<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>শিল্পভাবনা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/thoughts/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 19 Sep 2022 16:43:37 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>শিল্পভাবনা &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বগুড়া লেখক চক্রের ৩৪ বছর ॥ ইসলাম রফিক</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/09/19/%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a7%a9%e0%a7%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/09/19/%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a7%a9%e0%a7%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Sep 2022 16:38:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলাম রফিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2166</guid>

					<description><![CDATA[[ গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ছিলো বগুড়া লেখক চক্রের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।এ উপলক্ষে লেখাটি লিখেছেন ইসলাম রফিক।] সাহিত্যে বগুড়া সব সময় উর্বরভূমি।প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় অবধি সে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="font-size: 18pt"><em>[ গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ছিলো বগুড়া লেখক চক্রের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।এ উপলক্ষে লেখাটি লিখেছেন ইসলাম রফিক।]</em></span></p>
<p style="text-align: justify">সাহিত্যে বগুড়া সব সময় উর্বরভূমি।প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় অবধি সে ধারা অব্যাহত।বগুড়া লেখক চক্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর।প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যায় বগুড়া লেখক চক্র।</p>
<p style="text-align: justify">ইতোমধ্যে সংগঠনের বয়স ৩৪ বছর অতিক্রম করেছে।প্রতিষ্ঠার পর একটি সাহিত্য সংগঠন ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় থেকে ৩৪ বছর পার করা চাট্টিখানি কথা নয়।সেই অসাধ্য কাজটি করেছে বগুড়া লেখক চক্র।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফিরোজ আহমদসহ প্রতিষ্ঠাতা পলাশ খন্দকার, মাহমুদ হোসেন পিন্টু, মিঠু হোসেন, পিয়াল খন্দকার, শিবলী মোকতাদিরসহ সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই।</p>
<p style="text-align: justify">বগুড়া লেখক চক্র প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বুকে ধারণ করে আছে মুক্তচিন্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে বগুড়া লেখক চক্র, স্বপ্ন দেখে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার।এই দীর্ঘসময়ে অনেক চড়াই উৎরাই এলেও সংগঠন তার আদর্শ থেকে এক চুলও সরেনি।আমার পূর্বে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">বগুড়া লেখক চক্র এই ৩৪ বছরের শুরু থেকে এখন অবধি ধারাবাহিকভাবে পাক্ষিক সাহিত্য আসর করে যাচ্ছে।ঝড় বৃষ্টি, ঈদ কিংবা পূজা কোনও পার্বনেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।এই দীর্ঘসময়ে বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের জন্মদিন, মৃত্যুদিন পালন, বগুড়ায় বসবাসকারী কবিদের জন্মদিন মৃত্যুদিন পালন, কবিদের বই নিয়ে পাঠ পর্যালোচনা, সংগঠনের মুখপত্র ‘ঈক্ষণ’ এর ধারাবাহিক প্রকাশ, বইমেলা, তরুণ লেখকদের জন্য লেখালেখি বিষয়ক কর্মশালা, বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত বই পাঠ এবং তা নিয়ে পাঠ পর্যালোচনার আয়োজন করেছে বগুড়া লেখক চক্র।আয়োজন করেছে কবি সম্মেলনের।</p>
<p style="text-align: justify">সারাদেশের কবি সাহিত্যিকদের পদ চারণায় বগুড়া হয়েছে মুখরিত। বগুড়া লেখক চক্রের সুনাম চলে গেছে জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে, জাতীয় পর্যায় থেকে বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে।এই ৩৪ বছরে প্রায় ৩০০০ এর অধিক কবি বগুড়ায় আগমন করেছেন এবং বগুড়া লেখক চক্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন।এই সময়ে প্রায় ১৫০ এর অধিক কবি সাহিত্যিক গুণীজনকে পুরস্কার/সম্মাননা প্রদান করেছে বগুড়া লেখক চক্র।</p>
<p style="text-align: justify">সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত সংগঠন বগুড়া লেখক চক্র।সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রগতিশীল সকল আন্দোলনে ভূমিকা রয়েছে বগুড়া লেখক চক্রের, ভূমিকা পালন করেছে কবি সাহিত্যিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে।</p>
<p style="text-align: justify">বগুড়া লেখক চক্র তরুণ ছেলে-মেয়েদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি করছে।তাদেরকে বইপড়া, লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা, প্রকাশনা বিষয়ক জ্ঞানদানসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে সাহিত্য আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখছে বগুড়া লেখক চক্র।কেননা তরুণরা লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে গড়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, সুযোগ পাচ্ছে নিজেকে প্রস্তুত করার, সর্বোপরি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার।বগুড়া লেখক চক্রের অনেক সদস্য আজ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।সেটা কবি হিসেবে, সাংবাদিক হিসেবে কিংবা প্রকাশক হিসেবে।সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ কিংবা সরকারি মুজিবুর রহমান কলেজসহ বগুড়া একটা শিক্ষানগরী হওয়ায় জেলার বাইরে থেকে অনেক প্রতিভাবান তরুণরা বগুড়ায় আসে এবং বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে কর্মজীবনে ফিরে যায়।এসব বেড়ে ওঠা প্রগতিশীল তরুণরা সমাজে অবদান রাখছে।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা একথা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে, এই অঞ্চলে সাহিত্য আন্দোলনে, লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে বগুড়া লেখক চক্র একটি শ্রদ্ধার নাম।বগুড়ায় থেকেছেন, লেখালেখি করেছেন, অথচ বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যুক্ত হননি এরকম লেখক একেবারে হাতে গোনা। ঠিক তেমনি বগুড়া লেখক চক্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের অনেক কবি বগুড়ায় এসেছেন, বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনকে ঋদ্ধ করেছেন নিঃসন্দেহে।</p>
<p style="text-align: justify">বগুড়া লেখক চক্র জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন। এর সাথে যুক্ত আছেন বাংলা ভাষা ভাষীর মানুষ।বাংলা ভাষা ভাষী সকলের সংগঠন বগুড়া লেখক চক্র।তরুণ আর প্রবীণদের মিলনক্ষেত্র বগুড়া লেখক চক্র। প্রগতিশীল চিন্তার সংগঠন বগুড়া লেখক চক্র এই অঞ্চলে কাজ করছে সাহিত্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে।</p>
<p style="text-align: justify">এবার ১৬ সেপ্টেম্বর (২০২২) বগুড়া লেখক চক্রের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে শুভেচ্ছা জানাই এর সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠাতা সব সদস্যকে।কৃতজ্ঞতা জানাই বগুড়া লেখক চক্রকে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এই দীর্ঘসময় ধরে।পূর্বের মতো আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাবে বগুড়া লেখক চক্র, সেই প্রত্যাশা রাখছি।শুভ হোক বগুড়া লেখক চক্রের পথচলা।</p>
<p style="text-align: justify"><em>ইসলাম রফিক: কবি, সম্পাদক-দোআঁশ এবং সভাপতি, বগুড়া লেখক চক্র </em></p>
<p><span style="color: #ff0000"><strong>আরও পড়ুন</strong></span><br />
<a href="https://www.jogsutra.com/2021/09/05/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac/">কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বগুড়া লেখক চক্রের সভা</a><br />
<a href="https://www.jogsutra.com/2021/09/05/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a7%9c/">চার বিষয়ে দেওয়া হবে ‘বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার’</a><br />
<a href="https://www.jogsutra.com/2021/10/30/%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/">বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার পেলেন ৫ জন</a><br />
<a href="https://www.jogsutra.com/2021/11/28/%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a/">বগুড়ায় কবি সম্মেলনে পাঁচ জনকে সম্মাননা</a></p>
<p>&nbsp;</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/09/19/%e0%a6%ac%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a7%a9%e0%a7%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবুল হাসনাত স্মারক বক্তৃতা ॥ হাসনাত ভাই না থাকলে তাদের লেখক হয়ে ওঠা হতো না</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%83/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%83/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 30 Jul 2022 04:41:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য সংবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2020</guid>

					<description><![CDATA[গত শতকের ষাটের দশক এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি ব্যতিক্রমী সময়।কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তখনকার মানুষদের। সেই পথের অন্যতম পথিক কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাত।বহুমুখী কর্মগুণী এই মানুষকে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">গত শতকের ষাটের দশক এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি ব্যতিক্রমী সময়।কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তখনকার মানুষদের। সেই পথের অন্যতম পথিক কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাত।বহুমুখী কর্মগুণী এই মানুষকে মূলত নির্মাণ করেছে ষাটের দশক।</p>
<p style="text-align: justify">শুক্রবার (২৯ জুলাই ২০২২) বিকেলে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে ছিল আবুল হাসনাত স্মারক বক্তৃতা। ‘আবুল হাসনাত এবং ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ শিরোনামে লিখিত বক্তৃতা দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি বলেন, ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক জাগরণের পটভূমিকায় আবুল হাসনাতকে বিবেচনায় নিলে আমরা এই মানুষকে জানতে পারব।এই সময়ে তাকে খুঁজতে হবে নিভৃতে, পর্দার অন্তরালে, মঞ্চের পেছনে, যেখানে তিনি স্বচ্ছন্দ, তার স্বভাবগত বৈশিষ্ট ও জীবন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">মফিদুল হক বলেন, কাজের ক্ষেত্র যদি বিবেচনা করি, তবে প্রথমে দেখি ছাত্র ইউনিয়নে তার ভূমিকা, আন্দোলন তখন নানাভাবে বিস্তৃতি পাচ্ছে, আর প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে তার সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা।সেই সঙ্গে আছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তি, একুশের সংকলন প্রকাশ, মঞ্চে কিংবা খোলা ময়দানের সংগীত–নৃত্যানুষ্ঠান, যা পরে সংস্কৃতি সংসদ ঘিরে অর্জন করে বিশিষ্টতা ও বিশালতা।</p>
<p style="text-align: justify">ব্যক্তি আবুল হাসনাত প্রসঙ্গে মফিদুল হক বলেন, আবুল হাসনাতের উপস্থিতি ও ভূমিকা কতভাবে যে চারপাশের মানুষকে ছুঁয়ে যেত, তার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ বিশেষ মিলবে না। অপরের মনের গহিনে তিনি জায়গা করে নিতে পারতেন তার সব কুণ্ঠা ও দ্বিধা সত্ত্বেও।</p>
