সবুজ আত্মার ছবি
শৈশবের সবুজ মাঠের আলপনা আঁকা ছবিতে তোমার
মাঠের পর মাঠ দোল-খাওয়া রূপশ্রী বেণি
দুলছে যৌবনা স্বপ্নমৌতাত প্রেম;
বাতাসে কী এক মায়াময় মাদকতা ঢেউ খেলে
ভেসে যায় হৃৎকম্পন নগরের অলিগলি
জীবনের গান আনন্দ বেদনা নিজের ভেতর নিজেরই লুকানো
উচ্ছ্বল মায়াবী চোখে সবই ঢেকে যায় কলাপাতা দুঃখে।
ভাঙা ভাঙা কাশফুল মেঘ নুয়ে পড়ে তোমার ছবিতে
সুন্দরের স্নিগ্ধস্পর্শ পেতে কপালের লাল টিপ
তোমার দীঘল খোলাচুল মুখভরা মায়াবী হাসিতে;
ঝড়ের বৈশাখ আছড়ে যে পড়ে
শরমের ভাঁজ ভেঙে
তোমাকে চেয়েছে দেউলে তো আলোকরশ্মির গতিতে।
তুমি তো দূরের গহনে কবিতায় ধ্যানে ধ্যানী-তোমার ছবিতে
শাড়িতে জড়ানো পলিমাটি তনুশ্রী শরীর
কবিতার অধিক কবিতা-নিশুতিকা প্রার্থনায়
ব্যাকুল পিপাসা-পিয়ানোতে বুঁদ হয়ে আছে যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়
নিদ্রাহীন চোখ-তোমার ছবি তো ছবি নয়
ভালোবেসেছ যে তুমি দূরের দোয়েল;
তোমার চোখের ভাষা সে কথা বলেছে সরল রাত্রিতে।
তুমি নিজেই দারুণ নগর হয়ে উঠেছ ছবিতে
ঝড়ের রাত্রিতে ভাঙছে শহর গ্রাম মন-মন্দির প্রাসাদ
তোমার চোখের গহনে তৃষ্ণার নদী কথা কয়
জেগে থাকে মুগ্ধতায় কবিতার শব্দ বর্ণ-
ধরা যায় না কিছুতেই;
ছবি হয়ে ভেসে এলে ঢেউআঁকা যৌবনা দুপুরে
ছবিগুলোর ভেতর থেকে জেগে মানবী শরীর
কেউ দেখেনি কখনো সেই প্রাণ উচ্ছ্বল তরুণী
পুষ্পিত হৃদয়ে কীভাবে দিয়েছে মোহনার গান জীবনতরীতে।
কতো নদী কতো বাঁক শেষে অবশেষে
খরায় পোড়া পিপাসায় বৃষ্টি ও বন্যা আসে
প্রাণের গভীর আকুতি পেয়েছে জীবন এমন সুন্দর ছবিতে
বিরান জমিনে জমে পলিমাটি উর্বরতা
বুক বাঁধে কৃষাণী নতুন প্রেমে-ঘর ভরে যাবে সুখের ফসলে।
সুন্দর অচেনা কালের ভেলায়-চেনা অচেনায়
বসতি জনমভর-সুন্দরেরা কী এমনই!
চিরকালের অধরা নদীর গহীন গভীর কান্না
বলেছি তোমাকে দীর্ঘরাতে;
এইসব কথা লেখা আছে আঁকা আছে সবুজ আত্মার কবির ছবিতে।
কেন যে ডাকো আমাকে
আমি তো এসেছি চলে সব আনন্দ উৎসব থেকে
আমার বেদনা কাউকে বলিনি কষ্টে কেঁদেছি একা,
আমার পাঁজর ভেঙেছি আমিই নিদ্রাহীন কত রাত;
আমাকে কেন যে ডাকো!
আমি তো এসেছি চলে ফেরা হবে না কখনো আর।
আমাকে যতই ডাকুক আমার স্মৃতি
আমার দোয়েল ঘুঘুপাখি পুকুরে সাঁতার কাটা রাজহাঁস,
জবাফুল বেলিফুল পোটনির পাশের ভোরের ঘাসফুল
উঠোনে জাঙলাভর্তি পুঁইফল লাউডগা;
আমি তো এসেছি চলে সব আনন্দ উৎসব থেকে।
আমার জীবন জড়ানো গড়াই নদীর মায়াবী বিকেল
স্কুলের খেলার মাঠ-এ পথ সে পথ ভেঙে ঘরে ফেরা
আলপথে নুয়ে পড়া সবুজ জমিন
বুকের গহীন যতই ভাঙুক বেদনায়
আমি তো ফিরব না-ফেরা হবে না কখনো আর
একাকী উজানে হেঁটে যাচ্ছি রোদ্দুর দুপুরকে রাত্রি করে
চলে যাচ্ছি অবেলা অচিন বাউলের একতারা হাতে,
যে জীবন ভালোবেসে এতকাল নিজেকে রেখেছি ভুলে
সব কিছুই যে এত বেশি ভুল!
