<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ভ্রমণ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/travel/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Fri, 04 Apr 2025 14:58:36 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>ভ্রমণ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>পায়ে চলা মাছ ॥ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/04/04/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%86/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/04/04/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%86/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Apr 2025 14:58:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3389</guid>

					<description><![CDATA[পায়ের ওপরে ভর দিয়ে চলা মাছগুলোর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে। পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রিটাউন থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিনে গডরিচ নামক সৈকতের পাশের জেলেপাড়ায় একটা কাঠের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">পায়ের ওপরে ভর দিয়ে চলা মাছগুলোর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে। পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রিটাউন থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিনে গডরিচ নামক সৈকতের পাশের জেলেপাড়ায় একটা কাঠের সাঁকোর নীচে।</p>
<p style="text-align: justify">গড রিচের কঙ্করময় কন্টকাচ্ছাদিত মাঠে ব্যানসিগ২ এর সদরদপ্তর। আটলান্টিক মহাসাগরের বেলাভূমি থেকে মাত্র ২০০ গজ পশ্চিমে। বাংলাদেশ থেকে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া বাঁশ, কাঠ আর টিন দিয়ে তৈরী করা হয়েছে সৈনিক লাইন, মসজিদ, অফিসকক্ষ-সবই।লাল ধূলিধূসরিত একটা রাস্তা বেলাভূমির সমান্তরাল ইউনিটের সামনে দিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। রিভার-২ নামক সাদা বালির সৈকত পর্যন্ত। লেবানিজ মেয়েদের উচ্ছলতায় ভরে থাকে যেখানকার সকাল-দুপুর-বিকেল।</p>
<p style="text-align: justify">ইউনিটের পশ্চিম পাশে রাস্তার ধারে সবুজ বনের পাহাড়। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর মতো সারি সারি। পাহাড়গুলোর শরীরের ভাঁজে ভাঁজে বিভিন্ন উচ্চতায় ঘরবাড়ি।যারা যত বেশী সামর্থবান, তাদের বাসস্থান ততবেশি ওপরের দিকে।</p>
<p style="text-align: justify">পাহাড়ের অন্তঃস্থল থেকে একটা খাল পেনিনসুলার রাস্তার ওপরের সাঁকোর নীচ দিয়ে গডরিচ জেলেপাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে মিলেছে। রাস্তা থেকে সাধারণভাবে এই খালের অস্তিত্ব বা উৎস কোনটাই দৃশ্যমান নয়। তবে সাঁকোর কাছে দাঁড়ালে সারাক্ষণ জল পড়ার শব্দ শোনা যায়। জলপ্রপাতের অবিরাম শব্দের মতো। প্রতিনিয়ত জোয়ারভাটা হয় এই খালের ভেতরে। সমুদ্রের সাথে গভীর আত্মীয়তার কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিন সকালের মোহন আলোতে প্রতিনিয়ত আমরা সমুদ্রকে অবজ্ঞা করে পেনিন সুলার রাস্তা দিয়ে হাঁটাহাঁটি বা দৌড়াদৌড়ি করি। আজ আমি ক্যাপ্টেন হাসিবকে সাথে নিয়ে এসেছি জেলেপাড়ার দিকে। গডরিচ বীচের সমান্তরালে প্রবাহিত একটা মাটির রাস্তা দিয়ে। জায়গাটা শহরতলীর মতো দেখতে। চারপাশের একতলা টিনের ছাঁদের ঘরগুলো অদ্ভুত রকমের সুন্দর। যুদ্ধের আগে সম্ভবত রিসোর্ট অথবা হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন স্থানীয় অধিবাসীরা দখল করে নিজেদের বাসস্থান বানিয়েছে। ভেতরের দিকে একটা গির্জা। গির্জার দেয়ালে আঁকা মেরীর কোলে যিশু। রিলিফ উয়ার্ক। দুজনের গায়ের রঙই কালো। তাদেরকে ঘিরে আকাশের ভেতরে পরীর পাখা নিয়ে উড়তে থাকা দেবদূতদের রঙও। জীবনে এই আমরা কালো রঙের মেরী আর যীশু প্রত্যক্ষ করলাম।</p>
<p style="text-align: justify">গডরিচ বীচের পার্শ্ববর্তী রাস্তাটা যেখানে শেষ, সেখান থেকে একটু উত্তরে দুই বাড়ির মধ্য দিয়ে সরু রাস্তা। এই পথে একটু এগোতেই সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত খালটির ওপরে একটা কাঠের সেতু। এটা সেই খাল যা পেনিন সুলার সড়কের নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলেপাড়ায় যেতে হলে এই খাল পার হয়েই যেতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">ভাঁটার সময়। সাঁকোর নীচের পানি সমুদ্রের দিকে নেমে গেছে। কর্দমাক্ত মাটি। জলকাদায় একাকার। সাঁকোর ওপর থেকে আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম টাকি মাছের মতো দেখতে উভচর প্রাণী স্বচ্ছন্দে কাদামাটির ওপরে হাঁটাচলা করছে। আনুমানিক ছয় ইঞ্চি দীর্ঘ। চোখ দুটো ব্যাঙের মতো দেহের বাইরে। অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে সাঁকোর ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদেরকে অপলক নেত্রে দেখছে!</p>
<p style="text-align: justify">আমি বিস্মিত ও মুগ্ধ। একটা অসীম কালের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের সুতো দুদিক থেকে টেনে টেনে আমাদের মাঝখানের দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিতে চাইছে আত্মীয়ের মত! মূহুর্তের ভেতর আমার মনের মধ্যে ভাবনা এলো,&#8217;জল থেকে স্থলের দিকে মানুষের অনন্ত যাত্রা তা কি এভাবেই শুরু হয়েছিল?&#8217;</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/04/04/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%86/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নদী ও সমুদ্রের গান ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/01/20/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/01/20/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 20 Jan 2024 03:40:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3067</guid>

					<description><![CDATA[শীতের সন্ধ‌্যা। কুয়াশামাখা আকাশে আপন মনে উড়ে গেল বকের সারি। ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। রাত বাড়ছে। অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। সঙ্গী চাঁদ-তারার হাসি, সমুদ্র, জলরাশি আর রাতের আকাশ। আমরা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শীতের সন্ধ‌্যা। কুয়াশামাখা আকাশে আপন মনে উড়ে গেল বকের সারি। ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। রাত বাড়ছে। অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। সঙ্গী চাঁদ-তারার হাসি, সমুদ্র, জলরাশি আর রাতের আকাশ।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা তখন ঢাকা বিআইডব্লিউটিসি থেকে ইলিশার (ভোলা) দিকে যাচ্ছি। এমভি অ‌্যাডভেঞ্চার-৩ জাহাজে প্রথম যাত্রা বিরতি হবে ভোলার চরফ্যাশন বেতুয়া লঞ্চঘাটে। ৩০০ কিলোমিটার নৌ-পথ! বিকেল সাড়ে তিনটায় জাহাজ ছাড়ার কথা ছিলো। কিন্তু সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার। ঢাকার রাস্তায় প্রচণ্ড জ‌্যাম! দুইশ ত্রিশ জনের দল। অনেকেই সময় মতো পৌঁছুতে পারেননি। হঠাৎ দেখি জাহাজটা কেঁপে উঠল। জাহাজের দড়ি পন্টুন থেকে আলাদা হতে শুরু করল। যাত্রী ঠিকঠাক উঠল কিনা দেখার জন্য সার্ভেয়ার ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছেন। অবশেষে জাহাজ ছাড়ল সন্ধ‌্যা সাড়ে ছটায়।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-3069 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমরা লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি। কেউ ছবি তুলছেন। কেউ সেলফি। এরই মধ‌্যে জাহাজ ভ্রমণের সমন্বয়কারী সবাইকে কেবিনের চাবি এবং ভ্রমণের নির্দেশনা বুঝিয়ে দিলেন। তখন সময় রাত প্রায় নয়টা। আমরা কয়েকজন ডেকে দাঁড়িয়ে জল দেখছি। শীতের রাতে হিমেল বাতাস এসে শরীরে লাগছে। অন্যরকম এক অনুভূতি। আকাশে তখন তারার আলো। আনমনেই শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। এরই মধ্যে ঘোষণা এলো জাহাজের নিচতলায় কুপন দেওয়া হবে। নাস্তা আর গিফট হিসেবে রয়েছে ব‌্যাগ।</p>
