<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>রিভিউ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/review/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Thu, 13 Mar 2025 19:21:45 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>রিভিউ &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>পাঠ-প্রতিক্রিয়া: সত্যের মতো বদমাশ ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Mar 2025 19:21:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3373</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশের অন্যতম সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্পের ভাষা, আঙ্গিক ও ইঙ্গিতধর্মী বিষয় বৈচিত্র্য তাকে তার সমসাময়িক ও বর্তমান সময়ের লেখকদের কোলাহলের মাঝেও স্বতন্ত্র স্থানে অধিষ্ঠিত করে রাখে। গল্প নির্মাণে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বাংলাদেশের অন্যতম সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্পের ভাষা, আঙ্গিক ও ইঙ্গিতধর্মী বিষয় বৈচিত্র্য তাকে তার সমসাময়িক ও বর্তমান সময়ের লেখকদের কোলাহলের মাঝেও স্বতন্ত্র স্থানে অধিষ্ঠিত করে রাখে। গল্প নির্মাণে আবদুল মান্নান সৈয়দের নিরীক্ষা প্রবণতা, শব্দ ও উপমার ব্যবহার এবং পরিমিতিবোধ পাঠককে যেমন আকৃষ্ট করে তেমনি সময়ে সময়ে পাঠককে বিপন্নও করে তোলে। পাঠক তাই গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের মতো মনোজগতের বিপুল রহস্যের ভেতরে খাবি খেতে খেতে তা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজে।</p>
<p style="text-align: justify">‘দ্য প্যারিস রিভিউ’ এ প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে (নৈঃশব্দ্যের সংলাপ, বিশ্বসাহিত্যের নির্বাচিত সাক্ষাৎকার, ভাষান্তর ও সম্পাদনা এমদাদ রহমান) পর্তুগালের লেখক হোসে সারামাগো বলেছিলেন, ‘গল্পের যতগুলো চরিত্র থাকবে সবগুলোই গল্পের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। চরিত্রগুলো গল্পে এমন একটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, গল্পের যে স্ট্রাকচারটি লেখক সৃষ্টি করতে চাইছেন, সেখানে লেখককে তারা সাহায্য করবে।’ ঠিক তেমনটাই দেখি আবদুল মান্নান সৈয়দের কালজয়ী গল্প ‘সত্যের মতো বদমাশ’ গল্পে। গল্পটি পড়তে পড়তে মনে হয় মা, ছেলে, কথা বলা লাল ঠোঁটের টিয়েপাখি, শাদা দাড়ির বুড়ো, কাগজের সাপ থেকে শুরু করে ছেলেকে কবরে যাবার খাটিয়ার চারটি পায়ার মতো বয়ে নিয়ে চলা নিরুত্তর চারজন লোক পর্যন্ত প্রত্যেকটি চরিত্রই গল্পের পূর্ণতার জন্য দরকার ছিল। গল্পের কোনো চরিত্রই হয়তো এককভাবে প্রধান হয়ে ওঠেনি তবে গল্পের নামকরণের ভেতরে যেই সত্য লুক্কায়িত আছে তার জন্য চরিত্রগুলোর উপস্থিতি অনিবার্য ছিল। যতবার ‘সত্যের মতো বদমাশ’ গল্পটি পড়ি ততবারই মনে হয় একটি বন্ধনীর ভেতরে আটকে থাকা শব্দ তিনটি মানবজীবনের অযুত-নিযুত গুঢ় সত্যকে ধারণ করে থাকে যা আবিষ্কার করার জন্য ধ্যানী হতে হয়। এই গল্পে এক কিশোর তার মায়ের সঙ্গে মেলায় যায়।</p>
<p style="text-align: justify">মায়ের মুখমণ্ডল থাকে তৈলাক্ত করুণ ও লম্বিত আর কিশোরের গোল মুখ তাকে বিস্ময় আনন্দ ও কৌতূহলে ভরা। মা, ছেলে দুজনই এক মুষ্টি অথচ সমুদ্রসমান এই গ্রহের মেলার মধ্যে এসে ঢোকে। ঘুরতে ঘুরতে আনন্দের পাশাপাশি ভয়ও এসে ভর করে ছেলের মনে, সে সামান্য ছায়া দেখেও ভয়ে কুঁকড়ে যায়। মা ছেলেকে স্বস্তি দিতে বলেন, ‘ছায়া সব সময় তোর সঙ্গে-সঙ্গে ঘুরবে, হয় পেছনে না হয় সম্মুখে, ছায়া নেই এরকম কোনো মানুষ আমি দেখিনি। ভয় কী, অমন করে উঠলি কেন?’ কিশোর মায়ের কথায় সত্যি পায় না, সে মুহুর্মুহু মাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে। ধীরে ধীরে তার সরল চোখের সামনে প্রকট হয়ে উঠতে থাকে প্রাণীকূলের শয়তানি। বিপন্ন কিশোর তাই মাকে বলে, ‘আচ্ছা মা, তুমিই বলো আমার গা ছুঁয়ে, যে পাখি কথা বলতে শেখে, সে কি আর পাখি থাকে? সে তো একটা বদমাশ হয়ে যায়।’ একসময় সব ভয়, সব আশংকা সত্যি করে কিশোরের মা মেলায় হারিয়ে যায়। কিশোর বুঝতে পারে না, তার মা কি সত্যি হারিয়ে গেছে, না যারা তাকে জোরজবরদস্তি করে নাগরদোলায় তুলে নিতে চেয়েছিল তারাই মাকে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত কিশোরের পরিণতিও ভয়াবহ কিছুর ইঙ্গিত দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">মা-ছেলের মধ্যকার সম্পর্ক আর টানাপোড়েন নিয়ে আবদুল মান্নান সৈয়দের একটি উল্লেখযোগ্য গল্প ‘মাতৃহননের নান্দীপাঠ।’ ‘পৃথিবীতে মা আমাকে সবচেয়ে ভালোবাসেন, এবং আমি তাঁকে’-আপাতদৃষ্টিতে বাক্যটি সরল ও চিরন্তন সত্যের ইশারা করলেও কথাসাহিত্যিক আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘মাতৃহননের নান্দীপাঠ’ গল্পের পাঠ পরিক্রমায় পাঠক জটিল থেকে জটিলতর এক পরিস্তিতির মুখোমুখি হয়। এই গল্পে মায়ের আচরণ যখন একজন সন্তানের মনে ঘৃণা আর আক্রোশের জন্ম দেয় তখন সন্তান মাকে হত্যা করার মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। ‘মাতৃহননের নান্দীপাঠ’ গল্পের কিছু শব্দ কিছু বাক্য এত বেশি তীক্ষ্ম যে পাঠকও মাকে হত্যার জন্য সন্তানের পক্ষে যুক্তি খুঁজে পায়। পাঠকেরও মনে হতে থাকে, ‘মায়ের দুটি নির্নিমেষ চোখ পিছনে ছুটছে, পিছলে পড়ছে না একবারো, সরে যাচ্ছে না, এমনকি পলক ফেলছে না কখনও, যেন মানুষের চোখ নয়। মানুষের অবশ্য, তবু মানবীয় নয়।’ মূলত মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনই মা ও ছেলের মধ্যে এই বিভাজন সৃষ্টি করছে। যার শুরু এবং শেষ হন্যে হয়ে খুঁজতে হয়। বিষয় বৈচিত্র্যে আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্প অনন্য, এই গল্পও তাই। এর ভাষা শৈল্পিক এবং পরিপ্রেক্ষিত আমাদের জীবন সম্পর্কিত হলেও খুব বেশি চেনা নয়। মূলত একজন যুবকের মনোজগতের দ্বন্দ্ব নিয়ে গল্পের টানটান আখ্যান গড়ে উঠেছে। একটা সময়ে যুবক নিজেই স্বীকার করছে, ‘আমি একজন অস্বাভাবিক প্রকৃতির মানুষ-নির্জনতা সর্বনাশ করেছে আমাকে।’</p>
<p style="text-align: justify">আবদুল মান্নান সৈয়দের আরেকটি আলোচিত গল্প ‘চাবি।’ এই গল্পে চিত্রকলার একজন তরুণ অধ্যাপক একদিন ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত রেখে টের পান, তার ঘরে ঢোকার চাবিটি হারিয়ে গেছে। এরপর তিনি চাবির খোঁজে প্রতিবেশীদের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। কিন্তু দরজা খুলে তাদেরকে খুব একটা আন্তরিকতা নিয়ে অনাহূত অতিথি বা আগন্তুককে স্বাগত জানাতে দেখা যায় না। নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা আমাদেরকে এমনই বিভেদের মুখোমুখি দাঁড় করায় যে পাশের ফ্লাটে বসবাস করা মানুষটিকেও আগন্তুক বলে বলে হয়। মূলত এই বিচ্ছিন্নতাবোধ শহরের মানুষের মনে বিরক্তি আর সন্দেহ প্রবণতা প্রবাহমান রাখে। এখানে অধ্যাপকেরও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। আবার এমনও হয় যে কোনো একটা ঘরের দরজা খুলে যেতেই এক ঝাঁক নবীন ছেলেমেয়ে দেখা যায়, যাদের চঞ্চলতা আর কলহাস্য অধ্যাপকের মন ভালো করে দেয়। দরজা খুলে কেউ আবার ধমকের ভঙ্গিতে বলে, ‘বলছেন, আমাদের উপরের তেরো নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন আপনি? অসম্ভব, আপনাকে কোনোদিন এ অঞ্চলেই দেখিনি। আপনি মশাই চালাকি পেয়েছেন-আসুন, বাজি রাখুন দশ টাকা, বললাম: আপনি এ বাড়ির কোনো ঘরেই থাকেন না। এ বাড়ির লোকদের চেহারা অন্যরকম হয়, জানেন? চাবি খুঁজছেন, হ্যাঁ, চাবির কি হাত হয়েছে?’ এভাবে একটা চাবিকে কেন্দ্র করে শহরবন্দী মানুষের সম্পর্কহীনতা, অবিশ^াস আর পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা প্রকট হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তেতলার সবচেয়ে কোনার ফ্ল্যাটের দরজা খুলে রহস্যময় নারীরা যখন জানায়, ‘চাবি পেলে আসবেন, এখানে কয়েকটি দরোজা-বন্ধ-করা ঘর আছে। আমরাও যে চাবি খুঁজছি গো’&#8230; তখন গল্পটি আর চাবির থাকে না। আর পাঠকও উপলব্ধি করে সে নিজেও ‘কয়েকটি দরোজা-বন্ধ-করা’ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর খুঁজছে তার হারিয়ে যাওয়া চাবি যা হাতে পেলে সে তার কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।</p>
<p style="text-align: justify">‘অস্থির অশ্বখুর’ গল্পটিও একজন অধ্যাপককে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তবে গল্পটি গল্পের চেয়ে বেশি কবিতার মতো মনে হয়। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অধ্যাপক একজন কবি যার বুকের ভেতরে সারাক্ষণ ছেঁড়া উড়ো পঙক্তিমালারা ঘোরে। রাত্রিবেলা জেগে ওঠে কবির ঘর, যেখানে টেবিল ল্যাম্পের আলোর বলয়ে এসে বসতে না বসতেই মায়াবী জাদুবলে অক্ষরবন্দি হতে থাকে কবিতার পঙক্তি। কবির জীবনে ঘুরে ফিরে নারীরা আসে। মিনা, বিবি এমনকি বাড়ির কাজের মেয়েটিও তার সামনে দাঁড়ায় প্রাকৃতিক ভাস্কর্যের সৌন্দর্য নিয়ে। কখনও আগ্রাসী, কখনও বিষণ্ন সুন্দর দেখতে দেখতে কবি টুকরো টুকরো হয়ে পড়েন। তিনি উপলব্ধি করেন, সময় ছুটছে দুরন্ত এক ঘোড়ার মতো যার পায়ের নিচে তার জীবনের শত শত টুকরো শুধু স্পন্দিত হয়, কিন্তু গ্রথিত হয় না। শেষ পর্যন্ত কবি একটা সম্পূর্ণ কবিতাও লিখে উঠতে পারেন না।</p>
<p style="text-align: justify">‘গল্প ১৯৬৪’ গল্পে নিজের অতীতের গল্প বলছেন গল্পকথক কবির। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে বসন্তের উজ্জ্বল দুপুর, ঈষৎতপ্ত বাতাসে সদ্যস্ফুট আম্রমঞ্জরীর সুরভি, টিলার ওপরকার গাছের ছায়ারেখা, ভীরু চোখের খরগোশ এসে শ্রোতা আর কথককে আনমনা করছে। আর পাঠক ক্রমশ ঢুকে পড়ছে গল্পের ভেতরে। একটা সময়ে গল্পকথক কবিরের শহর যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে অশান্ত হয়ে ওঠে তখন তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু অমল তার বোন শোভাকে কবিরের হেফাজতে রেখে যায়। কবির ছিল দাঙ্গানিবারণী সমিতির সক্রিয় সদস্য। বোনকে অমল যেদিন ফিরিয়ে নিতে আসে তার আগের রাতে জৈবিক তাড়নায় একটা অপরাধ করে ফেলে কবির। কবিরের ভাষায় ‘সব-সমস্ত চলছিলো ঠিক। কিন্তু এক রাতে&#8230;আমার মধ্যে, জানোয়ার জেগে উঠেছিলো।’ ভেতরের পশুত্ব চাপা দিতে না পেরে অনুতাপ আর অনুশোচনায় দ্বগ্ধ হতে থাকা কবিরের বারবার মনে হচ্ছিল, অমল যদি আরেকটা দিন আগে আসতো তাহলে সে বেঁচে যেত। শোভা কিংবা কবিরের পরিণতি শেষ পর্যন্ত জানা না গেলেও মানুষের ভেতরের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা তাকে কীভাবে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারে তার একটা খণ্ডিত চিত্র দেখতে পাওয়া যায় ‘গল্প ১৯৬৪’ এ।</p>