এত বেশি বিষের ছোবল!
মনের মরমে গহিন আঁধার ভালোবেসে
আমি তো এসেছি চলে সব আনন্দ উৎসব থেকে।
আমাকে কেন যে ডাকো-কেন ডাকো!
আমি বেদনায় মুখ গুঁজে পড়ে আছি।
দেবতী সন্ধ্যায়
অযত্ন যৌবন শেষে গানের শিশির নামে দেবতী সন্ধ্যায়
আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে নীলাকাশ ভেসে যায়;
দূর দেশে শ্যামলিমা পাখি থাকে কান পেতে বিরহ উজানে
সুরের ঢেউয়ে বেদনার এত বিষতীর কানাই না জানে!
কোনোকালে এই রাত হবে না কখনো ভোর
গানে গানে ভেসে যায় মেঘে মেঘে সুরের নূপুর
শ্মশান শহরে পড়বে না মন দেউলের আনন্দ উচ্ছ্বাস
যে সন্ধ্যা ডেকেছে ভালোবেসে, সেখানে যে দীর্ঘশ্বাস।
কত সহস্র দিবস রজনী থেকেছি আশায় আশায় জেগে
কাশফুল শুভ্রতায় বাতাসের পালকিতে রাগে-অনুরাগে,
কত আয়োজন ছিল এ অন্তরে- এক সন্ধ্যা করে চাবো;
ভুল অংকে জীবন খাতায় কাটাকুটো-শূন্য হাতে ফিরে যাব।
সেই কিশোরীকে খুঁজি
এখনো রোদ্দুর ওঠে-তাতায় ফসলহীন মাঠ-পায়ে চলা পথ নিভে গেছে
আলপথ জড়ানো দুর্বাঘাসেরা কোথায় কীভাবে হারিয়েছে,
কে জানে কেমন এক শূন্য প্রাণ সদরপুরের মাঠ
শিশিরেরা এখনো তো আসে রাত ভেঙে-মমতাহীন আঁচলে।
পানি থৈ থৈ সেই বিল-জাল-ভর্তি মাছ-শাপলা গলায় কিশোরী-সাঁতার
কীভাবে যে হারালো সে সব! রূপসী চোখের ভাষা
ঘর বাঁধে রূপকথায়-হাওর-বাঁওড় ডুবে যায় দালান কোঠায়,
কবিতার নারীরা যেমন গহীন শব্দের বাঁকে রহস্যদেবতী মনের দেউলে।
যে পাখিরা সুখের ডানায় উড়েছে নেমেছে জলে ও ডাঙায়
গামছা মাথায় যে কৃষাণ লালনের গানে ভেসেছে মনতরীতে,
পদ্মপায়ে হেঁটে হেঁটে টিয়েপাখি ঠোঁটে যে কিশোরী একদিন এই পথে
ঘাস আর ফসলের ডগায় লিখে গেছে প্রেমের কবিতা; সব নিভে গেছে।
সদরপুরের যৌবন-হারানো বয়সী বিবর্ণ বুক জানে সেই গহিন বেদনা
সেই কিশোরীকে খুঁজি-পায়ে জড়ানো শিশিরভেজা দুর্বাঘাসের আদর।
ব্যক্তিগত কবিতা
তোমার মৃত্যুতে কী ভীষণ আর্তনাদ করে উঠল মেঘ
তারপর বুকভাঙা কান্না
তোমার শীতল মাথা ছুঁয়ে থাকি
তুমি ঘুমোচ্ছ-ক্লান্ত-চোখ-এলোমেলো চুল
তোমার মাথায় হাত রেখে
অপেক্ষায় জেগে থাকি- কখন ভাঙবে ঘুম!
তুমি জেগে উঠেই বলবে, মেজো ভাই কখন এলেন!
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি- একটুও টের পাইনি।
ঘুম ভেঙেই বলবে, মিলন আসেনি?
