<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>উপন্যাস &#8211; যোগসূত্র</title>
	<atom:link href="https://www.jogsutra.com/category/novel/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<description>সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্তর্জাল</description>
	<lastBuildDate>Thu, 15 Jan 2026 04:17:00 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.1</generator>

<image>
	<url>https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2021/01/cropped-jogsutra-32x32.png</url>
	<title>উপন্যাস &#8211; যোগসূত্র</title>
	<link>https://www.jogsutra.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>‘অনার্য বৃক্ষযুগল’ উপন্যাসের পাঠ উন্মোচন</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2026/01/15/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2026/01/15/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 15 Jan 2026 04:17:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3451</guid>

					<description><![CDATA[নুসরাত সুলতানার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অনার্য বৃক্ষযুগল’ নিয়ে পাঠ উন্মোচন আয়োজন করা হয় সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে। রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘বিকল্প ভাবনার’ অফিসে এই অনুষ্ঠানে লেখক, প্রকাশক, আলোচক ও সমালোচক &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নুসরাত সুলতানার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অনার্য বৃক্ষযুগল’ নিয়ে পাঠ উন্মোচন আয়োজন করা হয় সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে। রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘বিকল্প ভাবনার’ অফিসে এই অনুষ্ঠানে লেখক, প্রকাশক, আলোচক ও সমালোচক মিলিয়ে জমজমাট সময় অতিবাহিত হয়।</p>
<p style="text-align: justify">শিক্ষাবিদ লুৎফুননাহার খুকুমণির সভাপতিত্বে পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন কবি, প্রাবন্ধিক ও প্রকাশক লুৎফুল হোসেন, কথাসাহিত্যিক ও কবি রেদওয়ান খান, কবি ও কথাসাহিত্যিক শাবানা ইসলাম বন্যা।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাস ‘অনার্য বৃক্ষযুগল’ সম্পর্কে লুৎফুল হোসেন বলেন, “অনার্য বৃক্ষযুগল উপন্যাসে লেখক গল্পের ছলে পঁচাত্তর বছরের ইতিহাস তুলে এনেছেন।”</p>
<p style="text-align: justify">রেদওয়ান খান বলেন, “মূল ইতিহাসের সাল, তারিখ দিন লেখক তুলে এনেছেন। এটি অবশ্যই তার মুন্সীয়ানা। তবে এত ইতিহাস প্রয়োজন আছে কি না সেটা আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। বেশি ইতিহাসের জন্য অনেক সময় চরিত্রের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”</p>
<p style="text-align: justify">শাবানা ইসলাম বন্যা বলেন,“এই উপন্যাস আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে।কারণ আমি নিজের বাবাকে এই উপন্যাসের মূল চরিত্র আরিফুলের সাথে রিলেট করতে পেরেছি। তাছাড়া লেখক যেভাবে ইতিহাস তুলে এনেছেন তাতে মনে হয় তিনি সেখানে ছিলেন। এটা অবশ্যই লেখকের মুন্সীয়ানা।”<br />
তিনি আরো বলেন, “উপন্যাসে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার উপন্যাসটিকে এক ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।”</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসের লেখক নুসরাত সুলতানা বলেন, “আমার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অনার্য বৃক্ষযুগল’। প্রথমে লিখতে শুরু করেছিলাম ২০১৮ সালে। ভেবেছিলাম দশ হাজার শব্দের একটা বড় গল্প লিখব। নাম হবে পিরামিড। তারপর সব ফেলে ২০২০ এ আবার লিখতে শুরু করি সমাজ বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার উপন্যাস অনার্য বৃক্ষযুগল। এর ভেতর ২০২২ সালে লিখি আরেকটা উপন্যাস ‘রাতের হাতে দিনের তসবীদানা’। এই উপন্যাসে ফিরি ২০২৩ সালে আবার। তখন করোটিতে আর কিছু ছিল না এই উপন্যাসের। আবার পুরো উপন্যাস পড়ে তারপর ০২০২৪ এ শেষ করি অনার্য বৃক্ষযুগল। আজ সেই ১৬ ফর্মার উপন্যাস পাঠকের হাতে যেতে প্রস্তুত। আমি আনন্দিত এবং উদ্বেলিত। পাঠক উপন্যাস পড়বেন এবং আলোচনা, সমালোচনা করবেন। এই প্রত্যাশাটুকু পাঠকের কাছে গভীর ভাবেই রাখছি।”</p>
<p style="text-align: justify">অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ রফিক আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক গিয়াসউদ্দিন চাষা, কবি ও গবেষক পারভেজ বাবুল, কবি ও অনুবাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক ইশরাত জাহান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি সবুজ মনির।</p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে অনুপ্রাণন প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আইয়ুব আল আমিন।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2026/01/15/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বইয়ের দোকানে বসে ৭ দিনে লিখলেন উপন্যাস</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2025/09/21/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a7%ad-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2025/09/21/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a7%ad-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 21 Sep 2025 06:01:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3432</guid>

					<description><![CDATA[দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গিল্ডফোর্ডের একটি বইয়ের দোকানের কোণে বসে প্রতিদিন আট ঘণ্টা লিখে নতুন উপন্যাস শেষ করেছেন ক্যাথরিন ক্রফট। তিনি বলেছেন, এটা দারুণ একটি অভিজ্ঞতা। তবে আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গিল্ডফোর্ডের একটি বইয়ের দোকানের কোণে বসে প্রতিদিন আট ঘণ্টা লিখে নতুন উপন্যাস শেষ করেছেন ক্যাথরিন ক্রফট। তিনি বলেছেন, এটা দারুণ একটি অভিজ্ঞতা। তবে আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ।</p>
<p style="text-align: justify">সাত দিন ধরে টানা লেখার সময় ক্যাথরিন ক্রফটকে লাইভস্ট্রিম করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল ৮০ হাজার শব্দ লেখা। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার শব্দের প্রথম খসড়া শেষ করতে পারেন।</p>
<p style="text-align: justify">ক্যাথরিন ক্রফট গত ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে লেখা শুরু করেন এবং ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় শেষ করেন।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-medium wp-image-3434 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2025/09/catherin-crif2-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2025/09/catherin-crif2-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2025/09/catherin-crif2.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">ক্রফট মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার লেখেন। তার নতুন বইটি মূলত একজন নারীর গল্প। তার সঙ্গে একজনের দেখা করার কথা। তবে সেই ব্যক্তিকে তিনি খুন হওয়া অবস্থায় দেখতে পান।তারপর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে লড়াই শুরু করেন।</p>
<p style="text-align: justify">ক্যাথরিন ক্রফটের ভাষ্য, আমি লেখার শব্দগুলোর ব্যাপারে সচেতন। শুধু কিছু লিখে শেষ করতে চাইনি।তাই পিছিয়েও পড়েছিলাম। প্রথম খসড়ার জন্য ৫০ হাজার শব্দ মোটেও খারাপ নয়।</p>
<p style="text-align: justify">নাম ঠিক না হওয়া উপন্যাসটি ২০২৭ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা। এটা হবে তার ২০তম বই।</p>
<p style="text-align: justify">সূত্র: বিবিসি</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2025/09/21/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a7%ad-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>‘লেনিন’ উপন্যাসের প্রকাশনা উৎসব ॥ ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখা জটিল</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2024/01/27/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2024/01/27/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 Jan 2024 05:57:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3087</guid>

					<description><![CDATA[ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখা যেমন জটিল কাজ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণও।এমন লেখায় শিল্পমান বজায় রাখা খুব কঠিন কাজ। তারপরও রুশ বিপ্লবের স্থপতি লেনিনের জীবনভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ‘লেনিন’-এর বয়ান বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ।তাই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখা যেমন জটিল কাজ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণও।এমন লেখায় শিল্পমান বজায় রাখা খুব কঠিন কাজ। তারপরও রুশ বিপ্লবের স্থপতি লেনিনের জীবনভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ‘লেনিন’-এর বয়ান বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ।তাই এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে অনেক পাঠক আবিষ্কার করতে পারেন নতুন লেনিনকে।</p>
<p style="text-align: justify">গত শনিবার (২১ জানুয়ারি ২০২৪) ‘লেনিন’ উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন এবং প্রকাশনা উৎসবে আলোচকদের বক্তব্যে উঠে আসে এসব কথা। বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় প্রকাশনা উৎসব। ২১ জানুয়ারি ছিলো ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের মৃত্যুর শতবর্ষ। দিনটি স্মরণ রেখে লেখক আশানুর রহমানের লেখা উপন্যাস লেনিন–এর প্রকাশনা উৎসব হয়।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, যার ভাবনাকে ধরে পৃথিবী নতুন মাত্রা পায়, তেমন মানুষকে নিয়ে উপন্যাস লেখা এবং শিল্পমান বজায় রাখা খুব কঠিন কাজ। পরিশ্রম করলেই সাহিত্য ভালো হবে, এমন শর্ত সব সময় সত্যি না–ও হতে পারে। তবে আশানুর রহমানের উপন্যাসটি ভালো হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify">ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক ও লেখক নূরুল কবীর লেনিনের রাজনৈতিক জীবনের ওপর আলোকপাত করে আলোচনা করেন।তিনি বলেন, শুধু বঞ্চিত মানুষ, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানোর ভাবনা থেকে বিপ্লব হয়নি। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা থেকে এসেছে। সামগ্রিকভাবে মানুষের ভালোর জন্য, সমাজের জন্য বিপ্লবের চেতনা এসেছে।</p>