<p style="text-align: justify">অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঙালির জাতীয় চেতনা নিয়ে অসাম্প্রদায়িক সাম্যমূলক দেশ গড়ার যে প্রয়াস, সেটা স্বাধীন বাংলার উদ্ভবের মধ্যে বিজয় অর্জন করল। কিন্তু একে সার্থক করে তুলতে যে বহুবিধ আয়োজন জরুরি ছিল, স্বাধীন দেশে পরম নিষ্ঠায় তা পালন করেছেন আবুল হাসনাত।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন আবুল হাসনাতের স্ত্রী নাসিমুন আরা হক। তিনি বলেন, কাজটাকে সে খুব গুরুত্ব দিত।তার লক্ষ্য ছিল, দেশে একটা সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারা গড়ে তোলা এবং তার কাজের ভেতর দিয়ে জাতির মননকে সমৃদ্ধ করা, রুচিশীল মানুষ গড়ে তোলা। সাহিত্য সম্পাদনার মধ্য দিয়ে সেই কাজই সে এগিয়ে নিয়েছে। তখনকার সংবাদ–এর সাহিত্য সাময়িকী মানুষের কাছে ভীষণ গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। তার প্রয়াণের পর অনেকেই স্বীকার করেছেন, হাসনাত ভাই না থাকলে তাদের লেখক হয়ে ওঠা হতো না।</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, একটা সময় পর্যন্ত আমাদের সংস্কৃতি রাজনীতির চেয়ে অগ্রসর ছিল। ১৯৫২ সালের আন্দোলনটি ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির আন্দোলন। তখন সংস্কৃতিই রাজনীতিকে পথ দেখিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের ওপর সংস্কৃতিকর্মীদের প্রভাব ছিল। সেটা সম্ভব হয়েছে আবুল হাসনাতদের মতো মানুষদের কারণে।</p>
<p style="text-align: justify">আবুল হাসনাত সবাইকে জড়িয়ে রাখতে চাইতেন উল্লেখ করে বরেণ্য চিত্রকর রফিকুন নবী বলেন, আবুল হাসনাতকে নানা ভূমিকায় পাই। হাসনাত চাইতেন সবাইকে জড়িয়ে রাখতে, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে। পরিচয়ের পর থেকে আমাকে দিয়ে পোস্টার আঁকিয়ে নিতেন তিনি। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানা থেকেও কালি ও কলমের নতুন সংখ্যার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটি ছবি এঁকে দিতে বলেছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">স্মারণ অনুষ্ঠানের শুরুতে বুলবুল ইসলাম গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে’ ও ‘বন্ধু, রহো রহো সাথে’ গান দুটি। ধন্যবাদ জ্ঞাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কালি ও কলম সম্পাদক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, হাসনাত ভাই একজীবনে অনেক জীবন ধারণ করেছিলেন। তার একটা সংগ্রামী সত্তা ছিল, সম্পাদক হিসেবে স্বকীয়তা ছিল। পর্দার আড়ালে থেকে তিনি কাজ করে যেতেন। সকলের পিঠে হাত রাখতেন যাতে তারা নিজস্ব অঞ্চলে সৃষ্টিশীলতায় স্বাক্ষর রাখতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">স্মারক বক্তৃতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কথাসাহিত্যিক হায়াৎ মামুদ, আনিসুল হক, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/07/30/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%83/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একক বক্তৃতা ॥ শিক্ষার মাধ্যম যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলা না হয় ততক্ষণ সাহিত্যের উন্নতি হবে না: সলিমুল্লাহ খান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/07/24/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/07/24/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 24 Jul 2022 14:13:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদমান সাবের]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2013</guid>

					<description><![CDATA[শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন লেখক, গবেষক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেছেন, যে জাতির নিজের সাহিত্য নেই সেই জাতির মেরুদণ্ড থাকে না। বর্তমানে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন লেখক, গবেষক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেছেন, যে জাতির নিজের সাহিত্য নেই সেই জাতির মেরুদণ্ড থাকে না। বর্তমানে দেশে জনসাহিত্য বিরোধী অবস্থা চলছে।শিক্ষার মাধ্যম যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলা না হয় ততক্ষণ সাহিত্যের উন্নতি হবে না।</p>
<p style="text-align: justify">গত ৫০ বছরে শিল্প-সংস্কৃতির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মন্তব্য করে সলিমুল্লাহ খান বলেন, দেশে মানসম্পন্ন সাহিত্য পত্রিকা নেই। শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন একাডেমির বড় বড় বিল্ডিং আপনাকে বস্তুত ধোঁকা দেবে।</p>
<p style="text-align: justify">শনিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলায়ন সভা’র বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে তিনি ‘আধুনিকতার মহিমা: বাহ্লটার বেনিয়ামিন ও কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক একক বক্তব্য রাখেন।</p>
<p style="text-align: justify">যথার্থ স্বাধীনতার জন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে মন্তব্য করে এই অধ্যাপক বলেন, আধুনিক যুগ দাস তৈরি করছে। আমরা সবাই দাস হয়ে গড়ে উঠছি, চাকরি করছি। আমরা মাথা নিচু করে থাকি। মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারি না।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েও শিক্ষার মাধ্যম কেন ইংরেজি করা হয়? এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। এই দেশে পাঠ্যপুস্তক আমদানি করতে হয়। পাঠ্যপুস্তক লেখার মতো লোকও তেমন নেই।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি আরও বলেন, ইংরেজি সাহিত্যের বিরোধিতা করছি না। বাংলা চর্চা করতে চাইলে ইংরেজি বর্জন করতে হবে তা না। ইংরেজি কখনো বাংলার অন্তরায় হতে পারে না।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-2015 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/salimullah-khan-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/salimullah-khan-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/07/salimullah-khan.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">দেশে ৪৫-৫০টি অবাঙালি জাতি রয়েছে। তাদের ভাষাকে মর্যাদা দিলে আমরা বাংলাকে সম্মান দেই প্রমাণ হবে বলে মন্তব্য করেন সলিমুল্লাহ খান।</p>
<p style="text-align: justify">‘বাংলায়ন সভা’র এটি ছিল তৃতীয় বৈঠক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি গিরীশ গৈরিক। উপস্থিত ছিলেন অর্ধশতাধিক শ্রোতা ও লেখক-পাঠক। সভার প্রথম বৈঠকের বিষয় ছিল ‘কথাশিল্পী বুলবুল চৌধুরীসহ কোভিড ১৯ অতিমারিতে হারানো বাঙালি গুণীজন স্মরণ’ এবং দ্বিতীয় বৈঠকের বিষয় ছিল ‘উচ্চশিক্ষা ও উচ্চ-আদালতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের অন্তরায় এবং উত্তরণের পথ’।</p>
<p style="text-align: justify">ভাষা আন্দোলন এবং একুশের চেতনাকে ধারণ করে শিল্প-সংস্কৃতির এই সংগঠন যাত্রা শুরু করে ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। সংগঠনটির মুখপাত্র কথাশিল্পী শামস সাইদ, সম্পাদক কবি ফারুক সুমন ও সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন গাজী মুনছুর আজিজ। সংগঠনটি ‘বাংলা বিশ্বময়’ শ্লোগান ধারণ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/07/24/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-৩) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/18/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/18/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 18 Jun 2022 04:28:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1991</guid>

					<description><![CDATA[‘কুমকুম’ গল্পে আমরা দেখি, গল্পটির নায়িকা কুমকুম তার পাড়া-মহল্লায় সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও সবার থেকে সে আলাদা, কথাবার্তায় চালচলনে স্বাধীনচেতা স্বভাবের।পাড়া-মহল্লায় সে দুমুর্খ বলে পরিচিত, আবার তার রূপের খ্যাতিও &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘কুমকুম’ গল্পে আমরা দেখি, গল্পটির নায়িকা কুমকুম তার পাড়া-মহল্লায় সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও সবার থেকে সে আলাদা, কথাবার্তায় চালচলনে স্বাধীনচেতা স্বভাবের।পাড়া-মহল্লায় সে দুমুর্খ বলে পরিচিত, আবার তার রূপের খ্যাতিও যথেষ্ট।তার সাহস,স্পষ্টবাদিতাকে পাড়ার বখাটে-মাস্তান ছেলেরা ভয় পায়।আবার প্রেমেও সে নিঃসঙ্কোচ, স্পষ্টবাদী।</p>
<p style="text-align: justify">‘কুমকুম’ গল্পে নারীদের সমাজের শেকল ভেঙে নিজস্ব অধিকার বোধে সচেতনতা এবং প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশে দ্বিধাহীন নিসঙ্কোচ সাহসিক একটি চিত্র আমরা পাই।সময়ের প্রেক্ষিতে যা একটি সাহসী উচ্চারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।আমরা এখনো দেখি নারীরা নানাভাবে অপমানিত হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন, এমনকি আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন।এ সময়ের প্রেক্ষাপটেও কুমকুম বাঙালি নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিবাদী এক চরিত্রই শুধু নয়, প্রতিনিধিও।</p>
<p style="text-align: justify">পাড়ার খারাপ ছেলেদের দলপতি রাজ্জাক।মহল্লায় মেয়েদের নিয়ে আজব টাইপের অদ্ভুত সব মিথ্যে ও নোংরা গল্প তৈরি করে বন্ধুদের বাহবা কুড়ায় সে।একদিন কুমকুমকেও প্রেমের প্রস্তাব দেয় বন্ধুর মাধ্যমে একটা চিঠি পাঠিয়ে।কুমকুম সেই চিঠি পেয়ে সরাসরি রাজ্জাকের সামনে এসে তীর্যকমিশ্রিত ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করে।</p>
<p style="text-align: justify">বাকপটু বখাটে রাজ্জাক তখন বোকা বনে যায়।ব্যারণ কোম্পানির বড় সাহেবের বউ রাজিয়া বানু কুমকুমকে বেশ স্নেহ করেন।কুমকুম তার কাছ থেকে প্রায়ই গল্পের বই নিয়ে পড়ে।রাজিয়া বানুর কাছে কুমকুমের এরকম ছোটখাটো উপদ্রব নিয়মিত হয়ে উঠলেও তাকে স্নেহ করেন। তার বাড়িতেই একদিন কুমকুমের সঙ্গে দেখা হয় আমিন চৌধুরীর। আমিন চৌধুরী রাজিয়া বানুর খালাতো ভাই।এই আমিন চৌধুরীকে নিয়ে রসকিতা করতেও ছাড়ে না সে।একদিন আমিন চৌধুরী ঝড়ের কবলে পড়ে মাথা ফাটিয়ে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে বাসায় ফেরে।মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা দেখে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে কুমকুম।তার সেবায় প্রেমে কুমকুম গভীরভাবে মগ্ন হয়ে পড়ে সে।আমিনকে জড়িয়ে তার নামে পাড়ায় বিভিন্নরকম খারাপ কথা তৈরি হয়।রাজিয়া বানুর কানেও একদিন সে কথা পৌঁছে যায়।তিনি এসব কথাকে মিথ্যে এবং যারা এসব অপপ্রচার করছে তাদের মনকেই ‘ছোট’ বলে কুমকুমের কাছে আপন মনে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন- ‘ছি ছি, লোকগুলোর মন কি ছোট, কি মিথ্যে সন্দেহ ওদের?’</p>
<p style="text-align: justify">কুমকুম এ সময় রাজিয়া বানুর কথায় বাধা দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় আমিন আর তাকে নিয়ে লোকে যা বলাবলি করছে তা মিথ্যে নয়। রাজিয়া বানু নিজেও এতে বিস্মিত হন।এরপর আমরা দেখতে পাই, ‘চার পা এগিয়ে, দু’পা পিছিয়ে’ আমিন যখন হাঁটছে তখন কুমকুম এই দৃশ্য পরখ করে দ্রুত এগিয়ে তার কাছে যায়।তখন পার্কের কোণে ‘রাস্তার লোক’ রাজ্জাক এবং তার সঙ্গীরা জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিচ্ছে।এসবের কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে সমস্ত দ্বিধাকে জয় করে সে আমিনকে হাত ধরতে বলে।আমিন তার হাত ধরতে সাহস করে না।কুমকুম তখন তাকে রীতিমতো ধমকাশ্রিত ভঙ্গিতে বলে, ‘আমার হাত ধর’। তখন কুমকুমের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দেয় আমিন।এরপর তারা এগুতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">কুমকুম এ সমাজের সাহসী নারী মুখ।জীর্ণতা ভেঙে, গতানুগতিকতাকে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে, সামাজিক সংকীর্ণতা দুপায়ে মাড়িয়ে এই সমাজের বুকেই প্রেমে-সাহসে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় সঙ্কোচ-দ্বিধাকে পিষে, নিজের অধিকার-ভালোবাসায় তখন উজ্জ্বল এক নারী স্মারক হয়ে ওঠে সে। আর এখানেই একজন কুমকুম সাধারণ থেকে অসাধারণ ও অনন্য হয়ে উঠেছে।কুমকুম যেভাবে নষ্ট সমাজচক্ষুর মাঝে দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে আমিনের হাত ধরে তা এই সমাজের অবরুদ্ধতা ভেঙে নারীকে খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার একটি সাহসী উচ্চারণ হিসেবেই বিবেচনা করা যায়। ফলে এটি চমৎকার একটি প্রেমের গল্প হয়েও ব্যাপক অর্থে ভিন্ন ব্যঞ্জনা ও গুরুত্ব বহন করে।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পকারের সযত্ম সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক একটি গল্প ‘রুচিরা’।গল্পটিতে পাশাপাশি ফ্ল্যাট বসবাসরত দুটি পরিবারের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত নানান বিষয় বিশেষ করে তাদের রুচিশীলতার বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিক ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে।ইঞ্জিনিয়ার খালেদ আর বাংলার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ক্লাসের ছাত্রী ফরিদা নতুন দম্পতি।বাহ্যিকভাবে তারা অত্যন্ত সুখী একটি পরিবার।চালচলন, কথাবার্তায়, সাজগোজ সর্বক্ষেত্রে ফরিদার মধ্যে একটি রুচিশীলতা কাজ করে।এমনকি গান পছন্দের ক্ষেত্রেও।এ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র ‘উত্তমপুরুষ’ এবং তার স্ত্রী এ দুজনের কাছেও মনে হয়েছে আসলেই ওদের ‘সুখ হিংসে করার মত’।</p>