কাব্যমুনিকে আনেননি?
কতদিন সোনামুখটা দেখিনি!
আমি অপেক্ষায় থাকি- ঘুম ভাঙে না তোমার
আমি অভিমানের মেঘ হয়ে উঠে যেতেই
তুমি বললে, মেজো ভাই, আমাকে না নিয়েই চলে যাচ্ছেন!
ব্যাকুল তৃষ্ণায় ফিরে আসি
হাত রাখি শিয়রে তোমার; ডাক দিই- বুলবুল…
অতল গহিনে পৌঁছে না আমার ডাক
অপেক্ষায় আবারও বসে থাকি
ঘুম ভেঙে বলবে, মেজো ভাই, কতক্ষণ বসে আছেন!
তুমি গভীর গহিন ঘুমে ডুবে আছ
পৃথিবীর সব ক্লান্তি- তোমার শরীরে,
পাথরের মতো ভারি পায়ে
আবার উঠে দাঁড়াই- পা বাড়াই…
তুমি আবার বললে, মেজো ভাই, চলে যাচ্ছেন!
বিদ্যুৎগতিতে ফিরে তাকাই-শুধুই অন্ধকার…
পতঙ্গবহ্নি
হেলেনের রূপে পুড়ে গেছে সেই কবে রূপজ নগরী ট্রয়
জয়নাবের রূপাগ্নিতে খুন আর রক্তে উন্মত্ত এজিদ;
রূপের চিতায় পোড়ে সাধক সন্ন্যাসী সম্রাট রাষ্ট্রের অধিকর্তা
আবার সন্ন্যাসী হয়ে যায় গোবিন্দলালের মতো জমিদার
মধু-বিষে মৃত্যু বেছে নেয় দুপুর রোদের মতো স্পর্ধিত সুরেশ।
দোদি তুমিও তো মরলে অপ্রতিরোধ্য প্রেমের সড়কে
বিল ক্লিনটন কত রাত নিদ্রাহীন-নিজ ঘরে পরবাসী;
মনিকা লিউনিস্কি যেন তার শরীর জড়ানো বিষধর
সর্পিনী- তবুও এ খেলা কী যে ভয়ংকর সুন্দর
অগ্নিলাভার মতো নিষ্ঠুর দহন।
কত সব ক্ষমতাধর আকাশমানুষ লুটোপুটি খায়
আফ্রোদিতি ভেবে বিষভর্তি যমুনা শরীরে
রামধনু ঠোঁটের অদ্ভুত রহস্য হাসিতে পৃথিবীর মতো
ঘুরে ঘুরে মরে পতঙ্গ যৌবন;
অনর্থক অমরত্ব লাভে কবিতার শব্দে অজস্র বিনিদ্র রাত্রি
রাতজাগা কবি পান করে দামি মদের মতো ক্লিওপেট্রা কিংবা
ঐশ্বরিয়া সুন্দরিকা রিহানা শরীর।
রাত ভেঙে ভেঙে আরো অন্ধকার রাত হয়ে যায়
নগরীর আলো নিভে নিভে অসভ্য নগরী হয়ে যায়
জীবনের নৌকাঘাট ভেঙে ভেঙে ঘাটহীন হয়ে যায়
হুরপরি নটিনী কিন্তু তখনো ঠিকই দুর্লভ আলোর নগরী।
একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!
একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!
কী এমন সর্বনাশের আগুন জ্বলে!
এই আষাঢ়কীভাবে কেঁদে কেঁদে ফেরে
দেখেছ কখনো কষ্টের কেমন রঙ!
হিসেবের চারকোণ যে জীবন
মেঘনা যমুনা গড়াই মধুমতি স্রোতময়ী যে জীবন
কবিতার মতো লালটিপ স্বরবৃত্ত যে জীবন
সেখানেও থাকে দুঃখের গহিন-
চিত্তহরিণী পাপড়ির নিচে থাকে অদৃশ্য কষ্টের ভাঁজ
সেই বেদনায় ভালোবেসেছিল রাধিকাও গোপন শিশিররাত্রি
লাবণ্যময়ী মাদাম বোভারি রোদলকে বেঁধেছিল
গোপন তাবিজে
বৃক্ষশরীরে জড়িয়ে থাকে শরমহীন সোহাগিনী স্বর্ণলতা
অচিন পাখির মতো তুমি কেন অধরা দূরের পাখি
একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!