<p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মশিউল আলমের বক্তব্যে উঠে আসে আশানুর রহমানের উপন্যাসে লেনিনের নানা প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, এ উপন্যাসের বয়ানের সুর বস্তুনিষ্ঠ ও নির্মোহভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। লেখক নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে একজন লেনিনকে মানবিকভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">কবি ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন বলেন, কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত লেনিন উপন্যাসে ব্যক্তি লেনিনের চরিত্র, সংগ্রাম, বৈপরীত্য, দুঃখকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগমের বক্তব্যে উঠে আসে লেনিন উপন্যাসের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কথা।তিনি বলেন, লেখক উপন্যাসের সূত্রে ব্যক্তিগত লেনিনকে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ রূপের ছবি আঁকতে চেয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘মৃত্যুশতবার্ষিকীতে বাংলায় লেনিনকে নিয়ে উপন্যাস প্রকাশ আমাদের জন্য গর্বের। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের এক মহান চরিত্রকে সাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন লেখক।’</p>
<p style="text-align: justify">লেনিন উপন্যাসের লেখক আশানুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ ছয় বছর এই উপন্যাসের জন্য প্রস্তুতির কথা। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত পাঠকের মতামতই শেষ মতামত।</p>
<p style="text-align: justify">আলোচনা পর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান কথাপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন।অনুষ্ঠানের পর মোড়ক উন্মোচন হয় লেনিন উপন্যাসের।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2024/01/27/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাজী লাবণ্যর নতুন উপন্যাস অনশ্রু ঈশ্বর</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/12/28/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/12/28/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 28 Dec 2023 16:04:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=3016</guid>

					<description><![CDATA[সমাজের সবচেয়ে উঁচু আর সবচেয়ে নিচুতলার দুই নারীর জীবন যুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়েছে কাহিনি।এসেছে হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনযাপনের করুণচিত্র।এসব নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কথাসাহিত্যিক কাজী লাবণ্য। কাজী লাবণ্য যোগসূত্রকে বলেন, নানাবিধ উপেক্ষা, &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">সমাজের সবচেয়ে উঁচু আর সবচেয়ে নিচুতলার দুই নারীর জীবন যুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়েছে কাহিনি।এসেছে হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনযাপনের করুণচিত্র।এসব নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কথাসাহিত্যিক কাজী লাবণ্য।</p>
<p style="text-align: justify">কাজী লাবণ্য যোগসূত্রকে বলেন, নানাবিধ উপেক্ষা, বিভাজন, বঞ্চনার মধ্য থেকে দু-একজন মানুষ সমাজের কদর্য চিত্রে আলো ফেলতে চায়। চায়, না-মানুষদেরকে অধিকার বা আলোর পথে আনতে।সেই চাওয়ার কাহিনিই কখনো কখনো ঢুকে পড়ে সিনেমা, নাটক কিংবা গল্প, উপন্যাসের ফ্রেমে।সেই ফ্রেমের নাম ‘অনশ্রু ঈশ্বর’।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-3018 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/12/labonno8-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/12/labonno8-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/12/labonno8.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">উপন্যাসটি আগামী বইমেলায় (২০২৪) প্রকাশিত হবে। বইটি প্রকাশ করছে বিদ্যা প্রকাশ।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/12/28/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৮ এবং শেষ পর্ব) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/10/14/2903/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/10/14/2903/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 14 Oct 2023 03:48:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2903</guid>

					<description><![CDATA[তারপর মাত্র ঘণ্টা তিনেকের আয়োজনে মনা ও আকাশের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকটা ঘরোয়াভাবেই।দুই পরিবারের সবারই ইচ্ছে আছে কয়েকদিন পর ঘটা করে ওদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের। মেয়েকে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">তারপর মাত্র ঘণ্টা তিনেকের আয়োজনে মনা ও আকাশের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকটা ঘরোয়াভাবেই।দুই পরিবারের সবারই ইচ্ছে আছে কয়েকদিন পর ঘটা করে ওদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের।</p>
<p style="text-align: justify">মেয়েকে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বারান্দায় বসে আছেন মনা-র বাবা-মা। তাদের মনে বিষাদের ছায়া।</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ মকবুল হোসেন খানের ফোনে মনার ফোন থেকে কল এলো। দুজনেই অবাক হলেন।তবে প্রথমবার কলটা রিসিভ করলেন না মনার বাবা।অনেক সময় অসাবধানতাবশত কল চলে আসে, এটা ভেবে।কিন্তু আবার কল এল এবং তিনি ফোন তুললেন, হ্যালো মনা, কোনো সমস্যা মা?</p>
<p style="text-align: justify">না বাবা। আসলে একটি কথা তোমাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছিলাম। আচ্ছা বাবা, আমাদের বংশের একটি অংশ ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপারে আছে না? ঠিক কোন জায়গায় বলতে পার?</p>
<p style="text-align: justify">মকবুল হোসেন খান চমকে উঠলেন। তোমাকে এই কথা কে বলল? আর এখন এই প্রশ্ন কেন মা?<br />
বাবা, তোমার কাছে কিছু জানতে চাইবার এই এক সমস্যা, উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করে বসো। মা-কে দাও প্লিজ!</p>
<p style="text-align: justify">রাহেলা খানম ফোন ধরে কাঁপা গলায় বললেন, হ্যালো।তিনি কাঁদছেন!<br />
হ্যাঁ মা, খেয়েছ কিছু? বাবা খেয়েছে? আচ্ছা মা, কবরের কাছে গেলে কী দোয়া পড়তে হয় যেন? ভুলে গেছি।তুমি আবার বাবার মতো উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করো না।আসলে আমার দাদা শ্বশুর মশাইয়ের কবর বৈঠক ঘরের পাশে।ওই কবরের পাশ দিয়েই বাড়িতে ঢুকতে হয়।তো কবরের কাছাকাছি এসে দোয়াটি খুব মনে করবার চেষ্টা করলাম, কিছুতেই মনে করতে পারলাম না! বলো মা।<br />
আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর।<br />
ঠিকাছে মা, রাখি। মনা ফোন রেখে দিল।<br />
ওর বাবা-মার বিস্ময়ের সীমা রইল না!</p>
<p style="text-align: justify">ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের উত্তরপ্রান্তে যে বাজার তাতে একজনকে পাওয়া গেল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছে।মনা লোকটির সামনে গাড়ি থামাতে আকাশকে ইশারা করল।বলল, ওনাকে জিজ্ঞেস কর সৈয়দ বাড়িতে যেতে হবে কোনদিক দিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">লোকটি চার চাকার গাড়ি দেখে সম্ভ্রমের সাথেই বলল, একটু আগাইলেই দেখবেন একটা রাস্তা পশ্চিমে গেছে।ঐ রাস্তা দিয়া দুই-তিন মিনিট আগাইলে একটা মজ্জিদ পাইবেন।হের পিছনের বাড়িই সয়দ বাড়ি। আপনেরা কার ইষ্টি?</p>
<p style="text-align: justify">ভাই, ওই পূর্ণ&#8230;ডিসি অফিসে চাকরি করত।বলল মনা।<br />
ও পুন্ন! হে ত&#8217; মইরাই গেছে! ও ত&#8217; সয়দ বাড়ির পোলা না, নাতি আছিল। ঐ বাড়ির দক্ষিণ মাথায় দেকবেন একটা ছোট্ট বাড়ির উডানে দুইডা কবর আছে। একটা অর দাদার আর একটা অর।অর মা আছে বাড়িত&#8217;। হয়ত শুনবেন কানতাছে!</p>
<p style="text-align: justify">একজনের কাছ থেকে এতগুলো তথ্য পাবে ওরা আশা করেনি।আকাশ তো ভেবেছিল এতরাতে বাড়ি খুঁজে বের করাই সম্ভব হবে না।<br />
তালুকদার বাড়ি থেকে ওরা বেরিয়েছে ঘণ্টাখানেক আগে।অথচ এটা ওদের ফুলশয্যার রাত!</p>
<p style="text-align: justify">হুটহাট করে এবং ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহ হয়েছে বলে বাড়িতে অতিরিক্ত কোনো লোকজন ছিল না।আতাউর রহমান তালুকদার ও মিতা হক, দুজনেই কয়েক ঘণ্টার পরিশ্রমে ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন তাই এগারোটা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়েছেন।সেই সুযোগে আকাশকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে মনা।বরের গাড়ির চাবিটা সে আগেই সরিয়ে রেখেছিল! রেন্ট-এ কারের লোকটি, আকাশের বন্ধু, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও চাবি না পেয়ে বলে গেছিল, ডুপ্লিকেট চাবিসহ সকালে এসে গাড়ি নিয়ে যাব।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>আকাশ বাসরঘরে মনার হাতে চাবি দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি গাড়ির চাবি লুকিয়ে রেখেছ কেন?</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">এটা ওর শাস্তি।দুষ্টুমির ছলে বলেছিল মনা।তোমার হাঁদারাম বন্ধুর মনোযোগ রাস্তার চেয়ে বেশি লুকিং গ্লাসে ছিল কেন? তাছাড়া এই রাতে লং ড্রাইভে যাব, এটা আমার বহুদিনের দুর্দমনীয় ইচ্ছে!</p>
<p style="text-align: justify">সেই থেকে আকাশের অবাক হওয়ার শুরু।যা এখনো চলছে! ও এখনো স্পষ্ট করে জানে না যে, মনা ফুলশয্যার রাতে ওকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে! কে এই পূর্ণ? সৈয়দ বাড়ির সাথে খান বাড়ির কী সম্পর্ক?</p>
<p style="text-align: justify">মসজিদের পেছনে একটি বড়ো বাড়ি দেখে ওরা বুঝল এটাই সৈয়দ বাড়ি।সারিবদ্ধ অনেকগুলো ঘর।কোনোটি ইটের আবার কোনোটি টিনের, কিন্তু সবগুলোতেই বনেদিয়ানার ছাপ আছে।</p>