<p style="text-align: justify">‘রাস্তা’ গল্পে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী সুস্থ, সবল দেহের অধিকারী এক যুবকের দিনলিপি হঠাৎ করে পাল্টে যায়, সে হারিয়ে ফেলে তার অতি চেনা অতি আপন বাড়ি ফেরার রাস্তা। সে পুরনো রাস্তার খোঁজে ছোটো, বড়ো, সোজা, বাঁকা অন্ধকার, আলোকিত কত রাস্তায় যে ছুটে বেড়ায় কিন্তু প্রতিবারই সে নিজেকে আবিষ্কার করে নতুন এক রাস্তায়। গল্পটি পড়তে পড়তে নতুন করে উপলব্ধি করি, জীবনের সমস্যা ‘যে পেরোতে পারে সে অবলীলাক্রমেই পেরোয়। যে পারে না, সে কেবল একই বিন্দুতে ঘুরপাক খায়।’ আসলে এই সত্যি হয়তো কারও কারও জন্য চিরন্তন, কারও কারও জন্য অপাংক্তেয় বা গুরুত্বহীন। ‘রাস্তা’ গল্পটিকে আপাতদৃষ্টিতে সাদামাটা মনে হলেও সমাপ্তিতে এসে গল্পটি ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। বলা যায়, রাস্তার রূপকে গল্পকার গণ্ডিবন্ধ মানুষের মধ্যে মুক্তি আর শৃঙ্খল ঘিরে তার যে মনোজাগতিক দ্বন্দ্ব তার একটা খণ্ডিত দৃশ্যপট উপস্থাপন করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্প পড়তে পড়তে আবিষ্কার করি তিনি গল্পের প্রধান, অপ্রধান চরিত্রের জন্য শুরুতেই একটি জাল তৈরি করতে শুরু করেন, ধীরে ধীরে চরিত্রগুলো ঐ জালে আটকে পড়তে থাকে আর বের হতে পারে না। গল্পকার সুকৌশলে পাঠককেও একই জালে বেঁধে ফেলেন। তাই স্বীকার করতেই হয়, আবদুল মান্নান সৈয়দের লেখার স্বকীয়তাই তাকে কাল, দশক নির্বিশেষে বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/14/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলা উপন্যাসে বিধবা : বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ ॥ রকিবুল হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/10/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/10/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 25 Oct 2023 12:09:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[রকিবুল হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2932</guid>

					<description><![CDATA[‘বাংলা উপন্যাসে বিধবা: বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ’ মোহাম্মদ নূরুল হকের গবেষণা গ্রন্থ।এ বইটি প্রকাশের আগে থেকেই জানতাম, নূরুল হক এরকম একটি কাজ করছেন।এর আগেও তিনি আরও কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন।সেগুলোও আমার পাঠের আয়ত্বে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‘বাংলা উপন্যাসে বিধবা: বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ’ মোহাম্মদ নূরুল হকের গবেষণা গ্রন্থ।এ বইটি প্রকাশের আগে থেকেই জানতাম, নূরুল হক এরকম একটি কাজ করছেন।এর আগেও তিনি আরও কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন।সেগুলোও আমার পাঠের আয়ত্বে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">গবেষণাকর্ম বললে এটিই নূরুল হকের প্রথম গ্রন্থ।এর আগেও তিনি গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন, বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।তাঁর দুটি প্রবন্ধ বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন সাপেক্ষে ‘এনইউবি বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি গবেষণা পত্রিকা’য় প্রকাশের সুযোগ আমার হয়েছিল।নূরুল হক গবেষণা এই কর্মটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বা প্রমোশনের আশায় বা উদ্দেশ্যে করেননি।একেবারেই আপন তাগিদে, নিজের আনন্দে করেছেন। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বহুবিধ আলোচনা হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">শিক্ষাজীবনে কোনো পর্বেই তিনি অ্যাকাডেমিকভাবে সাহিত্যের কোনো গবেষণাকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।কিন্তু তিনি যখন বাংলায় এমএ করতে এলেন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর মধ্যে চিন্তা চেতনায় একটু হলেও পরিবর্তন ঘটে।গবেষণাকর্মের প্রতি তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।যা আগে তাঁর মধ্যে ছিল না।কিন্তু সাহিত্যবিষয়ে তাঁর পড়ালেখা জানাশোনা নিজস্ব চিন্তা-চেতনা ছিল উচ্চমার্গের।সেখান থেকেই তিনি সাধারণত যেভাবে যে ধরনের প্রবন্ধ লিখে থাকেন, তাতে পরিবর্তন আনলেন, সচেতনভাবে এবং একেবারেই নিয়ম-কানুন মেনে গবেষণা প্রবন্ধ লেখা শুরু করলেন।এজন্য তিনি নতুন করে কিছুদিন শুধুই গবেষণা বিষয়ক বই পড়েছেন, একই সঙ্গে গবেষণার নিয়ম-কানুন রপ্ত করার চেষ্টা করেন। ‘বাংলা উপন্যাসে বিধবা: বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ’ এ গ্রন্থটি তারই প্রয়াস।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী মনীষী বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের বিধবাবিষয়ক ব্যাপারটি প্রধান হিসেবে আনলেও বাংলা সাহিত্যে শুধু নয় বাঙালির জীবন ও সমাজে সতীদাহ প্রথা থেকে বিধবা সংকট, সেই সময়ের সমাজচিত্র ও বিধবা বিবাহের পুরো ইতিহাস তথ্যসমৃদ্ধভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং তা বাংলা সাহিত্যে কতোটা প্রভাব ফেলেছিল, তাও।</p>
<p style="text-align: justify">এ গ্রন্থে মোট পাঁচটি অধ্যায় আছে।‘বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ: বিধবা সমস্যা’, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় : বিষবৃক্ষ থেকে কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: চোখের বালি থেকে চতুরঙ্গে’, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: বড় দিদি থেকে পল্লীসমাজ’, ও ‘বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ &#8211; শরৎ: চিন্তার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য’-এ সব অধ্যায়ে তিনি বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মধ্যে থেকে গতানুগতিক চিন্তা বা অন্যদের মতামত পাঠকের ওপর শুধু শুধু চাপিয়ে দিয়ে গৎবাঁধা গ্রন্থ রচনা করেননি।তিনি নিজের চিন্তা, মতামত ও সিদ্ধান্ত দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন, যৌক্তিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে।সেটা কতোটা সফলভাবে তিনি পেরেছেন, সেটাই আলোচনার বিষয় হতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">ব্যক্তিগতভাবে গবেষক মোহাম্মদ নূরুল হককে অভিনন্দন জানাই, চমৎকার এ গবেষণাকর্মের জন্য।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/10/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নীলগর্ভ নারীর মনোজটিলতার বয়ান ॥ শাকিলা আক্তার পাঁপড়ি</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/10/21/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/10/21/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 21 Oct 2023 06:42:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[শাকিলা আক্তার পাঁপড়ি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2925</guid>

					<description><![CDATA[উপন্যাস পড়ছিলাম।উপন্যাসের পাতায় পাতায় শব্দের মোড়কে হাতের আঙুল ধরে নিয়ে যায় এক নারী।নাম-সুরভি শরীরে, মনে যন্ত্রণার চোরাস্রোতে ভেসে যেতে যেতে সে তার হাসি হয়ে হাসা, সুর হয়ে বাজা ছোট্ট মুখের &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">উপন্যাস পড়ছিলাম।উপন্যাসের পাতায় পাতায় শব্দের মোড়কে হাতের আঙুল ধরে নিয়ে যায় এক নারী।নাম-সুরভি শরীরে, মনে যন্ত্রণার চোরাস্রোতে ভেসে যেতে যেতে সে তার হাসি হয়ে হাসা, সুর হয়ে বাজা ছোট্ট মুখের শিশু কন্যা আস্থার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সন্তানের সান্নিধ্য থেকে খুটে খুটে হাজারো সুখের সন্ধানে পাঠক আমাকে মাতিয়ে রাখে সুরভি।</p>
<p style="text-align: justify">মা-মেয়ের খুনসুটি, বর্ণহীন ব্যথা, স্নেহের স্পর্শ সন্তানের নিবিড় মমতার কাছে আমাকে নুইয়ে দেয় আরও। তবুও হাঁ করে গিলতে আসা কুহক রাত যত গভীর হতে থাকে, প্রাপ্তির ভেলভেটে মোড়া এ জীবন নগন্য লাগতে থাকে সুরভির।এই বিষাদের পাশে স্বামীর নির্লিপ্ততা কিংবা কেবল দায়িত্ব সর্বস্ব আচরণ হাহাকারের পাথারে ভাসিয়ে দেয় সুরভিকে। বিশেষ এক কারণে।গর্ভের গভীরে নীল বেদনার হুটোপুটি সে কারণ। সে বেদনা ২২ সপ্তাহের ভ্রুণ হারানোর যন্ত্রণা।হারানোর অক্ষমতাকে পুঁজি করে চতুর্পাশে নীলচে বিষবাষ্পের আঁচে নিষ্পেষিত হবার যন্ত্রণা।</p>
<p style="text-align: justify">নিজস্ব মনস্তত্ত্ব টালমাটাল হবার সময়টায় মানুষ সম্ভবত নিজেকে সবচেয়ে একা করে ফেলে নিজেই।পাশের মানুষ কাছের নয় ভেবে নিজেই নিজেকে বঞ্চিত করে আরো খানিকটা।ঋদ্ধ লেখকের ভাষায়, ‘নিজের মধ্যে একলা যাপন করে’।</p>
<p style="text-align: justify">অপরিণত ভ্রুণ হারানো এমন একজন মায়ের আত্মা নিংড়ানো উপলব্ধির নির্যাস ‘নীলগর্ভ’। আমাদের সমাজের অজস্র নারীর বলতে না পারা নিগূঢ় যন্ত্রণার শাব্দিক প্রকাশের উপন্যাস ‘নীলগর্ভ’।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের মাঝপথে এক লাইনে এসে লেখক গভীর জীবনবোধের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।বোধটা এই-‘ব্যক্তিগত নির্জনতায় মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকা শোভন’।</p>
<p style="text-align: justify">জীবনের যত গ্লানি, অপমানের ডাকনাম ‘বেদনা’ রেখেছি সবগুলো স্কুলের অ্যাসেম্বলির মতো সারিবদ্ধভাবে এসে দাঁড়িয়েছে হৃদপিণ্ডের কাছে।জানান দিচ্ছে হাজিরা। ভাবছিলাম, সঙ্গত একটুখানি বোধের সাথে অপরিচিত থেকে যাবার অজ্ঞাত অপরাধে কী নির্মম জীবন কাটায় মানুষ!</p>
<p style="text-align: justify">ফিরে আসি প্রিয় সুরভিতে।শোকের ব্যঞ্জনার বর্ণনা দিতে দিতে কথক সুরভি তার বন্ধু অপর্ণাকেও পাঠকের প্রিয় চরিত্রের কাতারে নাম লিখিয়ে দেয় সুনিপূণভাবে। সুরভি-আস্থার মতো অপর্ণা-আর্য এর জন্যেও মন সকাতরে প্রার্থনা করে উঠে।</p>
<p style="text-align: justify">সমস্ত শঙ্কা মিলেমিশে গলার উপরিভাগ জাপটে ধরে আমার কর্ণকুহরে কেউ যেন ফিসফিস করে বলতে থাকে ‍‍‌কত অপর্ণা চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে হে&#8217;।এই দীর্ঘশ্বাস পাঁজর কুড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলে।উপড়ে ফেলতে পারি না।কিছুতেই পারি না।</p>