<p style="text-align: justify">উত্তমপুরুষ ব্যক্তির সঙ্গে ফরিদার রবীন্দ্রসংগীত পছন্দের একটি ভারি মিলের দাবি সে কারণেই।সামান্য সময়ের ব্যবধানে সে দাবি অর্থহীন হয়ে যায়। উত্তমপুরুষ ব্যক্তিটি ‘রেকর্ড প্লেয়ারের ডালা খুলে সুইচ অন করে’ ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না সখি, বেলা হল মরি লাজে’ গানটি বাজাতেই ফরিদা ‘অদ্ভুত ত্রাসে’ উঠে দাঁড়ান।প্রায় চিৎকার করে বলেন ‘থামান, থামান এ গান থামান&#8230; ছি ছি কি রুচি আপনার।’</p>
<p style="text-align: justify">ফরিদার এ ধরনের আচরণ তার স্বামী খালেদের কাছে ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে বিবেচিত।যা উত্তমপুরুষ চরিত্রের কাছে বিস্ময়ের বিষয়।এরপর গল্পটি এগিয়েছে মনস্তাত্ত্বিকতায়।খালেদ সাহেব স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য বারবার বিনীত ভঙ্গিতে ক্ষমা চেয়ে কথা বলাকে একটা মানসিক সমস্যা হিসেবে ভেবেছেন উত্তমপুরুষ।মানসিক ও শারীরিক অতৃপ্তিতে ভোগা খালেদ সাহেব সামাজিকভাবে নিজেকে একজন সুস্থ মানুষ মনে করেন। তার কথাবার্তা আচার-আচরণ তার মানসিক অসুস্থতা এবং একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোর প্রকাশ ঘটতে থাকে।ফরিদা বিয়ে করেও চুমু না খেয়ে, শারীরিকভাবে মিলিত না হয়েও স্বামীকে ভালোবাসতে চায়। শারীরিক সম্পর্ক তার কাছে অশ্লীল ও বিরক্ত মনে হয়।স্বাভাবিক ও অপরিহার্য এই বিষয়টি খালেদ বহুবার বহুভাবে চেষ্টা করেও স্ত্রীকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে একরাতে তাকে জোর করে নিজেই নিজের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।ফরিদা তখন ঘর থেকে ছুটে বের হয়ে পাশের ফ্ল্যাটে যায় এবং উত্তমপুরুষের স্ত্রীর সঙ্গে রাত্রিযাপন করে।এ বিষয়টি নিয়ে উত্তমপুরুষ এবং তার স্ত্রী দুজনে রীতিমতো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।পরের দিন তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয় খালেদের কথাতেই।</p>
<p style="text-align: justify">ফরিদার রুচি আর শ্লীলতাবোধের বাই মাঝে মাঝে বাড়াবাড়িতে পৌঁছে। তখন স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটাকেও সে অশ্লীল ভেবে ঘৃণা করে।<br />
খালেদ বিভিন্নভাবে ফরিদাকে অনুগত করার, স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্ককে বোঝানোর চেষ্টা করেছে।ঘরে ছোট ছোট দোলনা পর্যন্ত এনেছে- যদি এতে সন্তানের আশা জাগে, চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েছে, কিন্তু কোন কিছুতেই সফল হননি তিনি।সে কারণে স্ত্রীকে জোর করে পাবার একটা প্রবণতা তৈরি হয় তার মধ্যে এবং তার প্রয়োগও ঘটে। ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফল ভালো হয় না’ এরকম ধারণা পোষণ করেন উত্তমপুরুষ চরিত্রটি।স্ত্রীকেও এ বিষয়ে নিজস্ব ধারণার কথাটি বলেছেন তিনি।কিন্তু অবাক হওয়ার মতো ঘটনা এই জবরদস্তির ঘটনা খালেদ ও ফরিদার মধ্যে পরের রাতেও ঘটে।উত্তমপুরুষ দম্পতি এ ঘটনা বুঝতে পেরে দরজার কাছে এগিয়ে যান।কিন্তু দরজার বাইরে তালা লাগানো দেখে রীতিমতো বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে দরজার একেবারে কাছ থেকে ফিরে আসেন নিজেদের ফ্ল্যাটে।এরপর অফিসের জরুরি কাজে উত্তমপুরুষ মফস্বল শহরে যান।সাতদিন পর উত্তমপুরুষ লোকটি ফিরতেই নিজের ঘরে ‘কেন যামিনী&#8230; মরি লাজে’ গানটি বাজতে শুনে অবাক হন।এরপর রীতিমতো বিস্মিত হলেন যখন শুনলেন গানটি ফরিদার পছন্দে বাজছে।ফরিদার দিকে চোখ ফিরে এ যেন এক অন্য ফরিদাকে তিনি দেখেন-কপালে কুমকুমের জ্বলজ্বলে ফোটা, ঠোঁটে গাঢ় রং আর কাঁধকাটা ব্লাউজের বাইরে সুডৌল ফর্সা দুটি নিটোল বাহু।ফরিদার রূপ যেন রাতারাতি বেড়ে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify">এ গল্পে নারী চরিত্রের রহস্যময় জটিল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। ভালোবেসে বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ককে যে নারী স্থূলতা মনে করেছে, যে গান তার কাছে অশ্লীল মনে হয়েছে, শত চেষ্টা-কৌশল-চিকিৎসা তাকে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে স্বাভাবিক ভাবাতে পারেনি- সেই নারীই আবার অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত ঘটনার মধ্য দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, রুচির ধরন বদলায়, চেহারা-সুরতে ফুটে ওঠে তৃপ্ততার আভা।নারী চরিত্রে এক জটিল দিক এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে।সে সঙ্গে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাসরত দুটি পরিবারের সামাজিক, আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক একাত্মা হৃয়দবন্ধন তৈরির বিষয়টিও গল্পটির বিষয়বস্তুতে শুধু চমকপ্রদতাই তৈরি করে না- তাৎপর্যতাও বহন করে। আর এ গল্পের মানব-মানবীর জৈবিক প্রবৃত্তি চিরন্তন এই সত্য বিষয়টি ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে।প্রকৃতিগত এই চিরন্তন সত্যটিকে জোর করে অস্বীকার করা যায় না- জীবনের সিঁড়িতে সহজাত আদিম এই প্রবৃত্তি কখনো না কখনো জড়িয়ে যাবেই। আর এটিও সুন্দরেরই এক অনবদ্য রূপ।এই সুন্দরতাই মন-শরীরে বিকশিত হয়ে ওঠে তৃপ্ততার আলো রূপে।মনস্তাত্ত্বিক শৈল্পিকতায় এই জটিল বিষয়বস্তু ‘রুচিরা’ গল্পে চিহ্নিত হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘চেহারা’ গল্পে সমাজের ক্ষত তুলে ধরার চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।সুদর্শনা নারী সমাজে কোনো কালেই যে নিরাপদ নয়- পদে পদে তাদের জন্য বিপদ যে ওত্ পেতে থাকে এবং একটি মাত্র অনাকাঙ্খিত ঘটনা জীবনকে কিভাবে বদলে দিতে পারে- কিভাবে আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন-সৌধ ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে, কিভাবে পারিবারিক সম্মান-খ্যাতিতে আকস্মিক বজ্রাঘাতের মত কলঙ্ককালিমা লেপন হয়ে সমাজজীবনে কতটা বিব্রত অবস্থা সৃষ্টি করে- এসবই আলোচ্য গল্পে মূল উপজীব্য। আশরাফ খানের সুন্দরী মেয়ে সানু।একদিন তারা পারিবারিক কাজে বাইরে বেড়াতে যান।সানু প্রকৃতির নির্মলতায় মনের ডানা মেলে ঘুরে সন্ধ্যায় একা রিকশায় বাসায় ফিরছিল।তাকে একা পেয়ে একদল ছেলে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।ছেলেগুলো কর্তৃক সানুর শ্লীলতাহানি ঘটে।এরপর থেকেই সানু অসুস্থ।পারিবারিক সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে আশরাফ খান এই ঘটনাটি নিজেদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ছাড়া অন্য কাউকে জানাননি।দীর্ঘদিনেও সানু সুস্থতা লাভ না করায় আশরাফ খান মনো-চিকিৎসাবিদ ডা. মঈনউদ্দীন চৌধুরীর শরণাপন্ন হন।তিনি আশরাফ খানের আন্তরিক মিনতিতে সুদূর ময়মনসিংহে যেয়ে চিকিৎসা করতে সম্মত হন। ডা. মঈনউদ্দীন চৌধুরীরর চিকিৎসায় সানু সুস্থ হয়ে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">আশরাফ খান সানুর শ্লীলতাহানির ঘটনাটি গোপন করে একরকম তাড়াহুড়ো করে দ্রুতই তাকে পাত্রস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন।এমএ পাস পাত্র পেয়ে তার সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই শুধু শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে মেয়েকে পাত্রস্থ করেন।বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর বর-কনেকে পর্দায় ঘিরে আয়নায় পরস্পরের মুখ দর্শনের সময় সানু বরের মুখ দেখামাত্রই ভয়ে চিৎকার করে জ্ঞান হারায়।সুবেশি সুশিক্ষিত চেহারা, ভদ্র-মার্জিত, চোখেমুখে বুদ্ধির ছাপসম্পন্ন এই শিক্ষিত বর স্বরূপ পুরুষটির বাহ্যিক চেহারার আড়ালে যে তার আর একটি ভয়াবহ অন্ধকার দিক আছে- যে অন্ধকারের ভয়াল থাবার শিকার সানু নিজেই।তার মুখ আয়নায় দর্শন করা মাত্রই অতীতের ভয়ঙ্কর ঘটনাটি তার মনে পড়ে এবং সে চিৎকার দিয়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।ডা. চৌধুরীরর চেষ্টায় স্বল্পসময়ে সে আবার সুস্থ হয়ে ওঠে।গল্পটিতে একজন মেয়ের সুন্দর চেহারা যেমন তার বিপদের জন্য সহায়ক, তেমনি আর একশ্রেণির পুরুষ আছে যারা বাইরে ভদ্র-মার্জিত শিক্ষিত, ভেতরে নারীলোভী।সমাজচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে নৈতিক স্খলিত এ ধরনের পুরুষেরা সমাজে সভ্য ও ভদ্রতার লেবাস পরে অসংখ্য ও অমার্জনীয় ক্ষত তৈরি করে- লেখক খুব দক্ষতার সঙ্গে সমাজের ভয়াবহ এসব ‘চেহারা’ তুলে ধরতে পেরেছেন। ‘চেহারা’ গল্পে মূলত সমাজের কালোদিকগুলোই শৈল্পিকভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/18/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প (পর্ব-২) ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 02 Jun 2022 16:04:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1962</guid>

					<description><![CDATA[‘অন্য কোনখানে’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর এক নাগরিক জীবনের জটিলতার গল্প। নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ অভাব-অনটনে পড়ে কিভাবে চরিত্রের স্খলন ঘটান এবং সমাজের উচ্চশ্রেণিতে পরিণত হন তার এক বাস্তব চিত্র এ গল্পে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘অন্য কোনখানে’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর এক নাগরিক জীবনের জটিলতার গল্প। নিম্নমধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ অভাব-অনটনে পড়ে কিভাবে চরিত্রের স্খলন ঘটান এবং সমাজের উচ্চশ্রেণিতে পরিণত হন তার এক বাস্তব চিত্র এ গল্পে ফুটে উঠেছে।</p>
<p style="text-align: justify">এ গল্পের নায়িকা মিস নীলিমা নাসরিন।সে গ্রাম্য সহজ-সরল বিএ ফেল যুবকের স্ত্রী।চাটগাঁর লাভ লেনের ভাঙাবাড়িতে তারা বসবাস করত। স্বামীর টাকা নেই মূলধন নেই।স্বামীর কারণেই এই ভাঙাবাড়ির সামনে মাঝে মাঝেই মোটর এসে দাঁড়াত।ধনাঢ্য মানুষের আগমন ঘটতো। কিন্তু নীলিমা এসবে প্রবল আপত্তি করতো, বাধা দিত এবং নিরুপায় হয়ে কান্নাকাটি করতো।অথচ তাঁর স্বামী অনড়।কারণ নীলিমা তার বিয়ে করা বউ।বউয়ের ওপর তার যথেচ্ছার অধিকার রয়েছে।এই অধিকারকে পুঁজি করে নিজের বউকে বাধ্য করে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গ দিতে, তাদের মনোরঞ্জন করতে।অবশেষে স্বামীর অনৈতিকতা ও অপইচ্ছার কাছে হেরে নীলিমা গ্রাম্যবধূর পোশাক খুলে আধুনিকা হয়ে ওঠে।আর এর পিছনে ইন্ধন জোগায় জোয়ারদার।ঠিক দশ বছরে নীলিমা মোহনীয় ও ধনবতী মহিলাতে পরিণত হয়।বর্তমানে সে কসমোপলিটান ট্রেডার্স-এর সেক্রেটারি।</p>