<p style="text-align: justify">দক্ষিণে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরু একটি পায়ে হাঁটা পথ দেখতে পেল ওরা। গাড়ি থেকে নেমে সেই পথ ধরে দুজন হাঁটতে লাগল।</p>
<p style="text-align: justify">পথের লোকটির বর্ণনা অনুযায়ী সৈয়দ বাড়ির শেষপ্রান্তে গিয়ে সত্যি ছোট্ট একটি বাড়ি দেখতে পেল ওরা।বাড়ির বাইরের উঠোনে দুটো কবর, পাশাপাশি, শান বাঁধানো।দেখে আক্ষরিক অর্থেই কেঁপে উঠল মনা।ধীরপায়ে কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াল সে।ওর পাশে আকাশ।<br />
ওপরের আকাশে তখন লুকোচুরি চলছে টুকরো টুকরো মেঘে আর পূর্ণিমার চাঁদে! ফাল্গুনী পূর্ণিমায় হঠাৎ মেঘেদের আনাগোনা! আকাশের উত্তরকোণে ধীরে ধীরে জমছে মেঘ, মনখারাপের মতো!</p>
<p style="text-align: justify">মনা জানে না, ওর প্রিয় বন্ধু পলি, যার রক্ষণশীল একটি পরিবারে বিয়ে হয়েছিল, ওর আবারও একটি ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে।কিন্তু ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন চেয়েছিল এবার ছেলে হোক! ফলে ওকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত! এই মুহূর্তে পলি দাঁড়িয়ে আছে বাসার বারান্দায়। ওর দুচোখ ছাপানো অশ্রু-ই কি তবে জমছে আকাশে?</p>
<p style="text-align: justify">মনা এ-ও জানে না, পাখির ডানা পাওয়া ঝুমা-টা এখন নেশাগ্রস্ত স্বামীর সঙ-সার সামলাতে সামলাতে হাঁপিয়ে উঠেছে।তবে কি ওর দীর্ঘশ্বাস-ই মেঘেদের উড়িয়ে নিচ্ছে আকাশের উত্তরকোণে?</p>
<p style="text-align: justify">মনা এখনো টের পায়নি, বরকে নিয়ে যার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করছে তার মা নিঃশব্দে কাঁদছেন ওদের ঠিক পেছনের ঘরে শুয়ে! তার অন্তরের আহাজারি কি মেঘেদের কানে বোধন মন্ত্র জপছে?</p>
<p style="text-align: justify">মোনাজাত শেষে মনা ওপরের দিকে তাকাল।দেখল, পূর্ণ উঠে যাচ্ছে মহাশূন্যে! ও হাত নাড়ছে! প্রতিত্তোরে মনা-ও হাত নাড়ল।<br />
আকাশ তালুকদার কিছুটা বিরক্তি মেশানো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, তুমি ওপরের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছ কেন?</p>
<p style="text-align: justify">ওর খুব মনখারাপ! সেই মনখারাপ থেকেই বিরক্তির উৎপত্তি হয়েছে! মনখারাপ মনার কারণেই।ফুলশয্যার রাতে এই এতদূর সে এসেছে মনার রহস্যময় কথার জালে ফেঁসে। ভেবেছিল এখানে এসে সেই রহস্যের জট খুলে একটি দুর্দান্ত গল্প সে পেয়ে যাবে। এখন দেখছে রহস্য-টহস্য কিছু নয়, মনা এখানে এসেছে পূর্ণ-র কবরে দোয়া করতে! কে ছিল এই পূর্ণ? কোনো পীর-দরবেশ? ও জানে না!</p>
<p style="text-align: justify">মনা আকাশের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, এই মুহূর্ত থেকে তুমি পরিপূর্ণভাবে আমার!&#8230;. চলো, মেঘ জমেছে। যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে।</p>
<p style="text-align: justify">ওরা পূর্ণদের বাড়ি থেকে সরু পথটায় নামতেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হলো! কিন্তু ওরা ছুটে গেল না! আগের মতোই ধীরপায়ে হেঁটে ভিজতে ভিজতে গাড়ির দিকে এগিয়ে চলল।</p>
<p style="text-align: justify">বৃষ্টির কয়েকটি ফোঁটা মনার মুখমণ্ডল স্পর্শ করতেই ওর মনে হলো, এটা অসময়ের বৃষ্টি নয়, কারোর আশীর্বাদ যেন ঝরে পড়ছে ওদের ওপর! ও ওপরের দিকে তাকাল। নাহ্, কেউ নেই!</p>
<p style="text-align: justify">হঠাৎ একরাশ শূন্যতা ওকে জাপটে ধরল এবং তক্ষুণি ওর কপালের ঠিক মাঝখানটায় একটা আদুরে স্পর্শ জেগে উঠল! সে জানে এই মায়ার পরশ ওর জ্যেঠিমা ময়নামতির! মুহূর্তেই শূন্যতা উধাও, আর মনার হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল প্রশান্তি! যার আবেশে ওর চোখ বুঁজে এল।<br />
তখনই হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল মনা, কিন্তু আলোভরা দুটো হাত চট করে ওকে ধরে ফেলল।</p>
<p style="text-align: justify"><em>/সমাপ্ত/</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/10/14/2903/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৭) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/09/15/2870/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/09/15/2870/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Sep 2023 05:21:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2870</guid>

					<description><![CDATA[না গো মা, আইজ এইখানে ত’ কোনো এক্সিডেন্ট হয় নাই! তুমারে কে কইল? মনা ছটফট করছে।আমাকে একজন ফোন দিয়েছিল কাকা।সে বলেছে, তার এক্সিডেন্ট হয়েছে এবং আজিজ মাস্টার চত্বরে আছে। না &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">না গো মা, আইজ এইখানে ত’ কোনো এক্সিডেন্ট হয় নাই! তুমারে কে কইল? মনা ছটফট করছে।আমাকে একজন ফোন দিয়েছিল কাকা।সে বলেছে, তার এক্সিডেন্ট হয়েছে এবং আজিজ মাস্টার চত্বরে আছে।<br />
না গো, আমি সকাল সাতটায় আইয়া দোকান খুলছি।কোনোকিছু হইলে আমি দেহুম না, কও?<br />
তাহলে ওগুলো ভাঙা কেন?<br />
ওগলা কাইলকা পুলিশ ভাইঙ্গা দিছে।সরকারি জাগায় অবৈধ দোকান দিছিল।ঐহানে ঘর তুলার পারমিশন নাই ত’।<br />
তাহলে কি অন্য কোথাও হয়েছে কাকা?<br />
হইবার পারে।তোমরা এককাম কর, হসপিটালে যাও।ঐখানে গেলেই খবর পাইবা।</p>
<p style="text-align: justify">ঠিকাছে কাকা। আপনাকে ধন্যবাদ।<br />
মনা বাইকে উঠতে উঠতে মেহেদীকে বলল, চল্, জেনারেল হসপিটালে খোঁজ নিই।<br />
সাথে সাথে বাইক আজিজ মাস্টার চত্বর থেকে ছুটল উত্তরদিকে।ওদের মাথার ওপরে ফাল্গুনের সূর্য।রোদ ততটা প্রখর নয় আর হাওয়ায় এখনো উত্তুরে টান আছে।তবু উত্তেজনায় দরদর করে ঘামছে মনা।<br />
রাতে তালুকদার বাড়ি থেকে ফেরার পর অনেকবার ফোনে পূরণকে ট্রাই করেছে সে।ফোন বন্ধ ছিল।সকাল দশটার আগে আগে পূরণ নিজেই কল দিয়েছিল মনাকে।ওর কাছ থেকে এক্সিডেন্টের খবর পেয়েই ছুটে এসেছে ওরা।</p>
<p style="text-align: justify">২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ওদের জানানো হলো, আজ এখন পর্যন্ত কোনো এক্সিডেন্টাল কেইস আসেনি।<br />
ব্যর্থ মনোরথে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসবার সময় আবারও ফোনে ট্রাই করল মনা।সেই একই অবস্থা, ফোন বন্ধ।বাইক পুলিশ সুপারের কার্যালয় পেরোনোর পরপরই ও মেহেদীকে বলল, ডিসি অফিসে ঢুকে যা।<br />
এবার কিছুটা রেগে গেল মেহেদী। ডিসি অফিসে ঢুকে কী করব? শুধু শুধু ঘুরছি।আরে বুদ্ধু, ও তো এই অফিসেই চাকরি করে।এখান থেকে নিশ্চয়ই কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যাবে।</p>
<p style="text-align: justify">জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা গেল পূরণ পাশের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় বসে।সংবাদ পড়বার মতো করে তথ্যটি বলল তথ্যকেন্দ্রের মেয়েটি, ভুল এক্সপ্রেশনে। যেন সবকিছুই স্বাভাবিক। মনার চোখে পড়লেও গায়ে মাখল না।ছুটল গন্তব্যে।</p>
<p style="text-align: justify">একটি রুম পার হতেই বারান্দায় একজনকে পেয়ে গেল মনা। পূরণের নাম বলতেই সামনের রুমটি দেখিয়ে দিল লোকটি। দ্রুত মেহেদীকে নিয়ে ও সেখানে ঢুকল।<br />
তিনটি চেয়ারে তিনজন বসে আছে। মনা দেখল কেউ-ই পূরণ নয়। ও কাঁপা গলায় বলল, পূরণ!<br />
আমি পূরণ। কী বলবেন, বলুন। একজন কিছুটা ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল।<br />
না মানে আমি যে পূরণকে&#8230;!<br />
আপু, ডিসি অফিসে পূরণ একজনই, আর সেটা আমি।<br />
কিন্তু আমি ওকে চিনি।মানে একবার জে-মার্টে দেখেছি।<br />
একবার দেখেছেন।&#8230;. কি আপু, কোনো সমস্যা? মানে ধান্ধাবাজি করে এখানে কোনো কাজ করে দেবে বলে টাকাপয়সা নিয়েছে?<br />
না না! আসলে পূরণের এক্সিডেন্ট&#8230;.।</p>
<p style="text-align: justify">আপনি কোন পূরণের কথা বলছেন জানি না।ডিসি অফিসে আমি একজনই পূরণ, আরফাতুল ইসলাম পূরণ। আর দেখতেই তো পাচ্ছেন আমার কোনো এক্সিডেন্ট-ফ্যাক্সিডেন্ট হয় নাই।<br />
এসব শুনে বারান্দার লোকটি ভেতরে ঢুকে বলল, স্যার, আপায় মনে হয় পূর্ণ স্যার রে খুঁজতে আসছেন।এক্সিডেন্টের কথা বলতেছেন শুনলেন না?<br />
হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়েছে আব্দুল ভাই।&#8230;.আপু, ওনার নাম ছিল পূর্ণ।&#8230;.পূর্ণ ভাইয়ের পুরা নামটা যেন কী ছিল, আব্দুল ভাই?<br />
স্যার, ওনার নাম ছিল মহিবুল হাসান পূর্ণ।</p>
<p style="text-align: justify">হ্যাঁ আপু, কাছাকাছি নাম তো, আপনার মতো অনেকেই ভুল করত। আপনার কথা সত্য, উনি গত বছর এই এপ্রিল মাসেই এক্সিডেন্টে মারা গেছেন। অফিসে আসার পথে, এই আজিজ মাস্টার চত্বরেই, একটা ট্রাক ব্রেক ফেল করে ওনার পা দুইটা পিষে দিয়েছিল! হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকার পঙ্গুতে রেফার করেছিল ডাক্তার। কিন্তু শহর থেকে একটু দূরের একটা মোড়ে একটা বটগাছ আছে ওখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।</p>
<p style="text-align: justify">মনা বিস্ফারিত নয়নে পূরণ নামের লোকটার কথা শুনছিল।<br />
আরে আপু, আপনি ওভাবে কী দেখছেন? পূর্ণ ভাই&#8230;.।<br />
মনা দেখছে, লোকটার চেয়ারের পাশে সেই অ্যাডাল্ট ওয়াকার।<br />
তখনই লোকটার সিনিয়র একজন রুমে ঢুকলে সে চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে খুব কষ্টে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল।তার পা দুটো যেন দুমড়ে মুচড়ে যেতে চাইছে।</p>
<p style="text-align: justify">সাথে সাথে দুলে উঠল মনার পৃথিবী।আর সে টাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।<br />
আকাশ তালুকদার সকাল সকাল অফিসে চলে এসেছে।<br />
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত টানা ঘুমিয়ে সকালে বেশ ঝরঝরে লাগছিল ওর। তাই মিতা হককে বলেছিল, মা, শরীর ভালো লাগছে। আজ কোন বার?</p>
<p style="text-align: justify">ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুনে খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার।তুই সকালে কী খাবি বল।<br />
খুব খিদে পেয়েছে মা।যা করবে তাড়াতাড়ি করো।খেয়ে অফিসে যাব।<br />
অফিসে যাবি এই শরীরে!&#8230;. শুনতে পাচ্ছেন? কোথায় গেলেন আপনি?<br />