<p style="text-align: justify">নিচ তলা অডিটরিয়ামের মতো। একপাশে চায়ের দোকান। রাত বাড়ছে। ব‌্যান্ড দল ‘আপনঘর’-এর গান চলছে। অনেকেই গান শুনছেন। কেউ নাচছেন। কেউ চা, কফিতে ব‌্যস্ত। রাত তখন তিনটা। আমি জাহাজের ডেকে চলে এলাম। মাস্টারের রুমে গেলাম। কিছুক্ষণ মাস্টার নাসির ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করলাম। কীভাবে তারা জাহাজ চালায়, কীভাবে দিক নির্ণয় করে সামনে এগিয়ে যায়, পানি কম না বেশি কীভাবে জানাতে পারে- এসব নানা বিষয়ে কথা বলে জানার চেষ্টা করলাম।</p>
<p style="text-align: justify">বুঝতে পারলাম ঘুম পাচ্ছে। সকাল ছয়টায় বের হয়ে অফিস শেষ করেই জাহাজে এসে উঠেছি। আমি নাসির ভাইয়ের রুম থেকে আবারও নিচে চলে এলাম। রং চা আর বিস্কুট খেয়ে শরীর চাঙা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু না, শরীর ঘুমে ভেঙে পড়ছে। রাত চারটার দিকে জাহাজের দো’তলায় ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে কম্বল মুড়িয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর হঠাৎ হইচইয়ে ঘুম ভেঙে গেল। সময় তখন ভোর সাড়ে চারটা। পরে জানতে পারি ছোটো ছোটো নৌকার লাইট চারদিক থেকে আমাদের জাহাজের দিকে আসছিলো। ফলে অনেকেই ডাকাত মনে করে চিৎকার দিয়েছে। এরপর আর ঘুম হয়নি। চেয়ার থেকে উঠে আবারও চলে যাই ডেকের সামনে। উদ্দেশ‌্য সূর্যোদয় দেখা।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3070 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri5-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri5-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukri5.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">রাত শেষে ভোরে সূর্য ওঠার অপেক্ষায়। আমি ডেকে দাঁড়িয়ে আছি। বাতাস আর ঢেউয়ে শীত শীত অনুভব হচ্ছে। এরই মধ্যে সূর্য দেখা যাচ্ছে। ছবি তুললাম। ভিডিও করলাম। নতুন সূর্য আর পানির ঢেউয়ের ছন্দ আমি হারিয়ে গেলাম অন্য এক ভুবনে।</p>
<p style="text-align: justify">সূর্য আর পানির ঢেউ দেখতে দেখতে বেতুয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছে যাই। সময় তখন সকাল আটটা। ঘাটে পা রাখতেই চোখ জুড়িয়ে গেল। সামনে বিশাল মেঘনা। কিন্তু মনে হবে বিশাল জলরাশির মেঘমাল্লার। মনে হবে যেন সমুদ্র। জল, জল, জল আর পানির ঢেউয়ের ছন্দ।</p>
<p style="text-align: justify">বেতুয়া লঞ্চঘাটে নেমে কিছুক্ষণ হেঁটে বাসে উঠি। সেখান থেকে ভোলায় গিয়ে নাস্তার বিরতি। নাস্তা শেষে জ্যাকব টাওয়ার পরিদর্শন শেষে আবারও বাস। চল্লিশ মিনিট পর বাস থেকে নেমে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চর কুকরিমুকরির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। নৌকা যাচ্ছে। সময় তখন দুপুর। নদীর পাড়ের সবুজ অরণ্যে ঘেরা। আঁকা-বাঁকা খাল পেরিয়ে যখন নদীর মোহনায় চোখে পড়ে সেখানে অপার সৌন্দর্যের হাতছানি। নদীর ঢেউ, নির্মল বাতাস, ম্যানগ্র্যোভ বন, দৃষ্টির সীমানার পুরোটা যেন সবুজ আর সবুজ। অপরূপ প্রকৃতির সাজে সাজানো বনভূমি যেন আরেক সুন্দরবন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পৌঁছে গেলাম। নৌকা থেকে নেমে চর কুকরিমুকরিতে পা রাখছিলাম তখন সময় দুইটা।</p>
<p style="text-align: justify">লাঞ্চ শেষ করে আমরা কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করি। এরপর বিকেলে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চরফ্যাশনের দিকে ফিরছি। যখন ডুবে গেলো সূর্য তখন নদী, তীর ছুঁয়ে জাগা চর, ম্যানগ্রোভের বনে নেমে এলো সন্ধ্যা। সমস্ত প্রকৃতি যেন ধ্যান করছে মৌনতার। চরাচরে নেমে আসা এই সন্ধ্যায় হৃদয়ে শুধু ঢেউয়ে শব্দ।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3071 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukr3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukr3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/01/charkukri-mukr3.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">রাত সাতটার দিকে আমরা বেতুয়া লঞ্চঘাটে আবার জাহাজে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। এই ভ্রমণের ব্যবস্থাপনায় ছিলো ‘লোক’। ভ্রমণ পরিচালনা করেছেন কবি অনিকেত শামীম। আমাদের ভ্রমণে ছিলেন কবি মতিন রায়হান। রাতে যখন ফিরছিলাম তখন মতিন ভাই কবিতা লিখলেন। নদী-সমুদ্রের গান শিরোনামে এই কবিতাটি দিয়েই শেষ করছি লেখা। তিনি লিখেছেন—</p>
<p style="text-align: justify">নদী-সমুদ্রের বন্ধনের কাছে কিছু জমা রেখে যাই<br />
তুমি শল্কপত্রে প্রত্নস্মৃতি, আমি মন্মথ তোমাকে পাই<br />
দেহের বীণায়! হৃদয়ের পুষ্প ডানা নাড়ে সজল গ্রীবায়, এসো মরমিয়া, উজ্জ্বল উদ্ধারে পৃথিবীকে ত্রস্ত করে তুলি!</p>
<p>তুমি চর কুকরিমুকরি যাবে? ফুঁসছে সমুদ্র,<br />
রোদ উঁকি দিচ্ছে দেহের কিনারে; সবুজ বনের হরিণীরা চর্যার নতুন চরে ঢেউ তুলছে! বোধের নগরে দোলা দিচ্ছে অজন্তার গুহাচিত্র! বিস্ময়ে বিমূঢ় আমি! চরফ্যাশনের জাহাজঘাটে আজ কী রেখে এলাম?</p>
<p>অন্ধকার না কি আলোর ফোয়ারা? মধুমতি, তুমি কি<br />
নদীকে চেনো? চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় ও কথা বলে!<br />
আমি তো চিরশরণার্থী হৃদয়ের অসুখবিসুখে!</p>
<p>ও ঢেউখেলানো সবুজ, কী অস্থির পরাপৃথিবীর সজল মেঘমল্লার&#8230; দ্যাখো, প্রেমের নৈবেদ্য কী করে সাজাই!<br />
ও জোৎস্নাফোটা রাত, নির্জনে স্তনের মতো তোমাকে বাজাই!</p>
<p>আলোকচিত্র: লেখক, ৮ জুলাই ২০২০</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/01/20/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাহাড় মেঘ ঝরনার দেশ ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/09/09/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/09/09/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 09 Sep 2023 14:26:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2856</guid>

