<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>গল্প &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/stories/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Mon, 07 Apr 2025 13:41:02 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>গল্প &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ফিনিক্স ॥ লাজ্বাতুল কাওনাইন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/04/07/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/04/07/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 07 Apr 2025 13:41:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[লাজ্বাতুল কাওনাইন লীনা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3397</guid>

					<description><![CDATA[এখন: এই বয়সে এসে প্রেমে পড়া বিষয়টি ভীষণই ভয়াবহ। প্রথম আমি যখন মানুষটাকে দেখি, ওর পরনে কালচে মেরুন একটা শার্ট পরা ছিল। মজার ব্যাপার হলো আমি তাকে সামনে দেখি দুর্বল &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">এখন:<br />
এই বয়সে এসে প্রেমে পড়া বিষয়টি ভীষণই ভয়াবহ। প্রথম আমি যখন মানুষটাকে দেখি, ওর পরনে কালচে মেরুন একটা শার্ট পরা ছিল। মজার ব্যাপার হলো আমি তাকে সামনে দেখি দুর্বল হইনি। আমি ছিলাম তার পিছনে। দমকা বাতাসে সে পাখির মতো উড়ে হেঁটে চলেছিল। বাতাসে পিছনের শার্ট আর কলার ফেঁপে উঠছিল। আশেপাশের মানুষ ছাপিয়ে সে চলে যাচ্ছিলো। খুব হালকা গড়নের মানুষটার প্রেমে আমি প্রথমে পড়িনি। বোধহয় তার উড়ন্ত হাটার প্রেমে পড়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">যখন সে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে স্থির হয়ে দাঁড়ালো তখন তার চেহারা দেখতে পেলাম। আমি তার বামদিকে ছিলাম। বেশ উজ্জ্বল বর্ণের একটা মানুষ, তার চেহারার সব থেকে বিশেষ আকর্ষণ বোধহয় তার নাকটা। মনে হলো কেউ আলগা একটা সরু চোখা নাক খুব যত্নে এঁকে তার মুখে লাগিয়ে দিয়েছে।<br />
আমি আস্তে আস্তে তার ডান পাশে কিছুটা দূরত্ব রেখে দাঁড়ালাম। অদ্ভুদ একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম। তার বাম পাশে হালকা দাঁড়ি আর ডানপাশে বেশ ঘন। যার জন্য দুইপাশ থেকে তাকে দুই রকমের অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে। কিন্তু একই মুখে দুই রকমের দাঁড়ি কি আজকালের ফ্যাশন কিনা বুঝলাম না। বেশ কিছুক্ষণ পায়চারি করার পর প্ল্যাটফের্মর বাঁধানো আসনে সে বসল। পাশে ক্র্যাচটা রেখে। অহ বলাই তো হয় নি তার একটা পা পুরোপুরি নেই। কালো প্যান্টের খালি অংশটা যতটা সম্ভব গুটানো। মানুষ এক পা দিয়ে কিভাবে এত দ্রুত হাঁটতে পারে সম্ভবত এটাই আমাকে বেশি বিস্মিত করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">এবার আমি সামনে থেকে মানুষটাকে দেখলাম। সে কাউকেই খেয়াল করছে না। ভীষণ শক্ত একটা মুখ। সে সম্ভবত ট্রেনের জন্যও অপেক্ষা করছেনা। সে বেশ শক্ত মুখে একটা করে সিগারেট ধরাচ্ছে। মুখে রেখেই ধোঁয়া ছাড়ছে। এভাবে কয়েক টান দিয়েই সামান্য পোড়া সিগারেটের অংশ থু করে তার একটা পায়ের নিচে ফেলে পিষে দিয়ে আবার আরেকটা ধরাচ্ছে। নাহ কেউ এলো না। সে বেশ ছটফট করে উঠে দাঁড়ালো। আমিও তার পিছু নিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">এখন ও অতীত:<br />
আজকাল কি হয়েছে, আমি কোনভাবেই নিজের কোন বিষয় তেমন একটা মনে করতে পারি না। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের মনের কথা পড়ে ফেলতে পারি। যেমন: ফিনিক্সের মনের কথা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারি। মানে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। আমরা যেমন আমাদের খুব কাছের মানুষের চাহনি, কথা, হাসি কান্না বা আচরণে অনেক কিছু বুঝে যাই। অনেকটাই তেমন কিন্তু সেখানে যেমন কিছুটা দ্বিধা কাজ করে। ঠিক বেঠিকের হিসেব মিলাতে বসি। ফিনিক্সের ব্যাপারে বা আরও কিছু মানুষের ব্যাপারে ব্যাপারটা তেমন না। আমি পুরোপুরিই সত্যিটাই বুঝি।<br />
অহ আবার ভুলেছি! ফিনিক্সের পরিচয় দেইনি। ও সেই মানুষটা যাকে আমি ষ্টেশনে দেখে প্রেমে পড়েছিলাম। এই কদিনে আমি তার নামটা জানতে পারিনি। তাকে অবশ্য কেউ কিছু নামে ডাকেও না। তাই আমিই তার নাম ফিনিক্স দিয়েছি। যে পাখি আগুনে পুড়ে আবার জীবিত হয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">ফিনিক্স নির্দিষ্ট কোথাও থাকে না। একদিন সে শহরের নিম্নমানের কোন হোটেলে থাকে, আবার কোনদিন তাকে আমি শহরের ফুটপাতেও রাত বা দিন কাটাতে দেখি। একেক সময় একেক মানুষ তার সামনে সাদা কাগজ ফেলে চলে যায়। সে কাগজটা উঠিয়ে পড়ে। তারপর সেই কাগজের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। সেখানে তার পরবর্তী থাকার স্থানটাও উল্লেখ থাকে। সে সেইভাবেই সেখানে থাকতে চলে যায়। ফিনিক্স সম্ভবত তাকে যাতে চেনা না যায় তাই তার চেহারার বিভিন্ন দিক বিভিন্ন রকমের করে রাখে। ইচ্ছা করলে ধুলোর বাহানা দিয়ে মুখে রুমাল আঁটতে পারে। কিন্তু সেটা করে কোনই লাভ নেই এটা সে জানে।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ একদিন আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা হাসপাতালে। কেন আমি এখানে এসেছি তাও জানি না। সময়ের হিসেব আমার কাছে বহুদিন হলো বেশ গোলমেলে। একটা পঁচিশ ছাব্বিশ বছয় বয়সী নারীর সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি। তার প্রচণ্ড ব্যাথা সারা শরীরে। বাজেভাবে একটা প্রাইভেট গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছে। নারীটির স্বামী বেশ ছুটাছুটি করছে। তাদের গাড়ির ড্রাইভার মারা গিয়েছে সেই দুর্ঘটনায়। ভদ্রমহিলার জ্ঞান নেই, তাকে নিয়ে সবাই হুলস্থুল করছিল ঠিক। কিন্তু তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেবার পর তার স্বামী চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিলেন। তাদের আড়াই বছরের একটা বাচ্চা ছিল ঐ গাড়িতে। তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ এলো অনেক কথা কাজ হলো কিন্তু বাচ্চাটিকে পাওয়া গেলো না। সে কি মৃত নাকি জীবিত ছিল তাও সেই দম্পতি জানতে পারেনি।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর ত্রিশ বছর কেটে গিয়েছে। সেই হারানো সন্তানকে আর তারা পায় নি। কিন্তু ওই নারীটা বেঁচে গিয়েছিলেন। এরপর তাদের আর কোন সন্তান হয়নি। ভদ্রমহিলা খানিক মনমরাও থাকতেন। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন একটা বাচ্চা পালক নিবেন। একটা মহিলা নিজে থেকেই বলেছিল সে তার বাচ্চাটা পালক দিতে চায়। মানে তখনও সে গর্ভবতী। একজন চেনাজানা মহিলা এই বিষয়টি জানতো। সে ওই দম্পতিকে বিষয়টি জানায়।</p>
<p style="text-align: justify">ওই গর্ভবতী মহিলা বলেছিল বাচ্চাটি হলে তারপর ওর নাম পরিচয় সব জানিয়ে দিবে এই দম্পতিকে। কিন্তু ভাগ্যের কি লীলা! ওই মা বাচ্চাটি হবার সময় মারা যায়। এরপর পরিচয়হীনভাবেই বাচ্চাটিকে পালক নিয়ে নেয় সেই দম্পতি। আমি না ঠিক কারও নাম মনে রাখতে পারছি না। শুধু বিভিন্ন মানুষ আর তাদের ঘটনাগুলো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ঠিক সেইভাবেই বলে যাচ্ছি..।</p>
<p style="text-align: justify">এখন:<br />
