<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>গদ্য &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/prose/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Fri, 17 Oct 2025 16:19:29 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>গদ্য &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>যেভাবে শুরু হলো তিন গোয়েন্দা ॥ রকিব হাসান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/10/17/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/10/17/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 17 Oct 2025 16:19:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রকিব হাসান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3446</guid>

					<description><![CDATA[[সম্পাদকীয় নোট: কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা ও সেবা প্রকাশনীর লেখক রকিব হাসান গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ মারা গেছেন। তার প্রয়াণে যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য এই লেখাটি প্রকাশ করা হলো &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="font-size: 14pt"><em>[সম্পাদকীয় নোট: কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা ও সেবা প্রকাশনীর লেখক রকিব হাসান গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ মারা গেছেন। তার প্রয়াণে যোগসূত্রের পাঠকদের জন্য এই লেখাটি প্রকাশ করা হলো ]</em></span></p>
<p style="text-align: justify">১৯৮৩ সালের কথা। তখন সেবায় নিয়মিত লিখি। আর কোনো কাজ নেই, শুধুই বই লেখা। বাসায় বসে লিখতে লিখতে বিরক্ত হয়ে গেলাম। বৈচিত্র্য দরকার। ঠিক করলাম, অফিস করব। আমার পরিকল্পনার কথা সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেন সাহেবকে বললে তিনি হাসতে লাগলেন। তবে তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হলাম এতে আমার লেখার পরিমাণ বাড়বে, কাজেও উৎসাহ পাব। তিনি আমাকে একটা ঘর দিলেন, চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করে দিলেন। হাতের লেখা ভালো না বলে বাংলা টাইপরাইটারে লিখতাম। বাসায় একটা টাইপরাইটার ছিল, আরেকটা কিনে অফিসে রাখলাম। তারপর নিয়মিত টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত-তরকারি নিয়ে সকালে উঠে ‘অফিসে’ যাওয়া শুরু করলাম। প্রায় বত্রিশ বছর আগের কথা, ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা ছিল অনেক কম, রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই থাকত প্রায় ঈদের ছুটির মতো ফাঁকা, যানজট দেখেছি খুবই কম, বাসে চড়তে হতো না, মিরপুর থেকে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতাম, তবুও এই ‘অফিস-বিলাস’-এর কষ্ট বেশি দিন ভালো লাগেনি। কয়েক দিন যেতে না যেতে নিজের কাছেই পাগলামি মনে হতে লাগল ব্যাপারটা। যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। তবে তত দিনে যা ঘটার ঘটে গেছে, অর্থাৎ তিন গোয়েন্দার শুরু।</p>
<p style="text-align: justify">আমি তখন অ্যারাবিয়ান নাইটস অনুবাদে ব্যস্ত। সেবার অফিসে একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার পর চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে আরাম করছি। টেবিলের এক কোণে পড়ে আছে একটা ইংরেজি বই, পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে কেনা, পড়া হয়ে ওঠেনি। বইটার ওপর ধুলো জমে গেছে। ধুলো মুছে নামটার দিকে তাকালাম। এত লম্বা নাম, কী জানি কেন কৌতূহল হলো, গুনে দেখি তেরোটা শব্দ। আনলাকি থার্টিন! মনে মনে হাসলাম। আমি এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না। তবে ‘আনলাকি’ই যে আমার জন্য ‘লাকি’ বনে যাবে, কল্পনাও করিনি তখন।</p>
<p style="text-align: justify">যে বইটার কথা বললাম, সেটা কিশোরদের বই। তার ওপর আবার সিরিজের। আমার ধারণা ছিল, সিরিজগুলো খুব একটা ভালো হয় না। ক্লাসিক ছাড়া অন্য কিছু অনুবাদ করতে ভালো লাগত না সে সময়। তাই কিছুটা তাচ্ছিল্য নিয়েই পড়া শুরু করলাম। প্রথম অধ্যায়েই গল্পটা আমাকে আটকে ফেলল। এত দ্রুত টেনে নিয়ে গেল, এক বসায় পড়ে শেষ করে ফেললাম। অদ্ভুত এক অনুভূতি। অসামান্য ভালো লাগা। বইটা আমাকে এক নতুন ভাবনার খোরাক দিল। ছোটবেলায় দস্যু বাহরাম, দস্যু মোহন, শরদিন্দু, স্বপন কুমার সিরিজসহ আরও অনেক গোয়েন্দা গল্প পড়েছি। ওগুলো কোনোটাই ছোটদের উপযোগী ছিল না। বিষয়বস্তু বড়দের। তাতে প্রেম-ভালোবাসা, ভায়োলেন্স এত প্রকটভাবে থাকত, গুরুজনদের সামনে ওসব বই হাতে নিতেও লজ্জা লাগত। তাঁরাও ওগুলোকে ভালো চোখে দেখতেন না। তবু কী করব, সেকালে বইয়ের এত অভাব ছিল, যা পেতাম তাই পড়তাম। তখনো ইংরেজিতে গল্পের বই পড়া শিখিনি, ফলে বিদেশে যে কত ভালো ভালো বই লেখা হচ্ছে, জানতামও না। তখনকার দিনে ইন্টারনেট ছিল না, সহজে কোনো তথ্য জোগাড় করাও সম্ভব ছিল না। বড় হয়ে যখন ইংরেজি পড়া শিখলাম, তখন পড়া শুরু করলাম বড়দের বই, কারণ আমি নিজেও তখন বড় হয়ে গেছি।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-3448 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2025/10/rakib-hasan-15102025-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2025/10/rakib-hasan-15102025-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2025/10/rakib-hasan-15102025.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">যাহোক, সেদিন ওই কিশোরদের বইটা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিল। মনে হলো ছোটবেলায় এ জিনিসই তো আমি চেয়েছিলাম। মাথায় ঢুকল কিশোরদের উপযোগী একটা সিরিজ লেখার চিন্তা। আরব্য রজনীর অনুবাদ কিছুদিনের জন্য বাদ দিয়ে ইংরেজিতে লেখা ছোটদের উপযোগী অ্যাডভেঞ্চার আর গোয়েন্দা সিরিজগুলো জোগাড় করে পড়া শুরু করলাম। ধীরে ধীরে আইডিয়া দানা বাঁধতে লাগল মগজে। কী করব, কী করতে চাই, বুঝে গেলাম। কাজী সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করলাম। তিনি আমাকে উৎসাহ দিলেন। সিরিজ ছাপতে রাজি হলেন।</p>
<p style="text-align: justify">দেরি না করে প্রথম বইটা লিখে ফেললাম। ভাবতে লাগলাম, বিদেশি পটভূমিতে লেখা বই, পাঠক নেবে তো? বাজারে না ছাড়লে বোঝা যাবে না। ১৯৮৫ সালের আগস্ট মাসে ছাড়া হলো তিন গোয়েন্দার প্রথম বই ‘তিন গোয়েন্দা’। বাজারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিট। জন্ম নিল ‘তিন গোয়েন্দা’। তারপর নিয়মিত প্রায় প্রতি মাসেই বেরোতে থাকল ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের বই। জনপ্রিয়তার সীমা ছাড়াতে থাকল। আমার কল্পনাকে হার মানাল। আমার নিজের মৌলিক রচনা নয় এগুলো, বিদেশি কাহিনি থেকে অ্যাডাপ্ট করা, তবু এগুলোই যে পরিমাণ আলোড়ন সৃষ্টি করল, তাতে আমি অভিভূত না হয়ে পারলাম না।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর, ১৯৯২ সালের জানুয়ারি মাসে সেবা প্রকাশনীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘প্রজাপতি প্রকাশন’-এর যাত্রা শুরু হলো। অনেক দিন থেকেই হোয়াইট প্রিন্টে সুন্দর কাগজে সুন্দর কভারে তিন গোয়েন্দা ছাপার স্বপ্ন দেখছিলাম। প্রজাপতি আমার সে আশা কিছুটা হলেও পূরণ করল। তবে ‘তিন গোয়েন্দা’ নামে নয়। কাজী সাহেব বললেন, ‘তিন গোয়েন্দা’ প্রজাপতিতে কম চলবে, কারণ হোয়াইট প্রিন্টের দাম বেশি। ‘তিন গোয়েন্দা’ সেবাতেই থাক, কিশোর মুসা রবিনকে নিয়ে প্রজাপতিতে অন্য কোনো শিরোনামে লিখুন। এবং বইগুলো যাতে ছোট হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। লিখলাম, ‘তিন বন্ধু’। প্রজাপতি প্রকাশন যথাসম্ভব কম দামে সেগুলো বাজারে ছাড়ল। প্রথম বইটার নাম ‘আমি রবিন বলছি’। পেপারব্যাকের চেয়ে দাম বেশি হলেও কম চলেনি বইটা। তিন গোয়েন্দা সিরিজ আর তিন বন্ধু সিরিজের মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই, শুধু কাগজ আর বাঁধাই ছাড়া।</p>
<p style="text-align: justify">২০০২ সালের পর থেকে ‘সেবা’র বাইরেও কয়েকটি প্রকাশনীতে তিন গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিনকে নিয়ে লিখেছি, তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ‘কথামেলা প্রকাশন’-এর নাম উল্লেখ করা যায়। এখন পর্যন্ত ‘কিশোর মুসা রবিন’কে নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা ২৮০টি। এর মধ্যে ‘প্রথমা প্রকাশন’ ছেপেছে সাতটি। শোভন সংস্করণে ছাপা তাদের সিরিজটার নাম ‘গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন’। ৭ নম্বর নতুন বইটি নাম ‘গোলকরহস্য’।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/10/17/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মার্চ মাস এলে যাকে মনে পড়ে ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Mar 2025 18:30:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3360</guid>

					<description><![CDATA[১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে শিপ্রা ঘোষালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এই বাড়িটির সামনে। তখন তার যা বয়স আমারও তাই&#8212;-২৪। চকবাজারের তেলিকোণা থেকে ফিরছিলাম দুপুরের পর। চৈত্র্যের খাড়া রোদ মাথার ওপর। শুষ্ক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে শিপ্রা ঘোষালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এই বাড়িটির সামনে। তখন তার যা বয়স আমারও তাই&#8212;-২৪। চকবাজারের তেলিকোণা থেকে ফিরছিলাম দুপুরের পর। চৈত্র্যের খাড়া রোদ মাথার ওপর। শুষ্ক ঝরঝরে বাতাস।</p>
<p style="text-align: justify">ছেলেবেলা থেকেই গান গাওয়ার অভ্যেস আমার। গুনগুন করে গান গাই প্রায় সারাক্ষণই। সেদিনও প্রিয় একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘সেই ভালো সেই ভালো / আমারে না হয় না জানো&#8230;..’ গেয়ে নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম। দেখলাম একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়িটির সামনে। গোলগাল ফর্সা মুখ ও বেশ দীর্ঘ শরীর। কালো শাড়িপরা। কুঁকড়ানো কালো চুল বাতাসে উড়ছে। খালি পা। টুনটুনি পাখির মতো চঞ্চল দুটি চোখ। তাকে দেখেই আমি চুপ করে গেলাম। কখনো এই মেয়েটিকে এই শহরে দেখেছি বলে স্মরণে এলো না। কে সে? কেনইবা এই বাড়িটির সামনে এই অসময়ে দাঁড়িয়ে আছে? ভূতপ্রেত নয়, কারণ তার ছায়া সুস্পষ্টভাবেই মাটিতে পড়েছে। তথাপি অবাক হয়ে তাকালাম এবং দুজনেই হাসলাম। তারপর তাকে পেছনে রেখেই আমি সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম আর পেছনে ফিরে তাকালাম না।</p>
<p style="text-align: justify">২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ভোরবেলা শান্তি মিছিল ছিল আমাদের। সারা শহর প্রদক্ষিণ করে চকবাজার থেকে যখন ফিরছিলাম দেখলাম ডিগম্বরী তলার গলির মুখে সে দাঁড়িয়ে! সেই কালো শাড়ি! খালি পা। হাতে ফুলের তোড়া। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতে এগিয়ে এলো এবং গম্ভীর মুখে আমার ডান পাশে এসে পা পা মিলিয়ে হাঁটতে শুরু করলো।</p>