<p style="text-align: justify">তারই স্বামী আশরাফ আলম তার হেড ক্লার্ক।স্বামীর সামনেই সে ইভনিং রিক্রিয়েশন করার জন্য ওভারসিজ এজেন্সির ডিরেক্টর মি. ডানকান, নজফ খোরাসানি, গ্রীন হিলের জোয়ারদারকে ডাকেন।এ সমস্ত ঘটনায় আশরাফ আলম মলিন বিমর্ষতায় কামরা থেকে বেরিয়ে আসেন। লেখকের ভাষায় যা চিত্রিত হযেছে এভাবে- একটা মৃতদেহ যেন হেঁটে বেরিয়ে আসে খাস কামরা থেকে।সকলে অবাক হয়ে দেখে।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসের জুনিয়র টাইপিস্ট মেঞ্জিসের স্বভাব বউ পাল্টানো।তার দ্বিতীয় বউ তাকে ডিভোর্স দিয়েছে এ কথা অফিসে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। নীলিমা নাসরিন আশরাফ আলমকে ডাকার আগেই সে হাজির হয়ে পদত্যাগ পত্র দিয়েছে।আশরাফ আলম নির্ভয়ে স্ত্রীর মতো সম্মোধন করে কথা বলেছে।তারপর সে বিবর্ণ ও বিমর্ষ বেশে নয় স্বহাস্য ও জীবন্ত বেশে কামরা থেকে বের হয়ে এসেছে।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক তার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-<br />
মেম সাহেবের চেম্বার থেকে আজ আর একটা মৃতদেহ নয়, রক্ত-মাংসের সজীব আরেক আশরাফ আলম যেন বেরিয়ে আসেন।তারপর থেকেই নীলিমা স্বাভাবিক থাকতে পারেননি।দশ বছর আগের স্মৃতি তার ভেসে ওঠে।সমাজের এ দুর্বৃত্তদের প্রতি তার ঘৃণা নিক্ষিপ্ত হয়।স্বামীর ছবিটিতে আগুন ধরিয়ে অ্যাসট্রেতে গুঁজে দেন।ছটফট করে ওঠে তার মনপ্রাণ। ঘামতে থাকেন অবিরত।হঠাৎ সকালে হাউমাউ করে দরজায় আঁছড়ে পড়ে মেঞ্জিস।কারণ, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আশরাফ আলম পালিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি, গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বিশ্লেষণ ও নাগরিক সভ্যতার জীবন-জটিলতার বাস্তব আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।গল্পকার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নগরজীবনে ঘটে যাওয়া অসঙ্গতিগুলোকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">‘আদিম’ মূলত সামাজিক প্রেমের গল্প।জেলে কন্যা লক্ষ্মীকে ঘিরেই এর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।এই গল্পে ইলশার বুকে জেলেদের জীবনযুদ্ধ, সোনাকান্দি গ্রামের মানুষদের জীবন-জীবিকা-সংগ্রাম, আর্থ-সামাজিক, সে সঙ্গে সুন্দর তরুণী-বধূ লক্ষ্মীকে ঘিরে বংশীর প্রেম-ঈষা-হিংসা-প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সোনাকান্দির বিত্তশালী মনসুর তালুকদারের প্রেমার্তি পাঠকের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।লক্ষ্মী চলা চোখের আলোতে মনসুর তালুকদারকে সম্মোহিত করে ইলশা নদীতে বাঁধ দেবার অনুমতি লাভ করিয়ে নেয়।</p>
<p style="text-align: justify">মনসুর তালুকদার নিজেও জানতেন নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে সোনাকান্দি গ্রামের মাঠের পর মাঠ ধান পচে যাবে।অভাব-অনটনে জর্জরিত হবে সাধারণ মানুষ।কিন্তু লক্ষ্মীর চোখের আলোর নাচন আর রহস্যময় শরীরী সৌন্দর্যে তার কাছে সে সব তুচ্ছ হয়ে ওঠে।নদীর বুকে এই বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীর স্বামী যুগল এবং সেকান্দারের মধ্য বাক-বিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সেকান্দারের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়।তখন যুগলভাবে সেকান্দারকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখলে সারা গ্রামের লোক তাদের দিকে ছুটে আসবে এবং আক্রমণ করবে।ফলে যুগলের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়।লক্ষ্মী তা বুঝতে পেরে ছুটে আসবে এবং আক্রমণ করবে।</p>
<p style="text-align: justify">ফলে যুগলের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়।লক্ষ্মী তা বুঝতে পেরে স্বামীকে নির্ভাবনা করে জ্ঞানহীন সেকান্দারকে মায়াবী স্পর্শ বুনে দিতে থাকলে একসময় সে জ্ঞান ফিরে পায়।লক্ষ্মীর স্পর্শে মুহূর্তসময় সে মোহাবিষ্ট হলেও হঠাৎ স্ত্রী সখিনার কথা মনে পড়ে যাওয়ায় তার মোহচ্যুতি ঘটে এবং সে দ্রুত সখিনার কাছে ছুটে যায়।এই দৃশ্য লক্ষ্মীর প্রেমপ্রার্থী বংশী দেখে ফেলে। যুগলের কাছে বারবার অপমানিত হওয়া এবং লক্ষ্মীকে নিজের করে না পাবার কারণে প্রতিশোধপরায়ণ বংশী হয়তো এরকম একটি সুযোগের অপেক্ষাই করছিলো।বংশী বুঝতে পারে রক্তাক্ত সেকান্দারকে দেখে গ্রামের লোক প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে এবং বাঁধ ভেঙে ফেলবে।</p>
<p style="text-align: justify">আর এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সে যুগলকে খুন করার পরিকল্পনা করে।কারণ সে নিশ্চিত-এ খুনের দায় পড়বে গ্রামবাসীর ওপর।সবাই জানবে যুগল গ্রাম্য-বিবাদে খুন হয়েছে।তারপর লক্ষ্মীকে নিয়ে সে চলে যাবে।অর্থাৎ সাগরের নিরুদ্দেশ বুকে।বংশী খুন ঠিকই করে কিন্তু যুগলকে নয়, মনসুর তালুকদারকে।অন্ধকারে বংশী ঠিক চিনে উঠতে পারেনা তাকে। আর যে লক্ষ্মীর জন্য এতসব করলো বংশী- সেই লক্ষ্মীর সজোর ধাক্কাতেই নদীগর্ভে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায় সে।বাঁধ ভেঙে যায়। গহীন স্রোতে ভেসে যায় মনসুর তালুকদার, আর সে সঙ্গে বংশীও।নারী নিজের শরীরি সৌন্দর্য ও চোখের যাদু পুরুষের চোখে-মনে ছড়িয়ে আদিম প্রবৃত্তির নেশা জাগিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার যে চেষ্টা এটিই এই গল্পের প্রধান দিক।</p>
<p style="text-align: justify">এই গল্পটিতে জীবন সংগ্রামের এক অনবদ্য চিত্র পাওয়া যায়।দরিদ্র রূপসী নারীর অসহায়ত্বকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা ধণীশ্রেণির স্বভাবজাত, আর এই অন্যায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার কারণে অসংখ্য মানুষের জীবনে কতটা ভয়াবহ ক্ষতি নেমে আসে, আবার জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য জেলে কন্যা রূপবতী লক্ষ্মীর বিভিন্ন ধরনের ছলাকলার আশ্রয় গ্রহণ, প্রেমে ব্যর্থ বংশীর ঈর্ষা, প্রতিশোধপরায়ণতা গল্পটির বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/06/02/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর ছোটগল্প ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 26 May 2022 16:37:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1949</guid>

					<description><![CDATA[সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ কিংবা অসংখ্য শাণিত কলাম রচনার জন্যই নয়; পঞ্চাশের দশকে যে কজন কথাশিল্পী জীবন ও সমাজকে পাশাপাশি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ কিংবা অসংখ্য শাণিত কলাম রচনার জন্যই নয়; পঞ্চাশের দশকে যে কজন কথাশিল্পী জীবন ও সমাজকে পাশাপাশি রেখে সমাজবাস্তবতার অম্লমধুর গান গেয়েছেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী (জন্ম ১৯৩৪) তাদের মধ্যে অন্যতম। কেননা শিল্পীমাত্রই সমাজজীবনের অনুসন্ধিৎসু দর্শক।সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অবিচার, অনাচার, ব্যভিচার, জ্বালা-যন্ত্রণা, জীবনের উন্মত্ততা ও নগ্নতাকে পছন্দ মতো শৈল্পিক উপাদানে কলমের আঁচড়ে সাহিত্যে তুলে ধরেন।আবদুল গাফফার চৌধুরীর ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি সামন্তবাদ ও বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার অসঙ্গতিগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।আমরা আলোচ্য প্রবন্ধে তার গল্পের আলোকে বিষয়টি চিহ্নিত করার প্রয়াস পাব।</p>
<p style="text-align: justify">আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রকাশিত গল্প গ্রন্থের সংখ্যা তিনটি। গ্রন্থগুলো হলো ‘সম্রাটের ছবি’ (১৯৫৯), ‘কৃষ্ণপক্ষ’ (১৯৬৬) ও ‘সুন্দর হে সুন্দর’ (১৯৬৭)।</p>
<p style="text-align: justify">‘সম্রাটের ছবি’ গ্রন্থের ‘সম্রাটের ছবি’ গল্পটি সামন্ততন্ত্রের এক উজ্জ্বল মাইলফলক।এ গল্পে আবদুল গাফফার চৌধুরী তৎকালীন সময়ে জমিদারদের বৃটিশপ্রীতির এক অনবদ্য চিত্র তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে দেশ স্বাধীনের পরও বৃশিটদের প্রতি তাদের অন্ধ প্রীতির আলেখ্য চিত্রিত করেছেন।গল্পের নায়ক যুবক জমিদার উমর আলী খান।তিনি বৃটিশদের প্রতি আনুগত্য ও সাহায্য সহযোগিতার জন্য পেয়েছেন ‘খান বাহাদুর’ উপাধি।এর মধ্যে তার জীবন থেকে ঝরে পড়েছে চল্লিশটি বছর।তার সংসার বড় হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে।বিলুপ্তি হয়েছে জমিদারি প্রথা। তবুও প্রাচীন ঐতিহ্যকে লালন করার জন্য তিনি বহন করছেন ‘সম্রাট জর্জ দ্য ফিফথ’ এর ছবি।সেগুন কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটি দীর্ঘসময় পাড়ি দিলেও তার জৌলুস এখনও বিলুপ্ত হয়নি।খান বাহাদুর এখনও ছবিটিকে ঋষিতুল্য ভক্তি করেন।তাইতো চাকরকে কাঁধের ময়লা গামছা দিয়ে ছবিটি পরিষ্কার করতে দেখে খান বাহাদুর হা-হা করে গর্জে উঠে বললেন-<br />
করছিস কি, করছিস কি হারামজাদা? তোর ময়লা গামছা লাগিয়েছিস ঐ ছবিতে! শালা জানিস ঐ ছবি কার, তোর বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষ যার নিমক খেয়ে মানুষ।দৌঁড়ে যা, আমার টার্কিশ তোয়ালেটা নিয়ে আয়। তারপর ফের ধুয়ে রাখিস।</p>
<p style="text-align: justify">অন্যদিকে তার ছেলে মনসুর সদরের তরুণ উকিল।জেলা জজের ছোট জামাই।মনসুরের স্ত্রী রিজিয়া আধুনিক শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। মনসুর বৃটিশপ্রীতিকে উপেক্ষা করে সবার সঙ্গে মিশতে শুরু করেছে। বৈঠকখানার সোফায় সাধারণ প্রজাদের বসবার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু খান বাহাদুর এসব সহ্য করতে পারেন না।তবুও ছেলের যুক্তির কাছে হার মানেন।আরও হার মানেন ছেলে ও বৌমার সুকৌশলে সামন্ততন্ত্রের আঁকড়ে ধরা শেষ চিহ্নটি উৎখাত করার সময়। তখন খান বাহাদুর রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তিনি আরো ক্ষুব্ধ হন চল্লিশ বছর আগে শয্যাগৃহে রাখা মহারাণী ভিক্টোরিয়ার যুবতী বয়সের ছবিটি সরানোর পর। বিবির অজ্ঞতা ও মূঢ়তা দেখে তিনি রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন-‘জান ছবিটি কার? রামা-শ্যামা তোমার আমার নয়, রাণীর-হারম্যাজেস্ট্রি কুইনের; যার রাজ্যে বাস কর।’</p>
<p style="text-align: justify">তবুও বিবি তার জিদ বহাল রাখে।কারণ মেয়ে মানুষতো।মেয়ে মানুষ মেয়ে মানুষকে সহ্য করতে পারে না।তারপরও আবার যুবতী রাণী। তাইতো চল্লিশ বছর পরে বাতের ব্যথায় ক্লান্ত ও মেদবহুল বিবি ছেলের বৌয়ের ঘরে ঢুকে সেই ছবিটি দেখে স্বরসতী বাঁদীকে ডেকে বললেন- ‘ওই রাণী মাগীর ছবি এখানে কেন?’ শুধু তাই নয় বৌমার ঘরে অশ্লীল ছবি দেখে বলেছেন-‘এগুলো কি ছবি বৌ! মেম সাহেবরা ন্যাংটো হয়ে নাচছে। এগুলো কি ছবি? এদের জাত, মান, পর্দাপুষিদা, ইজ্জত আছে?’</p>
<p style="text-align: justify">এখানেই চরিত্রটির মনস্তাত্বিক দিকের পরিস্ফুটন ঘটেছে। ‘সম্রাটের ছবি’ গল্পটি রোমান্টিক আবহে নির্মিত একটি মধুর রসের গল্প। এখানে মানবজীবনের জটিলতাকে উন্মোচিত করে একটি জীবনতত্ত্ব প্রকাশ করেছেন। সার্বিক বিচারে গল্পটি পাঠকনন্দিত হতে পেরেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।</p>
<p style="text-align: justify">‘নীল কমল’ গল্পে ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত পরিবারের অভ্যন্তরীণ জীবন-জটিলতার বাস্তব চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।এ পরিবারের সামন্ত প্রতিভূ শমসের আলী খান।একসময় তার জমিদারির জৌলুস ছিল।কালক্রমে তা নিঃশেষ হতে চলেছে।লেখক তার ক্ষয়ে যাওয়া সামন্ত প্রাসাদের বর্ণনা দিয়েছেন এভোবে-<br />
বসবার ঘরে পা দিয়েই বুঝলাম, জুতোর নিচে কার্পেট বিছানো।যদিও এখন ধূলি-মলিন এবং বিবর্ণ, তবু এককালে যথেষ্ট দাম দিয়ে কেনা হয়েছিল সন্দেহ নাই।&#8230; এককালে হয়তো ঘরটা ‘হোয়াইট ওয়াশ’ করা ছিল, এখন চারদিকে পলেস্তারা খসে শ্যাওলা জমে বিচিত্র বর্ণ সমারহের সৃষ্টি হয়েছে।দেয়ালে নবাব-সুবাদের সাজে সজ্জিত পূর্ব পুরুষদের তৈলচিত্রগুলো অস্পষ্ট, জীর্ণপ্রায় হয়ে এসেছে।একপাশে ইংরেজ প্রভুদের অনুকরণ করতে গিয়ে তৈরি ফায়ারপ্লেসটা এখন স্তুপীকৃত জঞ্জালে ভরে রয়েছে।বসতে গিয়ে সাবধান হতে হলো।সোফার একদিকের আচ্ছাদনী সরে স্প্রিং বেরিয়ে পড়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">এর কারণ শমসের আলীর চরিত্রের স্খলন।সে চাঁদনী রাতে বজরায় গিয়ে রাত কাটায়।পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়স্কা কুলসুমের সঙ্গে তার সম্পর্ক। এমনকি দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম রিজিয়া বানুকে উপেক্ষা করে তার আবার নতুন বিয়ের পরিকল্পনা।মধ্য বয়সে উপনীত হয়েও শমসের আলীর পরিবারে কোন সন্তান নেই।সন্তানহীনতার বেদনায় তাকে আবার বিয়েতে উদ্বুদ্ধ করে।তাই সে পরিকল্পনার বৈরিতা নিয়ে ডাক্তারকে দিয়ে স্ত্রীকে পরীক্ষা করান।কিন্তু বিষয়টি আলাদা।যা তার স্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে-<br />
