি তোমাকে কোনোদিন।<br />
আমি এও বুঝি-<br />
সরকারি চাকরি একটা অন্য জিনিস;<br />
আর চাইলেও নজরুল হওয়া যায় না;<br />
বিদ্যাসাগরেরাও একবারই জন্মান দুনিয়ায়।</p>
<p style="text-align: justify">এটা ঠিক, শুরু থেকেই নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে<br />
তোমার সোচ্চার ভূমিকা<br />
ধাক্কা দিয়ে গেছে পুরুষতন্ত্রের প্রাসাদে ;<br />
আমি এও বুঝি-সারাদিন, সারামাস, সারাবছর-<br />
তুমি আমাকেও গভীরভাবে ভালোবাসো,<br />
সাগরবিহীন জীবন তুমি কল্পনাও করতে পারো না,<br />
যারা তোমার কাছাকাছি অন্তত একবার এসেছে,<br />
যারা পড়ে দেখেছে তোমার অসংখ্য কবিতা,<br />
তারা সবাই জানে এবং বিশ্বাসও করে&#8211;এসব।<br />
আমি তো করিই।</p>
<p style="text-align: justify">শুধু আমাকে খুশি করতে, আমাদের যৌথজীবনের<br />
প্রথমদিন থেকেই, তুমি ছেড়ে দিয়েছো-<br />
তোমার দেড়যুগের ভালোবাসা:<br />
প্রথমত আমি তোমাকে চাই<br />
দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই<br />
তৃতীয়ত আমি তোমাকে চাই!<br />
না, শেষপর্যন্ত আর ঠোঁট ভিড়াওনি তার ঠোঁটে;<br />
এমনকি বন্ধনের কোনো পিকনিকে গিয়ে<br />
গাছের আড়ালেও তাকে ছুঁয়ে দেখোনি<br />
পুরাতন একটিবার;</p>
<p style="text-align: justify">অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে,<br />
সেই তোমার জীবনে<br />
আমি ছাড়াও অনেক নারী এসেছে,<br />
যারা তোমার কবিতায়<br />
কখনো সমুনা<br />
কখনো জোয়ানা<br />
কখনোবা পপি<br />
কখনোবা সুমি<br />
কখনো আবার হে শ্যামাঙ্গী অধ্যাপিকা;<br />
এবং এমন আরও কত!<br />
এদের কাউকে কাউকে আমি নিজেও দেখেছি।<br />
তুমি লিখেছো-<br />
‘আমি কবি, ভালোবাসা আমার বদাভ্যাস।’<br />
আর কেউ জানুক বা না জানুক, আমি জানি,<br />
এটা শুধু কাব্যিকতা নয়; এটা কেবল কথার কথা নয়।</p>
<p style="text-align: justify">আমি জানি না, এসব নারীর সাথে তোমার সম্পর্কের<br />
একচুয়াল ধরন কিংবা পরিধির কথা<br />
কিন্তু তুমি নিজেই লিখেছো,<br />
‘ভালোবাসা অনিয়মের নদী।’<br />
হয়তো এসব অনিয়মের নদীতে-<br />
দু’একবার ডুব দিয়েছো তুমি,<br />
হয়তো দাওনি,<br />
কিন্তু আমি টের পাই, সুযোগ পেলেই তুমি<br />
নদীর কলতানে কান পাতো,<br />
তীরে বসে ঢেউ গোনো,<br />
জলের আঁচল উড়ে এলে,<br />
হাতে নিতে হাত বাড়াতে যাও!<br />
একদিন নয়, দুদিন নয়, এক-দুছরও নয়,<br />
তোমার সাথে একটানা ছাব্বিশ বছর<br />
আমি আজ নিশ্চিত যে-<br />
তুমি কোনোদিনও শাহরুখ খানের মতো<br />
একনিষ্ঠ ছিলে না;<br />
আজও তা হয়েছো কি না, জানি না;</p>
<p style="text-align: justify">অথচ আমার প্রতি তোমার টানেও<br />
ঘাটতি দেখিনি কোনোদিন<br />
কোনোদিনও মনে হয়নি, এমনকি আজও নয়-<br />
তোমার কাছে এতটুকু ফুরিয়ে গেছি আমি;<br />
দেশের ভেতরে বা বাইরে, যেখানেই যাও,<br />
আমাকে সাথে নেয়ার জন্য পাগল হয়ে ওঠো,<br />
তোমার পাগলামির কাছে হার মানতে হয়<br />
দোটানায় পীড়িত এই আমাকে;<br />
পিকনিকে, অথবা অন্য কোনো গেট টুগেদারে,<br />
আমাকে নিয়ে যৌথতায় আবৃত্তি করো কবিতা,<br />
পাশে দাঁড়িয়ে গলা মেলাও আমার গানের সাথে;<br />
আমি যতখানি নই, তারচেয়ে বড় জানো আমাকে<br />
এবং সেভাবেই উপস্থাপন করো-<br />
তোমার কবিতায়, বক্তৃতায়, পারিবারিক আড্ডায়,<br />
অন্যদের সাথে আলোচনায়।</p>
<p style="text-align: justify">অথচ সবকিছুর যৌথ-অংশীদার হয়েও<br />
আজও নিশ্চিত হতে পারিনি-<br />
কী তোমার ভালোবাসার কেন্দ্র,<br />
কোথায় তার পরিধি!<br />
একবার মনে হয়, তুমি অসম্ভব ভালো;<br />
আবার মনে হয়-অনেকখানি খারাপ;<br />
একবার মনে হয়-সত্যিই ভালোবাসতে জানো তুমি,<br />
আবার মনে হয়, তোমার সবকিছুই বোগাস,<br />
মনে হয়, তোমার সবকিছুই-<br />
হাওয়ায় দোলা অদ্ভুতচারিতা!<br />
কী গ্রন্থিল স্ববিরোধ তোমার মাঝে!<br />
কী এক অমীমাংসিত মানুষ তুমি!</p>
<p style="text-align: justify">তুমি তো জানো, আমি বরাবরই রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্ত,<br />
পরিমিত আর পরিশীলিত আমার প্রতিটি মুহূর্ত<br />
অথচ তুমি তোমার প্রিয় নজরুলসঙ্গীতের রচয়িতার মতো<br />
বাসনায় এলোমেলো, স্ববিরোধে সার্বভৌম;<br />
মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়-যখন ভাবি-<br />
আমি আজও বুঝে উঠতে পারিনি<br />
তুমি আসলে কি চাও!<br />
আমি তো তোমার জীবনের কোনো সিলেবাস খুঁজে পাইনি!<br />
মাঝেমাঝে ইচ্ছে করে<br />
ওদের একবার জিজ্ঞাসা করি!<br />
কিন্তু ওরাও কি জানে কিছু!</p>
<p style="text-align: justify">হায়, পদ্মাপাড়ের দুরন্ত মার্বেলবালক,<br />
সোনালী ব্যাংক শাসিত শহরে এসেও<br />