<p style="text-align: justify">রাজগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে এসে সে আলাদা হয়ে বজ্রপুরের গলির মুখে দাঁড়িয়ে পড়লো। আমি একটু অবাক হয়ে সামান্য এগিয়ে ফিরে এসে তার পাশে দাঁড়ালাম। বললাম, থেমে পড়লেন যে! আমরা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেব। ইচ্ছে করলে আসতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">আমার কথা শুনে চঞ্চল দুটি চোখ আমাকে কয়েক মুহূর্ত দেখলো। কী দেখলো কে জানে! তখন বুঝতে পারলাম মেয়েটির চোখ ঈষৎ ট্যাঁরা। বাহ! ট্যাঁরা মেয়েদের সৌন্দর্যই আলাদা। আস্তে করে বললো, আমার পথ যে এখানেই শেষ! এখানেই তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবো বলে এসেছি।<br />
তার হেঁয়ালি কথার কিছুই মাথার মধ্যে ঢুকলো না আমার। বললাম, কার কথা বলছেন? তিনি কে? এখানে কি আসবেন তিনি? তার জন্য প্রতীক্ষা করছেন?<br />
আমার এতগুলো প্রশ্ন শুনে ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, না। কেউ আসবে না। কারো আসার প্রতীক্ষাও আমার শেষ হয়েছে ১৯৭১ সালেই।<br />
রোদটা ক্রমশ তেজি হয়ে উঠছে। বাতাসও তপ্ত। গ্রীষ্মের আগাম আভাস। পায়ের তলাটায় গরম অনুভূত হচ্ছে। গলাটাও শুকিয়ে আসছে। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে বললাম, ঠিক আছে। আসি তাহলে। ও! আমার নাম প্রবীর। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, ইতিহাসে অনার্স। থাকি ধর্মসাগর পশ্চিম পাড়ে। হয়তো আবার দেখা হবে।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলেই দু-তিন কদম হেঁটে এগিয়ে যেতেই পেছন থেকে ডাক এলো: শুনুন। একটু দাঁড়ান আমিও যাবো।<br />
আমি ঘুরে দাঁড়ালে দেখতে পেলাম সে ফুলের তোড়া কপালে ঠেকিয়ে মাথা নত করে বিড় বিড় করে কী যেন বলছে। অবাক হলাম বটে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। তাকিয়েই রইলাম। উত্তর দিকে রাজগঞ্জ বাজারের দিকে মুখ তার। কাকে প্রণাম জানাচ্ছে! তার সবই অদ্ভুত মনে হলো আমার কাছে।</p>
<p style="text-align: justify">দীর্ঘ প্রণাম শেষে আমার পাশে এসে বললো, চলুন।<br />
দেখলাম তার চোখ দুটি বেশ লাল এবং অশ্রুতে টলোমলো। কাঁদছে মেয়েটি! কিন্তু কেন?<br />
সেই প্রশ্নের উত্তর সে দিয়েছিল সপ্তাহখানেক পরে চলে যাওয়ার আগে।<br />
আমরা দেশওয়ালিপট্টি হয়ে হেঁটে হেঁটে রানীর দিঘির পূবপাড়ে গিয়ে পৌঁছলাম। দেখলাম মিছিলটি এসে প্রবেশ করছে কলেজের ফটক দিয়ে। আমরাও গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলাম। তারপর এক-এক করে সবাই চলে গেল। রয়ে গেলাম আমরা দুজনে। বন্ধুরা ডাকলো আমাকে যাবো কিনা টাউন হলে অনুষ্ঠান আছে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। বললাম, তোরা যা আমি আসছি।<br />
তখন কলেজ গেটের কাছে রানীর দিঘির পশ্চিম-উত্তর কোণে কৃষ্ণচূড়ার গাছ ছিল। তার নিচে চায়ের স্টল ছিল একটা। আমি বললাম, বেশ গরম! গলাটা শুকিয়ে গেছে। একটু চা চলবে?<br />
ঘাড় কাৎ করে সম্মতি দিল। চা পান করতে করতে বললাম, কিছু মনে করবেন না। আপনার পরিচয়টাই জানা হলো না। মনে হয় আপনি এই শহরের কেউ নন, তাই না?<br />
বললো, ঠিকই ধরেছেন। আমি সিলেট থেকে এসেছি। এখানে আমার মামার বাড়ি ছিল নানুয়া দিঘির দক্ষিণ পাড়ে। আমার নাম শিপ্রা ঘোষাল। আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ি। ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত কুমিল্লায় ছিলাম আমি মামার কাছে। আমার বাবা-মা ছোটভাইকে নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিল অসুস্থ জ্যাঠাকে দেখার জন্য। আমি যাইনি। &#8230;&#8230;..আর এবার এলাম এত বছর পর।<br />
আমি বললাম, এত বছর পর মানে মামাকে দেখার জন্য?<br />
&#8212;না। মামারা স্বাধীনতার পর আর কলকাতা থেকে ফেরেনি। রয়ে গেছে। আমি এসে উঠেছি আমার এক বান্ধবীর বাসায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে রঞ্জিতা পাল।<br />
&#8212;আচ্ছা। রাজগঞ্জ চৌরাস্তার মোড়ে কাকে প্রণাম জানালেন?<br />
চুপ করে থাকলো শিপ্রা। চায়ের কাপটা ফিরিয়ে দিয়ে বললো, আমার এক বন্ধুকে।<br />
আর কিছু বললো না সে। বললো, চায়ের দাম কত?<br />
আমি বললাম, ছি ছি। আমি অফার করেছি। দাম দিয়ে লজ্জায় ফেলবেন না। বলে দামটা আমিই দিয়ে দিলাম। শিপ্রা ধন্যবাদ জানালো। তারপর দুজনে দুদিকে চলে গেলাম।</p>
<p style="text-align: justify">তিন-চার দিন পরের ঘটনা। সন্ধেবেলা টাউন হলে ছিল বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান। কারা আয়োজন করেছিল আজ আর মনে নেই। লোকে লোকারণ্য। হৈচৈ বাইরে এবং হলের ভেতরেও। আমি মাঝামাঝি জায়গায় দেয়ালের কাছে বসে আছি। সেদিন দুপুর থেকেই তুমুল বৃষ্টি। একটু শীত শীত অনুভূতি। হালকা চাদর গায়ে দিয়ে এসেছিলাম। হাতে রবীন্দ্রনাথের &#8220;শেষের কবিতা&#8221; বইটি।সেটা পড়ছিলাম। গান শুরু হতে আরও দেরি। হঠাৎ দেখলাম শিপ্রা এসে হাজির। একেবারে আমার পাশেই এসে বসলো। নরোম করে বললো, কেমন আছেন?<br />
আমি বইটি বন্ধ করে নড়ে চড়ে বসলাম। বললাম, ভালো। আপনি ভালো তো?<br />
মাথা নেড়ে সায় দিল। আমরা পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গান শুনলাম। হঠাৎ করে কারেন্ট চলে গেল। অমনি হৈচৈ চিৎকার শিস দিচ্ছিল লোকজন। সে এক হুলুস্থুল বিশ্রী কাণ্ড। বললাম, চলুন বাইরে যাওয়া যাক।<br />
শিপ্রা বললো, চলুন। আমারও যেতে হবে। আগামীকাল ফিরে যাবো ঢাকায়।<br />
আমি শুনে একটু আহত হলাম অকারণেই। বললাম, ও।</p>
<p style="text-align: justify">হলের বাইরে ভীড়। সেই ভীড় ঠেলে দুজনে বেরিয়ে এলাম। বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশ বেশ পরিষ্কার। পুরো শহরটা অন্ধকারে ডুবে গেছে। তারা মিট মিট করে জ্বলছে আকাশে। তবে বাতাসটা বেশ হিম কিন্তু আরামদায়ক। বললাম, আজ আর কখন বিদ্যুৎ আসে ঠিক নেই। চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।<br />
&#8212;আপনি কষ্ট করবেন। আমি একাই যেতে পারবো। অবশ্য আপনার আপত্তি না থাকলে চলুন।<br />
আমরা পাশাপাশি হেঁটে জলকাদা মাড়িয়ে কলেজের পথ দিয়ে রানীর দিঘির পাড়ে এলে শিপ্রা বললো, আচ্ছা। সেদিন যে গানটা গাইছিলেন আবার গান না। খুব ভালো লাগছিল গানটা।<br />
আমি একটু থমকে দাঁড়িয়ে রানীর দিঘির দিকে তাকালাম। সাদা সাদা ঢেউ বাতাসে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আমি গানটা শুরু করলাম: ‘সেই ভালো সেই ভালো / আমারে না হয় না জানো&#8230;&#8230;..’। গান গেয়েই হাঁটছিলাম। কখন শিপ্রা আমার ডান হাতটি তার মুঠোর মধ্যে চেপে ধরলো। গানটি শেষ হলে শিপ্রা বললো, অপূর্ব কণ্ঠ আপনার। এত সুন্দর রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারেন! আপনার চর্চা করা উচিত। &#8230;&#8230;.জানেন, সেও রবীন্দ্রসঙ্গীত খুব ভালোবাসতো।<br />
কার কথা বলছে শিপ্রা?<br />
কখন সেই রাজগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে এসে গেলাম। তখনও অন্ধকার। টিম টিম করে দোকানগুলোতে হারিকেন না হয় কুপি, মোমবাতি জ্বলছে। রিকশার বেলের ট্রিং ট্রিং শব্দ। মনটা কেমন বিষণ্ণ হয়ে গেল আমার। শিপ্রাও কেমন চুপ হয়ে গেছে।<br />
মোড়ে এসে বললো, সেদিন জানতে চেয়েছিলেন আমি এখানে কাকে প্রণাম করেছি?<br />
&#8212;কিন্তু বলেননি তো!<br />
&#8212;ওই যে টিনের বাড়িটির সামনে আমাদের দেখা হয়েছিল কয়েক দিন আগে দুপুরবেলা। সেটা একটা হোস্টেল। আমার বন্ধু তিলক রায় সিলেট থেকে এসেছিল আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ২৪ মার্চ তারিখে কিন্তু আমাকে পায়নি। না পেয়ে ওই হোস্টেলে ছিল। মামা ১৫ তারিখেই আমাদেরকে নিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা চলে যায়। ২৫ তারিখ রাতের বেলা পুলিশলাইন আক্রমণ করে পাকসেনা। তিলক ৩০ তারিখ ভোরবেলা গোমতী নদীর ওপার যাবে বলে বেরিয়েছিল হোস্টেল থেকে। রাজগঞ্জের এই মোড়ে আসতেই হঠাৎ করে তাকে দেখতে পায় টহলরত পাক আর্মি আর অমনি গুলি করে হত্যা করে&#8230;&#8230;.!<br />
সহসা আমার পা থেমে যায়। বুকের ভেতরে তীক্ষ্ণ কিছু একটা নড়ে ওঠে।<br />
বলতে বলতে শিপ্রার গলা ধরে আসে। ছলোছল করে ওঠে আমার চোখও। একটু থেমে বললো, স্বাধীনতার পর তার এক বন্ধু শিবুদার কাছ থেকে এই ঘটনা জানতে পারি।</p>
<p style="text-align: justify">শিপ্রা আঁচলে মুখ ঢাকে। কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে তার শরীর। আমি তার কাঁধে হাত রেখে সমবেদনা প্রকাশ করলাম। তারপর হাত ধরে এগিয়ে দিয়ে এলাম ছাতিপট্টি পর্যন্ত। গলির মোড়ে এসে তার ঢাকার ঠিকানাটা বলেছিল। বলেছিল যাওয়ার জন্য। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী পর্যন্ত মনে আছে আর বাকীটা মনে নেই। মুছে গেছে সময়ের স্রোতে।<br />
মাত্র দুদিনের পরিচয় বন্ধুত্ব হওয়ার মতোও যথেষ্ট সময় নয়। তবুও শিপ্রা ঘোষাল যেন বহু যুগের পরিচিত বন্ধু ছিল আমার! বহু বছর যেন আমরা একসঙ্গে পথ হেঁটেছি। শিপ্রার অন্তরমথিত বেদনার অংশীদারও যেন আমি। কিন্তু শিপ্রাকে তো আমার কথা বলা হলো না! আমার কি কিছু বলার ছিল?</p>
<p style="text-align: justify">আজও যখন রবীন্দ্রনাথের হৃদয় বিষণ্ণকরা &#8220;শেষের কবিতা&#8221; পড়ি শিপ্রার মুখ মনে পড়ে। কোথায় আছে? কেমন আছে জানি না। শুধু জানি:<br />
&#8220;কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও<br />
তারই রথ নিত্যই উধাও<br />
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন<br />
চক্রে পিষ্ট আঁধারের<br />
বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন<br />
ওগো বন্ধু,<br />
সেই ধাবমান কাল<br />
জড়ায়ে ধরিল মোরে<br />
ফেলি তার জাল<br />
তুলে নিল দ্রুতরথে<br />
দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে<br />
তোমা হতে বহু দূরে&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8217;।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/03/13/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার স্মৃতিতে হেলাল হাফিজ ॥ শামীম আজাদ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/12/14/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/12/14/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 Dec 2024 18:50:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শামীম আজাদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3337</guid>

					<description><![CDATA[যখন হেলালের একুশ বয়স ছিল। আর আমি হয়তো অষ্টাদশী ছিলাম। তখন আমাদের দেখা হয়নি। দেখা হয় আমার যখন একুশ বছর। আর আমি রোকেয়া হল থেকে বেরিয়ে রাস্তা পেরিয়ে কলাভবনে যাচ্ছি। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">যখন হেলালের একুশ বয়স ছিল। আর আমি হয়তো অষ্টাদশী ছিলাম। তখন আমাদের দেখা হয়নি। দেখা হয় আমার যখন একুশ বছর। আর আমি রোকেয়া হল থেকে বেরিয়ে রাস্তা পেরিয়ে কলাভবনে যাচ্ছি। ডান দিকের মাঠে নভেরার ভাস্কর্য ফেলে এগুতেই আমার পাশ থেকে ফিসফিস করে শ্রাবণী বলে উঠেছিল, এই রে আবার সেই সব কবি!</p>
<p style="text-align: justify">দেখলাম শরীফের ক্যান্টিন থেকে ক’জনের সঙ্গে বেরিয়ে আসছে চোখে না পড়ার মতো রোগা হেলাল হাফিজ। বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাগারের সামনে এসে বারান্দায় বসা নির্মলেন্দু গুণকে দেখে দাঁড়িয়েছে। তারপর সবাই মিলে কি নিয়ে যেন হো হো করতে লাগলো। আমাদের মনে হলো বিষয় বুঝি আমরাই! আমি আর শ্রাবণী দ্রুত পা চালিয়ে ওদের পেরিয়ে গেলাম।</p>