ফিনিক্স আজ বেশ মধ্যম মানের একটা হোটেলে আরাম করে গা এলিয়ে শুয়ে আছে। আমি ওর মাথার কাছাকাছি একটা সোফায় বসা। ওর মাথার নীচে বালিশ নেই। ওর আর একটা দারুণ বিষয় আছে। সে ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে। দরজার পাশেই তার ক্র্যাচ রেখে এক পায়ে লাফিয়ে লাগিয়ে চলে। খুব আজব লাগে। ওর এক পায়ের ভাসমাস্য ক্ষমতা অসাধারণ। অনেক রাতে সে হালকা একটু ঘুমায়। বারে বারে একটা ছোট মানুষের ছবি বের করে দেখে। এটা কে? সে নিজে নাকি তার আপন কেউ? তার চেহারার সাথে বেশ মিল আছে।</p>
<p style="text-align: justify">অহ আমার এখন মনে পড়ছে। ওই যে দম্পতি, সেই সন্তানহারা মা। সেও ঠিক এইভাবে তার ছোট বাচ্চাটার অনেকগুলো ছবি বিছানায় ছড়িয়ে নিয়ে বসে থাকেন। তাকান না শুধু বাছানাময় ছড়িয়ে নিয়ে রাখেন। তাদের পালক ছেলেটিও এখন অনেক বড় হয়েছে। এমনিতেই তাদের বিশাল অবস্থা। তার উপর তাদের সেই পালক ছেলেও এখন ভাল ব্যবসাপাতি করে। মহিলার স্বামীও বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। হঠাৎ একদিন অফিসে সে স্ট্রোক করে মারা যান। চিকিৎসক এমনটাই বলেছিল। এরপর থেকে মহিলাটিও খুব চুপচাপ হয়ে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">শুধু অতীত:<br />
ফিনিক্সের বয়স তখন আড়াই। একটা ভয়াবহ অপরাধী একটা পুকুর পাড়ে তাকে পায়। অদূরে একটা গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছিল। কিন্তু সে বাচ্চাটিকে অক্ষত অবস্থায় পায় এবং তাদের একটা আস্তানা ছিল সেখানে বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়। এটা মূলত বিভিন্ন বয়সী বাচ্চাদের নিয়েই গড়ে উঠা একটা গোপন আস্তানা। এখানে নিখোঁজ বাচ্চাগুলোকে এনে রাখা হয়। এরপর এদের বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। ভিক্ষাবৃত্তি, চুরি, হত্যাকাণ্ড, পাচার করা, বিভিন্ন অংগ প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়া ইত্যাদি বহুবিধ কার্যক্রম এইসব বাচ্চাদের নিয়ে চলে।</p>
<p style="text-align: justify">আমি দেখতে পেলাম আড়াই বছরের বাচ্চাটি যে চুরি করলো, সেই লোকটিই ছিল সেই পালক ছেলেটির বাবা। সে তার স্ত্রী ও গর্ভের সন্তানকে ফেলে পালিয়ে আসে। সে কোথাও থিতু হবার লোক ছিলোই না আসলে। কি মনে করে হুট করে পালিয়ে থাকা অবস্থায় এই মেয়েকে বিয়ে করে। এরপর এক মাসের মাঝেই সে মেয়েটিকে ছেড়ে আসে। সে অবশ্যও জানতও না যে তার স্ত্রী গর্ভধারণ করেছিল। সম্ভবত জানলেও সে থাকতো না।</p>
<p style="text-align: justify">আস্তানায় ফিনিক্স বড় হতে হতে একটা সময় সে এখানে নিয়ে আসার পুরো ঘটনাই জানতে পারে। তার একটা পা আস্তানায় গোপনে অপারেশন করে কেটেও ফেলা হয়। কারণ তাকে দিয়ে বিভিন্ন জায়গাতে ভিক্ষা করানো হবে। এরপর হয়তো তার আরও হাত পা কাটা যেত। কিন্তু বারো বছর বয়সে প্রথম যে কাজটা করে সে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেটা হলো এই আস্তানায় যে লোকটা তাকে এনেছিল, তাকে সে খুন করে এবং আস্তানা থেকে পালিয়ে আসে।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর সে একজন ঘাঘু মহাজনের সাক্ষাৎ পায়। সেখানেই সে প্রশিক্ষণ পায় কিভাবে অতি সুক্ষ্মভাবে মানুষ খুন করতে হবে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এখন সে পেশাদার খুনি। সে থাকে সব আইনের আড়ালে, হত্যার হুকুমকারিদের মধ্যমণি হয়ে এবং তাদের শিকারদের আজরাইলের হাতে তুলে দেবার দায়িত্বে।</p>
<p style="text-align: justify">আবার এখন:<br />
ফিনিক্স আজ সাদা রঙের শার্ট পরেছে। আজ দুপুরে সে একটা চিরকুট পেয়েছে। আমি অবশ্য চিনি সেই ব্যক্তিকে। যে এই চিরকুট ফিনিক্সকে পাঠিয়েছে। সেই মহিলা, যার বাচ্চাটা আর পাওয়া যায় নি। সে তার পালক ছেলেটিকে খুনের জন্য ফিনিক্সকে চিরকুট পাঠিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">কি অবাক লাগছে! ঘটনা জটঘট পাকিয়ে যাচ্ছে? না না তেমন জটিল কিছু নয়। ওই মহিলা জানতে পেরেছে তার পালক ছেলেটি আসলে একটা অমানুষ। সম্পত্তির লোভে সে তার স্বামীকে অফিসে কফিতে বিষাক্ত দ্রব্য মিলিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু আইন কানুন সব হাতে নিয়ে সে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে। কিন্তু মহিলা সব বিষয় বুঝে গিয়েছে। এমনকি এটাও বুঝেছে, তার পালক ছেলে আর তার প্রেমিকা মিলে এখন তাকে খুন করার পরিকল্পনা করছে।</p>
<p style="text-align: justify">আচ্ছা আমি কে? আমার কিছুই তো মনে পড়ছে না। কেমন অশান্তি লাগছে! আচ্ছা আজ আমি ফিনিক্সের সাথেই যাবো। দেখি ও কিভাবে খুনটা করে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিদিন বেশ রাত করেই পালক সেই মানুষটা বাড়ি ফিরে। নিজেই গাড়ি চালিয়ে নেয়। বেশ কদিন হলো সে কিছুটা বিষণ্ণ। একটা নদীর উপর ঝুলন্ত ব্রিজ আছে। সেখানে সে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সিগারেট খায়, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। আজও দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটাকে দেখে অযথাই আমার কেমন জানি মায়া মায়া লাগছে। আমি তো তাকে চিনিও না। তাহলে মায়া কেন লাগবে? আর আমি তো জানি সে কতটা নিষ্ঠুর একটা মুখোশধারী খুনি। সে তার আপন বাবার মতই একজন ভয়াবহ অপরাধী। পার্থক্য শুধুমাত্র সামাজিক অবস্থানে। তাও মায়া লাগছে। একটা হত্যাকারিও তাহলে মাঝে মাঝে মানুষ হয়ে যায় কি?</p>
<p style="text-align: justify">ফিনিক্স এগিয়ে যাচ্ছে পালক মানুষটির কাছে। নির্বিকার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আশেপাশে তেমন লোকজন নেই। সাঁই সাঁই করে কটা গাড়ি চলে যাচ্ছে। ফিনিক্স মুখে একটা সিগারেট নিয়ে লোকটার কাছে আগুন চাইলো। লোকটা ভীষণ বিরক্তি নিয়ে তাকাতেই ফিনিক্স ওর ক্র্যাচটা উঁচিয়ে সূক্ষ্ম একটা পোঁচ দিল লোকটার গলায়। লোকটা গলা চেপে হুট করে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে গেলো। ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে আলো আধারিতে মিলিয়ে গেল। আমি দেখলাম ওই পালক লোকটির গলা দিয়ে কোন আওয়াজ হচ্ছে না। সে ছটফট করতে করতে একটা সময় নিথর হয়ে গেলো।</p>
<p style="text-align: justify">মুহূর্ত বর্তমান:<br />
অহ অহ আমার এখন মনে পড়ছে। আমি তো এই পালক লোকটার প্রেমিকা। আমি আর সে মিলিয়েই তো পরিকল্পনা করে তার পালক পিতাকে হত্যা করেছিলাম। এই লোকটা যখন তার পালক মাকেও খুন করার পরিকল্পনা করছিল। তখন আমি তাকে বাঁধা দিয়েছিলাম। এতটা আর দরকার নেই। কিন্তু সে শুনতে চায়নি। আমার সাথে লোকটার বনিবনা নষ্ট হয়ে গেলো। এরপর সে আমাকেই ভয় পেতে শুরু করলো।</p>
<p style="text-align: justify">অহ অহ আমার মনে পড়ছে সব। সেই তো লোক মারফৎ খবর নেয় এই শহরে সব থেকে দক্ষ পেশাদার খুনি কে আছে। এরপর সে ফিনিক্সের সন্ধান পায়। ফিনিক্স আমাকে অতি যত্নে তার কারিগরি খুনি হাতে হত্যা করে। যে মুহূর্ত থেকে সে আমাকে খুন করেছে, সেই মুহূর্ত থেকে আমি তার সাথেই আছি। কারণ আমি সেই মহিলার হারানো ছেলেটার প্রেমে পড়ে গিয়েছি। যদিও আমি মৃত হয়েও জীবিতদের শুনতে পাই আর সে জীবিত হয়ে মানুষদের লাশ বানায়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/04/07/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-৫) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/28/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/28/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 27 Mar 2025 20:12:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3385</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৫ ॥ পাঁচ দিন পর নঈম-ঈদ তো চলে আসলো।ঈদ আসার কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়ি ফেরা মানুষগুলো ফিরে যায় তার শিকড়ের কাছে, ভালোবাসার মানুষদের কাছে।কখনো দৃশ্যমান কখনো বা অদৃশ্য মমতার টানে। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>পর্ব-৫</strong> ॥ পাঁচ দিন পর<br />