ছেলের অফিসের কথা শুনে মিতা হকের খুশি উবে গেছিল।গলা বাড়িয়ে স্বামীকে ডেকে এনে সব বলেছিলেন তিনি।অবশ্য আকাশের সাথে কথা বলে ওকে বাধা দেননি আতাউর রহমান তালুকদার।তিনি চাইছিলেন ছেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাক।তবে মিতা হক কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না।তার যুক্তি ছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে বাড়ানো ছুটি যেহেতু আরও মাসখানেক রয়ে গেছে তার অন্তত অর্ধেকটা বাড়িতে কাটিয়ে আকাশ শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তবেই অফিসে যোগ দিক।কিন্তু আকাশের বাবার যুক্তি ছিল, ছেলের মন চেয়েছে তো সে অফিসে যাক।পরিচিত সবার সাথে মিশুক, কথা বলুক আর যোগদানের আবেদনটাও করে আসুক।তাহলেও তো ও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।</p>
<p style="text-align: justify">অফিসে গিয়ে খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি আকাশ। সহকর্মীদের নানাবিধ প্রশ্ন ওকে অতিষ্ট করে তুললে দশটার আগে আগেই বের হয়ে এসেছে। বেরিয়েই হঠাৎ মনে হয়েছে, তক্ষুণি তাকে আজিজ মাস্টার চত্বরে যেতে হবে। কেন, সেটা সে ঠিক জানে না! কিন্তু ওর কেবলই মনে হচ্ছিল ওখানে যেতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">চত্বরে এসে আকাশ ওর চাচাতো ভাই আসিফের বাইক থেকে হঠাৎই লাফিয়ে নেমে উদ্ভ্রান্তের মতো মেইন রোডে কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল! পথচারীরা হৈচৈ করে ছুটে গিয়ে সরিয়ে না নিলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।<br />
আসিফের মুখ শুকিয়ে গেছিল আতঙ্কে। সে টের পেয়েছিল, আকাশ আর তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই।</p>
<p style="text-align: justify">একটু পর কিছুটা ধাতস্থ হয়ে আকাশ অন্যজনের স্বরে ওকে বলেছিল, চল্, হাসপাতালে যেতে হবে।এক্ষুনি। আসিফ জানত বাধা দিলে ও বেপরোয়া হয়ে যাবে। অগত্যা হাসপাতালের দিকে বাইক ছুটিয়েছিল সে।<br />
ওকে সাথে নিয়ে আকাশ জেনারেল হাসপাতালের পুরো লেবার ওয়ার্ড, প্রত্যেকটি কেবিন তন্নতন্ন করে কাকে যেন খুঁজছিল! না পেয়ে, একসময় ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসেছিল।<br />
পুরো সময়টায় ক্রমাগত বিড়বিড় করছিল আকাশ। সেখান থেকে কেবল ডাক্তার, রক্ত, ইনজেকশন, ব্যান্ডেজ, ব্যথা এই শব্দগুলো বুঝতে পেরেছিল আসিফ।</p>
<p style="text-align: justify">তারপর আকাশকে নিয়ে তারই নির্দেশে সে ঢাকামুখী হাইওয়ে ধরে পূর্বদিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ওরা আজিজ মাস্টার চত্বর পেরিয়ে টেনিস ক্লাবের কাছাকাছি যেতেই বঙ্গবন্ধু স্কুলের রাস্তা ধরে এসে চত্বরে নেমেছে মনা ও মেহেদী।</p>
<p style="text-align: justify">সেই মসজিদের পাশের মোড়ে আসিফকে গাড়ি থামাতে বলেছে আকাশ। তারপর গাড়ি থেকে নেমে খুবই বিমর্ষ চিত্তে পুরো মোড় ঘুরে ঘুরে সে কিছু একটা খুঁজেছে! টানা এবং একমনে। কারোর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, কারোর কোনো উৎকণ্ঠা আমলে না নিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify">শেষ পর্যন্ত আকাশ থেমেছে সাড়ে ১২টার দিকে, যখন জোহরের আযান দেবে বলে মুয়াজ্জিন মাইকে ফুঁ দিয়েছে! তারপর আযান চলা অবস্থাতেই সে আসিফকে নিজের গলায় বলেছে, এই মোড়ে যেহেতু এসেছি, চল, খালামণির সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরে যাই।</p>
<p style="text-align: justify">মনা চোখ খুলল। দেখল, সে নিজের বিছানায় শুয়ে আছে, খান বাড়িতে। ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন ময়নামতি! একটু দূরেই চেয়ারে বসে আছেন বড়ো খান সাহেব! তাঁর মুখেও হালকা হাসির আভা ফুটে উঠেছে।<br />
তুমি এত ভয় পাও কেন মা?</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির প্রশ্ন শুনে ওর মনে পড়ল, ডিসি অফিসের পূরণ নামের লোকটির পাশে সেই ওয়াকার আর তার পলকা পা দেখে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল! পানির ঝাপটায় জ্ঞান ফিরলেও খুব ঘুম পাচ্ছিল বলে সে আসিফকে বলেছিল, আমি ঘুমাব।আমাকে মেসে দিয়ে আয়।</p>
<p style="text-align: justify">অবশ্য মনা এটা জানে না যে, আসিফ কতোটা ঝামেলা সয়ে ঘুমন্ত মনাকে মেসে পৌঁছে দিয়েছে এবং ওর বাবা-মাকেও কতোটা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে গাড়ি করে ওকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসতে।</p>
<p style="text-align: justify">মনাকে চিন্তিত দেখে ময়নামতি আবারও প্রশ্ন করলেন, তুমি এত কী চিন্তা করো? এত ভয় কেন পাও? তুমি তো খান বাড়ির মেয়ে, তোমার আরও স্ট্রং পার্সোনালিটি থাকা উচিত।তাই না মা?<br />
না মানে ও মানে পূরণ মানে পূর্ণ!<br />
আর মানে মানে করো না।ওকে ধরে নিয়ে এসেছি।এসো পূর্ণ।হাসতে হাসতে বললেন বড়ো খান সাহেব।</p>
<p style="text-align: justify">পূর্ণকে দেখা যাচ্ছে ওয়াকারে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে! ঠিক যেন বড়ো খান সাহেবই।শুধুমাত্র তারচেয়ে বয়সটা বেশ কম।<br />
ময়নামতি মনার চোখে পূর্ণ-র জন্য মুগ্ধতা দেখছেন।বললেন, ও তোমাকে খুব ভালোবাসত।সেই প্রথম যেদিন তোমাকে বিবিএ পরীক্ষা দিয়ে কলেজ থেকে বের হতে দেখেছিল সেদিন থেকেই।কিন্তু দ্বিতীয়বার তোমার সাথে দেখা হওয়ার আগেই ওর এক্সিডেন্ট হয়।তারপর থেকেই ও তোমাকে চোখে হারাত।আর খুঁজত নিজের অবয়ব। কিন্তু তা তো আর হবার নয়, তাই সুযোগ পেয়ে আকাশের শরীরে বসতি গড়েছিল।সেটাও তোমারই জন্য।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু আমাদের জগৎ-টা আলাদা, সেটা ও ভুলে গেছিল। ময়নামতির কথার মাঝখানে কথা বলে উঠলেন বড়ো খান সাহেব।ওখানে একক অস্তিত্বের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।সমষ্টিগত ধারণার মূল্যায়ন করা হয় এবং বাস্তবায়নও।ফলে ইতোমধ্যে ওকে দলছুট ঘোষণা করা হয়েছে।<br />
শুনে, চোখ দুটো ছলছল করে উঠল মনার।মানুষটা আমাকে সত্যিই খুব ভালোবাসত। এখনো কেমন মায়াভরা চোখে তাকিয়ে আছে।</p>
<p style="text-align: justify">মনার এই ভাবনা ময়নামতিকেও ছুঁয়ে গেল।এখন একমাত্র তুমিই ওকে দলভুক্ত করবার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পার।নয়তো ওর মুক্তি নেই, ওকে দলছুট থেকেই এখানে ঘুরে বেড়াতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">মনা কিছুটা কাঁপা গলায় ওর জ্যেঠিমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি।আমি কীভাবে ওর মুক্তির পথ খুঁজে পাব জ্যেঠিমা?<br />
আমি মুক্তি চাই না! পূর্ণ-র কণ্ঠ থেকে ক্ষোভ ঝরে পড়ল!<br />
তক্ষুণি পাশের রুম থেকে রাহেলা খানমের গলা শোনা গেল।আমার মেয়েটা কী বলছে ওসব? কিছুই তো বুঝতে পারছি না।<br />
দ্রুত হাতে মনার চোখ ছুঁয়ে দিলেন ময়নামতি।</p>
<p style="text-align: justify">রাহেলা খানম এসে দেখলেন মনা ঘুমিয়ে আছে! দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। কী নিস্পাপ শিশুর মতো ঘুমাচ্ছে মেয়েটা! মাঝে মধ্যে কী হয় ওর? কেন হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যায়? ও কি কোনোকিছু দেখে ভয় পায়? নাকি এটা কোনো রোগ? কেন মনার বাবা আমাকে কিছু বলে না?<br />
প্রশ্নগুলো তার বুক ঠেলে আরও একটি দীর্ঘশ্বাস বের করে আনল।<br />
একটু পর তিনি বেরিয়ে গেলেন আর সাথে সাথে চোখ খুলল মনা! রুমের বাকি তিন সদস্য যে যার জায়গাতেই আছেন।</p>
<p style="text-align: justify">দেখ মা, তালুকদার বাড়ির ছেলেটিকে খুব ভুগিয়েছে পূর্ণ। হয়ত তোমার মায়া-মমতা আর যত্নই পারবে ওর কাছ থেকে পূর্ণ-র জন্য ক্ষমা এনে দিতে। ওর সাথে আমাদের সরাসরি কোনো যোগাযোগ সূত্র নেই। বললেন বড়ো খান সাহেব। তাঁর কণ্ঠ থেকে কি আকুতি ঝরে পড়ল? অনেকটা যেন তেমনই শোনা গেল।<br />
মনা ফিসফিস করে বলল, ও তো ভীরু আর বেশ স্বার্থপরও!<br />
কিন্তু তোমার চোখে ওর জন্য আগের সেই মায়া গতকালও দেখা গেছে। এবার কথা বললেন ময়নামতি।বর একটু ভীরু হলে তাকে মমতার বাঁধনে বেঁধে সংসার করার তৃপ্তি অন্যরকম, আর স্ট্রং পার্সোনালিটির হলে তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে নিঃস্ব হয়ে যাওয়াতেও পরম সুখ! আর স্বার্থপরতার কথা বলছ? সেই রাতে ও বেশ ভয় পেয়েছিল। হয়ত বেশকিছু দিন সেই ভয় থেকে সে বেরোতে পারেনি। তাই তোমার নামে বদনাম ছড়ানোর কোনো প্রতিবাদ করা ওর পক্ষে সম্ভব হয়নি।</p>
<p style="text-align: justify">মনা বেশ লজ্জা পেল। ওর জেঠিমার কথার ইঙ্গিত ও স্পষ্ট বুঝতে পাচ্ছে। শেষ বিকেলের একটু আলো জানালার গ্রিল গলে ওর মুখে পড়ছে।তাতে ওর মুখ আরও লাজুক রাঙা দেখাচ্ছে।সেদিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে পূর্ণ।<br />
লজ্জায় মনার লাল হয়ে ওঠা, দৃষ্টি এড়াল না ময়নামতি ও বড়ো খান সাহেবের।দুজনেই টের পেলেন, বিদায় ঘনিয়ে এসেছে।<br />
কিছুদিন আগে যে অতৃপ্তি নিয়ে চলে যেতে হয়েছিল ময়নামতির।আজ সুদে-আসলে মিটিয়ে নিতেই যেন প্রগাঢ় একটি চুমু এঁকে দিলেন মনার কপালে।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff6600"><em>কাশফুলের নরম স্পর্শের স্নিগ্ধতা নিয়ে কয়েক সেকেন্ড চোখ বুঁজে রইল মনা।তারপর কপালের টিপ রাখবার জায়গাটায় সেই স্পর্শানুভূতি নিয়েই চোখ খুলে দেখল, রুমে কেউ নেই।</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">বেশ ঝরঝরে লাগছে মনার।বিছানা থেকে নেমে সদ্য স্নান সেরে ওঠা পাখির মতো গা ঝেড়ে সে রাহেলা খানমের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। মা, ওই পাগলটা নাকি আজও ওর ছোটোখালার বাড়ির কাছের মোড়ে গিয়ে নাটক করে এসেছে? বাবাকে এক্ষুনি বলো ওকে আমার মমতার শিকলে বেঁধে ফেলবার ব্যবস্থা করতে এবং সেটা আজই। নয়তো দেখো, ময়না পাখি আবার ফুড়ুৎ! আজ কিন্তু পূর্ণিমা।</p>
<p style="text-align: justify">মেয়ের চোখে-মুখে দুষ্টুমি নাকি সিরিয়াস ভাব কিছুই বুঝলেন না রাহেলা খানম। ছুটে গেলেন স্বামীর কাছে ফোন করতে।<br />
রাতের ঘড়ি এগারোটা ছুঁই ছুঁই। মকবুল হোসেন খান ও রাহেলা খানম বারান্দায় বসে আছেন। বাইরে উথাল-পাতাল জোছনা। এমন জোছনা যে কেবল মনে পুলক জাগায় তা নয়, কখনো কখনো উদাসীনও করে! কখনো মন ভরিয়ে দেয় বিষাদে! এই যেমন এখন মনার বাবা-মার মনে বিষাদ! হুটহাট করে মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেল! এখন সে তালুকদার বাড়িতে।</p>
<p style="text-align: justify">ফাল্গুনের বিকেলটা যখন ছুটে যাচ্ছিল সন্ধ্যার দিকে তখনই রাহেলা খানমের ফোন পেয়েছিলেন মকবুল হোসেন খান।তিনি তখন ছিলেন উপজেলা হাসপাতালের পাশে তার ব্যবসায়িক অফিসে।ফোনের অপর প্রান্ত থেকে রাহেলা খানমের উৎকণ্ঠা মেশানো কথাগুলো শুনে তিনি স্তব্ধ হয়ে গেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে তখনই ডা. জব্বার এসেছিলেন সেখানে, সাথে আতাউর রহমান তালুকদার।</p>