<p style="text-align: justify">বন্ধুত্বের শেকড়ে শুদ্ধ অনুভব বুনে দেবার, উদার হবার উপায় কী নান্দনিক রূপে চিনিয়ে দিলেন লেখক! উপন্যাসে অল্প ব্যাপ্তির চরিত্র যারা এসেছে, তারা দারুণভাবে মানানসই ছিলো পুরো প্রেক্ষাপটের সাথে। অতি কথন কিংবা অতিরঞ্জন কিছু পৃষ্ঠাসমূহ জুড়ে ছিলো না কোথাও।</p>
<p style="text-align: justify">শব্দ চয়নে দুর্দান্ত রকম পারদর্শীতা, বাক্যের সমৃদ্ধ গঠনশৈলী, ভাবনার মাধুর্যে লেখক সাদিয়া সুলতানা বরাবরই আমার প্রিয় লেখক। লেখকের যে কোনো লেখা পড়ার জন্য পড়ি না আমি।পড়ি শেখার জন্য। নীলগর্ভ তেমনই আরেকটি উপন্যাস।</p>
<p style="text-align: justify">অগণিত প্রতিকূলতা উৎরে আমাদের বিপন্ন জীবনে কখনো এমন মুহূর্ত আসে যখন স্বজনের আলিঙ্গনের মতো নিবিড় কিছু পৃথিবীতে বিরল হয়ে পড়ে। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মানুষের মনে হতে থাকে, সে বিস্তীর্ণ জলপ্রপাতের নিচে স্নান করছে। ধুয়ে যাচ্ছে পালাতপুরীতে লুকিয়ে থাকা দুঃখসমগ্র।গর্ভের নীল বেদনা সে পরশ পাথরেও মুছে যায় না। বড়জোর মলিন হয় কেবল।</p>
<p style="text-align: justify">নীলগর্ভ<br />
সাদিয়া সুলতানা<br />
প্রচ্ছদ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য<br />
প্রকাশনী: জলধি, ঢাকা<br />
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৩<br />
পৃষ্ঠা: ১৪৮<br />
দাম: ৩৫০টাকা</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/10/21/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মুভি রিভিউ: ১৯৭১ সেই সব দিন ॥ রুজহানা সিফাত</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/09/11/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/09/11/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 11 Sep 2023 05:47:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[রুজহানা সিফাত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2867</guid>

					<description><![CDATA[দেখে এলাম ১৯৭১ সেই সব দিন।ড. এনামুল হকের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা।উপন্যাস নিয়ে মন্তব্য করাটা স্পর্ধা।তবে ছবি নিয়ে অনেক কিছু বলা যায়। ছবিতে অনেক কাজ করা যেতো। শুরুটা বেশ ভালো &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">দেখে এলাম ১৯৭১ সেই সব দিন।ড. এনামুল হকের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা।উপন্যাস নিয়ে মন্তব্য করাটা স্পর্ধা।তবে ছবি নিয়ে অনেক কিছু বলা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">ছবিতে অনেক কাজ করা যেতো। শুরুটা বেশ ভালো লেগেছে।শেখ মুজিবের ভাষণ, টিক্কা খান আসলো, পঁচিশে মার্চ একটা আতঙ্ক গোলাগুলি, মানুষজন বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। চারিদিকে আগুন আর আগুন।এসব দুর্দান্ত ছিল।কিন্তু এপ্রিল-মে তে যখন মূল যুদ্ধ শুরু হলো, তখন কাহিনির ধারাবাহিকতায় পড়তির দিকে মনে হলো।</p>
<p style="text-align: justify">যে বাড়ির দুই ভাই রঞ্জু সঞ্জু মুক্তিযুদ্ধে গেছে সে বাড়ির অন্তঃসত্ত্বা পূত্রবধূ আর্মিদের সাথে পার্টিতে যাচ্ছে তথ্য সংগ্রহে! কেউ তাকে হ্যারাস করছে না, সন্দেহ করছে না। আবার সঞ্জু বউয়ের সাথে দেখা করতে এসে অনেকদিন থেকে গেলো, ধরা পড়লো না, যেখানে একাত্তরের চিঠি বইটি পড়ে জেনেছি কিভাবে রাজাকাররা নজরদারি করে।</p>
<p style="text-align: justify">মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং সেশনে দেখা গেলো ট্রেনিং দিচ্ছে ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সঞ্জু। কিন্তু আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তমরা বিভিন্ন বাহিনীর ডিফেন্স পিউপলদের কোনো ভূমিকা পেলাম না।যুদ্ধের ট্রেনিং দিয়েছিলেন তারা।এগারটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডাররা।শিক্ষক তো ট্রেনিং দিতে পারে না, ট্রেনিং দেবে সৈনিক!</p>
<p style="text-align: justify">প্রচুর গানে ভরা ছিলো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যে গান ঐগুলো ছিল না।বেতারের কোনো ভূমিকাই দেখানো হয়নি। রঞ্জুর প্রেমিকা এক সিনে দেখা গেলো বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন, অন্য সিনে দেখা গেলো বাড়িতে! বিষয়টা বুঝিনি।</p>
<p style="text-align: justify">একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে গেলো।নন্দিনী মেয়েটার ছদ্ম নাম ছিল। তারপর কি হল? টর্চার সেলের কোন বিষয় দেখানো হয়নি। তবে নায়কের কাছের বন্ধু রাজাকার রায়হান।তার বিশ্বাসঘাতকতা আর ভূমিকাটুকু ভালো লেগেছে।</p>
<p style="text-align: justify">মুভিটি নিয়ে খায়রুল বাসার নির্ঝর লিখেছেন, ‌‘‘১৯৭১ সেই সব দিন’ পিরিওডিক্যাল সিনেমা। এ সময়ে দাঁড়িয়ে ৫২ বছর আগেকার দৃশ্য ক্যামেরায় তুলে আনা সহজ কাজ নয়। এই দীর্ঘ সময়ে তো শুধু শহরের আদলই বদলায়নি, মানুষের নিত্য অনুষঙ্গ, ফ্যাশন—বদলেছে সবই। শুটিংয়ে খুটিনাটি কোনো কিছু একটু এদিক-সেদিক হলেই বিপত্তি। তবে হৃদি হক এই কঠিন চ্যালেঞ্জ ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে পেরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চিত্র এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে মনেই হয় না এটা নির্মাতার প্রথম সিনেমা।জনপ্রিয় অনেক অভিনয়শিল্পীর সম্মিলন ঘটেছে সিনেমায়। তবে ফেরদৌসের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়। সঞ্জু চরিত্রে সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে অনবদ্য অভিনয় করলেন তিনি, তা দর্শকের চোখে লেগে থাকবে বহু বছর। উল্লেখ করতে হয় সজল, প্রীতি ও লিটু আনামের কথাও। নির্মাতা হৃদি হক একই সঙ্গে পরিচালনা আর অভিনয় করতে গিয়ে খানিকটা খেই হারিয়ে ফেললেন কি? প্রশ্ন থেকেই গেল।’</p>
<p style="text-align: justify">বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনাও আছে।শেষটায় অনেক প্রশ্ন জমে আছে।শেষ হয়ে ও হলো না শেষ।রঞ্জু সঞ্জুর আরেক ভাই লিটু আনাম (নাম ভুলে গেছি) কই? বিন্তির কি হলো? ব্যক্তিগত রেটিং ৫.৫/১০।পরিশেষে বলব, যুদ্ধের মুভি আরও আরও চাই।আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাস। আমাদের সম্পদ। প্রজন্মের কাছে এটাকে বার বার তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।</p>
<p style="text-align: justify">১৯৭১ সেই সব দিন<br />
অভিনয়: ফেরদৌস, সজল, লিটু আনাম, মিলন, তারিন, সানজিদা প্রীতি, সাজু খাদেম প্রমুখ।<br />
পরিচালক: হৃদি হক<br />
সংগীত: দেবজ্যোতি মিশ্র<br />
মুক্তি: ১৮ আগস্ট, ২০২৩</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/09/11/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মুভি রিভিউ: নীহারিকা কী নারীবাদের স্বর নাকি উত্তর ॥ শীলা রায়</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/19/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/19/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 19 Aug 2023 06:26:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[শীলা রায়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2845</guid>

					<description><![CDATA[‍‘সেদিন সমুদ্র ফুলে-ফুলে হল উন্মুখর মাঘী পূর্ণিমায় সেদিন দামিনী বুঝি বলেছিল-মিটিল না সাধ।’-বিষ্ণু দে’র দামিনী এভাবেই বলে উঠেছিল যা বলার।শচীশের পিছনে বৃথা ছুটে মরা দামিনীর তীব্র যন্ত্রণাই যেন বিষ্ণু দে’র &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">‍‘সেদিন সমুদ্র ফুলে-ফুলে হল উন্মুখর মাঘী পূর্ণিমায়<br />
সেদিন দামিনী বুঝি বলেছিল-মিটিল না সাধ।’-বিষ্ণু দে’র দামিনী এভাবেই বলে উঠেছিল যা বলার।শচীশের পিছনে বৃথা ছুটে মরা দামিনীর তীব্র যন্ত্রণাই যেন বিষ্ণু দে’র কবিতায় চরম ভাব নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।রবীন্দ্রনাথের নারীবাদেরই সমকালীন প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন কি বিষ্ণু দে? পক্ষ-বিপক্ষ মতামত সেই যুগ থেকে এই যুগেও বহমান&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify">তেমনই এক আখ্যান তৈরি করে দিতে পারে সাম্প্রতিক ইন্দ্রাশিস আচার্য পরিচালিত সিনেমা ‘নীহারিকা’। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের তুলনামূলক কম আলোচিত উপন্যাস ‘ভয়’-এ দীপার যে আখ্যান ও পটভূমি তৈরি হয়েছিল, ইন্দ্রাশিস আচার্য তারই এক সমকাল দর্শন করালেন।সেকালে নারী আজকের প্রেক্ষিতে অনেকটাই পর্দানশীন ছিল।তবে আধুনিকতা তখন ঢুকতে শুরু করেছিল।তাই অন্ধকার শৈশব পেরিয়ে নব্য যৌবনে সমাজ বহির্ভূত হাতছানিতে ক্ষণিকের স্বস্তি খুঁজে পাওয়া, মায়ের মৃত্যুর পরে বাবার মেয়েকে অবহেলায় দূরে ঠেলে দেওয়া, দীপার নিজের মামার প্রতি অলক্ষ্য আকর্ষণ তৈরি হওয়া, আর মামার সেই আবেদনে প্রছন্ন তাড়িত হওয়া থেকে নিজেকে সমাজ বদ্ধ জীব তৈরি করে আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে নিজেকে চালিত করা পর্যন্ত- ঔপন্যাসিক লিখতে পেরেছিলেন।আর সেই আশির দশককে একবিংশর পরিচালক করে তুললেন সমকালীন। আক্ষরিকভাবে একে উত্তর আধুনিকই বলা যায়।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি অস্বীকার করলেন না উপন্যাসের সময়কে।তাই ইন্টারনেট, মোবাইল, হালফিলের রিলের বাইরে রাখলেন প্রেক্ষাপট।শুধু চিত্রনাট্যকে গাঁথলেন সমকালে।কিভাবে? ক্রাফটিং আর ডায়লগের মুন্সিয়ানা সেখানেই।আর তাকে সঙ্গত করতেই প্রয়োজনীয় আবহসঙ্গীত।জীবন সেকালেও উচ্চকিত ছিল না, সিনেমায় তাই কোনো স্বরই জীবনের স্বাভাবিক স্তর থেকে উচ্চকিত নয়।ভাগ্নীর প্রতি তৈরি হওয়া কামনা সমাজের স্বীকৃতিতেই তাই পূর্ণতা খোঁজে।সেই সময়েও অলক্ষ্যে যার বুঝতে পারার সে সব বুঝে যায়।তাই ‘মলয় বাতাসে’র মুক্ত রূপকে সে অনুভব করতে পারে না, জীবনের বাতাস সেখানে দ্বার রুদ্ধ হয়েই থাকে।নীরবে জিতে যায় এক মুক্ত নারী মন, যে শুধু প্রকৃতির সঙ্গে প্রেমকে মিলিয়ে নিয়ে এক স্বভাবভীরুকে মৃত্যুতে প্রেমের আস্বাদ পাইয়ে দেয়। আর তারপরেই নিরুচ্চারিত সুর বেজে ওঠে সিনেমায় ‘আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস, দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরস মাস’।মামীর মৃত্যুকে মামার এই চিন্তাধারা প্রশ্ন তোলে&#8230; যার জন্য প্রেমের এই অভিঘাত তীব্র হল তবে কি সব অবহেলা কি তারই প্রাপ্য?!</p>