<p style="text-align: justify">সে সময় আমি নিয়মিত ছোটগল্প লিখছি। মাথা পুরোটাই গল্পে ডোবা। কিন্তু কবি হবার দারুণ সাধ! তাই ওদের নিয়ে আমার প্রবল আগ্রহ। আবুল হাসান, নির্মলেন্দু গুণ, সাজ্জাদ কাদির ও রফিক কায়সারসহ সবার প্রতি। বন্ধুত্ব করারও খুব ইচ্ছা। সতীর্থ বন্ধু ও কবি রফিক নওশাদ ও শাহনূর খান আবার ওদেরই আঠা। ক্লাস শেষে শীতের রোদে হেলান দিয়ে এদের কাছ থেকেই কবিগণের কি সব অদ্ভুত কাণ্ডগুলোর গল্প শুনি। জানি তারাও আমাদের চেনেন। শুধু পরিচয়টা বাকি।</p>
<p style="text-align: justify">অতঃপর কীভাবে হেলালের সঙ্গে পরিচয় হলো গল্প কিন্তু সেটা না। গল্প আমাদের বন্ধুত্ব আর আড্ডা নিয়ে। আর ততদিনে তার সুকুমার চেহারার বড় বড় ভাসা ভাসা চোখজোড়া বাদ দিয়ে সবার চোখে পড়তো তার মাথায় মাঝখানে সিঁথি করা তেল দেয়া বাবরি চুল আর মধু কবির মতো দাড়ি। এর কোনোটারই প্রাচুর্য ছিল না তবু নজর চলে যেত সেদিকেই। দেখলেই বুঝতাম দাড়ি ও চুলের চাষাবাদে নিজেকে সে ব্যস্ত রাখে বেশ কিছুক্ষণ।</p>
<p style="text-align: justify">যে প্রেসক্লাব তার বাড়িঘর সেখানেই, অথবা দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক কবি আহসান হাবীবের কক্ষে কিংবা সাপ্তাহিক বিচিত্রায় আমার টেবিলেই জমেছে আড্ডা। বাংলা একাডেমির বইমেলা যখন বাংলা একাডেমি চত্বরেই হতো। যখন মানুষ মাত্র হাজার খানেক হতো আর জল ছিটিয়ে ধুলো ওড়া বন্ধ করতে হতো না। যখন লাল বর্ধমান হাউসের অর্ধ ওভ্যাল সিঁড়িগুলো ছাড়িয়ে, জলহীন পুকুর পেরিয়ে এদিকটায় ঘাসভরা মাঠ ছিল- আমরা সেখানে বসতাম। দেখতাম পাশ দিয়ে একদল তরুণের সঙ্গে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছেন হুমায়ুন আজাদ, অনতি দূরে এক গাদা লিটল ম্যাগ হাতে খন্দকার আশরাফ, ক্যামেরা নিয়ে ঝাকড়া চুলের শামসুল ইসলাম আলমাজী। মাঠে বসে বসে টুকটাক খুনসুঁটি করছি, আমরা কেনা বইয়ের গন্ধ শুঁকছি আর চেষ্টা করছি মাইকে কার বইয়ের কথা বলছে তা শুনতে। গল্প করতে করতে বুঝতাম ফেব্রুয়ারির শীত ও আড্ডা জড়িয়ে ধরেছে আমাদের। শাড়ি টেনে পিঠটা ঢেকে নিতাম।</p>
<p style="text-align: justify">কিছু কিছু পুরুষ আছেন না নারীবান্ধব, হেলালের টাইপটা ছিল সে রকম। এই টাইপটা পুরুষের এক বিশেষ গুণ বিধায় আমি একটু খুলেই বলি। এদের সঙ্গে বসে এক ঘণ্টা গল্প করলেও আপনি যে নারী এবং তাদের থেকে আলাদা সেটার চল্টা উঠে আসবে না। আপনি যে স্তন, নিতম্ব সর্বস্ব নন সেটাও বুঝতে পারবেন। জানবেন ওরা ঠিকই চটপটির প্লেটে আপনার জন্য টক বেশি চাইবে। হাঁটার সময় সঙ্গে রাখার জন্য ঘোষণা ছাড়াই হাঁটার গতি কমিয়ে দেবে। হেলালকে আমি কখনো জোরে ছুটে যেতে দেখিনি। অট্টহাস্য করতেও। এমনকি টেবিল চাপড়াতেও। সে কথা বলে নরম নরম। তাই শুনে অন্যরা করে টেবিল গরম। সে বিচিত্রায় এলে তার কথা শুনে দীর্ঘদেহী কবি মাহমুদ শফিক টেবিলে কয়েক বার কিল না মেরে বাঁচেই না।</p>
<p style="text-align: justify">হেলাল ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা লিখে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও তখনও কোনো কবিতার বই প্রকাশিত হয়নি। এখনও হেলালের গ্রন্থসংখ্যা খ্যাতির কথা বিবেচনা করলে কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা কমই মনে হয়। সেবার বাংলা একাডেমি মেলায় হেলালের প্রথম কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বইটি বের করেছেন অনিন্দ্য প্রকাশনীর নাজমুল হক। আলেকজেন্ডার প্রেস থেকে লাইনো প্রিন্টে ছাপা হয়েছে। সেই আশির দশকে ঢাকা শহরে দু’জায়গায় লাইনো মেশিন ছিল। এক আমাদের দৈনিক বাংলা ও বিচিত্রার। দুই আলেকজেন্ডার প্রেস। বইটি মেলায় হাতে হাতে ঘুরছে। তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা ও কথাবার্তা। সেবার আমার ও তসলিমার বোধ করি প্রথম এবং দ্বিতীয় বই এসেছে। কিন্তু কোনো আওয়াজ তুলছে না। আমরা দু’জন নিজেদের ক’টি চেনা স্টলে ক’খানা করে বই দিয়ে আসি এবং মাঝে মাঝে তার খোঁজ নিই আর নিয়মিত আড্ডা দিই হেলালের সঙ্গে। হেলালকে দেখলেই হাসতে হাসতে বলি, কষ্ট নেবে কষ্ট। গরম গরম কষ্ট। চরম গরম কষ্ট! আমাদের বাঁধা টেবিলে কখনো আসেন রফিক আজাদ, সাইয়ীদ আতিকুল্লাহ, হাবিবুল্লাহ সিরাজী, তারিক সুজাত, মাকিদ হায়দারসহ অগ্রজ-অনুজ সম কবি ও সাহিত্যিকগণ। হেলালের বই-ই বিষয়। তার বই কিনে ত্রুন-ত্রুনীরা এখান থেকেই নিয়ে যায় অটোগ্রাফ। হেলাল আমাদের দিকে প্রীত ও হাস্য মুখে লেখে, নিউট্রোন বোমা বোঝ মানুষ বোঝ না!</p>
<p style="text-align: justify">প্রেসক্লাবে কখনো এক টেবিলে পেলে সে গল্প হতো অন্য রকম। জন্ম শহর নেত্রকোনায় বাবা কবি ও শিক্ষক খোরশেদ আলী তালুকদার শিশুপুত্রকে নিয়েই সব জায়গায় যেতেন। এমনকি তার ও খালেক দাদ চৌধুরীর প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘উত্তরাকাশ’র অফিস, সিদ্দিক প্রেস বা সাহিত্য আড্ডায়। হেলাল খুব সুন্দর টেনেটেনে সুস্পষ্ট স্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। বাবার ছিল এক ভারী মজার বিষয়। সে হলো ঋতুর রং মিলিয়ে পাগড়ী পরা। সাদা, গোলাপি, কমলা।</p>
<p style="text-align: justify">সবাই তাকে সে নামেই ডাকতো। ছোট বেলা মা হারানোয় পাড়ার খালা, মাসি, দিদি, চাচীদের পেয়েছে অনেক আদর। ‘আমি আসলে ওদের কোলে কোলেই বড় হয়েছি শামীম, আর বন্ধুদের সাহচর্যে। এই কোভিডকালে তার প্রেসক্লাব বন্ধ। যে হোটেলে থাকতেন বন্ধ সেটাও। এখন হেলাল বড় ভাইর বাসায় আছেন।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর সামরিক পট পরিবর্তনের প্রতিবাদী সময়ে যে ত্রুন কবিগণ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আমার বন্ধু হেলাল হাফিজ তার অন্যতম।</p>
<p style="text-align: justify">আপাত আবছা স্বরে কথা বললেও তার কবিতায় কঠোর গালি দেখে বিস্মিত হয়েছি। সে নিজেও সরকার, সরকারপ্রধান এদের গালি দিয়ে তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে বেরিয়েছে। এদিকে একই সময়ে ছেলেমেয়েরা প্রেমে, অবসাদে, আনন্দে, বিদ্রোহে হেলাল হাফিজের কবিতা ফেরি করে ফিরছে। বিশ্ব মানবতা ধ্বংসের মুখোমুখি বলে তার কবিতা গর্জে উঠেছে। হেলাল হাফিজের কবিতায় যেমন তার আত্মাটা কেমন করে কাঁপে তা বোঝা যায় তেমন তার বন্ধুত্বেও।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/12/14/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আজকের উড়ুক্কু সময়ের কথা ॥ আফসানা বেগম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/11/29/%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/11/29/%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 29 Nov 2024 03:53:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[আফসানা বেগম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3330</guid>

					<description><![CDATA[শীত এক স্মৃতিঋতুর নাম। পুরোনো স্পর্শ কিংবা বিস্মৃত-প্রায় গানের মতো অগোচরে ভেসে এসে জড়িয়ে ধরে। হিমালয়ের পায়ের কাছে দেশের প্রান্তিক শহরের যে রাস্তাগুলোতে শৈশব-কৈশোরের ছাপ লেগে আছে, যেখানে শীত ছিল &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">
<p style="text-align: justify">শীত এক স্মৃতিঋতুর নাম। পুরোনো স্পর্শ কিংবা বিস্মৃত-প্রায় গানের মতো অগোচরে ভেসে এসে জড়িয়ে ধরে। হিমালয়ের পায়ের কাছে দেশের প্রান্তিক শহরের যে রাস্তাগুলোতে শৈশব-কৈশোরের ছাপ লেগে আছে, যেখানে শীত ছিল দীর্ঘ, হেমন্ততো বটেই বসন্তকেও গ্রাস করত। শীতের স্মৃতির ভেতরে তাই শিউলির নৈঃশব্দ্য, ধান মাড়াইয়ের তুমুল ছোটাছুটি থেকে বীজ ধানের কোমলতার বসবাস। সুখের সময় বুঝি পরে গিয়ে দুঃখের স্মৃতি হয়! আর সব শীত জমে গিয়ে বুকের মধ্যে হয় জমাট বরফ।</p>
<p style="text-align: justify">কাঞ্চন নদীর আগাগোড়া মোড়ানো হাঁটু পানি তখন শীতল। অভ্যাসবশত ফ্রকের ঝুল টেনে ধরে নেমে দাঁড়ালে দুই হাঁটুতে ঠকাঠক। সামনে তাকালে পার দুটো কুয়াশায় বিলীন। পানি থেকে দুই হাত উঁচুতে সমান্তরাল ঘোলা ঢাকনাসমেত নদীর সীমানার সীমাহীনতার দিকে তাকিয়ে বারকয়েক মনে হয়েছিল, জীবন এত রহস্যময় কেন? কিরিটি, হোমস বা ব্যোমকেশ তখন রহস্যের প্রেমে ফেলেছে কিন্তু জীবনে এত রহস্য তো সয় না! মায়ের খিটখিটে মেজাজের দিনে নদীর দিকে চোখ রেখে মনে হতো, একদিন তীর বরাবর হাঁটা দেবো। আকাশের দিকে উদাস তাকিয়ে কতবার রওনা দিতে গিয়ে ভেবেছি, কে জানে এই নদীর কোনদিকে পাহাড় আর কোনদিকে সমুদ্র!</p>
<p style="text-align: justify">ভাবনাই সার, হাঁটা দেয়া হয়নি কখনো। বরং এক গাদা কুয়াশায় রেলব্রিজের পকেটে পা ঝুলিয়ে নিচে ব্রিজের পিলারে বাধা পেয়ে ভাগ হয়ে এগোনো পানিকে কতবার প্রশ্ন করেছি, পাহাড় থেকে আসছ, নাকি সমুদ্রে যাচ্ছ? কত দিন লাগবে যেতে? আমি কি ততদিনে বড়ো হব? অনেকটা বড়ো হয়েছিলাম শেষে। ব্রিজের পকেটে পাশে বসেছিল আরো কেউ। ছোটো ছোটো হাসি-লজ্জায়, ঝোলানো পায়ের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভক্ত হতে থাকা পাহাড়ী ঢলের ফেনিল শরীর দেখে মনে হয়েছিল, সব পানি সমুদ্রে গেছে, সবকিছু সার্থক।</p>
<p style="text-align: justify">আমরা যত বড়ো হই, মা হয় তত একা। নিস্তব্ধ শীত-জমানো দুপুরে নির্দিষ্ট বিরতিতে উল-কাটার ছোট্ট ঘষার শব্দ। প্রত্যেকের নতুন সোয়েটার হচ্ছে, মাফলারও। আগের বছরেরটা চলে যাচ্ছে যার নেই তার গায়ে। মা বুনেই চলেছেন। ইস একটা ঘর পড়ে গেছে! মায়ের বিরক্তি কানে আসত, তারপর টেনে খোলা লাইন চারেক। কোকড়া উলসমেত কোল থেকে পড়ে মেঝেতে গড়াতো রঙিন উলের বল। কাটার যাতায়াতে আহ্নিক গতি তার গায়ে। কখনো চিৎকার শুনে ছুটে আসতে হতো, অ্যাই সুইটি, তোর বিড়াল সরা, উলের গোল্লাটা শেষ করে দিল।</p>
<p style="text-align: justify">কুয়াশা গাঢ়তর হতো। রাতে হাড়কাঁপানো শীতের কুণ্ডলী আকাশ থেকে ঢেলে দিত কেউ। তুলোপেটানো খুলে বানানো লেপ মুখে চেপে ফুঁপিয়ে রাত পার হতো কখনো। দুপুরের নিস্তব্ধতায় বসে পড়া হুমায়ূনের &#8216;আয়না&#8217; গল্পে আয়নার মেয়েটার খুব শীত লাগছে, কাপড় নেই, খাবার নেই। লোকটা আয়নার সামনে বসে বলতেই থাকে, মাগো তোমার কি বেশি শীত লাগে, মা? ভোরের দিকে আবছায়া রাস্তায় ‘খেজুরের র&#8230;স‘ বলে হাঁক দিত কেউ। এক ভোরে কোনো বাড়ি থেকে কান্নার রোল উঠেছিল। ঢাকা-ফেরত বাস ঘুরঘটি কুয়াশায় উলটে পড়েছে খাদে, গৃহকর্তা আর নেই। ঠোঁটের নড়াচড়ায় ড্রাগনের মতো কুয়াশা-বাতাস ছেড়ে বড়োরা আলাপ করে, কী লাভ হলো এই বাস, ট্রেনই ছিল ভালো। সরু পাড়ের বাদামি কাশ্মিরী শাল জড়িয়ে কেউ বলে, কী বলেন, কয়েকদিনেই যমুনা সেতু হবে, সাত ঘণ্টায় ঢাকা!</p>
<p style="text-align: justify">রাজধানী ক্রমাগত ডাকে। তবু তখন সতেরো ঘণ্টার কম ছিল না। বোঝা যেত, দূরত্ব কী জিনিস। বিকাল নাগাদ হকারের সাইকেলের প্যাডেলের শব্দ, আগের দিনের দৈনিক পত্রিকা বাইরের বারান্দায় গড়াগড়ি খেত। কুয়াশায় ধোঁয়া মেশােনো টাটকা চায়ের সঙ্গে বাসি খবর মেলে মায়ের চন্দ্রমল্লিকা উপচানো বারান্দায় বাবার স্বগতোক্তি, এই মিলিটারি গভর্নমেন্ট কি আর সরানো যাবে! তারপর আমাকে দেখে প্রসঙ্গ বদলে জিজ্ঞাসা, কাল যে উপন্যাসটা পড়ছিলা, শেষ হলো? গলা সাধলা না আজকে?</p>
<p style="text-align: justify">স্কুল-ফাইনাল শেষ হতো ভয়াবহ শীতে। রংপুরের নানিবাড়ি-দাদিবাড়ি ঘোরার উত্তেজনায় কে পাত্তা দেয় শীতকে তখন! কেটে নেয়া ধানের গোড়ায় খোঁচা খেয়ে খেয়ে দিনভর ডাংগুলি, চোট্টামির ঝগড়ায় পণ্ড কখনো। ওদিকে বাঁশে ঝোলানো পিতলের বিশাল হাড়ি উঠোনের মাঝখানে সিদ্ধ ধানের গন্ধ ছড়িয়ে উপুড় হতো। ধোঁয়া-ওঠা সোনালি গুপ্তধন যেন! ঠান্ডা হতে না হতেই পায়ে পায়ে ছড়াতো মেয়েরা। চড়ুই-শালিকদেরও থাকত ধানের তাপ হারানোর প্রতীক্ষা। বাটিভরা কাউনের ফিরনি ফেলে রেখে আমি তখন শখের পাহারাদার। ইচ্ছে করে তাদের পেটে বেশি করে ধান চালান করতে দিতাম।</p>