					<description><![CDATA[ঢাকা থেকে যখন রওনা দেই তখন রাত সাড়ে এগারোটা। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি। প্রচণ্ড গরম। আকাশভরা চাঁদের আলো। ঢাকা ত্যাগ করে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্টগ্রাম যখন পৌঁছাই তখন রাত তিনটা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ঢাকা থেকে যখন রওনা দেই তখন রাত সাড়ে এগারোটা। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি। প্রচণ্ড গরম। আকাশভরা চাঁদের আলো। ঢাকা ত্যাগ করে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্টগ্রাম যখন পৌঁছাই তখন রাত তিনটা প্রায়। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যাচ্ছি। শেষ রাতের আবহাওয়াটা তখন চমৎকার। জানালা দিয়ে দেখছি রাস্তার দুইপাশে পাহাড়। সারি সারি গাছগাছালি সরে সরে যাচ্ছে। শেষ রাতের নিঃস্তব্ধ প্রকৃতি আর বাতাসে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। মনটাও মিশে যায় প্রকৃতির মাঝে।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবে যেতে যেতে খাগড়াছড়িতে সকাল সাতটায় পৌঁছে যাই। বাস থেকে নেমে শাপলা মোড়ে দাঁড়িয়ে ফোন দেই মানিক ভাইকে। মানিক ভাই খাগড়াছড়ির স্থানীয় তরুণ সংবাদকর্মী। দুরন্তপনায় প্রাণোচ্ছল এক টগবগে যুবক। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মানিক ভাই এসে হাজির হন।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2858 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek.jpg 724w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">শাপলা মোড়ে হোটেলে বসে সকালের নাস্তা সেরে নেই। নান রুটি আর সবজি। সঙ্গে চা। আট ঘণ্টা জার্নির পর শরীর চাঙ্গা করার জন্য চা জরুরি ছিল। এরপর চাঁদের গাড়ি ঠিকঠাক করে ঘণ্টাখানেকের মতো রেস্ট নেই। এই ফাঁকে রাতে থাকার জন্য হোটেল বুকিং, পরেরদিন রাতে ঢাকায় ফিরে আসার জন্য অগ্রিম বাসের টিকিটও বুকিং দিয়ে রাখি।</p>
<p style="text-align: justify">সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয় আমাদের খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালিতে যাত্রা। আমরা নয়জনের একটা টিম যাচ্ছি। যাওয়ার রাস্তাটিও চমৎকার। দুপাশে সারি সারি সবুজ আর উঁচুনিচু পাহাড়ি রাস্তা। কখনো উঁচু আবার কখনো নিচু, এ যেন মন ছুঁয়ে যাওয়া অন্যরকম অনুভব।</p>
<p style="text-align: justify">দীঘিনালার পথে যেতে দেখি দুপাশে রাবার বাগান, ফলের বাগান। পাহাড়ের বুকে বসবাস করা আদিবাসীদের বসতি। আঁকাবাঁকা পথের বাঁক। পথে আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হয় আমাদের। দীঘিনালা থেকে কিছুটা সামনে গিয়ে বাঘাইহাট বাজারে গাড়ি থেমে যায়। ছোটখাটো ছিমছাম বাজার। এখানে আমরা দুপুরের খাবার কিনে নেই। হাঁসের মাংস, ভাত, শুটকি ভর্তা। সাথে দুই বোতল পানি। যদিও খাগড়াছড়ি থেকে তিনটা পানির বোতল নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে পানি সংকটে যেন না পড়ি সেজন্যই দুই বোতল কিনে রাখা। বাঘাইহাট বাজারে আমাদের এক ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ এখান থেকে আর্মি স্কর্ট ছাড়া কোনো পর্যটক আসা-যাওয়া করতে পারে না। যে কারণে আমাদের এই অপেক্ষা।</p>
<p style="text-align: justify">বাঘাইহাট বাজার ছেড়ে যেতেই বড় বড় সব পাহাড়ি রাস্তা। চাঁদের গাড়ির ছাদে বসে মনে হবে এই যেন রোলার কোস্টার। এক পাহাড় থেকে নেমে তীব্র গতিতে উঠতে হয় আরেক পাহাড়ে। দুইপাশে চোখে পড়ে সবুজ আর সবুজ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2859 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বাঘাইহাট থেকে মাচালং বাজার। বাজারের পরেই শুরু হয় সাজেকের মূল পথ। অসংখ্য পাহাড়ের বন্ধনে সবুজে ঢাকা অপরূপ সাজেকের রাস্তা। আমরা যাচ্ছি। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে সাজেকের উচ্চতা প্রায় এক হাজার ৭০০ ফুট।</p>
<p style="text-align: justify">পুরো সাজেক পাহাড়ি সৌন্দর্যে মোড়ানো এক মেঘের উপত্যকা। সবুজ অরণ্যে ঘেরা অসংখ্য পাহাড়ের বুকে সাদা মেঘের ভেলা। এ সময় সবকিছু ভুলে শুধুই মনে হয় সত্যি সত্যিই মেঘের দেশে চলে এসেছি। এত কাছ থেকে মেঘ দেখার আনন্দ আহ এক কথায় অসাধারণ!</p>
<p style="text-align: justify">সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত হলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার।</p>
<p style="text-align: justify">সাজেকে গিয়ে আমরা যখন পৌঁছি তখন সময় দুপুর একটা। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। এমনিতেই রাত জেগে জার্নি তারপরে আবার প্রচণ্ড গরম। সাজেকে পৌঁছেই প্রথমে দুপুরের খাবার সেরে নেই আমরা। তারপর সাজেকের সৌন্দর্য দেখতে থাকি।</p>
<p style="text-align: justify">সাজের চূড়ায় নরম ঘাসে বসে দেখি মেঘ। এর মধ্যেই ইভান আমাকে বলে, মামা কয়েকটা ছবি তুলে দাও। আমি ক্যামেরা নিয়ে সাথে সাথে ক্লিক করি। আর তাকিয়ে দেখি মেঘ আর পাহাড়।</p>
<p style="text-align: justify">আমার মোবাইলে চার্জ শেষের দিকে। কিন্তু সাজেকে বিদ্যুৎ নেই। আছে সোডিয়াম লাইট, বায়োবিদ্যুৎ। স্থানীয় রুসুই ত্রিপুরা আমাকে জানাল, এখানে রাতে জ্বলে সোডিয়াম বাতি। চার্জ আর দিতে পারলাম না।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের হাতে সময় আছে আর ঘণ্টাখানেকের মতো। কারণ সাড়ে তিনটার মধ্যে সাজেক থেকে রওয়ানা করতে হবে। আমরা আরো মেঘের কাছে অর্থাৎ পাহাড়ের কোলঘেঁষে যাই। সামনে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখি এক টুকরো সাদা মেঘ। চলতে চলতে নিজেকে মনে হয় মেঘের রাজ্যের অতিথি। পাহাড়ের কোলঘেঁষে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। নীল আকাশ মিতালি করে সেই হ্রদের সাথে। আমি হারিয়ে যাই অন্য এক মোহনায়।</p>
<p style="text-align: justify">মেঘ আর পাহাড় দেখতে দেখতে কখন যে সময় শেষ হয়ে যায় টের পাইনি। মাহবুব, আশিক, সাইমন, ইভান ওরা আগেই গাড়িতে চলে গেছে। চাঁদের গাড়ির ড্রাইভার মান্নান আমাকে ফোন করে বলে, স্যার চলে আসেন, যেতে হবে। আমি শেষ সেলফি তুলে বিদায় জানাই সাজেক ভ্যালি।</p>
<p style="text-align: justify">রাতে যখন খাগড়াছড়িতে পৌঁছাই তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি আর বাতাস। শহরের শাপলা মোড়ে আটকা পড়ে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টার মতো এ অবস্থা। বৃষ্টি কিছুটা কমলে হোটেলে চলে যাই। ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেতে আবারও বের হই। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। খাবার হোটেলে গিয়ে বিপদে পড়ি। কোনো ভাত নেই।</p>
<p style="text-align: justify">হোটেল ম্যানেজারকে বললাম, এ অবস্থা কেন? হোটেল ম্যানেজার জানাল, গত দুই দিনে পর্যটকদের প্রচণ্ড চাপ। জন্মাষ্টমীর ছুটি থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। একটু বসেন, ভাত রান্না হচ্ছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2860 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek4-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek4-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/09/jog-sajek4.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">যাই হোক, আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে গরম আতপ চালের ভাত সাথে কচুশাক, আর গরুর মাংসের ভুনা দিয়ে রাতের খাবার শেষ করলাম। হোটেলে গিয়ে আর কোনকিছু না ভেবে সরাসরি ঘুম।</p>
