<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>আদনান সৈয়দ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/tag/%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%88%E0%A7%9F%E0%A6%A6/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Sun, 20 Mar 2022 14:36:42 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>আদনান সৈয়দ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বিদায় দিলারা আপা ॥ আদনান সৈয়দ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 14:34:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[আদনান সৈয়দ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1783</guid>

					<description><![CDATA[কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেমের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল নিউইয়র্ক মুক্তধারা বইমেলাতে। সম্ভবত ২০০৪ সালে তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় যোগ দিতে এসেছিলেন এবং তখন তাঁর সঙ্গে মুক্তধারার দপ্তরে শিল্প সাহিত্য নিয়ে লম্বা এক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেমের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল নিউইয়র্ক মুক্তধারা বইমেলাতে। সম্ভবত ২০০৪ সালে তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় যোগ দিতে এসেছিলেন এবং তখন তাঁর সঙ্গে মুক্তধারার দপ্তরে শিল্প সাহিত্য নিয়ে লম্বা এক আড্ডাও হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর সম্ভবত আবার ২০১০ সালের দিকে। হয়তো অনেকেই জানেন না দিলারা আপা মুক্তধারা নিউইয়র্ক বইমেলার একজন অন্যতম উপদেষ্টা। আগে থেকেই জানা ছিল তিনি ভীষণ অসুস্থ। কাউকে নাকি চিনতে পারতেন না। কিন্তু আমাদের খুব ইচ্ছে ছিল তিনি যেন আবার নিউইয়র্ক বইমেলায় একটিবারের জন্য আসতে পারেন। কিন্তু তা আর হল না। তিনি চলে গেলেন (দিলারা হাশেম শনিবার ১৯ মার্চ ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মারা যান)। রয়ে গেল তাঁর অনেক স্মৃতি।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #ff0000">স্মৃতির পাতায় তিনি জমা হয়ে থাকলেন।আর জমা হয়ে থাকলো তাঁর অটোগ্রাফ দেওয়া গ্রন্থ ‘হামেলা’ নামের অসাধারণ এই উপন্যাসটিও।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এই সুযোগে উপন্যাসটি নিয়ে দুটি কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না।আমি মনে করি ‘হামেলা’ অসাধারণ একটি উপন্যাস।দিলারা হাশেম তাঁর এই উপন্যাসে ‘যৌনতা’কে অকপট সাধারণ মামুলি ভাষায় যেভাবে তুলে এনেছেন তা দেখে তখন খুব অবাক হই।কারণ আমাদের বাঙালি সমাজে ও সাহিতেও খুব কমই ‘যৌনতা’কে তুলে আনা হয়।যদিও ক্ষুদা, তৃষ্ণা, আনন্দ, ভোগ বিলাসের মত যৌনতাও আমাদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কিন্তু তারপরও দেখা যায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের লেখককুল বা সমাজ খুব একটা আলো ফেলেন না বা নানা কারণে এই নিয়ে কথা বলতে চান না।দিলারা হাশেম তাঁর ‘হামেলা’ উপন্যাসে সেই কাজটিই করেছেন এবং এই নিয়ে যথেষ্ঠ আলোও তিনি ফেলেছেন।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-1785 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">‘হামেলা’ উপন্যাসের মূল বিষয়টিই হল নরনারীর জীবনে প্রেম এবং যৌনতাকে নিয়ে। প্রেম এর পরিনতি যৌনতায় আবার যৌনতার পরিনতি প্রেমে। প্রেম আর যৌনতাও যে পরস্পর হাত ধরাধরি করে হাটে তা তিনি এই উপন্যাসে অসাধারণ দক্ষতায় তুলে এনেছেন।তিনি দেখিয়েছেন যৌনতা ও প্রেম শব্দদুটি অনেক সময় সমার্থে ব্যবহৃত বা উচ্চারিত হয়। অথচ আমাদের সমাজের পবিত্র পণ্ডিতগণ মনে করেন যৌনতা মানেই বিষয়টি নিয়ে খোলা প্রান্তরে আলোচনার কোন বিষয় নয়।এই নিয়ে সাহিত্য আলাপ করা যায় না, পারিবারিক পরিবেশে যৌনতা নিয়ে কথা বলা মানেই মহাপাপ। লজ্জা শরমের মাথা খুইয়ে এই নিয়ে কেউ কথা বলেন না, সমাজ এবং রাষ্ট্র্ও বিষয়টিকে বোরকার কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়ার পক্ষপাতি। সে কারণে সাহিত্যে অশ্লিলতার দায়ে অনেক লেখককেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। দিলারা আপার কপাল ভালো তাঁর ‘হামেলা’ উপন্যাসটির জন্য অন্তত তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">মোট কথা হল নারী ও পুরুষের যৌনতার আশ্চার্য দুনিয়াকে লেখক দিলারা হাশেম তাঁর দক্ষ কলমের আঁচড়ে তুলে আনতে পেরেছেন।হামেলা প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স।</p>
<p>পড়ুন: <a href="https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87/">কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেম আর নেই</a></p>