<p style="text-align: justify">পৃথিবীর সর্বোচ্চ দূষণেও বাতাস তার শীত শীত গন্ধ হারায় না। নাকে আসতেই চমকে মনে হয়, হায় হায়, আমার সেই দিন নেই! বুকে এমন মোচড় দেয় যেন এই প্রথম জানলাম, পরিবার উবে গেছে, ধান ছড়ানো সাদা মাটি-লেপা বিস্তৃত উঠোনে ভাগাভাগির দেয়াল উঠেছে আড়াআড়ি, তিন স্তরওলা ছাতিম গাছ কাটা পড়েছে. . . শুধু শীতের গন্ধটাই টিকে আছে আপনজনের মতো। গন্ধে গন্ধে জানাতে চায়, সন্ধ্যার এই বাতাসটা আসে দিনাজপুর বা রংপুর থেকে।</p>
<p style="text-align: justify">আসে জাহাঙ্গীরনগর থেকেও। শীত-উপদ্রুত তারুণ্য আমার! জাঁকিয়ে পড়া শীতে ক্লাসের পরে অলস দুপুরে হলের মেয়েরা দরজা খুলে রেখে তীর্যক রোদকে ঘরে আনত, তারপর ওম-খাওয়া সাদা লেপ গায়ে যে যার বিছানায়। জানালার বাইরে কুয়াশার তলে বুজে থাকা গোলাপি শাপলার গায়ে শিশির জমত। অকবি, তাই শিশিরের শব্দ শুনিনি কখনো। শাপলা থেকে চোখ তুলে শুধু V নকসায় পরিযায়ী পাখির চলন দেখেছি, আবিষ্কার করেছি দুটো লাইন, &#8216;কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা, হংসসারির দোলানো মালিকা।&#8217;</p>
<p style="text-align: justify">শীতের গন্ধ নিয়ে হেমন্ত ঘোরাফেরা করে, শীতও আসবে জানা কথা। তবে কে জানত বয়স বাড়তে বাড়তে শীতের গন্ধে মিশে যাবে সহোদরদের মৃত্যুর গন্ধও! আরো শীতে আরো স্মৃতি জমবে বলেই হয়ত বেঁচে থাকি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/11/29/%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যখন গল্পের কাছে যাই ॥ সাদিয়া সুলতানা</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/11/15/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/11/15/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Nov 2024 15:47:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাদিয়া সুলতানা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3322</guid>

					<description><![CDATA[প্রতিনিয়ত কত গল্প দেখছি, শুনছি, পড়ছি সেসবের কিছুই তো মনে থাকছে না। গল্পের চরিত্রগুলো চোখের সামনে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে আচমকা অদৃশ্যও হয়ে যাচ্ছে। এ যেন হাতের আজলা ভরে পানি তুলছি, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">প্রতিনিয়ত কত গল্প দেখছি, শুনছি, পড়ছি সেসবের কিছুই তো মনে থাকছে না। গল্পের চরিত্রগুলো চোখের সামনে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে আচমকা অদৃশ্যও হয়ে যাচ্ছে। এ যেন হাতের আজলা ভরে পানি তুলছি, মুখটা ধুয়ে নিতে না নিতেই পানি গড়িয়ে হাত শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এর সংলগ্ন মুহূর্তেই আবার খেয়াল করছি, দুই হাতের পাতা ভেজা ভেজা লাগছে, ত্বকে অদ্ভুত এক বিষণ্নতার ছোঁয়া লেগে মিলিয়ে যাচ্ছে; এই যে ভেজা ভেজা অনুভব, স্যাঁতস্যাঁতে একটা বিষণ্নতা থেকে ফের প্রসন্ন হয়ে ওঠা-গল্পের কারসাজি হয়তো এটাই। যেই গল্প এমন কারসাজি জানে সেই গল্পকে সহজে ভোলা যায় না, গল্পের চরিত্রগুলোও হঠাৎ হঠাৎ মগজের কোনে কোনে পায়চারি করতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু গল্প কী? এ কী নিজের জীবনকে লেখা না অন্যের? গল্পে গল্পে এই যে এত লিখে যাওয়া এর কী আসলে কোনো শেষ আছে? এত যে লেখা হচ্ছে, এতজন যে লিখছেন, গল্প কেন ফুরাচ্ছে না? নিত্য গল্পের মাধুরীর সঙ্গে যত মিশে যাচ্ছি মনে-মগজে তত যুক্ত হচ্ছে সহস্র ভাবনা। ভাবনাগুলো খামখেয়ালি মনে হলেও পাঠের জন্য গল্প নির্বাচনে পারতপক্ষে খামখেয়ালি করতে চাই না। সেই কারণেই হয়তো পাঠক আমি গল্পের নির্মাণ শৈলী, গল্পের যাত্রাপথ আর গল্পের চরিত্র নিয়ে ভাবি।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পের শৈলী কেমন হবে তা নিয়ে আলাপচারিতার অন্ত নেই। আবার লেখক ভেদে এই শৈলীর বৈচিত্র্যেরও শেষ নেই। বলা যায় ছোটগল্প কখনও নির্দিষ্ট বৃত্তের ভেতরে আটকে থাকেনি, এমন কী কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রমুখী হয়ে আবর্তনও করেনি। সময়ের ঘুর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের বিষয়বস্তু পাল্টেছে, পাল্টেছে গল্পের শৈলী। গল্পকারেরা নানা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে পাঠককে চমকেও দিতে চেয়েছেন। পাঠকও যৌক্তিক-অযৌক্তিক প্রশ্নের জটলায় নিজেকে আবিষ্কার করার মধ্য দিয়ে পাঠতৃপ্তি হাতড়ে বেরিয়েছেন। নিরীক্ষাধর্মী অথবা চিরায়ত-যেই আঙ্গিকেই গল্প বলা হোক না কেন যে গল্প পাঠককে ভাবায় না বা অপ্রস্তুত করে না তা যেন ঠিকঠাক গল্প নয়। গল্প যখন পাঠককে এমন এক ইন্দ্রিয়াতীত অনুভবের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় যে তার টেবিলে রাখা চা জুড়িয়ে যায় তখনই গল্পটি অসামান্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে গল্পপাঠ শেষ হলেও এমন গল্প ফুরোয় না। আর এত শত সহস্র গল্প লেখার পরও গল্পের ঝুড়ি শূন্যও হয় না।</p>
<p style="text-align: justify">শূন্য হবে কী করে! দশ জন গল্পকার যেমন একটি প্লটে দশটি ভিন্ন স্বাদের গল্প লিখতে পারেন তেমনি একজন গল্পকার একটি প্লট নিয়ে দশটি গল্প লিখতে পারেন। কেউ আবার হয়তো গল্পের প্লট, থিম, ক্লাইমেক্স এইসব নিয়ে একদম ভাবেন না। নিজের মতো করে নিজের অভিজ্ঞতা নিঙড়ে লিখে যান। আসলে গল্প তো হরেক রকমের। গল্পের সংজ্ঞাগত বিশ্লেষণে যাওয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি শুধু গল্পের ভেতরে সেই ছোট্টবেলার মতো দাদী-নানীর পাশে শুয়ে বসে গল্প শোনার সুখের মতো সুখ খুঁজি। সেই সাথে চাই গল্পের সঙ্গে নিজের জার্নিটা ম্যাড়মেড়ে না হোক, চমকপ্রদ হোক। আর চাই গল্পের শুরুটা আমাকে একেবারে আটকে ফেলবে, বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে মাথা তুলতে দেবে না।</p>
<p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান যখন  ‘আমার জন্ম’ গল্পের প্রথম বাক্যে লিখছেন, ‘আমার চতুর্থ বোনটির জন্মের পর আমার বাবা ওই টুকুন নবজাত শিশুকে পাঁজাকোলা করে অন্ধকার উঠানে ছুঁড়ে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন’ কিংবা রোমানিয়ার কথাকার আনা ব্লানডিয়ানা যখন ‘খোলা জানালা’ গল্পের সূচনা অংশে জানাচ্ছেন জেলখানার অন্ধকার কুঠুরিতে ঢুকে গল্পের নায়ক একটা উজ্জ্বল নীল আকাশ দেখবে বলে দেওয়ালে একটি খোলা জানালা এঁকে ফেলে তখনই সুচারু একটা টোপ গিলে ফেলছি। এরপর বড়শিতে আটকানো মাছের মতো শব্দে শব্দে ঘাই মারছি আরও সামনে যাবো বলে। এই গল্প শেষ না হলে যেন মুক্তি নেই। তাই গল্পের কাছে এর প্রারম্ভেই চাইছি টোপ।</p>
<p style="text-align: justify">এরপর গল্পের শব্দে শব্দে, বাক্যের পরতে পরতে চাইছি গল্পের বুদবুদ। যা উঠছে, নামছে&#8230;মিলিয়ে যাচ্ছে আবার। ধরতে পারছি না, দেখতে পাচ্ছি না। বিশ্বাস করছি এমনটা হয়, হতে পারে, আবার থেকে থেকে অবিশ্বাসের ঘূর্ণি উঠছে; মুখ খুলে যাচ্ছে বন্ধ কৌটার, বেরিয়ে আসছে আশ্চর্য সব আখ্যান। পড়ছি আর ভাবছি, কেন এমন হচ্ছে? গল্পের মুখ্য চরিত্র বা পার্শ্বচরিত্রটি কেন এমন করছে? কেন এমন নির্মম হচ্ছেন গল্পকার?</p>
<p style="text-align: justify">মাঝেমাঝে গল্প কোনো কিছু ভাবার সুযোগও দিচ্ছে না, নিটোল চৌকাঠে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভাবনার সুতো, গুটি পাকিয়ে যতই সামনে এগোচ্ছি খুলে যাচ্ছে বিস্ময়ের দুয়ার। তবে গল্পের কাছে বিস্ময় চাই ঠিকই কিন্তু গল্প পড়ে মুহুর্মুহু চমকে যেতে চাই না। ঘটনার ঘনঘটা চাই না। চাই না কৃত্রিম বিন্যস্ত পরিসর। চাই ঘটনার অদেখা অভিঘাত, আখ্যানের মোচড়। চাই অভিনব কিছু, যা আগে ঘটতে দেখিনি, তাই দেখতে চাই।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পকার সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের  ‘মেয়ে’ গল্পের মতো অভিনব আখ্যান চাই গল্পে। যে গল্প পড়তে বসে শেষ না করে আর ওঠার উপায় থাকবে না। গল্প পড়তে পড়তে মনের ভেতরে তৈরি হওয়া কৌতূহলের নির্বাণ চাই গল্পের ভেতরেই। যেমন করে ‘মেয়ে’ গল্পে অন্তঃসত্ত্বা লিপির জন্য বরাদ্দকৃত বাড়ির সব ভারি ভারি কাজ কে করে দিচ্ছে তা জানতে উদগ্রীব হয়েছি; লিপির সংসার সাফসুতরো করে উঠান ঝাঁট দেওয়া, রান্না-বান্না করা, কলসিতে করে পানি তোলা ইত্যাদি গৃহস্থালি কাজকর্ম চোখের নিমিষে হয়ে যাওয়ার অভিনবত্বে চমকে গেছি তেমন অভিনব কিছু চাই গল্পের কাছে। লিপির মতো অবাক দৃষ্টিতে দেখতে চাই, পরির মতো সুন্দর, চাঁপাকলির মতো আঙুল আর হরিণচোখের একটি মেয়ে কী করে পেটের ওপর থেকে বেরিয়ে আসছে, একে একে ঘটছে অভিনব সব ঘটনা, চেনা আখ্যানটিও ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠছে। গল্পের কাছে চাই জীবনের চেনা বৃত্তের এমনই অচেনা পরিধি।</p>
<p style="text-align: justify">চমক আনার জন্য গল্পের ভেতরে অণুগল্পও ফাঁদেন গল্পকার। একটা ছোটগল্পে একাধিক অণুগল্প থাকলে একটার সঙ্গে আরেকটার যোগসূত্র রাখেন। আবার কোনো কোনো গল্পের সমাপ্তিতে চমকের বদলে হিরন্ময় নীরবতা নামে যা পাঠকের ভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই প্রসঙ্গে অন্যতম প্রিয় গল্পকার আফসার আমেদের ছোটগল্প ‘হাসিনার পুরুষ’র কথা বলি। এই গল্পের শেষে কিন্তু চমক নেই, চমকহীনতাই এই গল্পের সমাপ্তির অলংকার। কাক্ষ্মিত পুরুষের সংস্পর্শে না যেতে পেরে হাসিনা যখন নিজের ঘরে ফেরে তখন হাসিনার আঁটি চুষে চুষে খাওয়ার যেই দৃশ্য গল্পকার তৈরি করেন সেটাই পুরো গল্পের আকর্ষণ হয়ে ওঠে। হাসিনা আম খায়, আঁটি চোষে, স্বাদে-রসে পরিতৃপ্ত হয় আর পাঠক উন্মুখ হয়ে খুঁজতে থাকে ওর দেহের অভ্যন্তরের বঞ্চনা। ‘হাসিনার পুরুষ’ গল্পের সহজীয়া ভাষাও তখন পাঠকের মনে বিভ্রম তৈরি করে।</p>
<p style="text-align: justify">আমার কাছে মনে হয় একটা গল্প তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন সেটা পাঠকের মনে ভ্রম-বিভ্রম তৈরি করে। কিন্তু এই ভ্রম-বিভ্রম বা ধাঁধা তৈরি করতে গিয়ে গল্পের ভাষা দুর্বোধ্য হলে হয় না। আমি গল্পের ভাষায় চাই স্বচ্ছতা, বাক্যে চাই মসৃণতা আর শব্দ ব্যবহারে খুঁজি গল্পকারের পরিমিতিবোধ। এখানে ফুলের মতো পেলব, কোমল ভাষার ব্যবহারই যে গল্পের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠবে বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। ফুলের কোমলতায় সত্যি বলার, সত্যিকে খোঁজার স্বস্তি তো নেই। কারণ ‘ফুলকে দিয়ে মানুষ বড় বেশি মিথ্যে বলায় বলেই/ফুলের ওপর কোনোদিনই আমার টান নেই/তার চেয়ে আমার পছন্দ/আগুনের ফুলকি/যা দিয়ে কোনোদিন কারো মুখোশ হয় না।’ আসলে সুভাষ মুখোপধ্যায়ের মতো আমিও ভালোবাসি আগুনের রমণীয় ফুলকি। এই ফুলকি যেই কলমে ওঠে, যেই গল্পে ফোটে সেই গল্পই আমার কাছে প্রিয় পাঠ হয়ে ওঠে। ক্রিম, চিজ, ফাইন সুগার, ড্রাই ফ্রুটস এসব বাহারি উপাদান দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে উপাদেয় খাবারের মতো যেই গল্প পরিবেশন করা হয় সেই গল্পে এই আগুনটা ঠিক থাকে না। আর আগুন থাকে না বলেই সত্যিটা থাকে না। কিন্তু গল্পে আমার সত্যিটা চাই; নিষ্ঠুর, নির্মম সত্যি চাই।</p>
<p style="text-align: justify">আর তাই গল্পের বুননে চাই লেখকের গুঁজে দেওয়া অস্বস্তি।<br />