মদ আর মেয়ে মানুষের পেছনে সব উড়িয়ে এখন প্রায় ফতুর। গেটে যে দারোয়ানটা দেখেছেন, সেও যাচ্ছে না কেবল সাবেক আমলের লোক বলে।নইলে-<br />
এগুলো তার নিঃশেষ হয়ে যাওয়া সন্তানহীনতার কারণ হলেও তিনি নতুন বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অটল।ডাক্তার সাহেব বেগম রিজিয়া বানুর মা হওয়ার কোন অন্তরায় না দেখে শমসের আলীকে পরীক্ষা করতে চান। কিন্তু শমসের আলী বাঁদী কুলসুমের গৌরবর্ণ পুত্রটিকে দেখিয়ে হেসে বলেন এই ছেলেটি তারই ঔরসজাত সন্তান।তখন ডাক্তার মনে মনে বলেন-<br />
দশ বছর আগের সেই সুস্থ সমর্থ শমসের আলী আজ কোথায়? এতদিনের অত্যাচারের পরিণতিই যে এই নয়,তা কি আপনি বলতে পারেন?<br />
সর্বোপরি ‘নীল কমল’ সম্পর্কে বলা যায় লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতারই একটি জীবন্ত গল্পরূপ তাতে কোন সন্দেহ নেই।</p>
<p style="text-align: justify">‘নতুন গোধূলী’ গল্পটি আবদুল গাফফার চৌধুরীর একটি প্রেমের গল্প। এখানে স্বামী-স্ত্রীর প্রেমের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।গল্পের নায়ক জমির একজন খ্যাতিমান গায়ক।গানের নেশা-ই তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।ঘুরতে ঘুরতে সে আশ্রয় পেয়েছে গল্পের নায়িকা হাসিনা বানুদের বাড়িতে।হাসিনা জমিরের কণ্ঠ পছন্দ করে, জমির পছন্দ করে হাসিনার রূপ ও সৌন্দর্য।দুজন দুজনকে ভালোবাসে।কিন্তু তাদের মিলনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় হাসিনার বাবা।সঙ্গত কারণেই তারা পাড়ি জমায় শহরে।কিন্তু গায়ক অবস্থায় জমিরের যে উদাসীনতা তা তাকে নতুনভাবে পেয়ে বসে।ধীরে ধীরে তার গলা বসে যেতে শুরু করে এবং শরীর ভেঙে পড়ে।জমির ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারে তার গান ছেড়ে দিতে হবে এবং পুরোপুরি অবসরে থাকতে হবে।তারপর থেকেই শুরু হয় হাসিনার প্রতি তার উদাসীনতা।কারণ জমির জানে হাসিনা তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে এবং জমিরই তার একমাত্র ভরসা।এজন্যই জমির টিউশনির উসিলা করে সারাদিন বাইরে থাকে। কেউ টিউশনির জন্য এলে তাকে নানা টালবাহানায় ফিরিয়ে দেয়। হাসিনাকে ভুলে থাকার জন্য সে মদ পান করে।হাসিনা বাধা দিলে তাকে প্রহার করে।এমনকি স্বামী-স্ত্রীর রোমান্টিক মুহূর্তেও তাকে সোহাগ থেকে বিরত করে।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবেই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জ্বলতে থাকে জমির।জীবনে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে সে এখনও টিকে আছে।শেষ পর্যন্ত তার জীবনের ট্রাজিক পরিণতি দেখা যায়।গল্পকার গল্পের শেষ পরিণতি টানার জন্য প্রথম থেকেই উত্তমপুরুষের চরিত্র আমদানি করেছেন।সে ‘আমি’র বদান্যতায় জমিরের চিকিৎসা হয়।আর হাসিনা বানু খুঁজে পায় এক নির্ভরতার প্রতীককে।জমির ভালো হয়ে ওঠে এবং এর ছয় মাস পরেই আকস্মিকভাবে তার জীবনের ইতি ঘটে।তার প্রিয়তমা স্ত্রী হাসিনা বানু এতদিন যে আশা খুঁজেছিল তার বুকের ভেতরে আজ সে পাথরের মূর্তির মতো হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে থাকে।তার নির্ভরতা ও আশ্রয় আজ কোথায়? গল্পকার সুকৌশলে গল্পের শেষে তার নির্ভরতা ও আশ্রয়ের সমাধান দিয়েছেন এভাবে-<br />
আমাকে দেখে নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালেন তিনি।ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন, আমি তো বহু আগেই জানতাম ওর কি হয়েছে।তবু কেন আমার কাছে লুকোল। ও জানতো, ওকে আমি বাঁচাতে পারি না। তবু কেন ও বিশ্বাস করল ওকে ছাড়াও আমি বাঁচতে পারি। আর তাই আমাকে বাঁচাতে&#8230; কথা শেষ হল না। হাসিনা আমার দু’হাত একত্র করে মুখে চাপা দিয়ে ভেঙে পড়লেন।চোখের পানিতে আমার হাত ভিজে গেল।তার এতদিনের কান্নার অর্থও আমার কাছে পরিস্কার হয়ে গেল।হৃদয়ের সমস্ত অনুভূতি দিয়ে যে বেদনার উপলব্ধি, তার সান্ত্বনা কোথায়।এখন তাঁর সমস্ত নির্ভরতা এই হাত দু’টির উপর।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি, গল্পটি মানবজীবনের জীবন- জটিলতার বাস্তব আলেখ্য। শুধু সে সময়েই নয়, আজও আমাদের সমাজে অহরহ ঘটে যাচ্ছে এ ধরনের বাস্তব ঘটনা।যা আমাদের চারপাশের জীবনধারার সঙ্গে একিভূত হয় বৈকি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/05/26/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লিডিয়া ডেভিসের ফ্ল্যাশ ফিকশন ও নাফিসা ইসলামের কবিতা: ঐকতান ও উপমিতির কথকতা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/10/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ab/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/10/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ab/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 10 Apr 2022 14:56:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1839</guid>

					<description><![CDATA[কবিতা অমত্র্য, দৈব এবং অলৌকিক।কবিতা লোকোত্তর পরিতৃপ্তি দান করে।আজ যে কবির তিনটি কবিতা নিয়ে সামান্য পর্যালোচনা করবো, তার নাম নাফিসা ইসলাম।নিজেকে পরিচয় দেন শুধু একজন পাঠক হিসেবে।তবে তিনি একজন বই-ভিক্ষু, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কবিতা অমত্র্য, দৈব এবং অলৌকিক।কবিতা লোকোত্তর পরিতৃপ্তি দান করে।আজ যে কবির তিনটি কবিতা নিয়ে সামান্য পর্যালোচনা করবো, তার নাম নাফিসা ইসলাম।নিজেকে পরিচয় দেন শুধু একজন পাঠক হিসেবে।তবে তিনি একজন বই-ভিক্ষু, যেমন পড়েন, তেমনই পাঠ-ধ্যান, খুব সামান্যদিনই জানি তাকে এবং তার বিষয়ে।তবে এই অল্পদিনে এতটুকু বুঝেছি-তিনি একটি অন্তর্বাহী উপনদী, বইছেন নিজের ভেতরে নিবিড়ভাবে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নাফিসা ইসলামের ভাব-নির্ঝর-১:</strong></span><br />
কোন উচ্চ অভিলাষ নেই;<br />
কণ্ঠা, অনামিকায় স্বর্ণখণ্ড চুমু<br />
আমার জন্য নয়<br />
মর্মর ইমারতের জৌলুশ<br />
সে তোমাদেরকেই মানায় ভালো;<br />
আমার জন্য, শুধু এক টুকরো সবুজ চাই<br />
দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত<br />
ভেজা রোদ্দুরের আকাশ<br />
আর লাল মাটিপথ ধরে হেঁটে যাওয়া<br />
মায়ের নিশ্চিন্ত কাঁধে মাথা রেখে<br />
নিদ্রাচ্ছন্ন শিশুর স্বর্গীয় যে হাসিটি<br />
পেয়েছি উপহার-ওইটুকু,<br />
শুধু ওইটুকু নিয়েই কাটিয়ে দিতে পারি<br />
তিন তিনটি নশ্বর জীবন।</p>
<p style="text-align: justify">একটা জীবনই কি যথেষ্ট!<br />
নরম রোদে ভেজা শঙ্খচিলের ডানার কাছে<br />
কত দেনা আছে ফেলে যাওয়া পালকের!<br />
অপ্রতুল সময়ের কাছে<br />
খণ্ড খণ্ড অস্তিত্ব বিকিয়ে বসে আছি।<br />
ভেবোনা যে, মৃতঃঅর্থে শেষ হয়ে যাবো;<br />
মগ্ন তরুর ঝলমলে পাতার শিষে জেগে উঠবো আবার<br />
ফিরে আসবো সমাধিক্ষেত্রের কোলাহল থেকে<br />
শিশির জ্বলা সবুজ ঘাসের কোমল শরীর<br />
একটুও না মাড়িয়ে<br />
ফিরে আসবো বাউল হাওয়ায় টানটান ফুলে ওঠা পালে<br />
শঙ্খচিলের সাথে ছুটে যাবো পাল্লা দিয়ে<br />
অনিকেত মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটায়<br />
নেমে এসে ছুঁয়ে দিবো শিশুর স্বপ্নাবিষ্ট চোখ<br />
অমল শিশুর গাঢ় স্বপ্নের ভেতর ঘুমিয়ে থাকবো-<br />
অনন্তঃ&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">সাধারণভাবে কবিতা হলো কবির উপলব্ধিজাত এক বিশেষ শিল্পভাবনা; কবির মনোজগতে যা আসে তা ভাবনাতেই ছিলো ভাব আকারে, বস্তুতে প্রতিফলিত হয়নি আগে।কিন্তু কবি তাকেই রচনা প্রতিভার গুণে কাব্য হিসেবে নতুন রূপ দেন- ‘ভেবোনা যে, মৃতঃঅর্থে শেষ হয়ে যাবো’;<br />
কিংবা, ‘অনিকেত মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটায় নেমে এসে ছুঁয়ে দিবো শিশুর স্বপ্নাবিষ্ট চোখ<br />
অমল শিশুর গাঢ় স্বপ্নের ভেতর ঘুমিয়ে থাকবো<br />
অনন্তঃ’- কবি নাফিসা ইসলাম সৌন্দর্য ভাবনার দারুণ স্ফূরণ ঘটিয়েছেন, বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ভাব ও বোধের।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নাফিসার দ্বিতীয় ভাব নির্ঝর পদ্যটি:</strong></span><br />
উপমাহীন দূরত্ব থেকে দেখি<br />
নিয়ত ভেঙে পড়ছো; আবারও<br />
সহজেই বেড়ে উঠছো কোষে-কলায়।<br />
ছুঁতে চেয়ে পা বাড়াই যতটা<br />
সময়ের সিঁড়িতে উঠে যাচ্ছ<br />
তারচেয়েও বেশি-<br />
এমনঃ নখেও পড়েনা ছায়া কোনো।</p>
<p style="text-align: justify">সময় পেছনে হেঁটেছে কখনো!<br />
অ্যালবামে জমিয়ে রাখা ছবিদেরও<br />
সজ্জা খসে পড়ছে নিয়মিত-<br />
অবিশ্রান্ত জলদ বাতাসে; দিনান্তে;<br />
অপেক্ষমাণ কথাদের নিরবতা<br />
নিঃশ্বাস গর্জনে, আরও গাঢ় হয়ে<br />
জমে ওঠে নিষুপ্তির পরিপাটি চাদরে।<br />
আজকাল দেয়ালের আয়নাটিকেই<br />
মনে হয় সবচেয়ে কাছের;<br />
সামনে দাঁড়ালেই আশ্বস্ত-হেসে বলে<br />
দেখেছো:তোমাকে&#8230;এই ঘরে,<br />
কেউ চেনে&#8230;এখনো।</p>
<p style="text-align: justify">এই কবিতায় তার কাব্যের ভেতর দিয়ে বাস্তববোধের উন্মোচন ঘটেছে; পাশাপাশি আমরা তো জানি কবিতা হলো-কবি মনে স্থিতিভাব ও ভালোবাসার জাগরণ।নাফিসা ইসলামের লেখা উপরের দুটো কবিতা পাঠের পরে যেমন নির্মন আনন্দ পেলাম, আমার মন প্রাণও সমৃদ্ধ হলো। এইটি সত্য যে, বিশেষ মুহূর্তেই কবিতা লেখা হয়।মনের অস্থিরতাবোধেও কবিতা লেখা যায় না।</p>
<p style="text-align: justify">‘শব্দার্থৌ সাহিতৌ কাব্যম’,- বলেছেন আলংকারিক আচার্য ভামহ।এর অর্থ শব্দ ও অর্থের সমন্বয়ে কাব্য গড়ে ওঠে।নাফিসা ইসলামের কবিতাগুলো সরল সুন্দর আনন্দের কথা বলে। সবুজ ডেকে আনে মনের বনে।বাক্যের শব্দ আর অর্থকে আটপৌরে না রেখে সাজসজ্জায় সাজিয়ে দিলেই বাক্য কাব্য হয়ে ওঠে।এই সাজসজ্জার নাম অলংকার।কি চমৎকার এক ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন-<br />
‘অপ্রতুল সময়ের কাছে<br />
খণ্ড খণ্ড অস্তিত্ব বিকিয়ে বসে আছি’।</p>
<p style="text-align: justify">এখানে নাফিসা বলছেন যেন- সময়হীনতায় পৌঁছে ঊনতায় বিলিয়ে দিলাম আমার বিদ্যমানতাটুকু,<br />
টুকরো, টুকরো, ছিন্ন কর্তিত ভগ্নাংশে।</p>
<p style="text-align: justify">নাফিসা ইসলামের কবিতাগুলোর মতন একই ধরনের মোহ বা ভাব বিরাজিত একটি বিদেশি অণুগল্প পাঠ করেছিলাম কিছুদিন আগে – ‘ইন আ হাউজ বেসিজড’ নামে, লিখেছিলেন লিডিয়া ডেভিস।</p>
<p style="text-align: justify">মার্কিন লেখিকা লিডিয়া ডেভিসের ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘চতুর্দিকে ঘিরে রাখা ঘর’, আর নাফিসা ইসলামের পঙক্তি ‘অমরতা খোঁজে সহজ স্পর্শ’ ঐকতান ও উপমিতির কথকতা:<br />
আমেরিকান গল্পকার লিডিয়া ডেভিস তার Flash Fiction বা অণুগল্পগুলোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।একবার এক ফোরামে লেখক হওয়ার পেছনের গল্প নিয়ে বলতে গিয়ে মজা করে বলেছিলেন- ‘লেখা ব্যাপারটা আমার প্রথম প্রেম নয় কিন্তু লেখক হয়েই আমি যেন পুরো প্রেমে ডুবে গেলাম।লিখতে ভালোই লাগে।’</p>
<p style="text-align: justify">তিনি বলেন, ‘আমার অণুগল্পগুলো এক একটি গগণচুম্বী দালানের মতন, যার চতুর্দিকে শূন্যতা দিয়ে ঘিরে আছে।’</p>
<p style="text-align: justify">আসুন আজ তার এমন একটি অণুগল্পের ভাবান্তর পড়ি এবং তার সাথে নাফিসা ইসলামের তৃতীয় পদ্যটির খেয়াল সাদৃশ্যতা নিয়ে ভাবনায় ডুব দেই।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>অণুগল্প : অবরুদ্ধ বাড়ি</strong></span><br />
এক বিশেষ ধরনের পরিস্থিতিতে চতুর্দিক দিয়ে ঘিরে রাখা ছোট্ট একটি বাড়িতে এক দম্পতি থাকেন।তাদের রান্নাঘরে ডিনার-টেবিলে খাবারের সামনে বসলেই আশপাশ থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দ পেতেন রোজ।</p>
<p style="text-align: justify">প্রায়দিন এইসব শব্দে ভয়ে কুঁকড়ে উঠে স্ত্রীটি বলতেন- ‘তুফান এলো বুঝি, তাই এইরকম বাতাস বইছে’। তার কথা উড়িয়ে দিয়ে স্বামীটি বলতেন- ‘নাহ! তুফান নয়, মনে হয় ডাকাত দল এলো, লুটপাট শুরু করেছে’।এমন উদ্ভট কথা শুনে স্ত্রীলোকটি তার স্বামীকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন- ‘তোমার সব বাজে ভয়।আমার মনে হয় বৃষ্টি পড়ছে।তার আগে তুফান এলো’।স্বামী লোকটা এবার বিরক্ত হয়ে বলল- ‘তুমি যত্তোসব ফালতু বকো।যদি ডাকাত না পড়ে, আমার মন বলছে, সৈন্যরা এসেছে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, বোমা পড়ছে’।</p>