<p style="text-align: justify">ডা. জব্বারের প্রস্তাব এবং তার স্বপক্ষে যুক্তি শুনে তিনি কেবল একটি প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি ডাক্তার হয়েও এমন কথা বলো?<br />
ডা. জব্বার একটু হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, সমাজ-সংসারে কেবল ডাক্তারি বিদ্যা-ই কাজে লাগে না বন্ধু, কখনো কখনো সীমানার বাইরেও দু&#8217;এক পা হেঁটে আসতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify">আতাউর রহমান তালুকদার হঠাৎ তার হাত চেপে ধরে বলেছিলেন, তুমি আর অমত করো না। দেখ, বন্ধুত্বে সরি থাকতে নেই, তবে তুমি চাইলে আমি তা-ও বলতে রাজি।<br />
<span style="color: #ff6600"><strong>চলবে..</strong></span></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/09/15/2870/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মেহেনাজ পারভীনের নতুন উপন্যাস দরজার ওপাশে</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/15/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/15/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 15 Aug 2023 17:16:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[যোগসূত্র ডেস্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2832</guid>

					<description><![CDATA[নারীর সংকট, জীবন সংগ্রাম এবং বিচিত্র জগত নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কবি, গদ্যকার ও শিক্ষক মেহেনাজ পারভীন। বইটি প্রকাশ করছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন। মেহেনাজ পারভীন যোগসূত্রকে বলেন, দরজার ওপাশে-এই গল্পের কাহিনির &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">নারীর সংকট, জীবন সংগ্রাম এবং বিচিত্র জগত নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কবি, গদ্যকার ও শিক্ষক মেহেনাজ পারভীন। বইটি প্রকাশ করছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন।</p>
<p style="text-align: justify">মেহেনাজ পারভীন যোগসূত্রকে বলেন, দরজার ওপাশে-এই গল্পের কাহিনির প্রবাহ জগত ও জীবনে জড়িয়ে থাকা নারীর আখ্যান-উপাখ্যান।নারীর নিজস্ব সংকট ও অনুভবের জগত চিত্রিত হয়েছে। অভাব এতটাই অসহায় করে তোলে মানুষকে।নারীর জীবন সংগ্রামের এক জীবন্ত ছবি ফুটে উঠেছে।এক কন্যার জননী নীলা স্বামীর সাথে ডিভোর্স হলে নিষ্ঠুর অতীতকে মুছে ফেলে শুরু করতে চেয়েছে একটা পরিপাটি জীবন, জয় করতে চেয়েছে নিজের ও কন্যা তুবার ভাগ্য।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি বলেন, নীলার মা রাহেলা বানু প্রত্যাশায় চেয়ে থাকে তার মেয়ের সুখের সংসার দেখার, নিজে একদিনের জন্য হলেও নিশ্চিন্তে থাকার।এদের জীবন কাহিনি মূলত আমাদের সমাজের নারীদের জীবনকে প্রতিনিধিত্ব করে।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-2834 alignleft" src="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/dorja-300x176.jpg" alt="" width="300" height="176" srcset="https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/dorja-300x176.jpg 300w, https://www.jogsutra.com/wp-content/uploads/2023/08/dorja.jpg 725w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p style="text-align: justify">মেহেনাজ পারভীন বলনে, এইসব মানুষের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে আরেক বিচিত্র জগত।পৃথিবীতে আজও কিছু মানুষ আছে যাদের ভালো না বেসে থাকাই যায় না।এমন একজন আসে নীলার জীবনে।সেই ফরিদকে পাওয়ার জন্য নীলা ব্যাকুল হয়ে পড়ে।নীলার মনে বয়ে আনে অনাবিল আনন্দের ফল্গুধারা। দরজার ওপাশে-পড়লে মনে হবে-অন্ধকারেরও এক অপূর্ব আলো আছে।কখনো কখনো বিচ্ছেদ সুন্দর, ছেড়ে আসা শান্তির, উদযাপনের।</p>
<p style="text-align: justify">তিনি আরও বলেন, আমাদের চারপাশের একটা পরিচিত সময়ের গল্প-দরজার ওপাশে।</p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/15/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৬) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 14 Aug 2023 05:53:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2826</guid>

					<description><![CDATA[রসিকতা ভেবে সাধুবাবার কথা গায়ে মাখেননি তিনি।আস্তানা ছেড়ে কিছুদূর এগোতেই তাঁর মনে হয়েছিল শহর ঘুরে ময়নামতির জন্য একটু কেনাকাটা করে গেলে মন্দ হয় না।তাছাড়া দই-চিড়ার দোকানটায় একবার না ঢুকলে মন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify">রসিকতা ভেবে সাধুবাবার কথা গায়ে মাখেননি তিনি।আস্তানা ছেড়ে কিছুদূর এগোতেই তাঁর মনে হয়েছিল শহর ঘুরে ময়নামতির জন্য একটু কেনাকাটা করে গেলে মন্দ হয় না।তাছাড়া দই-চিড়ার দোকানটায় একবার না ঢুকলে মন কেমন করা থেকেই যাবে।</p>
<p style="text-align: justify">সেটা ছিল চৈত্র মাসের কোনো দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে আসা একটি সময়।খাঁ খাঁ রোদে ছোট্ট শহরটি খুব ঘামছিল।আলতা, শাড়ি, চুড়ি কিনে বড়ো খান সাহেব ঢুকেছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদের পারের ঝুপড়ি দোকানটায়। হালকা হাওয়ায় শরীর জুড়িয়ে নিতে নিতে দই-চিড়ার দুটো থালা সাবাড় করে ফেলেছিলেন তিনি।তারপর ব্রহ্মপুত্রের ক্ষীণ শরীরের দিকে তাকিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন।তখনই তাঁর চোখে পড়েছিল নদের ওপারের একটি বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক ধোঁয়া উড়ছে।</p>
<p style="text-align: justify">খেয়া নৌকায় নদ পার হয়ে তিনি যতক্ষণে বাড়িটিতে পৌঁছেছিলেন ততক্ষণে পুড়ে গেছিল কয়েকটি ঘর। অবশ্য তারপর আর কোনো ঘর পুড়েনি এবং দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">সেদিন শেষ বিকেলের আলোয় পুড়ে যাওয়া ঘরের দিকে শূন্য দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে ছিলেন যে নারী তার দীর্ঘশ্বাস বড়ো কঠোরভাবে তাঁর কানে লেগেছিল। তার অস্ফুট হাহাকার সশব্দে তাঁর বুকে বেজে গেছিল। তার সাদা থানের শোক আর পুড়ে যাওয়া ঘরের কালো দুঃখ তাঁর হৃদয়জুড়ে হঠাৎ মেঘেদের ছোটাছুটির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর তাতে যে কালবৈশাখী ঝড় উঠে গেছিল তার ঝাপটা টের পেয়েছিলেন ময়নামতি।<br />
পরদিন সন্ধ্যার মুখে খান বাড়িতে একটি গোরুর গাড়ি থামলে তা থেকে নেমে অন্য অনেকের সাথে ময়নামতির পা ছুঁয়েও সালাম করেছিলেন সেই নারী। ময়নামতি তখন কোনো কথা বলেননি, এমনকি পরের তিনদিনও না।</p>
<p style="text-align: justify">তৃতীয়দিন দুপুরে নতুন বউয়ের বাবা তাকে নিতে এলে সবার নিদারুণ উপেক্ষা মুখ বুঁজে সহ্য করা সেই নারী খান বাড়ি ছেড়ে গেছিলেন চিরতরে।মনা যে ছেলেটিকে ভালোবাসে সে সেই নারীর বড়ো ছেলের বড়ো নাতি! সম্পর্কে সে-ও খান বাড়ির চতুর্থ প্রজন্ম, কেবল জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা অন্য কোথাও।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে মনা।তিনি পরম মমতায় ওকে আগলে রেখেছেন।তার মন আশ্চর্য স্নিগ্ধতায় ভরে গেছে।সুবহে সাদিকের সময় হয়ে আসছে দেখে বড়ো খান সাহেব ময়নামতিকে ইশারা করলেন। সাথে সাথে যেন সম্বিত ফিরে পেলেন ময়নামতি।মনাকে বুকে নিয়েই উড়ে নেমে এলেন ছাদ থেকে।তারপর আস্তে করে ওর বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটির পাশে ওকে শুইয়ে দিলেন।আর তক্ষুনি হাইস্কুল মসজিদের মুয়াজ্জিন মাইকে দুটো ফুঁ দিয়ে ঘোষণা করলেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><em>ছোট্ট একটি খেদ নিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন ময়নামতি, ইশ্, মেয়েটির কপালে একটি আদুরে চুমুও দেয়া হলো না!</em></span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify">মিতা হক শেষ পর্যন্ত আকাশকে রাজি করাতে পেরেছেন মেয়েটিকে দেখতে আসতে।বহু চেষ্টার পর।আকাশ ভালো চাকরি করে।শহরে একাই থাকে।তবু বিয়ে করতে কিংবা বিয়ের প্রস্তুতি নিতেও রাজি হচ্ছিল না কিছুতেই।মিতা হক বুঝতে পারেন ছেলের মনে একটি গভীর ক্ষত রয়ে গেছে।ময়না খানম মনা। তিনি অবশ্য ওদের পালিয়ে বিয়ে করে ফেলার ব্যাপারটায় আর্থিক ও মানসিক সমর্থন দিয়েছিলেন।কিন্তু ডাকাত দলের কবলে পড়ে সে রাতে যা ঘটেছিল তাতে আকাশ-ই আর মনার নাম মুখে নিতে চাইত না।যদিও দু-তিন মাসের মধ্যেই মনার অস্বাভাবিক আচরণের ব্যাপারটা সবাই ভুলে গেছিল।</p>
<p style="text-align: justify">ওই ঘটনার বছর দুয়েক পর তিনি একবার চেষ্টা চালিয়েছিলেন আকাশের সাথে মনার বিয়েটা পারিবারিকভাবে দিতে, কিন্তু মকবুল হোসেন খান এমনকি রাহেলা খানমও চাননি।</p>
<p style="text-align: justify">মিতা হকের ছোটো বোন এই নতুন সম্মন্ধটি এনেছেন।তিনি থাকেন সেই মসজিদটির কাছাকাছি যেটার পাশের মোড়ে প্রতি শুক্রবার দাঁড়িয়ে থাকে পূরণ।একটি প্রিয়মুখের খোঁজে; নিজের কিংবা অন্য কারো! যা সে হারিয়ে ফেলেছে হঠাৎ, ওখানেই!</p>
<p style="text-align: justify">সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে সকাল সকাল ওকে নিয়ে বোনের বাড়িতে হাজির হলেন মিতা হক।উদ্দেশ্য বহুদিন পর ছোটো বোনের সাথে প্রাণখুলে আড্ডা দেওয়া, দুপুর পর্যন্ত।তারপর বিকেলের দিকে মেয়েটিকে দেখতে যাওয়া।আরও একটি উদ্দেশ্য আছে, যা কেবল তিনি আর তার স্বামী আতাউর রহমান তালুকদার জানেন।</p>
<p style="text-align: justify">মিতা হকের ছোটো বোনের বড়ো মেয়েটিও মাশাল্লাহ দেখতে শুনতে ভালো।এ বছরই কলেজে পা দিয়েছে।তিনি মনে মনে ভেবে রেখেছেন, সুযোগ বুঝে বোন ও বোন জামাইকে প্রস্তাবটা দেবেন।এর গন্ধ পেয়েই তালুকদার সাহেব এ যাত্রায় তার সঙ্গী হননি! তার সাফ কথা, আত্মীয়র সাথে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের চেয়ে জঙ্গলে চলে যাব।</p>
<p style="text-align: justify">মুয়াজ্জিনের ডাক কানে যেতেই মসজিদের পথে পা বাড়াল আকাশ। আসলে সে কোনো একটা উপায়ে তার ছোটো খালার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিল।এই বাড়ির আজকের পরিবেশ তার কাছে খুব একটা স্বস্তিকর লাগছে না।সবাই কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। ফলে জুম্মার আযান ওর জন্য স্বস্তি বয়ে আনল, আর ও সাথে সাথে বেরিয়ে পড়ল।<br />