আজীবন মার্বেল বালকই রয়ে গেলে;<br />
খেলে গেলে নিজের জীবন নিয়ে<br />
সে-জীবনে জড়িয়ে রইলাম আমিও;<br />
জড়িয়ে রইলো-অনাগত হাজারো রাত ও দিন<br />
জড়িয়ে রইলো- কত অন্তরঙ্গ অনিশ্চয়তা!<br />
জড়িয়ে রইলো- আরও কত কি!</p>
<p style="text-align: justify">না। আমি রবিশঙ্করের অন্নপূর্ণা হওয়ায় বিশ্বাসী নই;<br />
কোনোদিনও তা ছিলাম না।<br />
তারপরও জেনেশুনে তোমার সকল কাজে সহায় হয়েছি<br />
দুঃসময়ের চাকায় তোমার এক পা ভেঙে গেলে<br />
আমি তোমার ক্র্যাচ হয়েছি<br />
লক্ষ্য ঠিক রেখে, যাতে করে তুমি,<br />
তোমার প্রিয় ক্রাচের কর্নেলের মতো<br />
এগিয়ে যেতে পারো বাকিটা জীবন।<br />
কবিতা ভালোবাসো বলে বিজ্ঞানের ছাত্রী এই আমি<br />
আইনস্টাইনের ভক্ত হয়েও মুখস্থ করেছি<br />
জীবনানন্দ-আল মাহমুদ-আবুল হাসানকে।</p>
<p style="text-align: justify">তুমি তো জানো, যাকে বলে গড়পড়তা নারী,<br />
কোনোক্রমেই আমি তা নই;<br />
সেই অবলা-অসহায় প্রাণীও ছিলাম না কোনোদিন,<br />
যেখানে মিলেছে যৌথতায়, তোমার সহায় হয়েছি<br />
কিন্তু একটিবারও ভুলে যাইনি,<br />
এজীবনে আমারও রয়েছে নিজস্ব ব্রত;<br />
সম্মিলিত পায়ে, অথবা একলা-<br />
আমারও রয়েছে গন্তব্যগামী পথচলা;<br />
তোমার এত নামধাম হওয়া সত্ত্বেও<br />
আমার নামের ডানপাশে-<br />
রচিনি তোমার নামের উজ্জ্বল উপনিবেশ।</p>
<p style="text-align: justify">অধিকন্তু অনেক টেকসই সৌন্দর্য নিয়ে জন্ম আমার;<br />
তুমিও জানো, বিয়ের আগে এবং পরে-<br />
আমাকে ভালোবেসে এসেছে অনেক পুরুষ,<br />
কত সহকর্মী, ব্যাচেলর অথবা বিবাহিত,<br />
আমার সাথে শুধু দুটো কথা বলার জন্য<br />
আমাদের বাসায় এসেছে-<br />
ছুটির বিকেলে, উৎসবের সন্ধ্যায়,<br />
কখনোবা তোমার সাথে অফিসিয়াল বিষয়ে<br />
জরুরি পরামর্শ করার অজুহাতে,<br />
অনেকখানি অসময়ে।<br />
আর এখন তো আমার মহাবিশ্বে যোগ হয়েছে-<br />
আরো দুটি নতুন পৃথিবী;<br />
তসলিমা নাসরিনের প্রতিটি বই, একের পর এক<br />
তুমিই এনে দিয়েছো;<br />
সেসবের-<br />
প্রতিটি বাক্য,<br />
প্রতিটি শব্দ,<br />
পড়েছি আমি;<br />
আমার বিড়ম্বিত বিশ্বাসে গেঁথেও রয়েছে<br />
সেসবের অনেকগুলো;<br />
অথচ তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি না<br />
তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতে গেলে<br />
না! না!-করে ওঠে আমার অন্তরঙ্গ অস্তিত্ব;<br />
আকাশ, আমি কি তোমাকে ভালোবাসি?</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/03/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাহিত্যচর্চা ও পরিচর্যা, রাজধানী থেকে দূরে ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 04 Apr 2022 17:32:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1824</guid>

					<description><![CDATA[বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মসূত্রে কলকাতা শহরের মানুষ ছিলেন এবং রাজকীয় পরিবারে মানুষ ছিলেন।কিন্তু তাঁর সৃজনশীল জীবনের বড় অংশটাই কেটেছে কলকাতা শহর থেকে দূরে-অনেক অনেক দূরে-প্রকৃতির কোলে।শিলাইদহ, শাহজাদপুর, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মসূত্রে কলকাতা শহরের মানুষ ছিলেন এবং রাজকীয় পরিবারে মানুষ ছিলেন।কিন্তু তাঁর সৃজনশীল জীবনের বড় অংশটাই কেটেছে কলকাতা শহর থেকে দূরে-অনেক অনেক দূরে-প্রকৃতির কোলে।শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর এবং তাঁরই তৈরি শান্তিনিকেতনে।তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক লেখক-বলা যায় সর্বমাত্রিক লেখক।কি নেই তাঁর লেখায়? তারপরও শেষ জীবনে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, তিনি যাদের সাথে অন্তরঙ্গভাবে মিশতে চেয়েছিলেন, যাদের ‘লোক’ হতে চেয়েছিলেন , তাদের সঙ্গে তাঁর যাপিত জীবনে ও সৃজনশীলতায় একটা ফাঁক রয়ে গিয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সেটা অনেকটাই অপরিহার্য ছিল।তবু তিনি তা মেনে নিতে পারেননি মন থেকে।একটা অন্তরঙ্গ বেদনা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল আমৃত্যু।তিনি তাঁর শেষজীবনে সেসব নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছিলেন।তাঁর তেমনি একটি কবিতার নাম ‘ ঐকতান’। তিনি এ-কবিতায় বলেছিলেন,<br />
‘কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন,<br />
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,<br />
যে আছে মাটির কাছাকাছি,<br />
সে কবির-বাণী-লাগি কান পেতে আছি।<br />
সাহিত্যের আনন্দের ভোজে<br />
নিজে যা পারি না দিতে,<br />
নিত্য আমি থাকি তারি খোঁজে।<br />