কী এমন সর্বনাশের আগুন জ্বলে!
হিসেবের চারকোণ ছিঁড়ে ফেলো দেবতী প্রেমের
বেনারসি উড়ছে পাগলা হাওয়ায়
নকশি আঁচলে আঁকো নতুন যৌবন
তোমার সৌরভ উজ্জ্বলতা হীরক টুকরো রাশি রাশি।
অদৃশ্য ঝড়ের মতো জেগে থাকে মাতাল মধ্যরাত
শুষ্ক ঠোঁট কাঁপে যেন ঢেউখেলা অসহ্য রোদ্দুর
বর্ষার অবাধ্য নতুন জলের মতো ছুটে আসো দীঘল চুম্বনে
একটু ভালোবাসলে কী এমন হয়!
কী এমন সর্বনাশের আগুন জ্বলে!
দেবতীদেউল
পাপ বুঝি না দেবতী
পুণ্যও চিনি না
তোমাকে চিনি
তোমাকে চাই
খরস্রোতা নদী যেভাবে সমুদ্র চায়।
অঙ্ক বুঝি না দেবতী
পদ্যও বুঝি না
তোমাকে বুঝি
তোমাকে চাই
পদ্মা যেভাবে পাগলা ঢেউয়ে সবকিছু নিজের করে চায়।
বাণিজ্য শিখিনি দেবতী
লাভ-লোকসান বুঝি না
তোমাকে বুঝি
তোমাকে চাই
স্বর্ণলতা যেভাবে মেঘের মতো ঢেকে রাখতে চায় বৃক্ষশরীর।
বন্দিত্ব জানি না দেবতী
মুক্তিও বুঝি না
জীবনসত্য তুমি
তোমাকে চাই
বন্যার জলে পলি মিশে যেভাবে উর্বরতা বোনে বন্ধ্যাভূমিতে।
তুমি কার-কার ছিলে কবে
কার আছ এখন
বুঝি না হিসাবের কড়ি
চাই তোমাকে প্রবল
কবিতা-গহিনে যেভাবে জেগে ওঠে কাঁচা চরের মতো নতুন কবিতা।
পাপ বুঝি না দেবতী
পুণ্যও চিনি না
স্বর্গ-নরক বুঝি না
তোমাকেই চাই
জীবন-উৎসবে যেভাবে জেগে ওঠে যুবতীজমিন।
ভালোবাসার আকাশ
প্রত্যেকটি নিশ্বাস আমার স্পর্শ করে দেখলাম আমি
সেখানে আশ্চর্যরকমভাবে লেখা আছে তোমার নাম,
প্রতিটি নিশ্বাস একটু একটু করে সাজিয়ে দেখলাম
অবিশ্বাস্যরকম তার ভেতর থেকে জেগে উঠলে তুমি।
বিশাল আকাশবৃত্তে ড্রেসিং টেবিলে নিজেকে দেখি
আমার ভেতরে আমি নেই- জেগে আছে আমার পুরোটা
অন্য কেউ- অবিকল তোমার মতোই- নিশ্চিত তুমিই
তোমার নাম কী- আমি তা-ও জানি- তুমি দেবতী
আমি দু’হাঁটুর ভেতর নিজেকে লুকাই- মুখ গুঁজে ভাবি
জীবনখাতায় কত হিসেব জড়ানো থাকে রহস্যের জালে!
তোমার বুকের গোপন আগুনে জ্বলে আমার চোখের চুরুট
কপালে আমার মায়াবী চাঁদ যেন তোমার চুম্বনকুসুম।
জেগে থাকি আমি- তোমার পবিত্র স্পর্শে;
কী যে আদরলতায় জড়িয়ে বললে- কেন পোড়!
কেন পোড়াও এভাবে আমাকে!
আমিও তো নেই ভেতরে আমার
ভুল হিসেব কখন কীভাবে যে জীবনের
অধিক হিসেব হয়ে যায়
ভালোবাসার আকাশ বোধহয় এরকমই
ঠিক এরকম নয়
স্বার্থের ছোবল অদ্ভুতরকম ঘরের উঠোন থেকে রাজসিংহাসন
সত্যিকারের মানুষ ঠিক এরকম নয়,
অন্য কোন রকম হয়তো!