<p style="text-align: justify">পরের দিন সকালে চলে যাই রিছাং ঝরনা। খাগড়াছড়ি থেকে আট কিলোমিটার দূরে আলুটিলা হয়ে সেখান থেকে আরো দুই কিলোমিটার দূরে মাটিরাঙ্গা উপজেলাতে এই ঝরনা। ঝরনায় নেমেই মনটা শান্ত হয়ে গেল। ঝরনার পানি এতো ঠাণ্ডা। পানিতে পা রেখে পাথরের উপর বসতেই শরীরটায় প্রশান্তি নেমে আসে।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর আমরা চলে যাই আলুটিলা পাহাড় ও গুহায়। সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যময় অহঙ্কার আলুটিলা। আলুটিলা পাহাড় থেকে খাগড়াছড়ি শহরের পুরো চিত্র দেখা যায়। প্রাকৃতিক গুহা যা এখানকার মূল আকর্ষণ। এই গুহা ২৮২ ফুট দৈর্ঘ্য এবং গুহার একপাশ থেকে অন্য পাশে যেতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। গুহার একপাশ থেকে অন্যপাশে পানি প্রবাহমান। গুহার ভিতর অনেক অন্ধকার। পর্যটন কেন্দ্রের গেটে আমরা ২০ টাকা দিয়ে মশাল নিয়ে ভেতরে ঢুকে যাই।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর তারাং, ঝুলন্ত ব্রিজ দেখে চলে আসি খাগড়াছড়িতে। রাত নয়টায় খাগড়াছড়িকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা করি ঢাকার উদ্দেশ্যে। যখন বাস ছাড়ে তখন আকাশে অনেক তারা, আর চাঁদের আলো। আমি জানালা দিয়ে তারার আলো আর রাস্তার দুপাশে পাহাড়, গাছগাছালি দেখছি। জানালা দিয়ে শরীরে হালকা বাতাসের পরশ লাগছে। হাতে ঘড়িটায় যখন চোখ রাখি- দেখি রাত তিনটা। ততক্ষণে খাগড়াছড়ি চলে গেছে স্মৃতির ডায়েরিতে।</p>
<p style="text-align: justify"><em>২ সেপ্টেম্বর ২০১৬</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/09/09/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাদা বালির সৈকত ॥ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/23/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/23/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 23 Aug 2023 05:49:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2849</guid>

					<description><![CDATA[“Some 16km out of Freetown&#8217;s dust and noise is a piece of unexpected paradise. River Number Two beach” — The Guardian. ২০০২ সালের কাহিনি। স্থান- পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">“Some 16km out of Freetown&#8217;s dust and noise is a piece of unexpected paradise. River Number Two beach” — The Guardian.</p>
<p style="text-align: justify">২০০২ সালের কাহিনি। স্থান- পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী সিয়েরা লিওন। গুমা ভ্যালী বাঁধ থেকে আঁকাবাঁকা ঢালু পথ দিয়ে অবতরণের পর আমরা পেনিনসুলার রোডে ফিরে এলাম। মোশাররফ গাড়ি চালাচ্ছে। মোরশেদ আর আমি গাড়ির পেছনের সিটে। রাস্তার বামদিকে সিংহ পর্বতের সারি। সমুদ্রের সমান্তরালে দক্ষিণ পুর্ব দিকে চলে গেছে। পুরো রাস্তাটাই ধূলিধূসরিত। লালচে ধূসর রঙের। ধূলার কারণে সামনের রাস্তাকে কুয়াশার মতো অস্পষ্ট মনে হচ্ছে, অথচ মাথার উপরে তীব্র রোদ। চোখ ঝলসে যাচ্ছে। রাস্তার ডানদিকে কিছুদূর পর পরই পাম গাছের ঘন সারি, আম গাছের বন, নাম না জানা গাছের দল। রাস্তা থেকে সাগরের অস্তিত্ব বোঝা যায় না। শুধু একটু পর পর গাছের ফাঁক দিয়ে চোখের ভেতরে রুপালী আলো ঝিলিক দিয়ে ওঠে। তখন বোঝা যায় যে, ডানেই সমুদ্র।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুক্ষণ চলার পর মূল রাস্তা থেকে বের হয়ে ডানদিকে একটা ঘন বনের মতো জায়গা। বিশাল বিশাল গাছের ছায়ায় গাড়ি পার্কিং প্লেস। রাস্তার উল্টোদিকে একটা সাদা দেয়ালের পাশে কয়েকটা উন্মুক্ত জলের শাওয়ার। বাসার বাথরুমে যেমনটা থাকে। ভ্রমণকারীরা সৈকত থেকে উঠে আসার পর এখানে শরীরের লবণাক্ত জল ধুয়ে ফেলে। পার্কিং প্লেসের পাশেই কয়েকটা স্যুভেনিরের দোকান। ভেতরে কাঠের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য। সবগুলোই মেহগনি অথবা আবলুশ কাঠ দিয়ে তৈরি। এগুলোর শিল্পীরা সবাই এদেশের সাধারণ মানুষ। আমি একবার ফ্রিটাউনে এক যুবক শিল্পীর সাথে কথা বলেছিলাম। ১৯৯৮ সনে রিবেলরা তার একহাত কেটে ফেলে দিলে সে পূনর্বাসন কেন্দ্রে ছিল। এখন অন্য হাত দিয়েই সে লম্বা ছুরি দিয়ে নরম কাঠের উপরে কার্ভিং করে বিভিন্ন ভাস্কর্য তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে। তার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। পাহাড়ের গুহার দেয়ালে বিভিন্ন রঙের পাথর গুড়ো করে রঙ তৈরী করে প্রাণী বা প্রাণি শিকারের ছবি আঁকা মায়া সভ্যতার শিকারীদের মতো।</p>
<p style="text-align: justify">দোকানের বেশীর ভাগ স্থাপত্যই ঈগল পাখির। অদ্ভুত সব ভঙ্গীতে উড়ছে। অবশ্য আমি এই দেশে আসার পর এদের একটাকেও আকাশে উড়তে দেখিনি। তবে সাদা গলার অনেক কাক দেখেছি। সিয়েরালিওনের সর্বত্র এই ঈগল- মূর্তি পাওয়া যায়। আমার বিশ্বাস সিয়েরালিওনে জাতিসংঘ মিশন সম্পন্ন করা সকল বাংলাদেশী সেনাসদস্যদের প্রতিজনের বাসায় একটা করে ঈগল পাখির ভাস্কর্য থাকবে। পাশেই শরীরহীন কাঠের তৈরী একটা কালো মানুষের ভাস্কর্য। নাম ‘থিংকিং ম্যান’। পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয়। কাঠের কার্ভিং দিয়ে গড়া মানুষ, বই পড়ছে। নাম ‘Man reading’। পাশেই আবলুশ কাঠের তৈরী বিমূর্ত চেহারার যুবতী মেয়ে। পিঠে জলের পাত্র নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অদ্ভুত সুন্দর ও বাঙময় ভঙ্গিতে। দোকানের দেয়ালের গায়ে বিভিন্ন ধরণের মুখোশ। সবই আফ্রিকার মানুষদের মুখ। অসাধারণ তাদের মুখের প্রকাশ। হিংসা, বেদনা বা আনন্দ সকল অনুভূতিই ফুটে উঠেছে। সবগুলোই অদ্ভুত ধরণের অলঙ্কার পরা।বন্য গণ্ডার অথবা হাতির ভাস্কর্যগুলো দেখে মনে হচ্ছিল এরা একটু পুর্বেই পর্বত আর সবুজে ঢাকা ওয়েস্টার্ন এরিয়া রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে এখানে চলে এসেছে। জল বা খাবারের সন্ধানে।</p>
<p style="text-align: justify">একটু দূরে পাহাড়ের গায়ের সরু রাস্তা দিয়ে পিঠে করে কাঠ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কালো মানুষেরা। অসাধারণ পেশীবহুল শরীর। গডরিচে আমাদের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নিকটেই মিল্টন মার্গাই স্কুল অফ এডুকেশন এন্ড টেকনোলোজির পাশে বিশাল টিলার পাশে প্রকান্ড একটা খেলার মাঠ। সেই মাঠে ঘাস নেই বললেই চলে। পুরো মাঠই কংকরময় ও পাথুরে। একদল কিশোর এই মাঠে সারাদিনমান ফুটবল খেলে খালি পায়ে। সূর্যের আলোতে তাদের শরীরের পেশীগুলো চকচক করতে থাকে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>অথচ এই দেশের মানুষেরা সারাদিনে মাত্র একবার প্রধান আহার করে থাকে। দিনের অন্য সময়ে প্রধানত বিস্কুট বা হালকা ধরণের কিছু খেয়ে থাকে।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">অবাক করা ব্যাপার হলো সমুদ্রের পাশে হলেও এই জায়গা থেকে সমুদ্র তেমন দেখা যায় না। রাস্তার পূব পাশেই কয়েকটা খাবারের রেস্টুরেন্ট। সেগুলোর ভেতর দিয়ে হেঁটে সমুদ্রের তীরে আসতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবার যোগাড়। বিশাল বিশাল পাম গাছের সারি। পাশে বিস্তৃত বালির সৈকত। ধবধবে সাদা। আমি জীবনে কোনদিনই একসাথে এত বিশাল প্রাকৃতিক শুভ্রতা দেখিনি। পামগাছগুলোর পাশে অনেকগুলো ছনের তৈরী গোলঘর। একসারিতে। সাগরে সাঁতার কাটার পর এগুলোর সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চের উপরে শুয়ে রেস্ট নেয়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">এখন ভাটির সময়। সাগরের জল উপকূল থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। স্বচ্ছ জলের নীচে সমুদ্রের তলদেশ দেখা যাচ্ছে। সেটাও সাদা। বালি অতিক্রম করে সমুদ্রের ভেতরে হালকা নীল জল। মনে হচ্ছে অতিকায় এক তিমি মাছ জলের নীচে ভাসছে। একটু দূরেই রিভার-২ নদীর মোহনা। গুমা ভ্যালি থেকে এঁকেবেঁকে এই নদী সমুদ্রে এসে পড়েছে। মূল সমুদ্রে মিলে যাবার আগে পাকস্থলীর মত একটা ল্যাবিরন্থ তৈরী করেছে। এটা একটা লেগুন। জোয়ার আসার পূর্বে স্নানার্থীরা এই লেগুনেই সাঁতার কাটে। নিরাপত্তার কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">সাগরের বেলাভূমিতে হাঁটার সময়ে আমার ভেতরে বিভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয়।একেক সময়ে একেক অনুভূতি। কখনও কখনও বেলাভূমির সাপেক্ষে মানুষের অনিত্যতা আমাকে কষ্ট দেয়। মনে হয় এই সৈকত এখন থেকে সহস্র বছর পূর্বেও একই রকম ছিল। কত মানুষ, কত প্রাণী এই সাগরের তীরে এসেছে। এর জলে অবগাহন করেছে। জল পান করেছে। এরা কেউই এখন আর নেই। একদিন আমিও থাকব না।</p>