<p style="text-align: justify">যে নারীবাদের চর্চায় এখন জেন এক্স উত্তাল তারা বঞ্চিতের জন্য উচ্চকিত লড়াইয়ের কথা বলবে।হক ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হবে।এখানেই উপন্যাস থেকে উত্তর আধুনিক হয়ে জিতে যায় সিনেমা।আসলে সে বলে সমসময়ের থেকেও এগিয়ে থাকা চিরন্তনের কথা।প্রেমের জয় শুধুই অনুভবে, সেখানে কোনো মানুষ নয় জয়ী শুধুই অনুভূতি।আর তাই জীবনের সব ঝড় পেরিয়ে, সমাজ, মানুষ, আকাঙ্ক্ষা, অভীপ্সা চিনে নিয়ে মামার কাছে করা শেষ আবেদনেও যখন দীপা প্রত্যাখ্যাত হয়, আর কোনোও কথা তারপরে থাকে না।আসলে তা হতে পারে না, তাই সিনেমাতেও নেই।</p>
<p style="text-align: justify">নীহারিকা সমাজের ভয়ের কথা বলে আসলে জিতিয়ে দেয় নারীবাদকে, একলা বাঁচতে চাওয়া সব নারীকে।তাই মামার ছোঁয়া বুঝতে পেরেও মামার দোলাচলকে দীপা ভুত দেখার ভয়ের সঙ্গে তুলনা করে।ভেতরের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে না পেরে যা সমাজের অধিকারে প্রাপ্ত তার কাছেই দাবি করে ফেলে মামা, মন্দ্র স্বরে মামী প্রশ্ন করে ওঠে ‘এতদিন পরে, হঠাৎ’! ভীষণ স্বাভাবিক এক সামাজিক বাঁচাকে এভাবেই প্রশ্ন করে সিনেমা, প্রশ্ন করে নারীবাদ।মামা গিটারে সুর তুলে নিলেও দীপার গানে গলা মেলাতে পারে না, রঙ্গন প্রবল পুরুষ হতে চেয়েও নারীত্বের তীব্রতায় হার মানে।মামার পালিয়ে যাওয়ার চিঠি পড়ার সময় ক্যামেরা ট্র‍্যাক ব্যাক করে না, চার্জ করে, আর দীপার চোখ শুধু ভিজে ওঠে, জল পড়ে না, খানিক ঝাপসা হয়।</p>
<p style="text-align: justify">সিনেমা বারবার প্রান্তরে ক্যামেরা প্যান করে যেন প্রকাণ্ড পৃথিবীতে এক নারীর তীক্ষ্ণ অস্তিত্বকে হিসহিস স্বরে অনুভব করাতে চায়।দোতলা বাড়িতে একলা মেয়ের নিঃস্ব অস্তিত্বে দূরে মাদলের সুর জীবনের বহমানতাকে বয়ে নিয়ে চলে।সন্তানের শোকে স্থবির মায়ের মুখে স্থির থাকা ক্যামেরার পিছনে শিশুর কলতান সময়ের চলমানতার আবহ গেঁথে দেয়।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-2847 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/niharika2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/niharika2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/niharika2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">এই প্রকাণ্ড পৃথিবীতে একটা মেয়ে একলা, ভীষণভাবে একলা, নীহারিকার ক্যামেরা, মিউজিক, শব্দ, ডায়ালগ বারবার সে কথা বলে আসলে তৈরি করে এক চিরকালীন নারীবাদের আখ্যান।কারণ নয় ফলাফল আসলে কী, তার রূপ কেমন, কেমনই বা তার বাস্তবচিত্র ইন্দ্রাশিসের সিনেমা বারবার সেই কথাই বলতে চেয়েছে।বিলুরাক্ষসের সোহিনীও তো আপসহীন আগ্রাসী কর্পোরেটের এক অসমাপ্ত আখ্যানের কথাই মনে করায়। পিউপার মৌ কি মেয়ে আপোস করতেই শিখিয়েছিল নাকি সেও একদিন দীপা হয়ে উঠবে, জানার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে নীহারিকা। অনেক উত্তর পার্সেলের নন্দিনী দিয়েছিল, তবে দীপা যেন মিলিয়ে দিল সেকাল একালকে।নীরবে একা দাঁড়াল এক প্রতিবাদী নারীস্বর হয় সবকালের সব বাদকে সেই আদি অকৃত্রিক প্রশ্ন করে, শত বিপ্লবেও কী একাকীত্ব ঘোচে? হাতের উপর থাকে হাত?</p>
<p style="text-align: justify">আলাদা করে অনুরাধা, মল্লিকা, শিলাজিতের কথা বললে নীহারিকার অভিঘাত ধাক্কা খাবে&#8230; একালের সেই সব নারী যারা আসলে একলা উড়ানের কাণ্ডারি নীহারিকা তাদের সবার নারীত্বের গাথা&#8230; যার বিচার হবে সমকালে নয় সমকালোত্তর কালে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/19/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ওয়েব সিরিজ রিভিউ: মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/05/14/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/05/14/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 14 May 2023 14:23:56 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[লুনা রাহনুমা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2676</guid>

					<description><![CDATA[বিনোদন মিডিয়া চরকিতে মুক্তি পাওয়া সাত পর্বের সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ দেখলাম।এই সিরিজের নামকরণের ব্যাপারটি হচ্ছে স্বপন নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবে।সে একজন একক মানুষ এই পৃথিবীতে, নিজেকে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিনোদন মিডিয়া চরকিতে মুক্তি পাওয়া সাত পর্বের সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ দেখলাম।এই সিরিজের নামকরণের ব্যাপারটি হচ্ছে স্বপন নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবে।সে একজন একক মানুষ এই পৃথিবীতে, নিজেকে ছাড়া আর কারো জন্য তার ভেতরে কোনো মমতা কাজ করে না।অশিক্ষিত স্বপন ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করে ডায়ালগ দেয়, মাইশেলফ এলোন, স্বপন। অর্থ্যাৎ, আমি একা একজন, স্বপন।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু ভুল ইংলিশে সেটি শোনা যায়, মাইশেলফ অ্যালেন।ওয়েব সিরিজটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন নির্মাতা শিহাব শাহীন, প্রযোজনা করেছেন রেদোয়ান রনি।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশি সিরিজ।সিরিজের শুরুতে এবং পরেও অনেকবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।চট্টগ্রামের ভাষা আমার পরিচিত নয়, তবু সংলাপ বুঝতে সমস্যা হয়নি কারণ সাথে চলিত বাংলার সাবটাইটেল দেওয়া আছে।</p>
<p style="text-align: justify">স্বপন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান।অনবদ্য অভিনয়। টিভি পর্দায় একটা খারাপ মানুষকে দেখে দর্শকের মনে যেমন ঘৃণা তৈরি হওয়া দরকার, নাসির উদ্দিন খানের কুৎসিত হাসিটি দেখে সত্যি গা রি রি করে উঠেছে। ইয়াবার মাদক ব্যবসায়ীর চরিত্রের সঙ্গে দারুণ মানিয়েছেন নিজেকে অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছে মিথিলা।আমি সাধারণত মিথিলার নাটক এড়িয়ে চলি, কারণ বেশি নরম বেশি ন্যাকা লাগে আমার কাছে মিথিলার অভিনয়।এই সিরিজে মিথিলাকে বেশ দৃঢ় লেগেছে। সুন্দর অভিনয় করেছেন স্ত্রী আর মায়ের ভূমিকায়। তবে মিথিলার বদলে আরো স্ট্রং চরিত্রের কাউকে নির্বাচন করলে সিরিজের জন্য ভালো হতো।</p>
<p style="text-align: justify">অ্যালেন স্বপন এর ছেলে যাদুর চরিত্রে সেন্টুর অভিনয় আর মুখের অভিব্যক্তি অসাধারণ লেগেছে।</p>
<p style="text-align: justify">ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি জনপ্রিয়তায় চরকির সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছে। কিছু নেতিবাচক আলোচনাও হয়েছে সিরিজটিকে নিয়ে।</p>
<p>প্রথমত মিথিলার মেয়ের চরিত্রে একটি নয় দশ বছরের শিশু ছিল, কেউ কেউ বলছেন এই সিরিজে শিশুদের উপস্থিতি খারাপভাবে দেখানো হয়েছে।আমার কাছে মনে হয়েছে, সিরিজের শেষ পর্বে মাদক চোরাচালানকারী দলের কয়েকটি মাস্তানের মধ্যে শিশু মেয়েটিকে উপস্থিত না করলেই ভালো হতো।কারণ অশ্রাব্য গালাগালি, শারীরিক আঘাত, হত্যা সমস্তটাই ঘটেছে শিশুটির সামনে।এবং মাকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া ওর আর কোনো ভূমিকাই ছিল না।</p>
<p style="text-align: justify">আরেকটি দুর্বল দিক হচ্ছে শেষ পর্বে চোরাচালানকারী স্বপনকে ধরে আনার পর থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার আর অভিনয়ের সময়কালটুকু পুরো সিরিজটাকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। হয়তো সেই দৃশ্যের চিত্রায়ন কিংবা সংলাপের কারণে।এই দিকে আরেকটু মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সবচেয়ে বেশি আলোচিত কিংবা সমালোচিত হচ্ছে ‘তৈ তৈ তৈ আমার বৈয়ম ফাকি কই,’ স্বপনের মুখে উচ্চারিত এই সংলাপ এবং গানের কলিটি। নাসির উদ্দিন খান নিজেই গেয়েছেন গানটি। স্বপন তার স্ত্রীকে আদর করে ডাকে বৈয়ম পাখি।স্বপনের প্রাণ ভোমরা তার স্ত্রী, যেন একটি বৈয়ম অর্থ্যাৎ বোতলের মধ্যে রাখা আছে। আমাদের গ্রামাঞ্চলে তৈ তৈ তৈ করে হাঁস আর হাঁসের বাচ্চাদেরকে ডাকা হলেও এখানে অভিনবভাবে ব্যবহার করা হয়েছে শব্দটিকে।মানুষ ব্যতিক্রম ভালোবাসে।ব্যতিক্রম উপস্থাপনার এই গানটিকে অশালীন আর অসহ্য লাগলেও মানুষের মনের মধ্যে গেঁথে গেছে শব্দটি তৈ তৈ তৈ&#8230; ইউটিউবে কিংবা ফেসবুকে বৈয়াম পাখি গানের সঙ্গে যে ভিডিওটি সবাই দেখেন, সেটি কিন্তু মূল সিরিজে নেই।হয়তো শুধুমাত্র সিরিজের প্রচারের জন্যই বানানো হয়েছে সেই ভিডিওটি।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলা চলচিত্রের নির্মাণে ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ একটি ব্যতিক্রমী নির্মাণ।গল্পের বাস্তবাদী প্লট মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জগৎ সম্পর্কে একটি ধারণা দেয় দর্শকের মনে।বাংলাদেশ আর বার্মার বর্ডার এলাকার সত্যিকার মাদক চোরাচালান কারবারের ইমেজ পাওয়া যায় এই সিরিজে। ইউটিউবে দেখলাম বেশ কিছু ভিডিও চলে এসেছে পুরো ৭টি সিরিজের। কিন্তু সাউন্ড আর প্রিন্ট খুব খারাপ। তাই সম্ভব হলে অরিজিনাল চরকির ভিডিওটি দেখবেন। অবশ্যই ছোট দর্শকদের সামনে নয়। কারণ সিরিজটি ১৮+। সবগুলো পর্ব দেখতে সাড়ে তিন ঘণ্টার কম সময় লাগবে।</p>
<p style="text-align: justify"><strong>একনজরে</strong><br />
বিভাগ : অপরাধ<br />
পরিচালক : শিহাব শাহীন<br />
প্রযোজক : রেদওয়ান রনি<br />
পরিবেশক : চরকি</p>
<p style="text-align: justify"><strong>প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী</strong><br />
নাসির উদ্দিন খান : অ্যালেন স্বপন/সিদ্দিকুর রহমান স্বপন/শামসুর রহমান তপন<br />
রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা : শায়লা<br />
সুমন আনোয়ার : তানজিল<br />
রাফিউল কাদের রুবেল : বদু<br />
আবদুল্লাহ আল সেন্টু : জাদু<br />
মিশকাত মাহমুদ : রোজি<br />
আইমন শিমলা : অ্যালেন স্বপনের স্ত্রী<br />