<p style="text-align: justify">দিলারা আপার আত্মার শান্তি কামনা করছি। তার সৃষ্টি আমাদের বাংলাসাহিত্যকে অনেক অনেক সমৃদ্ধ করেছে।বিশেষ করে তাঁর ‘ঘর মন জানালা’ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য অলংকার। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি রুশ এবং চীনা ভাষাতেও অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক পাড়াতেও বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থগুলো হলো আমলকীর মৌ, মিউর‌্যাল, একদা এবং অনন্ত, কাকতালীয়, স্তব্ধতার কানে কানে’।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-1781 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-Hashem-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-Hashem-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-Hashem.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বিদায় আপা।এই নশ্বর দুনিয়ায় আপনি নেই কিন্তু আপনি আছেন এবং থাকবেন আমাদের হৃদ মন্দিরে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমি স্বপ্ন দেখছি, স্বপ্ন থেকে জেগে উঠেছি: বুকারজয়ী ডেভিড</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/06/04/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/06/04/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Jun 2021 08:08:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দূরের জানালা]]></category>
		<category><![CDATA[আদনান সৈয়দ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=762</guid>

					<description><![CDATA[শিল্পসাহিত্য পাড়ায় আরেক আনন্দ সংবাদ। ফরাসি লেখক ডেভিড ডিওপ তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অ্যাট নাইট, অল ব্লাড ইস ব্ল্যাক’ ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুরস্কার বুকার লাভ করেছে। পুরস্কার প্রাপ্তিতে লেখকের প্রাথমিক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিল্পসাহিত্য পাড়ায় আরেক আনন্দ সংবাদ। ফরাসি লেখক ডেভিড ডিওপ তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অ্যাট নাইট, অল ব্লাড ইস ব্ল্যাক’ ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুরস্কার বুকার লাভ করেছে।</p>
<p style="text-align: justify">পুরস্কার প্রাপ্তিতে লেখকের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হলো, ‘আমি আনন্দিত এবং এখনো মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি-স্বপ্ন থেকে আমি জেগে উঠেছি।’</p>
<p style="text-align: justify">২০১৮ সালেও একই উপন্যাসের মাধ্যমে ডেভিড ডিয়োপ ফরাসি দেশের নামি পুরস্কার প্রিক্স গনকর্ট ডেসে লাইসিন অর্জন করেছিলেন। তিনিই প্রথম ফরাসি এবং আফ্রিকান যিনি এই উপন্যাসটি অর্জন করেছেন। উপন্যাসটি ফরাসি Frere d&#8217;ame থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন আনা মশোভাকিচ।</p>
<p style="text-align: justify">উল্লেখ্য গত বছর (২০২০) সাহিত্যে বুকার পেয়েছিলেন ডাচ লেখক Marieke Lucas Rijneveld তার The Discomfort of Evening উপন্যাসের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৬৬ সালে জন্ম নেন ডেভিড ডিয়োপ। ছেলেবেলা কাটে সেনেগালে। তারপর ফ্রান্সে জীবন শুরু হয়। সতের এবং আঠারো শতকের ফরাসি এবং আফ্রিকার সাহিত্য নিয়ে তিনি পড়াশুনা করেন এবং কলেজে অধ্যাপনা করেন।</p>
<p style="text-align: justify">নিউইয়র্ক সময় জুন ৩, সকাল দশটায় উপন্যাসটি নিয়ে নামকরা রেডিও চ্যানেল NPR(National Public Radio) ব্যাপক আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বিখ্যাত সাহিত্য সমালোক লিলি মেয়ার, ব্রায়ান লিয়ার।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-760 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/Booker-2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/Booker-2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/Booker-2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p><em>ডেভিড ডিওপ ও  অনুবাদক আনা মশোভাকিচ</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আলোচক লিলি উপন্যাসটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে যেয়ে বলেন, ‘বিস্ময়কর একটি উপন্যাস। উপন্যাসটির গদ্য ঝরঝরে। পড়লে মনে হবে যেন যুদ্ধক্ষেত্রেই আছি’।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটি সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস মনে করে, ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর শত বছর পরে একজন মহৎ আফ্রিকান লেখক কুতসিৎ মানব ইতিহাসের উপর তার প্রশ্নগুলো একটি উপন্যাসের মাধ্যমে রাখতে পেরেছেন।’</p>
<p style="text-align: justify">চলুন এবার উপন্যাসটি সম্পর্কে একটু জানা যাক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের এক সুনসান সকালে ফরাসি কমান্ডার ক্যাপেটন আরমান্দ তার সেনাবাহিনীকে জার্মানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মানতে ফরাসি সেনাবাহিনী জীবনবাজি রেখে ঝাপিয়ে পরে। ফরাসি পতাকা হাতে নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেয় সেনেগালের দুই তরুণ বন্ধু আলফা নাদিয়ী এবং মেডেমবা ডিয়োপ। মাডেমবা যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়ানকরকম আহত হন। আহত মাডেমবা তার বন্ধুকে অনুরোধ করে গুলি করে তাকে হত্যা করে তাকে এই মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে। ছেলেবেলার বন্ধু আলফার সামনেই তার বন্ধু মেডেমবার এই মৃত্যুর দৃশ্য আলফাকে ভয়াবহ রকমভাবে মানসিকভাবে কাবু করে। কারণ আলফা শুধু তার বন্ধুই ছিল না বরং তার সঙ্গে ছিল আত্মিক সম্পর্ক। আলফার ভাষায়, ‘I can think what I want. But I won&#8217;t tell-the depths to which the war drove me&#8230;the weight of shame&#8230;the day Mademba Diop died’।</p>