সেটা সত্য হোক<br />
শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন না ভোলায় চোখ।<br />
সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যের খ্যাতি করা চুরি<br />
ভালো নয়, ভালো নয়, সে শৌখিন মজদুরি।<br />
এসো কবি অখ্যাতজনের<br />
নির্বাক মনের।<br />
মর্মের বেদনা যত করিয়া উদ্ধার-<br />
প্রাণীহন এ দেশেতে গানহীন যেথা চারি ধার,<br />
অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি<br />
রসে পূর্ণ করি দাও তুমি।<br />
অন্তরে যে উৎস তার আছে আপনারই<br />
তাই তুমি দাও উদবারি।’</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই তাঁর সেই প্রার্থনা মঞ্জুর হয়েছিল। ‘অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি রসে পূর্ণ’ করে দিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম-জসীমউদদীনের দল যারা ছিলেন মাটির কাছাকাছি থাকা, মাটির সাথে গা লাগিয়ে থাকা কবি-সংগীতকার-কথাশিল্পী।বাংলা সাহিত্যে-সংগীতে-সিনেমায়-চিত্রশিল্পে গ্রামবাংলার কোনো শ্রেণিরই মানুষ আর অনুপস্থিত থাকেনি। কিন্তু পুনরায় বেশ কিছুদিন ধরে বাংলা শিল্পসাহিত্য কেবলমাত্র শহরের উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির কতিপয় মানুষের চর্চার ও উপভোগের জিনিস হয়ে উঠতে চাইছে।আধুনিকতা-উত্তরাধুনিকতা আরও কত ইজম !</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু কোনোটাই গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের ছবি চিত্রিত করার অনুকূলে নয়।তদুপরি বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র বিধায় সবকিছুর রাজধানী, সবকিছুর মঞ্চ, সবকিছুরই নিয়ন্ত্রণ-কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকা।বাকিসব ‘মফস্বল’।আর মফস্বলের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রে বেজে ওঠার সুযোগ পায় না; কখনবো বেজে উঠলেও তা ‘পাত্তা’ পায় না। তো রাজধানীর বাইরের শিল্পসাহিত্যচর্চা ‘অবজ্ঞার তাপে’ শুকিয়ে মরে যেতে বসার উপক্রম হচ্ছে আবারও। তবে তৃণমূলব্যাপী বিদ্যুতায়ন, পাকাসড়কের সংযুক্তি, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি মফস্বলের শিল্পসাহিত্য চর্চার পক্ষে অনেকখানি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আর সব ব্যবধান একসাথে ঘুচিয়ে দিতে চায় ফেসবুক। তো ফেসবুকের বিরুদ্ধে ফেসবকু-সাহিত্য বলে নাক সিটকানো উন্নাসিকতা কারও কারও কথায় ফুটে উঠলেও তাতে কিছু আসে না তৃণমূলের সাহিত্যচর্চার। রাজধানীর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে রাজধানীর বাইরের শিল্পসাহিত্যের চর্চা।</p>
<p style="text-align: justify">আমি জন্মসূত্রে গাঁয়ের ছেলে। কর্মসূত্রেও ঢাকার বাইরে কেটেছে ১৫/১৬ বছর।তারপর প্রায় ১৭/১৮ বছর ঢাকায় আছি। বাধ্য হয়ে।এই রাজধানীতে যারা সাহিত্য চর্চা করেছেন, এখন করছেন, তাদের সকলের সাথে মেলামেশার কিংবা অন্তরঙ্গ হওয়ার সুযোগ না হলেও তাদের সাহিত্যকর্ম, তাদের শিল্পকর্ম পড়ে দেখার, চেয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এখনও পাচ্ছি।তেমনি রাজধানীতে বসবাস করে পড়ছি রাজধানীর বাইরে রচিত-সৃষ্ট শিল্পসাহিত্য।আমি রাশিদা সুলতানার নগরজৈবনিক ছো্টগল্প-কবিতা পড়ছি, একইসঙ্গে পড়ছি রাজধানী থেকে দূরে থাকা এলিজা খাতুনের গল্প-কবিতা।পড়ছি ঢাকাকেন্দ্রিক অন্যান্য কবি-কথাসাহিত্যিকদের কবিতা-গল্প-উপন্যাস, একইসঙ্গে পড়ছি ‘মফস্বলবাসী’ মাসুদার রহমান-অনিফ রুবেদ-তামিম মাহমুদ সিদ্দিকদেরও নানামুখী রচনাও।আমি তাদের কারও কারও কথাসাহিত্য-কবিতা নিয়ে কিছু লেখাও লিখেছি; সেগুলোর কয়েকটি প্রকাশিত হয়েছে। আশা করি বাকিগুলোও হবে।এত কথা বললাম একটি আয়োজনের কথা বলবো বলে।</p>
<p style="text-align: justify">শুক্রবার (১ এপ্রিল ২০২২) নওগাঁ গিয়েছিলাম।বিখ্যাত লিটল ম্যাগাজিন ‘পুনশ্চ’ এর সম্পাদক এবং ‘পুনশ্চ , শিল্পের আড়ং’ নামের প্রকাশনা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা কবি রবু শেঠ আয়োজিত একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। অতীশ দীপঙ্কর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হুমায়ুন কবির, অন্নদাশঙ্কর রায়, আখতার হামিদ খান প্রভৃতি মনিষীর স্মৃতিধন্য নওগাঁয় এক বছরের জন্য ছিলাম আমিও। নওগাঁয় মাত্র এক বছর। কিন্তু নওগাঁ আমার এতটাই আপন যতটা প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথের কবিতার দুটি লাইন: ‘ক্ষণিক মিলনে তবু হে অন্তরতম/তোমারে চিনিনু চিরপরিচিত মম।’ এই অনন্য সম্পর্কের অন্য প্রান্ত হচ্ছে বয়সে আমার অনেক ছোট কবি রবু শেঠ এবং এই সম্পর্কের গাছের শেকড়ে জল-মধু-সার দিয়ে এসেছে সে-ই। আর আমি তাকে দিয়ে শুধু ভালোবাসা ভরা সমর্থন। সে আমার পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অনুজ সদস্যসের সমান।আর নওগাঁর বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে আজতক অনেক কবিতা-ছড়া-কিশোর কবিতা লিখেছি, হয়তোবা যা নওগাঁর নিজস্ব কবি-সাহিত্যিকগণও লেখেননি। সেসব বলতে গেলে অনেক কথা বলতে হবে। আজ সে প্রসঙ্গ এ পর্যন্তই থাক।</p>