<p style="text-align: justify">তবে এই সাদা বালির সৈকতের অনুভূতিটা অন্য ধরণের। ফ্রীটাউন থেকে একটু দূরের এই জায়গাটায় অদ্ভুত ধরণের একটা শান্তি বিরাজ করে।</p>
<p style="text-align: justify">আকাশে কোনো ধূলা নেই। পার্থিব কোন দুঃখ-বেদনা কখনই এই জায়গাকে স্পর্শ করেনি। এমনকি গৃহযুদ্ধ বা কোনো অরাজক অবস্থাই এই স্থানের শান্তিকে বিনষ্ট করতে পারেনি। প্রকৃতি এখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে স্বর্গ রচনা করেছে। আনন্দে আমাদের তিন বন্ধুর মন ভরে উঠল। জোয়ারের জল বাড়ছে। বেলাভূমির বিস্তৃতি কমছে। আমরা তিনজনে সাগরের সুনীল জলে নেমে গেলাম।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/23/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a6%95%e0%a6%a4-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অবকাশে একদিন আনন্দের ঝরনাধারা ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 14 Aug 2023 05:30:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2820</guid>

					<description><![CDATA[সকাল ৮টা। মাঘের সকাল। হালকা বাতাস সবার শরীরে শীতের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে। সবার চোখেমুখেই উচ্ছ্বাস। কারণ, মাথা, হাতের আঙ্গুল আর সবকিছুরই ছুটি। ঘোষণা হলো সবাই গাড়িতে উঠুন, এখনই বাস ছেড়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সকাল ৮টা। মাঘের সকাল। হালকা বাতাস সবার শরীরে শীতের পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে। সবার চোখেমুখেই উচ্ছ্বাস। কারণ, মাথা, হাতের আঙ্গুল আর সবকিছুরই ছুটি। ঘোষণা হলো সবাই গাড়িতে উঠুন, এখনই বাস ছেড়ে যাবে। ব্যাস, সবাই উঠে গেলেন বাসে। রাজধানী ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ছেড়ে দিল বাস।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2822 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। দিনটি শুক্রবার হওয়ায় খুব যানজট পোহাতে হয়নি। গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পরই সহকর্মী রাসেল পারভেজ শুরু করেন নাচ আর গান। হালকা শীতের মিষ্টি আবহে তার সঙ্গে সহকর্মীদের অনেকেই যোগ দেন নাচে-গানে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই গাড়ি রাজধানী অতিক্রম করে পৌঁছে যায় টঙ্গী স্টেশন রোডে। এখানে গাড়িতে সঙ্গী হন আমাদের (রাইজিংবিডির) নির্বাহী সম্পাদক তাপস রায়। তিনি গাড়িতে উঠার পর সহকর্মী উজ্জল জিসান তার হাতে হ্যান্ড মাইক ধরিয়ে দেন।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, আপনরাদের ডিম দেওয়ার কথা ছিল, চিন্তা কইরেন না, জায়গা মতো পৌঁছে গেলেই ডিম দেওয়া হবে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথমেই শুরু হলো চেয়ার দখল। এরপর পিলো পাসিং। প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হলো র‌্যাফল ড্র। অনেকেই পুরস্কার পেলেন। সবার মুখেই আনন্দ আর হাসির ঝরনাধারা। কতদিন এমন মুক্ত জায়গায় যাওয়া হয় না! এমনিতেই রাজধানীতে বন্দি জীবন, তার ওপর আবার সাংবাদিকতা পেশা। সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকতে হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। আজ ছিল না সে কাজ। বনভোজনে গিয়ে শ্যামল ছায়ায় স্নিগ্ধ হাওয়ার পরশে আমাদের প্রাণে বয়ে যায় আনন্দের ঢেউ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2823 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur3-pilo-pasing-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur3-pilo-pasing-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur3-pilo-pasing.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমরা মেতে উঠেছি কবিতা, কৌতুক, গান আর আড্ডায়। সবার হৃদয়ের গহিন থেকে নিসৃত আনন্দের ঝিলিক চোখেমুখে। এভাবে কখন যে বেলা ৪টা বেজে গেল বোঝাই গেল না। এমন সময় ঘোষণা এলো বিকেল ৫টায় বাস ছেড়ে দেবে। সবাই ব্যাগ, জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। আমরা কয়েকজন এই ফাঁকে চলে গেলাম বাঁশের সাঁকোতে।</p>
<p style="text-align: justify">ওখানে দাঁড়িয়ে ফানুস উড়িয়ে চেয়ে রইলাম আকাশের দিকে। গোধুলিবেলায় মন চাইছিল না ফিরতে। তারপরও ধীর পায়ে সবাই যাচ্ছিলেন গাড়িতে ওঠার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">এরই মধ্যে দেখি শাহনেওয়াজ ভাই হারমোনিয়াম নিয়ে বসে গেছেন গানের আসরে। আহ! কতদিন তার এমন গান গাওয়া হয় না! গলা ছেড়ে দিলেন সুরে, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে..।’</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2824 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/gazipur2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">গানের তালে মুস্তাফিজ শুরু করলেন নাচ। আমি দোলনায় উঠে গানের তালে দোল খেলাম। কিছুটা সময় তালে তালে দোল। এরপর ইতি ঘটলো গানের। ধীরে ধীরে সবাই সব পেছনে ফেলে চলে এলাম গাড়িতে। ততক্ষণে অন্ধকার নেমেই এসেছে। গাড়ি ছেড়ে দিল।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9d%e0%a6%b0%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ব্রুকসাইটে বৃষ্টি নামল ॥ বিতস্তা ঘোষাল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 12 Aug 2023 05:10:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[বিতস্তা ঘোষাল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2814</guid>

					<description><![CDATA[শিলং পাহাড়ের প্রতি পদে ছড়িয়ে অপার বিস্ময়, কোথাও কুয়াশা কোথাও মেঘ, কোথাও রোদের ঝিকিমিকি। অনাদরে পড়ে থাকা ফুলের রং-এ চোখ ধাঁধায়। পাহাড় মার কোলে তার নিশ্চিত আশ্রয়। ঔদ্ধত্য ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিলং পাহাড়ের প্রতি পদে ছড়িয়ে অপার বিস্ময়, কোথাও কুয়াশা কোথাও মেঘ, কোথাও রোদের ঝিকিমিকি। অনাদরে পড়ে থাকা ফুলের রং-এ চোখ ধাঁধায়। পাহাড় মার কোলে তার নিশ্চিত আশ্রয়।</p>
<p style="text-align: justify">ঔদ্ধত্য ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পাইনের সারি।অর্কিডের সঙ্গে নেই কোনও ঝগড়া তার।ঝরনাকে সে দিয়েছে অফুরন্ত প্রশ্রয়।</p>
<p style="text-align: justify">ঘন কালো মেঘের চাদর গায়ে জড়িয়ে একা মা হাঁটে।পিঠে তার আস্ত পৃথিবীর বোঝা, কাঁখে উত্তরধিকারী।বৃষ্টি ভিজিয়ে দিচ্ছে সর্বাঙ্গ।সে নির্বাকার, নির্বিকল্প।যেন মৌন মুনি চলেছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য। এখানেই কোনও এক বাঁকে অমিতের সঙ্গে লাবণ্যর দেখা।</p>
<p style="text-align: justify">অমিত কে? লাবণ্য? জিজ্ঞেস করল গাড়ির চালক।রবীন্দ্রনাথ ওই গাছের তলায় বসে লিখত।তুমি ছবি তুলবে?<br />
নাহ! শেষের কবিতা এখানে লেখা নয়।তবু তারা এখানে। লাবণ্যর খোঁজ আজও অমিত করে।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলোর দরজা বন্ধ।ফুলে ফুলে ভরা প্রবেশ দ্বার।তার সামনে তিনি।কথার মাঝেই মেঘ এসে ঘিরে ধরল।বৃষ্টি আর মেঘের আলিঙ্গনে গাঢ় হয়ে উঠল জিৎভূম।ব্রুকসাইট রোড ঘিরে শুরু হল ঝোড়ো হাওয়ার দাপট।</p>