প্রকৃতি হেমন্তে পা দিয়েছে টের পাওয়া যাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">দিগন্ত জোড়া ধানখেতে শীষ ফুটছে।আর মৃদু হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে তার ঘ্রাণ।শরতের অভ্যেস মেনে ঘন নীল ডানা মেলে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে আকাশ।সূর্যবাবু ঢালছে গা-সওয়া রোদ্দুর।তা-ই গায়ে মাখতে মাখতে দু-তিন জনের পরই মসজিদে ঢুকল আকাশ তালুকদার।পূরণের একটু দেরি হয়ে গেছে।আজ ব্রহ্মপুত্রের ওপার থেকে ধানখেতের আলপথে এসেছে সে।দেখেছে, একসপ্তাহের ব্যবধানেই অনেক ধানখেতে শুরু হয়েছে শীষ ফোটানোর উৎসব। আর সেই উৎসবের আমেজে বিভোর ছিল সে।ফলে যতক্ষণে ও বটতলায় পৌঁছেছে ততক্ষণে জনা পাঁচেক মুসল্লি মসজিদে ঢুকে পড়েছেন।অবশ্য সে কারণে ওকে খুব একটা দুঃখিত দেখাচ্ছে না।এখনো শত শত মানুষের মসজিদে আসা বাকি।বেশিরভাগ মানুষের ব্যর্থতা আসে তাড়াতাড়ি আর সফলতা আসতে সময় লাগে ঢেরবেশি!</p>
<p style="text-align: justify">অন্যান্য দিনের মতোই আজও নামাজ শুরু হতে চললেও সফলতার মুখ দেখতে পেল না পূরণ।গিয়ে বসল বটগাছটির পূর্বমুখী সেই ডালে।এখান থেকে মসজিদের ভেতরের কিছুটা অংশ চোখে পড়ে।আনমনে সেদিকে তাকাতেই একটি মুখ যেন জ্বলজ্বল করে উঠে পরক্ষণেই হারিয়ে গেল ওর চোখ থেকে।একটি ক্ষীণ আশায় সে আরও কয়েকবার ওদিকে তাকালেও আর একবারও মুখটি দেখতে পেল না।</p>
<p style="text-align: justify">আবার কোনোকিছু ধ্যানজ্ঞানে পরিণত হলে চরম দুর্ভাগাও হয়ত একসময় সফল হবার কোনো পথ খুঁজে পায়, হোক না সে-পথ দুর্গম।<br />
নামাজ শেষে মুসল্লিগণ বেরিয়ে যেতে শুরু করলে পূরণ যেন তেমনি একটি দুর্গম পথের সন্ধান পেল এবং একটি মুহূর্ত অপেক্ষা না করে সে ছুটে গেল সেদিকেই।</p>
<p style="text-align: justify">মসজিদ থেকে বেরিয়ে আকাশ তালুকদার সবেমাত্র মোড়ে দাঁড়িয়েছে, তক্ষুনি ছুটে গিয়ে ওর শরীরের ভেতরে ঢুকে গেল পূরণ।আর আকাশের সমস্ত অস্তিত্বে দ্রুত নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ছড়িয়ে পড়ল।তার ফলে প্রচণ্ড আতঙ্কে এবং যন্ত্রণায় পিচঢালা মোড়ে পড়ে গিয়ে ছটফট করতে লাগল আকাশ।ওর চোখ দুটো জবা ফুলের মতো হয়ে গেল এবং যেন ছিটকে বেরিয়ে যেতে চাইল।ওর হাত-পায়ের খিঁচুনি দেখে মুহূর্তেই জড়ো হওয়া একদল লোকের অনেকেই বলাবলি করতে লাগল, মনে হচ্ছে মৃগী রোগী।</p>
<p style="text-align: justify">হ হ, মিরগিঅলা মানুষই!<br />
ঐ, কেউ চামড়ার জুতা ধরো হের নাকে।<br />
হ হ, চামড়ার জুতা হুঙ্গাও! দেখবা অক্ষণ ভালা হয়া যাইব।<br />
একজন খুব উৎসাহ নিয়ে নতুন কেনা নিজের চামড়ার জুতা খুলে দুবার আকাশের নাকে ছুঁয়ে দিল! কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল জুতাটি।তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে একজন ধমকে উঠল, অ্যাই সরে যাও, ওগুলো করা যাবে না।ওসব কুসংস্কার।আরে, এ তো আকাশ! বড়ো ভাইয়ের ভায়রার ছেলে।<br />
মিনিট দুয়েক পর আকাশের অবস্থা আপনাআপনি স্বাভাবিক হয়ে এলো এবং প্রচণ্ড ক্লান্তিতে সে ওখানেই বসে রইল কিছুক্ষণ।</p>
<p style="text-align: justify">তারপরের তিনটি মাস খুবই এলোপাতাড়ি ছুটোছুটির মধ্যে কাটল আকাশদের।এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার; আজ এখানে তো কাল ওখানে! এমনকি ওঝা কবিরাজও বাদ গেল না! কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া গেল না! আকাশ তেমনই রয়ে গেল, দ্বৈত সত্তার ঘোরের ভেতর।একটি তার নিজের এবং অন্যটি পূরণের।</p>
<p style="text-align: justify">টানা তিন মাস ধরেই আকাশের হালকা জ্বর ও বমিবমি ভাব। বেশিরভাগ সময়ই ঠিক করে খেতে পারছে না, আবার কখনো কখনো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলছে! কখনো নিজের স্বরে কথা বলছে, কখনো অন্যের স্বরে। সেই অন্যস্বরটি আতাউর রহমান তালুকদারের চেনা চেনা লাগছে, যেন বহুবার শুনেছেন, কিন্তু ঠিকঠাক চিনতে পাচ্ছেন না।</p>
<p style="text-align: justify">এই পুরো সময়টায় খুবই ব্যস্ত ছিল মনা। এমবিএর প্রস্তুতি, তারপর পরীক্ষা। সব শেষ করে অনেকটা হালকা হয়ে সে যেদিন খান বাড়িতে ফিরল সেদিনই জানতে পারল আকাশের অমন অদ্ভুত অসুখের কথা! মকবুল হোসেন খান, রাহেলা খানম কিংবা মেহেদী, কেউ-ই ওকে কিচ্ছু বলেনি।</p>
<p style="text-align: justify">কোথায় যেন একটা টান লাগল ওর।পুরনো-পরিত্যক্ত ঘর হলেও যেমন মন কখনো কখনো আনচান করে একবার উঁকি দিয়ে দেখতে মনার যেন তেমনই বোধ হলো।</p>
<p style="text-align: justify">সে নিজেকে একটু সামলে নিল।তারপর শেষ বিকেলে রাহেলা খানমকে ডেকে ওর রুমে নিয়ে বলল, মা, আমি তো এখন সব বুঝি, এমবিএ শেষ করে ফেললাম। ওখানে আমার যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল।তোমরা খুব-একটা হস্তক্ষেপ করোনি।বাড়িতেও নিশ্চয়ই আমি তেমন স্বাধীনতা পাব এখন, বল? ততটা ম্যাচিউরড আমি নিশ্চয়ই হয়েছি?</p>
<p style="text-align: justify">রাহেলা খানম মেয়ের ইঙ্গিত বুঝতে পেরে বললেন, তবু বাবা-মা মরার আগ পর্যন্ত ছেলে-মেয়েদের সঠিক দিশা দিতে চেষ্টা করে। করে না মা?<br />
আমি তোমাদের অধিকার খর্ব করবার কথা বলিনি মা, আমার স্বাধীনতার কথা বলছি। প্লিজ।<br />
ঠিকাছে, তুই আসলে কী বলতে চাচ্ছিস, সেটা বল।</p>
<p style="text-align: justify">মনা ওর মা-র কাছাকাছি হয়ে আবেগঘন গলায় বলল, আকাশ এতদিন ধরে এতটা অসুস্থ তোমরা কেউ আমাকে বলোনি! জানি ওর ভুল ছিল। ও আর ওর বন্ধুরা যা করেছিল সবই ভুল।তবুও।ওকে তো তুমি খুবই পছন্দ করতে।ওর অসুখের কথা শুনে তোমার নিশ্চয়ই খুব খারাপ লেগেছে? তাহলে আমি কি করে সব একেবারে ভুলে যাই মা? আর তুমি অন্তত আমাকে জানাতে পারতে ও অসুস্থ! আমি না হয়&#8230;. যাক সেসব। মেহেদীকে নিয়ে আমি ওকে একবার দেখে আসি মা?</p>
<p style="text-align: justify">মেয়ের অভিমান ভরা কথা শুনে ভেতরে ভেতরে কিছুটা চমকালেন রাহেলা খানম।মনে মনে বললেন, কিছু অতীত বড়ো নির্মম হয়।আর বর্তমানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো দৃঢ় মনোবল তোর মা-র অবশিষ্ট নেই মা! মাফ করিস।</p>
<p style="text-align: justify">মুখে বললেন, মিঠা রে তিতা বানাইতে একটু-ই যথেষ্ট কিন্তু তিতা রে মিঠা বানাইতে অনেক অনেক লাগে মা! তালুকদার বাড়ির সাথে খান বাড়ির সম্পর্ক এখন বড্ড তিতা। তবে তোরে আটকে রাখব সেই সাধ্য আমার নাই। কিন্তু মেহেদী রে না, সন্ধ্যার পর তুই ফুলিরে নিয়ে চট করে একবার ঘুরে আসিস। দরকার হলে একটা রিকশা<br />
নিয়ে যাস।</p>
<p style="text-align: justify">মনা ওর মা-কে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা!<br />
ফাল্গুনী পূর্ণিমার আগের সন্ধ্যা বলে প্রায় গোলাকার চাঁদটি পূর্বাকাশে নিজের মুখ অনেকখানি তুলে ধরে তাকিয়ে দেখল, ফুলিকে নিয়ে মনা রিকশায় উঠে বসল।গন্তব্য কিলোমিটার খানেক উত্তরের তালুকদার বাড়ি।</p>
<p style="text-align: justify">আলোর একটি মন্দ বৈশিষ্ট্য হলো, আলোতে দাঁড়িয়ে পাশের অন্ধকারের কিছুই দেখা যায় না। ফলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মেহেদী চেষ্টা করেও দেখতে পেল না যে, হুড তোলা রিকশায় করে কে বেরিয়ে গেল তাদের বাড়ি থেকে। আবার অন্ধকারের একটি ভালো বৈশিষ্ট্য হলো, তার ভেতরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায় আলোর সবকিছু। মনা দেখতে পেল, তার ছোটোভাই মেহেদী বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে!</p>
<p style="text-align: justify">ফুলি-ও দেখতে পেল। সে খলবল করে বলল, আপা, মেহেদী বাই ত&#8217; সিগ্রেট খাইতাছে!<br />
মনা ঠোঁটে আঙুল চেপে ফিসফিস করে বলল, চুপ, কোনো কথা বলিস না!<br />
আসলে ওর মনে অন্যকিছু চলছে। সে বিকেল থেকে পূরণের সাথে ফোনে কথা বলতে চাইছে, কিন্তু ফোন আনরিচেবল বলছে।সবসময় এমনই হয়ে আসছে! ওর সাথে এই বছর খানেকের সম্পর্কে সে নিজ থেকে ফোন করে একবারও ওকে পায়নি! অবশ্য খুব বেশিবার ও আগে ফোন করতে সুযোগ পায়নি।যা দুচারবার ফোন করেছে, বন্ধ পেয়েছে।একদিন তো মুখ ফসকে বলেই ফেলেছিল, যখনই তোমাকে কল করব ভাবি তখনই তুমি কল করো! কীভাবে? তুমি অশরীরী নও তো?<br />
ঠা ঠা হাসিতে সেদিন মনার প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়েছিল পূরণ।</p>
<p style="text-align: justify">পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ভেবেও মনা কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি প্রশ্নটির!<br />
বেশ কয়েক বছর পর তালুকদার বাড়ির সীমানায় পা রাখল<br />
মনা। বড়ো পুকুর, তারপর বৈঠকঘর, তারপর উঠোন পেরিয়ে ওরা আকাশদের ঘরের সামনে দাঁড়াল।</p>
<p style="text-align: justify">আতাউর রহমান তালুকদার বারান্দায় বসে আছেন। তার শূন্য দৃষ্টি উঠোনেই নিবদ্ধ।দুটো লম্বা ছায়া সেখানে এসে স্থির হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে?<br />
আমি আঙ্কেল।মাথা থেকে ওড়না নামিয়ে ফেলল মনা।<br />
তালুকদার সাহেব চিনতে না পেরে যখন আবারও ওদের পরিচয় জানতে চাইবেন তখনই ঘরের ভেতর থেকে আকাশ অন্যজনের স্বরে ডাকল, মনা, ভেতরে এসো।<br />
চমকে উঠল মনা, পূরণ এখানে!<br />
আরও একবার আকাশের এই কণ্ঠস্বর খুব চেনা চেনা লাগছে তালুকদার সাহেবের।অথচ কিছুতেই মনে করতে পারছেন না, কোথায় শুনেছেন!<br />
তিনি বেশ অবাক হলেন, মনা এ বাড়িতে! দেখলেন, সে স্বচ্ছন্দে ঘরের ভেতরে ঢুকল! তক্ষুনি তার মনে পড়ল আকাশের এই কণ্ঠস্বর হুবহু মনার জ্যেঠামশাই মানে বড়ো খান সাহেবের মতো! কৈশোরে তিনি বহুবার তাঁর ভরাট কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু এত বছর পর আকাশ কী করে তাঁর কণ্ঠে কথা বলছে? নিজের মনে উদয় হওয়া প্রশ্নটি তাকে ভাবিয়ে তুলল।</p>
<p style="text-align: justify">বারান্দায় ওভাবেই বসে বসে ভাবছিলেন আতাউর রহমান তালুকদার। হঠাৎই একটা অজানা শঙ্কায় কেঁপে উঠলেন তিনি! তারপর মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ঘরের ভেতরে ঢুকলেন।<br />
মিতা হকের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মনা করুণ চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। কী হাল হয়েছে ওর! সেই ঝাঁকড়া চুলের যুবকের মাথায় এখন ছোটো ছোটো চুল! চোখ কোটরগত আর চোয়াল দেবে গেছে!<br />
মনাকে সামনে পেয়ে ক্রমাগত এটা-সেটা বলে যাচ্ছে আকাশ। কখনো নিজের গলায় আবার কখনো বড়ো খান সাহেবের গলায়!<br />
তালুকদার সাহেব মনা-র সামনে এসে হঠাৎ হাতজোড় করে কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, আমার ছেলেটাকে তুমি মাফ করে দাও মা! ওকে তুমি বাঁচাও! আমি জানি একমাত্র তুমি-ই ওকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবে!</p>
<p style="text-align: justify">মনা খুবই বিস্মিত হলো! এসব কি বলছেন আঙ্কেল?&#8230;. আপনি হাতজোড় করছেন কেন?&#8230;. ছি! আঙ্কেল, আপনি আমাকে পাপী বানাচ্ছেন!<br />