<p style="text-align: justify">যুদ্ধের ভয়াবহতায় আলফা ভীতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আলফার মনোজগৎে যুদ্ধের এই ভয়াবহরূপ নানা ভাবে আঁচর কাটতে শুরু করে। আলফা শুধু ভাবে, ‘এই মানুষ মারা যুদ্ধ দিয়ে আসলে কি ফায়দা’। তার বিবেক তখন অন্য কথা বলে! যুদ্ধের নামে চারদিকে আলফা শুধু কিছু ক্ষমতার জন্যে লালায়িত মানুষের মতো দেখতে পায়। আলফা স্মরণ করে তার অতীত জীবনের কথা। সেই সেনেগালের ছোট গায়ে তার বাবার কথা। তার মা সাধারণ মাঠে ছাগল চড়াতেন। কত শান্তি ছিল তার অতিত জীবনে। আলফা তার আত্মপরিচয়ের খোঁজে নিজের ভেতর ডুব দেয়। কিন্তু আলফা এ কথাও জানে যে সে তার অতীতকে আর খুজে পাবে না। যুদ্ধে সে সব হারিয়েছে। এই তথাকথিত আধুনিক সভ্য সমাজ এবং রাষ্ট্রে আলফা তার অতীতকে খুঁজে বেড়ায়।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসে দেখা যায়, সেনেগালের বাসিন্দা আলফা নাদিয়ীর যুদ্ধে অস্ত্রচালনায় পুর্বে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ফরাসি সরকারের নির্দেশে সে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফ্রান্স সরকারের বিশ্বযুদ্ধে ‘চকোলেট’ সেনাবাহিনীতে নাম লেখায়।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের হারিয়ে যাওয়া একটি বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আলফার মুখ দিয়ে আমরা যুদ্ধের ভয়াবহ রূপটিকে দেখতে পেয়েছি। একটি যুদ্ধের আড়ালে থাকে আরেকটি যুদ্ধ। লেখক সেই যুদ্ধকে সাহিত্যের ভাষায় রূপ দিয়েছেন। উপন্যাসে বিভিন্ন সময়ে অনেক মেটাফর ব্যবাহৃত হয়েছে। বিশেষ করে আলফা রক্তক্ষয়ি যুদ্ধে তার বন্ধুর এভাবে চলে যাওয়াকে মানতে পারেনি। কারণ তার কাছে এই হত্যাকে অমানবিক মনে হয়েছে। বা বলা যায় অনৈতিক মনে হয়েছে। তার বন্ধুর মৃত্যুতে তাকে আরও বেশি প্রতিশোধ পরায়ন মনে হয়েছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-759 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/Booker-2021-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/Booker-2021-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/06/Booker-2021.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটির পটভুমি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হলেও মূলত এটি একজন সৈনিকের সমবেদনায় পিষ্ঠ মনস্তাত্বিক এবং মানসিক যন্ত্রনার চিত্রপট। উপন্যাসটি ইউরোপের দেশগুলোর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে পারস্পরিক ক্ষমতার ভাগাভাগি, ঔপনিবেশিক মানসিকতা, মানবতার পতন এবং যুদ্ধে মানসিক বিকলাঙ্গ রূপকে ধারণ করেছে। পাশাপাশি ফরাসিদের অসভ্যতা, ঔপনিবেশিক মানসিকতা, আফ্রিকার মানুষের প্রতি বর্বর আচরণ এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। তথাকথিত এই সভ্যতার ধারক যারা মূলত সভ্যতার টুটি চেপে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে উপন্যাসটিতে আলফার মুখ দিয়ে সেই প্রতিবাদী ভাষা বেড় হয়ে এসেছে। আলফা বলছে, ‘I am father and son. I am assassin and judge. I am the sowing and the harvest. I am mother and daughter. I am night and day. I am fire and the wood it devours. I am innocent and guilty. I am the beginning and the end. I am the creator and the destroyer. I am double।’</p>
<p style="text-align: justify">ফ্লাসব্যাকে দেখতে পাই আলফার সেই ছেলেবেলা, তার ছোট ছিমছাম একটি সুখী পরিবার। অথচ সে এখন কিনা কুতসিৎ যুদ্ধে লিপ্ত! ডিয়োপ আলফার জবানে গোটা পৃথিবীর নিপিরীত শোষক গোষ্ঠীর মনোবেদনার কথাই শুধুই শোনাননি পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের কুতসিৎ রূপটিও তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। আলফা বলছেন, I watch him die a little, then I slit his throat, cleanly, humanely. At night, all blood is black. অনেক রূপক বর্ণনার কারণে উপন্যাসটির ভাষা আরো সুন্দর এবং হৃদয়গ্রাহী হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটিতে লেখক খুব মুন্সীয়ানার সাথেই যুদ্ধকে প্রশ্ববিদ্ধ করেছেন, ঔপনেবিশিক মানসিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, মানবিকতাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন এবং সর্বপোরি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় যারা অংশগ্রহণ করছে তাদের মানসিক বিকলাংগকেও তিনি আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। উপন্যাসটিতে শুধু যুদ্ধের ভয়াবহ রূপটিকে ধারণ করা হয়নি পাশাপাশি সেই যুদ্ধের আড়ালে কুৎসিৎ রূপটাও সমানভাবে প্রকাশিত হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের শেষ দিকে আমরা দেখতে পাই কীভাবে শাষকের বুটের নীচে মানবতা লুন্ঠিত হয়। ইতিহাসের অন্তরালের যে ঘটনা আমরা জানি না, যুদ্ধের যে কুৎসিত রূপ আমরা দেখতে পাই না সেই দৃশ্যকেই ডিয়োপ তার উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে এনেছেন। আলফা বলেন,<br />