নঈম-ঈদ তো চলে আসলো।ঈদ আসার কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়ি ফেরা মানুষগুলো ফিরে যায় তার শিকড়ের কাছে, ভালোবাসার মানুষদের কাছে।কখনো দৃশ্যমান কখনো বা অদৃশ্য মমতার টানে। নীরব ঘরখানি, শূন্য উঠোনখানি তখন কোলাহলে মেতে ওঠে।কোথায় ঈদ করবি তুই?<br />
নীলা-ঈদ নিয়ে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস নেই।ঈদ আসলেই কি, না আসলেই কি।আমি বাবা-মার স্নেহের ছায়ায় ছিলাম নির্ভার।মনে হতো, বাবা-মায়ের ভালোবাসার আলোয় আমার জীবনে কোনো অন্ধকার আসবে না।বাবা-মা কেউ নেই।আমার চারপাশে সব আছে, কিন্তু এক অপার শূন্যতা যেন আমায় ঘিরে রাখে সারাক্ষণ।ঈদের সেই আনন্দ নেই।তর কি অবস্থা?<br />
নঈম-এই তো কেটে যাচ্ছে। ঈদের পর গ্রামে যেতে পারি। কুশিগাঙ নদী পরিদর্শনে।<br />
নীলা-ওখানে কেন?নদীর নামটা এমন কেন?<br />
নঈম-তুমি তো জানো, নদী নিয়ে গবেষণা করি আমি। সেদিন খবরের কাগজে দেখলাম, সিলেটের সুরমা নদীর অন্যতম উপশাখা কুশি নদী। কুইগাঙ বা কুশিগাঙ নামে নদীটি বেশি পরিচিত।সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার হাওর থেকে প্রবাহিত পাবিজুড়ি, কাফনা ও করিস নদীর সমন্বিত অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে ‘কুশি নদী’। বিভিন্ন হাওর-বিল হয়ে ৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটি মিলিত হয়েছে সিলেট নগরের সুরমা নদীর কুশিঘাট এলাকায়।সিলেটের সুরমা নদীর সঙ্গে জৈন্তাপুরের সারি নদীর একমাত্র সংযোগ নদী কুশিগাঙ। মোগল আমলে উত্তর-পূর্ব সিলেটের পাহাড়ি জনপদে চলাচল ও বাণিজ্যের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম ছিল কুশিগাঙের নদীপথ। স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদীটি আশপাশের অঞ্চলে পানিপ্রবাহ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে পানির চাহিদা পূরণ করে এলেও এখন নিজেই ধুঁকে ধুঁকে মরছে নদীটি।হারিয়েছে গতিপথ, ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর বিভিন্ন স্থান।বর্ষাকালে পানিতে টইটম্বুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি যেন মৃত খাল।এ সময়ে নদীর দুই পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই সবজি চাষ করেন।নদীর বুকে পড়ে থাকে মাছ ধরার নৌকা।খননের উদ্যোগ নিলে প্রাণ ফিরে পাবে নদীটি। এজন্য যাব সেখানে। নদীটির প্রাণ ফেরার উদ্যোগ নেব।<br />
নীলা-গুড, গুড, গুড।<br />
নঈম-যাবি আমার সাথে সিলেটে?<br />
নীলা-ঈদের পর হলে যাওয়া যায়।দেখি ছুটি যদি কয়েকদিন বেশি নিতে পারি, জানাব তকে।<br />
নঈম-আরে চল, নদীর কাছে গেলে মন ভালো হয়ে যাবে।নদীর পানি, নদীর পাড়, নদীর পাড়ে বালু, কাদায় হাঁটলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হবে।নদীর পাশে বিস্তীর্ণ সোনালি ফসলের মাঠ, সঙ্গে নীলাভ আকাশ।ফসলি জমির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদী, কলকল ধ্বনিতে পানি প্রবাহিত হয়।এসব দৃশ্য দেখে যেন নদীর কাছে মায়া হয়।তর মন এমনিতেই সতেজ হয়ে যাবে। আমার বাড়িটা যদি নদীর কাছে হতো।<br />
নীলা-ছোটবেলায় আমি একবার যমুনার পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম।রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে করিয়ে দিলি,<br />
“আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে,<br />
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।<br />
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,<br />
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।<br />
চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,<br />
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।”অসাধারণ একটি কবিতা।<br />
নঈম-আমার একটা ফোন আসছে, ভালো থাক, কথা হবে। ঈদ শুভেচ্ছা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/28/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%ab-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-৪) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 Mar 2025 18:53:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3381</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৪ : নঈম-চলে আসছি। নীলা-তুই তো জানিস, আমি কিভাবে বড় হয়েছি।বাবা ছাড়া বিশটা বছর আমি।মা যে এতো কষ্ট করলেন, মায়ের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।যতবার চোখ বন্ধ করে ভাবি, মনে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>পর্ব-৪ :</strong> নঈম-চলে আসছি।<br />
নীলা-তুই তো জানিস, আমি কিভাবে বড় হয়েছি।বাবা ছাড়া বিশটা বছর আমি।মা যে এতো কষ্ট করলেন, মায়ের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।যতবার চোখ বন্ধ করে ভাবি, মনে হয় মা পাশে বসে আছেন।কিন্তু চোখ খুললেই বাস্তবতা কষ্ট দেয়।সত্যি কথা বলতে কি, মাকে ইদানীং খুব খুব মনে পড়ে।জীবনের পথে যতই এগিয়ে যাই না কেনো, মায়ের শূন্যতা আমাকে পীড়া দেয়।আসলে জীবনের কথা ভাবলে নিজেকে ফাপুর ফাপুর লাগে।সময় কত দ্রুত চলে যায়।মায়ের সেই রাগ করে কথা বলার মুহূর্তগুলোর কথা এখনো কানে বাজে।<br />
নঈম-রিলাক্স, বিষয়গুলো ইজিভাবে নে।এতো নস্টালজিয়ার কী আছে!<br />
নীলা-বিশ্বাস কর নঈম, আমার পরিচিতজনেরা মানে কাছের মানুষ যারা তারা বলেছে, ‘আমি বিয়ে করছি না কেন? আমার কি কোনো সমস্যা আছে?’ মেজাজটা এতো খারাপ তরে বলে বুঝাতে পারব না।<br />
নঈম-শোন, রান্না ঘরে যা, চিনি ছাড়া এক কাপ রঙ চা বানিয়ে খা। দেখ, নিজেকে হালকা লাগবে।যা দ্রুত..।<br />
নীলা-চা খেতে ইচ্ছে করছে না।<br />
নঈম-আরে ধুর! যা, আমি বলছি প্লিজ..।<br />
নীলা-উহ!!</p>
<p style="text-align: justify">দশ মিনিট পর<br />
নঈম-চা খাচ্ছস?<br />
নীলা-হ্যাঁ।<br />
নঈম-সেদিন তোর কবিতা আবৃত্তি শুনে আজ ফেসবুকে একটা কবিতা পড়লাম।কাজী লাবণ্যর লেখা ‘পরিযায়ী পাখি’ শিরোনামে কবিতার শেষ লাইনটা অনবদ্য।শেষ লাইনটা এরকম-“ভালোবাসা দূরে গেলে, এ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ ছাড়া, কোনো কিছুই থেমে থাকে না।”<br />