একটা গল্পের যাত্রাপথ বা বর্ণনা শৈলী মসৃণ হলেও গল্পটা কিন্তু পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এমন গল্প পাঠককে গোলকধাঁধায় আটকেও ফেলতে পারে। ইহকালে ঐ ধাঁধা থেকে পরিত্রাণের পথ পাঠক পায় না। আর সেই গল্পকে ভুলতেও পারে না। তাই হয়তো মান্টোর ‘খুল দো’ গল্পটা একবার পাঠের পরেও অগুনতিবার মনে পড়তে থাকে। এই যেমন এই মুহূর্তে মনে পড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">‘খুল দো’ গল্পে ডাক্তার স্ট্রেচারে শোয়া গণধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে পরীক্ষা করতে করতে যখন জানালা দেখিয়ে বুড়ো সিরাজুদ্দিনকে বলেন, খুলে দাও&#8230;খুল দো ঠিক তখনই স্ট্রেচারে শোয়া অর্ধমৃত মেয়েটি যন্ত্রণাকাতরতার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সালোয়ারের ফিতে খুলে সালোয়ার নামিয়ে দেয় আর সিরাজুদ্দিন আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন, বেঁচে আছে&#8230;আমার মেয়ে বেঁচে আছে!-এমন তীব্র বেদনা গুটি কয়েক চরিত্রের সমন্বয়ে অল্প শব্দে বর্ণনা করে ফেলেন যিনি তিনি খ্যাতিমান উর্দু গল্পকার সাদত হাসান মান্টো। মান্টোর গল্পের তীব্রতা এমনই যে পাঠকের ভাবনার জগতকে একেবারে ছিড়েখুঁড়ে ফেলে। ভাবি কী করে ভাবতেন মান্টো, কী করে লিখতেন এমন? সময় আর সাহসই কি মান্টোকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে? আবার ভাবি দেশভাগের নির্মমতার মুখোমুখি তো অনেক লেখকই হয়েছেন, মান্টোর মতো আখ্যান নির্মাণে সংবেদনশীল হতে পেরেছেন ঠিক কত জন? কতজনই বা গল্পচ্ছলে সত্যিটা বলে পাঠকের মনে এমন তোলপাড় তুলতে পেরেছেন?</p>
<p style="text-align: justify">অভিজ্ঞতার ঝোলা ভারি হলেই হয়তো এমন তীর তীক্ষ্ম গল্প লেখা সম্ভব নয়। এর জন্য চাই সংবেদনশীলতা। তাই গল্পের শিল্পীকে হতে হয় সংবেদনশীল। এমন একজন গল্পকারই শুধু পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখতে জানেন, জানেন কী করে পাঠককে টেনে গল্পের সমাপ্তিতে নিয়ে যাওয়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">এখন গল্পের সমাপ্তি যেমন চাই-যা চাই তা যখন পাই না তখনই গল্পটি বিশেষ একটি গল্প হয়ে উঠছে। যে উদগ্র ইচ্ছে নিয়ে মনে মনে শেষটার ছক কষে রেখেছি সেখান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়ে যখন ভিন্ন একটি দিকে গল্পকার গল্পের প্রবাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন তখনই পুনরায় পড়বো বলে গল্পটির শুরুতে চলে যাচ্ছি। হোক সেই দিন বা অন্যদিন, গল্পটি পড়তে হচ্ছে দ্বিতীয়বার। এদিকে এমনও হয়-ক্ষোভ জন্মে, অসহিষ্ণু হয়ে উঠি গল্পকারের বাল্যখিল্যতা বা নির্মমতায়, এমনটি হলো কেন? না হলেও তো পারতো। খুব কি অনিবার্য ছিল এমন সমাপ্তি?</p>
<p style="text-align: justify">নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টোপ’ গল্পের সমাপ্তিতে যখন জানতে পারছি, ‘কীপারের একটা বেওয়ারিশ ছেলে যদি জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে থাকে, তা অস্বাভাবিক নয়, তাতে কারো ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রকা- রয়েল বেঙ্গলটা মেরেছিলেন রাজাবাহাদুর-লোককে ডেকে দেখানোর মতো’ তখন হরেক ভাবনা চেপে বসছে মনে। এই যে ভাবছি&#8230;ভাবছি&#8230;গল্পটি শেষ হয়েও ‘মনোরম চটিজোড়া’ দগদগে ঘায়ের মতো জেগে থাকছে মনে সেই গল্পই চাইছি গল্পের কাছে। গল্পের কাছে চাইছি আঘাত, আঘাতের ঘায়ে ভেঙেচুরে যেতে চাইছি, সময়মতো আঘাত থেকে প্রত্যাবর্তনও করতে চাইছি।</p>
<p style="text-align: justify">মনে পড়ে দাদীর মুখে গল্প শুনতাম ছোটবেলায়। থুথ্থুড়ি দাঁতহীন বুড়ি ঘুরেফিরে একই গল্প বলতো। সওদাগর বিবিকে রেখে বানিজ্যে গেছে, ময়ূরপঙ্খি নাওয়ে চড়ে। মস্ত সে নাও। ময়ূরের মতো অগ্রভাগ তার। ঝড়ঝঞ্জা-উন্মত্ত ঢেউ কেটে কেটে নাও চলছে দেশ ছেড়ে ভিনদেশে। তীরে নাও ভিড়িয়ে সওদা করছে সওদাগর। আর তার বিবির জীবনে হচ্ছে দুঃখের সওদা। তার গর্ভে সওদাগরের সন্তানের বদলে সাপ বড় হচ্ছে। ঢাউস হচ্ছে পেট, দুষ্ট দাসী পানির সঙ্গে সাপের বাচ্চা খাইয়ে দিয়েছে বিবিকে। বানিজ্য সেরে সওদাগর বাড়িতে ফিরে চরিত্রহীন অপবাদে বিবিকে গৃহছাড়া করছে। আহা, বনবাসী বিবির শিথানে বিনবিন করছে দুঃখ। দুঃখে রাজ্যের পশুপাখি কাঁদছে, গুমরে মরছে দিনের আলো, রাতের অন্ধকার। দুঃখ-বেদনায় আমিও মুষড়ে যাচ্ছি&#8230;। তারপর কী হলো? সওদাগর কবে বিবিকে ঘরে তুললো? দুষ্ট দাসীর কী শাস্তি হলো? এই তো গল্প&#8230;কী হলো কী হলো ঔৎসুক্যে মিশে থাকছে হাহাকার, তবু গল্পের সমাপ্তিতে যেতে চাইছি। আবার গল্পের কাছে এমন এক মর্মভেদী সমাপ্তি চাইছি যেন চোখ বুঁজে ফেলার পরেও আত্মার ভেতরে নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি বেজে চলে।</p>
<p style="text-align: justify">গল্পের সৃষ্টিকর্তার কাছে, তার গল্পের কাছে গল্পই চাই; নীতিকথা চাই না, হিসাব পাল্টাতে চাই না জীবনের। গল্পের কাছে চাই গালগপ্পো, যা কখনও কখনও সওদাগরের বিবির পেটে বড় হতে থাকা সাপের মতো গাঁজাখুরি মনে হবে, কখনও কখনও যা কঠিন, নিষ্ঠুর আর অবিচল সত্য হয়ে থাকবে।<br />
গল্প নিয়ে চাওয়া-পাওয়ার এমন সব দোলাচলে ভাসতে ভাসতেই ‘লিলিয়ানা ও একটি ঘরবউনি সাপ’ গ্রন্থের গল্পসমূহ নির্মিত হয়েছে। এই নির্মাণের ধারায় বৈচিত্র্য রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা থাকলেও গল্পগুলো কোনো না কোনোভাবে এক সুতায় বাঁধা পড়েছে। কারণ, এই সংকলনের প্রতিটি গল্পের আখ্যান কোনো না কোনো নারী চরিত্র ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পাঠককে স্বস্তি দিতে তবু জানানোর প্রয়োজন মনে করছি যে, ‘লিলিয়ানা ও একটি ঘরবউনি সাপ’ গ্রন্থের গল্পগুলো কেবল নারীর নয়, পুরুষেরও।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/11/15/%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a5%a5-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাহিত্য নিয়ে এক স্লিপ ॥ নাসরীন জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/09/06/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/09/06/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 06 Sep 2024 16:12:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[নাসরীন জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3282</guid>

					<description><![CDATA[শিল্পের একটি শাখার সাথে আরেকটর সূত্র স্বর্ণলতার মতো জড়িয়ে থাকে।শিল্পের সব মাধ্যমের জন্য আমার দৃষ্টিতে তিনটা বিষয় খুব জরুরি।এক.পঠন। দুই. মানুষ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ। তিন. দলীয় পক্ষপাতিত্ব থেকে অন্তত প্রকাশ্যে মুক্ত &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">শিল্পের একটি শাখার সাথে আরেকটর সূত্র স্বর্ণলতার মতো জড়িয়ে থাকে।শিল্পের সব মাধ্যমের জন্য আমার দৃষ্টিতে তিনটা বিষয় খুব জরুরি।এক.পঠন।<br />
দুই. মানুষ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ।<br />
তিন. দলীয় পক্ষপাতিত্ব থেকে অন্তত প্রকাশ্যে মুক্ত থাকা।</p>
<p style="text-align: justify">মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প উপন্যাস তখন পর্যন্ত কালজয়ী ছিল, যখন তিনি প্রকাশ্য রাজনীতির সাথে জড়াননি।কথাসাহিত্যিক হাজান আজিজুল হক,আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, রিজিয়া রহমানের সান্নিধ্যে এইসব কারণেই<br />
স্মরণীয় লাগে, রাজনীতির কোন ব্যাপারে এঁদের ন্যুনতম অন্ধত্ব ছিল না।<br />
সমালোচনাহীন ছিল না।<br />
আরও নাম নেয়া যায়।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু এক স্লিপে আমার অনুভব বোঝানোর জন্য আপাতত এইটুকু। তাঁদের কাছ থেকে চাতকের মতো অপেক্ষা করে করে বিশ্বসাহিত্যের ভালো বই সম্পর্কে জেনেছি।</p>
<p style="text-align: justify">বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে আশির দশকের বন্ধুদের মাধ্যমে জেনেছি।রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছি, রাজনীতির মধ্যে হেলান না দিয়েই।অসামান্য কবি শঙ্খ ঘোষকে কাছের মানুষ হিসেবে পেয়েছি। তিনি তো রাষ্ট্রীয় পদক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এ দেশের প্রধানতম কবি আল মাহমুদের কবিতাও ধর্মীয় রাজনীতিতে হেলান দেয়ার আগে কেমন ছিল? আহা! গাঙের ঢেউয়ের মতো বলো কন্যা কবুল কবুল! দেশপ্রেম আর রাজনীতি এক নয়।</p>
<p style="text-align: justify">অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি,অনেক শিক্ষিত মানুষও এটা বোঝে না।রাষ্টীয় কারণে আমাদের রাজনীতির আবহে বাস করতে হয়,সেটা অন্য কথা।<br />
রাজনৈতিক চেতনা থাকাও লেখকের জন্য জরুরি।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া যাঁদের নাম নিলাম, তাঁরা সবাই আমার লেখা পড়ে আমাকে খুঁজে নিয়েছেন।এসব অসাধারণ প্রাপ্তি আমার জীবনে আছে।এমন অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্যে থেকে আমার সাহিত্য যথাসম্ভব শেখার চেষ্টা করেছে। এবং জীবনও।</p>
<p style="text-align: justify">এই লেখাটা তাদের জন্য, যারা নানা জায়গা নানাভাবে প্রশ্ন করেন, লেখক হওয়ায় জরুরি বিষয়গুলি কী? আমি তো এখনো হাঁটছি,কিন্তু আমি জীবন থেকে এভাবেই সাহিত্যে নিয়েছি। নিচ্ছি।</p>
<p style="text-align: justify"><em>[লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া ]</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/09/06/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa-%e0%a5%a5-%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>লেখিকা সংঘের সাহিত্য পদক প্রাপ্তি ও অন্যান্য ॥ দিলারা হাফিজ</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/07/13/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/07/13/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 13 Jul 2024 05:17:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[দিলারা হাফিজ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3270</guid>

					<description><![CDATA[গত ৫ জুলাই ২০২৪ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপীসুবর্ণজয়ন্তী উৎযাপন, সাহিত্যপদক ও স্বর্ণপদক প্রদান এবং গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজনটি অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ছিলো।এই মহতী ও মোহনীয় পর্বে লেখিকা সংঘের সাহিত্যপদক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">গত ৫ জুলাই ২০২৪ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপীসুবর্ণজয়ন্তী উৎযাপন, সাহিত্যপদক ও স্বর্ণপদক প্রদান এবং গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজনটি অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ছিলো।এই মহতী ও মোহনীয় পর্বে লেখিকা সংঘের সাহিত্যপদক গ্রহণের জন্যে প্রথমেই আমার নামটি ঘোষণা করা হয়।</p>
<p style="text-align: justify">বিশ্বাস করুন, মঞ্চে ওঠার সেই অভূতপূর্ব মুহূর্তে সবাইকে প্রণতি জানানো ছাড়া মুখে আমার অন্য কোনো ভাষা সরছিলো না। মনে হলো কোনো কোনো আনন্দ মুহূর্ত হয়তো এমনি নির্বাক করে দেয় যে, অলৌকিক সে আনন্দভার থেকে সহসাই ভাষাময় কোনো শব্দ ফুটে বেরুতে পারে না।<br />
তবে এরকম মায়াময় সময় কবি সাহিত্যিকের জীবনে খুব কমই আসে।কেননা, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক জেনে শুনেই-ভাষাশিল্পীর গহণ এই নির্জন পথটি তিনি বেছে নেন।</p>
<p style="text-align: justify">দূর থেকে দূরে-বহু দূরে-সচল সমুদ্র বটে, অচল পাহাড় ঘুরে তাকে যেতে হয় অরণ্যের গভীর থেকে আরো গভীরে!<br />