কাজী আনিসুল হক বরুণ : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/05/14/%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উপদ্রুত ঘাসের ভেতর ॥ নুসরাত সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/04/23/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/04/23/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 Apr 2023 13:57:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[নুসরাত সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2653</guid>

					<description><![CDATA[সাইফ বরকতুল্লাহর লেখা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পড়েছি।এই লেখকের লেখার কোমল প্রকাশভঙ্গী, ভদ্রোচিত শব্দচয়ন আমাকে মুগ্ধ করে।বইমেলা (২০২২) থেকে সংগ্রহ করি গল্পের বই ‘উপদ্রুত ঘাসের ভেতর’। বইটিতে গল্প আছে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সাইফ বরকতুল্লাহর লেখা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পড়েছি।এই লেখকের লেখার কোমল প্রকাশভঙ্গী, ভদ্রোচিত শব্দচয়ন আমাকে মুগ্ধ করে।বইমেলা (২০২২) থেকে সংগ্রহ করি গল্পের বই ‘উপদ্রুত ঘাসের ভেতর’।</p>
<p style="text-align: justify">বইটিতে গল্প আছে মোট দশটি। গল্পগুলো হলো ‘উপদ্রুত ঘাসের ভেতর’, ‘দুঃখ প্রাইভেট লিমিটেড’,‘কতদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে’, ‘লকডাউনের সন্ধ্যাগুলো’,‘কোয়ারেন্টাইন’,‘বিমর্ষ সন্ধ্যা’, ‘তবে কী তোমার প্রেমেতে পড়েছি’,‘ রানী’, ‘মানুষের মধ্যে’ এবং ‘নেই কেউ নেই’।</p>
<p style="text-align: justify">উপদ্রুত ঘাসের ভেতর: এই গল্পে লেখক সজীব চরিত্রটির নাগরিক জীবনের মানসিক অস্থিরতা, প্রযুক্তির আগ্রাসন, হারিয়ে যাওয়া মধুর শৈশব স্মৃতি আমাদের হারানো সংস্কৃতি সবকিছু নিবিড়ভাবে তুলে এনেছেন।সবশেষে নির্ঘুম রাতে সজীব আওড়ে চলে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা ‘এখন গভীরভাবে ঘাসের ভিতরে বসে/থাকা, ভালো মনে হয় এই প্রগাঢ় রোদ্দুরে’।</p>
<p style="text-align: justify">দুঃখ প্রাইভেট লিমিটেড: এই গল্প করোনাকালের বিমূর্ত চিত্রকল্প।এই গল্পে উঠে এসেছে স্বজন হারানোর বেদনা, অর্থ সংকট এবং জীবনের সাথে কম্প্রোমাইজের নিবিড় আবহ।</p>
<p style="text-align: justify">কতদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে: একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতার হাহাকারের নকশীকাঁথা এই গল্প।রানু একা থাকে এই ব্যস্ত শহরে।শাওন তারচেয়ে বয়সে কিছুটা ছোট।ভালো লাগে শাওনকে রানুর।শাওনের কথা মনে হলে চোখের কোন ভিজে ওঠে। সন্ধ্যার সাথে সাথেই বিষণ্নতা ভর করে রানুর দেহ-মনে।তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মনে পড়ে যায়।শাওনও একা।তিন বছর হলো মাকে হারিয়েছে।মা মারা যাওয়ার পর ক্ষিদে পেলেও খাবার তাড়া দেওয়ার কেউ নেই। কিন্তু রানু আর শাওনের ভালো লাগা ভালোবাসা হয়ে ধরা দেয় না।বিষণ্ন শহরে প্রেম বুঝি কেবলই পরাভূত হয়।</p>
<p style="text-align: justify">লকডাউনের সন্ধ্যাগুলো: এই গল্পে লকডাউনের সময়ের বিভিন্ন সংকট উঠে এসেছে।যানবহনের সংকট, নিম্ন আয়ের মানুষদের অস্তিত্বের সংকট।অনলাইন অফিসের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক ঝামেলা ইত্যাদি সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।<br />
কোয়ারেন্টাইন: এই গল্প করোনাকালীন মানুষের বন্দীদশার নিগুঢ় চিত্রায়ন। মহামারির ভয়াল গ্রাস থেকে মানুষ কিভাবে সেল্ফ মোটিভেশনের মাধ্যমে নিজেকে উত্তরণ করেছে তারও চমৎকার আলোকপাত আছে এই গল্পে।</p>
<p style="text-align: justify">বিমর্ষ সন্ধ্যা: এই গল্পটিও কোভিড-১৯ মহামারিরই গল্প।আমরা অনেক বিখ্যাত মানুষদের হারিয়েছি।প্রবাসীদের দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইন করার হ্যাপা।করোনার ভেতরেই আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সময়কে ধারণ করেই বেড়ে উঠছে গল্পের শরীর।</p>
<p style="text-align: justify">তবে কী তোমার প্রেমেতে পড়েছি: ইভান আর উসার অনুরাগের মিষ্টি গল্প।প্রেমে পড়ার মুহূর্তে মানুষ নিজের অনুভূতিতেই নিজে মুগ্ধ থাকে। নিমজ্জনের বার্তা বহন করে গল্পটি।</p>
<p style="text-align: justify">রানী: মাসউদ আর রানী দুজন দুজনকে পছন্দ করে।বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় তারা।বসন্তদিনে যায় গোলাপ গ্রাম।দুজনেরই প্রেমের আকাঙ্খা আছে।কিন্তু সংকোচ ভেঙে কেউই প্রকাশিত হয় না।এরই ভেতর মাল্টিন্যাশিনাল কোম্পানির চাকরি নিয়ে মাসউদের বিদেশ যাবার সময় ঘনিয়ে আসে।জড়িয়ে ধরে চোখের জলে দুজন দুজনকে বিদায় জানায়।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষের মধ্যে এবং নেই কেউ নেই চমৎকার দুটি গদ্য।এই দুটি গদ্যে লেখক মানুষের নগর জীবনের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম, বিষণ্নতা, একাকীত্ব এবং মনস্তত্ত্বকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">পরিশেষে বলব, সাইফ বরকতুল্লাহর গদ্যের প্রকাশভঙ্গীতে নতুনত্ব আছে। তবে এরপর কাহিনির বিস্তার, আরও সঘন গদ্যের গল্প চাই এই লেখকের কাছ থেকে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/04/23/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিষণ্ন শহরের দহন ॥ মালেকা ফেরদৌস</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/04/11/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%b9%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/04/11/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%b9%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Apr 2023 16:30:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[মালেকা ফেরদৌস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2638</guid>

					<description><![CDATA[সেলিনা হোসেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিশাল মহিরুহ।তিনি কথা সাহিত্যিকে,গবেষক ও প্রাবান্ধিক।প্রথম জীবনে তিনি কবিতাও লিখতেন।তার মেদহীন ঝরঝরে গদ্য পড়তে গিয়েও আমার মনে হয় যেন কোন কবিতার লাইন।তিনি যেমন সাবলিল বলেন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সেলিনা হোসেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিশাল মহিরুহ।তিনি কথা সাহিত্যিকে,গবেষক ও প্রাবান্ধিক।প্রথম জীবনে তিনি কবিতাও লিখতেন।তার মেদহীন ঝরঝরে গদ্য পড়তে গিয়েও আমার মনে হয় যেন কোন কবিতার লাইন।তিনি যেমন সাবলিল বলেন তেমনি তার লেখাও সাবলিল নদীর স্রোতের মতই।শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখেন।</p>
<p style="text-align: justify">পাহাড়ে জন্মানো বার্চ, কিংবা পপলার বৃক্ষ যেমন উদ্ধত ভঙ্গিতে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে আকাশ ছুঁতে চায় তেমনি আমিও উদ্ধতবোধ নিয়েই সেলিনা আপার বই নিয়ে দুটো কথা বলব।আলোচনা বা সমালোচনা করার মতো দৃষ্টতা আমার নেই।আমি ‘হাঙর নদী গ্রেনেট, পড়েই তার ভক্ত হয়ে যাই।প্রচুর বই তিনি লিখেছেন, এখনও নিরন্তর লিখে চলছেন।</p>
<p style="text-align: justify">‘বিষণ্ন শহরের দহন’ ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে।বইটি লেখকের দ্রুপদি প্রতিম সাহিত্যকর্ম।মানব চরিত্রের সাথে বিবেকের মতো শহর ও হাওয়া দুটো প্রধান চরিত্র লেখক এই গ্রন্থে সন্নিবেশ করেছেন ।<br />
বিষণ্ন শহর আমি ক্ষয়িষ্ণু সবুজ-<br />
মরে যাওয়া নদী যেন বিষাদের ছবি<br />
পাঠ করতে করতে নিজেই বেরিয়ে আসি<br />
নিজের ভেতর, শ্রম তাপিত অসহায় মানুষের<br />
বেদনা নিশ্চল শব্দগুলো বুকে নিয়েই আমার দহন।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের কেন্দ্রে এক তরুণ খুনি সুজন।স্ত্রী মুনিরা তার পরকীয়ায় বাঁধা দিয়েছে বলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।খুনের মূলে আসমা নামের এক বিবাহিতা রমনী।এই নারীকে নিয়েই মুনিরার প্রত্যাহিক দ্বন্দ্ব সংঘাত ব্যাপার হয়ে উঠেছিল সুজনের সাথে।বড় লোকের বখাটে ছেলে কিছু না চাইতেই সব পেয়ে গেছে।মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছে ঠিকই কিন্তু কোন মানবিক বোধ তার মধ্যে জন্মায়নি।কারো বিরোধিতা সহ্য করা তার ধাতে সয়না।তাই নিজের বউকে ঢাকা থেকে দূরে এক নির্জন এলাকায় ঝোপের আড়ালে কুপিয়ে হত্যা করে।</p>
<p style="text-align: justify">মুনিরা ছিল এক শহীদ মুক্তিযাদ্ধার সন্তান।বিচারে সুজনের ফাঁসি হয়।কনডেম সেলে শহর সুজনের সাথে কথা বলে।কিন্তু রাগ আর চিৎকার ছাড়া সুজনের কিছু নেই ।যদিও সে মুখে বলে সে কিছুই পরোয়া করে না।কনডেম সেলে ডেপুটি জেলার রুহুল আমিন, বাশার কবির,তওবা পড়ানো হুজুর, জল্লাদ নুডু এক একটা চরিত্র যেন এক একটা অধ্যায়।এখানে শহরের একটা সংলাপ খুবই হৃদয়াগ্রহী ফাঁসি হয়ে গেলে ছেলেটিকে তার বুকের মধ্যে টেনে রাখবে।অথচ মুনীরার মৃত্যুও শহরকে ভীষণ মর্মাহত করে।</p>
<p style="text-align: justify">কনডেম সেলে আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করানো হয় সুজনকে ।একসময় মৌলবী আসেন তওবা পড়ান।এ সময় প্রত্যেক ফাঁসির আসামির চোখেই ভাসতে থাকে প্রিয় মানুষগুলোর মুখ।সুজনের বুকের ভেতরও জমাট বাঁধা অন্ধকার,ক্ষোভ কিন্তু কোন অনুতাপ নেই।সে তার স্ত্রী মুনীরাকে হত্যা করেছে সেজন্যও তার কোন অনুতাপ নেই।কোন ন্যায় অন্যায় বোধ তার মধ্যে কাজ করেনা।তবুও আজ মুনীরাকে মনে পড়ে।মাকে মনে পড়ে।মা তাকে ছোট বেলায় পাখি হওয়ার কথা বলতেন।</p>
<p style="text-align: justify">ডেপুটি জেলার।সুজনের এই নিরুত্তাপ পাশবিক চরিত্র দেখে বলেই ফেলেন- আপনাকে দেখা আমার জীবনের অভিজ্ঞতা।কনডেম সোলের জীবন যেন ঘড়ি দেখে ঘণ্টা মিনিটে বাঁধা।ফাঁসির আগে সুজন মায়ের দেওয়া সুগন্ধি সাবান দিয়ে গোসল করে।সময় মেনেই এক সময় সুজনের ফাঁসি হয়।রুদ্ধশ্বাস এ ফাঁসির কাহিনির বর্ণনায় লেখক অত্যন্ত মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।সুজনের মৃত্যুর আগে ফ্লাড লাইটের আলোকে স্নিগ্ধ চাঁদের আলোর মতো মনে হয়েছে।পৃথিবীর সুন্দরতাকে সুজন প্রথম দেখেছে।এখানে লেখক মানুষের বাঁচার আকুতিই ফুটিয়ে তুলেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">ফাঁসি কার্যকর করা সেই নুডু জল্লাদের প্রতিক্রিয়া ও স্মৃতিচারণের পর শুরু হয় উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব।</p>
<p style="text-align: justify">লেখকরা অদৃশ্যকে দেখতে পান অশ্রুতকে শুনতে পান, ইন্দ্রিয়সমূহের বিপুলও সচেতন বিপর্যয় সাধনের মধ্য দিয়ে অজানায় পৌঁছতে হয় তাকে।প্রেম, দুঃখ, উন্মাদনা সব প্রেরণের মাঝে নিজেকে খোঁজেন।সব গরল আত্মসাৎ করেন।আবার পেতে হয় অকথ্য যন্ত্রণা।অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাসী কখনোবা মহাদুর্জন, আবার জ্ঞানের শিরোমণি।</p>