<p style="text-align: justify">বরেন্দ্রসভ্যতার প্রাণকেন্দ্র নওগাঁর সাহিত্য চর্চা নিয়ে একদিন আলাদা করে বলবো।একদিন হার-না-মানা জীবনসংগ্রামী রবু শেঠকে নিয়েও বলবো আলাদা করে। আজ শুধু দুদিন আগের আয়োজনের কথা বলি। সেটি ছিল ‘পুনশ্চ’ আয়োজিত ৭টি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব। ‘৭ বইয়ের আদ্যোপান্ত’ শিরোনামে পুনশ্চ প্রকাশনার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালের ১ এপ্রিল, শুক্রবার বিকেলে আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট, নওগাঁয় বর্ষীয়ান কবি-গবেষক আতাউল হক সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান ।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কবি আমিনুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে কবি সালিমুল শাহিনের ‘নৈকট্য একটি দূরত্বের নাম’ বই নিয়ে কবি ড. মাসুদুল হক, অনল আকাশের ‘প্রতিদিন একটি কবিতা’ নিয়ে কবি রাজা সহিদুল আসলাম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের ‘শিয়রে সন্ন্যাসী’ নিয়ে কবি রিঙকু অনিমিখ, রহমান হাবিবের কাব্যগ্রন্থ ‘ফুল কুড়ানোর দিন’ নিয়ে কবি মামুন রশীদ, গুরুদাস দত্ত বাবলুর ‘যত মত তত পথ’ নিয়ে প্রাবন্ধিক জাহান আলী, আবু হেনা মোস্তফা কামালের ‘চোরাবালি’ নিয়ে কবি সহস্র সুমন অনিমা দেবনাথের গল্পের বই ‘বই ও বাতায়ন’ নিয়ে আলোচনা করেন গল্পকার আসাদ সরকার।এর আগে ‘পুনশ্চ’ সম্পাদক ও প্রকাশক রবু শেঠের স্বাগত বক্তব্যের পর নির্বাচিত সাতটি বইয়ের পাঠ উন্মোচন করা হয়। পাঠ-উন্মোচন করেন মেহেদী হাসান, নিমো সাজু, সামস-ই-সাত্তার তামান্না চমন, রফিকুদ্দৌলা রাব্বি, তামিম মাহমুদ সিদ্দিক, তানিয়া খন্দকার, আবদুল্লাহ আল রাফি সরোজ।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রফেসর ড. শাবিন শাহরিয়ার , প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ (অব.) নওগাঁ সরকারি কলেজ, প্রফেসর মো. হামিদুল হক অধ্যক্ষ, সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ, নওগাঁ, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান অধ্যক্ষ, নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ এবং নওগাঁর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গল্পকার সাজিদ রহমান প্রমুখ।</p>
<p style="text-align: justify">সংস্কৃতিজনদের কথাপর্বে বক্তব্য রাখেন- কবি সরদার মোজাফফর হোসেন, অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারী, কবি নীল সোহন।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচনা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। নওগাঁকে নিয়ে লেখা আমিনুল ইসলামের ‘ভোরের হাওয়ায় ভাসে বাংলাদেশ ‘কবিতাটি আবৃত্তি করেন নওগাঁর নন্দিত বাচিকশিল্পী রফিকুদ্দৌলা রাব্বি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য রূপে উপস্থাপন করেন কবি-কথাশিল্পী অধ্যাপক তামিম মাহমুদ সিদ্দিক এবং বাচিকশিল্পী তানিয়া খন্দকার।</p>
<p style="text-align: justify">এক কথায় এটি ছিল পরিপূর্ণ প্রকাশনা অনুষ্ঠান। আমি রাজধানীতেও এমনটি দেখি না। ঢাকার বাইরে অবস্থানকারী ৭ জন কবি-কথাসাহিত্যিকের ১টি করে মোট ৭টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখকদের পরিচিতিপর্ব এবং তাদের নিজস্ব বক্তব্য, প্রতিটি বইয়ের ওপর একজন করে যোগ্য লেখকের আলোচনা এবং উদ্বোধক-সভাপতিসহ অতিথিদের বক্তব্য। স্বল্পকথায় বলেতে গলে, অনন্যমাত্রায় সমৃদ্ধ এক আয়োজন।কোনো পিঠ চুলকাচুলকি নয়, কোনো তৈলবাজি কিংবা বিরুদ্ধাচরণও নয়, আলোচকগণের আলোচনা ছিল আন্তরকিতাময় ও সুবিবেচনাপ্রসূত।তারা প্রতিটি বইয়ের সবল ও দুর্বল উভয়দিক নিয়ে কথা বলেছেন, তাদের নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন যা থেকে বইয়ের লেখকগণ উপকৃত হবেন, সন্দেহ নেই।বইয়ের লেখকগণও আলোচনা-সমালোচনাগুলো ইতিবাচক মন নিয়ে হাসিমুখে গ্রহণ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">প্রধান অতিথি ছিলাম বলে প্রতিটি বইয়ের ১টি করে কপি আমাকেও দেওয়া হয়েছিল। আমি সাথে করে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে দুতিনটি বই পড়া হয়ে গেছে আমার ।