কী করছেন আপনি! মিতা হক স্বামীকে থামানোর চেষ্টা করলেন।<br />
না না, মনা মা শোনো, এই যে আকাশ অন্য একজনের গলায় কথা বলে, স্বভাব বিরুদ্ধ আচরণ করে, এ-সব হুবহু বড়ো খান দাদার মতো! আমি ছোটোবেলায় তাঁকে দেখেছি। ঠিক এভাবেই কথা বলতেন তিনি!<br />
কি বলছেন আঙ্কেল? আশ্চর্য! বিস্ফারিত নয়নে তালুকদার সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছে মনা।</p>
<p style="text-align: justify">কি বলছেন? এ-সব সত্যি? মিতা হক-ও ভীষণ অবাক!<br />
তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে চোখ ছানাবড়া করে ফুলি বিড়বিড় করছে, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমিন!<br />
আকাশের বিছানা থেকে অদ্ভুত শব্দ ভেসে এলে সবাই একসাথে তাকাল সেদিকে। সে ঘুমিয়ে পড়েছে এবং নাক ডাকছে!<br />
বিস্ময়ের ঘোরে মনা এক পা এগিয়ে ওকে আস্তে করে ডাকল, আকাশ, আকাশ।</p>
<p style="text-align: justify">কোনো উত্তর না পেয়ে এবার সে ডাকল, পূরণ, পূরণ!<br />
কোনো উত্তর নয়, একটানা নাক ডাকবার শব্দ-ই কেবল ভেসে আসছে।<br />
মিতা হক একটু এগিয়ে মনার বাহু স্পর্শ করে জিজ্ঞেস করলেন, মনা, পূরণ কে? তুমি কাকে ডাকছ?<br />
মনার ঘোর কেটে গেল। কিন্তু মিতা হকের প্রশ্নের উত্তর দেবার মতো কোনো কথা সে খুঁজে পেল না!</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে..</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/08/14/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিষ্প্রভার রঙ ফিরে পাওয়া (পর্ব-৫) ॥ ইসরাত জাহান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/22/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-3/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/22/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-3/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 22 Jun 2023 14:10:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরাত জাহান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2738</guid>

					<description><![CDATA[পর্ব-৫: মাকে হাসপাতালে মেজো খালার কাছে রেখে সাজ্জাদ যখন লিফটে তখন ফোনটা আসে রুদাবার।অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করে। -তুমি কোথায় যাবে? -নামিব মরুভূমিতে, তুই যাবি? -সেটা কোথায়? কখন ফিরবে? -সেটা এই &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><span style="color: #ff0000"><strong>পর্ব-৫:</strong></span> মাকে হাসপাতালে মেজো খালার কাছে রেখে সাজ্জাদ যখন লিফটে তখন ফোনটা আসে রুদাবার।অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করে।<br />
-তুমি কোথায় যাবে?<br />
-নামিব মরুভূমিতে, তুই যাবি?<br />
-সেটা কোথায়? কখন ফিরবে?<br />
-সেটা এই ঢাকা শহরের আশপাশেই, সাইকেলে করে যেতে হয়।চল তোকে নরকের দুয়ার থেকে চা খাইয়ে নিয়ে আসি।<br />
-না, তুমিই যাও।তুমি একটা পাগল।কি যা তা বলো।<br />
-তাহলে পাগলের কাছ থেকে চৌদ্দ হাত দূরে থাকবি।ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে চ্যাটিং করবি না।</p>
<p style="text-align: justify">অপর প্রান্তের মোবাইল সাথে-সাথে ছেদ টানে আলাপনে।সাজ্জাদ মনে মনে হাসে।ওর এই কাজিন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে কখনো সামান্তা অথবা কখনো জারা নামে ওকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।মাঝে মধ্যে একসেপ্ট করে, টুকটাক চ্যাটিংও করে।রুদাবার ছেলেমানুষী আগে বেশ এনজয় করতো।তবে এখন বিরক্ত হয়ে গেছে।অবশ্য এখন আর আগের মতো ভ্রমরকৃষ্ণ হয়ে ছুটে বেড়াতে ইচ্ছে করে না।কোথাও বাধা পড়তে মন চায়, সাজ্জাদের এখন শুধুমাত্র শারমীনের কাছে বাধা পড়তে চায়।</p>
<p style="text-align: justify">গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে তন্নীকে ফোন করে, আজ বিকেলে ফ্রি আছে কি না।তাহলে শারমীনের ওখানে আসতে বলবে একসাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য।পুরনো বন্ধুদের প্রতি হৃদপটের ভালোবাসাটা টের পায় সাজ্জাদ।শারমীনের সাথে সম্পর্কটা নতুন করে শুরু করতে হলে তন্নীর সাহায্য ওর প্রয়োজন।ভাবতে ভাবতে ফোনটা করে।</p>
<p style="text-align: justify">-ওই খবর কি তোর? বিয়ে করে তো পুরোপুরি গৃহিণী হয়ে গেলি।কোন খবর নাই।<br />
-নতুন করে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি, তাই একটু ব্যস্ত।শারমীনের সুখবরটা শুনেছিস?<br />
-কি সুখবর?<br />
-ফেসবুকেই দেখতে পাবি, আমি তো দেখে হতবাক।<br />
-কি বলবি বলতো,এতে রহস্য করিস কেন?<br />
-ফেসবুকে দেখ, পাবলিক পোস্ট তুই দেখতে পারবি।শারমীনকে সবাই কংগ্রাচুলেশন করছে।</p>
<p style="text-align: justify">তন্নীর তাড়ায় ফেসবুকে উঁকি দেয় সাজ্জাত।সেখানে বেশ বড় করে কে যেন ওকে উইশ করেছে, কংগ্রাচুলেশন লিখে।সাজ্জাদ ভেবে পায়না কি হলো শারমীনের, এত বড় করে অভিনন্দন জানাচ্ছে কেন সবাই ওকে। একটু পরেই চোখ দুটো আটকে যায় আনামিকায় হীরের আংটি পড়ানো একটি হাতের উপর।</p>
<p style="text-align: justify">অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে শারমীনের ওয়াল।সেখানে একজন লিখেছে,নতুন জীবন আনন্দময় হয়ে উঠুক।</p>
<p style="text-align: justify">সাজ্জাদ গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে কিছু সময়ের জন্য চুপচাপ গাড়ির ভিতরে বসে থাকে।ল্যাম্পপোস্টের তারে বসে থাকা কাকের চিৎকার, সিকিউরিটি গার্ডের তাড়া কিছুই সাজ্জাদের তন্দ্র ভাঙতে পারে না।পার্কিং জোনের একজন সিকিউরিটি এসে তাড়া দেয় গাড়ি বের করার জন্য, পিছনের গাড়ি বের হবে।অবাক হয়ে গার্ডের দিকে তাকিয়ে থাকি কিছু সময়, গাড়ি জানালায় গার্ডের হাতের করতল ওর মৌনব্রত ভঙ্গ করে।চাবিটা গার্ডের হাতে দিয়ে সাজ্জাদ আবার মায়ের কেবিনের দিকে এগোতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">শবমন কিছু সময় পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখে।এই বাড়ির অনেক কিছু বদলেছে।পুরোনো ফ্রিজটা আগের জায়গায় নেই, সেটা জায়গায় নতুন দুই দরজার শার্পের ফ্রিজ এসেছে,পুরোনোটা রান্নাঘরের এককোনায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।শবনমের হঠাৎ করে কেন যেন নিজের রান্নাঘরের ওই ফ্রিজটার মতো মনে হয়।ও তো পুরোনো এই বাড়ির।শিহাব সবসময় শবনমকে পুতুলের মতো রাখতে চেয়েছিলো।প্রথম প্রথম পুতুলই ছিলো, রক্ত মাংসের চাবি দেওয়া পুতুল।শিহাব যা বলতো তাই শুনতো।শাশুড়ির ছায়াসঙ্গী।সকালে শাশুড়ির নাশতা তৈরির সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো, যদি কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয়।দুপুরে শাকের ডাটা কেটে ডালের ফোঁড়ন দিয়ে, মাছের লবণের স্বাদ দেখে শাশুড়িকে খুশি করার চেষ্টা করতো।প্রথম প্রথম শাশুড়িও বেশ আদর করতো।সারাক্ষণ কাছেকাছে রাখতো, তার ছেলেকে কিভাবে বৌমা পোষ মানাবে সেই শিক্ষা দেওয়া চেষ্টা করতো।তিনজনের ছোট সংসারে সুখ ছিলো, যতদিন পর্যন্ত শবনম সব বিষয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিতো।বিয়ের ছয় মাস পরে, হঠাৎ একদিন শবনমের স্বামী মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরে।সেদিন শবনম নিজের গায়ের নতুন আঁচলকে সরিয়ে জিভটাকে একটু রুদ্র করে স্বামীকে জিজ্ঞেস করেছিলো,<br />
-প্রতিদিন এত সময় কোথায় থাকো? রোজ দেরি করে বাড়ি ফিরে আসো কেন?</p>
<p style="text-align: justify">মুখে ঝাঁঝালো গন্ধটা নাকে লাগছে খুব। ওই এক কথায় দুই কথায় ঝগড়া শুরু হয় টোনাটুনির।হঠাৎ নতুন বউয়ের গন্ধ মাখানো শবনমের কাছে অনভিপ্রেত প্রশ্নে শিহাব কিছুটা বিরক্ত হয়ে শবনমকে চড় দিয়ে বসে।বাবা মায়ের অতি আদরের মেয়ে এই চড়টা হজম করতে পারে না। হাতের কাছে থাকা কাঁচের ফুলদানিটা ছুড়ে দেয় শিহাবের দিকে। অবশেষে বউয়ের কাছে কথার যুদ্ধে হেরে গিয়ে শিহাব শবনমের ইচ্ছে বিরুদ্ধে একটু আদর সোহাগ করে।</p>
<p style="text-align: justify">পরদিন সকালে শবনমের ঘুম ভাঙে তীব্র ব্যাথা কাতর অনুভূতি নিয়ে।শরীরের বিভিন্ন স্থানে অতি ভালোবাসার কারণে জমাট রক্তগুলো ওকে বিদ্রুপ করে।সেদিন অনেকক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে থাকে শবনম ভাষাহীন দৃষ্টিতে।রাগে মাথার রগ গুলো দপদপানি টের পায় পানি দিয়ে শরীরটাকে শুদ্ধ করার সময়।</p>
<p style="text-align: justify">এরপরে অনেকদিন বাক্যলাপ বন্ধ ছিলো ওদের।শিহাব রাগ ভাঙাতে কিছুদিন তাড়াতাড়ি এটা সেটা নিয়ে বাড়ি ফিরতো শবনমের জন্য।বাহিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো।শাশুড়িও নানাভাবে ওকে পুরুষের নানারূপ সম্পকে জ্ঞান দিতো।নিজের ছেলে যে কত ভালো তা প্রতিপদে পদে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কোনপ্রকার কার্পণ্য ছিলো না।স্বামী, যে তো যখন তখন সেক্স করতেই পারে।এই বুঝিয়ে নিজে আবার সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে শবনম।ধীরে ধীরে আবার সবকিছু ঠিক হয়।তবে এরপর থেকে শাশুড়ির সাথে ওর দূরত্ব তৈরি হয়।একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটি মেয়েকে সাপোর্ট না করে ছেলের অপরাধকে পুরুষরা এমনই নামক রূপ দেওয়ার কারণে অনেক অভিমান হয় ওর শাশুড়ির উপর।তবে সেটা নিজের ভেতরে চেপে রাখে শবনম।</p>
<p style="text-align: justify">কিছুদিন পরে আবারও শিহাব তার আগের রূপে ফিরে যায়।ততদিনে শবনম বুঝতে পারে নতুন একজনের আগমন হচ্ছে।আবারও স্বামীর প্রতিটি কর্মকাণ্ড হাতেনাতে ধরে ফেলার কারণে ক্ষ্যাপা হয় মন, যার কারণে শরীর খারাপ করে বারবার।তারপরে ছেলের আগমন।ছেলে হওয়ায় শবনমের বেশ গুরুত্ব বেড়ে যায় সংসারে।তবে ঘরের চাবি দেওয়া পুতুল বউটা চাবি দিয়ে না ঘোরার কারণে সংসারে শুরু হয় আবারও চূড়ান্ত অশান্তি।যার কারণেই শবনমের এত বছরের নির্বাসন।এতদিনে নির্বাসন আবার স্বেচ্ছায় গুটিয়ে আসায় কারণে শবমনের মনে ভেতরে একটু হীনম্মন্যতা কাজ করে।</p>
<p style="text-align: justify">-মা, দাদী বলে, আমি দাদীর সাতে (সাথে) ঘুমাবো।<br />
-না, তুমি আমার সাথে ঘুমাবে।<br />
-টিত আচে।(ঠিক আছের নতুন রূপ)</p>
<p style="text-align: justify">ছেলের দিকে তাকিয়ে বেশ মায়া লাগে শবনমের।কতকাল নিজের বাড়িতে আসতে পারেনি।আজ হঠাৎ করে ফিরে আসায় ছেলে যে ওর বেজায় খুশি, সেটা বুঝতে আর বাকি থাকে না ওর।আগে মাঝে মধ্যে একা আসতো বাবার সাথে।অনেক খেলনা নিয়ে ফিরতো সেই সময়।</p>