-সে পথে এত উজ্জ্বল আলো সব সময়ে পৌঁছুতে পারে না।তবু হঠাৎ আলোয় এসে সে খুলে দেয় শিল্প ও শিল্পীর মুখ ও মুখোশ।</p>
<p style="text-align: justify">গতকাল আমার জন্যে এমনি এক বিমূর্ত সময় ছিলো প্রাণময়, পরম প্রতীক্ষিত।এজন্য আমি এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের কর্মকর্তাদেরকে সাদর সম্ভাষণ, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।</p>
<p style="text-align: justify">মঞ্চ এবং মঞ্চের সমুখভাগে যারা উপস্থিত ছিলেন এবং যারা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আসতে পারেননি-তাদের সবার প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা আমার নিরন্তর রইবে জেগে।</p>
<p style="text-align: justify">-যেকোনো পুরস্কার গ্রহণ করা মানেই এক ধরনের অলিখিত অঙ্গীকারে শপথ নেওয়া। আর এ কথা তো বলাই বাহুল্য যে, এ জাতীয় পুরস্কার একজন কবি বা সাহিত্যিককের জন্যে এক ধরনের স্বীকৃতি-অনুপ্রাণিত এবং উৎসাহিত করতে যার কোনোই বিকল্প নেই।</p>
<p style="text-align: justify">অর্ধ শতাব্দী বয়সী এই লেখিকা সংঘের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইডেন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ খোদেজা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক শামস রশীদ-এই দুই মহতীজন শুধু নন, এই কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিয়েছেন যথাক্রমে কবি সুফিয়া কামাল, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, অধ্যাপক আখতার ইমাম, জোবেদা খানম, সৈয়দা লুৎফুন নেসা, নুরজাহান বেগম, কথাসাহিত্যিক মুকবলা মঞ্জুর, ড. খালেদা সালাহ উদ্দিন, নয়ন রহমান ছাড়া আরও যারা আছেন-এই স্বপ্ন জাগানিয়া নারী ব্যক্তিত্বের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।</p>
<p style="text-align: justify">মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, সম্মানিত বিশেষ অতিথি দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সাহিত্যপ্রেমী সম্পাদক তাসমীমা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রিয়জনেষু ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী।</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের সভাপতি অধ্যাপক অনামিকা হক লিলি।যার সঙ্গে দীর্ঘকালের সম্পর্ক।বিশেষভাবে দুজনেই আমরা পেশাগত কারণেই ইডেন কলেজের স্বর্গোদ্যানে পাশাপাশি থেকে জাতির মেরুদণ্ড প্রযত্নের যে কাজ-সেই অধ্যাপনায় ব্রতী ছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">সাধারণ সম্পাদক ও নাট্যব্যক্তিত্ব লিপি মনোয়ার , সাবেক সভাপতি বেগম রিজিয়া হোসাইন-এই গুণীজনদের প্রতি প্রাণময় ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শুভ কামনা নিরন্তর।</p>
<p style="text-align: justify">আমার সন্তানেরা প্রবাসে কিন্তু আমার ও কবি রফিক আজাদের ভালোবাসার ভাতিজি-ভাই-বোন-ভাগনে-ভাগনী-তাদের সন্তানেরা এবং আমার ভক্ত প্রিয় পাঠকেরা, কবিবৃন্দ, হৃদয়ের মানুষেরা আমার চারপাশ ঘিরে ভালোবাসার যে সিম্ফনি তুলেছিলো—আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে রইলেম।<br />
কেবল শূন্য ছিলো হৃদয়মন্দির!<br />
তুমি নেই,তবু বিশ্বাস করতে চাই—সবই দেখছো তুমি,<br />
দূরগামী নক্ষত্র যেভাবে দেখে!</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/07/13/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জাপানে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ॥ প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/06/03/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/06/03/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 03 Jun 2024 14:22:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবীর বিকাশ সরকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3223</guid>

					<description><![CDATA[বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক এবং দার্শনিক কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি মানসে চিরঞ্জীব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক এই কবি শুধু মননশীল সাহিত্য নিয়েই কাজ করেননি, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক এবং দার্শনিক কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি মানসে চিরঞ্জীব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক এই কবি শুধু মননশীল সাহিত্য নিয়েই কাজ করেননি, তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্যতম প্রধান শত্রু, একজন স্বনামধন্য বিপ্লবী বীর। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য বাংলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়েছেন। তাঁর জ্বালাময়ী, তীর্যকভাষাদীপ্ত কবিতার দ্বারা শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই নন, বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, সম্পাদক নেই যিনি উদীপ্ত হননি। শুধু সাহিত্য জগতের বাঙালিরাই নন, বিপ্লবী বীর, স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্মের প্রায় সবাই আলোড়িত এবং উৎসাহিত হয়েছেন। এরকম অকুতোভয়, সাহসী, বিপ্লবী কবি বাংলা প্রদেশসহ ভারতীয় সাহিত্যই শুধু নয়, বিশ্বসাহিত্যেও বিরল বললে কি অতিরিক্ত বলা হবে?</p>
<p style="text-align: justify">কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস এবং সঙ্গীতে শুধু যে স্বাদেশিকতা ও জাগরণের মহিমা বর্ণিত হয়েছে তা নয়, বিশ্বজননীতা, মানবতা, মনুষ্যত্ব এবং অসাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃবোধ স্বমহিমায় মহিমান্বিত। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সর্বজনীন মানবিক আবেদন অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাঁর জীবন, রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা এবং সাহিত্যসাধনা নিয়ে যতখানি বাংলা ভাষায় গবেষণা হয়েছে তার একভাগও হয়নি বিদেশি ভাষায়। তথাপি বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার জন্য কতিপয় বাঙালি গবেষক ইংরেজি ভাষায় তাঁদের গবেষণা বা আলোচনা লিপিবব্ধ করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এশিয়ার অন্যতম প্রধান দেশ জাপানে একাধিক প্রভাবশালী বাঙালি বিপ্লবী এসেছিলেন, কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক আশ্রয়ও গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসু এবং হেরম্বলাল গুপ্ত অন্যতম। তাঁরা যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের দ্রোহভাবাপন্ন কবিতার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না তা বলা যাবে না। বিশেষ করে, ১৯২১ সালে নজরুল ইসলাম কর্তৃক রচিত “বিদ্রোহী” কবিতাটি যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সমগ্র বাংলা অঞ্চলে তার তুলনা নেই বললেই চলে। নিশ্চয়ই উক্ত বাঙালি বিপ্লবীদ্বয়ও আলোড়িত হয়েছেন। ১৯১২ সালে যখন ভারতের শাসক ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে হত্যার জন্য দিল্লি-লাহোর ষড়যন্ত্র করেন এবং ব্যর্থ হন তাঁরা, তখন উপায়ন্তর না দেখে বছর দুয়েক ভারতের বিভিন্ন শহরে পলাতক জীবন কাটান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন ধরা পড়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দেয় তখন বাধ্য হয়ে দুজনে পালিয়ে জাপানে আশ্রয় গ্রহণ করেন ১৯১৫ সালে।</p>
<p style="text-align: justify">১৯২১ সালে যখন কবি নজরুলের “বিদ্রোহ” কবিতাটি তুমুল সাড়া জাগায় বাঙালি মননে, তার সংবাদ জাপান প্রবাসী বিপ্লবীদের কাছে নিঃসন্দেহেই পৌঁছেছিল। তখন তাঁরা উদীপ্ত ও উদ্বেল হয়েছিলেন বলাই বাহুল্য। তাঁরা কি সেই কবিতাটি পাঠ করেননি? অবশ্যই করেছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও প্রবলভাবে নজরুলভক্ত ছিলেন। তিনিও জাপানে এসেছেন এবং জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। সিঙ্গাপুরে গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রধান সেনাপতি হিসেবে তিনি যে গানটি সেনাবাহিনির সমরসঙ্গীত হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন সেটি হল:<br />
“কদম কদম বারহায়ে যা,<br />
খুশি কি গীত গায়ে যা<br />
ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কায়াম কি<br />
তু কায়াম পে লুটায়ে যা&#8230;.”<br />
গানটি লেখা হয়েছিল ১৯৪২ সালে বলে জানা যায়। লিখেছেন বংশিধর শুক্লা এবং সুর করেছেন রাম সিং ঠাকুরি। এই গানটিতে কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত এবং বহুশ্রুত গান “নতুনের গান” এর প্রভাব রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ১৯২৯ সালে সেই গানটি নজরুল রচনা করেন। গানটি হল:<br />
“ চল চল চল<br />
ঊর্ধ গগনে বাজে মাদল<br />
নিম্নে উতলা ধরণী তল<br />
অরুণ প্রাতের তরুণ দল<br />
চলরে চলরে চল&#8230;.”<br />
কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ মনোভাব নেতাজিকে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল তাতে কোনো সন্দেহ দেখি না।<br />
জাপানে অবস্থানকালে নিশ্চয়ই উক্ত মহান বিপ্লবীরা বিদ্রোহী কবির কবিতা স্মরণ করে থাকবেন বলে জোরালোভাবেই মনে হয়। গবেষণা করলে সেই তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস।</p>
<p style="text-align: justify">বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম যে কতিপয় জাপানি গবেষক ও শিল্পীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁদের মধ্যে জাপানশীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক এবং বাংলা ভাষার পণ্ডিত অধ্যাপক কাজুও আজুমা, কবি ও শিল্পসমালোচক কুরাহাশি কেনইচি, কাজিওয়ারা নোবুইউকি, ইয়ানাই কাজুকো, বাংলা সাহিত্যানুরাগী গবেষিকা ও অধ্যাপিকা ড.নিওয়া কিওকো অন্যতম। পাশাপাশি বিশিষ্ট জাপানি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কাম্বে তোমোকো নজরুলগীতির সঙ্গে সুপরিচিত। একবার সাক্ষাৎকালে আমাকে বলেছিলেন নজরুলগীতিও তিনি বিশ্বভারতীর ছাত্রী থাকাকালে শিক্ষালাভ করেছেন। গাইতে পারেন নজরুলগীতি।</p>
<p style="text-align: justify">এই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কাজী নজরুলের নাম আপাতত প্রথম জানা যাচ্ছে একটি মুদ্রিত অনুষ্ঠানসূচি থেকে। মুদ্রণ সাল যদিও উল্লেখিত নেই উক্ত সূচিপত্রে, তবে অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনোরঞ্জন ধরের নাম মুদ্রিত আছে। তিনি ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত ছিলেন। “বেনগারু বুনকা নো ইউবে: শি তো উতা তো অদোরি” (বাংলার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: কবিতা, গান এবং নৃত্য) নামক অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল “বেনগারু বুনকা কিয়োকাই” (বাংলা সংস্কৃতি সমিতি), “বেনগারু ইউ নো কাই” (বাংলা বন্ধু সমিতি) এবং সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল “নিচিইন তাগো-রু কিয়োকাই” (জাপান-ভারত টেগোর সমিতি) এবং “নিহোন-বানগুরাদেশু কিয়োকাই” (জাপান-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন)। এই অনুষ্ঠানের সূচিতে নজরুলের “কাণ্ডারী হুঁশিয়ার” কবিতাটির আবৃত্তি এবং কাজী নজরুল সম্পর্কে ব্যাখ্যাবিষয়ক দুটি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">পরবর্তী দলিল হিসেবে নজরুলের নাম পাওয়া যায়, ১৯৭৪ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখে জাপানে ‘ইউনেসুকো শিম্বুন’ অর্থাৎ ‘ইউনেসকো পত্রিকা’ নামে নিউজপ্রিন্টে মুদ্রিত এক পাতার একটি কাগজে। পত্রিকাটি মূলত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সাহায্য সংগ্রহের আবেদনকৃত একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারপত্র।</p>