<p style="text-align: justify">এই অণুগল্পটিতে- দেখতে পাই বা প্রশ্ন জাগে মনে:<br />
এটি কী নারী ও পুরুষ, কীভাবে একটি ব্যাপারকে আলাদাভাবে দেখে বা উপলব্ধি করে তার মেটাফোর বা রূপক?<br />
এর উত্তর হলো- হ্যাঁ, অনেকটা তাই। This is the metaphor of how men and women viewed and perceived thing differently.</p>
<p style="text-align: justify">লিডিয়া ডেভিসের এসব সাইমেট্রিক্যাল লেখাগুলোর সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো- সেখানে দুটি বিপরীত লিঙ্গের বস্তু বা মানুষের মনস্তাত্বিক জটিল বিশ্লেষণকে ছন্দবদ্ধভাবে পরিবেশন করা হয়ে থাকে।এখানে নারী ও পুরুষ বা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ভয়ে কুঁকড়ে আছে, তারা বসে আছে একটি অবরুদ্ধ বাড়ির ভেতরে, রান্নাঘরে।পুরুষ লোকটি মানবসৃষ্ট বিপদের ভয়ে ভীতু হয়ে পড়েছে।আর স্ত্রীলোকটি প্রকৃতি সৃষ্ট দুর্যোগের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আছে।দুজনই যেন থমকে আছে নাফিসা ইসলাম রচিত সেই লাইনটির মতন-<br />
‘প্রেম-গন্ধী ফুল থেমে আছে সময়ের নির্দিষ্ট বাঁকে’।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>নাফিসা ইসলামের তৃতীয় পদ্য:</strong></span><br />
যাবতীয় স্মৃতির অসুখ<br />
ভুলে গেছে পরিক্রমা<br />
আমাদের অখণ্ড আবাসে<br />
প্রেম-গন্ধী ফুল থেমে আছে<br />
সময়ের নির্দিষ্ট বাঁকে<br />
জল অথবা জলহীনতায়<br />
পরিবর্তনহীন; প্রগাঢ় স্থিরতায়-<br />
কথকতার সুনিপুণ ভাঁজ খুলে<br />
ছড়িয়ে রাখি, রৌদ্রের উঠানে<br />
অমরতা খোঁজে সহজ স্পর্শ<br />
এসো, আমাদের নির্বাচিত স্বপ্নসমূহ<br />
গাঁথতে গাঁথতে জুড়িয়ে নিই প্রাত্যহিকতায়&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">লিডিয়া ডেভিসের ওই গল্পে একটা বাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে স্ত্রীলোকটি বুঝতে পারে- তার বাড়িটি তার বিশাল হৃদয়ের ভেতরেই কোথাও আছে। সেই বাড়ির উপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়, বৃষ্টিরা ঝরে পড়ে এবং এরপর বাগানে ফুল ফুটবে, পাখিরা আসবে, গাইবে, সুর দিয়ে ভরিয়ে দেবে চারপাশ, এত কিছুর ভাবনাতে ডুবে নারীটি যেন বাড়িতেই ডুবে যায়। অথচ সেই বাড়িটিতেই সে বাস্তবে বসে আছে। যার চারপাশ অবরুদ্ধ কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে।নাফিসা ইসলাম তাই তো ভেবেছেন- ‘পরিবর্তনহীন; প্রগাঢ় স্থিরতায় কথকতার সুনিপুণ ভাঁজ খুলে ছড়িয়ে রাখি, রৌদ্রের উঠানে অমরতা খোঁজে সহজ স্পর্শ, এসো, আমাদের নির্বাচিত স্বপ্নসমূহ গাঁথতে গাঁথতে জুড়িয়ে নিই প্রাত্যহিকতায়’।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু পুরুষ লোকটির ভাবনা যেন অন্যরকম। তার কাছে নিজ বাড়িতে থেকেও বাড়ি যেন নিরাপদ স্থান নয়।বিস্ফোরণের শব্দে মনে হয় কোনো ডাকাত এলো, সন্ত্রাসীরা বুঝি হামলা করবে, বা সৈন্যবাহিনীর দল এসেছে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, বোমা পড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">এই গল্পের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো- পুরুষরা ধ্বংসের দিকে (যুদ্ধ, শিকার) আর নারীরা সৃষ্টির দিকে (প্রকৃতি) প্রস্তুত হয় বা এগিয়ে যায়। লোকটা যেন বাড়িতে থেকেও নেই, যেন সে এখানে থাকেই না।কিন্তু স্ত্রী লোকটির বিশাল হৃদয়ে বাড়ি আছে। সেখানে বাতাস বয়, বৃষ্টি পড়ে আর পাশের পুরুষ লোকটিও ছায়া-সঙ্গী হিসেবে সে বাড়িতে থাকছেই তো।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/10/%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ab/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাহিত্যচর্চা ও পরিচর্যা, রাজধানী থেকে দূরে ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 04 Apr 2022 17:32:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1824</guid>

					<description><![CDATA[বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মসূত্রে কলকাতা শহরের মানুষ ছিলেন এবং রাজকীয় পরিবারে মানুষ ছিলেন।কিন্তু তাঁর সৃজনশীল জীবনের বড় অংশটাই কেটেছে কলকাতা শহর থেকে দূরে-অনেক অনেক দূরে-প্রকৃতির কোলে।শিলাইদহ, শাহজাদপুর, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মসূত্রে কলকাতা শহরের মানুষ ছিলেন এবং রাজকীয় পরিবারে মানুষ ছিলেন।কিন্তু তাঁর সৃজনশীল জীবনের বড় অংশটাই কেটেছে কলকাতা শহর থেকে দূরে-অনেক অনেক দূরে-প্রকৃতির কোলে।শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর এবং তাঁরই তৈরি শান্তিনিকেতনে।তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক লেখক-বলা যায় সর্বমাত্রিক লেখক।কি নেই তাঁর লেখায়? তারপরও শেষ জীবনে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, তিনি যাদের সাথে অন্তরঙ্গভাবে মিশতে চেয়েছিলেন, যাদের ‘লোক’ হতে চেয়েছিলেন , তাদের সঙ্গে তাঁর যাপিত জীবনে ও সৃজনশীলতায় একটা ফাঁক রয়ে গিয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সেটা অনেকটাই অপরিহার্য ছিল।তবু তিনি তা মেনে নিতে পারেননি মন থেকে।একটা অন্তরঙ্গ বেদনা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল আমৃত্যু।তিনি তাঁর শেষজীবনে সেসব নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছিলেন।তাঁর তেমনি একটি কবিতার নাম ‘ ঐকতান’। তিনি এ-কবিতায় বলেছিলেন,<br />
‘কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন,<br />
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,<br />
যে আছে মাটির কাছাকাছি,<br />
সে কবির-বাণী-লাগি কান পেতে আছি।<br />
সাহিত্যের আনন্দের ভোজে<br />
নিজে যা পারি না দিতে,<br />
নিত্য আমি থাকি তারি খোঁজে।<br />
সেটা সত্য হোক<br />
শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন না ভোলায় চোখ।<br />
সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যের খ্যাতি করা চুরি<br />
ভালো নয়, ভালো নয়, সে শৌখিন মজদুরি।<br />
এসো কবি অখ্যাতজনের<br />
নির্বাক মনের।<br />
মর্মের বেদনা যত করিয়া উদ্ধার-<br />
প্রাণীহন এ দেশেতে গানহীন যেথা চারি ধার,<br />
অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি<br />
রসে পূর্ণ করি দাও তুমি।<br />
অন্তরে যে উৎস তার আছে আপনারই<br />
তাই তুমি দাও উদবারি।’</p>
<p style="text-align: justify">রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই তাঁর সেই প্রার্থনা মঞ্জুর হয়েছিল। ‘অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি রসে পূর্ণ’ করে দিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম-জসীমউদদীনের দল যারা ছিলেন মাটির কাছাকাছি থাকা, মাটির সাথে গা লাগিয়ে থাকা কবি-সংগীতকার-কথাশিল্পী।বাংলা সাহিত্যে-সংগীতে-সিনেমায়-চিত্রশিল্পে গ্রামবাংলার কোনো শ্রেণিরই মানুষ আর অনুপস্থিত থাকেনি। কিন্তু পুনরায় বেশ কিছুদিন ধরে বাংলা শিল্পসাহিত্য কেবলমাত্র শহরের উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির কতিপয় মানুষের চর্চার ও উপভোগের জিনিস হয়ে উঠতে চাইছে।আধুনিকতা-উত্তরাধুনিকতা আরও কত ইজম !</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু কোনোটাই গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের ছবি চিত্রিত করার অনুকূলে নয়।তদুপরি বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র বিধায় সবকিছুর রাজধানী, সবকিছুর মঞ্চ, সবকিছুরই নিয়ন্ত্রণ-কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকা।বাকিসব ‘মফস্বল’।আর মফস্বলের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রে বেজে ওঠার সুযোগ পায় না; কখনবো বেজে উঠলেও তা ‘পাত্তা’ পায় না। তো রাজধানীর বাইরের শিল্পসাহিত্যচর্চা ‘অবজ্ঞার তাপে’ শুকিয়ে মরে যেতে বসার উপক্রম হচ্ছে আবারও। তবে তৃণমূলব্যাপী বিদ্যুতায়ন, পাকাসড়কের সংযুক্তি, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি মফস্বলের শিল্পসাহিত্য চর্চার পক্ষে অনেকখানি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আর সব ব্যবধান একসাথে ঘুচিয়ে দিতে চায় ফেসবুক। তো ফেসবুকের বিরুদ্ধে ফেসবকু-সাহিত্য বলে নাক সিটকানো উন্নাসিকতা কারও কারও কথায় ফুটে উঠলেও তাতে কিছু আসে না তৃণমূলের সাহিত্যচর্চার। রাজধানীর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে রাজধানীর বাইরের শিল্পসাহিত্যের চর্চা।</p>
<p style="text-align: justify">আমি জন্মসূত্রে গাঁয়ের ছেলে। কর্মসূত্রেও ঢাকার বাইরে কেটেছে ১৫/১৬ বছর।তারপর প্রায় ১৭/১৮ বছর ঢাকায় আছি। বাধ্য হয়ে।এই রাজধানীতে যারা সাহিত্য চর্চা করেছেন, এখন করছেন, তাদের সকলের সাথে মেলামেশার কিংবা অন্তরঙ্গ হওয়ার সুযোগ না হলেও তাদের সাহিত্যকর্ম, তাদের শিল্পকর্ম পড়ে দেখার, চেয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এখনও পাচ্ছি।তেমনি রাজধানীতে বসবাস করে পড়ছি রাজধানীর বাইরে রচিত-সৃষ্ট শিল্পসাহিত্য।আমি রাশিদা সুলতানার নগরজৈবনিক ছো্টগল্প-কবিতা পড়ছি, একইসঙ্গে পড়ছি রাজধানী থেকে দূরে থাকা এলিজা খাতুনের গল্প-কবিতা।পড়ছি ঢাকাকেন্দ্রিক অন্যান্য কবি-কথাসাহিত্যিকদের কবিতা-গল্প-উপন্যাস, একইসঙ্গে পড়ছি ‘মফস্বলবাসী’ মাসুদার রহমান-অনিফ রুবেদ-তামিম মাহমুদ সিদ্দিকদেরও নানামুখী রচনাও।আমি তাদের কারও কারও কথাসাহিত্য-কবিতা নিয়ে কিছু লেখাও লিখেছি; সেগুলোর কয়েকটি প্রকাশিত হয়েছে। আশা করি বাকিগুলোও হবে।এত কথা বললাম একটি আয়োজনের কথা বলবো বলে।</p>
<p style="text-align: justify">শুক্রবার (১ এপ্রিল ২০২২) নওগাঁ গিয়েছিলাম।বিখ্যাত লিটল ম্যাগাজিন ‘পুনশ্চ’ এর সম্পাদক এবং ‘পুনশ্চ , শিল্পের আড়ং’ নামের প্রকাশনা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা কবি রবু শেঠ আয়োজিত একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। অতীশ দীপঙ্কর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হুমায়ুন কবির, অন্নদাশঙ্কর রায়, আখতার হামিদ খান প্রভৃতি মনিষীর স্মৃতিধন্য নওগাঁয় এক বছরের জন্য ছিলাম আমিও। নওগাঁয় মাত্র এক বছর। কিন্তু নওগাঁ আমার এতটাই আপন যতটা প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথের কবিতার দুটি লাইন: ‘ক্ষণিক মিলনে তবু হে অন্তরতম/তোমারে চিনিনু চিরপরিচিত মম।’ এই অনন্য সম্পর্কের অন্য প্রান্ত হচ্ছে বয়সে আমার অনেক ছোট কবি রবু শেঠ এবং এই সম্পর্কের গাছের শেকড়ে জল-মধু-সার দিয়ে এসেছে সে-ই। আর আমি তাকে দিয়ে শুধু ভালোবাসা ভরা সমর্থন। সে আমার পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অনুজ সদস্যসের সমান।আর নওগাঁর বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে আজতক অনেক কবিতা-ছড়া-কিশোর কবিতা লিখেছি, হয়তোবা যা নওগাঁর নিজস্ব কবি-সাহিত্যিকগণও লেখেননি। সেসব বলতে গেলে অনেক কথা বলতে হবে। আজ সে প্রসঙ্গ এ পর্যন্তই থাক।</p>