<p style="text-align: justify">শহর আর হাওয়ার মতো আরও একটি চারণের মতো চরিত্র সুফিয়া খাতুন।ভীষণ দুঃখী।হাওয়ার খেরো খাতায় যা লেখা হয় তা শহরকে পড়ে পড়ে শোনায়, সে খবরটিই আবার সুফিয়াকে শহর দেয়।এক প্রতিবাদী, মানবিক নারী সুফিয়া।কান্নার আর্তি হাজার বার লক্ষ বার ধ্বনিতাঁ হয়েছে অন্ধকার ও বিষণ্নতার পাঁকে পিষ্ট শহরের বুকে।</p>
<p style="text-align: justify">সেই বিপদ ও দগ্ধ হওয়া মানুষের গল্পই করে শহর সুফিয়ার সাথে।আর সুফিয়া শুধু কান্নার শব্দই শোনে সারা শহর জুড়ে।সুফিয়ার নেশাখোর স্বামী মাত্র ২০০০ টাকায় ওর ছোট সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছে।সুফিয়া আর ঘরে ফিরে যায়নি।যেখানে কান্না সেখানেই সুফিয়া ।আসলে নিষ্ঠুরতাবোধের অনুসঙ্গই পোড়খাওয়া মানুষকেগুলোকে এমনিতেই টানে।</p>
<p style="text-align: justify">হাসপাতালের বাইরে সন্তান জন্ম দেয় জয়বুন।যে সন্তানের কোন পিতার নাম নেই।তার পিতৃ পরিচয়হীন সন্তান জন্মানোর দায় হসপিটাল নেয়না।হাসপাতালের নবজাতক চুরি হয়।জীবিত মেয়ে শিশু মায়ের কোলে ফিরে আসে মৃত পুত্র সন্তান হয়ে।মাঠে নবজাতক জন্ম দেন মা তার নাড়ি কাটা হয়না।মাত্র জন্ম নেওয়া পুত্র সন্তানটিসহ মা মারা যান।চারিদিকে মানুষ জমা হয় পুলিশ আসে।বিক্ষুব্ধ সুফিয়া চিৎকার করে বলে-মাইয়া মানুষের গতর হাতাইতে পারে।বাপ হইতে পারনা ক্যান ? বিদেশে গৃহকর্মী পাঠানো হয় বেশির ভাগই ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসে।তাদেরই একজন গুলবানু।ফুট ওভার ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে।গুম হয়ে সন্তান হারিয়ে যায়।বছরের পর বছর মা অপেক্ষা করেন।সন্তান আর মায়ের বুকে ফিরে আসেনা।মা, মেয়ে ধর্ষিত হয় প্রভাবশালীদের হাতে তারপর থেকে তারা নিখোঁজ।স্বামী মামলা করতে গেলে খুন হয় নিধুরাম ধর্ষকদের হাতেই।</p>
<p style="text-align: justify">সুফিয়ার কানে ঢোলের বাজনা আসে।উদগ্রীব সুফিয়াকে বাতাস জানায়।নিধুরামের কিশোর ছেলে বাবার লাশ দাহ করতে গেলে খুনিরা ছেলেটিকে মেরে অন্য গ্রামের শশ্মানে পাঠায় দাহ করতে।আর খুনির ছেলে যায় বিয়ে করতে তাই এই ঢোলের বাজনা।এতিম শিশুটির কান্না সুফিয়ার মাতৃ হৃদয় হাহাকার করে ওঠে।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করে।টাকা দিতে না পারলে সন্তানটি আর ফিরে আসেনা।সে মায়ের আহাজারিতে সুফিয়ার বুকের ভেতর কষ্টের টর্নেডো বয়।তার সাথে দেয়ালে বসা দুটো চড়ুই পাখিও যেন কাঁদছে।সুফিয়া ওদের ভাষা বুঝতে পারে।পাথরের বুকে একটা ফড়িং বসে থাকে।কি চমৎকার অর্থবহ চিত্রকল্প।গাছের পাতারা ঝরে পড়ছে,আবার পেঁচার ডাকও ভেসে আসছে।সুফিয়া মনে করে আসলে মেয়ে মানুষ ময়লার ভাগারের মতো।</p>
<p style="text-align: justify">এক আশ্চর্য সময়ের সাক্ষী সুফিয়া।চারদিকে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে।শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধাও বাদ যাচ্ছেনা কেউ।বিচারহীনতা, ক্ষমতাবানদের আস্ফালন আর অত্যাচারে কিভাবে এ দেশের চিরাচরিত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।তার ভয়াবহ ও সকরুন বর্ণনা এই উপন্যাসটিতে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">কষ্টের কাছে সবাই সমান।রুহি,তার মা,সুফিয়া,ময়না,গুলবানু,জয়বুন সবাই এক ।একজন সচেতন শিল্পী হিসেবে সেলিনা হোসেন সমকালীন অবক্ষয়িত সমাজের সময়সীমাকে অনুধাবন করে তাকেই যথাযথভাবে তার উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">একজন মানবিক লেখক শুধু নিজ আবহে বন্দি থাকেন না তিনি সারা বিশ্বের খবর রাখেন এবং প্রতিবাদ করেন। ধর্ষণের কথা বলতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানের ৬ বছরের সুমাহার ধর্ষণের কথা বলেছেন।পাকিস্তানি আদালত সুমহার ধর্ষক আরমানকে চার দফা ফাঁসি দিয়েছে ।অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও সন্ত্রাসের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">ভারতে দুনিয়া কাঁপানো আসিফার ধর্ষণের কথা বলেছেন।কাশ্মীরের ৮ বছরের মেয়ে আশিফা।তাকে মন্দিরে নিয়ে ৮জন মিলে ধর্ষণ করেছে।ধর্ষণের পর পাথর দিয়ে তার মাথা থেতলে তাকে হত্যা করা হয়।দীপিকা রাওয়াত নামে একজন প্রতিবাদী নারী আইনজীবী তার পক্ষে আইনি লড়াই লড়তে গিয়ে হিন্দু একতা মঞ্চ থেকে হুমকি পান।রাওয়াতের বিরুদ্ধে জনসভায় দুজন মন্ত্রীসহ মুখ্য মন্ত্রীও ছিলেন।ভারতে ধর্ষণের প্রতিবাদ হয় লন্ডনে- ভ্যালু হিউম্যান লাইফ,নট জাষ্ট কাউস।</p>
<p style="text-align: justify">প্রতিটি দেশ, প্রতিটি সমাজে, প্রতিটি ব্যবস্থায় ধর্ষণকে সবচে ঘৃণ্য অপরাধ বলে ধরে নেয় হয়।এবং প্রতিটি দেশে ধর্ষণের শাস্তির বিধানও রয়েছে।চীনে ধর্ষকের ফাঁসি হয়, কার্যকরও হয় অতি দ্রুত।ইরানে সোজাসুজি গুলি।আফগানিস্থানে সোজা মাথায় গুলি,সেখানে ধর্ষণও কম হয়।ফ্রান্সে ৩০ বছর জেল।সৌদি আরবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা হয়।পোল্যান্ডে বুনো শুয়োরের খাঁচায় ফেলে মারা হয়।আর আমার দেশে ধর্ষক প্রকাশ্যে মহাপ্রতাপে ঘুরে বেড়ায়।</p>
<p style="text-align: justify">বইটিতে লারার প্রসঙ্গ এসেছে।এসেছে তার নামে সমাজকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনের কথা।লারা এক দুঃসাহসী কন্যার নাম।আপার নিজের মেয়ে।বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে সারা দেশ কেঁদেছে।আমিও কেঁদেছি।ফৌজিয়া আপার সাথে ( সাবেক লেডিস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট) তখন তার বাসায় গিয়েছিলাম।শুধু একনজর আপাকে দেখেছিলাম প্রায় আধা মৃত অবস্থায়।মাথা ও পায়ে ভিজে গামছা দিয়ে রাখা হয়েছিল।অনেক দিন সে দৃশ্য আমাকে কাঁদিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">একবার আমরা লেডিস ক্লাব থেকে সেলিনা আপাকে সংবর্ধনা ও স্বর্ণ পদক দিয়েছিলাম।অনুষ্ঠান শেষে তাকে পৌঁছবার দায়িত্ব ছিল আমার।প্রায় দেড়ঘণ্টা সময় পেয়ে ছিলাম আপার সাথে একান্তে কথা বলার।তখন আপার কোন আত্মীয়ের মৃত্যুর কথা অনেক দুঃখ নিয়ে বলেছিলেন ।আবার একটা খুশির সংবাদও দিয়েছিলেন যে তার একটা বই ভারতের কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়র পাঠ্য হয়েছে।তিনি তখন বলেছিলেন- আনন্দ বেদনার মাখামাখি নাহলে অনুভবের মুগ্ধতা গাঢ় হয়না।আপার কথাটি আজও আমি মনে রেখেছি।</p>
<p style="text-align: justify">বইটিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১পিলখানার নারকীয় সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ডের একটা পরিবারের করুণ কাহিনির বর্ণনা আছে।বিশ্বে এটা একটা নজির।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এতো বড়সংখ্যক সেনা অফিসার মারা যায়নি।যদিও বলা হয় সিপাহী বিদ্রোহ তবুও এ হত্যাকাণ্ড আজও রহস্যময় হয়ে আছ।এ বিদ্রোহে আমার বান্ধবী পান্নার স্বামী কর্নেল মুজিব মারা গেছেন।আমাদের লেখিকা সংঘের জেসমিন আপার ছেলে কর্নেল এনশাদ আহমদ মারা গেছেন।আমি তাদের আহাজারি দেখেছি।শুনেছি নানা লোমহর্ষক কাহিনি।</p>
<p style="text-align: justify">লেখক সেলিনা হোসেনের লেখার জগৎ বাংলাদেশের মানুষ তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।তার উপন্যাসে সাধারণত প্রতিফলিত হয় সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংকটের সামগ্রিকতা।এই উপন্যাসে তিনি অবক্ষয়িত সমাজের নানা দিক নিয়ে অত্যান্ত নির্ভীক কণ্ঠে কথা বলেছেন।দেশ, মাটি বিশেষ করে গন মানুষের সাথে একাত্মতা ছাড়া মহৎ ও কালজয়ী শিল্পী হওয়া যায়না।যদিনা তাদের সাহিত্য ও শিল্পকর্ম মৃত্তিকা, মানুষের শ্রম, ঘামের উষ্ণ পরশ, জীবন সংগ্রাম, কষ্ট, যন্ত্রণার রূপ না থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">Art for the Sachet art. সাহিত্য ও শিল্পকলায় এই অভিধাটি সমগ্র বিশ্বের শিল্প কলার উপর অপ্রতিহত প্রভাব বিস্তার করে মানবতাবাদী শিল্পী বা লেখকরা সাধারণত মানুষকে উপেক্ষা করে কোন সাহিত্য সৃষ্টি স্বীকার করে না।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের প্রতিদিনের অস্তিত্ব হচ্ছে আনন্দের, অভাবের, যন্ত্রণার, অপকৌশলের, স্বার্থপরতার।আসলে পৃথিবীর প্রাচুর্য হচ্ছে জ্ঞানের, অর্থের এবং বিজ্ঞানের।অথচ আমরা যেন চিন্তা, চেতনাও মানবিক গুণাবলী হারাতে বসেছি।আমরা স্বপ্ন ও কল্পনায় ক্রমান্বয়ে নিঃশ্ব হতে চলেছি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/04/11/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%b9%e0%a6%a8-%e0%a5%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জীবনের জঠিল-ধূসর বাস্তবতা, প্রেম-প্রকৃতির অনবদ্য আখ্যান ‘ফিরতে চাই বৃক্ষজন্মের কাছে’ ॥ অনুপ দাশ গুপ্ত</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/2621/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/2621/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 25 Mar 2023 03:37:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[অনুপ দাশ গুপ্ত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2621</guid>

					<description><![CDATA[কিছু কিছু কবিতা আছে যা পড়ার পরে হৃদয়ের প্রতিটি তন্ত্রীতে ওঠে অনুরণন। ঝড় তোলে স্নায়ুতে। সেইরকম একটি কবিতার লাইন এরকম-‘কালে ভদ্রে কলমে মেঘ এসে ভর করতো বলে/কেউ কেউ আমাকে কবি &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">কিছু কিছু কবিতা আছে যা পড়ার পরে হৃদয়ের প্রতিটি তন্ত্রীতে ওঠে অনুরণন। ঝড় তোলে স্নায়ুতে। সেইরকম একটি কবিতার লাইন এরকম-‘কালে ভদ্রে কলমে মেঘ এসে ভর করতো বলে/কেউ কেউ আমাকে কবি বলে ডাকতো/&#8230;প্রেমপত্র লিখতে লিখতে প্রেমিক/নিদান পত্র লিখতে লিখতে চিকিৎসক/&#8230;অফিসের বড়বাবু, রাজনীতিবিদ,/বুদ্ধিজীবী সব হওয়া গেল।/ কিন্তু আজ অবধি জানা হলো না,/ঠিক কী লিখতে জানলে মানুষ হওয়া যায়”(ডেজিগনেশ)।</p>