<p style="text-align: justify">এই পত্রিকায় মোট ৭টি বিষয় মুদ্রিত। জাপানি লেখা যেহেতু ডানদিক থেকে পড়তে হয় তাই প্রথম বিষয়টি চমকে ওঠার মতো! বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত কবিতা ‘কাণ্ডারী হুশিয়ার’ এর জাপানি ভাষায় অনুবাদ! অনুবাদ করেছেন সেইসময়কার খ্যাতিমান রবীন্দ্রগবেষক, বাংলা ভাষার পণ্ডিত, বিশ্বভারতীর জাপানি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ১৯৭৩ সালে জাপান ভ্রমণের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দোভাষী অধ্যাপক কাজুও আজুমা। অনুবাদকৃত কবিতাটির নাম “কাজি তোরু হিত য়ো কোকোরো ছেও” / কাজি নোজুরুরু ইসুরামু। কবিতাটির শেষে অনুবাদক দুছত্র কথা লিখেছেন, যা বাংলা করলে দাঁড়ায়: “নজরুল ইসলাম, (তাঁর) ৩৪ বছর বয়সের কবিতা। এই কবিতায়, ইসলামের স্বকৃত সুর বিদ্যমান এবং জাতীয় গান অনুসারে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের জনগণদ্বারা সমাদৃত ও গীত।”</p>
<p style="text-align: justify">৪র্থ বিষয়টি হচ্ছে, বিদ্রোহ কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে লিখিত একটি নিবন্ধ। লিখেছেন পূর্বোক্ত অধ্যাপক কাজুও আজুমা। তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয় দিতে গিয়ে বাংলা অঞ্চলকে নবজাগরণ এবং বিদ্রোহের সূতিকাগার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যা বলেছেন বাংলায় তা হল: “বাংলার বিয়োগান্তক ঘটনা, বাংলার তেজোদ্দীপনার বাহক এবং প্রতীক হচ্ছেন নজরুল ইসলাম। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন।”</p>
<p style="text-align: justify">নিবন্ধের এক জায়গায় অধ্যাপক আজুমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছেন, বাংলায় হল: “(নজরুল) ইসলাম প্রবল অনুরাগ নিয়ে স্বাধীনতার মেনিফেস্টো ঘোষণা করেছিলেন, সেই দীর্ঘসূত্র ধরে আজকের বাংলাদেশ স্বাধীনতার বাস্তব রূপ লাভ করেছে। ১৯৪১ সালের পর থেকে বিয়োগী (নজরুল) ইসলাম ভাষাহীন জগতে বাংলার সাক্ষী হয়ে আছেন।</p>
<p style="text-align: justify">(নজরুল) ইসলাম বাংলা ভাষাকে সবকিছু থেকে ভালোবেসেছেন, সবকিছুই বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছেন। সেই বাংলার মাটিতে বাংলা ভাষায় চিন্তা, শিক্ষা গ্রহণ করে বাংলায় প্রকাশ করার অধিকার রক্ষায় বাংলা ভাষা প্রতিরক্ষা আন্দোলন প্রথম ঘটনা হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তিন জন অধ্যাপক স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। অপহরণ করে তাঁদেরকে হত্যা করা হয়। আমরা তাঁদের মধ্যে সবচে খ্যাতিমান মুনীর চৌধুরীকে কয়েক বছর আগে জাপানে অভ্যর্থনা জানিয়ে বাংলা সংস্কৃতির কথা বলতে বলেছিলাম এবং গভীর বন্ধুত্ব করেছিলাম। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকায় গিয়ে বিধবা পত্নীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় সেই বেদনার গভীরতা অনুভব করে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য জীবন দেয়ার নির্মমতায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারিনি!<br />
সেই বাংলা সাহিত্যের দুটি মহাতারকা হচ্ছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুল ইসলাম।”</p>
<p style="text-align: justify">জাপান ইউনেসকোর এই একপাতার পত্রিকাতে বিশিষ্ট জাপানি আলোকচিত্রধারক এবং “শাপলা নীড়” এনজিওর অন্যতম প্রধান কর্মী য়োশিদা শিগেরুর একটি আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি ছোট্ট ছবি যা তৎকালীন অনেক জাপানির দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। উল্লেখ্য যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন জাপানে ব্যাপকভাবে পরিচিত তেমনটি নন কাজী নজরুল ইসলাম। তথাপি, জাপানের (AALA (Asian Association for Language Assessment) Vol.3 ’72/DEC) বেনগারু শিজিন কাজি নোজুরুরু ইসুরামু তোকুশুউ (বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশেষ সংখ্যা) নামক একটি প্রকাশনায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতাটির জাপানি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়, বিলুপ্ত বাংলাদেশ সোসাইটি-জাপান কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ পোট্রেট’ (মার্চ ২৬, ১৯৮১) স্বাধীনতা দিবস স্মারক সংকলন থেকে। কবিতাটির শিরোনাম আধ্যাপক আজুমার অনূদিত শিরোনাম থেকে ভিন্ন “কি অ ৎসুকেরোয়ো ফুনাচোও” (সাবধানে নাবিক) নামে মুদ্রিত। এটা যৌথভাবে অনুবাদ করেছেন যথাক্রমে কবি ও শিল্পসমালোচক কুরাহাশি কেনইচি, কাজিওয়ারা নোবুইউকি এবং ইয়ানাই কাজুকো।</p>
<p style="text-align: justify">বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার জাপানি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে, মূল বাংলা থেকে বিস্তৃতভাবে অনুবাদ করেছেন অধ্যাপিকা নিওয়া কিওকো। “নজরুরু শিশুউ” তথা “নজরুল কবিতা সংকলন” নামে এই গ্রন্থটি ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নজরুলগীতি নিয়েও ব্যাপক গবেষণা করেছেন এবং লিখেছেন মননশীল প্রবন্ধ।<br />
২০১৭ সালের ১২ জুন তারিখে টোকিও বিশ্ববিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে “তাগো-রু তো নজরুরু নো ইউবে: শি নো রোওদোকু তো উতা” (রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল সন্ধ্যা: কবিতা আবৃত্তি ও গান) নামক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাংলা ভাষা বিভাগ কর্তৃপক্ষ। এভাবে ধীরে ধীরে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম জাপানে ছড়িয়ে পড়ছে। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে কবির জীবন, সাহিত্য ও সঙ্গীত নিয়ে আরও আলোচনা ও গবেষণা হবে জাপানি ভাষায়।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/06/03/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বই পড়া নিয়ে মজার গপ্পো ॥ কাজী লাবণ্য</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/04/23/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8b-%e0%a5%a5/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/04/23/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8b-%e0%a5%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 23 Apr 2024 13:46:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[কাজী লাবণ্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3188</guid>

					<description><![CDATA[আলো কেবল ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে।আর বই! বই অতীত থেকে বর্তমান, ভবিষ্যৎ, নিকট থেকে দূর, প্রান্ত থেকে অন্তে এমনকি যুগ থেকে যুগান্তরে আলো পৌঁছে দিতে পারে।তাই দেশকালের সীমানা অতিক্রম করে &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">আলো কেবল ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে।আর বই! বই অতীত থেকে বর্তমান, ভবিষ্যৎ, নিকট থেকে দূর, প্রান্ত থেকে অন্তে এমনকি যুগ থেকে যুগান্তরে আলো পৌঁছে দিতে পারে।তাই দেশকালের সীমানা অতিক্রম করে জ্ঞানের আলোকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে একমাত্র বই।</p>
<p style="text-align: justify">বিনোদন থেকে শিক্ষা, অবসর যাপন থেকে নিঃসঙ্গতার সঙ্গী সবতেই বই উৎকৃষ্ট অবলম্বন।আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলেছেন ‘বইয়ের মত এত বিশ্বস্ত বন্ধু আর নেই’।মহৎ ব্যক্তিবর্গের বই নিয়ে এমন হাজারো মূল্যবান উক্তি আছে।আমার আজকের প্রসঙ্গ তা নয়।আজকের বিষয় ‘বইপড়া নিয়ে মজার ঘটনা’।</p>
<p style="text-align: justify">আমি একজন আজন্ম পড়ুয়া মানুষ।সব সময় বলি আমি হচ্ছি ‘ঠোঙা পড়ুয়া’। সত্যি সত্যি বাড়িতে বাজার সদাই আসত যে কাগজের ঠোঙায় তা না ছিঁড়ে হাত দিয়ে সমান করে যত্নে তুলে রাখত আমাদের বাড়ির কাজের সহায়ক মেয়েটি।স্কুল থেকে ফিরে খেয়ে দেয়ে আমি সেসব নিয়ে বিছানায় গড়াগড়ি করতাম আর গিলতাম।</p>
<p style="text-align: justify">বাড়িতে পড়ার চমৎকার পরিবেশ এবং প্রচুর বই ছিল।আমার আব্বা, মেজো আব্বা, মা, বড়ভাই, মেজোভাই সবাই নিজ নিজ রুচি পছন্দে বিভিন্ন বই, পত্র-পত্রিকা পড়ত।আর ছোট্ট আমি তাঁদের সকলের বইগুলি, পত্রিকাগুলি উই পোকার মতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খেয়ে ফেলতাম।</p>
<p style="text-align: justify">বাড়িতে বই পড়ার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ক্লাসের বই আগে পড়তে হবে এমন নির্দেশনা জারি ছিল।সত্যি বলতে, ক্লাসের বই তেমন টানত না।কিন্তু, উপন্যাস, গল্প, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, নাটক, সমস্ত বই আমাকে চুম্বকের মত টানত।এ যেন এক দুর্নিবার নেশা।</p>
<p style="text-align: justify">অষ্টম, নবম শ্রেণির আগেই দস্যু বনহুর, কুয়াশা সিরিজ, আশুতোষ, নিমাই, ফাল্গুনী, শরৎচন্দ্র, নীহাররঞ্জন, আরো অনেক বই শেষ করে, হাত বাড়িয়েছি সুনীল, সমরেশ, রিজিয়া রহমান, শীর্ষেন্দু, মুজতবা আলী, মীর মোশাররফ হোসেন, আশাপূর্না দেবী, মৈত্রী দেবী, গজেন্দ্রকুমার প্রমুখের প্রতি।সারারাত জেগে এক একটি বৃহৎ ভলিউমের বই শেষ করার বহু নজির আমার ফেলে আসা অতীতের গর্ভে লুকিয়ে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">মেজো আব্বা সেবা প্রকাশনীর প্রতিটি বই নিয়মিত পড়তেন। মাসুদ রানা সিরিজ এবং অন্যান্য অনুবাদ বের হলেই কিনে আনতেন। সামনে আমার স্কুল ফাইনাল, বড়ভাই তখন আইসিএমএ আর মেজোভাই বুয়েটে পড়ে। দুজনেই ঢাকায় থাকে। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এলে অংক দেখিয়ে দিতে বসে আর কিছু উপদেশ দিয়ে টিয়ে আবার ঢাকা চলে যায়।</p>
<p style="text-align: justify">মেজোভাই আমাকে ডেকে বলল, ‘বই পড়িস পড়, কিন্তু সেবা’র কোন বই পড়বি না’।এগুলো কলেজে উঠে তারপর পড়বি।মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানাই।বাড়িতে বড়দের মান্য করার এক অদৃশ্য কড়া কানুন বহাল ছিল। আব্বারা পর্যন্ত নিজ নিজ বড়ভাইদের অসম্ভব সমীহ করতেন। তো মেজোভাই বলে গেল সেবার বই না পড়তে, আমিও বাদ দিলাম।অন্যসব বই পড়ি, সেবা বাদ বা স্থগিত।</p>
<p style="text-align: justify">স্কুল ফাইনাল শেষ।পড়ার জন্য হাতে বই নেই, থাকবে কি করে! বড়ভাই ততদিনে কাজী পাড়ার আর সব কাজিনদের নিয়ে বাড়ি থেকে দূরে ‘আলোর দেয়ালী পাঠাগার’ নামে একটি পাঠাগার গড়ে তুলেছে।বাড়ির যত বই ঝেটিয়ে নিয়ে গেছে।আমার নিরবচ্ছিন্ন ছুটি চলছে, বইয়ের অভাবে অস্থির হয়ে আছি।নতুন বই হাতে না থাকলে পুরান বই আবার পড়তে আমার বিন্দুমাত্র সমস্যা হয় না। কিন্তু নতুন পুরান কোন বই-ই তো নেই। আছে একগাদা পুরনো বিচিত্রা, রোববারসহ বিভিন্ন পত্রিকা।</p>
<p style="text-align: justify">বাধ্য হয়ে, সেসব পড়ি, একের ভেতর পাঁচ বইয়ের রচনা, আত্মকথাগুলি পুনরায় পড়ি কিন্তু মন ভরে না। বই চাই বই।এর মধ্যে মেজো আব্বা একদিন সেবা প্রকাশনীর বেশ কয়েকটা নুতন বই এনেছেন। তা দেখে, আনন্দে আমার বুকের ভেতরে ময়ুর পেখম মেলেছে।তক্কে তক্কে আছি আব্বার কখন পড়া শেষ হবে, পড়া শেষের আগে হাত দেওয়া যাবে না।</p>