নীলা-আসলেই দুর্দান্ত।পুরো কবিতার লিংকটা ম্যাসেঞ্জারে দিয়ে রাখিস।</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/24/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-৩) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/23/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/23/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 22 Mar 2025 19:01:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3377</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৩ : নঈম-শোন, ঈদানীং রাস্তায় বের হলেই মানুষ দুঃখের গল্প শোনাতে চায় আমাকে।ব্যাপারটা কেমন বল তো, নীলা-বুঝিনি।বুঝায়ে বল। নঈম-গতকাল তিনটি জায়গায় গেলাম।প্রথমে বাসে গেলাম।বাসে একজন যাত্রী আমাকে তার জীবনের গল্প &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><strong>পর্ব-৩ :</strong> নঈম-শোন, ঈদানীং রাস্তায় বের হলেই মানুষ দুঃখের গল্প শোনাতে চায় আমাকে।ব্যাপারটা কেমন বল তো,<br />
নীলা-বুঝিনি।বুঝায়ে বল।<br />
নঈম-গতকাল তিনটি জায়গায় গেলাম।প্রথমে বাসে গেলাম।বাসে একজন যাত্রী আমাকে তার জীবনের গল্প শোনাতে শুরু করলেন। তার ভাইকে নাকি জ্বিনে ভর করেছে।এরপর আরেক জায়গায় গেলাম লেগুনায়।এমন সময় একজন লেখক ফোন দিয়ে বলেন, ‌‍“ভাই একটা চাকরি দরকার। আগে যেখানে চাকরি করেছি, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্টটি বন্ধ হয়ে গেছে। জানেন তো ঢাকায় প্রচুর খরচ। চাকরি দরকার।” শেষে রাতে বাসায় ফিরছিলাম অটোরিকশায়। অটোরিকশার ড্রাইভার শুরু করলেন এই বলে, “ভাই এই ঢাকায় কেউ আসে টাকা ধরতে, কেউ আসে টাকা বিলাইতে, কেউ আসে টাকা পাহারা দিতে। কত রকমের মানুষ যে এই শহরে।”<br />
নীলা-ভালো তো। তরে সবাইকে জীবনের চিত্রগুলো দেখায়-বিষয়টি খারাপ না।হয়তো তাদের দুঃখগুলো বলে কিছুটা তারা মেন্টালি চাপ কমায়।এটা তুই পজিটিভলি ভাবিস।<br />
নঈম-সত্যি বলতে কি, আমি যেমন তরে সব বিষয়ে শেয়ার করতেছি। ঠিক তেমনি আমি যখন রাস্তায় চলি, আশেপাশের মানুষগুলোর গল্প শোনার চেষ্টা করি।এই বিচিত্র জীবনযাপনের আখ্যানগুলো শোনার চেষ্টা করি। কেন জানি ওরাও আমাকে ফ্রাঙ্কলি বলে দেয়। ইন্টারেস্টিং।<br />
নীলা-তর জীবনটাও তো গল্পের মতোনই।<br />
নঈম-হ।<br />
নীলা-জীবন নিয়ে জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা আছে। তিমিরহননের গান শিরোনাম। তরে শোনাচ্ছি-“কোনো হ্রদে<br />
কোথাও নদীর ঢেউয়ে<br />
কোনো এক সমুদ্রের জলে<br />
পরস্পরের সাথে দু-দণ্ড জলের মতো মিশে<br />
সেই এক ভোরবেলা শতাব্দীর সূর্যের নিকটে<br />
আমাদের জীবনের আলোড়ন-<br />
হয়তো বা জীবনকে শিখে নিতে চেয়েছিলো।”<br />
নঈম-বাহ! দারুণ তো।আসলে জীবনানন্দ দাশের কবিতার কথা অনেক শুনেছি।কিন্তু কখনো এভাবে ভাবিনি।তবে কিছুদিন আগে ফেসবুকে জীবন নিয়ে একটা পোস্ট দেখেছিলাম, “Life is what happens while you are busy making other plans”। এই কথাটিও ভালো লেগেছে।<br />
নীলা-কাল কি তুই বিজি থাকবি?<br />
নঈম-কেন?<br />
নীলা-হসপিটালে যেতে হবে।<br />
নঈম-কে অসুস্থ?<br />
নীলা-আমার কলিগের ছেলেটা হাসপাতালে ভর্তি।দেখতে যাওয়া দরকার।<br />
নঈম-যা। আমার সময় হবে না। অফিসের কাজের চাপে চেপ্টা হয়ে যাচ্ছি।ওই শোন, চা খেয়ে আবার আসছি..ওয়েট।<br />
নীলা-ওকে।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/23/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ (পর্ব-২) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Mar 2025 18:53:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3368</guid>

					<description><![CDATA[কুশিগাঙ (পর্ব-২):  নঈম-গত কয়েকদিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ মাগুরার মেয়েটা মারা গেছে, জেনেছস কিনা? নীলা-না! তো। কবে মারা গেলো? সারা দেশে তো ওর ধর্ষণের ঘটনায় বেশ তোলপাড় দেখলাম। নঈম-কয়েকটি গণমাধ্যমে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>কুশিগাঙ (পর্ব-২): </strong></span> নঈম-গত কয়েকদিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ মাগুরার মেয়েটা মারা গেছে, জেনেছস কিনা?<br />
নীলা-না! তো। কবে মারা গেলো? সারা দেশে তো ওর ধর্ষণের ঘটনায় বেশ তোলপাড় দেখলাম।<br />
নঈম-কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ দেখলাম, সংবাদে ওই শিশুটির মাকে বলতে শোনা যায়, “আমার মণি যেভাবে মরছে, আমি তারও (অপরাধীর) ফাঁস দিয়ে বিচার চাই। (তার) এরম মৃত্যু চাই আমি, আমার মণির যেমন বেলেড দিয়ে কাটছে, গলায় ফাঁস দেসে, ঠিক সেরকম বিচার চাই আমি আপনাদের কাছে।ওরে যেন ওইরকম ফাঁসি দিয়ে মারে।ওরকম যেন ওরে বেলেড দিয়ে কাটে। আমার মেয়েটারে যে কষ্ট দিছে না? আমি তারেও এরকম দেখতে চাই।”<br />
নীলা-সত্যিই বেদনাদায়ক।সিনেমাতেও মনে হয় এরকম ঘটনা ঘটে না। মেয়েটির ক্ষেত্রে যা ঘটলো।এই ঘটনার অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।<br />
নঈম-শোন, ইদানীং সন্ধ্যাগুলো কেমন বিষণ্ন হয়ে যাচ্ছে।সময়গুলো যাচ্ছে আর আঁধার কাটছেই না।<br />
নীলা-হ্যাঁ, তবে আঁধারের পরই কিন্তু আলো আসে। সুতরাং এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আজ ডিনার কই করবি?<br />
নঈম-ভরপুর ইফতারি খেয়েছি।ডিনার নাও করতে পারি।<br />
নীলা-আমার অফিসে কয়েকটি দিন খুব ঝামেলা যাচ্ছে রে। আর ভাল্লাগে না।এতো কাজের চাপ।তর অবস্থা কী?<br />
নঈম-ভাইয়া আজ ফোন দিয়ে জানালো, আগামী জুনে দেশে আসবে। হয়তো বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়। আমি আছি, কেটে যাচ্ছে। নতুন চাকরি খুঁজছি।<br />
নীলা-কেন? এই চাকরি সমস্যা কী?<br />
নঈম-নানার ধরনের সমস্যা। কয়টা তকে বলবো?<br />
নীলা-আগেই ছাড়িস না।ভালো একটায় জয়েন কর, তারপর। তা নাহলে তো বিপদে পড়বি।<br />
নঈম-তা ঠিক বলেছস। দেখি কী করা যায়। ভাইয়া এলে তো আরো কাজের চাপে পড়বো।<br />
নীলা-তো সমস্যা কী! ম্যানেজ করে নিবি। প্রতিদিন পরিকল্পনা করে কাজ করবি। দেখবি সব সহজ হয়ে গেছে।<br />
নঈম-তর বিয়ের কথা শুনেছিলাম। কী অবস্থা?<br />
নীলা-আরে ধুর! বিয়েশাদী নিয়ে আপাতত ভাবছি না।স্কলারশিপটা হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। আপাতত মাথায় এটাই রাখছি।<br />
নঈম-কোন দেশে অ্যাপ্লাই করেছিস?<br />
নীলা-আচ্ছা কনফার্ম হোক। তখন জানাবো।<br />
নঈম-আজ বাইরে আবহাওয়াটা বেশ রোমান্টিক।<br />
নীলা-বের হো, ঘুরে আয়।<br />
নঈম-একা যাব?<br />
নীলা-তর না অনেক বন্ধু, কাউকে ম্যানেজ কর।<br />
নঈম-হুম।একটাও কাজের না। হুদাই সব।<br />
নীলা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু নিয়ে একটা কবিতা আছে, নাম ‍‘দুই বন্ধু’। পড়েছিস?<br />
নঈম-আরে না! আমার কবিতা-টবিতা পড়ার অভ্যাস নাই।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুশিগাঙ ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Mar 2025 19:36:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3364</guid>

					<description><![CDATA[হ্যালো নীলা-কী খবর? নঈম-কোন খবর চাও? নীলা-এই তো দিনকাল কেমন চলছে? নঈম-কেটে যাচ্ছে।তোমার অবস্থা কী? নীলা-এই তো, শীত চলে গেলো।গরম বেশ ভালোই পড়েছে। রমজান মাসও চলে যাচ্ছে। নঈম-হুম।এবার তারাবি পড়তে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">হ্যালো নীলা-কী খবর?<br />
নঈম-কোন খবর চাও?<br />
নীলা-এই তো দিনকাল কেমন চলছে?<br />
নঈম-কেটে যাচ্ছে।তোমার অবস্থা কী?<br />
নীলা-এই তো, শীত চলে গেলো।গরম বেশ ভালোই পড়েছে। রমজান মাসও চলে যাচ্ছে।<br />
নঈম-হুম।এবার তারাবি পড়তে পারছি না।<br />