‘I am not concerned with my trenchmates&#8230;what I want is to fight face-to-face&#8230;I always returned after battle with an enemy rifle and the hand that went with it&#8230;&#8221;. Trophies&#8230;I was lauded&#8230;until the fourth rifle and hand&#8230;now shunned, feared by my war brothers&#8230;I became untouchable, a soldier sorcerer.”</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটি মানবতার কথা বলে, মানুষের কথা বলে। পাশাপাশি এই উপন্যাসটি ফ্যাসিবাদ এবং ঔপনিবেশিকবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক দাম্ভিক প্রতিবাদ। সাহিত্য হোক মানবতার কণ্ঠসর। চিয়ার্স ডেভিড ডিওপ ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/06/04/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিদ্রোহী কবি নজরুল এবং তাঁর নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ ॥ আদনান সৈয়দ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/26/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/26/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 25 May 2021 19:30:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[আদনান সৈয়দ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=698</guid>

					<description><![CDATA[বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আপাদমস্তক একজন সাম্যবাদী কবি। জাতি,বর্ণ, ধর্ম,গোষ্ঠীর উর্ধে উঠে তিনি তাঁর সাহিত্যকে স্থান দিয়েছেন মানব প্রেম আর জাতীয়তাবাদী চেতনায়। মাত্র একুশ বছর বয়সে ধমকেতুর মতোই নজরুল &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আপাদমস্তক একজন সাম্যবাদী কবি। জাতি,বর্ণ, ধর্ম,গোষ্ঠীর উর্ধে উঠে তিনি তাঁর সাহিত্যকে স্থান দিয়েছেন মানব প্রেম আর জাতীয়তাবাদী চেতনায়। মাত্র একুশ বছর বয়সে ধমকেতুর মতোই নজরুল বাংলার কাব্য আকাশে উদয় হয়ে বাংলার কাব্যমোদিদের জন্য রেখে যান বিষে ভরা চির বিদ্রোহের বাণী।</p>
<p style="text-align: justify">সেই বিষের বাঁশির সুরে অর্ধচেতন, দিকহারা স্বাধীনচেতা স্বপ্নিল মানুষগুলো এক নতুন মন্ত্রের ছোয়ায় বিদ্রোহী সাজে জেগে উঠেছিল। তবে এ কথা মনে রাখতে হবে যে বিদ্রোহী পোষাকে সেই উত্তাল দিনে নজরুলের এই আবর্তন ছিল নিঃসন্দেহে এক সময়ের দাবি।</p>
<p style="text-align: justify">একদিকে গোটা ভারত বর্ষে শুরু হয়েছিল গান্ধীজীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন,বেঙ্গল প্যাক্ট, সাইমন কমিশন,নেহরু রিপোর্ট আবার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে রুশ বিপ্লব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপীয় বিপর্যয়। সব মিলিয়ে গোটা পৃথিবীতে যেন চলছিল এক নিদারুন মানবিক অস্থিরতার লড়াই। সীমাহীন অস্থিরতার সেই ধূসর দিনগুলোতে এক উত্তাল বিস্ফরোন এর মতোই আগুন হাতে নিয়ে ঝড়ো হাওয়ার মতো আবির্ভাব ঘটেছিল এই প্রতিবাদী কবির। সেটা ছিল ১৯২১ সাল।</p>
<p style="text-align: justify">দারিেদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে শেষ পর্যন্ত স্কুল শেষ না করেই ১৯১৭ সালে নজরুল নাম লেখান ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে। শুরু হয় নজরুলের সৈনিক জীবনে আরেক লেনদেন। পরাধীনতা , ভারতবর্ষে উপর জেকে বসে থাকা বৃটিশ ভূত আর সাম্যবাদী চিন্তার শক্ত আঘাত আসে সৈনিক নজরুলের মনন আর চেতনায়। একদিন সৈনিক জীবনের পাতা মুড়িয়ে বিদ্রোহী নজরুল চলে এলেন কলকাতায়। মোসলেম ভারত এবং বিজলীতে একযোগে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অগ্নিঝরা কবিতা বিদ্রোহী।</p>
<p style="text-align: justify">‘মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত<br />
আমি সেইদিন হবো শান্ত<br />
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল<br />
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,<br />
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ<br />
ভীম রণভুমে রণিবে না-<br />
বিদ্রোহী রণক্লান্ত<br />
আমি সেই দিন হবো শান্ত।’</p>
<p style="text-align: justify">বলার অপেক্ষা রাখে না যে সেদিনের এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি আগুনের গোলার মতো ছড়িয়ে পরেছিল বাংলার প্রতিটা এলাকায়। নারী-পুরুষ, জোয়ান-বৃদ্ধ,শিশু-কিশোর সবার মুখে তখন শুধু একই কবিতা, ‘ বিদ্রোহী রণক্লান্ত / আমি সেই দিন হবো শান্ত’।</p>
<p style="text-align: justify">বিদ্রোহের একি মন্ত্র শোনালেন নজরুল? স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশ রাজের লাল ইটের শক্ত দেওয়ালেও এই মন্ত্র বার বার ধাক্কা খেলো। সচকিত হয়ে উঠলো রাজশক্তি। রক্তচক্ষু সরকারি আমলাদের রোষ নেমে এলো নজরুলের ওপর। শুরু হয় নজরুলের ওপর সরকারি গোয়েন্দাগিরী। যার ফলে ১৯২২ সাল থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে নজরুলের পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ সরকারি রোষানলের শিকার হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">এর প্রথম শিকার কাব্যগ্রন্থ ‘যুগবাণী’। ১৯২২ সালে বাংলা ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারা অনুসারে সরকার নজুুরুলের ‘যুগবাণী’ কাব্যগ্রন্থটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেয়। সরকারের ভাষায় গ্রন্থটি ছিল ‘ভয়ঙ্কর’ এবং তাদের দাবি লেখক বইটির মাধ্যমে ভারতে উগ্র জাতিয়তাবাদ প্রচারে নেমেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">‘যুগবাণী’ নিষিদ্ধ হওয়ার বছর দুয়েকের ভেতরই ১৯২৪ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ হয় নজরুলের কাব্যগ্রন্থ ‘বিষের বাঁশি’। এই গ্রন্থটির ক্ষেত্রেও লেখকের বিরুদ্ধে সেই একই অভিযোগ। নজরুল দেশের তরুণদের সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছেন এবং আইন অমান্য করতে ইন্ধন জোগাচ্ছেন। সন্দেহ নেই অভিযোগ গুরুতর! তবে নিষিদ্ধ করেও বইটির প্রচার বন্ধ করে রাখতে পারেনি সরকার। গ্রন্থটির উপরের মলাট ছাড়াই কলকাতার বিভিন্ন প্রেস থেকে এটি ছাপা হতে থাকে। বিপাকে পরে যায় ব্রিটিশদের পোষ্য গোয়েন্দার দলগুলো। বলার অপেক্ষা রাখে না যে নজরুল ইসলামের গ্রন্থ সরকারি রোষানলে যতই পরতে শুরু করল ততই যেন বাঙালি যুবকদল এই নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থগুলোর ওপর তাদের উৎসাহ খুঁজে পেলো। সবার পকেটেই তখন মলাটবিহীন ‘বিষের বাশি’।</p>
