জানালার পাশে বসে বহুদিন বৃষ্টি দেখা হলো, দেখা হলো রবি-কালিদাসে। বৃষ্টিও কপাট ছুঁয়ে ফিরে গেল কত কতবার।মেঘের তলায় আজ শুয়ে আছে মৃত ভাই মৃত বোন, শুয়ে আছে মধুপুর বন-গুঞ্জনের মতো গারো-অন্ধকার!
.
কত কিছু মিথ্যা হলো-কত পথ-সংকেতের পালা।বৃথাই মনসা-চণ্ডী, রাই, শশীবালা।হোক যত গীত, গোরক্ষবিজয়গাথা-অসংখ্য হাতের ভিড়ে সেই একটি হাতের ইশারাই সত্য।অজস্র চোখের সাক্ষ্য-ব্যর্থ, তুচ্ছ, ভুল। এ দুটি কম্পিত তালু ছুঁয়েছিল তালপাতা; উড়েছিল বাতাসে আহত কার চুল।
মীমাংসার মহৎ মড়কে প্রশ্ন নয় আর, নেই প্রয়োজন কোনো বচসার। কচ্ছপের মতো একা শ্যাওলা-সর শতাব্দীর দিঘির ভিতরে শ্বাসরোধী পড়ে থাকা মর্ম-মুহূর্তের ঘুমজ্বরে।
পথে পথে খর বৃষ্টি, ক্ষুধিত নদীর ভগ্ন সিনার কিনারে, বিজলি-সন্ধ্যার এই বিষণ্ন মিনারে।ফুরালো ফুরসত যত মূঢ় সংকল্পের কাছে-ধুয়ে গেল ধূলির আল্পনা।পাতার গজল তবু গাছে গাছে।শিয়রে তির্যক প্রস্তাবনা-
বুকের ভেতর এসে তুমুল বাজায় তুড়ি।আকাশের তত কি বয়স হলো-মেঘে মেঘে আমরা সব উড়িয়েছি যত ঘুড়ি?