কবি সালিমুল শাহিনের ‘নৈকট্য একটি দূরত্বের নাম’ বইটি আমি বইমেলা চলাকালেই পড়েছিলাম এবং ফেসবুকের পাতায় একটা ছোট রিভিউ লিখেছিলাম। আজ পড়লাম কবি-কথাশিল্পী অনিমা দেবনাথের ছোটগল্পের বই ‘ বই ও বাতায়ন’। বইটির নামকরণও চমৎকার। অনিমা দেবনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে ব্যস্ত আছেন।তার ছোটগল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, এরই নাম মাটির কাছাকাছি থাকা লেখক; এরই নাম সত্যমূল্য দিয়ে কবি বা কথাশিল্পী নাম গ্রহণ। তার ‘মাসুমার স্বপ্ন’, ‘সময় ও অসহায়ত্ব’, ‘স্বাধীনের মা’ এবং অন্যান্য গল্পে ধারণ করেছে জনজীবনের নিবিড় ও গহণ ছবি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বানানো গল্প লেখেন, তারা পড়ে দেখতে পারেন অনিমা দেবনাথের ‘স্বাধীনের মা’ গল্পটি।</p>
<p style="text-align: justify">আমি এর আগে এলিজা খাতুনের ছোটগল্প নিয়ে লিখেছিলাম; তামিম মাহমুদ সিদ্দিকের ‘আতর’ গল্পটি নিয়ে কয়েকটি বাক্য লিখেছিলাম।এসব লেখায় আমি আসল বাংলাদেশকে দেখতে পাই।এই কথিত ‘মফস্বলে’ নগদ লাভ, পুরস্কারের লোভ, সেলিব্রেটি হওয়ার মোহ-ইত্যাদি কাজ করে না বলে এসব লেখকের সাহিত্যকর্মে উপরচালাকি, চামচাগিরি, ইতিহাস বিকৃতি, মিথ্যায়ন এবং সাহিত্যের ইজম-তাড়িত কল্পনার কৌষ্ঠকাঠিন্যময়তা কিংবা শিল্পের নামে সরস্বতীর নাপিতগিরি থাকে না।আজকের সর্বজন স্বীকৃত কথাসাহিত্যিক-গবেষক-কবি হোসেনউদ্দীন হোসেন সারাজীবন মফস্বলে বসেই লিখেছেন সবকিছু।এমন উদাহরণ আরও দেওয়া যায়।কী দরকার তার ? অবশ্যই ব্যতিক্রমও আছে এবং সেসব তো ব্যতিক্রমই। আসলে উৎকৃষ্ট সাহিত্য নগদলোভের লোভ হতে মুক্ত মন থেকেই রচিত হয়। মফস্বলে থেকে আবু ইসহাক যখন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ রচনা করেন, তখন তিনি নিজেও জানতেন না তাঁর সেই সৃষ্টি কীভাবে গৃহীত হবে অথবা তা আদৌতেই গৃহীত হবে কি না। আর তখন তো আজকের বিতর্কে ভাবমূর্তি হারিয়ে ফেলতে বসা বাংলা একাডেমি পুরস্কার কিংবা অন্য কোনো সাহিত্য পুরস্কার ছিল না এদেশে।</p>
<p style="text-align: justify">নওগাঁর সাহিত্য অনুষ্ঠান নিয়ে লিখতে বসে আমার নিজের লেখা একটি আত্মজৈবনিক কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। আমার সেই কবিতাটির নাম ‘একটি নদীর আত্মকথা’।</p>
<p style="text-align: justify">‘আমি শ্রাবণের গঙ্গা নই,<br />
আমি ভাদরের মেঘনা নই,<br />
আষাঢ়ের যমুনাও নই আমি;<br />
হতে পারি আমি ইছামতি,<br />
হয়তো হতে পারি পুনর্ভবা<br />
অথবা বাঙালীও হতে পারি;<br />
সত্য যে আমি একটি নদী।</p>
<p style="text-align: justify">নাইবা হলো যাওয়া সমুদ্রের বাড়ি<br />
জলের দৌড়ে নাইবা হলো লেখা<br />
প্রান্তবাসী এই আমার নাম<br />
আমাকে মনে রাখবে<br />
গরীবের বউয়ের মতো এক ভূগোল।’</p>
<p style="text-align: justify">সেদিনে আয়োজনে আমি আমার বক্তব্যে বলেছিলাম, তাদের কোনোভাবেই নিরুৎসাহিত না হতে। কোনো বিরূপ সমালোচনা কিংবা সাহিত্যের ফতোয়া দ্বারা বিভ্রান্ত না হতে। তবে যতদূর সম্ভব, পূর্বের ও সমকালীন বিখ্যাত অথবা বহুল আলোচিত সাহিত্যগুলো পড়া দরকার। তারপর নিজের সৃজনশীল মেধাকে সম্বল করে লেখা চালিয়ে যেতে হবে। দেশের ইতিহাস মানে তো কেবল রাজা-বাদশার ইতিহাস নয়; দেশের সাধারণ মানুষের ইতিহাসই প্রকৃত ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ মানে শুধু কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আর সেক্টর কমান্ডারের যুদ্ধ নয়। এটা ছিল সাড়ে সাত কোটি মানুষের সম্মিলিত যুদ্ধ, যার নাম গণযুদ্ধ।</p>
<p style="text-align: justify">তেমনি নদীমাতৃক দেশ মানে কেবল পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-কর্ণফুলীর দেশ নয়। নাম জানা না-জানা তেরো শত নদ-নদী আর অজস্র খাল-বিল-দিঘি-পুকুরের সম্মিলিত অবদানে সুজলা-সুফলা-শস্যশ্যামলা আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশ। সাহিত্যে ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলা সাহিত্য মানে কেবল মধুসূদন-রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ—বিভূতিভূষণ-ওয়ালীউল্লাহ-শামসুর রাহমান-আল মাহমুদ নয়; বাংলা সাহিত্যকে গড়ে তুলেছেন শত কিংবা সহস্র অথবা তারও বেশি সংখ্যক কবি-কথাসাহিত্যিক-পুঁথিকার-নাট্যকার-সংগীত রচয়িতা-বাউলশিল্পী-রূপকথার লেখক-কবিগানে রচয়িতা-গম্ভীরা গানের স্রষ্টা।</p>
<p style="text-align: justify">তাদের অধিকাংশই আমাদের প্রত্যক্ষতার আড়ালে, আমাদের পঠনপাঠনের বাইরে রয়ে গেলেও তাদের অবদান মিথ্যা হয়ে যায়নি; মিথা হয়ে যাবে না। নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ এই সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তাঁর প্রার্থনা ছিল, পরামর্শ ছিল, শহরের ও প্রচারের লাইমলাইটের বাইরে থাকা শিল্পী-সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন করার পক্ষে, তাদের সম্মানিত করণের পক্ষে। তিনি তাঁর সেই ‘ঐকতান’ কবিতার উপসংহারে বলেছিলেন,<br />
