ময়ূরাক্ষী
বদলাতে চাইতেই পারো
মার্চ যেমন ধুসরিত শুষ্ক এপ্রিলে,
কিন্তু ছায়া যে আশ্রিত অন্য ছায়াতে,
রোদের মতন মিলিয়ে গিয়ে কায়ায়।
গুচ্ছ পাখিরা উড়ছে। তারাও রেখে গেছে অগুনিত ছায়া
এভাবেই বৈশাখও হারিয়ে যায়।
তারচেয়ে চলো ধাবমান হই শেষহীনে..
আরেকটু ময়ূরাক্ষীর বাঁকে উজান বাই
ডুবচরের তীরবেয়ে সন্ধ্যামালতীর নীলচে জলে ডুবি।
আমাদের ছায়াদের উড়ালবৃত্তে ঘুরপাক খাই
ঠিক আঁকার খাতার পেন্সিলের ঘূর্ণনের মতন।
অনুধাবন
এমনইতো মন্দেরও অধিক ভালো
কখনও আলো ছুঁয়েও
হওয়া যায় চিরতরে অন্ধ,
সময়ের বন্ধ্যাত্বে মন দূরে যাপন।
একই অসুখে দু-তীরে সমান অনুধাবন
একই সুরের প্রজ্ঞাপণে অবারিত বিজ্ঞাপন।
আঁধারের নিনাদ পেরিয়ে ফিরলে সকাল
সময়েরা পালাবে ত্রিভূবণ পেরিয়ে
নিশ্চিহ্ন হবে ভাবাবেগে সুখেরা,
জেনে নিও দিনান্তে সেসব হারানোর গল্প।
এত যে রঙ, নীলে নীলাঞ্জনা, নীলাম্বর
কোথায়,বরষা ধোয়া জলে সে আস্বাদন?
সবইতো অপসৃয়মান বিগতদের মতন।
কখনও প্রকৃতিতে প্রকৃত যোগে
মানুষ হয় কাঙ্ক্ষিত মানুষ,
বিয়োগে হারায় ভালোবাসা।
মানুষ ততটাই মানুষ হয় যতটা
সে বাসতে পারে ভালো।
নিরাময়
কত কতবার নোনাজল শুকিয়ে বন্যা হয়,
আবারও অন্তঝড়ের প্লাবনে জল,জলোচ্ছাস।
শিকড় শিখিয়ে দেয় শক্ত হয়ে
দাঁড়ানোর প্রত্যয়।
আদি প্রস্তর থেকে আজও অতি সামান্যকে রুখতে
আমরাই তো পারি প্রাণকে দু-ডানায় মেলে দিগন্তে উড়াতে।
বুকের গোপন কুঠুরিতে আজন্ম লালন করা
এক চিলতে স্বাধীনতার দোহাই,
বারবার মুখ থুবড়ে ভেঙে যাওয়া
ইচ্ছেডানার দোহাই,
দাঁড়াতেই হবে আবারও
মেলতে হবে স্বপ্নালু দুচোখ
মন প্রদক্ষিণে বারবার দৃঢ় প্রত্যয়ে
বিষুবরেখা থেকে ছায়াপথ ঘুরে এসে,
এ মায়াময় পৃথিবীতে।
প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বেঁচে থাকার আকুতিতে,
একমাত্র মানুষই হার মানে না কখনও।
জিতে যায় বারবার না হারার জিদের কাছে।
এতটুকুই মানুষ বোঝে না,
শুধু ভালোবাসা হারানোই পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় অসুখ।
নেই তার কোন নিরাময়।