<p style="text-align: justify">বরেন্দ্রসভ্যতার প্রাণকেন্দ্র নওগাঁর সাহিত্য চর্চা নিয়ে একদিন আলাদা করে বলবো।একদিন হার-না-মানা জীবনসংগ্রামী রবু শেঠকে নিয়েও বলবো আলাদা করে। আজ শুধু দুদিন আগের আয়োজনের কথা বলি। সেটি ছিল ‘পুনশ্চ’ আয়োজিত ৭টি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব। ‘৭ বইয়ের আদ্যোপান্ত’ শিরোনামে পুনশ্চ প্রকাশনার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালের ১ এপ্রিল, শুক্রবার বিকেলে আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট, নওগাঁয় বর্ষীয়ান কবি-গবেষক আতাউল হক সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান ।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কবি আমিনুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে কবি সালিমুল শাহিনের ‘নৈকট্য একটি দূরত্বের নাম’ বই নিয়ে কবি ড. মাসুদুল হক, অনল আকাশের ‘প্রতিদিন একটি কবিতা’ নিয়ে কবি রাজা সহিদুল আসলাম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের ‘শিয়রে সন্ন্যাসী’ নিয়ে কবি রিঙকু অনিমিখ, রহমান হাবিবের কাব্যগ্রন্থ ‘ফুল কুড়ানোর দিন’ নিয়ে কবি মামুন রশীদ, গুরুদাস দত্ত বাবলুর ‘যত মত তত পথ’ নিয়ে প্রাবন্ধিক জাহান আলী, আবু হেনা মোস্তফা কামালের ‘চোরাবালি’ নিয়ে কবি সহস্র সুমন অনিমা দেবনাথের গল্পের বই ‘বই ও বাতায়ন’ নিয়ে আলোচনা করেন গল্পকার আসাদ সরকার।এর আগে ‘পুনশ্চ’ সম্পাদক ও প্রকাশক রবু শেঠের স্বাগত বক্তব্যের পর নির্বাচিত সাতটি বইয়ের পাঠ উন্মোচন করা হয়। পাঠ-উন্মোচন করেন মেহেদী হাসান, নিমো সাজু, সামস-ই-সাত্তার তামান্না চমন, রফিকুদ্দৌলা রাব্বি, তামিম মাহমুদ সিদ্দিক, তানিয়া খন্দকার, আবদুল্লাহ আল রাফি সরোজ।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রফেসর ড. শাবিন শাহরিয়ার , প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ (অব.) নওগাঁ সরকারি কলেজ, প্রফেসর মো. হামিদুল হক অধ্যক্ষ, সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ, নওগাঁ, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান অধ্যক্ষ, নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ এবং নওগাঁর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গল্পকার সাজিদ রহমান প্রমুখ।</p>
<p style="text-align: justify">সংস্কৃতিজনদের কথাপর্বে বক্তব্য রাখেন- কবি সরদার মোজাফফর হোসেন, অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারী, কবি নীল সোহন।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচনা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। নওগাঁকে নিয়ে লেখা আমিনুল ইসলামের ‘ভোরের হাওয়ায় ভাসে বাংলাদেশ ‘কবিতাটি আবৃত্তি করেন নওগাঁর নন্দিত বাচিকশিল্পী রফিকুদ্দৌলা রাব্বি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য রূপে উপস্থাপন করেন কবি-কথাশিল্পী অধ্যাপক তামিম মাহমুদ সিদ্দিক এবং বাচিকশিল্পী তানিয়া খন্দকার।</p>
<p style="text-align: justify">এক কথায় এটি ছিল পরিপূর্ণ প্রকাশনা অনুষ্ঠান। আমি রাজধানীতেও এমনটি দেখি না। ঢাকার বাইরে অবস্থানকারী ৭ জন কবি-কথাসাহিত্যিকের ১টি করে মোট ৭টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখকদের পরিচিতিপর্ব এবং তাদের নিজস্ব বক্তব্য, প্রতিটি বইয়ের ওপর একজন করে যোগ্য লেখকের আলোচনা এবং উদ্বোধক-সভাপতিসহ অতিথিদের বক্তব্য। স্বল্পকথায় বলেতে গলে, অনন্যমাত্রায় সমৃদ্ধ এক আয়োজন।কোনো পিঠ চুলকাচুলকি নয়, কোনো তৈলবাজি কিংবা বিরুদ্ধাচরণও নয়, আলোচকগণের আলোচনা ছিল আন্তরকিতাময় ও সুবিবেচনাপ্রসূত।তারা প্রতিটি বইয়ের সবল ও দুর্বল উভয়দিক নিয়ে কথা বলেছেন, তাদের নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন যা থেকে বইয়ের লেখকগণ উপকৃত হবেন, সন্দেহ নেই।বইয়ের লেখকগণও আলোচনা-সমালোচনাগুলো ইতিবাচক মন নিয়ে হাসিমুখে গ্রহণ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">প্রধান অতিথি ছিলাম বলে প্রতিটি বইয়ের ১টি করে কপি আমাকেও দেওয়া হয়েছিল। আমি সাথে করে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে দুতিনটি বই পড়া হয়ে গেছে আমার ।কবি সালিমুল শাহিনের ‘নৈকট্য একটি দূরত্বের নাম’ বইটি আমি বইমেলা চলাকালেই পড়েছিলাম এবং ফেসবুকের পাতায় একটা ছোট রিভিউ লিখেছিলাম। আজ পড়লাম কবি-কথাশিল্পী অনিমা দেবনাথের ছোটগল্পের বই ‘ বই ও বাতায়ন’। বইটির নামকরণও চমৎকার। অনিমা দেবনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে ব্যস্ত আছেন।তার ছোটগল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, এরই নাম মাটির কাছাকাছি থাকা লেখক; এরই নাম সত্যমূল্য দিয়ে কবি বা কথাশিল্পী নাম গ্রহণ। তার ‘মাসুমার স্বপ্ন’, ‘সময় ও অসহায়ত্ব’, ‘স্বাধীনের মা’ এবং অন্যান্য গল্পে ধারণ করেছে জনজীবনের নিবিড় ও গহণ ছবি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বানানো গল্প লেখেন, তারা পড়ে দেখতে পারেন অনিমা দেবনাথের ‘স্বাধীনের মা’ গল্পটি।</p>
<p style="text-align: justify">আমি এর আগে এলিজা খাতুনের ছোটগল্প নিয়ে লিখেছিলাম; তামিম মাহমুদ সিদ্দিকের ‘আতর’ গল্পটি নিয়ে কয়েকটি বাক্য লিখেছিলাম।এসব লেখায় আমি আসল বাংলাদেশকে দেখতে পাই।এই কথিত ‘মফস্বলে’ নগদ লাভ, পুরস্কারের লোভ, সেলিব্রেটি হওয়ার মোহ-ইত্যাদি কাজ করে না বলে এসব লেখকের সাহিত্যকর্মে উপরচালাকি, চামচাগিরি, ইতিহাস বিকৃতি, মিথ্যায়ন এবং সাহিত্যের ইজম-তাড়িত কল্পনার কৌষ্ঠকাঠিন্যময়তা কিংবা শিল্পের নামে সরস্বতীর নাপিতগিরি থাকে না।আজকের সর্বজন স্বীকৃত কথাসাহিত্যিক-গবেষক-কবি হোসেনউদ্দীন হোসেন সারাজীবন মফস্বলে বসেই লিখেছেন সবকিছু।এমন উদাহরণ আরও দেওয়া যায়।কী দরকার তার ? অবশ্যই ব্যতিক্রমও আছে এবং সেসব তো ব্যতিক্রমই। আসলে উৎকৃষ্ট সাহিত্য নগদলোভের লোভ হতে মুক্ত মন থেকেই রচিত হয়। মফস্বলে থেকে আবু ইসহাক যখন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ রচনা করেন, তখন তিনি নিজেও জানতেন না তাঁর সেই সৃষ্টি কীভাবে গৃহীত হবে অথবা তা আদৌতেই গৃহীত হবে কি না। আর তখন তো আজকের বিতর্কে ভাবমূর্তি হারিয়ে ফেলতে বসা বাংলা একাডেমি পুরস্কার কিংবা অন্য কোনো সাহিত্য পুরস্কার ছিল না এদেশে।</p>
<p style="text-align: justify">নওগাঁর সাহিত্য অনুষ্ঠান নিয়ে লিখতে বসে আমার নিজের লেখা একটি আত্মজৈবনিক কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। আমার সেই কবিতাটির নাম ‘একটি নদীর আত্মকথা’।</p>
<p style="text-align: justify">‘আমি শ্রাবণের গঙ্গা নই,<br />
আমি ভাদরের মেঘনা নই,<br />
আষাঢ়ের যমুনাও নই আমি;<br />
হতে পারি আমি ইছামতি,<br />
হয়তো হতে পারি পুনর্ভবা<br />
অথবা বাঙালীও হতে পারি;<br />
সত্য যে আমি একটি নদী।</p>
<p style="text-align: justify">নাইবা হলো যাওয়া সমুদ্রের বাড়ি<br />
জলের দৌড়ে নাইবা হলো লেখা<br />
প্রান্তবাসী এই আমার নাম<br />
আমাকে মনে রাখবে<br />
গরীবের বউয়ের মতো এক ভূগোল।’</p>
<p style="text-align: justify">সেদিনে আয়োজনে আমি আমার বক্তব্যে বলেছিলাম, তাদের কোনোভাবেই নিরুৎসাহিত না হতে। কোনো বিরূপ সমালোচনা কিংবা সাহিত্যের ফতোয়া দ্বারা বিভ্রান্ত না হতে। তবে যতদূর সম্ভব, পূর্বের ও সমকালীন বিখ্যাত অথবা বহুল আলোচিত সাহিত্যগুলো পড়া দরকার। তারপর নিজের সৃজনশীল মেধাকে সম্বল করে লেখা চালিয়ে যেতে হবে। দেশের ইতিহাস মানে তো কেবল রাজা-বাদশার ইতিহাস নয়; দেশের সাধারণ মানুষের ইতিহাসই প্রকৃত ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ মানে শুধু কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আর সেক্টর কমান্ডারের যুদ্ধ নয়। এটা ছিল সাড়ে সাত কোটি মানুষের সম্মিলিত যুদ্ধ, যার নাম গণযুদ্ধ।</p>
<p style="text-align: justify">তেমনি নদীমাতৃক দেশ মানে কেবল পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-কর্ণফুলীর দেশ নয়। নাম জানা না-জানা তেরো শত নদ-নদী আর অজস্র খাল-বিল-দিঘি-পুকুরের সম্মিলিত অবদানে সুজলা-সুফলা-শস্যশ্যামলা আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশ। সাহিত্যে ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলা সাহিত্য মানে কেবল মধুসূদন-রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ—বিভূতিভূষণ-ওয়ালীউল্লাহ-শামসুর রাহমান-আল মাহমুদ নয়; বাংলা সাহিত্যকে গড়ে তুলেছেন শত কিংবা সহস্র অথবা তারও বেশি সংখ্যক কবি-কথাসাহিত্যিক-পুঁথিকার-নাট্যকার-সংগীত রচয়িতা-বাউলশিল্পী-রূপকথার লেখক-কবিগানে রচয়িতা-গম্ভীরা গানের স্রষ্টা।</p>
<p style="text-align: justify">তাদের অধিকাংশই আমাদের প্রত্যক্ষতার আড়ালে, আমাদের পঠনপাঠনের বাইরে রয়ে গেলেও তাদের অবদান মিথ্যা হয়ে যায়নি; মিথা হয়ে যাবে না। নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ এই সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তাঁর প্রার্থনা ছিল, পরামর্শ ছিল, শহরের ও প্রচারের লাইমলাইটের বাইরে থাকা শিল্পী-সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন করার পক্ষে, তাদের সম্মানিত করণের পক্ষে। তিনি তাঁর সেই ‘ঐকতান’ কবিতার উপসংহারে বলেছিলেন,<br />
‘সাহিত্যের ঐকতান সংগীতসভায়<br />
একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়-<br />
মূক যারা দুঃখে সুখে,<br />
নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে,<br />
ওগো গুণী,<br />
কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।<br />
তুমি থাকো তাহাদের জ্ঞাতি<br />
তোমার খ্যাতিতে তারা পায় যেন আপনরাই খ্যাতি-<br />
আমি বারংবার<br />
তোমারে করিব নমস্কার।’</p>
<p style="text-align: justify">নওগাঁ আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে স্থানীয় কবি-লেখকদের সহায়তায় রবু শেঠ আয়োজিত ‘৭ বইয়ের আদ্যোপান্ত’ শিরোনামের আয়োজনটি ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রত্যাশা ও পরামর্শের ষোল আনা অনুকূলে। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য পতিসরের বাতাস ছুঁয়ে সন্ধ্যাটি প্রাণবন্ততায় উচ্ছলিত ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।আয়োজনে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়ে নিজেকে পুরস্কৃত মনে হয়েছে আমার।সেজন্য রবু শেঠ- সালিমুল শাহিনকে ধন্যবাদ না দিলেও তারা আমাকে কৃপণ ভাববেন না, পর তো নয়ই।</p>
<p style="text-align: justify">সেই ৭ জন লেখকের সবাইকে আবার অভিনন্দন। রবু শেঠকে রাবীন্দ্রিক নমস্কার।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/04/04/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রায়দিন তামান্না তুলির কবিতা কীভাবে ও কেন পাঠ করি ॥ নাসরিন জে রানি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 18:02:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন জে রানি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1789</guid>

					<description><![CDATA[[ সম্পাদকীয় নোট: বিশ্ব কবিতা দিবস ২১ মার্চ। বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা ও প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।এবারের কবিতা দিবসে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong><em>[ সম্পাদকীয় নোট: বিশ্ব কবিতা দিবস ২১ মার্চ। বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা ও প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।এবারের কবিতা দিবসে যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য বিশেষ আয়োজন গল্পকার নাসরিন জে রানির চোখে কবি তামান্না সুলতানা তুলির কবিতা ]</em></strong></p>
<p style="text-align: justify">সব মানুষের হৃদয়ে একটি কবি সত্ত্বা বাস করে। মানুষ তার মনের ভেতরের যেকোন ভাব, চিন্তা-ভাবনা, আবেগ ও অনুভূতিগুলো যখন কাব্যিক ঢঙে প্রকাশ করে, তখন থেকেই সেটা কবিতা হয়ে ফুটে ওঠে। স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ বলেছেন- ‘গদ্য মানে শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো, আর পদ্য মানে সর্বোৎকৃষ্ট শব্দকে সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো।’</p>
<p style="text-align: justify">কবিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সারা বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহ দিতে ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে ইউনেস্কো ২১ মার্চকে ‘বিশ্ব কবিতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ব কবিতা দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো- কবিদের সম্মান জানানো, কবিতা আবৃত্তির ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা, কবিতা পড়া এবং কবিতা পড়ানো, কবিতা লেখা ও শিক্ষার প্রচার, নাট্য, নৃত্য, সংগীত ও চিত্রকলার মতো অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে কবিতার সমন্বয়তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কবিতাকে বিভিন্ন মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা।</p>