নীলা-হুম, তুমি তো বিজি। আর কি খবর? বিশ্ব রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে?বড় বড় নেতাদের যে কথার কূটনীতি দেখছি, তাতে তো মনে হয় সামনে অস্থিরতা আরো বাড়বে।<br />
নঈম-ধুর!! রাজনীতির খবর কে রাখে! তবে ইদানীং দেখছি বিশ্ব মিডিয়ায় নানা রকম হাস্যকর খবর।‘৫০ দিনে যেভাবে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিলেন ট্রাম্প’-এমন একটি নিবন্ধ পড়লাম নিউইয়র্ক টাইমসের সিনিয়র সাংবাদিক ডেভিড ই স্যাংগার লেখা। তিনি লিখেছেনে, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫০ দিনে এমন অনেক কাজ করেছেন, যা দেশটির আধুনিক ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট করেননি। তাঁর এসব কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি খোলনলচে বদলে দিচ্ছে।”<br />
নীলা-হাস্যকর খবর আবার কী রকম?<br />
নঈম-হ্যাঁ, ঠিক তোমার হাসির মতোই।<br />
নীলা-আমার হাসি কী খারাপ?<br />
নঈম-আমি কি বলেছি খারাপ?<br />
নীলা-ধুর! আমার হাসির জন্য কত ছেলেই তো প্রেম করতে চাইলো, আর তুমি হাসি নিয়া কথা বললা।ঠিক আছে ফোন রাখছি।<br />
নঈম-কাজুও ইশিগুরুর গল্প পড়ছিলাম আর তর সঙ্গে কথা বলছিলাম। শোন, রাগ করিস না, আসলে তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর সিরিয়াসলি বলছি। চলো, একদিন একসাথে ইফতারি করি।<br />
নীলা-আমার হাসির প্রশংসা করতে হবে না। ইফতারি করার টাইম নাই।ওই সময় আমি বিজি থাকি।<br />
নঈম-এটা কেমন কথা?<br />
নীলা-এটাই বাস্তব।<br />
<em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%99-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অসম্ভব এক যুদ্ধ ॥ দিলরুবা আহমেদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/03/15/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/03/15/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Mar 2024 17:57:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[দিলরুবা আহমেদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3167</guid>

					<description><![CDATA[সোহেলী বলে সে যুদ্ধ করতে যাবে। প্রায়ই বলে। এদিক ওদিক চেয়ে রণবীর প্রায়ই ভাবে কোন যুদ্ধে যেতে চায় এই মেয়ে!! এই দেশে তো কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে না। অন্য কোন দেশে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সোহেলী বলে সে যুদ্ধ করতে যাবে। প্রায়ই বলে। এদিক ওদিক চেয়ে রণবীর প্রায়ই ভাবে কোন যুদ্ধে যেতে চায় এই মেয়ে!! এই দেশে তো কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে না। অন্য কোন দেশে গিয়ে এ যোগ দিবে নাকি কোন যুদ্ধে! কিছুই বলা যায় না। লাইনঘাট খুজে নিয়ে অনেক মেয়েই তো চলে যাচ্ছে বহুদিকে। এত কম দিনের পরিচয়ের কারনে বেশি কিছু সে বুঝেও উঠতে পারছে না। তবে এই মেয়েকে বোঝার আকাঙ্খায় এর সামনে পিছনে ঘুরে মরছে সে দিন রাত।</p>
<p style="text-align: justify">অবাক হয়ে একদিন দেখলো সোহেলী হাত ভেঙে এসে হাজির হয়েছে। জানতে চাইলো,<br />
যুদ্ধে গিয়েছিলে! হাত ভেঙেছো কিভাবে?<br />
সোহেলী চোখ বড় করে বলে,<br />
হ্যাঁ, অস্ত্র চালাতে গিয়ে হাত ভেঙেছে।<br />
রণবীর যথার্থই শঙ্কিত হয়।<br />
কি বলছো?<br />
যা বলছি পরিস্কার বাংলায় বলছি।বুঝতে পারছো না কেন!<br />
তুমি কি জান তুমি কি বলছো? ভাবছো? করছো?<br />
বীণা যুদ্ধে প্রাণ নাহি দেব, দেব না। যুদ্ধ চাই। আরেকটা যুদ্ধ চাই।<br />
তোমার সমস্যাটা কি?<br />
আমার সমস্যা তুমি।<br />
আমি কি করে তোমার সমস্যা হই।<br />
শোন ছেলে তুমি যে ভাবছো প্রতিদিন সারাক্ষণ আমাকে নিয়ে, এটা খুবই ভয়ঙ্কর কোন পরিকল্পনার দিকেই সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে।<br />
আমি তোমাকে নিয়ে ভাবছি না।<br />
তুমি ভাবছো।<br />
না ভাবছি না।<br />
তাহলে রোজ আমার কলেজ যাওয়ার পথে এসে দাঁড়িয়ে থাক কেন, এই গাছ তলায়?<br />
কাল থেকে আর থাকবো না।<br />
না এসে পারবে না।<br />
পারবো।<br />
তাহলে না এসে দেখিয়ে দাও।<br />
আাচ্ছা সেটা সম্ভব না। অসম্ভব।<br />
তাহলে মানছো তুমি না এসে পারছো না। কারণ তুমি ভাবছো আমাকে নিয়ে।<br />
হ্যাঁ, ঠিক।<br />
তুমি জান আমরা দুটো ভিন্ন ধর্মের মানুষ।<br />
জানি।<br />
হুম, তাহলে কিভাবে কি?<br />
জানি না। আর শোন তুমি তো পরের গলি দিয়েও কলেজ যেতে পার। তা না গিয়ে এই পথ দিয়ে যাও কেন?<br />
তোমার দাঁড়িয়ে থাকা চেক করার জন্য। দেখি দাঁড়িয়ে আছ না বসে আছ।<br />
শুয়ে থাকবো কাল থেকে।<br />
আমি তার উপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে চলে যাব।</p>
<p style="text-align: justify">এই মফস্বল শহরে দেখেছো কোন মেয়েকে সাইকেল চালিয়ে যেতে? করছো তো তাই। আবার জলজ্যন্ত একটা ছেলের উপর দিয়ে চলে যেতে চাও!<br />
আমি তো আমিই। সব পারি।<br />
এত পারা ঠিক না।<br />
তবে তাহলে যে মেয়ে হেঁটে হেঁটে কলেজ যায় তার পথের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে তো কই দেখি না তোমায়, হে যুবক।<br />
হৃদয়হীনা যুবতী, তোমার হাত কি সাইকেল থেকে পড়ে ভেঙেছে?<br />
হুম, তাই।<br />
তাই হবে। আর বলে কিনা যুদ্ধে যাবে। যুদ্ধের ভয় দেখায়।<br />
তোমার নামটা যেন কী? রণবীর না! তাহলে? যুদ্ধই তো, নয় কি? রণ এবং বীর। রণবীর। তুমি মানেই তো যুদ্ধ। পরিবারের সাথে। ধর্মের সাথে, সমাজের সাথে।<br />
পারবে তো জয়ী হতে এই রণে, এই ভাবনায় আছ তাই না?<br />
আসলেই ভাবনায় আছি।<br />
ভাবতে থাক।</p>
<p style="text-align: justify">এই বলেই সোহেলী সাইকেল চালিয়ে সাই করে বের হয়ে গিয়েছিল সেদিন।<br />
আজও সোহেলী সাইকেল চালিয়ে সাই করে আবারও পার হয়ে গেল, দাঁড়ালো না, জবাবও দিল না তার ডাকের।<br />
অথচ সব সময় সোহেলী বকবকানো শেষে ছুটে বেরিয়ে কিছু দূর গিয়ে পেছন ফিরে চেয়ে ওড়না ওড়ায়। বলে,<br />
এই যুদ্ধ স্বাধীনতার যুদ্ধ। সকল বন্ধনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ ঘোষণা করবো আমি। ধর্মের দোহাই দিয়ে আমাদের আলাদা করে রাখতে পারবে না দুই পরিবার। যুদ্ধ চাই যুদ্ধ চাই। তোমার আমার মিলন মানে একটা মহা যুদ্ধের শুরু থেকে সমাপনী পর্যন্ত সব কিছু এবং সব কিছুর পরের অধ্যায়। পারবে তো ততদিন টিকে থাকতে!<br />
রণবীরও হেসে বলতো, পারবো।</p>
<p style="text-align: justify">গত দিন পাশ থেকে বুড়ামিঞা এক চাষা ঠাকুরদাদা ধান ক্ষেত থেকে বলে উঠেছিলেন,<br />
নাতনী, এতই যদি যুদ্ধ করবার সখ মুক্তিযুদ্ধের আগে কেন জন্মাইলা না। স্বাধীনতা কাকে বলে দেখতা। আমরাও একটা নারী যোদ্ধা পাইতাম।<br />
আমার মায়ে জন্মাইছিলো। ১ বছরের ছিল। ঐ ধান ক্ষেতে তাকে কুকুরের সাথে পাওয়া গেছিল গো দাদা। কেও জানে না সে কোথাকার ধন। কার জন। কার কে। সে হিন্দু না মুসলিম তাও কেও জানে না। মুসলমান নানা-নানী পালছিল তাই মুসলিম হইছে। খৃষ্টান পাললে খৃষ্টান হইতো। আমিও তখন নান হইতে পারতাম। সাদা কালো গাউন পরে পাদীদের আর নানদের মতন ঘুরে বেড়াইতে খুব মন চায়।<br />
এখন হজুর হ। মহিলা হুজুর, ইমাম হ।<br />
ওহ্ আল্লাহ এই গ্রাম দেশে মহিলা ইমাম হুজুর চলবো না।<br />
রণবীরও বলে উঠেছিল,<br />
শুনেছিলাম কানাডায় কোন মসজিদে ঈদের নামাজের ইমাম হয়েছিলেন এক মহিলা।<br />
সে তো বিদেশে। বিদেশ বিদেশই। দূরের কথন বাতিল।<br />
বলেই মুখ ঝামটা দিয়েছিল সোহেলী।</p>