<p style="text-align: justify">ছুটিতে বড় দুই ভাই বাড়ি এসেছে।বাড়িতে আনন্দ উৎসব চলছে।অবশ্য আমার মায়ের তদারকিতে বাড়িতে প্রায় সময়ই খাবারের উৎসব চলে। ভাবলাম এইতো কিছুদিন পরেই তো কলেজে উঠব।কাজেই&#8230;<br />
কাজিন রেখা। আমার সবকিছুর সাথী। ওর সাথে পরামর্শ হলো কিভাবে বই দেওয়া নেওয়া হবে।পড়ার টেবিল জানালার পাশে, ওপাশে গোলাপজামের গাছ।রেখা বই নিয়ে পেছনে, গোলাপজাম গাছের তলায় গিয়ে জানালা গলিয়ে আমাকে দেয় আমি কোন একটা বইয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে মহানন্দে পড়ি।শেষ হলে আবার তেমনিভাবে ফেরত দেই। মেজো আব্বা বা মেজো ভাই কেউ কিছু বুঝতে পারে না।একদিন এমনিভাবে বই বিনিময় হচ্ছে একদম আকস্মিক আমার কানের পাশে কি একটা যেন ‘বুম’ করে উঠল।কানে তালা লেগে গেল, মাথা ঝিমঝিম করছে।</p>
<p style="text-align: justify">কাজীপাড়ার মসজিদ থেকে আমাদের ওস্তাদজীর সুরেলা আজান ভেসে আসছে। রাজহাঁসের ঝাঁক হেঁকেডেকে নিজ ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। গোলাপজামের গাছে থোক থোক অন্ধকার বাসা বাঁধছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি ওপাশে রেখা নেই, হাওয়া।এদিকে পেছনে তাকিয়ে দেখি রাগান্বিত মেজোভাই দাঁড়িয়ে আর জানালার শিকের ফাঁকে সেবার মাসুদরানা জ্বলজ্বল করে তাকিয়ে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">একটা কথা আছে না! ‘ফুলের টোকা’! আমার আব্বা আমাকে সারা জীবনে একটা ধমক তো দূরের কথা একটা ফুলের টোকাও দেয়নি। হ্যাঁ, মায়ের হাতে মার খেয়েছি।আর সেদিন মেজোভাইয়ের হাতে কী একটা থাপ্পড় যে খেয়েছিলাম!</p>
<p style="text-align: justify">অথচ, এদিকে মারিও পূজোর ‘গডফাদার’ ১,২,৩,৪ যখন পড়ছি, তখন আব্বাও পড়ছেন। হয়ত আমাকে বলছেন তোর পড়া হলে অমুক ভলিউমটা দিয়ে যাস তো মা।এটি ইতালীয়-মার্কিন লেখক মারিও পুজোর লেখা একটি অপরাধ উপন্যাস বা ক্রাইম ফিকশন।</p>
<p style="text-align: justify">বই পড়া নিয়ে এমন মজার কত হিরন্ময় স্মৃতি যে আছে! পড়া নিয়ে একবার মায়ের হাতেও মার খেয়েছিলাম।</p>
<p style="text-align: justify">আমার যখন বিয়ে হয়ে গেল সবচেয়ে খুশি হয়েছিলাম দুটো ব্যাপারে। এক খাওয়া নিয়ে পীড়াপীড়ি করা নেই আর দিনরাত বই পড়লেও বলার কেউ নেই। অবাধ স্বাধীনতা। কেউ বলে না-রাত অনেক হয়েছে ঘুমা।<br />
অনেক বেলা হয়েছে গোসলে যা এখন পড়ার সময় পড়তে বস এখন খাবার সময় খেতে আয়&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">বিয়ের পরে চিটাগাং এ থাকি। ২০/২২ বছরের ঘোর লাগা তরুণী। ডানে বামে সামনে পেছনে উপরে নিচে যেদিকে তাকাই বিস্মিত হই। মুগ্ধ হই। সেখানকার প্রকৃতি অপরূপ সুন্দর। কোলে আমার দু’বছরের তা তা থৈ থৈ সন্তান।সন্তানের বাবা সরকারি বাংলো পায়নি, ভাড়া বাসায় থাকি লালখান বাজারে।সবকিছু ঠিকঠাক চললেও মন ভালো থাকে না। বইয়ের ভাণ্ডার নেই।একটা দুটো বই দিয়ে আমার ক্ষুধা মেটে না।খুঁজতে খুঁজতে বাসার কাছেই একটি বুকস্টল পেয়ে গেলাম, আমাকে আর পায় কে! বই কিনে আনলাম।পড়লাম, শেষ হয়ে গেল। আরো চাই, আরো, কিন্তু এত দাম! ক’টা কিনব! স্টলে যাই বই নাড়াচাড়া করি অনেক, কিন্তু কেনার সময় মাত্র একটি কিনি তাও আবার শীর্ণকায়। আমার চাই অভিধানের মত ভলিউম। আর দোকানের প্রতিটি তাকে চকচকে মলাটের, মোটা মোটা কত যে বই! আমার মোহাবিষ্ট চোখ প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদে ঘোরে ফেরে।</p>
<p style="text-align: justify">দোকানের ছেলেটির সম্ভবত মায়া হয়।নির্মল মায়া। সমবয়সী ছেলেটি একদিন আমায় বলে,‘আপনি বুঝি খুব বই পড়েন? কিছু না বলে হাতের বইটির পাতা উল্টাই আর স্মিত হাসি’।‘শোনেন, আমিও খুব বই পড়তাম। পড়ার নেশা থেকে বহু কষ্টে নিজের স্বপ্নপূরণ করেছি, এই স্টল দাঁড় করিয়েছি।এখন পড়িও বিক্রিও করি।এটা আমার জন্য খুব আনন্দের, আপনি এক কাজ করেন আপনি একটি দুটি করে বই নিয়ে যান, কিন্তু অনুরোধ বইয়ে কোন দাগ বা ভাঁজ ফেলবেন না।পড়া শেষে দিয়ে যাবেন’।</p>
<p style="text-align: justify">কেউ কি আন্দাজ করতে পারবে, তখন আমার মনের অবস্থা!<br />
আনন্দ, খুশি, এবং অজানা এক অনুভূতিতে ভেতরে ভেতরে কেঁদে ফেলেছিলাম। এরপর সেই স্টল থেকে অসীম সংখ্যক নানাবিধ বই বাসায় এনে আগে খবরের কাগজ দিয়ে মলাট করে, সাবধানে যত্ন সহকারে পড়ে ফেরত দিয়ে আসতাম।এভাবে বছরের পর বছর চলেছে। কী এক অপার্থিব আবেশে দিনরাত কেটে যেত! কোন রকম অমলিনতা, ঝুটঝামেলা আমাকে স্পর্শ করত না। যেন আকাশভরা নক্ষত্রেরা আমায় ঘিরে থাকত। আহা! কত কত বই&#8230;</p>
<p style="text-align: justify">তারপর বদলি হয়ে আমরা ঢাকায় চলে আসি।দুঃখের বিষয় উদার মনের সেই ছেলেটির সাথে কোন যোগাযোগ আর হয়নি।তাকে একটা মামুলি ধন্যবাদও দেইনি, জানি বড় মাপের মানুষেরা ধন্যবাদের তোয়াক্কা করে না।আজ মনে হয় যোগাযোগ রাখা উচিত ছিল।আর আজ এও মনে হয় ছেলেটি দারুণ সুদর্শন ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সে সময় কিন্তু ঘুণাক্ষরেও তা মাথায় আসেনি। কারণ নেশাগ্রস্ত মানুষরা কোনদিকে তাকাবার অবস্থায় থাকে না।নেপোলিয়ানের মত আমিও মনে করি ‘অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল’।সত্যি অচল।</p>
<p style="text-align: justify">সবাইকে আজকের দিবসের শুভেচ্ছা।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/04/23/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8b-%e0%a5%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কবিতার জন্য কাহ্নপা সাহিত্য পদক ২০২৪ ॥ আমিনুল ইসলাম</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/03/28/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/03/28/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 28 Mar 2024 17:49:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গদ্য]]></category>
		<category><![CDATA[আমিনুল ইসলাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3181</guid>

					<description><![CDATA[নওগাঁ জেলার প্রতিনিধিত্বকারী সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক অপেক্ষাকৃত নবীন সংগঠন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদ ২০২৪ সালে প্রবর্তন করলো ‘কাহ্নপা সাহিত্য পদক’। কবিতায় উদ্বোধনী ‘কাহ্নপা পদক ২০২৪’ লাভ করে সম্মানিত বোধ করছি আমি। গত &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নওগাঁ জেলার প্রতিনিধিত্বকারী সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক অপেক্ষাকৃত নবীন সংগঠন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদ ২০২৪ সালে প্রবর্তন করলো ‘কাহ্নপা সাহিত্য পদক’।</p>
<p style="text-align: justify">কবিতায় উদ্বোধনী ‘কাহ্নপা পদক ২০২৪’ লাভ করে সম্মানিত বোধ করছি আমি। গত ৮-৯ মার্চ (২০২৪) দুই দিনব্যাপী আয়োজিত লেখক সম্মেলনের ২য় দিন হলভর্তি অনুষ্ঠানে আমার হাতে ‘কাহ্নপা পদক ২০২৪’, ক্রেস্ট এবং দশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি নওগাঁ জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এ কে এম ফজলে রাব্বি।তিনি আমার গলায় নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন।</p>
<p style="text-align: justify">পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক, নওগাঁর তথ্য সেবা অফিসার বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী তানিয়া খন্দকার এবং কথাসাহিত্যিক রবিউল করিম।</p>
<p style="text-align: justify">মঞ্চে আরও ছিলেন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি অরিন্দম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক কবি আশরাফুল নয়ন।ছোটকাগজ সম্পাদনার জন্য কাহ্নপা সাহিত্য পদক ২০২৪ দেওয়া হয় ‘দাগ’ সম্পাদক মিজানুর রহমান বেলালকে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. গোলাম মওলা।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কবিকুঞ্জ এর সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, বগুড়া লেখক চক্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বকুল, মৃদঙ্গ সম্পাদক কবি কামরুল বাহার আরিফ, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, নওগাঁর জেলা কালচারাল অফিসার মো. তাইফুর রহমান এবং আরও কয়েকজন।সভাপতি ছিলেন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।</p>
<p style="text-align: justify">সাহিত্যের ভুবনে আমি বরেন্দ্রভূমির মুগ্ধ শব্দচাষি।নওগাঁর বিভিন্ন ঐতিহাসিক অনুষঙ্গ নিয়ে আমি অনেক কবিতা লিখেছি।এক কথায় বরেন্দ্রভূমি হচ্ছে আমার কাব্যভাবনার তীর্থভূমি।আমি অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেইন এ দাঁড়িয়েও সেখানকার আদিবাসী মানুষকে দেখার সময় বরেন্দ্রভূমির মানুষের কথা মনে উদয় হয়েছে।আমি সেই অনুভব ও উপলব্ধি নিয়ে লিখেছি:<br />
‘আমি ঘুরি পথে ও প্রান্তরে; সিডনির ব্লু মাউন্টেনে<br />
কৃষ্ণকায় আদিবাসি সাইমনকে দেখে<br />
এই মনে হয়েছিল-<br />
পুরোনো পুঁথির মতো গায়ে তার পরিচিত ঘ্রাণ;<br />
যেন সে আমারই সেই আদি বংশধর-<br />
শিমুলের ফুল গুঁজে তাকিয়ে থাকতো<br />
শবরীর চুলের খোঁপায়;<br />
তুফানের ঢেউ লেগে নৃতাত্ত্বিক তরীখানা<br />
পর্বতের কোল ছেড়ে<br />
ভিড়েছিল একদিন<br />
করতোয়া তীরবর্তী বৃক্ষের পাড়ায় !<br />
আমি তার পাশে বসে উঠিয়েছি বেশ কিছু ছবি;<br />
আমি কি বাতিকগ্রস্ত?<br />
নাকি আমার রয়েছে কোন্ অদ্ভুত ইন্দ্রিয়-<br />
যা আমাকে জাগিয়ে দেয়<br />
ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে নিদ্রিত উঠোনে!’</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3183 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/03/KAHAN2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/03/KAHAN2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2024/03/KAHAN2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">বরেন্দ্রভূমি হচ্ছে চর্যাপদ এর কবিদের পীঠস্থান।কাহ্নপা নওগাঁর সোমপুর বিহার (পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার)-এ বসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পদ রচনা করেছিলেন।তার নামে সাহিত্য পদক প্রবর্তন একটি মহৎ উদ্যোগ।এটা নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে শৈল্পিক অচ্ছেদ্যতায় সংশ্লিষ্ট থাকার প্রেমময় রূপ।আমি এই পুরস্কারের ধারাবাহিকতা এবং উত্তরোত্তর সাফল্য ও সার্থকতা কামনা করি।আমার মনে হয়, এ ধরনের সাহিত্য পুরস্কার আরও বহু আগেই বরেন্দ্রভূমি থেকে চালু করা সমীচীন ছিলো।বাংলা সাহিত্যের শুরু চর্যাপদ দিয়ে এবং সেই চর্যাপদের উৎসভূমি হচ্ছে বরেন্দ্র বা প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন।কথায় বলে, ভালো কাজ দেরিতে হলেও ভালো।মহৎ উদ্যোগ, চমৎকার আয়োজন এবং সফল অনুষ্ঠান-এই সবকিছুর জন্য আমি নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সম্মানিত সভাপতি অরিন্দম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম এবং অন্যান্য সদস্যের আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/03/28/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