<p style="text-align: justify">‘বিষের বাশি’ নিষিদ্ধ হওয়ার কিছুদিন পরই নিষিদ্ধ হয় ‘ভাঙার গান’। বইটি বাজেয়াপ্ত হয় ১৯২৪ সালের ১১ নভেম্বর। এই বইটিতেও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনী। স্বাভাবিকভাবেই নজরুলকে এক হাত দেখিয়ে দেওয়ার জন্যে তারা উঠেপরে লাগে।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৩০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে নিষিদ্ধ হয় নজরুল ইসলামের ‘প্রলয় শিখা’। এই কাব্যগ্রন্থটিও ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারায় সরকার বিরোধী বিভিন্ন রকম উসকানিমূলক অভিযোগ পাওয়া যায়। তৎকালীন সময়ের পুলিশ সুপার চার্লস টেগার্ট মুখ্য সচিবকে কাব্যগ্রন্থটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার জন্যে চিঠি দেন। তবে এই প্রথম, বইটি বাজেয়াপ্ত করেই থেমে থাকেনি সরকার। এই পুস্তকের মুদ্রণ এবং প্রকাশনার অপরাধে কবি নজরুল ইসলামকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং কবিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কবি এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন এবং গান্ধী আরউইন চুক্তির পরপরই কবি এর থেকে মুক্তি পান। কবি কাজী নজরুল ইসলাম কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও বইটির উপর বাজেয়াপ্ত আদেশ ঠিকই থেকে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৩১ সালে ১৪ অক্টোবর নিষিদ্ধ হয় কবি নজরুল ইসলামের ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপে আর শ্ল্যাষেপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ ‘চন্দ্রবিন্দু’।<br />
‘মসজিদ পানে ছুটিলেন মিঞা মন্দির পানে হিন্দু,<br />
আকাশে উঠিল চির জিজ্ঞাসা করুন চন্দ্রবিন্দু”।<br />
অথবা<br />
আমার সুখের গৃহ শ্মশান করে<br />
বেড়াস মা তায় আগুন জ্বালি’<br />
‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটি ছিল দেশাত্ববোধক তীব্র ব্যাঙ্গ বিদ্রুপে ভরা একটি কাব্যগ্রন্থ। বিশেষ করে ব্রিটিশদের সহচর দেশি সাহেবদের নিয়ে কৌতূক বিদ্রুপে মেশানো এই কাব্যগ্রন্থটি সেই সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ‘চন্দ্রবিন্দুর’ প্রতিটি কবিতায় ব্যাঙ্গ আর বিদ্রুপের ভাষায় স্থান পায় লীগ অব নেশন, রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স, সাইমন কমিশন রিপোর্ট, প্রাথমিক শিক্ষার বিল ইত্যাদি বিষয়। তবে চন্দ্রবিন্দুর উপর সরকারের রক্ত চোখ খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। ইংরেজ শাষণ আমলেই বইটির ওপর থেকে বাজেয়াপ্তের নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">দেখা যায় নজরুলের মোট পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী সময়ে আরো বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের ওপর সরকারি আক্রোশ ছিল। সেই গ্রন্থগুলো হলো অগ্নিবিণা, সঞ্চিতা, ফণিমনসা, সর্বহারা, রুদ্রমঙ্গল। বলাইবাহুল্য সরকারের হাজারো চেষ্টা থাকা সত্বেও বিভিন্ন কারণেই এই গ্রন্থগুলো অল্পের জন্য বাজেয়াপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">উল্লেখ্য, ‘প্রলয় শিখা’ কাব্যে বৃটিশ বিরোধী উসকানিমূলক কবিতার জন্য ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল কবিকে। দ্বিতীয়বার কবি দণ্ডিত হয়েছিলেন তাঁর সম্পাদিত ধুমকেতুতে (১৯২২, ২৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যা) প্রকাশিত ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটির জন্য। কবিতাটি ছাপার জন্য কবিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারা অনুসারে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাদণ্ডের সময় নজরুলকে প্রথম প্রেসিডেন্সী জেলে নিয়ে যাওয়া হয় তারপর কারাদণ্ডের পর তাকে আলিপুর জেলে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়। এই জেলে থাকা সময়েই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বসন্ত ’ নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। আলিপুর জেল থেকে কবিকে যখন হুগলির জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তখন তিনি জেলের বিভিন্নরকম বৈষম্যমূলক অবিচার আর উৎপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন। স্বাভাবিকভাবেই অনশনে কবির শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটে।</p>
<p style="text-align: justify">সারা দেশের মানুষ কবির এই শারিরীক বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরে। শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে বাংলার সর্বত্রই নজরুলকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষেভে ফেটে পড়েন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেন্ট্রাল জেলে কবিকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি তার পাঠান, ‘গিভ আপ হাঙ্গার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটারেচার ক্লেইমস ইউ।” শেষ পর্যন্ত কবির মাতৃস্থানীয়া বিরজাসুন্দরীর অনুরোধে ৩৯ দিন অনশন থাকার পর ২২ শে মে ১৯২৩ সালে নজরুল তাঁর অনশন ভঙ্গ করেন। এর কিছুদিন পরই কবিেেক হুগলির জেল থেকে স্থানান্তরিত করা হয়, বহরমপুর জেলে পাঠানো হয়।<br />