<p style="text-align: justify">আজ সোহেলী দাঁড়ায়নি তার পাশে বা তার ডাকে, মুখ ঝামটা দিতেও ধীরে পাশ দিয়ে পাশ কাটেনি। সাইকেল চালিয়ে সোজা দাদুর পাশে গিয়ে থেমেছে। দাঁড়িয়ে দাদুর সাথে কথা বলছে । আড় চোখে তাকে দেখছে হয়তোবা। বোঝা যাচ্ছে না। সেও হেঁটে এসে ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়ালো।<br />
দাদু এই ছেলে কবে আমাকে ফলো করা ছাড়বে বলতে পার।<br />
যখন তোমরা এক হবা তখন।<br />
বলে ফোকলা দাঁতে দাদু হাসলেন।<br />
সোহেলী রণবীরের দিকে ফিরতেই রণবীর একটা হাসি দিয়ে চোখ টিপলো। চেয়ে আছে রমনীয় রমনী,তবে চোখ কুচকে। সাইকেলের ব্যাক পেডেল চেপে কাছে আসছে। মেয়েটার সব ব্যাপারেই সাহস বড় বেশি। এসে না আবার ধমকাতে শুরু করে!!<br />
কিন্তু কাছে এসে বললো,</p>
<p style="text-align: justify">আজ মসজিদে যাবা। গিয়া মুসলমান হবা। চার রাকাত দু-রাকাত করে ফরজ থেকে নফল সব নামাজ যদি পড়ে শেষ করে ফেলতে পার তাহলে পরশু সকালে এই পথে এসে দাঁড়াবা। না হলে কোন দিনও যেন আর তোমারে না দেখি। বুঝলা!!<br />
বলেই ১৯ বছরের সোহেলী সাঁই সাঁই করে ছুটলো কলেজের দিকে।<br />
যেন কেমন করে সোহেলী জানে আর কোনদিনও দেখা হবে না রণবীরের সাথে।<br />
একবার পেছন ফিরে চাইতে গিয়েও চাইলো না।<br />
জানে রণবীর হা করে চেয়ে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">সে তাকালেই অনেক হাহাকার উড়ে ধেয়ে আসবে তার কাছে। একদিনের নোটিশে কেও ধর্ম ছাড়বে না। ধমকেও না। সোহেলী জানতো সে কি নিয়ে যুদ্ধ করবে, কিন্তু অপরদিকে যে মা! নিজের মায়ের সাথে, কিভাবে ? মা-কে দেখেছে আপনের খোজে ধাঁধাঁয় থাকতে জীবনভর। অসহায় বিধবা মায়ের দাবি তার কাছে রণবীরের থেকে অনেক উপরে।<br />
এবার তার দাবিতে রণবীর যদি রণে ভঙ্গ দেয় তবে সে আর কি করতে পারে! মন বলছে দেবে, তার মনও বুঝ মেনে যাবে তাহলে। চলে যাক কোথাও, দূরে। জোরে আরও জোরে সাইকেলের পেডেলে চাপ দিতে থাকলো। সেই না হয় চলে যাবে বহু দূরে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/03/15/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a5%a5-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সবুজ ঘাসের বন ॥ শফিক হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/03/10/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%9c-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b6%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/03/10/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%9c-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b6%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 10 Mar 2024 16:04:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[শফিক হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3164</guid>

					<description><![CDATA[নগরে বাইক বেড়েছে। সম-সংখ্যক চালকও দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে এরা উদগ্রীব হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে-‘কই যাবেন?’ ফুটওভার ব্রিজে ভাসমান মেয়েরা জ্বালাতন করে, গলির মোড়ে রিকশাচালকরা, ফুটপাতে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নগরে বাইক বেড়েছে। সম-সংখ্যক চালকও দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে এরা উদগ্রীব হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে-‘কই যাবেন?’</p>
<p style="text-align: justify">ফুটওভার ব্রিজে ভাসমান মেয়েরা জ্বালাতন করে, গলির মোড়ে রিকশাচালকরা, ফুটপাতে হকারদের প্রচারণার অত্যাচার।বাছাবাছির অপ্রয়োজনীয় আহ্বান।একটু স্বস্তিতে নিরিবিলি হাঁটার সুযোগ কোথাও নেই।তবে সুবেশী বাইক চালকদের মার্জিত উচ্চারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য যাত্রীর হ্যাঁ বা না উত্তর মেলে না।এই বাইকারদের কাছেও যে ভাংতি চাওয়া যায়, দেখলাম আজ! পঞ্চাশোর্ধ দাঁড়িওয়ালা এক ভদ্রলোক হাসি হাসি মুখ করে এগিয়ে দিলেন একটি পাঁচশ’ টাকার নোট। ভাংতি নেই শুনে হাসিটি দপ করে নিভেও গেল আবার!</p>
<p style="text-align: justify">ভাংতি পেতেও কৌশল লাগে।মনে মনে তারিফ করলাম নিজের! এই তো কিছুক্ষণ আগে ঠিকই বাস কন্ডাক্টরের কাছ থেকে ভাংতি নিয়ে এসেছি। তার আগে অবশ্য তাকে বলতে হয়েছে, ‘মামা, আজ খুব ফ্রেশ লাগছে!’</p>
<p style="text-align: justify">আদতেই অন্যদিনের চেয়ে সজীব লাগছিল।শীতের সকালে এমন সজীবতা মনে করিয়ে দেয়, ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ গোসল দিয়েছিল। কন্ডাক্টর মামা এমন মন্তব্যে এমন হাসি দিল, যেটার দাম অন্তত পাঁচশ’ পাঁচ টাকা! ভাড়া মেটানোর পর আলগোছে জানতে চাইলাম, ‘পাঁচশ’ টাকার ভাংতি হবে?’</p>
<p style="text-align: justify">নীরবে গুনে দিল।আমিও নোটটা দেওয়ার পরে উল্টেপাল্টে দেখে রাখল সযত্মে। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে চলাচল করা এই বাসের সার্ভিস ভালো।চাইলেও এরা নিয়মের হেরফের করতে পারে না।বাস ছাড়ার আগে সুপারভাইজারের কাছ থেকে ভাংতি করে নেওয়া যায়।সকালে বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে।তাই ভাংতি করার বিষয়টা মনে থাকেনি। এক সহকর্মীর কাছ থেকে তিনশ’ টাকা ধার নিয়েছিলাম। আজ তাকে পাঁচশ’ টাকা দিয়ে পাওনা পরিশোধ করতে চাইলে সে বাকি দুইশ’ টাকা কোত্থেকে ফেরত দেবে।নির্ঘাত বলবে, পরে নিও! পরে মানে লম্বা সময়ের ধাক্কাও হতে পারে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>মাসের মাঝামাঝি।খুব কায়দা করে টাকাটা ম্যানেজ করেছি।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এদিকে এই মুরব্বি বাইক চালকের কাছ থেকে ভাংতি পেলেন না।তিনি জানেন না, কার কাছে ভাংতি থাকে আর থাকলেও কীভাবে সেটা আদায় করতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">গন্তব্যের দিকে পা বাড়ানোর সময় খেয়াল করলাম, এক লোক এই ‘ভাঙাভাঙি’ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।উপযাচক হয়ে তাকে বললাম, ‘পাঁচশ’ টাকার ভাংতি পেতে পঞ্চাশ টাকার ফ্লেক্সিলোড করতে হয়। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ।মুরব্বি ভদ্রলোক বোধহয় এটা জানেন না!’</p>
<p style="text-align: justify">লোকটা মূল প্রসঙ্গের ধারে-কাছে না গিয়ে বোকার মতো বলে উঠল, ‘জানেন, ভাংতি করানোর মতো টাকার আমার কাছে কখনোই থাকে না।’<br />
থমকালাম একটু।কী কথার কী জবাব।কথা খুঁজে নিয়ে বললাম, ‘ছোট নোট সঙ্গে থাকলে ভাংতি লাগে না।’</p>
<p style="text-align: justify">‘আমার কাছে সেটাও থাকে না।আমার মোবাইল ফোন নেই।বড় নোট থাকলেও কৌশলে ভাঙাতে পারতাম না।কোনো কৌশল আমার সঙ্গে থাকে না।তারা আমাকে এড়িয়ে চলে।’</p>
<p style="text-align: justify">সত্যিকার অর্থেই এবার থমকাতে হলো।শহরের এক পক্ষ ভাংতি নিয়ে বরাবরই পেরেশানিতে থাকে আর অন্য পক্ষের ভাংতি করানোর মতো টাকা থাকে না।একপক্ষ গাড়িতে চড়ে আরেকপক্ষ গাড়ি চালায়।<br />
লোকটাকে সান্ত্বনা দিতে বলি, ‘চলুন, চা খাই।আমার কাছে একশ’ টাকার নোট আছে।দুজনে চা খেলে বিশ টাকা বিল হবে।ভাংতি নিশ্চয়ই মিলবে।আর আপনি যদি একটা সিগারেট টানেন, ত্রিশ টাকা ফেরত দিতে দোকানদার খুব একটা ঝামেলা করবে না।’</p>