<p style="text-align: justify">২০২২ সালের আজ ২১ মার্চ, বিশ্ব কবিতা দিবস। এই দিনে আমি সম্মান জানাতে চাই সমসাময়িক বাংলাদেশের তরুণ কবিদের মাঝে অন্যতম প্রত্যুৎপন্নমতি কবি তামান্না সুলতানা তুলিকে।তুলির কবিতার ভেতরে তার রকমফের বহুবিধ ভাবনার, রচনাশৈলীর ভেতর-পথ ধরে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ফুটে উঠেছে।</p>
<p style="text-align: justify">আজকের আলোচ্যতে নেওয়া তামান্না তুলির লেখা পাঁচটি কবিতা-<br />
১.<br />
সাঁতারের নিশ্চয়তা পেলে ধার দেব<br />
আশবটি<br />
মাছেদের সংসারে লাগাবো কোন্দল</p>
<p style="text-align: justify">২.<br />
মানুষের অবিশ্রাম প্ররোচনার পাশে ফুটে<br />
আছে আমার<br />
স্বেচ্ছামৃত্যুর পুষ্প</p>
<p style="text-align: justify">৩.<br />
নরম মাংসের ভেতরে<br />
খেলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কবুতর</p>
<p style="text-align: justify">৪.<br />
এমন শূন্যতায় ভাসতে ভাসতে ফাপা<br />
হাড়ের ভেতর<br />
ঘন হয়ে আসে ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা</p>
<p style="text-align: justify">৫.<br />
স্থবির গ্রহের দিকে চলে যাচ্ছি<br />
এখানে নড়েচড়ে উঠলেই ধ্বসে যাচ্ছে<br />
শব্দের সংযম</p>
<p style="text-align: justify">কবিতা হলো রক্তকে কালিতে রুপান্তর করা পীড়া, ক্লেশ।একজন কবি সীমাহীন ও অবাধে বিচরণরত থেকে সবার দৃষ্টিসীমার বাইরে অবতীর্ণ হয়ে কবিতা রচনা করতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify"><strong><span style="color: #ff0000">তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-১</span></strong><br />
সাঁতারের নিশ্চয়তা পেলে ধার দেব<br />
আশবটি<br />
মাছেদের সংসারে লাগাবো কোন্দল</p>
<p style="text-align: justify">আঁশবটি- যে বঁটিতে মাছ কোটা হয়।যে ইস্পাতে তরবারি হয়। কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আঁশবটি কর তারে।’</p>
<p style="text-align: justify">কোন্দল- ঝগড়া, কলহ।<br />
সাঁতার- জলোপরি ভাসন, সন্তরণ, পানিতে ভাসমান অবস্থায় বিচরণ/ সাঁতার দেওয়া।<br />
নিশ্চয়তা-সংশয়শূণ্যতা, নিঃসন্দেহ।<br />
ধার-দেনা, কর্জ, সম্বন্ধ-সম্পর্ক ধারধরা।<br />
সংসার-জগৎ, পৃথিবী।</p>
<p style="text-align: justify">সমস্ত স্তরের ভালোবাসা, দুঃখ-বেদনা, উন্মত্ততা-উন্মাদনার মাঝে নিজেকে খুঁজে পান তিনি, যিনি কবি এবং তার কবিতাগুলো হয়ে ওঠে পারফর্মেন্স ইন ওয়ার্ড।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-২</strong></span><br />
মানুষের অবিশ্রাম প্ররোচনার পাশে ফুটে<br />
আছে আমার<br />
স্বেচ্ছামৃত্যুর পুষ্প</p>
<p style="text-align: justify">একজন কবি সব ধরনের বিষবাষ্পকে নিঃশেষ করতে পারেন, সেই সাথে পারেন এগুলো থেকে নির্যাস সংগ্রহ করে কবিতা আকারে সংরক্ষণ করতে।</p>
<p style="text-align: justify">অবিশ্রাম-অক্লান্ত/অবিরাম।<br />
প্ররোচনা-মন্দার্থে নিয়োজন/উত্তেজনা/উৎসাহ দান।<br />
ফুটে আছে- পূর্ণ বিকশিত, সম্পূর্ণ প্রকাশিত/ব্যক্ত।<br />
স্বেচ্ছামৃত্যু-আত্মহত্যার সমার্থক স্বেচ্ছামৃত্যু।<br />
কোন ব্যক্তি যখন নিষিদ্ধ বিষ নিজের ওপর মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করে আত্মহননের পথ বেছে নেন, তখন তা আত্মহত্যা বলে আমরা জানি। একজন কবির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুতে শুধু রুপান্তর ঘটে তার এক জীবন থেকে আরেকজীবনে, হয়ত মানব শরীর থেকে কবি বৃক্ষের প্রসূনরূপ পুষ্পের আকৃতিতে আবার ফিরে আসেন আমাদের মাঝে।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-৩</strong></span><br />
নরম মাংসের ভেতরে<br />
খেলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কবুতর</p>
<p style="text-align: justify">কবি সেই মানুষ যিনি সাধারণ অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি অথবা প্রচলিত শব্দকে নতুনরূপে উত্তীর্ণ করতে সক্ষম।</p>
<p style="text-align: justify">বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সায়ত্ত্বশাসন চায় না।বিচ্ছিন্নতাবাদ এক ধরনের ক্ষুদ্র ও উপেক্ষিত কিছুর সমর্থিত আওয়াজ।তুলির ‘নরম মাংসের ভেতরে খেলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কবুতর’- একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী নিরন্তর কর্ম যা অন্য এক অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়, অশান্তি হয়।একজন কবি অতিমানবীয় শক্তিমত্তার সাহায্যে সব মানুষের মাঝে উৎকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন, যখন একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট, ঘটনার রূপকধর্মী ও নান্দনিকতার সহযোগে তার কবিতাগুলো রচিত হয়।এই কবিতায় উল্লেখিত বিচ্ছিন্নতার জন্য এক বা একাধিক প্রেরণা থাকতে পারে, যা প্রভাববিস্তারকারী অংশের সাথে একত্রীকরণের প্রচেষ্টা তাদের পরিচয় ও বৃহত্তর আত্ম-সংকল্প অনুসরণ করার ক্ষমতার সাথে বিরোধপূর্ণ।</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-৪</strong></span><br />
স্থবির গ্রহের দিকে চলে যাচ্ছি<br />
এখানে নড়েচড়ে উঠলেই ধ্বসে যাচ্ছে<br />
শব্দের সংযম</p>
<p style="text-align: justify">একজন কবি দর্শনীয় মাধ্যম হিসেবে নিজেকে অন্যের চোখে ফুটিয়ে তোলেন, যেখানে তার রচিত কবিতাগুলো মুগ্ধ করে পাঠকদের।কবিতা বিহবল, মূঢ় করে তার সূক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, একটি মাত্র গুঞ্জরনিতে নয়, একক ঝংকারে নয়।তুলির এই কবিতাটি পাঠের পর আমার উপলব্ধি হয়েছে- এ যেন আমার নিজস্ব বোধ, চিন্তা, যা ক্রমশ ভেসে উঠেছে তার সংহিতায়, ‘এ যেন নড়ে উঠলেই ধ্বসে যাচ্ছে শব্দের সংযম।’</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>তামান্না তুলির কবিতার সংবৃতি বিদ্যমানতা-৫</strong></span><br />
এমন শূন্যতায় ভাসতে ভাসতে ফাপা<br />
হাড়ের ভেতর<br />
ঘন হয়ে আসে ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা</p>
<p style="text-align: justify">এই আলোচনের অবশিষ্টাংশে পৌঁছে বলব- আসলে কবিতা হলো মানুষের পরিতৃপ্তির বিষয়।মানুষের মনের ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের ইশতেহার বা প্রচারপত্র হলো কবিতা।একজন কবি অকথ্য দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে সাথে নিয়ে অকুণ্ঠ বিশ্বাসবোধ রচনা করে যখন, যেমন, যেখানে খুশী অভিগমন করতে পারেন- এমন শূন্যতায় ঘন হয়ে আসে ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা আমার ফাপা হাড়ের অন্তঃপুরে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিদায় দিলারা আপা ॥ আদনান সৈয়দ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Mar 2022 14:34:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্পভাবনা]]></category>
		<category><![CDATA[আদনান সৈয়দ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=1783</guid>

					<description><![CDATA[কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেমের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল নিউইয়র্ক মুক্তধারা বইমেলাতে। সম্ভবত ২০০৪ সালে তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় যোগ দিতে এসেছিলেন এবং তখন তাঁর সঙ্গে মুক্তধারার দপ্তরে শিল্প সাহিত্য নিয়ে লম্বা এক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেমের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল নিউইয়র্ক মুক্তধারা বইমেলাতে। সম্ভবত ২০০৪ সালে তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় যোগ দিতে এসেছিলেন এবং তখন তাঁর সঙ্গে মুক্তধারার দপ্তরে শিল্প সাহিত্য নিয়ে লম্বা এক আড্ডাও হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর সম্ভবত আবার ২০১০ সালের দিকে। হয়তো অনেকেই জানেন না দিলারা আপা মুক্তধারা নিউইয়র্ক বইমেলার একজন অন্যতম উপদেষ্টা। আগে থেকেই জানা ছিল তিনি ভীষণ অসুস্থ। কাউকে নাকি চিনতে পারতেন না। কিন্তু আমাদের খুব ইচ্ছে ছিল তিনি যেন আবার নিউইয়র্ক বইমেলায় একটিবারের জন্য আসতে পারেন। কিন্তু তা আর হল না। তিনি চলে গেলেন (দিলারা হাশেম শনিবার ১৯ মার্চ ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মারা যান)। রয়ে গেল তাঁর অনেক স্মৃতি।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><em><span style="color: #ff0000">স্মৃতির পাতায় তিনি জমা হয়ে থাকলেন।আর জমা হয়ে থাকলো তাঁর অটোগ্রাফ দেওয়া গ্রন্থ ‘হামেলা’ নামের অসাধারণ এই উপন্যাসটিও।</span></em></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এই সুযোগে উপন্যাসটি নিয়ে দুটি কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না।আমি মনে করি ‘হামেলা’ অসাধারণ একটি উপন্যাস।দিলারা হাশেম তাঁর এই উপন্যাসে ‘যৌনতা’কে অকপট সাধারণ মামুলি ভাষায় যেভাবে তুলে এনেছেন তা দেখে তখন খুব অবাক হই।কারণ আমাদের বাঙালি সমাজে ও সাহিতেও খুব কমই ‘যৌনতা’কে তুলে আনা হয়।যদিও ক্ষুদা, তৃষ্ণা, আনন্দ, ভোগ বিলাসের মত যৌনতাও আমাদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কিন্তু তারপরও দেখা যায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের লেখককুল বা সমাজ খুব একটা আলো ফেলেন না বা নানা কারণে এই নিয়ে কথা বলতে চান না।দিলারা হাশেম তাঁর ‘হামেলা’ উপন্যাসে সেই কাজটিই করেছেন এবং এই নিয়ে যথেষ্ঠ আলোও তিনি ফেলেছেন।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-1785 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-BOOK.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">‘হামেলা’ উপন্যাসের মূল বিষয়টিই হল নরনারীর জীবনে প্রেম এবং যৌনতাকে নিয়ে। প্রেম এর পরিনতি যৌনতায় আবার যৌনতার পরিনতি প্রেমে। প্রেম আর যৌনতাও যে পরস্পর হাত ধরাধরি করে হাটে তা তিনি এই উপন্যাসে অসাধারণ দক্ষতায় তুলে এনেছেন।তিনি দেখিয়েছেন যৌনতা ও প্রেম শব্দদুটি অনেক সময় সমার্থে ব্যবহৃত বা উচ্চারিত হয়। অথচ আমাদের সমাজের পবিত্র পণ্ডিতগণ মনে করেন যৌনতা মানেই বিষয়টি নিয়ে খোলা প্রান্তরে আলোচনার কোন বিষয় নয়।এই নিয়ে সাহিত্য আলাপ করা যায় না, পারিবারিক পরিবেশে যৌনতা নিয়ে কথা বলা মানেই মহাপাপ। লজ্জা শরমের মাথা খুইয়ে এই নিয়ে কেউ কথা বলেন না, সমাজ এবং রাষ্ট্র্ও বিষয়টিকে বোরকার কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়ার পক্ষপাতি। সে কারণে সাহিত্যে অশ্লিলতার দায়ে অনেক লেখককেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। দিলারা আপার কপাল ভালো তাঁর ‘হামেলা’ উপন্যাসটির জন্য অন্তত তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">মোট কথা হল নারী ও পুরুষের যৌনতার আশ্চার্য দুনিয়াকে লেখক দিলারা হাশেম তাঁর দক্ষ কলমের আঁচড়ে তুলে আনতে পেরেছেন।হামেলা প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স।</p>
<p>পড়ুন: <a href="https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87/">কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেম আর নেই</a></p>
<p style="text-align: justify">দিলারা আপার আত্মার শান্তি কামনা করছি। তার সৃষ্টি আমাদের বাংলাসাহিত্যকে অনেক অনেক সমৃদ্ধ করেছে।বিশেষ করে তাঁর ‘ঘর মন জানালা’ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য অলংকার। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি রুশ এবং চীনা ভাষাতেও অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক পাড়াতেও বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থগুলো হলো আমলকীর মৌ, মিউর‌্যাল, একদা এবং অনন্ত, কাকতালীয়, স্তব্ধতার কানে কানে’।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-1781 alignright" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-Hashem-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-Hashem-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2022/03/dilara-Hashem.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বিদায় আপা।এই নশ্বর দুনিয়ায় আপনি নেই কিন্তু আপনি আছেন এবং থাকবেন আমাদের হৃদ মন্দিরে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2022/03/20/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