সেখানে শিকল পরেই কবি শিকল ভাঙ্গার গান বাঁধলেন,</p>
<p style="text-align: justify">‘শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল পরা ছল<br />
এই শিকল পরেই শিকল তোদের করবো রে বিকল’</p>
<p style="text-align: justify">তবে জেল জীবনে বন্দি হয়ে বদ্ধ ঘরে শিকল পরিয়ে বিদ্রোহী কবি নজরুলকে কখনো কাবু করা যায়নি। জেলের অন্যান্য কয়েদীদের সঙ্গে হেসে-খেলে, আনন্দে-মাতিয়ে কবির সময় কাটতে থাকে। জানা যায় কলকাতার জেল থেকে কবিকে হুগলির জেলে আনা হয়েছিল কোমরে দড়ি বেঁধে। জেলে ঢুকেই কবি হাঁক দিলেন, ‘দে গরুর গা ধুইয়ে।’ বলাই বাহুল্য জেলের অন্যান্য বন্দিরা কবি কে কাছে পেয়ে গানে, আবৃত্তিতে, মেতে থাকতেন সবসময়ই। কারণ নজরুল জেল-কারাগার কে কখনই ভয় পাননি, ব্রিটিশ রাজ শক্তিকে কখনোই আমল দেননি। নজরুল ছিলেন প্রেমের কবি, অত্যাচারিতদের পক্ষ হয়ে তিনি সবসময়ই প্রেমের বাঁশিটি যেমন বাঁজিয়েছেন আবার অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে চির বিদ্রোহীও ছিলেন তিনি। ধুমকেতুতে প্রকাশিত ‘অনন্দময়ী আগমনের’ যে কবিতাটির জন্য কবির এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক কবিতাটি পাঠকদের কৌতূহলের কথা ভেবে তুলে ধরছি।</p>
<p style="text-align: justify">‘আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?<br />
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।<br />
দেব শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,<br />
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?</p>
<p style="text-align: justify">মাদীগুলোর আদি দোষ ঐ অহিংসা বোল নাকি-নাকি<br />
খাঁড়ায় কেটে কর মা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি।<br />
ঢাল তরবার, আন মা সমর, অমর হবার মন্ত্র শেখা,<br />
মাদীগুলোয় কর মা পুরুষ, রক্ত দে মা রক্ত দেখা।</p>
<p style="text-align: justify">তুই একা আয় পাগলী বেটী তাথৈ তাথৈ নৃত্য করে<br />
রক্ত-তৃষার ’ময়-ভুখা-হু’র কাঁদন-কেতন কণ্বে ধরে।-<br />
অনেক পাঁঠা-মোষ খেয়েছিস, রাক্ষসী তোর যায়নি ক্ষুধা,<br />
আয় পাষাণী এবার নিবি আপন ছেলের রক্ত-সুধা।<br />
দুর্বলেরে বলি দিয়ে ভীরুর এ হীন শক্তি-পূজা<br />
দূর করে দে, বল মা, ছেলের রক্ত মাগে দশভুজা।..</p>
<p style="text-align: justify">‘ময় ভুখা হুঁ মায়ি’ বলে আয় এবার আনন্দময়ী<br />
কৈলাশ হতে গিরি-রাণীর মা দুলালী কন্যা অয়ি!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/26/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বপ্ন ॥ আদনান সৈয়দ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/05/12/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a7%9f%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/05/12/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a7%9f%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 May 2021 18:51:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[আদনান সৈয়দ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=569</guid>

					<description><![CDATA[এমন কিছু ঘটবে সে বিষয়ে আগেই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। আজ নিশ্চত হলাম। আমাদের কারখানাটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। করোনার কারণে দেশ এখন অনির্দিষ্টকালের জন্যে লকডাউন। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অতএব কারখানাও বন্ধ। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">এমন কিছু ঘটবে সে বিষয়ে আগেই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। আজ নিশ্চত হলাম। আমাদের কারখানাটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। করোনার কারণে দেশ এখন অনির্দিষ্টকালের জন্যে লকডাউন। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অতএব কারখানাও বন্ধ। মানুষজন নেই, খদ্দের নেই, বিক্রি-বাটাও নেই। কারখানা চলবে কীভাবে? আজ জানতে পেলাম দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের চাকরিটাও আর নেই। তার মানে আমি এখন বেকার।</p>
<p style="text-align: justify">স্বাভাবিকভাবেই চাকরিবিহীন এই ঢাকা শহরে স্ত্রী-সন্তানসহ জীবনযাপন করা সহজ নয়। সংসার চলবে কীভাবে? হাতে জমানো টাকাও খুব একটা নেই। পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। স্ত্রী রেহানা অবশ্য আমার মতো এত ভেঙে পরছে না।<br />
‘ভেঙে পরো না। ইনশাআল্লাহ দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। ভালো কোনো ব্যবস্থা হবেই।’</p>