<p style="text-align: justify">আমি হেঁড়ে গলায় গান ধরলাম-পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে..<br />
সে বলে উঠল, ‌তুমি দেখছি এই লোকটার মতোই পাগল।<br />
হাসতে হাসতে চোখ ভরে গেল জলে।বৃষ্টি আমাকে ছুঁয়ে দাঁড়িওলা বুড়োটার সঙ্গে খেলায় ব্যস্ত।<br />
সহসা মনে পড়ল আজ বাইশে&#8230; ।</p>
<p style="text-align: justify">
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শ্রাবণ ঘনায় দু নয়নে ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/2783/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/2783/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Aug 2023 05:30:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2783</guid>

					<description><![CDATA[শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে আকাশের মত আঁখি মগন বরিষণে শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে &#8211;নচিকেতা চক্রবর্তী নৌকার দাঁড়ের ছপ-ছপ শব্দ। এ যেনো মায়াবী বিকেল।আকাশে রোদ্র-ছায়ার খেলা। নদীর পানিতে সূর্যের আলো-ছায়া। দুই পাশে গাছের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে<br />
আকাশের মত আঁখি<br />
মগন বরিষণে<br />
শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে<br />
&#8211;<em>নচিকেতা চক্রবর্তী</em></p>
<p style="text-align: justify">নৌকার দাঁড়ের ছপ-ছপ শব্দ। এ যেনো মায়াবী বিকেল।আকাশে রোদ্র-ছায়ার খেলা। নদীর পানিতে সূর্যের আলো-ছায়া। দুই পাশে গাছের সারি। নদীর বুকে ভেসে যাচ্ছে নৌকা। গানে-আনন্দে উচ্ছ্বসিত নৌকার যাত্রীরা। দারুণ এক দৃশ্য। সুন্দর মুহূর্ত।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ, বলছিলাম এক বিকেলে নৌকা ভ্রমণের কথা। দিনটি ছিল রোববার (১৪ শ্রাবণ ১৪৩০)। অফিস শেষে আমরা (ইসমাইল, মাহি, ইভা, সুমি, সাইফ) বাসে চলে গেলাম মিরপুর দিয়াবাড়ি হয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2785 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1334649486-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1334649486-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1334649486.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আবহাওয়া বেশ গরম। বাস থেকে নেমে আমরা ধুলো ও বিকট শব্দহীন স্বচ্ছ রাস্তায় যাচ্ছি নদীর ধারে। আমাদের সবার মুখে হাসি আর বেড়ানোর উচ্ছ্বাস। এ যেনো এক আনন্দঘন মুহূর্ত। একপাশে ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর, আর অন্যপাশে দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির তুরাগ নদী। এখানে-ওখানে ফুটে আছে নাম না জানা ফুল। বাঁধের পাথুরে ব্লকগুলোয় ফাঁকে ফাঁকে সবুজ ঘাস জাল বিছিয়ে আছে যেন। পা মেলে একটু বসলেই ছুটে আসা ফুরফুরে বাতাস। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ যেনো অদ্ভূদ সুন্দর।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আমরা নদীর পাড়ে গিয়ে বসলাম। রোদ আছে। হালকা বাতাস বইছে।নদীর তীরে অনেকগুলো নৌকা। অনেকেই সেই নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরছেন। অনেকেই আবার বসে নদীতে দৃশ্য দেখছেন।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">তুরাগের তীরে দেখলাম বিভিন্ন রকম স্থাপনা। দোকান-পাট। কিছু রিসোর্টের মতো করে ছোট ছোট হোটেল। পাশে দেখলাম তামান্না পার্ক। সেখানে ভিড়। সেখানে রাস্তার ডান পাশে আবার চিড়িয়াখানা। সেখানে বোটানিক্যাল গার্ডেনের শেষাংশ এসে মিশেছে। সবুজে-সবুজে আচ্ছাদিত কোলাহল আর লোকালয়হীন একটি অনিন্দসুন্দর জায়গা। দেখেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। ঢাকার এত কাছে, এত অল্প সময়ে, জ্যাম-ধুলো-বালি আর কোলাহলহীন নিশ্চুপ জায়গা, ভাবতেই হারিয়ে যাই নতুন ভুবনে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2786 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1471077780-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1471077780-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1471077780.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">নদীতে নৌকা চলছে। আমরা বসে দেখছি। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করতেই তারা জানালেন, এখানে গাজীপুরের কড্ডা, মজলিশপুর, ভাওয়াল মির্জাপুর, সাকাশ্বর, চা-বাগান এলাকার তুরাগ নদের অংশ ও কালিয়াকৈর বাজারের চাপাইর ব্রিজ এবং বরইবাড়ি ও মকস বিলের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন নৌকা ভ্রমণে আসেন ভ্রমণ পিয়াসীরা। অনেকেই পরিবার নিয়ে আসেন। অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে আসেন, সব বয়সীরাই আসেন এখানে সময় কাটাতে।</p>
<p style="text-align: justify">সাড়ে তিনশ টাকা ভাড়ায় আমরা নৌকায় উঠলাম। ইসমাইল ভাই সেলফি তুলতে ব্যস্ত। মাহি গান গাইছে। সুমি ভিডিও করছে। ইভা পানিতে হাত দিয়ে পানি ছিটাচ্ছে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আমরা নৌকায় যাচ্ছি। পাশে আরেক কয়েকটি নৌকা যাচ্ছে। একটু পরে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দেখলাম হাই ভলিয়মে গান বাজছে আর কয়েকজন নাচছেন।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। নদীর নিস্তব্ধতা ভেঙে পাখিরা কলকালিতে মেতে উঠলো। সূর্যটাও ক্লান্ত হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ঢ়লে পড়তে লাগলো।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2787 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1911988776-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1911988776-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/1911988776.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমরা নৌকায় ঘুরছি। মাঝি আনন্দ ভাই দাঁড় টানছেন। নদীর পানিতে গোধূলির আলো ঝিকমিক করছে।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা সবাই নৌকা বসে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করলাম।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/04/2783/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইদ্রাকপুর কেল্লায় একদিন ॥ মনিরুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/07/04/%e0%a6%87%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/07/04/%e0%a6%87%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 04 Jul 2022 13:46:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মনিরুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2004</guid>

					<description><![CDATA[চলেছি নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পুরানো পথ ধরে। বুড়িগঙ্গাকে ডানপাশে রেখে ফতুল্লা হয়ে বয়ে চলেছে পথটি।কত বছর পর এই পথ ধরে চলেছি স্মৃতি হাতড়েও বের করতে পারলাম না। উদ্দেশ্য মুক্তারপুর ব্রিজ পার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">চলেছি নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পুরানো পথ ধরে। বুড়িগঙ্গাকে ডানপাশে রেখে ফতুল্লা হয়ে বয়ে চলেছে পথটি।কত বছর পর এই পথ ধরে চলেছি স্মৃতি হাতড়েও বের করতে পারলাম না।</p>