‘সাহিত্যের ঐকতান সংগীতসভায়<br />
একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়-<br />
মূক যারা দুঃখে সুখে,<br />
নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে,<br />
ওগো গুণী,<br />
কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।<br />
তুমি থাকো তাহাদের জ্ঞাতি<br />
তোমার খ্যাতিতে তারা পায় যেন আপনরাই খ্যাতি-<br />
আমি বারংবার<br />
তোমারে করিব নমস্কার।’</p>
<p style="text-align: justify">নওগাঁ আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে স্থানীয় কবি-লেখকদের সহায়তায় রবু শেঠ আয়োজিত ‘৭ বইয়ের আদ্যোপান্ত’ শিরোনামের আয়োজনটি ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রত্যাশা ও পরামর্শের ষোল আনা অনুকূলে। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য পতিসরের বাতাস ছুঁয়ে সন্ধ্যাটি প্রাণবন্ততায় উচ্ছলিত ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।আয়োজনে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়ে নিজেকে পুরস্কৃত মনে হয়েছে আমার।সেজন্য রবু শেঠ- সালিমুল শাহিনকে ধন্যবাদ না দিলেও তারা আমাকে কৃপণ ভাববেন না, পর তো নয়ই।</p>
<p style="text-align: justify">সেই ৭ জন লেখকের সবাইকে আবার অভিনন্দন। রবু শেঠকে রাবীন্দ্রিক নমস্কার।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বর্গে একদিন ভ্যালেন্টাইন ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/02/13/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/02/13/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Feb 2022 15:50:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1634</guid>

					<description><![CDATA[স্বর্গে একদিন ভ্যালেন্টাইন আমরা ঘুরছি ইডেন গার্ডেনে: নো রেস্ট্রিকশন ; নো কোভিড নাইন্টিন মাস্ক; তোমার পরনে এক ফালি আব-ই রাওয়ানের উপমা; আমার পরনে? সোনালি কাবিনের চিত্রকল্পে উজ্জ্বল দুটি চোখের বিস্ময়; &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>স্বর্গে একদিন ভ্যালেন্টাইন</strong></span></p>
<p style="text-align: justify">আমরা ঘুরছি ইডেন গার্ডেনে:<br />
নো রেস্ট্রিকশন ;<br />
নো কোভিড নাইন্টিন মাস্ক;<br />
তোমার পরনে এক ফালি<br />
আব-ই রাওয়ানের উপমা;<br />
আমার পরনে?<br />
সোনালি কাবিনের চিত্রকল্পে উজ্জ্বল<br />
দুটি চোখের বিস্ময়;<br />
কিন্তু কোথায় সেই তীর্থবৃক্ষ যার ডালে ধরে<br />
সেই নিষিদ্ধ ফল?<br />
কাকে জিজ্ঞাসা করবো?<br />
কোথাও কোনো মালি নেই,<br />
কোনো সান্ত্রী কিংবা পাহারাদার নেই;<br />
আচ্ছা, সেদিনের সাপটাও কি মারা গেছে?<br />
কৌতূহল! কৌতূহল! কৌতূহল!</p>
<p style="text-align: justify">হাত ধরাধরি করে হাঁটতে হাঁটতে আমরা<br />
এসে দাঁড়িয়েছি ত্বীন গাছের তলায় ;<br />
‘খেতে মন্দ না তো!’ ‘হুঁ।’</p>
<p style="text-align: justify">হাওয়ায় উড়ছে তোমার আয়েশা-আক্তার চুল<br />
আমি হাত লাগিয়ে সরিয়ে দিচ্ছি<br />
গালে উড়ে এসে লাগা ঘনমেঘের তুলনা<br />
এবং দুহাতে জড়িয়ে ধরে<br />
আমগন্ধী চুমু দিতে দিতে বলছি,<br />
‘লাভ ইউ!’<br />
আসমানি বাতাসে ভেসে আসছে<br />
যমুনার জলে ভেজা গান:<br />
‘মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম&#8230;..’</p>
<p style="text-align: justify">কস্তুরী খোশবু ছড়িয়ে শারাবান তহুরার<br />
পেয়ালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা<br />
লাস্যময়ী হুরদের সেক্সি চোখে<br />
জ্বলে উঠছে ঈর্ষার আলো:<br />
‘অন্ধ আদম! ঘামভেজা বগলের<br />
ঐ শ্যামলা মেয়েটা কি আমাদের চেয়েও সুন্দর !’</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/02/13/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রসঙ্গে কিছু কথা ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/26/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/26/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 26 Jan 2022 17:49:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1510</guid>