<p style="text-align: justify">এখন রেহানার মুখে সেই আগের মতো হাসিটা আর দেখতে পাই না। এক অজানা আতঙ্কে ওর মুখটা কিসমিসের মতো শুকিয়ে চুপসে গেছে। তার চেহারাটা দেখলে কেমন যেন লাগে। মনে হয় টসটসে কালো জাম অনেকদিন মাটিতে পড়ে সেখানে যেন ছাতা ধরে গেছে। চোখের নিচে কালির দাগ স্পষ্ট।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000">যদিও মুখে সে আমাকে কিছু বলে না। কিন্তু আমি তার মুখের ভাষা বুঝতে পারি। খুব চাপা স্বভাবের মেয়ে সে। বিপদে আমি যতটুকু ভেঙে পড়ি কিন্তু সে ততটা ভাঙে না। বরং সে আমাকে সাহস জোগায়। ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখায়। </span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">আমার দুটো মেয়ে। বড়টির নাম পদ্ম আর ছোটটি মাটি। পদ্মর বয়স সাত আর মাটির চার । মাটি এখনো স্কুলে যায় না। তবে আগামী বছরই সে যাবে। দুটো মেয়েই আমার জানের টুকরা। মেয়ে দুটো যখন ঘুমায় আমি ওদের নিষ্পাপ মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি। ঘুমালে ওদের কত যে সুন্দর দেখায়। মনে হয় দুটো নিষ্পাপ দেবশিশু ঘুমিয়ে আছে। আমি তাদের ঘুমন্ত কপালে চুমো দেই। মনে হয় কত পরম নির্ভরতার সঙ্গেই না এই বাচ্চাগুলো বড় হচ্ছে। আমার ভেজা চোখ দিয়ে ওদের ঘুমন্ত মুখ দুটোকে তখন যতক্ষণ পারি দেখে নেই। তখন নিজেকে মনে হয় আমি কত অসহায় এক বাবা।</p>
<p style="text-align: justify">আর কিছুদিন পরই রোজা শুরু হচ্ছে।। তারপর দেখতে দেখতে ঈদও চলে আসবে। ঈদ যতই কাছে আসছে, ততই যেন আমার বুকের ভেতরে একটা কান্নার শব্দ ঠিক টের পাই। বড় মেয়েটা একটু বড় হয়েছে। সে আমার অবস্থাটা বুঝতে পারে। তাই সম্ভবত কোনো বিষয়ে সে আর বায়না ধরে না। সেদিন দেখছিলাম পদ্মর জুতোটা খুব পুরনো হয়ে গেছে। আহা! মেয়েটাকে যদি এই ঈদে একজোড়া নতুন জুতো কিনে দেওয়া যেত! ছোট মেয়েটা এতসব বোঝে না। তাই রক্ষে!</p>
<p style="text-align: justify">সেদিন হঠাৎ করেই ঘরে একটা গুপ্তধন আবিস্কার করি। সেখানে প্রচুর টাকা। কোত্থেকে এত টাকা এলো। আনন্দে আমার পাগল হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ঘরে যে এত টাকা জমা ছিল সেটি আমি জানতামই না। যাক। বাঁচা গেল। একদিন পদ্ম আর মাটিকে নিয়ে বাসার কাছেই বেইলি রোডে ঈদের কেনাকাটা করতে বেরিয়ে গেলাম। বাপ-বেটিতে মিলে অনেকদিন পর আচ্ছামতো আনন্দ করে আইসক্রিম খেলাম আর সেই সঙ্গে পদ্মর জন্যে লাল টুকটুকে এক জোড়া জুতো আর মাটির জন্যে সুন্দর একটা পুতুল কিনলাম। রেহানার জন্যেও সুন্দর শাড়ি কিনতে ভুললাম না। মহা ধুমধামে কেনাকাটা করে যখন ঘরে ফিরলাম, তখন দেখি রেহানা আমার হাতে রং বেরংয়ের শপিং ব্যাগের দিকে তাকিয়ে মিট মিট করে হাসছে। কোন কথা না বলেই সে হাত থেকে ছোঁ মেরে শপিং ব্যাগগুলো নিজের হাতে নিয়ে নিল। শাড়িটা তার খুব পছন্দ হয়েছে। এদিকে মেয়ে দুটোও তাদের নতুন কাপড় আর জুতো পেয়ে অসাধারণ আনন্দে গোটা বাড়িতে চরকির মতো ঘুরছে। আমাদের এই ছোট ঘরে হঠাৎ করেই যেন ঈদের উৎসব শুরু হয়ে গেলো।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ মোবাইল ফোনটা ঝনঝন করে বেজে উঠল। স্বপ্নটাও ভেঙে গেলো। ঘুম থেকে উঠে দেখি রেহানা তার মেয়ে দুটোকে নিয়ে তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/05/12/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a7%9f%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বই পড়ুন বই পড়ুন আর বই পড়ুন ॥ আদনান সৈয়দ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2021/04/17/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2021/04/17/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Apr 2021 17:41:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[আদনান সৈয়দ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=382</guid>

					<description><![CDATA[নিউইয়র্কের সাবওয়েতে সেদিন হঠাৎ একটি বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে গেলো। যারা বই পড়েন না বা পড়ার সময় পান না তাদের বইয়ের মোহনীয় জগতে ফিরিয়ে আনাই ছিল বিজ্ঞাপনটির মূল উদ্দেশ্য। বিজ্ঞাপনটির শিরোনাম &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নিউইয়র্কের সাবওয়েতে সেদিন হঠাৎ একটি বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে গেলো। যারা বই পড়েন না বা পড়ার সময় পান না তাদের বইয়ের মোহনীয় জগতে ফিরিয়ে আনাই ছিল বিজ্ঞাপনটির মূল উদ্দেশ্য।</p>
<p style="text-align: justify">বিজ্ঞাপনটির শিরোনাম ছিল 14 Ways to Cultivate a lifetime Reading Habit । ভাবলাম, কি সেই চৌদ্দটি টোটকা বা গোপন অলিগলি পথ যা মারালে একজন বই বিমুখ মানুষকেও বইপ্রেমিক করে তুলে দিতে পারে। আমার বন্ধুদের জন্যে সেগুলো তুলে ধরছি।</p>
<p style="text-align: justify">১) সময় তৈরি করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ থেকে দশ মিনিট পড়ার জন্যে সময় তৈরি করতে হবে। মানসিকভাবে আপনাকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যে শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনি এই পাঁচ-দশ মিনিট প্রতিদিন বইয়ের জন্যে ব্যয় করবেন। যারা মনে করেন বই পড়ার সময় হাতে নেই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকালের নাস্তা অথবা দুপুরের খাবারের সময়। এই সময়টায় আপনি বই পড়ে বুঝেন আর নাই বুঝেন শুধুমাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট যদি নিয়ম করে বইয়ের উপর চোখ বুলিয়ে যেতে পারেন তাহলেই কিন্তু আপনি প্রথম ধাক্কায় উৎরে গেলেন।</p>
<p style="text-align: justify">২) যেখানেই যাবেন সঙ্গে একটি বই রাখার অভ্যাস করুন। আপনি যেভাবে আপনার ঘরের চাবি, ড্রাইভার লাইসেন্স সঙ্গে রাখেন ঠিক সেভাবেই ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি আপনার প্রিয় বইটি ব্যাগে তুলে নিন।</p>