<p style="text-align: justify">উদ্দেশ্য মুক্তারপুর ব্রিজ পার হয়ে মুন্সীগঞ্জ যাওয়া।মুক্তারপুর ব্রিজ ও মুন্সীগঞ্জ শহর দুটোই আমার কাছে নুতন, আগে যাওয়া হয়নি।মুন্সীগঞ্জের আদি নাম বিক্রমপুর, যা ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী।পথ শেষ করে যখন শহরে থামলাম,তখন সকাল নয়টাও বাজেনি।দোকানপাট ঠিকমতো খুলেনি।যেখানটায় আমাদের গাড়ি থামলো তার বাম দিকটায় ইদ্রাকপুর কেল্লা আর ডান দিকটায় ডিসি পার্ক।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2006 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/kella-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/kella-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/kella-3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">ডানের পথ ধরে একটু এগুলোই ইদ্রাকপুর কেল্লার প্রবেশদ্বার।কাছে গিয়ে জানতে পারলাম সকাল দশটার আগে প্রবেশদ্বার খুলবে না এবং দশ টাকার টিকেট নিলে তবেই মিলবে প্রবেশ অনুমতি। হাতে একঘণ্টা উদ্বৃত্ত সময়। নাস্তা ও খবরের কাগজ নিয়ে বসলাম উদ্বৃত্ত সময়টুকু ব্যবহার করার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">কাছেই কাচারি মোড়ে চিত্ত বাবুর দোকানে নাস্তার অর্ডার দিয়ে বসলাম। যে হকার ভাইয়ের থেকে প্রথম আলো কিনেছি উনি স্থানীয় একটা দৈনিক সংবাদ পত্রিকা মুফতমে ধরিয়ে দিল।ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানা গেলো এখন আর কেউ বাসায় খবরের কাগজ রাখে না বললেই চলে, ব্যতিক্রম শুধু কিছু অফিস আদালত।চা শেষ করতে করতে ঘড়ির কাটা দশটা ছুঁয়ে ফেললো, টিকেট কেটে প্রবেশ করলাম কেল্লার ভেতরে।এখানকার লোকজন দুর্গটিকে কেল্লা বলতেই পছন্দ করেন।শহরের কাছেই ইদ্রাক পুর নামে গ্রাম আছে।স্থানীয়দের কাছে কেল্লা শব্দটি উচ্চারণ না করলে পথ দেখিয়ে কেল্লার বদলে গ্রামে নিয়ে হাজির করবে ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2007 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/kella-4-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/kella-4-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/kella-4.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে বাঙ্গালার সুবেদার মিরজুমলা এই দুর্গটি নির্মাণ করেন।রাজধানী ঢাকা নগরীকে মগ, পর্তুগিজ ,আরাকানি ও অন্যান্য জল দস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ইছামতি নদীর তীরে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন।যদিও বর্তমানে নদী গতিপথ বদলে অনেক দূরে সরে গেছে।আগে ছিল পশ্চিম পাড়ে ইদ্রাকপুর কেল্লা আর অপর পাড়ে হাজীগঞ্জ কেল্লা।</p>
<p style="text-align: justify">এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দায় আরও একটি জল দুর্গ আছে।সবগুলোই নির্মাণের উদ্দেশ্য ঢাকাকে নৌ আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য।আবুল হোসেন ছিলেন দুর্গের নৌ-সেনাপতি সদলি খান ছিলেন স্থল বাহিনীর প্রধান।</p>
<p style="text-align: justify">দুর্গটির সম্পূর্ণ অবয়ব আর অক্ষত নেই, কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। তবে প্রধান অংশটুকু এখনো অক্ষত আছে যা দেখলে সহজেই বোঝা যায় এখানে একটা দুর্গ ছিল।দুর্গের পূর্বদিকের আয়তকার অংশের চার কোনে প্রাচীর সংলগ্ন বৃত্তাকার ও ছিদ্রযুক্ত চারটি বুরুজ রয়েছে। দুর্গটির মাঝে পশ্চিম অংশে ইটের তৈরি একটি উঁচু বৃত্তকার পর্যবেক্ষণ বুরজ আছে এবং এটাই এখন দর্শনীয় স্থান।ধারণা করা হয়, এই বুরুজ পূর্বে আরও উঁচু ছিল, এর উপর থেকে প্রহরীরা শত্রুপক্ষের রণতরীর আনাগোনা পর্যবেক্ষণ করতো।ইদ্রাকপুর দুর্গের সমগ্র বেস্টনি প্রাচীর, কোণের বুরজসমূহ এবং পর্যবেক্ষণ বুরজের উপরের অংশে নানা প্রকার ছোট বড় ছিদ্র রয়েছে।এই ছিদ্রগুলো কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ, বন্ধুক স্থাপন, অথবা তীর ছোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।পর্যবেক্ষণ বুরজের দক্ষিণ পূর্ব কোনে একটি গুপ্ত সিঁড়িপথ নীচের দিকে নেমে গেছে।আত্মরক্ষার প্রয়োজনে হয়তো এই পথটি রাখা হয়েছিলো।</p>
<p style="text-align: justify">এছাড়াও এখানে আরও একটি গুপ্ত পথ আছে।পর্যবেক্ষণ বুরুজের প্রবেশদ্বারের বা দিকে গুপ্ত পথের মুখটি দেখা যায়।প্রচলিত আছে এই গুপ্ত পথ ধরে হাজীগঞ্জ বা সোনাকান্দা এমনকি লালবাগ দুর্গেও যাওয়া যেত।যদিও তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গুপ্ত পথ আছে এব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, তবে সন্দেহ হলো কতদূর যাওয়া যেত তা নিয়ে।অনেকের ধারণা, এ গুপ্ত পথটি দিয়ে অন্য কোনো দুর্গে যাওয়া না গেলেও ধলেশ্বরী বা ইছামতি নদীর কোথাও হয়তো বেড় হওয়া যেত।</p>
<p style="text-align: justify">ব্রিটিশ আমল থেকেই দুর্গটিকে সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করা হতো।এখনো পুকুরের পশ্চিম পাড়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কিছু লোকের বসাবাস আছে।তবে পর্যবেক্ষণ বুরজের ভিতরে এখন আর কোন স্থাপনা নেই। দুর্গের দক্ষিণে ব্রিটিশ আমলে তৈরি পুরানো জেলখানা রয়েছে, যদিও এখন যাদুঘর হিসেবে ব্যবাহার করা হয়।এখানে অনেক কিছুর সাথে দুর্গের ভিতরে পাওয়া ছোট ছোট কলশী রক্ষিত আছে ।<br />
এগুলো পাওয়া গিয়েছে পর্যবেক্ষণ বুরুজের মেঝেতে।এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতো প্রচলিত আছে।কেউ কেউ বলে থাকে এগুলে ব্যবহার করে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ অথবা ভূমিকম্প রোধ করা হতো।অন্য প্রচলিত মতো অনুযায়ী, যেহেতু এগুলো বালি ভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায়, আক্রমণ হলে দুর্গের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যেন কম হয় এই কারণে ব্যবহার করা হতো। মানুষের অসচেতনাতার সাথে যুদ্ধ করে মোগল আমলে বাংলায় নির্মিত এই স্থাপত্য ইতিহাসের পাঠ হিসেবে আর কতদিন টিকে থাকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/07/04/%e0%a6%87%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তাকারাজুকা রেভ্যু ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 22 May 2022 12:33:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1937</guid>

					<description><![CDATA[আই লাভ ইউ জাপান। জাপানে দীর্ঘ বছর থেকে &#8220;তাকারাজুকা রেভ্যু&#8221; মিউজিক থিয়েটার দেখেনি এমন বিদেশির সংখ্যাই বেশি।আমিও বহু বছর ধরে এত শুনেছি, পড়েছি এর ইতিহাস অথচ সময় ও সুযোগই হয়নি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আই লাভ ইউ জাপান।<br />
জাপানে দীর্ঘ বছর থেকে &#8220;তাকারাজুকা রেভ্যু&#8221; মিউজিক থিয়েটার দেখেনি এমন বিদেশির সংখ্যাই বেশি।আমিও বহু বছর ধরে এত শুনেছি, পড়েছি এর ইতিহাস অথচ সময় ও সুযোগই হয়নি দেখার। ১৪ মে ২০২২ দেখার সুযোগ হলো। আর এই সুযোগটা আমার স্বর্গবাসী বাবাই করে দিয়েছেন বলে আমার স্ত্রী নোরিকোর ভাষ্য।</p>
<p style="text-align: justify">১৪ মে ২০২২ ছিল বাবার দশম প্রয়াণ দিবস।মনটাও ভারাক্রান্ত ছিল। আমার স্ত্রী বলল, মন খারাপ করো না।বয়স হলে মানুষ অনন্তকালের পথে চলে যাবে এটাই চিরসত্য।আমার বাবাও তো চলে গিয়েছে ২০১১ সালে, এক বছরের ব্যবধানে।চলো তাকারাজুকা থিয়েটার দেখে আসি। টিনা দুটো টিকিট সংগ্রহ করেছে আমাকে নিয়ে দেখতে যাবে বলে।কিন্তু টিনা কাজে ব্যস্ত যাবে না বলছে, আমরা দুজনকে যেতে বলছে আজকে। তাকারাজুকার কথা তো জানোই, সহজে টিকিট পাওয়া যায় না আর ব্যয়বহুলও।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1939 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">মন কেমন করে উঠলো। তাই তো! বাংলাদেশে থাকলে একটা ঘরোয়া স্মরণসভা করা যেত বাসায়।জাপানে যখন আছি বাবার পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জগৎ-বিখ্যাত জাপানি নারীদের সৃজনশীল সংস্কৃতিচর্চার অপূর্ব কর্মকাণ্ড দেখে আসি।বাবা তো আমার সৃজনশীলতাকে সবসময় উৎসাহ দিয়েছে।খুশিই হবে।</p>