					<description><![CDATA[আজ (২৪.০১.২০২২) বাংলা একাডেমি গিয়েছিলাম পড়ন্ত বেলায়। কাটিয়ে এসেছি দেড়/দুই ঘণ্টা সময়। বাংলা একাডেমি পুরস্কার সাফল্যের সাথে ঘোষণা করায় প্রথমেই একাডেমির মহাপরিচালক শ্রদ্ধেয় কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ভাই এবং তাঁর &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আজ (২৪.০১.২০২২) বাংলা একাডেমি গিয়েছিলাম পড়ন্ত বেলায়। কাটিয়ে এসেছি দেড়/দুই ঘণ্টা সময়। বাংলা একাডেমি পুরস্কার সাফল্যের সাথে ঘোষণা করায় প্রথমেই একাডেমির মহাপরিচালক শ্রদ্ধেয় কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ভাই এবং তাঁর টিমকে অভিনন্দন জানাই। অতঃপর বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশে সাহিত্যে সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারটির নাম বাংলা একাডেমি পুরস্কার। এটি পাকিস্তান আমলে চালু হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সত্তর দশকের শেষের দিকে চালু হওয়া একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার সবচেয়ে বড় দুটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার; তবে তা সাহিত্য পুরস্কার নয় যদিও নানা বিষয়ের সাথে সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্যও সেসব পুরস্কার দেওয়া হয়।</p>
<p style="text-align: justify">২। মহাপরিচালক মহোদয়ের সাথে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং নানা বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে-যার সবটুকু বলার যৌক্তিকতা নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ দু-একটি কথা তুলে ধরা যায়।আলোচনার সময় আমার বক্তব্য ছিল: বাংলা একাডেমি পুরস্কারের সংখ্যা অন্তত কবিতার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করে যাদের নামে প্রস্তাব পাওয়া যাবে এবং তাদের মধ্যে যারা যারা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করা। পুরস্কারের টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে অন্তত ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা। আজ অগ্রজ কবি বিমল গুহকে অভিনন্দন জানানোর সময় তিনি আমাকে বলেন, আমিনুল, আমি আজ ৭০ বছর বয়সে পুরস্কার পেলাম। গ্রহণ করেছি।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু সেই আনন্দ পাইনি যেটা পেতাম অন্তত ৫০ বছর বয়সসীমার মধ্যে পেলে। তিনি জোরালোভাবে বলেছেন যে-কবিতায় বছরে ৫/৬ জনকে পুরস্কৃত করে বর্তমানে সৃষ্ট জট কমিয়ে আনা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে উদীয়মান তরুণ কবিরা ৪০ বছর বয়সসীমার মধ্যে পুরস্কার পান। পুরস্কারপ্রাপ্ত অগ্রজ কবি আসাদ মান্নানের প্রতিক্রিয়াও অমনটি পেয়েছি। আর অশীতিপর হোসেনউদ্দীন হোসেন ভাইয়ের সঙ্গে গতরাতে কথা বলে দেখেছি, তিনি বলেছেন, তাঁকে পুরস্কারটি আগে দিলে কী ক্ষতি হতো বাংলা একাডেমির! এবারও না দিলেও তিনি কাউকে কিছু বলতেন না। আর আরও আগেই বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার তো নিয়মিত পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন এসব বিষয়ে। তাঁর সাথেও কথা হয়েছিল আমার।</p>
<p style="text-align: justify">কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সৈয়দ শামসুল হক কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সে; আল মাহমুদ কবিতায় ৩২ বছর বয়সে এবং শামসুর রাহমান কবিতায় ৪০ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন।আর এখন কবিদের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে বুড়ো বয়সে যখন তাদের বাংলা সাহিত্যকে দেওয়ার মতো উদ্দীপনা, সাহস এবং বাঁক পরিবর্তনকারী মন-মেধা অবসন্নপ্রায়। মহাপরিচালক মহোদয় অভিন্ন মত পোষণ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি আরও বলেছেন যে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫ লাখ নয়, অন্তত ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন এবং তিনি সেই চেষ্টা করবেন।</p>
<p style="text-align: justify">৩। পাকিস্তান আমলে যখন বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এদেশে লোক ছিল ৪/৫ কোটি ; শিক্ষিত লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। আর কবি-কথাসাহিত্যিক ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন। বর্তমানে বাংলাদেশের লোকসংখ্যা ১৭/১৮ কোটি; শিক্ষিত লোক প্রচুর। কবির সংখ্যা অগুনিত। বছরে এখন যদি কবিতায় ১/২ জন করে পুরস্কার দেওয়া হয়, তবে অধিকাংশ যোগ্য কবি পুরস্কার না পেয়েই ইহলোক ত্যাগ করবেন। কারণ তাদের সিরয়িাল আসবে না।একজন হোসেনউদ্দীন হোসেনকে ৮১ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া যতখানি আনন্দের, ততখানিই হতাশার।