<p style="text-align: justify">কী অসাধারণ প্রতিটি লাইন। গেঁথে আছে লাইনগুলোর গভীর ব্যঞ্জনার অনুরণন। কবিতাটির লেখক আর কেউ নন। বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি, গল্পকার, কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক ও প্রকাশক নাহিদা আশরাফী। তাঁর সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরতে চাই বৃক্ষজন্মের কাছে’-এর অর্ন্তগত ৫ নং কবিতা ‘ডেজিগনেশ’ থেকে উদ্ধৃত। এই কাব্য গ্রন্থে এরকম হৃদয় নিংড়ানো ও হৃদয় স্পর্শী অসংখ্য কবিতা রয়েছে। কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি। এই কাব্য গ্রন্থের অর্ন্তগত প্রতিটি কবিতা পড়তে গিয়ে আমি সম্মোহিত হয়েছি। আমি ঘোরগ্রস্ত হয়ে ডুবে যেতে বাধ্য হয়েছি। এক টানা কবিতাগুলো না পড়ে গ্রন্থটি ছেড়ে ওঠা দায়। তাঁর কাব্যের কী এক যাদুকরী শক্তি! যা সত্যিই বিস্ময়কর। করোটির ভিতর শব্দের কী অবিরাম গুঞ্জন।</p>
<p style="text-align: justify">কবির দৃষ্টি এবং দৃষ্টিভঙ্গি সমুচ্ছল বেগবান নদীর মতো। যাতে থাকে আগামীর বহুমাত্রিক দিক নির্দেশনা। সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র, অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এমনকি সর্বভূক্ত চিন্তার ব্যঞ্জনা কবির স্বাধীন মানসসত্ত্বার আওতায়। এই কবিতাটি পাঠ করা যাক-‘নীতি আমার বউয়ের নাম/নতুন সংসার, সীমিত সাধ্য/তবু আমাদের সময়গুলোকে/সে বুনে যেত কুরুসকাঁটার নিপুণতায়।/&#8230;অতঃপর লালসানামক মোহনীয়গ্ল্যামারগার্ল/সামনে এসে দাঁড়াতেই/আমি নীতিকে ভুলতে শুরু করলাম/জ্ঞাতে কিংবা অজ্ঞাতে/এখন আমার অনেক অর্থ/শুধু নীতিই প্রাক্তন হয়ে গেছে&#8230;’। (অর্থনীতি বনাম কুরুসকাঁটার ফুল, ১ম কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">ভোগবাদীসমাজের নীতি-নৈতিকতাহীন মানুষগুলোর চরিত্রের প্রতি কী অপূর্ব ব্যঞ্জনায় সুতীক্ষ্ণ ফলার মতো সুতীব্র অপাঙ্গদৃষ্টি। এটাই কবিতার শক্তি। যেখানে আমাদের বর্তমান সমাজ বাস্তবতা ধরা দেয় অনায়াসে। নাহিদা আশরাফী তেমনি একজন দৃঢচেতা প্রতিশ্রুতিশীল শক্তিমান কবি। ভাবে, বিষয় বৈভবে, চিন্তনে, কাব্যিক গভীরতায়, ছন্দের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কৌশল, শব্দের নান্দনিক ব্যবহার, উপমা উৎপ্রেক্ষার অভিনবত্ব সব মিলিয়ে বলা যায় তিনি সার্থক কাব্য নির্মাতা। একজন কবি তাঁর মানবিক মানসসত্ত্বা নিয়ে কল্পিত মানবিক পৃথিবী দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তাই বেদনার্ত হৃদয়ে কবি বলেন-“একটি কালো মাথাকে নত করতে/ব্যবহৃত হয়েছিলো একটা সাদা হাঁটু/অথচ একটি কালো মাথা/কোনও কিছু ব্যবহার না করেই/কোটি সাদা মাথাকে নত করেছে/এবার পৃথিবীকে প্রশ্ন করো হে বর্ণবাদ/কে বেশি শক্তি ধারণ করে/সাদা হাঁটু নাকি/কালো মাথা? (একটি নিরীহ জিজ্ঞাসা, ৪ নং কবিতা)। এটি লিখা হয়েছে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওডিনের হাঁটুর চাপে শ্বাসরোধে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। কতটা হতাশায় কবিতার ভাব ব্যঞ্জনায় তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এই বৈরিতা মানুষের জিঘাংসা, হিংসা বিদ্বেষপূর্ণ পৃথিবী, অর্থাৎ যাকে কোনো মানবিক পৃথিবী বলা যায় না। এখানে কেবল রক্তের হোলি খেলা। জীবনের মূলহীনতা কবির কাছে বড় বেদনার, অনেক বেশি যন্ত্রণার। অগ্নিন্মুখ রক্তস্নাত পৃথিবীতে আগমন করার জন্য নিজেকে বড় দুর্ভাগা বলে মনে করেন। কবির সরল স্বীকারাক্তি-“এই শহর এক আজব কর্পোরেট ব্যাংক/মৃত্যু, বিষাদ আর পোড়া লাশ জমানোর জইন্যে/এর চাইতে অভিজাত ব্যাংক/আপনে আর কই পাইবেন?” (এ শহর জানে শুধু দুঃখশুমারি, ৪৪ নং কবিতা। এই কবিতাটি লিখেছেন, বনানীতে এসি’র বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ প্রাণ, যারা বেঁচে থেকেও প্রতিনিয়ত আগুনেই পুড়েছ তাদের প্রতি)।</p>
<p style="text-align: justify">সেরকম আরো কয়েকটি কবিতা আছে এ গ্রন্থে যা পড়তে পড়তে পাঠক হৃদয় ব্যথিত হবে। আমাদের বর্তমান সমাজ বাস্তবতাকে দেখবে এক ভঙ্গুর কাঁচের আয়নায়। তাইতো কবি ব্যথিত হৃদয়ে বলেন-“মনে করুন, আপনি এমন এক শহরে থাকেন যার আকাশে কোনও মেঘ জমে না।/কিছু তাজা লাল রক্ত প্রায়ই উড়ে গিয়ে মেঘের ঘাটতি পূরণ করে।/মনে করুন, আপনি এমন এক শহরে থাকেন যে শহরের সন্তানেরা ঈদ অথবা পূজাপার্বণে/কিনে আনে পিতার কাফনের কাপড় অথবা চিতার কাঠ/&#8230;মনে করুন, জীবনের বদলে জিঘাংসা/মনে করুন রাষ্ট্রের বদলে রাত্রি।/মনে করুন&#8230; মনে করুন&#8230; মনে করুন&#8230;/কত আর মনে করবেন?/এতটুকু মনে আর কতইবা ধরে।/তবু শেষবারের মতো/মনে করার চেষ্টা করুণ,/আপনি বেঁচে আছেন তো?”। (মনে করুন, ১৯ নং কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">এসব কবিতায় সমাজ চিত্রের হাহাকার থাকলেও। কবি নাহিদা আশরাফী হতাশায় ডুবে আত্মহত্যাকে যারা বেঁচে যাওয়ার শ্রেষ্ট উপায় বলে মনে করেন তাদেরকে আশার বাণী শুনিয়েও কাব্য লিখেছেন। জীবনের দূরন্ত সময়ে বহু বন্ধুর পথ মাড়িয়ে অলৌকিক স্বপ্ন-বিশ্বাসের পাল তুলে প্রবাহিত হয় মানুষের জীবন তরী। কখনো কখনো নিষ্টুর বাস্তবতার নির্ঘাত আক্রোশে নিপাতিত হয় বিশ্বাসের বিমল হাসি। কবির পাললিক চিন্তার বুননে এই মাটির মমতায় যে স্বপ্নের বীজ অঙ্কুরোদগত, তা যেন বিনাশের বিষবাষ্পে আচ্ছাদিত। আত্ম জিজ্ঞাসায় বিমৃঢ কবি তাই লিখেন-“জন্মেই মৃত্যুর দরিয়ায় সাঁতার কাটে মানুষ/মৃত্যু মেশানোর জলে কী যে এক নেশা/সে নেশার ঘোর ভুলিয়ে দেয় সন্তরণের ইতিহাস/ডুবতে ডুবতে ভাবে/এটাই বুঝি বেঁচে থাকার একান্ত গোপন কৌশল&#8230;”। (মৃত্যু দরিয়ায় সাঁতার কাটা মানুষ, ২০ নং কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">নাহিদা আশরাফীর কবিতাগুলো পড়তে পড়তে এক ধরনের গীতিময়-শীতলতার স্পর্শ অনুভব করা যায়। তাঁর কবিতা শান্ত, স্নিগ্ধ, মৃদু উচ্চারণের ও পরিমিতি বোধের। অথচ রয়েছে মধ্যবিত্তের যাপিত জীবনের টানা পোড়েন ও সুক্ষাতিসুক্ষ ঘটনাবলীর দৃশ্যমানতা। যা শিল্প-সুন্দরে স্পর্শ করতে চায় আশ-পাশ। হৃদয়ের কোমল বৃত্তিগুলোকে সজাগ করে নবসুরে নবগীতে নব উদ্বোধন হয়ে উঠতে চায়। তাই তো কবি বলে উঠেন, “মাসের শুরু হিসেব দিয়ে/ মাসের মাঝেই ঝিমাই নিয়ে/দুঃখবোধের রাশি/সব ছাপিয়ে তবুও এই/ছেঁড়া ফাটা জীবনটাকেই/অনেক ভালোবাসি” (মধ্যবিত্তের হাসি, ৭ নং কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচ্য গ্রন্থের কাব্যগুলো পাঠ করে যা বলতে ইচ্ছে হয়, সেটি হলো: তার কবিতা জীবনকে নিবিড়ভাবে স্পর্শ করার কবিতা। অন্তত সেই চেষ্টাটাই যেন কবি এই গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করে গেছেন। অমিয় চক্রবর্তী তাঁর একটি কবিতায় যেমনটি করে বলেছিলেন: “জীবন, জীবন-মোহ,/ ভাষাহারা স্বপ্নের বিদ্রোহ”-সেই কথাটির সারবত্তা অনুসরণ করেও একেবারে নিজের মতো তিনি বলে গেছেন এ সমাজের দ্বিচারী মানুষের মিথ্যাচারের কথা। কবি নাহিদা আশরাফীর সব থেকে বড় অর্জন হলো তিনি শব্দকে সার্থক করে তুলতে পারেন এবং তার সত্য প্রকাশের শংকাহীন বৈভবনিশ্চল চিন্তার বিবর্তনে ম্লান হয়ে যায় না। এজন্য তার কবিতার ঘুর্ণন দোলায়িত করে পাঠক হৃদয়কে। বলা যায় নাহিদা আশরাফী সমাজ সচেতন কবি। তার কবিতায় যেমন উঠে আসে সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা, তেমনি উঠে আসে নাগরিক যন্ত্রণা। কবির উচ্চারণ:- “পিটিয়ে মারো, কুপিয়ে মারো মানুষ, সংবিধানের শরীর ভরুক দাগে/আমরা তো সব পা চাটা দলের শুয়োর/গাইবো ভজন বিচিত্র অনুরাগে” (নিষিদ্ধ লোবান, ১৫ নং কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">শিল্পের মতো শরীরে কবিতার মতো মারণাস্ত্র যে কবির হাতে, এ জীবনে তাঁর কিসের ভয়? ভোগান্তির? তা সে যতই আসুক, আলোর গভীরে গিয়ে কবি আত্মস্থ হতে জানেন। সেজন্য আলোচ্য গ্রন্থের ‘ভাতবাজেট’ কবিতায় তিনি বলেন-“আমাদের সংসারসংসদে/আমাদের সমবেদনার সচিবালয়ে/আজ থেকে পেশ করা হোক-, ভাতবাজেট”। তেমনি ভাবে আরো সাহসী উচ্চারণ দেখা যায় তাঁর “চৌকস চোর” কবিতাটিতে। তিনি বলেন-“চুরির মহিমা দেখি সারাদিন রাত/রজনীর শুরু থেকে রজনীপ্রভাত/তারপর মাঠে মাঠে কথার অবাদ/নেতারা বলেন চুরি করা মহাপাপ”। কী অসাধারণ কটাক্ষ আমাদের সমাজ পতিদের প্রতি! এখানেই কবি নাহিদা আশরাফীর কবিত্ব শক্তি ও বিশেষত্ব।</p>
<p style="text-align: justify">কবিতার ক্লাসে বিখ্যাত কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেছেন, “বিনা ডিমে যেমন ওমলেট হয় না, তেমনি কাব্যগুণ না থাকলে কবিতা হয় না”। নাহিদা আশরাফীর প্রতিটি কবিতা কাব্যগুণে অনন্য সাধারণ। তার কবিতায় প্রেম ও রোমান্টিকতা উঠে আসে অনাবিল সৌন্দর্য্যে, যা পাঠক পাঠ করা মাত্রই অপরূপ কাব্যের গহীনে হারিয়ে যায় ও নিমগ্ন হতে বাধ্য হয় কবিতায়। যেমন-“তোমাকে ছুঁয়েছি/তাতেই পুড়ল ঘর, পুড়ল দেবালয়/কে জেনেছে কবে/ স্পর্শে এত আগুন জুড়ে রয়”। (তোমাকে চেয়েছি, ৪৩ নং কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">নাহিদা আশরাফী তার কাব্যে বহুমুখী চিন্তা, দর্শন, মানবিকতা, দেশ, সমাজ এবং রাষ্ট্রের অসঙ্গতিকে নিপুন চিত্রকল্পে দক্ষ শিল্পীর মতো ফুটিয়ে তুলেছেন নান্দনিক ঐশ্বর্যে। তার কবিতার আরেকটি দিক হলো-মানুষের আগমন প্রস্থানের নিদারুণ বাস্তবতাকে তিনি কোনভাবেই এড়িয়ে যাননি। বরং পরাবাস্তবতাকে স্বীকার করে তার জন্যে এক প্রকার প্রস্তুতিও তিনি গ্রহণ করেছেন। নাগরিক জীবনের জটাজাল ছিন্ন করে কবি নিবিড় নির্জন প্রকৃতিতে খোঁজেন তার আশ্রয়। প্রকৃতির কাছে তার পরম নির্ভরতা। তিনি উচ্চারণ করেন-“ওহে আকাশ/এ মৌসুমে তাই শরৎ হতে চাই/যার কিশোরী প্রণয় জমে বর্ষার সাথে/অথচ হেমন্তকে পেলেই চোখে জাগে/মহুয়ার নেশা মাথা প্রেম”। (এ মৌসুমে শরৎ হতে চাই, ৫৪ নং কবিতা)।</p>
<p style="text-align: justify">বিশ্ব সাহিত্যের বিখ্যাত কবি শার্ল বোদলেয়ার কবিতা বলতে বুঝতেন, এমন রচনা, যার মধ্যে কবিতা ছাড়া কিছুই নেই, যার প্রতিটি পঙক্তি ও শব্দ, মিল ও অনুপ্রাস, রসের দ্বারা সমগ্র সুপক্ক ফলটির মতো, কবিতার দ্বারা আক্রান্ত”। আলোচ্য গ্রন্থের প্রতিটি কবিতা সুপক্ক এবং যার মধ্যে যে কোন পাঠক কবিতা ছাড়া অন্য কিছু খুঁজে পাবেন না। এখানেই নাহিদা আশরাফী অন্যান্যীব কবিদের থেকে আলাদা ও স্বতন্ত্র্য।</p>
<p style="text-align: justify">এই গ্রন্থের নাম কবিতাটি “ফিরতে চাই বৃক্ষজন্মের কাছে”। ২৩ নং কবিতা। দীর্ঘ একটি কবিতা। কবিতাটি পড়তে পড়তে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারবার যেন টি এস এলিয়েটের “দ্য ওয়েস্টল্যান্ডকে” মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু নাহিদা আশরাফীর এই কবিতাটির নিজস্ব একটি তাৎপর্য ও শক্তি রয়েছে বলেই তার কবিতা পাঠে আমরা সাধারণ পাঠক বিস্মিত হই। যেমন তিনি আলোচ্য এই কবিতায় লিখেছেন, “পাখিদেরও বলো, আমি অনুগত ছাত্রের মতো শিখে নেবো তার ভাষা।/নদীকে বলো, তার অজস্র বাঁক বদলের আনন্দকে আমি আর কখনই সন্দেহবাজ প্রেমিকের চোখে দেখবো না।/ঝর্ণাকে বলো, প্রয়োজনে পাথর হয়ে বুক পেতে দেবো&#8230;”। কী অনন্য ও অসাধারণ মুন্সিয়ানায়, রূপক ও উপমার সংমিশ্রনে এ কাব্যের প্রতিটি লাইন গ্রন্থিত। তাই তো পাঠক চিত্ত বিনোদিত হয়। কবিতা পাঠ যেমনটি মানুষের মস্তিস্ক ও চিত্তের খোরাক, ঠিক তেমনি।</p>