<p style="text-align: justify">সাড়ে তিন ঘণ্টার তাকারাজুকা গীতিনাট্য এবং গীতিনৃত্য দেখে লা জওয়াব অভিভূত হয়ে গেলাম।বহুতল বিশাল মিলনায়তন টোকিও তাকারাজুকা থিয়েটার বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল হোটেলের পাশেই, ইউরাকুচোও শহরে।দর্শকে লোকারণ্য, প্রচণ্ড ভিড়।তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সবাই নারী দর্শক, অধিকাংশ আবার তরুণী।পুরুষ একেবারে হাতগোনা কয়েকজন মাত্র।তাদের মধ্যে আমি অন্যতম।এর মূল কারণ হচ্ছে, &#8220;তাকারাজুকা রেভ্যু&#8221; হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে নারীদের দ্বারা পরিচালিত ও অভিনীত।পুরুষ চরিত্রের অভিনয়ও নারীরাই করে থাকে।কোনো পুরুষ চরিত্র নেই।আর এটাই বিশেষত্ব।নারীদের মধ্যে এক কথায় অবিশ্বাস্য জনপ্রিয় এই তাকারাজুকা।বিশ্বে সম্ভবত এরকম দ্বিতীয়টি আছে কিনা জানা নেই।</p>
<p style="text-align: justify">যেমন অভিনয়, তেমন কণ্ঠস্বর, তেমন গতিশীল দৈহিক পারদর্শিতা। তাজ্জব। দেখে চোখের পলক পড়ে না, এত সুদক্ষ এবং নান্দনিক! মাল্টি-পারপাস-স্টেজও বিস্ময়কর। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্দার বদল ঘটছে। ঘরবাড়ি, দোকান, সিঁড়ি, অ্যাভিনিউ ইত্যাদি বিশাল মঞ্চের মধ্যে নিচ থেকে উঠছে, নামছে, ঘুরছে সে এক এলাহিকাণ্ড বটে। সেইসঙ্গে একাধিক ভিডিও দৃশ্য চলমান যার ঝলোমলো রঙের বৈচিত্র‍্যে চোখ ধাঁধিয়ে যায়।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1940 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-1-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-1-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/05/japan-1.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">মোট কথা, একটা অসামান্য, অপূর্ব অভিজ্ঞতা হলাে বাবার জন্য, তাঁর নাতনি টিনার জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">১৯১৩ সালে তাকারাজুকা কাগেকিদান বা তাকারাজুকা মিউজিক থিয়েটার আমেরিকার ব্রডওয়ে-স্টাইলে গঠিত হয় হিয়োগো-প্রিফেকচারের তাকারাজুকা শহরে।যা শতবর্ষ অতিক্রান্ত হয়ে আজও সমান জনপ্রিয়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/22/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a5%a5-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চর মোন্তাজ ও সোনার চর ॥ মনিরুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/01/15/%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/01/15/%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 15 Jan 2022 06:06:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মনিরুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1468</guid>

					<description><![CDATA[গলাচিপা যাওয়ার সময় আমাদের লঞ্চ যখন দুই বার চরে আটকালো, তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না সময়ের অভাবে পড়তে যাচ্ছি। শীতকালে নদীর যৌবনের উচ্ছ্বলতা কমতির দিকে থাকে তার উপর ঘন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">গলাচিপা যাওয়ার সময় আমাদের লঞ্চ যখন দুই বার চরে আটকালো, তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না সময়ের অভাবে পড়তে যাচ্ছি।</p>
<p style="text-align: justify">শীতকালে নদীর যৌবনের উচ্ছ্বলতা কমতির দিকে থাকে তার উপর ঘন কুয়াশার চাদরে দৃষ্ট সীমা কমে আসে।এই সময়ে ডুবো চরে লঞ্চ আটকে যাওয়া প্রায় রোজকার ঘটনা।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1470 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-3-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-3-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-3.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">আমাদের এবারের ছুটে চলার উদ্দেশ্য, চর মন্তাজ হয়ে সোনার চরে গিয়ে ক্যাম্প করা।সোনার চর রাঙাবালি উপজেলায় হলেও গলাচিপা হয়ে যেতে সুবিধা হয়।গলাচিপার লঞ্চ ৫টা ৩০মিনিটে টারমিনাল ছেড়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">রাজন সদরঘাট পৌঁছানোর আগেই আমাদেরকে নিয়ে গলাচিপার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলো আমাদের লঞ্চ এমভি আসা যাওয়া ।ঢাকা শহরের বিখ্যাত যানজটের বদলৌতে সময়মতো সদর ঘাটে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলো রাজন।পরবর্তী লঞ্চ ধরতেও ব্যর্থ হয়ে আর কোনও উপায় না দেখে পটুয়াখালীর লঞ্চে উঠে বসলাম।</p>
<p style="text-align: justify">লঞ্চ চরে না বাঁধলেও গলাচিপা গিয়ে রাজনের না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হতো।।ইচ্ছে ছিল আনডার চরেও যাবো। কিন্ত সময়ের অভাবে সে আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।</p>
<p style="text-align: justify">গতানুগতিক অন্য ভ্রমণের মতো রাতে বসলো আড্ডা। আড্ডা যখন শেষ হলো রাত গড়িয়ে সকালের কাছাকাছি।বিছানায় যেতে যেতে চারটা বেজে গেলো। সকাল দশটার দিকে আমাদের লঞ্চ গলাচিপার পন্টুন এসে ভিড়লো।তার মানে প্রায় চার পিছিয়ে আছি।গলাচিপা থেকে চর মোন্তাজের ট্রলার ইতিমধ্যেই ছেড়ে গিয়েছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1472 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-1-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-1-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-1.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">যদিও আমাদের পরিকল্পনা বোয়ালিয়া হয়ে স্পিড বোটে করে চর মোন্তাজ যাওয়া তাতে টাকা বেশি লাগলেও সময় বাঁচানো যাবে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1471 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/01/char-montaz-2.jpg 725w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">রাজনের এক বন্ধু আতিক, পুলিশের কর্মকর্তা। আগে থেকে মোটামুটি সব ঠিক করে রেখেছিল। ঐদিকে ঢাকা থেকে যোগযোগ করে এসেছিলাম তোফাজ্জল ভাইয়ের সাথে উনি চর মোন্তাজ থেকে সোনার চর যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।</p>
<p style="text-align: justify">নাস্তা শেষ করে সময় নষ্ট না করে আগে থেকে ঠিক করা টেম্পুতে চেপে বসলাম বোয়লিয়র উদ্দেশ্যে। রাস্তা সম্পর্কে আমারদের পুর্ব কোনও ধারণা ছিল না।</p>
<p style="text-align: justify">কোনও রাস্তা এর চেয়ে খারাপ হতে পারে বলে আমার বলে আমার মনে হয় না। যাই হোক অনেক কষ্ট করে যখন আমরা বোয়ালিয়া স্পিড বোট ঘাটে পৌঁছালাম। ঘাটে স্পিড বোটের অস্তিত্ব নেই। আগামীকাল এখানে স্থানীয় নির্বাচন তাই পরিবহন চলাচল সীমিত। যদিও আমাদের জন্য ব্যবস্থা করা আছে। কিছুক্ষণের ভিতরেই এসে হাজির হলো আমাদের বোট। শুরু হলো চলা চর মোন্তাজের উদ্দেশ্যে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/01/15/%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