<p style="text-align: justify">৩) আপনি যে ধরনের বই পছন্দ করেন তার একটা তালিকা তৈরি করুন। এই তালিকাটি আপনি আপনার ব্যক্তিগত নোটবুক, ডায়েরি অথবা জার্নালে টুকে রাখতে ভুলবেন না। যখনই আপনি আপনার প্রিয় কোনো বইয়ের নাম শুনবেন সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে বইটির শিরোনাম টুকে রাখুন এবং আপনার প্রিয় বইয়ের তালিকায় জুড়ে দিন। যে বইগুলো আপনার পড়া হয়ে যাবে সেখানে একটা ক্রস চিহ্ন দিয়ে আপনি আপনার তালিকাকে প্রতিদিনই আপডেট করতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">৪) নিরিবিলি একটা জায়গা নির্বাচন করুন। প্রচুর বন্ধু-বান্ধব, হৈ হট্টগোলের মাঝে বই পড়া সম্ভব হয় না। সে কারণেই আপনি আপনার পছন্দমতো একটা নিরিবিলি জায়গা নির্বাচন করতে পারেন যেখানে আশে পাশে অন্তত কোনো টেলিভিশন, ইন্টারনেট বা এই ধরনের বিনোদনমূলক কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। নিজের জন্যে একটু শান্তিপূর্ণ সময় তৈরি করতে অসুবিধা কোথায়?</p>
<p style="text-align: justify">৫) টেলিভিশন/ইন্টারনেট/ফেসবুককে জয় করুন। মনে রাখবেন বই পড়ার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো এই টেলিভিশন, ফেসবুক। আপনি অবশ্যই নিয়মিতভাবে টেলিভিশন দেখবেন, ফেসবুকে থাকবেন কিন্তু মনে রাখবেন কোনো নেশায় যেন আপনাকে কাবু করতে না পারে। জীবন মানুষের একটাই। আর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো একটা মেধাহীন টিভি সিরিয়াল বা ফেসবুকের উপর বসে থেকে সময় নষ্ট করার কি মানে?</p>
<p style="text-align: justify">৬) আপনার ছেলে-মেয়,বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা করুন, তাদেরকে বই উপহার দিন আর বই বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের মজাদার তর্কে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন। দেখবেন আপনি নিজেই এই তর্কে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন।</p>
<p style="text-align: justify">৭) বইয়ের একটা লগবুক তৈরি করুন। আপনি যে বইগুলো পড়ছেন তার আদ্যোপান্ত একটা ছোট ইতিহাস (কখন পড়তে শুরু করলেন, কবে শেষ হলো, বইটির উপর আপনার মন্তব্য, নোট ইত্যাদি) এই লগবুকে টুকে রাখুন।</p>
<p style="text-align: justify">৮) ছুটির দিনে বইয়ের দোকানগুলোতে ঢু দিন। ঠিকই শুনেছেন। ফাস্ট ফুডের দোকানে একটু কম গিয়ে বরং বইযের দোকানে সময় কাটান। দেখবেন সময়টা খারাপ কাটবে না। মনে রাখবেন শুধুমাত্র বই কেনার জন্যই আপনাকে বইয়ের দোকানে যেতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং দেখবেন আপনার বইয়ের দোকানে আসা-যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে আপনার একটি আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আর হ্যাঁ, সন্তানদেরকেও সঙ্গে নিতে ভুলবেন না।</p>
<p style="text-align: justify">৯) স্থানীয় পাঠাগারের সদস্য হোন। যদি সদস্য হওয়া সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও পাঠাগারে যান, সেখানে সময় দিন।</p>
<p style="text-align: justify">১০) আপনার পছন্দের বইটি পড়ুন। যে বই পড়লে আপনার ভালো লাগে শুধুমাত্র সেই বইগুলোই পড়তে চেষ্টা করুন। পণ্ডিত হওয়ার জন্যে বই পড়বেন না। আপনার যদি বিজ্ঞান পড়তে ভালো লাগে তাহলে সাহিত্যের পাতা না উল্টিয়ে আপনি বিজ্ঞান বিষয়ক পছন্দমতো বই পড়ুন। যে বই আপনার অন্তরাত্মাকে টানে সেই বিষয়কেই গুরুত্ব দিন। জোর করে কিছু হয় না।</p>
<p style="text-align: justify">১১) আনন্দের সঙ্গে পড়ুন। আপনার পড়ার সময়টাকে যত সম্ভব উপভোগ করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে চা কফি সঙ্গে রেখে, প্রিয় চেয়ারে হেলান দিয়ে কম্বল জড়িয়ে অথবা যেভাবেই আপনি নিজেকে সহজ মনে করেন ঠিক সেই আনন্দের মানসিকতা নিয়ে বই পড়ার চেষ্টা করুন।</p>
<p style="text-align: justify">১২) আপনি নিজের জন্য একটা অনলাইল ব্লগ তৈরি করতে পারেন। এই ব্লগে আপনি আপনার পঠিত পুস্তক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে পারেন। ব্লগে আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের সবাইকেই আমন্ত্রণ জানাতে ভুলবেন না।</p>
<p style="text-align: justify">১৩) বই পড়ার জন্য একটি ইস্পিত লক্ষ্য তৈরি করুন। ধরা যাক প্রতি বৎসর আপনি পঞ্চাশটি বই পড়বেন এমন একটি ইস্পিত লক্ষ্য তৈরি করুন। বৎসরান্তে আপনি আপনার সফলতা আর বিফলতার একটা খতিয়ান নিজেই তৈরি করে আপনি আপনার কাজের মূল্যায়ন করতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">১৪) প্রতিদিন বই পড়ার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব, অতিথিয়েতা ইত্যাদি বিষয়গুলো আমাদের গার্হস্থ্য জীবনের অন্যতম এক বড় অংশ। এখান থেকে কিছুটা সময় নিজের জন্যে স্বার্তপরের মতো তৈরি করুন। মনে রাখবেন এই ব্যস্ততার মাঝেও আপনি যদি বইয়ের একটি পাতা নাও পড়তে পারেন তবু অন্ততঃ চোখ বুলিয়ে যান। তারপরও প্রতিদিন বই পড়ার জন্য সময় ব্যয় করুন।</p>
<p style="text-align: justify">তাহলে আর দেরি কেন? শুরু হোক আজ থেকেই। আর লেখাটি ভালো লাগলে বা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করতে পারেন। বইয়ের জন্যে একটি সামাজিক আন্দোলন এখন খুব জরুরি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2021/04/17/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