<p style="text-align: justify">দীর্ঘ কবিতা বলে এ বিষয়ে সংকোচ করার কোন কারণ নেই। বিশ্বসাহিত্যের বিখ্যাত লেখক ও কবি এডগার অ্যালান পো থেকে আমাদের বাংলা ভাষার কোনো-কোনো কবি দীর্ঘ কবিতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চান নি। প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের মতো কবিও বলেছিলেন, “আমারও কখনো কখনো&#8230;মনে হয় দীর্ঘ কবিতায় একটি ছোট কবিতাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড়ো করে দেওয়া হয়। বা দীর্ঘ কবিতাটি শুধু কয়েকটি ছোট কবিতার যান্ত্রিক সংযোজন”। পশ্চিমের রাইনের মারিয়া রিলকে থেকে টি এস এলিয়েট-ইয়েটস কিংবা আমাদের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-বিষ্ণু দে প্রমুখ কেউই এরকম কথা ঠিক মানতে চাইবেন না। কেননা দীর্ঘ কবিতা যদি জীবনের গভীর উদ্ভাসন আর উপলব্ধিকে উপমা, চিত্রকল্পে আর কাব্যিক উপকরণে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে তাতেও কবির সিদ্ধি অর্জন সম্ভব-এমনকি আজকের দিনেও।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচ্য কাব্যগ্রন্থটিতে কিছু দীর্ঘ কিন্তু অনবদ্য কবিতা রয়েছে। যেমন-জীবন-শূন্যতার বিপরীতে, প্রতিনিধি, স্বাধীনতা-এক অবাক আলোর জোনাক, একজন সত্যন্বেষীর সাক্ষাৎকার (এটি মূলত সংলাপ ধর্মী কবিতা) ইত্যাদিসহ আরও রয়েছে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় সেই দীর্ঘ কবিতাটি “কোথায় নেই তুমি”। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি নিবেদিত একটি অনন্য সাধারণ কবিতা। যা এখন বিভিন্ন সময়ে এফ এম রেডিও ঢাকা থেকে প্রচারিত প্রভাতি অনুষ্ঠানেও শোনা যায়। আলোচনার দীর্ঘসূত্রিতা পাঠকের ধৈর্য্য চূত্যি ঘটাবে হেতু, কবিতাগুলোর ব্যবচ্ছেদ এতটুকুতেই থামতে হলো।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচ্য গ্রন্থটিতে মোট ৫৬টি কবিতা গ্রন্থিত হয়েছে। যার প্রতিটি কবিতা পাঠক হৃদয়কে উদ্বেলিত ও উৎফুল্ল করবে।</p>
<p style="text-align: justify">নাহিদা আশরাফীর ‘ফিরতে চাই বৃক্ষজন্মের কাছে’ নামকরণে যেমন রয়েছে স্পর্ধিত শিল্প সুষমায় ভরা। তেমনি সমকালীন অসংখ্য কবিদের থেকে তাকে কিছুটা হলেও ভিন্নভাবে দাঁড় করিয়েছে। তার কবিতা যেন নাক্ষত্রিক সম্ভাবনায় সমুদ্ভাসিত। একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে তার লেখার সাথে আমার পরিচয় হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ ÒTenets of SadnessÓ বা “বিরহ সূত্র” পাঠের মাধ্যমে। এরপর তার কয়েকটি গল্পগ্রন্থ ও অত্যন্ত জনপ্রিয় কাব্য গ্রন্থ “প্রেম নিয়ে পাখিরা যা ভাবে” এবং আরো অনেকগুলো সম্পাদনা গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে। তবে যতটুকু পড়ার সুযোগ পেয়েছি নাহিদা আশরাফিকে, তার কাব্য নির্মাণশৈলী আমাকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে তার কাব্য বুননের দক্ষতা আমাকে সবিস্ময়ে অভিভূত করেছে।</p>
<p style="text-align: justify">এটি তার ষষ্ট কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তার অনেকগুলো গল্পগ্রন্থ রয়েছে যা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে সাধারণ পাঠকের কাছে। অসাধারণ সব হৃদয়স্পর্শী কাব্য সম্বলিত এই কাব্যগ্রন্থটির দুর্বলতম কিছু দিক না বললেই নয়। গ্রন্থটির কাগজ, প্রিন্টিং ও বাঁধাই আরো উন্নতমানের হতে পারতো। তাতে সব শ্রেণির পাঠক উপকৃত হতো। কিছু কিছু মুদ্রণ প্রমাদ পাঠ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। যা প্রকাশককে লক্ষ্য করা দরকার ছিলো। আশা করবো ভবিষ্যতে গ্রন্থটির প্রকাশক বিদ্যা প্রকাশ এই বিষয়ে সুনজর দেবেন। হার্ডকাভার পেপারটিও বেশ মানসম্মত নয়। যা অতি উঁচুমানের কাব্য সম্বলিত গ্রন্থটির প্রতি সুবিচার হয়েছে বলে মনে হয়নি। দৃষ্টিনন্দন ও হৃদয়গ্রাহী প্রচ্ছদটি গ্রন্থটিকে চিত্রাকর্ষক করেছে। সাধারণ পাঠকের দৃষ্টি আর্কষণ করবে অতি সহজে।</p>
<p style="text-align: justify">সর্বোপরি প্রত্যাশা থাকবে, বোধের গভীরতায় নাহিদা আশরাফীর কাব্যভাষা যেন আরো বেশি বিমূর্ত ক্যানভাসে কাব্যরূপ পায়। আমার অত্যন্ত প্রিয় এই কবির জন্য শুভকামনা। কবির কলম শিল্পমুখর থাকুক আমৃত্যু। আমি এই অতীব উঁচু মানের, হৃদয়স্পর্শী কাব্য সমৃদ্ধ গ্রন্থটির বহুল প্রচার ও পাঠকপ্রিয়তা কামনা করেছি।</p>
<p style="text-align: justify">অভিনন্দন কথাশিল্পী, কবি, গল্পকার, সম্পাদক ও প্রকাশক নাহিদা আশরাফীকে। আমাদের মতো সাধারণ পাঠকের জন্য অসাধারণ কাব্যগ্রন্থটি উপহার দেওয়ার জন্য। এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে একটি উঁচু স্থান দখল করে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।</p>
<p style="text-align: justify">গ্রন্থ: ফিরতে চাই বৃক্ষজন্মের কাছে<br />
লেখক: নাহিদা আশরাফী<br />
প্রচ্ছদ: রাজীব দত্ত<br />
প্রকাশক: বিদ্যা প্রকাশ<br />
প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৩<br />
দাম: ২২০ টাকা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/03/25/2621/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কুয়ো ॥ লাজ্বাতুল কাওনাইন লীনা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/03/04/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%8b-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/03/04/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%8b-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 04 Mar 2023 05:00:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রিভিউ]]></category>
		<category><![CDATA[লাজ্বাতুল কাওনাইন লীনা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2595</guid>

					<description><![CDATA[ল্যাতিন শব্দ ‘এল পোসো’ যার বাংলা অর্থ কুয়ো।ল্যাতিন অন্যতম প্রধান লেখক হুয়ান কার্লোস ওনেত্তির এই উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৩৯। উপন্যাসটি একটু ভিন্ন।এর প্রধান চরিত্র একজন ব্যর্থ মানুষ, যার কল্পনা স্মৃতিজুড়ে অনেক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ল্যাতিন শব্দ ‘এল পোসো’ যার বাংলা অর্থ কুয়ো।ল্যাতিন অন্যতম প্রধান লেখক হুয়ান কার্লোস ওনেত্তির এই উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৩৯।<br />
উপন্যাসটি একটু ভিন্ন।এর প্রধান চরিত্র একজন ব্যর্থ মানুষ, যার কল্পনা স্মৃতিজুড়ে অনেক চরিত্র যারা তাকে বেঁচে থাকার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।<br />
উপন্যাসটির রিভিউ আপাতত দিচ্ছি না কারণ পুরোটা পড়া হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু প্রখ্যাত অনুবাদক, লেখক শ্রদ্ধেয় আনিসুজ জামান বইটির অনুবাদ করেছেন।এই গ্রন্থে অনুবাদকের কথা অংশটুকু অসাধারণ লেগেছে। সরাসরি স্প্যানিশ থেকে তিনি উপন্যাসটির অনুবাদ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ একটা স্প্যানিশ লেখক বন্ধুদের আড্ডা থেকেই ওনেত্তিকে নিয়ে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন।আমার কাছে সর্বদাই মনে হয় একজন লেখক সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে জানতে পারলে তার লেখাগুলোকে আত্মস্থ করতে আরাম হয়।</p>
<p style="text-align: justify">যাই হোক আনিসুজ জামান গার্সিয়া মার্কেসের বিখ্যাত বই ‘শত বছরের নিঃসঙ্গতা’ এর আগে অনুবাদ করেছেন।আরও প্রচুর ল্যাতিন লেখকের লেখা তার পড়া। তার থেকেই তিনি পার্থক্য করতে পেরেছেন ওনেত্তিকে। অন্যান্য লেখক থেকে বেশ ভিন্ন ঘরানার লেখক যার বাংলা অনুবাদের বই থাকাটা জরুরি ভেবেছেন অনুবাদক।</p>
<p style="text-align: justify">মজার ব্যাপার হলো, তিনি পাঠ করতে করতে বইটির টুকটুক করে অনুবাদ করেছেন।অর্থাৎ প্রতিটা লাইন গভীরভাবে উপলব্ধি করতে করতে মাতৃভাষা বাংলায় রূপান্তর করেছেন।উপন্যাসটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো Stream of Consciousness. জয়েস বা ভার্জিনিয়া উলফের মতো লেখকদের পাশে অনুবাদ বসাতে চেয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">নিজের করা অনুবাদই তিনি তুলনা করতে গিয়ে জানাচ্ছেন, মার্কেসের অনুবাদ করার সময় তিনি মূল ছন্দটা ঠিক রাখবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওনেত্তির অনুবাদের সময় প্রথমে ভাবার্থ পরে শব্দের উপর জোর দিয়েছেন।ব্যাপারটা আমিও পাঠক হিসেবে খুবই পছন্দ করি।যেকোনো অনুবাদ কেমন করলে পাঠকের আরাম হবে সেটা যখন অনুবাদক লক্ষ রাখেন অথবা নিজেই আরাম বোধ করেন, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।</p>
<p style="text-align: justify">এই উপন্যাসে ছিল ক্ল্যাসিক, উরুগুয়ে, আর্হেন্তিনার অনেক আঞ্চলিক শব্দ।সেগুলোর জন্য অনুবাদককে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে।অনুবাদ চরমভাবে একটা নেগোসিয়েশনের কাজ।এটা তিনি এই অনুবাদে লক্ষ করেছেন।বাংলা ভাষায় উপন্যাসটি নিতে উনাকে Cultural Translation করতে হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">এরপরও তিনি বার বার বলেছেন নতুন প্রজন্মের লেখকের কাছে ভিন্নমাত্রার একটা লেখার পরিচয় ঘটানোর জন্য তিনি উদগ্রীব ছিলেন, তাই কষ্টকর হলেও অনুবাদ করার লোভ সামলাতে পারেননি।</p>
<p style="text-align: justify">গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে পাঠক সমাবেশ। মাত্র ৫৩ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি ঠিক উপন্যাস নাকি উপন্যাসিকা সেই তর্ক-বিতর্কে কিন্তু কুয়ো, উপন্যাস হিসেবেই টিকে গেছে।<br />
অনুবাদ-রিভিউ (বই রিভিউ নয়)<br />
এল-পোসো (কুয়ো)<br />
হুয়ান-কার্লোস<br />
অনুবাদ-আনিসুজ জামান, দাম ১৮০ টাকা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/03/04/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%8b-%e0%a5%a5-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