<p style="text-align: justify">লোকটা যেন এমন প্রস্তাবের অপেক্ষাতেই ছিল।সায় দিয়ে বলল, ‘চলুন।’<br />
যৌথ হাঁটা বেশি এগোল না।একটু দূরেই ফুটপাতে হকার চিৎকার করছে- ‘চামড়ার মানিব্যাগ একশ’ টাকা&#8230; চামড়ার মানিব্যাগ একশ’ টাকা&#8230;।’</p>
<p style="text-align: justify">একটু দাঁড়িয়ে তাকালাম ছড়ানো-ছিটানো মানিব্যাগগুলোর দিকে। লোকটা আবার বলল, ‘আমি প্রায়ই চিন্তা করি, এখান থেকে একটা মানিব্যাগ কিনব।কিন্তু পকেটে কখনই একশ’ টাকা থাকে না।হকার লোকটার জন্য দুঃখও হয়।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কীভাবে যে এত চিল্লায়! মানুষ তো এখন মানিব্যাগ ব্যবহার ছেড়েই দিয়েছে।সব টাকা বাসায় বা ব্যাংকে রাখে!’।</p>
<p style="text-align: justify">‘আমার কাছে পাঁচশ’ একত্রিশ টাকা আছে।মানি ইজ নো প্রবলেম। আপনাকে এখান থেকে একটা মানিব্যাগ কিনে দিই?’</p>
<p style="text-align: justify">দীর্ঘশ্বাস প্রলম্বিত হয় লোকটির-‘মানিব্যাগ কেনার স্বপ্নই দেখি।কিন্তু ব্যাগে রাখার মতো টাকা পাব কোথায়! টাকা ছাড়াই টাকার ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি-কেমন হয়ে যায় না বিষয়টা?’</p>
<p style="text-align: justify">থমকানোর পালা আবারও।একটা দীর্ঘশ্বাস গুম করে ঠেলে দিই কলিজা বরাবর।চাকরি হওয়ার আগে একটা মানিব্যাগ আমারও ছিল।প্যান্টের পকেটে বছরের পর বছর বহন করেছিলাম।তাতে একটা ফুটো আধুলিও রাখতে পারিনি কখনো।ধূলিমলিন স্মৃতি ছাইচাপা দিয়ে বলি, ‘চলুন তবে, চা খাই। শীতসকালের চা, খেতে ভালো লাগবে।’</p>
<p style="text-align: justify">নোংরা আস্তিন গোটাতে গোটাতে লোকটা বলে, ‘ওই দোকানে ভালো বিস্কুটও পাওয়া যায়।’<br />
‘তাহলে তো আরও ভালো হলো।গরম চায়ে ঠান্ডা বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়া অনেক মজার।’<br />
লোকটার ছেঁড়া স্যান্ডেল থেকে চোখ ফিরিয়ে নিই।আমার জুতাটা সারিয়েছি গতকাল।দক্ষ মুচির নিখুঁত সেলাই।কোনো বাপের ব্যাটার সাধ্য নেই খুঁত বের করে।হাঁটতে হাঁটতে লোকটা কী যেন বলে।আমার কানে ভাসে গতকাল রাতে মোবাইল ফোনে শোনা মায়ের আর্তি-‘বাবা, এই মাসের টাকাটা এখনো পাঠাতে পারলি না? তোর বোনের পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে।সময় আর বেশি নেই।’</p>
<p style="text-align: justify">লোকটাও দূর দিগন্তে উঁকিঝুঁকি মেরে কী যেন দেখার চেষ্টা করছে। তাকে বলি, ‘কী দেখছেন?’<br />
‘নিজের জীবনটাকে খুঁজছি, মশাই। কোথায় যে হারিয়ে গেল!’<br />
‘দ্রুত চা খেয়ে চলুন, আপনাকে একটা মানিব্যাগ কিনে দিই।’<br />
‘ম্যানিব্যাগ কেন?’<br />
‘মানিব্যাগের ফুটো আধুলিতেও অনেক সময় জীবন লুকিয়ে থাকে। মানিব্যাগই জীবনই খোঁজার ভালো জায়গা।’<br />
‘আপনার অদ্ভুত কথা শুনে গরম চা-টাও ঠান্ডা হয়ে গেল।আরেকটা চা দিতে বলুন।’<br />
কথাগুলো লোকটাকে বললাম, নাকি নিজেকেই শোনালাম! একশ’ টাকা দিয়ে একটা মানিব্যাগ কেনার পরে পকেটে কত টাকা থাকবে? সহকর্মীর পাওনা তিনশ’ টাকা, বোনের পরীক্ষার জন্য টাকা পাঠাতে হবে, মায়ের শাড়িটা ছিঁড়ে গেছে আরও আগেই, মেস ভাড়া বাকি পড়েছে দুই মাসের&#8230;। না, কিছুতেই হিসাবজট খুলছে না। আবারও আমি সামনে দিগ-বলয় খোঁজার চেষ্টা করি। চোখের সামনে ধরা দিক না-সবুজ ঘাসের একটা বন!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/03/10/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%9c-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%b6%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কোন পাখি সেরা ॥ নাসরিন সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/12/24/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/12/24/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 24 Dec 2023 13:18:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরিন সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3003</guid>

					<description><![CDATA[১. [বাবুই মন খারাপ করে বসে আছে। চড়ুই এসে তার পাশে বসল।] চড়ুই: কী হয়েছে? মন খারাপ কেন? বাবুই: বাসাটা ঝড়ে পড়ে গেল। চড়ুই: আদর্শ পাড়ার টুনটুনিরা খুব সুন্দর করে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">১.<br />
[বাবুই মন খারাপ করে বসে আছে। চড়ুই এসে তার পাশে বসল।]<br />
চড়ুই: কী হয়েছে? মন খারাপ কেন?<br />
বাবুই: বাসাটা ঝড়ে পড়ে গেল।<br />
চড়ুই: আদর্শ পাড়ার টুনটুনিরা খুব সুন্দর করে বাসা বানায়। আকাশ ভেঙে পড়লেও ওদের ডিম ভাঙবে না।তুমি ওখানে যাও।</p>
<p style="text-align: justify">২.<br />
বাবুই: তোমরা নাকি খুব সুন্দর করে বাসা বানাতে পারো। দয়া করে আমাকে একটু শেখাও।<br />
টুনটুনি: আমরা এখন আর ভালো বাসা বানাতে পারি না। কেন যেন আমাদের বাসাগুলো পড়ে যায়। চৌধুরি পাড়ার কাকগুলোও আমাদের চেয়ে ভালো বাসা বানায়।</p>
<p style="text-align: justify">৩.<br />
বাবুই: আমাকে একটু বাসা বানানো শেখাও। তোমাদের বাসা নাকি পড়ে না।<br />
কাক: এখন সব চেয়ে ভালো বাসা বানায় রায় পাড়ার কোকিলগুলো।<br />
বাবুই: কোকিল বাসা বানায়! নিশ্চয় সে বাসা অনেক শক্ত হয়। আমি এখনই যাচ্ছি। দেরি হয়ে গেলে আবার শুনব তারা এখন আর ভালো করে বাসা বানাতে পারে না।তখন আবার অন্য পাড়ায় যেতে হবে।<br />
কাক: হ্যাঁ, হ্যাঁ, এখনই যাও।</p>
<p style="text-align: justify">৪.<br />
বাবুই: তোমরা কীভাবে বাসা বানাও আমাকে একটু বলো।বিনিময়ে তুমি কী চাও তাও বলো।<br />
কোকিল: তুমি তো কাঁঠাল পাতা খেতে পারো না।তোমার যোগ্যতা একটা ছাগলের চেয়েও কম।তুমি কী করে আশা করো যে তুমি ভালো করে বাসা বানাতে পারবে?<br />
বাবুই: (রাগ করে) আমি কেন কাঁঠাল পাতা খাবো! আমার তো ছাগল হওয়ার দরকার নেই। ছাগল কি হাজার বার চেষ্টা করলেও আমার মতো করে বাসা বানাতে পারবে?<br />
কোকিল: (গলায় জোর দিয়ে) তুমি কার সঙ্গে রাগ করছ? তুমি জানো, আমি স্কুটি চালাতে পারি? আমি দশজনকে সাইকেল চালানো শিখিয়েছি।<br />
বাবুই: যার যোগ্যতা যত কম সে তত বেশি মিথ্যে কথা বলে। যে যত মিথ্যে বলে তার গলায় তত জোর। স্কুটি চালানো পাখির কাজ নয়। যে পাখি বাসা বানাতে পারে না সে এরোপ্লেন চালাতে পারলেই বা কী! ডিম পাড়ো কিন্তু বাচ্চা ফোটাতে পারো না। পারো শুধু মানুষের মন ভোলাতে। ডিমে তা দিতে হলে না খেয়ে থাকতে হয়। গায়ে জ্বর ওঠাতে হয়। এগুলো জানো? কী জানো তুমি?</p>
<p style="text-align: justify">কোকিল: কী বাসা বানাও তুমি? ঝড়ে তো পড়ে যায়।<br />
বাবুই: বাসা তো বানাতে পারি এবং সবার চেয়ে ভালোই পারি।বলি না বলে তোমরা আমাকে পেয়ে বসেছ।আমার বাসায় বৃষ্টির পানি পড়ে না। অতিরিক্ত ঝড়ে তো বড়ো বড়ো গাছ, বড়ো বড়ো ঘর, অনেক কিছুই পড়ে যায়। আমাকে আর সেই কথা বলে ছোটো করা যাবে না।বাসা বানানো শিখতে হলে তোমরা সবাই আমার কাছে যেয়ো।<br />
[কোকিল একটু ভাবল।]<br />
কোকিল: ঠিকই বলেছ।আসলে আমি বাসা বানাতে পারি না।কাক তোমাকে মিথ্যে বলেছে।তাই আমিও অহংকার দেখিয়েছি।যার যোগ্যতা নেই সে তো মিথ্যে বলেই অহংকার করে।আমি পাপ করেছি।আমাকে ক্ষমা করে দাও।<br />
বাবুই: আচ্ছা, ঠিক আছে। অন্যায়ভাবে আর কারো সঙ্গে গলায় জোর দিয়ে কথা বলবে না।তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।<br />
কোকিল: চলো, আমরা দুজন মিলে চোধুরী পাড়ায় যাই।<br />