<p style="text-align: justify">শারমীন ফোনটা রেখে আবারও বসে মেইল চেক করতে।আজ আবার তাড়াতাড়ি বের হতে হবে।তাই হাতে কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে একটু তাড়াহুড়োভাবে।তবে ঘড়ি কাটা ওকে তাড়া না দিলেও, পেটের খিদে ওকে জানান দেয় বেলা অনেক হলো, খেতে বসো।</p>
<p style="text-align: justify">খেতে বসার মুহূর্তেই তন্নি ফোন করে,ফোনটা ধরবে কি ধরব না, সেটা ভাবতে ভাবতে অনেকটা অনিচ্ছার পরও ফোনটা রিসিভ করে।কারণ তন্নি যে এক ঘণ্টার আগে ফোন ছাড়বে না, সেটা ওর বেশ ভালো করেই জানা।<br />
-কি রে,এত বড় একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেললি একেবারে নিঃশব্দে। একবার কাউকে কিছু না জানিয়ে।সবাইতো রীতিমতো অবাক।তুই আসলেই একটা সাইলেন্ট কিলার।আমাকেও জানালি না, আমি সবার কাছে কেমন অপদস্ত হয়ে গেলাম।সবাই আমাকে ফোন করছে।বলো তোর প্রিয় বান্ধবী তুই কিছু জানিস না, কিভাবে।<br />
-তোর কথা কি শেষ হয়েছে তন্নি? আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিবি।<br />
-না, তুই আর কিছু বলবি না।আমি বলবো, তুই শুনবি।কবে তোর বরের সাথে পরিচয় করাবি আগে সেটা বল।তলে তলে এতকিছু করলি কবে?<br />
-তন্নি, আমি ফোন রাখছি।খেতে বসবো।তোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলেই, শারমীন ফোন কেটে দেয়।ফোনটা কেটে দেওয়ার পরে নিজের আচরণে নিজেই কিছুটা অবাক হয়।তন্নির ফোন কেটে দেওয়ার মতো এতটা অসামাজিক নয়।সবকিছুর জন্য দায়ী যে বোরহান উদ্দিন আর তার ছেলে সেটা বুঝতে আর ওর বাকি থাকে না।আজ ওর মাথার ভেতরে ওরা একেবারে গেঁথে বসে আছে।আর সেই কারণেই মন আর বুদ্ধি আজ একসাথে কাজ করছে না।</p>
<p style="text-align: justify">পিয়ন সেলিমকে খাবার দেওয়ার কথা বলে, অনুতপ্ত মন নিয়ে ফোন করে তন্নিকে।এইভাবে ফোন কেটে দেওয়া ওর যে ভুল হয়েছে, সেটা মন ওকে বারবার জানায়।</p>
<p style="text-align: justify">অনেকবার রিং হবার পরে, অপরপ্রান্ত থেকে যে ফোনটা কেটে দিয়েছে তন্নি।সেটা বুঝতে ওর বাকি থাকে না।শারমীন আবার ফোন করে।রাগ ভাঙাতে হবে ওর, তাই। তবে সেটা আর পারে না।চুপচাপ খেতে বসে।</p>
<p style="text-align: justify">খাওয়া শেষ করে বাসায় ফোন করে, মায়ের উপর সারাদিনের সব রাগ ঝাড়ার জন্য।তিনবার রিং হতেই মায়ের কণ্ঠ শুনতে পায়।<br />
-হ্যালো&#8230;খেয়েছিস শামু।(শামু ওর মায়ের আদরের ডাক)<br />
-একদম ঢঙ করবে না, তোমার ঢঙ আমার একেবারে সহ্য হয় না।<br />
-কেন আমি কি করেছি?<br />
-কি করেছি মানে? বলা নেই, কওয়া নেই, বিয়ে ঠিক করে এখন বলছো কি করেছি?<br />
-তোরা দুই বোন কি শুরু করলি? সকালে শবনম রাগ করে চলে গেলো শশুড়বাড়ি।এখন তুই বকছিস,কেন বিয়ে ঠিক করেছি?<br />
আমার ছেলেটা বেঁচে থাকলে আমাকে এত কটু কথা শুনতে হতো না।<br />
-মা একদম ইমোশনাল ব্লাকমেইল করবে না।আর তোমার মেয়ে শশুড়বাড়ি গেছে,বেশ ভালো কাজ করেছে।তুমিই তো চিন্তায় ছিলে কবে আপার সংসার আবার ঠিক হবে।<br />
-তা তো মায়েদের চিন্তা হয়।তুই বুঝবি না।<br />
-কাজের কথায় আসি, বোরহান সাহেব ফোন করেছিলো।আমাকে নিয়ে ওনারা শপিংয়ে যেতে চায়।তুমি নাকি বলেছো,যেতে।<br />
-হুম তোর শশুর ফোন করলো, আমিও না বলতে পারলাম না।<br />
-তুমি কি আমার পারমিশন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করলে না।আর কি বলছো এইসব..শশুর।<br />
-শশুরই তো।কয়দিন পরে বিয়ে।<br />
-মা, আমি বিয়ে করছি না।তুমি ওনাদের ফোন করে জানিয়ে দাও।<br />
-আমি পারবো না, তুই জানিয়ে দেয়।</p>
<p style="text-align: justify">এই কথা বলে ওর মা ফোনটা কেটে দেয়।সকালে দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া মায়ের কণ্ঠের সাথে দুপুরে ইথারে ভেসে আসা কণ্ঠেস্বরের কোন মিল খুঁজে পায় না।হঠাৎ মায়ের এতটা পরির্বতনের কারণ খুঁজে পায় না।তবে ভাবনায় দাড়ি টেনে উঠে পড়ে ডেস্ক থেকে, নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।তখন পিয়ন এসে খবর দেয় গেস্ট এসেছে, সংখ্যায় দুইজন।</p>
<p style="text-align: justify"><em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/22/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%99-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc-3/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়াবন বিহারিণী (পর্ব-১৫) ॥ আরিফুর রহমান</title>
		<link>https://www.jogsutra.com/2023/06/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/</link>
					<comments>https://www.jogsutra.com/2023/06/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[যোগসূত্র]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Jun 2023 13:52:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[আরিফুর রহমান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.jogsutra.com/?p=2729</guid>

					<description><![CDATA[ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৫): ছাদে বসে গল্পগুজব করবার জন্য ইংরেজি ইউ আকৃতির একটি বেদী আছে।তার-ই একপ্রান্তে বসে আছেন মানুষটা,পাশে ভাঁজ করে রাখা ওয়াকার। মনা তার কাছাকাছি যেতেই তিনি গমগমে গলায় প্রশ্ন &#8230; ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p style="text-align: justify"><strong>ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১৫):</strong> ছাদে বসে গল্পগুজব করবার জন্য ইংরেজি ইউ আকৃতির একটি বেদী আছে।তার-ই একপ্রান্তে বসে আছেন মানুষটা,পাশে ভাঁজ করে রাখা ওয়াকার।</p>
<p style="text-align: justify">মনা তার কাছাকাছি যেতেই তিনি গমগমে গলায় প্রশ্ন করলেন, ভয় পেয়েছিলে কেন?<br />
মনা টের পেল মানুষটা পূরণ নয়।সে বড় খান সাহেবের সামনে দাঁড়িয়ে আছে! যাকে দেখে যমুনাপারের সব মানুষ ভয় পেতেন, সম্মান করতেন। তিনি খান বাড়ির বাইরের উঠোনে বের হলে ছোট বড় কোনো মেয়ে মানুষেরই সাহস হতো না বাইরে থাকে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তো দূরের কথা! এসবই সে ওর বাবা-দাদার কাছ থেকে শুনেছে।অথচ সেই মানুষটির সামনে সে নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং আত্মবিশ্বাসী গলায় বলছে, ভয় পাইনি তো, মাথাটা হঠাৎ ঘুরে গেছিল!<br />
হুম, ভাগ্যিস&#8230;!</p>
<p style="text-align: justify">আমার বহুদিনের ইচ্ছে আপনাকে সামনাসামনি দেখবার, জ্যেঠিমাকেও।<br />
সে তো তোমার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে।<br />
মনা পেছন ফিরে দেখল, ময়নামতি দাঁড়িয়ে আছেন আর চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠেছে তার সৌন্দর্যে! ও মুগ্ধ হয়ে গেল এবং কয়েক পা এগিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল নির্ভয়ে! তিনিও পরম মমতায় খান বাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের এই গুণবতী মেয়েটিকে বুকে টেনে নিলেন।তিনি জানেন মেয়েটি দেখতে অনেকটা তারই মতো।তাই তো মনার প্রতি অন্যরকম একটা টান তিনি অনুভব করেন।আর মেয়েটির বড়ো বড় বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে যান।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতি ওকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ছেলেটিকে ভালোবাস?<br />
কোনো উত্তর না পেয়ে তাকিয়ে দেখলেন মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়েছে! ওকে বুকে নিয়েই তিনি স্বামীর পাশে বসলেন ময়নামতি।<br />
বড় খান সাহেব অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ চোখে মনাকে দেখছেন।আর ময়নামতি অতীতের পাতায় জমা হওয়া ধুলো ঝাড়তে লাগলেন।</p>
<p style="text-align: justify">খুব ছোটোবেলায় মনা একবার ওর মা-র পেছন থেকে পুকুরে পড়ে গেছিল।ফুটফুটে ছোট্ট যে মেয়েটা রাহেলা খানমকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বলেছিল, ‘আন্নি, মনা পলে গেতে’ সে খান বাড়ির বা তার আশেপাশের বাড়ির কারোর মেয়ে ছিল না! একটু পরই আর ওকে খুঁজে পায়নি কেউ!</p>
<p style="text-align: justify">প্রাইমারিতে পড়বার সময় একবার একটি দ্রুতগতির বাইক মনাকে প্রায় চাপা দিয়ে ফেলেছিল।লোকটার বাঁ পায়ের ভেতরে এখনো পঙ্গু হাসপাতালের রড রয়ে গেছে! অবশ্য তার মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হওয়া লোকটিকে মকবুল হোসেন খান দশ কাঠা ধানী জমি লিখে দিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">সে রাতে ডাকাতদের কবলে পড়া মনাদের নৌকায় যখন ডাকাত দলের সর্দার বলেছিল, ‘খুন করে ফেলবে’ তখন মনা যে আগুন চোখে তাকিয়ে ডাকাতদের নাস্তানাবুদ করেছিল, তার উৎস কী? তারপরই তো প্রচণ্ড ভয়ে আকাশের মাথা থেকে বিয়ের ভূত পালিয়ে গেছিল।আর গ্রামে ফিরে আকাশের বন্ধুরা রটিয়েছিল মনার সাথে জ্বিন-ভূত আছে! তবে একটু বদনাম ছড়ানোর মাধ্যমে হলেও ওকে যে সমূহ সর্বনাশ থেকে রক্ষা করা গেছিল তাতে স্বস্তি পেয়েছিলেন ময়নামতি ও বড় খান সাহেব।</p>
<p style="text-align: justify">মাত্র দ্বাদশে পড়ুয়া খান বাড়ির একটি মেয়ের পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করা, সর্বনাশই! আর বদনামের রং, সেতো মাসখানেকের মধ্যেই ফিকে হতে শুরু করেছিল মনাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও পড়াশোনা করতে দেখে।</p>
<p style="text-align: justify">ময়নামতির পাশে বসে প্রসন্ন দৃষ্টি রেখে মনাকে দেখছেন বড়ো খান সাহেব।তিনি ভাবছেন ছেলেটির কথা, যাকে মনা ভালোবাসে বলে মনে হচ্ছে তাদের। তারই রক্ত! মনার মতো ওর শরীরেও বইছে খান বংশের রক্ত।</p>
<p style="text-align: justify">তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল।বড় খান সাহেব শহরের কাছাকাছি পশ্চিমদিকের একটি গ্রামে এসেছিলেন একজন সাধু-সন্ন্যাসীর দর্শনে।ওই ধরনের মানুষের প্রতি তার আলাদা একটা টান ছিল।শুনেছিলেন সাধুবাবা ছদ্মবেশী নন, প্রকৃতপক্ষেই সংসার ত্যাগী মানুষ।তিনি তখন আস্তানা গেড়েছিলেন সেই গ্রামের বড় দীঘির পারে।</p>
<p style="text-align: justify">খান সাহেব যখন সেখানে পৌঁছেছিলেন তখন সাধুবাবা মাছ ধরছিলেন দীঘির পানিতে খালি হাত ডুবিয়ে! তাকে পারে উঠতে দেখে বলেছিলেন, ব্যাটা, তুইও আমারই লাইনের লোক।তোর সাথে জমবে ভালো।আরও ভালো হবে তুই যদি তোর ছায়াসঙ্গীকে বাইরে রেখে আস্তানায় ঢুকিস।<br />
তারপরের দুটো দিন সাধুসঙ্গ উপভোগ করে বিদায় বেলায় বড় খান সাহেব শুনেছিলেন, তোর ফিরতি পথ/রূপবতীর আগুন লেগে/পুড়বে মনোরথ!/হায় হায়!পুড়ল মনোরথ।<br />
<em>চলবে&#8230;</em></p>
<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.jogsutra.com/2023/06/19/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