শিশুসাহিত্যে, কথাসাহিত্যে, লোকগবেষণায় নব্বই দশকের অন্তত দু-একজন ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে আজও সত্তর দশকে পড়ে আছে বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার জন্য কবিদের যদি ৭০/৮০ বছর বয়স অবধি অপেক্ষা করতে হয়, তো কবিতা লেখার প্রেরণা শুকিয়ে যেতে বাধ্য। তাছাড়া অত বছর বাঁচবেই-বা কয়জন কবি? আবিদ আজাদের মতো নিষ্ঠুর উপেক্ষা নিয়ে অকালে মরে যাবেন অনেকেই। বাংলাদেশের কবিতায় উন্নয়ন ঘটাতে হলে বাংলা একাডেমিকে এদিকটাও বিবেচনায় নিয়ে পুরস্কারের নীতিমালা এবং মনমানসিকতা পাল্টাতে হবে।একদিন শ্রদ্ধেয় কবি কামাল চৌধুরীর সাথেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল; তিনিও মনে করেন যে কবিতাক্ষেত্রে বিরাজিত পুরস্কার-জটের অবসান হওয়া প্রয়োজন। কোনো দশকেরই কিংবা কোনো বয়সেরই সবাই পুরস্কার পাবেন না; পাওয়ার যুক্তিও নেই। যারা যোগ্য তারা সময়মতো পাবেন। তারপর পরবর্তী দশকের বা তরুণতর কবিরা পাবেন যোগ্যতার নিরিখে। সুপ্রতিষ্ঠিত কথাসাহিত্যক সেলিনা হোসেন আপার সাথে এসব নিয়ে বেশ আগে মতবিনিময় হয়েছিল আমার।</p>
<p style="text-align: justify">প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক-শিল্পসমালোচক-অনুবাদক অশীতিপর হাসনাত আবদুল হাই এ বিষয়ে অভিন্ন মত পোষণ করেন এবং তিনি এই নিয়ে নিজেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে আমি দেখেছি। তাঁর সাথে এই নিয়ে আমার একাধিকবার মুখোমুখি কথাও হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">৪। পাকিস্তান আমলের ৪/৫ কোটি মানুষের দেশে এখন মানুষের সংখ্যা তার ১৭/১৮ কোটি । জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে মন্ত্রী, এমপি, সচিব, জেনারেল, ভাইস চ্যান্সেলর, মহাপরিচালক, অধ্যক্ষ-প্রভৃতি পদ পদবী পদোন্নতির সুযোগ এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা বাড়লে কবির সংখ্যা বাড়বে না কেন এবং কেন বেশি সংখ্যক কবি ন্যায্য পুরস্কার পাবেন না? সবাই তো কবিদের লেখা পড়েই শিক্ষিত হন, অন্তত এসএসসি ও এইচএসএসি এর সনদপত্র লাভ করেন, উচ্চশিক্ষলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন, পদ-পদবী পান! কবিদের অবদান কোনোভাবেই কারো চেয়ে কম নয়।</p>
<p style="text-align: justify">৫। বাংলা একাডেমি পুরস্কারের অর্থমূল্য অবশ্যই বাড়ানো প্রয়োজন যেমনটি মহাপরিচালক মহোদয় বলেছেন। আমাদের বার্ষিক বাজেট ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি। কত খাতে শতশত কোটি টাকা অনেকটা শিথিলভাবে বা উদার হাতে খরচ করছে রাষ্ট্র। বাংলা একাডেমি পুরস্কারের টাকাটা তো একেবারেই নগণ্য যা জাতীয় বাজেটের নিরিখে হিসেবের মধ্যেই পড়ে না। বিষয়গুলো নিয়ে আমি একদিন অগ্রজ শ্রদ্ধেয় কবি আসাদ চৌধুরীর সঙ্গেও মত বিনিময় করেছিলাম। তিনি প্রায় সহমত পোষণ করেছিলেন। আমরা আশা করি, বর্তমান মহাপরিচালক একজন প্রখ্যাত কবি হওয়ায় এবং তাঁর অন্যতম হেল্পিং হ্যান্ড বাংলা একাডেমির সচিব হাসানাত লোকমানও একজন কবি বিধায় উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা কাজ করবেন এবং প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করবেন।</p>
<p style="text-align: justify">৬। মহাপরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের পূর্বে লোক গবেষণায় বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবিগবেষক আমাদের আপনজন আমিনুর রহমান সুলতানকে সশরীরে অভিনন্দন জানাই। তিনি আমাদের মিস্টি খাওয়ায়ে আপ্যায়ন করেন এবং তার প্রিয় লীনাভাবীকে তাঁর “ লোকগল্পের কবিতা’’ শীর্ষক একটি বই উপহার দেন। তারপর একাডেমির সচিব আমার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন কবি হাসানাত লোকমানের রুমে কিছুক্ষণ। আলাপ এবং চা পর্ব। মহাপরিচালক শ্রদ্ধেয় কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ভাইয়ের সাথে আলাপ শেষে বাংলা একাডেমি থেকে আসার প্রাক্কালে তিনি তাঁর ‘‘ছোটবোন’’ লীনাকে বাংলা একাডেমি থেকে সদ্য প্রকাশিত তাঁর “ Flaming Powers : Poet&#8217;s Response to the Emergence of Bangladesh &#8221; শীর্ষক বইটি উপহার দেন।</p>
<p style="text-align: justify">তো আজ আমরা বাংলা একাডেমি থেকে খালি হাতে ফিরিনি। নতুন বছরে নতুন মহাপরিচালকের দূরদর্শী ও সৃজনশীল নেতৃত্বে বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন আলোর সঞ্চার ঘটাবেন, এমন প্রত্যাশা নিয়েই লীনার এবং আমার।</p>
<p style="text-align: justify">যারা এবছর এই শীতের মৌসুমে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আবারও উষ্ণ অভিনন্দন !</p>
<p style="text-align: justify"><em>[লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া। বানান রীতি লেখকের]</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/26/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