নদীকে দেখেছি রোগে শোকে বাঁচামরা হয়ে নিজের দুঃখকে
নিজের বুকেতে দিয়েছে কবর-তবুও
তার পাশে যখুনি যে দাঁড়ায় বেলা-অবেলা
কখনো কাউকে ফেরায় নি;
বৃক্ষের ছায়ায় কত রোদ্দুর দুপুর কেটে গেছে
কত পথিক-মহাজনের-কত ছায়া দিয়েছে ক্লান্ত শরীরে
কখনো করেনি হিসাব-করেনি চাতুির অঙ্ক;
দোয়েল কোয়েল ঘুঘু বউ কথা কও
কত গান দিয়েছে মুগ্ধতা
কত পুষ্প কত লাবণ্য ও ঘ্রাণে সঁপেছে সুন্দরে
কত পাহাড়ে মিলেছে বুক কত আকাশ প্রেম ও অভিমানে
আছড়ে পড়েছে প্রবল প্রপাতে মাথাকুটে কেঁদেছে কতো যে
বুকে বেঁধে নিয়েছে পাহাড় সেই বেদনা আপন করে।
মানুষের কাছে মানুষ কেন যে বেদনার নীলখাম
মানুষের কাছে মানুষের কেন এতো দুঃখসমুদ্র
মানুষের কাছে মানুষের কেন যে কষ্টের বিষাক্ত ছোবল
মানুষে মানুষে কেন তবে প্রতারণা নীল দংশন
হাওর-বাঁওড় নদীনালা শাপলা ফুল
গ্রাম-শহরের অঁকাবাঁকা পথ
আনাচে কানাচে উড়ে বেড়ানো চড়–ই
কাদামাটি পলিমাটি উর্বর জমিন
বেণী দুলানো ফসলের মাঠ
রমণীর শরীরের মতো ঢেউখেলা নদী
জীবন জড়ানো পবিত্রতার কবিতা সুন্দরের শিরোনাম
এখন মরণঘাতী বিষে নীলবর্ণ শরীরে মরণ শ্বাসকষ্ট
নদীতে দখল-ক্ষতবিক্ষত রমণী শরীর
একান্নবর্তী উঠোনে দখলদারিত্ম-
গোখরা সাপের ভয়ঙ্কর খেলা
স্নেহ-মমতা-ভালোবাসায় দখল নিয়েছে অর্থকড়ির ফণা
হাওর-বাঁওড়ে দখলের লাঠি সুউচ্চ প্রাসাদ
হাছন লালনে অপশক্তির দখল
মাথামোটা রাজনীতিকের দখলে রবীন্দ্র-নজরুল
ধবধবে চেহারার দখলদারেরা দেশপ্রেমের দরদী গল্প বলে
এদের সবার মুখশ্রী ও শরীর মানুষের মতো-
সত্যিকার মানুষই ভেবেছি;
এই ভাবনায় এখন নিজের কাছে নিজেরই অজস্র প্রশ্ন।
এরা কি সত্যিই মানুষ!
তবে নদী কেন দুঃখ পায়
ফুল-পাখি-প্রজাপতি কেন দুঃখ পায়
মর্ত্য ও আকাশ কেন দুঃখ পায়!
আস্থা ও বিশ্বাস চেতনার টকটকে লাল গোলাপ পাপড়ি
পদদলিত সহজ সরল জীবনপথের মুঠোভরা স্বপ্নে।
নদীকে জিজ্ঞেস করেছি সত্যিকারের মানুষ দেখতে কেমন!
বৃক্ষকে জিজ্ঞেস করেছি প্রকৃত মানুষ কেমন!
আঁকাবাঁকা জীবনপথকে জিজ্ঞেস করেছি নিখাদ মানুষ কেমন!
পাহাড় ও আকাশকে জিজ্ঞেস করেছি খাঁটি মানুষের স্বরূপ কেমন!
সবাই রক্তাক্ত বুক দেখিয়ে বলেছে- আমাদেরও একই প্রশ্ন;
সত্যিকারের মানুষ ভেবে যাদের দিয়েছি বুক পেতে
সবাই প্রেমের নামে খুন করে নিয়েছে দখল সরল মাটির;
সত্তাহীন এই বেঁচে থাকা যেন পরিচয়হীন গণধর্ষিতা সুন্দরী নারী!
এখন কেন যে মনে হয় সত্যিকারের মানুষ ঠিক এরকম নয়
স্বার্থের ছোবল অদ্ভুতরকম ঘরের উঠোন থেকে রাজসিংহাসন।
সত্যিকারের মানুষ ঠিক এরকম নয়, অন্য কোন রকম হয়তো!