বাবুই: চলো।</p>
<p style="text-align: justify">৫.<br />
কোকিল (কাককে): তুমি বাবুইকে কেন মিথ্যে বললে! ও কত কষ্ট করে আমাকে খুঁজে বের করেছে!<br />
কাক (বাবুইকে): আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। আমি মানুষের খাবার কেড়ে নিই ঠিকই কিন্তু মিথ্যে কথা বলি না। জীবনে আর এ রকম কাজ করব না।<br />
বাবুই: আচ্ছা, তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। এখন বাসা বানানো শেখাও।<br />
কাক: কী বলছ তুমি? তুমি টুনটুনির কথা বিশ্বাস করেছ? তোমার চেয়ে ভালো বাসা কেউ বানাতে পারে?<br />
বাবুই: (অবাক হয়ে) টুনটুনিও মিথ্যে বলেছে!<br />
কোকিল (বাবুইকে): মন খারাপ করো না। চলো, আমরা তিন জন আদর্শ পাড়ায় যাই। টুনটুনিটা কেন তোমাকে মিথ্যে বলল শুনি।</p>
<p style="text-align: justify">৬.<br />
কাক (টুনটুনিকে): তুমি কেন বাবুইকে মিথ্যে বললে? তুমি জানো না ও কেন বাসা বানাতে চায়?<br />
টুনটুনি (বাবুইকে): বিশ্বাস করো, আমার একটুও মনে ছিল না তোমার শরীরটা খারাপ। তুমি যখন চড়ুইর কথা বিশ্বাস করেছ তখন মনে হলো আমিও একটু মজা করি। তাতে যে তোমার কষ্ট হবে সে চিন্তা আমি করিনি।<br />
বাবুই: চড়ুই তো মানুষের ঘরে থাকে। তার বাসায় বৃষ্টি পড়বে কী করে? সে তো আমাকে মিথ্যে বলতেই পারে।<br />
টুনটুনি: জীবনে কোনো দিন মিথ্যে কথা বলব না। আমাকে তুমি ক্ষমা করো।<br />
বাবুই: আমি সবাইকে ক্ষমা করি। কাউকে শাস্তি দিই না। (আকাশের দিকে তাকিয়ে) ঐ যে চড়ুই এসেছে।<br />
[ওরা সবাই আকাশের দিকে তাকালো। চড়ুই এসে ওদের কাছে বসল।]<br />
চড়ুই: কী হয়েছে? তোমরা সবাই একত্র হয়েছ কেন?</p>
<p style="text-align: justify">কোকিল (চড়ুইকে): তুমি কেন বাবুইকে মিথ্যে বললে? ও তো তোমার কাছে বুদ্ধি চায়নি। তুমি নিজে গিয়ে ওর কাছে বসেছ। ওর বাসা পড়ে গিয়েছে সেটা একমাত্র তুমিই জানো। ও টুনটনির কাছে গিয়েছে। কাকের কাছে গিয়েছে। আমার কাছে গিয়েছে এবং সবাই তাকে অন্য একটা পাড়ায় যেতে বলেছে। একটা ঘর ভাঙা পাখির সঙ্গে এ রকম করা যায়?<br />
চড়ুই (বাবুইকে): আমি তো এত কিছু চিন্তা করিনি! আমি মজা করে বলেছি। আমি অনেক বড়ো অন্যায় করে ফেলেছি। তোমার যত ইচ্ছে শাস্তি দাও। তোমরা সবাই মিলে আমাকে শাস্তি দাও। (মাথা নিচু করে) আমাকে তোমরা মেরে ফেল।<br />
বাবুই: যে অনুতপ্ত হয় তাকে কি শাস্তি দেওয়া যায়?<br />
চড়ুই: তা হলে ক্ষমা করো। আমি তোমাকে বাসা বানানোর কাজে সাহায্য করব।<br />
টুনটুনি (বাবুইকে): আমিও তোমাকে সাহায্য করব।<br />
কাক (বাবুইকে): হ্যাঁ, হোগলা পাতা, তাল পাতা আর যা বলবে সব কিছু আমি এনে দেবো। আমি এই পাপ থেকে মুক্তি চাই।<br />
কোকিল (বাবুইকে): আমিও মুক্তি চাই। আমি তোমার বন্ধু হয়ে পাশে থাকতে চাই।<br />
বাবুই: এ তো খুবই ভালো কথা! এসো, আমরা সবাই বন্ধূ হয়ে যাই।<br />
[সবাই মাথা একত্র করল।]</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/12/24/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দুটি অনূদিত গল্প ॥ অনুবাদ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/11/10/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/11/10/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 10 Nov 2023 16:40:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2940</guid>

					<description><![CDATA[দৃশ্যমানতা ‘আবার আমি সৌন্দর্যের কথা ভাবছি! ভাবছি যে সুন্দর কিছুকে পাওয়ার জন্যে আমরা কতই না হন্যে হয়ে খুঁজি! অথচ পৃথিবীর ইতিহাসের সাপেক্ষে একজন মানুষের জীবনের ব্যপ্তি এতই ছোট যে, (বলা &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>দৃশ্যমানতা</strong></span><br />
‘আবার আমি সৌন্দর্যের কথা ভাবছি! ভাবছি যে সুন্দর কিছুকে পাওয়ার জন্যে আমরা কতই না হন্যে হয়ে খুঁজি! অথচ পৃথিবীর ইতিহাসের সাপেক্ষে একজন মানুষের জীবনের ব্যপ্তি এতই ছোট যে, (বলা যেতে পারে চোখের এক পলক) জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত সময়ও আমাদের জন্যে খুবই কম সেটিকে জাকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে যাপন করার জন্যে।</p>
<p style="text-align: justify">এই যেমন এই মুহূর্তে সূর্য এমনভাবে দেবদারু গাছের পেছনে নেমে আসছে যে, আমার পক্ষে এটা সূর্যোদয়, না-কি সূর্যাস্ত তা বলা সম্ভব নয়। এই সময়ে রক্তিম হতে থাকা পৃথিবীকেও আমার কাছে একইরকম মনে হয়; আমি কোনটা পূর্ব ও কোনটা পশ্চিম তার খেই হারিয়ে ফেলি।</p>
<p style="text-align: justify">আজ সকালের রঙগুলোও এমনকিছুর আভা ছড়িয়েছে, যা কিছুক্ষণ আগেই চলে গেছে।আমি সময় পরিভ্রমণের (time travel) কথা ভাবছিলাম এবং টুলশেড-ছাদের ওপরে বসে সূর্য ডুবে যাওয়া দেখছিলাম। আমি খুব বেশি বিস্মিত হলাম না দেখে যে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটা বদলে দিলো যেভাবে আমরা দেখে থাকি তার ধরনকে, আমাদেরকেও। কারণ সূর্যাস্তও বেঁচে থাকার মতো অস্তিত্বশীল হয় কেবলমাত্র নিজের মিলিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে।</p>
<p style="text-align: justify">আড়ম্বরপূর্ণ হবার জন্যে কাউকে তোমাদের প্রথমে দেখতে পারতে হবে, এবং দেখতে পারাই তাকে প্রলুব্ধ করবে তোমাকে খুঁজতে।’</p>
<p style="text-align: justify">মূল: ওশেন ভং, উপন্যাস-অন আর্থ উই আর ব্রিফলি গর্জিয়াস</p>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>আইনের প্রবেশদ্বার</strong></span><br />
‘লোকটা আর বেশিদিন বাঁচবে না। মরে যাওয়ার আগে দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতাগুলো তার মাথার এক বিন্দুতে জড়ো হলো একটা প্রশ্ন হিসেবে, যা সে এখনো দারোয়ানকে জিগ্যেস করেনি।</p>
<p style="text-align: justify">হাত নেড়ে সে তাকে কাছে ডাকল, যেহেতু নিজের শক্ত হয়ে যাওয়া শরীরকে আর তুলতে পারছিল না। দারোয়ানকেই বাঁকা হয়ে তার দিকে নীচু হতে হলো। কারণ, দুইজনের মধ্যকার উচ্চতার পার্থক্য ইতিমধ্যে পরিবর্তিত হয়ে লোকটার জন্যে যথেষ্টই অসুবিধা সৃষ্টি করেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">‘এখন কী জানতে চাও তুমি, হে অতৃপ্ত মানুষ?’ দারোয়ান জিজ্ঞেস করল।’</p>
<p style="text-align: justify">‘সবাই চেষ্টা করে আইনের কাছে পৌঁছাতে,’ লোকটা বলল, ‘এটা কেমন করে হয় যে এতগুলো বছরের মধ্যে কেবলমাত্র আমিই আইনের প্রবেশাধিকার চেয়েছি?’</p>
<p style="text-align: justify">দারোয়ান বুঝতে পারল যে লোকটা তার শেষ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। সুতরাং লোকটার দুর্বল স্নায়ুগুলো যাতে তার শব্দগুলো বুঝতে পারে, সেজন্যে সে তার কানে গর্জন করে বলল:<br />
‘আর কাউকে কখনো এখানে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি, কারণ এই প্রবেশদ্বারটি শুধু তোমার জন্যে তৈরি করা হয়েছিল।আমি এখন এটা বন্ধ করে দিচ্ছি।’</p>
<p style="text-align: justify">মূল: ফ্রানজ কাফকা, উপন্যাস-দ্য ট্রায়াল</p>
<p style="text-align: justify"><em>[যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য দুজন বিখ্যাত লেখকের লেখা থেকে গল্পগুলো অনূদিত ]</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/11/10/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
